Author: suman-das

  • Ramakrishna 671: “কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে!”

    Ramakrishna 671: “কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে!”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    চতুর্বিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে এপ্রিল
    মাস্টার, নরেন্দ্র, শরৎ প্রভৃতি

    মাস্টার ঠাকুরের কাছে বসিয়া। হীরানন্দ এইমাত্র চলিয়া গেলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) — খুব ভাল; না?

    মাস্টার — আজ্ঞা হাঁ; স্বভাবটি বড় মধুর।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বললে এগার শো ক্রোশ। অত দূর থেকে দেখতে এসেছে।

    মাস্টার — আজ্ঞা হাঁ, খুব ভালবাসা না থাকলে এরূপ হয় না।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — বড় ইচ্ছা, আমায় সেই দেশে নিয়ে যায়।

    মাস্টার — যেতে বড় কষ্ট হবে। রেলে ৪।৫ দিনের পথ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)— তিনটে পাস!

    মাস্টার — আজ্ঞে, হাঁ।

    ঠাকুর একটু শ্রান্ত হইয়াছেন। বিশ্রাম করিবেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—পাখি খুলে দাও আর মাদুরটা পেতে দাও।

    ঠাকুর খড়খড়ির পাখি খুলিয়া দিতে বলিতেছেন। আর বড় গরম, তাই বিছানার উপর মাদুর পাতিয়া দিতে বলিতেছেন।

    মাস্টার হাওয়া করিতেছেন। ঠাকুরের একটু তন্দ্রা আসিয়াছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (একটু নিদ্রার পর, মাস্টারের প্রতি) — ঘুম কি হয়েছিল?

    মাস্টার — আজ্ঞে, একটু হয়েছিল।

    নরেন্দ্র, শরৎ ও মাস্টার নিচে হলঘরের পূর্বদিকে কথা কহিতেছেন।

    নরেন্দ্র — কি আশ্চর্য! এত বৎসর পড়ে তবু বিদ্যা হয় না; কি করে লোকে বলে যে, দু-তিনদিন সাধন করেছি, ভগবানলাভ হবে! ভগবানলাভ কি এত সোজা! (শরতের প্রতি) তোর শান্তি হয়েছে; মাস্টার মহাশয়ের শান্তি হয়েছে, আমার কিন্তু হয় নাই।

    মাস্টার (Kathamrita) — তাহলে তুমি বরং জাব দাও, আমরা রাজবাড়ি যাই; না হয় আমরা রাজবাড়ি যাই আর তুমি জাব দাও! (সকলের হাস্য)

    নরেন্দ্র (সহাস্যে) — ওই গল্প উনি (পরমহংসদেব) শুনেছিলেন — আর শুনতে শুনতে হেসেছিলেন।

  • Ramakrishna 670: “ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে?”

    Ramakrishna 670: “ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২৩শে এপ্রিল

    প্রবৃত্তি না নিবৃত্তি? হীরানন্দকে উপদেশ — নিবৃত্তিই ভাল

    হীরানন্দ ঠাকুরের (Ramakrishna) পায়ে হাত বুলাইতেছেন। কাছে মাস্টার বসিয়া আছেন। লাটু ও আর দু-একটি ভক্ত ঘরে মাঝে মাঝে আসিতেছেন। শুক্রবার, ২৩শে এপ্রিল, ১৮৮৬ খ্রীষ্টাব্দ। আজ গুড্‌ ফ্রাইডে, বেলা প্রায় দুই প্রহর একটা হইয়াছে। হীরানন্দ আজ এখানেই অন্নপ্রসাদ পাইয়াছেন। ঠাকুরের একান্ত ইচ্ছা হইয়াছিল যে, হীরানন্দ এখানে থাকেন।

    হীরানন্দ পায়ে হাত বুলাইতে বুলাইতে ঠাকুরের সহিত কথা কহিতেছেন। সেই মিষ্ট কথা আর মুখ হাসি হাসি। যেন বালককে বুঝাইতেছেন। ঠাকুর অসুস্থ। ডাক্তার সর্বদা দেখিতেছেন।

    হীরানন্দ — তা অত ভাবেন কেন? ডাক্তারে বিশ্বাস করলেই নিশ্চিন্ত। আপনি তো বালক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — ডাক্তারে বিশ্বাস কই? সরকার (ডাক্তার) বলেছিল, “সারবে না”।

    হীরানন্দ — তা অত ভাবনা কেন? যা হবার হবে।

    মাস্টার (হীরানন্দের প্রতি, জনান্তিকে) — উনি আপনার জন্য ভাবছেন না। ওঁর শরীররক্ষা ভক্তের জন্য।

    বড় গ্রীষ্ম। আর মধ্যাহ্নকাল। খসখসের পর্দা টাঙ্গানো হইয়াছে। হীরানন্দ উঠিয়া পর্দাটি ভাল করিয়া টাঙ্গাইয়া দিতেছেন। ঠাকুর দেখিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) হীরানন্দের প্রতি) — তবে পাজামা পাঠিয়ে দিও।

    হীরানন্দ বলিয়াছেন, তাদের দেশের পাজামা পরিলে ঠাকুর আরামে থাকিবেন। তাই ঠাকুর স্মরণ করাইয়া দিতেছেন, যেন তিনি পাজামা পাঠাইয়া দেন।

    হীরানন্দের খাওয়া ভাল হয় নাই (Kathamrita)। ভাত একটু চাল চাল ছিল। ঠাকুর শুনিয়া বড় দুঃখিত হইলেন, আর বার বার তাঁহাকে বলিতেছেন, জলখাবার খাবে? এত অসুখ, কথা কহিতে পারিতেছেন না; তথাপি বারবার জিজ্ঞাসা করিতেছেন।

    আবার লাটুকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন, তোদেরও কি ওই ভাত খেতে হয়েছিল?

    ঠাকুর কোমড়ে কাপড় রাখিতে পারিতেছেন না। প্রায় বালকের মতো দিগম্বর হইয়াই থাকেন। হীরানন্দের সঙ্গে দুইটি ব্রাহ্ম ভক্ত আসিয়াছেন। তাই কাপড়খানি এক-একবার কোমরের কাছে টানিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হীরানন্দের প্রতি) — কাপড় খুলে গেলে তোমরা কি অসভ্য বল?

    হীরানন্দ — আপনার তাতে কি? আপনি তো বালক।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita) একটি ব্রাহ্ম ভক্ত প্রিয়নাথের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ করিয়া — উনি বলেন।

    হীরানন্দ এইবার বিদায় গ্রহণ করিবেন। তিনি দু-একদিন কলিকাতায় থাকিয়া আবার সিন্ধুদেশে গমন করিবেন। সেখানে তাঁহার কাজ আছে। দুইখানি সংবাদপত্রের তিনি সম্পাদক। ১৮৮৪ খ্রীষ্টাব্দ হইতে চার বৎসর ধরিয়া ওই কার্য করিয়াছিলেন। সংবাদপত্রের নাম, সিন্ধু টাইমস্‌ (Sind Times) এবং সিন্ধু সুধার (Sind Sudhar); হীরানন্দ ১৮৮৩ খ্রীষ্টাব্দে বি. এ. উপাধি পাইয়াছিলেন। হীরানন্দ সিন্ধুবাসী। কলিকাতায় পড়াশুনা করিয়াছিলেন। শ্রীযুক্ত কেশব সেনকে সর্বদা দর্শন ও তাঁহার সহিত সর্বদা আলাপ করিতেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে কালীবাড়িতে মাঝে মাঝে আসিয়া থাকিতেন।

    হীরানন্দের পরীক্ষা—প্রবৃত্তি না নিবৃত্তি

    শ্রীরামকৃষ্ণ (হীরানন্দের প্রতি) — সেখানে নাই বা গেলে?

    হীরানন্দ (সহাস্যে) — বাঃ আর যে সেখানে কেউ নাই! আর সব যে চাকরি করি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি মাহিনা পাও?

    হীরানন্দ (সহাস্যে) — এ-সব কাজে কম মাহিনা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কত?

    হীরানন্দ হাসিতে লাগিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এখানে থাক না?

    [হীরানন্দ চুপ করিয়া আছেন।]

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কি হবে কর্মে?

    হীরানন্দ চুপ করিয়া আছেন।

    হীরানন্দ আর একটু কথাবার্তার পর বিদায় গ্রহণ করিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — কবে আসবে?

    হীরানন্দ — পরশু সোমবার দেশে যাব। সোমবার সকালে এসে দেখা করব।

  • Indian Rail: ভারতীয় রেলের ইতিহাস সৃষ্টি, ওভারহেড বিদ্যুতায়নে বিশ্বের প্রথম ‘ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ চালুর রেকর্ড

    Indian Rail: ভারতীয় রেলের ইতিহাস সৃষ্টি, ওভারহেড বিদ্যুতায়নে বিশ্বের প্রথম ‘ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ চালুর রেকর্ড

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রেলওয়ে প্রযুক্তি এবং পণ্য পরিবহনে এক অনন্য নজির স্থাপন করল ভারত। বিশ্বের প্রথম এবং একমাত্র দেশ হিসেবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারের (Overhead Electrification) নিচে বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন চালিত ‘ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন’ একটির ওপর আরেকটি কন্টেইনার চাপানো মালগাড়ি চালিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ভারতীয় রেল (Indian Rail)। ভারতের এই অভাবনীয় ইঞ্জিনিয়ারিং সাফল্য ইতিমধ্যেই বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।

    বিশ্বের অন্য দেশের তুলনায় ভারতের সাফল্য যেখানে আলাদা (Indian Rail)

    আমেরিকা বা চীনের মতো উন্নত দেশগুলোতেও ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন (Indian Rail) চালানো হয়, তবে সেগুলির বেশিরভাগই ডিজেল চালিত ইঞ্জিনে চলে। অথবা এমন রুটে চালানো হয় যেখানে মাথার ওপর কোনও বৈদ্যুতিক লাইনের (Overhead Electrification) বাধা থাকে না। কিন্তু ভারত সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়িত রেল করিডোরে ওভারহেড তারের বাধা থাকা সত্ত্বেও এই ডাবল-স্ট্যাক কন্টেইনার ট্রেন সফলভাবে চালিয়ে এক জটিল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জকে জয় করেছে। পরিবেশবান্ধব পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এটিকে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    কীভাবে সম্ভব হলো এই অসাধ্য সাধন?

    জানা গিয়েছে, ‘ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (DFCCIL) দ্বারা নির্মিত ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (WDFC)-এ এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হয়েছে।

    হাই-রাইজ ওভারহেড ইকুইপমেন্ট (High-Rise OHE)

    ডাবল-স্ট্যাক ট্রেনের (Indian Rail) অতিরিক্ত উচ্চতার কথা মাথায় রেখে সাধারণ রেললাইনের চেয়ে অনেক উঁচুতে বৈদ্যুতিক তার বসিয়েছেন ইঞ্জিনিয়াররা। এই রুটে ওভারহেড তারের উচ্চতা রাখা হয়েছে প্রায় ৭.৪৫ মিটার, যা সাধারণ লাইনের চেয়ে অনেক বেশি।

    উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ ও হাই-রিচ প্যান্টোগ্রাফ

    এই উঁচু তার থেকে বিদ্যুৎ সংগ্রহের জন্য বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ইঞ্জিন (Overhead Electrification) তৈরি করা হয়েছে, যাতে রয়েছে অত্যন্ত উঁচুতে পৌঁছাতে সক্ষম ‘হাই-রিচ প্যান্টোগ্রাফ’ (High-reach Pantograph)। এর ফলে ট্রেনগুলি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এবং কোনও বাধা ছাড়াই বিদ্যুৎ গ্রহণ করে কন্টেইনার নিয়ে ছুটতে পারে।

    দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যে এর প্রভাব

    উত্তর প্রদেশের দাদরি থেকে মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু পোর্ট (JNPT) পর্যন্ত বিস্তৃত এই ওয়েস্টার্ন ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোরটি দেশের পণ্য পরিবহনের মূল ধমনীতে পরিণত হয়েছে। এই ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলি হলো—

    • ১. দ্বিগুণ ধারণক্ষমতা: সাধারণ মালগাড়ির তুলনায় এই ট্রেনগুলি (Indian Rail) প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ কন্টেইনার বহন করতে পারে।
    • ২. খরচ ও সময় সাশ্রয়: এক ট্রিপেই বিশাল পরিমাণ পণ্য পরিবহন সম্ভব হওয়ায় লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহনের খরচ একধাক্কায় অনেকটাই কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত গতির কারণে সময় বাঁচছে।
    • ৩. সবুজ ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন: ডিজেলের ব্যবহার বন্ধ করে পুরোপুরি বৈদ্যুতিক শক্তিতে চলার কারণে জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি কার্বন নির্গমন হ্রাস পাচ্ছে, যা ভারতের পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

    রেল বিশেষজ্ঞরা এই সাফল্যকে সাম্প্রতিক দশকের অন্যতম সেরা উদ্ভাবন বলে অভিহিত করেছেন। ভারত সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘পিএম গতি শক্তি’ প্রকল্পের (Overhead Electrification) অধীনে দেশকে একটি বৈশ্বিক ম্যানুফ্যাকচারিং ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে, এই ইলেকট্রিক ডাবল-স্ট্যাক ট্রেন ব্যবস্থা সেই স্বপ্নপূরণে এক বিরাট অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।

  • Swami Vivekananda: শিকাগোয় উন্মোচন হল স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তির, বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হল সেবা ও সম্প্রীতির বার্তা

    Swami Vivekananda: শিকাগোয় উন্মোচন হল স্বামী বিবেকানন্দের পূর্ণাবয়ব মূর্তির, বিশ্বজুড়ে ধ্বনিত হল সেবা ও সম্প্রীতির বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকার শিকাগোয় (Chicago) ভারতীয় কনস্যুলেট জেনারেলে উন্মোচিত হল স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি (Life-size statue)। বিবেকানন্দের সেই কালজয়ী বার্তা—বেদান্ত দর্শন, মানবসেবা এবং বৈশ্বিক সম্প্রীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৮৯৩ সালের শিকাগো (Chicago) বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় স্বামীজির দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের স্মৃতিবিজড়িত এই শহরে তাঁর মূর্তি উন্মোচন এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

    মানবসেবা এবং সর্বজনীন সম্প্রীতির উদাহরণ (Swami Vivekananda)

    আমেরিকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা (Vinay Mohan Kwatra) আনুষ্ঠানিকভাবে এই মূর্তির উন্মোচন করেন। প্রবাসী ভারতীয়দের (Diaspora) আন্তরিক উপহার হিসেবে এই ভাস্কর্যটি কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে স্থান পেয়েছে। মূর্তি উন্মোচন করে রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কোয়াত্রা তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেন, “আমাদের শিকাগো (Chicago) কনস্যুলেটে স্বামী বিবেকানন্দের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি উন্মোচন করতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এটি আমাদের প্রবাসী সম্প্রদায়ের একটি উদার উপহার। মানবসেবা এবং সর্বজনীন সম্প্রীতির বিষয়ে ওনার চিরন্তন বার্তা আমাদের সবার মধ্যে বেঁচে রয়েছে। আমাদের প্রাণবন্ত প্রবাসী সম্প্রদায়ের সাথে যুক্ত হতে পারার এই সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

    অনুষ্ঠান ও প্রাসঙ্গিকতা

    মূর্তি উন্মোচনের পর স্বামী বিবেকানন্দের কালজয়ী আদর্শ নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভার (Chicago) আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শিকাগোর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিবর্গ এবং ভারতীয় সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

    উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে আমেরিকার সিয়াটল (Seattle) শহরে স্বামী বিবেকানন্দের (Swami Vivekananda) আরও একটি মূর্তি উন্মোচন করা হয়েছিল, যা ছিল আমেরিকার কোনও নগর প্রশাসন (City Government) দ্বারা স্থাপিত প্রথম বিবেকানন্দ মূর্তি। ১৮৯৩ সালে শিকাগোর (Chicago) মাটিতে দাঁড়িয়েই স্বামীজি তাঁর বক্তৃতা শুরু করেছিলেন ‘‘আমেরিকার ভাই ও বোনেরা’’ বলে সম্বোধন করে। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও তাঁর সেই বিশ্বভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং সনাতন ধর্মের উদারতার বাণী সমানভাবে প্রাসঙ্গিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Ramakrishna 669: “জড়ের সত্তা চৈতন্য লয়, আর চৈতন্যের সত্তা জড় লয়, শরীরের রোগ হলে বোধ হয় আমার রোগ হয়েছে”

    Ramakrishna 669: “জড়ের সত্তা চৈতন্য লয়, আর চৈতন্যের সত্তা জড় লয়, শরীরের রোগ হলে বোধ হয় আমার রোগ হয়েছে”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    বুদ্ধদেব কি ঈশ্বরের অস্তিত্ব মানতেন? নরেন্দ্রকে শিক্ষা

    দ্বাবিংশ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ২২শে এপ্রিল

    ঠাকুরের আত্মপূজা—গুহ্যকথা—মাস্টার, হীরানন্দ প্রভৃতি সঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ ও যোগাবস্থা—অখণ্ডদর্শন 

    “সব দেখছি একটা খোল নিয়ে মাথা নাড়ছে।

    “দেখছি, যখন তাঁতে মনের যোগ হয়, তখন কষ্ট একধারে পড়ে থাকে।

    “এখন কেবল দেখছি একটা চামড়া ঢাকা অখণ্ড, আর-একপাশে গলার ঘা-টা পড়ে রয়েছে।”

    ঠাকুর (Ramakrishna) আবার চুপ করিলেন। কিয়ৎক্ষণ পরে আবার বলিতেছেন, জড়ের সত্তা চৈতন্য লয়, আর চৈতন্যের সত্তা জড় লয়। শরীরের রোগ হলে বোধ হয় আমার রোগ হয়েছে।

    হীরানন্দ ওই কথাটি বুঝিবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করিলেন। তাই মাস্টার বলিতেছেন — “গরম জলে হাত পুড়ে গেলে বলে, জলে হাত পুড়ে গেল। কিন্তু তা নয়, হীট (Heat)-এতে হাত পুড়ে গেছে।

    হীরানন্দ (ঠাকুরের প্রতি) — আপনি বলুন, কেন ভক্ত কষ্ট পায়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—দেহের কষ্ট।

    ঠাকুর আবার কি বলিবেন। উভয়ে অপেক্ষা করিতেছেন।

    ঠাকুর বলিতেছেন — “বুঝতে পারলে?”

    মাস্টার আস্তে আস্তে হীরানন্দকে কি বলিতেছেন —

    মাস্টার — লোকশিক্ষার জন্য। নজির। এত দেহের কষ্টমধ্যে ঈশ্বরে মনের ষোল আনা যোগ!

    হীরানন্দ — হাঁ, যেমন Christ-এর Crucifixion। তবে এই Mystery, এঁকে কেন যন্ত্রণা?

    মাস্টার — ঠাকুর (Ramakrishna)  যেমন বলেন, মার ইচ্ছা। এখানে তাঁর এইরূপই খেলা।

    ইঁহারা দুজন আস্তে আস্তে কথা কহিতেছেন। ঠাকুর ইশারা করিয়া হীরানন্দকে জিজ্ঞাসা করিতেছেন। হীরানন্দ ইশারা বুঝিতে না পারাতে ঠাকুর আবার ইশারা করিয়া জিজ্ঞাসা করিতেছেন, “ও কি বলছে?”

    হীরানন্দ — ইনি লোকশিক্ষার কথা বলছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — ও-কথা অনুমানের বই তো নয়। (মাস্টার ও হীরানন্দের প্রতি) — অবস্থা বদলাচ্ছে, মনে করিছি চৈতন্য হউক, সকলেকে বলব না। কলিতে পাপ বেশি, সেই সব পাপ এসে পড়ে।

    মাস্টার (হীরানন্দের প্রতি) — সময় না দেখে বলবেন না। যার চৈতন্য হবার সময় হবে, তাকে বলবেন।

  • NEET-UG 2026: নিট রি-এক্সামের আগে ডিজিটাল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কেন্দ্রের! ভুয়ো খবর, প্রশ্নফাঁস রুখতে ২২ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে নিষিদ্ধ টেলিগ্রাম

    NEET-UG 2026: নিট রি-এক্সামের আগে ডিজিটাল সার্জিক্যাল স্ট্রাইক কেন্দ্রের! ভুয়ো খবর, প্রশ্নফাঁস রুখতে ২২ জুন পর্যন্ত দেশজুড়ে নিষিদ্ধ টেলিগ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা নিট (NEET-UG 2026) পুনর্পরীক্ষার ঠিক আগে বড়সড় ডিজিটাল স্ট্রাইক করল কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের ভুয়ো খবর ছড়ানো রুখতে দেশজুড়ে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ (Ban) করা হল জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ ‘টেলিগ্রাম’ (Telegram)। জাতীয় পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থা বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র সুনির্দিষ্ট সুপারিশের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY) তথ্যপ্রযুক্তি আইনের (IT Act, 2000) ধারা ৬৯এ (Section 69A)-এর অধীনে এই জরুরি নির্দেশিকা জারি করেছে। আগামী ২২ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, যা নিট পুনর্পরীক্ষার দিন এবং তার ঠিক পরের সময়টুকুকে কভার করবে।

    কেন এই নিষেধাজ্ঞা? সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য (NEET-UG 2026)

    ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে একাধিক সুসংগঠিত চিটিং র‍্যাকেট এবং সাইবার প্রতারক চক্র টেলিগ্রামকে (Telegram) হাতিয়ার করে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফাঁদে ফেলছিল। গোয়েন্দা ও সাইবার ক্রাইম শাখার নজরে আসে যে, টেলিগ্রামে— ‘‘PAPER LEAKED NEET’’, ‘‘Re-NEET 2026’’, ‘‘Private Mafia’’ এবং ‘‘REE NEET MAFIAA’’— এর মতো নামে অসংখ্য ভুয়ো চ্যানেল চালানো হচ্ছিল। এই চ্যানেলগুলির মাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল যে তাদের কাছে পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র রয়েছে। এর বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছিল। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NEET-UG 2026) স্পষ্ট করে জানিয়েছে— ‘‘সুরক্ষিত পরীক্ষা ব্যবস্থার বাইরে কোনও প্রশ্নপত্র কোথাও উপলব্ধ নেই। যারা এই ধরণের প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তারা প্রত্যেকেই বড়সড় জালিয়াতি চক্রের অংশ।’’

    কীভাবে তৈরি হত জাল ‘পেপার লিক-এর প্রমাণ?

    টেলিগ্রাম (Telegram) অ্যাপটি পুরোপুরি ব্যান করার পাশাপাশি সরকার আরও একটি কড়া নির্দেশ দিয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ভারতে টেলিগ্রামের ‘মেসেজ এডিটিং’ (Message-editing) ফিচারটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তদন্তে নেমে সাইবার বিশেষজ্ঞরা জানতে পেরেছেন, এই জালিয়াতি চক্রগুলি টেলিগ্রামের একটি বিশেষ টেকনিক্যাল লুপহোল (ত্রুটি) ব্যবহার করছিল।

    • ১> পরীক্ষার আগে: প্রতারকরা চ্যানেলে একটি সাধারণ মেসেজ বা সাধারণ কোনো পিডিএফ পোস্ট করে রাখত।
    • ২> পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর: যখন আসল পরীক্ষা শেষ হয়ে যেত, তখন তারা পুরোনো মেসেজটি এডিট করে সেখানে আসল প্রশ্নপত্রটি ঢুকিয়ে দিত।
    • ৩> ফলাফল: যেহেতু মেসেজ এডিট করলেও তার মূল ‘টাইমস্ট্যাম্প’ (কোন সময়ে পোস্ট করা হয়েছিল) অপরিবর্তিত থাকে, তাই স্ক্রিনশট দেখে মনে হত পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগেই বুঝি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে গেছে! এইভাবে বাজারে কৃত্রিম ‘‘প্রশ্ন ফাঁসের’’ গুজব ছড়িয়ে কোটি কোটি টাকার খেলা চলছিল। ৩০ জুন পর্যন্ত এডিটিং ফিচার বন্ধ করে এই জালিয়াতির রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করা হল।

    দেশজুড়ে বড়সড় অ্যাকশন

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C) বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে মিলে এই চক্রগুলির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ সিটি সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ (Telegram) এমন একটি আন্তঃরাজ্য চক্রের সন্ধান পেয়েছে যারা ৮টি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে প্রায় ১.৫ কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা চালিয়েছে। গত ৯ জুন বিহার পুলিশের ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOU)-ও এই বিষয়ে পরীক্ষার্থীদের সতর্ক করে একটি অ্যাডভাইজরি জারি করেছিল।

    ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র দুঃখপ্রকাশ ও পরীক্ষার্থীদের বার্তা

    হঠাৎ করে টেলিগ্রাম বন্ধ হওয়ায় দেশের লক্ষ লক্ষ সাধারণ ব্যবহারকারী সাময়িক সমস্যায় পড়বেন স্বীকার করে আন্তরিক দুঃখপ্রকাশ করেছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)। তবে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এই কড়া পদক্ষেপ (NEET-UG 2026) নেওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী কোনও সমস্যা ছাড়াই তাদের অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোড করেছেন। কোনও পরীক্ষার্থী যদি ইন্টারনেটে এমন কোনও প্রশ্নপত্র ফাঁসের দাবি বা জালিয়াতির মুখোমুখি হন, তবে অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সাইবার ক্রাইম হেল্পলাইন নম্বর ১৯৩০ (1930)-এ যোগাযোগ করে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari Government: রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জনকল্যাণ শিবির ২০২৬’-এর যাত্রা শুরু, নন্দীগ্রামে উদ্বোধন করলেন শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দিতে সোমবার থেকে রাজ্যজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari Government) নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন উদ্যোগ ‘জনকল্যাণ শিবির’ (Janakalyan Shibir)। নাগরিক পরিধি আরও সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করতে এই অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রাজ্যবাসী এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট শিবিরের আওতাতেই সরকারের বিভিন্ন দফতরের মোট ৫৪টি জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা ও সেবার জন্য সরাসরি আবেদন করতে পারবেন।

    উদ্যোগের নেপথ্য লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (Suvendu Adhikari Government)

    প্রশাসনিক (Suvendu Adhikari Government) সূত্রে জানানো হয়েছে, সাধারণ মানুষকে যাতে সরকারি প্রকল্পের সুফল পেতে বা যেকোনও শংসাপত্রের আবেদনের জন্য ব্লক কার্যালয় কিংবা জেলা সদরের বিভিন্ন দফতরে দফায় দফায় দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই ঝক্কি কমাতেই এই সমন্বিত শিবিরের নীল নকশা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের কাছে দ্রুত, স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলকভাবে সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল অভিমুখ।

    যেসব প্রধান পরিষেবা মিলবে এই শিবিরে

    এই বিশেষ সরকারি উদ্যোগে (Suvendu Adhikari Government) রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং কৃষি সংক্রান্ত ৫৪টি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ ও যাচাইকরণ করা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ক্ষেত্র হলো:

    • সামাজিক ভাতা ও নিরাপত্তা: বার্ধক্যভাতা, বিধবাভাতা এবং বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন নাগরিকদের জন্য সুরক্ষামূলক আর্থিক সহায়তা।
    • কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি: কৃষকদের জন্য ক্রেডিট কার্ড, ফসল বিমা এবং বিভিন্ন সরকারি কৃষি অনুদান সংক্রান্ত পরিষেবা।
    • শিক্ষা ও যুব প্রগতি: ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাবৃত্তি (স্কলারশিপ), স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর লোন সংক্রান্ত আবেদনের সুবিধা।
    • নাগরিক শংসাপত্র ও সংশোধন: জাতিগত শংসাপত্র (Caste Certificate) প্রদান এবং আধার বা ডিজিটাল রেশন কার্ড সংক্রান্ত ত্রুটি সংশোধনের (Janakalyan Shibir) তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা।

    প্রশাসনিক তৎপরতা ও তদারকি

    ‘জনকল্যাণ শিবির’ কর্মসূচিকে সম্পূর্ণ সফল ও জনবান্ধব করে তুলতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে (Suvendu Adhikari Government) বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দফতরের জন্য পৃথক কাউন্টার এবং অনুসন্ধান কেন্দ্রের (Help Desk) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে, আবেদনপত্র জমা পড়ার পর তা যেন লাল ফিতের ফাঁসে আটকে না থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা পান (Janakalyan Shibir), তা নিশ্চিত করতে রাজ্য স্তর থেকে একটি বিশেষ নজরদারি দল (Monitoring Cell) কাজ করছে। সোমবার প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই শিবিরগুলোকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে।

    জনকল্যাণ শিবিরের মূল উদ্দেশ্য ও রূপরেখা

    প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষকে যাতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধার জন্য ব্লক দফতর বা জেলা সদরের একাধিক কার্যালয়ে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই এই সমন্বিত শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি জেলা, মহকুমা এবং ব্লক স্তরে সুনির্দিষ্ট সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে। যোগ্য ও সুবিধাবঞ্চিত নাগরিকদের চিহ্নিত করে দ্রুত সরকারি পরিষেবা (Janakalyan Shibir) প্রদান নিশ্চিত করাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

    আবেদনযোগ্য প্রধান প্রকল্পসমূহ

    এই বিশেষ শিবিরে রাজ্য সরকারের সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত ৫৪টি প্রকল্পের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে। শিবির থেকে মোট ৫৪টি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। কোন কোন ক্ষেত্রে আবেদন করতে পারবেন দেখে নিন—

    • ● আয়ুষ্মান ভারত
    • ● অন্নপূর্ণা যোজনা
    • ● ন্যাশনাল সোশ্যাল অ্যাসিস্টান্স প্রোগ্রাম
    • ● সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা
    • ● বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও
    • ● পিএম কিসান সম্মান নিধি
    • ● কিসান ক্রেডিট কার্ড
    • ● মাটির স্বাস্থ্য কার্ড
    • ● কৃষি পরিকাঠামো তহবিল
    • ● ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড
    • ● আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিং
    • ● সিএএ আবেদন
    • ● জমির রেকর্ড মিউটেশন
    • ● জমির রেকর্ডে ছোট সংশোধন
    • ● পাট্টার আবেদন
    • ● পিএম সূর্যঘর যোজনা
    • ● পিএম স্বনীধি যোজনা
    • ● প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা
    • ● পিএম উজ্জ্বলা যোজনা,
    • ● পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা-সহ একাধিক প্রকল্প

    প্রশাসনের তৎপরতা ও প্রস্তুতি

    জনকল্যাণ শিবিরগুলোকে নির্বিঘ্ন ও সফল করতে জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবিরে প্রতিটি দপ্তরের জন্য আলাদা কাউন্টার বা হেল্পডেস্কের ব্যবস্থা থাকছে, যাতে প্রবীণ নাগরিক ও গ্রামীণ মানুষ সহজে তাঁদের প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে পারেন। প্রতিটি আবেদনের অগ্রগতি যাতে কড়া নজরদারিতে থাকে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উপভোক্তারা পরিষেবা (Janakalyan Shibir) পান, তার জন্য একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলও গঠন করা হয়েছে। আজ প্রথম দিন থেকেই রাজ্যজুড়ে এই শিবিরগুলোতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছ।।

  • JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    JP Nadda: জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলা মামলা, ফলতার প্রাক্তন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীরকে নিয়ে অপরাধের পুনর্নির্মাণ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবার সফরের সময় বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার (JP Nadda) কনভয়ে হামলার ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদার করেছে পুলিশ। এই মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা ফলতার তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) সঙ্গে নিয়ে সম্প্রতি ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Crime Scene Reconstruction) করেছে ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল। রাস্তা দিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় পরনে হাফ প্যান্ট ছিল। দুই হাতে কান ধরে ছিলেন এবং রাস্তায় উপস্থিত জনতার কাছে ক্ষমা চাইছিলেন।

    ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও তদন্তপ্রক্রিয়া (JP Nadda)

    ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan) ফলতার নির্দিষ্ট ঘটনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ২০২০ সালের সেই দিনটিতে (JP Nadda) ঠিক কী ঘটেছিল, কনভয় লক্ষ্য করে কীভাবে এবং কোথা থেকে আক্রমণ চালানো হয়েছিল— তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণচিত্র তৈরি করেন তদন্তকারীরা। পুলিশি জেরা ও পুনর্নির্মাণের সময় একসময়ের এই দাপুটে নেতাকে অত্যন্ত অনুতপ্ত ও বিপর্যস্ত দেখায়। সেই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতেই তিনি নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

    মামলা পুনরুজ্জীবন ও সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

    দীর্ঘদিন এই মামলার (JP Nadda) তদন্ত থমকে থাকার পর, সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি নতুন করে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিপূর্বে রাজনৈতিক প্রভাব বা অন্য কোনও কারণে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ব্যাহত হয়েছিল, যার ফলে মূল অভিযুক্তরা আইনি সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। তবে বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এবং নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নজরদারির পর এই মামলার জট খুলতে শুরু করেছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জাহাঙ্গীর খানের (Jahangir Khan) রাজনৈতিক দৃশ্যপট থেকে সরে যাওয়া এবং পরবর্তীকালে নেপাল সীমান্ত থেকে তাঁর গ্রেফতারের পর, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা এই পুরোনো ও স্পর্শকাতর মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না এবং ঘটনার পেছনে থাকা সমস্ত কুশীলবদের আইনের আওতায় আনা হবে।

  • Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    Rahul Arunoday Banerjee: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়র রহস্যমৃত্যু, সিআইডি তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক ও মর্মান্তিক প্রয়াণের পর আড়াই মাস কেটে গেলেও এখনও মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে, যার উত্তর মেলেনি।। অভিনেতার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করতে এবার রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হলো। আজ এক বিশেষ প্রশাসনিক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এই মৃত্যুরহস্যের তদন্তভার রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা ও পরিবারের আর্জি (Rahul Arunoday Banerjee)

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “অভিনেতার (Rahul Arunoday Banerjee) আকস্মিক চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং এর পেছনে কোনও গভীর রহস্য বা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। নিরপেক্ষ এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” উল্লেখ্য, অভিনেতার পরিবার এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের পক্ষ থেকেও এই মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছিল। সেই আর্জিকে গুরুত্ব দিয়েই রাজ্য সরকার সিআইডি-কে দ্রুত তদন্তভার গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

    তদন্তের অভিমুখ

    প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করলেও, এখন থেকে সিআইডি-র বিশেষ দল এই মামলার সমস্ত নথিপত্র, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট (Rahul Arunoday Banerjee) এবং পারিপার্শ্বিক তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখবে। বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত এবং প্রতিভাবান এই অভিনেতার মৃত্যুর নেপথ্যে কোনও মানসিক চাপ, প্ররোচনা নাকি অন্য কোনও কারণ জড়িত ছিল—তা সুনির্দিষ্টভাবে জানার অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরিবার এবং অগণিত অনুরাগী। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, সত্য অনুসন্ধানে কোনও খামতি রাখা হবে না।

  • Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    Suvendu Adhikari: বন্দে ভারতে চেপে দিঘা! মুম্বইয়ের ধাঁচে মেরিন ড্রাইভ, স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জোর, সৈকতনগরী ঘিরে গুচ্ছ পরিকল্পনা রাজ্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রেলযাত্রী ও পর্যটকদের জন্য এক অত্যন্ত ইতিবাচক খবর। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অদূর ভবিষ্যতে পর্যটন কেন্দ্র দিঘা রুটে চালু হতে পারে সেমি-হাইস্পিড ‘বন্দে ভারত এক্সপ্রেস’ (Vande Bharat Express)। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, “নির্দিষ্ট একটি রেল প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হলেই দিঘায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের পথ সুগম হবে।”

    পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন মানচিত্রে দিঘাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দিঘায় মুম্বই-চেন্নাইয়ের আদলে প্রশস্ত মেরিন ড্রাইভ ও পর্যটন ক্ষেত্রে বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দিঘায় আয়োজিত একটি প্রশাসনিক বৈঠক শেষে তিনি জানান, পর্যটন কেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্য সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে।

    প্রশস্ত হচ্ছে দিঘার মেরিন ড্রাইভ (Suvendu Adhikari)

    মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “মুম্বই বা চেন্নাইয়ের মতো বড় শহরগুলোর উপকূলবর্তী সড়কের আদলে দিঘার মেরিন ড্রাইভকেও চওড়া ও আধুনিক করা হবে।” পূর্ববর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “মেরিন ড্রাইভের নামে অতীতে অত্যন্ত সংকীর্ণ একটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পর্যটকদের সুবিধার্থে সেই রাস্তাকে ন্যূনতম দুই লেনে (২-লেন) উন্নীত করা হবে।”

    মুক্ত হচ্ছে পর্যটন কর, ১ জুলাই থেকে স্বস্তি

    দিঘায় আসা পর্যটকদের জন্য আরেকটি বড় ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ১ জুলাই থেকে দিঘায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের আর মাথাপিছু ১০ টাকা করে ‘চাঁদা’ বা কর দিতে হবে না। শুভেন্দু অধিকারী উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের আমলে পর্যটকপিছু এই টাকা নেওয়া হতো, যা বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের ভ্রমণ আরও সাশ্রয়ী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    নন্দকুমার-দিঘা জোড়া রেললাইন ও জমি অধিগ্রহণ

    জেলা শাসকের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত রেললাইনকে দ্বিমুখী (Vande Bharat Express) করার জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। ইতিপূর্বেও রেলওয়ে বোর্ডের পক্ষ থেকে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল এবং রেলমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা শাসকের এই বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে।”

    পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের প্রায় সমস্ত প্রধান উপকূলবর্তী শহরই রেল যোগাযোগের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু পূর্বতন প্রশাসনের নেতিবাচক মনোভাব ও জমি প্রদানে অনীহার কারণে দিঘা এই আধুনিক রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা থেকে পিছিয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার এই জট কাটাতে তৎপর। নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ৭৪ একর জমি রেলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাকি মাত্র ৬ একর জমির প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    রানাঘাট রুট নিয়েও আশার আলো

    দিঘার পাশাপাশি নদিয়া জেলার রানাঘাট স্টেশন হয়েও বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রানাঘাটের উত্তর-পশ্চিমের বিধায়কের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানাঘাট-কল্যাণী এবং রানাঘাট-কৃষ্ণনগর শাখার তৃতীয় লাইনের কাজ সম্পন্ন হলেই এই রুট দিয়েও ছুটতে পারে প্রিমিয়াম সেমি-হাইস্পিড ট্রেন। স্বাভাবিকভাবেই, এই রেল প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের পর্যটন শিল্পের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনই সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও দ্রুত ও আরামদায়ক হবে।

    দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে আগের সরকারকে তোপ

    একই ভাবে দিঘার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari) বলেন, “বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আগামী দিনে কার্যকর হতে দেখতে পারবেন। ডিপার্টমেন্টগুলি খতিয়ে দেখে বোঝা গিয়েছে, অন্তত অত দুই বছর আগের সরকার এখানে কোনও কাজ করেনি।”

    হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ন্যূনতম কোনও পরিষেবা নেই। একটাও আইসিইউ বেড নেই, একটাই অ্যাম্বুলেন্স। ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা নেই। ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে নিউরোসার্জন, কার্ডিয়াক বা অর্থোপেডিক নেই। বহু মানুষ এখানে ঘুরতে আসেন, গোটা সমুদ্রতটে মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। তাঁদের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বলেছি। তাঁদের অর্থবৃদ্ধি করার কথা বলেছি।”

    আন্তর্জাতিক যোগ দিবস ও কলকাতা পুরসভায় মুখ্যমন্ত্রীর সফর

    এদিকে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আগামী ২১ জুন কলকাতায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানাতে এবং তাঁর সম্মানে কলকাতা পুরসভা (কেএমসি) একটি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পরিকল্পনা করেছে। ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ নামক এই কর্মসূচিটি ১৫ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত চলবে। আজ, সোমবার দুপুর ৩টেয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার কলকাতা পুরসভায় (ছোট লালবাড়ি) যাচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন।

    পুরসভার প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও যোগ দিবসের আহ্বান

    উল্লেখ্য, কলকাতা পুরসভার বর্তমান বোর্ডের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও, তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর বর্তমানে পুরসভার সমস্ত দায়িত্ব সামলাচ্ছেন প্রশাসক তথা পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সফরের সময় পুর প্রশাসকের সঙ্গে তাঁর কোনও বিশেষ বৈঠক হয় কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

    আগামী ২১ জুন সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৮টা পর্যন্ত কলকাতায় মূল যোগ দিবসের অনুষ্ঠানটি সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এই যোগ-যজ্ঞে সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে শামিল হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন পুর প্রশাসক স্মিতা পাণ্ডে।

LinkedIn
Share