Tag: bangla news

bangla news

  • Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    Modi Trump Phone Call: কমল শুল্ক উদ্বেগ! মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি নিয়ে আলোচনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Modi Trump Phone Call)। ৩০ সেপ্টেম্বর দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে টেলিফোনে এই কথোপকথন হয়। প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর তরফে জানানো হয়েছে, দুই নেতা ভারত-মার্কিন ‘বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ (Comprehensive Global Strategic Partnership) আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। দুই দেশের মানুষের স্বার্থে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়েও তাঁরা সম্মত হয়েছেন।

    প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা

    ফোনালাপে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন মোদি ও ট্রাম্প। বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার চলমান প্রচেষ্টা নিয়েও তাঁদের মধ্যে আলোচনা হয়। বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছি। বৃহত্তর আন্তর্জাতিক পরিসরে কৌশলগত অংশীদারিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আমরা একমত হয়েছি।’’ এর পরেই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘‘আমরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেছি। যার মধ্যে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার অগ্রগতির ক্ষেত্রে ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও রয়েছে।’’

    মোদি-ট্রাম্প ফোনালাপের তাৎপর্য

    বিদেশ মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনার উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা। পাশাপাশি, আলোচনায় এসেছে পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও। ঘটনাচক্রে, ইরানের পড়শি দেশ ইরাক থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারপর্ব সাঙ্গ হওয়ার দিনেই মোদি ও ট্রাম্পের কথা হল। সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষে পাশ হওয়া ‘লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাঙ্কশনিং রাশিয়া এবং ইরান অ্যাক্ট অফ ২০২৬’ শীর্ষক বিল ট্রাম্প সরকার কার্যকর করলে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অপরাধে’ ভারতীয় পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ভারতের পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্কের পরিমাণ ১২ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে মোদির ফোন ‘তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মনে করছেন কূটনীতি পর্যবেক্ষকদের একাংশ।

    বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে (India-US Relation) দীর্ঘদিন ধরে একটি পারস্পরিকভাবে লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরের সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন একটি সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। জয়শঙ্করের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে যে প্রত্যাশা ছিল, বাস্তব পরিস্থিতি তার তুলনায় অনেক বেশি জটিল হয়েছে। তবে বর্তমানে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে “মোটামুটি একটি বোঝাপড়া” তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান। মার্কিন শুল্কনীতির পরিবর্তন এবং সেকশন ৩০১-এর প্রক্রিয়াকেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। মার্কিন বাণিজ্য নীতি ১৯৭১-এর সেকশন৩০১-এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের এমন বাণিজ্যিক নীতি বা কার্যকলাপ তদন্ত করতে পারে, যেগুলিকে তারা অন্যায্য বলে মনে করে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত শুল্ক-সহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও এই ধারায় রয়েছে।

    রাশিয়া ও ইরান নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব

    এদিকে রাশিয়া ও ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন কংগ্রেসে পাস হওয়া আইন (SRIA) নিয়েও ভারতের উদ্বেগ রয়েছে। ওই আইনের আওতায় রাশিয়া এবং রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ক্রেতা দেশগুলির বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের সুযোগ ট্রাম্প প্রশাসনের হাতে আসতে পারে। ভারত ও চিনও সম্ভাব্যভাবে এর প্রভাবের মধ্যে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের পক্ষ থেকে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত বৈচিত্র্যময় উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের নীতি বজায় রাখবে এবং পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতের তরফে আরও জানানো হয়েছে, এই বিষয়টি সাম্প্রতিক কালে একাধিক মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় তোলা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে ভারতীয় পক্ষের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।

    বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় ভারতের অবস্থান

    বিদেশ মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় সরকার ভারতীয় শিল্প ও বাণিজ্য সংগঠনগুলির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বলেও জানানো হয়েছে। এদিকে বিদেশসচিব বিক্রম মিসরি মার্কিন কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করে এসআরআইএ-সংক্রান্ত ভারতের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে এই আইনের সম্ভাব্য প্রভাব ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে কীভাবে পড়তে পারে, তা নিয়ে ভারতের অবস্থান প্রতিনিধিদলের কাছে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে কঠিন বৈশ্বিক কূটনৈতিক ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে দেশ। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে আগ্রহী ভারত, অন্যদিকে রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানির কেনার রাস্তাও খোলা রাখতে চাইছে দিল্লি। ব্রিকস-এ জিনপিং আসার পর আন্তজার্তিক কূটনীতি কোন পথে এগোয় সেদিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। এই অবস্থায় মোদি-ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ফোনালাপ দুই দেশ তথা আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।

     

     

     

     

  • India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    India Vs Pakistan: লাস্ট মিনিট থ্রিলারে এশিয়াড হকিতে পাক বধ! এশিয়ান গেমস ফাইনালে ২২ গজে ভারত-পাকিস্তান ‘মহারণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ান গেমসে পুরুষদের হকি সেমি ফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত, সঙ্গে পদকও নিশ্চিত করল। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানে শেষ মিনিট পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। এই ম্যাচেও তার অন্যথা ছিল না। বৃহস্পতিবার জাপানের গিফু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে দেখা গেল সেই ছবি। ভারত একটা সময়ে ৩-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরে ৩-৩ সমতায় আটকে যায়। আর সেখান থেকে অন্তিম মিনিটে রুদ্ধশ্বাস জয় ছিনিয়ে নেয়। নাটকীয়তায় মোড়া এই সেমিফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ফাইনালে প্রবেশ করল ভারত। অন্যদিকে , ক্রিকেটে সোনার পদকের জন্য মুখোমুখি হতে চলেছে ভারত ও পাকিস্তান (India vs Pakistan)। ৩ অক্টোবর হবে বহু প্রতীক্ষিত এই ফাইনাল। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তির লড়াই এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।

    শুরু থেকে ভারতের আক্রমণ

    এদিন হকির ময়দানে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল টিম ইন্ডিয়া। পঞ্চম মিনিটেই পেনাল্টি কর্নার থেকে নিজের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে বল জালে জড়িয়ে ভারতকে ১-০ এগিয়ে দেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং। অষ্টম মিনিটে দিলপ্রীতের একটি গোল ব্যাক-স্টিকের কারণে ভিডিয়ো রিভিউতে বাতিল হলেও ভারতীয় আক্রমণ থামেনি। ১৩ মিনিটে রিভার্স হিটে পেনাল্টি কর্নার আদায় করে নিখুঁত ফিনিশে ব্যবধান ২-০ করেন সেই হরমনপ্রীতই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারের ২৩ মিনিটে মনপ্রীত ও শীলানন্দের দুর্দান্ত সমন্বয়ে পাকিস্তানের ডি-বক্সে বল পান সুখজিত সিং, যিনি আলতো টোকায় স্কোরলাইন ৩-০ করে দেন। কিন্তু এরপরেই ম্যাচে শুরু হয় পাকিস্তানের নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। ৩০তম মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোলরক্ষক মোহিতকে পরাস্ত করে পাকিস্তানের আবু মাহমুদ ব্যবধান ৩-১ করেন। বিরতির পর তৃতীয় কোয়ার্টারে ভারত অনেকটাই স্লো হয়ে পড়ে। সেই সুযোগে ৪৫ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্সের ব্যর্থতার ফায়দা তুলে হান্নান শাহিদ ৩-২ করেন। চতুর্থ কোয়ার্টারের শুরুতে অর্থাৎ ৪৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা পাসে রানা ওয়াহিদ স্টিক ছুঁইয়ে ৩-৩ সমতা ফেরান। টানা তিনটে গোল খেয়ে অনেকটাই ব্যাকফুটে চলে যায় ভারতীয় শিবির।

    টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত ভারত

    ম্যাচের শেষ দশ মিনিট ছিল চরম উত্তেজনায় ভরা। খেলার ঘড়িতে যখন ঠিক ৬০ মিনিট, সার্কেলের ডান প্রান্তে সামান্য ফাঁকা জায়গা পেয়ে বিদ্যুৎগতিতে ঢুকে পড়েন অভিষেক। দুরূহ কোণ থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক রাজার পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে ঢুকে যায়। আর এর পরেই ম্যাচ শেষের হুটার বাজে। শেষ মুহূর্তের এই গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে গোটা ভারতীয় দল। এই জয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টানা ২১টা ম্যাচে অপরাজিত রইল ভারত। পাশাপাশি ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবার এশিয়াডের ইতিহাসে পুরুষ ও মহিলা উভয় দলকেই ফাইনালে তুলে এক অনন্য কীর্তি স্থাপন করল ভারত।

    ক্রিকেটে ফাইনালে ভারত-পাক মহারণ

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুরন্ত পারফরম্যান্স করে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে ভারত। ব্যাট হাতে প্রথমে ২০ ওভারে ১৬৯ রান তোলে টিম ইন্ডিয়া। ঈশান কিষানের অপরাজিত ৮০ রানের ইনিংস ভারতের বড় স্কোরের ভিত গড়ে দেয়। বৈভব সূর্যবংশীর ৩৮ রানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। জবাবে মাত্র ৪৫ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের হয়ে জসপ্রীত বুমরাহ, অভিষেক শর্মা ও অক্ষর প্যাটেল দুটি করে উইকেট নেন। শ্রীলঙ্কার তিন ব্যাটার রান-আউট হন। এবার ৩ অক্টোবর মুখোমুখি হবে ভারত ও পাকিস্তান। অর্থাৎ এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ক্রিকেটে সোনার পদক নির্ধারণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশের লড়াইয়ে। ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মঞ্চে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলাদা গুরুত্ব পায়। এবার সেই দ্বৈরথই দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চে।

    ইতিহাস নীতেশ কুমারের

    এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিনটি ভারতের জন্য ছিল সাফল্যে ভরা। ক্রিকেট-হকির সঙ্গেই গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে ইতিহাস গড়েছেন নীতেশ কুমার। পাশাপাশি তিরন্দাজি, নৌক্রীড়া, স্কোয়াশ ও সেপাক তাকরায়ও পদক ও সাফল্য এসেছে ভারতের ঝুলিতে। পুরুষদের ৯৭ কেজি গ্রিকো-রোমান বিভাগে মঙ্গোলিয়ার গাঙ্কহুয়াগ গানবাতারকে ৯-০ ব্যবধানে টেকনিক্যাল সুপিরিয়রিটিতে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন নীতেশ কুমার। এর ফলে ১৯৬২ সালের পর প্রথম ভারতীয় গ্রিকো-রোমান কুস্তিগির হিসেবে এশিয়ান গেমসের ফাইনালে পৌঁছলেন তিনি। এবার সোনার পদকের জন্য লড়বেন নীতেশ। গ্রিকো-রোমান কুস্তিতে এশিয়ান গেমসে ভারতের শেষ সোনা এসেছিল ১৯৬২ সালে। এদিকে মহিলাদের ৬২ কেজি বিভাগে মানসি আহলাওয়াত সেমিফাইনালে উঠলেও জাপানের নোনোকা ওজাকির কাছে ৬-০ ব্যবধানে হেরে যান। এবার ব্রোঞ্জের জন্য লড়বেন তিনি।

    স্কোয়াশে ভারতের ব্রোঞ্জ

    মহিলাদের দলগত স্কোয়াশে ব্রোঞ্জ নিশ্চিত করেছে ভারত। সেমিফাইনালে হংকং চায়নার কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ভারতীয় দল। প্রথম ম্যাচে আনাহত সিং চ্যান সিন ইউকের কাছে পরাজিত হন। এরপর তানভি খান্না ৩-১ ব্যবধানে লি কা ই-কে হারিয়ে ভারতকে সমতায় ফেরান। তবে নির্ণায়ক ম্যাচে জোশনা চিনাপ্পা হো তসে লোকের কাছে হেরে যান। ফলে ফাইনালে পৌঁছে যায় হংকং চায়না এবং ভারত পায় ব্রোঞ্জ। পুরুষদের কম্পাউন্ড ব্যক্তিগত বিভাগে ব্রোঞ্জ জিতেছেন গণেশ মণি রত্নম থিরুমুরু। ব্রোঞ্জ পদকের লড়াইয়ে ভিয়েতনামের দাং কং ডাককে ১৪৯-১৪৪ ব্যবধানে হারান তিনি। সেমিফাইনালে দক্ষিণ কোরিয়ার কিম জংহোর কাছে হেরে গেলেও ব্রোঞ্জের ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান গণেশ। কম্পাউন্ড তিরন্দাজিতে ভারতীয় দলগত ইভেন্ট থেকে তিনটি সোনা এবং ব্যক্তিগত ইভেন্টে একটি ব্রোঞ্জ জিতেছে।

    নৌক্রীড়ায় রুপো ভারতের

    পুরুষদের স্কিফ ইভেন্টে রুপোর পদক জিতেছেন ভারতের মানু ফ্রান্সিস ও প্রিন্স কুরিসিঙ্কাল নোবেল। ভারতীয় জুটি মোট ২৩ নেট পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে। ফাইনাল রেসের আগে চতুর্থ স্থানে থাকা ভারতীয় জুটি শেষ দৌড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। পুরুষদের কোয়াড্রান্ট বিভাগে সেমিফাইনালে পৌঁছে পদক নিশ্চিত করেছে ভারত। গ্রুপ পর্বে অপরাজিত থেকেই শেষ চারে জায়গা করে নেয় ভারতীয় দল। এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর ১২তম দিন শেষে মোট ৬৩টি পদক নিয়ে পদক তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছে ভারত। সোনা ১০টি, রুপো ২২টি ও ৩১টি ব্রোঞ্জ পদক রয়েছে ভারতের ঝুলিতে।

     

     

     

     

  • India Vs Brazil: আজ শহরে ব্রাজিল! মেসি-কাণ্ড থেকে শিক্ষা, কড়া নিরাপত্তা, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    India Vs Brazil: আজ শহরে ব্রাজিল! মেসি-কাণ্ড থেকে শিক্ষা, কড়া নিরাপত্তা, ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ নিয়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রাত আটটায় শহরে পা রাখবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, গুইমারেজ, মারকুইনসরা। প্রথমে শোনা গিয়েছিল, সন্ধ্যে সাড়ে ছ’টা থেকে সাতটার মধ্যে কলকাতায় পৌঁছবে ব্রাজিল দল (India Vs Brazil)। কিন্তু সেটা পিছিয়ে গিয়েছে। ব্রিসবেন থেকে দীর্ঘ ১০-১১ ঘণ্টার যাত্রা অতিক্রম করে চার্টার্ড বিমানে রাত আটটায় কল্লোলিনী কলকাতায় পা রাখার কথা সেলেকাওদের। আগামী ৩ অক্টোবর সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ঐতিহাসিক ম্যাচ। মুখোমুখি হবে ভারত ও ব্রাজিল। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ হলেও এই খেলাকে কেন্দ্র করে শহরে উত্তাপ চরমে।

    কঠোর নিরাপত্তা রাজ্য সরকারের

    ম্যাচ ঘিরে প্রস্তুতিও প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো রাখা হচ্ছে। কোনও রকম ফাঁক রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার। বুধবার রাতে ভারত বনাম ব্রাজিলের ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতির খতিয়ান নিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি পর্যালোচনা বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডা. ইন্দ্রনীল খান এবং এআইএফএফ সভাপতি কল্যাণ চৌবে। বিধাননগর পুলিশের আওতাধীন সল্টলেক স্টেডিয়ামে আগামী ৩ অক্টোবর ভারত বনাম ব্রাজিলের ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট আঁটোসাঁটো করা হচ্ছে। বিধাননগর পুলিশ সূত্রে খবর, স্বেচ্ছাসেবক-সহ প্রায় তিন হাজার পুলিশ মোতায়ন থাকবে। যার মধ্যে থাকছে পুলিশের ব়্যাফ বাহিনী। এছাড়াও থাকছে কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলা হবে সিসিটিভি ক্যামেরা দিয়ে। তবে ড্রোন দিয়ে নজরদাড়ি বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানিয়েছে বিধাননগর পুলিশ।

    বিশেষ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী

    ভারত বনাম ব্রাজিল ঐতিহাসিক ফুটবল ম্যাচের চূড়ান্ত প্রস্তুতি বৈঠকে বুধবার উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যুবভারতীর ভারত-ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে বাড়তি কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে ৷ মেসি ইভেন্টে বিশৃঙ্খলা ঘটনার পরে এখন বাড়তি সতর্ক বিধাননগর পুলিশ। ভারত বনাম ব্রাজিল ম্যাচ আয়োজিত হবে ৩ অক্টোবর। মোট ২৫০০ পুলিশ থাকবে সেই ম্যাচের নিরাপত্তার দায়িত্বে। ২০০-র কাছাকাছি অফিসার পদমর্যাদার পুলিশ থাকবেন। এবং ২০ জন আইপিএস অফিসার থাকবেন। রাজ্যের অন্য প্রান্ত থেকে এবং অন্য কমিশনারেট থেকে ২০ জন অভিজ্ঞ আইপিএস অফিসার নিযুক্ত থাকবেন। বিধাননগর ট্রাফিক বিভাগ সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষকে জানানো হয়েছে, গণপরিবহন ব্যবহার করতে, নিজস্ব গাড়ি যতটা সম্ভব ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে যানজটের সম্ভাবনা অনেকটাই এড়ানো যাবে বলেই দাবি বিধাননগর পুলিশের। তবে কোন রাস্তা বন্ধ থাকবে তা এখনও বিধাননগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়নি। খুব জরুরি অবস্থা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যানজট এড়ানোর জন্য কোনও রাস্তা বন্ধ রাখার নির্দেশ এখনও দেওয়া হয়নি।

    দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে

    মাঠে দর্শকদের জন্য তিন স্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। এই প্রথম দর্শকদের সিট নম্বর দেখে, অর্থাৎ টিকিটে যে নম্বর থাকবে, সেখানেই তাঁদের বসতে হবে। এগুলি সবটাই গাইড করে দেবে পুলিশ এবং খেলা শুরুর দু’ঘণ্টা আগে মাঠে ঢুকতে হবে দর্শকদের। ব্রাজিল ম্যাচ ঘিরে প্রত্যাশিতভাবেই ভারতীয় ফুটবল মহলে সাজ সাজ রব। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এবং রাজ্য সরকার প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চাইছে না। ওই মেগা ম্যাচ ঘিরে একাধিক চমকও থাকছে। সূত্রের খবর, ম্যাচের একদিন আগে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ে দলকে সান্ধ্যকালীন ভোজনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাতে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ব্রাজিল ও উরুগুয়ে দু’দলের প্রতিনিধিরা ছাড়াও ভারতীয় দলও থাকবে ওই সান্ধ্যভোজনে।

    সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা

    যুবভারতীতে ৩ অক্টোবর ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফিফা ফ্রেন্ডলি। ভিনিসিয়াসদের আটকানোর কঠিন পরীক্ষায় খালিদ জামিলের ভারত। কিছুদিন আগে বিশ্বকাপ খেলা পানামার সঙ্গে ঐতিহাসিক ড্র করেছে ভারত। প্রথমার্ধে রায়ান উইলিয়ামসের দুর্দান্ত ফিনিশে এগিয়ে গিয়েছিল ব্লু টাইগার্স। এবার সামনে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা। ব্রাজিল কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি জানিয়েছিলেন ভারতে নাকি ‘ফুটবল সংস্কৃতি’ নেই। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৩৮ নম্বরে থাকলেও ভারতের ফুটবল সংস্কৃতি বহু পুরনো। সিনিয়র পুরুষদের ফুটবলে দুই দেশের মধ্যে এটিই প্রথম সাক্ষাৎ। কার্লো আনচেলত্তি এই সফরের জন্য একটি তারকাখচিত দল ঘোষণা করেছেন। দলে রয়েছেন রিয়াল মাদ্রিদের তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র ও এনড্রিক এবং বার্সেলোনার রাফিনহা। শনিবার ভারতীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ম্যাচটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এই সফরে এটি ব্রাজিলের তৃতীয় ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচ খেলে ভারতে আসছে সেলেকাওরা।

    শহরে ব্রাজিলের নিরাপত্তা দল

    পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের কলকাতা সফরকে কেন্দ্র করে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিমানবন্দরে জমায়েত হবেন হাজার হাজার ব্রাজিল সমর্থক। তবে, প্রিয় তারকাদের চাক্ষুষ করতে বেগ পেতে হবে অনুরাগীদের। সূত্রের খবর, বিমানবন্দরের ভিতর থেকে ভিআইপি গেট দিয়ে ব্রাজিল দলকে টিম বাসে তুলে দেওয়া হবে। সেখান থেকে এসকর্ট করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে বাইপাস সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে। বিমানবন্দরের বাইরের ভিড় এড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত। ব্রাজিল দলের সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ম্যাচের আগে বুধবার কলকাতায় পৌঁছে গিয়েছে ব্রাজিলের আট সদস্যের নিরাপত্তা প্রতিনিধি দল। সেই দলে রয়েছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন সেনাকর্মীরা। কলকাতা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল দায়িত্ব।

    মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা

    ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দল মূল দলের অনেক আগেই কলকাতায় এসেছে। ফুটবলার, প্রতিনিধি এবং দলের অন্যান্য সদস্যদের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন তাঁরা। মেসি কাণ্ড থেকে শিক্ষা নিয়ে শহরে আগাম আগমন ব্রাজিলের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের। গত বছর ডিসেম্বরে কলকাতায় এসেছিলেন লিওনেল মেসি। সল্টলেক স্টেডিয়ামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় পুলিশ। চূড়ান্ত অব্যবস্থার জন্য মেসি মাত্র ২৫ মিনিট স্টেডিয়ামে থাকার পর বেরিয়ে যান। অবশ্য এখন সরকার বদলেছে। তৃণমূল আমলের মতো বিশৃঙ্খলা এড়াতে সদা সক্রিয় শুভেন্দু-সরকার। মেসি ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই কারণেই ব্রাজিলও এবার বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে অনুশীলন মাঠের চারপাশে নতুন ফেন্সিংও বসানো হচ্ছে। ঐতিহাসিক মুহূর্তের অপেক্ষায় কলকাতা।

  • Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    Dhakuria Private School: ঢাকুরিয়ার স্কুলের দেওয়ালে টাঙানো মাও-মার্ক্স-চে! ৭ দিনের মধ্যে ‘বিদেশি’দের সব ছবি সরানোর আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ঢাকুরিয়ার প্রাইভেট স্কুলে (Dhakuria Private School) টিচার্স রুমে টাঙানো কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং-সহ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বের ছবি নিয়ে আপত্তি জানাল আরএসএস-ঘনিষ্ঠ শিক্ষক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ। বুধবার সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্কুলে গিয়ে বিষয়টি নিয়ে (Marx Mao Pictures) আপত্তি জানান। এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ টিচার্স রুম থেকে কার্ল মার্ক্স ও মাও সে তুংয়ের ছবি সরিয়ে দেয়। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গা থেকেও এমন ছবি সরিয়ে দেওয়া হবে।

    স্কুল আলো করে বিদেশি ‘প্রভু’রা! (Dhakuria Private School)

    সংগঠনের অভিযোগ, স্কুলে কার্ল মার্ক্স, মাও সে তুং, হো চি মিন, চে গেভারা এবং স্তালিনের মতো বিদেশি ব্যক্তিত্বদের ছবি থাকলেও দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কয়েকজনের ছবি সেখানে ছিল না। সংগঠনের দাবি, বিআর আম্বেদকর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এপিজে আবদুল কালাম এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মতো ভারতীয় মনীষী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি স্কুলে থাকা উচিত।

    অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘের কলকাতা শাখার সভাপতি প্রদীপ পাল বলেন, “স্কুলের করিডরে ঢুকলেই মাও সে তুং, চে গেভারা এবং স্তালিনের ছবি দেখা যাচ্ছে। প্রধান শিক্ষকের ঘরে এপিজে আবদুল কালামের ছবি নেই, দ্রৌপদী মুর্মুর ছবিও নেই। অথচ সেখানে ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুগো শাভেজের ছবি রয়েছে। বিআর আম্বেদকর ও নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবিও নেই। অথচ স্টাফরুমে কার্ল মার্ক্সের ছবি রয়েছে। আমাদের আপত্তির জায়গাটা এখানেই।” প্রদীপের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, “২০ বছর ধরে এগুলো চলে আসছে। ২০ বছর ধরে একটি স্কুলে কার্যত রাজনৈতিক বিষয়গুলো চলেছে, নাকি রাষ্ট্রচিন্তায় ছাত্র তৈরি করা হয়েছে, সেই প্রশ্নটা সবার কাছেই রয়েছে (Dhakuria Private School)।”

    এদিকে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত দে জানিয়েছেন, ছবিগুলি দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে ছিল। তিনি মে মাসের শেষে দায়িত্ব নিয়েছেন। তাঁর কথায়, “বহু বছর ধরেই ছবিগুলি রয়েছে। আপত্তি ওঁরা তুলেছেন ছবিগুলি নিয়ে। এই মুহূর্তে বিষয়টি খুব যুক্তিযুক্তই মনে হচ্ছে। কেউ আগে অভিযোগ জানাননি। কোনও আধিকারিক এসেও কিছু বলেননি, ছাত্ররাও বলেনি। ফলে আমাদের মাথায় আসেনি।”

    ছবি সরানোর প্রতিশ্রুতি

    তিনি আরও বলেন, “ওঁরা যখন বিষয়টি তুলে ধরেছেন, আমি কথা দিচ্ছি, সাত দিনের মধ্যে আমরা এই সমস্ত ছবি একেবারে সরিয়ে দেব। আর যে ছবিগুলি দরকার, অবশ্যই ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ছবি আমরা টাঙাব। ভবিষ্যতে এটাই বজায় থাকবে।”

    স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, টিচার্স রুমে থাকা কয়েকটি ছবি ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে স্কুলের অন্যান্য জায়গাতেও বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা হবে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মতাদর্শগত বিতর্কও তৈরি হয়েছে। কারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ছবি রাখা, সেই ছবিগুলির নির্বাচন এবং তা সরানোর দাবি—সবকিছুকেই ঘিরে ভিন্নমত রয়েছে (Marx Mao Pictures)। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই ঘটনাকে ঘিরে বামপন্থী শিক্ষক সংগঠনের আপত্তির কথাও উঠে এসেছে (Dhakuria Private School)।

     

  • Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    Ambuja Neotia Investment: ৫ বছরে ১৫ হাজার কোটি! আদানি, রিলায়েন্সের পর নেওটিয়ারও বাংলায় বড় লগ্নির পরিকল্পনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই সফরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানি এবং অনন্ত আম্বানির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) বৈঠকের পরই বাংলায় নতুন লগ্নির সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করলেন (Reliance Investment) অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হর্ষবর্ধন নেওটিয়া। বৈঠকে রাজ্যে সংস্থার একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অম্বুজা নেওটিয়া গোষ্ঠী আগেই পশ্চিমবঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। স্বাস্থ্য, আতিথেয়তা, পর্যটন, আবাসন এবং বাণিজ্যিক পরিকাঠামো—একাধিক ক্ষেত্রে এই বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। সংস্থার ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাঁচটি নতুন হাসপাতাল, একাধিক হোটেল এবং একটি বড় গল্ফভিত্তিক আবাসন প্রকল্প গড়ে তোলার কথা রয়েছে। এদিকে রিলায়েন্স গোষ্ঠীর সঙ্গেও রাজ্যে নতুন লগ্নি নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। বুধবার নবান্নে রিলায়েন্সের শীর্ষ আধিকারিকদের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। আলোচনায় পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, স্বাস্থ্য পরিষেবা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির মাধ্যমেও কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

    ইন্টারনেট সংযোগ পরিকাঠামো (Reliance Investment)

    প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনায় দিঘায় সংস্থার তৈরি করা সমুদ্রতলের কেবল লাইন কেন্দ্রের বিষয়টিও উঠে আসে। এই প্রকল্প চালু হলে রাজ্যের ইন্টারনেট সংযোগ ও তথ্য আদানপ্রদানের পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে মুম্বইয়ে মুকেশ আম্বানি ও অনন্ত আম্বানির সঙ্গে বৈঠকে রাজ্যে শিল্প বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রিলায়েন্সের পাশাপাশি রাজ্যে অন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা চলছে। আদানি গোষ্ঠী ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। সেই বিনিয়োগের মধ্যে বন্দর, পরিবহণ, বিদ্যুৎ, তথ্যকেন্দ্র, সড়ক ও সেতু এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো একাধিক ক্ষেত্র রয়েছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনা অম্বুজা নেওটিয়ার

    অম্বুজা নেওটিয়ার ঘোষিত ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ের কথা বলা হয়েছিল। এই অর্থে কলকাতা, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়িতে পাঁচটি নতুন হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। আবাসন ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামোয় প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকা এবং (Reliance Investment) গল্ফভিত্তিক একটি বড় আবাসন প্রকল্পে প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। হোটেল ও পর্যটন ক্ষেত্রেও বড় পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার। দার্জিলিং, কালিম্পং, ডুয়ার্স, দীঘা, সুন্দরবন, শান্তিনিকেতন ও রায়চকে হোটেল তৈরির পরিকল্পনার কথা সংস্থা জানিয়েছিল। কলকাতা ও শিলিগুড়িতে সম্মেলনকেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলির কোনটি কবে বাস্তবায়িত হবে, কোথায় কোন প্রকল্প গড়ে উঠবে এবং প্রত্যেক ক্ষেত্রে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তার বিস্তারিত চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। বিনিয়োগ প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছলে রাজ্যের শিল্প, স্বাস্থ্য, পর্যটন ও আবাসন ক্ষেত্রে তার প্রভাব আরও পরিষ্কার হবে।

    রাজ্য সরকারের শিল্পনীতির অন্যতম লক্ষ্য এখন বড় বিনিয়োগের পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। ফলে (Suvendu Adhikari) রিলায়েন্স, অম্বুজা নেওটিয়া এবং অন্যান্য শিল্পগোষ্ঠীর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনাকে সেই বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে (Reliance Investment)।

     

  • Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    Indranil Sen: দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, ইডির দফতরে হাজির ইন্দ্রনীল সেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সল্টলেকে ইডির দফতরে হাজির হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গায়ক ইন্দ্রনীল সেন (Indranil Sen)। বুধবার সকাল ১১টার আগেই সিজিও কমপ্লেক্সে পৌঁছন তিনি। দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’ এবং পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর নাম ও প্রতীক ব্যবহার করে চড়া দামে পাস বিক্রি এবং বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে তাঁকে তলব করেছে (Durga Puja Pass Scam) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    মঙ্গলবারই ইন্দ্রনীল, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালায় ইডি। কলকাতার পাশাপাশি সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীলের বাগানবাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি, তল্লাশিতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার হয়েছে। তার মধ্যে জমি সংক্রান্ত নথিও রয়েছে।

    অভিযোগের কেন্দ্রে ‘মাস আর্ট’ (Indranil Sen)

    অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থা। অভিযোগ, দুর্গাপুজোর ‘প্রিভিউ শো’-এর নামে কলকাতার নির্বাচিত পুজোমণ্ডপগুলিতে প্রবেশের জন্য সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কাছে কয়েক হাজার টাকা দামে পাস বিক্রি করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়ের দাবি, সংস্থাটি নিজেদের ইউনেস্কোর সরকারি সহযোগী হিসেবে তুলে ধরে ওই আন্তর্জাতিক সংস্থার নাম ও প্রতীক ব্যবহার করেছিল। তবে এই অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং ইন্দ্রনীল আগেই অভিযোগগুলিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছিলেন।

    জানা গিয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৯ হাজার, ২০২৩ সালে প্রায় ৩৪ হাজার এবং ২০২৪ সালে প্রায় ৬১ হাজার মানুষ এই ধরনের পাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক অনুমান, গোটা ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে।

    অভিযোগের সূত্রপাত কীভাবে?

    চলতি বছরের জুনে কলকাতার বউবাজার থানায় ইন্দ্রনীল, মধুছন্দা এবং ‘মাস আর্টে’র কয়েকজন পদাধিকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সাল থেকে দুর্গাপুজোর নির্বাচিত মণ্ডপগুলিকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ আয়োজন করে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছিল। অভিযোগকারীর দাবি, ইউনেস্কোর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক বা অনুমোদনের ধারণা তৈরি করে ওই পাসগুলি বাজারজাত করা হয়েছিল।

    পুলিশে দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়। পরে আর্থিক তছরুপের অভিযোগের তদন্তে ইডিও নামে এবং আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইনের অধীনে মামলা সংক্রান্ত নথি তৈরি করে তদন্ত শুরু করে (Indranil Sen)।

    ২৪টি পুজোমণ্ডপ ঘিরে পাস বিক্রির অভিযোগ

    অভিযোগ অনুযায়ী, কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পুজোমণ্ডপের ‘প্রিভিউ শো’-এর জন্য পাস বিক্রি করা হত। পাসের দাম ছিল কয়েক হাজার টাকা। তদন্তকারীরা দেখছেন, এই পাস বিক্রির মাধ্যমে কত টাকা সংগ্রহ হয়েছিল, সেই অর্থ কোথায় গিয়েছিল এবং গোটা ব্যবস্থার সঙ্গে আর কারা যুক্ত ছিলেন।

    অভিযোগ, এই পাস থাকলে শহরের বিভিন্ন বড় পুজোমণ্ডপে সাধারণ দর্শনার্থীদের দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়ে প্রবেশের সুযোগ মিলত। সেই পাস বিক্রির সঙ্গে বিভিন্ন পুজো কমিটির ভূমিকা কী ছিল, তা-ও তদন্তের আওতায় এসেছে বলে সূত্রের খবর।

    ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রী হন ইন্দ্রনীল। তিনি পর্যটন, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্বেও ছিলেন। তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা ‘মাস আর্টে’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে (Durga Puja Pass Scam)।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে কলকাতায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের বহু পর্যটক আসেন। বিভিন্ন সংস্থা পুজো পরিক্রমার আয়োজন করে এবং নির্দিষ্ট পরিষেবার জন্য টিকিট বা পাস বিক্রি করা হয়। এই ব্যবস্থার আড়ালে ইউনেস্কোর নাম বা প্রতীক বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, পাস বিক্রির অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য কী এবং এর সঙ্গে আরও কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্ত ছিল কি না—এই বিষয়গুলিই খতিয়ে দেখছেন (Indranil Sen) তদন্তকারীরা।

     

  • S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: বিশ্বে বড় খাদ্যসংকটের আশঙ্কা, দায়ী বিশ্ব অস্থিরতা ও জলবায়ু পরিবর্তন, মনে করালেন জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে চলা অস্থিরতার জেরে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের (Food Crisis) মুখোমুখি হতে পারে পৃথিবী। এর সঙ্গে যুক্ত হতে পারে অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতি। ফলে সমুদ্রের জলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্য উৎপাদনে। এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকটও পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে। এমনই সতর্কবার্তা দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)।

    নিউ ইয়র্কে এশিয়া সোসাইটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জয়শঙ্কর বলেন, বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন সংঘাতের প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূর পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, অত্যন্ত শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের জল উষ্ণ হয়ে উঠলে বৃষ্টিপাতের ওপর তার ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে বহু দেশে খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    সঙ্কটে পড়তে পারে বহু দেশ (S Jaishankar)

    এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জ্বালানি সংকট। ফলে বিশ্বের বহু দেশ, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলি, প্রবল চাপের মুখে পড়তে পারে। পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য দায়ী নীতিনির্ধারকেরা শুধু এটা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না বলে দায় এড়াতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।

    তিনি বলেন, “আমার মনে হয়, নীতিনির্ধারকেরা এটা বলতে পারেন না যে, এমনটা তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল না। অন্য দেশগুলির পরিস্থিতির কথাও তাঁদের বিবেচনা করতে হবে এবং তাঁদের সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের অন্যান্য অংশে কী ধরনের পরিণতি হতে পারে, তা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। কোনও দেশ এতটা আত্মকেন্দ্রিক হতে পারে না যে, তারা নিজেদের জগতে থাকবে, নিজেদের সিদ্ধান্ত নেবে এবং পরে বলবে, ‘আপনাদের জীবন কঠিন করে তোলা আমার উদ্দেশ্য ছিল না।’”

    ইউক্রেন সংঘাত এবং ইরান-উপসাগরীয় সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশগুলির সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পড়ছে বলেও জানান ভারতের বিদেশমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কয়েকটি পরিস্থিতির কারণে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্কর বলেন, “বড় শস্য রফতানিকারক কয়েকটি দেশ তাদের পণ্য পাঠাতে পারবে না, বিশেষ করে কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চল থেকে। সারেরও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর অন্যতম কারণ, গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদকদের একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ায় রয়েছে।”

    ক্রমেই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি

    এর পাশাপাশি জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংঘাতের সময় বিনিয়োগ ও অর্থ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে চলে যায় এবং উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলি থেকে অর্থ সরে যায়। ফলে অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। এই পরিস্থিতির সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে জয়শঙ্কর বলেন, “এর নিট ফল সত্যিই অত্যন্ত, অত্যন্ত চাপের (Food Crisis)।”

    তাঁর মতে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলিকে একই সঙ্গে খাদ্য, জ্বালানি, সার এবং অর্থসংস্থানের মতো একাধিক ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। নতুন করে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলে তা সামাল দেওয়ার জন্য এই দেশগুলির হাতে থাকা আর্থিক সুরক্ষার ব্যবধানও এখন অনেক কমে এসেছে (S Jaishankar)।

     

  • Suvendu Adhikari: বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে শিল্পায়ন-ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বার্তা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: বিদ্যাসাগরের জন্মভূমিতে শিল্পায়ন-ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বার্তা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরের বীরসিংহ গ্রামে গিয়ে তাঁর মূর্তিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। জন্মস্থলের বিশেষ স্মারক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন, শিল্পায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান (Ghatal Master Plan)—একাধিক বিষয়ে বক্তব্য রাখেন তিনি। পূর্বতন সরকারের নীতি নিয়েও সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বীরসিংহকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা-সহ স্থানীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের কথাও জানান তিনি। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, রিলায়েন্সের মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী পশ্চিমবঙ্গে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চলেছে। এই বিষয়ে রিলায়েন্সের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসবে বলেও জানান তিনি।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)

    শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিগত সরকারের ভুল ও ভ্রান্ত নীতির কারণেই আজ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে আমাদের রাজ্য অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে, এমনকী দেশে বাল্যবিবাহের হার বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও রাজ্য একেবারে ওপরের সারিতে পৌঁছে গেছে। তবে আমাদের এই সরকারের আমলে সব ক্ষেত্রে সামগ্রিক রূপান্তর ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।”

    পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেলপথের জমি নিয়ে পূর্বতন সরকারের ভূমিকারও সমালোচনা করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “পাঁশকুড়া থেকে ঘাটালের ইড়পালা পর্যন্ত রেল লাইনের জমি আটকে রেখেছিল আগের সরকার। আমরা সেই জমির ব্যবস্থাও করেছি।”

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিম মেদিনীপুরের দীর্ঘদিনের বন্যা ও নদীভাঙনের সমস্যা মোকাবিলায় আগামী বছরের জুনের মধ্যে প্রকল্পটির সিংহভাগ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রকল্পের ৫০ শতাংশ অর্থ কেন্দ্র এবং বাকি ৫০ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করবে বলেও জানান শুভেন্দু। এর অংশ হিসেবে চলতি বছরই ১,২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাটাল ও সংলগ্ন প্লাবনপ্রবণ এলাকার দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা কমানোর লক্ষ্যে কাজ এগোনোর কথা বলা হয়েছে (Suvendu Adhikari)।

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান

    ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে এর আগে কোলাঘাটে পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম—এই তিন জেলার প্রশাসনিক বৈঠকেও মুখ্যমন্ত্রী আলোচনা করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। ঘাটালের সাংসদ দেবের সঙ্গেও প্রকল্পটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছিলেন। একইসঙ্গে ঘাটাল ও সংলগ্ন প্লাবনকবলিত এলাকায় বন্যা মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়ার কথাও উঠে আসে।

    বীরসিংহকে ঘিরে স্থানীয় উন্নয়নের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পর্যটনের পরিকাঠামো গড়ে তুলতে নৈশযাপনের ব্যবস্থা, পথবাতি এবং একটি উদ্যান তৈরির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও ঘোষণা করা (Ghatal Master Plan) হয়।

    বিদ্যাসাগরের শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারের ভাবনার প্রসঙ্গ টেনে পাঠাগারগুলিতে তাঁর লেখা বই রাখার আহ্বানও জানান শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্যে রাজ্যের শিক্ষা ও সামাজিক পরিস্থিতির পাশাপাশি শিল্পায়ন ও দীর্ঘদিনের ঘাটাল সমস্যা সমাধানের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায় (Suvendu Adhikari)।

     

  • Dubai: ককপিটে রক্তপাত! দুই পাইলটের মারামারি, তেল আভিভগামী বিমান দু’মিনিটে নামল ১৭ হাজার ফুট

    Dubai: ককপিটে রক্তপাত! দুই পাইলটের মারামারি, তেল আভিভগামী বিমান দু’মিনিটে নামল ১৭ হাজার ফুট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককপিটের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই পাইলট। ঘটল রক্তপাত। এক পাইলটের ছুরির আঘাতে আহত হলেন আর এক পাইলট। ছড়াল বিমান অপহরণের আশঙ্কা। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী বিমান তখন মাঝ আকাশে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় দুই পাইলটের মারামারি মধ্যে বিমান অপহরণের খবর রটতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। যদিও ইজরায়েলের তরফে অপহরণের বিষয়টি খণ্ডন করা হয়। তার মাঝেই জর্ডনের আকাশ থেকে আচমকা পথ বদলে ফেলে ফ্লাই দুবাইয়ের সেই বিমান। জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে।।

    সংঘর্ষের সঠিক কারণ অজানা

    বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উড়ানের প্রায় দু’ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। এরপর কিছু সময়ের জন্য বিমান থেকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত একটি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সেটি আবার সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি হাইজ্যাকিং নয়। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দুই পাইলটের একজন রাশিয়ান এবং অন্যজন ইউক্রেনীয় ছিলেন।

    অপহরণের ভুয়ো খবর!

    সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের খবর চাউর হতেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান ওই বিমানের নিরাপত্তায় রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পৌঁছোনোর কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু জর্ডনের আকাশে যখন বিমানটি ছিল, আচমকাই সেটি পথ বদলে ফেলে। তাতেই অপহরণের আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে।

    বিমানের ভিতরে আতঙ্ক

    বিমানের এক যাত্রী জানান, তাঁরা বিমানের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলা হলে সেখানে রক্ত দেখতে পান এবং এক পাইলটকে পকেটছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই যাত্রীর কথায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন ইজরায়েলি যাত্রী বিমানের ক্রুদের সাহায্য করেন। আতঙ্কিত যাত্রীরা ভেবেছিলেন, বিমানটি হয়তো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। আর এক যাত্রী নোয়াম জানান, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন যাত্রীরা বুঝতে পারেন বিমানের ভিতরে গুরুতর কিছু ঘটেছে। তাঁর দাবি, এক পাইলট ছুরিকাহত হয়ে গুরুতর আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা

    ঘটনার পর ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি ইজরায়েলের দিকে না গিয়ে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই পরে জানায়, বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং বিমানের সমস্ত যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হাইজ্যাকিং বলে মনে করা হচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে এবং ছুরিকাহত পাইলটের বর্তমান শারীরিক অবস্থা—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

  • UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে জম্মু ও কাশ্মীর (Kashmir Remark) প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল (UNGA) ভারত। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।

    মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভারতের এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে যে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।”

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (UNGA)

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা বুঝতেই পারছেন, এটি ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের কোনও অধিকার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

    এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোয়ান দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি-সহ, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও এরদোয়ানের ২০২৬ সালের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়ও নয়াদিল্লি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ২০২১ সালেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে তাঁর ভাষণে জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ ছিল (UNGA) না।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের পক্ষে (Kashmir Remark) অবস্থান নিয়েছে। ভারত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে থাকে। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত (UNGA) হয়েছিল।

     

LinkedIn
Share