Dubai: ককপিটে রক্তপাত! দুই পাইলটের মারামারি, তেল আভিভগামী বিমান দু’মিনিটে নামল ১৭ হাজার ফুট

dubai tel aviv flydubai pilots fight mid air one stabbed

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ককপিটের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়লেন দুই পাইলট। ঘটল রক্তপাত। এক পাইলটের ছুরির আঘাতে আহত হলেন আর এক পাইলট। ছড়াল বিমান অপহরণের আশঙ্কা। দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভগামী বিমান তখন মাঝ আকাশে। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় দুই পাইলটের মারামারি মধ্যে বিমান অপহরণের খবর রটতেই হুলস্থুল পড়ে যায়। যদিও ইজরায়েলের তরফে অপহরণের বিষয়টি খণ্ডন করা হয়। তার মাঝেই জর্ডনের আকাশ থেকে আচমকা পথ বদলে ফেলে ফ্লাই দুবাইয়ের সেই বিমান। জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে।।

সংঘর্ষের সঠিক কারণ অজানা

বোয়িং ৭৩৭ বিমানটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উড়ানের প্রায় দু’ঘণ্টা পর বিমানটি জরুরি সংকেত পাঠায় বলে ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য থেকে জানা গিয়েছে। এরপর কিছু সময়ের জন্য বিমান থেকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সঙ্গে যুক্ত একটি সংকেত পাঠানো হয়। পরে সেটি আবার সাধারণ জরুরি সংকেত পাঠাতে শুরু করে। ইজরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি দুই পাইলটের মধ্যে শারীরিক সংঘর্ষের সঙ্গে যুক্ত এবং এটি হাইজ্যাকিং নয়। তবে সংঘর্ষের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। কিছু সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, দুই পাইলটের একজন রাশিয়ান এবং অন্যজন ইউক্রেনীয় ছিলেন।

অপহরণের ভুয়ো খবর!

সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুবাই থেকে বিমানটি ওড়ার কিছু পরেই সেটি থেকে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, বিমান তখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুট নীচে নেমে আসে। বিমানে ১৮০ জন যাত্রী ছিলেন বলে জানিয়েছে টাইমস অফ ইজরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছোয় বিমান থেকে, তা থেকে একটি ভ্রম সৃষ্টি হয়েছিল যে, বিমানটি অপহরণ করা হয়েছে। অপহরণের খবর চাউর হতেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার বেশ কয়েকটি বিমান ওই বিমানের নিরাপত্তায় রওনা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে বৈঠক ডাকেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইজরায়েলের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় পৌঁছোনোর কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু জর্ডনের আকাশে যখন বিমানটি ছিল, আচমকাই সেটি পথ বদলে ফেলে। তাতেই অপহরণের আতঙ্ক ছড়ায় যাত্রীদের মধ্যে।

বিমানের ভিতরে আতঙ্ক

বিমানের এক যাত্রী জানান, তাঁরা বিমানের ভিতর থেকে চিৎকারের শব্দ শুনতে পান। পরে ককপিটের দরজা খোলা হলে সেখানে রক্ত দেখতে পান এবং এক পাইলটকে পকেটছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ওই যাত্রীর কথায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন ইজরায়েলি যাত্রী বিমানের ক্রুদের সাহায্য করেন। আতঙ্কিত যাত্রীরা ভেবেছিলেন, বিমানটি হয়তো দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে। আর এক যাত্রী নোয়াম জানান, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন যাত্রীরা বুঝতে পারেন বিমানের ভিতরে গুরুতর কিছু ঘটেছে। তাঁর দাবি, এক পাইলট ছুরিকাহত হয়ে গুরুতর আহত হন এবং কিছু সময়ের জন্য বিমানটির নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। বিমানটি দ্রুত নিচের দিকে নামতে শুরু করায় যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা

ঘটনার পর ইজরায়েলে জরুরি তৎপরতা শুরু হয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত বিমানটি ইজরায়েলের দিকে না গিয়ে উত্তর-পশ্চিম সৌদি আরবের তাবুক-এর দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইদুবাই পরে জানায়, বিমানটি নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং বিমানের সমস্ত যাত্রী নিরাপদে রয়েছেন। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে হাইজ্যাকিং বলে মনে করা হচ্ছে না। ঘটনার প্রকৃত কারণ, ককপিটে সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে এবং ছুরিকাহত পাইলটের বর্তমান শারীরিক অবস্থা—সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share