Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    Muslim Group: ৯/১১-র ২৫ তম বার্ষিকীতে উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক, সিটি হলের সামনে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি-পাল্টা বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০০১-এর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার (9/11 Anniversary) ২৫ বছর পূর্তিতে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে স্মরণসভা চলছিল, ঠিক তখনই উত্তপ্ত হয়ে উঠল নিউ ইয়র্ক সিটি হলের বাইরের এলাকা (Muslim Group)। প্রায় তিন হাজার মানুষের প্রাণহানির স্মৃতিতে আয়োজিত এই শোকের আবহেই সিটি হলের বাইরে জড়ো হন একদল মুসলিম বিক্ষোভকারী। তাঁরা বারবার “আল্লাহু আকবর” (যার অর্থ “ঈশ্বর মহান”) ধ্বনি দিতে থাকেন। অন্যদিকে, তাঁদের মুখোমুখি হয়ে একদল আন্দোলনকারী “সব মুসলিমকে বিতাড়িত করো” লেখা ব্যানার নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। জোড়া প্রতিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শোকের অনুষ্ঠান।

    প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত (Muslim Group)

    এই উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে নিউ ইয়র্কের বর্তমান মেয়র জোহরান মামদানি এবং প্রাক্তন মেয়র রুডি জুলিয়ানির মধ্যের প্রকাশ্য রাজনৈতিক সংঘাত। এদিন ন্যাশনাল ৯/১১ মেমোরিয়াল অ্যান্ড মিউজিয়ামের সামনে দু’জনকে হ্যান্ডশেক করতে দেখা গেলেও, ক্ষোভ চেপে রাখেননি জুলিয়ানি। নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির এই মেমোরিয়ালে উপস্থিতি তাঁকে “অপারগ ও অপমানিত” করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানের কিছুদিন আগেই মামদানি ৯/১১ সম্পর্কিত ১৭০,০০০ পাতার গোপন নথি প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ তোলেন যে, ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ধ্বংসের পরে তৎকালীন নেতারা বাতাস বিশুদ্ধ থাকার ভুয়া দাবি করে জনগণের কাছে “মিথ্যা” বলেছিলেন।

    ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর আল-কায়েদা জঙ্গিদের অপহৃত চারটি বিমানের তাণ্ডবে অন্তত ২,৯৭৭ জন নিহত হন। দুটি বিমান আছড়ে পড়ে নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এবং একটি পেন্টাগনে। চতুর্থ বিমানটি পেনসিলভ্যানিয়ার শ্যাঙ্কসভিলে ভেঙে পড়ে (Muslim Group)।

    ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি ট্রাম্প

    এবারের ২৫তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল সার্ভিসে যোগ দেননি। সেখানে তাঁকে বক্তৃতা দিতে না দেওয়ায় তিনি অনুষ্ঠানে যোগ না দিয়ে পেন্টাগনে বক্তৃতা দেন। সব মিলিয়ে, এক ঐতিহাসিক শোকের দিনে সিটি হলের বাইরের এই বিভাজনমূলক স্লোগান ও বিক্ষোভ (9/11 Anniversary) গোটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকেই যেন আবার একবার তুলে ধরল তামাম বিশ্বের কাছে (Muslim Group)।

     

  • Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    Hindus Under Attack: ভারত-বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ভারতের বাইরে হিন্দু এবং হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির উপর হামলা, হুমকি, ধর্মান্তরের চাপ, মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল এবং বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে একটি সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলিকে তুলে ধরে ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঘটনা ক্রমশ বাড়ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই (Roundup Week) করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবেদনটির দাবি, হিন্দুদের ওপর হিংসা ও বৈষম্যের মধ্যে খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি অবমাননা, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং যৌন হিংসার মতো ঘটনাও রয়েছে।

    মুর্শিদাবাদে যুবক খুনের অভিযোগ (Hindus Under Attack)

    মুর্শিদাবাদের সুজিত মণ্ডলকে খুন ও দেহ খণ্ড-বিখণ্ড করার অভিযোগ উঠেছে জানি শেখ, সামাউল হক এবং তাজকিরা বিবির বিরুদ্ধে। পুলিশের অনুমান, ঘটনার নেপথ্যে অর্থনৈতিক বিবাদ থাকতে পারে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফরাক্কার বাসিন্দা সামাউল একটি পোশাকের দোকান চালান এবং এর আগে একটি বিড়ি কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সময় থেকেই সুজিতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল বলে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন। অভিযোগ, সুজিত সামাউলকে কয়েক হাজার টাকা ধার দিয়েছিলেন। টাকা ফেরত চাওয়ার পর দু’জনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

    জন্মাষ্টমীকে কেন্দ্র করে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগ

    স্বঘোষিত নারীবাদী চিন্ময়ী শ্রীপাদার বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবকে অবমাননা করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বরলক্ষ্মী ব্রতের সময় তিনি হিন্দু মহিলাদের “পিতৃতন্ত্রের প্রহরী” বলে মন্তব্য করেছিলেন।

    এর পর জন্মাষ্টমীর সময় একটি ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেদনের দাবি, অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ না করে তিনি জানান, তারা মুসলিম হওয়ায় তাঁদের নাম প্রকাশ করা হবে না। এই বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

    নেপালে বন্যাত্রাণে ধর্মভিত্তিক সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

    নেপালের বন্যাকবলিতদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ লাখ ডলারের ত্রাণ সহায়তা ঘোষণা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম দফার ত্রাণ ক্যাথলিক ত্রাণ পরিষেবা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগী কারিতাস নেপালের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।

    এই ত্রাণ বণ্টনের মাধ্যমকে কেন্দ্র করে ভারতীয় উপমহাদেশে পুরনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। প্রশ্ন উঠেছে, ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলির মাধ্যমে দুর্যোগকবলিত এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছনোর ক্ষেত্রে সেই সাহায্য শুধুই মানবিক উদ্দেশ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি ধর্মপ্রচার ও ধর্মান্তরের ক্ষেত্রেও তা ব্যবহৃত হতে পারে।

    ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই

    বছর তিয়াত্তরের ভক্ত বাসাই জয়রামনের কয়েক দশকের আন্দোলনের পর একটি ঐতিহাসিক মন্দিরের জলাধার সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন পদক্ষেপ করেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    জয়রামনের বক্তব্য, গত ৪৫ বছর ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন বিধায়ক, মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বহুবার আবেদন করেও এত দিন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি।

    সুক্র তীর্থম নামে পরিচিত ওই জলাধারটি এলাকার প্রায় ১,৪৫০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ওই জলাধারে স্নান করে দেবতার পুজো করলে মানসিক অসুস্থতা নিরাময় হয়।

    ধর্মান্তরের অভিযোগ

    উত্তরপ্রদেশের কুশীনগর জেলার বলুরওয়া গ্রামে একটি মাঠে ধর্মান্তরের চেষ্টা চালানোর অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা একটি খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের সঙ্গে যুক্ত কার্যকলাপ চালানোর অভিযোগ করেন।

    খবর পেয়ে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং বজরং দলের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে পুলিশে খবর দেন। তাঁদের আসার পর কয়েকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ভিঠা থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক নরেশ কুমার জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।

    ধর্মান্তরের চাপে মৃত্যুর অভিযোগ

    অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়া জেলায় নূকরাজু পরিবারের চার সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বছর আটত্রিশের সৌজন্যার নামে লেখা পাঁচ পাতার একটি আত্মহত্যার নোট প্রকাশ্যে আসার পর দীর্ঘদিনের ভয় দেখানো, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, তাঁর ছেলেকে হুমকি এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌজন্যা, তাঁর বাবা নূকরাজু, মা মীনা এবং নাতি রিয়ানশ রাজামহেন্দ্রবরমের সড়ক-রেল সেতু থেকে গোদাবরী নদীতে ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ।

    কর্নাটকে মহিলার মৃত্যু ঘিরে তদন্ত

    কর্নাটকের চিক্কবল্লাপুর জেলার চক্কাহল্লি গ্রামের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে চৈত্রা নামে এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় আট বছর ধরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন চৈত্রা এবং সন্তানদের নিয়ে ওই বাড়িতে বাস করতেন। তাঁর সঙ্গে সাব্বির নামে এক ব্যক্তির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। নন্দী হিলস থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে (Hindus Under Attack)।

    মন্দিরের দানস্বরূপ ঘণ্টা বিক্রি নিয়ে প্রশ্ন

    একটি মন্দিরের দানস্বরূপ পাওয়া ঘণ্টা আত্মসাৎ এবং বেআইনিভাবে পরিবহণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ঘটনায় মন্দিরের ৪০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হলেও, ফৌজদারি মামলার তদন্ত কার্যত থেমে গিয়েছে এবং বিভাগীয় তদন্তও অমীমাংসিত অবস্থায় রয়েছে। নথিতে উল্লিখিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আবু বকর নামে এক দরদাতার মাধ্যমে ঘণ্টাগুলি পরিবহণ ও বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। তবে পরবর্তী সময়ে তদন্ত থেকে আবু বকরের নাম বাদ পড়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলা নিয়ে প্রতিবেদনে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মন্দিরে ভাঙচুর, জমি দখল, ধর্মনিন্দার অভিযোগ তুলে গণহামলা, মহিলাদের ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের মতো অভিযোগের উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের একটি গবেষণার উল্লেখ করে দাবি করা হয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত নিপীড়নের কারণে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যেতে পারে। তবে এই পূর্বাভাস ও এর পদ্ধতি সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

    চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে সাময়িক মুক্তি

    বাংলাদেশের হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে তাঁর মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চলতি সপ্তাহে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রায় দু’বছর কারাগারে থাকার পর প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

    সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি আবেগঘন ভিডিওর উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধাম মন্দিরে রাধা-কৃষ্ণের মূর্তিতে প্রণাম করার সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কাঁদতে দেখা যায়। পরে তাঁকে ফের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    প্রতিবেদনটির দাবি, ঘটনাটি বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের পরিস্থিতির একটি দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক অপরাধের পিছনে ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

    হিন্দু উৎসব নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ

    প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলিতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্বেষের পাশাপাশি নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলে পরিচিত কিছু দেশেও হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত সূক্ষ্ম বৈষম্য দেখা যায়।

    এই ধরনের বৈষম্য আইন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং জনপরিসরের আচরণের মধ্যেও প্রকাশ পেতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারে ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    প্রতিবেদনটির বক্তব্য, উপরিতলে এই নিষেধাজ্ঞাকে পরিবেশ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে (Roundup Week) অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবের ক্ষেত্রে অনুরূপ বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োগ করা হয়, সেই তুলনামূলক ছবি বিবেচনা করলে উঠতে পারে বৈষম্যের প্রশ্ন।

     

  • Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    Saudi Arabia: সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলা, নিরাপত্তার কারণে বন্ধ সরবরাহ পথ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরান যুদ্ধের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ার মধ্যেই সৌদি আরবের (Saudi Arabia) গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। বিশ্বের অন্যতম (Red Sea Island) গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথকে ঘিরে এই হামলার ফলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

    আরব উপদ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবহণ করে এই পাইপলাইন। বৃহস্পতিবার রিয়াদ ও মদিনা অঞ্চলে পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন জখম হয়েছেন। পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হচ্ছে।

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রকের বক্তব্য (Saudi Arabia)

    সৌদি জ্বালানিমন্ত্রক শুক্রবার জানিয়েছে, একাধিক হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সৌদি বিদেশমন্ত্রকের দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সক্রিয়তার জন্য পরিচিত ইরাকের দিক থেকে একাধিক ড্রোন এসে এই হামলা চালায়। হামলার ফলে মানুষ আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও জানিয়েছে সৌদি সরকার।

    তবে আপাতত পাল্টা হামলার পথে হাঁটেনি সৌদি আরব। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ইরাকের প্রধানমন্ত্রী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাগদাদকে কিছুটা সময় দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। সেই কারণে এই মুহূর্তে প্রতিক্রিয়া না জানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সৌদি আরব অবশ্য সতর্ক করে বলেছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্থাপনা এবং নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সৌদি আরবের রয়েছে।

    চাপে রেড-সির পথও

    আটের দশকে নির্মিত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন ইরান যুদ্ধের আবহে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ, এর মাধ্যমে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল রফতানি করতে পারে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কার চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

    পাইপলাইনটি সৌদি আরবের তেল উৎপাদনকারী পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগরের উপকূলে অবস্থিত ইয়ানবু পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সমুদ্রপথে তেল রফতানির জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

    জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করা হচ্ছিল। যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান।

    জুনের শুরু নাগাদ ইয়ানবু বন্দর থেকে সৌদি আরবের তেল রফতানি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে প্রতিদিন ৫০ লাখ ব্যারেলের বেশি হয়েছিল।

    মার্কিন আধিকারিকদের প্রাথমিক মূল্যায়নে জানা গিয়েছে, পাইপলাইনের পাশে থাকা তেল পাম্প করার কেন্দ্রগুলিতে হামলা হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে অন্তত একটি পাম্পিং কেন্দ্র থেকে আগুন এবং ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গিয়েছে। তবে পাইপলাইনের মূল অংশ কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

    ইরাকের মাটি ব্যবহার করে হামলার অভিযোগ

    সৌদি বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের পর এই পর্যায়ে পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব।

    ইরাক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। বাগদাদ জানিয়েছে, সৌদি আরব বা প্রতিবেশী দেশগুলির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

    ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দফতর আরও জানিয়েছে, তদন্তে হামলার উৎস ইরাক বলে প্রমাণিত হওয়ার পর এক সামরিক কমান্ডারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইরাকের নিরাপত্তা সংস্থার দুই আধিকারিকের দাবি, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ইরান সীমান্তের শালামচেহ সীমান্তপথও বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদ। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করতে বড় আকারের অভিযান শুরু হয়েছে।

    লোহিত সাগরের কৌশলগত দ্বীপ দখল হুথিদের

    সৌদি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করছে (Saudi Arabia)।

    ইয়েমেন সরকারের সূত্রের দাবি, বাব এল-মান্দেব প্রণালীর কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপ দখল করেছে হুথিরা। এর আগে তারা গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোচার নিয়ন্ত্রণও নিয়েছিল।

    হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার পর বাব এল-মান্দেব প্রণালীর গুরুত্ব অনেক বেড়ে গিয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ করা হত, যা বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। সেই পথ ব্যাহত হওয়ায় সৌদি আরব তার পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং লোহিত সাগরীয় তেল রফতানির উপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

    অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ

    হুথিদের হামলার আশঙ্কার কারণে বাব এল-মান্দেব দিয়ে সৌদি অপরিশোধিত তেলের পরিবহণ আগেই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। এবার আরও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তেলবাহী জাহাজগুলিকে অনেক দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতে পারে। এর ফলে পরিবহণের খরচ বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানির দামের উপর আরও চাপ তৈরি হবে।

    ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ মার্কিন ডলারের উপরে উঠে গিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহণপথগুলিতে একের পর এক অস্থিরতা তৈরি (Red Sea Island) হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ এবং দামের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে (Saudi Arabia) উঠতে পারে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের।

     

  • Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    Migrants Controversy: ইউরোপে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নারীদের উপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, অভিবাসন নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউরোপের বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং বিশেষভাবে নির্ভরশীল মেয়েদের উপর ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের (Migrants Controversy) একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। কয়েকটি ঘটনায় তদন্ত চলছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে আদালতে বিচারপ্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এসব ঘটনা ঘিরে দুর্বল ও নির্ভরশীল মানুষদের নিরাপত্তা এবং পরিচর্যা ব্যবস্থায় নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

    ফ্রান্সে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের তুলুজের কাছে একটি বিশেষ পরিচর্যা কেন্দ্রে ২৩ বছরের পক্ষাঘাতগ্রস্ত এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪০ বছরের এক মরক্কোর নাগরিক পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তাঁর হয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তবে ২০২৬ সালের ১ আগস্ট তুলুজের সরকারি কৌঁসুলির দফতর মামলাটি খারিজ করে দেয় বলে জানা গিয়েছে। তরুণীর মা নাথালি মুয়ে এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর তাঁর মেয়ে ওই পরিচর্যা কেন্দ্রে ফিরতে ভয় পাচ্ছিলেন। অভিযুক্ত পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে একই প্রতিষ্ঠানে আরও দুই তরুণীর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠার কথাও স্থানীয় সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তদন্তের সময় তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়।

    স্পেনে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    স্পেনের মানাকোরে ২০২০ সালের একটি ঘটনায় ৪০ বছরের এক সেনেগালের নাগরিকের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। প্রসিকিউশনের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ওই কিশোরীর সঙ্গে পরিচিত হন এবং তাঁর প্রতিবন্ধকতার বিষয়টি জানতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কিশোরীকে একটি গ্যারাজে ঢুকিয়ে বের হওয়ার পথ আটকে দেন এবং তাঁকে ও তাঁর বোনকে হুমকি দেন। এরপর ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তিনি কখনও ওই গ্যারাজে ঢোকেননি। তাঁর বিরুদ্ধে নয় বছরের কারাদণ্ড এবং সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

    স্ট্রাসবুর্গে ১৫ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ

    ফ্রান্সের স্ট্রাসবুর্গে ২০২৩ সালে ১৫ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ২৬ বছরের এক আফগান নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কিশোরীকে সামান্য প্রতিবন্ধী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি একটি সুইমিং পুলে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও দুই কিশোরী এবং চল্লিশের কোঠার এক মহিলাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে। একজন কিশোরী লাইফগার্ডকে বিষয়টি জানানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্বল ব্যক্তিকে ধর্ষণ এবং একাধিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।

    ভিয়েনায় ৮২ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত ৮২ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ২৬ বছরের এক আফগান পরিচর্যাকারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে ঘটেছিল বলে অভিযোগ। পরিবারের তরফে নজরদারি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। পরিবারের এক সদস্য মোবাইল ফোনে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। গ্রেফতারের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্ত চলাকালীন অভিযোগ ও প্রমাণের আইনি মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ।

    ফ্রান্সে ৮০ বছরের বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা

    ফ্রান্সের নিয়োরে ৮০ বছরের এক মহিলাকে ধর্ষণের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ২০২৫ সালের ৫ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যবর্তী রাতে ঘটে। প্রায় দুই মাস পরে, ২৭ সেপ্টেম্বর পুলিশ এক আফগান নাগরিককে গ্রেফতার করে। পোয়াতিয়ের সরকারি কৌঁসুলির দফতর জানিয়েছিল, অভিযুক্ত আফগানিস্তানে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং ২০০৫ সালে ফ্রান্সে এসেছিলেন। তাঁকে বিচার-পূর্ব হেফাজতে রাখা হয়। প্রবীণ এক মহিলার উপর যৌন সহিংসতার অভিযোগ এবং পরবর্তী মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় স্তরে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করে।

    জার্মানিতে ৯০ বছরের প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ

    জার্মানির ড্রেসডেনে ৩৩ বছরের এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে ৯০ বছরের এক প্রতিবন্ধী মহিলাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলা একটি হুইলচেয়ারে ছিলেন এবং পড়ে যাওয়ার পর তাঁকে এক্স-রে করাতে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের একটি শৌচাগারে ওই মহিলার উপর যৌন হামলা চালানো হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং ইচ্ছাকৃতভাবে শারীরিক ক্ষতি করার অভিযোগ আনা হয়।

    ফরাসি হাসপাতালে দুই প্রবীণ রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ

    ২০২৩ সালের অক্টোবরে ফ্রান্সের আর্জঁতুইয়ের ভিক্টর দুপুই হাসপাতালের জেরিয়াট্রিক বিভাগে ৯৩ এবং ৯৫ বছরের দুই রোগীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৪৪ বছরের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হয়, অভিযুক্তকে ৯৩ বছরের এক মহিলার ঘর থেকে বের হতে দেখা যাওয়ার পর। তদন্তকারীরা তাঁর বিছানার চাদরে বীর্যের নমুনা পেয়েছিলেন বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়, যদিও সেটি অভিযুক্তেরই ছিল কি না তখনও নিশ্চিত হয়নি। পরে ৯৫ বছরের ওই রোগীও একই দিনে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করেন। ৯৩ বছরের মহিলা পরে জ্ঞান হারিয়ে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কারণ এবং যৌন নির্যাতনের সঙ্গে মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক ছিল কি না, তা পৃথক তদন্ত ও ময়নাতদন্তের বিষয় হয়ে ওঠে।

    অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক

    এই ঘটনাগুলি ইউরোপে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং পরিচর্যার উপর নির্ভরশীল মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন, একীকরণ, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি ব্যবস্থা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD)-সহ অভিবাসনবিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলি এই ধরনের ঘটনাকে কঠোর অভিবাসন নীতি (Migrants Controversy) এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার পক্ষে যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছে। বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভও বেড়েছে। তবে কোনও ব্যক্তির অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে গোটা কোনও ধর্মীয়, জাতীয় বা অভিবাসী সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ই বিচার্য। একই সঙ্গে পরিচর্যা কেন্দ্র, হাসপাতাল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে দুর্বল মানুষদের সুরক্ষায় কার্যকর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে।

     

     

     

     

     

  • BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    BRICS Membership: বছর তিন আগে আবেদন, এখনও ব্রিকসে জায়গা হয়নি পাকিস্তানের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্রিকসের সদস্যপদের (BRICS Membership) জন্য ২০২৩ সালেই আবেদন করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু আবেদন করার প্রায় তিন বছর পরেও বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদীয়মান অর্থনীতির এই জোটে জায়গা হয়নি ইসলামাবাদের। মূলত ভারতের আপত্তিই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের পথে সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করা হচ্ছে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে গঠিত ব্রিকস পরবর্তী সময়ে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে। গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে জোটটি ‘ব্রিকস+’-এ পরিণত হয়েছে। বর্তমানে আরও ২৯টি দেশ ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছে। সেই তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানও।

    কেন ব্রিকসে যোগ দিতে চাইছে পাকিস্তান

    পাকিস্তানের ব্রিকসে যোগ দেওয়ার আগ্রহের পিছনে অন্যতম কারণ দেশের অর্থনৈতিক সংকট। পাকিস্তান ইকনমিক সার্ভে অনুযায়ী, দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার ৩.৭০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডার বা আইএমএফ-এর উপর নির্ভরতা কমানো এবং বিকল্প অর্থের উৎস তৈরি করাও ইসলামাবাদের অন্যতম লক্ষ্য। পাকিস্তান ব্রিকস-সমর্থিত নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কে ৫৮ কোটি ডলারের অংশীদারিত্ব কিনেছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প বাড়াতে চাইছে ইসলামাবাদ।

    ব্রিকস-এ ভারতের বাণিজ্যও বেড়েছে

    ব্রিকসের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে জোটটির বৈশ্বিক গুরুত্বও বেড়েছে। সম্প্রসারিত ব্রিকস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৪৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব করে। ক্রয়ক্ষমতার সমতা বা PPP-এর ভিত্তিতে বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশের অংশীদার এই গোষ্ঠী। ব্রিকস দেশগুলির সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যও উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। জোটের সদস্য দেশগুলিতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬৪.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে তা বেড়ে হয়েছে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলার।

    ২০২৩ সালেই সদস্যপদের আবেদন

    ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, ইসলামাবাদ ব্রিকসে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক ভাবে আবেদন করেছে। সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিকসের অধিকাংশ সদস্য দেশের সঙ্গেই পাকিস্তানের উষ্ণ সম্পর্ক রয়েছে। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ ব্রিকসকে ‘উন্নয়নশীল দেশগুলির একটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠী’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিতে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। তিনি জানিয়েছিলেন, ব্রিকসে যোগ দিলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপাক্ষিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ব্রিকস পাকিস্তানের আবেদনকে তাদের ‘ইনক্লুসিভ মাল্টিল্যাটারালিজম’-এর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিবেচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

    রাশিয়া-চিনের সমর্থন, তবুও থমকে পাকিস্তানের সদস্যপদ

    পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মহম্মদ খালিদ জামালি রুশ সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির সমর্থন আদায়ের জন্য যোগাযোগ করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। রাশিয়া ও চিনের সমর্থন পাকিস্তানের পক্ষে থাকলেও এখনও সদস্যপদ মেলেনি। কারণ ব্রিকসে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সর্বসম্মতির নীতি কার্যকর। অর্থাৎ নতুন কোনও দেশকে সদস্য করতে হলে সমস্ত পূর্ণ সদস্যের সম্মতি প্রয়োজন। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিরোধিতাই পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতদিন নয়াদিল্লি পাকিস্তানের সদস্যপদের বিরোধিতা করবে, ততদিন সর্বসম্মতির নিয়মে ইসলামাবাদের আবেদন কার্যত আটকে থাকবে। ফলে রাশিয়া ও চিনের সমর্থন থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের ব্রিকস-এ প্রবেশের সম্ভাবনা এখনও অনিশ্চিত। ভারতের আপত্তি কাটিয়ে ইসলামাবাদ শেষ পর্যন্ত এই জোটে জায়গা করে নিতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

     

     

     

     

  • Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    Chinese Tank Explodes: চিনা যুদ্ধাস্ত্রের অন্ধ মোহ! শত্রু নিধনের ট্যাঙ্ক যেভাবে নিজের সেনার জন্যই কাল হল বাংলাদেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘সস্তার তিন অবস্থা’। প্রতিরক্ষার মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই প্রবাদের নির্মম খেসারত যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তার এক রক্তাক্ত উদাহরণ হয়ে থাকল চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জের দুর্ঘটনা। গত ৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি সামরিক মহড়া চলাকালীন আচমকাই একটি চিনা প্রযুক্তির ট্যাঙ্ক বিস্ফোরিত হয়। বাংলাদেশের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (ISPR) অত্যন্ত সংযতভাবে ঘটনাটি নিশ্চিত করলেও, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বিস্ফোরণের শিকার হওয়া যুদ্ধযানটি চিনের তৈরি ‘টাইপ ৫৯’ (Type 59) বা ‘টাইপ ৬৯-আইআইজি’ (Type 69-IIG) গোত্রের যুদ্ধট্যাঙ্ক। শত্রুর মোকাবিলা করা তো দূরের কথা, মহড়ার মাঠেই নিজের ট্যাঙ্কের কামানের ভেতরের গোলা ফেটে প্রাণ হারিয়েছেন ২ জন বাংলাদেশি সেনা জওয়ান এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ১ জন পদস্থ কর্মকর্তা। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি কেবল একটি দুর্ঘটনা মাত্র নয়, বরং এটি প্রতিবেশি দেশটির চিনা মরণফাঁদে পা দেওয়ার এক চরম ভূ-রাজনৈতিক সতর্কতা।

    বাংলাদেশ সেনার মূল ভরসা চিনা সামরাস্ত্র

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া বহরের (Armoured Inventory) দিকে তাকালে দেখা যায়, তাদের মূল শক্তিই দাঁড়িয়ে আছে চিনা প্রযুক্তির ওপর। ‘টাইপ ৫৯’, ‘টাইপ ৬৯’ থেকে শুরু করে ‘এমবিটি-২০০০’ বা ‘ভিটি-৫’—বাংলাদেশের প্রধান সবকটি ট্যাঙ্কই চিনের তৈরি বা চিনের সাথে যৌথভাবে উন্নত করা। সোভিয়েত আমলের পুরনো সোভিয়েত টি-৫৪ ট্যাঙ্কের চিনা সংস্করণ এই ‘টাইপ ৫৯’, যা দশকের পর দশক ধরে বাংলাদেশ ব্যবহার করছে। আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অতি-পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ চিনা সরঞ্জামগুলোকে অবসরে পাঠানোর পরিবর্তে বারবার আধুনিকীকরণ (Upgrade) করে ব্যবহার করার যে অন্ধ মোহ, তারই চড়া মূল্য দিতে হল সেনাবাহিনীর তাজা দুটি প্রাণকে। চিনা যুদ্ধাস্ত্রের এই ‘ফাঁকিবাজি’ ও নিম্নমানের রক্ষণাবেক্ষণ প্রযুক্তি যে আসলে সুরক্ষার নামে এক একটি ‘টাইম বোম’, তা এই বিস্ফোরণ আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দিল।

    বাংলাদেশের আত্মোপলব্ধির সময়

    এই ঘটনা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকদের জন্য এক বড় আত্মোপলব্ধির সময়। ভারত সর্বদা তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ (Neighbourhood First) নীতির মাধ্যমে প্রতিবেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং টেকসই, নির্ভরযোগ্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ নানাবিধ ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এবং অন্ধ ভারত-বিরোধিতার স্রোতে ভেসে সস্তা চিনা ঋণের ফাঁদে ও নিম্নমানের প্রতিরক্ষা সামগ্রীর দিকে ঝুঁকছেপাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর বাংলাদেশও এখন হাড়েনহাড়ে টের পাচ্ছে যে চিনা পণ্যের বাহ্যিক জাঁকজমক যতটা, কার্যকারিতা ততটাই শূন্য। প্রতিরক্ষার মতো সার্বভৌম বিষয়ে সস্তার চিনা অস্ত্র-সরঞ্জামের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের দেশের সার্বভৌমত্ব এবং জওয়ানদের জীবনকেই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে। হাটহাজারীর এই ছাই হয়ে যাওয়া ট্যাঙ্কটি যেন বাংলাদেশের চিনা সামরিক মোহেরই এক জলজ্যান্ত উদাহরণ। ছবিটা কি দেখতে পাচ্ছেন তারেক রহমান!
  • Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্য, ভিন্নতাকে সম্মান করাই ভারতীয় সভ্যতার মূল কথা”, লন্ডনে বললেন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়ের মূলে রয়েছে বৈচিত্র্য ও ঐক্যের সহাবস্থান। মানুষের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তাকে সম্মান করা উচিত। কারণ এই বৈচিত্র্য আসলে একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।” রবিবার লন্ডনে আয়োজিত ‘একাত্মতা উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)।

    তিনি বলেন, বৈচিত্র্য স্বাভাবিক বিষয়। তাই মানুষের মধ্যে কী কী পার্থক্য রয়েছে, তার বদলে কোন বিষয়গুলি তাঁদের একসূত্রে বাঁধে, সেদিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, “হিন্দু সভ্যতা সবসময় এই উপলব্ধির উপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব মূলগতভাবে এক, যদিও তা বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হয়। বৈচিত্র্য স্বাভাবিক; এই পার্থক্যগুলি একই অন্তর্নিহিত ঐক্যের বিভিন্ন প্রকাশ বা অলংকারমাত্র।”

    ভারতের অগ্রগতির সঙ্গে শান্তির সম্পর্ক (Mohan Bhagwat)

    ভারতের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরেন ভাগবত। তাঁর দাবি, ভারত এগিয়ে গেলে স্বৈরশাসন বা যুদ্ধের জন্ম হয় না। বরং ভারতের অগ্রগতি শান্তি, সমৃদ্ধি, আনন্দ এবং ভ্রাতৃত্বের বার্তা বহন করে।

    ভাগবত বলেন, “ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও স্বৈরশাসকের সৃষ্টি হয় না। ভারত এগিয়ে গেলে কখনও কোনও যুদ্ধ শুরু হয় না। ভারত সমগ্র মানবজাতির মধ্যে শান্তি, আনন্দ, সমৃদ্ধি ও ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃতির সঙ্গে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলে।”

    তাঁর মতে, শাসক, সরকার কিংবা প্রশাসনিক ব্যবস্থা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, কিন্তু জাতি হিসেবে ভারতের অস্তিত্ব অব্যাহত থেকেছে।

    তিনি বলেন, “কখনও আমাদের প্রজাতন্ত্র ছিল। কখনও আমরা অন্যদের শাসনের অধীনে ছিলাম। কখনও স্বাধীনতার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। কিন্তু সবসময়ই আমরা একটি জাতি হিসেবে ছিলাম।”

    হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে আরএসএসের অবস্থান ব্যাখ্যা

    ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে ভাগবত বলেন, এই শব্দবন্ধকে শুধুমাত্র একটি রাষ্ট্রের ধারণা হিসেবে দেখলে হবে না।

    তিনি বলেন, “রাষ্ট্র মানেই জাতি নয়। রাষ্ট্রের প্রথমেই একটি উদ্দেশ্য থাকে। হিন্দু রাষ্ট্রের উদ্দেশ্য কী? বিশ্বের কাছে এই সত্য তুলে ধরা যে বৈচিত্র্য স্বাভাবিক এবং ঐক্যই সত্য। এতে সমগ্র বিশ্বেরই কল্যাণ হবে।”

    ভাগবতের বক্তব্য, হিন্দু পরিচয়কে শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ অর্থে দেখলে হবে না। এটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত ধারণা।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “হিন্দু মূলত একটি সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত পরিচয়—জীবন, অস্তিত্ব এবং বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে বোঝার একটি পদ্ধতি।”

    ঐক্যের জন্য একরূপতা জরুরি নয়

    ঐক্য মানেই যে সকলকে একই রকম হতে হবে, এমন ধারণাও খারিজ করেন ভাগবত। তাঁর মতে, বৈচিত্র্য বজায় রেখেই ঐক্য সম্ভব।

    তিনি বলেন, “সকলকে একরকম করে দেওয়ার কোনও ব্যবস্থা আমাদের নেই, কারণ ঐক্যের জন্য একরূপতা অপরিহার্য নয়। আমাদের সভ্যতাগত উপলব্ধি হল বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য—আমরা বৈচিত্র্যকে গ্রহণ করি (RSS)।”

    সব পথকেই স্বীকৃতি দেয় হিন্দু চিন্তা

    হিন্দু চিন্তাধারা কোনও একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় পথ অনুসরণ করার জন্য মানুষকে বাধ্য করে না এবং অন্যদের ধর্মান্তরিত করারও চেষ্টা করে না বলে দাবি করেন ভাগবত।

    তিনি বলেন, “আমরা যখন ‘হিন্দু’ বলি, তখন সংকীর্ণ অর্থে কোনও একটি ধর্মকে বোঝাই না। হিন্দুদের মধ্যে বহু ধর্মীয় ধারা ও পরম্পরা রয়েছে, কিন্তু অন্তর্নিহিত হিন্দু চিন্তা সব পথকেই গ্রহণ করে।”

    তাঁর বক্তব্য, একই সত্যে পৌঁছনোর জন্য মানুষের বিভিন্ন পথ থাকতে পারে এবং হিন্দু চিন্তাধারা সেই সহাবস্থানকে স্বীকৃতি দেয়।

    ভাগবত বলেন, “আমরা যখন বলি হিন্দু কোনও ধর্ম নয়, তার অর্থ এই নয় যে হিন্দু ধর্ম থাকতে পারে না। হিন্দু ধর্ম বলে, অন্যান্য ধর্মগুলিও সত্য।”

    প্রকৃতির প্রতিও হিন্দু জীবনদর্শনে গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “একজন হিন্দু পরিবার, সম্প্রদায়, সমাজ এবং মানবতার সঙ্গে যুক্ত। একজন হিন্দু শুধু উপাসনা করে না, প্রকৃতিকেও ভালোবাসে।”

    বিভাজনের বদলে ঐক্যের জায়গাগুলিতে জোর দেওয়ার আহ্বান

    মানুষ একে অপরকে শত্রু হিসেবে দেখা বন্ধ করলে সংঘাত অনেক বেশি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ভাগবত।

    তিনি (Mohan Bhagwat) বলেন, “অন্যকে সীমাবদ্ধ করা বা জয় করার চেষ্টা না করে আমাদের উপলব্ধি করা উচিত যে, শেষ পর্যন্ত আমরা সকলেই একই বিষয়গুলি অর্জন করতে চাই। তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত অন্যকে কীভাবে পরাজিত করা যায়, তা নয়; বরং কীভাবে আমরা সবাই একসঙ্গে সেই লক্ষ্য অর্জন করতে পারি, তা।”

    সমাজের প্রতি তাঁর আহ্বান, মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে এমন বিষয়গুলির পরিবর্তে যে বিষয়গুলি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

    ভাগবত বলেন, “যে বিষয়গুলি আমাদের বিভক্ত করে, তার পরিবর্তে যে বিষয়গুলি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, সেগুলির উপর গুরুত্ব দিন (RSS)।”

    ব্রিটিশ হিন্দুদের আনুগত্য নিয়ে ভাগবতের বক্তব্য

    ব্রিটেনে বসবাসকারী হিন্দুদের সঙ্গে ব্রিটেনের সম্পর্ক নিয়েও বক্তব্য রাখেন ভাগবত। তাঁর মতে, একজন মানুষ যে দেশে বসবাস ও কাজ করেন, সেই দেশের প্রতি তাঁর আনুগত্য থাকা স্বাভাবিক।

    তিনি বলেন, “এখানে কোনও সংঘাত নেই। যদি কখনও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তাহলে এটা স্পষ্ট যে ব্রিটিশ হিন্দু ব্রিটেনের পক্ষেই থাকবে।”

    এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “আপনার কর্মভূমি যেখানে, আপনার আনুগত্যও সেখানে; আর জন্মভূমি সেই জায়গা, যেখানে আপনি আপনার মূল্যবোধ পেয়েছেন।”

    তরুণ প্রজন্ম নিয়ে আশাবাদী ভাগবত

    ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ভাগবত। তাঁর মতে, সমাজকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার তাগিদ তরুণদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই কারণে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর তাঁর আস্থা ক্রমশ বাড়ছে।

    তিনি বলেন, “আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর আরও বেশি আস্থা রাখি, কারণ এই পৃথিবীকে আরও ভালো জায়গায় পরিণত করার তাগিদ তাদের মধ্যে রয়েছে। তাদের লক্ষ্য দিন, পদ্ধতি নয়। তারা দ্রুত সর্বজনীন নৈতিকতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জন করবে।”

    সমাজের সেবা করতে হলে সেই কাজে এগিয়ে আসার মানসিকতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি (Mohan Bhagwat)। তাঁর মতে, তরুণ প্রজন্ম সামাজিক বিভাজন অতিক্রম করে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম।

    রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বিদেশে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবেই বর্তমানে ব্রিটেনে রয়েছেন ভাগবত। আজ, ৭ সেপ্টেম্বরই শেষ হবে তাঁর (Mohan Bhagwat) লন্ডন সফর।

  • Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    Swaminarayan Temple: ‘নয়া উচ্চতায় ভারত-ফ্রান্স সম্পর্ক’, প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দির উদ্বোধনে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত ও ফ্রান্সের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়া উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব দুই দেশের জন্যই বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Swaminarayan Temple)।

    রবিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্যারিসে স্বামীনারায়ণ মন্দিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্যারিসের এই নতুন মন্দির দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

    ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক (Swaminarayan Temple)

    তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও ফ্রান্সের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমার বন্ধু রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে আমরা দুই দেশ মিলে একটি বিশেষ বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছি।”

    প্রযুক্তি, এআই, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ থেকে শুরু করে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা—বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত ও ফ্রান্স নতুন গতি ও শক্তি নিয়ে একসঙ্গে এগিয়ে চলেছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০২৬ সালকে দুই দেশ উদ্ভাবনের ভারত-ফ্রান্স বর্ষ হিসেবে উদযাপন করছে।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মজবুত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত।”

    ভারত ও ফ্রান্সের মধ্যে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা নিয়েও বর্তমানে ব্যাপক আলোচনা চলছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্রান্সে ভারতীয় সেনাদের আত্মত্যাগের ইতিহাস আজও সেখানকার মানুষের হৃদয়ে জীবন্ত (Swaminarayan Temple)। ফরাসি পণ্ডিতদের সংস্কৃত জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। রোমাঁ রোলাঁর রামকৃষ্ণ পরমহংস ও স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা দুই দেশের সমাজকে আরও কাছাকাছি এনেছিল বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

    ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা

    তিনি আরও বলেন, প্যারিস থেকে পুদুচেরির শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম পর্যন্ত ‘মা’-এর আধ্যাত্মিক যাত্রা অসংখ্য ভারতীয় ও ফরাসি সাধক-অনুসন্ধানীকে অনুপ্রাণিত করেছে। কয়েক দশক আগে শ্রীল প্রভুপাদ স্বামীও ফ্রান্স সফর করেছিলেন। আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘের মাধ্যমে তাঁর সেই সফর ভারত ও ফ্রান্সের আধ্যাত্মিক যোগাযোগে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল বলে জানান মোদি।

    যোগও দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে আইফেল টাওয়ারের সামনে যোগচর্চার ছবি ফ্রান্সে যোগের বিপুল জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    প্যারিসের স্বামীনারায়ণ মন্দিরকে ভারত ও ফ্রান্সের যৌথ সাংস্কৃতিক সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই মন্দির ভারতে নির্মিত এবং ফ্রান্সে প্রতিষ্ঠিত। এর বহু পাথর ভারতে খোদাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের প্রাচীন কারুশিল্পের সঙ্গে ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তির এক সুন্দর সমন্বয় ঘটেছে।”

    ভারতীয় সংস্কৃতির মূল্যবোধের বার্তা

    নবনির্মিত এই মন্দির থেকে ভারতীয় সংস্কৃতির যে মূল্যবোধের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে, তা সমগ্র ইউরোপের মানুষের উপকারে আসবে বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। ভবিষ্যতে সময়-সুযোগ হলে তিনি নিজে মন্দিরটি পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা জানাবেন বলেও জানান মোদি।

    তিনি বলেন, “এই মহিমান্বিত বিএপিএস মন্দিরের মাধ্যমে আমাদের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক যুক্ত হল।”

    স্বামীনারায়ণ মন্দিরগুলি বরাবরই ভক্তির পাশাপাশি সমাজসেবার কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। প্যারিসের মন্দিরটিও একইভাবে বিভিন্ন সমাজসেবামূলক প্রকল্পের কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে বিএপিএসের মন্দির প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারতের প্রাচীন চিন্তাধারা ও মানবিক মূল্যবোধও সেখানে পৌঁছে যায় (Swaminarayan Temple)।

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “আজ ফ্রান্সে একটি মহিমান্বিত মন্দির প্রস্তুত হয়েছে। এটি শুধু ফ্রান্সের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করবে না, ভারত ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ককেও নতুন শক্তি দেবে।”

     

  • BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    BLA: বালুচিস্তানে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ২৫ পাক সেনা নিহতের দাবি বিএলএ-র, পাল্টা অভিযানে ৫০ ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি ইসলামাবাদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বালুচিস্তানে ফের বড় ধরনের সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ল পাক সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)। সংগঠনের দাবি, পৃথক দু’টি হামলায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অন্তত ২৫ জন সদস্য নিহত (Pakistani Soldiers Killed) হয়েছেন। এর মধ্যে জিয়ারত ক্রস এলাকায় সামরিক কনভয়ে হামলা চালিয়ে ১৮ জনকে হত্যার দাবি করেছে বিএলএ। এদিকে, হাজিকা এলাকায় আরও একটি হামলায় সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান শুরু করে পাক সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, বালুচিস্তানের মাস্তুং, সিবি, কোয়েটা ও কালাত জেলার বিভিন্ন এলাকায় জঙ্গিদের ঘাঁটিতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতদের মধ্যে বিএলএ এবং তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP)-এর সদস্য রয়েছে বলে দাবি করেছে পাক সামরিক বাহিনী। ফলে দু’পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তানে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তীব্র হয়েছে।

    সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ (BLA)

    গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানি সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতা আরও জোরদার করেছে বিএলএ। সংগঠনটির দাবি, তাদের ‘ফাতেহ স্কোয়াডে’র সদস্যরা জিয়ারত ক্রস এলাকায় একটি সামরিক কনভয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় দু’টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয় এবং ১৮ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। আরও পাঁচ সেনা আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে বলেও জানিয়েছে বিএলএ।

    এই হামলার মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের চালানো সবচেয়ে বড় এবং দুঃসাহসিক হামলাগুলির একটি সামনে এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। হামলার পর বিএলএর নিজস্ব গণমাধ্যম শাখা ‘হাক্কাল’ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে বিস্ফোরণ, গুলির শব্দ এবং আগুনে জ্বলতে থাকা একটি সামরিক ট্রাকের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। ভিডিওর কয়েকটি দৃশ্যে সশস্ত্র যোদ্ধাদের সামরিক যানগুলির কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাক থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

    আলোচনায় বিএলএর ফাতেহ স্কোয়াড এবং এসটিওএস

    জিয়ারত ক্রসের হামলার পর ফের আলোচনায় এসেছে বিএলএর বিশেষ যুদ্ধ ইউনিট ‘ফাতেহ স্কোয়াড’। বালুচিস্তানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকায় এই বাহিনী মূলত গেরিলা কৌশল, অতর্কিত হামলা এবং হাইরিস্কের সামরিক অভিযানে সক্রিয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

    এর আগেও বড় হামলায় এই ইউনিটের নাম সামনে এসেছিল। ২০২৫ সালের মার্চে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ রেল পরিষেবা জাফর এক্সপ্রেস ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাতেহ স্কোয়াড জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল বিএলএ। ওই ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল।

    অন্যদিকে হাজিকা এলাকায় পৃথক হামলায় বিএলএ দাবি করেছে, তাদের ‘স্পেশাল ট্যাকটিক্যাল অপারেশনস স্কোয়াড’ (STOS) একটি দূর-নিয়ন্ত্রিত যান ব্যবহার করে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে সাত পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির দাবি। যদিও এই দাবিরও সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    পাকিস্তানি সেনাবাহিনী হামলাগুলির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে পাকিস্তানি সেনা সদস্যদের মরদেহ পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে বলে সাংবাদিকদের পোস্টে দাবি করা হয়েছে। এই সব ভিডিওর সত্যতা এবং প্রেক্ষাপটও যাচাই করা যায়নি।

    ফের সামনে ‘অপারেশন হেরোফে’র স্মৃতি

    বালুচিস্তানে সাম্প্রতিক হিংসতার মাত্রা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত মাসে বিএলএ দাবি করেছিল, পাকিস্তানি বাহিনীকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন এলাকায় তারা ৩৬টি অভিযান চালিয়েছে এবং এসব অভিযানে ৩৩ জনেরও বেশি সদস্য নিহত হয়েছেন। এসব পরিসংখ্যানও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

    সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ২০২৪ সালে বিএলএর চালানো ‘অপারেশন হেরোফে’র কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছে। ওই অভিযানে বালুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ পরিকাঠামোকে টার্গেট করেছিল। করাচি-কোয়েটা সড়কের বিভিন্ন অংশে হামলার পাশাপাশি মাস্তুংয়ের একটি রেলস্টেশনেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। ওই অভিযানে ২৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত এবং প্রচুর সেনাকর্মী জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিল বিএলএ।

    পাল্টা অভিযানে পাকিস্তানের জবাব

    বিএলএর সাম্প্রতিক হামলার পর দ্রুত পাল্টা অভিযান চালায় পাক সেনা (Pakistani Soldiers Killed)। সেনাবাহিনীর দাবি, বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়। এতে প্রায় ৫০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। তাদের বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে বিএলএ (BLA) সদস্যদের পাশাপাশি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন টিটিপির সদস্যও রয়েছে। ফলে বালুচিস্তানের সংঘাত শুধু বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর জঙ্গিবাদ ও নিরাপত্তা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গিয়েছে।

    বালুচিস্তানে দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র আন্দোলন চলছে। বালুচ সংগঠনগুলির অভিযোগ, ওই প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আকছার মানবাধিকার লঙ্ঘন, জোরপূর্বক গুম এবং রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনা ঘটছে। পাকিস্তান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।

    আফগানিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত ভাগ করে নেওয়া বালুচিস্তান ভৌগোলিক ও কৌশলগত দিক (BLA) থেকেও পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরে স্বায়ত্তশাসন থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন বালুচ সংগঠন আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

    বিএলএ-সহ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির সাম্প্রতিক তৎপরতা এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা অভিযান সেই পুরনো সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। দু’পক্ষের হতাহতের দাবি যদি আরও বড় আকার নেয়, তাহলে বালুচিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপরও তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক, রেলপথ ও সামরিক কনভয়কে লক্ষ্য করে হামলা বাড়লে ঝুঁকির মুখে (Pakistani Soldiers Killed) পড়তে পারে সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও (BLA)।

     

  • Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    Nepal Floods Rescue Operation: অলৌকিক অভিযান! ভয়াবহ বন্যার নয়দিন পর, নেপালের ত্রিশূলী-৩এ সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার দুই কর্মী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের ভয়াবহ বন্যার (Nepal Floods Rescue Operation) ধ্বংসস্তূপের মধ্যে মিলল আশার আলো। ভয়াবহ বন্যার নয় দিন পর নেপালের রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ (Trishuli 3A tunnel in Nepal) থেকে জীবিত উদ্ধার হলেন দুই কর্মী। শুক্রবার উদ্ধারকাজের সময় তাঁদের সন্ধান মেলে। জীবিত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার ঘিরে সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকা আরও কর্মীদের বেঁচে থাকার আশা জোরালো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুই কর্মী হলেন কাঠমান্ডুর বাসিন্দা ৪৫ বছরের কবীর মহার্জন এবং সপ্তরী জেলার ৩০ বছরের সঞ্জয় সাহ। কবীর আপার ত্রিশূলী-৩এ-এর হাইড্রোপাওয়ার অটোমেশন প্রকল্পের সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। সঞ্জয় ছিলেন ফোরম্যান।

    মনের জোরেই উদ্ধার

    নেপালের জ্বালানি, জলসম্পদ ও সেচমন্ত্রীর সচিবালয়ের তরফে জানানো হয়েছে, দু’জনকেই উদ্ধার করার পর বিমানপথে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার প্রথমে সঞ্জয়কে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার করা হয় কবীরকে। এর আগে সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে মানুষের আওয়াজ শুনতে পান উদ্ধারকারীরা। এরপর ভিতরে আটকে থাকা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগও স্থাপন করা সম্ভব হয়। তাঁদের আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার আশ্বস্ত করেন উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা। নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এরপর আরও জোরদার করেন উদ্ধার অভিযান। শেষ পর্যন্ত সেই অভিযানেই মিলল সাফল্য। ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ধসের পর কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষে টানেলের মুখ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১৭০ মিটার গভীরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধারে দিন-রাত অভিযান চালায় নেপাল সেনা, প্রযুক্তিবিদ এবং উদ্ধারকারী দল। শেষ পর্যন্ত জীবিত অবস্থায় তাঁদের বের করে আনা হয়েছে।

    মৃতের সংখ্যা ১২০০ ছাড়িয়েছে

    গত ২৬ আগস্ট ত্রিশূলী নদীর উপত্যকা দিয়ে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড বয়ে যায়। প্রবল জলের তোড়ে নদী করিডরের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই বিপর্যয়ে অন্তত ১,২৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫,০৫৩ জন এখনও নিখোঁজ। বন্যার পর থেকেই নেপালি সেনা, সশস্ত্র পুলিশ এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

    চলছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ

    বন্যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে ৬০ মেগাওয়াটের আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও। প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও অন্যান্য পরিকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর থেকেই সুড়ঙ্গ ও বিভিন্ন স্থাপনার ভিতরে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। উদ্ধার অভিযানে নেপাল সেনা ও সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি চিনা বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত রয়েছেন। পাঁচটি এক্সক্যাভেটর, কম্প্রেসর ও ব্রেকার ব্যবহার করে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ পরিষ্কার করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে সুড়ঙ্গ ড্রিলিং ও হোলিংয়ের কাজ। সুড়ঙ্গের বিভিন্ন অংশে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা বাকিদের সন্ধান চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দলের কাছে আরও কয়েকজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে থাকার তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন নিউপানে। ফলে প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

    সুড়ঙ্গের ভিতরে বড় পাথর সরাতেই সাফল্য

    উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে একটি বড় পাথরও দেখতে পান। সেটি সরাতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করা হয়, যাতে আরও ভিতরে পৌঁছে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করা যায়। এদিকে, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থাগুলির সংগঠন ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১১টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত প্রায় ৯৪৫ জনের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। দুই কর্মীকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনায় তাই নতুন করে আশার আলো দেখছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের ভিতরে আরও কেউ আটকে থাকলে তাঁদেরও দ্রুত জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে—এখন সেই লক্ষ্যেই জোরকদমে চলছে অভিযান।

    এভাবেও ফিরে আসা যায়!

    ভূগোলের দৃষ্টিতে এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে টানেলের ভিতরে তৈরি হওয়া বদ্ধ বায়ুস্তর বা ‘এয়ার পকেট’। বাইরে থেকে বিপুল পরিমাণ জল, কাদা ও পলি ঢুকে টানেলের একাধিক অংশ বন্ধ করে দিলেও সব জায়গা যে একইভাবে জলে পূর্ণ হয়ে যাবে, এমন নয়। কোনও অংশ তুলনামূলকভাবে শুকনো থাকলে সেখানে আটকে থাকা মানুষের জন্য সীমিত পরিমাণে শ্বাস নেওয়ার বাতাসের জায়গা তৈরি হতে পারে। ভূ-প্রাকৃতিক দিক থেকেও ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হিমালয়ের নদীখাত অত্যন্ত খাড়া হওয়ায় আকস্মিক বন্যার সময় জলের সঙ্গে পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের প্রবাহের গতি এবং ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেশি হয়। ফলে টানেলের মুখের সামনে ৪০ মিটার দীর্ঘ ও প্রায় ২০ মিটার উচ্চতার ধ্বংসস্তূপ জমে যাওয়ায় উদ্ধারকারীদের প্রথম কাজ হয়ে দাঁড়ায় প্রবেশপথ তৈরি করা। রিপোর্ট অনুযায়ী, উদ্ধারকারী দল ইতিমধ্যেই টানেলের ভিতরে ঢুকেছিল এবং আরও গভীরে পৌঁছনোর জন্য বোল্ডার সরানোর প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল। অবশেষে মিলল সাফল্য।

    উদ্ধার অভিযানে পাশে ভারত

    নেপালের চিলিমে ও লাংটাং এলাকার জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির সুড়ঙ্গে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালাল ভারতের উদ্ধারকারী দল। নেপালি সেনাবাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করছে তারা। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “চিলিম জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুরঙ্গে অবস্থান নেওয়ার পর ভারতীয় সুরঙ্গ উদ্ধারকারী দলকে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। অত্যন্ত সংকীর্ণ ও অপ্রশস্ত স্থান, দুর্গম ভৌগোলিক গঠনের কারণে বিশেষ সরঞ্জামের ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং সুরঙ্গের ভেতরের কর্দমাক্ত মেঝের কারণে অনুসন্ধান প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উদ্ভাবনী কৌশল এবং তৈরি করা বিশেষ ভেলায় ভর দিয়ে দলটি সুরঙ্গের আরও গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। ভেতরে কেউ আটকে থাকলে তাকে উদ্ধারে দলটির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

LinkedIn
Share