Tag: Bangla khabor

Bangla khabor

  • Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    Balochistan: চতুর্মুখী সঙ্কটে পাকিস্তান, সন্ত্রাসবাদ-গণবিক্ষোভ আর সীমান্ত সংঘাতে জেরবার ইসলামাবাদ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অভূতপূর্ব এক অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক সঙ্কটের সম্মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে পাকিস্তান। দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক মানচিত্রের অন্তত চারটি ভিন্ন প্রান্তে জ্বলছে ক্ষোভের আগুন। একদিকে যেমন বেড়েছে সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির রক্তক্ষয়ী তৎপরতা, তেমনই অন্যদিকে ধেয়ে আসছে সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের তীব্র গণবিক্ষোভের ঢেউ। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে তৈরি হওয়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে দেশের নিরাপত্তা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামরিক শক্তির চরম পরীক্ষা নিচ্ছে এই চতুর্মুখী সঙ্কট।

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স (Balochistan)

    গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে পাকিস্তানে হিংসা ও জঙ্গি হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই বছর দেশটিতে জঙ্গি হামলায় মৃত্যু হয়েছে ১,১৩৯ জনের, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ। ২০২৬ সালের জুন মাসে হামলার সংখ্যা সামান্য কমলেও, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, কেবল জুন মাসেই ১১৮টি বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১১২ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৪৮ জন জখম হয়েছেন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সন্ত্রাসবাদের কোনও যৌক্তিকতা না থাকলেও, আজকের এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলির উত্থান আসলে পাকিস্তানের গত কয়েক দশকের নিজস্ব ভুল নীতিরই ফসল। আঞ্চলিক স্বার্থে কিছু সশস্ত্র গোষ্ঠীকে মদত দেওয়ার যে কৌশল ইসলামাবাদ নিয়েছিল, তা এখন ব্যুমেরাং হয়ে দেশের অভ্যন্তরেই বড়সড় নিরাপত্তা সঙ্কট তৈরি করেছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে পাক নাগরিকদের মধ্যেও।

    বালুচিস্তানে দ্বিমুখী যুদ্ধ

    পাকিস্তানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুচিস্তান। এই বিস্তীর্ণ প্রদেশটি দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসলামাবাদ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদকে চরমভাবে শোষণ করছে, অথচ স্থানীয় মানুষদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। গুম এবং রাজনৈতিক অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখানে আরও উসকে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদের আগুনকে। বর্তমানে সেখানে একদিকে চলছে স্বাধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন, অন্যদিকে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি। গত জুলাই মাসে বালুচিস্তানের জিয়ারত জেলার মাঙ্গি বাঁধের কাছে একটি পুলিশ পোস্টে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-র জঙ্গিরা হামলা চালায়। রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই হামলায় দু’জন স্টেশন হাউস অফিসার-সহ ন’জন পুলিশ কর্মী নিহত হন। পরে আরও ১৮ জনকে অপহরণ করে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর ঠিক দু’দিন পরে, বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)-র যোদ্ধারা লাসবেলা জেলায় পাক সেনাবাহিনীর একটি কনভয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল বেশ কয়েকজন সেনা কর্মীর। কোয়েটার কাছে অন্য একটি হামলায় চারজন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পাকিস্তানের প্রায় ৪০ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান।

    ইসলামাবাদের মাথাব্যথা

    ইসলামাবাদের বড় চিন্তার বিষয় হল, বালুচিস্তানে তাদের একই সঙ্গে দু’টি ভিন্ন আদর্শের শত্রুর বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। বিএলএ লড়ছে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবিতে, যার মূল ভিত্তি বালুচ জাতীয়তাবাদ। আর, টিটিপির লক্ষ্য হল পুরো পাকিস্তানে তাদের নিজস্ব চরমপন্থী ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই বছর বিএলএর রণকৌশলে বড় বদল দেখা গিয়েছে। তারা দেশের ১০টিরও বেশি শহরে হামলা চালিয়ে পুলিশ স্টেশন, রেললাইন, ব্যাঙ্ক ও সরকারি ভবন ধ্বংস করেছে।

    খাইবার পাখতুনখোয়ায় ড্রোনের ব্যবহার

    একদিকে যখন বালুচিস্তান জ্বলছে, তখন খাইবার পাখতুনখোয়া বা কেপি প্রদেশেও অব্যাহত টিটিপির হামলা। উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান, বান্নু, বাজাউর, খাইবার এবং ডেরা ইসমাইল খানের মতো উপজাতীয় অঞ্চলে নিত্যদিন চলছে বোমা বিস্ফোরণ, অতর্কিত হামলা এবং টার্গেট কিলিং। সম্প্রতি আপার দির এবং বান্নুতে পৃথক হামলায় তিন পুলিশ কর্মী নিহত এবং প্রায় ২০ জন জখম হয়েছেন। কৌশল বদলে টিটিপি এখন পুলিশ স্টেশন এবং নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার জন্য বাণিজ্যিক ড্রোনের ব্যবহার শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান আর প্রথাগত জঙ্গি দমনের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই। এখন ড্রোন হামলা, সীমান্ত পারের জঙ্গি চলাচল, গোয়েন্দা যুদ্ধ এবং অনলাইন প্রোপাগান্ডার এক জটিল মিশ্রণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাদের। ২০২২ সালের শেষের দিকে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, বারবার সামরিক অভিযান চালিয়েও, টিটিপির নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে পারেনি পাকিস্তান। পরন্তু বালুচিস্তানে টিটিপির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি প্রমাণ করছে যে, কেপি এবং বালুচিস্তানের সংঘাতগুলি এখন একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে।

    পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে তীব্র গণবিক্ষোভ

    উপজাতীয় এবং সীমান্ত অঞ্চলগুলিতে যখন সশস্ত্র লড়াই চলছে, তখন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জম্মু-কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) নেতৃত্বে সেখানে মূল্যস্ফীতি, বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া বিল, আটার দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের দাবিতে বিশাল বিক্ষোভ চলছে। বিশেষ করে, পাকিস্তানের অন্য প্রান্তে বসবাসকারী জম্মু ও কাশ্মীরের উদ্বাস্তুদের জন্য প্রাদেশিক পরিষদে সংরক্ষিত ১২টি আসন নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় মানুষ। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই আসনগুলির মাধ্যমে ইসলামাবাদ স্থানীয় রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং স্থানীয়দের কণ্ঠরোধ করে।

    এই আন্দোলনের জবাবে পাক প্রশাসন কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ, গণজমায়েতে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এমনকি জেএএসিকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও আন্দোলন থামানো যায়নি। জুলাই মাসের সংঘর্ষে অন্তত ন’জন নিহত হয়েছেন। রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত পরিকল্পিত বিক্ষোভ মিছিল ঠেকাতে প্রায় ৪,০০০ রেঞ্জার্স, পুলিশ ও ফ্রন্টিয়ার ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। বহু এলাকায় সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

    বন্ধু থেকে শত্রু আফগানিস্তান

    ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান সরকার আনন্দের সঙ্গে তাদের স্বাগত জানিয়েছিল। ইসলামাবাদ আশা করেছিল, কাবুলের নতুন সরকার দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করবে এবং সীমান্ত সুরক্ষিত রাখবে। কিন্তু ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছে পাকিস্তানের সেই আশা চুরমার হয়ে গিয়েছে। পাকিস্তান এখন সরাসরি অভিযোগ করছে, আফগান তালেবান তাদের মাটিতে টিটিপির শীর্ষ নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং সেখান থেকে পাকিস্তানে হামলা চালানো হচ্ছে। যদিও তালেবান অভিযোগ অস্বীকার করে একে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা বলে দাবি করেছে। এই বিরোধ এখন প্রকাশ্য সামরিক সংঘাতের রূপ নিয়েছে। করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ওপর হামলার পর, পাক বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে পাক্তিয়া, পাক্তিকা এবং কুনার প্রদেশে বিমান ও স্থল অভিযান চালায়। ইসলামাবাদ দাবি করে তারা জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে, কিন্তু রাষ্ট্রসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই হামলায় বহু সাধারণ আফগান নাগরিক হতাহত হয়েছেন। এর জবাবে আফগান তালেবানও চলতি বছরের শুরুতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি সামরিক টার্গেটে ড্রোন ও বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে। ফলস্বরূপ, ডুরান্ড লাইন এখন আর কেবল আন্তর্জাতিক সীমান্ত নয়, বরং একটি সক্রিয় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

    সঙ্কট কি দেশের ভাঙন ডেকে আনবে?

    এই চারটি সঙ্কট একই সময়ে ঘটায় আপাতদৃষ্টিতে সম্পর্কযুক্ত মনে হলেও, এদের লক্ষ্য ও পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। বিএলএ চায় স্বাধীনতা, টিটিপি চায় শরিয়া শাসন, জেএএসি চায় অর্থনৈতিক স্বস্তি ও রাজনৈতিক অধিকার, আর আফগান তালেবান ব্যস্ত তাদের নিজস্ব শাসন কায়েম করতে। তবে এই গোষ্ঠীগুলির লক্ষ্য যা-ই হোক না কেন, এরা প্রত্যেকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ও সামরিক কাঠামোর দুর্বলতাকে বেআব্রু করে দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফও সম্প্রতি সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন, দেশের দু’টি প্রদেশে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় এবং দেশের পরিস্থিতি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে। প্রাক্তন আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ সম্প্রতি পাকিস্তানে নতুন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরার পর, দেশটির ভেঙে যাওয়ার তত্ত্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের সীমানা বদলে যাওয়ার মতো কোনও জোরালো প্রমাণ নেই। কারণ প্রতিটি আন্দোলনের নেতৃত্ব এবং দাবি আলাদা। তা সত্ত্বেও, এটি মানতেই হবে যে পাকিস্তান তার ইতিহাসের অন্যতম কঠিন অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এই বহুমুখী চাপ সামলাতে গিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সামরিক শক্তি কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।

     

  • West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    West Bengal: পশ্চিমবঙ্গের জন্য কেন্দ্রের মেগা উন্নয়ন প্যাকেজ, পরিকাঠামো-কৃষি-গ্রামীণ উন্নয়নে বিপুল বরাদ্দ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সার্বিক উন্নয়নে এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল কেন্দ্র। সড়ক, রেল, কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, আবাসন এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে রাজ্যের (Rural Package) অর্থনৈতিক চেহারা বদলে দেওয়ার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি পর্যালোচনা বৈঠকের পর এই ঘোষণা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে একটি যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “উন্নত ভারত এবং আত্মনির্ভর ভারতের স্বপ্নপূরণে পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। রাজ্যের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে, সমস্ত বাধা দূর করতে এবং প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” তিনি আরও জানান, পরিকাঠামোর উন্নতি, কৃষির আধুনিকীকরণ এবং গ্রামীণ জীবিকার বিকাশ ঘটলে তা কেবল পশ্চিমবঙ্গেরই কল্যাণ করবে না, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতেও বড় অবদান রাখবে।

    বিশেষ নজরদারি দল (West Bengal)

    এই বিরাট পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান দিক হল রাজ্যের ১৯টি বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের পর্যালোচনা। সড়ক, রেল, মেট্রো রেল, পেট্রোলিয়াম, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা এবং শ্রম দফতরের অধীনে থাকা এই প্রকল্পগুলির মোট আর্থিক মূল্য ৮২ হাজার কোটি টাকারও বেশি।চৌহান জানান, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং লজিস্টিক ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসতে পারে। তবে জমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন, বনবিভাগের ছাড়পত্র, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং বিভিন্ন দফতরের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে অনেক প্রকল্পের কাজ থমকে রয়েছে। এই জট কাটাতে কেন্দ্র ও রাজ্য সময়সীমা বেঁধে কাজ করতে রাজি হয়েছে। পরিকাঠামো প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে একটি রাজ্য-স্তরের প্রকল্প পর্যবেক্ষণ গোষ্ঠী বা ‘পিএমজি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রগতি’ প্ল্যাটফর্মের ধাঁচেই এটি কাজ করবে, যা নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করবে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে সাহায্য করবে।

    কর্মসংস্থান বৃদ্ধি

    গ্রামীণ পশ্চিমবঙ্গের চেহারা বদলে দিতে কেন্দ্র ৮,৫০৮ কোটি টাকার একটি বড় আর্থিক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। রাজ্যের সমপরিমাণ অংশীদারিত্ব মিলিয়ে আগামী ৩১শে মার্চের মধ্যে পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য মোট উপলব্ধ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২,০৬৪ কোটি টাকারও বেশি। এই অর্থ গ্রামীণ পরিকাঠামো, কর্মসংস্থান তৈরি এবং স্থানীয় শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করতে খরচ হবে। গত ১লা জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া কেন্দ্রের নতুন ‘ভিবিজিরাম’ কাঠামোর অধীনে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের দিন সংখ্যা বর্তমানের ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় কেবল স্বল্পমেয়াদী কাজ নয়, বরং গ্রামীণ রাস্তা, পুকুর, সেচ নালা, স্কুল ভবন ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মতো দীর্ঘস্থায়ী সম্পদ তৈরি করা হবে (West Bengal)।

    আবাসন ও নারীর ক্ষমতায়ন

    প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ (পিএমএওয়াইজি) প্রকল্পের অধীনে পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক দফতরে ১ লাখ গ্রামীণ পাকা বাড়ির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে ফিল্ড লেভেলের উপভোক্তা যাচাইকরণের কাজ ব্যাহত হওয়ায়, এর সময়সীমা আগামী ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে পাকা বাড়ি দেওয়া কেন্দ্রের অন্যতম অগ্রাধিকার বলেও জানান মন্ত্রী। পাশাপাশি, দীনদয়াল অন্ত্যোদয় যোজনার অধীনে রাজ্যের নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য ২৯৫ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা মঞ্জুর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪৫ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ হিসেবে এবং বাকি ৫০ কোটি টাকা কমিউনিটি ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড বা সামাজিক বিনিয়োগ তহবিল হিসেবে দেওয়া হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ বাড়াতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সহায়ক হবে (Rural Package)।

    কৃষির আধুনিকীকরণ

    কৃষি ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ব ভারতের ‘বীজ হাব’ বা বীজ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেছেন (West Bengal) কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। আলু এবং হাইব্রিড ভুট্টার বীজ উৎপাদনের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ইতিমধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। হর্টিকালচার বা উদ্যানপালন ক্ষেত্রের উন্নয়নে মালদা জেলাকে জাতীয় ‘ক্লিন প্ল্যান্ট প্রোগ্রামে’র অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে আম, লিচু ও অন্যান্য ফলের রোগমুক্ত চারা তৈরির জন্য বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই চারা তৈরির জন্য বড় নার্সারিগুলিকে ৩ কোটি টাকা এবং মাঝারি নার্সারিগুলিকে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও ধান, ভুট্টা এবং অর্কিডের বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের জন্য নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর), কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজ্যের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে পশ্চিমবঙ্গের কৃষি-জলবায়ু ও মাটির চরিত্র বুঝে একটি বৈজ্ঞানিক কৃষি রোডম্যাপ তৈরি করছেন।

    ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’

    রাজ্যের ধান গবেষণা কেন্দ্রগুলিকে উন্নত প্রযুক্তির আদানপ্রদানের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স’ বা উৎকর্ষ কেন্দ্রে উন্নীত করা হবে। কৃষকদের ফসলের সুরক্ষা ও ঋণের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। কৃষকরা যাতে মহাজনদের খপ্পরে না পড়ে সহজে ব্যাঙ্ক ঋণ পান, তার জন্য নাবার্ড এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় গ্রামে গ্রামে কিষান ক্রেডিট কার্ড শিবির করা হবে। পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে (Rural Package) পরিণত করতে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নত ভারতের স্বপ্ন সফল করতে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে (West Bengal) সব ধরনের সহযোগিতা করে যাবে বলেও জানান কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী।

     

  • Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: মণীশ গুপ্তকে বাঁচাতেই কি ধামাচাপা? ৩৩ বছর পর বিধানসভায় ২১ জুলাইয়ের বিস্ফোরক রিপোর্ট পেশ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২১ জুলাই (21 July)। ১৯৯৩ সালের এই অভিশপ্ত দিনেই পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন যুব কংগ্রেসের ১৩ জন কর্মী। বাম জমানার সেই (Suvendu Adhikari) নারকীয় হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালে বাংলায় পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেই ওই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিচারপতি সুশান্ত চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তদন্ত কমিশন গঠন করেছিল তৎকালীন তৃণমূল সরকার, যে সরকারের চালিকা শক্তি ছিলেন মমতা স্বয়ং। টানা ১৫ বছর মুখ্যমন্ত্রী পদে ছিলেন মমতা। তার পরেও আলোর মুখ দেখেনি সেই তদন্ত রিপোর্ট। প্রশ্ন হল, কেন দিনের আলো দেখেনি সেই রিপোর্ট? কেনই বা রাখা হয়েছিল ফাইল বন্দি করে? শেষমেশ সোমবার, ৩৩তম ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে সেই রহস্যের কুয়াশা কাটল। সৌজন্যে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকার। নিয়ম মেনে রাজ্য বিধানসভায় ২১ জুলাই কমিশনের সেই বহু প্রতীক্ষিত রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার পরেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। রিপোর্ট তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে এনেছেন, যা তৃণমূল সরকারের ভূমিকাকে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে এক বিরাট প্রশ্নচিহ্নের সামনে।

    মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই চলেছিল গুলি (Suvendu Adhikari)

    বিধানসভায় তদন্ত রিপোর্টটি পড়ে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কোনওরকম উসকানি ছাড়াই আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর অত্যন্ত বিশ্বস্ত স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তের নির্দেশেই সেদিন পুলিশ গুলি চালিয়েছিল। যদিও মণীশ গুপ্তকে ওপর থেকে কে এই নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা কমিশন জানতে পারেনি। রিপোর্টের সূত্র ধরে শুভেন্দু আরও জানান, মেয়ো রোড, রেড রোড এবং ডোরিনা ক্রসিং— যেখানে যেখানে পুলিশের বন্দুক থেকে গুলি ছুটেছিল, তা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ছিল। কারণ, সেই জায়গাগুলি রাইটার্স বিল্ডিং বা মহাকরণ থেকে অনেকটাই দূরে। বিক্ষোভকারীরা মহাকরণ ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে, প্রশাসনের এই আশঙ্কা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। অথচ, পুলিশের গুলিতে যুবকদের যে মৃত্যু হয়েছিল, তার কোনও যথার্থতা বা আইনি বৈধতা কমিশন খুঁজে পায়নি। এমনকি মহাকরণ থেকেও এই সংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি রহস্যজনকভাবে গায়েব করে দেওয়া হয়েছে, যার কোনও সদুত্তর মেলেনি।

    প্রধান সাক্ষী মমতাকেই ডাকেনি কমিশন!

    এই রিপোর্টের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এবং চাঞ্চল্যকর বিষয় হল সাক্ষীদের তালিকা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, বিমান বসু, প্রদীপ ভট্টাচার্য, সৌগত রায়, মদন মিত্র এবং তৎকালীন পুলিশ কর্তা-সহ মোট ৪৪ জনকে তলব করেছিল কমিশন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, যে মমতার নেতৃত্বে সেদিন মহাকরণ অভিযান হয়েছিল এবং যিনি নিজেকে এই ঘটনার প্রধান সাক্ষী বলে দাবি করেন, তাঁকেই শুনানির জন্য ডাকেনি কমিশন! এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, “হয়তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বলে দিয়েছিলেন তাঁকে যেন না ডাকা হয়। আসলে আইন অনুযায়ী এই তদন্ত হয়েছিল বলে কমিশনই মনে করে না।” এর পাশাপাশি প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন মুখ্যমন্ত্রী। পঙ্কজবাবু এই কমিশনে সাক্ষ্য দিতে সরাসরি অস্বীকার করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, যাঁর নির্দেশে যুবকদের বুকে গুলি চলেছিল, সেই মণীশ গুপ্তকে মমতা নিজের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছেন এবং বিদ্যুৎমন্ত্রী করেছেন। তাই এই কমিশনের সামনে সাক্ষ্য দেওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং প্রহসন মাত্র (Suvendu Adhikari)।

    ক্ষমতার লোভ ও বিপুল সম্পত্তি

    বিধানসভায় দাঁড়িয়ে পূর্বতন সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “২১ জুলাইকে ব্যবহার করে অনেকে অনেক কিছু (21 July) করে নিয়েছেন। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতা পাওয়া তো বটেই, চার্টার্ড ফ্লাইটে ঘুরে বেড়ানো এবং হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে বিপুল সম্পত্তির মালিক হওয়া— সবই হয়েছে এই দিনটিকে পুঁজি করেই। কিন্তু ২১ জুলাইয়ের আসল সত্যিটা কী ছিল, তা পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষ আজও জানতে পারেনি।” শুভেন্দুর স্পষ্ট অভিযোগ, তৃণমূল সরকার প্রতি বছর ২১ জুলাই শহিদ দিবস পালনের নামে বিশাল তোড়জোড় এবং আবেগের বিস্ফোরণ ঘটালেও, আদতে শহিদদের পরিবারকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেওয়ার কোনও মানসিকতাই তাদের ছিল না। নিজের মন্ত্রিসভার সদস্য মণীশ গুপ্ত ফেঁসে যেতে পারেন, এই ভয়েই দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই তদন্ত রিপোর্ট ধামাচাপা দিয়ে ফাইল বন্দি করে রেখে দিয়েছিলেন। শহিদদের আবেগকে স্রেফ ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়েছে।

    তৃণমূলের ত্রিমুখী ভাঙন

    রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই রিপোর্ট প্রকাশের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ। ক’দিন আগেই লোকসভায় তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম প্রধান মুখ তথা এনসিপিআই নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তিনি দাবি করেছিলেন, মণীশ গুপ্তকে আড়াল করতেই ২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাই প্রকৃত বিচার চেয়ে তিনি রিপোর্টটি জনসমক্ষে আনার অনুরোধ জানান। কাকলির সেই পত্র পাওয়ার পরের দিনই মুখ্যমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিলেন। এর ফলে মঙ্গলবার, একুশে জুলাইয়ের দিন বাংলায় নজিরবিহীন দৃশ্য দেখা যেতে চলেছে বলেই অভিমত ওয়াকিবহাল মহলের। এবার আর এক ছাতার তলায় নয়, তৃণমূলের তিনটি আলাদা গোষ্ঠী পৃথকভাবে এই দিনটি পালন করবে। কালীঘাট শিবিরের কর্মসূচি পালিত হবে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর কর্মসূচি পালিত হবে ধর্মতলায়, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে এবং দিল্লির রাজঘাটে শ্রদ্ধা জানাবেন লোকসভার বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা, যাঁরা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন এনসিপিআই পার্টিতে (Suvendu Adhikari)।

    এর ঠিক আগের দিন সোমবার বিকেলে তথ্যপ্রমাণ সহ এই রিপোর্ট আমজনতার দরবারে পেশ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। তিনি বলেছিলেন, “যাঁরা ১৫ বছর সরকারে ছিলেন, তাঁরা এই সুপারিশ কতটা কার্যকর করেছেন আর কতটা ধামাচাপা দিয়েছেন, তা এবার বাংলার মানুষ নিজের চোখে দেখবেন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই রিপোর্ট (21 July) প্রকাশের পর রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ যে আরও খানিক উত্তপ্ত হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য (Suvendu Adhikari)।

     

  • PM Modi: ‘৫৬ বছরের যুবক নন, ২৮-এর তরুণরাই মহাকাশ জয় করছে’, রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ মোদির

    PM Modi: ‘৫৬ বছরের যুবক নন, ২৮-এর তরুণরাই মহাকাশ জয় করছে’, রাহুলকে তীব্র কটাক্ষ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হায়দরাবাদের মহাকাশ গবেষণা স্টার্টআপ স্কাইরুট অ্যারোস্পেসের রকেট উৎক্ষেপণের সাফল্য উদযাপন করতে গিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। সোমবার সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগে প্রথাগত ভাষণে তিনি বলেন, “এই অভাবনীয় সাফল্য এনেছে একদল তরুণ উদ্ভাবক, যাঁদের গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর, কোনও ৫৬ বছরের যুবক নন।”

    স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রশংসা (PM Modi)

    দেশের স্টার্টআপ সংস্কৃতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী স্কাইরুটের (Skyroot Launch) সাম্প্রতিক মাইলফলককে ভারতের যুবসমাজের জন্য এক গর্বের মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে বাদল অধিবেশন যাতে ফলপ্রসূ হয়, সেজন্য বিরোধীদের কাছেও আহ্বান জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের যুবসমাজ মহাকাশে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। আমাকে বলা হয়েছে যে, স্কাইরুট স্টার্টআপে কর্মরত পুরো দলটির গড় বয়স মাত্র ২৮ বছর। এই ধরনের তরুণরাই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে। আমি কোনও ৫৬ বছরের যুবকের কথা বলছি না।”

    প্রধানমন্ত্রীর নিশানায় রাহুল

    প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যে সরাসরি রাহুল গান্ধীর নাম নেওয়া না হলেও, লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে লক্ষ্য করেই যে এই কটাক্ষ বাণ হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট। কারণ রাহুল গান্ধীর বয়স ৫৬ বছর। এই সাফল্যের পরিধি ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “বিশ্বের খুব কম দেশেই এই ধরনের বেসরকারি উদ্যোগ দেখা গিয়েছে। ভারতের যুবসমাজ মহাকাশে এক নতুন যাত্রা শুরু করেছে। এটি একটি বিরাট সাফল্য। বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভাবমূর্তি সর্বজনীন স্বীকৃতি ও গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়, এটি একটি শক্তিশালী বার্তা যে আমাদের দেশের যুবসমাজের সম্ভাবনা এবং আকাঙ্ক্ষা মহাকাশের মতোই সীমাহীন।” প্রধানমন্ত্রী জানান, গত এক মাস ধরে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে দেশ এমন একাধিক মাইলফলক পেরিয়ে এসেছে, তা দেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে।

    রিফর্ম এক্সপ্রেস

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) বলেন, “মাত্র এক মাসের মধ্যে দেশ অসংখ্য মাইলফলক পেরিয়ে এসেছে, এমন এক ধারাবাহিক সাফল্য যা প্রত্যেক নাগরিককে গর্বে ভরিয়ে দেয়। জাতীয় মঞ্চ হোক বা আন্তর্জাতিক অঙ্গন, কিংবা এখন মহাকাশ, এগুলি সত্যিই ভারতের জন্য গর্বের মুহূর্ত (Skyroot Launch)।” তিনি এও বলেন, “বিশ্বের খুব কম দেশের কাছেই এই সুবিধা রয়েছে। এই অর্জন ভারতের বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ, উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং শ্রমিকদের উৎসর্গের প্রমাণ, যাঁরা সবাই দেশের জন্য এক যৌথ লক্ষ্যে কাজ করছেন।” এই অর্জনগুলিকে সরকারের সংস্কার ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের তরুণ উদ্ভাবকরা ধারাবাহিক নীতিগত সংস্কারের মাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি অনুকূল পরিবেশের সুফল পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “দেশ রিফর্ম এক্সপ্রেসে চড়ার ফলেই ভারতের যুবসমাজ এই ধরনের দারুণ সাহস দেখাতে পারছে এবং সাফল্য অর্জন করছে।”

    অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স

    সাম্প্রতিক পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত মাইলফলকগুলির তালিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) জানান, সম্প্রতি রাজস্থানে একটি বিশাল তেল শোধনাগার জাতির উদ্দেশে উৎসর্গ করা হয়েছে। উদ্বোধন করা হয়েছে দেশের তৃতীয় সেমিকন্ডাক্টর প্ল্যান্টেরও। তিনি আরও জানান, ভারত বিশ্বের অন্যতম উন্নত গ্রিন হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন চালু করেছে, যার ইঞ্জিন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি এই ধরনের ট্রেনের মধ্যে দীর্ঘতম। অর্থনৈতিক পারফরম্যান্স ভারতের স্থিতিস্থাপকতা এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করে (Skyroot Launch)। দেশের সব ক’টি ক্ষেত্রে যখন এক গতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই শুরু (PM Modi) হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন।

     

  • Hindus Under Attack: ধর্মান্তর, মন্দির, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জেরে সরগরম দেশ, বিপন্ন হিন্দুরা!

    Hindus Under Attack: ধর্মান্তর, মন্দির, নিরাপত্তা ও সাম্প্রদায়িক বিতর্কের জেরে সরগরম দেশ, বিপন্ন হিন্দুরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ও হিন্দু ধর্মের ওপর আক্রমণ অব্যাহত দেশের পাশাপাশি বিদেশেও। বিশ্বের বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন ধীরে ধীরে এক ধরনের গণহত্যার রূপ নিচ্ছে (Hindus Under Attack)। কয়েক দশক ধরে বিশ্ব এই আক্রমণের প্রকৃত গভীরতা ও ব্যাপ্তি উপেক্ষা করে আসছে, যা খুবই উদ্বেগজনক (Roundup Week)। হত্যা, জোরপূর্বক ধর্মান্তর, জমি দখল, উৎসবে হামলা, মন্দির ও মূর্তি ভাঙচুর, ঘৃণা ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য পর্যন্ত, সর্বত্র হিন্দুরা তাঁদের অস্তিত্বের ওপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণ এবং নজিরবিহীন হিন্দু-বিদ্বেষের সম্মুখীন হচ্ছেন।

    ঘটনার ঘনঘটা (Hindus Under Attack)

    দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অপরাধ, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, মন্দিরে চুরি এবং হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে (Roundup Week)। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ধর্মান্তর, মন্দির, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা, নিরাপত্তা এবং মতপ্রকাশকে ঘিরে একের পর এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। কর্নাটক, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, তামিলনাড়ু এবং মহারাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে কঠোর পদক্ষেপের। ১২ থেকে ১৮ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত  সপ্তাহে বিভিন্ন ঘটনার ছবিটা একবার দেখে নেওয়া যাক।

    জিম জিহাদ নিয়ে নয়া বিতর্ক

    কর্নাটকে তথাকথিত “লাভ জিহাদ” ও ধর্মান্তর সংক্রান্ত বিতর্কের পর এবার “জিম জিহাদ” নিয়ে নয়া বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাধিক হিন্দু সংগঠনের অভিযোগ, ইসমাইল নামে এক মুসলমান জিম প্রশিক্ষক ফিটনেস প্রশিক্ষণের আড়ালে হিন্দু মহিলাদের টার্গেট করতেন। এই বিষয়ে তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কর্নাটকেরই চিক্কাবল্লাপুর জেলায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি গুরুতর ঘটনা সামনে এসেছে। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক ফারাহ নাজ এবং তাঁর ছেলে মহম্মদ ফারদিন নিজেদের পাকিস্তানি পরিচয় গোপন রেখে ভুয়ো তথ্যের মাধ্যমে ভারতীয় ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ একাধিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করেছে। এই ঘটনাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পক্ষে উদ্বেগজনক বলে দাবি করা হয়েছে (Hindus Under Attack)।

    মূর্তি ভাঙচুরের জেরে উত্তেজনা

    কর্নাটক হাইকোর্ট আফিফা ফাতিমা নামে এক পুষ্টিবিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি ফৌজদারি মামলাও খারিজ করে দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দু সমাজ এবং ভারতের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছিল। বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক রিপোর্ট বাতিল করে দেন (Hindus Under Attack)। কর্নাটকের ধারওয়াড় জেলার আম্বলিকোপ্পা গ্রামে ভগবান বীরালিঙ্গেশ্বরের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু ভাঙচুরের ঘটনা নয়, তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ওপর সরাসরি আঘাত।

    মাংস বিক্রেতাকে গ্রেফতার

    উত্তরাখণ্ডের টেহরি গাড়োয়াল জেলার জাখনিধার বাজারের বছর পঁয়ত্রিশের এক মাংস বিক্রেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে শ্লীলতাহানির অভিযোগে। এক হিন্দু নাবালিকাকে নিজের দোকানের ভেতরে নিয়ে গিয়ে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইনের অধীনে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে। এই ঘটনায় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উত্তেজনার। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন থানায় বিক্ষোভ দেখিয়ে অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছে। উত্তরপ্রদেশের বেরেলি জেলার মিরগঞ্জ এলাকায় বছর একান্নর এক খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারককে ধর্মান্তরের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি প্রলোভন দেখিয়ে হিন্দুদের ধর্মান্তরের চেষ্টা করছিলেন। হিন্দু দেবদেবীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্যও করেছিলেন তিনি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হলে পাঠানো হয় বিচারবিভাগীয় হেফাজতে।

    মহা দীপম প্রজ্বলন

    তামিলনাড়ুতে মাদ্রাজ হাই কোর্টের নির্দেশে তিরুপ্পরাঙ্কুন্দ্রম পাহাড়ে ঐতিহ্যবাহী মহা দীপম প্রজ্বলনের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রগতিশীল লেখক ও শিল্পী সংঘের আপত্তির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে হিন্দু মুন্নানি। সংগঠনের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুরুগন ভক্তদের দীর্ঘদিনের ইচ্ছার প্রতিফলনই এই মহা দীপম প্রজ্বলন (Roundup Week)। তামিল চলচ্চিত্র জগতেও ভগবান মুরুগনকে কেন্দ্র করে মতাদর্শগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে জুনিয়র এনটিআরকে নিয়ে ভগবান মুরুগনের জীবনভিত্তিক একটি মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে। অন্যদিকে পরিচালক ভেট্রি মারানের নতুন ছবিতে ভগবান মুরুগনের দেবত্বকে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে রয়েছেন অভিনেতা ধনুষ। সমালোচকদের দাবি, ভেট্রি মারান ইভি রামাস্বামীর মতাদর্শের সমর্থক (Roundup Week)।

    মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ

    তামিলনাড়ুর পুদুক্কোট্টাই জেলায় লিঙ্গামালাই পাহাড়ের প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো শিবমন্দির ও তার সংলগ্ন জমি দখলের অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে হিন্দু মুন্নানি। সংগঠনের অভিযোগ, ওই পাহাড়ের নাম পরিবর্তন করে “সাভেরিয়ার মালাই” করারও চেষ্টা চলছে (Hindus Under Attack)। মহারাষ্ট্রের আহিল্যানগরে হিন্দুত্ববাদী কর্মী তথা রাষ্ট্রীয় শ্রীরাম সেবা সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সাগর বেগের প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। গত ডিসেম্বরে জার্মান বেকারি বিস্ফোরণ মামলার সহ-অভিযুক্ত বান্টি জাহাগিরদারের হত্যার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ (Hindus Under Attack)।

    পাক পদক্ষেপের জেরে বিতর্ক

    এদিকে পাকিস্তানের প্রাক-ইসলামিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত নিবন্ধ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক বলে তুলে ধরা হলেও, ভারতের ঐতিহাসিক স্থান ও শহরের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগকে ভিন্ন মানদণ্ডে বিচার করা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই সব ঘটনার অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়া চলছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বিষয়গুলির আইনানুগ নিষ্পত্তি হবে (Roundup Week)।

     

  • Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    Pakistan: সালিশি প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি ভারত, পাকিস্তানের ঘাড়ে দ্বিগুণ খরচের বোঝা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সঙ্গে সিন্ধু জলচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের (Pakistan) জন্য ক্রমেই ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। কারণ, ভারত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে অস্বীকার করায় শুধু নিজের নয়, ভারতের ভাগের (Indus Waters Treaty) খরচও বহন করতে হচ্ছে ইসলামাবাদকেই। একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলা চালাতে ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি ব্যয় করে ফেলেছে পাকিস্তান। শুনানি যত এগোবে, খরচের বহর আরও বাড়বে। যদিও ভারত প্রথম থেকেই এই সালিশি ট্রাইব্যুনালের এক্তিয়ার মেনে নেয়নি, অংশও নেয়নি কোনও শুনানিতেই।

    বিতর্কের সূত্রপাত (Pakistan)

    বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পকে ঘিরে। এর পাশাপাশি ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিরোধ আরও তীব্র হয়। সিন্ধু জলচুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির বিধান অনুযায়ী, সালিশি প্রক্রিয়ার ব্যয় সমানভাবে বহন করার কথা ভারত ও পাকিস্তানের। কিন্তু ভারত সহযোগিতা বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও পাকিস্তান একাই মামলা চালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নেয়। ফলে সালিশি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ইসলামাবাদকে মেটাতে হচ্ছে দুই দেশেরই ব্যয়ের অংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের এই ধরনের মামলায় সাধারণত প্রতিটি দেশের গড় ব্যয় প্রায় তিন লাখ মার্কিন ডলার। ভারত কোনও অর্থ না দেওয়ায় পাকিস্তানের মোট ব্যয় ইতিমধ্যেই ছ’লাখ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে এবং শুনানি চলতে থাকলে খরচের অঙ্ক আরও বাড়বে।

    পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতের সাফ কথা

    বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে কিষানগঙ্গা ও রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশা। পাকিস্তানের অভিযোগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলিতে নির্মীয়মাণ এই প্রকল্পগুলি সিন্ধু জলচুক্তির বিভিন্ন শর্ত লঙ্ঘন করছে। সেই কারণেই তারা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হয় (Pakistan)। এদিকে, ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রযুক্তিগত বিরোধের নিষ্পত্তি নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে হওয়া উচিত, সালিশি আদালতের মাধ্যমে নয়। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এবং সালিশি আদালতে একযোগে একই বিষয়ের শুনানি হওয়া চুক্তির বিরোধ নিষ্পত্তির কাঠামোর পরিপন্থী বলেও ভারতের বক্তব্য। নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া চলাকালীন ২০২৩ সাল থেকেই পাকিস্তানের উদ্যোগে শুরু হওয়া সালিশি প্রক্রিয়া বয়কট করে আসছিল ভারত। পরে পহেলগাঁও হামলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রাখার কথা ঘোষণা করে এবং সালিশি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমস্ত সহযোগিতা করাও বন্ধ করে দেয়। ভারত সরকারের অবস্থান, পাকিস্তান যত দিন না বিশ্বাসযোগ্য ও অপরিবর্তনীয়ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া বন্ধ করছে, তত দিন পর্যন্ত এই চুক্তি স্থগিতই থাকবে। একই সঙ্গে ভারত এই সালিশি ট্রাইব্যুনালকে “অবৈধভাবে গঠিত” বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, এর যে কোনও সিদ্ধান্তই “অকার্যকর ও বাতিল” (Indus Waters Treaty)।

    আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি

    ভারত অংশ না নিলেও আন্তর্জাতিক সালিশি বিধি অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যদি মনে করে যে তাদের এক্তিয়ার রয়েছে, তবে শুনানি চালিয়ে যেতে পারে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ট্রাইব্যুনাল জানায়, পাকিস্তানের মামলার শুনানি করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে এবং সিন্ধু জলচুক্তিতে একতরফাভাবে চুক্তি স্থগিত রাখার কোনও সুযোগ নেই। এর পর থেকে অন্তত আটটি শুনানি হয়েছে, যার প্রতিটিই ভারত বয়কট করেছে।২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশিত সিন্ধু জলচুক্তির সাধারণ ব্যাখ্যা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, আদালত গঠনের প্রক্রিয়ায় ভারত অংশ নেয়নি, কোনও বৈঠকেও উপস্থিত ছিল না এবং সালিশি প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ চাওয়া অর্থও জমা দেয়নি (Pakistan)। পরে ২০২৬ সালের ১৫ মে সর্বাধিক জলাধার ধারণক্ষমতা সংক্রান্ত রায়ে ট্রাইব্যুনাল জানায়, চূড়ান্ত রায় ঘোষণার সময়ই মামলার ব্যয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।শুধু সালিশি আদালতই নয়, নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের প্রক্রিয়া থেকেও পরে সরে দাঁড়ায় ভারত। প্রথমদিকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত ভারত ওই প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছিল এবং নিজের ব্যয়ের অংশও বহন করেছিল। কিন্তু পহেলগাঁও হামলার পর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার আবেদন জানায় (Indus Waters Treaty)।

    পাকিস্তানের ঘাড়ে দেনার বোঝা

    এর পর ২০২৫ সালের নভেম্বর এবং ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের বৈঠক-সহ পরবর্তী কার্যক্রম থেকেও ভারত দূরে থাকে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সেক্ষেত্রেও অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হয়েছে। এই বিপুল ব্যয় এমন একটা সময় বাড়ছে, যখন পাকিস্তান এখনও বিদেশি আর্থিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে দেশটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের ৭০০ কোটি মার্কিন ডলারের বর্ধিত ঋণ কর্মসূচির আওতায় রয়েছে। ১৯৫০ সালে সদস্য হওয়ার পর এটি পাকিস্তানের ২৫তম ঋণ কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভান্ডারের পূর্বাভাস, ২০২৬ সালে পাকিস্তানের অর্থনীতি ৩.৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং গড় মূল্যস্ফীতি হতে পারে ৭.২ শতাংশ। পাশাপাশি সংস্থাটির কাছে পাকিস্তানের বকেয়া ঋণের পরিমাণও ৯০০ থেকে ১,০০০ কোটি মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ (Pakistan)। তবে এত সব ব্যয় সত্ত্বেও ভারতের অবস্থানে কোনও পরিবর্তন আসেনি। নয়াদিল্লি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালকে মানে না, এর কোনও রায়কে বৈধ বলে মনে করে না এবং সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের মদত বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতই থাকবে। ফলে দুই দেশই নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায়, সালিশি প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চাইলে আগামী দিনেও (Indus Waters Treaty) সম্পূর্ণ আর্থিক বোঝা পাকিস্তানকেই বহন করতে হতে পারে। যার জেরে আরও গাড্ডায় পড়বে শাহবাজ শরিফের দেশ (Pakistan)।

     

  • Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    Lok Sabha Speaker: লোকসভায় বড় ভাঙন, শিন্ডে শিবিরে যোগ উদ্ধব শিবিরের ছয় শিবসেনা সাংসদের, আলাদা আসন তৃণমূলের ২০ বিদ্রোহীকেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর ঠিক দু’দিন আগে দেশের রাজনীতিতে ঘটল বড় ধরনের পালাবদল। লোকসভার স্পিকার (Lok Sabha Speaker) ওম বিড়লা আনুষ্ঠানিকভাবে শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় লোকসভা সাংসদের একনাথ শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় (Shiv Sena UBT) যোগদানের অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে লোকসভায় শিন্ডে নেতৃত্বাধীন শিবসেনার সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

    শক্তি বাড়ল এনডিএর (Lok Sabha Speaker)

    লোকসভা সচিবালয়ের জারি করা সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে অষ্টাদশ লোকসভায় বিভিন্ন দলের সংশোধিত অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি) থেকে ওই ছয় সাংসদের দলবদলের বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনাকে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিন্যাস হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে লোকসভায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএর শক্তিও আরও বৃদ্ধি পেল। এদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে আসা ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদের জন্যও লোকসভায় পৃথক আসন বিন্যাসের অনুমতি দিয়েছেন স্পিকার। বর্ষীয়ান নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এই গোষ্ঠী ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার আবেদন জানিয়েছে। যদিও ওই দলভুক্তিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। সাংবিধানিক ও আইনি দিকগুলি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৈঠকে আমন্ত্রণ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের 

    অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ইতিমধ্যেই তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সরকারের ডাকা সর্বদলীয় ফ্লোর লিডারদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই আরও কিছু রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত মিলছে। ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। তার আগে এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে এনডিএর সাংসদ সংখ্যা আরও বেড়েছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সমর্থন এবং শিবসেনা (ইউবিটি)-র ছয় সাংসদের শিন্ডে শিবিরে যোগদানের ফলে সরকার গুরুত্বপূর্ণ আইন পাস করানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বলেই শুরু হয়েছে জল্পনা (Lok Sabha Speaker)।

    বিল পাসে আশাবাদী সরকার

    রাজনৈতিক মহলের ধারণা, লোকসভায় সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল এবং মহিলাদের সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানোর ক্ষেত্রে সরকার নতুন করে আশাবাদী। শরদ পওয়ার নেতৃত্বাধীন এনসিপি এবং দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমের সমর্থন মিলতে পারে বলেও জল্পনা রয়েছে। এই ধরনের সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে লোকসভায় মোট সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন। সেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিলটি পাস করানো সম্ভব হয়নি।

    ‘অন্যায়’ আবদার তৃণমূল-উদ্ধব ঠাকরের দলের

    এদিকে, তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস জোট ভেঙে টিভিকে-কে সমর্থন করার পর দ্রাবিড় মুন্নেত্র কাঝগমও লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা আসন বিন্যাসের আবেদন করেছে। যদিও স্পিকার এখনও এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত জানাননি। তবে তা অনুমোদিত হতে পারে বলেই জল্পনা রাজনৈতিক মহলে। শিবসেনা (ইউবিটি) এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুই দলই তাদের বিদ্রোহী সাংসদদের অযোগ্য ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছে। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিদ্রোহী গোষ্ঠীর (Shiv Sena UBT) সদস্যসংখ্যা দলত্যাগ-বিরোধী আইনের বিধান লঙ্ঘন না করায় স্পিকারের পক্ষে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করার সম্ভাবনা খুবই কম (Lok Sabha Speaker)।

     

  • Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    Kylian Mbappe: এমবাপের জোড়া গোলে ইতিহাস, বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে ফরাসি অধিনায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোলের বন্যা বইল। শনিবার অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ল (Kylian Mbappe) থমাস টুখেলের ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে বুকায়ো সাকার হ্যাটট্রিক জয়ের ভিত গড়ে দিলেও, ম্যাচের অন্যতম বড় আকর্ষণ ছিলেন ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে। জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসে পড়লেন (Golden Boot Race)।

    এমবাপে ঝড় (Kylian Mbappe)

    ম্যাচের প্রথমার্ধ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও, বিরতির পর আক্রমণের ঝড় তোলেন এমবাপে। ৪৮তম মিনিটে প্রথম গোল করার পর ৬৬তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই দুই গোলের সুবাদে বিশ্বকাপে তাঁর মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২। এর ফলে তিনি ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে উঠেছেন তিনি। তবে মেসির সামনে এখনও রেকর্ড পুনর্দখলের সুযোগ রয়েছে। রবিবার স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। সেই ম্যাচে গোল করতে পারলে এমবাপেকে টপকে আবারও শীর্ষস্থান ফিরে পেতে পারেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

    সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে

    রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব, বত্রিশ দলের পর্ব, শেষ ষোলো, কোয়ার্টার ফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল—প্রায় প্রতিটি পর্যায়েই গোল করেছেন। শুধু সেমিফাইনালেই এখনও তাঁর গোলের খাতা খোলা হয়নি। তিনটি সেমিফাইনাল খেলেও, তিনি একবারও জালের দেখা পাননি। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর চলতি বিশ্বকাপে সোনার বুটের দৌড়েও শীর্ষে উঠে এসেছেন এমবাপে। তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ১০ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মেসির রয়েছে ৮ গোল ও ৪টি গোলে সহায়তা করা। ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে অন্তত দুটি গোল করার পাশাপাশি একটি গোলে সহায়তা করতে পারলে সোনার বুট জয়ের দৌড়ে এমবাপেকে (Kylian Mbappe) টপকে যেতে পারবেন মেসি।

    সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা

    বর্তমানে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনার বুটের তালিকায় যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা হলেন কিলিয়ান এমবাপে (১০ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), লিওনেল মেসি (৮ গোল, ৪টি গোলে সহায়তা), এরলিং হলান্ড, (৭ গোল, কোনও গোলে সহায়তা নেই), জুড বেলিংহ্যাম, (৭ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), হ্যারি কেন (৬ গোল, ১টি গোলে সহায়তা), এবং উসমান দেম্বেলে, (৬ গোল, ২টি গোলে সহায়তা)। ফলে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে সোনার বুটের লড়াইও জমে উঠেছে। আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ডেও নজর থাকবে ৩৯ বছর বয়সি মেসির। এদিকে, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইতিহাস গড়ে (Golden Boot Race) আপাতত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ও সোনার বুটের দৌড়—দুই ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছেন এমবাপে (Kylian Mbappe)।

     

  • Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    Jharkhand: মাথার দাম ছিল ২৫ লাখ টাকা, ঝাড়খণ্ডে গ্রেফতার কুখ্যাত মাওবাদী নেতা ‘টাইগার’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পূর্ব ভারতে নকশালবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য পেল নিরাপত্তা বাহিনী। তাঁর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ২৫ লাখ টাকা। সেই কুখ্যাত মাওবাদী নেতা (Maoist Leader) অজয় মাহতো ওরফে “টাইগার”কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের (Jharkhand) গিরিডির পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ দল। ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ছত্তিশগড়, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মোস্ট ওয়ান্টেডের তালিকায় ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিষিদ্ধ ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন অজয়। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে অস্ত্রও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে তাঁকে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

    মিলতে পারে মাওবাদীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Jharkhand)

    অভিযানের সাফল্য সম্পর্কে রাজ্য পুলিশের অভিযান শাখার কর্তা নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “এটি রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর যৌথ অভিযানের বড় সাফল্য।” তাঁর দাবি, অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো, অস্ত্র সরবরাহ চক্র, বিস্ফোরক তৈরির নেটওয়ার্ক, তোলাবাজির উৎস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, এই তথ্য ঝাড়খণ্ড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় চলা নকশালবিরোধী অভিযানে গতি আনবে। নরেন্দ্র কুমার সিং বলেন, “আমরা আশা করছি, এই জিজ্ঞাসাবাদ থেকে সক্রিয় সদস্যদের চিহ্নিত করা, সংগঠনের রসদ জোগানের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং ভবিষ্যতের হামলা রুখতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।” অজয় গিরিডি জেলার পিরটাঁড় ব্লকের পান্ডেদিহ গ্রামের বাসিন্দা। তাঁকে নওয়াদিহ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জেলা পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর বিশেষ কোবরা ইউনিট হারলাডি গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখানেই তিনি আত্মগোপন করে ছিলেন। অভিযানের সময় কোনও প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি নিরাপত্তা বাহিনীকে।

    ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা

    তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অজয় বিহার-ঝাড়খণ্ড বিশেষ এলাকা কমিটির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই কমিটি ওই অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা। তিনি শুধু সংগঠনের সদস্যই ছিলেন না, বরং বড় বড় হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অন্যতম মূল কুশীলব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০০-রও বেশি ফৌজদারি মামলা রয়েছে। খুন, খুনের চেষ্টা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা, বিস্ফোরক হামলা, তোলাবাজি, অবৈধ অস্ত্র আইন এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের একাধিক মামলায়ও রয়েছে তাঁর নাম। তদন্তে উঠে এসেছে সারান্ডা, কোলহান, পশ্চিম সিংভূম-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মাওবাদী কার্যকলাপ পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। বিস্ফোরক পুঁতে রাখা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনা, সংগঠনের সদস্যদের পরিচালনা এবং কৌশল নির্ধারণে সক্রিয় ছিলেন (Jharkhand) তিনি। গত ছ’বছরে ঝাড়খণ্ডে একাধিক বড়সড় মাওবাদী হামলায় তাঁর যোগসূত্রের প্রমাণও পেয়েছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। ২০২০ সালে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক গ্রামবাসীকে খুন এবং বন দফতরের কার্যালয়ে বিস্ফোরক হামলার ঘটনায় তাঁর নাম উঠে আসে।

    একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও যুক্ত

    ২০২১ এবং ২০২২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একাধিক হামলা ও বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৩ সালে তুম্বাহাকা এবং মেরালগড়া এলাকায় বিস্ফোরক হামলায় কোবরা ব্যাটালিয়নের একাধিক জওয়ান জখম হন। ওই ঘটনাগুলির নেপথ্যেও তাঁর দলের ভূমিকা ছিল বলে দাবি (Maoist Leader) তদন্তকারীদের। ওই বছরে বিস্ফোরক লুট, টোন্টো এলাকায় সংঘর্ষে ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর আধিকারিক অমিত তিওয়ারি এবং কনস্টেবল গৌতম কুমারের মৃত্যুর ঘটনায়ও তাঁর নাম জড়ায়। হাতিবুরু এলাকায় বিস্ফোরণের ঘটনায়ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ এবং ২০২৫ সালেও অজয়ের দল সক্রিয় ছিল। পুলিশের চর সন্দেহে গ্রামবাসীদের হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ধারাবাহিক বিস্ফোরক হামলা এবং অতর্কিত আক্রমণের একাধিক ঘটনায় তাঁর দলের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ঝাড়খণ্ড জাগুয়ার বাহিনীর একাধিক সদস্য নিহত ও জখম হন।

    বিস্ফোরক তৈরিতে দক্ষ

    ২০২৫ সালের অক্টোবরে সমাথা জঙ্গলে বিস্ফোরণে কোবরা ব্যাটালিয়নের একটি প্রশিক্ষিত কুকুর মারা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে মারাংপোঙ্গা এবং কিনবির জঙ্গলে সংঘর্ষ ও পরবর্তী বিস্ফোরণে কোবরা ইউনিটের একাধিক আধিকারিক এবং জওয়ান জখম হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলাগুলির পরিকল্পনায়ও অজয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, অজয় মাওবাদী সংগঠনের অন্যতম দক্ষ বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ছিলেন (Jharkhand)। বিস্ফোরক তৈরি ও পুঁতে রাখা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ, তোলাবাজির নেটওয়ার্ক পরিচালনা এবং নতুন সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বও তাঁর ওপর ছিল। কৌশলগত পরিকল্পনা এবং বড় হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও পরিচিত ছিলেন তিনি। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, তাঁর গ্রেফতারের ফলে সারান্ডা, কোলহান এবং গিরিডি অঞ্চলে মাওবাদী সংগঠনের কার্যকলাপে বড় ধাক্কা লাগবে। সংগঠনের নেতৃত্ব, পরিকল্পনা এবং পরিচালন ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অন্য সক্রিয় সদস্যদের গ্রেফতার, অস্ত্র সরবরাহের পথ চিহ্নিত করা এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

    জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে অজয়কে

    বর্তমানে মধুবনের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর শিবিরে অজয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের আশা, তাঁর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও একাধিক মাওবাদী সদস্যকে গ্রেফতার করা সম্ভব হবে এবং সক্রিয় নাশকতা চক্রগুলিকেও ভেঙে দেওয়া যাবে। এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হলেও, অভিযান এখানেই শেষ নয়। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে আমরা এলাকায় স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আরও জোরদার অভিযান চালিয়ে যাব (Maoist Leader)।” নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, অজয়ের গ্রেফতারি শুধুমাত্র এক কুখ্যাত মাওবাদী নেতার গ্রেফতারি নয়, বরং বামপন্থী উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে চলা লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য। তদন্ত যত এগোবে, ততই মাওবাদী সংগঠনের বাকি থাকা নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা নিতে (Jharkhand) পারে এই গ্রেফতারি।

     

LinkedIn
Share