মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।
সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)
ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত
রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”
জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা
জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।
সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি
রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

Leave a Reply