Tag: Jammu and Kashmir

Jammu and Kashmir

  • Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    Grand Durga Visarjan Procession: শ্রীনগরের লালচকে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, উৎসবে মাতল কাশ্মীরের বাঙালি সমাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়েক দশকের বিরতির পর জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থল লালচকে দুর্গাপুজোর বর্ণাঢ্য বিসর্জন শোভাযাত্রা ঘিরে তৈরি হল উৎসবের আবহ (Grand Durga Visarjan Procession)। মহারাজা বাজার থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি ঐতিহাসিক ঘণ্টাঘর হয়ে আমিরা কদল পর্যন্ত যায়। শোভাযাত্রায় দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী এবং গণেশের প্রতিমা নিয়ে অংশ নেন (Srinagar) ভক্তরা। পরে ঝিলম নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দশমীর অনুষ্ঠান। আয়োজকদের মতে, শ্রীনগরের বুকে এত বড় মাপের ধর্মীয় শোভাযাত্রা কয়েক দশক ধরে দেখা যায়নি। দীর্ঘ বিরতির পর লালচক এলাকায় প্রকাশ্যে দুর্গাপুজোর উৎসব উদ্‌যাপনকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    সহযোগিতার প্রশংসা (Grand Durga Visarjan Procession)

    দুর্গাপুজোর আয়োজন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন ভক্তরা। তাঁদের বক্তব্য, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সহায়তায় শ্রীনগরে এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব উদ্‌যাপন সম্ভব হয়েছে। বাঙালি সম্প্রদায়ের সদস্য প্রসেন মণ্ডল বলেন, “সবাই আমাদের সহযোগিতা করেছেন। এখানে কোনও বৈষম্য নেই। আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো। স্থানীয় কাশ্মীরি বাসিন্দা থেকে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ ও নিরাপত্তাবাহিনী—সকলেই আমাদের পাশে রয়েছেন। আমরা এখানে থাকি এবং কাজ করি। সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পরিবেশ তৈরি হওয়ায় এ বার আরও বড় পরিসরে উৎসব পালন করতে পেরেছি।”

    ভূস্বর্গে বদলের ছবি

    বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে ঘিরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আবেগের পাশাপাশি শ্রীনগরের কেন্দ্রস্থলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণও নজর কেড়েছে। বিজয়া দশমী উপলক্ষে প্রচলিত আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করেন ভক্তরা। শোভাযাত্রার শেষ পর্বে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন মহিলারা। দুর্গাপুজোর সমাপ্তি উপলক্ষে প্রচলিত এই আচারকে ঘিরেও দেখা যায় ব্যাপক উৎসাহ। আয়োজকদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব সম্পন্ন হওয়া সামাজিক সম্প্রীতি ও জননিরাপত্তা বজায় রাখার গুরুত্বকে তুলে ধরেছে ((Grand Durga Visarjan Procession))।

    বেজায় খুশি কাশ্মীরি পণ্ডিতরাও

    শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের সদস্যরাও এই আয়োজনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উৎসবে যোগ দেওয়ায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সাংস্কৃতিক আদানপ্রদানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিদিতা নামে এক তরুণী কাশ্মীরি পণ্ডিত বলেন, “আমার জন্ম ২০১০ সালে। এখানে এমন প্রতিমা বিসর্জন আমি আগে কখনও দেখিনি। কাশ্মীরে এই প্রথম এমন অভিজ্ঞতা হল। বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে এবং এই সম্প্রীতির সাক্ষী হতে পেরে আমি খুব খুশি। আমরা লালচক পর্যন্ত হেঁটেছি, ঘণ্টাঘরে গিয়েছি এবং আমিরা কদল হয়ে ফিরেছি। কাশ্মীরে ইতিবাচক পরিবর্তন সত্যিই চোখে পড়ছে।”

    শোভাযাত্রা দেখতে ভিড় স্থানীয় বাসিন্দাদের

    শোভাযাত্রা দেখতে পথের দু’পাশে জড়ো হন স্থানীয় বাসিন্দারা। উৎসব দেখার পাশাপাশি তাঁরা ভক্তদের শুভেচ্ছাও জানান। ব্যস্ত শহরকেন্দ্রের মধ্যে দিয়ে শোভাযাত্রা নির্বিঘ্নে এগিয়ে নিয়ে যেতে স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকেরা। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতি উৎসবের সামাজিক গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি এই ধরনের আয়োজন পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহায্য করে বলেও মনে করছেন (Srinagar) অংশগ্রহণকারীরা।

    ‘কাশ্মীরিয়ত’

    ঝিলম নদীতে দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ভক্তদের কাছে এই আয়োজন কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের শেষ পর্ব নয়, বরং কাশ্মীরের বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সহাবস্থানেরও প্রতীক। এই ঐতিহ্যকে প্রায়ই ‘কাশ্মীরিয়ত’ নামে উল্লেখ করা হয়। শ্রীনগরের এই শোভাযাত্রায় বিভিন্ন পটভূমির মানুষের অংশগ্রহণ ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক আদানপ্রদান এবং সামাজিক সংহতির একটি প্রকাশ্য ছবি তুলে ধরে। কয়েক দশক পর শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের উৎসাহও ছিল উল্লেখযোগ্য ((Grand Durga Visarjan Procession))।

  • OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    OIC: সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ওআইসিকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কড়া জবাব ভারতের, ‘আক্রান্ত ও সন্ত্রাসীকে আলাদা করতে ব্যর্থ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারতের পদক্ষেপ নিয়ে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর (OIC) রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতীয় জনতা পার্টির সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব বলেন, সন্ত্রাসবাদের জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসের শিকারদের মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের ষষ্ঠ কমিটিতে আন্তর্জাতিক আইনি বিষয় নিয়ে (Pakistan Terror Infrastructure) আলোচনা চলাকালীন এই মন্তব্য করেন দেব। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনায় ভারতের জাতীয় বক্তব্য পেশ করছিলেন তিনি। এর আগে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার হয়ে সৌদি আরব একটি বক্তব্য পেশ করে। সেই বক্তব্যেরই জবাব দেন ভারতীয় সাংসদ।

    সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত (OIC)

    ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের পক্ষে সওয়াল করে দেব বলেন, পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে ভারত “সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত” পদক্ষেপ করেছে। তাঁর কথায়, “আমি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির দেওয়া সেই বক্তব্যের জবাব দিচ্ছি, যেখানে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতের সুনির্দিষ্ট ও পরিমিত পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। এই অঞ্চল থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী হামলার পরিকল্পনা ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার অবস্থানের সমালোচনা করে দেব আরও বলেন, “দুর্ভাগ্যজনক যে বক্তা সত্য ও কল্পনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারছেন না এবং আক্রান্ত ও অপরাধীর মধ্যেও তফাত করতে পারছেন না।” তিনি বলেন, “পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখার পূর্ণ অধিকার ভারতের রয়েছে। সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার পরিণতি কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”

    পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ তুলল ভারত

    রাষ্ট্রপুঞ্জে নিজের বক্তব্যে সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তার ভয়াবহ মানবিক মূল্যও তুলে ধরেন দেব। তাঁর বক্তব্য, ভারতের কাছে সন্ত্রাসবাদের হুমকি কোনও তাত্ত্বিক বিষয় নয়, বরং এটি “প্রতিনিয়ত এবং প্রতিদিনের বাস্তবতা”। দেবের মতে, সন্ত্রাসবাদ শুধু দেশের নিরাপত্তাকেই প্রভাবিত করে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং মানবাধিকারকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ প্রসঙ্গে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া সন্ত্রাসবাদী হামলার কথা উল্লেখ করেন তিনি। ওই হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হন। দেব এই হামলাকে ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর পরিকল্পিত আক্রমণ বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিম সীমান্তের ওপার থেকে সমর্থন পাওয়া সংগঠনগুলিই এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছিল। দেব বলেন, “সন্ত্রাসবাদ রাষ্ট্রপুঞ্জের মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। নিরীহ নাগরিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে নিশানা করার কোনওভাবেই ন্যায্যতা থাকতে পারে না। ভালো সন্ত্রাসবাদ ও খারাপ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। ভারত সন্ত্রাসবাদী হামলাকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানও পুনরায় তুলে ধরে তিনি বলেন, “একটিও হামলা অনেক বেশি, আর একটি প্রাণহানিও অনেক বেশি (OIC)।”

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্যের বিরোধিতা

    জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন দেব। তিনি ওই মন্তব্যকে “অযাচিত উল্লেখ” বলে অভিহিত করেন। দেব বলেন, “ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার সভাপতির উচিত পাকিস্তানের বেআইনি দখলের দিকে আরও বেশি নজর দেওয়া। বিশেষ করে রাওয়ালাকোটে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, নৃশংস হিংসা এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক অধিকার অস্বীকার করার বিষয়গুলি অত্যন্ত স্পষ্ট।” ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত অন্ধত্বের” অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের অবস্থান পক্ষপাতিত্ব ও অসহিষ্ণুতারই প্রতিফলন।

    সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি

    রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের দাবিরই অংশ। দেব দ্রুত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিষয়ক সর্বাঙ্গীণ কনভেনশন গ্রহণের দাবি জানান। ভারত ১৯৯৬ সালেই এই প্রস্তাব প্রথম উত্থাপন করেছিল। শুধু সন্ত্রাসবাদীদের নয়, তাদের সংগঠক, অর্থদাতা এবং মদতদাতাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। এছাড়াও সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলি কীভাবে নতুন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং অর্থসংগ্রহ করছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি পরিচিতিমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া ১৫ সদস্যের ভারতীয় সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অন্যতম (Pakistan Terror Infrastructure) সদস্য বিপ্লব কুমার দেব। জম্মু ও কাশ্মীর এবং পাকিস্তান-সংযুক্ত সন্ত্রাসবাদ নিয়ে ভারত ও ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে চলতে থাকা কূটনৈতিক মতপার্থক্যের আবহেই রাষ্ট্রপুঞ্জে তাঁর এই বক্তব্য সামনে এল (OIC)।

     

  • UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    UNGA: রাষ্ট্রসংঘে কাশ্মীর নিয়ে মন্তব্য এরদোয়ানের, ‘কোনও বাইরের পক্ষের অধিকার নেই’, সাফ জানাল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে জম্মু ও কাশ্মীর (Kashmir Remark) প্রসঙ্গে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করল (UNGA) ভারত। নয়াদিল্লি এই মন্তব্যকে অনভিপ্রেত বলে অভিহিত করে জানিয়েছে, ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের হস্তক্ষেপের অধিকার নেই।

    মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ভারতের এবং ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়ে যে অনভিপ্রেত উল্লেখ করেছেন, ভারত তা প্রত্যাখ্যান করছে।”

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (UNGA)

    তিনি আরও বলেন, “আপনারা বুঝতেই পারছেন, এটি ভারতের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই বিষয়ে কোনও বাইরের পক্ষের কোনও অধিকার বা হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।”

    এর আগে ২২ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোয়ান দক্ষিণ এশিয়ার সমস্ত বিরোধের, জম্মু ও কাশ্মীরের বিষয়টি-সহ, রাষ্ট্রসংঘের সনদ এবং সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবের কাঠামোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রসংঘের নথিতেও এরদোয়ানের ২০২৬ সালের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্যের উল্লেখ রয়েছে।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান

    কাশ্মীর প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের মঞ্চে এরদোয়ানের মন্তব্য অবশ্য নতুন নয়। ২০১৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা সংক্রান্ত সাংবিধানিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের পর তিনি বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছিলেন। সেই সময়ও নয়াদিল্লি তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। ২০২১ সালেও রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে এরদোয়ান কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে তাঁর ভাষণে জম্মু ও কাশ্মীরের কোনও উল্লেখ ছিল (UNGA) না।

    জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। নয়াদিল্লি অঞ্চলটিকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে উল্লেখ করে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি দ্বিপাক্ষিকভাবে সমাধানের পক্ষে (Kashmir Remark) অবস্থান নিয়েছে। ভারত ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তির কথাও উল্লেখ করে থাকে। ওই চুক্তিতে ভারত ও পাকিস্তান শান্তিপূর্ণ উপায়ে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে মতপার্থক্য মেটানোর বিষয়ে সম্মত (UNGA) হয়েছিল।

     

  • Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    Kashmir: ৩৬ বছর পর খুলল কাশ্মীরের ঐতিহাসিক শীতলনাথ মন্দির, পুজোয় ফিরলেন কাশ্মীরি পণ্ডিতরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষার অবসান। ফের ভক্তদের জন্য খুলে দেওয়া হল শ্রীনগরের হাব্বা কদল এলাকার ঐতিহাসিক (Kashmir) শীতলনাথ মন্দির। ১৯৯০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে পড়েছিল প্রাচীন এই মন্দির। সংস্কারের পর মন্দিরটি ফের চালু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পুজো দিতে আসেন বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত। তাঁদের স্বাগত জানান স্থানীয় কাশ্মীরি মুসলিমরাও। মন্দির পুনরায় (Sheetalnath Mandir) চালু হওয়ার দিন ঘণ্টাধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও যজ্ঞের মধ্য দিয়ে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক পর পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত এই ধর্মস্থানে ফিরে আসেন বহু কাশ্মীরি হিন্দু। তাঁদের সঙ্গে স্থানীয় মুসলিমদের উপস্থিতি কাশ্মীরের দীর্ঘদিনের সম্প্রীতি ও বহুত্ববাদী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়।

    অশান্তির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দিরের পুনর্নির্মাণ (Kashmir)

    ১৯৯০ সালে কাশ্মীর উপত্যকা থেকে বিপুলসংখ্যক কাশ্মীরি পণ্ডিতের চলে যাওয়ার পর শীতলনাথ মন্দিরে নিয়মিত পুজো বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী কয়েক দশক ধরে অযত্নে পড়ে থাকা মন্দিরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপত্যকায় অশান্তির সময় অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও মন্দির চত্বরের ক্ষতি হয়েছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের সংস্কৃতি দফতরের সহযোগিতায় মন্দির সংস্কারের দায়িত্ব নেয় শ্রীনগর স্মার্ট সিটি লিমিটেড (SSCL)। সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মন্দিরের গর্ভগৃহ এবং যজ্ঞশালার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাঠামোগত পুনর্নির্মাণ করা হয়। এর ফলে মন্দিরটি আবার ভক্তদের প্রবেশ ও পুজোর উপযোগী হয়ে উঠেছে। এর আগে ২০২১ সালের বসন্ত পঞ্চমীতে মন্দিরে পুজোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে সেই সময় মন্দিরের কাঠামো অত্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত থাকায় নিয়মিত দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

    কাশ্মীরি শৈবধর্মের প্রাচীন উপাসনাস্থল

    কাশ্মীরের ধর্মীয় ইতিহাসে শীতলনাথ মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কাশ্মীরি শৈবধর্মের সঙ্গে যুক্ত এই মন্দিরকে প্রাচীন অষ্টভৈরবের অন্যতম বলে মনে করা হয়। প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, শ্রীনগরের রক্ষাকর্তা আট দেবতার মধ্যে শীতলনাথ অন্যতম (Kashmir)। স্থানীয় লোককথায় ঋষি কশ্যপ এবং সতীসর সংক্রান্ত পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গেও এই মন্দিরের সম্পর্ক রয়েছে।

    একই চত্বরে পড়াশোনা করত হিন্দু ও মুসলিম শিশুরা

    ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি শ্রীনগরের সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেও শীতলনাথ মন্দিরের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ১৯৯০ সালের আগে মন্দির চত্বরে প্রাথমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় ছিল। সেখানে হিন্দু ও মুসলিম পরিবারের শিশুরা একসঙ্গে পড়াশোনা করত। বিংশ শতাব্দীতে কাশ্মীরের গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক সমাবেশের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত ছিল এই মন্দির চত্বর। মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু, ইন্দিরা গান্ধী এবং অটলবিহারী বাজপেয়ীর মতো জাতীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এখানে জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

    বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের কাছে বিশেষ তাৎপর্য

    উপত্যকা ছেড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাস করতে বাধ্য হওয়া কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারগুলির কাছে শীতলনাথ মন্দিরের পুনরায় চালু হওয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর তাঁদের পূর্বপুরুষদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বক্তব্য, শীতলনাথ মন্দিরের সংস্কার জম্মু ও কাশ্মীরের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলি সংরক্ষণের বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। দীর্ঘ অশান্তির সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কিংবা অবহেলিত হয়ে পড়া মন্দিরের (Sheetalnath Mandir) পাশাপাশি সুফি দরগা, গুরুদ্বার ও মসজিদের সংস্কারও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত। তিন দশকেরও বেশি সময় পর শীতলনাথ মন্দিরের দরজা খুলে যাওয়ায় শ্রীনগরের একটি ঐতিহাসিক ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র আবার জনজীবনের অংশ হয়ে উঠল (Kashmir)।

     

  • OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    OIC: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির মন্তব্য, ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর অধিকার নেই’, কড়া জবাব ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অফ ইসলামিক কো-অপারেশন) গোষ্ঠীর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাল ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার ওআইসির (OIC) নেই। একই সঙ্গে পাকিস্তানকে ভারতবিরোধী প্রচারের মঞ্চ (Kashmir References) করে না দেওয়ার জন্যও ওআইসিকে পরামর্শ দিয়েছে ভারত।

    বুধবার এক বিবৃতিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওআইসির জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত মন্তব্যকে অপ্রয়োজনীয় এবং তথ্যগত ভাবে ভুল বলে অভিহিত করেছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, “ভারতের একান্ত অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করার কোনও এখতিয়ারই নেই ওআইসির।”

    ভারত আরও একবার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দু’টি দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অবিচ্ছিন্ন অংশ। আন্তর্জাতিক কোনও মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বা তা পরিবর্তনের চেষ্টা ভারত মেনে নেবে না বলেও নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি।

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির বৈঠক (OIC)

    মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠক হয়। বৈঠকের পর ওআইসি জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার বলে তারা যে বিষয়টিকে উল্লেখ করেছে, তার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে যোগাযোগ গোষ্ঠী। এর পরেই ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করে বিবৃতি দেয়।

    ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ভারতের

    জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে বারবার মন্তব্য করার কারণে ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, “এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্যকে বারবার সমর্থন করা ওআইসির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।”

    ভারত দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপনের বিরোধিতা করে আসছে। নয়াদিল্লির অবস্থান হল, বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তা নিয়ে হস্তক্ষেপের কোনও প্রয়োজন নেই।

    পাকিস্তানকে ‘পরামর্শ’ দেওয়ার কথা ওআইসিকে

    ওআইসির বৈঠকে পাকিস্তানের ভূমিকারও সমালোচনা করেছে ভারত। নয়াদিল্লির অভিযোগ, ভারত যে বিষয়গুলিকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মনে করে, পাকিস্তান সেগুলিকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার জন্য ওআইসিকে ব্যবহার করছে (OIC)।

    বিদেশ মন্ত্রক বলেছে, “পাকিস্তানকে তার মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার চালানোর জন্য মঞ্চ দেওয়ার পরিবর্তে, ওআইসির উচিত পাকিস্তানকে পরামর্শ দেওয়া।”

    পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সমর্থন ও মদত দেওয়ার সুপ্রতিষ্ঠিত ও নথিবদ্ধ রেকর্ড রয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে ভারত। নয়াদিল্লির বক্তব্য, পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা থেকে সন্ত্রাসবাদের যে হুমকি তৈরি হচ্ছে, ইসলামাবাদের উচিত প্রথমে সেই সমস্যার মোকাবিলা করা।

    ওআইসি বৈঠকে কী বললেন ইশাক দার?

    নিউ ইয়র্কে ওআইসির যোগাযোগ গোষ্ঠীর বৈঠকে বক্তব্য রাখেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী ইশাক দার। রাষ্ট্রপুঞ্জ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মঞ্চে জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ওআইসির সদস্য দেশগুলিকে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

    ২০১৯ সালের ৫ অগাস্টের পর ভারত যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছে, সেগুলি প্রত্যাহারের দাবিও জানান দার। এর পাশাপাশি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার দাবিও তোলেন (Kashmir References) তিনি।

    পাকিস্তান জম্মু-কাশ্মীর প্রসঙ্গ নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরে আসছে। আর, ভারত বরাবরই এই ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর (OIC) দেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এই বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

     

  • Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    Kashmiri Pandit: ‘চাকরি ছাড়ো, নয় মরো’! ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি-চিঠি জঙ্গিদের, ভূস্বর্গে বাড়ছে উদ্বেগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়ের দশকের আতঙ্ক যেন আবারও ফিরে আসছে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit) জীবনে! সেই সময় হুমকি-বার্তা আসত দেওয়ালে টাঙানো তালিকা কিংবা ছাপা কাগজের মাধ্যমে (Jammu Kashmir)। এখন সেসবই আসছে আরও আধুনিক পদ্ধতিতে। কাশ্মীর উপত্যকায় কর্মরত প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে লক্ষ্য করে নতুন করে হুমকি জারি হয়েছে। অভিযোগ, তাঁদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য পর্যন্ত ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবেই তৈরি করা হচ্ছে আতঙ্কের পরিবেশ।

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বক্তব্য (Kashmiri Pandit)

    মুম্বইয়ে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত, যাঁর পরিবারের সদস্যরা এখনও শ্রীনগরে রয়েছেন, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বলেন, “নব্বইয়ের দশকেও এটাই ছিল তাদের কাজের ধরন। শুধু তখন ইন্টারনেট ছিল না। তালিকা টাইপ করে দেওয়ালে সাঁটিয়ে দেওয়া হত।”

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের অভিযোগ, লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত ইউনাইটেড লিবারেশন কাউন্সিল (ইউএলসি) এর নামে জারি করা একাধিক হুমকিপত্রের জেরে উপত্যকায় কর্মরত প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত এক মাসেরও বেশি সময়ে অন্তত পাঁচটি হুমকির ঘটনা সামনে এসেছে। সর্বশেষ হুমকিতে সরকারি চাকরিতে থাকা কাশ্মীরি পণ্ডিতদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তা না হলে প্রাণঘাতী পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    এই পরিস্থিতিতে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের বিভিন্ন সংগঠন এবং উপত্যকায় পরিবারের সদস্যদের রেখে মুম্বই ও দিল্লিতে বসবাসকারী সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া কাশ্মীরি সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। তবে উপত্যকায় এখনও পরিবারের সদস্য রয়েছেন এমন একাধিক কাশ্মীরি পণ্ডিত জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই ধরনের হুমকির ঘটনা বেড়েছে।

    দিল্লিতে বসবাসকারী এক কাশ্মীরি পণ্ডিত আইনজীবী, যাঁর পরিবারের সদস্যরা জম্মুতে থাকেন, বলেন, “আমার পরিবার সরকারি কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমরা ব্যবসায়ী পরিবার। এবার হুমকির লক্ষ্য সরকারি কর্মীরা। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে কাশ্মীরে কাশ্মীরি পণ্ডিতরা নিরাপদ। উপত্যকায় এই ধরনের হুমকি এখন যথেষ্ট সাধারণ হয়ে উঠেছে।”

    বিপুল তথ্য ফাঁসের অভিযোগ

    ৭ সেপ্টেম্বর সমাজের পক্ষের এক কণ্ঠস্বর সাবা কৌল সোশ্যল মিডিয়ায় এই ঘটনাকে “বিরাট এবং উদ্বেগজনক নিরাপত্তা সংকট” বলে উল্লেখ করেন। তাঁর অভিযোগ, ইউএলসি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের আওতায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের হুমকি দিয়েছে। একই সঙ্গে কর্মীদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর, বাড়ির ঠিকানা এবং গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য অনলাইনে ফাঁস করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

    কৌল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপালের দফতরের কাছে ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন (Jammu Kashmir)।

    শ্রীনগরভিত্তিক এক প্রবীণ সাংবাদিকও জানিয়েছেন, হুমকিপত্রগুলি প্রথমে গোপন ইন্টারনেটভিত্তিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল। পরে সেগুলি হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো বার্তাবাহক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে উপত্যকায় থাকা কর্মীদের পাশাপাশি জম্মু এবং দেশের অন্যত্র বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

    এক মাসে পঞ্চম হুমকি

    ১ সেপ্টেম্বর ইউএলসির নামে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উদ্দেশে একটি হুমকিপত্র প্রকাশ্যে আসে। এক মাসের মধ্যে এটি ছিল পঞ্চম হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে। ওই চিঠিতে বলা হয়, নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকের পরে প্রশাসন অভিবাসী কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের হালকা অস্ত্র দেওয়ার কথা বিবেচনা করছে।

    এর আগে ৭ অগাস্টের একটি হুমকিপত্রেও কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছিল। তাঁদের পরিবার, অবস্থান এবং কর্মস্থলের বিবরণ সংগঠনের হাতে রয়েছে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কর্মীরা জম্মুতে চলে গেলেও তাঁদের নিশানা করা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল।

    কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী ও সমাজকর্মী রাকেশ হান্ডুর দাবি, প্রায় ৬ হাজার প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মী গত প্রায় ১৫ বছর ধরে কাশ্মীর উপত্যকায় কাজ করছেন। তাঁদের অনেকেই ভাড়া বাড়িতে থাকেন। তাঁর বক্তব্য, শ্রীনগরের জেওয়ান, অনন্তনাগের মাট্টান এবং ভীরিনাগে মোট ৬ হাজার ৪২টি আবাসন নির্মাণ করা হলেও গত তিন বছরে মাত্র প্রায় ৮০০টি আবাসন বরাদ্দ করা হয়েছে।

    হান্ডু অবিলম্বে বিভিন্ন অস্থায়ী আবাসন ও ভাড়াবাড়ির নিরাপত্তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি হুমকির উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত এবং “ফিরে আসা ও পুনর্বাসনের অধিকার” নিশ্চিত করার জন্য একটি নীতির দাবিও তুলেছেন। তাঁর মতে, সেই নীতিতে চাকরির নিরাপত্তার পাশাপাশি জমির অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে (Kashmiri Pandit)।

    আবাসন নিয়েও প্রশ্ন

    ৭ সেপ্টেম্বর আরও একটি বার্তায় হান্ডু কুলগামের চৌগাম সড়কের নওয়া এলাকায় সংখ্যালঘু প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ কর্মীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী আবাসনের ছবি প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কিছু আবাসন বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত। কোথাও সঠিক রাস্তা ও নিকাশি ব্যবস্থা নেই, কোথাও নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ, আবার কোথাও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা ঘেরাও নেই।

    কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি রয়েছে বলে প্রশাসনের দাবির সঙ্গে এই বাস্তবতার তুলনা করে হান্ডু প্রশ্ন তোলেন, “এই স্বাভাবিকতা কার জন্য?” তাঁর যুক্তি, যে কর্মী হুমকিপত্র পেয়েছেন, তাঁর কাছে স্বাভাবিকতার অর্থ শুধু চাকরিতে থাকা নয়। তাঁর প্রয়োজন নিরাপদ ছাদ, সুরক্ষিত আবাসন এবং সম্পূর্ণ পরিকাঠামো।

    ৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা এবং জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের সাইবার অপরাধ শাখার কাছে দেওয়া অভিযোগে হান্ডু ৫ সেপ্টেম্বরের হুমকিপত্রের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের দাবি জানান। তাঁর দাবি, চিঠিতে স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং লিঙ্গ বা সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে তাঁদের নিশানা করার কথা বলা হয়েছে। চিঠিতে “তাদের মরদেহের ব্যাগ তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে”—এমন ভয়াবহ ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে (Jammu Kashmir) বলেও জানান তিনি।

    পুনর্বাসন নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিরাপত্তা

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার জন্য পরবর্তীকালে সরকারি চাকরির মাধ্যমে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০০৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসন প্যাকেজ ঘোষণা করে। সেই প্রকল্পে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে ৩ হাজার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে আরও ৩ হাজার সরকারি চাকরি অনুমোদন করা হয়। ফলে দুই প্রকল্প মিলিয়ে কেন্দ্রীয় অর্থায়নে মোট পদের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬ হাজার।

    তবে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ধরনের হুমকিপত্র প্রকাশ্যে এলে শুধু উপত্যকায় কর্মরত ব্যক্তিরাই নন, জম্মু-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিতদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়।

    অগাস্টের একটি হুমকিতে ছ’জন সরকারি কর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। তাঁদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে না আনা হলেও, বাস্তবে তাঁদের এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রতিনিধিত্বকারী পানুন কাশ্মীর ওই ব্যক্তিদের এবং তাঁদের পরিবারের জন্য অবিলম্বে নিরাপত্তা মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের আহ্বায়ক অগ্নিশেখর বলেন, হুমকির পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রকাশ করা অত্যন্ত “গুরুতর উদ্বেগের” বিষয় (Kashmiri Pandit)।

    হুমকি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র হয়েছে। ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লা প্রশ্ন তুলেছেন, কেন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদেরই বারবার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ জম্মু-কাশ্মীরে কর্মরত প্রবীণ হিন্দু আধিকারিকরা একই ধরনের হুমকির মুখে পড়ছেন না। তাঁর অভিযোগ, এই হুমকি উপরাজ্যপাল-নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভয় তৈরি করে রাজ্যের মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার একটি “ষড়যন্ত্রের” অংশ হতে পারে।

    বিজেপি অবশ্য এই বক্তব্য সরাসরি খারিজ করেছে। দলের জাতীয় গণমাধ্যমের সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা প্রদীপ ভাণ্ডারি ফারুক আবদুল্লার বিরুদ্ধে জঙ্গিদের প্রতি “নরম মনোভাব” নেওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের মন্তব্য কাশ্মীরি হিন্দুদের দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা ও নিরাপত্তা-সংকটকে খাটো করে দেখায়।

    অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা তাঁর বাবার থেকে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছেন। অগাস্টে প্রথম হুমকি সামনে আসার পর তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে এবং নতুন হুমকিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। যারা এর পিছনে রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলেন তিনি। দ্বিতীয় হুমকির পরও ওমর জানান, হুমকির উৎস কোথায়, তা নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে খুঁজে বের করতে হবে।

    ফিরছে নয়ের দশকের স্মৃতি?

    আটের দশকের শেষ এবং নয়ের দশকের গোড়ায় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের বিস্তারের সময় লক্ষ্য করে হত্যা, হুমকি এবং স্থানীয় মসজিদ থেকে সতর্কবার্তার পর বহু কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁরা বাড়িঘর ও সম্পত্তি ফেলে জম্মু এবং ভারতের অন্যান্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন (Kashmiri Pandit)।

    সরকারি চাকরির মাধ্যমে তাঁদের উপত্যকায় ফিরিয়ে আনার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজ তারই অন্যতম অংশ। কিন্তু ২০২২ সালে চাদুরার তহসিল দফতরের ভিতরে কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী রাহুল ভাটের হত্যাকাণ্ড এখনও সেই নিরাপত্তা ঝুঁকির ভয়াবহ স্মারক হয়ে রয়েছে।

    তাই বর্তমান হুমকিগুলিকে শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কাশ্মীরি পণ্ডিতদের প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের সাফল্য কি শুধু কতগুলি চাকরি দেওয়া হয়েছে বা কতগুলি বাড়ি তৈরি হয়েছে, সেই হিসাবেই নির্ধারিত হবে? নাকি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তাঁরা উপত্যকায় নিরাপদে বসবাস ও কাজ করতে পারছেন কি না?

    কাশ্মীরি পণ্ডিতদের জন্য প্রত্যাবর্তন তখনই অর্থবহ হবে (Jammu Kashmir), যখন চাকরি ও আবাসনের পাশাপাশি তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আস্থাও ফিরবে। সাম্প্রতিক হুমকি সেই আস্থার জায়গাটিকেই নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে বই কি! (Kashmiri Pandit)।

     

  • Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    Lashkar Commander Killed: ইউসমার্গে যৌথবাহিনীর অভিযানে নিকেশ লস্কর কমান্ডার ইয়াসির, খতিয়ে দেখা হচ্ছে জঙ্গি-যোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের বাডগাম জেলায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে খতম লস্কর-ই-তৈবার এক পাকিস্তানি কমান্ডার (Lashkar Commander Killed)। নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রের দাবি, নিহত জঙ্গির নাম ইয়াসির। শনিবার মধ্য কাশ্মীরের ইউসমার্গের দুর্গম উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যৌথবাহিনীর অভিযানের সময় এই সংঘর্ষের (Gunfight) ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, এলাকায় জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর তল্লাশি অভিযান শুরু করে যৌথ নিরাপত্তাবাহিনী। অভিযানে স্পেশাল ফোর্সেস এবং ৫৩ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের সদস্যরা অংশ নেন। তল্লাশির সময় জঙ্গিদের সঙ্গে নিরাপত্তাবাহিনীর গুলির লড়াই শুরু হয়। সংঘর্ষেই ইয়াসিরের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল ইয়াসির (Lashkar Commander Killed)

    নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ইয়াসির লস্কর-ই-তৈবার সুলেমান মুসা গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিল। প্রায় এক বছর আগে সে ওই গোষ্ঠী থেকে আলাদা হয়ে যায়। এরপর নিজের মতো করে জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছিল সে। কিছুদিন ধরে ইউসমার্গ এলাকায় তার গতিবিধির উপর নজর রাখছিল একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর ওই এলাকায় লস্করের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অপারেটিভ হিসেবে ইয়াসিরের প্রভাব বাড়ে বলেও সূত্রের দাবি। ইউসমার্গের উঁচু এলাকায় তার উপস্থিতির খবর পেয়েই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই অভিযানই শেষ পর্যন্ত গড়ায় এনকাউন্টারে। ইয়াসিরের মৃত্যুর পর এবার তার জঙ্গি নেটওয়ার্ক নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। লস্কর-ই-তৈবার অন্য সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ কতটা ছিল, ওই অঞ্চলে সে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাত এবং সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার কোনও ভূমিকা ছিল কি না—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে নিরাপত্তাবাহিনী। সেই ধারাবাহিকতার মধ্যেই ইউসমার্গের এই অভিযান বলে মনে করা হচ্ছে (Lashkar Commander Killed)।

    কে এই সুলেমান মুসা?

    সুলেমান মুসা, যিনি হাশিম মুসা নামেও পরিচিত, ২০২৫ সালে পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত জঙ্গি হামলার অন্যতম মূলচক্রী হিসেবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে পরিচিত ছিল (Gunfight)। হামলার কয়েক মাস পরে শ্রীনগরের দাচিগাম অরণ্য এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিকেশ হয় মুসা (Lashkar Commander Killed)।

     

  • Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    Amit Shah: ‘ভারত কোনও ধর্মশালা নয়’, অনুপ্রবেশমুক্ত দেশ গড়ার বার্তা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সরকার ভারতকে “অনুপ্রবেশমুক্ত” করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গত ২৫ অগাস্ট কথাগুলি বলেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তাঁর দাবি, বেআইনি অনুপ্রবেশ দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জন-ভারসাম্যের ক্ষেত্রে (Infiltrator Free Nation) বড় চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। গোয়েন্দা ব্যুরোর জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, ভারত কোনও ধর্মশালা বা আশ্রয়কেন্দ্র নয়। তাঁর বক্তব্য, দেশের মাটিতে বসবাসের অধিকার কেবল নাগরিকদেরই রয়েছে। তিনি বলেন, “খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোদি সরকার দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করবে।” স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত আট মাসে তিনি দেশের সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফর করেছেন। সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে চার দফা কৌশল সংক্রান্ত একটি নথিও রাজ্যগুলির সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার “৩৬০ ডিগ্রি নেটওয়ার্ক” ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান শাহ।

    নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও জনবিন্যাসের সঙ্গে অনুপ্রবেশের যোগ (Amit Shah)

    শাহ তাঁর বক্তব্যে অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তার কাঠামোর মধ্যে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, বিষয়টি শুধু সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব দেশের নিরাপত্তা, অর্থনীতি এবং জনবিন্যাস পরিবর্তনের উপরও পড়ে। সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই দেশকে অনুপ্রবেশমুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে বলেও জানান তিনি। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, বেআইনি অভিবাসন রোধ এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রযুক্তির ব্যবহার—এই বিষয়গুলিও সরকারের নিরাপত্তা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। শাহ বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তাকে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে রাজ্য পুলিশের বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্ত ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    চার দফা সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশল

    গত আট মাসে সমস্ত সীমান্তবর্তী রাজ্য সফরের কথা উল্লেখ করে শাহ জানান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে চার দফা কৌশল সম্বলিত একটি নথি রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়েছে। অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং তার সঙ্গে যুক্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা বাড়ানোই এই কৌশলের লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছে।

    সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এর আগে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সীমান্তে নজরদারি বাড়াতে ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথা বলেছিলেন শাহ। অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতেই এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা।

    সন্ত্রাস দমনে প্রহার কৌশল

    সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং তার সম্পূর্ণ সহযোগী নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে দৈনন্দিন নিরাপত্তা অভিযানে প্রহার কৌশল কার্যকর করার আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    শাহের বক্তব্য, শুধু বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসবাদী ঘটনা মোকাবিলা করলেই হবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সামগ্রিক কৌশল গ্রহণ করতে হবে। বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও জোর দেন তিনি।

    তাঁর দাবি, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদ—এই বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জগুলির বিরুদ্ধে সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। এই অগ্রগতির জন্য বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ বাহিনী, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন শাহ।

    নকশালবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও উত্তর-পূর্বের অশান্তি

    শাহ বলেন, নকশালবাদ, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহ ছিল দেশের তিনটি বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ। তাঁর দাবি, সরকার এই সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

    একই সঙ্গে মাদক, নকশালবাদ এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অশান্তির মতো সমস্যার গুরুত্ব আগের সরকারগুলির আরও আগে উপলব্ধি করা উচিত ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এই সমস্যাগুলি মোকাবিলায় দেরি হওয়ায় দেশকে কয়েক দশক ধরে তার পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

    কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ের উদাহরণ হিসেবে পপুলার ফ্রন্ট অব ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর দাবি, এক রাতের মধ্যেই সংগঠনটির সম্পূর্ণ ক্যাডার কাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় এবং সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা হয়। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে সংগঠিত নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলার উদাহরণ হিসেবে তিনি বিষয়টি তুলে ধরেন (Infiltrator Free Nation)।

    বিদেশে পালিয়ে থাকা ২৭৪ অভিযুক্তকে দেশে ফেরানো

    বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের ভারতীয় আইনের আওতায় ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শাহ (Amit Shah)।

    তাঁর বক্তব্য, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে প্রায় ২৭৪ জন পলাতককে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে এনে ভারতীয় আইনের মুখোমুখি করার জন্য প্রতিটি রাজ্যকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি।

    একই সঙ্গে বহু সংস্থার সমন্বিত কেন্দ্রের আধুনিকীকরণের কথাও উল্লেখ করেন শাহ। তাঁর মতে, এই প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন স্তরে কার্যকর ফলাফল দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। সংগঠিত অপরাধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য আদানপ্রদান এবং সমন্বয় আরও শক্তিশালী করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে দেখা হচ্ছে।

    এক বছরের মধ্যে নতুন ফৌজদারি আইন পুরোপুরি কার্যকর

    দেশের তিনটি নতুন ফৌজদারি আইন আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পূর্ণরূপে কার্যকর করা হবে বলে জানান শাহ।

    তাঁর দাবি, নতুন আইন কার্যকর হলে ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তির গতি বাড়বে। এমনকি তিন বছরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলার নিষ্পত্তি সম্ভব হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। দোষী সাব্যস্ত করার হার ২৫ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সংক্রান্ত আলোচনাকে শুধু বর্তমান হুমকির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের পূর্বাভাস দেওয়ার উপরও জোর দেন শাহ। তাঁর বক্তব্য, কোনও ঝুঁকি বড় হুমকিতে পরিণত হওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করে তার মোকাবিলার কৌশল তৈরি করতে হবে।

    পুলিশিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য বিশ্লেষণের উপর জোর

    তরুণ পুলিশ ও নিরাপত্তা আধিকারিকদের আরও বেশি করে তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের আহ্বান জানান শাহ।

    তাঁর মতে, বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্যকে একত্রিত করে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং অপরাধের ধরন ও প্রবণতা চিহ্নিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিতে হবে। এর মাধ্যমে এমন একটি পূর্বাভাসভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে, যেখানে বড় ধরনের হুমকি তৈরি হওয়ার আগেই সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করা যাবে।

    নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও এখন একাধিক উৎস থেকে (Infiltrator Free Nation) তথ্য একত্রিত করে উন্নত বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তির সাহায্যে অপরাধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির ধরন শনাক্ত করার দিকে এগোচ্ছে (Amit Shah)।

    মাদকমুক্ত ভারতের জন্য তিন স্তরের কৌশল

    শাহের বক্তব্যে মাদকবিরোধী অভিযানও গুরুত্ব পেয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্যের পুলিশকে মাদক নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টিভঙ্গি সংক্রান্ত ২০২৬-২০২৯ নথি বাস্তবে কার্যকর করার আহ্বান জানান তিনি। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের অপব্যবহার থেকে রক্ষা করার উপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

    মাদকমুক্ত ভারত গড়তে শনাক্তকরণ, ব্যাহত করা এবং ধ্বংস—এই তিন স্তরের কৌশল গ্রহণের প্রস্তাব দেন শাহ। এর মাধ্যমে মাদক চক্র শনাক্ত করা, তাদের কার্যকলাপ ব্যাহত করা এবং শেষ পর্যন্ত বেআইনি মাদক ব্যবসাকে সহায়তা করে এমন গোটা পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    শাহের বক্তব্যের বিবরণ অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল লড়াই করতে পারে একমাত্র ভারত।”

    ভবিষ্যতের সঙ্কটের পূর্বাভাস দেওয়ার বার্তা

    বিশ্বজুড়ে ঘটে চলা পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন শাহ।ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, জ্বালানি সঙ্কট, সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ, সাইবার যুদ্ধ, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চক্রের মতো বিষয়গুলিকে বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য, সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলি প্রথম পর্যায়েই চিহ্নিত করে বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা মোকাবিলা করতে হবে। তাঁর লক্ষ্য—একটি নিরাপদ, অনুপ্রবেশমুক্ত এবং মাদকমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা (Amit Shah)।

    সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তায় শাহের বার্তা

    সাম্প্রতিক মাসগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক বক্তব্য দিয়েছেন শাহ। ২২ মে তিনি জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার সীমান্তে এক বছরের মধ্যে স্মার্ট সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। ড্রোন, রাডার, স্মার্ট ক্যামেরা-সহ আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রোধ করাই এই ব্যবস্থার লক্ষ্য (Infiltrator Free Nation)।

    ২৬ মে দেশজুড়ে অস্বাভাবিক জনসংখ্যাগত পরিবর্তন খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা জানায় সরকার। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাভলেকরকে কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়। বেআইনি অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে জনসংখ্যার পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা কমিটি খতিয়ে দেখবে বলে জানানো হয়।

    ২৮ মে শাহ দাবি করেছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে নিয়মিত অনুপ্রবেশ হয়েছে এবং এখন অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যেতে শুরু করেছেন। তিনি অনুপ্রবেশকারীদের স্বেচ্ছায় নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান। বেআইনি অভিবাসন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থানেরই অংশ হিসেবে এই মন্তব্যকে দেখা হচ্ছে।

    যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর

    জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল সম্মেলনে শাহের বক্তব্যে সরকারের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির একাধিক দিক উঠে আসে। অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত নজরদারি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদ, নকশালবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ, মাদক এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অভিযুক্ত—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের উপর জোর দেন তিনি।

    একই সঙ্গে প্রযুক্তি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়ানোর পক্ষে সওয়াল করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর মতে, নিরাপত্তা নীতিকে শুধু বর্তমান হুমকির মোকাবিলায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে কী ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ সামনে আসতে পারে, তারও আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে।

    শাহের বক্তব্যের মূল বার্তা হল, কোনও হুমকি বড় সঙ্কটে পরিণত হওয়ার আগেই তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসবাদ এবং মাদক পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং আগাম গোয়েন্দা তথ্যের (Infiltrator Free Nation) উপর নির্ভর করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা কাঠামো আরও শক্তিশালী করাই সরকারের (Amit Shah) লক্ষ্য।

     

     

  • Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    Sergio Gor on Kashmir: ‘জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ’, প্রথমবার শ্রীনগর সফরে বার্তা মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ—কাশ্মীরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই কথা জানালেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (Sergio Gor on Kashmir)। জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে এই প্রথম অবস্থান স্পষ্ট করল আমেরিকা। মুখ পুড়ল পাকিস্তানের, ভারত সরকারের পাশেই দাঁড়াল ট্রাম্প সরকার। জম্মু-কাশ্মীর সফরে এসে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা দিলেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। বুধবার শ্রীনগরে জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে সাক্ষাতের পর গোর বলেন, “জম্মু-কাশ্মীর ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।” ৩৭০ ধারা বাতিল এবং পহেলগাঁও হামলার পর কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এটিই আমেরিকার কোনো শীর্ষ প্রতিনিধির প্রথম একক সফর। তাঁর এই মন্তব্যের ফলে আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের অবস্থান আরও জোরাল হলো বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

    মার্কিন রাষ্ট্রদূত-এর সঙ্গে বৈঠক

    বুধবার নিজের প্রথম ভূস্বর্গ সফরে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এরপর সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ গোর জানান, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর আলোচনায় জম্মু-কাশ্মীরের অগ্রাধিকার এবং ভারত ও আমেরিকার মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে। পর্যটন, উদ্যানপালন এবং নতুন অর্থনীতির ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ওমর আবদুল্লা। সাক্ষাতের পর ওমর আবদুল্লা ‘এক্স’-এ লেখেন, গোরের সঙ্গে তাঁর “খুব ভালো আলোচনা” হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর ও আমেরিকার মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

    ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ

    প্রায় ১৫ বছর পর কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক হল। ২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত টিমোথি রোমার মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। ২০১৮ সালে তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত কেনেথ জাস্টার কাশ্মীরে শেষবার পৃথক সফরে এসেছিলেন। ২০১৯ সালে কেন্দ্রের তরফে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর এবং পাহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার পর এই প্রথম কোনও দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কাশ্মীরে সফর করলেন। ওমর আবদুল্লার পাশে দাঁড়িয়ে গোর বলেন, “আমি ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং এটি ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রথমবার এখানে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। এটি অবিশ্বাস্য রকম সুন্দর জায়গা।”

    কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা

    গোরের সঙ্গে বৈঠকের আগে ওমর আবদুল্লা বলেন, তিনি কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের জন্য তিনি আমেরিকার কাছে কোনও অভিযোগ জানাবেন না বলেও স্পষ্ট করেন। ওমর বলেন, “আমাদের সমস্যার সমাধান ওয়াশিংটন থেকে আসবে না, এর সমাধান করতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকেই।” বিদেশি রাষ্ট্রদূতের কাছে নিজের দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তাঁর অভ্যাস নয় বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা অবশ্যই হবে, তবে তিনি কোনও অভিযোগ জানাবেন না বা আমেরিকার কাছ থেকে কোনও সমস্যার সমাধান চাইবেন না। গোরের সফরে জম্মু-কাশ্মীরের পাশাপাশি লাদাখ সফরও রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি লাদাখে যাবেন। জম্মু-কাশ্মীরের উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার সঙ্গেও কথা বলেন গোর।

    বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে কাশ্মীর নিরাপদ

    গত কয়েক দশক ধরে সন্ত্রাসবাদের আশঙ্কার কারণে আমেরিকা কাশ্মীর উপত্যকায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য ‘লেভেল ৪’ বা ‘ভ্রমণ না করার’ নির্দেশিকা বলবৎ রেখেছে। তবে গোরের সফরের আগে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা পিডিপি প্রধান মেহবুবা মুফতি আবেদন জানিয়েছিলেন, আমেরিকা যেন এই কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা পুনর্বিবেচনা করে তুলে নেয়, কারণ উপত্যকার হাজার হাজার পরিবার পুরোপুরি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল। এই প্রসঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আশ্বাস দিয়ে বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে এলাকাটিকে নিরাপদ ও সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে অসাধারণ সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাই হোয়াইট হাউসের সুপারিশক্রমে জারি হওয়া ভ্রমণ সতর্কতা শিথিল করা উচিত কি না, সেই বিষয়টি আমেরিকা এবার পুনর্বিবেচনা করে দেখবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার এবং এমন সব সুযোগ সৃষ্টির উপায় নিয়ে আলোচনা করেছি, যা আমাদের উভয় দেশের জন্যই পারস্পরিকভাবে লাভজনক হবে।’’ পূর্ব লাদাখ এবং লেহ্ অবশ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন নয়।

    কাশ্মীরে ঘুরতে যেতে পারবেন মার্কিন নাগরিকরা!

    ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর (US Ambassador in Kashmir) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ভূস্বর্গ কাশ্মীরে দাঁড়িয়ে ভারত সরকার প্রসঙ্গে তাঁর এই মত যথেষ্ট গুরুপূর্ণ। কাশ্মীরকে ভারতের অঙ্গ বলে তাঁর ঘোষণা আন্তর্জাতিক মহলে তাৎপর্যবহ। বুধবার গোর জানিয়েছেন, কাশ্মীর নিয়ে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা খানিক শিথিল করতে পারে আমেরিকা। তার কারণ ব্যাখ্যা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ গোর জানান, ওই এলাকায় শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় উল্লেখযোগ্য কিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেই দিকটি মাথায় রেখেই কাশ্মীর ভ্রমণ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সতর্কতা শিথিল করে, তবে তা বিদেশি পর্যটকদের কাছে কাশ্মীরকে একটি নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর

    ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার সময়েই গোরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি সন্ত্রাসবাদ দমন নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও গোরের আলোচনা হয়েছে। মার্কিন দূতের এই উচ্চপর্যায়ের সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন কেন্দ্র জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে এটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ভারত বরাবরই বলে এসেছে, জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ। অন্যদিকে, পাকিস্তান বারবার এই অঞ্চলে উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করে এসেছে। বৃহস্পতিবার গোর লাদাখে যাবেন, যা হবে ২০২০ সালের গালওয়ান সংঘর্ষ এবং চীনের সঙ্গে সীমান্ত অচলাবস্থার পর এই অঞ্চলে কোনো মার্কিন দূতের প্রথম সফর।

     

     

     

  • India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    India Embassy Slams NYT: ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলায় ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র কড়া সমালোচনা ভারতের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ হিসেবে উল্লেখ করায় মার্কিন সংবাদপত্র ‘নিউইয়র্ক টাইমসে’র তীব্র সমালোচনা করল আমেরিকার ভারতীয় দূতাবাস (India Embassy Slams NYT)। সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত শিরোনামকে “বিভ্রান্তিকর ও ভুল” বলে অভিহিত করেছে দূতাবাস। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলের বিষয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের অবস্থানও ফের একবার স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে (POK)। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে যে অস্থিরতা চলছে, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “স্থানীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হতেই পাকিস্তানি কাশ্মীরে সংঘর্ষ।” ওই প্রতিবেদনে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সময় ছড়িয়ে পড়া হিংসার ঘটনাগুলি তুলে ধরা হয়।

    শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল

    এর পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় দূতাবাস সংবাদপত্রটির ব্যবহৃত পরিভাষা প্রত্যাখ্যান করে। দূতাবাস বলেছে, “নিউইয়র্ক টাইমসের শিরোনাম বিভ্রান্তিকর ও ভুল। ‘পাকিস্তানি কাশ্মীর’ বলে কিছু নেই, রয়েছে শুধুই পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর।” দূতাবাস আরও জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ—এই দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অতীতেও ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। বেআইনিভাবে পাকিস্তানের দখলে থাকা ভূখণ্ডগুলিও ভারতের অংশ বলে দাবি করেছে তারা। ভারতীয় দূতাবাসের অভিযোগ, পাকিস্তান এখনও ওই অঞ্চলের কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং সেখানে বসবাসকারী মানুষের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করছে। দূতাবাসের বক্তব্য, “পাকিস্তান এই ভূখণ্ডগুলির কিছু অংশ বেআইনিভাবে দখল করে রেখেছে এবং এখন আবার দখল করা এলাকার মানুষের বিরুদ্ধেই হিংসা ব্যবহার করছে।” পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অস্থিরতা ক্রমেই বাড়ছে। স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই সেখানে একাধিক জায়গায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি সূত্রের দাবি, বিক্ষোভকারীদের দমন করতে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান চালায়। এতে ৩০ জনেরও বেশি সাধারণ মানুষ নিহত এবং অন্তত ৩৩ জন জখম হয়েছেন (India Embassy Slams NYT)।

    আছড়ে পড়ল বিক্ষোভের ঢেউ

    এই বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিয়েছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। মূল্যবৃদ্ধি, প্রশাসনিক অব্যবস্থা, কথিত রাজনৈতিক বৈষম্য এবং ওই অঞ্চলের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে আচরণ নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে রাওয়ালাকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত একটি দীর্ঘ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। অভিযোগ, সেই পদযাত্রার সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ করেন। ওই অঞ্চলে পাকিস্তান সরকারের  আয়োজিত নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ভারত বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে এসেছে। ভারতের অবস্থান, পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের কোনও আইনি বৈধতাই নেই (POK)। চলতি সপ্তাহের গোড়ায় ভারতের বিদেশমন্ত্রকও পাক-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের নির্বাচনকে “লোকদেখানো নির্বাচনী প্রক্রিয়া” বলে অভিহিত করে। ভারতের দাবি, বেআইনি দখলকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবেই এই নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। ওই অঞ্চলে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলি আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত (India Embassy Slams NYT)। সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে একাধিক স্থানীয় সংগঠন। তাদের মধ্যে রয়েছে জম্মু কাশ্মীর ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ফেডারেশনও (India Embassy Slams NYT)।

    প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধের দাবি

    এদিকে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির কাছেও আবেদন জানিয়েছে। তাদের দাবি, তথাকথিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত করতে হবে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে এবং দোষীদের জবাবদিহি করতে হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন করে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে রাওয়ালাকোট, মুজাফফরাবাদ-সহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতে বিপুল সংখ্যায় পাক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে (India Embassy Slams NYT)। সূত্রের আরও দাবি, একাধিক সংগঠনের স্থানীয় নির্বাচন বয়কটের সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে পাকিস্তানের প্রশাসন নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষেরই প্রতিফলন (POK)। একই সঙ্গে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থাও ক্রমশ কমছে বলে ধারণা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের।

     

LinkedIn
Share