Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

madrasa-commission-revoked-says-suvendu-adhikari

মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্বে থাকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (Madrasa Service Commission) আর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে, ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সরকারের যুক্তি, একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বাড়বে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকার কারণে যে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে এল, যখন মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে রাজ্যে ২৫২টি বেসরকারি, অনুদানহীন ও এখনও স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ওই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।

কেন এই সিদ্ধান্ত? (Madrasa Service Commission)

গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ এবং মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অননুমোদিত ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করতেও রাজ্য সরকার সম্প্রতি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কমিশনের বদলে একক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

কী কী বদল আসতে পারে?

এত দিন সাধারণ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পৃথক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। নতুন ব্যবস্থায় মাদ্রাসার অনুমোদিত উচ্চ মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা এবং জুনিয়র হাই মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে যাওয়ার কথা। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, মাদ্রাসা ও সাধারণ স্কুলের জন্য পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বদলে একই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক মেধাতালিকার পরিবর্তে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী ধাপগুলি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও পরীক্ষার ধাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করে দু’টি নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই ধরনের পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামো চালু হলে আবেদন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের কী সুবিধা?

একক কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হলে আবেদন থেকে মেধাতালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রক্রিয়া আরও কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে একই ধরনের নিয়ম মেনে নিয়োগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন করে নিয়োগবিধি প্রকাশ করতে হবে (Madrasa Service Commission)। বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন চলছে। সংরক্ষণ নীতির পরিবর্তনের কারণে শিক্ষক নিয়োগের আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মাদ্রাসা নিয়োগকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির উপরই নির্ভর করবে।

মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কি বদল?

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্তির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিশন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা এক বিষয় নয়। তাই মাদ্রাসা বোর্ডকে সরাসরি স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি আপাতত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে (Madrasa Service Commission)।

পরীক্ষার ধরন কী হবে?

মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে আগের বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সসীমা বা সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় বজায় থাকবে—এমন তথ্য এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ধাপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী হবে কি না, সেটিও নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে পূর্বে যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি শুরু হয়েছিল, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বকেয়া নিয়োগ এবং নতুন নিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কী নিয়ম কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে নতুন নিয়োগবিধি ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর (Madrasa Service Commission)।

 

Please follow and like us:

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

LinkedIn
Share