Tag: West Bengal

West Bengal

  • West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    West Bengal: স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! ভুয়ো অস্ত্রোপচার, জাল বিল, টাকার ভাগ স্বাস্থ্যকর্তাদেরও?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছুরি-কাঁচি ছাড়াই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দাবি, কোথাও আবার চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে জমা পড়েছে বিল। এমনকী, যে চিকিৎসা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতাতেই নেই, সেই চিকিৎসার নামেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে (West Bengal)। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পকে ঘিরে একের পর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতেই রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কিংবা অস্তিত্বহীন স্বাস্থ্যসাথী উপভোক্তার সন্ধান মিলেছে (Swasthya Sathi Project Scam) বলেও দাবি করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো উপভোক্তার আড়ালে সরকারি অর্থের অপচয় ও আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপানউতোর।

    রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার দুর্নীতির ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর কথায়, “সবে ওপেনিং ব্যাটসম্যান নেমেছে, তাতেই ২৫-৩০ কোটি টাকার দুর্নীতি দেখা যাচ্ছে। পুরো ইনিংস এখনও বাকি। এটা তো টি-২০ ম্যাচ নয়, তাই সময় লাগবে। আস্তে আস্তে দেখবেন আরও কত তথ্য বেরিয়ে আসে।”

    কীভাবে চলত দুর্নীতির কারবার? (West Bengal)

    স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রে বিমা সংস্থা এবং উপভোক্তার মধ্যে সংযোগ রক্ষার কাজ করে তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা। চিকিৎসার খরচ বাবদ দাবি যাচাই, অনুমোদন এবং অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করে তারা। অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রেও এই সংস্থাগুলির একাংশের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

    বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির অভিযোগ, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসার বিলের দুই থেকে দশ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ আদায় করত অভিযুক্ত তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থাগুলি। দাবি মতো টাকা না দিলে আটকে দেওয়া হত চিকিৎসার বিলের টাকা। এই চক্রের সঙ্গে স্বাস্থ্য দফতরের কয়েক জন আধিকারিকের যোগসাজশ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। তাঁদের অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত বিল পাশ করানো সম্ভব হত না বলেও অভিযোগ।

    ৪০ হাজারের অস্ত্রোপচারে বিল ২ লাখ টাকা!

    প্রতিটি অস্ত্রোপচারের জন্য স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে নির্দিষ্ট আর্থিক প্যাকেজ রয়েছে। অভিযোগ, সেই প্যাকেজের অঙ্ক বাড়িয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা দাবি করত কিছু নার্সিংহোম। উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে, ৪০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচারের প্যাকেজকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। নার্সিংহোমের তরফে বেশি টাকার আবেদন জমা পড়ার পর স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিকের অনুমোদনে তা পাশ হয়ে যেত বলে অভিযোগ। পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ ভাগ হয়ে যেত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে।

    এখানেই শেষ নয়। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের নির্ধারিত চিকিৎসা প্যাকেজের বাইরে থাকা কিছু চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সরকারি অর্থ তোলার অভিযোগ উঠেছে। এমনকী, মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে দেখিয়েও বিল জমা দেওয়া হত বলে (West Bengal) অভিযোগ।

    একজনের অস্ত্রোপচারে চারজনের কার্ড ব্যবহার!

    দুর্নীতির অভিযোগের আরও একটি চাঞ্চল্যকর দিক সামনে এনেছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন। সংগঠনের প্রতিনিধি চিকিৎসক রাজীব পাণ্ডের বক্তব্য, একটি পরিবারের চার সদস্যের নাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে নথিভুক্ত ছিল। পরিবারের একজন সদস্যের অস্ত্রোপচার হলেও বাকি তিনজনের নামও প্রকল্পের আওতায় ব্যবহার করে আটকে দেওয়া হত। ওই পরিবারের অন্য সদস্যদের নার্সিংহোমে অতিথি হিসেবে থাকার ব্যবস্থাও করা হত বলে অভিযোগ।

    অভিযোগ, বাস্তবে ২০ হাজার টাকার অস্ত্রোপচার হলেও ভুয়ো অস্ত্রোপচারের হিসাব দেখিয়ে বিল তৈরি করা হত ৮০ হাজার টাকার। অর্থাৎ, প্রকৃত চিকিৎসার খরচের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করা হত।

    ২৫ লাখেরও বেশি ভুয়ো উপভোক্তার সন্ধান?

    সম্প্রতি আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের উপভোক্তাদের যোগ্যতা যাচাই করতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা শুরু করেছে প্রশাসন। সেই যাচাইয়ের কাজেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক ভুয়ো বা অস্তিত্বহীন উপভোক্তার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে সূত্রের দাবি।

    মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল বৃহস্পতিবার এই অনিয়মের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, অস্তিত্বহীন উপভোক্তাদের নামেও বছরের পর বছর সরকারি কোষাগার থেকে বিমার প্রিমিয়াম বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ লাখ ভুয়ো বা অদৃশ্য উপভোক্তার কারণে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, উপভোক্তা যাচাইয়ের সূত্রে ২৫ থেকে ৩০ লাখ ভুয়ো কার্ডের সন্ধান পাওয়ার দাবিও সামনে (West Bengal) এসেছে।

    নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বেসরকারি হাসপাতাল সংগঠনের

    এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম। সংগঠনের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল এবং সম্পাদক রাজীব পাণ্ডে বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে স্বচ্ছ তদন্ত করে অভিযুক্ত হাসপাতাল, নার্সিংহোম, তৃতীয় পক্ষের প্রশাসনিক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি, যে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তা উদ্ধার করে সরকারি কোষাগারে ফেরানোর উদ্যোগ নিতে (Swasthya Sathi Project Scam) হবে।

    সংগঠনের বক্তব্য, কেবল অভিযুক্ত কোনও সংস্থাকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প থেকে বাদ দিলেই দায় শেষ হয়ে যায় না। দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা জরুরি।

    স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান ভারত বাতিলের দাবি চিকিৎসক সংগঠনের

    অন্যদিকে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থার বিরোধিতা করে স্বাস্থ্যসাথী এবং আয়ুষ্মান ভারত—দুই প্রকল্পই বাতিলের দাবি তুলেছে সরকারি চিকিৎসকদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টর্স ফোরাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সজল বিশ্বাসের দাবি, গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাও করতে হবে।

    তাঁদের মতে, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের পরিবর্তে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং চিকিৎসা পরিষেবার মান বাড়ানোর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাতে রাজ্যের সমস্ত মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। সংগঠনের অভিযোগ, বিমা-নির্ভর স্বাস্থ্য প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে সরকারি অর্থের অপচয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে বেসরকারি সংস্থাগুলির অন্যায্য মুনাফার সুযোগ বাড়ছে (Swasthya Sathi Project Scam)।

    স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে ভুয়ো উপভোক্তা, অতিরিক্ত বিল, অস্তিত্বহীন অস্ত্রোপচার এবং সরকারি আধিকারিকদের একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা কতটা, তা নির্ধারণ করতে প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের। সরকারি অর্থের অপচয় হয়ে থাকলে তা উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম ঠেকাতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে (West Bengal), এখন সেদিকেই নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য মহলের।

     

  • Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    Bhutan Flash Flood: ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান, বন্যা সতর্কতা জারি অসম ও বাংলার ৫ জেলায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নেপালের পর ভুটান। হিমবাহ হ্রদ ফেট হড়পা বান আছড়ে পড়ল ভুটানের (Bhutan Flash Flood) গাসা জেলায়। জলের তোড়ে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ারেও। ভুটানের লেমথাং (Lemthang) এলাকায় বড়সড় হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটেছে, ঠিক যেমনটা ঘটেছিল দুই মাস আগে নেপালে। গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (GLOF) বা হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণে উপচে পড়েছে হ্রদের জল। এই চলকে পড়া জলই মফু নদী হয়ে নামছে সঙ্কোশ নদীর দিকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদ (Shintaphu Tsho) থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত। হড়পা বানের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। পাশাপাশি পাহাড়ি রাস্তার একটি অংশে জমেছে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও ধ্বংসাবশেষ। এই ঘটনার জেরে ভারতের উত্তরবঙ্গ ও অসমের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে হড়পা বানের জেরে ভুটানে ক্ষয়ক্ষতি হলেও উত্তরবঙ্গে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর খুব একটা বাড়েনি। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তবর্তী কুমারগ্রাম ব্লকের বাসিন্দারা।

    কীভাবে ঘটল বিপর্যয়?

    ভুটানের গাসা জেলার ওয়াকিলা পর্বতের নীচে অবস্থিত শিনতাফু হ্রদটি মো চু নদী অববাহিকার উচ্চ পার্বত্য এলাকায় অবস্থিত। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই হ্রদের জল উপচে পড়ে। হ্রদটি ভুটানের ১৭টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিমবাহ হ্রদের মধ্যে অন্যতম। ভুটানের ন্যাশনাল সেন্টার ফর হাইড্রোলজি অ্যান্ড মেটিওরোলজি (NCHM)-এর এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তাকতসিমাখাং এলাকায় জলস্তর পর্যবেক্ষণের একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে প্রাথমিক খবর পাওয়ার সময় সেখানে কোনও সতর্কবার্তা সক্রিয় হয়নি। হ্রদ থেকে ঠিক কতটা জল বেরিয়েছে এবং তার প্রভাব কতদূর পর্যন্ত পড়তে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ভুটানের পুনাখা জেলার গুমা গেওগের অন্তর্গত দোচুখা-জোমলিংথাং-রিতসা চিওগ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ উত্তোলন ব্যবস্থা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরেই স্থানীয় বাসিন্দাদের জলের সমস্যা মেটাতে এই প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। হড়পা বানের জেরে বর্তমানে প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, পুনাখা-গাসা হাইওয়ের জোমলিংথাং এলাকার একটি অংশে বানের জলে ভেসে আসা পাথর ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ জমে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ভুটানের দুর্গম লায়া অঞ্চল।

    কী এই হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান?

    হিমবাহ গলে তৈরি হওয়া হ্রদে দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ জল জমা থাকে। প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বরফ, পাথর বা মাটির বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা কোনও কারণে সেই বাঁধ অতিক্রম করে জল বেরিয়ে এলে ভয়াবহ হড়পা বান তৈরি হতে পারে। একেই বলা হয় গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড (Glacial Lake Outburst in Bhutan)। পাহাড়ি উপত্যকা দিয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নেমে আসে এই জলস্রোত। সঙ্গে থাকে পাথর, কাদা, গাছের গুঁড়ি এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ। ফলে মুহূর্তের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বসতি, সেতু, রাস্তা, কৃষিজমি ও অন্যান্য পরিকাঠামো। শিনতাফু হ্রদটি পুনাতসাংছু নদী অববাহিকার মধ্যে অবস্থিত। এই নদী ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করার পর সঙ্কোশ নামে পরিচিত। ফলে ভুটানে হ্রদ ফেটে যাওয়ার ঘটনায় ভারতের নিম্ন অববাহিকার এলাকাগুলিতেও বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    উত্তরবঙ্গ ও অসমের পাঁচ জেলায় সতর্কতা

    ভুটানে হড়পা বানের খবর পাওয়ার পর ভারতের তরফে সঙ্কোশ নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার এবং অসমের ধুবড়ি জেলায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে নদী সংলগ্ন নিচু এলাকা ও বসতিগুলির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ ও বক্সিরহাট এলাকায় এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ-এর দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুই এলাকাই সঙ্কোশ নদীর কাছাকাছি এবং অসম সীমান্ত সংলগ্ন। সম্ভাব্য বিপদের কথা জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। প্রশাসনিক সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, ভুটান থেকে নেমে আসা বন্যার জল ছয় থেকে আট ঘণ্টার মধ্যে ভারত-ভুটান সীমান্তে পৌঁছতে পারে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিকে।

    বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরানোর আবেদন মন্ত্রীর

    সঙ্কোশ নদীর জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কায় আলিপুরদুয়ার জেলার নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বনমন্ত্রী তথা কুমারগ্রামের বিধায়ক মনোজ কুমার ওরাঁও। ফেসবুকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, আগামী এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে কুমারগ্রাম এলাকায় সঙ্কোশ নদীতে জলের প্রবাহ বাড়তে পারে। তাই কোনও ঝুঁকি না নিয়ে আগাম নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতার আবেদনও জানান। দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তাও সমাজমাধ্যমে জনসাধারণের উদ্দেশে সতর্কবার্তা জারি করেন। তাঁর দাবি, ভুটানের লেমথাং এলাকায় হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বান তৈরি হয়েছে। সেই জল মফু নদী হয়ে সংকোশ নদীর দিকে এগিয়ে আসছে। সংকোশ এবং তার শাখা নদীগুলির অববাহিকায় বসবাসকারী মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। দার্জিলিং পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাংসদ।

    আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ

    প্রশাসনের সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হড়পা বানের সম্ভাব্য বিপজ্জনক সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের ভারতীয় অংশে এখনও পর্যন্ত সব বাসিন্দাই নিরাপদ রয়েছেন। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষকে সরিয়ে ত্রাণশিবিরে রাখা হয়েছে। আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিত কুমার শ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ভুটানের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা সমন্বয় রেখে কাজ করছে। তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যেই প্রায় ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ মানুষকে স্কুলবাড়িতে তৈরি ত্রাণশিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৬,০০০-এর বেশি মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ-এর কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। এনডিআরএফ-এর একটি দলও পৌঁছনোর পথে রয়েছে। প্রস্তুতিতে সাহায্য করছে সিভিল ডিফেন্সের দল।

    ভারতীয় এলাকায় সবাই নিরাপদ

    ভুটান থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নদীতে জলের প্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমেছে। তবে সঙ্কোশ নদী ব্যবস্থায় এখনও রেড অ্যালার্ট জারি রয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, নদীর জলের সঙ্গে মৃত মাছ, বড় বড় গাছের গুঁড়ি, কাঠ এবং কংক্রিটের ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। কুমারগ্রাম ব্লক প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্লকের ১৮টি ত্রাণশিবিরে বাসিন্দাদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্কুল, কমিউনিটি হল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং চা-বাগানের বিভিন্ন পরিকাঠামোকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। অসমের কিছু এলাকার বাসিন্দারাও নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ত্রাণশিবিরগুলিতে শুকনো খাবার, পানীয় জল এবং শৌচাগারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার। সব মিলিয়ে ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে হড়পা বানের ঘটনায় উত্তরবঙ্গ ও অসমের নদী তীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।

     

     

     

     

     

     

  • New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    New Industrial Policy: নভেম্বরেই নবান্ন থেকে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা, বড় বিনিয়োগ টানতে একাধিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও নতুন বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে নয়া শিল্পনীতি ঘোষণা করতে চলেছে রাজ্য সরকার। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর আগামী ৫ নভেম্বর নবান্ন সভাঘর থেকে এই নীতি (New Industrial Policy) প্রকাশ্যে আনার কথা। দুর্গাপুজোর আগে নীতি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা পিছিয়ে যায়। নতুন শিল্পনীতিতে বড় শিল্প সংস্থাকে আকৃষ্ট করতে আর্থিক প্রণোদনা, দ্রুত প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা থাকতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে (West Bengal) খবর।

    জমি ব্যবহারে কড়া শর্ত (New Industrial Policy)

    নতুন শিল্পনীতিতে দ্রুত শিল্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। সূত্রের খবর, ১০০ একর বা তার বেশি জমিতে শিল্প গড়তে আগ্রহী সংস্থাগুলির জন্য এক জানালা ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন দফতরের অনুমতির জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করার সমস্যা কমতে পারে।

    শিল্পের জন্য বরাদ্দ জমি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজে লাগানোর বিষয়েও কড়া শর্ত থাকতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, জমি পাওয়ার তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু না হলে সংশ্লিষ্ট জমি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তও বিবেচনা করা হতে পারে। তবে এই শর্তগুলির চূড়ান্ত রূপ নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।

    কৃষি প্রকল্প ও জনজাতি দিবস নিয়েও সিদ্ধান্ত

    দুর্গাপুজোর পর রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে শিল্পনীতির পাশাপাশি কৃষি ও প্রশাসনিক বিষয়েও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। রাজ্য সরকারের বহুল প্রচলিত ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ৫ নভেম্বর হুগলির পুরশুড়ায় একটি জনসভা থেকে প্রায় ৪৮ লাখ নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ২,০০০ টাকা সরাসরি পাঠানোর কথা রয়েছে। ওই কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিত থাকার কথা।

    এছাড়া, যেসব প্রশাসনিক দফতর ইতিমধ্যেই তাদের বরাদ্দ বাজেটের অন্তত ৩৫ শতাংশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করেছে, তাদের পরবর্তী কিস্তির অর্থ দ্রুত ছাড়ার জন্য অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জনজাতি গৌরব দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জনজাতি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অবদানের কথা তুলে ধরতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।

    আসন্ন কালীপুজো উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, জনসেবা এবং প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করতে রাজ্যের প্রত্যেক মন্ত্রীকে একটি করে জেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উৎসবের সময় যাতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় কোনও ঘাটতি না থাকে, সে দিকে নজর রাখতেই এই উদ্যোগ বলে সূত্রের (New Industrial Policy) খবর।

    তোলাবাজি রুখতে হেল্পলাইন

    এর আগে নতুন শিল্পনীতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্ববর্তী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে শিল্পের প্রসারের বদলে ভাতা দেওয়ার উপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে মানুষ ভাতার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

    একই সঙ্গে রাজ্যে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করার কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, শিল্প স্থাপন বা ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোথাও হুমকি কিংবা তোলাবাজির মুখে পড়লে নির্দিষ্ট টোল-ফ্রি নম্বর ১৫৫-৩৩৫-এ অভিযোগ জানানো যাবে। অভিযোগ পাওয়ার পর সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও আশ্বাস (West Bengal) দিয়েছেন তিনি।

    সব মিলিয়ে, নতুন শিল্পনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ, প্রশাসনিক অনুমোদনের গতি এবং জমির যথাযথ ব্যবহার কতটা গুরুত্ব পায়, এখন সেদিকেই নজর শিল্পমহলের। আগামী ৫ নভেম্বর নীতি প্রকাশ্যে এলে রাজ্যে শিল্প স্থাপনের শর্ত ও বিনিয়োগকারীদের জন্য ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে আরও স্পষ্ট (New Industrial Policy) ধারণা মিলবে বলেই খবর।

     

  • Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    Durga Puja 2026: মোট ৫৭,৫০০টি দুর্গাপুজোর অনুমোদন, প্রতিটি কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণা! বিরাট উদ্যোগ শুভেন্দু-সরকারের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে দুর্গাপুজোর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুজো (Durga Puja 2026) কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোয় প্রায় ১২,৪০০টি অতিরিক্ত পুজোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। এর ফলে রাজ্যে মোট দুর্গাপুজোর সংখ্যা বেড়ে হল প্রায় ৫৭,৫০০। পাশাপাশি প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। পুজোর অনুমতি পাওয়ার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের যাতে অযথা প্রশাসনিক জটিলতার মুখে পড়তে না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের আমলে পুজোর অনুমতি ও প্রশাসনিক বিধিনিষেধ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান পদক্ষেপের তুলনা টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়।

    ২০২৫ সালের তুলনায় বেড়েছে পুজোর সংখ্যা

    সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে রাজ্যে প্রায় ৪৫,০০০টি কমিউনিটি দুর্গাপুজো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৫৭,৫০০ হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নতুন করে অনুমোদন পাওয়া পুজো কমিটিগুলিও উৎসব আয়োজনের অনুমতি পেয়েছে। কলকাতায় অতিরিক্ত পুজোর সংখ্যা প্রায় ৪০০ বলে জানানো হয়েছে। নতুন পুজোর অনুমোদন এবং আর্থিক সহায়তার ফলে বিভিন্ন এলাকার পুজো উদ্যোক্তারা উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগের বছরের তুলনায় এ বছর ১২,৪০০টি পুজো বেড়েছে। পুজোর অনুমতি পেতে উদ্যোক্তাদের যাতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ঘুরতে না হয়, সেই ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও তাঁর বক্তব্য।

    পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান

    দুর্গাপুজোর প্রস্তুতিতে আর্থিক সহায়তা দিতে প্রতিটি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ১১ অক্টোবর থেকে অনুদান বণ্টন শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ২০০টিরও বেশি পুজো কমিটি এই অনুদান নিতে অস্বীকার করেছে। তাদের একাংশের অনুরোধ, শহরের বড় পুজোর পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলের পুজো কমিটি এবং মহিলাদের পরিচালিত পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। প্যান্ডেল নির্মাণ, আলোকসজ্জা, বিদ্যুৎ সংযোগ এবং অন্যান্য আয়োজনের খরচ সামলাতে এই অনুদান পুজো উদ্যোক্তাদের কাজে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

    দেবীপক্ষে উৎসবে ভেসেছে রাজ্য

    দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ চলাকালীন পুজোর উদ্বোধন না করে দেবীপক্ষের সূচনার সঙ্গে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তা মেনে নিয়েছে পুজো উদ্যোক্তাগুলি। প্রচলিত হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণের সময়। মহালয়ার মধ্য দিয়ে পিতৃপক্ষের অবসান ঘটে এবং দেবীপক্ষের সূচনা হয়। দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত এই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই মতোই দেবীপক্ষের শুরু থেকেই উৎসবে ভেসেছে রাজ্যবাসী।

    জেলায় ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী

    এবার দুর্গোৎসবে শুধু কলকাতা নয়, জেলার পুজোতেও বিশেষ গুরুত্ব মুখ্যমন্ত্রীর। ভার্চুয়ালি নয়, সরাসরি পুজোমণ্ডপে উপস্থিত হয়ে উদ্বোধনের কর্মসূচি নিয়েছেন তিনি। তৃতীয়ার দিন নদিয়ার রানাঘাট থেকে জেলা সফরে পুজো উদ্বোধন কর্মসূচির সূচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক পুজোর উদ্বোধন করেছিলেন তিনি। পঞ্চমীতে দ্বিতীয় দফায় জেলা সফরে বেরিয়ে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরের পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সপ্তমীতেও জেলা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পরপর কয়েক দিন জেলা সফরের কর্মসূচি সাজানো হয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্মের পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে জেলার মানুষের সঙ্গে সরাসরি জনসংযোগেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া, নন্দীগ্রাম-সহ একাধিক এলাকায় পাঁচটি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর।দুর্গাপুজোর আবহকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দিতে ষষ্ঠীর আগের চার দিন দুর্গাপুর, বিষ্ণুপুর, শিলিগুড়ি, কোচবিহার, মালদহ, বহরমপুর এবং দীঘায় বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের কথা জানানো হয়েছে। কলকাতায় বড় পুজোর পাশাপাশি জেলা ও মফস্বলের উৎসবেও যাতে সমানভাবে সাংস্কৃতিক আবহ তৈরি হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।

    বিদ্যুতের চাহিদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি

    বিপুল সংখ্যক পুজো এবং আলোকসজ্জার কারণে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের অনুমান অনুযায়ী, উৎসবের দিনে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ১৪,০০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। যাদবপুর পুলিশ ডিভিশনের অধীনে প্রায় ৬৮৫টি দুর্গাপুজো পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে।

    প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

    রাজ্যে পুজোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং ভিড় সামলানো প্রশাসনের কাছে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। পুজোর অনুমোদন দ্রুত দেওয়া এবং আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উৎসবের দিনগুলিতে নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখা কতটা সম্ভব হয়, সেদিকেও নজর থাকবে। পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন, প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিদ্যুৎ, নিরাপত্তা ও যান চলাচলের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা যায়।

  • Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    Lok Sabha Elections 2029: বাংলার ৪২ আসনই মোদিকে ‘উপহার’ দেওয়ার অঙ্গীকার শুভেন্দুর, উন্নয়নে গুজরাটের পথ অনুসরণের বার্তা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছরের প্রশাসনিক যাত্রা পূর্তির অনুষ্ঠানে গুজরাটের ভাডনগরে দাঁড়িয়ে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (Lok Sabha Elections 2029) পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনই বিজেপির দখলে আনার অঙ্গীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মোদির নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ঘোষণা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি (Suvendu Adhikari) যে পথে গুজরাটের উন্নয়ন করেছিলেন, সেই পথ অনুসরণ করেই বাংলার উন্নয়ন করতে চান তিনি।

    সলতে পাকানোর কাজ শুরু বিজেপির (Lok Sabha Elections 2029)

    ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। বাংলার কোন কোন আসনে বিজেপির জয় তুলনামূলক ভাবে নিশ্চিত এবং কোথায় লড়াই কঠিন হতে পারে, তা নিয়েও দলের সাংগঠনিক স্তরে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

    এই আবহেই বুধবার শুভেন্দু দাবি করেন, আগামী লোকসভা নির্বাচনে বাংলার ৪২টি আসনেই বিজেপি প্রার্থীদের জেতানোর লক্ষ্যে তাঁরা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবেন। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, পরবর্তী লোকসভা ভোটে বাংলার সব আসন মোদিজিকে উপহার দেব।”

    মোদির প্রশাসনিক জীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে বিজেপির তরফে একাধিক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্যে দিয়ে মোদির প্রশাসনিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৭ অক্টোবর সেই যাত্রার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। সেই উপলক্ষেই বিজেপির তরফে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভাডনগরের অনুষ্ঠানে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে তোষণের রাজনীতির অভিযোগও তোলেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় এতদিন তুষ্টিকরণের রাজনীতি চলছিল। মোদিজি না-থাকলে বাংলাকে বাঁচানো মুশকিল হত। তাই মোদিকে কোটি কোটি প্রণাম। মোদিজি বাংলার সনাতনী এবং রাষ্ট্রবাদী জনতাকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন।” এর পরেই মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ২০২৯ সালের ভোটে বাংলার সব আসন বিজেপিকে জেতানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

    ‘গুজরাটের মতো বাংলার উন্নয়ন করতে চাই’

    শুধু লোকসভা নির্বাচনের আসন জয়ের অঙ্গীকার নয়, বাংলার উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুজরাটকে অনুসরণ করার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। মোদির মুখ্যমন্ত্রিত্বের সময় গুজরাটে যে ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে, বাংলাতেও সেই ধাঁচে কাজ করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।

    শুভেন্দুর কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি গুজরাটে যে রকম কাজ করেছেন, সে রকম কাজ আমি পশ্চিমবঙ্গে করার চেষ্টা করছি (Lok Sabha Elections 2029)।”

    ভাডনগরে পৌঁছে নিজের অনুভূতির কথাও জানান তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ভাডনগরের হেলিপ্যাডে নেমে প্রথমে এই মাটিকে প্রণাম করেছি। কপালে সেই মাটি ঠেকিয়েছি।”

    মোদি ২০১৪ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘ সময় গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে গুজরাটের উন্নয়নকে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দলের অন্যতম প্রধান সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে আসছে। সেই উন্নয়নধারাকেই বাংলায় অনুসরণ করার কথা এ দিন স্পষ্ট করেন শুভেন্দু।

    ‘বিরোধীশূন্য বাংলা’র ডাক ঘিরে বিরোধীদের আক্রমণ

    তবে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বাংলাকে কার্যত বিরোধীশূন্য করার যে বার্তা শুভেন্দু দিয়েছেন, তা নিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছেন বিরোধীরা।

    সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “মাত্র দু’টি বিধানসভার উপনির্বাচনে আমরা দেখলাম, পুলিশকে দিয়ে পোলিং এজেন্ট, ভোটারদের উপরে অত্যাচার করা হয়েছে। বিরোধী-শূন্য করার জন্য শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে আগে যেভাবে পঞ্চায়েত দখল করতেন, এখন বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে তা আরও চরমে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।”

    তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের দাবি, “বাংলার সব লোকসভা আসনে জেতার আশ্বাস তিনি জ্ঞানেশ কুমারের ভরসায় দিয়েছেন। কিন্তু জল অতদূর গড়াবে না। কেন্দ্রে বিজেপির সরকার হবে না। রাজ্যেও ওদের আসন কমবে।”

    কলকাতা থেকে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা

    এর আগে বুধবার সকালে কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’র সূচনা করেন শুভেন্দু। সেখানে মোদির কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “উনি নিজেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন না। বলেন প্রধান সেবক। শুধু বলেন না, সেভাবেই নিজের কাজ করেন। আমাদের কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা মোদিজি।”

    বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এ দিন কোচবিহারে ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নেন। তিনি বলেন, “মোদিজির দীর্ঘ সেবাময় জীবনের এই অধ্যায় থেকে আমাদের শিক্ষা একটাই— সংগঠন তখনই শক্তিশালী হয়, যখন কর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হন। তাই আগামী দিনের পথেও আমাদের লক্ষ্য থাকবে মানুষের পাশে থাকা, সমাজের জন্য কাজ করা এবং দেশের উন্নয়নের যাত্রায় নিজেদের ভূমিকা পালন (Suvendu Adhikari) করা।”

    ২০২৯-এর লোকসভা নির্বাচন এখনও বছর তিনেক দূরে। তার আগেই বাংলার ৪২টি আসন জয়ের লক্ষ্য ঘোষণা করে বিজেপির রাজনৈতিক লড়াইয়ের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু। এখন দেখার, এই ‘৪২-এ ৪২’ লক্ষ্যকে সামনে রেখে (Lok Sabha Elections 2029) আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিতে বিজেপি কী কৌশল নেয়।

     

  • Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    Mohan Bhagwat: তিনদিনের সফরে বর্ধমানে মোহন ভাগবত, শাখা বিস্তার- সাংগঠনিক পরিবর্তন নিয়ে বৈঠক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, বৃহস্পতিবার রাজ্যে আসছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। তিন দিনের সফরে বর্ধমানে থাকবেন তিনি। সফর ঘিরে একাধিক কর্মসূচি থাকলেও, মূলত সাংগঠনিক বিষয় নিয়েই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করার কথা সংঘপ্রধানের। উত্তরবঙ্গ, মধ্যবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের স্বয়ংসেবকদের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান বিভাগের (Burdwan) ক্ষেত্রপ্রমুখদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

    বর্ধমানে ভাগবত (Mohan Bhagwat)

    জানা গিয়েছে, ট্রেনে সরাসরি বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছবেন ভাগবত। সেখান থেকে বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে মূলত দু’টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যে, বিশেষ করে পূর্ব বর্ধমান জেলা-সহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও পর্যন্ত কতগুলি শাখা বৃদ্ধি পেয়েছে, সেই সংক্রান্ত সাংগঠনিক তথ্য নেবেন সংঘপ্রধান। পাশাপাশি আগামী এক বছরের কর্মসূচি নিয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    বর্ধমান শহরের উল্লাসে সংঘের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পর বর্ধমান মডেল স্কুলেও যাবেন ভাগবত। সেখানে সংঘের কর্মীদের একটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। সন্ধ্যায় ফের বর্ধমানে সংঘের কর্মীদের স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

    পরদিন, শুক্রবার সকালে সংগঠনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভাগবত। এরপর তিনি যাবেন সংঘের নতুন কার্যালয়ে। দিনভর সেখানে বিভিন্ন সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে একাধিক বৈঠক হওয়ার কথা। তাঁর সঙ্গে বর্ধমানে থাকার কথা সংঘের সাধারণ সম্পাদক দত্তাত্রেয় হোসাবলেরও।

    সংঘ সূত্রে খবর, সংগঠনের সাংগঠনিক কাঠামোয় বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে চলেছে। বর্ধমান সফরে সেই বিষয়গুলিও আলোচনায় উঠে আসতে পারে। বৈঠক শেষে বর্ধমান বিভাগের সংঘকর্মীদের সঙ্গে আলাদা করে দেখা করার কথা রয়েছে ভাগবতের।

    সংঘ কর্তার ঠাসা কর্মসূচি

    এই সফরে মধ্যবঙ্গের বিভিন্ন এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন সংঘপ্রধান। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, হুগলি, নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের একাংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। দেওয়ানদিঘির একটি স্কুলের হলঘরেও প্রায় ১২০০ প্রতিনিধির সঙ্গে তাঁর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে উল্লাসে সংঘের কার্যালয়ে যাবেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যের সংঘের শীর্ষ পদাধিকারীরাও উপস্থিত থাকবেন।

    সংঘ সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বহু শাখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেই শাখাগুলির বেশ কিছু ফের চালু হয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় শাখা খোলার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। সেই সাংগঠনিক বিস্তার নিয়েও ভাগবতের সফরে আলোচনা হতে পারে (Mohan Bhagwat)।

    বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে ভাগবত বলেছিলেন, “আরএসএসের দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে। যে কেউ প্রবেশ করতে পারেন।” সেই সফরে টানা কয়েক দিন বর্ধমানে ছিলেন সংঘপ্রধান।

    রাজ্যে সংঘের ভূমিকার দিক নির্দেশ

    সংঘের এক নেতার দাবি, রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার পিছনে সংগঠনের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তাঁরা কাজ করেছেন। কিন্তু সরকার গঠনের পর স্থানীয় স্তরে সংঘের কর্মীরা আগের মতো গুরুত্ব পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকী তাঁদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ওই নেতার। আগামী দিনে রাজ্যে সংঘের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও ভাগবতের সঙ্গে কর্মীদের আলোচনা হতে পারে। কর্মীদের বক্তব্য সরাসরি শোনার জন্যও সময় নির্ধারণ করা হয়েছে বলে আরএসএস সূত্রে খবর(Mohan Bhagwat)।

    আর এক সংঘনেতার বক্তব্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর বিভিন্ন জেলায় একাধিক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তোলাবাজি বা জরিমানা আদায়ের মতো ঘটনায় বিজেপি নেতাদের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আগামী দিনে সংগঠন বিস্তারের ক্ষেত্রে পুরনো কর্মীদের আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় উঠতে পারে।

    বিজেপির জয়ে সংঘ প্রধানের অবদান

    তবে ভাগবতের এবারের সফরের সমস্ত কর্মসূচিই অভ্যন্তরীণভাবে আয়োজন করা হচ্ছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে বর্ধমানে এসে সংঘপ্রধান প্রকাশ্যে সভা করেছিলেন এবং টানা কয়েক দিন সেখানে (Burdwan) ছিলেন। সেই সফরের পর বিজেপি বর্ধমান-সহ মধ্যবঙ্গে উল্লেখযোগ্য ফল করেছিল বলে মনে করে সংঘ ও বিজেপির একাংশ। এবার আগামী লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতেও এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে (Mohan Bhagwat) বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের একাংশের।

     

  • Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    Madrasa Service Commission: মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত, এবার মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগও স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য সরকার। মাদ্রাসায় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের দায়িত্বে থাকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (Madrasa Service Commission) আর থাকছে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠকে জানিয়েছেন, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে এবার থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসাগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন তুলে দেওয়া হয়েছে, ওটা স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।” সরকারের যুক্তি, একই নিয়োগ কাঠামোর আওতায় স্কুল ও মাদ্রাসায় শিক্ষক নিয়োগ হলে প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সমতা বাড়বে। নিয়োগের ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ব্যবস্থা থাকার কারণে যে প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতা তৈরি হত, তা কমানো সম্ভব হবে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত এমন একটা সময়ে এল, যখন মাদ্রাসাগুলির অনুমোদন, পরিকাঠামো এবং নিয়োগ ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে রাজ্যে ২৫২টি বেসরকারি, অনুদানহীন ও এখনও স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা মাদ্রাসা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ওই মাদ্রাসাগুলির অধিকাংশই মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় অবস্থিত।

    কেন এই সিদ্ধান্ত? (Madrasa Service Commission)

    গত কয়েক বছর ধরে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ এবং মাদ্রাসাগুলির স্বীকৃতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেক ক্ষেত্রে নথিতে প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলেও বাস্তবে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন সামনে এসেছে। অননুমোদিত ও বেসরকারিভাবে পরিচালিত মাদ্রাসাগুলির তথ্য যাচাই করতেও রাজ্য সরকার সম্প্রতি সমীক্ষা ও তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করে। অতীতে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে হওয়া নিয়োগ নিয়েও আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নিয়োগের ক্ষেত্রে পৃথক কমিশনের বদলে একক ব্যবস্থার দিকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

    কী কী বদল আসতে পারে?

    এত দিন সাধারণ স্কুলের শিক্ষক নিয়োগ এবং মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ পৃথক কমিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হত। নতুন ব্যবস্থায় মাদ্রাসার অনুমোদিত উচ্চ মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা এবং জুনিয়র হাই মাদ্রাসায় শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের দায়িত্ব স্কুল সার্ভিস কমিশনের হাতে যাওয়ার কথা। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে। প্রথমত, মাদ্রাসা ও সাধারণ স্কুলের জন্য পৃথক নিয়োগ প্রক্রিয়ার বদলে একই কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হতে পারে। মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগের জন্য পৃথক মেধাতালিকার পরিবর্তে অভিন্ন নিয়োগ কাঠামো চালু করার সম্ভাবনা রয়েছে। দ্বিতীয়ত, নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, পরীক্ষা, মেধাতালিকা এবং পরবর্তী ধাপগুলি স্কুল সার্ভিস কমিশনের নির্ধারিত নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগের নতুন বিধি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা ও পরীক্ষার ধাপ সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। তৃতীয়ত, চাকরিপ্রার্থীদের আলাদা করে দু’টি নিয়োগ ব্যবস্থার জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। একই ধরনের পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামো চালু হলে আবেদন ও প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও সুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    চাকরিপ্রার্থীদের কী সুবিধা?

    একক কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ পরিচালিত হলে আবেদন থেকে মেধাতালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রক্রিয়া আরও কেন্দ্রীভূত হবে। ফলে একই ধরনের নিয়ম মেনে নিয়োগ পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। চাকরিপ্রার্থীদের একাংশের মতে, আলাদা কমিশনের পরিবর্তে একটি কেন্দ্রীয় নিয়োগ ব্যবস্থার ফলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে। ভবিষ্যতে একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার বিভিন্ন শূন্যপদের জন্য আবেদন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। তবে এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে হলে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে নতুন করে নিয়োগবিধি প্রকাশ করতে হবে (Madrasa Service Commission)। বর্তমানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও একাধিক পরিবর্তন চলছে। সংরক্ষণ নীতির পরিবর্তনের কারণে শিক্ষক নিয়োগের আগের তালিকা বাতিল করে নতুন তালিকা প্রকাশের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে মাদ্রাসা নিয়োগকে নতুন ব্যবস্থায় কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা কমিশনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির উপরই নির্ভর করবে।

    মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রেও কি বদল?

    মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্তির সঙ্গে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক কাঠামোয়ও পরিবর্তন আসতে পারে বলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে নিয়োগ কমিশন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ভূমিকা এক বিষয় নয়। তাই মাদ্রাসা বোর্ডকে সরাসরি স্কুল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে আনা হচ্ছে—এমন কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা সরকারি ভাবে স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। নতুন ব্যবস্থায় মূল পরিবর্তনটি আপাতত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগকে কেন্দ্র করেই। স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে পরিচালিত হবে, তার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা প্রকাশের পরই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে (Madrasa Service Commission)।

    পরীক্ষার ধরন কী হবে?

    মাদ্রাসা শিক্ষক নিয়োগে আগের বয়সসীমা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা একই থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। তাই ১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সসীমা বা সংরক্ষিত শ্রেণির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় বজায় থাকবে—এমন তথ্য এখনই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে লিখিত পরীক্ষা, বাছাই, সাক্ষাৎকার এবং অন্যান্য ধাপ স্কুল সার্ভিস কমিশনের প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী হবে কি না, সেটিও নতুন নিয়োগবিধি প্রকাশের পর স্পষ্ট হবে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অধীনে পূর্বে যে নিয়োগ প্রক্রিয়াগুলি শুরু হয়েছিল, সেগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বকেয়া নিয়োগ এবং নতুন নিয়োগ—দুই ক্ষেত্রেই কী নিয়ম কার্যকর হবে, সেই বিষয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকার অপেক্ষায় রয়েছেন প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন বিলুপ্ত করে স্কুল সার্ভিস কমিশনের অধীনে মাদ্রাসার নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের সূচনা হল। তবে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে নতুন নিয়োগবিধি ও সরকারি বিজ্ঞপ্তির উপর (Madrasa Service Commission)।

     

  • Suvendu Adhikari: পুজোর আগেই বড় ঘোষণা, রাজ্যে ১৪,৪৫৪ পদে নিয়োগের ছাড়পত্র, ১২ হাজার পুলিশকর্মীকে নিয়োগপত্র ১১ অক্টোবর

    Suvendu Adhikari: পুজোর আগেই বড় ঘোষণা, রাজ্যে ১৪,৪৫৪ পদে নিয়োগের ছাড়পত্র, ১২ হাজার পুলিশকর্মীকে নিয়োগপত্র ১১ অক্টোবর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগেই রাজ্যবাসীর জন্য একাধিক বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে তিনি জানান, বিভিন্ন সরকারি দফতরে মোট ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন পদে নিয়োগের প্রস্তাবে মন্ত্রিসভা ছাড়পত্র দিয়েছে। ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে (Police Recruitment)। রাজ্য পুলিশ ও কলকাতা পুলিশের প্রায় ১২ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়েছে। আগামী ১১ অক্টোবর প্রথম দফায় যোগ্য প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কর্মসংস্থান নিয়ে মানুষের বিরাট প্রত্যাশা আছে। আগের সরকার চাকরি চুরি করেছে, চাকরি দেয়নি, আপনার চাকরি ওবিসির জট পাকিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এই সরকার ১২ হাজার কনস্টেবলের নিয়োগ করেছে। পিএসসির পরীক্ষা চালু হয়েছে। আপনারা তো নেতিবাচক হলেই দেখান যে, পরীক্ষা শুরু হল না! কিন্তু অনেকগুলো পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। পিএসসি এখন সমস্ত বাকি পড়ে যাওয়া পরীক্ষা নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা ১ লাখ  চাকরি দেব। একদম নিশ্চিন্তে থাকুন। সব মিলিয়ে ১ লাখ চাকরি দেবে রাজ্য সরকার। এই অর্থবর্ষে আমরা নিয়োগপত্র দিয়ে দেব।”

    বিভিন্ন দফতরে ১৪,৪৫৪ পদে নিয়োগ (Suvendu Adhikari)

    মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিভিন্ন দফতর মিলিয়ে মোট ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন নিয়োগের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, রাজ্য লোকসেবা কমিশন এবং পুলিশ নিয়োগ পর্ষদের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, আইন, গণশিক্ষা, সম্প্রসারণ ও গ্রন্থাগার পরিষেবা, বন, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা, সংশোধনাগার-সহ একাধিক দফতরে নিয়োগ হবে। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন শাখাতেও নিয়োগ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হবে।

    ১১ অক্টোবর পুলিশের প্রথম দফার নিয়োগপত্র

    পুলিশে নিয়োগের বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেবীপক্ষে সব করব। পিতৃপক্ষে শুভ কাজ হয় না। দেবীপক্ষ শুরু হয়ে যাবে ১০ তারিখ। ১১ তারিখে আমরা পুলিশের প্রথম ব্যাচকে নিয়োগপত্র তুলে দেব। আমি নিজে থাকব সেখানে।” প্রায় ১২ হাজার পুলিশকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই অধিকাংশ প্রার্থীর বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। যাঁদের শারীরিক পরীক্ষা, নথিপত্র যাচাই-সহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ১১ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের হাতে ওই দিন নিয়োগপত্র ও পুলিশের পোশাক তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Suvendu Adhikari)। এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে ভগিনী নিবেদিতা প্রকল্পেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী অবিবাহিতা ছাত্রীরা এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাবেন। প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে ১৭ হাজার টাকা করে এবং তৃতীয় বছরে ১৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে। অর্থাৎ তিন বছরে মোট ৫০ হাজার টাকা সহায়তা পাবেন উপযুক্ত ছাত্রীরা। আগামী জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্পের অর্থ দেওয়া শুরু হবে (Police Recruitment)।কর্মবন্ধুদের মাসিক ভাতাও বাড়ানোর ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এতদিন তাঁরা মাসে ৫ হাজার টাকা করে পেতেন। সেই ভাতা বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। চলতি অক্টোবর মাস থেকেই বর্ধিত ভাতা কার্যকর হবে।

    তফশিলি পড়ুয়াদের খাবারের বরাদ্দ বাড়ল

    হস্টেলে থাকা তফশিলি জাতি ও উপজাতি পড়ুয়াদের খাবারের জন্য বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। মাসিক খাবারের ভাতা ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩০০ টাকা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের তফশিলি জাতি এবং উপজাতি পড়ুয়া যারা হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে, তাদের খাওয়ার জন্য বরাদ্দ আমরা অনেকটাই বৃদ্ধি করলাম।”

    ১০ অক্টোবর থেকে ১১২ জরুরি পরিষেবা

    রাজ্যে দ্রুত পুলিশি পরিষেবা পৌঁছে দিতে ১১২ নম্বরের জরুরি পরিষেবা চালুর কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ১০ অক্টোবর, মহালয়ার দিন থেকে এই পরিষেবা চালু হবে। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পুলিশের সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে (Police Recruitment)। সব মিলিয়ে পুজোর আগে নিয়োগ, শিক্ষা, কর্মবন্ধুদের ভাতা এবং পুলিশি পরিষেবা—একাধিক ক্ষেত্রে একগুচ্ছ ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এর মধ্যে ১৪ হাজার ৪৫৪টি নতুন নিয়োগ এবং চলতি অর্থবর্ষে মোট ১ লাখ চাকরি দেওয়ার ঘোষণা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ (Suvendu Adhikari)।

     

  • Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    Paschim Banga: সব ভাষাতেই এক নাম! রাজ্যের ইতিহাস ও আবেগের মিশ্রণে নাম হবে একটাই – ‘পশ্চিমবঙ্গ’, জানালেন শমীক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের নাম বদলে ‘বাংলা’ করতে চেয়েছিল তৃণমূল সরকার। বিলও পাস করিয়েছিল বিধানসভায়। কিন্তু কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। তৃণমূলের চাওয়ায় যে তাদের আপত্তি আছে, ক্ষমতায় আসার আগে জানিয়ে দিয়েছিল বিজেপি (BJP)। তারা রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ (Paschim Banga) রাখার পক্ষপাতী। বাংলাতে তো বটেই, ইংরেজিতেও। বিধানসভার পরের অধিবেশনেই এই মর্মে বিল (West Bengal Assembly Bill) আসতে চলেছে, সোমবার জানিয়ে দিলেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সোমবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে দলের রাজ্যসভার সাংসদ শমীক স্পষ্ট ভাষায় জানান, “এখন থেকে আর কোনও ওয়েস্ট বেঙ্গল, কোনও বাংলা বা কোনও পশ্চিম বাংলা নয় (West Bengal Name Change)। এবার থেকে সব ভাষাতেই কেবল ‘পশ্চিমবঙ্গ’ নাম হবে।”

    ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’

    সোমবারের সাংবাদিক বৈঠকে শমীক ভট্টাচার্য জানান, ইংরেজিতেও ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল’-এর পরিবর্তে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ই লেখা হবে। সম্প্রতি কেরল রাজ্যের নাম বদলে ‘কেরলম’ করার বিল যখন রাজ্যসভায় আলোচনার জন্য আসে, তখনও শমীক সংসদের কক্ষে দাঁড়িয়ে সব ভাষাতেই রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার দাবি তুলেছিলেন। প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজ থেকে শুরু করে ইংরেজি নথিপত্র- সর্বত্রই লেখা হবে একই নাম।

    নামের পেছনে ইতিহাস ও আবেগ

    রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাখার পেছনে ঐতিহাসিক তাৎপর্য এবং শহীদদের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেন শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “আমরা যারা পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসছি, তাদের নির্দিষ্ট একটা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অতীত রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গলের বদলে শুধু ‘বাংলা’ করলে সেদিন দেশভাগের সময়ে যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, যারা রক্তস্নান করেছিলেন, তাঁদের সেই অপরিসীম অবদান বিস্মৃত হয়ে যাব। পশ্চিমবঙ্গের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে এই নামের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। তাই এই ঐতিহ্যবাহী নামই যাতে স্থায়ী হয়, তার জন্যই আসন্ন বিধানসভা অধিবেশনে বিল আনা হচ্ছে।” আইনি নিয়ম অনুযায়ী যেকোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তন করতে হলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট রাজ্য বিধানসভায় প্রস্তাব পাস করাতে হয়, সেই প্রক্রিয়াই শুরু করতে চলেছে দল।

    নাম বদলে প্রশাসনিক জটিলতা

    প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে রাজ্যের নাম পরিবর্তনের চিন্তাভাবনা নতুন নয়। দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারি বৈঠকে ইংরেজি বর্ণমালার ক্রমানুসারে (Alphabetical Order) রাজ্যগুলোর নাম ডাকা হয়। ফলে ‘West Bengal’-এর ডাক আসে একেবারে শেষের দিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর শেষ বক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে নির্ধারিত সময় অনেকটাই কমে যায়। তাই বাম জমানাতেই ১৯৯৯ সালের ২০ জুলাই বিধানসভায় প্রথম প্রস্তাব আসে সব ভাষাতে রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ করার। তবে আলোচনার পর সর্বসম্মতিক্রমে ‘বাংলা’ নামটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে সেই প্রক্রিয়া থমকে যায়।

    তিনটি ভাষায় তিনটি নাম

    ২০১৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় মেয়াদে সরকারে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ফের তৎপরতা বাড়ে। সেবছর ২ অগস্ট রাজ্য মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া প্রস্তাবে বাংলা ভাষায় ‘বাংলা’, ইংরেজিতে ‘বেঙ্গল’ এবং হিন্দিতে ‘বঙ্গাল’ – এই তিনটি নাম রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু বামেদের আপত্তি এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সেই চেষ্টা বাতিল হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, তিনটি নয়, রাজ্যের নাম হতে হবে একটিই। এরপর ২০১৮ সালের ২৬ জুলাই বিধানসভায় নতুন করে প্রস্তাব পাস করিয়ে কেবল ‘বাংলা’ নামটি চূড়ান্ত করে কেন্দ্রকে পাঠানো হয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে সাযুজ্যের কারণে এই নামে অনেকে আপত্তি জানালেও বিধানসভায় এ বার সর্বসম্মতিতেই গৃহীত হয় প্রস্তাব। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করলেও বিষয়টি এগোয়নি।

    রাজ্যের নাম বদলের প্রক্রিয়া

    কোনও রাজ্যের নাম বদলের ক্ষেত্রে কয়েকটি ধাপ আছে । প্রথমত, নাম বদল সংক্রান্ত বিল সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিধানসভায় পাশ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠাতে হয় । সেখান থেকে বিল যায় রাষ্ট্রপতির কাছে । বিল নিয়ে চর্চার পর তিনি যদি মনে করেন কোনও অংশ স্পষ্ট নয় বা তাঁর যদি অতিরিক্ত প্রশ্ন থাকে তবে সে ব্যাপারে তিনি ওই রাজ্যের বিধানসভার কাছে জানতে চাইতে পারেন । উত্তরে সন্তুষ্ট হলে রাষ্ট্রপতির থেকে বিল যাবে সংসদে । লোকসভা বা রাজ্য়সভায় বিল পেশ করে সেটিকে পাশ করাতে হবে । এরপর শেষ ধাপ । সংসদ থেকে বিল যাবে রাষ্ট্রপতির কাছে । তিনি চূড়ান্ত মান্যতা দিলে তবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নাম পাল্টে যাবে ।

    কেন নাম পশ্চিমবঙ্গ

    ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের নাম “পশ্চিমবঙ্গ” রাখার মূল কারণ হলো ১৯৪৭ সালের ঐতিহাসিক দেশভাগ এবং অবিভক্ত বাংলার ভৌগোলিক বিভাজন। বাংলা একটি একক ও বৃহৎ অঞ্চল ছিল, যার মধ্যে বর্তমান বাংলাদেশ (তৎকালীন পূর্ববঙ্গ) এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ অন্তর্ভুক্ত ছিল। বাংলা প্রদেশটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। পূর্ববঙ্গ (যা পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ হয়)। অন্যদিকে, বাংলার পশ্চিম দিকের অংশটি ভারতের সঙ্গে থেকে যায়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। অর্থাৎ, এটি ভারতের পূর্ব দিকে অবস্থিত হলেও মূলত ঐতিহাসিক ‘বঙ্গ’ ভূমির সাপেক্ষে পশ্চিম অংশ বোঝাতেই এই নাম ব্যবহৃত হয়।

    ভারতীয় সংবিধানে নাম বদল নিয়ে সমস্যা

    ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী, কোনও রাজ্যের নাম বদলাতে হলে বিধানসভার পাস হওয়া প্রস্তাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, রেল, ডাক বিভাগ ও গোয়েন্দা দফতরের অনুমোদন শেষে সংসদে সংবিধান সংশোধনী বিল হিসেবে পেশ করতে হয়। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরেই তা আইনি রূপ পায়। সম্প্রতি রাজ্যসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাইও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, সংসদে নাম বদল সংক্রান্ত কোনও বিল পেশ হয়নি। রাজ্যের পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষাপটে আড়াই দশক পরে নামবদলের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত আকার নেয় কি না, সেটাই এবার দেখার।

     

     

     

     

  • Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    Suvendu Adhikari: বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, ‘লাভ জিহাদ’ ও ‘ল্যান্ড জিহাদ’ নিয়ে কড়া আইন, ছ’মাস সময় চাইলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) চালুর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। আগামী ছ’মাসের মধ্যে ‘লাভ জিহাদ’ এবং ‘ল্যান্ড জিহাদে’র বিরুদ্ধে কড়া আইন আনার কথাও জানিয়েছেন (UCC) তিনি। রবিবার কলকাতায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি অশোক সিঙ্ঘলের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

    বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দু জানান, উত্তরাখণ্ড ও গুজরাটের মডেল অনুসরণ করে বাংলাতেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে রাজ্য সরকারের। তাঁর কথায়, “আমাদের ছ’মাস সময় দিন। লাভ জিহাদ এবং ল্যান্ড জিহাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনও আনা হবে।”

    বাংলায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধির খসড়া তৈরির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার এবং দত্তক গ্রহণ সংক্রান্ত নাগরিক আইনগুলিকে অভিন্ন করার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত বিধির খসড়া তৈরি করা হচ্ছে।

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, তাঁর সরকার সংবিধান মেনেই কাজ করবে। তবে ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতন ঐতিহ্য, মন্দির, মঠ এবং দেশের ঐতিহ্যের উপর কোনও ধরনের আক্রমণ বরদাস্ত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

    বাংলায় কোনও দেশবিরোধী কার্যকলাপ সরকার মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু। সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং বিভাজনকারী শক্তির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বানও জানান তিনি।

    শুভেন্দুর বক্তব্য, স্বামী বিবেকানন্দ এবং মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য যে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরেছিলেন, সেই সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের উপর কোনও আঘাত বরদাস্ত করা হবে না। তাঁর দাবি, সংবিধানের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রেখেই সরকার কাজ করবে।

    তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী

    এদিন পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকারের পতনের একাধিক কারণ ছিল। তবে হিন্দুদের আবেগ, সংগঠন, দেবদেবী এবং সনাতন ঐতিহ্যকে বারবার আঘাত করার অভিযোগ তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ বলে দাবি করেন তিনি। দীর্ঘদিন মানুষ এসব সহ্য করার পর শেষ পর্যন্ত তৃণমূলকে বিদায় জানিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

    নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ছাত্রজীবনে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন রাজ্যে হিন্দুদের উপর কথিত অত্যাচারের বিভিন্ন অভিযোগের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করেছেন।

    ধর্মীয় পর্যটন নিয়েও এদিন বড় ঘোষণা করেন শুভেন্দু। রাজ্যে প্রস্তাবিত ধর্মীয় পর্যটন পরিক্রমা প্রকল্পের কাজ আগামী দু’বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের পরামর্শ ও সহযোগিতাও চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা

    এদিন আগামী দিনের একাধিক কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করেন শুভেন্দু। নভেম্বর মাসে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে প্রায় ২০ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে হনুমান চালিসা পাঠের আয়োজন করা হবে বলে জানান (UCC) তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৯ ডিসেম্বর প্রায় ১০ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে গণগীতা পাঠের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

    আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) দাবি, আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলায় আন্তর্জাতিক মানের পরিকাঠামো ও পরিষেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

     

LinkedIn
Share