Tag: West Bengal

West Bengal

  • West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং হিংসাত্মক অশান্তি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল সরকার। বিধানসভায় সোমবার পাশ হয়েছে গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সরকারের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে এই আইন। একইসঙ্গে সমাজ-বিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী মহল ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বিলের কয়েকটি ধারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

    বিল অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) অথবা রাজ্য সরকারের মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে তেমন কাজে জড়াতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে। ওই সময় তিনি সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়া অথবা নিজের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতেও হতে পারে।

    এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

    বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশ হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান। জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই বিধান জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর কাঠামোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জামিন অযোগ্য অপরাধ, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ এবং ‘নন-বেলেবল’ বা জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজনে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

    অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলেও শাস্তি

    শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি থাকার পরও যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    সমাজবিরোধী বলতে কাদের বলা হয়েছে?

    বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

    • ● সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা।
    • ● ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
    • ● জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করা।
    • ● বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশায় বাধা সৃষ্টি করা।
    • ● বেআইনিভাবে কাউকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা।
    • ● সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা।
    • ● খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা।

    আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা?

    বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়বেন—

    • ● যাঁরা একা বা কোনও গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট কিংবা চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা তাতে অর্থ ও সহায়তা জোগান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১১ বা ১১২ ধারায় যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
    • ● অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
    • ● যাঁদের সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক বা বেপরোয়া বলে মনে করেন এবং যাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সরকার বনাম সমালোচনা

    সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, দখলদারি, সিন্ডিকেটরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই বিল। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, প্রতিরোধমূলক আটক, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি এবং প্রশাসনের বিস্তৃত ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সব পক্ষের।

  • OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে বিল দুটির পক্ষে ১৮৬ জন বিধায়ক সমর্থন জানান, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছ’জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পর কক্ষত্যাগ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

    দুটি সংশোধনী বিল পেশ

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিল দুটি হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ও ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল। তাঁর দাবি, প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

    নতুন সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল থাকছে। তবে ২০১২ সালের আইনে যুক্ত হওয়া ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠী-সংবলিত তফসিল আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সাধারণ নাগরিকদের জন্যেও নতুন সুযোগ

    সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার, তবে তা করতে হবে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের শতাংশ পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও মোট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে পৃথক বিভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনীতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার আবেদন, অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ— সবই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

    কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল

    আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিব, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মরত আধিকারিক, তাঁর দায়িত্বকাল কতদিন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে ওঠে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের পর। বামফ্রন্ট আমলে অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’— এই দুই ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার সেই আইনে সংশোধন এনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পৃথক তালিকা যুক্ত করে। সদ্য পাশ হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল।

  • West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সোমেই পেশ বিধানসভায়?

    West Bengal: পশ্চিমবঙ্গে আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সোমেই পেশ বিধানসভায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারবারিদের হটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) ক্ষমতায় এসেছে প্রথম বিজেপি সরকার। সোমবার তারাই বিধানসভায় পেশ করতে পারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল (UCC Bill)। নির্বাচনের আগে ‘সঙ্কল্পপত্রে’ (বিজেপির ইস্তেহারের নাম) দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিল আনতে উদ্যোগী হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পদ্ম-সরকার। বিলটি পাস হলে ধর্ম নির্বিশেষে রাজ্যের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, সম্পত্তির অধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং পারিবারিক আইন সংক্রান্ত একক আইন কার্যকর হবে।

    কী রয়েছে সম্ভাব্য ইউসিসি বিলে? (West Bengal)

    বিজেপি সূত্রে খবর, সম্প্রতি বিধানসভার বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি (BAC)-র বৈঠকে বিলটি পেশের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার এই বিলকে তাদের অন্যতম বড় আদর্শগত পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে। কী রয়েছে সম্ভাব্য ইউসিসি বিলে? যদিও বিলের চূড়ান্ত খসড়া এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে সরকার ও দলীয় সূত্রে খবর, চারটি মূল বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সব ধর্মের মানুষের জন্য একই ন্যূনতম বৈধ বিয়ের বয়স নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, ধর্ম নির্বিশেষে বিবাহের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে দাম্পত্য সম্পর্কের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা কমবে।

    বহুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা

    প্রস্তাবিত বিলে বহুবিবাহ (Polygamy) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিজেপির দাবি, এই পদক্ষেপ আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিককে সমান মর্যাদা দেবে, এবং বিশেষ করে নারীদের আরও বেশি সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। উত্তরাধিকার, সম্পত্তির মালিকানা ও সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে সব ধর্মের নারীর সমান আইনি অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সরকারের দাবি, বিভিন্ন ব্যক্তিগত আইনের কারণে যে বৈষম্য তৈরি হয়, এই বিল তা দূর করতে সাহায্য করবে।

    লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন

    সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে লিভ-ইন সম্পর্কের বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশন। শুধু সম্পর্ক শুরু নয়, সম্পর্ক শেষ হলেও তা নথিভুক্ত করতে হতে পারে। সরকারের মতে, এতে ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব, উত্তরাধিকার বা ডিভোর্সের মতো মামলায় আইনি স্বচ্ছতা আসবে (West Bengal)। বর্তমানে বিভিন্ন ধর্মের জন্য আলাদা বিবাহবিচ্ছেদ আইন রয়েছে। নতুন বিলে ধর্মভিত্তিক নিয়মের পরিবর্তে সবার জন্য একক ডিভোর্স আইন চালুর প্রস্তাব রয়েছে, যাতে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সমান আইনি অধিকার পান (UCC Bill)।

    এই বিলের প্রয়োজনীয়তা

    পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুর-সহ একাধিক জেলায় উল্লেখযোগ্যভাবে বসবাস করেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন। তাই ব্যক্তিগত আইন সম্পর্কিত এই বিল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্টমহলের। সরকারের দাবি, এই আইন ধর্মকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আইনের সমতা ও প্রশাসনিক একরূপতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছে।

    বিজেপির বক্তব্য

    বিজেপির মতে, বিভিন্ন ধর্মের জন্য আলাদা ব্যক্তিগত আইন থাকায় নাগরিকদের মধ্যে আইনি বৈষম্য তৈরি হয়। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলে সংবিধানের সমতার নীতি আরও শক্তিশালী হবে। দলের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশের মহিলারাও এই আইনের পক্ষে সহমত প্রকাশ করেছেন, কারণ এতে বিবাহ, সম্পত্তি ও বিবাহবিচ্ছেদের ক্ষেত্রে তাঁদের আইনি অধিকার আরও সুদৃঢ় হবে। যদিও এই দাবির সত্যতা আলাদা করে যাচাই করা হয়নি।

    কী বলছেন সমালোচকরা

    সমালোচকদের মতে, ব্যক্তিগত আইন বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত। তাই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করার আগে সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা এবং মতামত নেওয়া জরুরি। তাঁদের আশঙ্কা, এই আইন ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রশ্নে জন্ম দিতে পারে নয়া বিতর্কের (West Bengal)।

    জাতীয় প্রেক্ষাপট

    পশ্চিমবঙ্গ প্রথম নয়, এর আগে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছে উত্তরাখণ্ডের সরকার। অসম, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট-সহ একাধিক বিজেপি-শাসিত রাজ্যও এই একই ধরনের আইন আনার উদ্যোগ নিয়েছে (UCC Bill)। সোমবার বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পর তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। এরপর সংশোধনী ও ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বিল শুধু আইনগত নয়, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি, সামাজিক কাঠামো এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে (West Bengal)।

     

  • Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    Bengal BJP Government: একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই বড় পদক্ষেপ! সোমবার বিধানসভায় আসছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল, সঙ্গে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী আইন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় আসার দেড় মাসের মধ্যেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আইন আনতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। আগামী সোমবার একদিনের বিশেষ অধিবেশনে রাজ্য বিধানসভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হবে। তার মধ্যে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি) ২০২৬’ বিল। পাশাপাশি দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি এবং গুণ্ডাদমনে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের লক্ষ্যে একটি নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও আনা হচ্ছে। বিধানসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার মোট পাঁচটি বিল পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউসিসি বিল এবং দুর্নীতি-বিরোধী বিলকে সরকার তাদের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে।

    সোমবারই বিধানসভায় ইউসিসি বিল

    বিধানসভা সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিলটি সোমবার পেশ করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বৃহস্পতিবার দুপুরে কার্যবিবরণী কমিটির প্রথম বৈঠকে প্রশাসনিক ও আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিল নিয়ে আলোচনা হলেও ইউসিসি নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় পৌঁছনোর পর চলতি অধিবেশনেই বিলটি আনার বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, সোমবারের কর্মসূচির দ্বিতীয় ভাগে বিলটি পেশ করা হবে। বিধানসভার টেবিল অফিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিলটি নিয়ে আলোচনার জন্য এক ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ শাসক ও বিরোধী দলের একাধিক সদস্য অংশ নেবেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

    দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হওয়ার পথে পশ্চিমবঙ্গ

    বর্তমানে দেশের মধ্যে অসম, উত্তরাখণ্ড এবং গোয়ায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রাজ্যটি দেশের চতুর্থ ইউসিসি কার্যকর রাজ্য হতে পারে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধির মূল লক্ষ্য হল বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মভিত্তিক পৃথক আইনের পরিবর্তে একটি অভিন্ন আইনি কাঠামো প্রয়োগ করা। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি রাজ্য সরকারের অন্যতম বড় নীতিগত পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    একই অধিবেশনে আসছে কড়া দুর্নীতি-বিরোধী বিল

    বিশেষ অধিবেশনেই সরকার দুর্নীতি ও বেআইনি সম্পত্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলও পেশ করতে চলেছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকার কোনও আপস করবে না। তাঁর বক্তব্য, “কোনও চোরকে ছাড়া হবে না। আমরা শপথ নিয়েছি, কোনও চোর জেলের বাইরে থাকবে না। অনেকে ভাবছেন জেলে গিয়ে দু’মাস পরে জামিনে বেরিয়ে এলাম। তা হবে না। বিল আনছি। সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে অকশন করব।”

    কী থাকছে নতুন দুর্নীতি-বিরোধী বিলে?

    সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন আইনে বেআইনি আয়ের মাধ্যমে সম্পত্তি অর্জন, গুণ্ডামি, ঘুষের অর্থ সাদা করা এবং অপরাধমূলক উপায়ে সম্পত্তিকে বৈধ রূপ দেওয়ার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিলের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাবগুলির মধ্যে রয়েছে—

    • ● বেআইনি সম্পত্তি অর্জন ও দখলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা।
    • ● ‘গুণ্ডা’ শব্দকে আইনের অংশ করে সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে বিশেষ ব্যবস্থা।
    • ● গুরুতর অপরাধে সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ডের বিধান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি প্রয়োগের সুযোগ।
    • ● দুর্নীতি দমনের অভিযানে বাধা দিলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা।
    • ● বেআইনি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে নিলামের বিধান।
    • ● রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার এবং বেসরকারি—সব ধরনের সম্পত্তির ক্ষেত্রেই একই আইনি বিধান প্রয়োগ।
    • ● বেআইনি দখল, ভাঙচুর ও সম্পত্তি নষ্ট করার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আইনি সুযোগ।
    • ● দাঙ্গা, বেআইনি জমায়েত বা ভাঙচুরের ঘটনার ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে সম্পত্তি পুনরুদ্ধার বা বাজেয়াপ্তির দাবি জানানো যাবে।

    রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ছে

    একদিনের বিশেষ অধিবেশনেই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং দুর্নীতি-বিরোধী—দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে ইউসিসি কার্যকর করার মাধ্যমে বিজেপির দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ, অন্যদিকে দুর্নীতি, বেআইনি সম্পত্তি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এনে প্রশাসনিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার। সোমবার বিধানসভায় এই দুই বিল পেশ হওয়ার পর রাজ্যের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনা এবং তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।

  • West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    West Bengal: সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা, ৯০ দিনের মধ্যে যোগ্যতা-নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment), যোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনার পথে রাজ্য সরকার (West Bengal)। স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে জারি করা হয়েছে নয়া নির্দেশিকা। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং গত দু’বছরের কাজের রেকর্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ঝাড়াই বাছাই শুরু (West Bengal)

    জানা গিয়েছে, নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। পাশাপাশি, নিয়োগ বা বদলির ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক সুপারিশ প্রভাব ফেলেছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে নিয়োগ বা বদলি করা হয়েছে কি না, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াই নয়, গত দু’বছরে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারদের কর্মদক্ষতা, উপস্থিতি, দায়িত্ব পালনের মান এবং শারীরিক সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হবে। দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত থাকা কর্মীদেরও চিহ্নিত করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর। এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, কর্মক্ষমতা এবং শারীরিক সক্ষমতা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি।” তাঁর অভিযোগ, অতীতে বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ হয়েছে।

    ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ

    মন্ত্রীর দাবি, বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “একটি কাজের জন্য যেখানে পাঁচজন কর্মী প্রয়োজন, সেখানে কয়েকশো লোককে নিয়োগ করা হয়েছে। অনেকেই নিয়মিত দফতরে আসেন না, অথচ সরকারি অর্থ ব্যয় হচ্ছে।” তিনি আরও জানান (West Bengal), ইতিমধ্যেই ‘বিট সিস্টেমে’র মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কর্মী রাখা যাবে না এবং যারা দীর্ঘদিন কাজে অনুপস্থিত, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রসঙ্গত, বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়ে ‘ঝাড়াই-বাছাইে’র ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই ব্যবস্থায় বহু অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে, এবং সেই কারণেই পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্র দফতরের নয়া নির্দেশিকার জেরে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ (Civic Volunteer Recruitment) ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের (West Bengal)।

     

  • Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    Swami Pradiptananda: পশ্চিমবঙ্গে রাস্তা-গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি, নেতৃত্বে কার্তিক মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন রাস্তা, এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নামবদল সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মঙ্গলবার (Swami Pradiptananda) বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর ধন্যবাদজ্ঞাপক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে (Place Renaming) তিনি জানান, পদ্মশ্রী প্রাপক স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ (কার্তিক মহারাজ) এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করে পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজের নেতৃত্বে নতুন করে নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি আমি ঘোষণা করছি। আপনারাই বলেছেন মূল্যায়ন।” তিনি জানান, ভবিষ্যতে কোনও রাস্তা, এলাকা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম পরিবর্তন কিংবা নয়া নামকরণের প্রস্তাব থাকলে তা এই কমিটির কাছেই জমা দেওয়া যাবে। পালাবদলের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ মহারাজ একটি কমিটির নেতৃত্ব দেবেন। যাঁর যা প্রস্তাব আছে সেখানে জমা দেবেন।” বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের প্রসঙ্গ টানেন। সেই সূত্রেই তিনি সুরাবর্দি অ্যাভেনিউয়ের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, “আমি যখন সেভেন পয়েন্ট দিয়ে যাতায়াত করেছি, তখন দেখতাম সুরাবর্দি অ্যাভেনিউ লেখা ছিল। সুরাবর্দির নাম থাকবে না।”

    কালামের প্রসঙ্গ টানলেন মুখ্যমন্ত্রী

    মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, স্বাধীন ভারতে অত্যাচার, হিংসা বা ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিতর্কিত ব্যক্তিদের নামে কোনও রাস্তা বা গুরুত্বপূর্ণ জায়গার নাম থাকা উচিত নয়। প্রকৃত দেশভক্ত ও রাষ্ট্রনেতাদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের পক্ষেও সওয়াল (Swami Pradiptananda) করেন তিনি। উদাহরণ হিসেবে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের নাম উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যদি মনে করেন এপিজে আবদুল কালামের মতো কোনও প্রকৃত দেশভক্তকে সম্মান জানানোর প্রয়োজন আছে, তাহলে তথ্য দেবেন, মর্যাদা দেওয়া হবে।” রাজ্য সরকারের এহেন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে (Place Renaming) পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গার নামকরণ ও নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চালু হতে পারে (Swami Pradiptananda) বলেই অনুমান প্রশাসনিক মহলের।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে স্কুলে বিশেষ কর্মসূচি, ৬ জুলাই সরকারি ছুটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম (Shyama Prasad Mukherjee) জন্মবার্ষিকীকে সামনে রেখে রাজ্যজুড়ে (West Bengal) একাধিক কর্মসূচির কথা ঘোষণা করল রাজ্যের পালাবদলের সরকার। আগামী ৬ জুলাই তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে রাজ্য সরকারি ছুটি থাকবে। রাজ্যের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিশেষভাবে পালন করা হবে ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবার সেই কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে রাজ্যের স্কুলগুলিকেও। এই মর্মে জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে নির্দেশ পাঠানো হয়েছে বলে শিক্ষা দফতর সূত্রে খবর।

    ‘শ্যামাপ্রসাদ পক্ষ’ (Shyama Prasad Mukherjee)

    জানা গিয়েছে, আগামী পনেরো দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন, কর্ম এবং চিন্তাধারা নিয়ে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। থাকছে আলোচনা সভা, প্রবন্ধ রচনা প্রতিযোগিতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, তাঁর লেখা ও বক্তৃতা পাঠের আয়োজন এবং দেশের শিক্ষা ও রাজনীতিতে তাঁর অবদান নিয়ে বিশেষ আলোচনা। সরকারের দাবি, নয়া প্রজন্মের কাছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভাবনা ও অবদান আরও বিশদে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। সেই কারণেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে কেন্দ্র করে সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

    পৈতৃক ভিটে অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত

    এদিকে, চলতি রাজ্য বাজেটে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতির সংরক্ষণ ও প্রচারের লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পের কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর জন্মস্থান হুগলির জিরাট। সেখানে রয়েছে তাঁর পৈতৃক ভিটে। সেটিও অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই ভিটেতেই গড়ে তোলা হবে রাষ্ট্রীয় স্মারক, সংগ্রহশালা এবং গ্রন্থাগার। ঐতিহ্যবাহী এই বাড়িটির সংস্কার করে আগের ভোল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee) রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের।

    মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ

    জিরাটে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট উচ্চতার একটি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। রাজ্যজুড়ে তাঁর স্মৃতিতে পার্ক, গ্রন্থাগার ও স্মারক নির্মাণের জন্য বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, রবিবারই শ্রদ্ধার সঙ্গে ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে বিজেপি। এদিন ছিল (West Bengal) তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে মহান এই নেতাকে স্মরণ করেন (Shyama Prasad Mukherjee) পদ্ম নেতৃত্ব।

     

  • Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    Shyama Prasad Mukherjee: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর, জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ বিজেপি নেতৃত্বের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা তথা বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shyama Prasad Mukherjee) মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব (PM Modi)। রবিবার ছিল তাঁর ৭৩তম মৃত্যুবার্ষিকী। সেই উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁকে স্মরণ করেন পদ্ম নেতৃত্ব।

    শ্রদ্ধা প্রধানমন্ত্রীর (Shyama Prasad Mukherjee)

    এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি লেখেন, “দেশের মহান সন্তান, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং শিক্ষাবিদ ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের শাহাদত দিবসে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি মাতৃভূমির সেবায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর গতিশীল ব্যক্তিত্ব দেশের প্রতিটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।”

    শাহি স্মরণে শ্যামাপ্রসাদ

    কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, “দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও আত্মমর্যাদার জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন।” তাঁর দাবি, ‘এক নিশান, এক বিধান, এক প্রধান’ স্লোগান তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অংশ হিসেবে ধরে রাখার লড়াইয়েও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। শাহ বলেন, “সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি দেশের মানুষের সামনে একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছিলেন।”

    শ্রদ্ধা জানালেন নাড্ডাও

    শ্যামাপ্রসাদকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাও। দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শ্যামাপ্রসাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন তিনি। দলীয় কর্মীদের মধ্যে গাছের চারাও বিলি করেন নাড্ডা। তিনি বলেন, “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ ও জাতীয় ঐক্যের স্থপতি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ত্যাগ ও আদর্শ আগামিদিনেও দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে (Shyama Prasad Mukherjee)।”

    জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা

    প্রসঙ্গত, শ্যামাপ্রসাদ ছিলেন ভারতীয় জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা, যা পরবর্তীকালে বিজেপির আদর্শগত ভিত্তি হিসেবে পরিচিত হয়। স্বাধীনতার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ১৯৫০ সালে দিল্লি চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের জেরে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ১৯৫১ সালের ২১ অক্টোবর দিল্লিতে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। দলের প্রথম সভাপতি হন শ্যামাপ্রসাদই। ১৯৫৩ সালে (PM Modi) জম্মু-কাশ্মীর সফরে গিয়েছিলেন তিনি। ১১ মে গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বন্দি ছিলেন জেলে। সেখানেই ওই বছরেরই ২৩ জুন মৃত্যু হয় তাঁর। শ্যামাপ্রসাদের মৃত্যু নিয়ে আজও রাজনৈতিক মহলে নানা আলোচনা ও বিতর্ক রয়েছে (Shyama Prasad Mukherjee)।

     

  • West Bengal Budget 2026: শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি, কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর, পালবদলের বাজেটে বড় ঘোষণা

    West Bengal Budget 2026: শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি, কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর, পালবদলের বাজেটে বড় ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ঘাড়ে বিপুল ঋণের বোঝা, বাজেট পেশ করে মমতার সরকারকে নিশানা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বাংলায় পালাবদলের প্রথম বাজেট পেশ করলেন স্বপন। রাজ্য সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে আশাকর্মী- প্রত্যেকেই সুখবর শুনিয়েছে নতুন সরকার। উত্তরবঙ্গ থেকে সুন্দরবন প্রত্যেক অঞ্চলের জন্যই রয়েছে বিশেষ ঘোষণা। শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে ক্রীড়া-শিল্প সবক্ষেত্রেই ভরসা জুগিয়েছে নয়া সরকারের বাজেট (West Bengal Budget 2026)।

    শ্যামাপ্রসাদের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি

    পশ্চিমবঙ্গের রূপকার শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকীতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি তাঁর বাড়ি সংরক্ষণেও বিশেষ বরাদ্দ শুভেন্দু সরকারের। মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা ব্লককে একটি মডেল ব্লক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ভাবে, এই ব্লকের প্রাইমারি হেলথ সেন্টারকে ১০০ শয্যার গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নীত করা হবে।

    মদের দোকান নিয়ে কড়াকড়ি

    অর্থমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এখন থেকে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও ধর্মীয় স্থানের এক কিলোমিটারের মধ্যে কোনও মদের দোকানের লাইসেন্স দেওয়া হবে না। কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে এই লাইসেন্স দেওয়ার ক্ষেত্রে ন্যূনতম দূরত্ব হবে ৫০০ মিটার। ব্যবসাকে সিন্ডিকেট চার্জ এবং অন্য বেআইনি অর্থ আদায় থেকে রক্ষা করার আইন আনা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। স্বপন জানান, হস্তক্ষেপ এবং চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এই কারণে আগামী দিনে একটি আইন আনা হবে।

    দুর্গাপুজোকে ঘিরে পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান

    অর্থমন্ত্রী বলেন, “দুর্গাপুজো হল বাংলার সাংস্কৃতিক আত্মা। দুর্গাপুজো বিশ্বজনীন উৎসব, বাংলার চিরন্তন আবেগ— এই মূল প্রতিপাদ্যকে কেন্দ্র করে আমরা একটি লক্ষ্যভিত্তিক পর্যটন ব্র্যান্ডিং অভিযান শুরু করব।” রাজ্যে শক্তিপীঠ সার্কিট গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কালীঘাট, তারাপীঠ থেকে ফুল্লরা, বক্রেশ্বরকে নিয়ে সার্কিট তৈরি হবে। ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে হেরিটেজ কমিশন গঠন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

    রাজ্যে নতুন পাঁচ জেলা!

    রাজ্যে মোট পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। এই পাঁচটি প্রস্তাবিত জেলা হল— কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। পাশাপাশি কাঁথিতে একটি নতুন পুলিশ জেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গোপীবল্লভপুরে তৈরি হবে নতুন মহকুমা। পাশাপাশি শিবমন্দির, গাজোল, চাঁচল, বেলদা, বাগনান, জয়গাঁ, কোলাঘাট, কামারপুকুর এবং টুঙ্গিদিঘিতে নতুন পুরসভা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    নতুন বিমানবন্দর!

    রাজ্য সরকারের নতুন বাজেটে জোর দেওয়া হল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও। কলকাতার কাছে আরও একটি বিমানবন্দর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বাজেটে। কল্যাণীর কাছে একটি ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর তৈরি করতে ১০০০-১৫০০ একর জমি চিহ্নিত করবে সরকার। পাশাপাশি কেন্দ্রের উড়ান প্রকল্পের আওতায় পুরুলিয়া, বালুরঘাট এবং মালদহেও বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    খেলার উন্নতিতে বরাদ্দ

    উত্তরবঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম এবং একটি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে। ক্রীড়া সংস্কৃতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে রাজ্যে খেলো ইন্ডিয়া কার্যক্রম শুরু হবে। রাজ্যে প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মিনি ইনডোর স্টেডিয়াম তৈরি হবে।

    মিড ডে মিলের উপকরণে ১০ টাকা

    প্রাথমিক স্কুলে মিড ডে মিলের উপকরণের খরচ ১০ টাকা করা হবে। ইসকনের সহযোগিতায় কলকাতা পুরসভা এলাকায় স্কুলে পুষ্টিকর রান্না করে মিড ডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।আশাকর্মীদের কাজকে স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫০০০ টাকা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন। স্টেট ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক কন্ডাক্টরদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করে মাসে ১৬ হাজার টাকা করা হবে। সিভিক ভলান্টিয়ার, ভিলেজ পুলিশ ও গ্রিন পুলিশদের পারিশ্রমিক ২০০০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছে। হোমগার্ডদেরও পারিশ্রমিক বৃদ্ধি পাচ্ছে ২০০০ টাকা।

    শিল্প নিয়ে ঘোষণা

    উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ টানতে বিশেষ প্রকল্প
    উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাটারিচালিত গাড়ির কারখানা তৈরি হবে।
    শিলিগুড়িতে ইন্টিগ্রেটেড লজিস্টিক হাব তৈরি হবে
    শিলিগুড়িতে আইটি পার্ক গড়ে তোলা হবে
    দুর্গাপুরে তৈরি হবে সেমি কন্ডাক্টর ইউনিট
    দক্ষিণ দিনাজপুরে টেক্সটাইল হাব তৈরি হবে

    স্বাস্থ্যের জন্য ঘোষণা

    উত্তরবঙ্গে এইমস ও ক্যান্সার হাসপাতাল
    ৫টি নতুন মেডিক্যাল হাব তৈরির ঘোষণা
    ভেলোর, মুম্বইয়ে রোগীর পরিবারের জন্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে
    সুন্দরবনে মোটর বোট অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা
    দক্ষিণ দিনাজপুর ও কালিম্পঙে নতুন মেডিক্যাল কলেজ
    আলিপুরদুয়ার ও পশ্চিম বর্ধমানে মেডিক্যাল কলেজ
    হাসপাতালে রোগী পিছু খাবারে ১১০ টাকা বরাদ্দ

  • West Bengal Budget 2026: সুন্দরবনের জন্য ১,২৮০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮২১ কোটি! ৪ লক্ষ কোটির রাজ্য বাজেট ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    West Bengal Budget 2026: সুন্দরবনের জন্য ১,২৮০ কোটি, উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮২১ কোটি! ৪ লক্ষ কোটির রাজ্য বাজেট ঘোষণা অর্থমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য মোট ৪ লক্ষ ৩৮ হাজার ৭৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বাজেটে (West Bengal Budget 2026)। এর মধ্যে কৃষিতে ৮,৫৬৫.৮৪ কোটি টাকা, কৃষি বিপণনে ৩৬৮.৯৯ কোটি টাকা, প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ১,৪০৪.৪২ কোটি টাকা, অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়নে ২,৫৪৪.৪৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সুন্দরবন বিষয়ক কাজের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১,২৮০.০৭ কোটি টাকা। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নে বরাদ্দ হয়েছে ১,৮২১.৫২ কোটি টাকা। সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষায় বরাদ্দ হয়েছে ২,১৬৫.৪২ কোটি টাকা। পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নে ৫১,৮৩৬.৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। শিল্প বাণিজ্য এবং শিল্পোদ্যোগে বরাদ্দ হয়েছে ৩,২৬৬.৫৯ কোটি টাকা।

    কোন খাতে কত বরাদ্দ

    জরুরি পরিষেবার জন্য প্রতিটি থানায় একটি করে গাড়ি চালু করা হবে। তাতে বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আরও স্বচ্ছ ও সহজ করতে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বন্যা প্রতিরোধ এবং পুনর্বাসনের জন্য ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্নপূর্ণা যোজনায় বরাদ্দ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। উচ্চশিক্ষায় ছাত্রীদের স্কুলছুটের হার কমাতে নতুন প্রকল্প চালু হবে। সরকারি ও সরকারপোষিত কলেজে অবিবাহিত ছাত্রীদের এককালীন ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১০০০ কোটি টাকা। প্রসূতিদের উন্নত পুষ্টির জন্য প্রধানমন্ত্রী মাত্রুবন্দনা যোজনার সাহায্য-সহ ২১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবার জন্য ৫৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ। ঝাড়গ্রামে ১৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে আদিবাসী বিশ্ববিদ্যালয় গড়া হবে। তার জন্য চলতি অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ১২৫ দিনের কাজের জন্য রাজ্য সরকারের ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর জন্য ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

    আদর্শ বিদ্যালয় তৈরির জন্য ২১০০ কোটি টাকা

    হুগলি-ভাগীরথী নদীর উপর জেটি উন্নয়ন, জেটি ও গ্রামীণ বাজারের যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ। সুন্দরবনে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বিদ্যুৎ পরিষেবা আরও উন্নত করতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি অফিসগুলিতে সৌরশক্তির গ্রিড বসানো হবে। তার জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। মুড়িগঙ্গায় সেতু নির্মাণের জন্য ১০০ কোটি বরাদ্দ। আদর্শ স্কুল গঠনের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ২১০০ কোটি টাকা। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনাখরচের কোচিং সেন্টার চালু হবে। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি হবে বিনামূল্যের কোচিং সেন্টার। রাজ্যে আদর্শ বিদ্যালয় তৈরির জন্য ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সংস্কৃত কলেজ ও সংস্কৃত ভাষার প্রসারের জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে ৫০ কোটি টাকা। ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ায় দু’টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হবে।

LinkedIn
Share