Tag: West Bengal

West Bengal

  • VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    VB-G RAM-G: পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের জন্য ১,২৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের মাত্র দু’মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই রাজ্যের জন্য ১২৫ দিনের গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পে প্রথম কিস্তির অর্থ বরাদ্দ করল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের ঘোষণা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের জন্য ১,২৬৪.৪৯ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১ জুলাই থেকে রাজ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি কেন্দ্রের তরফে রাজ্যের জন্য অন্যতম বড় আর্থিক বরাদ্দ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রবিবার কেন্দ্রীয় পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান দেশজুড়ে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ার ঘোষণা করেন।

    দেশজুড়ে ২৫,৮৬৩ কোটি টাকার বরাদ্দ

    কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এদিন গোটা দেশের বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য মোট ২৫,৮৬৩ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বরাদ্দের নিরিখে সবচেয়ে বেশি অর্থ পেয়েছে উত্তরপ্রদেশ, যেখানে দেওয়া হয়েছে ৩,২১০.৭৬ কোটি টাকা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আগামী বছর উত্তরপ্রদেশে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই ওই রাজ্যে বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি রাখা হয়েছে।

    দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল কেন্দ্রীয় অর্থপ্রবাহ

    বিগত সরকারের আমলে পশ্চিমবঙ্গে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ দীর্ঘ সময় ধরে আটকে ছিল। কেন্দ্রের অভিযোগ ছিল, প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্তি এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অসঙ্গতির কারণে প্রকৃত শ্রমিকদের কাছে মজুরি পৌঁছাতে সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল রাজ্যে পরিদর্শন করে। পরে বিভিন্ন সুপারিশের ভিত্তিতে উপভোক্তা তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

    এবার জোর স্বচ্ছতা ও সময়মতো মজুরি প্রদানে

    কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, শুধু অর্থ বরাদ্দ নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শ্রমিকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি পৌঁছে দেওয়ার উপর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে নজরদারি আরও কঠোর করা হবে যাতে সরকারি অর্থের অপব্যবহার রোধ করা যায় এবং প্রকৃত উপভোক্তারাই এর সুবিধা পান।

    ১০০ দিনের বদলে এখন ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান

    একসময় মনরেগা (MGNREGA) নামে পরিচিত এই গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের নতুন নাম হয়েছে ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বা ভিবি-জিরাম-জি। নতুন কাঠামোয় বছরে কর্মসংস্থানের সীমা ১০০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এর ফলে গ্রামীণ পরিবারের আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য পূরণ হবে। পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বড় আর্থিক বরাদ্দকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে প্রকল্পের বাস্তবায়ন, শ্রমিকদের সময়মতো মজুরি প্রদান এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়গুলিই সবচেয়ে বেশি নজরে থাকবে।

  • Weather Alert: সপ্তাহজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণে, কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা, উত্তরের আবহাওয়া কেমন?

    Weather Alert: সপ্তাহজুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দক্ষিণে, কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা, উত্তরের আবহাওয়া কেমন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী এক সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার প্রকাশিত আবহাওয়া দফতরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল সংলগ্ন এলাকায় থাকা সুস্পষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে এই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটবে। কলকাতার আঞ্চলিক আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায়ই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ৫ জুলাই হতে পারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি।

    আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস (Weather Alert)

    আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং পুরুলিয়ায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া এবং পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, নিম্নচাপটি আরও শক্তি সঞ্চয় করে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর এটি পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা উপকূলের দিকে এগোবে। এর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টিপাত হবে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    চলতে পারে ভারী বৃষ্টি

    জানা গিয়েছে, ৬ জুলাইও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টি চলতে পারে। এরপর বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমলেওস বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা পুরো পূর্বাভাসের সময়জুড়েই থাকবে। কলকাতার জন্য কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গেও আগামী সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ৬ জুলাই থেকে ভারী বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। ৭ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং ও কোচবিহারে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

     

  • BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    BJP: বাংলায় শিল্প ফেরাতে মুম্বইয়ে শিল্পপতিদের সঙ্গে বৈঠক শমীকের, বিনিয়োগে আগ্রহের দাবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলা ছেড়ে চলে যাওয়া শিল্পপতিদের ফের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে নতুন করে শিল্প গড়ে তোলার লক্ষ্যে সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের প্রথম বিজেপি (BJP) সরকার। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মুম্বইয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। বৈঠক শেষে তিনি দাবি করেন, বহু শিল্পপতি পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

    কী বললেন শমীক? (BJP)

    শমীক জানান, গত চার দশকে বাম ও তৃণমূল সরকারের আমলে যাঁরা বাংলা ছেড়ে অন্য রাজ্যে গিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন, তাঁদের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘নতুন শিল্পনীতি ও নতুন জমিনীতি নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। যাঁরা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে বাংলার নাড়ির যোগ রয়েছে, তাঁরা আবার বাংলায় ফিরে আসতে আগ্রহী। আমি সরকার নই, আমি দলের প্রতিনিধি। আমি তাঁদের জানিয়েছি, সরকার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরির কাজ করছে। খুব দ্রুত পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শিল্পায়নের সুফল দেখতে পাবেন।’’

    শিল্পপতিদের আশ্বাস শমীকের

    মুম্বই সফরে বস্ত্র, ইস্পাত, কাচ, অর্ধপরিবাহী যন্ত্রাংশ-সহ বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রের উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠক করেন শমীক। এর পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থা এবং সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা একাধিক নয়া উদ্যোগের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলাদা করে আলোচনা করেন তিনি। তাঁদের সামনে পশ্চিমবঙ্গের শিল্পবান্ধব পরিবেশ, দক্ষ মানবসম্পদ, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন শমীক। বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, শিল্পপতিদের আর কোনও রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না। সরাসরি রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তাঁরা বিনিয়োগের বিষয়ে এগোতে পারবেন। তাঁর কথায়, ‘‘মুম্বইয়ের শিল্পপতিদের বলেছি, পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিল্প গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাঁরা সেই পরিবর্তন অনুভব করবেন।’’ তিনি এও (BJP) বলেন, ‘‘শুধু শিল্পের কথা বললেই শিল্পায়ন হয় না। শিল্প গড়ে তুলতে সুস্পষ্ট শিল্পনীতির প্রয়োজন। আমাদের সরকার সেই নীতির ওপর কাজ করছে।’’

    শিল্পায়ন নিয়ে যা বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    শিল্পায়নকে রাজ্য সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। শুক্রবার নিউ টাউনের বিশ্ব বাংলা সম্মেলন কেন্দ্রে নবনির্বাচিত বিধায়কদের ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর তিনি জানান, রাজ্যে একটি হোসিয়ারি কারখানা এবং একটি ইস্পাত কারখানা স্থাপনের প্রস্তাব রয়েছে। সরকার দ্রুত সেই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে (Samik Bhattacharya)। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দেন, খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’হাজার একশো কোটি টাকার নতুন বিনিয়োগ আসতে চলেছে। সেপ্টেম্বর মাসে রাজ্যে একটি শিল্প সম্মেলনের আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশ-বিদেশের বহু শিল্পপতি এবং বিনিয়োগকারীর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন

    মুম্বই সফর প্রসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় শমীক লেখেন, ‘‘মুম্বইয়ের বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ ও শিল্পোন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত শিল্পপতিরা পশ্চিমবঙ্গে ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’’ তিনি (Samik Bhattacharya) আরও লেখেন, ‘‘শিল্প, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকার, শিল্পমহল ও বিনিয়োগকারীদের পারস্পরিক সহযোগিতাই পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি (BJP)।’’

     

  • Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    Nabanna: পেনশনভোগীদের জন্য বড় সুখবর! চলতি মাসেই ২০০৮-২০১৫ সালের বকেয়ার ৫০% মেটাবে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিএ সংক্রান্ত পদক্ষেপের পর এবার রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য এল আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা পেনশনের এরিয়ার (Arrear) মেটাতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিকভাবে ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত সাত বছরের বকেয়া অর্থের আনুমানিক হিসেব করে তার ৫০ শতাংশ পরিশোধ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    নবান্নর ঘোষণা…

    শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত এবং অর্থদপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এই তথ্য জানান সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বকেয়া সংক্রান্ত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ভাস্কর ঘোষের এই বক্তব্য সামনে আসতেই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের মধ্যে আশাবাদের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

    পেনশনভোগীদের পাশাপাশি আরও বহু কর্মী উপকৃত হতে পারেন

    ভাস্কর ঘোষ জানান, শুধু অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাই নন, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, পঞ্চায়েত ও পুরসভার কর্মী, বিভিন্ন বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারী, কলকাতার বিভিন্ন ব্যাঙ্কের মাধ্যমে পেনশনপ্রাপক, ওয়ার্ক চার্জ কর্মী এবং হোমগার্ডদের বকেয়া সংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের আর্থিক দাবি ও অন্যান্য সমস্যার সমাধানের দিকেও সরকার ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

    কেন দেরি হচ্ছে বকেয়া মেটাতে?

    বৈঠকে সরকারি আধিকারিকরা জানিয়েছেন, পুরনো তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে। ভাস্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, আইএসএমওএস (ISMOS) পোর্টালে যাঁদের বেতন সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে, তাঁদের অনেকের এমপ্লয়ি আইডি বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তিত হয়েছে বলে সরকারি দফতরের দাবি। এছাড়া ২০১৫ সালের আগে ব্যাঙ্কগুলিতে ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুরনো নথি সংগ্রহ করতেও সময় লাগছে। এই সমস্যা কাটাতে নতুন পোর্টালের মাধ্যমে তথ্য একত্রিত করার কাজ চলছে। তবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কর্মীদের মূল পরিচয় অপরিবর্তিত রয়েছে। ফলে দ্রুত যাচাই শেষ করে বকেয়া মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি জানানো হয়েছে।

    কবে মিলবে ৫০ শতাংশ এরিয়ার?

    এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি। তবে বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, এরিয়রের ৫০ শতাংশ টাকা চলতি মাসেই মিটিয়ে দেবে রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, প্রক্রিয়া শেষ হলে চলতি মাসেই সম্ভবত প্রথম ধাপে ২০০৮-২০১৫ সময়কালের আনুমানিক বকেয়ার ৫০ শতাংশ প্রদান করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি অর্থও পরিশোধ করা হবে।

    সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

    বৈঠকের পর ভাস্কর ঘোষ জানান, সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসন সরকারি কর্মীদের মতামত ও ফিডব্যাককে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তাঁর কথায়, কোনও কর্মী যেমন প্রাপ্যের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ চান না, তেমনই আইনসঙ্গত ও ন্যায্য প্রাপ্য থেকেও কেউ যেন বঞ্চিত না হন, সেই বিষয়টিই তাঁদের মূল দাবি। সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগ সেই লক্ষ্য পূরণের দিকেই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

  • West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    West Bengal Illegal Infiltration: ৭ জুলাই দিল্লিতে বড় বৈঠক, অনুপ্রবেশ রুখতে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক কড়া পদক্ষেপের ঘোষণা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। আগামী ৭ জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের উপস্থিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ এবং জনবিন্যাস সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনেই রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে চলেছে। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্য প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রক্রিয়া আরও জোরদার করা হবে।

    ৪৫ দিনে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে ফেরত পাঠানোর দাবি

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গত ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষাবাহিনী (বিএসএফ)-এর প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২টি বিশেষ ‘হোল্ডিং স্টেশন’ চালু করা হয়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, এই হোল্ডিং স্টেশনগুলির মাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রায় ১০ হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে সীমান্ত পার করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মানুষ ওই কেন্দ্রগুলিতে রয়েছেন বলেও তিনি জানান। সরকারের দাবি, সীমান্তবর্তী থানাগুলি এখন বিএসএফ-এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি জেলে পাঠানোর পরিবর্তে প্রথমে হোল্ডিং স্টেশনে রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আন্তর্জাতিক প্রোটোকল অনুসরণ করে পরে তাঁদের নিজ দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সরকার জানিয়েছে।

    ১ অগাস্ট থেকে ডিজিটাল জাতিগত জনগণনার পরিকল্পনা

    মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১ অগাস্ট থেকে পশ্চিমবঙ্গে ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতিগত জনগণনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রথমবারের মতো ‘সেলফ ডিক্লারেশন’ বা স্ব-ঘোষণার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই জনগণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এই সমীক্ষার মাধ্যমে রাজ্যের জনবিন্যাসের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে এবং ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ রোধে আরও কার্যকর নীতি গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

    পশ্চিমবঙ্গে আসছে কেন্দ্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল

    এদিকে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রের গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি শীঘ্রই বিভিন্ন রাজ্য সফর শুরু করবে। প্রথম পর্যায়েই পশ্চিমবঙ্গ তাদের সফরসূচিতে রয়েছে বলে সূত্রের খবর। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বাসভবনে কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক হয়। জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য কমিটি ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রশ্নমালা তৈরি করেছে। বিভিন্ন সীমান্ত রাজ্যে অবৈধ অনুপ্রবেশ, জনবিন্যাসের পরিবর্তন এবং তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়নই হবে এই কমিটির মূল লক্ষ্য।

  • Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    Annapurna Yojana: চালু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনা, ৩০০০ টাকা করে পড়ল মহিলাদের অ্যাকাউন্টে, কতজন পেলেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১ জুলাই থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা দেওয়া। কলকাতার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) এবং নারী ও শিশু কল্যাণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। অনুষ্ঠানে হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং কলকাতার উপভোক্তারাও যোগ দেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মহিলা আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রাথমিকভাবে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার ৩৭৮ জনের আধার সংযুক্ত থাকায় তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকেই সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়।

    কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী? (Annapurna Yojana)

    অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘না জাগিলে ললনা, এ বিশ্ব জাগে না। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠিত হলে অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করা হবে। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আমরা বড় পদক্ষেপ করলাম। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’’ আবেদন যাচাইয়ের প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘‘প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদনপত্র জমা পড়েছিল। প্রতিটি আবেদনপত্র নিয়ম মেনে খতিয়ে দেখা হয়েছে, যাতে অযোগ্য কেউ সরকারি সুবিধা না পান (Annapurna Yojana)। সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত প্রাপকদের কাছেই পৌঁছানো হবে। এটি কারও ব্যক্তিগত অর্থ নয়। আমরা সব মহিলা বিধায়ককে ডেকেছি, কোনও রাজনৈতিক বিভাজন করিনি। ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম নেই, তাঁদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে, কারণ সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই পাবেন।’’ মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘‘আমাদের সরকার মাত্র দেড় মাসের পুরানো। এই সময়ের মধ্যেই ১ কোটি ৬০ লাখ আবেদন পত্রের মধ্যে প্রায় ২৬ লাখ বাতিল করা হয়েছে। বাকি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হচ্ছে। কোনও প্রকৃত উপভোক্তাকে বঞ্চিত করা হবে না। এটি তাঁদের অধিকার।’’

    পূর্ববর্তী সরকারের একাধিক অনিয়ম

    তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘আগের প্রকল্পগুলিতে মৃত ব্যক্তি, একাধিক জায়গায় নাম থাকা ব্যক্তি, এমনকি ভারতীয় নন, এমন অনেকের নামও ছিল। সেগুলি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদের মধ্যে যাঁরা সিএএর জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের সামাজিক ভাতা চালু থাকবে।’’ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‘৩ জুন আমরা ঘোষণা করেছিলাম যে টাকা দেওয়া শুরু হবে। জুলাই ও অগাস্ট মাসেও আবেদন করার সুযোগ থাকবে। সরকারি সুবিধা শুধুমাত্র যোগ্যদেরই দেওয়া হবে। আগামী দিনে সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য গোলাপি কার্ড চালু করা হবে। অনেক মহিলা কর্মী নিজে টিকিট কেটে যাতায়াত করতে চান, তাঁদের আমি (Suvendu Adhikari) সম্মান জানাই। এই পরিষেবার জন্য সরকারকে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হবে (Annapurna Yojana)।’’

     

  • Academic Environment: “রাজ্য ছেড়ে ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র চলে যাওয়া রুখতে হবে”, বললেন পালাবদলের অর্থমন্ত্রী

    Academic Environment: “রাজ্য ছেড়ে ছাত্রছাত্রীদের অন্যত্র চলে যাওয়া রুখতে হবে”, বললেন পালাবদলের অর্থমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী অন্য (Academic Environment) রাজ্যের পাশাপাশি চলে যাচ্ছে বিদেশেও। এই প্রবণতা রুখতে রাজ্যে (Student Exodus) এমন শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে পড়ুয়ারা এখানেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হয়। রবিবার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত।

    কী বললেন অর্থমন্ত্রী (Academic Environment)

    অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য, বর্তমানে রাজ্যের বহু কলেজে আসন খালি পড়ে থাকছে। এই পরিস্থিতি থেকেই স্পষ্ট, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। শুধু রাজ্যে থেকে যাওয়ার আহ্বান জানালেই সমস্যার সমাধান হবে না। এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা পড়ুয়াদের রাজ্যেই ভবিষ্যৎ গড়ার আস্থা দেবে। চলতি বছরের রাজ্য বাজেটেও এই বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যন্ত্রনির্ভর শিক্ষণ-সহ আধুনিক বিষয় পড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের এমন এক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীরা পশ্চিমবঙ্গেই উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী হয়।” তাঁর মতে, বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে না পারলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নতি সম্ভব নয়।

    মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশের অভাব

    তাঁর দাবি, এক সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছাত্রছাত্রীরা পশ্চিমবঙ্গে পড়তে আসত, পাঠ দান করতেন খ্যাতনামা শিক্ষকরা। কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই। তাঁর কথায়, “মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশের অভাবেই বাইরের রাজ্যের পড়ুয়ারা আর পশ্চিমবঙ্গকে উচ্চশিক্ষার গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছে না।” তিনি এও জানান, রাজ্য সরকার কলেজগুলিকে উন্নয়নের জন্য আর্থিক সাহায্য দিতে প্রস্তুত। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অনুদান আনার চেষ্টা করা হবে। তবে সেই আর্থিক সাহায্য পেতে হলে কমিশনের নির্ধারিত নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং জবাবদিহির সংস্কৃতিও গ্রহণ করতে হবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পড়ুয়াদের অন্যত্র চলে যাওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রায় এক দশক আগে মডার্ন হাইস্কুল ফর গার্লসের তৎকালীন অধ্যক্ষা দময়ন্তী মুখোপাধ্যায়ও এই একই বিষয় তুলে ধরে বলেছিলেন, স্কুল থেকে পাশ করার পর বহু মেধাবী পড়ুয়া উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য রাজ্য বা বিদেশে চলে যাচ্ছে (Academic Environment)।

    প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের বক্তব্য

    কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষও জানান, রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে বিপুল সংখ্যক স্নাতক স্তরের আসন খালি থেকে যাওয়া এই সমস্যারই প্রমাণ। তাঁর অভিযোগ, অনেক কলেজে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় ভর্তি হওয়ার পরেও বহু ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে বা অনুপস্থিত থাকছে। অল বেঙ্গল প্রিন্সিপালস কাউন্সিলের সম্পাদক পঙ্কজ রায় বলেন, “শিক্ষকদের আরও আধুনিক এবং আকর্ষণীয় পাঠদানের পদ্ধতি গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করা হবে, যাতে ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে আনা যায়।” অনুষ্ঠানে (Academic Environment) অর্থমন্ত্রী আরও জানান, জুলাই মাসে কলকাতায় পণ্য ও পরিষেবা কর পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এই সর্বভারতীয় বৈঠকের আয়োজক হতে পেরে তিনি গর্বিত। তাঁর আশা, এই বৈঠকের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের নতুন ভাবমূর্তি দেশের সামনে তুলে ধরা যাবে (Student Exodus)। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনও ওই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন।

  • West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    West Bengal Public Safety Bill: কে ‘গুন্ডা’, কে ‘সমাজবিরোধী’? পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিলে স্পষ্ট সংজ্ঞা, জেনে নিন সব নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ এবং হিংসাত্মক অশান্তি মোকাবিলায় কড়া অবস্থান নিল সরকার। বিধানসভায় সোমবার পাশ হয়েছে গুন্ডা-দমন সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল— ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেন্টেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সরকারের দাবি, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য বিপদের আগেই ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেবে এই আইন। একইসঙ্গে সমাজ-বিরোধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে কড়া আর্থিক জরিমানার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। সরকারের বক্তব্য, সংগঠিত অপরাধ ও জনশৃঙ্খলা ভাঙার প্রবণতা দমনে এই আইন কার্যকর ভূমিকা নেবে। যদিও বিরোধী মহল ও নাগরিক অধিকার কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, বিলের কয়েকটি ধারা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেবে, যা ভবিষ্যতে অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

    কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

    বিল অনুযায়ী, কোনও জেলাশাসক (ডিএম), পুলিশ কমিশনার (সিপি) অথবা রাজ্য সরকারের মনোনীত ডিআইজি পদমর্যাদার কোনও পুলিশ আধিকারিক যদি মনে করেন, কোনও ব্যক্তি সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা ভবিষ্যতে তেমন কাজে জড়াতে পারেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া যাবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে সর্বোচ্চ এক বছরের জন্য বহিষ্কার (Externment) করার ক্ষমতা থাকবে প্রশাসনের হাতে। ওই সময় তিনি সেই এলাকায় প্রবেশ করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁকে নিয়মিত থানায় হাজিরা দেওয়া অথবা নিজের গতিবিধি সম্পর্কে পুলিশকে জানাতেও হতে পারে।

    এক বছর পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটক

    বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং বিতর্কিত অংশ হল প্রতিরোধমূলক আটক (Preventive Detention)-এর বিধান। জনসুরক্ষার স্বার্থে কোনও ব্যক্তিকে বিচার শুরু হওয়ার আগেই সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই আটক অনির্দিষ্টকালের জন্য হবে না। আটক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার জন্য একটি অ্যাডভাইজরি বোর্ড বা পরামর্শদাতা বোর্ড গঠনের কথাও খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে। এই বিধান জাতীয় নিরাপত্তা আইন (NSA)-এর কাঠামোর সঙ্গে অনেকটাই সাদৃশ্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    জামিন অযোগ্য অপরাধ, তল্লাশি ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত

    নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট কিছু অপরাধকে ‘কগনিজেবল’ এবং ‘নন-বেলেবল’ বা জামিন অযোগ্য করার প্রস্তাব রয়েছে। ফলে পুলিশ প্রয়োজনে ওয়ারেন্ট ছাড়াই তল্লাশি চালাতে, গ্রেফতার করতে এবং অপরাধের সঙ্গে যুক্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

    অভিযুক্তকে আশ্রয় দিলেও শাস্তি

    শুধু অভিযুক্ত ব্যক্তিই নন, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার বা আটকাদেশ জারি থাকার পরও যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দেন বা কোনওভাবে সাহায্য করেন, তবে সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।

    সমাজবিরোধী বলতে কাদের বলা হয়েছে?

    বিলে সমাজবিরোধী কার্যকলাপের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—

    • ● সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় বা নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ তৈরি করা।
    • ● ব্যক্তি বা সম্পত্তির নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা।
    • ● জনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শান্তি নষ্ট করা।
    • ● বৈধ ব্যবসা, বাণিজ্য বা পেশায় বাধা সৃষ্টি করা।
    • ● বেআইনিভাবে কাউকে সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদ করা।
    • ● সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা।
    • ● খনি, বালিখাদান, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী পাচারের মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ক্ষতি করা।

    আইনের চোখে ‘গুন্ডা’ কারা?

    বিলে ‘গুন্ডা’ শব্দটিরও নির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর আওতায় পড়বেন—

    • ● যাঁরা একা বা কোনও গোষ্ঠী, সিন্ডিকেট কিংবা চক্রের সদস্য হিসেবে নিয়মিত সমাজবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত অথবা তাতে অর্থ ও সহায়তা জোগান।
    • ● ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১১১ বা ১১২ ধারায় যাঁদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল হয়েছে।
    • ● অস্ত্র আইন, এনডিপিএস আইন, বিস্ফোরক পদার্থ আইন বা অনৈতিক পাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে অভিযুক্ত ব্যক্তি।
    • ● যাঁদের সাধারণ মানুষ বিপজ্জনক বা বেপরোয়া বলে মনে করেন এবং যাঁদের কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়।

    সরকার বনাম সমালোচনা

    সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ, দখলদারি, সিন্ডিকেটরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখতেই এই আইন আনা হয়েছে। অপরাধ ঘটার আগেই প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে এই বিল। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, প্রতিরোধমূলক আটক, ওয়ারেন্ট ছাড়া তল্লাশি এবং প্রশাসনের বিস্তৃত ক্ষমতা নাগরিক স্বাধীনতার প্রশ্নে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পর বাস্তবে তার প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে আইন বিশেষজ্ঞ— সব পক্ষের।

  • OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    OBC Reservation Amendment Bill: ওবিসি সংরক্ষণে বড় বদল! বিধানসভায় পাশ জোড়া সংশোধনী বিল, বদলে গেল একাধিক নিয়ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) সংরক্ষণ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের পথে এগোল শুভেন্দুর সরকার। সোমবার বিধানসভায় ওবিসি সংক্রান্ত দুটি সংশোধনী বিল সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হয়েছে। দীর্ঘ আলোচনার পর ভোটাভুটিতে বিল দুটির পক্ষে ১৮৬ জন বিধায়ক সমর্থন জানান, বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭টি। ছ’জন বিধায়ক ভোটদান থেকে বিরত থাকেন। প্রথমে ধ্বনিভোটে বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি আনুষ্ঠানিক ভোটাভুটির দাবি জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ভোটাভুটিতে অংশ নেওয়ার পর কক্ষত্যাগ করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিধায়কেরা।

    দুটি সংশোধনী বিল পেশ

    অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণমন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ এদিন দুটি সংশোধনী বিল পেশ করেন। বিল দুটি হল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (আদার দ্যান শিডিউল কাস্ট অ্যান্ড শিডিউল ট্রাইব) রিজার্ভেশন অফ ভ্যাকেন্সিস ইন সার্ভিসেস অ্যান্ড পোস্ট অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ এবং ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল কমিশন ফর ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসেস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’। আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী অভিযোগ করেন, আগের সরকার রাজনৈতিক ও ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে ওবিসি তালিকা সম্প্রসারণ করেছিল। তাঁর দাবি, প্রকৃত সামাজিক ও শিক্ষাগত অনগ্রসরতার পরিবর্তে রাজনৈতিক বিবেচনাই তখন বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল।

    নতুন সংশোধনীতে কী বলা হয়েছে?

    নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমানে ক্যাটেগরি ‘এ’-এর আওতায় থাকা ৬৫টি জনগোষ্ঠীর তালিকা বহাল থাকছে। তবে ২০১২ সালের আইনে যুক্ত হওয়া ক্যাটেগরি ‘বি’-এর ৭৮টি জনগোষ্ঠী-সংবলিত তফসিল আইন থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানানোর সুযোগও রাখা হয়েছে। সরকারি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের ভূমিকাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করা, বাদ দেওয়া বা শ্রেণিবিন্যাসের বিষয়ে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

    সাধারণ নাগরিকদের জন্যেও নতুন সুযোগ

    সংশোধিত আইনে আরও বলা হয়েছে, ওবিসি সংরক্ষণের হার নির্ধারণ করবে রাজ্য সরকার, তবে তা করতে হবে কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ করেই। সময়ের প্রয়োজন অনুযায়ী সংরক্ষণের শতাংশ পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে, যদিও মোট সংরক্ষণের সীমা ৫০ শতাংশের মধ্যে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অনগ্রসরতার মাত্রা অনুযায়ী ওবিসি সম্প্রদায়গুলিকে পৃথক বিভাগে ভাগ করে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন সংক্রান্ত সংশোধনীতে সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনও সম্প্রদায়কে ওবিসি তালিকাভুক্ত করার আবেদন, অতিরিক্ত বা অপর্যাপ্ত অন্তর্ভুক্তি নিয়ে অভিযোগ— সবই কমিশনের কাছে জমা দেওয়া যাবে। কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে বিলে উল্লেখ রয়েছে।

    কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল

    আইন সংশোধনের মাধ্যমে কমিশনের সদস্যদের কার্যকালের মেয়াদ তিন বছরই বহাল রাখা হয়েছে। তবে সদস্য-সচিব, যিনি রাজ্য সরকারের কর্মরত আধিকারিক, তাঁর দায়িত্বকাল কতদিন হবে, তা নির্ধারণের ক্ষমতা রাজ্য সরকারের হাতেই থাকবে। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে ওঠে রঙ্গনাথ মিশ্র কমিশনের সুপারিশের পর। বামফ্রন্ট আমলে অনগ্রসরতার ভিত্তিতে ক্যাটেগরি ‘এ’ ও ‘বি’— এই দুই ভাগে সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু হয়েছিল। পরে ২০১২ সালে তৎকালীন সরকার সেই আইনে সংশোধন এনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের পৃথক তালিকা যুক্ত করে। সদ্য পাশ হওয়া সংশোধনী বিলের মাধ্যমে সেই কাঠামোয় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হল।

LinkedIn
Share