Tag: West Bengal

West Bengal

  • Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বাংলায় এখন ‘বোমের সংস্কৃতি’ চলে বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। জিএসটি নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বুধবার লোকসভায় বাংলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন নির্মলা। তুললেন দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের প্রসঙ্গও। একই সঙ্গে বাজেটে (Central Budget) কোনও রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়নি বলেও দাবি নির্মলার।

    বাংলায় বোমার সংস্কৃতি

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তীব্র আক্রমণ করলেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, অভিষেক তাঁর বক্তব্যে সাংসদদের ‘বেওকুফ’ বানিয়েছেন। রীতিমতো অঙ্গভঙ্গি করে নাটুকে টোনে অভিষেকের উদ্দেশ্যে কটাক্ষবাণ শানিয়ে নির্মলা বলেন, ‘হে ভগবান কেউ এত মিথ্যে কথা কী করে বলতে পারে!’ তুলোধনা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বোমা ফেটে মৃত্যুর ঘটনায় নির্মলার দাবি, বাংলায় আইন নয়, বোমা চলে। বাংলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্মলা। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে তুলে আনেন এনসিআরবি তথ্য। সেই তথ্য তুলে ধরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালীগঞ্জে বোম ফেটে একজন শিশু মারা গিয়েছে। একজন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। মেদিনীপুরে বোমা নিয়ে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। বাংলায় বোমা চলে, আইন নয়। এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী ক্রাইম রেটে ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে আছে বাংলা। এরা আমাদের কথা বলে!”

    নারী নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা

    আইনের শাসন চালাতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড ও নারীদের বিরুদ্ধে অগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যদি মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুর্গাপুরে ঘটে যাওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্মলা বলেন, “ওড়িশার একজন এমবিবিএস ছাত্রী দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পাবলিকলি বলেছেন, মহিলাদের রাতে বেরোনো ঠিক নয়। একজন সাংসদ বলেছেন, যদি বন্ধু ধর্ষণ করে তাহলে আমরা কী করতে পারি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ধর্ষণ রোধে আমরা আইন বানিয়েছি। রাজ্যপালকে পাঠিয়েছি। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজ্যের এই হাল, আইন দিয়ে সবকিছু হয়ে যাবে?”

    মৃত্যুর পরেও দিতে হয় কাটমানি

    গত মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026-27) নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু গোটা জীবনটাই কাটছে ট্যাক্সের ফাঁদে।’ বর্তমানে ধূপের উপরে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিতে হয়। সেই নিয়ে তাঁর কটাক্ষ ছিল, ‘মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ এ দিন জিএসটি প্রসঙ্গ তোলেননি নির্মলা। তবে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও জিএসটি, খুবই দুঃখের কথা। আসলে বাংলায় মৃত্যুর পরে কাটমানি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের দাম কেন ১০ টাকা বেশি? এভাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাংলা

    এদিন অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য প্রস্তাব দিলে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সহজ হবে, বিশেষ করে জুট, লেদার শিল্প ও রফতানিতে সুবিধা মিলবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে গতি আনবে এবং শিলিগুড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, চলতি বাজেটে ডানকুনির উল্লেখ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই।

    তৃণমূলের মিথ্যাচার

    বাজেটে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর গড়ার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ দাবি করেন, এটি একেবারেই পুরনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যা পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্মলা (Nirmala Sitharaman) বলেন, “আমরা ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরি করতে চাই। তাই এই বাজেটে ডানকুনির কথা বলা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ঘোষণা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লুধিয়ানা থেকে কলকাতা হয়ে ডানকুনি পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে কিছুই বেরিয়ে আসেনি। আমি যা ঘোষণা করেছি তা নতুন। তাই, সবকিছুতেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”

    ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ

    এদিন বক্তৃতায় সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সহায়তাসহ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কার্যকর মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪.৪ শতাংশ। এর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ। বাজেট আলোচনায় জিএসটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুধ, শিক্ষা, বই, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফিউনারেল এসেনশিয়ালে জিএসটি নেই। পাশাপাশি হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামেও শূন্য হার বজায় আছে। বিরোধীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় জোর, উদ্যোগপতিত্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেগা টেক্সটাইল পার্ক, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতিতে রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

  • Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন।” বুধবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।”

    ভূপেন্দ্রর নিশানায় মমতা (Mamata Banerjee)

    কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন। ২০ লাখ মানুষ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন, অথচ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এসআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে গিয়েছেন, কিন্তু ডিএর ক্ষেত্রে নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হেরে গিয়েছেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি নিজের কর্মচারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন।” তোষণমূলক রাজনীতির জন্যও মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    মন্ত্রী দাবি

    মন্ত্রীর দাবি (Mamata Banerjee), পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাই মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক খুন ও হিংসার ঘটনা এখানে সর্বাধিক। এখানে রাজনৈতিক তোষণও সর্বাধিক।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ অর্থ রাজ্য সরকার সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে চালু করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলায় তা করা হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বহু বিধান ছিল। অসম সরকার কমিটি গঠন করে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে।”

    এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব

    যাদব বলেন, “সুরাট–ডানকুনি ফ্রেট করিডর পরিবহন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর এবং দুর্গাপুরে উন্নয়ন সামগ্রিক লজিস্টিক দক্ষতা বাড়াবে।” তিনি জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্বল প্রশাসনের কারণে বাংলা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তালিকাভুক্ত ৬,৮০০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক একাই পশ্চিমবঙ্গকে (Mamata Banerjee) ১.১০ লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, তবুও তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল সরকার দুর্বল প্রশাসনের প্রতীক।

    মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি

    তিনি বলেন, “মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শংসাপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এবং কেন্দ্র নির্ধারিত ‘দিশা’ বৈঠকগুলি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।” মন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম-কিষানের মতো প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কম মূলধনী ব্যয়ে চলছে এবং আয় না বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এটি শুধু তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, বিদায়ী দলিল।” তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মহান বিজ্ঞানীদের ভূমি, তবুও বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়নি, কিন্তু মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা (Mamata Banerjee) বরাদ্দ করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে ৩ কোটি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। মন্ত্রী বলেন, “বস্ত্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের এই খাতে উন্নয়নের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই (Mamata Banerjee)।”

     

  • Assembly Elections 2026: এবার বুথের দায়িত্বে এনবিসিসি, কলকাতা হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    Assembly Elections 2026: এবার বুথের দায়িত্বে এনবিসিসি, কলকাতা হাইকোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন নির্বিঘ্নে শেষ করতে বুথ নিরাপত্তা নিয়ে বড় পদক্ষেপ  জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Assembly Elections 2026)। জানা গিয়েছে, এবার বুথগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে এনবিসিসিকে। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টে এটাই জানিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, বুথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সেই মামলার শুনানিতেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বুথগুলির নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের কাজ করবে এনবিসিসি। এর আগে যে সংস্থা এই দায়িত্বে ছিল, তাদের সরিয়েই এনবিসিসিকে দেওয়া হচ্ছে বুথের দায়িত্ব।

    ফাঁক-ফোকর রুখতে নয়া ব্যবস্থা (Assembly Elections 2026)

    কমিশনের দাবি, রাজ্যের বুথগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনও ফাঁক-ফোকর না থাকে, তাই এই সিদ্ধান্ত। আদালতে জানানো হয়েছে, বুথ নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় খতিয়ে দেখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের দায়িত্বও থাকবে ওই সংস্থার ওপর।দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠেছিল বুথ নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে। সেই প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলেই ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের। কলকাতা হাইকোর্টে মামলার শুনানি এখনও চলছে। গত ১৩ জানুয়ারি শমীক ভট্টাচার্য সশরীরে কলকাতা হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে রাজ্যের প্রায় ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আবেদন জানান। শমীক জানান, বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচনের আগেই সুরক্ষা ব্যবস্থা সার্ভে করা জরুরি।

    শমীকের বক্তব্য

    তিনি জানান, এতদিন বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ম্যাকিনটোশ বার্ন। তারা প্রায় ছ’মাস আগেই সেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। তাই বর্তমানে রাজ্যের বুথ নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এহেন পরিস্থিতিতে আদালতের দ্বারস্থ হন শমীক (Assembly Elections 2026)। আবেদনে তিনি জানান, রাজ্য সরকার যদি ৮৩ হাজার বুথের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অপারগ হয়, তবে প্রয়োজনে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জিও জানানো হয়। এর পরেই জাতীয় নিরাপত্তা কমিশন জানায় বুথের দায়িত্ব দেওয়া হবে এনবিসির হাতে। উল্লেখ্য যে, এনবিসিসির পুরো রূপটি হল ন্যাশনাল বিল্ডিংস কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড। বর্তমানে এর সরকারি নাম এনবিসিসি ইন্ডিয়া লিমিটেড। এটি ভারত সরকারের একটি নবরত্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, যা ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সংস্থাটি আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত হয় এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা পরামর্শ ও রিয়েল এস্টেট প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করে (Assembly Elections 2026)।

     

  • BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    BJP Sankalpa Patra: বিধানসভা নির্বাচনে অভিনব পদক্ষেপ, আমজনতার পরামর্শে বাংলায় বিজেপির সংকল্পপত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। এই আবহে নির্বাচনী ‘সংকল্পপত্র’ বা ইস্তাহার (Sankalp Patra) তৈরিতে অভূতপূর্ব পদক্ষেপ করল রাজ্য বিজেপি। গতানুগতিকভাবে দলের গুটি কয়েক নেতার ঘরে বসে ইস্তাহার তৈরির প্রথা ভেঙে, এবার সরাসরি সাধারণ মানুষের পরামর্শ নিয়ে ইস্তাহার গড়ার সিদ্ধান্ত নিল পদ্ম শিবির। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই কর্মসূচির বিস্তারিত ঘোষণা করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

    মানুষের কথা শুনে সংকল্প পত্র

    এবার নির্বাচনী সংকল্পপত্রে (BJP Sankalpa Patra) মানুষের সমস্যা ও চাহিদার কথাই তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য বিজেপি। সেজন্য বড় পদক্ষেপ করল গেরুয়া শিবির। রাজ্যের কোণায় কোণায় মানুষের কাছে পৌঁছে তাঁদের সমস্যার কথা শোনার উদ্যোগ নেওয়া হল। একইসঙ্গে একটি নম্বরও জানানো হল রাজ্য বিজেপির তরফে। যে নম্বরে ফোন করে যে কেউ নিজের পরামর্শ জানাতে পারবেন। মানুষের সেই সব পরামর্শ গ্রহণ করেই নির্বাচনী সংকল্পপত্র তৈরি করা হবে বলে শনিবার জানালেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি (Shamik Bhattacharya) এদিন জানান, ‘এই সরকারের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গবাসীর মুক্তি যখন নিশ্চিত, তখন আপনারাও আপনাদের পরামর্শ দিন।’ মানুষের দাবি ও সমস্যাগুলি সরাসরি শোনার জন্য রাজ্যজুড়ে ১০০০টি জায়গায় ড্রপ বক্স বসানো হচ্ছে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ড্রপ বক্সে সাধারণ মানুষ তাঁদের মতামত জমা দিতে পারবেন।

    কেন এই অভিনব পদক্ষেপ

    পাশাপাশি, প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েও মানুষের কাছে পৌঁছতে চাইছে বিজেপি। মতামত জানানোর জন্য একটি বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর চালু (Toll Free Number) করা হয়েছে, নম্বরটি হল— ৯৭২৭২৯৪২৯৪। এছাড়াও কিউআর কোড স্ক্যান করে বিজেপির ওয়েবসাইটে গিয়ে অথবা ইমেল মারফতও যে কেউ তাঁদের পরামর্শ পাঠাতে পারবেন। বিজেপির লক্ষ্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানো। রাজ্যে ভারী শিল্প আনতে এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে শিল্পপতিদের কাছ থেকেও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রায় ১০ হাজার চিঠি লিখছে দল। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘কোনও দলের সরকার না হয়ে যাতে মানুষের সরকার হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ফেব্রুয়ারির মাসের শেষেই আমরা এই সংকল্পপত্র নিয়ে মানুষের কাছে যাব।’ তিনি আরও বলেন, “অতীতে বাংলায় দেখা গিয়েছে, ইস্তাহার নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত প্রকাশ হত। দলের কয়েকজন মুষ্টিমেয় এই ইস্তাহার করে।” কোনও দলের সরকার না হয়ে, যাতে মানুষের সরকার হয়, সেজন্য সংকল্প পত্রে মানুষের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে মত শমীকের।

  • Suvendu Adhikari: “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন”, ডিএ মামলার রায়ের পর প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন”, ডিএ মামলার রায়ের পর প্রতিক্রিয়া শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডিএ সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের রায় (DA Verdict) সামনে আসতেই তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকারকে একেবারে ধুয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে তিনি এই জয়কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের সম্মিলিত লড়াইয়ের জয় বলে অভিহিত করেছেন। তিনি লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার বলে এসেছেন ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়। আজ(বৃহস্পতিবার) দেশের সর্বোচ্চ আদালত জানিয়ে দিল ডিএ হল আইনসিদ্ধ ন্যায্য অধিকার, কোনও অনুদান নয়।”

    শুভেন্দুর অভিযোগ (Suvendu Adhikari)

    শুভেন্দুর অভিযোগ, কলকাতা হাইকোর্টে হারের পর রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে বড় বড় উকিল দাঁড় করিয়ে কর্মচারীদের বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছে। আন্দোলনকারীদের ধৈর্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, “পুলিশের লাঠির ঘা উপেক্ষা করেও, যাঁরা আইনি পথে লড়াই চালিয়েছেন, এই জয় তাঁদেরই।” সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ একটি পোস্টে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা লেখেন, “ডিএ মামলায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মৌলিক অধিকার সুনিশ্চিত করলেন মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট। আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল প্রমাণিত হলেন, নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বারবার বলে এসেছেন যে ডিএ কর্মচারীদের অধিকার নয়।” পরে তিনি (Suvendu Adhikari) লেখেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর, বহু বছরের সংগ্রামের পর অবশেষে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা মহামান্য আদালতের নির্দেশে তাঁদের ন্যায্য অধিকার অনুযায়ী মহার্ঘ ভাতা পেতে চলেছেন।”

    তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা

    তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করে শুভেন্দু লেখেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অসংবেদনশীল সরকার দীর্ঘ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের তাঁদের প্রাপ্য ন্যায্য মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত করেছেন। ট্রাইব্যুনাল থেকে মহামান্য কলকাতা হাইকোর্ট, একের (DA Verdict) পর এক আইনি লড়াই জেতার পরেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কোটি কোটি টাকা ধ্বংস করে দেশের তাবড় আইনজীবীদের দাঁড় করিয়েছেন শুধুমাত্র প্রাপ্য মহার্ঘ ভাতা থেকে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে। কর্মচারীরা আন্দোলন করলে পুলিশের লাঠির আঘাত ধেয়ে এসেছে, তবুও তাঁরা ধৈর্য ধরে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন ও দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপর ভরসা করে আইনি পথে লড়াই এই জয় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের লড়াইয়ের জয়, ন্যায্য অধিকারের জন্য আপসহীন এই লড়াইকে আমি কুর্নিস করি। রাষ্ট্রবাদী মনোভাবাপন্ন-সহ সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যেককে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

    সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের প্রতিক্রিয়া

    দেশের শীর্ষ আদালতের রায়ের পরেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। মঞ্চের তরফে বলা হয়েছে, “১১০৬ দিন পরে আজ আমাদের লড়াই সার্থকতা পেল। আমরা এই রায়কে স্বাগত জানাই, তবে আমাদের নজর থাকবে রাজ্য সরকার আদালতের এই নির্দেশ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে (Suvendu Adhikari) কার্যকর করে কিনা, সেদিকে।” বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ হারে ডিএ (DA Verdict) পান। আর কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা ডিএ পান ৫৮ শতাংশ হারে। ফারাক ৪০ শতাংশের।

    ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার

    বৃহস্পতিবার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দেয়, রোপা রুল অনুযায়ী ডিএ সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। বকেয়া ডিএর ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে। বাকি বকেয়ার ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নয়া কমিটি গঠনের কথাও বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা এবং আরও দুই বিচারপতি। এই কমিটিই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে বকেয়া ডিএ কীভাবে এবং কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে। সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ মেনে এই (Suvendu Adhikari) ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যকে দিতে হবে ১০ হাজার ৪০০ কোটি টাকা (DA Verdict)।

     

  • Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    Assembly Election 2026: ঘনিয়ে আসছে ভোট, চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইভিএম, ভি ভি প্যাটের পর এবার গণনা কেন্দ্রের চূড়ান্ত প্রস্তুতিও সেরে ফেলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। চলতি বছর রাজ্যে যে বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election 2026) হতে চলেছে তার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর (ECI)। সেই মোতাবেক রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১৫০টি গণনা কেন্দ্রকে চূড়ান্ত করতে পেরেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের দফতর। বুধবার এই তালিকাই পাঠানো হবে নির্বাচন কমিশনে। কমিশনের তরফে চূড়ান্ত শিলমোহর পড়লেই রাজ্যের এই গণনা কেন্দ্রগুলিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রই নয়, কোন গণনা কেন্দ্রে কত রাউন্ড গণনা হবে তারও তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে।

    নির্বাচন কমিশনের পদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য (Assembly Election 2026)

    নির্বাচন কমিশনের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরেই রাজ্যে আসবে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ফুল বেঞ্চ ঘুরে যাওয়ার পরেই অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাই নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই সব কাজ সেরে রাখছে। ইতিমধ্যেই ইভিএম, ভিভিপ্যাট থেকে শুরু করে বুথের সংখ্যা একপ্রকার চূড়ান্ত করে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি ছিল কেবলমাত্র গণনা কেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্ত করার। এবার সেই সংখ্যাও চূড়ান্ত করে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর পাঠাতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। সেখানে শিলমোহর পড়লেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সব রকম পদক্ষেপ করতে শুরু করবে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ইতিমধ্যেই রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার বুথকে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর এই সংখ্যা বাড়তেও পারে (Assembly Election 2026)। তবে সাম্প্রতিক অতীতে কালীগঞ্জ বিধানসভা উপনির্বাচনে নির্বাচন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যে প্যারামিটার ছিল, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সেই প্যারামিটার ভেঙে নয়া মানচিত্র তৈরি হয়ে গিয়েছে। যেখানে বলা হয়েছে স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভেতরে এবার থাকবে দু’টি করে ক্যামেরা, বুথের বাইরে একটি।

    নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা

    বাকি বুথগুলিতে ভিতরে ও বাইরে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। নাকা চেকিংয়ের সংখ্যা বাড়ানো হবে। সেখানেও থাকবে প্রতি ক্ষেত্রে একটি করে ক্যামেরা, এর সঙ্গে থাকবে মোবাইল ভ্যান যার মাথায় লাগানো থাকবে একটি করে ক্যামেরা, আর এইসব ক্যামেরায় ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে লাইভ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। যে পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এখনও পর্যন্ত অগ্রসর হয়েছে, তাতে এই বিধানসভা নির্বাচন সম্ভবত এক দফায়ই হতে চলেছে। আর সেই কারণেই রাজ্যে ভোটের দামামা বেজে গেলেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে এখনও প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় আছে (ECI)। কিন্তু নির্বাচন কমিশন বিগত দিনের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি না করে নতুন আর এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর। কমিশনের এক পদস্থ কর্তা জানান, কমিশনের লক্ষ্য এবার একদিকে যেমন এক দফায় নির্বাচন করা, তেমনি অন্যদিকে রক্তপাতহীন সুষ্ঠু অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করে মানুষকে তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া।

    স্পর্শকাতর, অতি-স্পর্শকাতর বুথ

    রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বিস্তর বৈঠক হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্যে দিয়েই উঠে এসেছে স্পর্শকাতর থেকে শুরু করে অতি-স্পর্শকাতর এবং সংবেদনশীল থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত এলাকার বুথের সামগ্রিক চিত্র। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর প্রতি বুথে যেমন থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী, তেমনই এলাকায়ও টহলদারের কাজে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মোবাইল ভ্যানের মাধ্যমেও নজরদারির কাজ চালাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীই। অর্থাৎ ২০২১ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবার একদিকে যেমন বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে চলেছে, তেমনি অন্যদিকে বিগত দিনের ইতিহাস মুছে ফেলে রাজ্যে নয়া ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। এখন দেখার, আদতে এই স্পর্শকাতর এবং অতি-স্পর্শকাতর বুথের সংখ্যা বেড়ে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় যেখানে এবার রাজ্যে বুথের সংখ্যা প্রায় এক লাখ ছুঁতে চলেছে (Assembly Election 2026)।

     

  • Swami Suryananda: সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ

    Swami Suryananda: সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ধর্মীয় সমাবেশে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ (Swami Suryananda)। রবিবার ঘটনাটি ঘটে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর এলাকায়। গুরুতর জখম হন ওই হিন্দু সাধু (Suvendu Adhikari)। হিন্দু সম্মেলন চলাকালীনই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনায় তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও লক্ষ্যভিত্তিক হিংসার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানপুরে আয়োজিত ওই হিন্দু সম্মেলনে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে সমবেত হয়েছিলেন। তবে সমাবেশস্থলে হঠাৎ উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার পরিপ্রেক্ষিতে স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজ গুরুতর জখম হন। তাঁকে তড়িঘড়ি ভর্তি করা হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে।

    হিন্দু সন্ন্যাসী আক্রান্ত (Swami Suryananda)

    হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বামীজি একাধিক আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি। তাঁকে দেখতে যাঁরা হাসপাতালে গিয়েছিলেন, তাঁদের মতে, মহারাজের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল। মহারাজের ওপর হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত করা হয়নি। ধর্মীয় সমাবেশে কীভাবে হিংসা ছড়াল, সে বিষয়েও রাজ্য পুলিশ-প্রশাসন নীরব। ঘটনার প্রেক্ষিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না, অথবা ঘটনাটিকে মারধর, দাঙ্গা নাকি হত্যার চেষ্টার মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে, তা-ও স্পষ্ট নয়। হিন্দু সন্ন্যাসীর আক্রান্ত হওয়ায় খবর পেয়েই মহারাজকে দেখতে হাসপাতালে ছোটেন শুভেন্দু। মহারাজের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটির বিশদ বিবরণ দেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা (Swami Suryananda)।

    ‘জয় শ্রী রাম’

    শুভেন্দুর দাবি, ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দেওয়ায় সম্মেলনের সময় ওই সাধুর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “এটি (জয় শ্রীরাম ধ্বনি) হিন্দু ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশমাত্র।” তাঁর দাবি, হাসপাতালের বেড থেকেই স্বামীজি তাঁকে ঘটনার ধারাবিবরণী দেন (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “বুনো জন্তুর মতো তারা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বামীজির গলায় ফাঁস লাগিয়ে তাঁকে হত্যার চেষ্টাও করেছিল। ঘুষি, লাথি ও বুকে আঘাত করাও হয়েছে। হয়েছে মারধর করাও।” নন্দীগ্রামের বিধায়কের অভিযোগ, হামলাকারীরা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত এবং তাদের মধ্যে যাদের তিনি “জেহাদি” বলে উল্লেখ করেন, তারাও ছিল। তাঁর মতে, এটি কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার হত্যার চেষ্টা।

    “রাষ্ট্র-পোষিত সন্ত্রাস”

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে শুভেন্দু এই ঘটনাকে “রাষ্ট্র-পোষিত সন্ত্রাস” বলে অভিহিত করেন। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হিংসা চালাতে রাজ্য প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে মদত দিচ্ছে। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বলেন, “এটি নিছক আইনশৃঙ্খলার অবনতি নয় (Suvendu Adhikari)। এটি হিন্দু গর্ব প্রকাশের সাহস দেখানো যে কাউকে লক্ষ্য করে সংগঠিত সন্ত্রাস।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের রাজত্বে হিন্দু সাধুদের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং ভক্তদের ভয় দেখানো নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশকে নীরব দর্শক বলে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা ও অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার একটি পরিচিত ধারারই পুনরাবৃত্তি হয়েছে (Swami Suryananda)।

    সভ্যতার সঙ্কট!

    এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের আহ্বান জানিয়ে শুভেন্দু জাতপাত ও আঞ্চলিক বিভাজন ভুলে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেন। তাঁর মতে, স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজের ওপর হামলা আসলে সমগ্র হিন্দু বিশ্বাস ও পরিচয়ের ওপর আঘাত। তাঁর প্রশ্ন, “আর কতদিন হিন্দুরা নীরবে অত্যাচার সহ্য করবে?” শুভেন্দুর মতে, ঘটনাটি কোনও বিচ্ছিন্ন হিংসার ঘটনা নয়, এটি একটি বৃহত্তর সভ্যতার সঙ্কট।এদিকে, হাসপাতাল সূত্রে খবর, স্বামী সূর্যানন্দ মহারাজের শারীরিক অবস্থার ওপর চিকিৎসকেরা কড়া নজর রাখছেন। দোষীদের বিরুদ্ধে (Suvendu Adhikari) কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ক্রমশ জোরালো হচ্ছে (Swami Suryananda)।

     

  • Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    Saraswati Puja: তৃণমূলের তুষ্টিকরণের রাজনীতি, সরস্বতীপুজো বন্ধ একাধিক জায়গায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের তুষ্টিকরণের রাজনীতির বিষবৃক্ষে ফলতে শুরু করেছে বিষময় ফল! তার জেরে এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল-শাসিত (TMC) রাজ্যের একাধিক জায়গায় ব্যাহত হয়েছে বার্ষিক হিন্দু উৎসব সরস্বতী পুজো (Saraswati Puja)। শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ছিল সরস্বতী পুজো। উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটি শহরে শাসক দল তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে বাধা সৃষ্টি হয় সরস্বতী পুজোয়।

    তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে মন্দিরে তালা (Saraswati Puja)

    সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলঘরিয়া সর্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা চৌক সোসাইটি মন্দিরটিতে তৃণমূলের এক গোষ্ঠী তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর ফলে স্থানীয় হিন্দু মহিলারা সরস্বতীর আরাধনা করতে পারেননি। সমস্যার সমাধান করতে পারেননি সংশ্লিষ্ট টিএমসি কাউন্সিলরও। পুলিশ জানিয়েছে, টিএমসির বিবদমান দুই গোষ্ঠী কোনও সমঝোতায় না পৌঁছনো পর্যন্ত তারা তালা ভাঙবে না বা হস্তক্ষেপ করবে না। স্থানীয় এক মহিলা বলেন, “আমরা চাই এই মন্দিরটি সকলের জন্য একটি সাধারণ উপাসনাস্থল হোক। এখানে একটি মাত্র তালা থাকবে, যার দুটি চাবি থাকবে, একটি ওদের কাছে, অন্যটি আমাদের কাছে।” আর এক মহিলা বলেন, “এটি কোনও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সবার।”

    পুজো বন্ধ কলেজ-স্কুলেও

    এদিকে, দক্ষিণ কলকাতার সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত যোগেশচন্দ্র চৌধুরী কলেজের এক ছাত্রী জানান, সরস্বতী পুজোর আয়োজন করার জন্য তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ, হুমকি দেওয়া টিএমসি নেতার নাম দাউদ আলম মোল্লা। ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে ওই ছাত্রী বলেন, “দাউদ আলম মোল্লা বাইরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে আমায় হুমকি দিয়েছে যে সে আমার এলএলএম (LLM) নষ্ট করে দেবে।” উল্লেখ্য, যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ল’ কলেজই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা টিএমসি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী (TMC), কীভাবে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ শব্বির আলি সরস্বতী পুজোর আয়োজন করলে ছাত্রছাত্রীদের ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দিয়েছিলেন।

    এদিন, কোচবিহার জেলার দিনহাটা কলেজে টিএমসির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে সরস্বতী পূজার মণ্ডপ পরিত্যক্ত হয়ে যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে তলব করা হয়। খবর পেয়ে দিনহাটা থানার ওসি এবং এসডিপিও কলেজ চত্বরে পৌঁছন (Saraswati Puja)। পুজোয় অংশ নিতে আসা হিন্দু ভক্তদের নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকা ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া দৃশ্যে দেখা যায়, শাসক দলের দুষ্কৃতীরা কলেজ ক্যাম্পাসকে কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত শহরের আর একটি ঘটনায়, স্কুল চত্বরে সরস্বতী পুজো আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়নি হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের। জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে ৫০ শতাংশের বেশি মুসলিম ছাত্রছাত্রী থাকায় পুজোর অনুমতি নাকচ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ আধিকারিকরা ছাত্রছাত্রীদের দেবী সরস্বতীর পুজো করতে বাধা দিচ্ছেন।

    ফুটপাতে পুজোর আয়োজন!

    শেষ পর্যন্ত হিন্দু ছাত্রছাত্রীদের স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে, ফুটপাতে পুজোর আয়োজন করতে বাধ্য করা হয় (Saraswati Puja)। প্রদীপ চট্টোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি বলেন, “তারা বলেছে, এই স্কুলে হিন্দুরা সংখ্যালঘু হওয়ায় এখানে পুজো করা যাবে না। পশ্চিমবঙ্গে থাকা হিন্দুদের অবস্থা আর বাংলাদেশের হিন্দুদের অবস্থার মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই (TMC)।” তিনি এও বলেন, “পুলিশ দেবী সরস্বতীকেও স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে, ফলে ছাত্রছাত্রীদের রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ফুল দিতে হয়েছে।” এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। টুইট-বার্তায় তাঁর প্রশ্ন, “পশ্চিমবঙ্গ কি এখন বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে?” তিনি এও লেখেন, “এই ঘটনা আমাদের একটি বিষয় শেখায়, যদি হিন্দুরা সংখ্যালঘু হয়ে যায়, তাহলে তাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হবে।” উপরোক্ত চারটি ঘটনা স্থানীয় একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায়ই যেমন দেখা যায়, হিন্দুদের অধিকার সংক্রান্ত বহু খবরই মূলধারার সংবাদমাধ্যমে উপেক্ষিত থেকে যায়। তাই সরস্বতী পুজো ব্যাহত হওয়ার ঘটনার সংখ্যা (TMC) কয়েক ডজন ছাড়িয়ে গেলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু থাকবে না (Saraswati Puja)।

  • TMC: ব্যর্থ মমতা, তৃণমূল রাজ্যের লগ্নি টেনে নিয়ে গেল বিজেপির ওড়িশা

    TMC: ব্যর্থ মমতা, তৃণমূল রাজ্যের লগ্নি টেনে নিয়ে গেল বিজেপির ওড়িশা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় ১৫ বছর গদি আঁকড়ে পড়ে থেকে তৃণমূলের (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা পারেননি, মাত্র দু’দিনের বঙ্গ সফরেই তার চেয়েও ঢের বেশি কাজ করে দেখালেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির মোহন মাঝি। যার জেরে সেই বাম জমানা থেকে তৃণমূলের শাসনকাল (Syndicate Raj) পর্যন্ত ক্রমেই অধঃপাতে চলে যাচ্ছে রাজ্যের দশা। আর ওড়িশার উত্থান হচ্ছে রকেট গতিতে।

    পশ্চিমবঙ্গের অবনতি (TMC)

    পশ্চিমবঙ্গের এই অবনতি কোনও ঐতিহাসিক দুর্ঘটনা নয়। এটি সরাসরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, প্রশাসনিক অবক্ষয় এবং এমন এক শাসনব্যবস্থার ফল, যেখানে উন্নয়নের চেয়ে নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এক সময় ভারতের শিল্পক্ষেত্রের গর্ব হিসেবে পরিচিত বাংলা আজ পরিণত হয়েছে একটি অর্থনৈতিক সতর্কবার্তায়, যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, কীভাবে মতাদর্শ, তোষণমূলক রাজনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি মিলিয়ে কয়েক দশকের অগ্রগতিকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়। তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনে বাংলা যখন ক্রমেই স্থবিরতার অতলে তলিয়ে যাচ্ছে, তখন পাশের রাজ্য ওড়িশায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র। এক সময় অর্থনৈতিকভাবে বাংলার থেকে পিছিয়ে থাকা ওড়িশা এখন দ্রুত এগিয়ে চলেছে, বিনিয়োগ টানছে, তৈরি করছে কর্মসংস্থান, এবং তরুণদের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন আশার দিগন্ত। আজ আর পূর্ব ভারতের উন্নয়নের গল্প কলকাতায় লেখা হচ্ছে না, নতুন করে তা লেখা হচ্ছে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে।

    পশ্চিমবঙ্গ ছিল শিল্পের সমার্থক নাম

    স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গ ছিল শিল্পের সমার্থক নাম। হাওড়ার ইঞ্জিনিয়ারিং কেন্দ্র থেকে শুরু করে দুর্গাপুরের ইস্পাত কারখানা, কলকাতা বন্দর থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সব মিলিয়ে বাংলা ছিল পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। দক্ষ শ্রমশক্তি, শিক্ষাগত উৎকর্ষ, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উদ্যোক্তা মানসিকতা, সবই ছিল। যে জিনিসটি বাংলার টিকে থাকা নিশ্চিত করতে পারেনি, তা হল শিল্প-বিরোধী শাসনের দীর্ঘ ইতিহাস, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় তৃণমূলের রাজত্বে। এখানে মতাদর্শগত কঠোরতার জায়গায় এসেছে আরও বিধ্বংসী এক বাস্তবতা, দৃষ্টিহীন বিশৃঙ্খলা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার শিল্পের গতি কেবল মন্থর হয়নি, বরং পরিকল্পিতভাবেই তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে (Syndicate Raj)।

    পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন লগ্নিকারীরা

    ২০১১ সালের পর থেকে ৬,৬৮৮টি সংস্থা তাদের রেজিস্ট্রিকৃত অফিস পশ্চিমবঙ্গের বাইরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এই একটিমাত্র তথ্যই তৃণমূলের উন্নয়নের দাবির অন্তঃসারশূন্যতা তুলে ধরে। কোনও কারণ ছাড়া কোনও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান রাজ্য থেকে পাততাড়ি গুটোয় না। তারা লোটাকম্বল নিয়ে তখনই সরে যায়, যখন নীতিনির্ধারণ অনিশ্চিত, আইনশৃঙ্খলা দুর্বল এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ টিকে থাকার পূর্বশর্ত হয়ে (TMC) দাঁড়ায়। বিনিয়োগকারীরা যেসব পরিচিত কারণের কথা বলেন, সেগুলি হল, ‘দলীয় অনুদানে’র-এর নামে তোলাবাজি, চুক্তি ও পরিবহণে সিন্ডিকেট রাজ, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক হুমকি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব, দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর সম্পূর্ণ অনাস্থা, এবং এটি ‘গরিবপন্থী’ শাসন নয়, এটি উন্নয়নবিরোধী শাসন।

    তৃণমূল রাজ

    তৃণমূলের রাজত্বে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে উঠেছে এক সমান্তরাল অর্থনীতি, যেখানে কমিশন ছাড়া কিছুই এগোয় না। আর রাজনৈতিক আশীর্বাদ ছাড়া কোনও প্রকল্প টিকে থাকে না। কুখ্যাত ‘কাটমানি’ সংস্কৃতি রাজ্যের শাসনের সমার্থক হয়ে উঠেছে, যা পঞ্চায়েত স্তর থেকে শুরু করে বড় পরিকাঠামো প্রকল্প পর্যন্ত সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ক্ষয়িষ্ণু করেছে। এখানে উদ্যোক্তাদের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নয়, বরং শোষণের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হয়। এমন পরিবেশে উদ্ভাবন বিকশিত হয় না, দমবন্ধ হয়ে মারা যায়। ফলস্বরূপ, একসময় ভারতের বৌদ্ধিক গর্ব হিসেবে পরিচিত বাংলার যুবসমাজ আজ মর্যাদা ও সুযোগের সন্ধানে রাজ্যের বাইরে পাড়ি দিচ্ছে কাজের খোঁজে। যে রাজ্য প্রতিভা রফতানি করে আর ঋণ ছাড়া কিছুই আমদানি করে না, সে রাজ্য এগোচ্ছে না, সে ভেঙে পড়ছে (TMC)।

    তৃণমূল শাসিত রাজ্যের পক্ষে অপমানজনক

    ওড়িশার সঙ্গে তুলনা তৃণমূল শাসিত একটি রাজ্যের পক্ষে আরও অপমানজনক (Syndicate Raj)। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মোহন মাঝি কলকাতায় মাত্র দু’দিনের বৈঠকেই ১.০৩ লক্ষ কোটি টাকার লগ্নির প্রতিশ্রুতি আদায় করে ফিরে গিয়েছেন। এগুলি কোনও প্রতীকী ঘোষণা নয়, বরং সময়সীমা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা-সহ বাস্তব শিল্প চুক্তি। জানা গিয়েছে, ২৭টি মউয়ের মাধ্যমে ৮১,৮৬৪ কোটি টাকা, ৯০,০০০-এর বেশি যুবকের কর্মসংস্থান, ইস্পাত, আইটি, উৎপাদন ও সবুজ শক্তি খাতে বিনিয়োগ, এবং ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সমৃদ্ধ ওড়িশা’র স্পষ্ট রোডম্যাপ দিয়ে গিয়েছেন। এটাই আত্মবিশ্বাস, স্পষ্টতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তিতে পরিচালিত শাসন ব্যবস্থা। এই তিনটি গুণ আজ পশ্চিমবঙ্গে সম্পূর্ণ অনুপস্থিত। বাংলার নিজস্ব শিল্পপতিরাও এখন গন্তব্য হিসেবে বেছে নিচ্ছেন ওড়িশাকেই।

    সিন্ডিকেট রাজ

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর রাজনৈতিক জীবন গড়ে তুলেছেন আন্দোলন, বাধা ও সংঘাতের রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে। তাঁর সরকার ধারাবাহিকভাবে বিকল্প না দিয়ে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করেছে, প্রশাসন ও পুলিশি ব্যবস্থায় রাজনীতিকরণ করেছে, শাসনের বদলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাটককে প্রাধান্য দিয়েছে। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন স্থিতিশীলতা। লগ্নিকারীরা চান আশার আলো। বাংলা কোনওটাই দেয় না (TMC)। ভারতের পূর্বাঞ্চলের পুনরুত্থান, ‘পূর্বোদয়ে’র স্বাভাবিক নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল পশ্চিমবঙ্গের। অথচ আজ সেই রাজ্যই নিজের অগ্রগতির সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে (Syndicate Raj) দাঁড়িয়েছে। ওড়িশার উত্থান নির্মমভাবে বাংলার ব্যর্থতা উন্মোচন করে দেয়। এটি প্রমাণ করে, ভৌগোলিক অবস্থানই ভাগ্য নয়, আর ইতিহাস কোনও নিশ্চয়তা দেয় না। আসল বিষয় হল যোগ্য নেতৃত্ব।

    বাংলায় শিল্পায়নই ব্যর্থ

    যে রাজ্য একসময় অসংখ্য সুবিধা নিয়ে এগিয়ে ছিল, সে যদি এমন একটি রাজ্যের কাছে পিছিয়ে পড়ে, যাকে সে একসময় ছাপিয়ে গিয়েছিল, তবে লগ্নিকারীদের রায় স্পষ্ট। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল শুধু বাংলায় শিল্পায়নেই ব্যর্থ হননি, তাঁরা সক্রিয়ভাবে এর অর্থনৈতিক ভিত্তিও ধ্বংস করে দিয়েছেন। সিন্ডিকেট সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে, কাটমানিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে এবং বিনিয়োগকারীদের তাড়িয়ে দিয়ে তাঁরা ভারতের অন্যতম (Syndicate Raj) সম্ভাবনাময় রাজ্যকে পরিণত করেছেন শিল্পের কবরস্থানে (TMC)।

  • PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    PM Modi: সিঙ্গুরে কল্পতরু প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন-শিলান্যাস করলেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আজ সকালে আমি মা কামাখ্যার মাটিতে ছিলাম। এখন বাবা তারকনাথের মাটিতে আপনাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।” রবিবার সিঙ্গুরের (Singur Meeting) জনসভায় কথাগুলি বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন অবশ্য তিনি বক্তৃতা শুরু করেন শ্রীরামকৃষ্ণ এবং মা সারদাকে দিয়ে। তার পরেই চলে আসেন মা কামাখ্যা এবং বাবা তারকনাথের অনুষঙ্গে। সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন ও শিলান্যাস করেন ৮৩০ কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের। সিঙ্গুরের সরকারি মঞ্চ থেকে হুগলির বলাগড়ে এক্সটেন্ডেড পোর্ট গেট সিস্টেমের শিলান্যাসও করেন প্রধানমন্ত্রী।

    গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ (PM Modi)

    এদিন সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন, “রাজ্যের ট্রেন যোগাযোগের ক্ষেত্রে গত ২৪ ঘণ্টা তাৎপর্যপূর্ণ। গত ১০০ বছরে এত কাজ হয়নি।” এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস, কেন্দ্রের দুই মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং শান্তনু ঠাকুর, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এই মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ আগেই ৬টি অমৃত ভারত ট্রেন পেয়েছে। আজ আরও ৩টি অমৃত ভারত ট্রেন পেল পশ্চিমবঙ্গ।” জয়রামবাটি-বড়গোবিন্দনাথপুর-ময়নাপুর নয়া রেললাইনের উদ্বোধনও করেন প্রধানমন্ত্রী। যাত্রার সূচনা করেন তিনটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের এবং একটি নয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের (PM Modi)।

    রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রত্যাশিতভাবেই এসেছে রাজ্য সরকার পরিবর্তনের আহ্বান। তিনি বলেন, “আমাদের আসল পরিবর্তন চাই। সকলে এই মনোভাব নিয়েই আজ সভায় এসেছেন। সকলেই ১৫ বছরের মহাজঙ্গলরাজকে বদলাতে চাইছেন। বন্দে মাতরম হুগলিতেই লেখা হয়েছিল। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এই মাটিতেই লিখেছিলেন।” তিনি বলেন, “বিহারে এনডিএ জঙ্গলরাজ আরও একবার আটকে দিয়েছে। এবার পশ্চিমবঙ্গও টিএমসির মহাজঙ্গলরাজকে বিদায় করতে প্রস্তুত।” রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সুরও এদিন বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী (Singur Meeting)। তিনি বলেন, “পাল্টানোর দরকার, চাই বিজেপি সরকার।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পুরো সংসদ, পুরো দেশ ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছে। হুগলি এবং বন্দেমাতরমের সম্পর্ক তো আরও গুরুত্বপূর্ণ। বলা হয়, এখানেই ঋষি বঙ্কিমজি বন্দেমাতরমকে পূর্ণতা দিয়েছেন।”

    কর্তব্যপথে নেতাজি

    তিনি বলেন, “বিজেপি সরকারই দিল্লিতে কর্তব্যপথে ইন্ডিয়া গেটের সামনে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি বসিয়েছে। প্রথমবার লালকেল্লা থেকে আজাদ হিন্দ ফৌজের অবদানকে স্মরণ করা হয়েছে (PM Modi)। আন্দামান নিকোবরে নেতাজির নামে দ্বীপের নামকরণ করা হয়েছে। আগে ২৬ জানুয়ারির কর্মসূচি ২৪-২৫ তারিখ থেকে শুরু হত। শেষ হত ৩০ তারিখে। আমরা তা বদলে দিয়েছি। এখন ২৩ জানুয়ারি নেতাজি সুভাষবাবুর জন্মজয়ন্তী থেকে শুরু করেছি। মহাত্মা গান্ধীর পূণ্যতিথিতে তা পূরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি মনে করিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গ দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এর পরেই তৃণমূলকে নিশানা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা নিতে পাচ্ছেন না রাজ্যের মানুষ। এজন্য তৃণমূল সরকার দায়ী। মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও লাভ হয় না। জেলেদের জন্য কেন্দ্রীয় যোজনায় বাংলার জেলেদের রেজিস্ট্রেশন করতে দেওয়া হচ্ছে না।” তিনি বলেন, “জেলেরা বঞ্চিত (Singur Meeting) হচ্ছেন। যুব সমাজের সঙ্গে ছেলেখেলা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার (PM Modi)।”

     

LinkedIn
Share