Tag: West Bengal

West Bengal

  • Waqf Properties: ‘উমিদ’ সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাতিল বাংলার ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি

    Waqf Properties: ‘উমিদ’ সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় বাতিল বাংলার ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল শাসিত বঙ্গে ‘উমিদ’ (UMEED) সেন্ট্রাল পোর্টালে যাচাইকরণ প্রক্রিয়ায় ৩,৫০৯টি ওয়াকফ সম্পত্তি (Waqf Properties) বাতিল করা হয়েছে। পোর্টালটিতে আপলোড করা হয়েছিল মোট ৮৫,১১০টি ওয়াকফ সম্পত্তি। তার মধ্যে মাত্র ১৮,৪৯৭টি সম্পত্তি যাচাই ও অনুমোদিত হয়েছে। রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের প্রশ্নের উত্তরে একথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৮০,৫৪৮টি ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে মাত্র ২৩,০৯১টি উমিদ পোর্টালে আপলোড করা হয়েছিল। এর কারণ জানতে চান বিজেপি সাংসদ। জানতে চান, ঘটনায় দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

    শমীকের প্রশ্ন (Waqf Properties)

    শমীক জানতে চান, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পোর্টাল বন্ধ হওয়ার আগে কেন মাত্র ২৩,০৯১টি সম্পত্তি আপলোড করা হয়েছিল? এটি উমিদ কাঠামোর নির্ধারিত সময়সীমা লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে কিনা। তাঁর প্রশ্ন, একাধিক পর্যালোচনা ও ক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ ওয়াকফ বোর্ড কেন (Waqf Properties) এত কম সংখ্যক সম্পত্তি আপলোড করেছে? বিজেপির এই সাংসদ এও জানতে চান, নির্ধারিত সময়ে আপলোড না হওয়া সম্পত্তিগুলির আইনি অবস্থান কী? ভবিষ্যতেই বা কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? দায়ী কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কিনা, তাও জানতে চান তিনি।

    কী বললেন কিরেন রিজিজু

    সংখ্যালঘু বিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, ৬ জুন ২০২৫ তারিখে উমিদ সেন্ট্রাল পোর্টাল চালু হয়। সংশোধিত আইনের আওতায় রেজিস্ট্রিকৃত সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য ৬ মাসের মধ্যে আপলোড করা বাধ্যতামূলক ছিল। প্রয়োজনে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনাল আরও ৬ মাস সময় বাড়াতে পারত। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ওই দিন রাত্রি ১১:৫৯-এ পোর্টাল বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, “প্রথম ৬ মাসে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ২৩,০৯১টি সম্পত্তির তথ্য (Waqf Properties) আপলোড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৭১৬টি অনুমোদিত হয় এবং ১৬১টি বাতিল করা হয়, বাকিগুলি বিভিন্ন পর্যায়ে ছিল। পরে ওয়াকফ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের জন্য সময় বাড়ানো হয়। পরে ফের পোর্টাল খোলা হয়েছে। খোলা থাকবে ২৪ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। ১৭ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মোট ৮৫,১১০টি সম্পত্তি আপলোড হয়েছে, যার মধ্যে ১৮,৪৯৭টি অনুমোদিত এবং ৩,৫০৯টি বাতিল হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, আপলোডিং, যাচাই ও অনুমোদনের কাজ এখনও চলছে।চূড়ান্ত তথ্য যেমন, মামলা, দখলদারিত্ব, শ্রেণিবিভাগ, সম্পত্তির মূল্য ইত্যাদি—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্ধারণ করা যাবে না (Waqf Properties)।

    অমিত মালব্যর প্রশ্ন

    এদিকে, বিজেপি নেতা অমিত মালব্য প্রশ্ন তোলেন, “এত বড় সংখ্যক সম্পত্তি যাচাইয়ে কেন বাতিল হল? তাহলে কি তথ্যগত ত্রুটি ছিল, নাকি কারচুপি হয়েছে, নাকি নথিপত্র অসম্পূর্ণ ছিল?” প্রশাসনিক ব্যর্থতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহিও দাবি করেন তিনি। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৩ জুলাই “ইউনিফায়েড ওয়াকফ ম্যানেজমেন্ট, এমপাওয়ারমেন্ট, এফিসিয়েন্সি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রুলস, ২০২৫” জারি করা হয়। ওয়াকফ (সংশোধনী) আইন, ২০২৫-এর অধীনে এই ডিজিটাল ব্যবস্থার লক্ষ্য ছিল, রেকর্ড ডিজিটাইজেশন, নজরদারি বৃদ্ধি, অডিট দ্রুত করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

     

  • Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    Suvendu Adhikari: রামনবমীর শোভাযাত্রায় গেরুয়াময় ভবানীপুর, শুভেন্দুর সঙ্গে পা মেলালেন হাজার হাজার মানুষ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার, রামনবমীর (Ram Navami) শোভাযাত্রার জেরে গেরুয়াময় কলকাতার ভবানীপুর। এই শোভাযাত্রার পুরোভাগে ছিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা, বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। যদুবাবুর বাজারে অজন্তা ধাবা থেকে শুরু হয় শোভাযাত্রা। সেখানেই দেখা যায়, একেবারে সামনের সারিতে হাঁটছেন গৈরিক পাগড়ি পরা শুভেন্দু। শোভাযাত্রায় ছিল খোল, করতাল, কীর্তনিয়ার কীর্তন এবং জয় শ্রীরাম স্লোগান।

    ভবানীপুরে রামনবমীর শোভাযাত্রা (Suvendu Adhikari)

    শোভাযাত্রা শুরু হতেই দলে দলে লোকজন পা মেলান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আড়ে-বহরে বাড়তে থাকে শোভাযাত্রার কলেবর। শুভেন্দুকে এক ঝলক দেখতে ভিড় জমে যায় রাস্তার দু’পাশে। বাড়ির দোতলার বারান্দা থেকে ঝুঁকে পড়তেও দেখা গিয়েছে বহু মানুষকে। ভবানীপুরবাসীর এমন উৎসাহ দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু। কয়েকটি বাড়িতে ঢুকেও পড়েন তিনি। শোভাযাত্রায় হাঁটতে হাঁটতেই শুভেন্দু বলেন, “বাংলায় এবার রাম রাজ্য প্রতিষ্ঠা হবে। হাতে কাজ, পেটে ভাত, মাথায় ছাদ হবে। মহিলাদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। যুবক-যুবতীরা কাজ পাবেন এই বাংলায়ই। ভিন রাজ্যে আর কাজের খোঁজে যেতে হবে না তাঁদের।”

    শোভাযাত্রায় হাঁটলেন শুভেন্দু

    এবারের রামনবমীতে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা শুভেন্দুর। তবে তিনি শুরুটা করলেন ভবানীপুর থেকেই (Suvendu Adhikari)। কারণ, এই কেন্দ্রেই বিজেপির বাজি তিনি। ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী ঘাসফুল শিবিরের সর্বময় কর্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এই আসনে যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে, তা বলাই বাহুল্য। বর্তমানে প্রচারে বেরিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। অবশ্য কলকাতায় নেই তিনি। বৃহস্পতিবার তাঁর সভা করার কথা পাণ্ডবেশ্বর এবং দুবরাজপুরে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ফাঁকেই রামনবমীর শোভাযাত্রার (Ram Navami) সঙ্গে সঙ্গে কৌশলে ভবানীপুরে একপ্রস্ত জনসংযোগ কর্মসূচিও সেরে নিলেন শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)।

     

  • West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    West Bengal Assembly Election: সত্যি হল জল্পনাই, পানিহাটিতে বিজেপির বাজি ‘অভয়া’র মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জল্পনা চলছিলই। শেষমেশ সেই জল্পনাই সত্যি হল বুধ-সন্ধ্যায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটিতে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হলেন ‘অভয়া’র মা। আরজি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’কে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল ২০২৪ সালে। তারপর এতগুলো বছর কেটে গেলেও, সুবিচার মেলেনি। সেই কারণেই এবার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন অভয়ার মা।

    বিজেপির প্রার্থী তালিকা (West Bengal Assembly Election)

    ফেরা যাক খবরে। এদিন তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে বিজেপি। এই তালিকায় নাম রয়েছে ১৯ জনের। তাঁর মধ্যে অভয়ার মা-ও একজন। এই কেন্দ্রে বামফ্রন্টের প্রার্থী হয়েছেন সিপিএমের কলতান দাসগুপ্ত। অভয়াকাণ্ডের প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন কলতানও। সেই কলতানের সঙ্গেই দ্বৈরথে নামছেন বিজেপির তরফে অভয়ার মা। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে অভয়ার মা নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি বিজেপি প্রার্থী হতে চেয়েছেন। তৃতীয় দফায় বিজেপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে তাঁর নামও রয়েছে। তিনি বলেন, “এটি পানিহাটির মানুষের জন্য জয়। পানিহাটির মানুষের জন্যই জয়ও হবে। এখানকার মানুষ প্রতিবাদ করতে ভুলে গিয়েছেন (West Bengal Assembly Election)। এখানে স্বাস্থ্য, সুরক্ষা, মানুষের মৌলিক অধিকার – সরকার এসবই কেড়ে নিয়েছে। মহিলা হলেও স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, মেয়েরা রাতে বাইরে বেরবে কেন? এসব (BJP) নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলারা কেন রাতে বাইরে বেরবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চাই। মহিলাদের সুরক্ষা দিতে চাই।”

    পানিহাটিতে বিজেপি প্রার্থী অভয়ার মা

    পানিহাটিতে অভয়ার মা এবং কলতান ছাড়াও, লড়াইয়ের ময়দানে রয়েছেন তৃণমূলের তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি তৃণমূল নেতা নির্মল ঘোষের ছেলে। অভয়ার মা জানান, তিনি মনে করেন বিজেপিই তাঁর মেয়ের বিচার দিতে পারবে। তাই বিজেপির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। অভয়ার মা ছাড়াও এদিন আরও ১৮ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন পদ্ম-নেতৃত্ব। এঁরা হলেন, দীপাঞ্জন চক্রবর্তী (উত্তরপাড়া), অম্লান ভাদুড়ি (ইংরেজবাজার), রবীন্দ্রনাথ বসু (কোচবিহার দক্ষিণ), দীনেশ সরকার (রায়গঞ্জ), চিত্রজিৎ রায় (ইসলামপুর), হরিপদ বর্মণ (হেমতাবাদ), স্বপন দাস (শান্তিপুর), বিপ্লব মণ্ডল (হাওড়া), অরূপ কুমার দাস (সিঙ্গুর), দীপাঞ্জন কুমার গুহ (চন্দননগর), সুবীর নাগ (চুঁচুড়া), মধুমিতা ঘোষ (হরিপাল), হরেকৃষ্ণ বেরা (তমলুক), শঙ্কর গুছাইত (মেদিনীপুর), প্রাণকৃষ্ণ তপাদার (পূর্বস্থলী দক্ষিণ), কৃষ্ণ ঘোষ (কাটোয়া), কৃষ্ণকান্ত সাহা (সাঁইথিয়া) এবং অনিল সিং (নলহাটি) (West Bengal Assembly Election)।

  • West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    West Bengal Assembly Election: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আধিকারিক বদলি মামলায় নিজেদের অবস্থানেই অনড় রইল নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, ‘কমিশন যদি মনে করে যে কোনও আধিকারিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা হতে পারে, তাহলে কমিশন সেই আধিকারিককে বদলি করতেই পারে। অথবা তাঁকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে (Calcutta High Court)।’

    নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি (West Bengal Assembly Election)

    রাজ্য বিধানসভার নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরে পরেই বদলি করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি, পুলিশ কমিশনার-সহ রাজ্য প্রশাসনের একধিক আইএএস-আইপিএসকে। রাত ১২টায় চিঠি দিয়ে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবকে। ভিন রাজ্যে ভোট-পর্যবেক্ষক করে পাঠানো হয়েছে একাধিক আধিকারিককে। কমিশনের এহেন সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাইকোর্টে।

    ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ’

    এদিন শুনানি চলাকালে নির্বাচন কমিশন জানায়, ‘এই মামলা একটা ছদ্মবেশ। কেউ অন্যের ঘাড়ে বন্দুক রেখে চালাচ্ছে।’ জনস্বর্থের ওই মামলায় আইনজীবী তথা তৃণমূলের লোকসভার সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আইনসভা যে আইন তৈরি করে তার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারে না নির্বাচন কমিশন (West Bengal Assembly Election)।” তাঁর প্রশ্ন, “যদি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, মর্জিমাফিক বদলি করা হয়, তাহলে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কীভাবে?” কল্যাণ বলেন, “নির্বাচনের জন্য পর্যবেক্ষক সেই রাজ্য থেকেই নিতে হবে। অন্য রাজ্য থেকে নিতে হলে রাজ্যের সম্মতি লাগে। ২০২৬-এ আমাদের রাজ্যে কোনও নিয়মই মানছে না কমিশন।” তাঁর প্রশ্ন, “রাজ্য থেকে সব আমলা নিয়ে চলে গেলে, রাজ্যটা চলবে কীভাবে?” লোকসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবদের বদলি করা হয় কিনা, এদিন তাও জানতে চান তৃণমূলের এই আইনজীবী নেতা। তিনি বলেন, “৬ মে পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন নির্বাচিত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বিশ্বস্ত আধিকারিকদের ছাড়া কীভাবে কাজ করবেন তিনি? এটা ব্যাঘাত (Calcutta High Court) ঘটানোর চেষ্টা।” উল্লেখ্য যে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা শুক্রবার (West Bengal Assembly Election)।

     

  • West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    West Bengal Assembly Election: বিজেপিতে তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক, যোগ দিলেন রাজবংশী নেতাও, ভোটে বদলে যাবে উত্তরের সমীকরণ!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আবারও ধস নামল তৃণমূলে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দিলেন প্রাক্তন বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান। মঙ্গলবার (West Bengal Assembly Election) মেখলিগঞ্জের এই প্রাক্তন বিধায়কের সঙ্গে পদ্মশিবিরে ভিড়েছেন আরও একজন, তিনি রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর রায়। গ্রেটার কোচবিহার পিপলস অ্যাসোসিয়েশনের নেতা বংশীবদন বর্মণও ঘোষণা করেছেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে সমর্থন করেছিল বংশীবদনের সংগঠন। বর্তমানে বেশ কিছু ইস্যুতে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ শুরু হয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই বংশীবদন এবার জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। মঙ্গলবার তিনি গিয়েছিলেন বিজেপির কার্যালয়েও।

    তৃণমূলকে তোপ অর্ঘ্যর (West Bengal Assembly Election)

    এদিকে, পদ্মশিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই তৃণমূলকে তোপ দাগেন অর্ঘ্য। ২০১৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সময় ঘাসফুল আঁকা প্রতীকে দাঁড়িয়ে মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে অবশ্য তাঁকে টিকিট দেয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তার পরেও অবশ্য তৃণমূল-সঙ্গ ছাড়েননি। ছাড়লেন মঙ্গলবার এবং এদিনই তিনি যোগ দিলেন বিজেপিতে। তৃণমূল ছাড়ার কারণে দর্শাতে গিয়ে অর্ঘ্য বলেন, “আমি আর দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দলের পাশে দাঁড়াতে পারি না। আমি আমার এলাকার মানুষের মুখোমুখি হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলাম না।” প্রসঙ্গত, অর্ঘ্যর বাবা অমর রায় প্রধান ফরওয়ার্ড ব্লকের নেতা ছিলেন। তিনি তিনবার মেখলিগঞ্জের বিধায়ক হয়েছিলেন। আটবার কোচবিহারের সাংসদও হয়েছিলেন। ২০০৪ সালে ছেলে অর্ঘ্যকে নিয়ে বাম-সঙ্গ ছেড়ে অমর যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলে। সেই অর্ঘ্যই এবার পদ্ম-শিবিরে।

    বিজেপিকে সমর্থনের কথা ঘোষণা রাজবংশী নেতার

    গেরুয়া ঝান্ডার তলায় তাঁর চলে আসা এবং রাজবংশী নেতা বংশীবদনের বিজেপিকে সমর্থনের কথা (BJP) ঘোষণা বদলে দিতে পারে উত্তরবঙ্গের যাবতীয় সমীকরণ। গত (West Bengal Assembly Election) লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনটি বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার সেখানেই থাবা বসাতে চাইছে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ-জেপি নাড্ডার দল। বংশীবদন বলেন, “আমি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছি যে আমাদের রাজবংশী ভাষাকে স্বীকৃতি দিতে হবে, রক্ষা করতে হবে আমাদের অধিকার। আমি বিজেপিকে আমার পূর্ণ সমর্থন দিতে এসেছি।” প্রসঙ্গত, এর আগে উত্তরপঙ্গের নেতা অনন্ত মহারাজকে রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল বিজেপি। তার পর থেকে বেসুরো গাইতে থাকেন অনন্ত। এহেন পরিস্থিতিতে বংশীবদনের সমর্থনের আশ্বাস বিজেপিকে বাড়িতে অক্সিজেন জোগাবে বলেই ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। কারণ এবার রাজবংশীদের একটা বড় অংশের ভোটই পড়বে পদ্ম-প্রতীকে।

    শুভেন্দুর কটাক্ষ

    বর্তমানে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার কলকাতায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে পদ্ম-খাতায় নাম লেখান অর্ঘ্য এবং রাংজবংশী নেতা গিরিজাশঙ্কর (West Bengal Assembly Election)। উত্তরবঙ্গের এই দুই হেভিওয়েট নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় যারপরনাই খুশি পদ্মশিবির। রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গে থাকাকালীন এই যোগদান তাঁকে উপহার স্বরূপ দেওয়া হল।” তিনি জানান, বংশীবদন রাজবংশী সমাজের উন্নয়নের (BJP) জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে কিছু প্রস্তাব রেখেছন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। তবে বংশীবদন নিজে ভোটে লড়বেন না বলেই জানিয়ে দিয়েছেন শুভেন্দু। এদিন দলবদলের এই অনুষ্ঠানে বিজেপির ঝান্ডা হাতে তুলে নিয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের মেখলিগঞ্জ ব্লক সভাপতি বাপ্পা মণ্ডলও। উত্তরবঙ্গের এই তিন নেতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, “নিজেদের প্রতিষ্ঠিত জায়গা ছেড়ে, কোনও কিছু না চেয়ে, না পেয়ে ওঁরা বিজেপিতে যোগ দিলেন (West Bengal Assembly Election)।”

    ফ্যাক্টর যখন রাজবংশী ভোট

    উল্লেখ্য যে, উত্তরবঙ্গের কয়েকটি আসনে রাজবংশী ভোট বড় ফ্যাক্টর। এই রাজবংশী সম্প্রদায়েরই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে লড়াই করছেন বংশীবদন। গত লোকসভা নির্বাচনে তিনি ছিলেন তৃণমূলের সঙ্গেই। অসমর্থিত একটি সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে বিরোধ বাঁধে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের। বংশীবদন বারবার দাবি করেছেন, মাথাভাঙা-সহ কয়েকটি বিধানসভা আসনে গত নির্বাচনগুলিতে যত ভোট পেয়েছে তৃণমূল, তা এসেছে তাঁর সংগঠনের জন্যই। তাই এবার আসন সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। দাবি করেছিলেন, রাজবংশী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাইস্কুলের অনুমোদনও। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, তাঁর এই শর্ত পূরণ না হলে বিজেপিকে সমর্থন করবে তাঁর সংগঠন। সেই মতোই তিনি জানালেন বিজেপিকে সমর্থনের কথা। বংশীবদন বলেন, “রাজবংশী সম্প্রদায়ের আলাদা ভাষা এবং সংস্কৃতি রয়েছে (BJP)। কিন্তু রাজবংশী সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এতদিন সম্ভব হয়নি (West Bengal Assembly Election)।”

     

  • SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    SIR: “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে”, এসআইআর মামলায় রাজ্যকে নিশানা সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এখনও কাটেনি এসআইআর (SIR) গেরোর জট। সোমবার রাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হয় নির্বাচন কমিশনের তরফে। তবে তাতে কতজনের নাম বাদ গিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এহেন পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের তরফে আবেদন জানানো হল। তাতে বলা হয়েছে, বিবেচনাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের আগের তালিকার নিরিখে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রয়োজনে প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট প্রকাশ করতে পারে তারা। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হয় শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে (Supreme Court)।

    রাজ্যের আইনজীবীর বক্তব্য (SIR)

    মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী শ্যাম দিওয়ান জানান, প্রথম দফার নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ৬ এপ্রিল। নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ভোটার তালিকায় নাম তোলা বন্ধ হয়ে যাবে। তাঁর আর্জি, যে বা যাঁরা বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের আগের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হোক। এই সময় (SIR) প্রধান বিচারপতি বলেন, “গতকাল সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমাদের তথ্য পাঠাতে থাকেন।” শ্যাম বলেন, “আমাদের কয়েকটি সাজেশন রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভোটার তালিকা ফ্রিজ হয়ে যাবে যথাক্রমে ১৬ এবং ২২ এপ্রিল। ১৪ জন এমন প্রার্থী রয়েছেন, যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন। তাঁরা ৬ এপ্রিল মনোনয়নপত্র দাখিল করতে পারবেন না।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

    এই সময় প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) বলেন, “এই প্রতিটি প্রশাসনিক ইস্যু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি দেখতে পারেন।” তাঁর পরামর্শ, যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের নাম নিষ্পত্তি হয়নি, তাঁরা অ্যাজুডিকোটিং অফিসারের কাছে গিয়ে এই বিষয়ে আবেদন করতে পারেন। এই সময় নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ডিএস নাইডু বলেন, “আমরা কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করেছি। মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলে আমরা প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করতে পারি।” এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “একমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রেই সমস্যা হয়েছে। অন্য (SIR) সব রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া মসৃণভাবে হয়েছে।” তিনি জানান, কোথাও কোথাও এসআইআরের পরে ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।

     

  • West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    West Bengal Assembly Election: রাজকোষ শূন্য, অথচ তৃণমূলের ইস্তাহারে প্রতিশ্রুতির বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবান্নের গদি ধরে রাখতে বাংলায় খয়রাতির রাজনীতি আমদানি করেছেন রাজ্যের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তার জেরে (West Bengal Assembly Election) রাজকোষ শূন্য। তা সত্ত্বেও ফের নবান্নের দখল নিতে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ওড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। নির্বাচনের আগে তিনি ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়েছেন ইস্তাহারে। বিরোধীদের মতে, এই প্রতিশ্রুতি নিছকই ভাঁওতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা (West Bengal Assembly Election)

    ভোটারদের বিভ্রান্ত করাতেই এই ‘বেওসা’। এই প্রতিশ্রুতিগুলি আসলে তৃণমূলের পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতি থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর মরিয়া চেষ্টা। এটি বাংলার ভবিষ্যতের কোনও রোডম্যাপ নয়, বরং গত এক দশকে বাংলার বেহাল দশাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা মাত্র। তৃণমূলের ইস্তাহারে যা বলা হয়েছে, তা আক্ষরিক অর্থেই ‘ঢপের চপ’। রাজ্যের ঘাড়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ দেনার বোঝা। বর্তমানে জিএসডিপি (GSDP) ৩৮.৪ শতাংশের এক ভয়াবহ স্তরে পৌঁছেছে। ২০২৬ সালের মধ্যে এটি ৮.১৫ লাখ কোটি টাকার গণ্ডি ছাড়াবে বলেই ধারণা অর্থনীতিবিদদের একাংশের। তাঁদের মতে, বাংলার খরচ করা প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ৩৮ টাকা চলে যায় ঋণ বাবদ নেওয়া টাকার সুদ দিতে। বর্তমানে বাংলায় জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুর ঘাড়ে ৮১ হাজার ১৬৫ টাকারও বেশি ঋণের বোঝা।

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মূল্যহীন!

    লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বাড়ানো হয়েছে ৫০০ টাকা করে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল “প্রতি পরিবারকে ন্যূনতম মাসিক আয়ের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। যদিও সামান্য কিছু সরকারি অনুদানকে পরিবারের মাসিক আয় নাম দিয়ে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের হাতে কাজ নেই, তার ওপর জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া। চালের মতো অতি নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের ওপর সিন্ডিকেটের তোলাবাজি কিংবা “তৃণমূল ট্যাক্সে”র কারণে বাজারে জিনিসের দাম বর্তমানে ৭.০৯ শতাংশ হারে বাড়ছে। অঙ্কের হিসেবে জিনিসপত্রের এই মূল্যবৃদ্ধি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ওই বাড়তি ৫০০ টাকাকে কার্যত মূল্যহীন করে দিচ্ছে, বাংলার মুদ্রাস্ফীতিকে রাখছে জাতীয় গড়ের চেয়ে ঢের বেশি ওপরে।   রাজ্যের মানুষের গড় বার্ষিক আয় ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭১ লাখ টাকা। ২০১১ সালে দেশের গড় আয় ছিল ৯২ শতাংশ। সেটাই এখন কমে হয়েছে ৮৬.৮ শতাংশ। ওড়িশা এবং ছত্তিশগড়ের মতো বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিও এখন আয়ের দৌড়ে বাংলাকে  পেছনে ফেলে দিয়েছে। রাজ্যের ভেতরেও আয়ের পার্থক্য চোখ টাটাবে। উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলিতে মাথাপিছু আয় মাত্র ৮০,১৫২ টাকা, যা রাজ্যের গড়ের অর্ধেকও (৪৬.৮%) নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তৃণমূল জমানায় উত্তরবঙ্গ কতটা অবহেলিত হয়েছে (West Bengal Assembly Election)।

    দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও অন্তঃসার শূন্য

    ইস্তাহারে দেওয়া হয়েছে “দুয়ারে চিকিৎসা”র আশ্বাসও। ২০২১-এ তৃণমূলের “সুস্থ বাংলা”র প্রতিশ্রুতি আজ প্রশাসনিক ব্যর্থতায় কার্যত ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় ঘরে ঘরে স্বাস্থ্য শিবিরের প্রতিশ্রুতি (Mamata Banerjee) দেওয়া বাতুলতার শামিল মাত্র। ২০২৪-এর সমীক্ষায় বাংলার ‘মহিলাদের ঝুঁকি সূচক’ ৮.২/১০—যা পূর্ব ভারতে সর্বোচ্চ। নারীর শারীরিক ও চিকিৎসা নিরাপত্তা আজ কেবলই ‘গালগল্প’। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে  ৩৪৯ জন সার্জেন, ৩২০ জন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ২৯৭ জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পদ শূন্য। ফলে গরিব রোগীদের চিকিৎসার জন্য খসাতে হচ্ছে মোট আয়ের ৬২ শতাংশ। নিজের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’র ঢাক পেটাতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বঞ্চিত করেছেন কেন্দ্রের ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প থেকে। হিসেব বলছে, রাজ্যের প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষকে ৫ লাখ টাকার ওই বিমার সুবিধা থেকে বঞ্চিত করেছেন তিনি।

    “বাংলার যুবসাথী”র আসল পরিচয়

    ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে “বাংলার যুবসাথী”র কথাও। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল সুপ্রিমো গ্যারান্টি দিয়েছিলেন ২৫ লাখ বেকারের চাকরির। পূরণ হয়নি সেই প্রতিশ্রুতিও। তার বদলে বেকারদের হাতে গুঁজে দেওয়া হচ্ছে মাসিক খয়রাতির ১৫০০ টাকা। যার অর্থ হল, একজন শিক্ষিত বেকারকে ফি দিন মাত্র ৫০ টাকা করে দেওয়া। “যুবসাথী” প্রকল্প আসলে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তৃণমূলের চরম ব্যর্থতারই কবুলনামা। ২০১৫ থেকে ’২৩ সালের মধ্যে এ রাজ্যে বন্ধ হয়েছে ১৮,৪৫০টি ক্ষুদ্র শিল্প। কাজ হারিয়েছেন ৩০.০৪ লাখ মানুষ। সিন্ডিকেটের জুলুমে ৬,৬৮৮টি কোম্পানি রাজ্য ছেড়েছে। বড় কোনও আইটি (IT) বিনিয়োগ নেই। তাই ২৩ লাখ নথিভুক্ত চাকরিপ্রার্থী আজ দিশেহারা। ৫ লাখ সরকারি পদ শূন্য পড়ে রয়েছে। ৪০,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ডিএ (DA) মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট অবধি। আরজি করের ভাঙা লিফটে রোগীর মৃত্যু এবং মেদিনীপুরে রাজনৈতিক প্রভাবে কেনা মেয়াদ-উত্তীর্ণ স্যালাইনে কয়েকজন অন্তঃসত্ত্বার মৃত্যু এ রাজ্যে ঘুন ধরা স্বাস্থ্য ব্যবস্থারই প্রমাণ (West Bengal Assembly Election)।

    “বাংলার শিক্ষায়তন”

    ইস্তাহারের ৪ নম্বরে রয়েছে “বাংলার শিক্ষায়তন” (Mamata Banerjee)। একুশের “শিক্ষিত বাংলা”র স্লোগান দেওয়া সরকার যখন শিক্ষক পদকে নিলামে তোলে, তখন পরিকাঠামো নিয়ে কথা বলা তার সাজে না। এসএসসি (SSC) কেলেঙ্কারিতে বিক্রি হয়েছে ২৬,০০০ চাকরি। ৩,৮০০টি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই, সেখানে বেতন দেওয়া হচ্ছে ১৮,০০০ ভুতুড়ে শিক্ষককে। বিদেশি ছাত্রদের কাছে বাংলা এখন আর গন্তব্য নয়। ২০২৬-এর ইকনোমিক সার্ভে অনুযায়ী, রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কার ও গুণমানের অভাব স্পষ্ট। স্কুলে ইন্টারনেট সংযোগের হার মাত্র ১৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় গড় ৬৩.৫ শতাংশ। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮,২০৭টি স্কুল বন্ধ হওয়ায় বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে রাজ্যের ৯ লাখ পড়ুয়াকে।

    সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবল

    একুশের “সুখী কৃষক” প্রতিশ্রুতিও আজ সিন্ডিকেট আর ফড়েদের কবলে। ১০,০০০ কোটি টাকার পিডিএস (PDS) কেলেঙ্কারির জেরে কালোবাজারে পাচার হয়েছে ২০-৪০ শতাংশ শস্য। ইলিশের উৎপাদন ১৬,৫০০ টন থেকে কমে হয়েছে ৬,৮০০ টন। আলুর উৎপাদন খরচ বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা হলেও, চাষিরা পাচ্ছেন মাত্র ৫৪০ টাকা। রাজনৈতিক অহংকারের জেরে ‘পিএম-কিষান’ প্রকল্প থেকে  বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে রাজ্যের ৪২ লাখ চাষিকে। ৪০ শতাংশ ভাগচাষি ও ভূমিহীন কৃষক কিষান ক্রেডিট কার্ড পাননি। তাই মহাজনদের ৬০ শতাংশ সুদের ঋণে ডুবছেন তাঁরা (West Bengal Assembly Election)। শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারও তলানিতে। এমএসএমই (MSME) রফতানিতে বাংলার অবদান মাত্রই ৪ শতাংশ (Mamata Banerjee)। বিনিয়োগকারীরা যেখানে রাজ্য ছাড়ছেন, সেখানে ‘ইস্টার্ন গেটওয়ে’র দাবি আদতেই  একটি প্রহসন। ইজ অফ ডুইং বিজনেসে বাংলা ১৪তম। জমি বিবাদের জেরে দেউচা-পাঁচামির মতো বড় প্রকল্প রয়েছে থমকে। সরাসরি বিদেশি লগ্নির পরিমাণ কমেছে ৩০ শতাংশ। ভারতের নয়া বিনিয়োগের মাত্রই ৩ শতাংশ আসে বাংলায়।

    তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম

    সকলের জন্য আবাসনের কথাও বলা হয়েছে তৃণমূলেরইস্তাহারে। এই আবাসন প্রকল্পই এখন তৃণমূল ক্যাডারদের পকেট ভরার মাধ্যম। সুন্দরবন-সহ বিভিন্ন জেলায় গ্রামীণ আবাসন থেকে ৯,৪০০ কোটি টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। পিএম আবাস যোজনায় ১৭ লাখ ভুয়ো নাম ঢুকিয়ে নেতাদের অট্টালিকা বানাতে ১.২ লাখ টাকা করে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০২৪-এর স্কিমে ২৮ লাখ যোগ্য পরিবার ঘর পায়নি। দরিদ্ররা আজও ঘুমোন প্লাস্টিকের নীচে (West Bengal Assembly Election)। বার্ধক্যভাতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাসও ফাঁপা। বস্তুত, দেউলিয়া রাজকোষ নিয়ে বর্ধিত ভাতার প্রতিশ্রুতি আসলে রাজ্যের চরম আর্থিক সঙ্কট লুকোনোর চেষ্টা। দলিত ও আদিবাসীদের ওপর অত্যাচারের ক্ষেত্রে সাজা দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের তুলনায় অতি নগণ্য (Mamata Banerjee)। ইমাম-মোয়াজ্জেনদের ভাতা দিলেও, হিন্দু পুরোহিতদের এক দশক ধরে এ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। ক্রমবর্ধমান রাজস্ব ঘাটতির ফলে বাজার থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এই অনুদান দেওয়া কার্যত অসম্ভব।

    পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও পরিহাস!

    পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতিও নিছকই পরিহাস। গ্রামীণ বাংলার মানুষের কাছে এই প্রতিশ্রুতি আজও অধরা মাধুরী। জল জীবন মিশনে ২৪,৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হলেও, রাজ্য সরকারের অপদার্থতার দরুন খরচ হয়েছে মাত্রই ১৩,০২৭ কোটি টাকা। ফলে ১১,৬১৭ কোটি টাকার এক বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ১৭০ কোটি টাকার জল প্রকল্পের কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলি প্রকৃত পরিকাঠামো তৈরি না করে ১২ থেকে ১৬ কোটি টাকা সরাসরি পাঠিয়ে দিয়েছে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (West Bengal Assembly Election)। প্রশাসনিক সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে রাজ্যের শাসক দল। ২০২১ সালে তৃণমূল ঢালাও “সুশাসনের” প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই সরকারের আমলে ভৌগোলিক পুনর্গঠন আসলে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নয়, বরং এটি তোলাবাজি সিন্ডিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়া এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জনবিন্যাস পরিবর্তনের এক সুপরিকল্পিত কৌশল। আদমশুমারির তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে জনবিন্যাসের আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের প্রতি সরকারের নরম মনোভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে (Mamata Banerjee)। ২০২৩ সালের পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১৫টি পুরসভায় ১,৫০০টি অবৈধ নিয়োগ হয়েছে। ওই চাকরি বিক্রি হয়েছে ৩ থেকে ১০ লক্ষ টাকায়। এটি প্রমাণ করে যে, নতুন নতুন পুরসভা বা প্রশাসনিক এলাকা তৈরি করা আসলে দুর্নীতির নতুন রাস্তা তৈরি করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

    বিরোধীদের মতে, তৃণমূলের এই ‘১০ প্রতিজ্ঞা’ আসলে কোনও উন্নয়নের নীল নকশা নয়, বরং ব্যর্থতা ঢাকার এক রঙিন প্রলেপ মাত্র (West Bengal Assembly Election)।

     

  • ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    ECI: সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে রাজ্যে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ গড়ছে কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন (Bengal Polls 2026) করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। সেই জন্যই কোনওরকম অভাব-অভিযোগ এড়িয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল কমিশন। জমা পড়া প্রতিটি অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। এজন্য তৈরি করা হচ্ছে ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (Complaint Redressal Cell)। এই সেল যে খোলা হবে, তা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল।

    ‘কমপ্লেন রিড্রেসাল সেল’ (ECI)

    কমিশন সূত্রে খবর, সেল তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেলে প্রয়োজন ৯জন আধিকারিকের। যদিও আপাতত কমিশনের তিন আধিকারিক এবং ছ’জন মাইক্রো অবজারভার এই কাজ করবেন। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, এই ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রায় কয়েক লাখ অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে হয়। সেই জন্যই নবান্নের কাছে প্রয়োজনে অতিরিক্ত আধিকারিক চেয়ে চিঠি দেওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছে কমিশন। আপাতত অভিযোগ জানানো যাবে ১৯৫০-এই টোল ফ্রি নম্বরে। অভিযোগ জানানোর আট ঘণ্টার মধ্যেই তার নিষ্পত্তি করা হবে। এই নম্বরের পাশাপাশি কমিশনের ই-মেইল আইডি-ও জানিয়ে দেওয়া হবে আমজনতাকে। কোনও বুথ এলাকার কোথাও যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় কিংবা ভয় দেখানো হয়, তাহলে সেই বুথে পুনর্নির্বাচন হবে বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল কমিশন।

    সাপ্লিমেন্টারি তালিকা

    এদিকে, যে ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন ছিল, তার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৩ লাখ ৩০ হাজারের। নয়া যে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা বের হবে, সেখানে থাকবে অ্যাডিশন এবং ডিলিশন। অ্যাডিশনে থাকবে যাঁদের নাম উঠবে, আর ডিলিশনে থাকবে তাঁদের নাম, যাঁদের নাম বাদ পড়েছে (ECI)। এদিকে, বুধবারের মধ্যে রাজ্যে পৌঁছে গিয়েছেন সব অবজারভার। এঁদের মধ্যে সাধারণ অবজারভার ২৯৪ জন, পুলিশ অবজারভার ৮৪ জন, এক্সপেন্ডিচার অবজারভার ১০০ জন। নির্ধারিত এলাকায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, বঙ্গে দু’দফায় হবে বিধানসভার ২৯৪টি আসনে ভোট গ্রহণ। প্রথম দফার নির্বাচন হবে ২৩ এপ্রিল, সেদিন ভোট হবে রাজ্যের ১৬টি জেলায়। শীঘ্রই ওই জেলাগুলি সফর করবেন (Free and Fare Polls) মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। জেলাওয়াড়ি ভোটের প্রস্তুতি কোন পর্যায়ে, সেটাই খতিয়ে দেখবেন তিনি (ECI)।

     

  • Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা কত, তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ! কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ওই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তিনি। মনোনয়ন জমা দেবেন। কিন্তু তার আগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা। মূলত পুলিশের বিরুদ্ধে তাঁর অভিযোগ। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার সংখ্যা ও বিস্তারিত তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিজেপি নেতা।

    সঠিক তথ্য দিচ্ছে না পুলিশ

    শুভেন্দুর বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে মোট কতগুলি মামলা রয়েছে, সেই সঠিক তথ্য পুলিশ তাঁকে দিচ্ছে না। এদিকে, একজন প্রার্থীকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় একটি নির্দিষ্ট হলফনামা অর্থাৎ ২৬ নম্বর ফর্ম জমা করতে হয়। সেখানে প্রার্থীকে তাঁর ব্যক্তিগত সমস্ত সঠিক তথ্য উল্লেখ করতে হয়। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা, অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থা, পেশা ও আয়ের উৎস, সরকারি বকেয়া সবই বিস্তারিত জানাতে হয়। শুভেন্দুর অভিযোগ, পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার নির্দিষ্ট তথ্য দিচ্ছে না, ফলে এই হলফনামা পূরণে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী দলনেতার একাধিক ক্ষেত্রে দ্বন্দ্বের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিরোধী দলনেতা। ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, আদালতের অনুমতি ছাড়া শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে কোনো নতুন এফআইআর করা যাবে না।

    আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চান শুভেন্দু

    তবে পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত সেই সুরক্ষাকবচ তুলে নেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, এ ধরনের অন্তর্বর্তী সুরক্ষা অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে পারে না। যদিও একই সঙ্গে আদালত শুভেন্দুকে বড় স্বস্তি দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৫টি মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়, যা আদালতের মতে ভিত্তিহীন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। এরই মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনায় নতুন করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে অন্তর্বর্তী সুরক্ষা দিয়েছিল হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে নিজের বিরুদ্ধে থাকা মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই তিনি জোরকদমে প্রচার শুরু করেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের ময়দানে নামার পাশাপাশি আইনি দিকটিও সুরক্ষিত রাখতে চাইছেন তিনি।

  • Election Commission: ভোটের আগে রাজ্য-কমিশন সংঘাত চরমে, ভিন রাজ্যে সরানো হল ১৫ আইপিএসকে

    Election Commission: ভোটের আগে রাজ্য-কমিশন সংঘাত চরমে, ভিন রাজ্যে সরানো হল ১৫ আইপিএসকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের তৃণমূল পরিচালিত সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) সংঘাত চরমে। বঙ্গে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর পরই বিভিন্ন পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের বেশ কয়েকজন আইপিএসকে (IPS)। বুধবার ১৯ জন অপসারিত আধিকারিককে সিআইডি, আইবি এবং এসটিএফের মতো শাখায় পুনর্বহাল করার নির্দেশিকা জারি করেছিল রাজ্য সরকার। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই রাজ্য সরকারের সেই নির্দেশিকা বাতিল করে দিয়েছে কমিশন।

    কমিশনের নয়া নির্দেশিকা (Election Commission)

    এদিন রাতেই কমিশনের তরফে নয়া নির্দেশিকা জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ওই আধিকারিকদের মধ্যে ১৫ জনকে অবিলম্বে তামিলনাড়ু এবং কেরলে নির্বাচনী পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজে যোগ দিতে হবে। বিধাননগরের অপসারিত পুলিশ কমিশনার মুরলী ধর এবং শিলিগুড়ির অপসারিত পুলিশ কমিশনার ওয়াকার রাজা-সহ মোট ১৫ জনকে অন্য রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। ওই তালিকায় থাকা অন্য আধিকারিকরা হলেন আকাশ মাঘারিয়া, অলোক রাজোরিয়া, আমনদীপ, অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, সি সুধাকর, ধৃতিমান সরকার, ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়, মুকেশ, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠী, প্রিয়ব্রত রায়, সন্দীপ কাররা এবং রশিদ মুনির খানও।

    কমিশনের সিদ্ধান্তে গুঞ্জন

    নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে গুঞ্জন শুরু হয়েছে প্রশাসনিক মহলে। সাধারণত, পর্যবেক্ষক হিসেবে কোনও আধিকারিককে পাঠানোর আগে তাঁর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু এই ১৫ জনের মধ্যে একমাত্র প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী ছাড়া বাকি আধিকারিকদের সেই প্রশিক্ষণ নেই। গুঞ্জনের কারণ এটাই। যদিও, কমিশন সূত্রে খবর, পর্যবেক্ষক হিসেবে কাজ করার জন্য প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক নয়। নবান্নের পুনর্বহালের নির্দেশিকা জারির ঠিক পরে পরেই নির্বাচন কমিশনের এই পাল্টা পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ (Election Commission)। নির্বাচনের মুখে রাজ্য পুলিশের এই শীর্ষ স্তরের আধিকারিকদের বাংলা থেকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়ার নির্বাচনী সমীকরণ কতটা প্রভাব ফেলে, এখন তা-ই দেখার।

    প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি তামিলনাড়ু এবং কেরলেও দুয়ারে বিধানসভা নির্বাচন। ওই দুই রাজ্যে ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের একাধিক আধিকারিককে পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার আগে পর্যন্ত (IPS) যিনি ছিলেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, সেই জগদীশ প্রসাদ মিনাকেও পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে তামিলনাড়ুতে (Election Commission)।

     

LinkedIn
Share