Author: pranabjyoti

  • Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    Hindus Under Attack: বিশ্বজুড়ে হিন্দুদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন, দেখে নিন এ সপ্তাহের ছবিটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিন্দু ও হিন্দুধর্মের ওপর হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Hindus Under Attack)। বহু অঞ্চলে এই নির্যাতন এমন এক রূপ নিয়েছে, যা ধীরে ধীরে গণহত্যার চেহারা নিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকার কর্মীরা (Roundup Week)। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ব এই হামলাগুলির প্রকৃত ব্যাপ্তি ও গভীরতাকে উপেক্ষা করে এসেছে, যার নেপথ্যে রয়েছে উদ্বেগজনক হিন্দুবিদ্বেষ। খুন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ, জমি দখল, ধর্মীয় উৎসবে হামলা, মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, ঘৃণামূলক ভাষণ, যৌন হিংসা থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি বৈষম্য—হিন্দুরা আজ তাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে মুখোমুখি এক অভূতপূর্ব সংকটের। ৪ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ এই সময়কালের সাপ্তাহিক প্রতিবেদনে এমনই কয়েকটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হল, যাতে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এই মানবাধিকার সঙ্কটের দিকে ফেরানো যায়। প্রথমেই দেখে নেওয়া ভারতের ছবিটা।

    কর্নাটক (Hindus Under Attack)

    উত্তর কানাড়া জেলার ইয়েল্লাপুর শহরে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। কালাম্মা নগরের বাসিন্দা রঞ্জিতা নামের এক তরুণী ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর জখম হয়ে মারা যায়। অভিযোগ, ইসলামপন্থী যুবক রফিক তার ওপর এই হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর জেলাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন হত্যার প্রতিবাদে এবং দ্রুত বিচার চেয়ে ইয়েল্লাপুর বন্‌ধের ডাক দেয়। ঘটনায় লাভ জেহাদের সন্দেহ আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে (Hindus Under Attack)।

    পূর্ব মেদিনীপুর

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। গড়কমলপুর পঞ্চায়েতের কাঁঠালপট্টি এলাকায় নির্মীয়মাণ মা বসন্তী দুর্গা এবং দেবী সরস্বতীর একাধিক প্রতিমা অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ (Roundup Week)।

    হিন্দুদের মিছিলে পাথর

    জগজীবনরাম নগর এলাকায় ওম শক্তি ও আয়্যাপ্পা স্বামী ভক্তদের একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রায় পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় দুই মহিলা আহত হন, তাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    ধর্মান্তরণের অভিযোগ

    মধ্যপ্রদেশের শিওপুর জেলায় একটি খ্রিস্টান প্রার্থনা সভায় বজরং দলের হস্তক্ষেপ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটির দাবি, ‘প্রার্থনা সভা’ ও ‘হিলিং সেশনে’র আড়ালে সমাজের দুর্বল অংশকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে হিন্দু সমাজকে ভাঙার চেষ্টা চলছে (Hindus Under Attack)।

    বৃন্দাবনে নাবালিকা উদ্ধার

    উত্তরপ্রদেশের মথুরা জেলার বৃন্দাবনে হোটেলের একটি ঘর থেকে দিল্লির এক নাবালিকা হিন্দু কিশোরী ও এক মুসলিম যুবককে উদ্ধার করে পুলিশ। সূত্র মারফত খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায় ওই হোটেলে। ঘটনাটি হিন্দু মেয়েদের যৌন ফাঁদে ফেলে ধর্মান্তরণের ধারাবাহিক চেষ্টার আরও একটি উদাহরণ বলে দাবি স্থানীয়দের।

    নাবালিকা ধর্ষণ

    উত্তরপ্রদেশের বেরিলিতে ২২ বছরের রেহানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্কের ছলে সে ১৭ বছরের এক হিন্দু নাবালিকাকে দুবছর ধরে ধর্ষণ করে এবং জোরপূর্বক ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালায়।
    মেয়েটিকে আজমীর দরগায় নিয়ে গিয়ে ধর্মান্তরের পরিকল্পনা ছিল অভিযুক্তের। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে মথুরা থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে পুলিশ (Hindus Under Attack)।

    বাংলাদেশ

    বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অব্যাহত রয়েছে দুষ্কৃতীদের হামলা। পরিকল্পিত ও ধারাবাহিকভাবে এই নির্যাতন এমনভাবে চালানো হচ্ছে, যার লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশ থেকে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বরকতের একটি গবেষণা অনুযায়ী, প্রাতিষ্ঠানিক ও নির্যাতনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে কোনও হিন্দুই অবশিষ্ট থাকবে না (Roundup Week)। এই নির্যাতনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মন্দির ভাঙচুর, জমি দখল, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ, ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ধর্মান্তর, পাশাপাশি লাগাতার ঘৃণামূলক বক্তব্য। উদ্দেশ্য একটাই, ভয় দেখিয়ে হিন্দুদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করা (Hindus Under Attack)।

    সাংবিধানিক আধিকারিককে ভয় দেখানোর চেষ্টা

    সাম্প্রতিক এক ঘটনায় জামায়াতে ইসলামির ক্যাডাররা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথের দফতর ঘিরে বিক্ষোভ দেখায়। তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল একজন সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে ভয় দেখিয়ে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।

    এই বিক্ষোভে আইন বা প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও স্লোগান ছিল না। তোলা হয় সম্পূর্ণ সাম্প্রদায়িক ও আদর্শগত স্লোগান। অন্নপূর্ণা দেবনাথকে প্রকাশ্যে ‘ইসকন ভক্ত’ এবং ‘ভারতীয় এজেন্ট’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়। তাঁকে এই হুমকিও দেওয়া হয় যে, বাংলাদেশে তাঁকে তাঁর দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।

    হিন্দু ব্যবসায়ী খুন

    ঢাকার উপকণ্ঠে নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলার চারসিন্দুর বাজারে ভয়াবহ হামলার শিকার হন বছর চল্লিশের হিন্দু দোকানদার শরৎ চক্রবর্তী মানি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আক্রমণ করা হয় (Hindus Under Attack)। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মৃত্যু হয় তাঁর।

    জানা গিয়েছে, ইসলামি কর ‘জিজিয়া’ দিতে অস্বীকার করায় তাঁকে খুন করা হয়।

    ধর্ষণ

    আরও একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কালীগঞ্জ উপজেলার খেদা পাড়া গ্রামের এক সংখ্যালঘু মহিলা নদীপাড় সংলগ্ন ৭ নম্বর ওয়ার্ডে দোতলা একটি বাড়ি ও তিন শতক জমি বৈধভাবে ২০ লক্ষ টাকায় কিনেছিলেন। ওই জমি তিনি স্থানীয় বাসিন্দা শাহীন ও তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে কেনেন। জমি কেনার পর থেকেই ওই মহিলাকে হেনস্থা করতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, শাহীন ও তার সহযোগী হাসান জোর করে বাড়িতে ঢুকে ওই মহিলাকে (Roundup Week) ধর্ষণ করে। ধর্ষণের পর তারা তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবিও করে (Hindus Under Attack)।

    বিশ্বসংবাদ

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লরেন্সভিল শহরের একটি কস্টকো ওয়্যারহাউসে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা সংস্থাটির খাদ্য নমুনা বিতরণ ব্যবস্থার গুরুতর ত্রুটি সামনে এনেছে। অভিযোগ, এই ত্রুটির ফলে বহু সদস্যের ধর্মীয় ও নৈতিক খাদ্যাভ্যাস লঙ্ঘিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একটি নিয়মিত কেনাকাটার সময় কস্টকোর তৃতীয় পক্ষের স্যাম্পলিং পার্টনার সিডিএস সেখানে জিনিয়াস গার্মেটের স্পার্কলিং ক্লিয়ার প্রোটিন ওয়াটারের নমুনা বিলি করছিল। অভিযোগ, স্যাম্পলিং স্টলে পণ্যের অন্যতম উপাদান বোভাইন কোলাজেন (গরু থেকে প্রাপ্ত কোলাজেন) ব্যবহারের বিষয়টি সদস্যদের জানানো হয়নি।

    হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিষয়টি অবহেলার নয়। বহু হিন্দু কেবল নিরামিষভোজী নন, তাঁরা বিশেষভাবে গরু থেকে প্রাপ্ত যে কোনও উপাদান গ্রহণ থেকেও বিরত থাকেন। ফলে এই ধরনের তথ্য গোপন করা তাঁদের গভীর ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ সৃষ্টি করে।

    বৈষম্যের অভিযোগ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ হিন্দু-বিরোধী ঘৃণাজনিত অপরাধের পেছনে রয়েছে কিছু ধর্মীয় শিক্ষা ও রাজনৈতিক মতাদর্শে প্রোথিত হিন্দু-বিরোধী মনোভাব। যদিও ইসলামিক দেশগুলিতে হিন্দু-বিরোধী বিদ্বেষ অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্য, ভারতের মতো তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রগুলির  প্রতিষ্ঠান ও জনপরিসরে আরও এক ধরনের সূক্ষ্ম ও নীরব হিন্দু-বিরোধী মানসিকতা কাজ করে (Roundup Week)। এই ধরনের বৈষম্য অনেক সময় চোখে পড়ে না, যতক্ষণ না বিদ্যমান আইন, নীতি ও ঘটনার ধারাবাহিকতা বিশ্লেষণ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা দীপাবলিতে আতশবাজি ব্যবহারের ওপর ধীরে ধীরে আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করছেন। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি পরিবেশ দূষণের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হলেও, অন্যান্য ধর্মীয় উৎসবে একই ধরনের বিধিনিষেধ না থাকা এবং যুক্তির অভাব দ্বিচারিতার ইঙ্গিত দেয় বলেই মত পর্যবেক্ষকদের (Hindus Under Attack)।

    এই প্রেক্ষাপটে কস্টকোর ঘটনায় ওঠা প্রশ্ন শুধু একটি পণ্যের উপাদান গোপন রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি বৃহত্তর এক সমস্যার প্রতিফলন, যেখানে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা উপেক্ষিত হচ্ছে এবং নীরব বৈষম্যের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। কস্টকো কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ভবিষ্যতে সদস্যদের ধর্মীয় ও নৈতিক অধিকার রক্ষায় কী ধরনের স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা দেখায়, এখন সেটাই দেখার।

  • Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    Iran Update: ইরানের হাসপাতাল-মর্গে উপচে পড়ছে লাশ, দেহ সরানো হল অন্যত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানে অব্যাহত সরকার বিরোধী বিক্ষোভ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হতাহতের (Iran Update) ঘটনা।দেশটির অন্তত তিনটি বড় হাসপাতাল (Hospitals) মৃত ও আহত রোগীর চাপে কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বলে খবর। তেহরানের একটি হাসপাতালের এক চিকিৎসক সংবাদ মাধ্যমে জানান, বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “তরুণদের মাথায় সরাসরি গুলি করা হয়েছে, এমনকি বুকেও গুলি লেগেছে।”

    ইরানের পরিস্থিতি (Iran Update)

    এদিকে, রাজধানীর একটি চক্ষুরোগের হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, “পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে হাসপাতালটিকে ‘ক্রাইসিস মোড’ বা জরুরি অবস্থার মধ্যে পরিচালনা করতে হচ্ছে।” দুই চিকিৎসাকর্মী জানান, তাঁরা এমন বহু রোগীর চিকিৎসা করেছেন যাঁদের শরীরে তাজা গুলি এবং পেলেট গান- উভয়েরই ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এতে স্পষ্ট যে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর দমননীতি গ্রহণ করেছে। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ফের হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে তার জবাবে সামরিক প্রতিক্রিয়া জানানো হতে পারে (Iran Update)। অন্যদিকে, ইরান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেছে। তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে উসকে দিয়ে সহিংস ষড়যন্ত্রমূলক কাজকর্ম ও ব্যাপক ভাঙচুরে পরিণত করেছে। বর্তমানে ইরানের বিভিন্ন শহরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেই আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের (Iran Update)।

    বিক্ষোভের জেরে ভয়ঙ্কর অবস্থা

    জানা গিয়েছে, ইরানে যে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে, তা দিন দিন ভয়ঙ্কর থেকে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। অর্থনৈতিক সঙ্কটকে কেন্দ্র করে প্রায় দুসপ্তাহ আগে রাজধানী তেহরান থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন দেশটির সব প্রদেশের অন্তত ১০০টির বেশি শহর ও জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে (Hospitals)। বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত শতাধিক মানুষ নিহত বা গুরুতর জখম হয়েছেন বলে অনুমান, যাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে। সূত্রের খবর, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২৬ জনের পরিচয় জানা গিয়েছে, যার মধ্যে ছ’জন শিশুও রয়েছে। বহু মানুষকে আটকও করেছে নিরাপত্তা বাহিনী (Iran Update)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। একটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, নিহত নিরাপত্তা রক্ষীর সংখ্যা অন্তত ১৪।

    ট্রাম্পের বক্তব্য

    এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “ইরান সম্ভবত ইতিহাসের যে কোনও সময়ের চেয়ে এখন স্বাধীনতার খুব কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্র সাহায্যের জন্য প্রস্তুত!!!” জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাশত শহরের পুরসিনা হাসপাতালে অন্তত ৭০টি মৃতদেহ আনা হয়েছিল। হাসপাতালের মর্গ ভর্তি হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত দেহ অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়। হাসপাতাল সূত্রের খবর, কর্তৃপক্ষ মৃতদের স্বজনদের কাছে দাফনের জন্য মৃতদেহ ছাড়াতে ৭ বিলিয়ন রিয়াল (প্রায় ৭ হাজার মার্কিন ডলার) দাবি করেছে (Iran Update)।

    ভয়াবহ দৃশ্য

    তেহরানের একটি হাসপাতালের কর্মী জানান, “ভয়াবহ দৃশ্য। এত বেশি আহত মানুষ এসেছিল যে অনেকের ক্ষেত্রে সিপিআর দেওয়ার সময়ও পাওয়া যায়নি। প্রায় ৩৮ জন মারা গিয়েছেন, এঁদের মধ্যে অনেকেই মারা গিয়েছে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই। তরুণদের মাথা ও বুকে সরাসরি গুলি করা হয়েছে।” তিনি জানান, “মর্গে জায়গা না থাকায় মৃতদেহগুলি একটির ওপর আর একটি রাখা হয়েছিল। পরে প্রার্থনাকক্ষেও সেগুলিকে ডাঁই করে রাখা হয় (Hospitals)।” ওই হাসপাতাল কর্মীর ভাষায়, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ। তিনি বলেন, “অনেকের দিকে তাকানোই যায়নি, এতটাই কাঁচা বয়স তাদের (Iran Update)।” ইরানে বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ায় তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। এই কারণে অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সরাসরি ইরানের ভেতর থেকে রিপোর্ট করতে পারছে না।

    ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট

    এদিকে, ইরানে যে বিক্ষোভ চলছে, তাকে ঘিরে ভয়াবহ মানবিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে এক চিকিৎসক জানান, তেহরানের প্রধান চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল বর্তমানে চরম সঙ্কটে রয়েছে। জরুরি পরিষেবা চাপে পড়ে গিয়েছে। ওই চিকিৎসকের দাবি, শুক্রবার রাতে পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নন-ইমার্জেন্সি ভর্তি ও অস্ত্রোপচার স্থগিত রাখতে বাধ্য হন। জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় অতিরিক্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের ডেকে পাঠানো হয় (Hospitals)।চিকিৎসকদের বক্তব্য, ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভ দমনে প্রায়ই পেলেট ভর্তি কার্তুজ ছোড়ে এমন শটগান ব্যবহার করে। এতে বহু বিক্ষোভকারী মারাত্মকভাবে জখম হচ্ছেন, বিশেষ করে চোখে গুলি লাগার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, “আমি নিজের চোখে দেখেছি, চোখে গুলি লেগে মৃত্যু হয়েছে” (Iran Update)।

    চোখে গুলি

    মধ্য ইরানের কাশান শহরের এক চিকিৎসক জানান, শুক্রবার রাতের অশান্তির সময় বহু বিক্ষোভকারীর চোখে গুলি লাগে। শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে একই ধরনের রিপোর্ট এসেছে বলেও জানান তিনি। তেহরানের এক চিকিৎসক বলেন, “আহত ও মৃতের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। আমি নিজে একজনকে দেখেছি, যার চোখে গুলি লেগে মাথার পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে।” তিনি এও বলেন, “রাত প্রায় বারোটার দিকে হাসপাতালের দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন একদল মানুষ দরজা ভেঙে এক গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে ভিতরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে চলে যায়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। আমরা তাঁকে বাঁচাতে পারিনি।” এরকম ছবি ইরানের বিভিন্ন প্রান্তে দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের সিরাজ শহরের এক হাসপাতালের চিকিৎসক বলেন, “বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সংখ্যক সার্জেন ছিলেন না। চোখে গুলি লাগার একের পর এক অভিযোগ সামনে আসায় ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

    ব্যাপক বিক্ষোভ

    ইরানজুড়ে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে শুক্রবার রাতে রাজধানী তেহরানে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন। একাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং রাজধানী লাগোয়া কারাজ শহরে একটি সরকারি ভবনেও অগ্নিসংযোগ করা হয় (Iran Update)। এই পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে জনগণের সম্পত্তি রক্ষায় নামবে। সেনার এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল, যখন দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা বাহিনী চাপের মুখে পড়েছে বলেই দাবি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে (Hospitals)।

    কঠোর আইনি পদক্ষেপ

    শুক্রবার ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে একাধিক সমন্বিত সতর্কবার্তা জারি করে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, তথাকথিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। ইরানি পুলিশের দাবি, শুক্রবার রাতে তেহরানে কোনও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অন্তত ২৬টি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, তেহরানে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, এই আন্দোলনে মূল ভূমিকা পালন করছেন জেনারেশন জেড। তাঁর কথায়, “তরুণরা তাঁদের বাবা-মা ও প্রবীণদের রাস্তায় নামতে উৎসাহিত করছেন এবং ভয় না পেতে আহ্বান জানাচ্ছেন।” ইরানের এই বিক্ষোভের আঁচ কবে স্তিমিত (Hospitals) হয়, আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল (Iran Update)।

  • RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    RBI: মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ কমাল আরবিআই, বাড়ছে দেশের সোনার ভান্ডার

    মাধ্যম নিউজ ডেক্স: সাম্প্রতিক মাসগুলিতে মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে ভারতের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো (US Treasury Bonds) হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি দফতরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে আরবিআইয়ের কাছে থাকা মার্কিন বন্ডের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৯০ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪১.৪ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৫০.৭ বিলিয়ন ডলার কমেছে বিনিয়োগ। সার্বিকভাবে ২০২৫ সালে ভারত প্রায় ২১ শতাংশ মার্কিন ট্রেজারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ কমিয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই সময়ের মধ্যেই ১০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৮ শতাংশে পৌঁছেছে (US Treasury Bonds)।

    মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমাল ভারত (RBI)

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন বন্ডে বিনিয়োগ কমানোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে সোনার ভান্ডার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক (RBI)। বর্তমানে আরবিআইয়ের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ প্রায় ৮৮০.১৮ মেট্রিক টন। ধারাবাহিকভাবে সোনা কিনে চলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। বর্তমানে ভারতের মোট বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার প্রায় ৬৮৭ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৩.৬ শতাংশই সোনা। গত বছর এই হার ছিল মাত্র ৯.৩ শতাংশ (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআইয়ের এই সোনা কেনার প্রবণতা বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সাম্প্রতিক ত্রৈমাসিকগুলিতে চিন, ব্রাজিল ও সৌদি আরব-সহ একাধিক দেশ সোনায় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে। এর পেছনে সম্ভাব্য মার্কিন ডলারের অস্থিরতা এবং দ্রুত বাড়তে থাকা মার্কিন ঋণ পরিষেবা খরচ নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, শীঘ্রই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মোট সুদ পরিশোধের অঙ্ক ১০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

    লক্ষ্য ডলার-নির্ভরতা কমানো

    অন্যদিকে, একই (RBI) সময়ে ব্রিটেন, বেলজিয়াম, জাপান, কানাডা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি (UAE) তাদের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়িয়েছে (US Treasury Bonds)। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের এই পদক্ষেপকে ডলারনির্ভরতা কমানো হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বরং এটি মূলত পোর্টফোলিও বৈচিত্র্যকরণ ও পুনর্গঠনের কৌশল, যার মাধ্যমে ঝুঁকি কমিয়ে (RBI) দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে আরবিআই (US Treasury Bonds)।

  • IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    IPAC: “পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত”, বিস্ফোরক অভিযোগ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৯ জানুয়ারি কোর্টরুমে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার জেরে ভেস্তে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক (IPAC) অভিযান হানা নিয়ে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি। হট্টগোল না থামায় এজলাস থেকে বেরিয়ে যান বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। এই মমলার পরবর্তী শুনানি হবে দিন সাতেক পরে। এহেন পরিস্থিতিতে তৃণমূলকেই নিশানা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর দাবি, পুরো ঘটনাটি তৃণমূলের পরিকল্পিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া তৃণমূলের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাটের স্ক্রিনশট তুলে ধরে এই দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই স্ক্রিনশটের সত্যতা যাচাই করেনি মাধ্যম। শুভেন্দুর দাবি, এটা পরিকল্পনা করেই করেছে তৃণমূল। এই পরিপ্রেক্ষিতে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের চ্যাট ভাইরাল হয়েছে। তাতে লেখা, কোর্ট নম্বর ৫-এ সবাই চলে আসবেন। রাজ্যের বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত কক্ষে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তৃণমূলপন্থী আইনজীবীরা।

    বিচারপতির বক্তব্য (IPAC)

    বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানান, আদালতের পরিবেশ শুনানির (Suvendu Adhikari) উপযোগী ছিল না। বিচারপতির বক্তব্য (IPAC), “এজলাসে আইনজীবী থেকে শুরু করে উপস্থিত অন্যরা গোলযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁদের বারবার অনুরোধ করা হয় আদালতের মর্যাদা ও শিষ্টাচার রক্ষা করার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ কারও কানে পৌঁছয়নি। তাই বাধ্য হয়েই আদালত মুলতুবি করা হল। আগামী ১৪ জানুয়ারি নতুন করে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হল।” কথাগুলি বলেই এজলাস ছেড়ে চলে যান বিচারপতি।

    কবুল কল্যাণের

    এদিন তৃণমূলের পক্ষে সওয়াল করার কথা ছিল আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনিও বলেন, “খুব হইচই হচ্ছিল। বিচারপতি বলেছেন, ওই পরিবেশে তিনি শুনানি করেন না।” যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দাবি, পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এজলাসে ভিড় করে রাখা হয়েছিল। আর সেটা করেছিল তৃণমূল। শাসক দল অবশ্য সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। এর মধ্যে যে অর্ডার কপি সামনে এসেছে, তাতে বিচারপতি নিজে জানিয়েছেন শুক্রবার কোর্টরুমের ভেতরে ঠিক কী হয়েছিল।

    প্রসঙ্গত, হাইকোর্টে শুনানি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় (Suvendu Adhikari) শনিবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানির আবেদন করেছে ইডি। যদিও তার আগেই রাজ্যের তরফে ক্যাভিয়েট দাখিল করা হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে (IPAC)।

  • Pakistan: “অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে সাংবিধানিক বদল, ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি”, বললেন অনিল চৌহান

    Pakistan: “অপারেশন সিঁদুরের পর পাকিস্তানে সাংবিধানিক বদল, ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি”, বললেন অনিল চৌহান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “পাকিস্তানে (Pakistan) সম্প্রতি যে পরিবর্তনগুলি আনা হয়েছে, বিশেষ করে তড়িঘড়ি করে করা সংবিধান সংশোধন, তা আসলে অপারেশন সিঁদুরে (Operatin Sindoor) তাদের ব্যর্থতারই স্বীকারোক্তি।” কথাগুলি বললেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল অনিল চৌহান। পুনে পাবলিক পলিসি ফেস্টিভ্যালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তানে যে পরিবর্তনগুলি হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে তড়িঘড়ি করে সংবিধান সংশোধন। এসবই স্পষ্ট করে দেয় যে এই অভিযানে তাদের সব কিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি। তারা বহু ঘাটতি ও ত্রুটি খুঁজে পেয়েছে।”

    কী বললেন সিডিএস? (Pakistan)

    সিডিএস আরও বলেন, “‘অপারেশন সিঁদুর’ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়নি, আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।” পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৩ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের মাধ্যমে সে দেশের উচ্চস্তরের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে বলেও জানান জেনারেল চৌহান। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তন ভারতের জন্য, বিশেষ করে আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি পরিবর্তনগুলিকে সংক্ষেপে বলা যায়, তবে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল, ‘চেয়ারম্যান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি’ পদটি তুলে দেওয়া হয়েছে।” এই পদটি মূলত তৈরি করা হয়েছিল তিনটি সেনা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে (Pakistan)। কিন্তু এখন (Operatin Sindoor) সেই পদটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ‘চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (CDF)’ নামে একটি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। সংবাদ সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে সিডিএস বলেন, “এই পরিবর্তনগুলি আমাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।”

    অপারেশন সিঁদুর

    অপারেশন সিঁদুরের অভিজ্ঞতা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন সিডিএস। বিশেষ করে হায়ার ডিফেন্স অর্গানাইজেশনের ক্ষেত্রে এই শিক্ষাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি (Operatin Sindoor)। সম্প্রতি হওয়া একাধিক সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে সিডিএস বলেন, “উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ডোকলাম ও গালওয়ান সংঘর্ষ, বালাকোট এয়ার স্ট্রাইক এবং অপারেশন সিঁদুর, এই সব ক্ষেত্রেই ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিস্থিতি অনুযায়ী নতুন ও উদ্ভাবনী কমান্ড কাঠামোর মাধ্যমে কাজ করেছে।” সংবাদ মাধ্যমে (Pakistan) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিডিএস বলেন, “এখন আমাদের লক্ষ্য হল এমন একটি মান্যতাপ্রাপ্ত ও মানসম্মত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা সব ধরনের পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে।” তিনি জানান, সাম্প্রতিক যে সংশোধনীগুলি আনা হয়েছে, তার মূল লক্ষ্য হল ফেডারেল কাস্টমস কোর্ট গঠন, যা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়।

    আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড

    পাকিস্তানের সামরিক কাঠামোয় পরিবর্তনের প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে সিডিএস বলেন, “এর আগেও তারা একটি আর্মি রকেট ফোর্সেস কমান্ড গঠন করেছে। প্রচলিত ও কৌশলগত—দু’দিক থেকেই এটি তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে পারে (Operatin Sindoor)। মূলত নতুন এই কাঠামোগুলির মাধ্যমে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “বর্তমানে পাকিস্তানে সেনাপ্রধান স্থলভিত্তিক অভিযান, নৌ ও বায়ুসেনার সঙ্গে যৌথ অভিযানের পাশাপাশি কৌশলগত ও পরমাণু সংক্রান্ত বিষয়গুলির দায়িত্বে থাকবেন। তার সঙ্গে রকেট ফোর্সেস কমান্ড গঠনের ফলে (Operatin Sindoor) আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তর যুক্ত হয়েছে। এটি অনেকাংশে স্থলভিত্তিক চিন্তাধারার প্রতিফলন (Pakistan)।”

  • Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    Afghanistan: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর প্রথম কূটনৈতিক নিয়োগ, ভারতে নয়া আফগান রাষ্ট্রদূত নূর আহমেদ নূর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারতে কূটনৈতিক প্রতিনিধি নিয়োগ করল আফগানিস্তান (Afghanistan)। নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে কূটনীতিক নূর আহমেদ নূরকে নিয়োগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছে গিয়ে গ্রহণ করেছেন নয়া দায়িত্ব (Taliban)। নূর আহমেদ নূর এর আগে আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রকে প্রথম রাজনৈতিক পরিচালক পদে ছিলেন।

    ভারত – আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক (Afghanistan)

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নিয়োগের মাধ্যমে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আরও মজবুত করার ইঙ্গিত মিলছে, বিশেষ করে মানবিক সহায়তা ও স্বাস্থ্য খাতে। গত ২০ ডিসেম্বর আফগানিস্তানের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী মাওলভি নূর জালাল জালালি বলেছিলেন, “পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটায় আফগানিস্তান এখন ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল চাহিদা পূরণে ভারতের দিকে বিকল্প অংশীদার হিসেবে তাকাচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ক্রমশ আফগানিস্তানের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লিতে কূটনৈতিক নিয়োগকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল (Afghanistan)।

    জালালির বক্তব্য

    আফগানিস্তান ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার একটি নয়া অধ্যায়ের সূচনা করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ প্রতিনিধি জালালি। তিনি জানান, ভারতের সঙ্গে আফগানিস্তানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্যখাতে ভারত আফগানিস্তানের একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে অবদান রেখে চলেছে (Taliban)। জালালির কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ়। আমরা সহযোগিতা ও পারস্পরিক কাজের ভিত্তিতে একটি নয়া অধ্যায় খুলতে এখানে এসেছি। তবে পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।” তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে ভারত ও আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠতা আরও জোরদার হতে চলেছে, পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে কাবুলের সম্পর্ক এখনও রয়েছে টানাপোড়েনের মধ্যেই (Afghanistan)।

    নয়াদিল্লিতে হু

    নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) গ্লোবাল সামিট অন ট্র্যাডিশনাল মেডিসিন উপলক্ষে ভারতে এসে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন আফগানিস্তানের এক শীর্ষ প্রতিনিধি। এই সফরের সময় ভারত আফগানিস্তানের প্রতি তাদের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয় (Taliban)। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য পরিষেবাকে ভারত-আফগানিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে তালিবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম ভারত সফরে আসেন আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। সেই সময় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত সফরটি অত্যন্ত ভালো হয়েছে। শুধু দারুল উলুমের মানুষই নন, গোটা এলাকার মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমাকে যে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ (Afghanistan)।”

    আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজির ঘোষণা

    গত ২৪ নভেম্বর আফগানিস্তানের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আলহাজ নূরউদ্দিন আজিজি ঘোষণা করেন যে ভারত ও আফগানিস্তানের মধ্যে (Taliban) দীর্ঘদিনের ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে। এর ফলে আফগান নাগরিকরা চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ভারতীয় ভিসা পেতে পারবেন। পাঁচ দিনের সরকারি সফর শেষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আজিজি জানান, এই পরিষেবা সহজ করতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত আফগান দূতাবাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি, কাবুলে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসও আফগান নাগরিকদের সহায়তায় বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে (Afghanistan)। এই প্রেক্ষাপটে, নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে নূর আহমেদ নূরের নিয়োগ দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন গতি আনতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। মানবিক সহায়তা ও সরকারি স্তরের যোগাযোগের মধ্যে (Taliban) দিয়েই ভারত ও আফগানিস্তান তাদের সম্পর্ক আরও মজবুত করার পথে এগোচ্ছে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞমহলের (Afghanistan)।

  • Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    Russia: ইরান হয়ে রেলপথে ভারতকে জুড়ছে রাশিয়া! আমেরিকাকে ‘রামধাক্কা’ দিতেই কি ক্রেমলিনের হাতিয়ার ইস্পাত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন মেঘ না চাইতেই জল! আমেরিকার দাদাগিরি রুখতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার চেষ্টা করছে রাশিয়া (Russia)। সেই কারণেই ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডর (INSTC)-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ রাশত–আস্তারা রেলপথের কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিল ইরান ও রাশিয়া। সংবাদ মাধ্যম সূত্রেই এই খবর মিলেছে।

    ইরান-রাশিয়া বৈঠক (Russia)

    সম্প্রতি ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি এবং রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। বৈঠকে উভয়পক্ষই আইএনএসটিসি করিডরকে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। ইরান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছে, তারা করিডরটি সক্রিয় করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলি লারিজানি বলেন, “প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে থাকা সমস্ত বাধা দ্রুত দূর করা হবে।” তিনি আরও জানান, প্রয়োজনীয় আইনি ও পরিচালন সংক্রান্ত চুক্তি চূড়ান্ত করা হবে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রকল্পটি কার্যকর করা যায়।

    জমি অধিগ্রহণ

    ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সরকার চলতি (Russia) ইরানি অর্থবর্ষের শেষ নাগাদ রাশত–আস্তারা রেলপথের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে, যাতে প্রকল্পের অগ্রগতি থমকে না যায়। এদিকে, রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী ভিতালি সাভেলিয়েভ ইরানের এই দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “রাশিয়া দ্রুত নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে এবং রেল প্রকল্প শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সঙ্গে, আইএনএসটিসি করিডরের আওতায় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় বজায় রাখার বিষয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০০ সালের ১২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া, ইরান ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি আন্তঃসরকারি চুক্তির মাধ্যমে ইন্টারন্যাশনাল নর্থ–সাউথ ট্রান্সপোর্ট করিডরের ভিত্তি স্থাপন হয়। বর্তমানে আজারবাইজান, ভারত, ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক-সহ মোট ১৩টি দেশ এই চুক্তি অনুমোদন করেছে (Russia)।

    করিডরের মূল লক্ষ্য

    এই করিডরের মূল লক্ষ্য হল, ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে, পাশাপাশি উত্তর ও পশ্চিম ইউরোপে পণ্য পরিবহণের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে এই রুটে ভারতে পণ্য পৌঁছতে সময় লাগে ছ’সপ্তাহের মতো। তবে করিডরটি পুরোপুরি চালু হয়ে গেলে এই সময়সীমা কমে মাত্র তিন সপ্তাহে দাঁড়াবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। প্রসঙ্গত, নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক পরিবহণ করিডরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজভিন–রাশত রেলপথ চালু হয় ২০১৯ সালের ৬ মার্চ। এই রেলপথের মাধ্যমে আজারবাইজানের রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে ইরানের রেল যোগাযোগ সুগম হয়েছে। করিডরের পরবর্তী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইরানের ভূখণ্ডে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নর্থ–সাউথ করিডর

    ইরানের ভেতরে নর্থ–সাউথ করিডরের তিনটি প্রধান দিক রয়েছে। পূর্ব দিকটি তুর্কমেনিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সংযুক্ত। মধ্য দিকটি কাস্পিয়ান সাগর অতিক্রম করে রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। আর পশ্চিম দিকটি আজারবাইজান, জর্জিয়া, রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সংযোগ রক্ষা করে (Russia)। এই প্রেক্ষাপটে, ২০২৩ সালের ১৭ মে রাশিয়া ও ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইরানের উত্তরাঞ্চলীয় গিলান প্রদেশে রাশত–আস্তারা রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রায় ১৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে মোট ৯টি স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশত–আস্তারা রেলপথ সম্পন্ন হলে নর্থ–সাউথ আন্তর্জাতিক করিডরের সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে ইরানের রেল নেটওয়ার্ক ককেশাস অঞ্চলের দেশ, রাশিয়া এবং উত্তর ইউরোপীয় দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।

    রেলপথ নির্মাণে রাশিয়ার লগ্নি

    চুক্তি অনুযায়ী, এই রেলপথ নির্মাণে রাশিয়া প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করবে। প্রকল্পটি ৪৮ মাসের মধ্যেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রেল প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ এবং ইউরেশীয় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইরানের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ পশ্চিমি দুনিয়ার চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে রাশিয়া এবং ইরান। এর জেরে দিন দিন পঙ্গু হচ্ছে মস্কো ও তেহরানের অর্থনীতি। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা প্রত্যাঘাতে ওয়াশিংটনের যাবতীয় ছক ভেস্তে দিতে পূর্বতন পারস্য দেশের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৬২ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণে নেমেছে পুতিন সরকার। এই রেলপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে নয়া রূপ দিতে পারে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক মহলের (Russia)।

  • Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    Tariff Threat: ‘সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের অগ্রাধিকার’, ট্রাম্প-হুমকি উপেক্ষা করে সাফ জানিয়ে দিল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের আবহে এখনও যারা রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করে চলেছে, সেই সব দেশের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব সংবলিত একটি বিল মার্কিন কংগ্রেসে উত্থাপনের প্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত (Tariff Threat)। শুক্রবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক সাফ জানিয়ে দেয়, পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির মধ্যেও ১৪০ কোটি মানুষের জন্য সাশ্রয়ী জ্বালানি নিশ্চিত করাই ভারতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার (US)।

    বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য (Tariff Threat)

    বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “আমরা প্রস্তাবিত বিলটির বিষয়ে অবগত। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।” তিনি জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই স্পষ্ট। ভারতের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং বাজারের বাস্তবতার ভিত্তিতে। জয়সওয়াল বলেন, “জ্বালানি উৎস সংক্রান্ত বৃহত্তর প্রশ্নে ভারতের অবস্থান সুপরিচিত। বৈশ্বিক বাজারের পরিবর্তনশীল গতিপ্রকৃতি এবং বিভিন্ন উৎস থেকে সাশ্রয়ী জ্বালানি সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তাই আমাদের পথনির্দেশ করে, যাতে ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় (Tariff Threat)।”

    মার্কিন সেনেটরের প্রতিক্রিয়া

    বিদেশমন্ত্রকের এই প্রতিক্রিয়া এসেছে মার্কিন সেনেটর লিন্ডসি গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কয়েক দিনের মধ্যেই। গ্রাহামের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলে’ সবুজ সংকেত দিয়েছেন। এই বিল কার্যকর হলে ভারত, চিন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর চাপ সৃষ্টি করা হবে, যাতে তারা রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে (US)। এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে গ্রাহাম বলেন, “ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে শান্তি আলোচনার মধ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিক বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তিনি রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিলটি অনুমোদন করেন। ইউক্রেন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, অথচ পুতিন শুধু কথার ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন এবং নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সেই দেশগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেবে, যারা সস্তায় রুশ তেল কিনে পুতিনের যুদ্ধাস্ত্রকে জ্বালানি জোগাচ্ছে (Tariff Threat)।” গ্রাহামের ইঙ্গিত, আগামী সপ্তাহেই বিলটি দ্বিদলীয় ভোটাভুটির জন্য তোলা হতে পারে।

    ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’

    এ প্রসঙ্গে এক মার্কিন সেনেটর বলেন, “এই বিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে চিন, ভারত ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলির ওপর বিপুল প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেবে, যাতে তারা রাশিয়ার সস্তা তেল কেনা বন্ধ করে। ওই তেল থেকেই পুতিন ইউক্রেনে গণহত্যার অর্থ জোগাচ্ছেন। আমি আশা করছি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এই বিলের পক্ষে শক্তিশালী দ্বিদলীয় সমর্থন মিলবে (US)।” মার্কিন কংগ্রেসের সরকারি ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বিলটির নাম ‘স্যাঙ্কসানিং অফ রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫’। এই আইনের আওতায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সমস্ত পণ্য ও পরিষেবার ওপর শুল্কের হার কমপক্ষে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি ও সংস্থাগুলির বিরুদ্ধেও আর্থিক জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই বিল কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলেই অনুমান কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের (Tariff Threat)।

  • Railways: শতাব্দী এক্সপ্রেসের ভোলবদল, পুরনো চেয়ার কার কোচের জায়গায় বন্দে ভারতের রেক! বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    Railways: শতাব্দী এক্সপ্রেসের ভোলবদল, পুরনো চেয়ার কার কোচের জায়গায় বন্দে ভারতের রেক! বড় সিদ্ধান্ত রেলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বন্দে ভারত (Vande Bharat) চেয়ার কার ট্রেন উৎপাদন বন্ধ করার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল ভারতীয় রেল (Railways)। রেল বোর্ডের সাম্প্রতিক নির্দেশ অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ – এই চার বছরের মধ্যে মোট ১,৫০০টি বন্দে ভারত চেয়ার কার কোচ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে মোট ৮৮টি ট্রেন রেক প্রস্তুত হবে।

    কোথায় হবে তৈরি (Railways)

    রেল সূত্রে খবর, এই ১,৫০০ কোচের মধ্যে ৭২০টি কোচ চেন্নাইয়ের ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরিতে তৈরি করা হবে। বাকি কোচগুলি অন্যান্য উৎপাদন ইউনিটে নির্মিত হবে। রেলের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ইন্টার সিটি রুটে চলাচলকারী সমস্ত শতাব্দী এক্সপ্রেস ট্রেন, যেগুলির রেক উৎপাদন ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেগুলিকে ধাপে ধাপে বন্দে ভারত রেকে রূপান্তরিত করা হবে। সে ৮৮টি রেক তৈরি হবে, তার মধ্যে ৬৮টি রেক হবে ১৬ কোচের আর বাকি ২০টি রেক হবে ২০ কোচের ট্রেন সেট। বন্দে ভারত চেয়ার কার ট্রেনগুলির সর্বোচ্চ গতি ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। এগুলি মূলত ব্যবহার করা হবে দিনের বেলায় চলা ইন্টারসিটি পরিষেবার জন্যই। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত, চেন্নাইয়ের আইসিএফ, কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরি এবং রায়বেরেলির মডার্ন কোচ ফ্যাক্টরি – এই তিনটি উৎপাদন কেন্দ্রে মোট ৯৬টি বন্দে ভারত চেয়ার কার রেক তৈরি হয়েছে।

    কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    এর মধ্যে বর্তমানে ৮২টি রেক পরিষেবায় রয়েছে, আর কয়েকটি কোচ রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়াও, দক্ষিণ রেল, উত্তর রেল সহ কয়েকটি জোনে আরও কিছু বন্দে ভারত রেক বরাদ্দ করা হয়েছে, যদিও সেগুলি এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। রেলের এই সিদ্ধান্তে আগামী দিনে দেশের ইন্টারসিটি যাত্রী পরিষেবা আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের। রেল বোর্ডের প্রোডাকশন ইউনিট বিভাগের ডিরেক্টরের জারি করা ২ জানুয়ারির এক নির্দেশিকা অনুযায়ী, নয়া উৎপাদন পরিকল্পনায় ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি, রায়বেরেলি কোচ ফ্যাক্টরি, এবং মারাঠওয়াড়া কোচ ফ্যাক্টরি মিলিয়ে মোট ১,৫০০টি কোচ তৈরি করা হবে। এর মধ্যে আইসিএফ তৈরি করবে ৭২০টি, আরসিএফ তৈরি করবে ৩৩৬টি এবং এমসিএফ তৈরি করবে (Vande Bharat) ৪৪৪টি কোচ।

    কোথায়, কত ট্রেনসেট তৈরি হবে

    ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে এই (Railways) তিনটি ইউনিট মিলিয়ে মোট ১৬-কোচ বিশিষ্ট ২৩টি ট্রেনসেট তৈরি করা হবে। তবে ২০২৭-২৮ সালে কোনও বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরির পরিকল্পনা নেই। ২০২৮-২৯ সালে আইসিএফ ২০-কোচ বিশিষ্ট ২০টি ট্রেনসেট তৈরি করবে। এমসিএফ তৈরি করবে ১৬-কোচের ১২টি ট্রেনসেট। ২০২৯-৩০ অর্থবর্ষে আইসিএফ, আরসিএফ এবং এমসিএফ – এই তিনটি ইউনিট মিলিয়ে ১৬-কোচ বিশিষ্ট মোট ৩৩টি বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরি করা হবে। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে আইসিএফ একাই ৮৮টির বেশি বন্দে ভারত ট্রেনসেট তৈরি করেছে। বর্তমানে ভারতীয় রেল বন্দে ভারতের স্লিপার সংস্করণের উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই কারণে ২০২৫-২৬ সালে ইন্টারসিটি পরিষেবার জন্য আইসিএফকে মাত্র ১১টি বন্দে ভারত চেয়ার কার ট্রেনসেট তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে অন্যান্য ইউনিটে আরও ২০টি ট্রেনসেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে চেয়ার কার বন্দে ভারত ট্রেনের জন্য আর কোনও নতুন পরিকল্পনা না থাকলেও, সাম্প্রতিক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে আবারও এই ট্রেনগুলির উৎপাদন চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রেলের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “বন্দে ভারত চেয়ার কার কোচগুলিই আগামী চার বছরে ধাপে ধাপে শতাব্দী এক্সপ্রেসের পুরানো রেকগুলির জায়গা নেবে। এই (Vande Bharat) সিদ্ধান্ত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য ও আধুনিকীকরণের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Railways)।”

  • ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    ED: আইপ্যাক কর্তার বাড়িতে ইডির হানা, সেখান থেকে ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে বেরোলেন মমতা! কী রয়েছে তাতে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘লাল ডায়েরি’র পর এবার ‘সবুজ ফাইল’! ঘটনাচক্রে দু’টি ঘটনায়ই ঘটেছে তৃণমূল জমানায় (Mamata Banerjee)। দুই চিটফান্ড সংস্থা রোজভ্যালি এবং সারদার শীর্ষ কর্তাদের কাছ থেকে ইডি (ED) বাজেয়াপ্ত করেছিল লাল রংয়ের দুটি ডায়েরি। সেগুলিতে ঠিক কী ছিল, তা জানা না গেলেও, এটা জানা গিয়েছে ডায়েরি দু’টিতে কোটি কোটি টাকার লেনদেন, রাজনৈতিক সংযোগ এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম লেখা ছিল।

    চর্চায় সবুজ ফাইল (ED)

    সময়ের শ্যাওলা লাগায় লাল ডায়েরির রং যখন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই চর্চায় চলে এল সবুজ ফাইল। এবং সেই ফাইল সরিয়ে নিয়ে গেলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফেরা যাক, মূল খবরে। বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি। দিল্লির আর্থিক প্রতারণা মামলায় ওই সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের অফিস এবং লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেয় ইডি। ইডির অভিযান শুরু হতেই দ্রুত প্রতীকের বাড়িতে পৌঁছে যান পুলিশ কমিশনার মনোজ ভর্মা। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং। হনহনিয়ে ঢুকে যান বাড়ির ভেতরে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই তিনি যখন ওই বাড়ি থেকে বের হন, তখন তাঁর হাতে ধরা একটি সবুজ ফাইল। সেই ফাইলে কী রয়েছে, তা জানাজানি হওয়ার আগেই সেটি চলে যায় তৃণমূল সুপ্রিমোর জিম্মায়। পরে, সেক্টর ফাইভেও পৌঁছে যান মমতা। সেখানে আইপ্যাকের দফতরে ইডি হানার মাঝেই তিনি ফাইল বের করেন বলে খবর।

    কেন সবুজ ফাইল নিয়ে চলে গেলেন মমতা

    কেন তিনি বেছে বেছে সবুজ ফাইলটিই সরিয়ে নিয়ে তড়িঘড়ি এলাকা (ED) ছেড়ে চলে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। মমতা বলেন, “প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি আধিকারিকরা। আইটি ইনচার্জের বাড়িতে সব হার্ডডিস্ক সংগ্রহ করতে এসেছিল। সব প্রার্থীর তালিকা, পার্টির প্ল্যান, স্ট্র্যাটেজি সংগ্রহ করতে এসেছিল।” তাঁর প্রশ্ন, “এটাই কি অমিত শাহের কাজ যে আমার দলের সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করতে এসেছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন (Mamata Banerjee), “দেশকেই রক্ষা করতে পারে না! আমার আইনি অফিসে ইডি হানা।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এক দিকে এসআইআর করে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে, প্রায় দেড় কোটি মানুষের নাম বাদ দিয়েছে। আর একদিকে এভাবে তল্লাশির মাধ্যমে দলের প্ল্যান হাতিয়ে নিচ্ছে।” ফাইল ‘সরানো’র সাফাই গাইতে গিয়ে মমতা বলেন, “দেখুন, আমি সব এই ফাইলে করে নিয়ে এসেছি। কারণ প্রতীক আমার পার্টির ইনচার্জ। সব হার্ড ডিস্ক আমি গুছিয়ে নিয়ে এসেছি।” কেন্দ্রীয় একটি তদন্তকারী সংস্থার তল্লাশি অভিযানের সময় কেন মুখ্যমন্ত্রী সেখানে গেলেন, কেনই বা তড়িঘড়ি করে সবুজ ফাইল বেছে নিয়ে চলে গেলেন, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। নজিরবিহীন এই ঘটনায় তাজ্জব তামাম রাজ্যবাসী (ED)।

    রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনা

    যদিও তৃণমূলের আমলে এমনতর ঘটনা আগেও ঘটেছে (Mamata Banerjee)। একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যখন রাজীব কুমারের বাড়িতে হানা দিয়েছিলেন, তখন তার প্রতিবাদে রাজীবের বাড়ির সামনে ধরনায় বসে পড়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একজন প্রশাসনিক প্রধান কীভাবে একাজ করতে পারেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল সেই সময়। এদিন, মমতা যখন সবুজ ফাইলটি নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, তার পিছু পিছু আরও বেশ কিছু ফাইলের গোছা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পুলিশ কর্মীরা। সেগুলি রাখা হয় মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে।

    আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনো

    এদিন সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে মমতা পৌঁছনোর ঢের আগেই সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-মন্ত্রীরা। এঁদের মধ্যে ছিলেন, বিধাননগর পুরসভার মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী এবং রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুও। ভিআইপি লিফট না ধরে মুখ্যমন্ত্রী বেসমেন্টে গিয়ে লিফট ধরে সোজা চলে যান সেক্টর ফাইভের একটি বহুতলের ১১ তলায়। এই বেসমেন্টের সামনেই রাখা ছিল মমতার গাড়ি। সেই গাড়িতেই তোলা হল সমস্ত ফাইল। সল্টলেকে যখন মুখ্যমন্ত্রী পৌঁছন, তখন দেখা যায়, গোটা এলাকাটি ঘিরে রেখেছেন বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের পদস্থ কর্তারা। এই পুরো পর্বটি চলার সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে চলে আসেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও (ED)।

    আইপ্যাকের দফতরে তল্লাশি চালানোর সময় বহুতলটির প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ সিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। মুখ্যমন্ত্রী যখন সেখানে পৌঁছন, তখন দেখা যায় দু’টি দরজাই বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে কথা না বাড়িয়ে বেসমেন্ট দিয়ে লিফটে চড়ে মুখ্যমন্ত্রী সটান চলে যান ১১ তলায়, আইপ্যাকের দফতরে। ইডির দল আইপ্যাকের দফতরে যখন থেকে তল্লাশি শুরু করে তখন থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিল। তার পরেই সেখানে বাহিনী বাড়াতে শুরু করে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারটেও। মমতা যাওয়ার পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যাও আরও বাড়ে (Mamata Banerjee)। পাল্লা দিয়ে বাহিনী বাড়ায় বিধাননগর পুলিশ (ED)।

LinkedIn
Share