Author: suman-das

  • Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    Ramakrishna 548: “বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ, তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র—সমাধিস্থ!

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট
    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?
    শ্রীরামকৃষ্ণ, কেশব সেন ও তাঁহার সমাজে হরিণাম ও মায়ের নাম প্রবেশ 

    “কেশব সেনের (Ramakrishna) সঙ্গে দেখা হবার আগে, তাকে দেখলাম! সমাধি অবস্থায় দেখলাম, কেশব সেন আর তার দল। একঘর লোক আমার সামনে বসে রয়েছে! কেশবকে দেখাচ্ছে, যেন একটি ময়ূর তার পাখা বিস্তার করে বসে রয়েছে! পাখা অর্থাৎ দল বল। কেশবের মাথায় দেখলাম লালমণি। ওটি রজোগুণের চিহ্ন। কেশব শিষ্যদের বলছে—‘ইনি কি বলছেন, তোমরা সব শোনো’। মাকে বললাম (Kathamrita), মা এদের ইংরাজী মত,—এদের বলা কেন। তারপর মা বুঝিয়ে দিলে যে, কলিতে এরকম হবে। তখন এখান থেকে হরিণাম আর মায়ের নাম ওরা নিয়ে গেল। তাই মা কেশবের দল থেকে বিজয়কে নিলে। কিন্তু আদি সমাজে গেল না।

    নিজেকে দেখাইয়া “এর (আমার) ভিতর একটা কিছু আছে। গোপাল সেন বলে একটি ছেলে আসত—অনেকদিন হল। এর ভিতর যিনি আছেন গোপালের বুকে পা দিলে। সে ভাবে বলতে লাগল, তোমার এখন দেরি আছে। আমি ঐহিকদের সঙ্গে থাকতে পারছি না,—তারপর ‘জাই’ বলে বাড়ি চলে গেল। তারপর শুনলাম দেহত্যাগ করেছে। সেই বোধ হয় নিত্যগোপাল।

    “আশ্চর্য দর্শন সব হয়েছে। অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন। তার ভিতর দেখছি, মাঝে বেড়া দেওয়া দুই তাক। একধারে কেদার চুনি, আর আর অনেক সাকারবাদী ভক্ত। বেড়ার আর-একধারে টকটকে লাল সুরকির কাঁড়ির মতো জ্যোতিঃ। তারমধ্যে বসে নরেন্দ্র।—সমাধিস্থ!

    “ধ্যানস্থ দেখে বললুম, ‘ও নরেনদ্র!’ একটু চোখ চাইলে — বুঝলুম ওই একরূপে সিমলেতে কায়েতের ছেলে হয়ে আছে।-তখন বললাম, ‘মা। ওকে মায়ায় বদ্ধ কর।—তা না হলে সমাধিস্থ হয়ে দেহত্যাগ করবে।’—কেদার সাকারবাদী, উঁকি মেরে দেখে শিউরে উঠে পালাল।

    “তাই ভাবি এর (নিজের) ভিতর মা স্বয়ং ভক্ত হয়ে লীলা করছেন (Kathamrita)। যখন প্রথম এই অবস্থা হল, তখন জ্যোতিঃতে দেহ জ্বল জ্বল করত। বুক লাল হয়ে যেত! তখন বললুম, ‘মা, বাইরে প্রকাশ হয়ো না, ঢুকে যাও!’ তাই এখন এই হীন দেহ।

    “তা না হলে লোকে জ্বালাতন করত। লোকের ভিড় লেগে যেত — সেরূপ জ্যোতির্ময় দেহ থাকলে। এখন বাহিরে প্রকাশ নাই। এতে আগাছা পালায়—যারা শুদ্ধভক্ত তারাই কেবল থাকবে। এই ব্যারাম হয়েছে কেন?—এর মানে ওই। যাদের সকাম ভক্তি, তারা ব্যারাম অবস্থা দেখলে চলে যাবে।

    “সাধ ছিল (Kathamrita)—মাকে বলেছিলাম, মা, ভক্তের রাজা হব!

    “আবার মনে উঠল, ‘যে আন্তরিক ঈশ্বরকে ডাকবে তার এখানে আসতেই হবে! আসতেই হবে! দেখো, তাই হচ্ছে — সেই সম লোকই আসছে।

    “এর ভিতরে কে আছেন, আমার বাপেরা জানত। বাপ গয়াতে স্বপ্নে দেখেছিলেন,—রঘুবীর বলছেন, ‘আমি তোমার ছেলে হব।’

    “এর ভিতরে তিনিই আছেন। কামিনী-কাঞ্চনত্যাগ! একি আমার কর্ম। স্ত্রীসম্ভোগ স্বপনেও হলো না।

  • Suvendu Adhikari: “হিন্দুরা একজোট না হলে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হবে”, দীপু দাস হত্যার কথা স্মরণ শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: “হিন্দুরা একজোট না হলে পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশ হবে”, দীপু দাস হত্যার কথা স্মরণ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একদিকে উত্তরে আলিপুরদুয়ারে যখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সভা করছেন, অপর দিকে দক্ষিণে তাঁকে আক্রমণ করে নন্দীগ্রামের সভা থেকে একাধিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। শুভেন্দু বলেন, “নন্দীগ্রামে (Nandigram) যেভাবে হিন্দুরা একজোট হয়েছেন ঠিক একই ভাবে সারা পশ্চিমবঙ্গের হিন্দুদের একজোট হতেই হবে।” হিন্দু মানুষের প্রতি সহানুভূতির মন্ত্রই বাংলাদেশ হওয়া থেকে রক্ষা করবে পশ্চিমবঙ্গকে। এমন ভাবেই বিস্ফোরক হয়েছেন শুভেন্দু।

    বাংলাদেশকে দেখলেই বোঝা যায় (Suvendu Adhikari)

    নন্দীগ্রামের (Nandigram) সভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “এখানে হিন্দুদের সংখ্যা কম, তাই চাপের মধ্যে থাকতে হয়। এই চাপ অস্বীকার করার উপায়ও নেই। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়বে। এমন কি খুনের ঘটনাও ঘটতে পারে। তাই সব ভেদাভেদকে ভুলে সকলকে এক হওয়ার বার্তা দিতে হবে। হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ না হলে কি অবস্থা হয় তা বাংলাদেশকে দেখলেই বোঝা যায়।”

    পুলিশ দুষ্কৃতীদের মতো আচরণ করছে

    মমতার বিরুদ্ধে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) তোপ দেগে বলেন, “বাংলাদেশে এক সময় হিন্দু ছিল ৩৩ শতাংশ। এখন ৭ শতাংশের নিচে এসে নেমেছে। বাংলাদেশে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাই এক না হলে জামত মানসিকতার গুন্ডারা একই ভাবে অত্যাচার করবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ দুষ্কৃতীদের মতো আচরণ করছে। দুষ্কৃতীদের জায়গায় এখন পুলিশরা নিয়ে নিয়েছে। এলাকার কিছু দুষ্কৃতীকে কৃতকর্মের জন্য দেড় বছর জেল খাটিয়েছি। ফলে একটু চাপে আছে তৃণমূলের নেতারা। তবে ভোটের সময় এপ্রিল মাসে ফের তাণ্ডব করতে পারে। তাই এখন থেকে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।”

    একই ভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, “২০১১ সালের আগে অভিষেক নাবালক ছিলেন। মমতাকে মেদিনীপুর, নন্দীগ্রাম আমি চিনিয়েছি। উত্তরের চা বাগানে মমতা মদ বিক্রির লাইসেন্স দিয়েছেন। অভিষেক মিথ্যা ভাষণ দেন। এইবারে নন্দীগ্রামে (Nandigram) দাঁড়ালে মমতাকে আরও একটি শূন্যের অঙ্ক বাড়িয়ে হারাব।

  • Chhattisgarh: নতুন বছরের শুরুতেই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য, ছত্তিশগড়ে খতম ১৪ মাওবাদী

    Chhattisgarh: নতুন বছরের শুরুতেই নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য, ছত্তিশগড়ে খতম ১৪ মাওবাদী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নতুন বছরে মাওবাদী দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরাট সাফল্য। ছত্তিশগড়ে (Chhattisgarh) ২টি পৃথক মাওবাদী-বাহিনী সংঘর্ষে ১৪ জন মাওবাদী (Maoist Security) নিহত হয়েছে। জানা গিয়েছে, শনিবার সকালে রাজ্যের সুকমা ও বিজাপুর জেলায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    লোকাল কমিটির সম্পাদক মাংডুও নিহত (Chhattisgarh)

    স্থানীয় জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ সুকমা (Chhattisgarh) জেলায় এক সংঘর্ষে ১২ জন মাওবাদীর মৃত্যু হয়েছে। একই ভাবে পার্শ্ববর্তী বিজাপুরে পৃথক সংঘর্ষে আরও দুইজন মাওবাদী (Maoist Security) নেতা নিহত হয়েছে। জেলা রিজার্ভ গার্ড পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে ভোর ৫টায় বিজাপুরে এই সংঘর্ষ হয়। এদিনের অভিযানে মৃত মাওবাদীদের মধ্যে সুকমার কোন্টা লোকাল কমিটির সম্পাদক মাংডুও ছিল। অন্যদিকে, পিপলস লিবারেশন গেরিলা আর্মি ব্যাটেলিয়ন ১-দলের শীর্ষ নেতা কমান্ডার বরসা সুক্কু সহ বেশ কয়েকজন মাওবাদীরা আজ তেলঙ্গানা পুলিশের ডিজি শিবধর রেড্ডির কাছে আত্মসমর্পণ করার কথা।

    এখনও পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মাওবাদী নিহত

    সুকুমার পুলিশ সুপার কিরণ চৌহান বলেন, “কোন্টা এরিয়া (Chhattisgarh) কমিটির অধীনে কর্মরত সমস্ত মাওবাদীকে (Maoist Security) নির্মূল করা হয়েছে। নকশাল, মাওবাদীদের মতো চরমপন্থী সংগঠনকে নির্মূল করতে কেন্দ্রের মাওবাদী অভিযানকে বাস্তবায়ন করার কাজ চলছে।” উল্লেখ্য ছত্তিশগড়ে বিজেপি সরকার গঠনের পর থেকেই রাজ্য এবং কেন্দ্রের যৌথ অভিযানে মাওবাদী ও সন্ত্রাস মুক্ত সমাজ গঠনের ডাক দিয়েছেন। যদিও ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে অনেক মাওবাদী পুলিশ প্রশাসনের কাছে নিজেরা আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০২৪ সাল থেকে একাধিক অভিযানে এখনও পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি মাওবাদী নিহত হয়েছেন। মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় সেনা এবং পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে।

  • PM Narendra Modi: ১৭, ১৮ জানুয়ারি ফের রাজ্যে আসছেন মোদি, মালদা-হাওড়ায় করবেন জোড়া জনসভা

    PM Narendra Modi: ১৭, ১৮ জানুয়ারি ফের রাজ্যে আসছেন মোদি, মালদা-হাওড়ায় করবেন জোড়া জনসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর আবহে শুনানি পর্ব চলছে। সামনেই বিধানসভা নির্বাচন তাই রাজনৈতিক প্রচারে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতেই ২ দিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গে আসবেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi)। এই সময়ে উত্তরবঙ্গ এবং দক্ষিণবঙ্গে (Malda-Howrah) জোড়া সফর করবেন মোদি। আগামী ১৭ জানুয়ারি উত্তর মালদায় সভা করবেন।  পরের দিন, ১৮ জানুয়ারি দক্ষিণবঙ্গের হাওড়ায় সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। বিধানসভার আগে মোদির সভাকে ঘিরে বিজেপির নেতা কর্মীদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ এবং উন্মাদনা।

    ভোট ব্যাঙ্ক হারাতে বসেছে তৃণমূল (PM Narendra Modi)

    গত ১০ ডিসেম্বর নদিয়ার তাহেরপুরে সভার জন্য বাংলায় এসেছিলেন মোদি। দৃশ্যমানতা কম থাকায় তাঁর হেলিকাপ্টার তাহেরপুরে নামতে পারেনি। হেলিকাপ্টার ফিরে আসে কলকাতা বিমানবন্দরে। সেখান থেকেই ভারচুয়ালি বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে সরব হন। এই রাজ্যেও পরিবর্তনের ডাক দেন। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও বাংলায় ভোটের পারদ ব্যাপক ভাবে চড়ছে। যদিও শাসক দল এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারকার বারবার নিশানা করেছে। অপর দিকে বিজপির দাবি, রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দিতেই এসআইআর প্রক্রিয়া হচ্ছে। তৃণমূল তাদের ভোট ব্যাঙ্ক হারাতে বসেছে তাই এতো ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

    লক্ষ্য মাত্রা ২০০-২২০ আসন

    গত ২৯ ডিসেম্বর রাজ্যে এসেছিলেন মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বিজেপি কর্মী সমর্থক এবং নেতাদের স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, এবার ক্ষমতায় বিজেপি আসছে। মোট আসনের দুই তৃতীয়াংশ আসনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটের ভিত্তিতে বিজেপি সরকার গড়তে চলেছে। বাংলায় পরিবর্তন সুনিশ্চিত। বিজেপির নেতাদের লক্ষ্য মাত্রা দিয়েছেন ২০০ আসনের। একই ভাবে শুক্রবার মালদার চাঁচলে সভা করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছেন, “রাজ্যের সনাতনীরা এক জোট হলে ২২০টি আসন পাবে বিজেপি। হিন্দু সমাজকে বাঁচতে এবং বাঁচাতে বিজেপিই একমাত্র সম্বল।”

    ইতিমধ্যে অপারেশন সিঁদুরের পর বঙ্গ সফরে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Narendra Modi) আলিপুরদুয়ার, দুর্গাপুর, দমদম এবং কৃষ্ণনগরে (ভার্চুয়াল) সভা করেছেন। তৃণমূলের বিরুদ্ধে জমে থাকা জনরোষকে বিজেপি কতটা ভোট বাক্সে প্রতিফলিত করতে পারে তাই এখন দেখার।

  • RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    RSS: “উইকিপিডিয়ায় নয়, আরএসএসকে বুঝতে হলে শাখায় আসুন”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএস (RSS) প্রধান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শুক্রবার ভূপালে জোর দিয়ে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) এবং বিদ্যা ভারতীর মতো সংগঠনগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করে, তবে সংঘ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না। বিজেপি বা ভিএইচপির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করবেন না; তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং সংঘের নির্দেশে চলে না। যারা আরএসএস-এর সহযোগী সংগঠনগুলির মাধ্যমে আরএসএসকে বোঝার চেষ্টা করছেন তাঁরা একটি মৌলিক ভুল করছেন। সংঘকে বুঝতে গেলে সংঘের প্রত্যক্ষ কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে।

    কাউকে সংঘ নিয়ন্ত্রণ করে না (RSS)

    সংঘের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “যদিও সংঘ স্বয়ংসেবকদের নির্মাণ করে, তবুও তাদের কখনই রিমোট কন্ট্রোল করে রাখে না। আরএসএস (RSS) স্বয়ংসেবকদের বিকাশ করে এবং ভারতের পরম বৈভব বা কল্যাণের জন্য কাজ করে থাকে। মানুষের মূল্যবোধ, চিন্তাভাবনা এবং লক্ষ্যগুলিকেও যথা সম্ভব এই কাজে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংঘের স্বয়ংসেবকরা সংঘ দ্বারা দূরবর্তী ক্ষেত্রেও নিয়ন্ত্রিত হন না। আমাদের স্বয়ংসেবকদের দ্বারা পরিচালিত বিজেপি, ভিএইচপি এবং বিদ্যা ভারতী একটি স্বাধীন পরিচয় নিয়ে এবং তাদের সংবিধান অনুসারে কাজ করে। তবে ভারত মাতার কল্যাণ এবং ভারতের গৌরব বৃদ্ধির জন্য সকলের দৃষ্টিভঙ্গি সমান।”

    ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে

    ভোপালে বিশিষ্ট নাগরিকদের এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “এই সংগঠনগুলি তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং বিভিন্ন পটভূমির সামাজের মানুষের সঙ্গে মিলে মিশে কাজ করে। ৪০ বছর আগে যখন আমরা লোকেদের এই কথাগুলি বলেছিলাম, তখন তারা আমাদের উপহাস করেছিল, বলেছিল যে আমরা কথার খেলায় লিপ্ত, কিন্তু এখন মানুষ বুঝতে শুরু করেছে যে আমরা আসলে কী বলতে চাইছিলাম। আমরা আমাদের ভাবনার জায়গায় একেবারে স্থির। আমাদের সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে ভুল তথ্য এবং ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে চলেছে। শুরু থেকে এবং এখন পর্যন্ত, আরএসএস (RSS) সম্পর্কে মিথ্যা বর্ণনার মুখোমুখি হতে হয়েছে, কেবল যারা এর বিরোধী তাদের কাছ থেকে নয়, যারা সমালোচনা করেন না তাদের কাছ থেকেও। সমগ্র বিশ্ব আরএসএস সম্পর্কে শুনেছে কিন্তু খুব কম লোকই এটি সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে জানে। তাই সংঘকে আরও ভালো করে জানা বোঝা দরকার।

    আধাসামরিক সংগঠন নয়

    বিশ্বব্যাপী আরএসএসের (RSS) কোনও তুলনা নেই উল্লেখ করে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের সাথে আরএসএসের কোনও তুলনা করা যায় না। এর কার্যকারিতা অনন্য, তবে স্বীকার করতে হবে যে সংঘ তথাগত গৌতম বুদ্ধ থেকে অনুপ্রেরণা গ্রহণ করে। আরএসএসকে অনেকে একটি আধাসামরিক সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষপাতী। কিন্তু এই ভাবনা সম্পূর্ণ ভাবে ভুল। যেহেতু আমরা পথ পরিচালনা করি এবং লাঠি দিয়ে কাজ করি, তাই আরএসএসকে কখনই আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে ভুল করা উচিত নয়। কেবল সামাজিক কাজই সংঘকে সংজ্ঞায়িত করে না। সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে, তবে এর ফলে কেউ বিশ্বাস করবে না যে সংঘ কেবল একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন।”

    ইউকিপিডিয়ায় নয়, শাখায় গিয়ে জনাতে হবে সংঘকে

    ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আরএসএসকে (RSS) বোঝার জন্য আপনাকে উইকিপিডিয়ায় আরএসএস সম্পর্কে অনুসন্ধান করার পরিবর্তে শাখায় আসতে হবে। কাজকে মাঠে মায়দানে নেমে দেখতে হবে। আরএসএস সচেতনভাবে কোনও রকম চাপ সৃষ্টিকারী সংগঠন হিসেবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরং এর লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজকে সংগঠিত করা। আরএসএস পূর্বেও বিরোধিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১০০ বছরের যাত্রায়, আরএসএসকে এমন বিরোধিতা এবং অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা বিশ্বের অন্য কোনও সংগঠনের মুখোমুখি হয়নি। আমরা কেবল আমাদের হিন্দু রাষ্ট্রের পরম গৌরবের একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করি। আরএসএসের বিরোধিতা ব্রিটিশ শাসনামলে শুরু হয়েছিল এবং স্বাধীনতার পরেও অব্যাহত ছিল। প্রথমে ব্রিটিশ সরকারই আরএসএসের বিরুদ্ধে কাজ করেছিল, কিন্তু স্বাধীনতার পরেও, সংঘকে চরম বিরোধিতা, চাপ, আক্রমণ এবং এমনকি হত্যার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তবে আমাদের ওপর নানা ভাবে এখনও হয়রানি করার ঘটনা ঘটে থাকে। যদিও পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গিয়েছে।

    ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা

    ভাষা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় সম্পর্কে মন্তব্য করে, ভাগবত (Mohan Bhagwat) নাগরিকদের ভারতীয় ভাষাগুলিতে গর্ব করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঘরে থাকাকালীন, আপনার মাতৃভাষায় কথা বলুন। তবে একটি নির্দিষ্ট রাজ্যে বসবাসকারী প্রত্যেকেরই তাদের নিজস্ব মাতৃভাষা জানার পাশাপাশি সেই রাজ্যের বিশেষ ভাষা জানা এবং বোঝা উচিত।  ভারতের সমস্ত ভাষাই জাতীয় ভাষা। আমি যদি বাংলায় থাকি, আমার মাতৃভাষা যাই হোক না কেন, আমার বাংলাও জানা উচিত।” একই ভাবে তিনি সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের উপরও জোর দিয়ে বলেন, “আপনার বাড়িতে বাচ্চাদের সঙ্গে যখন আপনি নিজের ভজন পরিবেশন করবেন তখনই কেউ আপনার সন্তানের ঘাড়ে ক্রুশ চাপানোর চেষ্টা করবে না। তাই নিজের ধর্ম (RSS) সম্পর্কে সকলকে সচেতন হতে হবে।”

    আত্মনির্ভর হতে হবে

    স্বদেশী এবং আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানিয়ে ভাগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, “আত্মনির্ভর হওয়ার জন্য আপনার আত্মগৌরব থাকা প্রয়োজন। আপনার জমিতে উৎপাদিত জিনিসপত্রই কেবল কিনুন এবং ব্যবহার করুন। আপনার দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় এমন স্বদেশী দ্রব্য ব্যবহার করুন। তবে স্বদেশী হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করে দেবেন। কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র যেমন- ওষুধ আমদানি করবেন যা ভারতে উৎপাদিত হয় না। আবার এটাও ঠিক যে বাণিজ্য কখনই কোনও চাপ বা শুল্কের ভয়ে করা উচিত নয়। এটি কেবল আমাদের নিজস্ব শর্তে হওয়া উচিত।”

    দেশজুড়ে আরএসএসের (RSS) শতবর্ষ-সম্পর্কিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ভাগবত দুই দিনের ভোপাল সফরে আছেন। শনিবার দুটি পৃথক অধিবেশনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে ভাষণ দেবেন এবং তাদের সাথে মতবিনিময় করবেন।

  • Nyaya Setu: নিখরচায় যে কোনও আইনি পরামর্শ মিলবে হোয়াটসঅ্যাপে! কেন্দ্র চালু করল ‘ন্যায় সেতু’

    Nyaya Setu: নিখরচায় যে কোনও আইনি পরামর্শ মিলবে হোয়াটসঅ্যাপে! কেন্দ্র চালু করল ‘ন্যায় সেতু’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপে (Whatsapp) ‘ন্যায় সেতু’ (Nyaya Setu) চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। এখন থেকে যে কোনও রকম আইনি সলা-পরামর্শের জন্য এই নতুন ব্যবস্থা বিশেষ ভাবে কার্যকারী হবে। ব্যবহারকারীরা নিজের মোবাইল থাকে মেসেজ করে প্রয়োজনীয় সবরকম আইনি সাহায্য, পরামর্শ, উপদেশ পেতে পারবেন, তাও একেবারে নিখরচায়। অর্থাৎ, এর জন্য কোনও রকম অর্থ খরচ করতে হবে না উপভোক্তাদের। প্রযুক্তিবিদদের মতে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনও ব্যক্তি অনেক সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে পারবেন।

    ভারত সরকার হোয়াটসঅ্যাপ প্ল্যাটফর্মে ‘ন্যায় সেতু’ পরিষেবাটি চালু করেছে। এর ফলে আইনি সহায়তা এখন থেকে নাগরিকদের জন্য মাত্র একটি মেসেজ করতে যত সময় লাগে এই স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই সুবিধা পাওয়া যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই ‘ন্যায় সেতু’ কী এবং কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তার বিস্তারিত সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হল-

    ‘ন্যায় সেতু’ কী (Nyaya Setu)?

    ‘ন্যায় সেতু’ হল ভারত সরকারের আইন ও বিচার মন্ত্রকের একটি ডিজিটাল উদ্যোগ। উল্লেখ্য এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের অগাস্টে। আসুন জেনে নিই কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য এবং সুবিধার তথ্য।

    উদ্দেশ্য: নাগরিকদের জন্য আইনি সহায়তা লাভের সুযোগকে উন্নত করা এবং সহজলভ্য করা।

    সুবিধা: কোনও জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়াই জনসাধারণ দ্রুত আইনি পরামর্শ পেতে সক্ষম হবেন।

    হোয়াটসঅ্যাপে পরিষেবা লাভের সুবিধা

    ‘ন্যায় সেতু’ এখন সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপের (Whatsapp) মাধ্যমে উপলব্ধ। এই সংযোজনের ফলে উপভক্তারা যে যে সুবিধাগুলি পাবেন তা হল–

    পেশাদার আইনি সাহায্য নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত সহজলভ্য। আপনি একটি মেসেজ করেই দ্রুত প্রতিক্রিয়া পেতে পারেন।

    আইন ও বিচার মন্ত্রকের মতে, এই আপডেটের মাধ্যমে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য পেশাদার আইনি সহায়তা সর্বদা দ্রুত এবং পরিষেবার যোগ্য হবে।

    প্ল্যাটফর্মটির ব্যাপক জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে আইনি সংস্থান এবং নাগরিকদের মধ্যেকার ব্যবধান কমানো সম্ভব হবে।

    হোয়াটসঅ্যাপে ‘ন্যায় সেতু’ কীভাবে ব্যবহার করবেন?

    হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে আইনি তথ্য বা পরামর্শ পেতে নিচের ধাপটি অনুসরণ করুন:

    ১>আপনার হোয়াটসঅ্যাপে নিচের নম্বরটিতে একটি বার্তা পাঠান

    যোগাযোগের নম্বর: ৭২১৭৭১১৮১৪

    ২> এই নম্বরটি আপনার হোয়াটসঅ্যাপে “Tele-Law” নামে প্রদর্শিত হবে।

    পরিষেবা এবং কার্যকারিতা

    সেবা: ‘ন্যায় সেতু’ (Nyaya Setu) চ্যাটবটটি আপনাকে আইনি পরামর্শ, আইনি তথ্য এবং আইনি সহায়তার জন্য বিভিন্ন বিকল্প প্রদান করবে।

    ব্যবহার প্রক্রিয়া: এটি ব্যবহারের জন্য প্রাথমিকভাবে আপনার মোবাইল নম্বর যাচাই করতে চাওয়া হবে। (তবে আপাতত যাচাইকরণ ছাড়াই কিছু প্রাথমিক তথ্য পাওয়া যেতে পারে)।

    প্ল্যাটফর্ম: এই চ্যাটবটটি ভারতের সমস্ত হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীদের জন্য উপলব্ধ—তা সেটি অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, বা ওয়েব যেকোনো প্ল্যাটফর্মেই হোক।

  • Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    Ramakrishna 547: “মহামায়ার মায়া যে কি… ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল”

    ৫১ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বর-মন্দিরে ভক্তসঙ্গে

    তৃতীয় পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ৯ই অগস্ট

    পূর্বকথা—ঠাকুর মুক্তকণ্ঠ—ঠাকুর সিদ্ধপুরুষ না অবতার?

    ঈশ্বরের সঙ্গে কথা—মায়াদর্শন—ভক্ত আসিবার অগ্রে তাদের দর্শন—কেশব সেনকে ভাবাবেশে দর্শন—অখণ্ড সচ্চিদানন্দদর্শন ও নরেন্দ্র—ও কেদার—প্রথম উন্মাদে জ্যোতির্ময় দেহ—বাবার স্বপ্ন —ন্যাংটা ও তিনদিনে সমাধি—মথুরের ১৪ বৎসর সেবা ১৮৫৮-৭১—কুঠির উপর ভক্তদের জন্য ব্যাকুলতা—অবিরত সমাধি। সবরকম সাধন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) এই কথা বলিতে বলিতে নামিয়া আসিয়া মেঝেতে মহিমাচরণের নিকট বসিলেন। কাছে মাস্টার ও আরও দু-একটি ভক্ত। ঘরে রাখালও আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মহিমার প্রতি)—আপনাকে অনেকদিন বলবার ইচ্ছা ছিল পারি নাই—আজ বলতে ইচ্ছা হচ্ছে।

    “আমার যা অবস্থা—আপনি বলেন, সাধন করলেই ওরকম হয়, তা নয়। এতে (আমাতে) কিছু বিশেষ আছে।”

    মাস্টার, রাখাল প্রভৃতি ভক্তেরা অবাক্‌ হইয়া ঠাকুর কি বলিবেন উৎসুক হইয়া শুনিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কথা কয়েছে!—শুধু দর্শন নয়—কথা কয়েছে। বটতলায় দেখলাম, গঙ্গার ভিতর থেকে উঠে এসে—তারপর কত হাসি! খেলার ছলে আঙ্গুল মটকান হল। তারপর কথা (Kathamrita)।—কথা কয়েছে!

    “তিনদিন করে কেঁদেছি, আর বেদ পুরাণ তন্ত্র—এ-সব শাস্ত্রে কি আছে—(তিনি) সব দেখিয়ে দিয়েছেন।

    “মহামায়ার মায়া যে কি, তা একদিন দেখালে। ঘরের ভিতর ছোট জ্যোতিঃ ক্রমে ক্রমে বাড়তে লাগল! আর জগৎকে ঢেকে ফেলতে লাগল!

    “আবার দেখালে,—যেন মস্ত দীঘি, পানায় ঢাকা! হাওয়াতে পানা একটু সরে গেল,—অমনি জল দেখা গেল। কিন্তু দেখতে দেখতে চার দিককার পানা নাচতে নাচতে এসে, আবার ঢেকে ফেললে! দেখালে, ওই জল, যেন সচ্চিদানন্দ, আর পানা যেন মায়া। মায়ার দরুন সচ্চিদানন্দকে দেখা যায় না,—যদিও এক-একবার চকিতের ন্যায় দেখা যায়, তো আবার মায়াতে ঢেকে ফেলে (Kathamrita)।

    “কিরূপ লোক (ভক্ত) এখানে আসবে, আসবার আগে দেখিয়ে দেয়। বটতলা থেকে বকুলতলা পর্যন্ত চৈতন্যদেবের সংকীর্তনের দল দেখালে। তাতে বলরামকে দেখলাম—না হলে মিছরি এ-সব দেবে কে! আর এঁকে (Ramakrishna) দেখেছিলাম।”

  • Suvendu Adhikari: ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি, চাঁচলের সভা থেকে সরকার গড়ার ডাক শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি, চাঁচলের সভা থেকে সরকার গড়ার ডাক শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে তিন দিনের সফরে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ। তিনি বঙ্গ বিজেপির নেতাদের টার্গেট আসন সংখ্যা দিয়ে গিয়েছেন ২০০। তবে শুক্রবার মালদার (Malda) চাঁচলে বিজেপির এক জনসভা থেকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেন ২০০ নয়, ২২০ আসন পাবে বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের গত ১৫ বছরের শাসনে নারী ধর্ষণ, চাকরি চুরি, কয়লা-বালি-মাটি-পাথর পাচার চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছে। ২৬০০০ স্কুল শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছে মমতার শাসনে। ফলে সবটা মিলিয়ে আপামর জনসাধারণের তীব্র ক্ষোভ, অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসার বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদী বলে মনে করছেন বঙ্গবিজেপির নেতারা।

    মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ (Suvendu Adhikari)

    শুক্রবার চাঁচলের (Malda) জনসভা করেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী। তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার ইস্যুতে স্বমহিমায় মমতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি আগত বিজেপি কর্মী সমর্থকদের বলেন, “ঠিক সময়ে দলটা ছেড়েছিলাম। দেশের হাল নরেন্দ্র মোদি ছাড়া গতি নেই। আগামী বিধানসভায় বিজেপি ২২০টি আসন পাবে। সরকার বিজেপিই গড়বে। রাজ্যের সমস্ত সনাতনীরা এগিয়ে আসলে ২২০ আসন হবেই।”

    ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মে ভোট

    শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) তৃণমূলকে সমালচনা করে বলেন, “চোরের দলে গেলে সবাই বদলে যাবে। আগে বুঝেছিলাম বলে ৬ বছর আগেই পালিয়ে এসেছি। একে একে সবাই এসেছে গেরুয়ার নিচে, কারণ মোদিজি ছাড়া দুর্বৃত্তদের আর কেউ আটকাতে পারবে না। পশ্চিমবঙ্গের দুটি লোকসভায় হিন্দুদের জোট চোখে পড়ার মতো ছিল। উত্তর মালদায় (Malda) হিন্দুরা অনেক বেশি সংঘবদ্ধ। ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মে ভোট দিয়েছেন। সকল সনাতনীদের এগিয়ে আসতে হবে।”

    প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করে

    রাজ্যে বাকি সমস্ত রাজনৈতিক দলের দলীয় কর্মসূচিতে অনুমতি দিলেও বিজেপির ক্ষেত্রে মমতা প্রশাসন চরম অসহযোগিতা করে বলে তোপ দাগেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। মালদার (Malda) চাঁচলের সভা থেকে শুভেন্দু তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলেন, “এই নিয়ে ১০৪ বার সরকারের বিরোধিতার জন্য আদালত থেকে সভা করার অনুমতি করতে হয়েছে। তবে প্রশাসনের এই অসহযোগীতাও বেশিদিন থাকবে না। আগামী এপ্রিল মাসের পর রাজ্যের বিরোধী দল হয়ে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ে হিসেব হবে। রাজ্যের চটিচাটা পুলিশের নাম লিস্ট করে রেখেছি। সবাইকার নাম লেখা রয়েছে, সবার হিসেব তোলা থাকবে।”

    ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মফুলে ভোট দেবে

    হিন্দু ভোটের ঐক্যের কথা বলতে গিয়ে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, “২০২১ সালে নন্দীগ্রামে হিন্দুভোট একত্রিত হয়েছিল। সেই সময় ৬৫ শতাংশ ভোট একত্রিত হয়েছিল। মমতাকে প্রায় ২০০০ ভোটে হারিয়েছিলাম। ২০২৪ সালে নন্দীগ্রামে হিন্দুভোট হয়েছিল ৭২ শতাংশ। আবার লোকসভার ভোটে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ১২০০০ ভোটে লিড পেয়েছিলেন। হাতে মাত্র ৩ মাস। এখানেও উত্তর মালদার মতো ৮৫ শতাংশ হিন্দু পদ্মফুলে ভোট দেবে। বিজেপি প্রার্থী ২০ হাজার ভোটে জয়ী হবেন। ২৪ সালে জয় জগন্নাথ বলে ওড়িশায় বিজেপি সরকার গড়েছে। এবার বাংলার পরিবর্তন হবে। নাগরাকাটায় খগেন মুর্মুর আক্রান্ত হওয়া নিয়েও সরব হন শুভেন্দু। তিনি ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন, ভোট চাইতে যাননি, খগেন মুর্মুর রক্ত হবে না ব্যর্থ। পাশের জেলা হরগোবিন্দ দাস, চন্দন দাসকে খুন করেছে দুষ্কৃতীরা। হিন্দু অস্তিত্ব অত্যন্ত সঙ্কটের। অঙ্গ-বঙ্গ-কলিঙ্গের জয় হবেই।”

    ১০ শতাংশের তফাত

    উল্লেখ্য বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ভোটের পার্থক্য রিয়েছে। এদিকে ২০২১ সালে বিজেপি আসন পেয়েছিল ৭৭টি, তৃণমূল পেয়েছিল ২১৩টি। তৃণমূলের ভোট শতাংশ ছিল ৪৭.৯৪ এবং বিজেপির ছিল ৩৮.১৩ শতাংশ। সংযুক্ত মোর্চার দিকে ছিল ৮.৬ শতাংশ। যদিও এসআইআর-এর কাজে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। ফলে শতাংশের বিচারে বিজেপির সম্ভাবনাও ব্যাপক রয়েছে। ২০০ বা ২২০ আসন বিজেপি পাওয়ার সম্ভাবনাকেও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন ওয়াকিবহাল মহল।

  • SIR: ২০১০ সালের আগে দেওয়া ওবিসি শংসাপত্রই এসআইআর শুনানিতে গ্রাহ্য হবে, সাফ নির্দেশ কমিশনের

    SIR: ২০১০ সালের আগে দেওয়া ওবিসি শংসাপত্রই এসআইআর শুনানিতে গ্রাহ্য হবে, সাফ নির্দেশ কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে এসআইআর (SIR) আবহে চলছে শুনানি পর্ব। আর এই শুনানিতে কেবলমাত্র ২০১০ সালের আগে দেওয়া ওবিসি শংসাপত্রই গ্রহণযোগ্য হবে বলে নির্দেশিকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১০ থেকে জারি হওয়া ওবিসি সার্টিফিকেট এসআইআরের কাজে ব্যবহার করা যাবে না। এই মর্মে ইতিমধ্যে জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ডিইও-দের নির্দেশিকাও (Election Commission) পাঠানো হয়েছে।

    গ্রাহ্য হবে না ২০১০-২০২৪ সার্টিফিকেট (SIR)

    নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বক্তব্য, ২০১০ সালের পর থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত দেওয়া সব ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারই জেরে এই সিদ্ধান্ত বলে এই খবর। চলতি বছর ১২ জুন রাজ্য ওবিসির যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেই তালিকাও এই নির্দেশিকার আওতায় পড়বে। ২০২৪ সালের ২২ মে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তপব্রোত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাজাশেখর মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ ২০১০ সালের পরে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছিল। ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠী ওবিসি বলে ধরা হত। ২০১০ সালে তৎকালীন বাম সরকারের আমলে আরও ৪২টি এবং ২০১২ সালে তৃণমূল সরকারের আমলে ৩৫টি জনগোষ্ঠীকে নতুন করে ওবিসি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই সব শংসাপত্র বাতিল করে দিয়েছে হাইকোর্ট। এসআইআর (SIR) শুনানিতে গ্রাহ্য হবে না এই সার্টিফিকেট।

    তবে ওই রায়ে হাইকোর্টের স্পষ্ট কথা ছিল, সামাজিক, আর্থিক এবং পেশাগত ভাবে সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সমীক্ষা করতে হবে। তারপর নতুন করে ওবিসি তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। চাকরি এবং কলেজের পরীক্ষায় ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অংশ ছিল, তাঁদের শংসাপত্রই গ্রাহ্য হবে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর তালিকার অংশ হিসেবে।

    ১১টি নথির মধ্যে বাদ ওবিসি সার্টিফিকেট

    ২০১০ সাল থেকে যাঁদের ওবিসিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে, হাইকোর্টের রায়ে ওই শংসাপত্র বাতিল হবে। রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর শুরু হয়েছে। প্রাথমিক খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর শুনানি পর্ব চলছে রাজ্যে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে ১১টি নথিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে ওবিসি সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে কমিশন (Election Commission) স্পষ্ট করে বলেছে, ২০১০ সালের আগে যারা সার্টিফিকেট পেয়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাঁদের এই শংসাপত্র এসআইআর-এ (SIR) গ্রাহ্য হবে।

  • SIR: নথি না থাকলে একতরফাভাবে বাতিল নয় আশ্রমিক-আদিবাসীদের নাম, স্পষ্ট করল কমিশন

    SIR: নথি না থাকলে একতরফাভাবে বাতিল নয় আশ্রমিক-আদিবাসীদের নাম, স্পষ্ট করল কমিশন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যৌনকর্মী, আদিবাসী, আশ্রমের বাসিন্দা এবং দুর্বল-প্রান্তিক মানুষদের নাম একতরফাভাবে ভোটার তালিকা (SIR) থেকে বাদ দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। ভোটার লিস্টের নিবিড় তালিকা সংশোধনে কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যাতে বাদ না যায় সেই দিকে যেমন নজর রাখতে হবে, একইভাবে অবৈধ ভোটারের নাম যাতে লিস্টে না থাকে সেই দিকেও স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

    প্রান্তিক এবং দুর্বলদের ডাকা যাবে না (SIR)

    নির্বাচন কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, সমাজের মধ্যে যাঁরা প্রান্তিক এবং দুর্বল যেমন-যৌনকর্মী, আদিবাসী গোষ্ঠী, আশ্রমের বাসিন্দা— এমন অনেক মানুষ রয়েছেন যাঁদের নাম হয়তো ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নেই, তাঁদের কোনও রকম নথির (SIR) প্রয়োজন নেই। শুধু নথির অভাবে তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা থাকলে তাঁদের নাম লিস্ট থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। কমিশনের এই বিষয়ে সাফ কথা, কোনও যোগ্য ব্যক্তি বৈধ বা বাস্তব কারণে প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারেন, তাহলে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া যাবে না।

    বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে

    পাশাপাশি বিএলও-কে সতর্ক করে কমিশন (Election Commission) জানিয়েছে, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব এমন কাউকে শুনানি (SIR) কেন্দ্রে দেখা গেলে শাস্তি পেতে হবে। একইভাবে শুনানিতে ছাড় দেওয়া হয়েছে অসুস্থ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষমদেরও। ইতিমধ্যে শুনানিতে অনেক অসুস্থ, প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধ ভোটারকে দেখা গিয়েছে। যদিও কমিশনের তরফে আগে থেকে কোনও এই বিষয়ে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়নি। ফলে শুনানির লাইনে অনেক অসুস্থ প্রতিবন্ধী এবং বৃদ্ধ ভোটারকে দাঁড়াতে দেখা গিয়েছে। আর তাতেই নানা মহলে এই নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছে। এরপর মুখ্যনির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি করে জানানো হয়েছে যে, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্ব ভোটারদের শুনানিতে ডাকা যাবে না, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি করতে হবে। কোনও ভোটারকে যদি শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তাঁদের সঙ্গে আলাদা করে যোগাযোগ করতে হবে আধিকারিকদের। শুনানিতে যেন না আসেন তার অনুরোধ করতে হবে। তাঁদের নথি যাচাই করতে হবে বাড়িতে গিয়ে। এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখাতে হবে বিএলও, ইআরও এবং এইআরও-দের। আর যদি শুনানিতে যেতে বাধ্য করা হয় তাহলে সংশ্লিষ্ট বিএলও এবং বিএলও সুপারভাইজারকে দায়ী করা হবে।

LinkedIn
Share