Author: suman-das

  • Ramakrishna 571: “সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার, আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া, সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে”

    Ramakrishna 571: “সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার, আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া, সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্যামপুকুরের বাটীতে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারকে)—তাহলেই বা। মা হৃদয়ে থাকুন!

    সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন।

    ঠাকুর সুরেন্দ্রকে দেখিতে দেখিতে অশ্রু বির্সজন করিতেছেন। মাস্টারের দিকে তাকাইয়া গদ্‌গদস্বরে বলিতেছেন (Kathamrita), কি ভক্তি! আহা, এর যা ভক্তি আছে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কাল ৭টা-৭৷৷টার সময় ভাবে দেখলাম, তোমাদের দালান। ঠাকুর প্রতিমা রহিয়াছেন, দেখলাম সব জ্যোতির্ময়। এখানে-ওখানে এক হয়ে আছে। যেন একটা আলোর স্রোত দু-জায়গার মাঝে বইছে!—এবাড়ি আর তোমাদের সেই বাড়ি!

    সুরেন্দ্র—আমি তখন ঠাকুর দালানে মা মা বলে ডাকছি, দাদারা ত্যাগ করে উপরে চলে গেছে। মনে উঠলো মা বললেন, ‘আমি আবার আসব’।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ও ভগবদ্‌গীতা

    বেলা এগারটা বাজিবে। ঠাকুর পথ্য পাইলেন। মণি হাতে আঁচাবার জল দিতেছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) মণির প্রতি— ছোলার ডাল খেয়ে রাখালের অসুখ হয়েছে। সাত্ত্বিক আহার করা ভাল। তুমি গীতা পড় না?

    মণি—আজ্ঞা হাঁ, যুক্তাহারের কথা আছে। সাত্ত্বিক আহার, রাজসিক আহার, তামসিক আহার। আবার সাত্ত্বিক দয়া, রাজসিক দয়া, তামসিক দয়া। সাত্ত্বিক অহং ইত্যাদি সব আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—গীতা তোমার আছে?

    মণি—আজ্ঞা, আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—ওতে সর্বশাস্ত্রের সার আছে।

    মণি—আজ্ঞা, ঈশ্বরকে নানারকমে দেখার কথা আছে; আপনি যেমন বলেন, নানা পথ দিয়ে তাঁর কাছে যাওয়া—জ্ঞান, ভক্তি, কর্ম, ধ্যান।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Kathamrita)—কর্মযোগ মানে কি জান? সকল কর্মের ফল ভগবানে সমর্পণ করা।

    মণি—আজ্ঞা, দেখছি, ওতে আছে। কর্ম আবার তিনরকমে করা যেতে পারে, আছে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ—কি কি রকম?

    মণি—প্রথম — জ্ঞানের জন্য। দ্বিতীয় — লোকশিক্ষার জন্য। তৃতীয় — স্বভাবে।

    ঠাকুর আচমনান্তে পান খাইতেছেন। মণিকে মুখ হইতে পান প্রসাদ দিলেন (Kathamrita)।

  • Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    Baloch liberation Army: বালুচ লিবারেশন আর্মির হাতে খতম ৮৪ জন পাকিস্তানি সেনা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৩১ জানুয়ারি জারি করা এক বিবৃতিতে বালুচ লিবারেশন আর্মি (Baloch liberation Army) (বিএলএ) দাবি করেছে, “অপারেশন হেরোফ ফেজ টু”-তে ৮০ জনেরও বেশি পাকিস্তানি (Pakistan) জঙ্গি, পুলিশ কর্মী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের সদস্য নিহত হয়েছে। আমাদের যোদ্ধারা বালুচিস্তানের একাধিক জেলায় আক্রমণ চালিয়েছে। আক্রমণগুলি দশ ঘণ্টা ধরে সংগঠিত হয়েছিল এবং প্রদেশের অসংখ্য শহরে নিরাপত্তা, সামরিক এবং প্রশাসনিক কাঠামোগুলিকে লক্ষ্য করে করা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ কয়েকটি ভিডিও-র সত্যতা নিশ্চিত করেছে বিএলও।

    কোথায় কোথায় হামলা (Baloch liberation Army)?

    বিএলএ (Baloch liberation Army) মুখপাত্র জিয়ান্দ বালোচের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, কোয়েটা (Pakistan), নোশকি, মাস্তুং, দালবান্দিন, কালাত, খারান, পাঞ্জগুর, গোয়াদার, পাসনি, তুরবাত, টুম্প, বুলেদা, মাঙ্গোচর, লাসবেলা, কেচ এবং আওয়ারান এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু জায়গায় হামলা চালানো হয়। আমাদের যোদ্ধারা একই সঙ্গে শত্রু সামরিক, প্রশাসনিক এবং নিরাপত্তা কাঠামো-এ হামলা চালিয়েছে, এবং বেশ কয়েকটি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করেছে।

    ৮৪ জন নিহত, ১৮ জন বন্দি!

    বিএলএর (Baloch liberation Army) তরফে জানানো হয়েছে, পাকিস্তানি (Pakistan) সামরিক বাহিনী, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার ৮৪ জন সদস্য নিহত হয়েছে, সেই সঙ্গে শতাধিক আহত হয়েছে। ইতিমধ্যে ১৮ জনকে বন্দি করা হয়েছে। তারা আরও দাবি করেছে যে অফিস, ব্যাঙ্ক এবং কারাগার সহ ৩০ টিরও বেশি সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ২০ টিরও বেশি যানবাহন আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে যে তীব্র সংঘর্ষের সময় বিএলএ যোদ্ধারা কিছু নির্দিষ্ট পোস্ট এবং কাঠামোর নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

    চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরে হামলা বালুচদের

    বালুচিস্তানে (Baloch liberation Army) কর্মরত বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে বালুচ লিবারেশন আর্মি অন্যতম। এই প্রদেশটি রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসন, সম্পদ নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়নের অভিযোগের কারণে কয়েক দশক ধরে বিদ্রোহ করেছে। এই গোষ্ঠীটি পূর্বে পাকিস্তানি (Pakistan) নিরাপত্তা বাহিনী, এবং বিদেশি স্বার্থ, বিশেষ করে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকল্পগুলির ওপর একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে।

    পাকিস্তান বহুদিন ধরে বালুচদের ওপর ধর্মীয়, সামাজিক, আর্থিক এবং রাজনৈতিক শাসন চালাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে পাক সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন বালুচরা। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পসকে প্রায়শই বেলুচ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত দমন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী করা হয়েছে, যার ফলে প্রায়শই জোরপূর্বক অপহরণের ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলি দাবি করেছে  কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান (Pakistan) সেনাবাহিনী বা তাদের মিলিশিয়ারা হাজার হাজার বালুচকে অবৈধভাবে হত্যা বা অপহরণ করেছে।

    যোগাযোগ ব্যবস্থায় ক্ষতি

    শুক্রবার শেষ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যে জানা গিয়েছে কিছু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবরণ প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিএলএ ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আরও আপডেট জারি করবে। বালুচিস্তানের (Baloch liberation Army) পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে, রিপোর্ট করা ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    Spiritual Winter: ভারতের আধ্যাত্মিক শীতকালের মহাসমাপ্তি ঘটে মাঘী পূর্ণিমায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মাঘ মেলার প্রধান আকর্ষণ মাঘপূর্ণিমার (Magha Purnima) মহাপুণ্যস্নান। আজ যখন ভারতের লক্ষ লক্ষ মানুষ মাঘী পূর্ণিমা—অর্থাৎ পবিত্র মাঘ মাসের সমাপ্তি সূচক পূর্ণিমা—উদযাপন করছেন, তখন দেশ এক শক্তিশালী আধ্যাত্মিক সঙ্গমের সাক্ষী থাকছে। সনাতন সংস্কৃতির প্রতি বিশ্বাস, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং আধ্যাত্মিকতা (Spiritual Winter) মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে।

    স্নানের বিজ্ঞান (Magha Purnima)

    মাঘী পূর্ণিমার স্নান নিছক একটি স্নানই নয়, এটি শরীরের একটি ‘সিস্টেম রিবুট’। আমাদের পূর্বপুরুষরা কেবল গঙ্গা বা যমুনার কাব্যিক গুণগান করেননি, তাঁরা ছিলেন আদি ‘হাইড্রো-জিওলজিস্ট’। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) একটি বিশাল জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিন্যাস ঘটে। এই সময়  সূর্য মকর রাশিতে এবং চাঁদ কর্কট রাশিতে অবস্থান করে। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই নির্দিষ্ট মহাকর্ষীয় এবং চন্দ্রের সংযোগ পৃথিবীর জলভাগকে একটি অনন্য তড়িৎ-চৌম্বকীয় (Electromagnetic) শক্তিতে পূর্ণ করে তোলে। এই স্নান বা ‘ডুব’ দেওয়া আসলে আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে পুনর্গঠন করে এবং শরীরের ‘বায়ো-রিদম’-কে পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলে। এটি আত্মার (Spiritual Winter) পক্ষে একটি হার্ডওয়্যার রিবুটের মতো।

    চৈতন্য ভূগোল

    সজীব মানচিত্র হিসেবে ভারত এই দিনটি প্রমাণ করে যে ভারত কেবল রাজনৈতিক সীমানা দিয়ে ঘেরা একটি ভূখণ্ড নয়—এটি একটি ‘চৈতন্য ভূগোল’। প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা থেকে শুরু করে দক্ষিণের কোনও ছোট মন্দিরের পুকুর—পুরো দেশ আজ জলের দিকে ধাবিত হয়। এই ‘আধ্যাত্মিক পরিযান’ (Spiritual Winter) আমাদের সভ্যতার অদৃশ্য আঠা। আমাদের কোনও কেন্দ্রীয় সদর দফতর বা নির্দেশিকার প্রয়োজন নেই, আমাদের নদীগুলিই আমাদের শিরা, আর পূর্ণিমার স্পন্দনই আমাদের বলে দেয় কখন এগিয়ে যেতে হবে।

    দানের প্রোটোকল

    ‘আমি ও আমার’ অহং ত্যাগ করতে এই দিনে মানুষ তিল, কম্বল এবং খাবার অকাতরে দান করেন। এটি কোনও পশ্চিমি ‘দয়া’ বা ‘চ্যারিটি’ নয়, এটি হল ভারতের ‘নিষ্কাম কর্ম’। আমরা দান করি কারণ আমরা জানি আমাদের ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স বা শরীর—সবই ‘বিরাট পুরুষ’-এর কাছ থেকে সাময়িক সময়ের জন্য পাওয়া। মাঘী পূর্ণিমায় (Magha Purnima) দান করা হল আসক্তি ত্যাগের একটি আচার। এটি মনের ভেতর থেকে ‘অহং’-এর সফটওয়্যার মুছে ফেলার মতো।

    পূর্ণত্ব

    ‘পূর্ণ’ ‘পূর্ণিমা’ (Magha Purnima) শব্দটি এসেছে ‘পূর্ণত্ব’ থেকে। বৈদিক বিশ্বদর্শন অনুযায়ী মানুষ ‘পাপী’ বা ‘ভাঙাচোরা’ কিছু নয়; আপনি ইতিমধ্যেই পূর্ণ। শান্তি মন্ত্রে বলা হয়েছে—“ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদম্ পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে… (সেই পরমাত্মাও পূর্ণ, এই জীবাত্মাও পূর্ণ; পূর্ণ থেকেই পূর্ণের উৎপত্তি)। পূর্ণিমার চাঁদ আসলে একটি বিশাল মহাজাগতিক আয়না, যা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার ভেতরের আলোও পূর্ণ। নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্য কোনও বাইরের ত্রাতা (Spiritual Winter) বা বিদেশী মতাদর্শের প্রয়োজন নেই।

    মূল কথা

    মাঘী পূর্ণিমা (Magha Purnima) আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এই মাটি এবং জলের অংশ। ২০২৬ সালের পূর্ণিমা ব্যস্ততাময় আধ্যাত্মিক প্রবাহে নিজেকে যুক্ত করার দিন। যদি আপনি কোনও পবিত্র নদীতে যেতে না পারেন, তবে বাড়িতেই বালতির জলে কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল মিশিয়ে এই মন্ত্রটি পাঠ করুন: “গঙ্গে চ যমুনে চৈব গোদাবরী সরস্বতী, নর্মদে সিন্ধু কাবেরী জলেস্মিন সন্নিধিং কুরু।” ব্যস্ততা চলুক, কিন্তু আপনার হৃদয় (Spiritual Winter) যেন পূর্ণ থাকে।

  • Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav: ত্রিবেণীতে মুসলিম আক্রমণের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল কুম্ভমেলা! ৭০০ বছর পর কীভাবে ফিরল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাঁশবেড়িয়া সংলগ্ন ত্রিবেণীতে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) রচিত হয়েছে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়। ইসলামি আগ্রাসনের কারণে ৭০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকা এক প্রাচীন কুম্ভমেলা পুনরায় প্রাণ ফিরে পেয়েছে। একে বলা হচ্ছে “বঙ্গ ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসব।” বঙ্গের প্রাচীন সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলতে সচেষ্ট হয়েছেন উদ্যোক্তারা।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav)

    হুগলি জেলার ত্রিবেণীকে (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহাসিকভাবে ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ (Daksina Prayag) বলা হয়। এলাহাবাদের (প্রয়াগরাজ) মতো এখানেও রয়েছে গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থল। তবে প্রয়াগরাজের ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘যুক্তবেণী’, আর বাংলার ত্রিবেণীকে বলা হয় ‘মুক্তবেণী’। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি অত্যন্ত পবিত্র তীর্থস্থান। সমুদ্র মন্থনের ফলে এখানেও অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল। এখানে স্নান করলে এই স্নান অমৃত স্নানের সমান। সূর্য দেবতার দক্ষিণায়ণের ফলে যেমন সব কিছুর পরিবর্তন হয় ঠিক তেমনি মানুষের মনেরও পরিবর্তন হয়।

    মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা হত

    বৈষ্ণব পণ্ডিত বৃন্দাবন দাস সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটকে সেই স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন যেখানে সপ্তর্ষিরা তপস্যা করেছিলেন এবং যেখানে স্নানের মাধ্যমে মানবজাতির পাপ মুছে ফেলা যায়। ত্রিবেণীর ভিক্ষু এবং ঋষিরা সপ্তর্ষি (মৈত্রেয়ী, অত্রি, পুলস্ত, পুলহ, ব্যাস, বশিষ্ঠ এবং বিশ্বামিত্র নামে ৭ জন ঋষি তপস্যা করেছিলেন। এখানেই প্রতিবছর সমবেত হন লাখ লাখ ভক্ত। সাধু-সন্তদের নির্দেশনা এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহায়তায়, মাঘী সংক্রান্তি ভৈমি-একাদশী উপলক্ষে কুম্ভমেলা এবং কুম্ভ স্নানের আয়োজন করা হয়।

    ত্রিবেণীর (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং কুম্ভ ঐতিহ্যের গর্ব পুনরুজ্জীবিত করতে গত বছর এখানে কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। ৭ শতাব্দী পর, তিন দিনের কুম্ভ মহাস্নান এবং মেলা এই অঞ্চলে এক নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে। ৩ দিন ধরে চলা গঙ্গা আরতি, রুদ্রাভিষেক এবং যজ্ঞে অংশগ্রহণ করেছিলেন লাখ লাখ ভক্ত। এবার ৭০৩ বছর পর ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল। বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া কুম্ভমেলাকে ২০২২ খ্রিস্টাব্দে আবারও পুনরুজ্জীবিত করা হল।

    কেন বন্ধ হয়েছিল এই মেলা?

    ঐতিহাসিক তথ্য অনুসারে, ১২৯২-১২৯৮ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলমান আক্রমণকারী জাফর খান গাজির নেতৃত্বে ত্রিবেণী (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালানো হয়। সেখানে থাকা পাল যুগের বিষ্ণু মন্দির ধ্বংস করা হয় এবং হিন্দুদের ধর্মীয় জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। এর ফলে প্রায় ৭০০ বছর আগে এই মেলা ও স্নানযাত্রা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও গবেষকদের মতে, ওই অঞ্চলে থাকা বহু মন্দির ও বিহার ধ্বংস করে তার উপরেই তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মসজিদের ইমারত গড়ে তোলা হয়েছিল। মুসলিম শাসকরা যেভাবে যেদিকে এগিয়ে গিয়েছে সেখানকার পুরাতন সংস্কৃতিকে বরাবর ধ্বংস করেছে। ১২৮৮ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৩১৩ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে, সপ্তগ্রাম এবং ত্রিবেণী (Daksina Prayag) দৃঢ়ভাবে ইসলামি আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণে আসে। ঐতিহাসিকদের একাংশের মতে, হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দির এবং মঠগুলি নিয়মতান্ত্রিকভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল এবং পূর্ববর্তী ধর্মীয় কাঠামোর ওপরেই মসজিদ এবং দরগা নির্মাণ করা হয়েছিল। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক রাখালদাস ব্যানার্জি এবং প্রণব রায় জাফর খান গাজি দরগার স্তম্ভ, ভাস্কর্যের স্থাপত্যের টুকরো খুঁজে পেয়েছেন যা হিন্দু, জৈন এবং বৌদ্ধ চিত্রের বিকৃত রূপ ধারণ করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই অঞ্চলে শেষ কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দে।

    পুনরুত্থানের প্রচেষ্টা

    দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পর, স্থানীয় কিছু সাধু, সন্ন্যাসী এবং হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগে ২০২২ সালে প্রথমবার এই কুম্ভমেলা (Daksina Prayag) পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আন্দোলনের নেপথ্যে ছিলেন কাঞ্চন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রবাসী গবেষক এবং স্থানীয় ‘ত্রিবেণী কুম্ভ পরিচালনা সমিতি’। তাঁদের গবেষণায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু রেফারেন্সও ব্যবহার করা হয়েছিল। যার মাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে ১৩১৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এখানে কুম্ভ মেলা হত। ফলে হুগলীর ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) করার ঘটনা কোনও বিছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি সনাতনী সাংস্কৃতিক প্রবাহ।

    প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা ও বর্তমান চিত্র

    ২০২৩ সালের ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat) অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই মেলার পুনরুজ্জীবনের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর যা হওয়া উচিত ছিল, তা হতে অনেক দেরি হয়ে গেল। ২০২৬ সালেও ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই উৎসব পালিত হতে চলেছে, যেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ লাখ ভক্তের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    অনুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য

    বর্তমানে এই মেলায় কেবল পবিত্র স্নানই হয় না, বরং বাংলার লোকসংস্কৃতি যেমন—কীর্তন, বাউল গান, গৌড়ীয় নৃত্য, শ্রীখোল এবং গঙ্গাপুজোর মতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এটি এখন বাংলার হিন্দুদের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের এক প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবছরেই ত্রিবেণী কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয়। দেশের নানা প্রান্ত থেকে সাধু, সন্ন্যাসী, নাগারা আসেন। একই ভাবে প্রচুর পর্যটক এবং ভক্ত সমাগমও হয়।

    প্রতি ৬ বছর অন্তর হরিদ্বার এবং প্রয়াগরাজে অর্ধকুম্ভ অনুষ্ঠিত হলেও, প্রতি ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভ অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতি, সূর্য এবং চন্দ্রের অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে, পূর্ণকুম্ভ চারটি নির্ধারিত স্থানের একটিতে অনুষ্ঠিত হয়-প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, উজ্জয়িনী এবং নাসিক। প্রতি ১৪৪ বছরে একবার মহাকুম্ভ মেলা (Daksina Prayag) অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে সর্বশেষটি অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে, প্রয়াগরাজে।

    কবে কোন উৎসব?

    বঙ্গো ত্রিবেণী কুম্ভ মহোৎসবের (Bongo Tribeni Kumbho Mohotsav) যাত্রাপথ নিম্নরূপ:

    ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    সূর্যোদয়, আদিত্য হৃদয় মন্ত্র ও শান্তি বচন

    নগর সংকীর্তন

    যোগ আসন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    রুদ্রাভিষেক ও রুদ্র মহাযজ্ঞ, শিব সহস্র নাম পাঠ (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    শিশুদের বসে আঁক প্রতিযোগিতা

    ধর্মসভা

    গঙ্গা আরতি


    ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    শান্তি কুম্ভ শোভাযাত্রা এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনী

    পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের ভাষণ

    গীতা পাঠ

    সাধু ভান্ডারা

    কালী কীর্তন

    গৌড়িয় নৃত্য

    গঙ্গা আরতি

    ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬

    অমৃতা স্নানযাত্রা

    ধর্মসভা

    সাধু ভোজন

    ধর্মীয় অনুষ্ঠান / কীর্তন (ক্লাব গ্রাউন্ড)

    গঙ্গা আরতি (সপ্তর্ষি ঘাট)

  • Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঘী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে ভারত ও বিশ্বের অগণিত মানুষ সন্ত গুরু রবিদাসের (Guru Ravidas) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) পালন করছেন। তিনি মধ্য যুগের ভারতে ভক্তি আন্দোলনের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, কবি এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। বঙ্গে যেমন শ্রী চৈতন্য ভক্তিবাদের জোয়ার এনেছিলেন, তেমনি উত্তর ভারতে ভক্তিবাদের প্রবক্তাদের মধ্যে সন্ত রবিদাস অন্যতম। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও আমাদের সাম্য, মানবতা এবং ভক্তি ও কর্মের মেলবন্ধনের পথ দেখায়।

    জন্ম ও পরিচয় (Guru Ravidas)

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রায়দাস বা রোহিদাস নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১৫শ শতাব্দীতে বারাণসীর নিকটবর্তী সীর গোবর্ধনপুর গ্রামে একটি দরিদ্র চর্মকার (মুচি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে প্রচলিত কঠোর জাতিভেদ প্রথা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন।

    কর্মই ধর্ম

    সন্ত রবিদাসের (Guru Ravidas) জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর পেশা ও সাধনার সমন্বয়। তিনি চটি বা জুতো তৈরির কাজকে কখনও হীন মনে করেননি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “মন চাঙ্গা তো কঠোতি মে গঙ্গা” অর্থাৎ, যদি মন পবিত্র থাকে, তবে কাঠের তৈরি ছোট পাত্রের জলেই গঙ্গার পবিত্রতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি শিখিয়েছেন, ভগবানকে পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই; সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজ করাই হল প্রকৃত উপাসনা। তাঁর লেখা দোহার মধ্যে হল-

    “রবিদাস জীবাত্মা প্রভু কি, হয় না দুজা কয়ে

    জিঁও জল মে জল মিল গয়া, তিওঁ হরি মে মিলনা হয়।”

    সামাজিক সংস্কার ও সাম্য

    গুরু রবিদাস (Guru Ravidas) জাতিভেদ প্রথা এবং অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘বেগম্পুরা’ (Begampura) নামক এক আদর্শ সমাজের স্বপ্ন দেখতেন—যেখানে কোনও দুঃখ, ভয় বা বৈষম্য থাকবে না। তিনি প্রচার করেছিলেন যে, মানুষ তাঁর জন্মের পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর কর্মের মাধ্যমে মহান হন। তাঁর এই দর্শন কেবল নিচুতলার মানুষের মধ্যে নয়, বরং তৎকালীন সমাজের উঁচুতলার রাজকীয় ব্যক্তিদেরও আকৃষ্ট করেছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণভক্ত মীরাবাঈ তাঁকে নিজের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জন্মদিনে (Birth Anniversary) রবিদাসের একটি দোহাকে স্মরণ করে বলা যায়-

    “তোহি মোহি, মোহি তোহি, অন্তর কায়সা, কনক কাটিক, জল লহর যাইসা।”

    আধ্যাত্মিক অবদান ও শিখ ধর্মে স্থান

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রচিত ভজন ও পদাবলী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গুরু রবিদাসের ৪১টি পবিত্র বাণী বা স্তোত্র শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহেবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রমাণ দেয়। হরি ভজনের ওপর রবিদাস লিখেছেন-

    “হরি সা হীরা ছদ ক্যা, করহি আঁ কি আস,

    তে নর যমাপুর জাহিঙ্গে, সাত ভাখাই রবিদাস।”

    বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

    বর্তমান সময়েও তাঁর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ঘৃণা ত্যাগ করে একে অপরকে ভালোবাসতে হয়। তাঁর জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বারাণসীতে, তাঁর জন্মস্থানে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) কেবল একজন ধার্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি জাতপাত বর্ণ বৈষম্য মানতেন না। সামাজিক ন্যায়, ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু প্রভেদগুলিকে ভুলে সমাজ জাগরণের কাজ করে গিয়েছেন। যিনি বিশ্বাস করতেন—সব মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই মানবসেবাই হল পরম ধর্ম।

  • US Embassy: বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোটের আগে হিংসার সতর্কতা: নিরাপত্তা অ্যালার্ট জারি করল মার্কিন দূতাবাস

    US Embassy: বাংলাদেশে নির্বাচন ও গণভোটের আগে হিংসার সতর্কতা: নিরাপত্তা অ্যালার্ট জারি করল মার্কিন দূতাবাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh Election) আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং প্রস্তাবিত গণভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সম্ভাব্য হিংসার আশঙ্কায় ঢাকায় (US Embassy) অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সে দেশে অবস্থানরত নিজ নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।

    অগ্নিগর্ভ হতে পারে বাংলাদেশ (Bangladesh Election)

    মার্কিন দূতাবাস (US Embassy) জানিয়েছে, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সংঘর্ষ ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের তারিখ যত ঘনিয়ে আসছে, জনসমাগমপূর্ণ স্থানে অস্থিরতা বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ফলে মারামারি, সংঘর্ষে উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নাগরিকদের জন্য পরামর্শ

    মার্কিন বিদেশমন্ত্রক (US Embassy) নাগরিকদের বড় ধরনের জমায়েত, বিক্ষোভ মিছিল এবং রাজনৈতিক সমাবেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, স্থানীয় খবরের ওপর নজর রাখা এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    গণভোট ও নির্বাচন

    বাংলাদেশে (Bangladesh Election) বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন এবং গণভোট নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। তাই আগে থেকেই গণভোট এবং নির্বাচন ঘিরে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    সতর্কতামূলক পদক্ষেপ

    আমেরিকা দূতাবাসে (US Embassy) কর্মীদের চলাচলের ওপর কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করার কথা ঘোষণা করেছে। সেই সঙ্গে পরিস্থিতির অবনতি হলে দূতাবাসের কার্যক্রম সীমিত করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বাংলাদেশে (Bangladesh Election) নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাতময় পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই উত্তেজনার মাঝেই নতুন করে গণভোটের বিষয়টি সামনে আসায় রাজপথে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের নজরে এসেছে এবার।

  • Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    Ramakrishna 570: “মা হৃদয়ে থাকুন! সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    প্রথম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ১৮ই অক্টোবর
    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শ্যামপুকুরের বাটীতে ভক্তসঙ্গে

    শ্রীশ্রীবিজয়া দশমী। ১৮ই অক্টোবর, ১৮৮৫ খ্রীষ্টাব্দ (৩রা কার্তিক, ১২৯২, রবিবার)। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) শ্যামপুকুরের বাটীতে আছেন। শরীর অসুস্থ — কলিকাতায় চিকিৎসা করিতে আসিয়াছেন। ভক্তেরা সর্বদাই থাকেন, ঠাকুরের সেবা করেন। ভক্তদের মধ্যে এখন কেহ সংসারত্যাগ করেন নাই—তাঁহারা নিজেদের বাটী (Kathamrita) হইতে যাতায়াত করেন।

    সুরেন্দ্রের ভক্তি—‘মা হৃদয়ে থাকুন’

    শীতকাল সকাল বেলা ৮টা। ঠাকুর অসুস্থ, বিছানায় বসিয়া আছেন। কিন্তু পঞ্চমবর্ষীয় বালকের মতো, মা বই কিছু জানেন না। সুরেন্দ্র আসিয়া বসিলেন। নবগোপাল, মাস্টার ও আরও কেহ কেহ উপস্থিত আছেন। সুরেন্দ্রের বাটিতে ৺দুর্গাপূজা হইয়াছিল। ঠাকুর যাইতে পারেন নাই, ভক্তদের প্রতিমা দর্শন করিতে পাঠাইয়াছিলেন (Kathamrita)। আজ বিজয়া, তাই সুরেন্দ্রের মন খারাপ হইয়াছে।

    সুরেন্দ্র—বাড়ি থেকে পালিয়ে এলাম।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) (মাস্টারকে)—তাহলেই বা। মা হৃদয়ে থাকুন!

    সুরেন্দ্র মা মা করিয়া পরমেশ্বরীর উদ্দেশে কত কথা কহিতে লাগিলেন।

    ঠাকুর সুরেন্দ্রকে দেখিতে দেখিতে অশ্রু বির্সজন করিতেছেন। মাস্টারের দিকে তাকাইয়া গদ্‌গদস্বরে বলিতেছেন (Kathamrita), কি ভক্তি! আহা, এর যা ভক্তি আছে!

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—কাল ৭টা-৭৷৷টার সময় ভাবে দেখলাম, তোমাদের দালান। ঠাকুর প্রতিমা রহিয়াছেন, দেখলাম সব জ্যোতির্ময়। এখানে-ওখানে এক হয়ে আছে। যেন একটা আলোর স্রোত দু-জায়গার মাঝে বইছে!—এবাড়ি আর তোমাদের সেই বাড়ি!

  • Smithsonians National Museum: ভারতের চুরি যাওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ফেরত দেবে স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম

    Smithsonians National Museum: ভারতের চুরি যাওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ফেরত দেবে স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট (Smithsonians National Museum) ভারত থেকে চুরি হওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি (Three Historic Bronze Sculptures) ফেরত দেবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি-তে অবস্থিত স্মিথসোনিয়ানের ‘ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ এশিয়ান আর্ট’ (NMAA) ঘোষণা করেছে, “তামিলনাড়ুর বিভিন্ন মন্দির থেকে অবৈধভাবে সরিয়ে নেওয়া তিনটি ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ মূর্তি ভারত সরকারকে ফেরত দেওয়া হবে। দীর্ঘ গবেষণার পর নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে, এই মূর্তিগুলো কয়েক দশক আগে বেআইনিভাবে পাচার করা হয়েছিল।”

    মূর্তি তিনটির বিবরণ (Smithsonians National Museum)

    চুরি যাওয়া তিনটি মূর্তির মধ্যে ছিল-

    ১. শিব নটরাজ

    চোল আমলের (প্রায় ৯৯০ খ্রিস্টাব্দ) এই মূর্তিটি তামিলনাড়ুর তাঞ্জাভুর জেলার শ্রী ভব ঔষধেশ্বর মন্দির থেকে চুরি হয়েছিল। ২০০২ সালে নিউ ইয়র্কের ডরিস উইনার গ্যালারি থেকে মিউজিয়ামটি (Smithsonians National Museum) এটি কেনে, যদিও পরে জানা যায় গ্যালারিটি ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করেছিল।

    ২. সোমাস্কন্দ

    ১২তম শতাব্দীর চোল আমলের এই ব্রোঞ্জ মূর্তিটি মান্নারগুড়ির আলাত্তুর গ্রামের বিশ্বনাথ মন্দির থেকে নেওয়া হয়েছিল।

    ৩. সন্ত সুন্দরার ও পারাভাই

    ১৬তম শতাব্দীর বিজয়নগর সাম্রাজ্যের এই মূর্তিটি কাল্লাকুরিচি জেলার বীরসোলাপুরম গ্রামের শিব মন্দির থেকে পাচার হয়েছিল।

    গবেষণা ও প্রমাণ

    ২০২৩ সালে ফ্রেঞ্চ ইনস্টিটিউট অফ পন্ডিচেরির আলোকচিত্র সংগ্রহশালা থেকে প্রাপ্ত ছবির সাথে মিলিয়ে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে, ১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯ সালের মধ্যে এই মূর্তিগুলো (Three Historic Bronze Sculptures) তামিলনাড়ুর মন্দিরগুলোতেই ছিল।

    আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (ASI) এই প্রমাণগুলো খতিয়ে দেখে নিশ্চিত করেছে যে, মূর্তিগুলো ভারতের প্রাচীন সম্পদ সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করে বিদেশে নেওয়া হয়েছিল।

    ভারত সরকার এবং মিউজিয়ামের মধ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা হয়েছে। সেই অনুযায়ী, ‘শিব নটরাজ’ মূর্তিটি দীর্ঘমেয়াদী ঋণের ভিত্তিতে আপাতত ওই মিউজিয়ামেই থাকবে। এর মাধ্যমে মিউজিয়ামটি দর্শকদের কাছে মূর্তির আদি ইতিহাস এবং এটি কীভাবে চুরি ও ফেরত আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো—তার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরবে।

    সাংস্কৃতিক-ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা দায়বদ্ধ

    মিউজিয়ামের (Smithsonians National Museum) পরিচালক চেজ এফ. রবিনসন বলেন, “সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমরা দায়বদ্ধ এবং আমাদের সংগ্রহের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দীর্ঘ গবেষণার পর এই মূর্তিগুলো ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত মিউজিয়াম পদ্ধতির প্রতি আমাদের নিষ্ঠারই প্রমাণ।”

    এই পদক্ষেপটি ভারতের চুরি হওয়া সাংস্কৃতিক সম্পদ (Three Historic Bronze Sculptures) পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে চোল আমলের ব্রোঞ্জ মূর্তিগুলো দক্ষিণ ভারতের ধাতুশিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন এবং এগুলো মন্দিরের ধর্মীয় শোভাযাত্রায় ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে মূর্তিগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের হাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

  • UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    UGC: ইউজিসি-র ‘ইকুইটি’ নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, “ক্যাম্পাসে ভারতের ঐক্য প্রতিফলিত হওয়া উচিত”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) ২০২৬ সালের নতুন ‘ইকুইটি’ (সাম্য) সংক্রান্ত সার্কুলেশনের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন পরিবেশ থাকা উচিত, যা ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে তুলে ধরে। তাই বৈষম্য নয় সাম্যের বিষয়ে কোনও আপোষ থাকা উচিত নয়।

    পুরানো নিয়ম বহাল (UGC)

    ইউজিসির (UGC) নতুন ২০২৬ সালের নিয়মাবলি স্থগিত করে আদালত জানিয়েছে, আপাতত ২০১২ সালের ইউজিসির নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হবে। যাতে কোনো অভিযোগকারী প্রতিকারহীন না থাকেন, তা নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা।

    বিভাজনমূলক আশঙ্কার ওপর গুরুত্ব

    প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছেন, নতুন সার্কুলেশনের ভাষা অস্পষ্ট এবং অপব্যবহার হতে পারে। আদালত সতর্ক করে বলেছে, “এই নিয়মগুলো সমাজকে বিভক্ত করতে পারে এবং দেশের ওপর এর বিপজ্জনক প্রভাব পড়তে পারে।”

    জাতপাতহীন সমাজের লক্ষ্য

    আদালত (Suprim Court) প্রশ্ন তুলেছে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর যেখানে আমরা একটি ‘জাতপাতহীন সমাজ’ (casteless society) গড়ার পথে এগিয়েছি, সেখানে এই ধরনের নিয়ম আমাদের পেছনের দিকে (regressive) নিয়ে যাচ্ছে কি না।” বিচারপতির কথায়, “আমেরিকার মতো বর্ণবিদ্বেষী আলাদা আলাদা স্কুল বা হোস্টেলের ব্যবস্থা ভারতে কাম্য নয়। হোস্টেলে সব সম্প্রদায়ের ছাত্ররা (UGC) একসাথে থাকে এবং সেখান থেকেই জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়।”

    ইউজিসির অস্পষ্ট সংজ্ঞা

    নতুন সার্কুলেশন ৩(সি) ধারা নিয়ে আদালত আপত্তি তুলেছে, যেখানে ‘জাতিগত বৈষম্য’-এর সংজ্ঞাটি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কিছু শ্রেণি যেমন এসসি, এসটি, ওবিসি (SC, ST, OBC) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই সংজ্ঞাটি বৈষম্যমূলক, কারণ এতে সাধারণ শ্রেণির (General Category) ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সুরক্ষার কোনো উল্লেখ নেই।

    বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন

    সুপ্রিম কোর্ট (Suprim Court) সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে, প্রবীণ আইনজ্ঞ এবং পণ্ডিতদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হোক। এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর এই নিয়মের প্রভাব কী হতে পারে।

    র‍্যাগিং-এর ইস্যু

    আদালত লক্ষ্য করেছে, যেখানে র‍্যাগিং ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বড় সমস্যা, সেখানে এই নতুন সার্কুলেশনে র‍্যাগিং-এর বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এছাড়া উত্তর-দক্ষিণ বা উত্তর-পূর্ব ভারতের ছাত্রছাত্রীদের (UGC) সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নিয়েও যে বৈষম্য হয়, তার সমাধানের অভাব এখানে রয়েছে।

    প্রেক্ষাপট

    গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নতুন নিয়মগুলো ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিটি কলেজে ‘ইকুইটি কমিটি’ (UGC) এবং ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন খোলার কথা বলা হয়েছিল। এর পরেই সাধারণ শ্রেণির পড়ুয়াদের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের সৃষ্টি হয় এবং সুপ্রিম কোর্টে (Suprim Court) একাধিক পিটিশন জমা পড়ে। পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে। ততদিন পর্যন্ত এই বিতর্কিত নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে।

  • Bangladesh: বাংলাদেশে এক বছরে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলা, ৬১ জন অমুসলিম নিহত! মানবাধিকার চরম বিপন্ন

    Bangladesh: বাংলাদেশে এক বছরে ৫২২টি সাম্প্রদায়িক হামলা, ৬১ জন অমুসলিম নিহত! মানবাধিকার চরম বিপন্ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ (Bangladesh) হিন্দু, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ২৯ জানুয়ারী, বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে, গত এক বছরে বাংলাদেশে ৫২২টিরও বেশি (Communal attacks) সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। সেই সঙ্গে ৬১টি খুনের ঘটনায় দেশের অভ্যন্তরে অমুসলিম সমাজের মধ্যে ব্যাপক ভয়ের বাতাবরণের ঘটনা ঘটেছে।

    ২৮টি ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং নারী নির্যাতন (Bangladesh)

    ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত (Bangladesh) একটি প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৫২২টি ঘটনা (Communal attacks) ঘটেছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬১টি খুন, ২৮টি ধর্ষণ, গণধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের ঘটনা। ৯৫টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্থানে হামলা, দেব-দেবীর মূর্তি অবমাননা এবং ভাঙচুর। ২১টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে জমি দখল। ১০২টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলা। আর ৪৭টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর হুমকি এবং নির্যাতন।

    ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত

    বাংলাদেশ (Bangladesh) মানবাধিকার কমিশন ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে সংখ্যালঘুদের হত্যার ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এর মধ্যে গণপিটুনির ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে স্পষ্ট মত প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বিক্ষোভ চলাকালীন ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছিল। পরে এই সংখ্যা বেড়ে ১,৫০০-তে পৌঁছে গিয়েছিল।

    হিন্দু মেকানিককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা 

    পরিষদের পক্ষে প্রতিবেদনে ২৬ জানুয়ারী, ২০২৬ সালের ঘটনাটি আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। নরসিংদী জেলায় চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের একটি দল কমপক্ষে ১২ জন বাংলাদেশি সাংবাদিককে আক্রমণ করে আহত করেছে। সাংবাদিকরা বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগদানের পর বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাও ঘটনাটির সত্যতা প্রকাশ্যে এনেছে। প্রতিবেদনে নরসিংদীতে একজন হিন্দু মেকানিককে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার মতো ঘটনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    সংখ্যালঘু সমিতির দাবি

    সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংখ্যালঘু সমিতি বাংলাদেশের (Bangladesh) ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু দাবিও জানিয়েছে। এরকম একটি দাবি হলো নির্বাচন কমিশনকে এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সংখ্যালঘু ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে তাদের ভোট দিতে পারেন এবং সমতার অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

    নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম বা সম্প্রদায়ের কোনও উল্লেখ নিষিদ্ধ করা উচিত। যেসব নেতা, প্রার্থী এবং দল তা করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো মূল্যে সংখ্যালঘুদের স্বার্থকে সুরক্ষিত করতে হব।

LinkedIn
Share