Author: Susanta Das

  • INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    INS Nipun: সাবমেরিন বিপদে পড়লে এবার দ্রুত উদ্ধার! ভারতীয় নৌসেনার হাতে এল দেশীয় শক্তির ‘আইএনএস নিপুণ’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং গভীর সমুদ্রে সাবমেরিন উদ্ধার অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করল ভারতীয় নৌবাহিনী। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল (ডিএসভি) আইএনএস নিপুণ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়েছে। মুম্বইয়ের নেভাল ডকইয়ার্ডে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে জাহাজটিকে নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ডুবুরি অভিযানেই নয়, গভীর সমুদ্রে বিপদে পড়া সাবমেরিনের দ্রুত উদ্ধার, জটিল আন্ডারওয়াটার অপারেশন এবং দুর্যোগ মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে আইএনএস নিপুণ। দেশের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দেশীয় জাহাজ নির্মাণের সক্ষমতারও বড় উদাহরণ এই যুদ্ধজাহাজ।

    কী এই আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণ হল ভারতীয় নৌবাহিনীর নিস্তার শ্রেণির ডাইভিং সাপোর্ট ভেসেল। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা হিন্দুস্তান শিপইয়ার্ড লিমিটেড (এইচএসএল), বিশাখাপত্তনমে জাহাজটি নির্মাণ করেছে। ‘নিপুণ’ একটি সংস্কৃত শব্দ। যার অর্থ হল কোনও কঠিন কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সক্ষম। জাহাজটির অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অভিযানের ক্ষমতার সঙ্গে নামটিরও রয়েছে যথেষ্ট সামঞ্জস্য। জাহাজটি ২০২৬ সালের ৩০ জুলাই ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা এবং নৌবাহিনীতে পূর্ণাঙ্গ অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।

    ৩০০ মিটার গভীরেও চলবে ডাইভিং অপারেশন

    আইএনএস নিপুণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে এর গভীর সমুদ্রে ডাইভিং এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন ক্ষমতা। জাহাজটি সমুদ্রের প্রায় ৩০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত ডাইভিং অপারেশনকে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ উদ্ধারকারী জাহাজের তুলনায় অনেক বেশি গভীরতায় গিয়ে জটিল ডুবুরি অভিযান পরিচালনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দীর্ঘ সময় ধরে সহায়তা করার ক্ষমতা রয়েছে নিপুণের। জাহাজে রয়েছে আধুনিক ডাইভিং সিস্টেম, পানির তলায় হস্তক্ষেপ বা মেরামতির জন্য বিশেষ সরঞ্জাম এবং ডুবুরিদের চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের তলায় কোনও গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটির পরিদর্শন বা প্রয়োজনীয় কাজেও জাহাজটি ব্যবহার করা যাবে।

    সাবমেরিন বিপর্যয়ে ‘নিপুণ’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে সাবমেরিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ। কিন্তু গভীর সমুদ্রে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার মুখে পড়লে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো অত্যন্ত কঠিন। এই জায়গাতেই আইএনএস নিপুণের গুরুত্ব অনেক বেশি। জাহাজটি সাবমেরিন রেসকিউ অপারেশনে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার জন্য তৈরি। প্রয়োজন অনুযায়ী গভীর সমুদ্রে গিয়ে উদ্ধারকারী দল, ডুবুরি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জামকে অপারেশন এলাকায় নিয়ে যেতে পারবে এটি। একই সঙ্গে জাহাজটির উন্নত স্টেশন কিপিং ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নির্দিষ্ট জায়গায় নিজের অবস্থান ধরে রেখে আন্ডারওয়াটার অপারেশনে সহায়তা করতে পারবে। এর ফলে কোনও সাবমেরিন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে উদ্ধারকারী দলের কাজ আরও দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

    শুধু সামরিক অভিযান নয়, দুর্যোগেও কাজে আসবে

    আইএনএস নিপুণের ব্যবহার কেবল সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সমুদ্র দুর্ঘটনা কিংবা মানবিক বিপর্যয়ের সময়ও জাহাজটিকে কাজে লাগানো যাবে। প্রয়োজনে এটি ডিজাস্টার রিলিফ এবং হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যান্ড ডিজাস্টার রিলিফ (এইচএডিআর) অভিযানে অংশ নিতে পারবে।

    অত্যাধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং নির্দিষ্ট অবস্থানে জাহাজকে ধরে রাখার প্রযুক্তি থাকায় প্রতিকূল সমুদ্র পরিস্থিতিতেও বিভিন্ন ধরনের জটিল উদ্ধার অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, ডাইভিং, আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন এবং মেডিক্যাল সাপোর্ট—এই সমস্ত ক্ষমতা একত্রিত করে আইএনএস নিপুণকে একটি ইন্টিগ্রেটেড আন্ডারওয়াটার অপারেশন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

    ৭৫ শতাংশ দেশীয় প্রযুক্তি

    আইএনএস নিপুণের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল এর দেশীয় নির্মাণ। জাহাজটির প্রায় ৭৫ শতাংশ উপাদান সম্পূর্ণ দেশীয়। ভারতীয় শিল্প সংস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পগুলির (এমএসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এর নির্মাণে। এর ফলে গভীর সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার মিশনের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রযুক্তি ও সরঞ্জামের উপর নির্ভরতা কমানোর পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্য পূরণে এই ধরনের দেশীয়ভাবে নির্মিত প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কারণ যুদ্ধ পরিস্থিতি বা আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও বাধা তৈরি হলেও দেশীয়ভাবে তৈরি জাহাজ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়।

    পূর্ব ও পশ্চিম—দুই উপকূলেই বাড়ল উদ্ধার ক্ষমতা

    আইএনএস নিপুণকে বোঝার ক্ষেত্রে ভারতের প্রায় ৭,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই শ্রেণির প্রথম জাহাজ আইএনএস নিস্তার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কমিশনড হয়। সেটি ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনমে মোতায়েন রয়েছে। এবার পশ্চিম উপকূলে মুম্বইয়ে আইএনএস নিপুণের মোতায়েনের ফলে ভারতের দুই প্রান্তেই ডাইভিং সাপোর্ট এবং সাবমেরিন উদ্ধার সক্ষমতা তৈরি হল। এর কৌশলগত গুরুত্ব যথেষ্ট। পূর্ব উপকূলের পাশাপাশি আরব সাগর ও পশ্চিম উপকূলেও দ্রুত কোনও গভীর সমুদ্র উদ্ধার অভিযানে সাড়া দেওয়া সম্ভব হবে। ফলে ভারতের বিস্তীর্ণ সামুদ্রিক এলাকায় দুই দিক থেকে দ্রুত রেসপন্স দেওয়ার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হল।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ আইএনএস নিপুণ?

    আইএনএস নিপুণকে শুধু আর একটি নৌবাহিনীর জাহাজ হিসেবে দেখলে এর কৌশলগত গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর মাধ্যমে ভারত একই সঙ্গে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সক্ষমতা বাড়াল—গভীর সমুদ্রে ডাইভিং, সাবমেরিন উদ্ধার এবং আন্ডারওয়াটার ইন্টারভেনশন। বিশেষ করে মুম্বইয়ে মোতায়েনের ফলে পশ্চিম উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি ও আরব সাগর এলাকায় এই সক্ষমতা আরও সহজলভ্য হবে। পূর্বে আইএনএস নিস্তার এবং পশ্চিমে আইএনএস নিপুণ—দুই জাহাজকে কাজে লাগিয়ে ভারতীয় নৌবাহিনী সাবমেরিন উদ্ধার ও গভীর সমুদ্র অভিযানে একটি বিস্তৃত সাপোর্ট নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারবে। সব মিলিয়ে, আত্মনির্ভর ভারতের প্রতিরক্ষা উৎপাদন, গভীর সমুদ্র অভিযান এবং সাবমেরিন নিরাপত্তা—এই তিন ক্ষেত্রেই আইএনএস নিপুণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

  • Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    Nepal Tibet Flood: সুড়ঙ্গে আটকে ৩৫০? হিমবাহ ধসের পর নেপালে ভয়াবহ উদ্ধার অভিযান, মৃত্যু ৯০০ পার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিমালয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপাল ও তিব্বতে উদ্ধারকাজে নেমেছে হাজার হাজার উদ্ধারকর্মী। বুধবার হিমবাহ ধসের জেরে পাহাড়ি উপত্যকা ও নদীপথে নেমে আসে বরফ, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের ভয়ঙ্কর স্রোত। মুহূর্তের মধ্যে ভেসে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার পর্যন্ত দুই দেশের প্রশাসনের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ৯০০ পার করেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

    আবহাওয়ার অবনতি, পাহাড়ি এলাকার দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উদ্ধারকাজ বারবার বাধার মুখে পড়ছে। নতুন করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় নেপালের ত্রিশূলী নদীর জলস্তরও বেড়েছে। ফলে উদ্ধারকারীদের একাংশকে নিরাপদ উঁচু এলাকায় সরিয়ে নিতে হয়েছে। একই সঙ্গে আরও বন্যার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

    নেপালেই মৃত ৭৮১, নিখোঁজ আড়াই হাজারের বেশি

    নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশে ৭৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ২,৫০২ জন। অন্যদিকে তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫৪৬ জন এখনও নিখোঁজ। বিপর্যয়ের ব্যাপকতা এতটাই বেশি যে চিন জানিয়েছে, তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৩টি দেশের ২৬১ জন বিদেশি নাগরিকেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। রেড ক্রসের হিসাব অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ে মোট ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারেন। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা যতটা সামনে এসেছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তার থেকেও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, থমকে যাচ্ছে উদ্ধারকাজ

    বিপর্যয়ের পর নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ধসের কারণে একটি জলাধারের মতো জল জমে যায়। সেই জলাধার উপচে পড়তে শুরু করলে নেপালের লেহেন্দে খোলা এবং ত্রিশূলী নদীতে নতুন করে জল বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। শুক্রবার থেকেই খারাপ আবহাওয়া এবং জলাধারটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় একাধিকবার উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে। যদিও চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে বিপজ্জনক জলাধারটির জল অনেকটাই নেমে গিয়েছিল। কিন্তু বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। ড্রোনের মাধ্যমে শনিবার রাতে আরও একটি বড় ধসের সন্ধান মেলে। জলাধারের প্রায় ২.৮ কিলোমিটার নীচের দিকে ধস নেমে নতুন করে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ এবং জলাশয় তৈরি হয়েছে। ফলে ফের জলস্তর বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আপার ত্রিশূলি প্রকল্পে সুড়ঙ্গে আটকে থাকতে পারেন ৩৫০ জন

    নেপালে উদ্ধার অভিযানের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি। মোট পাঁচটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ভয়াবহভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে আপার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার প্রশাসনের কাছে খবর আসে, প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রায় ৩৫০ জন আটকে থাকতে পারেন। রবিবার নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গম এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি আকাশপথে পৌঁছে দিয়েছে।

    উদ্ধারকারীরা একটি সুড়ঙ্গের প্রবেশমুখ পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন এবং সেখানে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। সুড়ঙ্গের ভিতরে প্রবেশের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ এবং ক্যামেরা নিয়ে বিশেষ দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ এত বেশি যে দ্রুত ভিতরে ঢোকা সম্ভব হচ্ছে না। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। ধ্বংসাবশেষ এত বেশি যে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে রাস্তা তৈরি করাও সম্ভব হচ্ছে না।

    ১০ হাজার নেপালি সেনা, পাশে ভারত ও চিন

    বিপর্যয়ের পর উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রায় ১০ হাজার নেপালি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করছে চিন ও ভারতের বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল। চরম দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভারী যন্ত্রপাতি পৌঁছে দেওয়া, ধ্বংসাবশেষ সরানো এবং নিখোঁজদের সন্ধান করা—সবকিছুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খারাপ আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

    নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা, মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য হিমঘর এবং পচন ধরা দেহের ফরেন্সিক সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে নেপাল।

    শনাক্ত করা যাচ্ছে না দেহ, শুরু গণকবর

    বিপর্যয়ের কয়েক দিন পর নেপালে উদ্ধার হওয়া বহু মৃতদেহ দ্রুত পচতে শুরু করেছে। ফলে নিখোঁজ পরিজনদের খোঁজে হাসপাতাল, মর্গ ও ত্রাণকেন্দ্রে ঘুরে বেড়ানো পরিবারের সদস্যদের জন্য পরিস্থিতি আরও মর্মান্তিক হয়ে উঠেছে। চিটওয়ান জেলার দেবঘাট এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে শত শত মৃতদেহের জন্য কবর খোঁড়া হয়েছে। বন্যায় ভেসে যাওয়া রাসুওয়া অঞ্চলের বহু দেহ নদীর স্রোতে বহু দূরে চলে এসেছিল।

    চিটওয়ানের জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি এড়াতে পরিচয়হীন মৃতদেহগুলির গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবার ৯৬টি অজ্ঞাতপরিচয় শবদেহ কবর দেওয়া হয়েছে। রবিবার আরও ১০০টির বেশি দেহ সমাধিস্থ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে পরিবারের সদস্যরা যাতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে মৃতদেহ সনাক্ত করতে পারেন, সে জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রতিটি কবরের অবস্থান নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

    নেপালের পুলিশ আধিকারিক অনিল থাপা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহের অর্ধেকেরও বেশি এমন অবস্থায় রয়েছে যে তাঁদের সনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অনেক দেহে মুখের কোনও চিহ্ন নেই। কোথাও শুধু হাত বা পা পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দেহের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার হয়েছে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের যোগসূত্র খুঁজছে চিন

    এই বিপর্যয়ের সঙ্গে গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বিশ্ব উষ্ণায়নের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের সরাসরি যোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে চিন। চিনের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহের অস্থিতিশীলতা থেকে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তিব্বত মালভূমিতে বরফনির্ভর প্রাকৃতিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা নতুন ও ক্রমবর্ধমান বৈশিষ্ট্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

    চিনের বিজ্ঞানীদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেপালের দিক থেকে নেমে আসা কাদা, বরফ, পাথর ও জলের প্রবল স্রোত মাত্র ৬ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে গিরং সীমান্ত পারাপার এলাকায় পৌঁছে যায়। নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া ছবিতে দেখা যায়, প্রবল স্রোত একের পর এক বাড়ি ও স্থাপনা গ্রাস করছে। প্রাণ বাঁচাতে মানুষকে ছুটে পালাতেও দেখা যায়।

    ‘সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত বিপর্যয়’

    চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই শনিবার নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই বিপর্যয়কে সাম্প্রতিক বছরগুলির “সবচেয়ে ভয়াবহ আন্তঃসীমান্ত দুর্যোগ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওয়াং ই জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজের মাত্রা নজিরবিহীন এবং পরিস্থিতির জটিলতাও অত্যন্ত বেশি। সীমান্তের দুই পাশে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, ধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা, বাড়তে থাকা জলস্তর এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারীদের একসঙ্গে একাধিক ঝুঁকির মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

    তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি চিনা উদ্ধারকর্মী মোতায়েন

    চিন জানিয়েছে, তিব্বতে ২,১০০-এর বেশি উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে অন্তত ২২ কোটি ইউয়ান বরাদ্দ করা হয়েছে। চিনের উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় বিমানপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। সেনাবাহিনী নিখোঁজদের সন্ধানে জীবন শনাক্তকরণ যন্ত্র ব্যবহার করছে। তবে উদ্ধারকাজের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুর্গম হিমালয়, নতুন ধসের আশঙ্কা এবং আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন।

    সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ

    এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হল নিখোঁজদের সন্ধান, বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও সুড়ঙ্গগুলিতে আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার করা। একই সঙ্গে নদীর জলস্তর এবং নতুন করে তৈরি হওয়া প্রাকৃতিক বাঁধগুলির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের কাছে এই বিপর্যয় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা—হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল বরফ ও জলবায়ু ব্যবস্থার সঙ্গে মানুষের বসতি, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং সীমান্তবর্তী পরিকাঠামোর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।

    একদিকে চলছে নিখোঁজদের উদ্ধারের মরিয়া চেষ্টা, অন্যদিকে পচনশীল মৃতদেহের গণসমাধি এবং নতুন বন্যার আশঙ্কা। ফলে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে এই মুহূর্তে উদ্ধার অভিযান শুধু একটি মানবিক সংকট মোকাবিলার লড়াই নয়, বরং দ্রুত পরিবর্তনশীল হিমালয় পরিবেশের বিরুদ্ধে এক কঠিন পরীক্ষাতেও পরিণত হয়েছে।

  • Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    Delhi Couple Arrested: টাকার বিনিময়ে ভারতীয় সিম পাচার পাকিস্তানে! আইএসআই-চক্রে গ্রেফতার দিল্লির দম্পতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজধানীতে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-সমর্থিত একটি সন্দেহভাজন গুপ্তচরচক্রের হদিশ পাওয়ার দাবি করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। এই ঘটনায় দিল্লির বাসিন্দা এক দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভারতের স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ ও পাচারের কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার হওয়া দু’জন হল ২৫ বছরের সাহিল এবং তার ২১ বছরের স্ত্রী সমীরা। পুলিশের দাবি, পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তারা একাধিক ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। তদন্তে দিল্লি থেকে করাচি ও ইসলামাবাদ পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের যোগাযোগের সূত্র মিলেছে বলেও জানিয়েছে স্পেশাল সেল।

    পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছিল ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড

    পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সাহিল ও সমীরা মোট ৮টি ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ করে দুবাইয়ের মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠিয়েছিল। এর বিনিময়ে পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছ থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল বলে অভিযোগ।  তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানে পৌঁছনোর পর ওই সিম কার্ড ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। সেই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভরা ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করত এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাত। পুলিশের আরও অভিযোগ, ওই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টগুলির কয়েকটি ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও প্রবেশের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন গ্রুপে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা।

    সোশ্যাল মিডিয়া থেকে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ— কীভাবে চলত নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের তদন্তে আরও দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলাররা ভারতের একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। এর মধ্যে কথিত ‘ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার’ এবং ‘স্লিপার সেল’-এর সদস্যরাও থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ। সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড কমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই যোগাযোগ চালানো হত বলে জানিয়েছে পুলিশ। অর্থাৎ, শুধু সিম কার্ড পাচার নয়, ভারতের মাটিতে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের যোগাযোগের জন্য একটি বিস্তৃত ডিজিটাল নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও সামনে এসেছে।

    সামরিক এলাকায় রেকি করার অভিযোগ

    এই মামলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলির একটি হল ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে সামরিক এলাকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সাহিলকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গিয়ে রেকি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি গুপ্তচরবৃত্তি এবং মাঠপর্যায়ের অপারেশনের জন্য নতুন লোক নিয়োগের দায়িত্বও তার উপর ছিল বলে অভিযোগ।

    তদন্তকারীদের আরও দাবি, সামরিক আদালত বা ট্রাইব্যুনালে চলা কোর্ট মার্শাল সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া কিছু ভারতীয় সেনাকর্মীর সম্পর্কেও সাহিল তথ্য সরবরাহ করেছিল। ফলে তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই নেটওয়ার্কের লক্ষ্য শুধুমাত্র সাধারণ তথ্য সংগ্রহ ছিল না। ভারতের প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো, সেনা সদস্য এবং সামরিক কার্যকলাপ সম্পর্কে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছিল বলেই অভিযোগ।

    ইনস্টাগ্রাম থেকেই শুরু যোগাযোগ

    পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিলের সঙ্গে পাকিস্তানি এজেন্টের প্রথম যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে ২০২৪ সালে। এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে সমীরার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সাহিল ২০২২ সালে সমীরার সঙ্গে আলাপ হয় এবং পরবর্তীতে তারা বিয়ে করে। এরপর ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি এক এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি হয়। ওই এজেন্টই পরে দম্পতিকে পাকিস্তানের এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। অভিযোগ, ওই গোয়েন্দা অপারেটিভ আর্থিক সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দম্পতিকে গুপ্তচরচক্রে কাজ করতে রাজি করায়।  এরপর তাদের দায়িত্বের মধ্যে ছিল দিল্লিতে নেটওয়ার্ককে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া, ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ ও পাঠানো এবং নতুন ব্যক্তিদের গুপ্তচরবৃত্তি ও ফিল্ড অপারেশনে যুক্ত করার চেষ্টা।

    মোবাইল ফোন থেকেই মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র

    চাঁদ বিবি ক্যাম্প এলাকা থেকে সাহিলকে প্রথমে গ্রেফতার করে স্পেশাল সেল। তিনি মহম্মদ আশফাকের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।  সাহিলের মোবাইল ফোনের ফরেন্সিক পরীক্ষার সময় পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে তার কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের হাতে আসে বলে দাবি। সেই চ্যাটের সূত্র ধরেই তদন্তকারীরা সমীরার ভূমিকার বিষয়ে জানতে পারেন।

    এরপর সমীরাকেও গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইল ফোনে সাহিল এবং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও কথোপকথনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতির কাছ থেকে মোট দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই ডিভাইসগুলিতে পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের সঙ্গে কথাবার্তা এবং ভারতে থাকা নেটওয়ার্কের বিভিন্ন যোগাযোগ ও কার্যকলাপের তথ্য রয়েছে।

    কারা এই সাহিল ও সমীরা?

    পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সালে জন্ম সাহিল দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (IGNOU) থেকে কলায় স্নাতক পাশ করেছে। সে এক আইনজীবীর সঙ্গে কাজ করত এবং ভবিষ্যতে এলএলবি পড়ার পরিকল্পনা ছিল। ২০২৫ সালের জুনে সে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে সে বেকার ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ২০০৫ সালে জন্ম সমীরা কেশবপুরমের কন্যা বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে। পরে করেসপন্ডেন্স-এর মাধ্যমে বিএ ডিগ্রি অর্জন করে। গ্রেফতারের আগে নয়ডার একটি কল সেন্টারে কাজ করছিল।

    কীভাবে সামনে এল পুরো নেটওয়ার্ক?

    স্পেশাল সেলের কাছে প্রথমে খবর আসে, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের কথিত ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কার  এবং স্লিপার সেলকে দিল্লি থেকে লজিস্টিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসে এমন কিছু স্থানীয় ব্যক্তির নাম, যারা ভারতীয় সিম কার্ড সংগ্রহ, পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ভারতের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ। সেই তদন্তেরই একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সাহিলের নাম সামনে আসে। তার মোবাইলের ফরেন্সিক পরীক্ষার পর পাকিস্তানি এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে আসে। এরপর সেই সূত্র ধরে সমীরার কথিত ভূমিকা এবং বৃহত্তর নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় বলে দাবি করেছে স্পেশাল সেল।

    তদন্তে এখন নজর কোথায়?

    দিল্লি পুলিশের দাবি অনুযায়ী, সাহিল ও সমীরাকে গ্রেফতার করার ফলে পাকিস্তান-ভিত্তিক গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক এবং ভারতে থাকা তাদের কথিত যোগাযোগকারীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পাওয়া গিয়েছে।বিশেষ করে ভারতীয় সিম কার্ড কীভাবে পাকিস্তানে পৌঁছত, সেই সিম ব্যবহার করে কারা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালাত, ভারতীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা হয়েছিল এবং সামরিক এলাকার কোন কোন তথ্য পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে পৌঁছেছিল— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।

    তদন্তকারীদের দাবি সত্যি হলে, ঘটনাটি শুধুমাত্র দু’জনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ নয়; বরং পাকিস্তান-ভিত্তিক হ্যান্ডলারদের সঙ্গে ভারতের মাটিতে থাকা সম্ভাব্য সহযোগীদের মধ্যে কীভাবে ডিজিটাল যোগাযোগ, সিম কার্ড এবং স্থানীয় লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছিল, তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ছবি সামনে আনতে পারে এই মামলা। তবে এই সমস্ত অভিযোগই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে; আদালতে অভিযোগগুলি প্রমাণিত হওয়া এখনও বাকি।

  • Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    Presidency Jail: প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার আইফোন, স্মার্টফোন থেকে ওটিজি, রাউটার! কীভাবে ঢুকল? শুরু তদন্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার অতি সুরক্ষিত প্রেসিডেন্সি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কুখ্যাত জঙ্গি আফতাব আনসারির হাই-সিকিউরিটি সেল থেকে উদ্ধার হয়েছে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস। জেল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কারা দফতর ও রাজ্য পুলিশে।

    কারা সূত্রে খবর, গত ১৩ অগাস্ট প্রেসিডেন্সি জেলে বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। সেই সময় আফতাব আনসারির সেল থেকে উদ্ধার হয় দুটি স্মার্টফোন, একটি আইফোন এবং দুটি রাউটার। এর পাশাপাশি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে একটি কার্ড রিডার, পেনড্রাইভ, ওটিজি (অন-দ্য-গো) কেবল এবং ওটিজি অ্যাডাপ্টার। একটি হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি একজন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামির কাছে কীভাবে এতগুলি ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম পৌঁছল, তা নিয়েই এখন তদন্ত শুরু হয়েছে।

    জেলের ভিতর থেকে কার সঙ্গে যোগাযোগ?

    আফতাব আনসারির সেল থেকে একসঙ্গে এতগুলি যোগাযোগ ও ডেটা-সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, জেলের ভিতরে বসে তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন? উদ্ধার হওয়া মোবাইল ও রাউটারগুলি কী কাজে ব্যবহার করা হত, সেগুলি দিয়ে বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না এবং কোনও সংবেদনশীল তথ্য আদানপ্রদান হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বিশেষ করে রাউটার, স্মার্টফোন, আইফোনের পাশাপাশি কার্ড রিডার ও ওটিজি সংক্রান্ত সরঞ্জাম উদ্ধারের বিষয়টি তদন্তকারীদের নজরে এসেছে। ডিভাইসগুলির মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার বা তথ্য আদানপ্রদানের কোনও প্রমাণ রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

    আগেও উঠেছিল করাচিতে যোগাযোগের অভিযোগ

    আফতাব আনসারিকে ঘিরে জেলের ভিতর থেকে যোগাযোগের অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্সি জেল থেকে করাচিতে থাকা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর থেকেই জেলবন্দি এই কুখ্যাত জঙ্গির যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার করার কথা সামনে আসে। নতুন করে তাঁর সেল থেকে একাধিক মোবাইল ও নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত ডিভাইস উদ্ধারের ঘটনায় সেই পুরনো অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।

    হেস্টিংস থানায় এফআইআর

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। গতকাল রাতে হেস্টিংস থানায় আফতাব আনসারির বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। একই সঙ্গে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নেমেছেন কারা দফতরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, জেলের ভিতরে নিষিদ্ধ ইলেকট্রনিক সামগ্রী পৌঁছনোর পিছনে কোনও অভ্যন্তরীণ যোগসাজশ রয়েছে কি না। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকা বন্দির সেলে কীভাবে একাধিক স্মার্ট ডিভাইস ঢুকল, তা নিয়েও জেল প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

    আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী

    আফতাব আনসারি কলকাতার আমেরিকান সেন্টার হামলার মূল চক্রী হিসেবে পরিচিত। ওই হামলার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্রেসিডেন্সি জেলের হাই-সিকিউরিটি সেলে বন্দি রয়েছেন।

    এমন একজন উচ্চ-ঝুঁকির বন্দির সেল থেকেই যদি একসঙ্গে একাধিক মোবাইল ফোন, রাউটার এবং ডেটা-ট্রান্সফারের সরঞ্জাম উদ্ধার হয়, তাহলে প্রেসিডেন্সি জেলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য—এই ডিভাইসগুলি কীভাবে জেলে ঢুকল, কারা তা সরবরাহ করল এবং সেগুলি ব্যবহার করে আফতাব আনসারি কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

  • Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    Nepal Flood: পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে বিদেশি সাহায্যে সায় নেপালের, ১১ জনের বিশেষজ্ঞ দল পাঠাল ভারত, প্রস্তুত আরও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালের পাশে আরও জোরালো ভাবে দাঁড়াল ভারত। বন্যায় ইতিমধ্যেই ৫০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। একাধিক এলাকায় সড়ক ও সেতু যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে সাহায্য করতে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা নেপালকে সহযোগিতা করবেন।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে চিকিৎসক ও মেডিক্যাল টিমও পাঠানো হবে। নেপাল অনুরোধ করলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী বা এনডিআরএফ-কেও পাঠাতে প্রস্তুত ভারত। পাশাপাশি বন্যায় ধুয়ে যাওয়া সেতুগুলির জায়গায় দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করতে বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    সুড়ঙ্গে আটকদের উদ্ধারে বিশেষজ্ঞ দল

    নেপালের ভোতেকোশি অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার জেরে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নেপাল সেনা প্রায় ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন।  তবে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় এখনও প্রায় ১০০ জন আটকে থাকতে পারেন বলে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর দফতর জানিয়েছে। তাঁদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে নেপালি বাহিনী। এই পরিস্থিতিতে সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষ দক্ষতা রয়েছে এমন ভারতীয় দল পাঠানো হচ্ছে।

    বিদেশি উদ্ধারকারী দল নিয়ে অবস্থান বদল নেপালের

    বন্যার পর প্রথমে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলকে ক্ষতিগ্রস্ত ভোতেকোশি এলাকায় প্রবেশের অনুমতি দিতে চায়নি নেপাল সরকার। বুধবার নেপাল জানিয়েছিল, নিজেদের উদ্ধারকারী বাহিনীই পরিস্থিতি সামাল দিতে সক্ষম এবং বিদেশি সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রয়োজন নেই। কিন্তু বিভিন্ন দেশের নাগরিক নিখোঁজ থাকায় আন্তর্জাতিক মহলের চাপ বাড়তে থাকে। এরপরই অবস্থান বদল করে কাঠমান্ডু। এখন নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত ও বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    নেপালের এক শীর্ষ সরকারি আধিকারিক জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মহলের কাছ থেকে বিদেশি উদ্ধারকারী দল এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্যাপক চাপ এসেছিল। সেই কারণেই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমিত সংখ্যক বিশেষজ্ঞকে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গ উদ্ধার, ডিএনএ পরীক্ষা এবং ফরেন্সিক তদন্তের মতো বিশেষায়িত ক্ষেত্রে বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সাধারণ সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অভিযানের জন্য নেপাল বিদেশি সাহায্য চাইছে না।

    জাতীয় বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ভারত, চিন, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদদের সাহায্য নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে নেপালের আন্তঃমন্ত্রক সমন্বয় কমিটি।

    সেতু পুনর্নির্মাণে ভারত পাঠাচ্ছে বেইলি ব্রিজ

    বন্যায় নেপালের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যাওয়ায় বহু এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভারত বেইলি ব্রিজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বেইলি ব্রিজ হল এমন এক ধরনের পোর্টেবল, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ট্রাস ব্রিজ, যা ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়াই তুলনামূলক দ্রুত জোড়া লাগানো যায়। ফলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা দ্রুত পুনরুদ্ধারে এই সেতু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপালের প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা দেওয়ার জন্য ভারত প্রস্তুত রয়েছে।

    তৃতীয় বিমানও পাঠাল ভারত

    নেপালে ইতিমধ্যেই দু’টি বিমানে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে ভারত। শুক্রবার ২৮ অগস্ট আরও একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দেয়। তৃতীয় দফার এই ত্রাণবাহী বিমানে প্রায় ১০ টন মানবিক সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

    এই বিমানে রয়েছে—

    • ● পোর্টেবল জেনারেটর সেট
    • ● ডিগনিটি কিট
    • ● খাদ্যসামগ্রী
    • ● জল পরিশোধনের ট্যাবলেট

    এছাড়াও ১১ সদস্যের একটি দল পাঠানো হয়েছে। সেই দলে চিকিৎসক, প্যারামেডিক এবং সুড়ঙ্গ উদ্ধারে বিশেষজ্ঞরা রয়েছেন।

    এখনও যোগাযোগ নেই ৩১৫-র বেশি ভারতীয়র সঙ্গে

    নেপালে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের কাজও চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, এখনও ৩১৫-র বেশি ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া ভারতীয়দের মধ্যে কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা থেকে ফেরা ২১ জন তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। তাঁদের নেপাল সেনা দুর্গম এলাকা থেকে উদ্ধার করে কাঠমান্ডুতে নিয়ে আসে। পরে কাঠমান্ডুতে ভারতীয় দূতাবাস তাঁদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। নেপাল সেনার উদ্ধার অভিযানের জন্য ওই তীর্থযাত্রীরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ বলেও জানিয়েছেন জয়শঙ্কর।

    নেপালের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে জয়শঙ্করের কথা

    শুক্রবার নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানালের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি জানান, বিপর্যয়ের এই সময়ে ভারত নেপালের পাশে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পরিকাঠামো ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

    ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালও জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি নেপালকে সুড়ঙ্গ উদ্ধারের বিশেষজ্ঞ দল, মেডিক্যাল টিম এবং প্রয়োজন হলে NDRF পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কোন ধরনের সহায়তা কখন প্রয়োজন, তা নেপাল সরকার পরিস্থিতি বিবেচনা করে ঠিক করবে।

    পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিদেশ মন্ত্রক

    নেপালের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি কাঠমান্ডু ও বেজিংয়ে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জয়শঙ্কর। বৈঠকে নেপালের পরিস্থিতি এবং সেখানে পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    হিমালয় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জেরে নেপালের বিস্তীর্ণ অংশে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। একাধিক সেতু ও রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের বিশেষজ্ঞ দল, ত্রাণসামগ্রী এবং পরিকাঠামোগত সহায়তা নেপালের উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

  • Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    Nepal Flood Alert: চিনে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্পের পরই তিব্বতে হ্রদ ভাঙার খবর! বন্যা-বিধ্বস্ত নেপালে নতুন করে প্লাবনের আতঙ্ক, বন্ধ উদ্ধারকাজ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিনের সিচুয়ান প্রদেশে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর তিব্বতে ফের একটি জলাধার বা ব্যারেজ লেক ভেঙে যাওয়ার খবর ঘিরে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নেপাল প্রশাসন নদী তীরবর্তী এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সম্ভাব্য ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় নেপালের ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় চলা উদ্ধার ও নিখোঁজদের সন্ধানের কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তিব্বতের কিছু এলাকাতেও একই কারণে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।

    ভূমিকম্পের পর নতুন বিপদ

    শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ চিনের সিচুয়ান প্রদেশে ৫.১ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর পরেই তিব্বতের একটি নতুন হ্রদ ভেঙে যাওয়ার বিষয়ে নেপালকে সতর্ক করে চিন। জানা গিয়েছে, শুওকেন এবং পোয়েক সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদে বিপুল পরিমাণ জল জমেছিল। সেই হ্রদের বাঁধ ভেঙে জল নীচের দিকে নেমে এলে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে নেপালজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন শাহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরকে উচ্চ সতর্কতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। চিনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে নেপাল সরকার। পরিস্থিতির উপর প্রতি মুহূর্তে নজর রাখা হচ্ছে।

    নদীর ধারে থাকা মানুষদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

    হ্রদ ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসার পরই নেপালের রাসুয়া জেলার প্রশাসন নদীর কাছাকাছি এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে বলেছে। তাঁদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলমান উদ্ধার অভিযানে যুক্ত নিরাপত্তাকর্মীদেরও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ, আচমকা জলস্তর বেড়ে গেলে উদ্ধারকারীরাও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।এদিকে, নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে থাকা আরও একটি ব্যারেজ লেকে জল ক্রমশ বাড়ছে। সেটিও ভেঙে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

    ৫০ লক্ষ ঘনমিটার পর্যন্ত জল জমতে পারে

    চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, চোচেন খোলা এবং পুরপু সাংপো নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে আনুমানিক ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। ইতিমধ্যেই হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করেছিল বলে জানানো হয়েছে। চিনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল ওই হ্রদে ঢুকতে পারে। সেক্ষেত্রে হ্রদটির মোট জলধারণের পরিমাণ প্রায় ৫০ লক্ষ ঘনমিটার হয়ে যেতে পারে। ফলে হ্রদটির বাঁধ ভেঙে আকস্মিক বন্যা বা ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট’ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক হ্রদটির উপর নজরদারি চালাচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যার গতিপথ বুঝতে জলপ্রবাহের সিমুলেশন এবং ঝুঁকি মূল্যায়নও করা হচ্ছে। জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ ব্যবস্থার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

    এখনও নিখোঁজ শত শত মানুষ

    নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এমন সময়ে তৈরি হয়েছে, যখন চিন ও নেপাল—দুই দেশেই আগের বিপর্যয়ের পর শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে এখনও ৫৫৮ জন নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। ওই এলাকায় এখনও পর্যন্ত অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে, চিনের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, নেপালের ভূখণ্ডেও প্রায় ১০০ জন চিনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে হ্রদ ভেঙে বন্যা হলে নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। সেই কারণেই ধাদিং ও নুওয়াকোটে চলা উদ্ধার অভিযান আপাতত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন।

    আরও বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা

    গত ২৬ তারিখ, চিন এবং নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীর তীর থেকে বিশাল আকারের কাদা এবং ধ্বংসস্তূপ খসে পড়ার ফলেই নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের সৃষ্টি হয়। তীব্র স্রোত ভোটেকোশী এবং ত্রিশূলী নদীর গতিপথের গ্রাম এবং শহরগুলির ওপর আছড়ে পড়ে। বহু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, সেতু এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র ভেসে যায় নিমেষে। ওই হড়পা বানে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ সহস্রাধিক। সেই ভয়াবহতার মধ্যেই এখন ভূমিকম্প, পাহাড়ি এলাকায় জল জমে হ্রদ তৈরি হওয়া এবং সেই হ্রদ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে পরিস্থিতি ক্রমশ উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। প্রশাসনের মূল লক্ষ্য এখন নদী তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানো। নেপাল সরকার জানিয়েছে, চিনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। নতুন হ্রদের জলস্তর এবং সম্ভাব্য জলপ্রবাহের গতিপথের উপর নির্ভর করবে পরবর্তী পদক্ষেপ।

  • Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    Abhishek Banerjee: ৩ মামলা দায়ের, গ্রেফতার ১৩! ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের অফিসের বিলবোর্ড-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ পুলিশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে কালীঘাট তৃণমূলের সেনাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বেআইনি বিলবোর্ড খোলা ঘিরে বৃহস্পতিবার বিকেলে তৈরি হওয়া উত্তেজনার ঘটনায় এবার বড়সড় আইনি পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখনও পর্যন্ত তিনটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মীদের কাজে বাধা, পুলিশ ও পুরকর্মীদের উপর হামলা এবং এক মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগও সামনে এসেছে। দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ কলকাতা পুরসভার কর্মীরা বিতর্কিত বিলবোর্ডটি খুলে ফেলেন।

    বেআইনি হোর্ডিং সরাতে পুলিশের সাহায্য চেয়েছিল পুরসভা

    পুলিশের বিবৃতি অনুযায়ী, ৯ নম্বর ক্যামাক স্ট্রিটে থাকা একটি বেআইনি হোর্ডিং সরানোর জন্য কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে লিখিতভাবে পুলিশি সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই পুর আধিকারিকদের নিরাপত্তা দিতে শেক্সপিয়ার সরণি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, পুরকর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর সেখানে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, হুমায়ুন কবীর, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু সমর্থক জমায়েত করেন। অভিযোগ, ওই জমায়েতের জেরে পুরকর্মী ও পুলিশ আধিকারিকদের নির্ধারিত কাজ করতে বাধা দেওয়া হয়।

    পুরকর্মীদের সঙ্গে ‘ধস্তাধস্তি’, মহিলা পুলিশকর্মীকে ‘শ্লীলতাহানি’

    পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পুলিশ ও পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত কয়েকজনের ধস্তাধস্তি শুরু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সরকারি কর্মীদের উপর বলপ্রয়োগ এবং হামলার অভিযোগও উঠেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে পুরসভা ও পুলিশের কর্মীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং হাতাহাতির অভিযোগ সামনে আসে।  পুলিশের বিবৃতিতে আরও গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে। ডিউটিতে থাকা এক মহিলা পুলিশ কর্মীকে মারধর করার পাশাপাশি তাঁর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও অভিযোগ জমা পড়েছে। একই সঙ্গে কর্তব্যরত সরকারি কর্মীদের হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ইতিমধ্যেই তিনটি পৃথক মামলা দায়ের এবং ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    অভিষেককে তীব্র আক্রমণ সুকান্ত মজুমদারের

    ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তের দাবি, ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসের বিলবোর্ডটি বেআইনি ছিল এবং সেটি নিয়ে কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে আগেই নোটিস দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, বেআইনি নির্মাণ নিয়ম মেনে অপসারণ করার অধিকার পুরসভার রয়েছে এবং সেই কাজ করতেই পুরকর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন। অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির অভিযোগ তুলে সুকান্ত বলেন, “ইনি সাংসদ না গুন্ডা, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না!”

    ‘অক্ষয় কুমার’ ও ‘সুনীল শেট্টি’ প্রসঙ্গ টেনে কটাক্ষ

    অভিষেককে আক্রমণ করতে গিয়ে আরও কটাক্ষের সুর শোনা যায় সুকান্তের বক্তব্যে। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি নিজেকে অক্ষয় কুমার মনে করছেন নাকি?” পাশাপাশি ডেরেক ও’ব্রায়েনকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুকান্ত। বলেন, ‘‘আর পাশে থাকা ষণ্ডামার্কা লোকটা নিজেকে কি সুনীল শেট্টি ভাবছে?’’ সুকান্তের দাবি, বেআইনি কাজের অভিযোগ ওঠার পরেও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই প্রসঙ্গেই হিন্দি প্রবাদ ‘চোরি, চোরি কে উপর সিনা জোড়ি’ উল্লেখ করে অভিষেক ও তাঁর সহযোগীদের কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা।

    বিলবোর্ড-কাণ্ডে এখন নজর পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপে

    একদিকে বেআইনি হোর্ডিং অপসারণকে কেন্দ্র করে পুরসভা-পুলিশের সঙ্গে অভিষেকের অফিসের কর্মীদের সংঘাত, অন্যদিকে পুলিশের একের পর এক মামলা ও গ্রেফতার— সব মিলিয়ে ক্যামাক স্ট্রিটের ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল। পুলিশের বিবৃতিতে ওঠা হামলা, সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে অভব্য আচরণের অভিযোগ এখন তদন্তের আওতায়। অন্যদিকে, ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। ফলে বিলবোর্ড সরানোর ঘটনাটি শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।

  • Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    Nepal-Tibet Flash Flood: নেপাল-তিব্বতে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, এখনও নিখোঁজ ২৯০ ভারতীয় সহ ১,৪৬৮! নতুন বিপদ ‘ব্যারিয়ার লেক’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল ও তিব্বত। হিমবাহ ধসের পর বরফ-পাথরের বিশাল ধস এবং জলস্রোতে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখনও ১,৪৬৮ জন নিখোঁজ বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে ভোতে কোশি নদীর উৎসের কাছে তৈরি হওয়া একটি নতুন ‘ব্যারিয়ার লেক’। সেটি ভেঙে গেলে ফের ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নেপাল পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, হেলিকপ্টারে ৫০ জন বিদেশি-সহ ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থলপথে আরও ৭৯৬ জনকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালে ৯১০ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জনের এখনও কোনও সন্ধান মেলেনি।

    ২৯০ ভারতীয় এখনও নিখোঁজ

    বন্যার জেরে নেপালে ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। তাঁদের মধ্যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী এবং বিভিন্ন রাজ্য থেকে যাওয়া পর্যটকরাও রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই ৮৪ জন নাগরিককে উদ্ধার করেছে। তাঁদের মধ্যে ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ৬৩ জন কর্মী এবং তামিলনাড়ুর ২১ জন রয়েছেন। পাশাপাশি তিব্বতের দিকে আটকে থাকা প্রায় ২০০ ভারতীয়ও ভারতের কাছে সাহায্য চেয়েছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, নেপাল সরকার, বিভিন্ন মন্ত্রক, রাজ্য সরকার, পর্যটন সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ভারতীয়দের সন্ধানে জরুরি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। ভারতীয় নাগরিকদের সহায়তার জন্য ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুমও চালু করা হয়েছে।

    উদ্ধার ১১ ভারতীয় পর্যটক

    নেপালের রসুয়া জেলা থেকে ২৭ জন বিদেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১১ জন ভারতীয়। এছাড়া চার জন দক্ষিণ কোরীয়, দুই জন ইতালীয় এবং দুই জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। নেপাল আর্মির হেলিকপ্টারে তাঁদের কাঠমান্ডুতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বন্যার কারণে দিল্লি-কাঠমান্ডু বাস পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

    নতুন ব্যারিয়ার লেক নিয়ে বড় আশঙ্কা

    উদ্ধারকাজ চলার মধ্যেই নতুন বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভোতে কোশি নদী ব্যবস্থার উৎসের কাছে তৈরি হয়েছে একটি প্রাকৃতিক ব্যারিয়ার লেক। চিনা কর্তৃপক্ষের অনুমান, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সেখানে প্রায় ২০ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছিল। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লক্ষ ঘনমিটার জল সেখানে জমতে পারে। প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে ফের প্রবল জলস্রোত নেমে আসতে পারে। নেপালের জল ও আবহাওয়া দফতর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদীর তীরবর্তী মানুষকে সতর্ক করে নদীর কাছ থেকে দূরে নিরাপদ জায়গায় থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

    হিমবাহ ধসেই বিপর্যয়, ভূমিকম্প নয়

    প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্প বলে মনে করা হলেও নেপালি কর্তৃপক্ষ এবং মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থার সংশোধিত বিশ্লেষণে জানা গিয়েছে, ভূমিকম্প নয়, হিমবাহ ধস এবং বরফ-পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। হিমবাহ ধসের পর লহেন্দে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরে সেই প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে আসে।

    ধ্বংসস্তূপে চাপা রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎ প্রকল্প

    বন্যায় নেপালের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেত্রাবতী থেকে রাসুওয়াগাধি পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু কংক্রিট ও ঝুলন্ত সেতু ভেসে গিয়েছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৩৫টি মোটরযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রিশুলি ও দেবীঘাট-সহ একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতির মুখে পড়েছে।

    এদিকে হাসপাতাল, উদ্ধারকেন্দ্র এবং নদীর তীরে নিখোঁজ পরিজনদের খুঁজছেন অসংখ্য পরিবার। বহু এলাকায় এখনও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপাল আর্মি, পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং হেলিকপ্টার ও ড্রোনের সাহায্যে উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসের পূর্ণ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শত শত পরিবার এখনও প্রিয়জনের খবরের অপেক্ষায়, আর নতুন ব্যারিয়ার লেকের আশঙ্কায় বিপর্যয় আরও ভয়াবহ আকার নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

  • Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    Suvendu Adhikari: ৪৩ হাজার শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগ, প্রতি থানায় ৪টি ‘১১২’ গাড়ি! বাংলার পুলিশে বড় বদলের ঘোষণা শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ পুলিশে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা শূন্যপদ পূরণ এবং থানাগুলির পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে বড়সড় উদ্যোগের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য পুলিশে বর্তমানে প্রায় ৪৩ হাজার পদ খালি রয়েছে। পর্যাপ্ত পুলিশকর্মীর অভাবে একাধিক থানা সিভিক ভলান্টিয়ারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতি কাটাতে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুধু নিয়োগ নয়, পুলিশের গাড়ি, থানার পরিকাঠামো, মহিলা থানা, সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং জরুরি পরিষেবায় পুলিশের পৌঁছনোর সময় কমানো—একাধিক ক্ষেত্রে একসঙ্গে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন তিনি।

    প্রতি এক লক্ষে পুলিশ মাত্র ১০৬ জন!

    রাজ্যে পুলিশের লোকবল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শুভেন্দু জানান, পশ্চিমবঙ্গে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য বর্তমানে মাত্র ১০৬ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। দেশের বহু রাজ্যের তুলনায় এই সংখ্যা যথেষ্ট কম বলেই দাবি করেছেন তিনি। সরকারের লক্ষ্য আগামী দিনে প্রতি এক লক্ষ মানুষের জন্য পুলিশের সংখ্যা অন্তত ২০০-তে নিয়ে যাওয়া। সেই লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৪৩ হাজার শূন্যপদ পূরণের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পুলিশ পদ তৈরি করার সম্ভাবনাও রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সুপ্রিম কোর্টের জট কেটে গিয়েছে। নিয়োগ শুরু করুন। পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান এখানে রয়েছেন। আপনাকে বলছি, পুলিশে ম্যানপাওয়ার বাড়াতে হবে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করব।”

    মহিলা থানা ও সাইবার অপরাধে বাড়তি গুরুত্ব

    নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্যের মহিলা থানাগুলিকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্তের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় রাজ্য পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করেন শুভেন্দু। তবে শুধু তদন্ত নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।সাইবার প্রতারণার ভয়াবহতা বোঝাতে একটি ঘটনার উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কেউ হয়তো পিএফ ও গ্র্যাচুইটির টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন, নাতনিকে ডাক্তার করবেন বলে। মাত্র ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে সব টাকা চলে গেল।”

    বিপর্যয় মোকাবিলায় আসছে ২০০ সদস্যের ‘অর্জুন’

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড এবং বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কাজ করার জন্য সিভিল ডিফেন্সের অধীনে ২০০ সদস্যের একটি বিশেষ বাহিনী গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই বাহিনীর নাম রাখা হয়েছে ‘অর্জুন’। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্য সৈনিক বোর্ডের মাধ্যমে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত ৮০ জন প্রাক্তন সেনাকর্মীকে ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। আগামী দিনে অগ্নিবীরদেরও এই বাহিনীতে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

    আমফানের সময় গাছ কেটে রাস্তা পরিষ্কার করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল বলে অভিযোগ তুলে পুরনো অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “আগের সরকারের মন্ত্রী থাকাকালীন দেখেছিলাম, আমফানের সময় তিনদিনে একটাও গাছ সরাতে পারেনি। ৩০০ পুলিশের ওডিএমজি পাঠিয়েছিল ওড়িশা পুলিশ, তারা এসে ১২ ঘণ্টায় কাজ করে দিয়েছিল। আমরা দাঁড়িয়ে দেখলাম।” নতুন বাহিনীর মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও রাস্তা পরিষ্কারের কাজ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    চার হাজার পুরনো পুলিশ গাড়ি বদলের পরিকল্পনা

    রাজ্য পুলিশের যানবাহনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, পুলিশের ডিজির সঙ্গে কথা বলে তিনি জানতে পেরেছেন যে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ গাড়ি বদলানো প্রয়োজন। একসঙ্গে এতগুলি গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে পুরনো গাড়ি সরিয়ে নতুন গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু বলেন, “একসঙ্গে চার হাজার গাড়ি দিতে না পারলেও বছরে এক হাজার করে দেব। পুলিশের লজিস্টিক্স এবং পরিকাঠামো বাড়ানো হবে।”

    প্রতিটি থানায় ৪টি করে ‘১১২’ গাড়ি

    জরুরি পরিষেবায় পুলিশের ‘রেসপন্স টাইম’ কমানোকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, উত্তরপ্রদেশে জরুরি ফোন পাওয়ার প্রায় ৬ মিনিটের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। কলকাতায় রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তুলনামূলক ভাল হওয়ায় সাড়া দ্রুত মিললেও রাজ্যের বহু এলাকায় পরিস্থিতি ভিন্ন।শুভেন্দুর দাবি, রাজ্যের বহু জায়গায় পুলিশের গড় রেসপন্স টাইম প্রায় তিন ঘণ্টা। এই সময় কমাতে প্রতিটি থানায় জরুরি পরিষেবা নম্বর ‘১১২’-এর জন্য চারটি ডেডিকেটেড গাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, এবারের বাজেটে এর জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “বেঙ্গল পুলিশে লোকবল বাড়াতে হবে। প্রতি থানায় ৪টি ১১২ ডেডিকেটেড গাড়ি দিতে হবে। এবারের বাজেটে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রাজ্যের ৫৫২টি থানায় একটি করে ১১২ গাড়ি পৌঁছে যাবে পুজোর আগেই। মহালয়াতেই ব্রিগেডে ৫৫২টি গাড়ির উদ্বোধন করা হবে।” পরবর্তী বাজেটে থানাপিছু আরও দু’টি গাড়ি দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।

    দুর্নীতিতে কড়া বার্তা, ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন শাখার কাজেও আরও নজরদারি বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন তিনি। রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, নারী নির্যাতন এবং পকসো আইনের আওতায় আসা অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট করেছেন শুভেন্দু। তাঁর বার্তা, “রাষ্ট্রবিরোধীদের শায়েস্তা করতে কারও কথা শুনবেন না। আরজি কর বা পকসো আইনের আওতায় যে সব ঘটনা ঘটবে, তার মোকাবিলা করতে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করার দরকার নেই। যত কঠোর হতে হয় হবেন, আপনাদের হয়ে শিল্ড হয়ে দাঁড়াব আমি।”

    পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা বাড়ল

    পুলিশ বাহিনীর নিচুতলার কর্মীদের জন্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের মাসে পুলিশকর্মীদের রেশন ভাতা ১,৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,০০০ টাকা করা হয়েছে বলে ঘোষণা করেন তিনি। পুজোর মাসেই ৩৮ শতাংশ ডিএ-সহ আগাম বেতন দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ১৫ বছর চাকরি সম্পূর্ণ করা নিচুতলার পুলিশকর্মীদের নিজস্ব জেলা অথবা সংলগ্ন জেলায় পোস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

    তবে বাহিনীর একাংশের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন তিনি। ঝাড়গ্রামের এক কনস্টেবলকে ৫ লক্ষ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরার প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “এসিবি অনেককে ধরছে, তার মধ্যে ঝাড়গ্রামে এক কনস্টেবলও ৫ লাখ ৫৪ হাজার টাকা-সহ ধরা পড়েছে। এই লোভগুলো সম্বরণ করতে হবে।”

    নিয়োগ থেকে পরিকাঠামো—পুলিশ ব্যবস্থায় বড় রদবদলের ইঙ্গিত

    সব মিলিয়ে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে একাধিক স্তরে পরিবর্তনের পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে ৪৩ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ, অন্যদিকে পুরনো গাড়ি বদল, থানার পরিকাঠামো উন্নয়ন, মহিলা থানা ও সাইবার ইউনিটকে শক্তিশালী করা এবং ‘১১২’ পরিষেবার রেসপন্স টাইম কমানোর উদ্যোগ—সব মিলিয়ে পুলিশ ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন নজর থাকবে পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড কত দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে এবং শূন্যপদ পূরণের ক্ষেত্রে সরকার কতটা দ্রুত বাস্তব পদক্ষেপ করে।

  • R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    R-37M Missile: গতি ম্যাক ৬, পাল্লা ৪০০ কিমি! রাশিয়ার থেকে ৩০০টি আর-৩৭এম ‘অ্যাওয়াক্স-কিলার’ কিনছে ভারত?

    সুশান্ত দাস

    ভারতীয় বায়ুসেনার শক্তি আরও বাড়াতে রুশ আর-৩৭এম ভেরি-লং-রেঞ্জ এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল কেনার বিষয়ে ভারত এগোচ্ছে বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্র কেনার সম্ভাবনার কথা সামনে এসেছে। চুক্তিটির আনুমানিক মূল্য প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানে এই ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    ন্যাটো নামকরণ ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’

    ন্যাটো নামকরণ অনুযায়ী, আর-৩৭এম মিসাইলকে ‘এএ-১৩ অ্যাক্সহেড’ বলা হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্র সুখোই-৩০ এমকেআই-তে যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনা হাতে থাকা প্রচলিত আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় আরও অনেক বেশি দূরপাল্লার একটি অস্ত্র পাবে। তবে সর্বোচ্চ ঘোষিত পাল্লা এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর পাল্লা এক বিষয় নয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি কোন উচ্চতা থেকে ছোড়া হচ্ছে, উৎক্ষেপণের সময় বিমানের গতি কত, লক্ষ্যবস্তু কত দূরে এবং লক্ষ্য কীভাবে গতিপথ পরিবর্তন করছে—এসব বিষয়ের উপর প্রকৃত কার্যকর পাল্লা নির্ভর করে।

    কেন এত শক্তিশালী আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম মূলত কাছাকাছি দূরত্বের বিমানযুদ্ধ বা ডগফাইটের জন্য তৈরি নয়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হল শত্রুর গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকে অনেক দূর থেকেই আক্রমণ করা।

    এই তালিকায় রয়েছে—

    • ● এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (অ্যাওয়াক্স) বিমান
    • ● আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার বিমান
    • ● ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্ম
    • ● আকাশে থাকা কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম

    এই ধরনের বিমান সরাসরি শত্রু যুদ্ধবিমানের মতো আক্রমণাত্মক ভূমিকা পালন না করলেও আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    অ্যাওয়াক্স বিমানগুলি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে শত্রু বিমান শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে ট্যাঙ্কার বিমান যুদ্ধবিমানগুলিকে দীর্ঘসময় আকাশে থাকার সুযোগ দেয়। ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার প্ল্যাটফর্মগুলি শত্রুর রেডার, যোগাযোগ ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে এই সহায়ক বিমানগুলিকে দূরপাল্লা থেকে সরিয়ে দিতে পারলে গোটা শত্রু বিমান অভিযানের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

    আর-৩৭এমকে কেন ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ বলা হয়?

    আর-৩৭এম এমন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি সাধারণত যুদ্ধবিমানের তুলনায় অনেক পিছনে অবস্থান করে। একটি অ্যাওয়াক্স বিমান সাধারণত যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারিতে থাকে না। নিরাপদ দূরত্বে থেকে সেটি বিশাল এলাকার আকাশ পর্যবেক্ষণ করে এবং নিজেদের যুদ্ধবিমানকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে। দূরপাল্লার আর-৩৭এম-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র সেই তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বকেই চ্যালেঞ্জ করতে পারে। একইভাবে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার কিংবা ইলেকট্রনিক যুদ্ধবিমানও শত্রুর বিমানবাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্ল্যাটফর্মগুলির উপর দূর থেকে হামলার আশঙ্কা তৈরি হলে শত্রুকে তার যুদ্ধবিমান ও সহায়ক বিমানগুলিকে আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে হতে পারে। এই কারণেই আর-৩৭এম-কে অনেক সময় ‘অ্যাওয়াক্স কিলার’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের মারণ ক্ষমতা কত দূর?

    আর-৩৭এম-এর পাল্লা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে ভিন্ন ভিন্ন পরিসংখ্যান পাওয়া যায়। কিছু রিপোর্টে ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত সর্বোচ্চ পাল্লার কথা বলা হয়েছে। তবে বাস্তবে কার্যকর পাল্লা পরিস্থিতির উপর নির্ভরশীল। উৎক্ষেপণের উচ্চতা, যুদ্ধবিমানের গতি, লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব এবং লক্ষ্যবস্তুর গতিবিধি—সবকিছুই ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। আর-৩৭এম-এর সর্বোচ্চ গতি প্রায় ম্যাক ৬ পর্যন্ত বলে উল্লেখ করা হয়। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.০৬ মিটার, ওজন প্রায় ৫১০ কিলোগ্রাম এবং এতে প্রায় ৬০ কেজির ফ্র্যাগমেন্টেড ওয়ারহেড রয়েছে। অর্থাৎ আকার ও ওজন—দুই দিক থেকেই এটি অত্যন্ত বড় আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র।

    কীভাবে লক্ষ্য খুঁজে নেয় আর-৩৭এম?

    আর-৩৭এম ক্ষেপণাস্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল এর উন্নত নির্দেশনা ব্যবস্থা। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রটি ইনারশিয়াল ন্যাভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করে এগোতে পারে। উড়ানের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরে থেকে লক্ষ্যবস্তুর অবস্থান সম্পর্কে নতুন তথ্যও পাওয়া যায়। এরপর লক্ষ্যবস্তুর কাছে পৌঁছলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার সিকার সক্রিয় হয়ে লক্ষ্যকে অনুসরণ করতে পারে। অর্থাৎ উৎক্ষেপণকারী সুখোই-৩০ এমকেআই-কে পুরো উড়ানজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে একইভাবে লক্ষ্যবস্তুর দিকে নির্দেশ করে যেতে হয় না। শেষ পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্রের নিজস্ব রেডার ব্যবস্থা লক্ষ্য শনাক্ত করে আঘাত হানতে পারে।

    সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম-এর সমন্বয় কেন গুরুত্বপূর্ণ?

    ভারতের কাছে বিপুল সংখ্যায় থাকা সুখোই-৩০ এমকেআই ইতিমধ্যেই ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান। বিভিন্ন দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্র বহনে সক্ষম এই যুদ্ধবিমানের সঙ্গে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধের ক্ষমতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে বড় আকারের সুখোই-৩০ এমকেআই-এর শক্তিশালী রেডার, দীর্ঘসময় আকাশে থাকার ক্ষমতা এবং বড় অস্ত্র বহনের সক্ষমতার সঙ্গে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আর-৩৭এম-এর সমন্বয় একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষমতা তৈরি করতে পারে। এর ফলে শুধু শত্রু যুদ্ধবিমান নয়, শত্রুর পিছনের সারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আকাশযানকেও লক্ষ্য করার সুযোগ বাড়বে।

    চিন ও পাকিস্তানের মোকাবিলায় কেন দরকার দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র?

    আধুনিক আকাশযুদ্ধে বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ বা বিআরআর যুদ্ধের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। অর্থাৎ যুদ্ধবিমানগুলি একে অপরের খুব কাছে গিয়ে লড়াই করার পরিবর্তে অনেক দূর থেকেই প্রতিপক্ষকে শনাক্ত ও আঘাত করার চেষ্টা করছে। চিনের পিএল-১৫-এর মতো দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে। পাকিস্তানও আধুনিক দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে এগিয়েছে। ভারত নিজস্ব দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য অস্ত্র, বিশেষ করে অস্ত্র পরিবারের উন্নত সংস্করণ নিয়েও কাজ করছে। কিন্তু দেশীয় এই প্রকল্পগুলির উন্নয়ন ও পরীক্ষা চলতে থাকায় আর-৩৭এম-এর মতো ইতিমধ্যে তৈরি ও ব্যবহৃত একটি অস্ত্র দ্রুত দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের সক্ষমতা দিতে পারে।

    ‘সুপার সুখোই’-এর সঙ্গে ভয়ঙ্কর সমন্বয়

    ভারত ইতিমধ্যেই সুখোই-৩০ এমকেআই-কে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য ‘সুপার সুখোই’ আধুনিকীকরণ কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে। এই আধুনিকীকরণের আওতায় বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● উন্নত এইএসএ রেডার
    • ● অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা
    • ● উন্নত অ্যাভিওনিক্স
    • ● নতুন সেন্সর ও মিশন ব্যবস্থা
    • ● দেশীয় ও বিদেশি দীর্ঘপাল্লার অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● দেশীয় অ্যাস্ট্রা ক্ষপণাস্ত্র পরিবারের বিভিন্ন সংস্করণের সংযুক্তি
    • ● ব্রহ্মোস-এর দীর্ঘপাল্লার সংস্করণের মতো অস্ত্রের সংযুক্তি
    • ● আর-৩৭এম-এর মতো অতিদূরপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য সংযুক্তি

    ফলে সুখোই-৩০ এমকেআই আগামী বহু বছর ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান যুদ্ধবিমান হিসেবে কার্যকর থাকার সুযোগ পাবে।

    সুখোই-৩০ এমকেআই-তে আর-৩৭এম যুক্ত হলে ভারতের কী লাভ?

    আর-৩৭এম সংযুক্তির সম্ভাব্য গুরুত্ব শুধু নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ভারতীয় বায়ুসেনার আকাশযুদ্ধের কৌশলেও আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

    এর মাধ্যমে—

    • ● প্রথমত, ভারতীয় যুদ্ধবিমান আরও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সুযোগ পাবে।
    • ● দ্বিতীয়ত, শত্রুর অ্যাওয়াক্স, ট্যাঙ্কার এবং ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার বিমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্মের উপর চাপ তৈরি করা সম্ভব হতে পারে।
    • ● তৃতীয়ত, শত্রুর বিমানবাহিনীকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক বিমান আরও পিছনে সরিয়ে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে।
    • ● চতুর্থত, স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকায় ভারতের আকাশ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হতে পারে।
    • ● পঞ্চমত, উন্নত রেডার, সেন্সর এবং নেটওয়ার্ক-কেন্দ্রিক যুদ্ধব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সমন্বিত আকাশ অভিযান আরও শক্তিশালী হতে পারে।

    ইউক্রেন যুদ্ধেও ব্যবহৃত হয়েছে আর-৩৭এম

    আর-৩৭এম ইতিমধ্যেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলির সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার মিগ-৩১ এবং বিভিন্ন সুখোই যুদ্ধবিমান। ইউক্রেন যুদ্ধে আর-৩৭এম ব্যবহারের বিভিন্ন রিপোর্টও সামনে এসেছে। সেই অভিজ্ঞতা আধুনিক বিমানযুদ্ধে অত্যন্ত দীর্ঘপাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতি শত্রু যুদ্ধবিমানকে নিজেদের অবস্থান, গতি এবং পরিচালন এলাকার বিষয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য করতে পারে।

    বদলে যেতে পারে আঞ্চলিক আকাশযুদ্ধের সমীকরণ

    ভারতের সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে আর-৩৭এম যুক্ত হওয়ার খবর সত্যি হলে তা শুধু ভারতীয় বায়ুসেনার অস্ত্রভাণ্ডারেই নতুন সংযোজন হবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার আকাশশক্তির ভারসাম্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আধুনিক বিমানযুদ্ধে শুধু কতগুলি যুদ্ধবিমান রয়েছে, সেটাই এখন মূল বিষয় নয়। কোন বিমান কত দূর থেকে লক্ষ্য শনাক্ত করতে পারে, কত দূরের লক্ষ্যকে আঘাত করতে পারে এবং কত দ্রুত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য পেতে পারে—এসব বিষয়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    কোনও পক্ষই চুক্তি নিয়ে খোলসা করেনি

    এই জায়গাতেই আর-৩৭এম এবং ‘সুপার সুখোই’-এর সম্ভাব্য সমন্বয় তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে প্রায় ৩০০টি আর-৩৭এম কেনার ১.২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং নির্দিষ্ট সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে প্রকাশ্য সরকারি বিবৃতি না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টিকে রিপোর্টভিত্তিক সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হিসেবেই দেখা উচিত। চূড়ান্ত চুক্তি, অস্ত্রের সংখ্যা, সংযুক্তিকরণের সময়সূচি এবং বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সামনে এলে ভারতের দীর্ঘপাল্লার আকাশযুদ্ধের প্রকৃত সক্ষমতা আরও স্পষ্ট হবে।

LinkedIn
Share