Category: পড়াশোনা

Get updated Education and Career news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • ICSE ISC Results: ফল বেরল সিআইএসসিই বোর্ডের দশম-দ্বাদশ পরীক্ষার, বাজিমাত বাংলার মেয়ের

    ICSE ISC Results: ফল বেরল সিআইএসসিই বোর্ডের দশম-দ্বাদশ পরীক্ষার, বাজিমাত বাংলার মেয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোটের আবহেই দশম শ্রেণির আইসিএসই এবং দ্বাদশের আইএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করল কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগজ়ামিনেশন (সিআইএসসিই) (ICSE ISC Results)। এ বছর দশমের ফল প্রকাশিত হল পরীক্ষা শেষের ৩০ দিন পর, দ্বাদশের ফল বেরল পরীক্ষা শেষের ২৬ দিনের মাথায় (Pass Percentage)। চলতি বছর দশমের পরীক্ষার ফলে নজর কেড়েছে পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলি। পাশের হার ৯৯.৮৫ শতাংশ। দ্বাদশের পরীক্ষায় এগিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের রাজ্যগুলি। পাশের হার ৯৯.৮৭ শতাংশ। আইএসসিতে প্রথম হয়েছে বাংলার মেয়ে অনুষ্কা ঘোষ। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা। সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্রী। ৪০০-তে ৪০০-ই পেয়েছে অনুষ্কা।

    আইসিএসই পরীক্ষায় পাশের হার (ICSE ISC Results)

    আইসিএসই পরীক্ষায় পাশের হার ৯৯.১৮ শতাংশ। পরীক্ষা দিয়েছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭২১ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৩৬ হাজার ৩২ জন, ছাত্রী ১ লাখ ২০ হাজার ৫৫৮ জন। রাজ্যে আইএসসি পরীক্ষায় পড়ুয়াদের পাশের হার ৯৯.১৩ শতাংশ। উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লক্ষ ২ হাজার ৪১৪ জন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৫৩ হাজার ৪৭২ জন, ছাত্রী ৪৮ হাজার ৯৪২ জন।

    পাশের হারের নিরিখে এগিয়ে ছাত্রীরা

    দশম ও দ্বাদশ দু’টি ক্ষেত্রেই পাশের হারের নিরিখে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা। দশমে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৪৬ শতাংশ, ছাত্রদের ৯৮.৯৩ শতাংশ। দ্বাদশে ছাত্রীদের পাশের হার ৯৯.৪৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৯৮.৮১ শতাংশ। তবে দু’টি ক্ষেত্রেই মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীদের থেকে ছাত্রদের সংখ্যাই ছিল বেশি (ICSE ISC Results)। সিআইএসসিইর নিজস্ব ওয়েবসাইট— https://cisce.org বা https://results.cisce.org–এ দেখা যাবে ফল। ডিজিলকারের ওয়েবসাইট https://results.digilocker.gov.in থেকেও ফল জেনে নিতে পারবে পড়ুয়ারা।

    সিআইএসসিইর তরফে জানানো হয়েছে, পরীক্ষার্থীরা খাতা রিভিউ করার সুযোগ পাবে ১ থেকে ৪ মে পর্যন্ত। ইমপ্রুভমেন্ট এগজামিনেশন দেওয়ার জন্য রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ৮ থেকে ১৪ মে-র মধ্যে। রিভিউয়ের ফল প্রকাশ হবে (Pass Percentage) জুনের প্রথম সপ্তাহে। ফের পরীক্ষা হবে ১৫ জুন। তার ফল বেরবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে (ICSE ISC Results)।

     

  • CBSE Result: প্রকাশিত হল সিবিএসই দশম শ্রেণির ফল, কোথায় দেখবেন রেজাল্ট?

    CBSE Result: প্রকাশিত হল সিবিএসই দশম শ্রেণির ফল, কোথায় দেখবেন রেজাল্ট?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) প্রকাশ করল দশম শ্রেণির প্রথম পর্বের ফলাফল। বুধবার দুপুরে তালিকা প্রকাশ করা হয় সিবিএসই-র ওয়েবসাইটে। পরীক্ষার্থীরা সেখানেই রোল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফলাফল দেখতে পারবে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর সামগ্রিক পাশের হার গত বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের পাশের হার ছাত্রদের তুলনায় কিছুটা বেশি। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোর ফলাফলও এ বছর অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা শিক্ষা ব্যবস্থার তৃণমূল স্তরে উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।

    মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি

    সিবিএসই-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বার পরীক্ষার্থী ছিল ২৫ লক্ষ। খাতা দেখেছেন প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষক। ভারত এবং বিদেশের কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২৭ হাজার ৩৩৯টি স্কুলে পরীক্ষা হয়েছিল। দশম শ্রেণির প্রথম পর্বের পরীক্ষায় পাশের হার ৯৩.৭০ শতাংশ। ফলাফলের নিরিখে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে ছাত্রীরা। ছাত্রদের পাশের হার ৯২.৬৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাশের হার ৯৮.৯৯ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এই বছর পাশের হার ০.০৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে দিল্লি, পুনে এবং কেরালা অঞ্চলের পাশের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি। সিবিএসই বোর্ড কয়েক বছর আগেই অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এড়াতে ‘টপার’ বা মেধা তালিকা প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যে সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে, তাদের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে যে, মেধা তালিকা প্রকাশ না করা হলেও যে ছাত্রছাত্রীরা অসাধারণ ফলাফল করেছে, তাদের স্কুল স্তর থেকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।

    কীভাবে দেখবে ফলাফল

    ফলাফল দেখা যাবে বেশ কয়েকটি পোর্টালের মাধ্যমে। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট—cbse.gov.in এবং results.cbse.nic.in ছাড়াও উমঙ্গ অ্যাপ এবং ডিজি লকারের মাধ্যমেও ফল দেখা যাবে। ২০২৬-এ দশম শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত। যে সকল শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নয়, তাদের জন্য বোর্ড পুনর্মূল্যায়ন বা ‘ভেরিফিকেশন’ (Verification of Marks)-এর সুযোগ রাখছে। ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে, যারা এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্য ‘কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষা’ বা ‘সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা’র আয়োজন করা হবে খুব শীঘ্রই, যাতে তারা একই শিক্ষাবর্ষে তাদের ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে সিবিএসই এবারও ডিজিটাল মার্কশিট এবং মাইগ্রেশন সার্টিফিকেটের ওপর জোর দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিলকার থেকে আইনিভাবে বৈধ ডিজিটাল নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারছে। এই ডিজিটাল সার্টিফিকেটগুলো উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে হার্ডকপির মতোই গ্রহণযোগ্য।

  • NEP 2020: সিবিএসই-র বড় সিদ্ধান্ত; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক, ৭ দিনের মধ্যে কার্যকরের নির্দেশ

    NEP 2020: সিবিএসই-র বড় সিদ্ধান্ত; ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক, ৭ দিনের মধ্যে কার্যকরের নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE)। জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020)-এর সুপারিশ মেনে এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ‘তৃতীয় ভাষা’ (Third Language) শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দিয়েছে। বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী ৭ দিনের মধ্যেই সমস্ত অনুমোদিত স্কুলকে এই নিয়ম কার্যকর করতে হবে।

    ভাষা শিক্ষার বিস্তার (NEP 2020)

    এতদিন অনেক স্কুলে তৃতীয় ভাষা ঐচ্ছিক হিসেবে থাকলেও, নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী ষষ্ঠ শ্রেণি (NEP 2020) থেকে এটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে গণ্য হবে। এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে বহুভাষিক দক্ষতা বৃদ্ধি করা।

    ৭ দিনের সময়সীমা

    সিবিএসই-র (NEP 2020) পক্ষ থেকে স্কুলগুলোকে অত্যন্ত অল্প সময় দেওয়া হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই শিক্ষাক্রম চালুর পরিকাঠামো তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের (CBSE) ভাষা নির্বাচনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ ও পরিকাঠামোর উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে যোগ্য ভাষা শিক্ষক নিশ্চিত করা এবং ক্লাসের সময়সূচী বা রুটিন পরিবর্তন করা স্কুলগুলোর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    জাতীয় শিক্ষানীতির প্রতিফলন

    কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন শিক্ষানীতিতে (NEP 2020) ভারতীয় ভাষাগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিবিএসই-র এই পদক্ষেপ সেই লক্ষ্য পূরণেরই একটি অংশ। বোর্ডের (CBSE) মতে, স্কুল স্তরে একাধিক ভাষা শিখলে শিক্ষার্থীদের বৌদ্ধিক বিকাশ ঘটে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতি ও সাহিত্যের সঙ্গে তাদের মেলবন্ধন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতীয় ধ্রুপদী ভাষা বা আধুনিক কোনো ভারতীয় ভাষাকে এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    স্কুল ও অভিভাবকদের প্রতিক্রিয়া

    হঠাৎ করে আসা এই নির্দেশে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলোর (CBSE) মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক স্কুলই মনে করছে, মাত্র ৭ দিনের মধ্যে নতুন ভাষা শিক্ষক নিয়োগ বা পাঠ্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া কঠিন হবে। অন্যদিকে, শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদী ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের (NEP 2020) ভাষাগত জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। সিবিএসই-র এই কড়া নির্দেশের পর দেশের হাজার হাজার স্কুল এখন দ্রুততার সঙ্গে তাদের শিক্ষানীতি পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

  • CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    CBSE: সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ সিবিএসইর, নয়া পরিবর্তন কী হল জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য সংশোধিত পাঠ্যক্রম প্রকাশ করল সিবিএসই (CBSE) বোর্ড। জাতীয় নীতির লক্ষ্যের সঙ্গে স্কুল শিক্ষাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই চালু করা হচ্ছে এই ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে (Three Language Rule)।

    উল্লেখযোগ্য সংস্কার (CBSE)

    সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সংস্কারের মধ্যে রয়েছে ধাপে ধাপে একটি বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা চালু করা। ২০৩১ সালের মধ্যে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার অংশ হয়ে উঠবে এটি। জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০ অনুযায়ী, বহুভাষিকতা ও সাংস্কৃতিক সংহতি বাড়াতে তিন-ভাষা সূত্র প্রয়োগ করা হবে। নতুন পাঠক্রম কাঠামোর অধীনে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে যে দুটি ভাষা শেখানো হয়, তার পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা পড়াও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি মাধ্যমিক স্তরে পূর্ণাঙ্গ তিন-ভাষা ব্যবস্থার দিকে ধাপে ধাপে রূপান্তরের সূচনা। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা সাধারণত ইংরেজি ও একটি ভারতীয় ভাষা পড়ে। তৃতীয় ভাষা (R3) যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষাজীবনের শুরুতেই আরও বিস্তৃত ভাষাগত ভিত্তি লাভ করবে।

    তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক

    সিবিএসই আধিকরিকদের মতে, তৃতীয় ভাষার পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাসামগ্রী জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ (NCERT)-এর সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা হচ্ছে। এই উপকরণগুলি শীঘ্রই সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক পোর্টালে উপলব্ধ হবে। যদিও মধ্যম স্তরে তৃতীয় ভাষা চালু হয়েছে, তবে এটি অবিলম্বে বোর্ড পরীক্ষায় প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ২০৩১ সালে দশম শ্রেণিতে পৌঁছলে নীতিটি পুরোপুরি কার্যকর হবে (CBSE)। প্রসঙ্গত, ত্রি-ভাষা সূত্রের ব্যাখ্যা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ রয়েছে। বাস্তবে, অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়ে। তবে এনইপি ২০২০ অনুযায়ী ইংরেজিকে প্রায়ই বিদেশি ভাষা হিসেবে বিবেচনা করা হয় (Three Language Rule)। তাই প্রশ্ন উঠছে, ইংরেজির পাশাপাশি কি শিক্ষার্থীদের আরও দুটি ভারতীয় ভাষা শিখতে হবে? এতে পড়াশোনার চাপ বাড়তে পারে।

    দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতেও একাধিক পরিবর্তন

    বিদেশে অবস্থিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে বোর্ড কিছুটা শিথিলতা দিয়েছে। ভারতের বাইরে অবস্থিত স্কুলগুলিতে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়ানো বাধ্যতামূলক নয়। তারা একটি ভারতীয় ভাষাকে বাধ্যতামূলক রেখে অন্যান্য ভাষা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক প্রাসঙ্গিকতার প্রেক্ষিতে নির্বাচন করতে পারবে (CBSE)। ভাষা সংস্কারের পাশাপাশি সিবিএসই সামগ্রিক ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে একাধিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। নবম ও দশম শ্রেণিতে শিল্প শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং শারীরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আপাতত শিল্প ও শারীরিক শিক্ষা স্কুলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে, বোর্ড পরীক্ষার অংশ হবে না। তবে ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে চালু হবে।

    কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

    নয়া পাঠ্যক্রমের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল নবম ও দশম শ্রেণিতে কম্পিউটেশনাল থিংকিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বাধ্যতামূলক করা। শুরুতে এগুলি মডিউল আকারে থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন হবে। তবে ২০২৯ সালের মধ্যে এগুলি পূর্ণাঙ্গ বোর্ড পরীক্ষার বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Three Language Rule)। সিবিএসই নবম শ্রেণিতে গণিত ও বিজ্ঞানের জন্য দুই-স্তরের ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতা ও আগ্রহ অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড বা অ্যাডভান্সড স্তর বেছে নিতে পারবে। অ্যাডভান্সড স্তরের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত এক ঘণ্টার ২৫ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হবে, যেখানে সাধারণ সিলেবাসের বাইরে প্রশ্ন থাকবে। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তবেই ফল অন্তর্ভুক্ত হবে মার্কশিটে।

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টরের বক্তব্য

    সিবিএসইর অ্যাকাডেমিক ডিরেক্টর প্রজ্ঞা সিংয়ের মতে, এনসিইআরটির সঙ্গে যৌথভাবে মানসম্মত পাঠ্যপুস্তক তৈরি করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য একরূপ ও উচ্চমানের শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করবে (CBSE)। বিদেশে পরিচালিত সিবিএসই-সংযুক্ত স্কুলগুলির জন্য নমনীয়তা রাখা হয়েছে। যেখানে দেশের ভেতরের স্কুলগুলিকে দুটি ভারতীয় ভাষা পড়াতে হয়, সেখানে আন্তর্জাতিক স্কুলগুলিতে একটি ভারতীয় ভাষাই বাধ্যতামূলক থাকবে। গত বছরের সিবিএসই সার্কুলারের নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছিল প্রস্তুতিমূলক স্তর থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অন্তত একটি ভারতীয় ভাষাকে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

    ভাষাগত বৈচিত্র্য

    ভাষাগত বৈচিত্র্য বাড়াতে সিবিএসই ভাষার তালিকাও সম্প্রসারণ করেছে (Three Language Rule)। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এখন ডোগরি, মৈথিলি, কোকনি ও সাঁওতালি ভাষা পড়ার সুযোগ পাবে। এর ফলে ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফশিলে অন্তর্ভুক্ত ২২টি ভাষাই এখন এই বোর্ডের আওতায় এসেছে। এই সংস্কারগুলি সিবিএসইর মূল্যায়ন পদ্ধতিতে ধীরে ধীরে কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন, মডিউলার বিষয় এবং উন্নত স্তরের বিকল্প চালুর মাধ্যমে বোর্ড একমাত্রিক পদ্ধতি থেকে সরে এসে আরও নমনীয় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে (CBSE)।

     

  • CBSE: দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রযুক্তি, ঘোষণা সিবিএসই-র

    CBSE: দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং প্রযুক্তি, ঘোষণা সিবিএসই-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার মূল্যায়ন দ্রুততর করা এবং স্বচ্ছতা উন্নত করার লক্ষ্যে একটি বড় পরিবর্তনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (CBSE) ২০২৬ সালের বোর্ড পরীক্ষা থেকে দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য অন-স্ক্রিন মার্কিং (OSM) চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই পদক্ষেপটি ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং পরীক্ষা-সম্পর্কিত কাজে আরও দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এটি কেন্দ্রীয় বোর্ডের বড় প্রচেষ্টা হবে। তবে, সিবিএসই জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দশম শ্রেণির পরীক্ষার (12 Board Exams) উত্তরপত্রের মূল্যায়ন আগের মতো পুরনো পন্থা বা ম্যানুয়ালি করা হবে।

    কেন এমন পদক্ষেপ?

    সিবিএসই (CBSE) প্রতি বছর ভারত এবং ২৬টি দেশে দশম-দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড (12 Board Exams) পরীক্ষা পরিচালনা করে, যার ফলে প্রায় ৪৬ লক্ষ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এই মূল্যায়নকে একটি বৃহৎ এবং সময়সাপেক্ষ অনুশীলন বলে অনেকে মনে করে থাকেন। আর তাই সিবিএসই (12 Board Exams) বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    সিবিএসই কী বলল

    সিবিএসই-র (CBSE) পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ডঃ সান্যম ভরদ্বাজ বলেন, “মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় দক্ষতা এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির জন্য বোর্ড নিরন্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে অন-স্ক্রিন মার্কিং চালু করছে। ৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ বোর্ডের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এই উদ্যোগটি মূল্যায়ন (12 Board Exams) প্রক্রিয়াকে সহজতর করা হবে। ধীরে ধীরে ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরতা হ্রাস পাবে।”

    কেন সিবিএসই অন-স্ক্রিন মার্কিংয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

    সিবিএসই (CBSE) দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্রের ডিজিটাল মূল্যায়নে পরিবর্তনের পিছনে একাধিক কারণ তালিকাভুক্ত করেছে। এই কারণগুলি হল নিম্নরূপ-

    • ১> সমস্ত স্কুলগুলির শিক্ষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত মূল্যায়ন করা।
    • ২> মোট নম্বর গণনায় ত্রুটি দূর করা, কারণ নম্বর স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণনা করা হয়।
    • ৩> স্বয়ংক্রিয় সমন্বয়, ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপ এবং ভুলের সুযোগ হ্রাস করা।
    • ৪> ফলাফল দেরিতে প্রকাশকে কমাতে, ফলাফল-পরবর্তী নম্বর যাচাইয়ের প্রয়োজন হবে না।
    • ৫>  যাচাই-সম্পর্কিত কাজের জন্য লোকজন কম নিয়োগ করতে হবে।
    • ৬> পরিবহণের সময় এবং খরচ সাশ্রয় হবে, কারণ বাস্তব উত্তরপত্র স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে না।
    • ৭> শিক্ষকরা তাদের নিজস্ব স্কুলে থাকতে পারবেন এবং মূল্যায়নের সময় নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
    • ৮> মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অবদান রাখার জন্য সমস্ত অনুমোদিত স্কুলের সুযোগ থাকবে।
    • ৯> কেবল ভূগোলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বব্যাপী সিবিএসই-অনুমোদিত স্কুলের শিক্ষকদের অংশগ্রহণ থাকবে।
    • ১০> পরিবেশ-বান্ধব মূল্যায়ন, টেকসই ডিজিটাল প্র্যাকটিসে যাওয়ার ভাবনাকে সিবিএসই সমর্থন করবে।

    স্কুলগুলিকে কী প্রস্তুতি নিতে হবে?

    অন-স্ক্রিন মার্কিং-এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার জন্য, সিবিএসই (CBSE) স্কুলগুলিকে প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির নিশ্চয়তাকে আগে সম্পন্ন করতে হবে। স্কুলগুলিতে অবশ্যই পরিকাঠামোর ভাবনা থাকবে। তার জন্য যা যা করতে হবে তা তা হল-

    • ১> অ্যাফিলিয়েশন বাই-ল অনুসারে, একটি পাবলিক স্ট্যাটিক আইপি সহ একটি কম্পিউটার ল্যাব প্রয়োজন।
    • ২> উইন্ডোজ ৮ বা তার বেশি অপারেটিং সিস্টেমের পিসি বা ল্যাপটপ, কমপক্ষে ৪ জিবি র‍্যাম এবং সি ড্রাইভে ১ জিবি খালি জায়গা লাগবে।
    • ৩> ক্রোম, এজ, ফায়ারফক্স, অথবা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের মতো আপডেট করা ইন্টারনেট ব্রাউজার অত্যন্ত আবশ্যক।
    • ৪> অ্যাডোবি রিডার ইনস্টল করতে হবে।
    • ৫> সর্বনিম্ন ২ এমবিপিএস গতিতে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ রাখতে হবে।
    • ৬> নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ রাখতে হবে।

    সিবিএসই কীভাবে এই পরিবর্তনকে সমর্থন করবে?

    স্কুল এবং শিক্ষকদের নতুন ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য, সিবিএসই বেশ কয়েকটি সহায়তা ব্যবস্থার রূপরেখা দিয়েছে। তার মধ্যে হল-

    • ১> ওএএসআইএস (OASIS) আইডি সহ সকল শিক্ষককে লগ ইন করতে এবং ওএসএম (OSM) প্ল্যাটফর্মের সাথে পরিচিত হতে অনুমতি নিতে হবে।
    • ২> শিক্ষকদের ডিজিটাল মূল্যায়ন প্র্যাকটিস সহায়তা করার জন্য একাধিক ড্রাই রান পরিচালনা করতে হবে।
    • ৩> সিস্টেমটি বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করতে হবে।
    • ৪> সমস্যা সমাধানের জন্য একটি নিবেদিতপ্রাণ কল সেন্টার স্থাপন করতে হবে।
    • ৫> শিক্ষকদের ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য নির্দেশনামূলক ভিডিও প্রকাশ করতে হবে।

    আলাদাভাবে বিস্তারিত নির্দেশাবলী জারি করবে

    সিবিএসই (CBSE) পরীক্ষা ব্যবস্থার জন্য আলাদাভাবে বিস্তারিত নির্দেশাবলী জারি করবে। যাতে সমস্ত স্টেকহোল্ডারদের সময়মত প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়। বোর্ড স্কুলগুলিকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে এবং ২০২৬ সালের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষার আগে অন-স্ক্রিন মার্কিং-এ রূপান্তরকে মসৃণ এবং কার্যকর করার জন্য তাদের সহযোগিতা চেয়েছে। এই বছর, সিবিএসই বোর্ডের দশম এবং দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষা ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে এবং ১০ এপ্রিল শেষ হবে। বোর্ড বছরে দুবার দশম শ্রেণী পরীক্ষা (12 Board Exams) পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দ্বিতীয় পরীক্ষা ১৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। উভয় পরীক্ষাই একই সিলেবাস অনুসরণ করবে।

  • Canadian University: কমেছে ভারতীয় পড়ুয়া-সংখ্যা, বিপাকে পড়ে ভারতে আসছেন কানাডার শিক্ষাকর্তারা

    Canadian University: কমেছে ভারতীয় পড়ুয়া-সংখ্যা, বিপাকে পড়ে ভারতে আসছেন কানাডার শিক্ষাকর্তারা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নির্বুদ্ধিতার (!) খেসারত দিতে ঢোঁক গিলতে হল কানাডাকে। কঠোর ভিসা নীতি এবং দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ২০২৩ সালের তুলনায় কানাডার উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (Canadian University) ভারতীয় (India) শিক্ষার্থীদের ভর্তি কমে গিয়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ। এই প্রবণতা উল্টে দিতে এবং অ্যাকাডেমিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কানাডার ২১ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আগামী মাসেই আসতে চলেছে ভারত সফরে।

    ইউনিভার্সিটিজ কানাডা আয়োজিত সফর (Canadian University)

    ইউনিভার্সিটিজ কানাডা আয়োজিত এই সফরটি অনুষ্ঠিত হবে ২ থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত। প্রতিনিধিদলটি গোয়া, নয়াদিল্লি এবং গুজরাট ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স টেক-সিটি সফর করবে। এই সফরের লক্ষ্য হল গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদার করা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় বৃদ্ধি করা এবং শিল্পখাতের সঙ্গে নতুন ও উদ্ভাবনী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা, যার মাধ্যমে উচ্চশিক্ষাকে নতুন করে কানাডা–ভারত সম্পর্কের একটি মূল স্তম্ভ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায়। এই উদ্যোগটি এসেছে অক্টোবর ২০২৫-এ ঘোষিত কানাডা–ভারত রোডম্যাপের পরপরই। ওই রোডম্যাপে শিক্ষা, ডিজিটাল রূপান্তর এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতায় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যে একটি যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) নিয়ে আলোচনাও শুরু হয়েছে।

    ভারতে কানাডার হাইকমিশনার

    ভারতে কানাডার হাইকমিশনার ক্রিস্টোফার কুটার এই সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি “বড় পদক্ষেপ” বলে অভিহিত করেন। তিনি টেকসই উন্নয়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে যৌথ উদ্ভাবনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন। এদিকে, কানাডায় ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ পটনায়েক বলেন, “এই প্রতিনিধিদল দীর্ঘমেয়াদি অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে, বিশেষত গবেষণা ও প্রতিভা উন্নয়নে কানাডার ১.৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার ফেডারেল বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে (India)।” এই উদ্যোগটি এমন একটা সময়ে এসেছে, যখন কানাডার শিক্ষা খাত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার ধাক্কায় বিপর্যস্ত। একসময় কানাডার মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশই ছিলেন ভারতীয়। কিন্তু ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে নতুন স্টাডি পারমিট অনুমোদন নেমে এসেছে মাত্র ৫২,৭৬৫-এ, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ প্রায় ২ লাখ ৭৮ হাজার সংখ্যার তুলনায় আনুমানিক ৬৭ শতাংশ কম (Canadian University)।

    ভারত–কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি

    সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর আগমন প্রায় ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। কয়েক মাসে ভারতীয় আবেদনের হার কমেছে ৮০ শতাংশ, আর প্রত্যাখ্যানের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪ শতাংশে, যা ২০২৩ সালের ৩২ শতাংশের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এই পতনের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন স্টাডি পারমিটের ওপর কানাডার ৩,১৬,২৭৬টি সীমা, জালিয়াতি শনাক্তে কড়াকড়ি, আর্থিক সামর্থ্যের কঠোর প্রমাণের শর্ত এবং পড়াশোনা-পরবর্তী কাজের সুযোগে বিধিনিষেধ। এছাড়াও, ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কর্তৃক খালিস্তানি সন্ত্রাসী হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে ভারতের জড়িত থাকার অভিযোগকে ঘিরে ভারত–কানাডা কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং তার জেরে ভারতীয় পরিবারগুলির মধ্যে কানাডায় পড়াশোনার আগ্রহ কমেছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে

    এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে আন্তর্জাতিক টিউশন ফি-নির্ভর কানাডার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর। ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, গত তিন বছরে তাদের ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিতে আনুমানিক ১০.৫ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার আয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে অন্টারিওর মতো প্রদেশে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভারতীয়দের অংশ ৬০ শতাংশেরও বেশি, সেখানে ছোট কলেজগুলি ক্ষতি সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে বৃত্তি ও অনলাইন প্রোগ্রাম চালু করেছে (India)।

    এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিনিধিদলটি মজবুত ট্রান্সন্যাশনাল শিক্ষা মডেল— যেমন, ভারতেই থেকে কানাডিয়ান ডিগ্রি অর্জনের “স্টাডি ইন ইন্ডিয়া” সুযোগের ওপর জোর দেবে, যাতে শিক্ষার মান বজায় রেখেই চলাচলের বাধা এড়ানো যায়। ইউনিভার্সিটিজ কানাডার সভাপতি জয় জনসন এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মিশনের উদ্দেশ্য চ্যালেঞ্জকে সুযোগে পরিণত করা। ভারতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমরা এমন সমাধান তৈরি করতে পারি, যা উভয় দেশের জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির জন্য লাভজনক (Canadian University)।” এদিকে, ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ বিকল্পের দিকে ঝুঁকছেন। ২০২৫ সালে ভারত থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সামগ্রিকভাবে ৫.৭ শতাংশ কমেছে (India)।

     

  • CBSC: পরীক্ষার চাপ কমাতে দশম, দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য মানসিক কাউন্সেলিং চালু করবে সিবিএসই

    CBSC: পরীক্ষার চাপ কমাতে দশম, দ্বাদশের পড়ুয়াদের জন্য মানসিক কাউন্সেলিং চালু করবে সিবিএসই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE) ২০২৬ সালের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা শুরু হতে চলেছে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। ঠিক তার আগে পড়ুয়াদের পরীক্ষার উদ্বেগ ও চাপ মোকাবিলার জন্য তাদের মনো-সামাজিক কাউন্সেলিং কর্মসূচির প্রথম পর্ব শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ আগামী ১ জুন পর্যন্ত চলবে, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পরের সময় পর্যন্তও এই পরিষেবা চলবে।

    শিক্ষার প্রতি একটি সামগ্রিক দায়িত্ববোধ কেমন তা সিবিএসই কাউন্সিলিং কাজের মধ্য দিয়ে প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছে। ছাত্রছাত্রীদের মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক স্বাস্থ্যকেও শিক্ষাগত সাফল্যের মতোই অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। আর তাই পরীক্ষা সংক্রান্ত মানসিক অবসাদকে দূরকরতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    এই কাউন্সেলিং কর্মসূচির মূল বৈশিষ্ট্যগুলি (CBSC):

    ২৪×৭ টেলি-কাউন্সেলিং: টোল-ফ্রি নম্বর 1800-11-8004 এর মাধ্যমে দিনরাত এই সহায়তা পাওয়া যাবে। ইন্টারেক্টিভ ভয়েস রেসপন্স সিস্টেম (IVRS)-এর মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা, অনুপ্রেরণা এবং অধ্যয়নের সময় ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ব-রেকর্ড করা তথ্য হিন্দি ও ইংরেজিতে উপলব্ধ। এছাড়া, প্রশিক্ষিত পেশাদারদের সাথে সরাসরি কথা বলার মাধ্যমে ব্যক্তিগত সহায়তাও পাওয়া যাবে।

    বিশ্বব্যাপী সহায়তা: মোট ৭৩ জন প্রশিক্ষিত অধ্যক্ষ, কাউন্সেলর (Psycho Social Counselling), মনোবিজ্ঞানী এবং বিশেষ শিক্ষাবিদরা রয়েছেন। যাঁদের মাধ্যমে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়া হবে। তার মধ্যে ৬১ জন ভারতে এবং ১২ জন নেপাল, জাপান, কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE)-সহ বিদেশে রয়েছেন, যা বিশ্বব্যাপী সিবিএসই শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সহায়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে বিশেষ ভাবে সহযোগিতা করবে।

    অনলাইন সম্পদ: স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট, কার্যকর অধ্যয়নের কৌশল এবং মানসিক সুস্থতার উপর ডিজিটাল উপাদান সিবিএসই-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.cbse.gov.in) পাওয়া যাবে। সকলে ব্যবহার করতে পারবেন।

    কাউন্সেলিংয়ের বিষয়: কাউন্সিলিং পর্বে (Psycho Social Counselling) বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র পরীক্ষার চাপ নয়, বরং ব্যর্থতার ভয়, বাবা-মায়ের চাপ এবং পারফরম্যান্স সংক্রান্ত উদ্বেগ-এর মতো মানসিক চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতেও শিক্ষার্থীদের পথনির্দেশ দেবেন। এছাড়াও পরীক্ষার সময় স্বাস্থ্যকর রুটিন, পুষ্টি এবং রিল্যাক্সেশন বা আরামের অভ্যাস বজায় রাখার বিষয়ে পরামর্শও পেয়ে থাকবেন।

  • YUVA AI For ALL: ইন্ডিয়াএআই মিশনের অধীনে ১ কোটি যুবককে দেওয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাঠ

    YUVA AI For ALL: ইন্ডিয়াএআই মিশনের অধীনে ১ কোটি যুবককে দেওয়া হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাঠ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইন্ডিয়াএআই মিশনের অধীনে ইলেকট্রনিক্স এবং তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রক এবার (MeitY) সকলের জন্য যুবা এআই (YUVA AI For ALL) কোর্স চালু করেছে। এটি একটি বিনামূল্যের স্বল্পমেয়াদী কোর্স যা ভারত জুড়ে মানুষকে-বিশেষ করে তরুণদের-কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Mission) সম্পর্কে মৌলিক ধারণা অর্জনে সহায়তা করবে। খুব সহজ ভাবেই এর পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় গতিসম্পন্ন ৪.৫ ঘন্টার কোর্সের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বাস্তব জীবনের উদাহরণ। সবটাই খুব সহজ করে উপস্থাপনা করা হয়েছে। এআই শেখাকে আরও সহজ, আকর্ষণীয় এবং সম্পর্কিত করে তুলবে বলে বলা হয়েছে।

    ১ কোটি নাগরিককে মৌলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পাঠ (YUVA AI For ALL)

    এই কোর্সে (YUVA AI For ALL) তুলে ধরে হয়েছে কীভাবে এআই দিয়ে আরও বিশ্বাস যোগ্য করে তুলে ধরা যায়। রূপ থেকে রূপান্তর করাও একটা বড় বিদ্যা। শিক্ষার্থীদের এবং পেশাদারিত্বের কাজে এআই ব্যবহার করে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।  MeitY-এর লক্ষ্য হল ১ কোটি নাগরিককে মৌলিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে দক্ষ করে তোলা। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করা, নৈতিক ভাবে এআই ব্যবহার সহ একাধিক প্রচারকে সম্পন্ন করাও এই পাঠ্যক্রমের অন্যতম দিক।  ভবিষ্যতের জন্য ভারতে বিশেষ কর্মীবাহিনীকে প্রস্তুত করাও এই ভাবনার প্রধান লক্ষ্য। দেশের প্রতিটি কোণে এই কোর্সটি পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠান, স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি ইন্ডিয়াএআই-এর সঙ্গে সহযোগিতাম করতে পারবে বলে জানা গিয়েছে। ছয়টি সংক্ষিপ্ত মডিউলের মাধ্যমে, শিক্ষার্থীরা এই পাঠ্যক্রমে যুক্ত হতে পারেন।

    যুবা এআই ফর অল কোর্সে (YUVA AI For ALL) ঠিক কী কী অন্তর্ভুক্ত হয়েছে?

    • এআই আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা বুঝুন
    • শিক্ষা, সৃজনশীলতা এবং কর্মক্ষেত্রে এআই কীভাবে পরিবর্তন আনছে তা জানুন
    • নিরাপদে এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই সরঞ্জামগুলি কীভাবে ব্যবহার করবেন তা অন্বেষণ করুন
    • ভারত জুড়ে বাস্তব-বিশ্বের এআই অ্যাপ্লিকেশনগুলি দেখুন
    • এআই-এর ভবিষ্যৎ এবং উদীয়মান সুযোগগুলির এক ঝলক দেখুন

    আপনি কোথায় কোর্সটি করতে পারবেন?

    শিক্ষার্থীরা ফিউচারস্কিলস প্রাইম, আইজিওটি কর্মযোগী এবং অন্যান্য প্রধান শিক্ষা-প্রযুক্তি পোর্টালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলিতে কোর্সটি অ্যাক্সেস করতে পারবেন। যারা সফলভাবে এটি সম্পন্ন করবে তারা ভারত সরকারের কাছ থেকে একটি শংসাপত্র পাবেন।

    সরাসরি লিঙ্ক – ‘সকলের জন্য যুবা এআই’ (AI Mission) বিনামূল্যে কোর্স

    কীভাবে আবেদন করবেন?

    • প্রদত্ত লিঙ্কটি দেখার পর, “এনরোল” এ ক্লিক করুন এবং আপনার জিমেইল আইডি বা লিঙ্কডইন দিয়ে লগইন করুন।
    • আপনার ব্যক্তিগত বিবরণ, শিক্ষা, পেশা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবরণ লিখুন।
    • একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে, আপনি স্ব-গতির এআই কোর্সটি করতে পারবেন।
  • NCERT: সপ্তম শ্রেণির গণিত পাঠ্যে ভারতীয় গণিতজ্ঞদের সংযুক্ত করল এনসিইআরটি  

    NCERT: সপ্তম শ্রেণির গণিত পাঠ্যে ভারতীয় গণিতজ্ঞদের সংযুক্ত করল এনসিইআরটি  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনসিইআরটি (NCERT) এবার সপ্তম শ্রেণির গণিতের পাঠ্যপুস্তকে বীজগণিত এবং জ্যামিতিতে ভারতের প্রাচীন গণিতের পরম্পরা এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যকেই তুলে ধরতে চলেছে। এই সপ্তম শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ‘গণিত প্রকাশ পর্ব ২’-এ প্রাচীন ভারতীয় গণিত শাস্ত্রের চর্চাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় বীজগণিত-জ্যামিতি (Mathematical traditions) কীভাবে বিকশিত হয়েছিল তাকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একই ভাবে শিক্ষা কীভাবে সৃজনশীল এবং ব্যবহারিক অর্থবহ পণ্ডিত গণিতজ্ঞদের সম্পর্কেও তুলেও ধরা হয়েছে।

    বীজগণিত অনেক মূল ধারণা ভারতীয়দের তৈরি (NCERT)

    জাতীয় শিক্ষা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ এনসিইআরটি (NCERT) কর্তৃক প্রকাশিত নতুন সপ্তম শ্রেণির গণিত পাঠ্যপুস্তকে গুরুত্বপূর্ণ গণিত শিক্ষা এবং বিকাশের প্রাথমিক পাঠ্যকেই বিশেষ জায়গা দেওয়া হয়েছে। দ্যা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে এনসিইআরটি বলেছে, বীজগণিত সহ অনেক মূল ধারণা প্রথম ভারতীয় গণিতজ্ঞরাই আবিষ্কার করেছিলেন। তাই প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতদের জ্ঞান চর্চাকেই প্রাথমিক ভাবে পাঠদানের কাজের জন্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

    এনসিআরটি (NCERT) জানিয়েছে, একটি অধ্যায়ে পূর্ণসংখ্যা-ধনাত্মক-ঋণাত্মক-সংখ্যার ব্যাখ্যাকে ধরে ধরে করা আলোচনা করা হয়েছে। সপ্তম শতাব্দীর ভারতীয় গণিতবিদ ব্রহ্মগুপ্ত এবং তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ব্রহ্মস্ফুটসিদ্ধান্তের উল্লেখ করা হয়েছে। এই বইতে বলা হয়েছে, কীভাবে ধনাত্মক-ঋণাত্মক সংখ্যার গুণ-ভাগ করতে হয়। এটি গণিতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। পাটিগণিত এবং বীজগণিত গঠনে সহায়তা হিসবে এই ভাবনা অনন্য। ব্রহ্মগুপ্তের নিয়ম এবং তাঁর পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে অনুশীলনগুলিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বীজগণিতের উপর ভারতের কাজ বিশ্বের প্রাচীনতম কাজগুলির মধ্যে একটি অন্যতম ছিল। বীজগণিতীয় সমীকরণের একটি অংশে ‘বিজগনিতা’ শব্দটি উল্লেখ এখন বীজগণিতের সাথে যুক্ত হয়েছে। প্রাচীন ভারতে গাণিতিক অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল প্রতীক ব্যবহার করে রাশি গঠন করা। আর এই ধরনের রাশি দিয়ে যে কোনও সমীকরণকে সমাধান করা হয়। বইতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, ব্রহ্মগুপ্ত অজানা সংখ্যা বোঝাতে অক্ষর ব্যবহার করতেন আর তাই হল বীজগণিতীয় চিন্তাভাবনার প্রাচীনতম উদাহরণ।

    ভারতীয় গাণিতিক (Mathematical traditions) জ্ঞান কীভাবে বিশ্বের অন্যান্য অংশে পৌঁছেছিল। জানা গিয়েছে, ৮ম শতাব্দীতে ভারতীয় গাণিতিক ধারণাগুলি আরবি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছিল। বর্তমান ইরাকের গণিতবিদ আল-খোয়ারিজমিকে প্রভাবিত করেছিল। ৮২৫ খ্রিস্টাব্দ তিনি হিসাব আল-জাবর ওয়াল-মুকাবালা লিখেছিলেন, যার অর্থ “পুনরুদ্ধার এবং ভারসাম্য বজায় রেখে গণনা করা। ব্রহ্মগুপ্তের সময়ে ভারতীয় গণিতবিদদের ব্যবহৃত প্রতীকগুলির তালিকাও দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে দ্বাদশ শতাব্দীতে ভাস্করাচার্যের লেখা বীজগণিতের একটি গণিত সমস্যাও পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরার জন্য বড় পদক্ষেপ

    স্কুলপাঠ্যে জ্যামিতির একটি অধ্যায় “Constructions and Tilings”-এ প্রাচীন ভারতীয় গ্রন্থ “Sulba-Sutras” সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। যেখানে দড়ি দিয়ে লম্ব রেখা এবং দ্বিখণ্ডক কীভাবে তৈরি করতে হয় তাও ব্যাখ্যা (Mathematical traditions) করা হয়েছে। পূর্বে সপ্তম শ্রেণির গণিতের পাঠ্যপুস্তকে প্রাচীন ভারতীয় পণ্ডিতদের উল্লেখ ছিল না। এনসিইআরটি এখন জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) 2020 এবং জাতীয় পাঠ্যক্রম কাঠামোর অধীনে পাঠ্যপুস্তক গুলিকে সংস্করণ করছে। এই কাজ স্কুল শিক্ষায় ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা অন্তর্ভুক্ত করার বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।

  • NCERT: স্কুলের বিজ্ঞান পাঠ্যে আয়ুর্বেদ পড়ানো হবে, জানাল এনসিইআরটি

    NCERT: স্কুলের বিজ্ঞান পাঠ্যে আয়ুর্বেদ পড়ানো হবে, জানাল এনসিইআরটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির এনসিইআরটি-র (Ayurveda Chapters) বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। ছাত্র–ছাত্রীদের প্রাচীন ভারতীয় বিজ্ঞান, চিকিৎসা ব্যবস্থা, পরম্পরা, ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান দেওয়ার জন্য এই পাঠ্যক্রমকে বিশেষ জায়গা দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সাল থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর শুরু করেছে মোদি সরকার। প্রাচীন ভারতের জ্ঞান-পরম্পরা সম্পর্কে সঠিক ভাবে জানা, ভারতীত্ববোধে পড়াশোনা করার সিলেবাস গঠন এবং তাকে  কার্যকরতে বিশেষ ভাবে সক্রিয় হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রক।

    কীভাবে পড়ানো হবে (Ayurveda Chapters)?

    এনসিইআরটি শিক্ষা ব্যবস্থায় আয়ুর্বেদকে (Ayurveda Chapters) অন্তর্ভুক্তি করে জানিয়েছে, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছেলে মেয়েরা এবার থেকে বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে আয়ুর্বেদ পড়বে। আয়ুর্বেদ প্রাচীন ভারতের একটি উল্লেখযোগ্য জ্ঞানকাণ্ড। সভ্যতার জন্মলগ্ন থেকেই আয়ুর্বেদ (NCERT) চর্চা হয়ে আসছে। এবার এই জ্ঞান চর্চার ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে রাখা হয়েছে। বেসরকারি একটি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, এনসিইআরটি একই ভাবে উচ্চ শ্রেণির শিক্ষা পাঠক্রমে যথা কলেজগুলিতেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সহযোগিতার কাজে পরিকল্পনা করছে। ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি আয়োগ রীতিমতো ভাবনা চিন্তা শুরু করে পাঠ্যক্রম তৈরির কাজে একাধিক পদক্ষেক গ্রহণ করেছে।

    কিউরিওসিটি-র তৃতীয় অধ্যায়

    এনসিইআরটির (NCERT) নির্দেশক দীনেশ প্রসাদ সাকলানি বলেছেন, বিজ্ঞানের পাঠ্যপুস্তকে আয়ুর্বেদ যুক্ত করে সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থাকে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শরীর, বিদ্যা এবং মনকে একদিকে পরিচালিত করতে অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকে কিউরিওসিটি-র তৃতীয় অধ্যায়ে পরিচয় হিসেবে রাখা হয়েছে। দৈনিক জীবন, ঋতকালীন পরিচর্চা, শরীরের জন্য পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়াম ইত্যাদি বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

    আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব বলেছিলেন, “এনসিইআরটি, ইউজিসি উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের কোর্স মডিউল তৈরি করতে এক যোগে কাজ করছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্বাস্থ্য এবং নীতিগত শিক্ষা সম্পর্কে যেন ভালো করে জানতে পারে তাই এই প্রচেষ্টা চলছে। একই ভাবে নীতি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষণ পদ্ধতি এবং স্কীল ডেভলোপমেন্ট বিষয়ে ভাবনা চিন্তা করা হচ্ছে। আর তাই পাঠ্যে আয়ুর্বেদ (Ayurveda Chapters) যুক্ত করা হয়েছে।”

LinkedIn
Share