Category: পড়াশোনা

Get updated Education and Career news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    New Syllabus: ক্লাস ওয়ান থেকেই পুরো বদলে যাবে সিলেবাস, পোশাকে বাদ বিশ্ব-বাংলা লোগো জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

    মাধ্যমিক নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি (New Syllabus) কার্যকর করার সঙ্গে সঙ্গেই এবার সিলেবাস পরিবর্তনের কথা জানিয়ে দিলেন রাজ্যের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ। প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে পুরো সিলেবাস আমুল বদলে যাবে বলে বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ইতিমধ্যে সিলেবাস কাম কারিকুলাম কমিটি গড়েছে রাজ্য। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ীই বদল করা হবে সিলেবাসে। ২০২৭-এর শিক্ষাবর্ষেই পড়ুয়ারা পরিমার্জিত সিলেবাস পাবে। অর্থাৎ, পাঠ্যবইয়ে বদল আসবে। আর ২০২৮ থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি পুরোপুরি কার্যকর হলে সেই নীতিকে সামনে রেখে প্রথম শ্রেণি থেকে পুরো বদলে যাবে সিলেবাস। ফের বদলাবে বই।

    বর্তমানের উপযোগী সিলেবাস

    দীপক বর্মণ বলেন, “আজকের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য যে সিলেবাস প্রয়োজন, সেটা করা হবে। মাঝে মাঝেই এভাবে রিভিউ কমিটি তৈরি করা হয়ে থাকে, সেরকমই কমিটি তৈরি করা হয়েছে। কমিটির প্রথম পরিকল্পনা, ২০২৭-এ যে বই বেরবে, সেগুলি রিভিউ করা হবে। ২০২৮-এ শিক্ষানীতি অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে। কমিটি যা সুপারিশ করবে, সেই অনুযায়ী সিলেবাস তৈরি হবে।” দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেই ওই কমিটি সিলেবাস তৈরি করছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

    নীল-সাদা রং নয়, বাদ বিশ্ব বাংলা লোগো

    স্কুলের ক্ষেত্রে একাধিক বদল ইতিমধ্যেই এনেছে রাজ্য সরকার। স্কুল ইউনিফর্ম থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব বাংলা লোগো। অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য ইউনিফর্মের রং পরিবর্তন করার কথাও আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। নীল নয়, প্রতিটি স্কুল নিজের মতো রঙ পছন্দ করতে পারবে। ২০১৮-য় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের তরফে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও পোষিত স্কুলে নীল-সাদা রং করার জন্যে সরকারি নির্দেশিকা জারি হয়েছিল। তৎকালীন স্কুলশিক্ষা সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালের পাঠানো নির্দেশে বলা হয়েছিল, সরকারি নিয়মে যে রঙের কথা বলা আছে, সেটাই করতে হবে। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকারের আমলে নীল-সাদাই ছিল সরকারি রং। সেজন্য অর্থ সরকারই দিয়েছে। ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু স্কুল অবশ্য সেই পথে এখনও হাঁটেনি।

    স্কুল-ছুট রুখতে পদক্ষেপ

    পাশাপাশি স্কুল-ছুট রুখতে ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং’ (এনআইওওএস)-এর সঙ্গে মউ সই হয়েছে সরকারের। এক রাজ্য থেকে অন্যত্র কোনও পরিবার বা পড়ুয়া স্থানান্তিরত হলে যাতে তার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই মউ সই হয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত স্তরেও যাতে এমন সেন্টার খোলা যায়, সেই চেষ্টাও হবে বলে জানিয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর।

     

     

     

     

  • UPSC Recruitment: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর, ২০২৭ সালের UPSC পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    UPSC Recruitment: সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় খবর, ২০২৭ সালের UPSC পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর জন্য বড় খবর। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদে সরাসরি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (UPSC Recruitment)। পাশাপাশি, ২০২৭ সালের সিভিল সার্ভিস, এনডিএ, সিডিএস, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্যালেন্ডার আগেভাগেই প্রকাশ করল ইউপিএসসি। একই সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রক ও দফতরে সরাসরি নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে কমিশন (UPSC Recruitment)। ফলে পরীক্ষার্থীরা এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির রোডম্যাপ তৈরি করার সুযোগ পাবেন।

    অনলাইনেই আবেদন

    UPSC জানিয়েছে, ২৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ১৪ অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। আবেদন করতে হবে শুধুমাত্র অনলাইন রিক্রুটমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (ORA) পোর্টালের মাধ্যমে। অফলাইনে কোনও আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

    কোন পদে নিয়োগ (UPSC Recruitment)?

    প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-র তথ্য অনুযায়ী, UPSC Advertisement No. 9/2026 এবং Special Advertisement No. 51/2026 প্রকাশ করেছে। এই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক শূন্যপদে নিয়োগ করা হবে। প্রতিটি পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়সসীমা, অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য শর্ত আলাদা। তাই আবেদন করার আগে বিজ্ঞপ্তিটি ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে UPSC।

    পরীক্ষার সময়সূচি?

    এটি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার মতো লিখিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ নয়। এখানে প্রার্থীদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য নির্ধারিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে বাছাই করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী শর্টলিস্টিং, লিখিত পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। ২০২৭ সালের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ-

    • কম্বাইন্ড জিও-সায়েন্টিস্ট (প্রিলিমিনারি): ১০ জানুয়ারি, ২০২৭
    • ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (প্রিলিমিনারি) এক্সামিনেশন: ৩১ জানুয়ারি, ২০২৭
    • সিবিআই ডিএসপি এলডিসিই: ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭
    • সিআইএসএফ অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট (এক্সিকিউটিভ) এলডিসিই: ১৪ মার্চ, ২০২৭
    • এনডিএ অ্যান্ড এনএ (আই) এবং সিডিএস (আই): ১১ এপ্রিল, ২০২৭
    • সিভিল সার্ভিসেস (প্রিলিমিনারি): ২৩ মে, ২০২৭
    • ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (মেইন): ১৮ জুন, ২০২৭
    • আইইএস/আইএসএস এক্সামিনেশন: ১৮–২০ জুন, ২০২৭
    • কম্বাইন্ড জিও-সায়েন্টিস্ট (মেইন): ১৯–২০ জুন, ২০২৭
    • সিএপিএফ (অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্টস): ৪ জুলাই, ২০২৭
    • কম্বাইন্ড মেডিক্যাল সার্ভিসেস: ১৮ জুলাই, ২০২৭
    • সিভিল সার্ভিসেস (মেইন): ২০ অগাস্ট থেকে পাঁচ দিন, ২০২৭
    • এনডিএ অ্যান্ড এনএ (আইআই) এবং সিডিএস (আইআই): ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৭
    • ইন্ডিয়ান ফরেস্ট সার্ভিস (মেইন): ২১–২৭ নভেম্বর, ২০২৭
    • এসও/স্টেনো (জিডি-বি/জিডি-আই) এলডিসিই: ১৮–১৯ ডিসেম্বর, ২০২৭

    কেন এই ক্যালেন্ডার (UPSC Exam Calendar 2027) গুরুত্বপূর্ণ?

    UPSC আগেভাগেই ২০২৭ সালের পরীক্ষার ক্যালেন্ডার (UPSC Exam Calendar 2027) প্রকাশ করায় পরীক্ষার্থীরা অনেক আগে থেকেই নিজেদের প্রস্তুতির পরিকল্পনা করতে পারবেন। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক UPSC পরীক্ষায় বসার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য এই সূচি অত্যন্ত সহায়ক হবে। পাশাপাশি কোচিং প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মরত চাকরিপ্রার্থীরাও নির্ধারিত পরীক্ষার তারিখ অনুযায়ী নিজেদের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের সময়সূচি সাজিয়ে নিতে পারবেন। অন্যদিকে, সরাসরি নিয়োগের এই বিজ্ঞপ্তি এমন প্রার্থীদের জন্যও বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে, যাঁদের বিশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে, কিন্তু তাঁরা সিভিল সার্ভিসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন না। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

    আবেদনকারীদের সতর্কতা

    তবে আবেদনকারীদের সতর্ক করে UPSC জানিয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য শুধুমাত্র কমিশনের সরকারি বিজ্ঞপ্তি ও সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে কমিশন স্পষ্ট করেছে, প্রশাসনিক প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন কিংবা পরীক্ষার সূচিতে পরিবর্তন আনা হতে পারে। তাই আবেদনকারীদের নিয়মিত UPSC-র সরকারি ওয়েবসাইটে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    NTA: এনটিএতে বড়সড় শুদ্ধি অভিযান, বরখাস্ত ৪৭ আধিকারিক, সাইবার নিরাপত্তা থেকে ফরেনসিক তদন্তে বিশেষজ্ঞ নিয়োগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-তে (NTA) বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল শুরু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং (Young Professionals) নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সংস্থার ৪৭ জন আধিকারিক ও কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, ফরেনসিক তদন্ত, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা এবং মূল্যায়ন গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ নেতৃত্ব গড়ে তুলে সংস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর কাজও শুরু হয়েছে। শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ খবর জানা গিয়েছে।

    বরখাস্ত বহু আধিকারিক (NTA)

    এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে মেডিকেল শিক্ষায় ভর্তির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা। ওই ঘটনার জেরে ৩ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করতে হয়, এবং প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থীকে ২১ জুন ফের পরীক্ষায় বসতে হয়। ঘটনার পর থেকেই এনটিএর ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয় এবং পরীক্ষা পরিচালনার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের বরখাস্ত করা হয়েছে তাঁদের শুধু অন্যত্র বদলি করা হয়নি বা দায়িত্ব থেকে সরানো হয়নি, সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তবে তাঁদের নাম, পদমর্যাদা বা নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশ করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। পাশাপাশি বিভাগীয় তদন্তও চলবে। জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় ব্যর্থতার জন্য কার কী দায় ছিল, তা চিহ্নিত করার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। আগামী দিনে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

    তৈরি হচ্ছে নয়া কাঠামো

    এনটিএর পুনর্গঠনের প্রথম পর্যায়ে চারজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে ১৬ জন তরুণ পেশাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে কে রাধাকৃষ্ণণের নেতৃত্বাধীন পর্যবেক্ষণ কমিটি। শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এই কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। নতুন জেনারেল ম্যানেজারদের তিন বছরের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে এবং তাঁরা সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ পরিচালনা করবেন (Young Professionals)। নতুন কাঠামোয় মূল্যায়ন ও মনস্তাত্ত্বিক পরিমাপ সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান প্রশ্নভাণ্ডার তৈরি, নম্বরের সামঞ্জস্য নির্ধারণ, প্রশ্নপত্রের মান নির্ধারণ, কম্পিউটারভিত্তিক অভিযোজিত পরীক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক মূল্যায়ন ব্যবস্থার দায়িত্বে থাকবেন। অন্যদিকে পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা বিভাগের প্রধান দেশের পাঁচশোরও বেশি শহর এবং বিদেশের নির্বাচিত পরীক্ষা কেন্দ্রগুলির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। পরীক্ষা কেন্দ্র নির্বাচন, অনুমোদন, পরিকাঠামো, পরীক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ-সুবিধা, পরীক্ষার দিন পরিচালনা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে (NTA)।

    সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক

    তথ্য নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সংস্থার প্রধান তথ্য নিরাপত্তা আধিকারিক হিসেবে কাজ করবেন। সংস্থার তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা, নেটওয়ার্ক, সফটওয়্যার, পরীক্ষার্থীদের তথ্যভাণ্ডার, সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র এবং তথ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিধি মেনে চলার বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে কম্পিউটার জরুরি প্রতিক্রিয়া সংক্রান্ত জাতীয় সংস্থার নির্দেশিকাও কার্যকর করার দায়িত্ব তাঁর ওপর থাকবে। এছাড়া সতর্কতা, তদন্ত এবং ফরেনসিক বিভাগের প্রধান পরীক্ষায় অনিয়ম সংক্রান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দেবেন। সংস্থার নিজস্ব ডিজিটাল ফরেনসিক সক্ষমতা গড়ে তোলার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা, গোয়েন্দা ব্যুরো, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং সাইবার অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে সমন্বয় করে তদন্ত পরিচালনা করবেন। সরকারি পরীক্ষায় অসাধু উপায় রোধে প্রণীত ২০২৪ সালের আইনের আওতায় এই তদন্তগুলি পরিচালিত হবে (Young Professionals)। ‘প্রতিভা সেতু’ পোর্টালের মাধ্যমে যে তরুণদের নিয়োগ করা হবে, তাঁরা সকলেই কেন্দ্রীয় লোকসেবা কমিশনের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও, চূড়ান্ত মেধাতালিকায় স্থান পাননি। এই পোর্টালের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ ঘটানো হয় (NTA)।

    পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তন

    মোট ১৬টি পদের মধ্যে ১২টি থাকবে অ্যাকাডেমিক গবেষণায়, দু’টি আইনি গবেষণায় এবং দু’টি অর্থ ও হিসাব বিভাগে। প্রথমে ২৪ মাসের জন্য নিয়োগ করা হবে। কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে সেই মেয়াদ বাড়িয়ে ৩৬ মাস পর্যন্ত করা যেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, অস্থায়ী কর্মীর ওপর এনটিএর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো। বর্তমানে সংস্থায় স্থায়ী পদের সংখ্যা ৩৯। এর মধ্যে মাত্র ২৪টি পদ পূরণ হয়েছে। অন্যদিকে চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ৭৩ এবং আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত কর্মীর সংখ্যা ১২৪। এই ভারসাম্য বদলাতে চায় কেন্দ্র। রাধাকৃষ্ণণ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মোট ১০টি কার্যকরী বিভাগে আগামী দিনে আরও নিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদকদেরও নতুন করে তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে (NTA)। পরীক্ষা পরিচালনার পদ্ধতিতেও বড়সড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে নিট-ইউজি আর ওএমআর শিটে হবে না। পরিবর্তে সম্পূর্ণ কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়া হবে। এর ফলে যৌথ প্রবেশিকা (মেইন) এবং কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অভিন্ন প্রবেশিকা পরীক্ষার ধাঁচের সঙ্গে নিট-ইউজির সামঞ্জস্য তৈরি হবে (Young Professionals)।

    সংরক্ষিত থাকবে ডিজিটাল রেকর্ড

    সরকারের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে প্রশ্নপত্রের হার্ড কপি পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে। একাধিক প্রশ্নসেট ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি ধাপের ডিজিটাল রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। তবে এজন্য নিরাপদ পরীক্ষা কেন্দ্র, আরও শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয় গড়ে তুলতে হবে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের নথিভুক্তিকরণ, পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনা, প্রযুক্তিগত পরিষেবা এবং গোপনীয় নথি সংরক্ষণের মতো ক্ষেত্রে আউটসোর্সিং ব্যবস্থাও নতুন করে পর্যালোচনা করছে কেন্দ্র। নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি সংস্থার দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। নিরীক্ষা ও পটভূমি যাচাই আরও কঠোর করা হবে। সংবেদনশীল তথ্যের সঙ্গে যুক্ত সংস্থার সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও ব্যর্থতা ধরা পড়লে আরও কঠোর শাস্তির বিধান কার্যকর করা হবে (NTA)।

     

  • Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    Indian Students: আমেরিকার বদলে ইউরোপে ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা, জানুন কারণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় পড়ুয়াদের (Indian Students) প্রথম পছন্দ ছিল আমেরিকা। উন্নত শিক্ষা, গবেষণার সুযোগ এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কারণে বহু দশক ধরে দেশটি ছিল ভারতীয় শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের গন্তব্য। দীর্ঘদিনের চেনা এই ছবিটাই বদলে যাচ্ছে দ্রুত। কড়া অভিবাসন নীতি, ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা, বাড়তে থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ইউরোপের নতুন সুযোগ-সুবিধার কারণে ক্রমশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে (US) ঝুঁকছেন ভারতীয় পড়ুয়ারা। খবরে প্রকাশ, শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্তারা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, ইতালি, স্পেন এবং আয়ারল্যান্ড এখন আমেরিকা, কানাডা ও ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে।

    ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার (Indian Students)

    এই পরিবর্তন অবশ্য নতুন নয়। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে প্রায় এক লাখ কুড়ি হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইউরোপে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। একই সময়ে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি ও আয়ারল্যান্ডে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভর্তির হার বেড়েছে প্রায় ৬৮.৩৩ শতাংশ। শিক্ষা-প্রযুক্তি সংস্থা জ্ঞানধনের তথ্য বলছে, আমেরিকাকে উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেওয়া ভারতীয় শিক্ষার্থীর হার ২০২৩ সালে ছিল ৫৪ শতাংশ। ২০২৪ সালে তা নেমে আসে ২৬ শতাংশে, ২০২৫ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে। একই সময়ে ইউরোপে পড়াশোনার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪ সালে শুধু জার্মানিতেই ছিলেন ৪৩ হাজারেরও বেশি ভারতীয় শিক্ষার্থী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা আরও অনেকটাই বাড়বে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের। বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত সংস্থা ‘আপগ্র্যাড স্টাডি অ্যাব্রড’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপ বিদেশে পড়াশোনার দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। জার্মানি ও ফ্রান্সে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের বছর বাইশের এক প্রযুক্তিবিদ্যায় স্নাতকের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে আমেরিকায় পাঠাতে চাইলেও, তিনি শেষ পর্যন্ত স্নাতকোত্তর পড়াশোনার জন্য বেছে নেন জার্মানিকেই।

    ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব

    জানা গিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির পর ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রতি ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে (Indian Students)। এই চুক্তিতে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের জন্য সহজতর ভিসা ব্যবস্থা, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগের স্পষ্ট রূপরেখা এবং ভারতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি সংক্রান্ত একাধিক পদক্ষেপের কথা রাখা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক কর্তা সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে বলেন, “ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন গতিশীলতা কাঠামো বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য ভারতীয় শিক্ষার্থী ও দক্ষ জনশক্তিকে আকৃষ্ট করে ইউরোপকে আন্তর্জাতিক প্রতিভার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।” বিদেশে পড়াশোনার প্ল্যাটফর্ম লিপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা অনব কুমার সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “প্রথমবারের মতো একটি বড় অর্থনৈতিক জোট স্পষ্টভাবে বলছে, তারা বৃহৎ পরিসরে ভারতীয় মেধাকে স্বাগত জানাতে চায়।” তাঁর দাবি, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে ভারত থেকে ইউরোপে শিক্ষার্থী ও কর্মীর সংখ্যা ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে (US)।

    কম খরচও বড় কারণ

    শুধু সুযোগ-সুবিধা নয়, খরচের দিক থেকেও ইউরোপ এখন অনেক বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। শিক্ষা পরামর্শদাতা সংস্থা কেসি ওভারসিজের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পড়ার খরচ আমেরিকার তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম। পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি ভারতীয় মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বিদেশে পড়াশোনার খরচও বেড়েছে। ফলে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থীকে খাবারে কাটছাঁট করা, গণপরিবহণের বদলে হেঁটে যাতায়াত করা কিংবা অতিরিক্ত কাজ করে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে হচ্ছে। ইউরোপ স্টাডি সেন্টারের পরিচালক শিবরামন পাণ্ডিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ইউরোপ এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন চুক্তির পর আমাদের কাছে অনুসন্ধানের সংখ্যা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়েছে।” স্টুডেন্ট অ্যাকোমোডেশন সংস্থা ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন আধিকারিক ময়ঙ্ক মহেশ্বরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি-সহ ইউরোপের একাধিক দেশ কম শিক্ষাব্যয়, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ, উন্নত কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিকভাবে ভালো সুবিধার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করছে।” বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী নিজের পেশাগত লক্ষ্য অনুযায়ী দেশ বেছে নিচ্ছেন (Indian Students)। যেমন, প্রযুক্তি-শিক্ষার্থীদের কাছে জার্মানি, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যের জন্য নেদারল্যান্ডস, ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য ফ্রান্স এবং কম খরচে গবেষণার সুযোগের জন্য পর্তুগাল জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

    আমেরিকার কড়া নীতিতে কমছে আগ্রহ

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি আমেরিকার কঠোর অভিবাসন নীতিও এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ।২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে একাধিক কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে যে ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মেয়াদ পর্যন্ত থাকার অনুমতি পান, তার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়সীমার ভিসা চালুর প্রস্তাব চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে (US)। এছাড়া শিক্ষার্থী ভিসা আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি, ভিসা নবীকরণে কড়াকড়ি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ওপর বাড়তি নজরদারি এবং ভিসার শর্ত ভাঙলে দ্রুত বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিতেও দেখা গিয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অনেক ভারতীয় শিক্ষার্থী আমেরিকাকে আগের মতো নির্ভরযোগ্য গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারত থেকে প্রায় ৯ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থী গেলেও, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যাটাই কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজারে।

    ইউরোপে আগ্রহ বাড়লেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে

    ইউরোপের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আবেদন ও ভর্তি বৃদ্ধির কথা জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২,৬৩০। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে প্রায় ৩,৭০০-তে পৌঁছেছে। দেশটিতে ভারতীয়রা এখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের অন্যতম বৃহত্তম শিক্ষার্থী গোষ্ঠী। আইনডহোভেন প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে (Indian Students)।স্পেনও এখন নয়া গন্তব্য হিসেবে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউনিভার্সিটি লিভিংয়ের ইউরোপীয় শিক্ষার্থী পরিস্থিতি প্রতিবেদনের তথ্য  অনুযায়ী, বর্তমানে সেখানে ১,০৮৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী রয়েছেন। তুলনামূলক কম জীবনযাত্রা ব্যয়, শিক্ষার্থী-বান্ধব ভিসা ব্যবস্থা এবং ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ইউরোপে পড়াশোনা করলেই চাকরি নিশ্চিত নয়। প্রয়োজন দক্ষতা, স্থানীয় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিযোগিতামূলক যোগ্যতা (US)।

    চাকরির সুযোগ

    পাণ্ডিয়ান বলেন, “কেউ যদি বলে এই দেশে পড়লেই চাকরি পাবেন, তা অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না। শুধু ওই দেশে পড়াশোনা করলেই চাকরির অধিকার তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষতা অর্জন। তবেই সুযোগের দরজা খুলবে।” শিক্ষার্থীদের একাংশ আবার ভাষাগত সমস্যা, আবাসনের সঙ্কট, চাকরির প্রতিযোগিতা এবং নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কিছু দেশে কট্টর ডানপন্থী রাজনীতির উত্থান এবং বিদেশিদের প্রতি কঠোর মনোভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। তবুও কম খরচ, ইংরেজি মাধ্যমে বাড়তে থাকা পাঠ্যক্রম, স্পষ্ট কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং তুলনামূলক সহজ অভিবাসন নীতির কারণে ইউরোপ এখন ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছে আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিকল্প হিসেবে উঠে আসছে (Indian Students)।

     

  • 56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    56th International Physics Olympiad 2026: ভারতের ক্লিন সুইপ! ৫টি সোনা জিতে বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফের ভারতের জয়জয়কার! কলম্বিয়ার বুকরাম্যাঙ্গায় (Bucaramanga) আয়োজিত ৫৬তম আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে (56th International Physics Olympiad 2026) ইতিহাস গড়ল ভারতীয় পড়ুয়ারা। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া পাঁচজন ভারতীয় ছাত্রই সোনা (Five Gold Medals) জিতে দেশবাসীকে গর্বিত করেছেন। এই দুর্দান্ত ‘ক্লিন সুইপ’-এর হাত ধরে রাশিয়া, চিন, কাজাখস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তাইওয়ানের মতো হেভিওয়েট দেশগুলির সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্ব তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করল ভারত। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই মেধা প্রতিযোগিতায় ভারতের এই জয় বিজ্ঞান শিক্ষায় দেশের ক্রমবর্ধমান শক্তিরই প্রমাণ।

    ৩৭৮ জন প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে শীর্ষস্থানে ভারত

    এবারের অলিম্পিয়াডে বিশ্বের ৮৭টি দেশ থেকে মোট ৩৮১ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছিল। তাদের সবাইকে পিছনে ফেলে ভারতীয় দলের পাঁচ রত্ন ভারতের পতাকা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেন। মেধা এবং নিখুঁত পারফরম্যান্সের জোরে পাঁচজনই সোনা পকেটে পুরে নেন।

    ভারতের সোনার ছেলেরা (Five Gold Medalist)

    দেশের নাম উজ্জ্বল করা এই পাঁচ কৃতি ছাত্র হলেন, কনিষ্ক জৈন (পুনে), ঋদ্ধেশ অনন্ত বেন্দালে (ইন্দোর), ঋষিত গর্গ (দিল্লি), শ্রেষ্ঠ সুরাইয়া (মুম্বই), স্বৈয়ত জোশী (আমেদাবাদ)।

    মাসের পর মাস কঠিন পরিশ্রম

    বিশ্বের দরবারে এই সাফল্য কিন্তু একদিনে আসেনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই কঠিন প্রতিযোগিতার জন্য পড়ুয়াদের মাসের পর মাস কঠোর প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের অধীনে পদার্থবিদ্যার অ্যাডভান্সড থিওরি, ল্যাবরেটরির জটিল কাজ এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস সেশনের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করেছিলেন এই তরুণ বিজ্ঞানীরা। এই পুরো যাত্রায় ভারতীয় দলের মেন্টর ও গাইড হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন হোমি ভাবা সেন্টার ফর সায়েন্স এডুকেশন (HBCSE-TIFR)-এর অধ্যাপক অন্বেষ মজুমদার, ড. লীনা জোশী এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত থাকা আইআইএসইআর (IISER) কলকাতার অধ্যাপক আনন্দ দাশগুপ্ত ও নিশা কেলকর। তাঁদের যোগ্য নেতৃত্বই ছাত্রদের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

    আন্তর্জাতিক পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড কী?

    এটি প্রতি বছর আয়োজিত হওয়া স্কুল স্তরের বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও কঠিন পদার্থবিজ্ঞান প্রতিযোগিতা। এখানে অংশগ্রহণকারী পড়ুয়াদের কঠিন তাত্ত্বিক (Theoretical) এবং ব্যবহারিক বা পরীক্ষামূলক (Experimental) পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়। এর মাধ্যমে তাদের পদার্থবিদ্যার গভীরতা, বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনা এবং কঠিন সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা হয়।

    শিক্ষামহলে খুশির হাওয়া

    ভারতীয় দলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে দেশের শিক্ষাবিদ ও বিজ্ঞানী মহলে খুশির হাওয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের সেরা বিজ্ঞান শিক্ষা ব্যবস্থার দেশগুলির সাথে প্রথম স্থান ভাগ করে নেওয়া প্রমাণ করে যে, ভারতীয় পড়ুয়াদের মেধা আন্তর্জাতিক স্তরেও কতটা শক্তিশালী। এই জয় দেশের হাজার হাজার তরুণ পড়ুয়াকে আগামীদিনে বিজ্ঞান চর্চা এবং বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।

  • National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    National Education Policy: ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবসে’ পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করার ডাক, ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে চাঁদের হাট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০০৪ সালের ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা বাঁচাও আন্দোলনে’র স্মৃতি এবং ‘শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসে’র প্রতিষ্ঠা দিবসের স্মরণে দেশজুড়ে পালিত হল ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day)। প্রতি বছরের মতো এবারও ২ জুলাই পালিত হয় ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’। সেই মতোই কলকাতার ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজ ও শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের যৌথ উদ্যোগে ‘ভারতীয় শিক্ষা দিবস’ (Indian Education Day) উদযাপন করা হয়। আয়োজন করা হয়েছিল আলোচনা সভারও।

    আলোচনার মূল বিষয় (National Education Policy)

    আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল ”পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর বাস্তবায়ন ” (National Education Policy)। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) পশ্চিমবঙ্গে কতখানি এবং কীভাবে কার্যকর করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা নিজেদের মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন ওই অনুষ্ঠানে।

    আলোচনা সভায় বিশিষ্টজনদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথা বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএসএসের পূর্ব ক্ষেত্রের ক্ষেত্র সঙ্ঘচালক জয়ন্ত রায়চৌধুরী, শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ সুরেশ গুপ্ত এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অধ্যাপক রঞ্জিত প্রসাদ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ তথা আইআইটি খড়গপুরের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এবং প্রান্ত সংযোজিকা সুচেতা মুখার্জী।

    অতিথিদের তালিকায় ছিলেন প্রজ্ঞা প্রবাহের পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক অরবিন্দ দাস, অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্র সংগঠনমন্ত্রী অপাংশু শেখর শীল এবং ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা, পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ সম্পাদক রমেশ প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা, কেন্দ্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, গবেষক, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং বহু অভিভাবক। বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় জাতীয় শিক্ষানীতি (National Education Policy) প্রয়োগের বিভিন্ন দিক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে এই আলোচনা ও যৌথ প্রয়াস আগামী দিনে এক অনন্য ভূমিকা পালন করবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।

    দেশের প্রগতি ও শিক্ষার মেলবন্ধন

    অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান বক্তা জয়ন্ত তাঁর বক্তব্যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’, ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বসুধৈব কুটুম্বকমে’র আদর্শের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান, এই লক্ষ্যগুলি পূরণে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। ন্যাসের পশ্চিমবঙ্গ প্রান্তের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এ রাজ্যে জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) কার্যকরের একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখা তুলে ধরেন। ভারতকেন্দ্রিক ও মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপরও বিশেষ জোর দেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক বার্তা

    শিক্ষা সংস্কৃতি উত্থান ন্যাসের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ এবং পূর্ব ক্ষেত্র সংযোজক সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও বাংলায় এর বিস্তারের দিক-নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করেন।

    প্রযুক্তির ব্যবহার ও শিক্ষকদের ভূমিকা

    ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজের অধ্যক্ষ শুভ্রনীল সোম তাঁর বক্তব্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন,”জাতীয় শিক্ষানীতি তখনই পুরোপুরি সফল হবে, যখন পঠন-পাঠনে শিক্ষকরা আরও সক্রিয় ভূমিকা নেবেন এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে”। তিনি এও বলেন,”পশ্চিমবঙ্গের বিদ্যালয় স্তরে এখনও রাষ্ট্রীয় শিক্ষানীতি এবং তার নির্ধারিত $৫+৩+৩+৪$ পাঠ্যক্রম প্রণালী চালু করা সম্ভব হয়নি, যা দ্রুত হওয়া প্রয়োজন”। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই নয়া শিক্ষানীতি চালু হলে ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি সুবিধা পাবে। তখন আর শুধু মুখস্থ করে পাশ করার চাপ থাকবে না। শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দমতো বিষয় নিয়ে বাস্তবমুখী ও কাজের উপযোগী শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবে। কোনও কারণে মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও, পরে ফের সেখান থেকেই পড়া শুরু করা যাবে। মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির এই মেলবন্ধন বাংলার শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল ও স্বাবলম্বী করে তুলবে বলেই আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত গুণীজনেরা।

  • Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    Bankim Chandra Chattopadhyay: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে ‘বন্দে মাতরমে’র প্রভাব, জাতীয় চেতনার অমর পথপ্রদর্শক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অসংখ্য আত্মত্যাগ, সংগ্রাম এবং প্রেরণাদায়ী ব্যক্তিত্বের অবদানে সমৃদ্ধ ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস। সেই সব মহাপুরুষদের মধ্যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অনন্য। তাঁর অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ শুধু একটি গান নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম শক্তিশালী মন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। সশস্ত্র বিপ্লবী থেকে শুরু করে অহিংস জাতীয় আন্দোলনের কর্মী—সবার কণ্ঠেই ধ্বনিত হয়েছে এই গান, যা ভারতবাসীর মধ্যে দেশপ্রেম, আত্মমর্যাদা এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছিল।

    বঙ্কিমচন্দ্রের দেশপ্রেম (Bankim Chandra Chattopadhyay)

    ১৮৩৮ সালের ২৭ জুন (কিছু ঐতিহাসিক সূত্রে অবশ্য ২৬ জুন উল্লেখ রয়েছে) বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর পিতা যাদবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সমৃদ্ধ ও সংস্কৃতিমনস্ক পরিবারের সদস্য। মা দুর্গাদেবী ছিলেন ভারতীয় ঐতিহ্য ও মূল্যবোধে গভীরভাবে আস্থাশীল। শৈশব থেকেই বঙ্কিমচন্দ্রের মনে রোপিত হয় দেশপ্রেম, আত্মসম্মান ও সাংস্কৃতিক চেতনার বীজ। প্রথমে হুগলি কলেজ এবং পরে প্রেসিডেন্সি কলেজে শিক্ষালাভ করেন বঙ্কিমচন্দ্র। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সময় তিনি স্নাতক স্তরের ছাত্র ছিলেন। ব্রিটিশদের নির্মম দমননীতি এবং গণহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল। বিদ্রোহের কারণ ও ব্যর্থতার পেছনের বাস্তবতা তিনি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছিলেন। একই বছরে তিনি প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় স্নাতক হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট পদে যোগ দেন। পরে বঙ্গ সরকারের সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৮৬৯ সালে আইনশাস্ত্রে উত্তীর্ণ হওয়ার পর তিনি সরকারি চাকরি ছেড়ে সমাজের বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক জাগরণে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন।

    ‘বঙ্গদর্শন’

    ভারতের গৌরবময় অতীত এবং ঔপনিবেশিক শাসনের কাছে অনেক ভারতীয়ের আত্মসমর্পণের মানসিকতা তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছিল। তাই সাহিত্যকে তিনি জাতীয় চেতনা জাগরণের অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর প্রথম প্রকাশিত রচনা ‘Rajmohan’s Wife’ ইংরেজিতে লেখা হলেও, সেখানে ঔপনিবেশিক সমাজের বাস্তব চিত্র উঠে আসে। ১৮৬৫ সালে প্রকাশিত প্রথম বাংলা উপন্যাস ‘দুর্গেশনন্দিনী’ ভারতীয় সভ্যতার অন্তর্নিহিত শক্তিকে তুলে ধরে পাঠকদের নতুনভাবে প্রাণিত করে। এরপর প্রকাশিত হয় ‘কপালকুণ্ডলা’। ১৮৭২ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন প্রভাবশালী মাসিক পত্রিকা ‘বঙ্গদর্শন’, যা দ্রুতই জাতীয়তাবাদী সাংবাদিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়। ‘বঙ্গদর্শনে’ নিয়মিতভাবে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস ও ভারতের প্রাচীন সভ্যতা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশিত হত। এখানেই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয় ‘বিষবৃক্ষ’, যেখানে সমাজের দুর্বলতা ও সংকীর্ণতার প্রতীকী বিশ্লেষণ করা হয়। একইভাবে ‘কৃষ্ণকান্তের উইলে’ ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ ব্যঙ্গও ফুটে ওঠে।

    কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’

    ১৮৭৬ সালের ৭ নভেম্বর কাঁঠালপাড়ায় তিনি রচনা করেন কালজয়ী সঙ্গীত ‘বন্দে মাতরম’। ১৮৮২ সালে প্রকাশিত তাঁর শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘আনন্দমঠে’ গানটি অন্তর্ভুক্ত হয়। ‘বন্দে মাতরমে’র প্রথম দু’টি স্তবক সংস্কৃত ভাষায় এবং পরবর্তী অংশ বাংলা ভাষায় রচিত। শ্রীঅরবিন্দ এই গানের প্রথম ইংরেজি অনুবাদ করেন। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে রচিত ‘আনন্দমঠ’ শুধু একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং জাতীয়তাবাদ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতীক হয়ে ওঠে। প্রকাশের পর থেকেই ‘বন্দে মাতরম’ দেশজুড়ে জনসভা, আন্দোলন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম প্রধান স্লোগানে পরিণত হয়।

    বঙ্কিমচন্দ্রের উপন্যাসের প্রভাব

    বঙ্কিমচন্দ্রের শেষ উপন্যাস ‘সীতারামে’ (১৮৮৬) মধ্যযুগীয় নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের চিত্র ফুটে ওঠে। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মৃণালিনী’, ‘ইন্দিরা’, ‘রাধারাণী’, ‘দেবী চৌধুরাণী’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’ এবং ‘মুচিরাম গুড়ের জীবনচরিত’। ধর্ম, সমাজ, রাজনীতি ও সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে তিনি অসংখ্য প্রবন্ধ এবং কবিতাও লিখেছিলেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য ও সভ্যতার মূল্যবোধকে নতুনভাবে তুলে ধরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ‘কৃষ্ণচরিত্র’ গ্রন্থে তিনি আদর্শ সমাজ গঠনের নৈতিক ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন। ‘ধর্মশাস্ত্রে’ দেশপ্রেমকে ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে স্থান দেন। ‘লোক রহস্যে’  পরনির্ভরশীল রাজনীতির সমালোচনা করে আত্মনির্ভরতার আহ্বান জানান। ‘আমার দুর্গোৎসবে’ বিধবা বিবাহ, নারীর স্বাধীনতা এবং অন্ধ পাশ্চাত্য অনুকরণের বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মাতৃভূমি কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, বরং পূজার যোগ্য এক জীবন্ত জননী।

    হিন্দু সমাজের সমালোচনা

    হিন্দু সমাজের সাংস্কৃতিক বিভ্রান্তি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত মন্তব্য—“হিন্দু সমাজ কুমারসম্ভব ছেড়ে সুইনবার্ন পড়ে, ভগবদ্গীতা ছেড়ে মিল পড়ে, আর ওড়িশার পাথরের ভাস্কর্য উপেক্ষা করে ইংরেজদের পোর্সেলিন পুতুলের প্রশংসা করে”—আজও সাংস্কৃতিক আত্মমর্যাদা ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। ১৮৯৪ সালের ৮ এপ্রিল প্রয়াত হন বঙ্কিমচন্দ্র। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি, যদিও তাঁর চিন্তা, সাহিত্য, আদর্শ এবং ‘বন্দে মাতরম’ আজও ভারতের জাতীয় চেতনা, সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণ ও স্বাধীনতার ইতিহাসে চির অম্লান হয়ে রয়েছে।

     

  • Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    Emergency History: জরুরি অবস্থা নিয়ে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অধ্যায়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরল এনসিইআরটি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় পাঁচ দশক আগে ভারতে জারি হওয়া জরুরি অবস্থা নিয়ে প্রথমবারের মতো নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে বিস্তারিত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করল ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (NCERT)। নতুন সোশ্যাল সায়েন্স বই ‘Understanding Society: India and Beyond’-এ জরুরি অবস্থাকে ভারতীয় গণতন্ত্রের সামনে আসা অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে উল্লেখ (Emergency History) করা হয়েছে, ওই সময় দেশের অধিকাংশ মৌলিক অধিকার (Fundamental Rights) স্থগিত করা হয়েছিল এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। এনসিইআরটির এক আধিকারিক জানান, নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এই প্রথম জরুরি অবস্থা নিয়ে আলাদা অংশ যুক্ত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষণার ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।

    জরুরি অবস্থা ও গণতন্ত্রের ওপর প্রভাব (Emergency History)

    নতুন পাঠ্যবইয়ের সংশ্লিষ্ট অংশে বলা হয়েছে, “ভারতে গণতন্ত্রের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল ১৯৭৫-৭৭ সালের জরুরি অবস্থার সময়। ১৯৭০-এর গোড়ার দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর (Indira Gandhi) নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছিল। বেকারত্ব বৃদ্ধি, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় তুমুল বিক্ষোভ দেখা দেয়।” বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের জুন মাসে ‘অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা’র কারণ দেখিয়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এই সময় অধিকাংশ মৌলিক অধিকার স্থগিত করা হয়েছিল। সংবাদমাধ্যমের ওপর সেন্সরশিপ আরোপ করা হয় এবং বহু রাজনৈতিক নেতা ও সমাজকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি তীব্র চাপে পড়ে এবং নাগরিক স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।

    জয়প্রকাশ নারায়ণের আন্দোলন

    পাঠ্যবইয়ে (NCERT) জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করেছিলেন জয়প্রকাশ নারায়ণ। তাঁর (Jayaprakash Narayan) ভূমিকাও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, ‘লোকনায়ক’ নামে পরিচিত এই সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ ও রাজনৈতিক নেতা ছাত্র-যুব এবং সাধারণ নাগরিকদের সংগঠিত করেছিলেন। বিশেষ করে বিহার ও গুজরাটে তাঁর নেতৃত্বে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। বইটিতে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭৭ সালে জরুরি অবস্থা প্রত্যাহার করা হয় এবং সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটের মাধ্যমে জনগণ তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পায়। সেই নির্বাচনে তৎকালীন শাসক দলের পরাজয় ভারতীয় গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের মতামতের গুরুত্বকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে (Emergency History)।

    গণতন্ত্রের সামনে অন্যান্য চ্যালেঞ্জও আলোচনায়

    জরুরি অবস্থার প্রসঙ্গটি বৃহত্তর একটি অধ্যায়ের অংশ, যেখানে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার শক্তি এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। বইটিতে ভুয়ো খবর, বিভ্রান্তিকর তথ্য, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতি, জননিয়ম লঙ্ঘন, দারিদ্র্য, আঞ্চলিকতাবাদ, সামাজিক বৈষম্য এবং লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যকে গণতান্ত্রিক চর্চার সামনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    নতুন বিভাগ

    নয়া সংস্করণের বইয়ে প্রথমবারের মতো ‘ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইউ’ (Democracy and You) নামে একটি বিশেষ বিভাগ যুক্ত করা হয়েছে। এনসিইআরটির মতে, এই অংশের লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের নাগরিক দায়িত্ব ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের সম্পর্ক বোঝানো। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারবে।

    গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের ওপর জোর

    সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে ভারতের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রাচীন ভারতীয় সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চার উল্লেখ করে দেখানো হয়েছে, কীভাবে সেই ঐতিহ্য বর্তমান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত (Emergency History)। এছাড়া গণতন্ত্রে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে একটি পৃথক অধ্যায়ও রাখা হয়েছে। সেখানে সংবাদমাধ্যমকে ‘গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ’ (Fourth Pillar of Democracy) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। জনসাধারণের সমস্যাকে সামনে আনা, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে (NCERT)।

    বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের পরিসংখ্যান

    ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপ্তি বোঝাতে বইটিতে বিভিন্ন তথ্য ও পরিসংখ্যানও দেওয়া হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৬.৮ কোটিরও বেশি। দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্র এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কাঠামোর কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

    তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্র ও নারীদের অংশগ্রহণ

    পাঠ্যবইয়ের এই অধ্যায়ে তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের বাস্তব উদাহরণ হিসেবেও কয়েকটি কেস স্টাডি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুজরাটের একটি পঞ্চায়েত এবং ত্রিপুরার মহিলা-বান্ধব পঞ্চায়েতের উদাহরণের মাধ্যমে স্থানীয় শাসন ব্যবস্থায় নাগরিকদের অংশগ্রহণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে (Emergency History)। এছাড়া নারীদের ভোটাধিকার, স্থানীয় স্বশাসিত সংস্থাগুলিতে সংরক্ষণ এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ নিয়েও একটি পৃথক অংশ রাখা হয়েছে (NCERT)। এর মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে (Emergency History)।

  • NEET ReTest: কংগ্রেসের র‍্যালির ট্র্যাফিকে আটকে নিট পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী, বেঙ্গালুরুতে তীব্র বিতর্ক

    NEET ReTest: কংগ্রেসের র‍্যালির ট্র্যাফিকে আটকে নিট পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী, বেঙ্গালুরুতে তীব্র বিতর্ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেসের একটি রাজনৈতিক সমাবেশের (Congress Rally) জেরে তীব্র যানজট। সেই জটে আটকে পড়ে মাত্র দু’মিনিট দেরিতে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোয় নিট ইউজি ২০২৬ রি-টেস্টে (NEET ReTest) বসতে পারলেন না তিন ছাত্রী। বেঙ্গালুরুর আরসি গভর্নমেন্ট কলেজ (RC Government College) পরীক্ষাকেন্দ্রের ঘটনা। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে অভিভাবক মহলেও।

    পরীক্ষায় বসতে পারলেন না ৩ ছাত্রী (NEET ReTest)

    রবিবার নিটের রি-টেস্টের জন্য পরীক্ষার্থীদের দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢুকতে বলা হয়েছিল। পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম অনুযায়ী, ঠিক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে মেন গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। ওই তিন ছাত্রী ১টা ৩২ মিনিটে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন। তাই তাঁদের আর পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুপুর ১টা ২৯ মিনিটে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমের মাধ্যমে শেষবারের মতো ঘোষণা করা হয় যে ঠিক ১টা ৩০ মিনিটে গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। তবুও যানজটের কারণে ওই তিন ছাত্রী সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে পারেননি। পরীক্ষা মিস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তিন ছাত্রী মরিয়া হয়ে মেন গেটের রেলিং টপকে কেন্দ্রের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাঁরা ক্যাম্পাসে ঢুকেও পড়েন। কিন্তু ততক্ষণে পরীক্ষা হলের গেট সিল করে দেওয়া হয়েছিল। নিটের নিয়ম অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের পর কোনও পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষাকক্ষে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তাই তাঁদের ফিরে যেতে হয়।

    কংগ্রেসের র‍্যালির কারণে ব্যাপক ট্র্যাফিক জ্যাম

    ওই ছাত্রীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, তাঁরা যথেষ্ট সময় হাতে নিয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু শহরে কংগ্রেসের র‍্যালির কারণে ব্যাপক ট্র্যাফিক জ্যাম হওয়ায় পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়। শুধু আরসি গভর্নমেন্ট কলেজ নয়, বেঙ্গালুরুর মল্লেশ্বরম এলাকার এমইএস পিইউ কলেজ (MES PU College) পরীক্ষাকেন্দ্রেও বহু পরীক্ষার্থী শেষ মুহূর্তে পৌঁছন। জ্যামে আটকে পড়ায় অনেকেই কার্যত দৌড়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছন। ফলে বড়সড় বিপর্যয় এড়ানো গিয়েছে।

    কংগ্রেসকে তোপ বিজেপির

    ঘটনায় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন  বেঙ্গালুরু দক্ষিণের বিজেপি সাংসদ তেজস্বী সূর্য। তাঁর অভিযোগ, হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী যখন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন, তখন কংগ্রেসের উচিত ছিল অন্য কোনও দিন র‍্যালির আয়োজন করা (NEET ReTest)। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, কংগ্রেস ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি দিন বেছে নিয়েছে, যেদিন নিট রি-টেস্ট হচ্ছে। এর ফলে শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যাপক যানজট তৈরি হয়েছে (Congress Rally) এবং বহু পরীক্ষার্থী আতঙ্কের মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছেন। তিনি পরীক্ষক সংস্থাকে ধন্যবাদও জানান। কারণ কয়েকটি কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছনো ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তেজস্বী সূর্য বলেন, “এই ঘটনার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থের প্রতি সংবেদনশীলতার অভাবই।”

    বিমানবন্দরে ঠায় দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী

    এদিকে, এদিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি পদক্ষেপও চর্চায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী দুপুর ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছলেও, তিনি সঙ্গে সঙ্গে নিজের সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হননি (NEET ReTest)। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাজনিত কারণে রাস্তায় বিশেষ ট্র্যাফিক ব্যবস্থা ও সাময়িক বিধিনিষেধ জারি করা হয়। পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তাই তিনি প্রায় ৪৫ মিনিট বিমানবন্দরেই ঠায় বসে থাকেন। দুপুর ২টো নাগাদ, যখন পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছনোর নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গিয়েছে, তখনই তিনি বিমানবন্দর ছাড়েন। উল্লেখ্য, ওডিশা ও পশ্চিমবঙ্গ সফর শেষে দিল্লিতে ফিরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

    নিট রি-টেস্ট

    প্রসঙ্গত, নিট ইউজি ২০২৬ পরীক্ষা হয়েছিল গত ৩ মে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় সেই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। সেই কারণেই এদিন আয়োজন করা হয়েছিল রি-টেস্টের। দেশের ৫৫১টি শহরের ৫,৪৪০টি কেন্দ্রে এবং বিদেশের ১৪টি কেন্দ্রে পরীক্ষা নেওয়া হয় (NEET ReTest)। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনটিএ একাধিক কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। পরীক্ষাকক্ষে সিসিটিভির নজরদারি, ইসিআইএল এবং বিইএলের সরবরাহ করা জ্যামার, মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে তল্লাশি, প্রত্যেক (Congress Rally) পরীক্ষা কক্ষে দু’জন করে ইনভিজিলেটর এবং অতিরিক্ত তদারকি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধও জারি করা হয়েছিল (NEET ReTest)।

     

  • Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    Charu Pandey: ১৯ সরকারি চাকরির পরীক্ষায় সাফল্য, রাষ্ট্রপতির হাত থেকে স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু পান্ডে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের সরকারি চাকরির পরীক্ষার্থীদের কাছে অনুপ্রেরণার আর এক নাম ছত্তিশগড়ের তিলদা-নেওরার বছর তেইশের তরুণী চারু পান্ডে (Charu Pandey)। এক বা দু’টি নয়, সব মিলিয়ে মোট ১৯টি প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষায় (Government Exams) উত্তীর্ণ হয়ে নজির গড়েছেন তিনি। চারু এখন বিশাখাপত্তনমে ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দফতরে অ্যাসিস্ট্যান্ট অডিট অফিসার হিসেবে কাজ করছেন। এটি তাঁর স্বপ্নের চাকরি।

    স্বর্ণপদক পাচ্ছেন চারু (Charu Pandey)

    চারুর এই অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর হাতে তুলে দেবেন স্বর্ণপদক। গণিতে স্নাতক চারু কলেজে পড়াশোনা করা কালীনই প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কোনও কোচিং সেন্টারে ভর্তি না হয়ে সেল্ফ-স্টাডির মাধ্যমে একের পর এক পরীক্ষায় সফল হন তিনি। চারুর সাফল্যের তালিকায় রয়েছে এসএসসি সিজিএল, এসএসসি সিএইচএসএল, এসএসসি এমটিএস, এসএসসি জিডি, এসএসসি সিপিও, এসবিআই পিও, এসবিআই ক্লার্ক, আইবিপিএস পিও, আইবিপিএস ক্লার্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রেলওয়ে এবং রাজ্যস্তরের নিয়োগ পরীক্ষা।

    চারুর কঠোর ‘সাধনা’

    চারু জানান, প্রথমে এতগুলি পরীক্ষায় বসার কোনও পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগত, তাই অপেক্ষা না করে তিনি পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি সেরে ফেলতেন। এভাবেই একের পর এক সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর এই অনন্য সাফল্যের ইতিহাস। প্রস্তুতির জন্য চারু ছত্তিশগড়ের রায়পুরে একটি গেস্ট হাউসে ছ’মাস একা একা কাটিয়েছেন, যাতে পড়াশোনায় কোনও বাধা না আসে। সেই সময় তিনি দিনে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। তবে শুধু পড়াশোনা নয়, মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্যান্য কাজেও সময় দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই সময় তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পড়াতেন, যা তাঁর নিজের বিষয়ভিত্তিক ধারণাকেও আরও শক্তিশালী করেছিল।

    সাফল্যের মূল চাবিকাঠি

    চারুর (Charu Pandey) মতে, সফলতার মূল চাবিকাঠি হল গভীরভাবে পড়াশোনা করা। তিনি বলেন, “পুরো সিলেবাস শেষ করার পেছনে না ছুটে যতটুকু পড়বেন, সেটাকে একেবারে পোক্ত করে তুলুন।” কোচিং না করেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়েছেন চারু। বিভিন্ন শিক্ষকের ইউটিউব লেকচার দেখে প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং কোনও বিষয়ে সন্দেহ তৈরি হলে সাহায্য নিয়েছেন এআইয়ের (AI)। পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে তাঁর (Charu Pandey) পরামর্শ, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে হবে, ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখতে হবে এবং মানসিক চাপের বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করতে হবে (Government Exams)। চারুর বাবা-মা জানান, তাঁরা মেয়েকে খুব বেশি বইপত্র নিয়ে বসে থাকতে দেখতেন না, যদিও তাঁর ওপর সবসময়ই আস্থা ছিল। ছোট শহরের এক সাধারণ পরিবারের মেয়ে থেকে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সরকারি চাকরিতে চারুর (Charu Pandey) পৌঁছানোর এই যাত্রা প্রমাণ করে, ব্যয়বহুল কোচিং নয়, বরং ধারাবাহিকতা, আত্মনিয়োগ এবং সঠিক কৌশলই সাফল্যের আসল (Government Exams) চাবিকাঠি।

     

LinkedIn
Share