মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) প্রকাশ করল দশম শ্রেণির প্রথম পর্বের ফলাফল। বুধবার দুপুরে তালিকা প্রকাশ করা হয় সিবিএসই-র ওয়েবসাইটে। পরীক্ষার্থীরা সেখানেই রোল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে ফলাফল দেখতে পারবে। প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর সামগ্রিক পাশের হার গত বছরের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বরাবরের মতো এবারও ছাত্রীদের পাশের হার ছাত্রদের তুলনায় কিছুটা বেশি। গ্রামীণ এলাকার স্কুলগুলোর ফলাফলও এ বছর অত্যন্ত সন্তোষজনক, যা শিক্ষা ব্যবস্থার তৃণমূল স্তরে উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি
সিবিএসই-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বার পরীক্ষার্থী ছিল ২৫ লক্ষ। খাতা দেখেছেন প্রায় ৭ লক্ষ শিক্ষক। ভারত এবং বিদেশের কেন্দ্র মিলিয়ে মোট ২৭ হাজার ৩৩৯টি স্কুলে পরীক্ষা হয়েছিল। দশম শ্রেণির প্রথম পর্বের পরীক্ষায় পাশের হার ৯৩.৭০ শতাংশ। ফলাফলের নিরিখে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে ছাত্রীরা। ছাত্রদের পাশের হার ৯২.৬৯ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাশের হার ৯৮.৯৯ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এই বছর পাশের হার ০.০৪ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে দিল্লি, পুনে এবং কেরালা অঞ্চলের পাশের হার জাতীয় গড়ের চেয়েও বেশি। সিবিএসই বোর্ড কয়েক বছর আগেই অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা এড়াতে ‘টপার’ বা মেধা তালিকা প্রকাশ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যে সকল শিক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছে, তাদের সংখ্যা গতবারের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে যে, মেধা তালিকা প্রকাশ না করা হলেও যে ছাত্রছাত্রীরা অসাধারণ ফলাফল করেছে, তাদের স্কুল স্তর থেকে সম্মাননা প্রদান করা হবে।
কীভাবে দেখবে ফলাফল
ফলাফল দেখা যাবে বেশ কয়েকটি পোর্টালের মাধ্যমে। অফিশিয়াল ওয়েবসাইট—cbse.gov.in এবং results.cbse.nic.in ছাড়াও উমঙ্গ অ্যাপ এবং ডিজি লকারের মাধ্যমেও ফল দেখা যাবে। ২০২৬-এ দশম শ্রেণির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত। যে সকল শিক্ষার্থী তাদের প্রাপ্ত নম্বরে সন্তুষ্ট নয়, তাদের জন্য বোর্ড পুনর্মূল্যায়ন বা ‘ভেরিফিকেশন’ (Verification of Marks)-এর সুযোগ রাখছে। ফলাফল ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই এর জন্য অনলাইনে আবেদন করা যাবে। অন্যদিকে, যারা এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের জন্য ‘কম্পার্টমেন্টাল পরীক্ষা’ বা ‘সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা’র আয়োজন করা হবে খুব শীঘ্রই, যাতে তারা একই শিক্ষাবর্ষে তাদের ভুল শুধরে এগিয়ে যেতে পারে। পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ হিসেবে সিবিএসই এবারও ডিজিটাল মার্কশিট এবং মাইগ্রেশন সার্টিফিকেটের ওপর জোর দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরা তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিলকার থেকে আইনিভাবে বৈধ ডিজিটাল নথিপত্র সংগ্রহ করতে পারছে। এই ডিজিটাল সার্টিফিকেটগুলো উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে হার্ডকপির মতোই গ্রহণযোগ্য।

Leave a Reply