Category: স্বাস্থ্য

Get updates on Health News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Brain Eating Amoeba: ফের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবা! কতখানি বিপজ্জনক?

    Brain Eating Amoeba: ফের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবা! কতখানি বিপজ্জনক?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেবীপক্ষ শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব, দুর্গাপুজো। আনন্দে মাতোয়ারা আট থেকে আশি, সব বয়সের মানুষ।‌ কিন্তু ঠিক তার আগেই অ্যামিবার চোখ রাঙানিতে আতঙ্ক বাড়ছে। জলে নামলেই কি মস্তিষ্কে প্রবেশ করবে অ্যামিবা! এমন আতঙ্কও তৈরি হয়েছে।

    কী এই অ্যামিবা আতঙ্ক?

    কয়েক সপ্তাহ আগে কেরলে হঠাৎ এই অ্যামিবা সংক্রমণ শুরু হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেরলে এই পর্যন্ত প্রায় ১৯ জন এই অ্যামিবা সংক্রমণে মারা গিয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ ছাড়িয়েছে। কয়েক মাসের শিশু থেকে প্রৌঢ়, আক্রান্ত ও মৃতের তালিকায় সব বয়সের মানুষ রয়েছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই সংক্রমণের নাম প্রাইমারি অ্যামিওবিক মেনিঞ্জিওএনসেফেলাইটিস। বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এই এককোষী প্রাণী অ্যামিবা খুব দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে সক্ষম। তাই এই সংক্রমণ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

    কীভাবে এই অ্যামিবা সংক্রমণ হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জল থেকেই এই অ্যামিবা সংক্রমণ হচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই অ্যামিবা মিষ্টি জলে থাকে। সাধারণত পুকুরের জলে স্নান করার সময় কিংবা সাঁতার কাটার সময়ে নাকের ভিতর দিয়ে অ্যামিবা শরীরে প্রবেশ করছে। আর তারপরেই অ্যামিবা মস্তিষ্কে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। মস্তিষ্কে প্রবেশের পরেই ওই অ্যামিবা কোষে ধাক্কা দিচ্ছে। এর ফলে মস্তিষ্কের কার্যকারিতাও নষ্ট হচ্ছে। স্নায়ুর ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। যার জেরেই প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

    কতখানি বিপজ্জনক এই সংক্রমণ?

    চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে এই অ্যামিবা সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি নয়। শ’পাঁচেক মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু আক্রান্তের মধ্যে মৃত্যু হার উদ্বেগজনকভাবে বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই রোগে আক্রান্তের ৯৫ শতাংশের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অ্যামিবাকে ‘মস্তিষ্ক খেকো’ অ্যামিবাও বলা হয়। কারণ, এই এককোষী প্রাণী শরীরে প্রবেশ করার পরেই মস্তিষ্কের সমস্ত কোষ ধ্বংস করা শুরু করে। ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা শেষ হয়ে যায়। তার জেরেই আক্রান্তের মৃত্যু হয়। তাই এই অ্যামিবা প্রাণঘাতী! অধিকাংশ সময়েই এই রোগে আক্রান্তের চিকিৎসার সুযোগ ও পাওয়া যায় না। তবে দ্রুত রোগ নির্ণয় হলে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ সময় মতো শরীরে পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কীভাবে এই সংক্রমণ মোকাবিলা সম্ভব?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, জল নিয়ে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে চারশোর বেশি অ্যামিবা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে মাত্র দুটি প্রজাতি মানুষের মস্তিষ্কে সংক্রমণ ছড়ায়। এই রোগে জ্বর, হঠাৎ করেই খিঁচুনি, হাত-পা শিথিল হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা যায়‌। তাই সতর্কতা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, খাওয়ার জলের পাশপাশি স্নানের জলের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সতর্কতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অপরিচ্ছন্ন জলেই এই ধরনের অ্যামিবা থাকে। সংক্রমণ ও ছড়িয়ে পড়ে। তাই পুকুর পরিষ্কার জরুরি। যারা পুকুরে নিয়মিত স্নান করেন, এই সময়ে সেটা এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে। আবার সাঁতার কাটার সময়েও জলের পরিচ্ছন্নতার দিকে নজরদারি প্রয়োজন। তাই সাধারণ মানুষের পাশপাশি প্রশাসনকেও উদ্যোগী হতে হবে। পুকুর পরিচ্ছন্নতার দিকে নজরদারি বাড়ানো দরকার।

    জ্বর, হাত-পায়ে ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ‌ নেওয়া জরুরি। নির্দিষ্ট শারীরিক পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সম্ভব। দ্রুত রোগ নির্ণয় করতে পারলে কিছু প্রয়োজনীয় স্টেরয়েড, ওষুধ দিলে এই অ্যামিবার ক্ষমতা রোধ করা যায়। ধীরে ধীরে অ্যামিবাকে নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়। যাতে আক্রান্তের দ্রুত অবস্থার অবনতি না হয়, সেটা চেষ্টা করা সম্ভব হয়। কিন্তু তার জন্য প্রাথমিক পর্বে রোগ নির্ণয় জরুরি। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তবেই রোগী চিকিৎসকের কাছে আসেন। তাই মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Headaches: বাড়ছে মাথা ব্যথা! বাঙালির রান্নাঘরে রয়েছে সমাধান, জানেন কি?

    Headaches: বাড়ছে মাথা ব্যথা! বাঙালির রান্নাঘরে রয়েছে সমাধান, জানেন কি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্ধ্যা হলেই মাথার ভিতরে টিপটিপ করে! ল্যাপটপে চোখ আটকে রাখতেই কষ্ট হয়। কিন্তু কাজের চাপে কয়েক মিনিট অবসর নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। আবার আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনার জেরে তাপমাত্রার রকমফের হলেই সকাল হোক‌ বা রাত মাঝেমধ্যে মাথার ভিতরে যন্ত্রণা হয়। কেউ কেউ তো ঘুম থেকে উঠেই মাথার যন্ত্রণা অনুভব করেন। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশ মাথার যন্ত্রণায় কাবু। তবে সব সময় সাইনাস কিংবা মাইগ্রেনের জন্য এই যন্ত্রণা নয়। বরং মাথা যন্ত্রণার কারণ হয় জীবন‌ যাপনের অভ্যাস!

    কেন তরুণ প্রজন্মের একাংশ মাথার যন্ত্রণায় কাবু?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাইগ্রেন কিংবা সাইনাসের মতো সমস্যা না থাকলেও অনেকেই নিয়মিত মাথা যন্ত্রণায় ভোগেন। বড় শারীরিক জটিলতা না থাকলেও মাথা যন্ত্রণার জন্য একাধিক কারণ কাজ করে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশের ল্যাপটপে দীর্ঘসময় কাজ করতে হয়। দিনের অনেকটা সময় ল‌্যাপটপ এবং মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার জেরে তাঁদের চোখের উপরে বাড়তি চাপ পড়ে। যা মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরেও প্রভাব ফেলে। তাই মাথার যন্ত্রণা হয়।

    পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের স্নায়ুকে দূর্বল করে‌ দেয়। আর তার জন্য মাথা যন্ত্রণার মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের একাংশের গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার অভ্যাস রয়েছে। এর ফলে নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম হয় না। দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরে বাড়তি চাপ পড়ে। তাই মাথার যন্ত্রণা হয়।

    মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ মানসিক চাপ। এমনটাই জানাচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নানান মানসিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। অনেকেই অবসাদ, উদ্বেগের মতো গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সঙ্কট নিয়ে জীবন যাপন করছেন। অনেক সময়েই তার প্রয়োজনীয় থেরাপি হচ্ছে না। রোগ নির্ণয় ঠিক মতো হয় না। তাই মাথা ব্যথার মতো উপসর্গ ঘন‌ ঘন দেখা দিচ্ছে। অনেক সময় ভাইরাস ঘটিত কারণেও মাথা ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, ঋতু পরিবর্তনের সময় কিংবা বারবার তাপমাত্রার ওঠানামা করলে অনেক সময় মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরে চাপ পড়ে। রক্ত চলাচলে বাধা তৈরি হয়। তার জেরেই মাথা যন্ত্রণা হয়।

    কোন ঘরোয়া উপদানে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাথা যন্ত্রণা কমাতে অনেকেই নিয়মিত নানান পেন কিলার খান।‌ অনেক সময়েই চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়াই নিজেরা এই ধরনের ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছে। যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, কিডনি, লিভার, পাকস্থলীর মতো শরীরের নানান গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের উপরে এর প্রভাব পড়ে। তার ফলে অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের ভরসা ঘরোয়া উপাদান। তাঁরা জানাচ্ছেন, দারুচিনি বাঙালির রান্নাঘরের অতি পরিচিত একটা মশলা।‌ আর এই মশলা শরীরের জন্য অত‌্যন্ত উপকারি।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, দারুচিনির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরে বিশেষ প্রভাব ফেলে। ফলে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। স্নায়ু সক্রিয় থাকে। তাই চায়ের জল গরম করার সময় মধ্যে দারুচিনি দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন এতে মাথা ব্যথা কমবে। নিয়মিত আদা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। ফলে ঋতু পরিবর্তনের সময়েও মাথা ব্যথা কাবু করতে পারবে না। স্নায়ুকে সুস্থ রাখতে আদা বিশেষ সাহায্য করে। আদার পাশপাশি লবঙ্গ মাথা ব্যথা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে বলেও‌ জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, লবঙ্গ স্মেল থেরাপির কাজ করে। লবঙ্গের গন্ধে স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে। মানসিক চাপ কমে। ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ু ঠিকমতো কাজ করে। মাথা ব্যথার ভোগান্তিও কমে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Flu in Children: সন্ধ্যা হলেই পেটে যাচ্ছে ফুচকা-সিঙাড়া থেকে রোল-চপ-পিৎজা! কী কী বিপদ হতে পারে, জানেন?

    Flu in Children: সন্ধ্যা হলেই পেটে যাচ্ছে ফুচকা-সিঙাড়া থেকে রোল-চপ-পিৎজা! কী কী বিপদ হতে পারে, জানেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    সন্ধ্যার জলখাবারই বাড়াচ্ছে বিপদ! কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, হৃদরোগের ঝুঁকি, কিডনির অসুখ, স্থূলতা কিংবা ডায়াবেটিসের মতো একাধিক রোগের বীজ লুকিয়ে আছে জলখাবারেই! অন্তত এমনি তথ্য উঠে‌ আসছে একটি সাম্প্রতিক গবেষণায়। চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয়র সন্ধ্যার টুকিটাকি খাবারেই সমস্যা বাড়াচ্ছে। এমন খাবার অধিকাংশ সময় খাওয়া হচ্ছে, যাতে পুষ্টিগুণ নেই।‌ বরং শরীরে ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলছে।

    কী বলছে সাম্প্রতিক তথ্য?

    সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংস্থা দেশজুড়ে সমীক্ষা চালায়। তার ভিত্তিতেই চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ ভারতীয় সন্ধ্যায় অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার কিংবা মশলাদার খাবার খান।‌ তার জেরে শরীরে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ওই গবেষণায় পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার খাবারের তালিকায় ৩০-৩৫ শতাংশ ভারতীয়দের থাকে অতিরিক্ত তেলে ভাজা খাবার। যেমন সিঙাড়া, চপ জাতীয় খাবার। আবার ২০% বেশি ভারতীয় সন্ধ্যায় চটজলদি খাবারে (বলা ভালো ফাস্ট ফুড) অভ্যস্ত। অনেকেই সন্ধ্যায় কফির সঙ্গে রোল, বার্গার কিংবা পিৎজার মতো খাবার খান। ফুচকা কিংবা পাপড়ি চাটের মতো খাবার ও অনেকের পছন্দ! কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত এই ধরনের খাবারে‌ সমস্যা বাড়াচ্ছে।

    কী সমস্যা হচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সিঙাড়া, চপ, ফুচকা কিংবা পিৎজার মতো খাবারে কোনও‌ পুষ্টিগুণ নেই। শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন, প্রোটিন কিংবা মিনারেলের চাহিদা এই খাবার পূরণ করতে পারে না।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, সূর্যাস্তের পরে শরীরের একাধিক কোষের সক্রিয়তা কমে। ফলে শরীরের নানান অঙ্গের কার্যশক্তিও‌ কমে। শরীর বিশ্রাম চায়। তাই সুস্থ থাকতে রাতের খাবার তাড়াতাড়ি খাওয়া উচিত। সন্ধ্যায় এমন কিছু খাবার খাওয়া প্রয়োজন যা সহজপাচ্য।‌ আবার যা খেলে শরীরের‌ প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ পাবে। আবার সহজে হজম হয়ে যাবে। রাতে খাবার সময়ে অসুবিধা হবে না।‌ কিন্তু অতিরিক্ত তেলে ভাজা কিংবা মশলা দিয়ে তৈরি খাবার হজম করতে সময় লাগে। অন্ত্রের উপরে বাড়তি চাপ পড়ে। এর ফলে হজমের গোলমাল হয়। লিভার ও পাকস্থলীর নানান সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাছাড়া অতিরিক্ত তেল‌ দেওয়া খাবার হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ায়। কোলেস্টেরল বাড়ায়।‌ আবার বার্গার, পিৎজার মতো প্রক্রিয়াজাত খাবার ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। স্থূলতার সমস্যা তৈরি করে।

    কোন খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্ধ্যার জলখাবারের মেনুতে সহজ‌ পাচ্য খাবার রাখা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, তাই মেনুতে থাকুক ভুট্টা, মিলেটের মতো‌ শস্য জাতীয় খাবার। তাঁরা জানাচ্ছেন, ভুট্টার দানা ভিজিয়ে সেদ্ধ করে পরিমাণ মতো নুন দিয়ে কাঁচা পিঁয়াজ আর লেবুর রস মিশিয়ে সন্ধ্যায় খাওয়া যেতেই পারে। ভুট্টায় থাকে ফাইবার সহ একাধিক খনিজ পদার্থ। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারি।‌ এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কমে। শরীরে বাড়তি মেদ জমতে দেয় না। পাশপাশি মিলেটের মতো দানাশস্য দিয়ে তৈরি রুটি বা ছিলা জাতীয় খাবার সন্ধ্যায় খেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে। আবার হজমের সমস্যা ও হবে না।‌

    সন্ধ্যায় প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে ড্রাই ফ্রুটস মেনুতে রাখার পরামর্শ‌ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কফি কিংবা চায়ের সঙ্গে কাজুবাদাম, পেস্তা, কিসমিস, কাঠবাদামের মতো বাদাম জাতীয় খাবার অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতেই পারে। সারাদিনের পরে ক্লান্ত শরীর এই খাবার থেকে সহজেই এনার্জি ফিরে পাবে। আবার হজমের সমস্যা ও হবে না।

    সন্ধ্যার জলখাবারে মাখনা খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, মাখনা সহজ পাচ্য। আবার এই খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে মিনারেল। ফলে শরীরের জন্য এই খাবার বিশেষ উপকারি। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, খাবার খাওয়ার সময় পরিমাণের দিকে যেমন নজর দেওয়া জরুরি। তেমনি দরকার তার পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও খেয়াল রাখা।‌ তবে সুস্থ জীবন যাপন সম্ভব।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Flu in Children: পুজোর মরশুমে বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট! কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    Flu in Children: পুজোর মরশুমে বাড়ছে ইনফ্লুয়েঞ্জার দাপট! কীভাবে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    হাতে আর মাত্র কয়েক দিন। বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজো আসছে! কিন্তু তার আগেই চোখ রাঙাচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা! বিশেষ করে শিশুদের বেশি কাবু করছে এই রোগ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আগাম সতর্কতা না নিলে বড় বিপদ হতে পারে। তাই ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি। উৎসবের মরশুমে সন্তানকে সুস্থ রাখতে অভিভাবকদের তাই বাড়তি সজাগ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    ইনফ্লুয়েঞ্জা কেন বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা বাড়ছে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে বাতাসে ভাইরাসের সক্রিয়তাও বেড়ে গিয়েছে। তাই বাড়ছে জ্বরের প্রকোপ। শরতের আকাশেও কালো‌ মেঘ জমাট বাঁধছে। একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলেই ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা এ’ এবং ‘ইনফ্লুয়েঞ্জা বি’ ভাইরাসের দাপট বেড়েছে। আর এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রাথমিকভাবে ভোগান্তি বেশি হয় না।‌ কিন্তু হঠাৎ পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, কিডনিতে সমস্যার মতো বিপর্যয় হতে পারে। তাই এই ইনফ্লুয়েঞ্জা নিয়ে বাড়তি সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    কেন শিশুদের এই ভাইরাস কাবু করছে?

    শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশুদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় কম হয়। তাই যেকোনও ভাইরাস ঘটিত অসুখ শিশুদের আগে কাবু করতে সক্ষম হয়। আর সেই জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জায় শিশুরা কাবু হচ্ছে। তাছাড়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা খুব সংক্রামক একটি ভাইরাস। অধিকাংশ শিশু এই বর্ষার আবহাওয়ায় সর্দি-কাশিতে ভুগছে। শিশুরা অনেক সময়েই হাঁচি কিংবা কাশির সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত দিয়ে মুখ ঢাকতে পারে না। তাই স্কুল থেকে সহজেই ভাইরাস একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাস সহজে বাসা বাঁধতে পারছে।

    সন্তানকে কীভাবে সুস্থ রাখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ইনফ্লুয়েঞ্জা রুখতে রয়েছে ভ্যাকসিন। তাঁদের পরামর্শ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট বয়সে ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকাকরণ জরুরি। টিকা দিলে তবেই এই রোগের দাপট কমানো‌ যাবে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি থাকবে। যা ইনফ্লুয়েঞ্জার ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম হবে। তাছাড়া শিশুদের সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ, অনেক সময়েই প্রাথমিক পর্বে সাধারণ সর্দি-কাশি মনে হলেও পরবর্তীতে তা জটিল হয়ে ওঠে। তাই প্রথম পর্বেই শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে পরবর্তীতে বড় বিপদ‌ এড়ানো সহজ হবে বলেই মনে করছেন চিকিৎসকেরা। পাশপাশি শিশু হাঁপানি কিংবা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগলে তার বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তনের সময় যাতে এসি ঘরে‌ শিশু বেশি সময় না থাকে, আইসক্রিম কিংবা ঠাণ্ডা নরম পানীয় না খায়, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ, এগুলো শ্বাসনালীতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    পাশাপাশি, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই আবহাওয়ায় তরকারিতে আদা এবং রসুন এই দুই উপকরণ ব্যবহার করা জরুরি। কারণ এই দুই উপকরণ যেকোনও সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। তাছাড়া, তুলসী পাতা, মধুর মতো ঘরোয়া উপাদান সর্দি-কাশির ভোগান্তি রুখতে সাহায্য করবে‌। পাশপাশি নিয়মিত লেবু জাতীয় ফল খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।‌ তাঁরা জানাচ্ছেন, ভিটামিন‌ সি সমৃদ্ধ ফলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। ফলে ভাইরাস ঘটিত অসুখের ঝুঁকি কমে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Snoring: ঘুমের পরেই নাক ডাকার আওয়াজে হিমশিম! কোনও রোগের ইঙ্গিত কি?

    Snoring: ঘুমের পরেই নাক ডাকার আওয়াজে হিমশিম! কোনও রোগের ইঙ্গিত কি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দুপুরের ভুরিভোজের পরের স্বল্প সময়ের সুখ নিদ্রায় হোক কিংবা দিনভরের ক্লান্ত শরীরে রাতের বিছানায় গভীর ঘুমে, ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে নিজের নাক! এমন নাকের ডাক, যে বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের তো বটেই, নিজের ঘুম ও অনেক সময় ভেঙে যাচ্ছে। নাক ডাকার বিচিত্র অদ্ভুত আওয়াজ নিয়ে রসিকতা ও করছেন পরিবার। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিছক মজার বিষয় মনে হলেও ব্যাপারটা আসলে খুবই গুরুতর। স্বাস্থ্য নিয়েও উদ্বিগ্ন হওয়ার মতোই একটি সমস্যা। তাই পরিবারের কেউ মারাত্মক নাক ডাকলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। বরং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

    কেন নাক ডাকার সমস্যা হয়?

    স্থূলতার সমস্যা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নাক ডাকার অন্যতম কারণ অতিরিক্ত ওজন। দেহের ওজন অতিরিক্ত বেড়ে গেলে ঘুমের সময় নাক দিয়ে আওয়াজ হয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, ওজন বেড়ে যাওয়ার অর্থ শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ তৈরি হয়ে যাওয়া। গলা এবং ঘাড়ের অংশে অতিরিক্ত মেদ তৈরি হয়ে যাওয়ার কারণে শ্বাসনালীতে চাপ পড়ে। আর সেই জন্য নাক ডাকার সমস্যা দেখা যায়।

    অ্যালার্জিজনিত সমস্যা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অ্যালার্জির কারণেও নাক ডাকার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেক সময়েই অনেকে নানান অ্যালার্জিতে ভোগেন। যার জেরে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো কিংবা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আর তার জেরেই নাক ডাকার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।

    মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাস!

    মদ্যপান ও ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। লিভার, ফুসফুসের একাধিক রোগের কারণ এই দুই অভ্যাস। আবার নাক ডাকার মতো সমস্যাও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত মদ্যপান এবং ধুমপান করলে ঘুমের সময় মুখ ও গলার পেশি শিথিল হয়ে যায়। এর ফলেই নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় অদ্ভুত একটা আওয়াজ তৈরি হয়। ফলে নাক ডাকার সমস্যা দেখা দেয়।

    ভিটামিন ডি অভাব!

    সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নাক ডাকার অন্যতম কারণ ভিটামিন ডি-র অভাব। ওই গবেষণায় অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক-গবেষকদের একাংশ বলছেন, ভিটামিন ডি যেমন শরীরের হাড় মজবুত করতে প্রয়োজনীয়। তেমনি শরীরে গভীর ঘুমের জন্য ও ভিটামিন ডি জরুরি। শরীরের সমস্ত পেশি, স্নায়ুর বিশ্রাম প্রয়োজন। তবেই শরীর আবার নতুনভাবে কাজের শক্তি পাবে। শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকলে ঘুমের গুণগত মান বাড়ে। অর্থাৎ শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, শরীরে ভিটামিন ডি অভাব থাকলে ঠিকমতো ঘুম হয় না।‌ ফলে পেশি ও স্নায়ুর কার্যক্ষমতা কমে। নাক ডাকার মতো সমস্যাও তৈরি হয়।

    কেন নাক ডাকার সমস্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নাক ডাকার সমস্যা একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। ঘুমের মধ্যে শ্বাসনালীতে ঠিকমতো অক্সিজেন পৌঁছয় না। নিঃশ্বাস ও প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় বাধা‌ তৈরি হয়। তার জেরেই নাক ডাকার মতো সমস্যা তৈরি হয়। তাই অতিরিক্ত নাসিকা‌ গর্জনে শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিপদ ও ঘটতে পারে। ঘুমের ভিতরে হঠাৎ শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো বিপদ ঘটনার পিছনেও থাকে নাক ডাকার সমস্যা। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। অতিরিক্ত নাক ডাকার সমস্যা হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো রোগের জন্ম দেয়। তাই নাক ডাকার মতো সমস্যা মোটেও অবহেলা করা উচিত নয় বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    Suicide Prevention: ‘আত্মহত্যা’ সবচেয়ে বড় ‘মহামারি’! কীভাবে রুখবেন প্রবণতা?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    আত্মহত্যা (Suicide) নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। প্রতিবছর ১০ সেপ্টেম্বর ওয়ার্ল্ড সুইসাইড প্রিভেনশন ডে (World Suicide Prevention Day) পালিত হয়। এছাড়া, ভারতে ৭ থেকে ১৩ তারিখ ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক (National Suicide Prevention Week) পালিত হচ্ছে। কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, দেশ জুড়ে আত্মহত্যা সম্পর্কে সতর্কতা ও সচেতনতা জরুরি (Prevent Suicide)। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আত্মহত্যা ‘মহামারি’-র আকার ধারণ করবে। বিশেষত তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ভয়ঙ্কর প্রবণতা মারাত্মক ভাবে‌ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Union Health Ministry) তথ্য অনুযায়ী, ভারতে গত তিন বছরে প্রায় ২৭ শতাংশ আত্মহত্যার ঘটনা বেড়েছে। যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলেই মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কে আত্মহত্যার চেষ্টা করতে পারেন, সেই লক্ষণ সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আর এই মহামারি রুখতে সবচেয়ে জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য (Mental Health) সম্পর্কে সচেতন হওয়া। তাই দেশ জুড়ে চলছে আত্মহত্যা সম্পর্কে সচেতনতা (Suicide Awareness) কর্মসূচি।

    কাদের জন্য উদ্বেগ বাড়ছে? কর্মশালার লক্ষ্য কী?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে। মানসিক অবসাদ (Mental Depression), হতাশা বাড়ছে।‌ তার থেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা বাড়ছে। গত কয়েক বছরে ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সি ছেলেমেয়েদের মধ্যে আত্মহত্যার ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভাবে বেড়েছে। বিশেষত ছেলেদের মধ্যে এই ঘটনা আরও বেশি। চলতি বছরে ন্যাশনাল সুইসাইড প্রিভেনশন উইক উপলক্ষে দেশ জুড়ে সচেতনতা কর্মসূচি (Prevent Suicide) পালন চলছে। মূল লক্ষ্য আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ বন্ধ করা। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে এ দেশে সচেতনতার হার এখনও অনেক কম। তাই কেউ আত্মহত্যা করবেন, জানালে অনেকেই এ নিয়ে কটাক্ষ করেন।

    এমন কথা অনেক সময়েই বলা হয়, যাতে সেই ব্যক্তির আত্মহত্যা করার ঝোঁক আরও বেড়ে যায়‌। আবার পরিবারের কেউ আত্মহত্যা করলে বাকিদের অনেক সময়েই নানান সামাজিক কটাক্ষের শিকার হতে হয়। যার ফলে তাদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়। আত্মহত্যার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যা নিয়ে কটাক্ষ নয়। বরং আত্মহত্যার লক্ষণ সম্পর্কে সতর্কতা জরুরি। এই লক্ষ নিয়েই মূলত দেশ জুড়ে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। মূলত স্কুলগুলোতে নাটক, নাচ, গানের মাধ্যমে এই বিষয়ে কর্মশালা চলছে।‌ যাতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়। অবসাদ কিংবা হতাশার মতো সমস্যা হলে কীভাবে‌ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া যায় এবং আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করা যায় সে সম্পর্কেও জানানো হচ্ছে।

    কীভাবে আত্মহত্যার প্রবণতা (Suicidal Tendencies) রুখবেন?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, আত্মহত্যার ঘটনা কমানোর জন্য এই সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, হঠাৎ কেউ অতিরিক্ত চুপচাপ হয়ে গেলে পরিবারের অন্য সদস্যদের সতর্ক‌ (Prevent Suicide) থাকা প্রয়োজন। বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েরা যদি দিনের অতিরিক্ত সময় ঘর বন্ধ করে একলা থাকে, তাহলে বাড়তি নজরদারি জরুরি। একাকিত্ব আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পরিবারের কেউ কোনও ঘটনায় মারাত্মক আবেগপ্রবণ হয়ে উঠলেও বাকিদের সতর্কতা জরুরি। আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে, অনেক সময় আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে।

    বন্ধু কিংবা পরিবারের কোনও সদস্য মানসিক অবসাদে ভুগছেন কিনা সে সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি। আত্মহত্যার অন্যতম কারণ মানসিক অবসাদ। অনেক সময়েই অবসাদের মতো জটিল রোগকে নিছক মন খারাপের তকমা দেওয়া হয়। এর ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটে। তাই এই সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মহত্যা রুখতে শুধুই কথা বলা নয়। প্রয়োজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং চিকিৎসা। তাঁরা জানাচ্ছেন, শরীর সুস্থ রাখতে‌ যেমন রোগীকে, তাঁর পরিবারের যত্নের পাশাপাশি চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের প্রয়োজন হয় (Prevent Suicide)। ঠিক তেমনি আত্মহত্যার প্রবণতার মতো জটিল মানসিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন থেরাপি। তাই পরিবার ও বন্ধুদের পাশে থাকার পাশপাশি মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও থেরাপিও জরুরি। তাই কাছের মানুষের মধ্যে এই ধরনের প্রবণতা তৈরি হলে দেরি করা উচিত নয়। বরং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। তবেই‌ বড় বিপদ আটকানো সম্ভব হবে। আত্মহত্যাকে মহামারির আকার দেওয়া যাবে না।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Old Age Ailments: ডায়াবেটিস থেকে ব্রেন ফগ, বার্ধক্যের একাধিক রোগকে কাবু করবে নারকেল!

    Old Age Ailments: ডায়াবেটিস থেকে ব্রেন ফগ, বার্ধক্যের একাধিক রোগকে কাবু করবে নারকেল!

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পশ্চিমবঙ্গ থেকে মহারাষ্ট্র, কিংবা, কেরল থেকে উত্তরপ্রদেশ, ভারতের সর্বত্র নারকেল খুব সহজলভ্য একটি ফল। বাড়ির একটুকরো উঠোনেও নারকেল গাছ নিজের জায়গা সহজেই করে নেয়। একঘেয়ে তরকারির স্বাদ বাড়াতে কিংবা উৎসবের মিষ্টির তৈরির উপাদান হিসাবে নারকেল ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও একাধিক শুভ কাজে নারকেল ব্যবহারের রীতি রয়েছে। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধু স্বাদের নিরিখেই নয়। স্বাস্থ্যের জন্যও নারকেল খুবই উপকারি! নিয়মিত নারকেল খেলে একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়। নারকেলের পুষ্টিগুণ প্রচুর।

    কোন রোগ মোকাবিলায় নারকেল বিশেষ সাহায্য করে?

    ব্রেন ফগ রুখতে বিশেষ সাহায্য করে!

    মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে বয়স পঞ্চাশের চৌকাঠে যাওয়ার আগেই স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়ার ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে। প্রৌঢ় বয়সে স্বাভাবিক জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে উঠছে স্মৃতিশক্তি হ্রাসের সমস্যা। পাশাপাশি হঠাৎ করেই সাধারণ বিভিন্ন বিষয়, নাম, ঠিকানা ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যা ও দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, মস্তিষ্কের ভিতরে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ব্রেন ফগ। এর জেরেই এই ধরনের ভোগান্তি বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নিয়মিত নারকেল খেলে ব্রেন ফগের ঝুঁকি কমবে‌। কারণ, নারকেলে আছে ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, পটাশিয়ামের মতো একাধিক খনিজ পদার্থ। এই খনিজগুলো মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরে গভীর প্রভাব ফেলে। এর ফলে মস্তিষ্কের স্নায়ু সক্রিয় থাকে। ব্রেন ফগের ঝুঁকি কমে।

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করে!

    ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বয়সের সীমারেখা আর থাকছে না। ভারতে স্কুল পড়ুয়াদের মধ্যেও এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নারকেল বিশেষ উপকারি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, এই ফলে গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে এই ফল বিশেষ সাহায্য করে। ডায়াবেটিস আক্রান্তেরা নারকেল খেলে বিশেষ উপকার পাবেন বলেই মত পুষ্টিবিদদের একাংশের।

    রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে!

    যে কোনও জীবাণু সংক্রমণ রুখতে শরীরের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বিশেষ ভূমিকা পালন করে। নারকেল নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। তাই চিকিৎসকদের একাংশের পরামর্শ ভোগান্তি এড়াতে সপ্তাহে অন্তত দু’দিন নারকেল খাওয়া জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, নারকেলে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুণ রয়েছে। তাই নারকেল খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। যে কোনও ব্যাকটেরিয়া কিংবা ভাইরাস ঘটিত অসুখ কাবু করা সহজ‌ হয়।

    ফাইবার হজমে সাহায্য করে!

    নারকেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, নারকেল খেলে হজম সহজে হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কম হয়।

    ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়!

    ভারত গ্রীষ্মপ্রধান দেশ। বছরের বেশিরভাগ সময় গরমের নাজেহাল হতে হয়। অতিরিক্ত ঘামের জেরে শরীরে জলের ঘাটতি দেখা যায়। তার ফলে নানান শারীরিক ঝুঁকিও তৈরি হয়। নারকেল কিংবা ডাবের জল এই ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত নারকেল কিংবা ডাবের জল খেলে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ হবে। আবার ডাব কিংবা নারকেলের জলে থাকে একাধিক উপকারি খনিজ‌ পদার্থ। এগুলো স্বাস্থ্যের পক্ষে বিশেষ উপকারি। দূর্বলতা কমাতেও এগুলো বিশেষ সাহায্য করে।

    তবে নারকেলের একাধিক গুণ থাকলেও কয়েকটি ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, নারকেল অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে দেহের ওজন বেড়ে যেতে পারে। তাঁরা জানাচ্ছেন, নারকেলে থাকে ফ্যাট। তাই অতিরিক্ত নারকেল নিয়মিত খেলে স্থুলতার সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার হৃদরোগের ঝুঁকিও তৈরি করে। তাই পরিমিত পরিমাণে নারকেল খেলে শরীরে উপকার হয়। বাড়তি সমস্যা তৈরি হয় না। বরং একাধিক রোগ মোকাবিলা সহজ হয়।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Anxiety in Children: পরীক্ষার আগে সন্তানের বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে চিন্তিত! ঘরোয়া খাবারেই লুকিয়ে সমাধান

    Anxiety in Children: পরীক্ষার আগে সন্তানের বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে চিন্তিত! ঘরোয়া খাবারেই লুকিয়ে সমাধান

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    পড়াশোনার চাপ বাড়ছে। তার সঙ্গে নানান চাপ বাড়তি মানসিক উদ্বেগ তৈরি করছে। অভিভাবকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের পড়াশোনার চাপ তাদের মনের উপরেও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। এর ফলে তাদের মধ্যে একধরনের উদ্বেগ (Anxiety in Children) তৈরি হচ্ছে।

    পরীক্ষার আগে বাড়ছে উদ্বেগ

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, বিশেষত বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের একাংশ এই মানসিক উদ্বেগের সমস্যায় (Mental Stress Among Children) ভুগছে। যে কোনও পরীক্ষার আগে তাদের মধ্যে এই উদ্বেগ বাড়ছে। এর ফলে তারা সহজ বিষয় ও মনে রাখতে পারছে না। স্মৃতিশক্তি ঠিকমতো কাজ করছে না। আবার আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সন্তানের এই মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়েরা। তবে, বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত কয়েকটি ঘরোয়া খাবারেই (Homemade Foods) সমাধান পাওয়া যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে, চাপ কমাতে এবং উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এই ঘরোয়া উপাদান বিশেষ উপকারি।

    মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) কমাতে কোন ঘরোয়া উপদানে ভরসা রাখছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    কুমড়োর বীজ!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের একাধিক উপাদান শরীর ও মনের জন্য বিশেষ উপকারি। কুমড়োর বীজ‌ তেমনি একটি উপাদান। তাঁরা জানাচ্ছেন, কুমড়োর বীজে থাকে পটাশিয়াম। এই খনিজ সম্পদ শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও বিশেষ উপকারি। তাই কুমড়োর বীজ ভালোভাবে শুকনো করে খেলে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। উদ্বেগ কমে। তাছাড়া বয়ঃসন্ধিকালে থাকা ছেলেমেয়েদের হরমোন ঘটিত নানান পরিবর্তনের জেরে অনেক সময় মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। কুমড়োর বীজ খেলে মেজাজ শান্ত থাকে।

    বাদাম!

    যেকোনও ধরনের বাদাম মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারি। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কাঠবাদাম হোক কিংবা কাজুবাদাম, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে যেকোনও বাদাম বিশেষ সাহায্য করে। আবার বাদামে থাকে ভিটামিন ই, উপকারি ফ্যাট। এই দুই উপাদান মস্তিষ্কের স্নায়ুর জন্য বিশেষ ইতিবাচক। তাই বাদাম খেলে একদিকে স্মৃতিশক্তি বাড়ে। আরেকদিকে মানসিক চাপ কমে। ফলে উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাছাড়া বাদাম অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তাই সন্তানের বাড়তি উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণ করতে নিয়মিত বাদাম খাওয়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    টক দই!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শরীরের পাশপাশি মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও টক দই খুবই জরুরি একটি খাবার। নিয়মিত টক দই খেলে মন ভালো থাকার নিউরোট্রান্সমিটার উৎপাদন বাড়ে। এই খাবারে থাকে ভালো ব্যাকটেরিয়া যা শরীরের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সাহায্য করে। নিয়মিত টক দই খেলে মানসিক উদ্বেগ কম তৈরি হয়। বরং মন শান্ত থাকে।

    কমলালেবু!

    কমলালেবু একটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। তাই এই ফল নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের স্ট্রেস হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকে। উদ্বেগ কমে।

    আদা!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, খাবারের পাশপাশি রান্নার কিছু উপকরণ ও মানসিক উদ্বেগ (Anxiety in Children) কমাতে বিশেষ সাহায্য করে। তেমনি একটি উপকরণ হলো আদা। তাঁরা জানাচ্ছেন, আদাতে প্রদাহরোধী যৌগ থাকে। এটা মানসিক চাপ এবং উদ্বেগ কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    তবে শুধুমাত্র খাবারেই মানসিক উদ্বেগ পুরোপুরি কমবে না বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, মানসিক সুস্থতা অনেকটাই জীবন যাপনের ধরনের উপরে নির্ভর করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, পরীক্ষার আগে বাড়তি চাপ যাতে তৈরি না হয়, তাই বছরভর একটি সুস্থ জীবন যাপনে অভ্যস্ত হওয়া জরুরি। নিয়মিত অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। অতিরিক্ত রাত জেগে না থাকা, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার খাওয়া এবং শারীরিক কসরত করার মতো সুঅভ্যাস গড়ে‌ তোলা জরুরি। এর পাশপাশি, মানসিক চাপ কমাতে (Reduce Mental Stress) নিয়মিত গান শোনা বা ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল কাজের দিনের কিছুটা সময় বরাদ্দ করা জরুরি। তাহলে বাড়তি উদ্বেগ (Anxiety in Children) তৈরির আশঙ্কা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Edible Mushrooms: নিয়মিত মেনুতে থাকে মাশরুম! নয়া প্রজন্মের এই পছন্দের খাবার শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

    Edible Mushrooms: নিয়মিত মেনুতে থাকে মাশরুম! নয়া প্রজন্মের এই পছন্দের খাবার শরীরে কী প্রভাব ফেলে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    তরুণ প্রজন্মের অধিকাংশের পছন্দের খাবারের তালিকায় থাকছে মাশরুম! কম বয়সিদের স্বাদের খবর পেয়েই শহরের নানান নামীদামী রেস্তোরাঁয় মাশরুমের হরেক পদ তৈরি হচ্ছে। ইতালি-চিন-জাপানের পদ থেকে ভারতীয়, নানান মশলা আর রান্নার ধরনে তৈরি হচ্ছে মাশরুম। তবে পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, শুধু স্বাদে নয়, স্বাস্থ্যের জন্য ও এই খাবার বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মাশরুম নিয়ম মাফিক রান্না করে খেলে, তা শরীরে গভীর প্রভাব ফেলে। একাধিক অঙ্গের সুস্থতার সঙ্গে মাশরুম খাওয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ।

    মাশরুম কেন খাওয়া দরকার?

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাশরুম এক ধরনের উদ্ভিদ জাতীয় খাবার। কিন্তু এই খাবারে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, প্রোটিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এছাড়াও থাকে নানান খনিজ পদার্থ। যা শরীরে গভীর প্রভাব ফেলে। তাই নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরের সহজেই ভিটামিন এবং প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হয়। পাশপাশি পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়ামের মতো একাধিক প্রয়োজনীয় উপাদানের জোগান ও হয়। বিশেষত যারা প্রাণীজ প্রোটিন খেতে চান না, তাদের জন্য বিকল্প খাবার হিসাবে মাশরুম খুবই উপকারি‌। ক্যান্সার থেকে হৃদরোগ, একাধিক জটিল অসুখের ঝুঁকি কমাবে মাশরুম। এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    শরীরের কোন রোগ রুখতে সাহায্য করে মাশরুম?

    ক্যান্সার রুখতে পারে!

    সাম্প্রতিক এক আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকায় চিকিৎসক-গবেষকেরা জানাচ্ছেন, সপ্তাহে দুই থেকে তিন কাপ মাশরুম খেলে ক্যান্সারের ঝুকি ৪৫ শতাংশ কমে। তাঁরা জানাচ্ছেন, জাপান সহ পৃথিবীর একাধিক দেশে ক্যান্সার চিকিৎসায় মাশরুম ব্যবহার করা হয়। এমন কিছু ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে মাশরুমের উপাদান ক্যান্সার রোগীর শরীরে পৌঁছয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, মাশরুমে থাকে গ্লুটাথিওয়ান এবং এরগোথিওয়ানাইন নামে দুই ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান। এই দুই উপাদান ক্যান্সারের কোষ নষ্ট করতে বিশেষ সাহায্য করে। ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে এই দুই উপাদানের ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাই সপ্তাহে অন্তত দু-তিনদিন মাশরুম খেলে ক্যান্সারের মতো জটিল রোগকেও দূরে রাখা যাবে বলেই মনে করছেন পুষ্টিবিদদের একাংশ।

    অ্যালজাইমারের ঝুঁকি কমাতে পারে!

    বয়স পঞ্চাশ কিংবা ষাটের চৌকাঠে পৌঁছলেই স্মৃতিশক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আধুনিক জীবনে প্রৌঢ়কালের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াচ্ছে অ্যালজাইমারের মতো রোগ। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমছে। স্মৃতিশক্তি থাকছে না। ফলে স্বাভাবিক জীবন যাপন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও কমাতে পারে মাশরুম। তাঁরা জানাচ্ছেন, মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন বি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এই দুই উপাদান মস্তিষ্ক সক্রিয় রাখতে বিশেষ সাহায্য করে। মস্তিষ্কের স্নায়ুর উপরেও প্রভাব ফেলে। এর ফলে অ্যালজাইমারের মতো রোগের ঝুঁকি কমে। আবার স্মৃতিশক্তিও ভালো থাকে। গবেষক-চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সপ্তাহে দু’কাপ পরিমাণ মাশরুম খেলে মস্তিষ্কের বিকাশ বেশি হয়। মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমার ঝুঁকিও অর্ধেক হয়ে যায়।

    হৃদরোগের আশঙ্কা কমায়!

    পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, মাশরুমে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ব্যালেন্স রাখতে মাশরুম বিশেষ সাহায্য করে। তাই এই খাবার হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। তাঁরা জানাচ্ছেন, দেশ জুড়ে হৃদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। তাই মাশরুম খেলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হবে। হৃদপিণ্ডের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান সহজেই পেয়ে যাবে। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমবে।

    হাড়ের ক্ষয় রোগ রুখতে পারে!

    হাড় ক্ষয়ের রোগ বাড়ছে। বিশেষত ভারতে মহিলাদের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা আরও বেশি দেখা যাচ্ছে। হাড়ের দুর্বলতা ও ক্ষয়রোগের জেরে হাঁটাচলা এমনকি বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে উঠছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভিটামিন ডি-র অভাবেই এই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের একাংশ ও ভিটামিন ডি-র অভাবে ভুগছেন। যার জেরে অনেকেই কোমড় ও হাঁটুর যন্ত্রণায় কাবু হচ্ছে।‌ পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, খুব কম খাবারেই পর্যাপ্ত ভিটামিন ডি থাকে। যে কয়েকটি খাবার থেকে শরীর সহজেই ভিটামিন ডি-র চাহিদা পূরণ করতে পারে, তাদের মধ্যে রয়েছে মাশরুম। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, নিয়মিত মাশরুম খেলে শরীরে ভিটামিন ডি-র চাহিদা পূরণ হয়। এতে হাড় ক্ষয়ের মতো রোগ সহজেই আটকানো‌ যায়।

    অন্ত্রের জন্য উপকারি!

    ভিটামিন, প্রোটিন, খনিজের পাশপাশি মাশরুমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকে। তাই মাশরুম নিয়মিত খেলে হজম শক্তি বাড়ে। অন্ত্রের জন্য ও এই খাবার বিশেষ উপকারি।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • Bad Cooking Practices: রান্নাঘরের এই পাঁচ অভ্যাস বাড়াচ্ছে বিপদ! কীভাবে এড়াবেন?

    Bad Cooking Practices: রান্নাঘরের এই পাঁচ অভ্যাস বাড়াচ্ছে বিপদ! কীভাবে এড়াবেন?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    শরীর সুস্থ রাখার চাবিকাঠি রয়েছে রান্নাঘরে! কী খাবার তৈরি হচ্ছে, কীভাবে সেটা রান্না হচ্ছে আর কখন খাওয়া হচ্ছে, এই সবকিছুই জরুরি। এগুলোর উপরে শরীর সুস্থ থাকার শর্ত অনেকটাই নির্ভর করে। অন্তত এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, বহু শিশু নিয়মিত পেটের অসুখে ভোগে। অনেকেই বমি কিংবা হজমের গোলমালের জেরে হয়রানি হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই ধরনের নানান সমস্যা হয় খাবার থেকেই। তাই রান্নাঘরের অভ্যাস নিয়ে সচেতনতা জরুরি। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই জানেন না, খুব সাধারণ রান্নাঘরের পাঁচটি অভ্যাস আসলে বিপজ্জনক। শরীরের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

    নিয়মিত বাসি ভাত এবং ডিম খাওয়ার অভ্যাস!

    জীবনের ব্যস্ততা বাড়ছে। অনেকেই এখন কাজ কমাতে একসঙ্গে অনেকটা রান্না করে রাখেন‌। তারপরে সময় মতো গরম করে খান। কিন্তু চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এই অভ্যাস খুবই বিপজ্জনক। তাঁরা জানাচ্ছেন, কিছু খাবার পুনরায় গরম করে খেলে, তার পুষ্টিগুণ একেবারেই থাকে না। বরং আরও বেশি শারীরিক ক্ষতি করে। তেমনি দুটো খাবার হলো ভাত এবং ডিম। পুষ্টিবিদদের একাংশ জানাচ্ছেন, বাসি ভাতে নানান ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে। বাসি ভাত খেলে ডায়রিয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দেখা যায়, নিয়মিত বাসি ভাত খেলে অনেকেই পেটের অসুখে ভুগছেন। ভাতের পাশাপাশি ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রেও এই পরামর্শ দিচ্ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, বাসি ডিম শরীরের জন্য ক্ষতিকারক। কারণ ডিম পুনরায় গরম করে খেলে ডিমের মধ্যে থাকা প্রোটিন একেবারেই নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে কোনও উপকার হয় না। বরং নানান রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

    প্লাস্টিকের বোতলে জল রাখার অভ্যাস!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকারক, তেমনি শরীরের জন্যও ক্ষতিকারক। অধিকাংশ বাড়িতেই প্লাস্টিকের বোতলে জল রাখার রেওয়াজ। যা একাধিক রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ প্লাস্টিক বোতল একবার ব্যবহারযোগ্য। কিন্তু বহু বাড়িতেই ওই বোতল দিনের পর দিন ব্যবহার হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, প্লাস্টিকের বোতল তৈরির সময় বিসফেনল জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা হয়। এই উপাদান রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট করে। হরমোনের সমস্যা তৈরি করে। এমনকি ইনসুলিন ক্ষরণের ক্ষেত্রেও নানান জটিলতা তৈরি করে। দীর্ঘদিন প্লাস্টিকের বোতলে জল রেখে জল খেলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোন ঘটিত অসুখ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকিও তৈরি হয়।

    রান্নাঘরে অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার!

    রান্নাঘরে মাছ-মাংসের আঁশটে গন্ধ দূর করতে অনেকেই বাজারে সহজলভ্য সুগন্ধি ব্যবহার করেন। অনেকেই এখন রান্নার পরে ঘরে এয়ার ফ্রেশনার কিংবা সুগন্ধযুক্ত মোমবাতি জ্বালিয়ে গন্ধ দূর করেন। এতে সাময়িক স্বস্তি হলেও শরীরে মারাত্মক প্রভাব ফেলে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ এই সুগন্ধিতেই থ্যালেট সহ একাধিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয়। এগুলো শরীরের পক্ষে বিপজ্জনক। হৃদপিণ্ড, ফুসফুসের উপরে এগুলোর গভীর প্রভাব পড়ে। তাই রান্নাঘরে নিয়মিত এই ধরনের সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সতর্কতা জরুরি বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। বরং তাদের পরামর্শ রান্নার পরে রান্নাঘর নিমপাতা এবং লেবুর রস মেশানো ঘরোয়া মিশ্রণে পরিষ্কার করলে জীবাণু দূর হবে আবার বাজে গন্ধ ও থাকবে না।

    পুরনো ননস্টিক বাসনে রান্না!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কী খাওয়া হচ্ছে, এর পাশপাশি কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এটাও সমান জরুরি। শরীর সুস্থ রাখতে তাই কোথায় কীভাবে রান্না হচ্ছে সেটার দিকে নজরদারি প্রয়োজন। তাই তাঁদের পরামর্শ পুরনো ননস্টিক বাসনে রান্না করা একেবারেই উচিত নয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, ননস্টিক বাসনে টেফলন নামে একটি রাসায়নিকের আস্তরন থাকে। পুরোনো বাসন বারবার ঘষা মাজার ফলে সেই আস্তরন ছিঁড়ে যায়। এতে বাসনের মধ্যে একধরনের রাসায়নিক ক্রিয়া হয়। ওই বাসনে রান্না করলে, ওই রাসায়নিক খাবারে মিশে যেতে পারে। বিষক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যার প্রভাব শরীরেও পড়ে।

    অতিরিক্ত তেল ও কৃত্রিম চিনির ব্যবহার!

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশজুড়ে ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সবচেয়ে বড় কারণ জীবন‌ যাপন সংক্রান্ত নানান অভ্যাস। তাঁরা জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত তেলে রান্না করা খাবার খাওয়া এবং কৃত্রিম চিনি খাওয়ার অভ্যাস শরীরে নানান রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই নিয়মিত তেলে ভাজা জাতীয় খাবার খান‌। অনেকেই একবার রান্না করা তেল, পুনরায় ব্যবহার করেন। যা খুবই বিপজ্জনক। একবার রান্না করার পরে আবার সেই তেল পুনরায় ব্যবহার করলে শরীরে নানান জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়‌। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি রুখতে তরুণ প্রজন্মের একাংশ কৃত্রিম চিনি নিয়মিত ব্যবহার করছে। যা খুবই বিপজ্জনক। এমনটাই জানাচ্ছেন চিকিৎসকদের একাংশ। তাঁরা জানাচ্ছেন, কৃত্রিম চিনিতে নানান ক্ষতিকারক রাসায়নিক থাকে। যার ফলে ক্যান্সারের মতো রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাঁদের পরামর্শ, কম তেলে রান্না করতে হবে। চিনি কিংবা কৃত্রিম চিনি কোনোটাই শরীরের জন্য উপকারী নয়। তাই এগুলো‌ বাদ দেওয়া উচিত।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share