Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Kali Puja 2023: লোহাদহ থেকে আসত ক্ষীর, ছানা, দুধ! বলি হত ১০৮টি! কেমন ছিল ঘোষালবাড়ির পুজো?

    Kali Puja 2023: লোহাদহ থেকে আসত ক্ষীর, ছানা, দুধ! বলি হত ১০৮টি! কেমন ছিল ঘোষালবাড়ির পুজো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: খড়ের ছাউনি, মাটির দেওয়াল। একচালা মন্দিরের মধ্যে অষ্টধাতুর কালী বিগ্রহ। মন্দিরে নিত্যপুজো হত। কার্তিক মাসে কৃষ্ণপক্ষে বিশেষ দিনে ধুমধাম করে কালীপুজো হত। গ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতা সেই পুজোয় সামিল হতেন। তখন মুঘল যুগ। আর গৌড়ের শাসক সুলায়মান খান কররানি। তাঁর আমলে সেনাপতি ছিলেন কালাপাহাড়। সুবে বাংলা, ওড়িশা জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কালাপাহাড়। জগন্নাথ মন্দিরে হামলা চালিয়ে লুটতরাজ চালায় কালাপাহাড়। বাংলার একাধিক মন্দিরে হানা দেয় কালাপাহাড়ের দলবল। চলে লুটপাট। অত্যাচার থেকে মন্দির রক্ষা করতে মুর্শিদাবাদের বাজারসৌ ঘোষালবাড়ির অষ্টধাতুর বিগ্রহ মাটির তলায় রেখে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই ঘোষালবাড়ির কালী মায়ের মৃন্ময়ী রূপ। কালের নিয়মে ঘোষালবাড়ি এখন ঘোষালপাড়়ায় পরিণত হয়েছে। পুরানো ঐতিহ্য মেনেই কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের বিশেষ দিনে জাঁকজমকভাবে পুজো (Kali Puja 2023) হয়ে আসছে।

    কালীপুজোর ইতিহাস

    পুজোর ইতিহাস জানার আগে জানতে হবে ঘোষালদের আদি বাসস্থান। পরিবারের প্রবীণ সদস্য প্রয়াত চণ্ডীদাস ঘোষাল, সুর্নিমল ঘোষালের কাছে পাওয়া তথ্য অনুসারে, বাজারসৌ ঘোষালদের আদি ভিটে ছিল দক্ষিণেশ্বরের পাশে আড়িয়াদহে। সেখান থেকে আট পুরুষ আগে রাম যাদব ঘোষাল বাজারসৌ আসেন। কান্দীর জেমোর জমিদারের অধীনে ছিল এই এলাকা। ওই জমিদারদের আমলেই মোড়পতলার দুর্গামন্দির, দুটি শিব মন্দির, বর্তমান ঘোষালপাড়ার পাশে শিবপুকুর পাড়ে তিনটি শিব মন্দির নির্মিত হয়েছিল। আর মন্দিরের সেবাইত ছিলেন রামযাদব। শিবপুকুরের পাড়ে শিব মন্দিরের আশপাশে ছিল বসতভিটে। বসতভিটের কাছেই একচালার মন্দির তৈরি করে শুরু হয়েছিল কালীপুজো (Kali Puja 2023)। তবে, নির্দিষ্ট সময়কালের নথি আর নেই। ফলে, শিবমন্দিরের পাশাপাশি কালী মন্দিরে নিত্যপুজো হত। সেই সময় ঘোষালদের সঙ্গে বন্দ্যোপাধ্যায়, ভট্টাচার্য, আচার্য্যরা সামিল হতেন। সেই সময় এই পুজোকে ঘিরে গোটা গ্রামের মানুষের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো।

    ১০০ বছর আগে কেমন ছিল পুজো?

    কালীপুজোর অনেক আগে থেকে চলত প্রস্তুতি। এখন ঘোষালপাড়ায় করুণাসিন্ধু, দ্বিজত্তোম, দিলীপ, ভাগবত, মধুসূদন, তপন, স্বপন, উত্তম, জয়ন্ত, আশিস, সঞ্জয়, সমর ঘোষালের মতো প্রবীণ সদস্যরা রয়েছেন। মায়ের প্রতিমা থেকে সাজ, ঢাক-ঢোল সব কিছুই নির্দিষ্ট পরিবার থেকে প্রতি বছর আসত। ঘোষাল পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা বলেন, সালারের কাছে হলদে থেকে নাটাকুরু আসতেন ঢোল, বাঁশি বাজাতে। বাজারসৌ দাসপাড়া থেকে ঢাক আসত। সুকুলি দাস, কুশো দাসরা বাজাতে আসতেন। লোহাদহ থেকে ক্ষীর, ছানা, দুধ আসত। বিনিময়ে জমি দেওয়া ছিল। আর ভরতপুর থকে মালাকার পরিবারের সদস্যরা মাকে ডাকের সাজ পরাতেন। আমাদের পুজো শুরু হওয়ার পর তালডাঙা মায়ের পুজো শুরু হত। ১০৮টি বলি হত। মেষ, মোষ বলি হত। বিশালকার তশলা ছিল। বাপ ঠাকুরদার সময় থেকেই এই নিয়ম চলে আসে। সেই সময় পরিবারের সদস্যরা মায়ের পুজোর (Kali Puja 2023) পৌরোহিত্য করতেন। আদি বড়মায়ের নতুন মন্দির তৈরিতে সহদেব ঘোষালের অন্যতম ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন। সেই নতুন মন্দির এখনও বর্তমান রয়েছে।

    কবে থেকে শুরু হল নতুন কালীপুজো?

    সালটা ১৯৬৬। পরিবারের এখন যারা প্রবীণ সদস্য, তাঁরা তখন ছোট। পুজো সংক্রান্ত বিষয়ে মতবিরোধের জেরে পুজো (Kali Puja 2023) ভাগ হয়ে যায়। শিবনারায়ণ ঘোষালের ফাঁকা জমিতে মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। গৌরী-কান্তি-অনিল তিন ভাই মিলে নতুন করে কালীপুজো শুরু করেন।২০১১ সালে নতুন করে মন্দির তৈরির কাজ শুরু হয়। মন্দির তৈরিতে সুনীল বন্দ্যোপাধ্যায়, করুণাসিন্ধু, উদয়, দ্বিজত্তোম, দিলীপ, প্রয়াত চণ্ডী ঘোষাল, সুভাষ ঘোষাল, সুর্নিমল ঘোষালদের উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। পরিবারের আত্মীয়রা নতুন মন্দির তৈরিতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। নতুন মন্দিরে সেই ঐতিহ্য মেনেই পুজো হয়ে আসছে। পুজোর দিন পরিবারের অধিকাংশ সদস্যও সারাদিন উপোস করে থাকেন। বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত চলে ভোগ রান্না। দুটি কালী মন্দিরে এখনও বলিপ্রথা অব্যাহত। তবে, মোষ বলি বহু বছর আগেই উঠে গিয়েছে। এখন শুধু ঘোষাল পরিবারের সদস্যরা ছাগ বলি দেন।

    বর্তমানে কেমন হয় কালীপুজো?

    ঘোষালবাড়ির বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগই কর্মসংস্থানের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকেন। পুজোর কদিন সকলেরই বাড়ি ফিরে আসেন। পরিবারের আত্মীয়স্বজনরাও সকলেই পুজোর কদিন চলে আসেন। আগের দিন থেকেই ঘোষালপাড়াকে আলোয় সাজানো হয়। প্রতিটি বাড়িতে জ্বলে ওঠে টুনি। আগে ছাদের উপর বাঁশ বেঁধে নাইট ল্যাম্প লাগিয়ে রঙিন কাগজ দিয়ে ঘেরা দেওয়া হত। সমগ্র এই উদ্যোগটাকে বলা হত ফনাস। সেই সময় ঘোষালপাড়া জুড়ে ফনাস টাঙানোর রেওয়াজ ছিল। সুতলির দড়িতে রঙিন কাগজ লাগিয়ে গোটা রাস্তা সাজিয়ে তোলা হত। এখন সেই রীতি উঠে গিয়েছে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত কালীপুজোর আগেরদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হত। এছাড়া অর্কেষ্টা, বাউল গান, সাঁওতালি নাচ, ম্যাজিক শো হত। করোনার পর এখন আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। তবে, পুজোর আগের দিন মণ্ডপে বসে সান্ধ্যকালীন আড্ডা কার্যত মিলন উত্সবে পরিণত হয়। পুজোর আগের দিন ঢাক-ঢোলের আওয়াজে মন্দির চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে। পুজোর দিন সন্ধ্যায় গোটা ঘোষালবাড়ির ছাদ মোমবাতি জ্বালিয়ে সাজানো হয়। দুই কালী মন্দিরের সামনে ঢাক-ঢোল, সাউন্ড বক্সের আওয়াজে আর ছাদে থরে থরে সাজানো মোমবাতির আলোর রোশনাইয়ে গোটা ঘোষালপাড়া গমগম করে। পরিবারের নবীন সদস্যরা বলেন, পুজোর সময় সারারাত ধরে চেয়ারে বসে পুজো দেখা, ভোরের দিকে মন্দিরে বসে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার আলাদা উন্মাদনা। পুজোর (Kali Puja 2023) পরদিন প্রত্যেকের বাড়িতে পাত পেড়ে খাওয়া-দাওয়া হয়। পুজোর কদিন কার্যত ঘোষালপাড়া আদতে একটি বৃহত্ ঘোষালবাড়ির আকার নেয়। গোটা পাড়া হয়ে ওঠে একটি পরিবার। আলোর উত্সবে আদিশক্তির আরাধনায় মেতে ওঠে সকলে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: নৈহাটির ‘বড়মা’-র পুজো এবার ১০০ বছরে, ভোর থেকেই শুরু হবে দণ্ডি কাটা

    Kali Puja 2023: নৈহাটির ‘বড়মা’-র পুজো এবার ১০০ বছরে, ভোর থেকেই শুরু হবে দণ্ডি কাটা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নৈহাটির বড়মা ১০০ বছরে পদার্পণ করল। তাই এবার বাড়তি উন্মাদনা পুজো উদ্যোক্তাদের। নতুন মন্দিরে বিশাল জাঁকজমকভাবে মায়ের কষ্টি পাথরের মূর্তি বসানো হয়েছে। উদয়পুর থেকে বড়মায়ের কষ্টি পাথরের মূর্তি নিয়ে আসা হয়েছে। কষ্টি পাথরের বিগ্রহে মায়ের নিত্য পুজো হচ্ছে। আর নিয়ম মেনে মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তি তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। মায়ের সোনা, রুপোর কয়েক কেজি গয়না থাকে ব্যাঙ্কে। অন্যবারের মতো এবারও পুলিশি নিরাপত্তার মোড়কে মাকে গয়না পরানো হবে (Kali Puja 2023)। লক্ষ্মীপুজোর দিন জাঁকজমকভাবে মায়ের বিগ্রহের খুঁটি পুজো হয়েছে। বড়মায়ের পুজো ঘিরে নৈহাটিবাসীর উন্মাদনা এখন তুঙ্গে। মায়ের মাহাত্ম্যেই ভক্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে।

    ভবেশ কালীই আজকের বড়মা (Kali Puja 2023)

    এই পুজোর সৃষ্টির একটি ইতিহাস রয়েছে। নৈহাটির বাসিন্দা ভবেশ চক্রবর্তী এক বন্ধুর সঙ্গে ১০০ বছর আগে নদিয়ার শান্তিপুরে রাস উৎসব দেখতে গিয়েছিলেন। সেখানে কালীর বড় বিগ্রহ দেখে নৈহাটি ফিরে অরবিন্দ রোডে কালীর বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে এই কালী প্রতিমা ভবেশ কালী নামেই পরিচিত ছিল। পরবর্তীকালে ২১ ফুটের এই ভবেশ কালীকে বড় কালী বলা হত। কালের নিয়মে এই বড় কালী এখন বড়মা। বড়মায়ের মাহাত্ম্য লোকমুখে ঘুরে বেড়ায়। শুধু জেলার বাসিন্দারা নয়, দূর দূরান্তের হাজার হাজার ভক্ত দণ্ডি কাটার জন্য কালীপুজোর দিন ভোর থেকে গঙ্গায় লাইন দেন। বড় মায়ের পুজো দেখতে এতটাই ভিড় হয় যে অরবিন্দ রোডে ভক্তদের দাঁড়ানোর জায়গা থাকে না। তাই, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই পুজো সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকে। বড় মা পুজো কমিটির সম্পাদক তাপস চক্রবর্তী বলেন, করোনার সময় দু’বছর মানুষের ইচ্ছা থাকলেও আসতে পারেননি। গত বছর থেকেই ভিড় উপচে পড়েছে। এবছর তো ভিড় অনেক বাড়বে। সেই মতো ভলান্টিয়ারের ব্যবস্থা থাকছে। পাশাপাশি পুলিশ-প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। কালীপুজোর (Kali Puja 2023) দিন ভোর থেকে ভক্তদের দণ্ডি কাটার জন্য বলা হচ্ছে।

    তৈরি হচ্ছে ৫ তলা ধর্মশালা (Kali Puja 2023)

    বড়মা পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর দেড় কোটি টাকা খরচ করে অরবিন্দ রোডে পাঁচতলা ধর্মশালা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বড় মা পুজো কমিটির পক্ষ থেকে। প্রতিটি ফ্লোরে ৬ হাজার ৮০০ স্কোয়ার ফুট জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। ফলে, ধর্মশালায় অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের থাকার কোনও সমস্যা হবে না। অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের বিনা পয়সায় থাকার জন্য এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বড় মা মন্দির কমিটির কর্মকর্তা তথা নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, জি প্লাস ফোর বিল্ডিং তৈরি করা হয়েছে। বড় মা পুজো কমিটির উদ্যোগেই সমস্ত কিছু করা হয়েছে। সেখানে যে কেউ চাইলে আর্থিক সাহায্য করতে পারেন। এই পুজো এবার ১০০ বছরে পদার্পণ করল। এই সময়ের মধ্যে ধর্মশালা চালু করার সব রকমের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এতদিন সারা বছর ছবি দিয়ে মায়ের নিত্য পুজো হত। এখন কষ্টি পাথরের বিগ্রহে পুজো হচ্ছে (Kali Puja 2023)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: কালী প্রতিমার বুকে পা দিয়ে পুজো করেন পূজারী! কোথায় জানেন?

    Kali Puja 2023: কালী প্রতিমার বুকে পা দিয়ে পুজো করেন পূজারী! কোথায় জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মন্ত্র ছাড়াই শুধুমাত্র রীতি মেনে ৬১ বছর ধরে মা কালীর আরাধনা (Kali Puja 2023) চলছে আরামবাগের রতনপুরে। পুজোর প্রতিষ্ঠাতা তথা পূজারী কালীশঙ্কর সাঁতরা। তিনি দাবি করেন, এখানে মন্ত্রপাঠ ছাড়াই পুজো হয়। ৯ বছর বয়স থেকে কালী মূর্তি তৈরি করে পুজো করছেন। দেবীকে স্মরণ করে মুখে যে কথা বা গান আসে, সেটাই মন্ত্র। কালী প্রতিমার বুকে পা দিয়ে পুজো করেন পূজারী। দেবীর কাছে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পৌঁছে দিতে কাচের উপরে মাথা ঠোকেন। আরামবাগ-সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ভক্ত এখানে পুজো দেখতে আসেন। ভিড় সামলাতে রাখতে হয় পুলিশি ব্যবস্থা।

    কী এই পুজোর ইতিহাস? (Kali Puja 2023)

    পুজোর প্রতিষ্ঠাতা তথা পূজারী কালীশঙ্কর সাঁতরা জানান, পুজোর সমস্ত আচারই দৈব আদেশে পাওয়া। তিনি জানান, ৯ বছর থেকে কালী মূর্তি তৈরি করে পুজো করছেন। বর্গক্ষত্রিয় পরিবারের হওয়ায় তিনি কোনও মন্ত্রও জানেন না। মাকে স্মরণ করে মুখে যা আসবে, সেটাই মন্ত্র। যুবক বয়সে তিনি এক বার ১২ ফুট উচ্চতার কালীমূর্তি তৈরি করেন। রং করার সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। অজ্ঞাত মহিলা কণ্ঠ তাঁকে জাগিয়ে রঙের কাজ শেষ করতে বলে। কিন্তু চক্ষুদানের সময়ে মূর্তির মুখের নাগাল পাচ্ছিলেন না। তখন দুঃখে মাথা ঠুকছিলেন। ফের সেই মহিলা কণ্ঠ তাঁকে চৌকিতে উঠে মূর্তির বুকে পা দিয়ে কাজ করতে নির্দেশ দেয়। সেই থেকেই তিনি প্রতিমার বুকে পা দিয়েই পুজো করেন। পুজোর মন্ত্র এবং ভক্তের আকুতি দেবীর কাছে পৌঁছাতে কাচের উপর মাথা ঠোকা, নাচও মায়ের আদেশেই বলে তিনি জানান। বছর কুড়ি হয়ে গেল কালীশঙ্কর আর মাটির প্রতিমা (Kali Puja 2023) গড়েন না। আরামবাগ শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দক্ষিণে রতনপুরের মন্দিরে এখন স্থাপিত হয়েছে ৬ ফুট উচ্চতার পাথরের দক্ষিণাকালী মূর্তি। তবে মূর্তির বুকে পা দিয়ে পুজো করার প্রথা বদলায়নি।

    ভাত, খিচুড়ি, লুচি ভোগের ব্যবস্থা (Kali Puja 2023)

    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বহু আগে একটি তালপাতার ছাউনি করে এই কালীপুজো শুরু হয়েছিল। ভক্তদের দানের অর্থে এখন সেই জায়গায় প্রায় চার বিঘা জমির উপরে তৈরি হয়েছে মন্দির। নিত্য পুজো হয়। প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শনিবার ভক্তদের ভিড় বেশি হয়। তবে বিশেষ পুজো (Kali Puja 2023) ধূমধাম হয় কার্তিক মাসে। এখানে পাঁঠা বলি হয়। ভাত, খিচুড়ি, লুচি ভোগের ব্যবস্থা থাকে ভক্তদের জন্য। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: উলুবেড়িয়ার খলিসানিতে বুড়িমার পুজোর পরে শুরু হয় দীপান্বিতা কালীপুজো

    Kali Puja 2023: উলুবেড়িয়ার খলিসানিতে বুড়িমার পুজোর পরে শুরু হয় দীপান্বিতা কালীপুজো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেউ বলেন অন্তত সাড়ে তিনশো, কেউ বলেন চারশো পার হয়ে গেছে। উলুবেড়িয়ার খলিসানির বুড়িমার কালীপুজোর প্রতিষ্ঠা কবে, তার লিখিত কোনও নথি নেই। কেউ বলেন কালীপ্রসন্ন ভট্টাচার্য আবার কেউ বলেন কালীকুমার নামে স্থানীয় এক ব্রাহ্মণ এখানে প্রথম ঘটে ও পরে মূর্তিতে পুজো শুরু করেন। সেই ঘট আর মূর্তি কালের নিয়মে হারিয়ে গেছে। রয়ে গেছে পুজোর রীতি, মানে অনাড়ম্বর উপাসনা (Kali Puja 2023)।

    বুড়িমা আদতে কালী (Kali Puja 2023)

    কথিত আছে, দেবীকে স্বপ্নে দেখেন আমতার বাসিন্দা কালীপ্রসন্ন। সেইমতো তিনি খলিসানিতে এসে শ্মশানের মধ্যে বেলগাছের নিচে মাটির ঘট দেখতে পান। স্বপ্নে তেমনই দেখেছিলেন। ওই ঘটের জায়গাতেই পুজো শুরু করেন তিনি। মূর্তি থাকলেও মূল পুজো তাই ঘটেই হয়। এখানে বলির প্রথা এখনও রয়েছে, তবে কখনও নরবলি হয়েছে কিনা, সেকথা জানা যায় না।
    কালীপ্রসন্ন যখন এখানে ঘট প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন, তখন এটি ছিল শ্মশান। চারদিকে গাছ। ডাকাতের আস্তানা। তাই কালীপ্রসন্ন প্রতিষ্ঠিত দেবীর পুজো এক সময় ডাকাতদের পুজো হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে বন পাতলা হতে থাকে। ডাকাতরাও আর ডাকাত থাকে না। শুধু রয়ে যান দেবী। তাঁর মাহাত্ম্য গ্রাম ছাড়িয়ে দূরদূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। ভক্তদের বিশ্বাস, দেবী জাগ্রত। এখানে পুজো দিলে মনস্কামনা পূর্ণ হয়। রোগ-ব্যাধি সেরে যায়। মূল পুজো হয় কার্তিক ও পৌষ মাসে (Kali Puja 2023), আর নিত্যপুজো তো হয়ই।

    অনেকে আসেন মানত করতে (Kali Puja 2023)

    দীপান্বিতা অমাবস্যায় এই মন্দিরে সবচেয়ে বেশি ভক্ত সমাগম ঘটে। অনেকে আসেন মানত করতে। মনস্কামনা পূর্ণ হলে আবার আসেন পুজো দিতে। খলিসানির আশেপাশে এখন অনেক জায়গাতেই কালীপুজো হয়। তবে অন্য কোথাও পুজো দেওয়ার আগে ভক্তরা এই মন্দিরে আসেন পুজো দিতে। দেবী এখানে দক্ষিণাকালী। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ১২ বছর অন্তর দেবীর বিগ্রহ পরিবর্তন করা হয়। নিরঞ্জন হয় মন্দির সংলগ্ন পুকুরে। তারপর মহালয়ায় তাতে নতুন করে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রাণপ্রতিষ্ঠার পরে এই প্রথম দীপান্বিতা অমাবস্যা, তাই এবারে অন্যবারের তুলনায় ভিড় (Kali Puja 2023) আরও বেশি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: সাতের দশকের ‘রবিনহুড’! ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর গল্প আজও ঘোরে মুখে মুখে

    Kali Puja 2023: সাতের দশকের ‘রবিনহুড’! ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর গল্প আজও ঘোরে মুখে মুখে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তাঁকে ঘিরেই তৈরি হয়েছিল ‘এমএলএ ফাটাকেষ্ট’ সিনেমা। এই ফিল্মে মিঠুন চক্রবর্তীর সংলাপ-‘‘মারব এখানে, লাশ পড়বে শ্মশানে’’ আজও সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে রয়েছে। জানেন, কে ছিলেন এই ‘ফাটাকেষ্ট’? এর উত্তর জানতে আমাদের যেতে হবে সাতের দশকে নকশাল আন্দোলনে উত্তাল কলকাতায়। প্রতিদিনই তখন হত্যালীলা চলছে, সারা রাজ্যের অলিগলি থেকে কলকাতার রাজপথে তখন রক্তের দাগ। কোথাও বৃষ্টির ফোঁটার মতো গুলিবর্ষণ হয়, তো কোথাও মুড়ি-মুড়কির মতো বোমাবাজি চলে। কলেজ স্ট্রিটের দেওয়ালে তখন নকশালদের দেওয়াল লিখন ‘ফাটাকেষ্টর মুণ্ডু চাই’। তৎকালীন সময় থেকেই জনশ্রুতি রয়েছে, ‘নকশালদের ছোড়া বোমা নাকি তাঁর পায়ের কাছে পড়েও ফাটেনি, ওই বোমা তিনি উল্টোদিকে শট মারেন ঠিক ফুটবলের ধাঁচে’। তিনি যে ফাটাকেষ্ট। বোমা নিয়ে ফুটবল খেলা তো তাঁরই সাজে।

    কলেজ স্ট্রিটের ‘মসীহা’ ফাটাকেষ্ট

    এলাকার মসীহা বলুন অথবা রবিনহুড। অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘শাহেনশা’ চরিত্র তাঁর সঙ্গে অনেকাংশে মেলে, এমনটাই বিশ্বাস ছিল তাঁর ফ্যানদের। কলেজ স্ট্রিটের রাস্তা ধরে এলাকার মেয়েরা ‘নাইট শো’ দেখে নিশ্চিন্তে রাতে একাকী ফিরতে পারতেন যখন দেখতেন, তাঁদের পাহারার জন্য ‘ফাটাকেষ্ট’ বারোয়ারি মন্দিরের মেঝেতে তোয়ালে বিছিয়ে রাত্রিযাপন করছেন।

    কালীমায়ের ভক্ত ফাটাকেষ্ট

    আসল নাম কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত। ‘নব যুবক সংঘ’-এর কালীপুজোর উদ্যোক্তা। নকশাল আমলে কলেজ স্ট্রিটে দুই মস্তানের সঙ্গে ব্যাপক ছুরির লড়াই হয় ‘কালীভক্ত’ কৃষ্ণচন্দ্র দত্তের। লড়াইয়ে জিতলেও শরীরে ব্যাপক ছুরিকাঘাতের কারণে ক্ষত সৃষ্টি হয় তাঁর। ভর্তি হন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে। সুস্থ হয়ে পাড়ায় ফিরলে তাঁর নাম হয় ‘ফাটাকেষ্ট’। কলেজ স্ট্রিটের এই ‘মসীহা’-র এমন অদ্ভূত নামকরণের কারণ তাঁর মুখমণ্ডল জুড়ে থাকা বসন্তের দাগ বলেও মনে করেন অনেকে। ছোটখাট চেহারা, সুঠাম দেহের অধিকারী ফাটাকেষ্টর কলেজ স্ট্রিটের কালীপুজো প্রসিদ্ধ হয়ে রয়েছে সেই ছয়ের দশক থেকেই। কালীমায়ের ভক্ত কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত ওরফে ফাটাকেষ্ট ‘তন মন ধন’ দিয়ে মায়ের আরাধনা করতেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় পুজোর উদ্বোধন করতেন। সারা এলাকা জুড়ে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা থাকত, বিভিন্ন থিম দ্বারা সাজানো হত মায়ের মণ্ডপ। বিশালকায় মায়ের মূর্তির দর্শন করতে কাতারে কাতারে মানুষজন আসতেন।

    প্রচলিত বিশ্বাস মতে, নব যুবক সঙ্ঘের কালীপুজোয় একবার এক মহিলার ভর হয় কালীমূর্তির সামনে। ওই মহিলা তখন বলতে থাকেন ‘‘ছোট গ্লাসের জলে আমার চেষ্টা মেটে না, আমাকে বড় গ্লাসে জল দিতে পারিস না তোরা?’’ তখন দেখা গেল মাতৃ প্রতিমার নৈবেদ্যতে রাখা জলের পাত্রটি সত্যিই ছোট। এই ঘটনার পরে বড় গ্লাসে দেবী কালীকে জলদানের রীতি রয়েছে ফাটাকেষ্টর কালীপুজোতে।

    সিনেজগতের হুজ-হু’দের চাঁদের হাট

    কালীপুজোর প্রাক মুহূর্তে একবার পরিচালক দুলাল গুহর ছবির কাজে কলকাতায় এসেছিলেন অমিতাভ বচ্চন, সদ্য মুক্তি পেয়েছিল ‘নমক হালাল’ সিনেমা। বাচ্চা থেকে বুড়ো অবধি তখন মোহাচ্ছন্ন নমক হালাল-এর সংলাপে। ফাটাকেষ্টর ঘনিষ্ঠ ছিলেন পরিচালক দুলাল গুহ। মূলত তাঁরই অনুরোধে সেবার নব যুবক সঙ্ঘের কালীপুজো উদ্বোধন করেন অমিতাভ বচ্চন। মঞ্চ বাঁধা হয় তাঁর জন্য। কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে তখন অমিতাভ বচ্চন বলছেন সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘নমক হালাল’ সিনেমার একের পর এক বিখ্যাত সংলাপ। শুধু তাই নয়। ফাটাকেষ্টর কালীপুজোতে তিনি মায়ের জন্য গড়িয়ে দিয়েছিলেন হীরের নাকছাবি। 

    ফাটাকেষ্টর পুজোয় হাজির অমিতাভ বচ্চন ও বিনোদ খান্না (ছবি-সংগৃহীত)

    দেশ-বিদেশ খ্যাত অসংখ্য সেলেব্রিটি যুক্ত থেকেছেন ফাটাকেষ্টর কালীপুজোর উদ্বোধনে। এই তালিকায় যে যে নামগুলো ছিল একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক। সিনেমা জগতের তারকা বিনোদ খান্না, শত্রুঘ্ন সিনহা থেকে সঙ্গীত জগতের হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, রাহুল দেব বর্মন, আশা ভোঁসলে, ক্রীড়া জগতের বিশ্ববিখ্যাত গোলকিপার লেভ ইয়াসিন-প্রতি বছর কালীপুজো উদ্বোধনে চাঁদের হাট বসতো নব যুবক সঙ্ঘে। প্রয়াণের আগের বছর অবধি ওই পুজোতে এসেছেন স্বয়ং উত্তম কুমার অবধি।

    ফাটাকেষ্টর পুজোয় মহানায়ক উত্তম কুমার (ছবি-সংগৃহীত)

    জগৎজোড়া খ্যাতির নেপথ্য কী?

    ১৯৯২ সালে প্রয়াত হন কৃষ্ণচন্দ্র দত্ত ওরফে ফাটাকেষ্ট। কয়েক বছর আগেও তাঁর কালীপুজোর উদ্বোধন করে গেছেন প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। উত্তর কলকাতায় সীতারাম ঘোষ স্ট্রিটের এই কালীপুজো আজও একটা ‘মিথ’। নবযুবক সঙ্ঘের কালী পুজোর জগৎজোড়া খ্যাতির নেপথ্যে ছিল কালী মায়ের ভক্ত, ছোটখাট চেহারার ওই দাপুটে মানুষটি। যাঁর কথায় নাকি এলাকার বাঘে-গরুতে একসঙ্গে জল খেত বলেই বিশ্বাস করেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: আড়ম্বর নয়, ভক্তি এবং নিয়মনিষ্ঠাই বয়রা কালীবাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য

    Kali Puja 2023: আড়ম্বর নয়, ভক্তি এবং নিয়মনিষ্ঠাই বয়রা কালীবাড়ির পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শুধু উত্তর দিনাজপুর নয়, বলতে গেলে গোটা উত্তরবঙ্গের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কালীপুজোগুলির মধ্যে আজও উজ্জ্বল উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জের বয়রা কালীবাড়ির পুজো। আড়ম্বর নয়, ভক্তি এবং নিয়মনিষ্ঠাই এই পুজোর (Kali Puja 2023) অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রাচীনত্ব এবং দেবীর অলৌকিক মহিমার টানেই পুজোর রাতে বহু মানুষ ভিড় করেন এখানে।

    বয়রা গাছের নিচে পুজোর প্রচলন (Kali Puja 2023)

    উল্লেখ্য, উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ শহরে অবস্থিত বয়রা কালীবাড়ির কালীপুজো অনেক প্রাচীন। এই কালীবাড়ির পুজোর বয়স কত, তার হিসেব অজানা সকলের। কথিত আছে, প্রবীণ এক সাধক বয়রা গাছের নিচে প্রথম কালীপুজোর প্রচলন করেন। শোনা যায়, এখানে দুটি নদী ছিল। একটির নাম রুহিতর এবং অপরটির নাম শ্রীমতি। এই দুটি নদী দিয়ে বড় বড় নৌকা করে বাণিজ্য করতে আসতেন দূর দূরান্ত থেকে অনেক বণিক। রুহিতর নদীটি এখন মজে গিয়েছে ও শ্রীমতি নদীটিরও প্রায় একই অবস্থা। এখানে বণিকরা এসে বিশ্রাম করতেন এবং সেই জায়গাটি ছিল জঙ্গলে ভর্তি। পাশে একটি ছোট ঘর ছিল। বর্তমানে সেই জায়গাটির নাম গুদরি বাজার। মূলত সেই ঘরটিতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় গড়ে ওঠে দেবীর নতুন মন্দির। এরপর কালিয়াগঞ্জ থানার পুলিশ আধিকারিক সুকুমার ঘোষ মন্দিরটির সংস্কার করেন। এরপর থেকে দেবীর অলৌকিক ক্ষমতার কথা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে। মন্দিরে বসানো হয় দেবীর অষ্টধাতুর মূর্তিও। আর বর্তমানে কালীপুজোর দিন থেকেই হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণে (Kali Puja 2023)। শুধু জেলা নয়, জেলার বাইরে থেকেও লোক সমাগম হয় এই মন্দির প্রাঙ্গণে।

    মানত করেন অনেকেই (Kali Puja 2023)

    শাস্ত্রমতে দেবী পূজিতা হন এখানে। এই কালীবাড়ির অলৌকিক ক্ষমতার নানা গল্পকথা ছড়িয়ে রয়েছে সর্বত্র। নিজ নিজ মনস্কামনা পূরণে কালীপুজোর রাতে ভক্তদের প্রার্থনা আর মন্ত্রোচ্চারণে সরগরম হয়ে ওঠে এই মন্দির প্রাঙ্গণ। পুজো কমিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কালীপুজো দীর্ঘদিনের প্রাচীন। মানুষ ভক্তি আর নিষ্ঠা মেনেই মায়ের মন্দিরে পুজো দেন। পুজোর কটা দিন দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। পুজো দেন মায়ের কাছে। মানত করেন অনেকেই। কালীপুজোর আর বেশি দেরি নেই৷ তবে দৈনিক মায়ের পুজো হয়। প্রচুর মানুষ প্রতিদিন এখানে পুজো দিতে আসেন। ভক্তি আর নিষ্ঠা মেনে এখানে পূজিতা হন বয়রা মা (Kali Puja 2023)।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: শুধু জবা নয়, হরিপালের ‘সবুজ কালী’র পুজো হয় জুঁই ফুল দিয়ে!

    Kali Puja 2023: শুধু জবা নয়, হরিপালের ‘সবুজ কালী’র পুজো হয় জুঁই ফুল দিয়ে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হুগলি জেলার অন্তর্গত হরিপাল থানার শ্রীপতিপুর পশ্চিম গ্রাম। এখানকার ৭৩ বছরের সিদ্ধেশ্বরী কালীমাতার মন্দির ও অধিকারী বাড়ির ইতিহাস বেশ চমকপ্রদ। শারদ উৎসব শেষ। সামনে দীপাবলি। চারদিকে ধুমধাম করে হবে কালীপুজো (Kali Puja 2023)। সাধারণত নিকষ কালো অথবা শ্যামলা গায়ের মায়ের প্রতিমা দেখতে অভ্যস্ত আমরা। কিন্তু মা কালীর গায়ের রং সবুজ! তাও হয় নাকি? এই প্রতিমা দেখতে গেলে আসতে হবে হুগলির হরিপালের ওই ছোট্ট সুন্দর গ্রামে। হুগলি জেলার সুপ্রাচীন বর্ধিষ্ণু গ্রাম হরিপাল। এই অঞ্চলে একটি ছোট জনপদ শ্রীপতিপুর গ্রাম। এই গ্রামের অধিকারী পরিবারে দীর্ঘদিন যাবৎ পূজিতা মা সবুজ কালী। এখানে সব চেয়ে আকর্ষণীয় ব্যপার হল, মা কালীর গায়ের রং কচি কলাপাতার মতো সবুজ। বেশ জাগ্রত বলে খ্যাত এই সবুজ মা। আর এই মা কালীকে ঘিরে রয়েছে এক সুদীর্ঘ ইতিহাস।

    ৭৩ বছর আগে প্রতিষ্ঠা (Kali Puja 2023)

    ১৩৫৭ সালে এই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করেন বটকৃষ্ণ অধিকারী মহাশয়। তিনি এই শ্রীপতিপুরেরই বাসিন্দা ছিলেন। বৈষ্ণবসুলভ আচরণ ছোট থেকেই জন্মসূত্রে পেয়েছিলেন অধিকারী মশাই। তৎকালীন ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশ করার পর কয়েক বছর ভিন রাজ্যে চাকরি করেন। তারপর ভাগ্যচক্রে আবারও গ্রামে এসে চাষাবাদ শুরু করেন। অতঃপর পরিবারের আদেশ অনুযায়ী জনৈক আঙুরবালা দেবীর সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। কিন্তু সংসারে তাঁর মতি ছিল না। মাঠে-ঘাটে, শ্মশানে ঘুরে বেড়াতেন। এরকম কয়েক বছর চলার পর জানা যায়, কোনও এক মাঠে তিনি গরুর খুঁট বাঁধছিলেন, সেই মুহূর্তে তাঁর পিছন থেকে এক সাদা বস্ত্র পরিহিত সন্ন্যসী এসে বলেন, অমুক স্থানে অমুক সময়ে তোমার দীক্ষা হবে। এর পরের ঘটনা সবটাই গুপ্ত।

    কী জানালেন পরিবারের সদস্যরা?

    কথা হচ্ছিল বটকৃষ্ণর সুযোগ্য নাতি দেবজ্যোতি অধিকারীর সঙ্গে। তিনি জানান, এরপর বটকৃষ্ণ শ্মশানে সাধনা করতে করতে সিদ্ধিলাভ করেন, এবং স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে মা কালীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু গোঁড়া বৈষ্ণব পরিবারে জন্ম। তাঁর বাড়িতে কেউ তিলক সেবা রাধাগোবিন্দের নাম না করে জলস্পর্শ করেন না। সেই বৈষ্ণব বাড়িতে কালীপুজো! তৎকালীন সমাজের মাতব্বররা রে রে করে উঠলেন। বললেন নৈব নৈব চ। কিন্তু সমস্ত বাধা অতিক্রম করে তিনি বাড়িতে কালীর ঘট স্থাপন করলেন। বেশ কিছুদিন পর আবার তিনি স্বপ্ন দেখেন, মায়ের মূর্তি স্থাপনের। এবার তিনি দেখেন, অদ্ভুত এক স্বপ্ন। কৃষ্ণ ও কালী একই অঙ্গে বিরাজ করছেন। গাত্রবর্ণ যার সবুজ। একদম কচি কলাপাতার মতো। এভাবেই প্রতিষ্ঠিত হল সবুজ কালী। রটন্তী পূজার দিন প্রতিষ্ঠা করেন এই সবুজ কালী মাকে (Kali Puja 2023)।

    প্রতিটি অমাবস্যাতেই আসেন বহু ভক্ত (Kali Puja 2023)

    এখানে মা পরম বৈষ্ণব। সারা বছর এই বৈষ্ণব বাড়িতে পূজিতা হন মা সবুজ কালী। পাশাপাশি অদ্ভুত কিছু নিয়ম আছে এখানে। গুপ্ত তন্ত্র মতে পুজো হয়। মা পঞ্চমুন্ডির আসনের ওপর পূজিত হন। যেহেতু বৈষ্ণব বাড়ি, তাই বলি প্রথার চল নেই। এখানে দেবী পরম বৈষ্ণব। কপালে তিলক কাটা হয়। যদিও মায়ের ভোগ আমিষ। বিশেষত ইলিশ মাছের ভোগ মায়ের প্রিয়। সাধারণত মাকালীর প্রিয় রং লাল বলে জবা ফুল দিয়ে পুজো করা হয়। যদিও এই সবুজ কালীর পুজোর ফুল জুঁই। আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল বাঁশি। এখনও মাকে বাঁশি বাজিয়ে শোনান সেবাইতরা। মঙ্গলারতির মাধ্যমে পুজো হয়। প্রতিটি অমাবস্যাতেই বহু ভক্ত আসেন এই মায়ের (Kali Puja 2023) দর্শনে। মায়ের কাছে প্রার্থনা করে অনেকেই সুফল পেয়েছেন বলে বিশ্বাস গ্রামবাসীদের।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: কার্তিক মাসে ঘরে ঘরে কেন জ্বালানো হয় আকাশ প্রদীপ? জানুন মাহাত্ম্য

    Kali Puja 2023: কার্তিক মাসে ঘরে ঘরে কেন জ্বালানো হয় আকাশ প্রদীপ? জানুন মাহাত্ম্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে’ গানটি বাঙালির এক নস্টালজিয়া। এই ‘আকাশ প্রদীপ’ (Akash Pradip) কয়েক বছর  আগেও কার্তিক মাসে বাংলার ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত। এখন অবশ্য আধুনিকতার ছোঁয়ায় লোকাচার যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও গ্রাম বাংলায় কার্তিক মাসের হালকা শীতের চাদর মোড়ানো সন্ধ্যায় সন্ধান পাওয়া যায় ‘আকাশ প্রদীপ’-এর।

    পুরাণ কী বলছে?

    পুরাণ মতে, দীর্ঘ চার মাসের যোগনিদ্রা শেষে, কার্তিক মাসে (Kartik Masa) জেগে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু (Lord Vishnu)। তাঁকে প্রসন্ন রাখতে, ভক্তরা কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মাটির প্রদীপে ঘি বা তেল দিয়ে জ্বালিয়ে রাখেন। বাড়ির সব থেকে উঁচু স্থানে উত্তর অথবা পূর্ব দিকে মুখ করে রেখে এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। লাঠির ডগায় ছাদের উপরেও এই প্রদীপ দিতে দেখা যায়। বর্তমান সময়ে প্রদীপের বদলে বৈদ্যুতিক বাতিও দেন অনেকে। বিশ্বাস, ভক্তদের আকাশ প্রদীপ (Akash Pradip) অর্পণে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে ভক্তদের জীবন। আরোগ্য ও আশীর্বাদ প্রদান করেন ভগবান বিষ্ণু।

    রয়েছে আরও বিশ্বাস…

    অন্য একটি বিশ্বাস মতে, আশ্বিন মাসের মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করা হয়। তার পরের একটি মাস তাঁরা আনন্দ উৎসবে সামিল হন এবং পরলোকের উদ্দেশে গমন করেন কালীপুজোর (Kali Puja 2023) অমাবস্যায়। এই প্রদীপ জ্বেলে আবাহন করা হয় পিতৃলোকে, প্রেতলোকে অবস্থান করা পূর্বপুরুষদেরও। যাতে তাঁরা আকাশ প্রদীপের আলোয় পথ চিনে আশীর্বাদ দিতে আসতে পারেন উত্তরসূরীদের।

    হিন্দু ধর্মে প্রদীপের তাৎপর্য

    প্রদীপ হিন্দু ধর্মের যে কোনও অনুষ্ঠানের সব থেকে অপরিহার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ধর্মীয় আচার, রীতি সবকিছুই সম্পন্ন হয় প্রদীপের দ্বারা। ভগবান বিষ্ণুর বন্দনা করতে তাই বেছে নেওয়া হয়েছে আকাশ প্রদীপ (Akash Pradip)। ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশে সমর্পিত এই প্রদীপের ধরন আলাদা আলাদা হয় এবং তা ভক্তদের নানা মনোবাঞ্ছা পূরণের লক্ষ্যে জ্বালানো হয়। একনজরে আমরা দেখে নিই আকাশ প্রদীপের ধরনগুলি।

    ১. দ্বিমুখী প্রদীপ: ভগবানের অসীম কৃপা লাভ, আশীর্বাদ লাভ এবং দীর্ঘজীবনের অধিকারী হওয়া যায় দ্বিমুখী প্রদীপ জ্বালালে। এটাই ভক্তদের বিশ্বাস।

    ২. ত্রিমুখী প্রদীপ: লোকবিশ্বাস, এই প্রদীপ জ্বালালে শত্রুর কু-নজর থেকে ভগবান বিষ্ণু ভক্তদের রক্ষা করেন।

    ৩. চতুর্মুখী প্রদীপ: সন্তানের দীর্ঘজীবন কামনা করে মা-বাবারা এই প্রদীপ জ্বালেন।

    কার্তিক মাসব্যাপী সন্ধ্যার সময় অনেক গৃহে তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে‌। পুকুরে বা নদীতেও অনেক সময় প্রদীপ ভাসানো হয় ভগবানের আশীর্বাদ এবং কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে। আকাশ প্রদীপ দেওয়ার মন্ত্রটি হলো-‘‘আকাশে সলক্ষ্মীক বিষ্ণোস্তোষার্থং দীয়মানে প্রদীপঃ শাকব তৎ।’’ আকাশে লক্ষ্মীর সঙ্গে অবস্থান করছেন যে বিষ্ণু, তাঁর উদ্দেশে দেওয়া হল এই প্রদীপ (Kali Puja 2023)।

    দেহের প্রতীক প্রদীপ

    ঘটের মতো প্রদীপকেও অনেক পণ্ডিত দেহেরই প্রতীক বলে মনে করেন। আকাশ প্রদীপও (Akash Pradip) নশ্বর শরীরের মতো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম-এই পঞ্চভূতে তৈরি। ক্ষিতি অর্থাৎ মাটি, কায়া তৈরি করে। অপ অর্থাৎ জলে আকার পায়। তেজ অর্থাৎ আগুন, আত্মার মতোই স্থিত হয় তার অন্তরে। মরুৎ অর্থাৎ হাওয়া আগুনকে জ্বলতে সাহায্য করে। আর ব্যোম অর্থাৎ অনন্ত শূন্য জেগে থাকে প্রদীপের গর্ভে।

     

    দেশের খবরদশের খবরসব খবরসবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের ইতিহাস জানুন

    Kali Puja 2023: রানি রাসমণি প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের ইতিহাস জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বছরের বিভিন্ন সময়ে অমাবস্যা তিথিতে কালীপুজো দেখা যায়। তবে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা কালীপুজো (Kali Puja 2023) সবথেকে প্রসিদ্ধ। আয়োজন, জাঁকজমক, ধুমধাম সবদিক থেকেই বেশ জনপ্রিয় দ্বীপান্বিতা কালীপুজো।  জাগ্রত কালী মন্দিরগুলিতে কার্তিকী অমাবস্যায় ভক্তদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কালী আরধনা বা কালী সাধনা বললেই উঠে আসে দক্ষিণেশ্বরের ভবতারিণী মন্দির। কামারপুকুরের গদাধর চট্টোপাধ্যায় এখানেই রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব হয়েছিলেন। কথিত আছে, হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত এই দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠা করেন রানি রাসমণি, সেটা ছিল ১৮৫৫ সালের ৩১ মে।

    দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরের অধিষ্ঠাত্রীদেবী ‘ভবতারিণী’ 

    এখানে কালী মন্দিরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী ভবতারিণী নামে প্রসিদ্ধ। জনশ্রুতি রয়েছে, রানি রাসমণি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়েই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন এবং মন্দির প্রতিষ্ঠা কালে রানিকে সব থেকে বেশি সাহায্য করেছিলেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়। পরবর্তীকালে রামকুমার চট্টোপাধ্যায় দক্ষিণেশ্বরের কালীমন্দিরের (Kali Puja 2023) প্রধান পুরোহিত হন। রামকুমারের হাত ধরেই কামারপুকুরের গদাধর চট্টোপাধ্যায়ের প্রবেশ ঘটে। দক্ষিণেশ্বরের মন্দিরের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের আকর্ষণে এক মহাতীর্থে পরিণত হয় ভবতারিণী মন্দির।

    তরুণ নরেনের রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের সঙ্গে সাক্ষাৎ

    এখানেই আগমন ঘটে নরেন্দ্রনাথ দত্তের যিনি পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ হবেন। তরুণ নরেন্দ্রনাথ দত্ত সাংসারিক অনটনে ভুগছেন তখন। এমনই সময় রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁকে পাঠালেন ভবতারিণীর সামনে। অর্থ কষ্ট মেটানোর প্রার্থনা করতে বললেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব। ভবতারিণীর সামনে নরেন্দ্রনাথ দত্ত চাইলেন বিবেক, বৈরাগ্য, জ্ঞান এবং ভক্তি। দক্ষিণেশ্বরে কালীমন্দির (Kali Puja 2023) চত্বরে একাধিক দেবদেবীর মন্দিরও রয়েছে। দ্বাদশ শিবমন্দির নামে পরিচিত রয়েছে বারটি আটচালার মন্দির। মন্দিরের উত্তর দিকে রয়েছে রাধাকান্ত মন্দির, দক্ষিণে রয়েছে নাটমন্দির। উত্তর-পশ্চিম কোণে রয়েছে রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের বাসগৃহ। বছরের সারাবছর ধরেই ভক্তদের ভিড় লেগেই থাকে মন্দিরে। তবে কালীপুজো এবং কল্পতরু উৎসবে বিপুল জনসমাগম ঘটে এখানে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Kali Puja 2023: চুল্লির আগুনে পুড়ছে শব, কেওড়াতলায় “শ্মশানে জাগিছে শ্যামা মা..”

    Kali Puja 2023: চুল্লির আগুনে পুড়ছে শব, কেওড়াতলায় “শ্মশানে জাগিছে শ্যামা মা..”

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৈদ্যুতিক চুল্লিতে পুড়ছে শবদেহ। পাশেই তন্ত্রমতে পুজো হচ্ছে শ্মশানকালীর (Kali Puja 2023)। ফি বছর কালীপুজোর রাতে এ ছবি দেখা যায় কালীঘাটের কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। এক সময় এখানে দেহ দাহ হত কাঠের চুল্লিতে। পরে হয়েছে বৈদ্যুতিক চুল্লি। চুল্লি জ্বলে প্রায় সারাদিনই। কালীপুজোর রাতেও এর বিরাম থাকে না। এই আবহেই এখানে হয় মাতৃ আরাধনা।

    মাতৃমূর্তি করুণাময়ী

    কেওড়াতলায় মাতৃমূর্তি করুণাময়ী। ১৬ ফুট উচ্চতার মাতৃমূর্তি লোলজিহ্বা নয়, হাস্যময়ী। অসুর মুণ্ডমালিনী নয়। দেবীর দুই হাত। ডান হাতে নৈবেদ্যরূপী মাংস, অন্য হাতে মদ। অনেকেই এখানে দেবীকে মদ্য মানত করেন। সেই পানপাত্র থেকে মদ্যের একটা অংশ নিয়ে পুরোহিত দেবীর হাতে থাকা পাত্রে রাখেন। বাকিটা প্রসাদ করে তুলে দেওয়া হয় মানতকারীর হাতে। কালীপুজোয় বলিদান সিদ্ধ। তাই বলিদানের রীতি শুরু থেকেই রয়েছে এখানে। ভক্তদের (Kali Puja 2023) মানত করা ছাগ বলি হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, কেওড়াতলার মা কালী কাউকে শূন্য হাতে ফেরান না।

    রাতভর চলল পুজো-হোম-বলিদান

    এখানে শ্মশানকালী পুজোর একটি ইতিহাস রয়েছে। গভীর জঙ্গলে আকীর্ণ এই এলাকায় এক সময় ছিল শুধুই শ্মশান। মূলত দেহ দাহ করতেই লোকজন আসতেন এখানে। এই জায়গাটিকেই সাধনস্থল হিসেবে বেছে নিলেন জনৈক চন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য ও মতিলাল ভট্টাচার্য। এক অমাবস্যার রাতে এখানে এসে হাজির হন ভিনদেশি এক তান্ত্রিক। হাতে লৌহনির্মিত একটি ছোট্ট কালীমূর্তি। সাধনারত দুই ব্রহ্মণকে তিনি বললেন, “আজকের এই রাত্রির লগ্ন মাতৃপূজার শুভক্ষণ। আমি এখানে দেবীর আরাধনা করতে চাই। আপনারা আমায় সহযোগিতা করুন।” তখনই ব্রাহ্মণরা আয়োজন করলেন মাতৃ আরাধনার। স্থানীয় জনবসতি থেকে জোগাড় হল পুজোর উপকরণ। রাতভর চলল পুজো-হোম-বলিদান। তন্ত্রমতে সাঙ্গ হল দেবী আরাধনা।  

    আরও পড়ুুন: পুরীর জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদের মূল্য একলাফে বেড়ে ৩ গুণ! ভক্তমহলে অসন্তোষ

    আকাশে ভোরের আলো ফোটার আগেই দেবীমূর্তি নিয়ে কোথায় যেন চলে গেলেন তান্ত্রিক। তবে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করে আজও হচ্ছে পুজো। যেহেতু তান্ত্রিক তাঁর দেবীমূর্তি নিয়ে চলে গিয়েছেন, তাই এখন মৃণ্ময়ী প্রতিমা গড়ে হয় পুজো। তবে পুজোর নিয়ম অনুসরণ করা হয় সেই তান্ত্রিকের মতোই। জনশ্রুতি এই (Kali Puja 2023) যে, দ্বীপান্বিতা অমাবস্যার রাতে যখন মায়ের আরাধনা হয়, তখনও জ্বলতে থাকে চিতা। কালীপুজোর রাতে এখানে এলে মনে পড়ে কাজী নজরুল ইসলামের সেই কথা কটি, “শ্মশানে জাগিছে শ্যামা মা…।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share