Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Yellow Colour: সব স্টেশনের বোর্ডে কেন হলুদ রং? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    Yellow Colour: সব স্টেশনের বোর্ডে কেন হলুদ রং? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কিছু ক্ষেত্রে পোস্টার হোক বা কোনও সচেতনতামূলক বোর্ড। সব জায়গাতেই কিছু বিশেষ রঙের ব্যবহার দেখা যায়, যেগুলি মানুষকে আকর্ষণ করে। যেমন সিগন্যালে লাল ও সবুজ রং মানুষকে সচেতন করে। প্রত্যেকটি রং বিশেষ বার্তা এবং মানেও বহন করে। এই বিশেষ কোনও একটি রঙের ব্যবহার নিয়ে আবার অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে, কেন সেই জায়গায় শুধু ওই একটি রংই ব্যবহার করা হয়? অন্য রং কেন ব্যবহৃত হয় না? আজ আমরা যে রংটি নিয়ে বিশেষ ভাবে আলোচনা করব, সেটি হল হলুদ (Yellow Colour)। রেল স্টেশনের বোর্ড থেকে শুরু করে স্কুল বাস, সবেতেই কেন হলুদ রং ব্যবহার করা হয়? এর পিছনে কি আছে বিজ্ঞান?

    সব স্টেশনের বোর্ডে কেন হলুদ রং (Yellow Colour) ব্যবহার করা হয়?

    বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এর অন্যতম কারণ হল, হলুদ রঙের (Yellow Colour) বোর্ডের ওপর কালো কালিতে লেখা জায়গার নাম সহজেই ট্রেনের ড্রাইভার দূর থেকে বুঝতে পারেন। সামনে কোনও স্টেশনের উপস্থিতি দূর থেকেই তাই জানতে পারেন তাঁরা। এটি অন্য কোনও রঙের দ্বারা সম্ভব নয়। 

    স্কুল বাসগুলিতেও কেন হলুদ রং (Yellow Colour) করা হয়?

    এর পিছনেও আছে বিজ্ঞান। কারণ হলুদ রং (Yellow Colour) বাচ্চাদের মস্তিষ্কে খুব ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। হলুদ রং মানসিক শক্তি বৃদ্ধি করে। আর নিরাপত্তার দিক থেকে ভাবলে দেখা যায়, আগের কারণটির মতোই হলুদ রং খুব দূর থেকে লক্ষ্য করা যায় এবং তা সহজেই চোখে পড়ে। স্কুল বাসে উপস্থিত বাচ্চাদের পথ দুর্ঘটনা থেকে এড়াতে এই রঙের ব্যবহার করা হয়। এমনকী কুয়াশা থাকেলও সহজেই এই রং ধরা দেয় চোখে। হলুদের পেরিফেরাল দৃষ্টি লাল রঙের চেয়ে দেড় গুণ বেশি। দুর্ঘটনার প্রবণতা কমাতে তাই স্কুল বাসে হলুদ রংই বেশি করা হয়।

    অনেক খাবারের দোকান ও রেস্টুরেন্টের বোর্ড হলুদ (Yellow Colour) ও লাল হয়, কারণ কী?

    এর পিছনে আছে এক মনস্তাত্ত্বিক কারণ। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, লাল রঙের মধ্যে এমন এক গুণ আছে, যা মানুষের খিদে বাড়াতে সাহায্য করে। আর তার সাথে হলুদ রং (Yellow Colour) মস্তিষ্কের নেতিবাচক প্রভাবগুলিকে বাড়িয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ এবং ভালোলাগার অনুভূতিগুলো জাগিয়ে তুলতে সাহায্য করে। তাই অনেক রেস্তোরাঁ কোম্পানি যেমন ডোমিনোজ, ম্যাকডোনাল্ড, বার্গার কিং, পিৎজা হাট, কেএফসি বরাবর এই লাল ও হলুদ রঙের ব্যবহার বেশি করে থাকে।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • AIR: তানপুরা এবং বেহালা সহযোগে তৈরি হয়েছিল আকাশবাণীর সিগনেচার টিউন!

    AIR: তানপুরা এবং বেহালা সহযোগে তৈরি হয়েছিল আকাশবাণীর সিগনেচার টিউন!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আকাশবাণীর (AIR) সিগনেচার টিউন আজ ইতিহাসের পাতায়। এই মিউজিকটি কয়েক কোটি মানুষের আবেগ হয়ে আছে এখনও। সকাল বেলায় রেডিও খুলতেই বেজে উঠত এই টিউন। রেডিও এই ডিজিটাল যুগে লুপ্ত প্রায় কিন্তু রেডিও-র কিছু মুহূর্ত যা পুরনো হলেও এখনও যথেষ্ট জোরালো প্রভাব ফেলে মানুষের আবেগে। তেমনই এই সিগনেচার টিউনটি, যা এত বছরের পুরনো হলেও এখনও একটি আলাদা স্থান অধিকার করে আছে। কিন্তু এই সিগনেচার টিউনটির ইতিহাস অনেকেরই অজানা।

    কে রচনা করেছিলেন এই যুগান্তকারী টিউনটি (AIR)?

    এই টিউনটি (AIR) সবার মনে গেঁথে থাকলেও, অনেকেরই হয়তো অজানা এই আবহ সঙ্গীতটির রচয়িতা কে। এই প্রসঙ্গে আলোচনা করতেই উঠে আসে একজন ইহুদি উদ্বাস্তুর কথা, তাঁর নাম ওয়েল্টার কাফম্যান।

    কে এই ওয়েল্টার কাফম্যান (AIR)?

    ওয়েল্টার কাফম্যান ছিলেন একজন সঙ্গীত শিল্পী (AIR) ও সঙ্গীত বিজ্ঞানী। একই সঙ্গে সুরকার এবং শিক্ষক। সঙ্গীত সম্পর্কে ছিল তাঁর অশেষ জ্ঞান। তিনি ১৯০৭ সালে প্রাক্তন চেকোস্লাভাকিয়ার কর্লসবাদে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩০ সালে তিনি বার্লিনের স্ট্যাটলিচ হোচশুল ফর মিউজিক নামক এক সঙ্গীত বিদ্যালয় থেকে স্নাতক হন।

    ভারতীয় সঙ্গীতে (AIR) কীভাবে তাঁর আবির্ভাব হল?

    ওয়েল্টার ইহুদি উদ্বাস্তুদের মধ্যে একজন ছিলেন, যাঁরা নাৎসিদের কাছ থেকে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে ভারতে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওয়েল্টার ভারতে এসে ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত মুম্বইয়ে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে একজন সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। মুম্বই আসার কয়েক মাসের মধ্যেই কাফম্যান বোম্বে চেম্বার মিউজিক সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি প্রত্যেক বৃহস্পতিবার মুম্বইয়ের ওয়েলিংডন জিমখানায় অনুষ্ঠান করত। ভারতে থাকাকালীন ১৯৩৫ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও-তে (AIR) চাকরি পান। এবং সেই সময় ভারতীয় রাগ শিবরঞ্জিনীর ওপর ভিত্তি করে মেহেলি মেহতার সহযোগে তানপুরা এবং বেহালা ব্যবহার করে সিগনেচার টিউনটি তৈরি করেন। এর পর থেকেই (AIR) এ তাঁর জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৬ সাল পর্যন্ত কাফম্যানের কর্মকাল (AIR) তাঁকে ভারতের শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতজ্ঞদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে সাহায্য করেছিল।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Transport: ১৯৫৭ সালে ২০ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে কলকাতায় এসেছিল ‘অ্যালবার্ট’?

    Transport: ১৯৫৭ সালে ২০ জন যাত্রী নিয়ে লন্ডন থেকে কলকাতায় এসেছিল ‘অ্যালবার্ট’?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আচ্ছা, যদি প্রশ্ন করা হয়, কলকাতা থেকে লন্ডন আপনি কিসে যাবেন? সরল মনে উত্তর দেবেন, বিমানে। কিন্তু যদি বলা হয় কলকাতা থেকে বাসে করে লন্ডন যেতে? এটি কৌতূক বলে মনে হতেই পারে। কিন্তু না, এমনটাই নাকি সম্ভব ছিল অতীতে। ছিল এমন এক বাস, যে বাস কলকাতা থেকে লন্ডন পর্যন্ত যাতায়াত করত, যার যাত্রী সংখ্যাও কম ছিল না।

    কারা এই বাস পরিচালনা করত?

    ইতিহাসবিদদের কাছ থেকে পাওয়া নথি থেকে জানা যায়, এই বাসটি পরিচালনা করত ‘অ্যালবার্ট ট্যুর সার্ভিস’ নামক এক সংস্থা। সময়টা ১৯৫০ এর দশকে। বাসটির নামও ছিল ‘আলবার্ট’। এই বাসটি তৎকালীন সময়ে লন্ডন থেকেই শুরু করা হয়েছিল। সেই সময় এটিই ছিল বিশ্বের  দীর্ঘতম রুটের বাস।

    কবে থেকে এই বাস যাত্রা শুরু করে? কীভাবে শুরু হয় এর যাত্রা?

    জানা যায়, ১৯৫৭ সালের ১৫ এপ্রিল লন্ডন থেকে কলকাতার উদ্দেশে এই বাসটি তার প্রথম যাত্রা শুরু করে। তখন এর যাত্রী সংখ্যা ছিল ২০ জন। প্রায় ৪৫ দিনের মতো সময় লেগেছিল বাসটির কলকাতা পৌঁছাতে। ৮০০০ এর বেশি কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে তার গন্তব্যস্থলে পৌঁছাত বাসটি। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, এটি ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে বেলজিয়াম, পশ্চিম জার্মানি, অস্ট্রিয়া, যুগোস্লাভিয়া, বুলগেরিয়া, তুরস্ক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে ভারতে এসে পৌঁছাত।

    কত খরচ হত এই বাসযাত্রায়? কেমন সার্ভিস দেওয়া হত এই বাসে?

    তৎকালীন সময়ে এই বাসযাত্রায় খরচ হত প্রায় ১৪৫ পাউন্ড। যা ভারতীয় মুদ্রায় তখন ছিল ১৩ হাজার থাকার কাছাকাছি। এর সাথে যাত্রীদের জন্য খাওয়া, থাকা এবং যথেষ্ট আরামদায়ক পরিবেশ ছিল বাসের ভিতরে। যেহেতু এতদূরের পথ ও এত দেশ পেরোতে হত, তাই বাসের ভিতরের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে এর মধ্যে দেওয়া হয়েছিল ফ্যান ও হিটার। বাসের ফ্লোর ছিল পুরু কার্পেটে মোড়ানো এবং জানালা রঙিন পর্দায় মোড়া। 

    বাসটি কতদিন চলেছে এবং কীভাবে বন্ধ হয়ে যায় এর যাত্রা?

    নানান প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই বাসটি যাত্রা করত। টানা কয়েক বছর চলার পর বাসটি নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সাময়িক ভাবে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে ১৯৬৮ সালে ব্রিটিশ পর্যটক অ্যান্ডি স্টুয়ার্ট বাসটি কিনে নেন এবং নিজের মতো সাজিয়ে আবার এর যাত্রা শুরু করেন। জানা যায়, ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত এই বাসটি চালু ছিল। ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী নানান সমস্যার কারণে এই বাসটিকে বন্ধ করতে বাধ্য হয় সংস্থা।

    তবে এর সত্যতা নিয়ে একটু দ্বন্দ্বও আছে। কেউ কেউ মনে করেন, এটি নিছক গল্প মাত্র। আবার কোনও কোনও ইতিহাসবিদদের মতে, এটি সত্য। বাস্তবে সেরকম কোনও প্রমাণ অবশ্য মেলেনি। কিন্তু বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন এবং পুরনো নথি থেকে নাকি জানা গিয়েছে, এই বাস সত্যিই চলত।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Gotra: গোত্রের উদ্ভব হল কী করে? কী এর গুরুত্ব?

    Gotra: গোত্রের উদ্ভব হল কী করে? কী এর গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু বিবাহ থেকে শুরু করে পূজার্চনা, সব জায়গাতেই গোত্রের (Gotra) প্রয়োজনীয়তা কতখানি, তা আমরা কমবেশি সকলেই জানি। এক এক জনের গোত্র ভিন্ন ভিন্ন। কিন্তু কোনও দিন কি ভেবে দেখেছেন, এই গোত্রের উদ্ভব কী করে হল? কী এর গুরুত্ব? আমাদের নিজেদের গোত্র আমরা অনেকেই জানি। কিন্তু বাড়িতে প্রশ্ন করলেও অনেক সময় সঠিক উত্তর মেলে না, এই গোত্র আসলে কী? কিছু ধর্মপ্রাণ মানুষ এবং পুরোহিতের কাছ থেকে জানা যায়, এই গোত্র আসলে একেক জন প্রাচীন ঋষির নাম অনুসারে তৈরি হয়েছে। আর প্রত্যেক মানুষ মনে করেন, সেই অনুসারে তাঁরা সেই ঋষির বংশধর। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে, কাশ্যপ গোত্রের মানুষ মনে করেন, প্রাচীন যুগে কাশ্যপ নামক এক ঋষি ছিলেন। তাঁর নাম অনুসারেই এই গোত্রের নামকরণ হয়েছে।

    গোত্রের (Gotra) উদ্ভব কীভাবে?

    গোত্র (Gotra) শব্দটির প্রথম নিদর্শন মেলে ঋকবেদে। কিন্তু সেখানে এই গোত্র শব্দটি অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছিল। সেই সময় গোত্র বলতে বোঝাত ‘গরুর পাল’। আবার ছান্দোগ্য উপনিষদ্‌-এ গোত্র হিসাবে একটি মানব গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে। এই গোত্রগুলির উদ্ভব যে একজন ঋষির নাম থেকে হয়েছে এবং এগুলি তাঁদের বংশধররা বহন করছেন, তা এই সময় থেকেই মনে করা শুরু হতে থাকে। কিন্তু এই গোত্র প্রথা তখন শুধুমাত্র ব্রাহ্মণদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। পরে তা ক্ষত্রিয় ও পরিষদের মধ্যেও ব্যবহৃত হতে শুরু হয়। ব্রাহ্মণ্যবাদ অনুযায়ী ব্রাহ্মণ গোষ্ঠী মোট সাত জন বৈদিক ঋষির বংশধর, এমনটাই মনে করা হয়। এই সাত জন ঋষি হলেন গৌতম, ভরদ্বাজ, বিশ্বামিত্র, জমদগ্নি, বশিষ্ঠ, কাশ্যপ ও অত্রি। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই গোত্রগুলি থেকেই আরও ৪৯ টি উপ গোত্রের উদ্ভব হয়। আবার এই ব্রাহ্মণদের অনুসরণ করে ক্ষত্রিয় এবং পরিষদের মধ্যেও গোত্র প্রথা শুরু হয়।

    গোত্রের গুরুত্ব কী?

    প্রাচীনকালের এই গোত্র (Gotra) প্রথা আজ বর্তমান যুগেও এক ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা পালন করে চলেছে। সাধারণত একেকটি গোত্র বংশ পরিচয় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করে। আসলে প্রাচীন যুগে বর্ণভেদ প্রথা অনুযায়ী সকল বর্ণকে আলাদা আলাদা শ্রেণিবদ্ধ করার জন্য এই গোত্রের ব্যাবহার করা হত। আজও কোনও শুভ কাজের সময় গোত্র অনুসারে গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়। পূজার্চনা, বিবাহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে গোত্র খুবই প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন করে।

    একই গোত্রের (Gotra) মানুষের বিবাহ হয় না, কেন জানেন?

    প্রাচীনকাল থেকে বিশ্বাস করা হত, একই গোত্রের (Gotra) মধ্যে বিবাহ সম্পন্ন করা যায় না। কারণ একই গোত্রের যারা হয়, তারা ভাই-বোনের সম্পর্ক বহন করে। তাহলে তারা স্বামী স্ত্রী হবে কী করে? সেই কারণেই এমন প্রথা মানা হত, যা আজও মানা হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Bermuda Triangle: ভারতের বুকেও আছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, যাকে ঘিরে রহস্যের ঘনঘটা!

    Bermuda Triangle: ভারতের বুকেও আছে বারমুডা ট্রায়াঙ্গল, যাকে ঘিরে রহস্যের ঘনঘটা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বারমুডা ট্রায়াঙ্গল-এর নাম শোনেননি, এরকম মানুষ হয়তো খুব কমই আছেন। বিভিন্ন সময় নানা চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে এই বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (Bermuda Triangle)। এই জায়গা ঘিরে আছে অসংখ্য রহস্য এবং অলৌকিক ঘটনা। এই জায়গাকে ঘিরে বিভিন্ন ‘কন্সপিরেসি থিয়োরি’ অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষকে আরও বেশি আকর্ষণ করে। আটলান্টিক মহাসাগরে ৩টি স্থানের কাল্পনিক বিন্দুকে যোগ করে এই ত্রিভুজাকৃতি জায়গাটি গড়ে উঠেছে। এখানে সময় যেন থমকে যায়। বিভিন্ন বড় বড় জাহাজ থেকে শুরু করে বিমান এই অঞ্চলে একবার এলেই নিমেষের মধ্যে হারিয়ে যায়, যার খোঁজ পাওয়া যায় না কোনও ভাবেই। একের পর এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার শিকার হন পাইলট থেকে জাহাজের নাবিকরা। এখানে কাজ করে না কম্পাস, নিজের তালে ঘুরতে থাকে দিকনির্ণয় যন্ত্রগুলি! ফলে অনায়াসে দিক ভুল করে দুর্ঘটনার মুখে পড়ে বিমান ও জাহাজ। এই জায়গাতে এমন কেন হয়, এ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে, যা আজও গবেষণার বিষয়। কিন্তু এই আটলান্টিক মহাসাগরের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল ছাড়াও আমাদের বাংলারই প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতে আছে এমন এক ট্রায়াঙ্গল, যা বারমুডার থেকে ভিন্ন নয়। এখানেও ঘটে একের পর এক দুর্ঘটনা। কেন হয় এবং কীভাবে হয়, তা আজও রহস্য।

    কোন কোন অঞ্চলকে নিয়ে গড়ে উঠেছে ভারতের বারমুডা ট্রায়াঙ্গল (Bermuda Triangle)?

    আটলান্টিক মহাসাগরের বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলের (Bermuda Triangle) মতো ভারতেও ওড়িশার আমারদা রোড বিমানঘাঁটি, ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া ও পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ার পিয়ারডোবার কাছে তিনটি অঞ্চলকে নিয়ে একটি কাল্পনিক বিন্দু দিয়ে ত্রিভুজাকৃতি অঞ্চল তৈরি করা হয়েছে। এই এলাকার মধ্যে ঘটে গেছে অনেক বিমান দুর্ঘটনা। কিন্তু কেন শুধুমাত্র এই অঞ্চলেই এমন হয়, সেই যুক্তি হুবহু বারমুডার সাথে মিলে যায়। সেই দিকভ্রষ্ট হওয়া থেকে শুরু করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনা, সব যেন এক।  এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ টি বিমান দুর্ঘটনা হয়েছে এই অঞ্চলেই। এই অঞ্চলের কিছু বিমান দুর্ঘটনা মানুষকে, বিজ্ঞানকে বার বার ভাবিয়েছে।
    এখানে প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। ১৯৪৪ সালের ৪ মে, মার্কিন লিবারেট যুদ্ধবিমান এবং হার্ভার্ড দ্য হাভিল্যান্ড-এই বিমান দুটি যখন আমারদা রোড বিমানঘাঁটির কাছে এসে পৌঁছায়, তখন মুখোমুখি মারাত্মক সংঘর্ষ হয় তাদের। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান দুই বিমানে উপস্থিত মোট চারজন অফিসার। আবার এর ঠিক তিনদিন পরেই অর্থাৎ ১৭ই মে একই জায়গাতে আবার একটি দুর্ঘটনা ঘটে। আরেকটি লিবারেটর যুদ্ধবিমান সেখান থেকে টেক অফ করে এবং কুড়ি মিনিটের মধ্যে সেখানে ভেঙে পড়ে। আরও অবাক হতে হয় ওই একই সপ্তাহের মধ্যে ১৩ই মে আমারদা রোড থেকে আরেকটি বিমান টেক অফ করার পরে সেখানে ভেঙে পড়ে। সেটি ছিল একটি হাভিল্যান্ড বিমান। কিন্তু এই দুর্ঘটনাতে কেউ মারা যায়নি।
    এখানেই শেষ নয়, আবার ১৯৪৫ সালের ২৬ শে জুলাই এই অঞ্চলে সব থেকে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটে যায়। চার ইঞ্জিনের দুটি বোমারু বিমান ব্রিটিশ রয়াল যুদ্ধবিমান B-24  লিবারেটর ওই একই স্থানে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। মৃত্যু হয় ১৪ জন অফিসারের। সম্প্রতি ২০১৮ সালে আবার ওই অঞ্চলে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে আরেকটি বিমান। সব থেকে অবাক করা বিষয়, তখন আবহাওয়া ছিল পরিষ্কার। বিমানের কোনও যান্ত্রিক গণ্ডগোলও ছিল না। কিন্তু এই দুর্ঘটনায় কোনও মৃত্যু হয়নি।

    কেন এমন হয় শুধুমাত্র এই অঞ্চলে (Bermuda Triangle)? 

    শেষবার যে দুর্ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালে, সেই বিমান চালক প্রাণে বেঁচে যান এবং তাঁর দেওয়া বর্ণনা শুনে আঁতকে ওঠেন সবাই। বিমান চালকের বর্ণনা অনুযায়ী, তাঁর বিমানটি যখন আমারদা বিমানঘাঁটির (Bermuda Triangle) ওপর এসে পৌঁছায়, তখন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ক্রমশ নিচের দিকে নামতে থাকে প্লেনটি, যেন কোনও অদৃশ্য শক্তি টেনে নামিয়ে আনছে বিমানটিকে। অথচ তাঁর বিমানে কোনও সমস্যা ছিল না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি দেখলেন, বিমানটি একদম মাটির কাছাকাছি নেমে এসেছে। তিনি তৎক্ষণাৎ বিমান থেকে লাফ দেন এবং নিচে পড়ে যান। তাঁর কোনও রকম ক্ষতি না হলেও বিমানটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এমন কেন হয়, এই নিয়ে সবার মধ্যে অনেক বিতর্ক আছে। 
    বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, যত দুর্ঘটনা এই আমারদা বিমানঘাঁটিকে কেন্দ্র করেই। এই বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জায়গা আছে ঝাড়খণ্ডের জাদুগোরা ইউরেনিয়াম খনি। সেখানে ইউরেনিয়ামের তেজস্ক্রিয়তার প্রভাবেই হয়তো বিমান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যায়। বিমানের  র‌্যাডার কাজ করা বন্ধ করে দেয়। আবার কেউ কেউ বলেন, আমারদা বিমানঘাঁটি সংলগ্ন এলাকায় আছে বিশাল এক চৌম্বক ক্ষেত্র, যা বিমানকে টেনে নিচে নামিয়ে আনে এবং দুর্ঘটনা ঘটে।
    কিন্তু এসব যুক্তি এখনও প্রমাণিত নয়, কোনও গবেষণা এখনও এসব প্রমাণ করতে পারেনি। কেউ কেউ মনে করেন, সরকারি গবেষণায় হয়তো এর কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে। কিন্তু সেটি সরকার থেকে গোপন রাখা হয়েছে। কেননা কোনও বেসরকারি সংস্থাকে এই বিষয়ে গবেষণা করতে অনুমতি দেওয়া হয়নি। যাই হোক, এই অঞ্চল আজও রহস্যে ঘেরা। অনেক অজানা বিষয় আছে এই অঞ্চলকে ঘিরে। হয়তো ভবিষ্যতে রহস্য উদঘাটন হবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Sulekha Ink: যাদবপুরের ‘সুলেখা মোড়’ নামের পিছনে লুকিয়ে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের ইতিহাস!

    Sulekha Ink: যাদবপুরের ‘সুলেখা মোড়’ নামের পিছনে লুকিয়ে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের ইতিহাস!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার যাদবপুর একটি অতি পরিচিত জায়গা। আর তা পরিচিত হওয়ার পিছনে যার অবদান সবচেয়ে বেশি, সেটি হল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয় আজ বিশ্বের দরবারে পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু এই যাদবপুরেই আছে আরও এক জায়গা, যাকে যাদবপুরের অন্যতম ল্যান্ডমার্ক বলা যেতে পারে। তা হল ‘সুলেখা মোড়’। এই জায়গার নাম অতি সাধারণ হলেও এর পিছনে আছে অনেক ইতিহাস। আসলে ‘সুলেখা’ একটি কোম্পানি, যা লেখার কালি প্রস্তুত করত। সেই কালির (Sulekha Ink) ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা যে গোটা ভারত ও বিশ্বে পৌঁছে গিয়েছিল, সেকথাও কমবেশি সবারই জানা। কিন্তু এর ইতিহাস কি জানেন?

    সুলেখা কালির (Sulekha Ink) উৎপত্তি কীভাবে?

    সময়টা ১৯০৫ সাল। লর্ড কার্জনের কুখ্যাত বঙ্গভঙ্গর সূচনা হয়েছে। এর প্রতিবাদে সরব অনেকেই। এটি পরিণত হল স্বদেশি আন্দোলনে। মূল লক্ষ্য ছিল, সমস্ত বিদেশি পণ্য বর্জন করে স্বদেশি পণ্য উৎপাদন ও ব্যবহার করা। এরই ফলে তৈরি হয় এশিয়ান পেইন্টস, টাটা স্টিল নামক অনেক সংস্থা। এই আন্দোলনে গান্ধীজিও প্রভাবিত হন এবং তিনি চিঠি, আবেদনপত্র প্রভৃতি লিখতে দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি কালি খুঁজছিলেন। এই চাহিদার কথা তিনি জানান বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামী সতীশচন্দ্র দাশগুপ্তকে। আর সতীশচন্দ্রের কাছ থেকে একথা জানতে পেরে ননীগোপাল মৈত্র এবং তাঁর ভাই শঙ্করাচার্য মৈত্র দেশীয় কালি বানানোর প্রথম উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগের ফসল হিসাবেই ১৯৩৪ সালে জন্ম নেয় সুলেখা কালি কোম্পানি। আস্তে আস্তে গোটা ভারতবর্ষে ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই কালির জনপ্রিয়তা। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি এই কালি ছিল ভারতের প্রথম তৈরি কালি। আর এই কালি উৎপাদন হত দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুরে। বর্তমানের সুলেখা মোড়েই ছিল এর কারখানা। সেই থেকে এই জায়গা নাম পায় ‘সুলেখা মোড়’।

    সুলেখা নাম কে এবং কেন রাখলেন?

    প্রথমে স্বদেশি কালি নামেই পরিচিত পেয়েছিল এই কালি। কিন্তু পরে গান্ধীজির কাছে এই কালির জনপ্রিয়তা এতটাই বেড়ে ওঠে যে তিনি নিজে এর নামকরণ করেন। খুব ভালো লেখা হত, তাই ‘সু-লেখা’ থেকে ‘সুলেখা’ নামকরণ করেন তিনি। এই কালি এই নামেই পরিচিতি পায় সমগ্র ভারতবর্ষে। বাংলার বাইরেও এর উৎপাদন শুরু হয় এই নামেই। এমনকী এই কালির বিজ্ঞাপনের লেখা লেখেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তিনি লেখেন, ‘সুলেখা কালি কলঙ্কের থেকেও কালো’

    ননীগোপাল মৈত্র শিক্ষকতার চাকরি ছেড়েছিলেন কেন?

    স্বাধীনতা সংগ্রামী ননীগোপাল মৈত্র প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি ছিলেন এবং সেই সময় তিনি পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর হন। পরে তিনি ছাড়া পেয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। কিন্তু সেই সময় স্বদেশী আন্দোলনের দ্বারা তিনি এতটাই প্রভাবিত হয়েছিলেন যে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্যুট পরে যাওয়ার নীতি থাকলেও তিনি ধুতি-পাঞ্জাবি পরে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকেও মেনে না নেওয়ায় চাকরি ছেড়ে তিনি কলকাতায় চলে আসেন এবং এই কালির ব্যবসাতেই সম্পূর্ণ  মনোনিবেশ করেন। সে সময় এই কালি “প্রফেসর মৈত্রের কালি” নামেও পরিচিতি পেয়েছিল। এক সময় এই কালির মাসিক বিক্রির হার ছিল প্রায় এক মিলিয়ন বোতল, যা অবাক করার মতো বিষয়। স্বাধীনতা ও স্বদেশি আন্দোলনের এটিও এক নতুন পদক্ষেপ ছিল। এই কালি আজও বাঙালির কাছে নস্টালজিক হয়ে আছে। ১৯৮৯ সালে এই কোম্পানি বন্ধ হয়ে গেলেও আবার ২০০৬ সালে এই কালির উৎপাদন শুরু হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Mahaprabhu: মহাপ্রভুর জামাইষষ্ঠী! কী কী ভোগ নিবেদন করেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন?

    Mahaprabhu: মহাপ্রভুর জামাইষষ্ঠী! কী কী ভোগ নিবেদন করেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালিত হয় জামাইষষ্ঠী। মেয়ে এবং জামাইয়ের মঙ্গল কামনায় মা-বাবারা নানারকম ঘরোয়া আচার-অনুষ্ঠান পালন করে থাকেন এদিন। সকালের জলখাবার থেকে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজে জামাইয়ের পাত নানা রকম ব্যঞ্জন দিয়ে সাজানো থাকে। সাধারণভাবে এটাই জামাইষষ্ঠীর রীতি। তবে নবদ্বীপে একটু অন্যভাবে এই জামাইষষ্ঠী পালন করা হয়। সেখানে মহাপ্রভুর (Mahaprabhu) মন্দিরে এদিন নিমাই কোনও অবতার নন, বরং ঘরের জামাই। জানা যায়, এই মন্দিরের সেবায়েতরা হলেন বংশ পরম্পরায় মহাপ্রভুর স্ত্রী বিষ্ণুপ্রিয়ার ভাইদের উত্তরসূরী। প্রায় ৩৫০ বছর ধরে মহাপ্রভু এখানে জামাই আদর পেয়ে থাকেন। রেকাবি ভর্তি নানারকম ব্যঞ্জন তো থাকেই, সঙ্গে এদিন নিমাইকে দেওয়া হয় নতুন পোশাক এবং স্থানীয় প্রবীণরা ষাটের পাখায় বাতাসও দেন নিমাইকে (Mahaprabhu)।

    আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার জামাই ষষ্ঠী! কেন পালিত হয় এই তিথি? কীভাবে হল চালু এই প্রথা?

    মহাপ্রভুর ভোগে কী কী পদ থাকে?

    মরসুমি ফল আম, জাম, লিচু এসব তো থাকেই। পাশাপাশি রুপোর বাটিতে ক্ষীর এবং গ্লাসে জল দিয়ে প্রথমে ঘুম ভাঙানো হয় মহাপ্রভুর (Mahaprabhu)। তারপরে চিঁড়ে, মুড়কি, দই, আম, কাঁঠাল এবং মিষ্টির ফলাহার। এটা অবশ্য নিমাইয়ের জলখাবার। মধ্যাহ্ন ভোজনে থাকে নানা রকমের তরকারি, থোর বেগুন পাতুরি, ছানার ডালনা, লাউ, চাল কুমড়ো, পোস্ত দিয়ে রাঁধা সব নিরামিষ পদ। এরপর দুপুরে একটু জিরিয়ে নেওয়ার পালা। দিবানিত্রা সম্পন্ন হলে ভোগ দেওয়া হয় ছানা এবং মিষ্টির। রাতের মেনুতে থাকে গাওয়া ঘি’তে ভাজা লুচি, তার সঙ্গে মালপোয়া এবং রাবড়ি। সবশেষে মুখশুদ্ধি হিসেবে দেওয়া হয় খিলিপান। এই মন্দিরে জামাইষষ্ঠীর ভোগের বিশেষত্ব হল আমক্ষীর, যা আমের রসে ক্ষীর মিশিয়ে তৈরি হয়।

    মহাপ্রভুকে (Mahaprabhu) নতুন পোশাক দেন বিষ্ণুপ্রিয়ার বাড়ির লোকজন

    জামাইকে পোশাক দিতে কোনও কার্পণ্য করেন না শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শ্রীচৈতন্যদেবের বিগ্রহকে সাদা সিল্কের ধুতি, পাঞ্জাবি এবং গলায় উত্তরীয় পরিয়ে সাজানো হয়। আদর-কদর চলতে থাকে। জামাইষষ্ঠীর সকালে বিষ্ণুপ্রিয়ার পরিবারের প্রবীণ মহিলারা মহাপ্রভুকে নতুন পাখা দিয়ে ষাটের বাতাস দেন। হলুদের টিপ পরিয়ে দেওয়া হয় নিমাইয়ের কপালে। হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেওয়া হয় হাতে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Hindu Marriage: বিয়ের সাতপাকে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কী কী প্রতিশ্রুতি দেন?

    Hindu Marriage: বিয়ের সাতপাকে স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে কী কী প্রতিশ্রুতি দেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী বিয়ে পৌরাণিক নিয়ম মেনেই হয়ে থাকে। আর বিয়ে (Hindu Marriage) মানেই দুটি মনের মিলন। একে অপরের পাশে সারাজীবন সততা, নিষ্ঠা এবং ভালোবাসার সঙ্গে থাকার নামই বিবাহ। বিভিন্ন জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বিয়ের ধরন ও নিয়মকানুন আলাদা আলাদা হয়। কিন্তু উদ্দেশ্য একই থাকে। আবার বিয়ে এমন একটি রীতি, যার মাধ্যমে দুজনের সামাজিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক স্বীকৃতি লাভ করে। হিন্দু বিবাহের রীতিনীতিগুলির মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হল কুশণ্ডিকা, লাজহোম, সপ্তপদী গমন, ধৃতিহোম, চতুর্থী হোম। হিন্দু বিবাহের লৌকিক প্রথাগুলি বর্ণ, গোষ্ঠী ও এলাকা ভেদে আলাদা আলাদা হয়ে থাকে।

    বিয়ের (Hindu Marriage) সাধারণ নিয়ম

    সাধারণত হিন্দু বিয়ের অনুষ্ঠানে একটি বিবাহ মঞ্চ করা হয়, যা ছাদনাতলা নামে পরিচিত। সেখানে বসেই বিয়ে (Hindu Marriage) সম্পন্ন হয়। সেই ছাদনাতলায় কনেকে একটি পিঁড়িতে বসিয়ে মুখে পান পাতা ঢেকে নিয়ে আসা হয়। বরের পাশে ঘোরানো হয় সাত পাক। এর পর পিঁড়ি থেকে কনেকে নামিয়ে পান পাতা সরিয়ে স্বামীর দিকে তাকাতে হয়, যা শুভদৃষ্টি নামে পরিচিত। এর পর হয় মালা বদল। শুধু এখানেই শেষ নয়, এই হিন্দু বিবাহ রীতির মধ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ রীতি আছে, যেটিকে সাত পাকে বাঁধা পড়া বলা হয়। এই সাত পাকের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতিও দিতে হয় একে অপরকে। আর এটি সম্পূর্ণ অগ্নিকে অর্থাৎ আগুনকে সাক্ষী রেখে সম্পন্ন করা হয়। 

    সাতপাকের মাধ্যমে (Hindu Marriage) কী কী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়?

    সাতপাকে ঘোরার (Hindu Marriage) মাধ্যমে মোট ৭ টি প্রতিশ্রুতি স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে দিয়ে থাকেন। সেগুলি হল: প্রথম প্রতিশ্রুতি: স্বামী-স্ত্রী সবসময় চান, তাঁদের সংসারে যেন কোনওদিন খাদ্য এবং অর্থের অভাব না হয়। তাই স্ত্রীকে খুশি রাখার জন্য এবং তাঁর সমস্ত দায়িত্ব পালন করার জন্য প্রথম প্রতিজ্ঞা করা হয় প্রথম পাকে। দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি: তাঁদের ভবিষ্যত প্রজন্ম অর্থাৎ তাঁদের সন্তানের দেখভাল ও যত্ন নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করা হয়। কনেও প্রতিজ্ঞা করেন, তাঁর স্বামী এবং পরিবারের যত্ন নেবেন। তৃতীয় প্রতিশ্রুতি: স্বামী প্রতিশ্রুতি দেন, সব সময় যে কোনও পরিস্থিতি থেকে তাঁর স্ত্রীকে রক্ষা করবেন। স্ত্রীও প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি স্বামীর সবরকম খারাপ অবস্থায় পাশে থাকবেন। চতুর্থ প্রতিশ্রুতি: স্ত্রীর কাছে পরিবারের সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়ার ও স্ত্রীর সমস্ত আবেদন মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেন স্বামী। পঞ্চম প্রতিশ্রুতি: স্ত্রীর প্রতি সদা সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং স্ত্রীও স্বামীর প্রতি সদা নিষ্ঠাবান ও সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকার প্রতিজ্ঞা করেন। ষষ্ঠ প্রতিশ্রুতি: পরস্পরের সুস্বাস্থ্য ও রোগহীন জীবনের কামনা করেন দুজন। সপ্তম প্রতিশ্রুতি: সর্বশেষে সম্পর্ক যেন সারাজীবন অটুট এবং বন্ধুত্বপূর্ণ থাকে ও এই সম্পর্ক যেন চিরস্থায়ী ও মজবুত হয়, তার প্রতিজ্ঞা করে দুজন দুজনের প্রতি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Indian Standard Time: ভারতের বুকে এমনও গ্রাম আছে, যেখানে ঘড়িতে ১২ টার পর বাজে ১১ টা!

    Indian Standard Time: ভারতের বুকে এমনও গ্রাম আছে, যেখানে ঘড়িতে ১২ টার পর বাজে ১১ টা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রতিনিয়ত সময় (Indian Standard Time) এগিয়ে চলেছে তার নিজের গতিতে। সবকিছু প্রতি মিনিটে, ঘণ্টায় বদলে যাচ্ছে। জীবনের নির্ধারিত সময় কমে আসছে প্রত্যেক মুহূর্তে। অথচ সময়কে আটকানোর কোনও উপায় নেই। বাড়িতে থাকা ঘড়ি আমাদের সব সময় জানান দেয়, সময় কতটা এগিয়ে গেল। ঘরের দেওয়াল থেকে শুরু করে হাতে ও মোবাইলে সব জায়গায় ঘড়ি তার সময়ের হিসাব দিয়ে চলেছে সব সময়। ঘড়ির কাঁটা ঘুরে চলেছে সময়ের স্রোতে। কিন্তু কখনও কি মাথায় এসেছে, ঘড়ির কাঁটা যদি উল্টো দিকে ঘোরে? যদি দুপুর ১২ টার পর ১১ টা বাজে? কি, শুনলে হাসিঠাট্টা লাগছে তো? কিন্তু বাস্তবে এমনটাই হয় ভারতের বুকে এক গ্রামে, যেখানে ঘড়ির কাঁটা ঘোরে সময়ের উল্টো দিকে।

    কোথায় এই ধরনের উল্টো ঘড়ি দেখা যায়?

    ভারতের বুকেই আছে এমন এক গ্রাম, যেখানে সময় (Indian Standard Time) চলে তার বিপরীত দিকে। ঘড়ির কাঁটা ঘোরে তার নির্ধারিত সময়ের উল্টোদিকে। যেখানে দুপুর ১ টার পর ২ টো নয়, বাজে ১২ টা, অর্থাৎ একদম উল্টো সময় বলে সেখানকার ঘড়ি। এমনটা হয় ছত্তিসগড়ের কোরবা নামক জেলায়, সেখানে গেলেই এই অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে। শোনা যায়, ছত্তিসগড়ের আরও অনেক জায়গায় এই ঘড়ি প্রচলিত আছে। মধ্য ভারতের এই ছত্তিসগড় রাজ্যের বিচ্ছিন্ন অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা একটি উপজাতি হল গোন্ড। এই উপজাতিই সাধারণত ব্যবহার করে এই উল্টো ঘড়ি। এমনকী ভারতের ফৌজদারি আইন ছাড়া আইনকানুন, সমাজব্যবস্থা, অর্থনীতি সব কিছুই আলাদা, সব হয় তাদের নিয়ম অনুযায়ী। যেন ভারতের বুকে এক অন্য পৃথিবী। গ্রামের যে কোনও সমস্যা ও বিষয় পরিচালিত হয় তাদের নিজস্ব গ্রামসভার মাধ্যমে। প্রচলিত নিয়মের বাইরে তাদের নিজস্ব তাত্ত্বিক জীবনদর্শনকেই প্রাধান্য দেয় তারা। আর বহু বছর আগে থেকেই চলে আসছে তাদের এই সময়ের উল্টো স্রোতে ভেসে চলা।

    কেন এমন নিয়ম মানেন তাঁরা?

    গোন্ড উপজাতিদের বিশ্বাস, আমাদের জীবনের সময় (Indian Standard Time) বাড়ে না, বরং ক্রমশ কমে আসছে প্রতিনিয়ত। তাই দুপুর ১ টার পর তাদের সময় কমে ১২ টা হয়। এমনকী চাঁদ পৃথিবীকে এবং পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ঘড়ির কাঁটার উল্টোদিকেই। এই সব কারণকে সামনে রেখেই তাদের মতানুযায়ী নিজেদের ঘড়ি নির্মাণ করেন, যে ঘড়ি সময়ের উল্টোদিকে চলে। তাদের এই ঘড়িকে অনেকে গণ্ডোয়ানা ঘড়ি বলে নামাঙ্কিত করেছেন।  তাদের মতে, প্রকৃতির নিয়ম মেনে এটিই একমাত্র আদর্শ ঘড়ি যা সঠিক সময় বলে।

    বিয়ের সাতপাকও ঘড়ির কাঁটার উল্টো দিকে

    শুধু যে ঘড়ির ক্ষেত্রে কাঁটা উল্টো দিকে ঘোরে তা নয়, এই উপজাতি বস্তির যখন কোনও বিবাহ অনুষ্ঠান থাকে, সেই বিবাহে স্বামী-স্ত্রীর অগ্নিসাক্ষী রেখে সাতপাক ঘোরার সময়ও (Indian Standard Time) তারা সাধারণ নিয়মের উল্টো দিকেই ঘোরে। সব মিলিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রায় দশ হাজারের বেশি পরিবারে ব্যবহৃত হয় এই একই নিয়ম ও এই উল্টো ঘড়ি। গোন্ড উপজাতি ছাড়াও সেখানে আরও প্রায় ২৯ টি সম্প্রদায় আছে যারা এই অদ্ভুত রীতি মেনে চলে।  আর এই অদ্ভুত রীতিনীতির জন্যই এদেরকে সাধারণের থেকে আলাদা হিসাবে গণ্য করা হয়, যা ভারতের বুকে সত্যিই বিচিত্র।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

  • Snacks: মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছিল সিঙারা! কিন্তু এর উৎপত্তি কোথায়?

    Snacks: মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের হাত ধরেই বাংলায় জনপ্রিয় হয়েছিল সিঙারা! কিন্তু এর উৎপত্তি কোথায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ধ্যার জলখাবার কিংবা যে কোনও সময় খিদে পেলে সিঙারার তুলনা হয় না। আর তার সঙ্গে যদি এক কাপ গরম চা হয়ে যায়, তাহলে তো কথাই নেই। কোথাও সিঙারা, আবার কোথাও সামোসা। ভারতে খুবই জনপ্রিয় পদ এটি, খেতেও জবরদস্ত! তাই আট থেকে আশি, সবারই পছন্দের খাবার এই সিঙারা। কিন্তু এর উৎপত্তি নিয়ে আছে অনেক বিতর্ক, আছে লম্বা এক ইতিহাস। সাধারণের মাথায় প্রশ্ন জাগতেই পারে, সামান্য একটি সিঙারার আবার কী ইতিহাস থাকতে পারে? হ্যাঁ, এর একটি ইতিহাস আছে, যা শুনলে অবাকই হবেন। 

    কীভাবে উৎপত্তি হল এই খাবারের?

    সাধারণত আমরা গুগল সার্চ করলে দেখতে পাই, এই সিঙারা বা সামোসার উৎপত্তি বাংলাদেশে। এটি বাংলাদেশের খাবার বলেই বেশি পরিচিতি লাভ করেছে গোটা ইন্টারনেট জুড়ে। কিন্তু আসলে এর উৎপত্তি বাংলাদেশ বা ভারতবর্ষে নয়, উৎপত্তি ফরাসি শব্দ ‘সংবোসাগ’ থেকে। সেই ‘সংবোসাগ’ই ভারতে হিন্দিভাষীদের কাছে সামোসা বা বাঙালিদের কাছে সিঙারা নামে পরিচিত। ইতিহাস থেকে জানা যায়, এই খাবারটির উৎপত্তি এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যেই। মধ্যপ্রাচ্যের তুর্কিদের কাছে একটি প্রিয় এবং মুখরোচক খাবার ছিল এই সামুচা বা সামোসা। পরে ভারতবর্ষে তুর্কি আগমনের পর এই খাবার এখানেও জনপ্রিয়তা পায়, গোটা ভারত জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এই খাবারটি। 

    বিখ্যাত পর্যটক, লেখকদের লেখায় এর উল্লেখ 

    ইরানি ঐতিহাসিক আবুল ফজল বেহাকির লেখা ‘তারিখ-এ-বেহাগি’ নামের বইয়ে এই সিঙারা বা সামোসার উল্লেখ পাওয়া যায়। যতদূর জানা গেছে, তখন সামোসাগুলি আকারে ছোট ছোট হত, যেগুলি তখন ‘সাম্বোসা’ নামে পরিচিত ছিল। সেই সময় মধ্যপ্রাচ্যের পর্যটক ও বণিকরা ঘোড়া বা উটের পিঠে নানা জায়গায় ভ্রমণ করত, আর খিদে পেলে তাদের ছোট ছোট ঝোলা থেকে বের করত এই সাম্বোসা। এগুলো আকারে ছোট হওয়ায় সহজে সব জায়গায় নিয়ে যাওয়া যেত ও যেখানে খুশি খাওয়া যেত। 

    দিল্লির সুলতানি যুগেও সিঙারার নাম পাওয়া যায়

    আবার দিল্লির সুলতানি যুগেও এই খাবারটির চল ছিল বলে জানা যায়। তৎকালীন সুলতানি যুগের রাজকবি আমির খসরু, যিনি ভারতের তোতাপাখি নামে পরিচিত ছিলেন, তাঁর বই থেকে এই সিঙারার নাম পাওয়া যায়। যেখানে কোনও এক জায়গায় তিনি লিখেছেন, ‘রাজকুমারগণ, আভিজাত্যরা মাংস, পেঁয়াজ ও ঘি দিয়ে তৈরি সামোসা উপভোগ করতেন’। এছাড়াও জানা যায়, দিল্লির তদানীন্তন রাজা মহম্মদ বিন তুঘলকের খুব প্রিয় ছিল এই সামোসা। তখন তাঁর রাজদরবারে রয়্যাল স্ন্যাক্সেরও নাকি মর্যাদা পেত এই খাবার। মুঘল আমলেও জনপ্রিয় ছিল এই পদটি। আবুল ফজলের লেখা ‘আইন-ই-আজবরি’ গ্রন্থ থেকে ‘সানবুসাহ ‘ নামক একটি খাবারের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেটির ভিতরে মাংসের পুর থাকত এবং নামি দামি অনেক মশলাও ব্যবহার করা হত। 

    বাংলতেও প্রচলিত ইতিহাস আছে সিঙারার

    মনে করা হয়, বাংলায় প্রথম সিঙ্গারার প্রচলন শুরু প্রায় ১৭০০ এর দশকে, নদিয়া জেলায় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের হাত ধরে। এক সময় রাজ দরবারের রাঁধুনি গিরিধারী রাজা কৃষ্ণচন্দ্রকে খাবার হিসেবে লুচি দেন। কিন্তু রাজা কোনও এক বৈঠকে ব্যস্ত থাকায় লুচি ঠান্ডা হয়ে যায়। পরে গিরিধারীকে এই লুচি বদলে অন্য খাবার নিয়ে আসার অনুরোধ জানান। কিন্তু খাবার বদলে আনা হয় মিষ্টি, যা রাজার একদম পছন্দের জিনিস ছিল না। কারণ কৃষ্ণচন্দ্রের ছিল মধুমেহ। তাই রেগে গিয়ে রাজা গিরিধারীকে শূলে চড়ানোর আদেশ দেন। পরের দিন গিরিধারীর স্ত্রী ধরিত্রীদেবী কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং রাজার কাছে আরেকটিবার সুযোগ চান। রাজা আদেশ দেন তাঁর জন্য কোনও গরম খাবার বানিয়ে আনতে। ধরিত্রীদেবী রান্নাঘরে গিয়ে বুঝতে পারছিলেন না, কী এমন খাবার বানানো যায়। তখন তিনি লুচি বানিয়ে তার মধ্যে আগে থেকে রান্না করে রাখা ঠান্ডা তরকারি মিশিয়ে পুর হিসেবে ব্যবহার করে গরম ঘিতে ভেজে নিলেন এবং সেটি রাজাকে দিলেন। রাজা খেয়ে অনেক খুশি হয়ে তার রাঁধুনি গিরিধারীকে ছেড়ে দিলেন এবং এই খাবার হয়ে উঠল জনপ্রিয়, যা বর্তমানে সিঙারা নামে পরিচিত।

    অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, পাড়ার দোকানে পাওয়া সামান্য টাকার সিঙারার কত বড় ইতিহাস। যা একসময় রাজরাজাদের খাবার হিসাবেই পরিচিত ছিল। এটি আরবের দেশগুলোতে সানবাস্সাজ, আফগানিস্তানে সাম্বোসা, তুর্কিতে সাম্সা, পোর্তুগাল মোজাম্বিকে চেমুকা, পাকিস্তানে ‘সমসা’ ও আমাদের বাংলায় সিঙারা নামে আজও জনপ্রিয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের FacebookTwitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share