Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Akash Pradip: “আকাশ প্রদীপ জ্বলে…”, জানেন কার্তিক মাসে কেন জ্বালানো হয় এই প্রদীপ?

    Akash Pradip: “আকাশ প্রদীপ জ্বলে…”, জানেন কার্তিক মাসে কেন জ্বালানো হয় এই প্রদীপ?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  লতা মঙ্গেশকরের কণ্ঠে গাওয়া, ‘আকাশ প্রদীপ জ্বলে দূরের তারার পানে চেয়ে’ গানটি বাঙালির এক নস্টালজিয়া। এই ‘আকাশ প্রদীপ’ (akash Pradip) কয়েক বছর  আগেও কার্তিক মাসে বাংলার ঘরে ঘরে জ্বলে উঠত। এখন অবশ্য আধুনিকতার ছোঁয়ায় লোকাচার যেন হারিয়ে যাচ্ছে। তবুও গ্রাম বাংলায় কার্তিক মাসের হালকা শীতের চাদর মোড়ানো সন্ধ্যায় সন্ধান পাওয়া যায় ‘আকাশ প্রদীপ’ এর। পুরাণ মতে , দীর্ঘ চার মাসের যোগনিদ্রা শেষে, কার্তিক (Kartik) মাসে জেগে ওঠেন ভগবান বিষ্ণু। তাঁকে প্রসন্ন রাখতে, ভক্তরা কার্তিক মাসের প্রথম দিন থেকে সংক্রান্তির দিন পর্যন্ত, প্রতিদিন সন্ধ্যাবেলায় মাটির প্রদীপ ঘি বা তেল দিয়ে জ্বালিয়ে রাখেন। বাড়ির সব থেকে উঁচু স্থানে উত্তর অথবা পূর্ব দিকে মুখ করে রেখে এই প্রদীপ জ্বালানো হয়। লাঠির ডগায় ছাদের উপরেও এই প্রদীপ দিতে দেখা যায়। বর্তমান সময়ে প্রদীপের বদলে বৈদ্যুতিক বাতিও দেন অনেকে। বিশ্বাস, ভক্তদের আকাশ প্রদীপ অর্পণে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু তাঁদের মনস্কামনা পূরণ করেন। সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে ভক্তদের জীবন। আরোগ্য ও আশীর্বাদ প্রদান করেন ভগবান বিষ্ণু।

    অন্য একটি কিংবদন্তি মতে, আশ্বিন মাসের মহালয়ার দিন পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করা হয়। তার পরের একটি মাস তাঁরা আনন্দ উৎসবে সামিল হন এবং পরলোকের উদ্দেশ্যে গমন করেন কালী পূজার অমাবস্যায়। এই প্রদীপ (akash Pradip) জ্বেলে আবাহন করা হয় পিতৃলোকে, প্রেতলোকে অবস্থান করা পূর্বপুরুষদেরও। যাতে তাঁরা আকাশ প্রদীপের আলোয় পথ চিনে আশীর্বাদ দিতে আসতে পারেন উত্তরসূরীদের।

    প্রদীপ হিন্দু ধর্মের যে কোনও অনুষ্ঠানের সব থেকে অপরিহার্য এবং গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ধর্মীয় আচার, রীতি সবকিছুই সম্পন্ন হয় প্রদীপের দ্বারা। ভগবান বিষ্ণুর বন্দনা করতে তাই বেছে নেওয়া হয়েছে ‘আকাশ প্রদীপ’ (akash Pradip)। ভগবান বিষ্ণুর উদ্দেশ্যে সমর্পিত এই প্রদীপের ধরন আলাদা আলাদা হয় এবং তা ভক্তদের নানা মনোবাসনা পূরণের লক্ষ্যে জ্বালানো হয়। একনজরে আমরা দেখে নিই আকাশ প্রদীপের ধরন গুলি।

    ১. দ্বিমুখী প্রদীপ: ভগবানের অসীম কৃপা লাভ, আশীর্বাদ লাভ এবং দীর্ঘজীবনের অধিকারী হওয়া যায় দ্বিমুখী প্রদীপ জ্বালালে। এটাই ভক্তদের বিশ্বাস।

    ২. ত্রিমুখী প্রদীপ: লোকবিশ্বাস, এই প্রদীপ জ্বালালে শত্রুর কু-নজর থেকে ভগবান বিষ্ণু ভক্তদের রক্ষা করেন।

    ৩. চতুর্মুখী প্রদীপ: সন্তানের দীর্ঘজীবন কামনা করে মা-বাবারা এই প্রদীপ জ্বালেন।

    আরও পড়ুন: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প?

    কার্তিক মাসব্যাপী সন্ধ্যার সময় অনেক গৃহে তুলসীতলায় প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে‌।পুকুরে বা নদীতেও অনেক সময় প্রদীপ ভাসানো হয় ভগবানের আশীর্বাদ এবং কৃপা লাভের উদ্দেশ্যে। আকাশপ্রদীপ দেওয়ার মন্ত্রটি হলো- “আকাশে সলক্ষ্মীক বিষ্ণোস্তোষার্থং দীয়মানে প্রদীপঃ শাকব তৎ।”আকাশে লক্ষ্মীর সঙ্গে অবস্থান করছেন যে বিষ্ণু, তাঁর উদ্দেশে দেওয়া হল এই প্রদীপ। ঘটের মতো প্রদীপকেও অনেক পণ্ডিত দেহেরই প্রতীক বলে মনে করেন। আকাশ-প্রদীপও (akash Pradip) নশ্বর শরীরের মতো ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ ও ব্যোম- এই পঞ্চভূতে তৈরি।

    ক্ষিতি অর্থাৎ মাটি, কায়া তৈরি করে। অপ অর্থাৎ জলে আকার পায়। তেজ অর্থাৎ আগুন, আত্মার মতোই স্থিত হয় তার অন্তরে। মরুৎ অর্থাৎ হাওয়া আগুনকে জ্বলতে সাহায্য করে। আর ব্যোম অর্থাৎ অনন্ত শূন্য জেগে থাকে প্রদীপের গর্ভে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Jom Pukur Brata: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প? 

    Jom Pukur Brata: কার্তিক মাসে গ্রাম বাংলায় পালিত হয় ‘যমপুকুর ব্রত’! জানেন এর নেপথ্য গল্প? 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  গ্রাম বাংলায় অবিবাহিত  হিন্দু মহিলারা ‘যমপুকুর ব্রত’ উদযাপন করে থাকেন। সম্পূর্ণ কার্তিক মাস ব্যাপী এই ব্রত পালন করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী ,চার বছর এই ব্রত পালন করতে হয়। এই ব্রতের উদ্দেশ্য হলো- পরলোক গমন করেছে এমন প্রতিবেশী-আত্মীয়স্বজনরা যেন উদ্ধার পায় , শান্তি পায় এবং নরক যন্ত্রণা ভোগ না করে‌ ।

    বসতবাড়ির উঠোনে বা মেঝেতে আল দিয়ে অথবা পুকুর পাড়ে এই ব্রত করা হয়। প্রাচীন কালে এক ব্রাহ্মণী ছিলেন। তাঁর একটি পুত্র এবং একটি কন্যা সন্তান ছিল। কন্যার সাথে বিয়ে হয় যমরাজের। কন্যার বিবাহের পর ব্রাহ্মণীর খুব মন খারাপ হয়ে যায়। বাড়িতে তিনি কন্যার অভাব পূরণ করতে ছেলের বিয়ে দেন। ছেলের বৌ নিজ গুণে সবার মন জয় করে। কার্তিক মাস শুরু হতেই উঠোনে খুঁড়ে সে যমপুকুর ব্রত আরম্ভ করে, তা দেখে তাঁর শ্বাশুড়ির মনে হয় ছেলের বৌ তাঁকে তুকতাক করছে। উঠোনের যমপুকুর শ্বাশুড়ি বুজিয়ে দেয়। ছেলের বৌ যমকে উদ্দেশ্যে করে কাঁদতে কাঁদতে বলে -‘আমি তোমার উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত করলাম। আমার একবছর হলো’। এরপরের চারবছরে একই ভাবে শ্বাশুড়ির চোখের আড়ালে এই ব্রত সম্পন্ন করতে চায় তার ছেলের বৌ। কিন্তু প্রতিবারই ধরা পড়ে যায়। প্রতিবারই তার শ্বাশুড়ি যমপুকুর মাটি ফেলে বন্ধ করে দেয় এবং তাঁর ছেলের বৌ যমের উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত সম্পন্ন হওয়ার কথা বলে। এই ভাবে চারবছর ধরে ছেলের বৌ ‘যমপুকুর ব্রত’ সম্পন্ন করে‌। এরপর অসুস্থতার কারণে তাঁর শ্বাশুড়ি মারা যায়। শ্রাদ্ধ শান্তির জন্য যমরাজের স্ত্রী অর্থাৎ ব্রাহ্মণীর মেয়ে তখন বাপের বাড়ি যায় এবং কাজকর্ম সেরে পুনরায় যমরাজের কাছে ফিরে আসে। যমরাজ তখন তাঁর স্ত্রী কে বলে কখনও যমলোকের দক্ষিণ দিকে যাবে না। কৌতূহলী মনে যমরাজের স্ত্রী ভাবলো কি আছে দক্ষিণ দিকে ? দেখতেই হবে। দক্ষিণ দিকে যেতেই দেখলো তাঁর নিজের মা তখন নরক যন্ত্রণা ভোগ করছেন। যমরাজের স্ত্রী তখন ছুটে যমরাজের কাছে গিয়ে তাঁর নিজের মায়ের উদ্ধারের কথা বলে। যমরাজ তখন বলে, ‘যে ছেলের বৌকে তোমার মা এতো কষ্ট দিয়েছে , সে যদি তোমার মায়ের উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত উদযাপন করে তবেই তোমার মা উদ্ধার পাবেন’। কিন্তু সে কি রাজি হবে? যম একথা বলার পরেই তাঁর স্ত্রী ছুটে গেল বাপের বাড়ি। তখন দেখলো তার ভাইয়ের বৌ প্রসব যন্ত্রণা ভোগ করছে। কিন্তু প্রসব হচ্ছে না‌। যমের স্ত্রী তাঁকে বললো -” শ্বাশুড়ির উদ্দেশ্যে যমপুকুর ব্রত উদযাপন করলেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে” । তখন তার ভাইয়ের বৌ যমপুকুর ব্রত সম্পন্ন করলো । তার গর্ভের সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো এবং শ্বাশুড়ি উদ্ধার পেল।

    প্রথমেই ধান, মানকচু, কলা, হলুদ, কলমী, শুশনি, ও হিঞ্চের চারাগাছ, সুপুরি, কয়েকটি কড়ি এবং কয়েকটি মাটির মূর্তি সংগ্রহ করতে হয়।

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    এরপর চারটি ঘাটসহ চৌকো একটি পুকুর ( একহাত ×একহাত ক্ষেত্রফলের) কাটতে হয়। এটি জলপূর্ণ করে দক্ষিণদিকের ঘাটে আলপনার উপর মাটির যমরাজ, যমরাণী ও যমের পিসির মূর্তি স্থাপন করতে হয়। উত্তরদিকের ঘাটে মেছো ও মেছুনী, পূর্বদিকস্থ ঘাটে ধোপা ও ধোপানী, পশ্চিমদিকের ঘাটে মাটির কাক, বক, চিল, কুমির, কচ্ছপ, হাঙর ইত্যাদির মাটির মূর্তি রাখতে হয়। পুকুরের মাঝখানে একগোছা ধান, কলমী, শুশনি ও হিঞ্চে গাছ পুঁততে হয়; কচু, হলুদ প্রভৃতি গাছ পাড়ে থাকে। পুজোর সময় পুকুরের চারকোণে চার কড়া কড়ি, চারটি হলুদ ও সুপারি পুঁতে দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালতে হয়; তারপর পূর্বদিকে মুখ করে বসে ফুল সহযোগে যমের পুজা করতে হয়। পুকুরে জল দেওয়ার, গাছে জল ঢালার এবং মূর্তিগুলি পূজা করার আলাদা আলাদা মন্ত্র আছে। 

    পুজো শেষ করে বলতে হয়-
    “সাত ভাইয়ের বোন আমি ভাগ্যবতী।
    যমপুকুর পূজি আমি, সাক্ষী জগৎপতি।।” চার বছর এই ব্রত করতে হয়। চতুর্থ বছরে ব্রাহ্মণ ভোজন করানোর নিয়ম চালু রয়েছে। গ্রাম বাংলায় এই ব্রত আজও পালিত হয়।

  • Tarapith: তারা মায়ের অন্নভোগের বিশেষত্বই হল পোড়া শোলমাছ মাখা! জানেন কী কী থাকে তারাপীঠে মায়ের ভোগে?

    Tarapith: তারা মায়ের অন্নভোগের বিশেষত্বই হল পোড়া শোলমাছ মাখা! জানেন কী কী থাকে তারাপীঠে মায়ের ভোগে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শক্তিপীঠ, সিদ্ধপীঠ তারাপীঠ (Tarapith)। কালীপুজোয় (Kali Puja 2022)জমজমাট বীরভূমের তারাপীঠ। অনেকে ভাবেন এটি সতীপীঠ কিন্তু তারাপীঠ সতীপীঠ নয়। কথিত আছে, একবার দেবীর মাতৃরূপ দর্শন চান বশিষ্ঠ মুনি ৷ দেবীও নিরাশ করেননি ৷ এখানেই তাঁকে মাতৃরূপে দর্শন দেন দেবী। এখানেই তপস্যা করে সিদ্ধিলাভ করেন তারা মায়ের ভক্ত বামাক্ষ্যাপা। ফলে এটি সিদ্ধ পীঠ হিসেবেও পরিচিত। আজ, সোমবার অমাবস্যায় রীতি মেনে পুজো হবে এখানে। আলোয় সেজে উঠেছে মন্দির চত্বর।

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    এদিন সকালে স্নানের পর দেবীর শিলাব্রহ্মময়ী মূর্তিকে রাজবেশে সাজিয়ে তোলা হয়।  পরানো হয় চুনরি। এরপর পঞ্চ উপাচারে মঙ্গলারতি এবং নিত্যপুজো সম্পন্ন হয়। কালী পুজোর দিন খুব সকালে ডাবের জল দিয়ে শুরু হয় মায়ের ভোগ। সকালের ভোগে থাকে পাঁচ রকম বা ন’রকমের ভাজা, সাদা অন্ন, পায়েস ও মিষ্টি। এখানে মাকে পঞ্চব্যঞ্জন সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হয় ৷ আমিষ ভোগের মূল উপাদান হল শোল মাছ। ভোগের পাতে এই মাছ না থাকলে ভোগ গ্রহণ করেন না মা তারা। কালীপুজোর দিন তারা ভোগ হিসেবে থাকে পোলাও, খিচুড়ি, সাদা ভাত, পাঁচরকম ভাজা, পাঁচ মিশালি তরকারি, মাছ, চাটনি, পায়েস এবং মিষ্টি। এখানকার অন্নভোগের বিশেষত্বই হল পোড়া শোলমাছ মাখা। 

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষ্যে নিয়ম-নিষ্ঠা মেনে হয় বিশেষ সন্ধ্যারতি। এরপর নিবেদন করা হয় লুচি, পায়েস, সুজি দিয়ে শীতল ভোগ। তারা মায়ের যে ভাবে ভোগ পুজো হয়, সেই একই ভাবে পুজো করা হয় শ্মশান কালীকে। শ্মশানেই রয়েছে মায়ের আসল শিলা পাদুকা। তার পাশে বামদেবের সমাধি। তারাপীঠের নিয়ম অনুযায়ী সন্তানকে খাইয়ে তবেই তারা মা ভোগ গ্রহণ করেন। তাই বামদেবের ভোগ আগে দেওয়া হয়। ভোগের তালিকায় রয়েছে প্রেত ভোগও। ডাকিনী যোগিনীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এই ভোগ শ্মশানেই দেওয়া হয়। রাতে এক বারই এই ভোগ আয়োজন থাকে। বামদেবের খুব প্রিয় কুকুর ছিল শিবা। তার জন্যও থাকে বিশেষ ভোগের আয়োজন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • bhai phonta:  দুদিন ভাইফোঁটা! জেনে নিন কখন এবং কীভাবে ভাইকে ফোঁটা দেবেন

    bhai phonta: দুদিন ভাইফোঁটা! জেনে নিন কখন এবং কীভাবে ভাইকে ফোঁটা দেবেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা/যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা  এই মন্ত্র উচ্চারণ করেই ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয় বোনেরা। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে। ভাইয়েরাও বোনেদের জন্য প্রার্থনা করে। আর দাদারা তাঁদের আশীর্বাদী হাত রাখে বোনেদের মাথায় । দিদিরাও ভাইদের বড় হওয়ার আশীর্বাদ করে।  প্রতিবছর কার্তিক মাসের শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া বা ভাই ফোঁটা পালিত হয়। তবে এ বছর ভাই ফোঁটা দুই দিন। কারও মতে ২৬ অক্টোবর ভাই ফোঁটা আবার কেউ কেউ ২৭ অক্টোবর ভাই ফোঁটা পালন করবেন। 

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

    পঞ্জিকা অনুযায়ী ২৬ অক্টোবর দুপুর ২টো ৪২ মিনিট থেকে দ্বিতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে। যা ২৭ অক্টোবর ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত থাকবে। অর্থাৎ ২৬ ও ২৭ অক্টোবর এই দুই দিনই দ্বিতীয়া তিথি থাকবে। শাস্ত্রে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া তিথিটি যম দ্বিতীয়া নামেও পরিচিত। এই তিথিতে নিজের বোন যমুনার বাড়ি যান যম। কাহিনি অনুযায়ী কার্তিক শুক্ল পক্ষের দ্বিতীয়া তিথি বোনের নিমন্ত্রণ স্বীকার করে তাঁর বাড়ি যান যম। সে দিন যমুনার পুজো গ্রহণ করে তাঁর গৃহ ভোজন করেন তিনি। যমুনা আশীর্বাদ চাইলে যম বলেন যে, এই তিথিতে যে ভাই নিজের বোনের বাড়ি গিয়ে তাঁর পুজো স্বীকার করবে ও তাঁর হাতে তৈরি রান্না গ্রহণ করবে, তাঁর ভাগ্যে অকালমৃত্যুর ভয় থাকবে না। 

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    এই পবিত্র দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে চন্দনের ফোঁটা দেন। বাস্তুতন্ত্র অনুসারে ভাইকে ফোঁটা দেওযার সময় তাঁর মুখ যেন পূর্ব, উত্তর বা উত্তর-পূর্ব দিকে থাকা উচিত। এই দিনে ভাইকে ফোঁটা দেওয়ার আগে কিছু খাওয়া উচিত নয়। ভাইফোঁটার দিন ভাই-বোনেরা যেন নিজেদের মধ্যে ঝগড়া করবেন না। ভাইয়ের থেকে পাওয়া উপহার যেমনই হোক না কেন ,তাকে ও তার দেওয়া উপহারকে কখনও অসম্মান করবেন না। ভাইফোঁটার দিন কপালে ফোঁটা দেওযার আগে দুজনেই কিছু খাবেন না। ওই দিন মিথ্যা কথা একেবারেই বলবেন না। পুজোর সময় কালো কাপড় একেবারেই পরবেন না।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Dhanteras: ২৭ বছর পর দুদিন ধনতেরাসের যোগ! জানুন কখন ঘরে আনবেন সোনা-রুপো

    Dhanteras: ২৭ বছর পর দুদিন ধনতেরাসের যোগ! জানুন কখন ঘরে আনবেন সোনা-রুপো

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালীপুজোর দু’দিন আগে ত্রয়োদশীতে পালিত হয় ধনতেরস উৎসব। ধনতেরস কথাটি এসেছে ধন এবং তেরস এই দুই শব্দের মিলনে। এর মধ্যে ধনের অর্থ হল সম্পদ। আর, তেরসের অর্থ হল তেরো বা ত্রয়োদশী। পঞ্জিকা অনুযায়ী যা কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথি। এই বিশেষ তিথিতে লক্ষ্মী, কুবের এবং ধন্বন্তরীর পুজো করা হয়। তাতে আরোগ্য, ধন, আয়ু-সহ বিভিন্ন আশীর্বাদ মেলে বলেই বিশ্বাস। এদিন সোনা,রুপো,কাঁসা, পিতল-সহ বিভিন্ন মূল্যবান ধাতু এবং নির্দিষ্ট কিছু জিনিস কেনার চল রয়েছে। 

    আরও পড়ুন: জনশ্রুতি, তাঁর নামেই হয়েছে রানাঘাট শহরের নামকরণ, জানুন রণ ডাকাতের কালীপুজোর গল্প

     ২৭ বছর পর এবার দু’দিন ধরে ধনতেরসের শুভমুহূর্ত পড়েছে। দৃক সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে এবছর ধনতেরস পড়েছে শনিবার ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১ থেকে পরদিন রবিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। আবার, অন্য পঞ্জিকা মতে শনিবার ২২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ২ নাগাদ শুরু হবে ধনতেরস। থাকবে রবিবার ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩ পর্যন্ত। ধনতেরসের পুজো শনিবার শেষ হবে রাত ৮টা ১৭-র মধ্যে।  পুরাণ মতে, এদিন  আবির্ভাব হয়েছিল দেবতাদের চিকিৎসক ধন্বন্তরীর। সমুদ্র মন্থনের ফলে দেবী লক্ষ্মীর পাশাপাশি অমৃতের কলসি হাতে দেবতাদের বৈদ্য ধন্বন্তরীও উঠে এসেছিলেন। তাই এদিন তাঁরও আরাধনা করা হয়। এই বিশেষ দিনে কোনও ধাতব পাত্র কিনে আনতে হয়। তবে কখনওই সেই পাত্র খালি নিয়ে ফিরবেন না। বরং তাতে চাল,দুধ কিংবা শস্যদানা ভরে নিয়ে ফিরতে হয়। তবেই পরিবারের শ্রীবৃদ্ধি হয়।

    আরও পড়ুন: জানুন, সাতের দশকের কলকাতার ডন ‘ফাটাকেষ্ট ও তাঁর কালীপুজোর গল্প‌’

    শাস্ত্র আনুযায়ী, এই দিনটিতে ধনের দেবতা কুবেরেরও আবির্ভাব ঘটে। আজ, সন্ধ্যায় একটি রৌপ্য মুদ্রা কিনুন যার উপর গণেশ-লক্ষ্মী চিত্রিত রয়েছে। জাফরানের তিলক দিয়ে তাদের পূজা করুন এবং লাল বা হলুদ কাপড়ে রাখুন। এমনকি দীপাবলির পূজাতেও এই মুদ্রা বা মূর্তিগুলির পূজা করুন এবং তারপরে সেগুলি আপনার লকারে রাখুন। দেখবেন আপনার জীবনে কোনওদিন অর্থের অভাব হবে না। ঘরে দারিদ্র্য যোগ দূর হবে বলেই বিশ্বাস অনেকের।

  • Bhoot Chaturdashi 2022: এই বছর একই দিনে ভূত চতুর্দশী ও দীপাবলি, এই তিথির মাহাত্ম্য জানেন?

    Bhoot Chaturdashi 2022: এই বছর একই দিনে ভূত চতুর্দশী ও দীপাবলি, এই তিথির মাহাত্ম্য জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi 2022) তিথিতে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী। এই তিথিকে আবার অনেকে নরক চতুর্দশী বলেও জানেন। দীপাবলির একদিন আগে ও ধনতেরসের একদিন পর ভূত চতুর্দশী পালিত হয়। এই তিথিটি ছোট দীপাবলি, রূপ চতুর্দশী বা নরকা পুজো নামেও পরিচিত। এদিন মৃত্যুর দেবতা যম ও কৃষ্ণের পুজো করা হয়। অকাল মৃত্যুর ভয় থেকে বাঁচতে নরক চতুর্দশীতে পুজো করা হয়। কার্তিক কৃষ্ণ চতুর্দশীতে, দীপাবলির এক দিন আগে এই পুজো হলেও চলতি বছর তিথি গোলযোগে ২৪ অক্টোবর দীপাবলির দিনেই ভূত চতুর্দশী পালিত হবে।        

    পঞ্জিকা অনুযায়ী কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথি ২৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা ৩ মিনিট থেকে শুরু হবে এবং ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টা ২৭ মিনিটে এই তিথি শেষ হবে। এ বছর উদায় তিথির কারণে ২৪ অক্টোবর ভূত চতুর্দশী পালিত হবে। 

    আরও পড়ুন: দীপাবলিতে ফিরছিলেন বাড়ি, মধ্যপ্রদেশে বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১৫ জন শ্রমিকের

    ভূত চতুর্দশী বা নরক চতুর্দশীতে মুক্তি লাভের আশায় পুজো করা হয়। এ দিন সূর্যোদয়ের আগে উঠে স্নান করার প্রথা রয়েছে। মনে করা হয় এর প্রভাবে যমলোকের দর্শন করতে হয় না। বিষ্ণু পুরাণ ও শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ অুযায়ী নরকাসুর নামক এক অসুর নিজের শক্তির দ্বারা দেবী-দেবতা ও মনুষ্যদের অতিষ্ট করে তুলেছিল। ১৬ হাজার স্ত্রী এবং সাধুকে বন্দি বানিয়ে রেখেছিল নরকাসুর। এরপর মুনি- ঋষিরা কৃষ্ণের দ্বারস্থ হন। নরকাসুরের হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব নেন কৃষ্ণ। কিন্তু শুধু স্ত্রীর হাতে মৃত্যুর অভিশাপ পেয়েছিল নরকাসুর। এ কারণে কৃষ্ণ নিজের স্ত্রী সত্যভামাকে সারথী করেন এবং তাঁর সাহায্যে নরকাসুরের বধ করেন। যে দিন নরকাসুরের বধ হয়েছিল সেই দিনটি ছিল কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথি। তাই তিথিকে নরক চতুর্দশী বলা হয়।    

    আবার এই তিথিটিকে ভূত চতুর্দশী (Bhoot Chaturdashi 2022) বলার পিছনের ব্যখ্যা হল, মনে করা হয় এই তিথিতে সন্ধ্যা নামলেই অশরীরী প্রেতাত্মারা বেরিয়ে আসে। তাদের হাত থেকে মুক্তি পেতে এই তিথিতে গৃহস্থ বাড়িতে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়। আবার আর একটি প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী এই তিথিতে চৌদ্দ পুরুষের আত্মার আসা যাওয়া থাকে। মনে করা হয় তাঁদের যাতায়াতের পথ আলোকিত রাখার জন্যই প্রদীপ প্রজ্জ্বলিত করার প্রথা রয়েছে।

    পশ্চিমবঙ্গে ভূত চতুর্দশীর দিনে ১৪ শাক খাওয়ার প্রথা প্রচলিত রয়েছে। শাস্ত্র মতে এদিন ওল, কেও, বেতো কালকাসুন্দা, নিম, সরষে শালিঞ্চা বা শাঞ্চে, জয়ন্তী, গুলঞ্চ, পলতা, ঘেঁটু বা ভাঁট, হিঞ্চে, শুষনি, শেলু শাক খাওয়া হয় এদিন। এই শাক খাওয়ার বৈজ্ঞানিক কিছু ব্যাখ্যাও রয়েছে। ১৪ শাক ঋতু পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধক শক্তি বাড়ায়।  

    তবে শাস্ত্র মতে, ১৪ শাক খেয়ে সন্ধেবেলা ১৪ প্রদীপ জ্বালালে দূরাত্মা ও অন্ধকার দূর হয়। অন্য দিকে অশুভ আত্মাদের থেকে রক্ষা পেতে ভূত চতুর্দশী তিথিতে মন্ত্র জপের নিয়ম রয়েছে। মন্ত্রটি হল, ‘শীতলঞ্চ সমাযুক্ত সকণ্টক দলান্বিত। হরপাপ সপামার্গে ভ্রাম্যমাণঃ পুনঃ পুনঃ’।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Bhai phonta: ভাইফোঁটার শুরু কবে জানেন? এর পিছনের গল্পগুলো ভারি সুন্দর

    Bhai phonta: ভাইফোঁটার শুরু কবে জানেন? এর পিছনের গল্পগুলো ভারি সুন্দর

    শুভ্র চট্টোপাধ্যায়: জলযোগে বিভিন্ন রকমের মিষ্টি জাতীয় খাবার, লুচি,ঘুগনি। দুপুরে মাংস অথবা মাছ ভাত। ভাইফোঁটা মানেই যে কোনও বাঙালি বাড়ির পাতে এগুলো থাকবেই‌। সাধারণত কালীপুজোর  এক দিন পর সম্পন্ন হয় ভাইফোঁটা। এবছর অবশ্য ব্যতিক্রম। সকাল থেকেই বাঙালি বাড়িতে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে‌‌। একদিকে জলযোগের আয়োজন তো অন্যদিকে সাজগোজ। ভাই-দাদারা পাঞ্জাবি পড়বে তো দিদি-বোনেরা শাড়ি। হিন্দু ধর্মের যে কোনও পুজো বা ব্রত সম্পন্ন হয় পরিবার, আত্মীয় স্বজনদের মঙ্গল কামনার উদ্দেশ্যে। ভাইফোঁটা হলো ভাই ও বোনের মঙ্গল কামনার ব্রত। উভয়ের জীবনেই যেন সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বিরাজ করে , সেই প্রার্থনাই ভাই-বোনেরা একে অপরের উদ্দেশ্যে করে থাকে এই বিশেষ তিথিতে।

    পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই উৎসব কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়াতে উদযাপিত হয়। মাঝেমধ্যে এটি শুক্লপক্ষের প্রথম দিনেও উদযাপিত হয়ে থাকে। বাঙালির ঘরোয়া এই উৎসবে অন্যান্য পুজোর মতো রীতি, আচার বা মন্ত্রোচ্চারণ সেভাবে নেই বললেই চলে। ছড়ার মতো পাঠ করা হয় – 
    “ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
    যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, 
    আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা”॥

    ভাইফোঁটা যেন বাঙালির নিজস্ব উৎসব। সবকিছুতেই বাঙালি মোড়ক। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইফোঁটার বিভিন্ন নাম রয়েছে। উত্তর ও পশ্চিম ভারতের এই উৎসব ভাইদুজ নামে পরিচিত। সেখানে ভাইফোঁটা পাঁচ-দিনব্যাপী দীপাবলি উৎসবের শেষদিন। আবার, মহারাষ্ট্র, গোয়া ও কর্ণাটকে ভাইফোঁটাকে বলে ভাইবিজ। নেপালে ও পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং পার্বত্য অঞ্চলে এই উৎসব পরিচিত ভাইটিকা নামে পরিচিত। ভাঁইফোটা, ভাই ও বোনদের  উপহার পাওয়ার দিনও বটে। সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে আধুনিক প্রজন্মকে ভাঁইফোটার দিন ভাই ও বোনদের জন্য পছন্দ মতো ‘গিফট আইটেম’ কিনতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও সামাজিক সদ্ভাবনার উদ্দেশ্যে গণ ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়।  

    আরও পড়ুন: হিন্দু যুবককে গোমাংস খাইয়ে, সুন্নত করিয়ে ইসলামে দীক্ষা, কাঠগড়ায় কং নেতা সহ ১১

    ভাইফোঁটার নেপথ্যে  রয়েছে বেশ কয়েকটি পৌরাণিক কাহিনী। কথিত আছে, সূর্যদেব ও তার পত্নী সংজ্ঞার যমুনা নামে কন্যা এবং যম নামে পুত্র সন্তান ছিল। পুত্র কন্যা সন্তানের জন্মের পরে সূর্যদেবের উত্তাপ স্ত্রী সংজ্ঞা সহ্য করতে পারতেন না। তিনি তখন নিজের প্রতিলিপি ছায়াকে স্বর্গলোকে রেখে মর্তে নেমে আসেন। সংজ্ঞার প্রতিরূপ হওয়ার কারনে, দেবতারা ছায়াকে চিনতে পারে না। স্বর্গে বিমাতা ছায়া যমুনা ও যমের প্রতি দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। কিন্তু ছায়ার মোহে অন্ধ সূর্যদেব কোন প্রতিবাদ না করায় অত্যাচারের মাত্রা দিনের পর দিন বাড়তেই থাকে। এভাবেই একদিন বিমাতা কর্তৃক স্বর্গরাজ্য থেকে বিতাড়িত হন যমুনা।  যমুনার বিয়ে হয় এক উচ্চ বংশ জাত পরিবারে। বিয়ের পর দীর্ঘকাল যমুনাকে দেখতে না পেয়ে মনে আকুলতা তৈরী হয় যমের। এরপরই মন শান্ত করতে দিদির বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যম। কালী পুজোর দুদিন পরে যমুনার বাড়ি পৌঁছায় যম। ভাই এর আগমনে তারজন্য জন্য নানা রকমের খাবারের আয়োজন করেন দিদি যমুনা। দিদির আন্তরিকতায় ও ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে দিদিকে উপহার স্বরূপ বরদান প্রার্থনা করতে বলেন যম। সেই সময় যমুনা ভাইয়ের কাছে প্রার্থনা করেন যে, ‘ভ্রাতৃদ্বিতীয়ার দিন প্রত্যেক ভাই যেন তার বোনের কথা স্মরণ করে এবং প্রত্যেক বোন যেন তার ভাইয়ের মঙ্গল ময় দীর্ঘ জীবন কামনা করে।’ তখন থেকেই নাকি ভাইফোঁটার প্রচলন।

    অন্য একটি পৌরাণিক মত হলো ,  নরকাসুর বধের পূর্বে শ্রী কৃষ্ণ , সুভদ্রার কাছে আসেন। সুভদ্রা তখন শ্রী কৃষ্ণের মঙ্গল ও বিজয় কামনা করে , কপালে ফোঁটা দিয়ে মিষ্টি খেতে দেন শ্রী কৃষ্ণকে। এরপরই নরকাসুরকে বধ করেন শ্রী কৃষ্ণ।  আবার আরও একটি কাহিনী হলো, বালির হাতে পাতালে বন্দি হন ভগবান বিষ্ণু। তখন মাতা লক্ষ্মী বালিকে ভাই হিসেবে স্বীকার করে তাঁর কপালে তিলক এঁকে দেন। বালি উপহার স্বরূপ মাতা লক্ষ্মীকে কিছু দিতে চাইলে , দেবী লক্ষ্মী ভগবান বিষ্ণুকে চেয়ে নেন। তখন থেকেই নাকি ভাঁইফোটা প্রচলিত।

  • Dhanteras: ধনতেরাসের পিছনে রয়েছে নানান কাহিনী! জানেন এই টুকরো গল্পগুলি?

    Dhanteras: ধনতেরাসের পিছনে রয়েছে নানান কাহিনী! জানেন এই টুকরো গল্পগুলি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক:  বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ। বিশেষত এই সময়টা অর্থাৎ শরৎকাল এবং হেমন্তকাল যেন পুজোর ঋতু। মহালয়া থেকে শুরু, দুর্গাপূজা ,লক্ষ্মী পুজো, কালীপুজো। পরপরই চলতে থাকে। কিন্তু কালীপুজোর ঠিক একদিন আগে পালন করা হয় আরো একটি উত্‍সব, যার নাম ধনতেরাস। দীপাবলীর দিন অর্থাৎ কালীপুজোর আগে অলক্ষীকে বিদায় করে লক্ষ্মী পুজোর রীতি রয়েছে। এই লক্ষ্মী পুজোর আগে পালিত হয় ধনতেরাস।  ধন শব্দের অর্থ সম্পদ, এবং তেরাস  শব্দের অর্থ ত্রয়োদশী। হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী কার্তিক মাসের ১৩ তম দিনে কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উত্‍সব পালিত হয়। আলোর ঝরনায় যখন মেতে ওঠে সম্পূর্ণ বিশ্ব ,তখন আত্মীয় স্বজন, পরিবারের মঙ্গল কামনায় এবং ধন-সম্পদের আশায় বহু মানুষ দেবতা কুবেরের আরাধনা করেন। কুবের হলো ধন দেবতা‌। বিশ্বাস মতে, এই দিন কোন না কোন মূল্যবান ধাতু, বাসনপত্র অথবা নতুন পোশাক কিনলে মা লক্ষ্মী সন্তুষ্ট হন। আশীর্বাদ করেন তাঁর ভক্তদের।  ধনতেরাসকে ঘিরে রয়েছে অজস্র পৌরাণিক কাহিনী। তারই মধ্যে একটি জনপ্রিয় কাহিনী হলো, প্রাচীন কালে হিম নামে এক রাজা ছিলেন। তাঁর পুত্রের একটি অভিশাপ ছিল যে বিয়ের চার দিনের মাথায় তাঁর সর্প দংশনে মৃত্যু হবে। এই দিনের কথা সকলেই জানতেন। তাই স্বামীকে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য নববধূ সারারাত স্বামীকে ঘুমাতে দেননি, নানা কৌশলে জাগিয়ে রেখেছিলেন তাঁর স্বামীকে।

    তাঁদের শয্যা কক্ষের বাইরে প্রচুর ধন-সম্পদ, সোনা রুপোর গয়না, বাসনপত্র সাজিয়ে রেখেছিল নববধূ। ঘরের সর্বত্র প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন। এতো ভালো, উজ্জ্বল ,আলোকময় পরিবেশের জন্য সারারাত সেই ঘরে কোনো সাপ প্রবেশ করতে পারেনি। স্বামীকে জাগিয়ে রাখার জন্য সারারাত নববধূ গল্প এবং গান করে কাটিয়ে ছিলেন।

    পরদিন মৃত্যুর দেবতা যমরাজ সেখানে আসেন। ঘরের দরজায় গয়নার জৌলুস এবং প্রদীপের আলোতে চোখ ধাঁধিয়ে যায় তাঁর। তিনি রাজপুত্রের কাছে পৌঁছাতে পারলেন না। রাজপুত্রের ঘরের বাইরে  সারারাত ওই গয়নার ওপর শুয়ে শুয়ে রানীর গান এবং গল্প শুনে বিভোর হয়ে পরের দিন তিনি ফিরে যান‌। এই ঘটনার পর থেকে প্রতিবছর রাজ পরিবারে সোনার এবং রুপোর তিথি ধনতেরাস উত্‍সব পালন করা শুরু হয়ে যায়। কুবেরের সাথে এই দিন লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করা হয়, একথা পূর্বেই বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। এই দিন ধনদেবী লক্ষ্মীরও আরাধনা করা হয়‌ । অর্থাৎ একই মাসে দুবার লক্ষ্মী পুজোর রীতি হিন্দু ধর্মে দেখা যায়‌। ধনতেরাস বা ধন ত্রয়োদশীর দিন লক্ষ্মী পুজোর কারণ কি?  পুরাণে বলা হয়েছে যে, একসময় দুর্বাসা মুনির অভিশাপে সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মী স্বর্গ থেকে চলে যান এবং মহাসাগরে বসবাস শুরু করেন। লক্ষ্মী চলে যাওয়াতে স্বর্গলোক শ্রীহীন হয়ে পড়ে। এরপর দেবতারা অসুরের সঙ্গে ব্যাপক যুদ্ধ করে সমুদ্র মন্থনে ফিরিয়ে এনেছিলেন লক্ষ্মীকে। এই দিনটি ছিল ধনতেরাসের দিন মানে কার্তিক মাসের কৃষ্ণা পক্ষের ত্রয়োদশী তিথি। তাই তখন থেকেই দেবী লক্ষ্মীর উদ্দেশ্যে সূচনা করা হয়েছিল দীপাবলি উত্‍সব এবং তার আগে ধনদেবীর আরাধনা করা হয়।

    আরও পড়ুন: ধনতেরাসে দুর্ভাগ্য এড়াতে কী করবেন? জেনে নিন সৌভাগ্য ফেরানোর উপায়ও

    আবার অন্য একটি মতে, ধনতেরাসের এই দিনটি আবার ধন্বন্তরি ত্রয়োদশী নামেও পরিচিত। ধন্বন্তরি হিন্দু ধর্মের একজন দেবতা এবং আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক । এই বিশেষ দিনে  দেবতা ধন্বন্তরি সকলকে আরোগ্য থাকার আশীর্বাদ প্রদান করেন। ধন্বন্তরি দুধের মহাসাগর থেকে উত্থিত হয়েছিলেন বলেই পৌরাণিক মত রয়েছে। ভাগবত পুরাণে বর্ণিত আখ্যান অনুযায়ী সমুদ্র মন্থন কালে অমৃতের পাত্রের সাথে ধন্বন্তরি উঠেছিলেন। এটাও বিশ্বাস করা হয় যে ধন্বন্তরি আয়ুর্বেদ প্রথা চালু করেছিলেন। এই কারণের জন্য, ২৮ শে অক্টোবর ২০১৬ থেকে কার্তিক মাসের কৃষ্ণা পক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে ভারত সরকার ধনতেরাসের দিনটি জাতীয় আয়ুর্বেদ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

    অন্য একটি পৌরাণিক কাহিনী হলো, একসময় বিষ্ণু মৃত্যু লোকে বিচরণ করতে এলে লক্ষ্মী ও তার সঙ্গে যান। তখন বিষ্ণু বলেন তার কথা মেনে চললে মা লক্ষ্মী তার সঙ্গে যেতে পারেন। তার কথা মান্য করে মা লক্ষ্মী বিষ্ণুর সঙ্গে পৃথিবীতে আসেন। একটি জায়গায় এসে বিষ্ণু মা লক্ষীকে অপেক্ষা করতে বলেন। তিনি বলেন যে, তিনি দক্ষিণ দিকে যাচ্ছেন এবং তার না আসা পর্যন্ত লক্ষ্মী যেন সেখান থেকে কোথাও না যায়। লক্ষ্মীর মনে দক্ষিণ দিকে বিষ্ণুর যাওয়ার কারণ জানার কৌতুহল জেগে ওঠে। এরপর তিনি বিষ্ণুর পিছু নেন। কিছু দূর এগোনোর পর সর্ষের ক্ষেতে ফুল ফুটে থাকতে দেখে সেই ফুল দিয়ে লক্ষ্মী নিজেকে সাজানোর জন্য সেই দিকে অগ্রসর হন। কিছুদূর যাওয়ার পর আখের ক্ষেত থেকে আখ তুলে তার রস পান করেন। সেই সময় বিষ্ণু সেখানে আসেন এবং  লক্ষ্মী কে  দেখে ভীষণ রেগে যান। এরপর বিষ্ণু মা লক্ষ্মী কে অভিশাপ দেন, বলেন যে বারণ সত্বেও লক্ষ্মী তার পিছু নেন ও দরিদ্র কৃষকের ক্ষেত থেকে চুরির অপবাদ করে বসেন।  লক্ষ্মী কে ১২ বছর পর্যন্ত কৃষকের সেবা করতে বলে ক্ষীর সাগরের উদ্দেশ্যে প্রস্থান করেন বিষ্ণু। সেই কৃষকের বাড়িতে কৃষকের স্ত্রীকে স্নান করে লক্ষ্মীপুজো ও তারপর রান্না করার কথা বলেন। পুজোর পর কৃষক এর স্ত্রীর সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়ে যায়। ফলে দ্বিতীয় দিন থেকেই কৃষকের ঘর অন্ন, বস্ত্র, রত্ন, তে ভরে যায়। এভাবে বারো বছর পর্যন্ত খুব আনন্দে কাটে কৃষকের। ১২ বছর পর বিষ্ণু লক্ষীকে নিতে এলে কৃষকের স্ত্রী তাকে যেতে দেন না। তখন বিষ্ণু জানান, লক্ষ্মী কে কেউ যেতে দিতে চায় না। লক্ষ্মী চঞ্চলা, কোথাও টিকতে পারেন না। তখন লক্ষ্মী কৃষককে জানান তার কথা মত চললে পরিবারে কখনো অর্থাভাব থাকবে না। ধনতেরাসের দিনে ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার কথা বলেন লক্ষ্মী, এরপর রাতে ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখে সন্ধ্যাকালে পুজো করতে বলেন, একটি রূপোর ঘটে তার জন্য টাকা ভরে রাখার কথাও বলেন তিনি।

  • Bhoot Chaturdashi: দীপাবলিতে ১৪ শাক, ১৪ প্রদীপ কেন ? কী কী থাকে ১৪ শাকে?

    Bhoot Chaturdashi: দীপাবলিতে ১৪ শাক, ১৪ প্রদীপ কেন ? কী কী থাকে ১৪ শাকে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালী পুজোর এক রাত আগে পালিত হয় ভূত চতুর্দশী বা নরক চতুর্দশী। বাংলার ঘরে ঘরে ভূত চতুর্দশীর দিনে ১৪ শাক খাওয়ার ও ১৪ প্রদীপ জ্বালানোর রীতি রয়েছে। উল্লেখ্য, ভূত চতুর্দশী চোদ্দ পুরুষকে উৎসর্গ করা হয়েছে। ভূত চতুর্দশীর দিনে যে ১৪টি শাক খাওয়া হয়, সেগুলি হল, ওল, নটে, বেথুয়া, সরষে, কালকাসুন্দে, জয়ন্তী, নিম, হেলেঞ্চা, সজনে, পলতা, গুলঞ্চ, ভাঁটপাতা, শুলফা ও শুষণী শাক। এই শাক খেয়ে এবং সন্ধেবেলা ১৪ প্রদীপ জ্বালিয়ে দুরাত্মা ও অন্ধকার দূর করার রীতি প্রচলিত আছে। 

    শাস্ত্রমতে, মৃত্যুর পর মানুষের শরীর পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে যায়। অর্থাৎ মাটি, জল, হাওয়া, অগ্নি ও আকাশ। তাই মাটি থেকে তুলে আনা শাক খেলে অতৃপ্ত আত্মারা শান্তি পায়। যে জল দিয়ে ১৪ শাক ধোয়া হয়, সেই জল আবার অনেকে বাড়িতেও ছেটান। মনে করা হয়, এর ফলে অশুভ শক্তি দূর হয় ও বাধা-বিঘ্ন কেটে যায়।  

    আরও পড়ুন: এই বছর একই দিনে ভূত চতুর্দশী ও দীপাবলি, এই তিথির মাহাত্ম্য জানেন?

    দুপুরে ১৪ শাক খাওয়ার পর সন্ধেবেলা জ্বালানো হয় ১৪ প্রদীপ। ১৪ পুরুষের উদ্দেশ্যে এই ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়। এই ১৪ পুরুষ হলেন, পিতা, পিতামহ, প্রপিতামহ, মাতা, পিতামহী, প্রপিতামহী, মাতামহ, প্রমাতামহ, বৃদ্ধপ্রমাতামহ, মাতামহী, প্রমাতামহী ও বৃদ্ধপ্রমাতামহী। এ ছাড়াও শ্বশুর-শাশুড়ি। অশুভ আত্মাদের হাত থেকে বাঁচতে ভূত চতুর্দশীর দিনে যে মন্ত্র জপ করা হয়, তা হল ‘শীতলঞ্চ সমাযুক্ত সকণ্টক দলান্বিত। হরপাপ সপামার্গে ভ্রাম্যমাণঃ পুনঃ পুনঃ’। এই মন্ত্র পাঠের ফলে অশুভ আত্মার ভয় কেটে যায়।  

    হিন্দুমতে মনে করা হয়, ভূত চতুর্দশীর রাতে শিবভক্ত রাজা বলি ও তাঁর অনুচরেরা মর্ত্যে পুজো নিতে আসেন। চতুর্দশী তিথির ভরা অমাবস্যার অন্ধকারে রাজা বলির অনুচরেরা যাতে পথ ভুলে বাড়িতে ঢুকে না-পড়েন, তাই এই প্রদীপ জ্বালানোর রীতি প্রচলিত আছে। আবার অন্য একটি প্রথা অনুযায়ী, পিতৃপক্ষের সময় পিতৃপুরুষদের মর্ত্যে আগমন হয়। এই চতুর্দশী তিথিতেই তাঁরা ফিরে যান। সে সময় অন্ধকারে পথ দেখানোর জন্য ১৪ প্রদীপ জ্বালানো হয়।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

  • Dhanteras: ধনতেরাসে দুর্ভাগ্য এড়াতে কী করবেন? জেনে নিন সৌভাগ্য ফেরানোর উপায়ও

    Dhanteras: ধনতেরাসে দুর্ভাগ্য এড়াতে কী করবেন? জেনে নিন সৌভাগ্য ফেরানোর উপায়ও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাত পোহালেই ধনতেরাস (Dhanteras)। এক সময় এটি পালিত হত মূলত অবাঙালিদের মধ্যে। বর্তমানে শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটি পালন করেন বাঙালিরাও। দিনটি ধন ত্রয়োদশী। লোকমুখে হয়ে দাঁড়িয়েছেন ধনতেরাস। এই দিনে ধাতু কিনে ঘরে রাখা মঙ্গলজনক বলে মনে করা হয়। তবে এই দিনে খালি বাসন কিনতে নেই। বাসন কিনলে কিনতে হবে অন্য কিছুও। জেনে নিন, পবিত্র এই দিনে কী করবেন। দুর্ভাগ্য (Bad Luck) এড়িয়ে কীভাবে ফেরাবেন সৌভাগ্য (Good Luck)। কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে পালিত হয় ধনতেরাস (Dhanteras)। চলতি বছর ধনতেরাস পালিত হবে রবিবার। তবে যেহেতু ত্রয়োদশী পড়ে গিয়েছে শনিবারই, তাই এবার ধনতেরাসের কেনাকাটা করা যাবে দুদিন ধরে।

    ধনতেরাসে (Dhanteras) অনেকেই সোনা কিংবা রুপো কেনেন। এই মূল্যবান ধাতু কিনে মা লক্ষ্মীর সিংহাসনে রেখে দেন। পরের বছর নতুন ধাতু কেনার পর এই ধাতু সরিয়ে নেওয়া হয়। যাঁদের ইচ্ছে থাকলেও, সোনা কেনার সামর্থ্য নেই, তাঁরা এই দিনে কাঁসা কিংবা পিতলের বাসনপত্রও কেনেন। তবে মনে রাখবেন, কিনে খালি বাসন নিয়ে ঘরে ঢুকবেন না। কলসি কিংবা বালতি কিনলে তাতে জল কিংবা চাল ভরে ঘরে ঢুকবেন। এই জল গঙ্গার হলে ভাল হয়। নিতান্তই তা করতে না পারলে অন্তত জলাশয়ের জল ভরে নিন। সেই জলও না মিললে চাল ভরে নিন। আতপ চাল হলেই ভাল হয়। না হলে সিদ্ধ চালই সই। কলসি কিংবা বালতি না কিনে যদি বাসনকোসন কেনেন, তাহলে তাতেও চাল ভরে নিন। মধু কিংবা দুধ ভরেও বাড়ি ফিরতে পারেন। এসবের চেয়ে ভাল হয় যদি সাত ধরনের অন্ন ভরে ঘরে ফিরতে পারেন। বিশ্বাসীদের মতে, কৃষ্ণতিল, যব, মাসকলাই, ধান, ছোলা, সাদা সর্ষে এবং মুগের ডাল ভরে তবেই ঘরে ঢুকুন। এই সাতটি অন্নই সৌভাগ্যের প্রতীক।

    আরও পড়ুন: ২৭ বছর পর দুদিন ধনতেরাসের যোগ! জানুন কখন ঘরে আনবেন সোনা-রুপো

    জ্যোতিষীদের মতে, এদিন (Dhanteras) মিশ্র কোনও ধাতুর জিনিসপত্র না কেনাই ভাল। লোহার জিনিস কিনবেনই না। কিনবেন না স্টিলের বাসনকোসনও। চলবে না প্লাস্টিকও। আসলে এগুলির কোনওটাই অর্থকরী নয়। তাই বোধহয় এগুলি কিনতে বারণ করা হয়েছে। তার চেয়ে শুদ্ধ ধাতুর জিনিস কিনুন। মনে রাখবেন, ধর্মের মোড়কে সঞ্চয়ের এহেন দিশা বোধ হয় অন্য কোনও ধর্মেই নেই!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

LinkedIn
Share