Category: পরম্পরা

Get updated History and Heritage and Culture and Religion related news from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Thumb Shapes: হাতের আঙুলের গঠন বলে দেবে আপনি কেমন! জানেন কীভাবে?

    Thumb Shapes: হাতের আঙুলের গঠন বলে দেবে আপনি কেমন! জানেন কীভাবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক : প্রাচীন ভারতে  সমুদ্রশাস্ত্রের (Thumb Shapes) রচয়িতা ছিলেন সমুদ্র ঋষি। সমুদ্রশাস্ত্র অনেক পুরনো এক শাস্ত্র। এই শাস্ত্র অনুসারে একজন ব্যক্তির শরীরের অঙ্গগুলির গঠন অনেক গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্য প্রকাশ করে। এই শাস্ত্র অনুসারে আঙুলের গঠন দেখে বলে দেওয়া যায় ব্যক্তিটি কেমন।

    আঙুল বলবে নানা তথ্য

    বুড়ো আঙুল লম্বা : যাদের বুড়ো আঙুল লম্বা হয় তারা বেশি মননশীল এবং আদর্শবাদী হন। এই ধরনের আঙ্গুলের লোকেরা সৃজনশীল এবং কল্পনাপ্রবণ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকনে। এই ধরনের লোকেরা তাদের সমস্ত কাজ খুব নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করেন। এছাড়া শ্রম দানের চাইতে আরও স্মার্ট উপায়ে কাজ করতে পছন্দ করেন লম্বা আঙুলধারী লোকেরা।

    বুড়ো আঙুল ছোট: যাদের হাতের বুড়ো আঙুল ছোট, তারা খুব অন্যের সেবা প্রিয় হন। ছোট আঙুলের অধিকারীরা কঠোর পরিশ্রমের উপর নির্ভর করেন এবং খুব সাবধানে যে কোনও সিদ্ধান্ত নেন। শুধু তাই নয়, এই লোকেরা খুব ভালো করে জানেন কীভাবে অন্যের কাছ থেকে কাজ আদায় করতে হয়। তবে আচার-ব্যবহারের দিক থেকে এই মানুষগুলো একটু দুর্বল প্রকৃতির হন। এরা একটু বিলাস ব্যসনে থাকতে ভালোবাসেন। নিজের শখ পূরণের জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেও এদের বাধে না।

    বুড়ো আঙুল মোটা: যে সকল ব্যক্তির বুড়ো আঙুল মোটা হয় তারা অনেক বেশি কৃপণ হন। এই ধরনের ব্যক্তিরা অর্থ সঞ্চয় করতে পছন্দ করেন। এরা মুখের উপর কথা বলতে ভালোবাসেন। রাজনীতি এদের পছন্দের বিষয়।

    আরও পড়ুন: সোমবার রাজ্যের উষ্ণতম ছিল কলাইকুন্ডা, কলকাতার তাপমাত্রা কত?

     বুড়ো আঙুলের গাঁট লম্বা: যাদের বুড়ো আঙুলের উপরের গাঁটের পরের অংশ লম্বা হয় থাকে তারা খুব বুদ্ধিমান হয়। এই ধরনের মানুষদের পড়া-লেখার প্রতি অনেক আগ্রহ থাকে। এই লোকের যে কোনও সমস্যার একটি ভাল সমাধান খুঁজে বের করার ক্ষমতা থাকে। বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাও এদের বেশি থাকে।

    বাঁকা বুড়ো আঙুল: বাঁকা বুড়ো আঙুলযুক্ত ব্যক্তিরা খোলা মনের এবং অপ্রচলিত সমাধানগুলি অন্বেষণ করতে ইচ্ছুক হন। এই আকারটি প্রায়শই সৃজনশীলতা, নমনীয়তা এবং অভিযোজনযোগ্যতার সাথে যুক্ত থাকে। 

    প্রশস্ত বুড়ো আঙুল: একটি প্রশস্ত বুড়ো আঙুল যুক্ত ব্যক্তিদের দৃঢ়চেতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং অবিচল বলে মনে করা হয়। তারা নেতৃত্বের ভূমিকায় আকৃষ্ট হতে পারে এবং তাদের সিদ্ধান্তে আস্থা প্রদর্শন করা যেতে পারে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sri Ramakrishna Kathamrita 4: “এইটি জেনো যে, নিরাকারও সত্য, তোমার যেটি বিশ্বাস, সেইটিই ধরে থাকবে”

    Sri Ramakrishna Kathamrita 4: “এইটি জেনো যে, নিরাকারও সত্য, তোমার যেটি বিশ্বাস, সেইটিই ধরে থাকবে”

     

    অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্

         তৎপদং দর্শিত যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।

     

      মাস্টারকে তিরস্কার ও তাঁহার অহঙ্কার চূর্ণকরণ

     

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি)-তোমার কি বিবাহ হয়েছে?

    মাস্টার–আজ্ঞে হ্যাঁ।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (শিহরিয়া)-ওরে রামলাল! যাঃ, বিয়ে করে ফেলেছে!

    মাস্টার ঘোরতর অপরাধী ন্যায় অবাক হইয়া অবনতমস্তকে চুপ করিয়া বসিয়া রহিলেন। ভাবিতে লাগিলেন, বিয়ে করা কি এত দোষ!

    ঠাকুর আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, তোমার কি ছেলে হয়েছে?

    মাস্টারের বুক ঢিপঢিপ করিতেছে। ভয়ে ভয়ে বলিলেন, আজ্ঞে ছেলে হয়েছে। ঠাকুর আবার আক্ষেপ করিয়া বলিতেছেন, যাঃ ছেলে হয়ে গেছে! তিরস্কৃত হইয়া তিনি স্তব্ধ হইয়া রহিলেন। তাঁহার অহঙ্কারচূর্ণ হইতে লাগিল। কিয়ৎক্ষণ পরে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna Kathamrita) আবার কৃপাদৃষ্টি করিয়া সস্নেহে বলিতে লাগিলেন, ‘দেখ, তোমার লক্ষণ ভাল ছিল, আমি কপাল, চোখ -এসব বুঝতে পারি। আচ্ছা, তোমার পরিবার কেমন? বিদ্যাশক্তি না অবিদ্যাশক্তি?”

    জ্ঞান কাহাকে বলে? প্রতিমাপূজা

    মাস্টার-আজ্ঞা ভাল, কিন্তু অজ্ঞান।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (বিরক্ত হইয়া)–আর তুমি জ্ঞানী?

    তিনি জ্ঞান কাহাকে বলে, অজ্ঞান কাহাকে বলে, এখনও জানেন না। এখনও পর্যন্ত জানিতেন যে, লেখাপড়া শিখিলে ও বই পড়িতে পারিলে জ্ঞান হয়। এই ভ্রম পরে দূর হইয়াছিল। তখন শুনিলেন যে, ঈশ্বরকে জানার নাম জ্ঞান, ঈশ্বরকে না জানার নামই অজ্ঞান। ঠাকুর বলিলেন, তুমি কি জ্ঞানী!” মাস্টারের অহঙ্কারে আবার বিশেষ আঘাত লাগিল।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna Kathamrita)-আচ্ছা, তোমার ‘সাকারে’ বিশ্বাস, না ‘নিরাকার’?

    মাস্টার (অবাক হইয়া স্বগত)–সাকারে বিশ্বাস থাকলে কি নিরাকারে বিশ্বাস হয়? ঈশ্বর নিরাকার, এ-বিশ্বাস থাকিলে ঈশ্বর সাকার এ-বিশ্বাস কি হইতে পারে? বিরুদ্ধে অবস্থা দুটাই কি সত্য হইতে পারে? সাদা জিনিস-দুধ, কি আবার কালো হতে পরে?

    মাস্টার–আজ্ঞা, নিরাকার–আমার এইটি ভাল লাগে।

    শ্রীরামকৃষ্ণ-তা বেশ। একটাতে বিশ্বাস থাকলেই হল। নিরাকার বিশ্বাস, ততো ভালোই। তবে এ-বুদ্ধি কারো না যে, এইটি কেবল সত্য আর সব মিথ্যা। এইটি জেনো যে, নিরাকারও সত্য। তোমার যেটি বিশ্বাস, সেইটিই ধরে থাকবে।

    মাস্টার দুইই সত্য এই কথা বারবার শুনিয়া অবাক্‌ হইয়া রহিলেন। এ-কথা তো তাঁহার পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে নেই।

    তাঁহার অহঙ্কার তৃতীয়বার চূর্ণ হইতে লাগিল। কিন্তু এখনও সম্পূর্ণ হয়ে নাই। তাই আবার একটু তর্ক করিতে অগ্রসর হইলেন।

    মাস্টার–আজ্ঞা, তিনি সাকার, এ-বিশ্বাস যেন হল! কিন্তু মাটির প্রতিমা তিনি তো নন—

    শ্রীরামকৃষ্ণ—মাটি কেন গো! চিন্ময়ী।

    মাস্টার ‘চিন্ময়ী প্রতিমা’ বুঝিতে পারিলেন না। বলিলেন, আচ্ছা যারা মাটিতে প্রতিমা পূজা করে তাদের তো বুঝিয়ে দেওয়া উচিত যে, মাটির প্রতিমা ঈশ্বর নয়, আর প্রতিমার সম্মুখে ঈশ্বরকে উদ্দেশ্য করে পূজা করা উচিত।    

    আরও পড়ুনঃ “শেষরাত্রে ঘুম ভেঙে যেত আর কাঁদতুম, বলতুম, মা, কেশবের অসুখ ভালো করে দাও”

    আরও পড়ুনঃ “ঠাকুর মাঝে মাঝে যেন অন্যমনস্ক হইতেছেন! পরে শুনিলেন, এরই নাম ভাব”

    আরও পড়ুনঃ “মাস্টার দেখিলেন, একঘর লোক নিস্তব্ধ হইয়া তাঁহার কথামৃত পান করিতেছেন”

     

    তথ্যসূত্রঃ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত, ৪র্থ পরিচ্ছেদ

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Akshaya Tritiya 2024: অক্ষয় তৃতীয়ায় কেনা ধনসম্পদের ক্ষয় হয় না, জানেন এই বিশেষ দিনের গুরুত্ব?

    Akshaya Tritiya 2024: অক্ষয় তৃতীয়ায় কেনা ধনসম্পদের ক্ষয় হয় না, জানেন এই বিশেষ দিনের গুরুত্ব?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাঙালির বারো মাসে ১৩ পার্বণ। অক্ষয় তৃতীয়া (Akshaya Tritiya 2024) তার মধ্যে একটি। পাঁজি মতে, পয়লা বৈশাখের পর বাংলা বছরের প্রথম শুভদিন অক্ষয় তৃতীয়া। সনাতন ধর্ম মতে, এদিন ব্রহ্মার পুত্র অক্ষয় কুমারের জন্ম হয়। এদিন ধরাধামে আর্বিভূত হয়েছিলেন ভগবান পরশুরাম। পরশুরামকে ২৪ দেবতার মধ্যে ষষ্ঠ অবতার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র ও হিন্দুধর্মে অক্ষয় তৃতীয়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যেকোনও শুভ কাজ যদি এই দিনে করা হয় তাহলে সে কাজে সাফল্য আসে। এতে দেবী লক্ষ্মীর বিশেষ কৃপা পাওয়া যায় বলে মনে করা হয়। বৈশাখ মাসের শুক্ল পক্ষের তৃতীয়ায় এই দিনটিতে যে ধনসম্পদ ক্রয় করা হয়, তার ক্ষয় হয় না।

    চলতি বছরে কবে অক্ষয় তৃতীয়া

    চলতি বছর অক্ষয় তৃতীয়া পড়েছে শুক্রবার, ১০ মে (Akshaya Tritiya 2024)। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এই দিনে সূর্য এবং চন্দ্র তাদের সর্বোচ্চ রাশিতে থাকে। শাস্ত্রে অক্ষয় তৃতীয়ার তিথিকে স্বয়ংসিদ্ধ মুহূর্ত বলা হয়। কথায় বলে এর মানে বৈশাখের মতো কোনও পুণ্য-মাস নেই, সত্যযুগের মতো কোনও যুগ নেই, বেদের মতো কোনও শাস্ত্র নেই এবং গঙ্গার মতো কোনও তীর্থযাত্রা নেই। একইভাবে অক্ষয় তৃতীয়ার মতো কোনও তিথি নেই। কথিত আছে, অক্ষয় তৃতীয়ায় রোহিণী নক্ষত্র থাকলে এই দিনের গুরুত্ব হাজার গুণ বেড়ে যায় এবং এবার ১০ মে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন রোহিণী নক্ষত্র থাকবে সকাল ১০টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। বছরে মাত্র একবার, অক্ষয় তৃতীয়ায়, বৃন্দাবনে বাঁকেবিহারীর পা দেখা যায় বলে বিশ্বাস। 

    অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব

    বিশ্বাস করা হয় ,অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya 2024) দিনে শুরু করা কাজ শুভ ফল দেয়। এই কারণেই এই তিথিতে মানুষ নতুন ব্যবসা শুরু করেন। হালখাতার পুজো হয়। এই দিনে নতুন কিছু কেনাও শুভ। অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে আপনি যে কাজই করুন না কেন, তার ফল অবশ্যই পাবেন। তাই এই দিনে কোনও খারাপ বা অন্যায় কাজ করবেন না। অক্ষয় তৃতীয়া  থেকে সত্যযুগ, দ্বাপরযুগ ও ত্রেতাযুগের সূচনা হয়। কেনাকাটার পাশাপাশি অক্ষয় তৃতীয়া দান ধ্যানের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।  অক্ষয় তৃতীয়ায় যব দান করা স্বর্ণদানের সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়। সেই সঙ্গে জমি, সোনা, পাখা, ছাতা, জল, সত্তু, কাপড় ইত্যাদিও এই দিনে দান করা যেতে পারে।

    আরও পড়ুন: নিয়মিত পুজো করেন? জেনে নিন ঠাকুরের সামনে কতক্ষণ প্রসাদ রাখা যায়

    এদিন কী কী নিয়ম মানবেন

    ব্যবসা থেকে কেরিয়ারে উন্নতির জন্য আপনি অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya 2024) দিন সোনার গয়না কিনুন। সোনার গয়না বাড়ির উত্তর দিকে রাখুন। এতে আপনার ঘরে মা লক্ষ্মী বিরাজ করবে। দেবীর আশীর্বাদে আপনি জীবনে এগিয়ে যেতে পারবেন। আয়ের নতুন পথ খুলবে এবং জীবনে উন্নতি হবে আপনার। আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অক্ষয় তৃতীয়ায় দেবী লক্ষ্মীকে জাফরান ও হলুদ নিবেদন করুন। এতে আপনারা আর্থিক সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। শুধু তাই নয়, নতুন সম্পত্তি করতে পারেন এবং নয়া চাকরির সুযোগ পাবেন আপনি। যদি আপনি ভাগ্যের পূর্ণ সমর্থন পেতে চান এবং সেই সঙ্গে দেবী লক্ষ্মীর কৃপা পেতে চান তাহলে অক্ষয় তৃতীয়ার দিন আপনি বাড়ির প্রধান দরজায় কাঁচা আম এবং অশোক পাতা একই সঙ্গে বেঁধে রাখুন। এতে আপনারা ভাগ্যের পূর্ণ সমর্থন পাবেন আপনি। পরিবারের উপর ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকবে। দূর হবে নেতিবাচক শক্তি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sri Ramakrishna Kathamrita: “শেষরাত্রে ঘুম ভেঙে যেত আর কাঁদতুম, বলতুম, মা, কেশবের অসুখ ভালো করে দাও”

    Sri Ramakrishna Kathamrita: “শেষরাত্রে ঘুম ভেঙে যেত আর কাঁদতুম, বলতুম, মা, কেশবের অসুখ ভালো করে দাও”

     

    অখণ্ডমণ্ডলাকারং ব্যাপ্তং যেন চরাচরম্

          তৎপদং দর্শিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ।।

    গুরু শিষ্য-সংবাদ

    দ্বিতীয় দর্শন সকাল বেলা, আটটার সময়। ঠাকুর তখন কামাতে যাচ্ছেন। এখনও একটু শীত আছে। তাই তাঁহার গায়ে মেলেস্কিনের র‍্যাপার। র‍্যাপারের কিনারা শালু দিয়ে মোড়া। মাস্টারকে দেখিয়ে বলিলেন, তুমি এসেছ? আচ্ছা, এখানে বস।

    এ-কথা দক্ষিণ-পূর্ব বারান্দায় হইতেছিল। নাপিত উপস্থিত। সেই বারান্দায় ঠাকুর কামাইতে বসিলেন ও মাঝে মাঝে মাস্টারের সহিত কথা কহিতে লাগিলেন। গায়ে ওইরূপ র‍্যাপার, পায়ে চটি জুতা, সহাস্যবদন। কথা কহিবার সময় কেবল একটু তোতলা।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি)–হ্যাঁগা, তোমার বাড়ি কোথায়?

    মাস্টার–আজ্ঞা, কলিকাতায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna Kathamrita)–এখানে কোথায় এসেছে?

    মাস্টার-এখানে বরাহনগরে বড় দিদির বাড়ি আসিয়াছি। ঈশান কবিরাজের বাটী।

    শ্রীরামকৃষ্ণ–ওহ্‌ ঈশানের বাড়ি!

    শ্রীকেশবচন্দ্র সেন ও মার কাছে ঠাকুরের ক্রন্দন

    শ্রীরামকৃষ্ণ–হ্যাঁগা, কেশব আছে? বড় অসুখ হয়েছিল।

    মাস্টার–আমিও শুনেছিলাম বটে, এখন বোধ হয় ভাল আছেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna Kathamrita)–আমি আবার কেশবের জন্য মার কাছে ডাব-চিনি মেনেছিলুম। শেষরাত্রে ঘুম ভেঙে যেত আর মার কাছে কাঁদতুম, বলতুম, মা, কেশবের অসুখ ভালো করে দাও; কেশব না থাকলে আমি কলকাতায় গেলে কার সঙ্গে কথা কব? তাই-চিনি মেনেছিলুম।

    হ্যাঁগা, কুক্‌ সাহেব নাকি একজন এসেছে? সে নাকি লেকচার দিচ্ছে? আমাকে কেশব জাহাজে তুলে নিয়ে গিছিল। কুক্‌ সাহেবও ছিল।”

    মাস্টার–আজ্ঞা, এই রকম শুনেছিলুম বটে, কিন্তু আমি তাঁর লেকচার শুনি নাই। আমি তাঁর বিষয় বিশেষ জানি না।

    আরও পড়ুনঃ “ঠাকুর মাঝে মাঝে যেন অন্যমনস্ক হইতেছেন! পরে শুনিলেন, এরই নাম ভাব”

    গৃহস্থ ও পিতার কর্তব্য

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Sri Ramakrishna Kathamrita)-প্রতাপের ভাই এসেছিল। এখানে কয়দিন ছিল। কাজকর্ম নাই। বলে, আমি এখানে থাকব। শুনলাম, মাগছেলে সব শ্বশুরবাড়িতে রেখেছে। অনেকগুলি ছেলেপিলে। আমি বকলুম, দেখ দেখি ছেলেপিলে হয়েছে; তাঁদের কি আবার ও-পাড়ার লোক এসে খাওয়াবে-দাওয়াবে, মানুষ করবে? লজ্জা করে না যে, মাগছেলেদের আর একজন খাওয়াচ্ছে, আর তাদের শ্বশুরবাড়ি ফেলে রেখেছে। অনেক বকলুম, আর কর্মকাজ খুঁজে নিতে বললুম। তবে এখান থেকে যেতে চায়।    

     

    তথ্যসূত্রঃ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সংক্ষিপ্ত চরিতামৃত, ৩য় পরিচ্ছেদ, দ্বিতীয় দর্শন

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sri Ramakrishna Kathamrita: “ঠাকুর মাঝে মাঝে যেন অন্যমনস্ক হইতেছেন! পরে শুনিলেন, এরই নাম ভাব”

    Sri Ramakrishna Kathamrita: “ঠাকুর মাঝে মাঝে যেন অন্যমনস্ক হইতেছেন! পরে শুনিলেন, এরই নাম ভাব”

     

    এটি রাসমণির দেবালয়

    সিধুর সঙ্গে ঘরের বাহিরে আসিতে না আসিতে আরতির মধুর শব্দ হইতে লাগিল। এককালে কাঁসর, ঘণ্টা, খোল, করতালি বাজিয়ে উঠল। বাগানের দক্ষিণসীমান্ত হইতে নহবতের মধুর শব্দ আসিতে লাগিল। সেই শব্দ ভাগীরথীবক্ষে যেন ভ্রমণ করিতে করিতে অতিদূরে গিয়া কোথায় মিশিয়া যাইতে লাগিল। মন্দ মন্দ কুসুমগন্ধবাহী বসন্তানিল! সবে জ্যোৎস্না উঠিতেছে। ঠাকুরদের আরতির যেন চতুর্দিকে আয়োজন হইতেছে! মাস্টার দ্বাদশ শিবমন্দিরে, শ্রীশ্রী রাধাকান্তের মন্দিরে ও শ্রীশ্রীভবতারিণীর মন্দিরে আরতি দর্শন করিয়া পরম প্রীতিলাভ করিলেন। সিধু বলিলেন, “এটি রাসমণির দেবালয়। এখানে নিত্যসেবা। অনেক অতিথি, কাঙাল আসে।”

    কথা কহিতে কহিতে ভবতারিণীর মন্দির হইতে বৃহৎ পাকা উঠানের মধ্য দিয়া পাদচারণ করিতে করিতে দুইজনে আবার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরের সম্মুখে আসিয়া পড়িলেন। এবার দেখিলেন, ঘরের দ্বার দেওয়া (Sri Ramakrishna Kathamrita)। 

    এইমাত্র ধুনা দেওয়া হইয়াছে। মাস্টার ইংরেজী পড়িয়াছেন, ঘরে হঠাৎ প্রবেশ করিতে পারিলেন না। দ্বারদেশে বৃন্দে (ঝি) দাঁড়াইয়াছিল। জিজ্ঞাসা করিলেন, “হ্যাঁ গা, সাধুটি কি এখন এর ভিতর আছেন?”

    বৃন্দে– হ্যাঁ এই ঘরের ভিতর আছেন।

    মাস্টার– ইনি এখানে কত দিন আছেন –

    মাস্টার—আচ্চা, ইনি এখানে কতদিন আছেন?

    বৃন্দে—তা অনেকদিন আছেন –

    মাস্টার—আচ্ছা, ইনি কি খুব বই-টই পড়েন?

    বৃন্দে– আর বাবা বই-টই পড়েন?

    বৃন্দে—আর বাবা বই-টই! সব ওঁর মুখে!

    মাস্টার সবে পড়াশুনা করে এসেছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বই পড়েন না শুনে আর অবাক্‌ হলেন।

    মাস্টার—সবে পড়াশুনা করে এসেছেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বই পড়েন না শুনে আরও অবাক্‌ হলেন।

    মাস্টার—আচ্ছা, ইনি বুঝি এখন সন্ধ্যা করবেন?—আমরা কি এ-ঘরের ভিতর যেতে পারি?—তুমি একবার খবর কিবে?

    বৃন্দে—তোমার যাও না বাবা। গিয়ে ঘরে বস।

    তখন তাঁহার ঘরে প্রবেশ করিয়া দেখেন, ঘরে আর অন্য কেহ নাই। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ ঘরে একাকী তক্তপোশের উপর বসিয়া আছেন। ঘরে ধুনা দেওয়া হইয়াছে ও সমস্ত দরজা বন্ধ। মাস্টার প্রবেশ করিয়াই বদ্ধাঞ্জলি হইয়া প্রণাম করিলেন। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বসিতে অনুজ্ঞা করিলেন তিনি ও সিধু মেঝেতে বসিলেন। ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিলেন, “কোথায় থাক, কি কর, বরাহনগরে কি করতে এসেছ” ইত্যাদি। মাস্টার সমস্ত পরিচয় দিলেন। কিন্তু দেখিতে লাগিলেন যে, ঠাকুর মাঝে মাঝে যেন অন্যমনস্ক হইতেছেন (Sri Ramakrishna Kathamrita)। পরে শুনিলেন, এরই নাম ভাব। যেমন কেহ ছিপ হাতে করিয়া মাছ ধরিয়া মাছ ধরিতে বসিয়াছে। মাছ আসিয়া টোপ খাইতে থাকিলে ফাতনা যখন নড়ে, সে ব্যক্তি যেমন শশব্যস্ত হইয়া ছিপ হাতে করিয়া ফাতনার দিকে একদৃষ্টে একমনে চাহিয়া থাকে, কাহারও সহিত কথা কয় না; এ- ঠিক সেইরূপ ভাব। পরে শুনিলেন ও দেখিলেন, ঠাকুর সন্ধ্যারপর এই রূপ ভাবান্তর হয়, কখন কখন তিনি একেবারে বাহ্যশূন্য হন!

    মাস্টার – আপনি এখন সন্ধ্যা করবেন, তবে এখন আমরা আসি।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (ভাবস্থ)– না – সন্ধ্যা — তা এমন কিছু নয়।

    আর কিছু কথাবার্তার পর মাস্টার প্রণাম করিয়া বিদয় গ্রহণ করিলেন। ঠাকুর বলিলেন, “আবার এস”।

    মাস্টার ফিরিবার সময় ভাবিতে লাগিলেন, “এ সৌম্য কে? যাঁহার কাছে ফিরিয়া যাইতে ইচ্ছা করিতেছে। বই না পড়িলে কি মানুষ মহৎ হয়?—কি আশ্চর্য, আবার আসিতে ইচ্ছা হইতেছে। ইনি বলিয়াছেন, “আবার এস! কাল কি পরশু সকালে আসিব (Sri Ramakrishna Kathamrita)।”  

     

    তথ্যসূত্রঃ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত, ২য় পরিচ্ছেদ, প্রথম দর্শন

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Sri Ramakrishna Kathamrita: “মাস্টার দেখিলেন, একঘর লোক নিস্তব্ধ হইয়া তাঁহার কথামৃত পান করিতেছেন”

    Sri Ramakrishna Kathamrita: “মাস্টার দেখিলেন, একঘর লোক নিস্তব্ধ হইয়া তাঁহার কথামৃত পান করিতেছেন”

    তব কথামৃতং তপ্তজীবনং, কবিভিরীড়িতং কল্মষা পহম্‌।

    শ্রবণমঙ্গলং শ্রীমদাততং, ভুবি গৃণান্তি যে ভূরিদা জনাঃ।।

    গঙ্গাতীরে দক্ষিণেশ্বরে কালীবাড়ি। মা-কালীর মন্দির। বসন্তকাল, ইংরেজী ১৮৮২ খ্রীস্টাব্দের মার্চ মাস। ঠাকুর জন্মোৎসবের কয়েক দিন পরে। শ্রীযুক্ত কেশব সেন ও শ্রীযুক্ত জোসেফ্‌ কুক সঙ্গে ২৩শে ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার (১২ই ফাল্গুন, ১২৮৮, শুক্লাষষ্ঠী) ঠাকুরের স্টীমারের বেড়াইয়াছিলেন—তাহারই কয়েকদিন পরে। সন্ধ্যা হয় হয়। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে মাস্টার আসিয়া উপস্থিত। এই প্রথম দর্শন। দেখিলেন একঘর লোক নিস্তব্ধ হইয়া তাঁহার কথামৃত (Sri Ramakrishna Kathamrita) পান করিতেছেন। ঠাকুর তক্তপোশে বসিয়া পুর্বাস্য হইয়া সহাস্যবদনে হরি কথা কহিতেছেন। ভক্তেরা মেঝেয় বসিয়া আছেন।

    মাস্টার দাঁড়াইয়া অবাক্‌ হইয়া দেখিতেছেন। তাঁহার বোধ হইল যেন সাক্ষাৎ শুকদেব ভগবৎ-কথা কহিতেছেন, আর সর্বতীর্থের সমাগম হইয়াছে। অথবা যেন শ্রীচৈতন্য পুরীক্ষেত্রে রামানন্দ স্বরূপাদি ভক্তসঙ্গে বসিয়া আছেন ও ভগবানের নামগুণকীর্তন করিতেছেন। ঠাকুর (Sri Ramakrishna Kathamrita) বলিতেছেন, “যখন একবার হরি বা একবার রামনাম করলে রোমাঞ্চ হয়, অশ্রুপাত হয়, তখন নিশ্চয়ই জেনো যে সন্ধ্যাদি কর্ম—আর করতে হবে না। তখন কর্মত্যাগের অধিকার হয়েছে—কর্ম আপনা আপানি ত্যাগ হয়ে যাচ্ছে। তখন কেবল রামনাম, কি হরিনাম, কি শুদ্ধ ওঁকার জপলেই হল।” আবার বলিলেন, “সন্ধ্যা গায়ত্রীতে লয় হয়। গায়েত্রী আবার ওঁকারে লয় হয়।”

    মাস্টার সিধুর সঙ্গে বরাহনগরের এ-বাগান ও-বাগান বেড়াইতে বেড়াইতে এখানে আসিয়া পড়িয়াছেন। আজ রবিবার অবসর আছে, তাই বেড়াইতে আসিয়াছেন; শ্রীযুক্ত প্রসন্ন বাঁড়ুজ্যের বাগানে কিয়ৎক্ষণ পূর্বে বেড়াইতেছিলেন। তখন সাধু বলিয়াছিলেন, “গঙ্গার ধারে একটি চমৎকার বাগান আছে, সে-বাগানটি কি দেখতে যাবেন? সেখানে একজন পরমহংস (Sri Ramakrishna Kathamrita) আছেন।”

     

    বাগানে সদর ফটক দিয়া ঢুকিয়াই মাস্টার ও সিধু বরাবর ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ঘরে আসিলেন। মাষ্টার অবাক্‌ হইয়া দেখিতে দেখিতে ভাবিতেছেন, আহা কি সুন্দর স্থান! কি সুন্দর মানুষ! কি সুন্দর কথা! এখান থেকে নড়তে ইচ্ছা করছে না।” কিয়ৎক্ষণ পরে মনে মনে বলিতে লাগিলেন, “একবার দেখি কোথায় এসেছি। তারপর এখানে বসব।” (Sri Ramakrishna Kathamrita)

     

    তথ্যসূত্রঃ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণকথামৃত, ২য় পরিচ্ছেদ, প্রথম দর্শন

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Akshaya Tritiya 2024: অক্ষয় তৃতীয়া কেন মঙ্গলদায়ক? পুরাণ মতে এই দিনটির গুরুত্ব কী জানুন

    Akshaya Tritiya 2024: অক্ষয় তৃতীয়া কেন মঙ্গলদায়ক? পুরাণ মতে এই দিনটির গুরুত্ব কী জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি জাঁকজমক ভাবে পালিত হয়। সনাতন ধর্মে এই দিন (Hindu religion) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন বলে বিবেচিত হয়। অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya) দিন থেকে নানা শুভ কাজ শুরু হয়। এছাড়াও অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে কেনাকাটা করা বা সোনার গহনা কেনা খুবই মঙ্গল বলে মনে করা হয়। অনেকের বিশ্বাস, অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে শুরু করা কাজ শুভ ফল দায়ক হয়। এই কারণেই মানুষ নতুন ব্যবসা শুরু করে এই তিথিতে। পয়লা বৈশাখের মতো এদিনও হালখাতা হয় দোকানে দোকানে। সেই উপলক্ষ্যে লক্ষ্মী-গণেশের পুজো করতে এদিন বিভিন্ন মন্দিরে ভিড় করেন ব্যবসায়ীরা। স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছেও সমৃদ্ধির বার্তাবাহক অক্ষয় তৃতীয়ার এই তিথি।

    সোনা-রূপো কেনার রীতি (Akshaya Tritiya 2024)

    অক্ষয় তৃতীয়ায় (Akshaya Tritiya 2024) সবাই যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী সোনা ও রূপো কিনে থাকে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, এই দিনে সোনা কিনলে ঘরে ধন-সম্পদ, সুখ-সমৃদ্ধি আসে। এই দিনে সোনা কিনলে ঘরে অর্থের অভাব হয় না বলেও বিশ্বাস রয়েছে। ব্যক্তি এবং পরিবারের যশ ও খ্যাতি বৃদ্ধি পায়। চলতি বছর ২০২৪ সালের ১০ মে পালিত হবে এই বছরের অক্ষয় তৃতীয়া। কথিত আছে যে অক্ষয় তৃতীয়ার দিনে ধন সম্পদের দেবতা কুবেরকে দেবলোকের অধিপতি নির্বাচন করা হয়। তাই এই দিনে মা লক্ষ্মীর সঙ্গে কুবেরেরও পুজো করা হয়। মনে করা হয় যে অক্ষয় তৃতীয়ায় কুবের দেবের পুজো করলে সংসারে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে। এই দিনে দান করলেও তার শুভ প্রভাবে সম্পদ লাভ করা সম্ভব হয়। অক্ষয় তৃতীয়ায় যব দান করা স্বর্ণদানের সমতুল্য বলে বিবেচিত হয়।

    অক্ষয় তৃতীয়ার গুরুত্ব

    অক্ষয় তৃতীয়ার দিনটি (Akshaya Tritiya 2024) যে কোনও ধরনের শুভ কাজ করার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। বিয়ে, বাগদান, গৃহপ্রবেশ এবং উপনয়নের মতো যে কোনও শুভ কাজ অক্ষয় তৃতীয়ার যে কোনও সময় করা যায়। এই দিনটি এতই শুভ যে এই দিনে কোনও শুভ কাজ করার জন্য পঞ্জিকাতে শুভ সময় দেখার দরকার পড়ে না। এই দিনে যে কোনও সময় যে কোনও শুভ কাজ করা যেতে পারে।

    পুরাণে অক্ষয় তৃতীয়ার বর্ণনা

    পুরাণ অনুসারে অক্ষয় তৃতীয়ায় (Akshaya Tritiya) অক্ষয় পাত্র লাভ করে ছিলেন যুধিষ্ঠির। এই কারণে অক্ষয় তৃতীয়া থেকেই ক্ষেতে বীজ রোপণ করা শুরু করেন কৃষকরা। অন্যদিকে আরেকটি পৌরণিক আরেকটি সূত্রে অনুসারে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুর নবম অবতার কৃষ্ণ দ্বাপর যুগে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর সুদামা নামে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ বন্ধু ছিলেন। সুদামা একদিন ভুলবশত কৃষ্ণের সব খাবার খেয়ে ফেলেছিলেন। এরপর তিনি শ্রীকৃষ্ণকে খাবার দিতে একমুঠো চাল নিয়ে তাঁর ঘরে আসেন। বন্ধু সুদামার এই আচরণ মুগ্ধ করেছিল শ্রীকৃষ্ণকে। এরপর শ্রীকৃষ্ণের আশীর্বাদে সুদামার সমস্ত দারিদ্র্য ঘুচে যায়। মনে করা হয় যেদিন এই ঘটনা ঘটেছিল, সেদিন ছিল বৈশাখ মাসের শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি। তাই দিনটি বিশেষ শুভ।

    আরও পড়ুনঃ একই স্কুলের ৩৬ জন শিক্ষকের চাকরি গেল, মাথায় হাত প্রধান শিক্ষকের

    খুলে যায় বদ্রীনাথধাম

    উল্লেখ্য অক্ষয় তৃতীয়া (Akshaya Tritiya 2024) থেকেই খুলে যায় চারধামের অন্যতম বদ্রীনাথধাম মন্দিরের দরজা। তার সঙ্গে এদিনই মথুরায় বাঁকে বিহারীর দর্শন পাওয়া যায়। সারা বছর পোশাকের আড়ালে ঢাকা থাকেন বাঁকে বিহারী। এই একদিনই তাঁর চরণ দর্শন করা সম্ভব হয়। এছাড়াও অক্ষয় তৃতীয়ার (Akshaya Tritiya) দিন সূর্যোদয়ের আগে উঠে সমুদ্র, গঙ্গা বা যে কোনও পবিত্র নদীতে বা বাড়িতে স্নান করার পর শান্ত চিত্তে ভগবান বিষ্ণু ও মা লক্ষ্মীর পুজো করার বিধান রয়েছে। সুখ, সৌভাগ্য এবং সমৃদ্ধির জন্য লক্ষ্মীনারায়ণের পাশাপাশি এই দিনে ভগবান শিব এবং মা পার্বতীরও পুজো করা হয়।

    স্কন্দপুরাণ অনুসারে দিনের গুরুত্ব

    শাস্ত্র অনুসারে, এই অক্ষয় তৃতীয়ার মাসে (Akshaya Tritiya 2024) জলের কলস, ছায়াযুক্ত বৃক্ষ রক্ষা ও রোপণ, পশু-পাখিদের খাবারের ব্যবস্থা করা, পথচারীকে জল দেওয়া প্রভৃতি ভালো কাজগুলি মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যায়। অন্যদিকে স্কন্দপুরাণ অনুসারে এই মাসে জল দান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অর্থাৎ বহু তীর্থযাত্রা করে যে ফল পাওয়া যায় তা বৈশাখ মাসে জল দান করলেই পাওয়া যায়। এছাড়া যাঁরা ছায়া চান, তাঁদের ছাতা দান এবং যাঁরা পাখা চান, তাঁদের একটি পাখা দান করলে ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও শিব এই তিন দেবতার আশীর্বাদ পাওয়া যায়। যিনি পাদুকা দান করেন, তিনি যমদূতদের তুচ্ছ করে বিষ্ণুলোকে যান। এমন কথাও বর্ণিত রয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hanuman Chalisa: আকবর বন্দি করেন তুলসীদাসকে! কারাগারেই রচিত হয় ‘হনুমান চালিশা’

    Hanuman Chalisa: আকবর বন্দি করেন তুলসীদাসকে! কারাগারেই রচিত হয় ‘হনুমান চালিশা’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সারাদেশ জুড়ে আজকে সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে হনুমান জয়ন্তী। ভগবান হনুমানকে সাহস এবং শক্তির প্রতীক বলে মনে করা হয়। হিন্দুদের বিশ্বাস রয়েছে, ভগবান হনুমানের উদ্দেশ্যে হনুমান চালিশা পাঠ করলে জীবনের সকল সমস্যার সমাধান হয়। সমস্ত বাধা বিঘ্ন থেকে ভক্তকে রক্ষা করেন হনুমান। ভক্তদের উদ্ধার করেন স্বয়ং বজরংবলী। জানা যায়, ভগবান হনুমানকে উৎসর্গ করে হনুমান চালিশা লিখেছিলেন তুলসীদাস। চল্লিশটি শ্লোকের সমাহার হল এই হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa)।

    কারাগারেই রচিত হয় হনুমান চালিশা

    কবি তুলসীদাস ছিলেন সম্রাট আকবরের সময়কালের। সে সময় সম্রাট আকবর তুলসীদাসকে বলেন যে রামচন্দ্রকে দর্শন করাতে হবে। এর উত্তরে তুলসীদাস দাবি করেন যে তিনি কোনও জাদু জানেন না। তবে শ্রীরামচন্দ্রের কৃপাতে অনেক কিছুই সম্ভব হতে পারে। তুলসীদাস আরও বলেন, ‘‘তাঁর দর্শন এভাবে পাওয়া যায় না। অন্তর থেকে ডাকলে তিনি সাড়া দেন।’’ তুলসীদাসের এ কথা বিশ্বাস করতে চাননি আকবর। তখনই তিনি রামচরিত মানসের রচয়িতাকে কারাগারে বন্দি করেন। সেই কারাগারে বসেই হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa) লেখেন তুলসীদাস। প্রচলিত গল্প অনুযায়ী চল্লিশতম শ্লোক যেদিন লেখেন তুলসীদাস, সেদিন এক বিরাট বানর বাহিনী আকবরের প্রাসাদ ভাঙচুর করে। রীতিমতো তান্ডব চালায়। পরবর্তীকালে মুঘল সম্রাট তাঁর নিজের ভুল বুঝতে পারেন, ক্ষমা চান এবং মুক্ত করেন তুলসীদাসকে।

    জীবনের অনেক সমস্যার সমাধান করে হনুমান চালিশা পাঠ

    হনুমানের (Hanuman Chalisa) আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য হনুমান চালিশা পাঠ আবশ্যিক বলেই জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদরা। মনে করা হয়, প্রতি মঙ্গলবার যে ব্যক্তি হনুমান চালিশা পাঠ করেন এবং ভগবান হনুমানের পূজা করেন তাঁর জীবনের সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়। হনুমান চালিশা পাঠ করলে শনি সাড়ে সাতি দশা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। এ কথা বলছেন জ্যোতিষীরা। এর পাশাপাশি অতীতের আতঙ্ক যদি পিছু না ছাড়ে তাহলে দারুন কাজে দেয় হনুমান চালিশা পাঠ। নেতিবাচক চিন্তা অযথা ভয় উদ্বেগের সমস্যা রয়েছে যাঁদের, তাঁরাও হনুমান চালিশা পাঠ করতে পারে।

    কখন পাঠ করবেন হনুমান চালিশা

    তবে কখন পাঠ করবেন হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa)? এর উত্তরে জ্যোতিষীরা জানাচ্ছেন, সকালে কিংবা সন্ধ্যায় হনুমান চালিশা পাঠ করা যেতে পারে। সকালে স্নান করে, পরিচ্ছন্ন পোশাকে হনুমান চালিশা পাঠ করুন অথবা সন্ধ্যায় যদি আপনি হনুমান চল্লিশা পাঠ করতে চান তাহলে পরিষ্কার ভাবে নিজের হাত পা ধুয়ে করতে হবে। জ্যোতিষীরা আরও জানাচ্ছেন, যদি আপনার কোনও খারাপ স্বপ্ন আসে তাহলে বালিশের নিচে হনুমান চালিশা রাখা যেতে পারে এবং এতে তৎক্ষণাৎ ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন হনুমান চালিশা পাঠ করলে মানসিক চাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়। বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনে স্ট্রেস থেকে মুক্তি পেতে হনুমান চালিশা আপনার বড় রক্ষাকবচ হতে পারে।

    কীভাবে পাঠ করবেন হনুমান চালিশা (Hanuman Chalisa)

    তবে হনুমান চালিশা পাঠ করতে গেলে বেশ কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রীতি মেনে চলাই উচিত বলে জানাচ্ছেন শাস্ত্রবিদরা। কোন কোন নিয়ম মেনে হনুমান চালিশা পাঠ করবেন?

    – হনুমান চালিশা পাঠ করার সময় কুশ বা অন্য কোন আসন ব্যবহার করুন।
    – হনুমান চালিশা পাঠ শুরু করার আগে, গণেশের আরাধনা করবেন।
    – এরপরে ভগবান রাম এবং সীতা মাতাকে স্মরণ করবেন।
    – তারপরে বজরংবলীর সামনে ধূপকাঠি ও প্রদীপ জ্বালিয়ে ফুল অর্পণ করবেন।
    – এরপরে হনুমান চালিশা পাঠ শুরু করুন। তারপরে পুনরায় ভগবান রামের স্মরণ করুন।
    – সবশেষে হনুমানজিকে বোঁদে বা বেসনের লাড্ডু ভোগ নিবেদন করুন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hanuman Jayanti 2024: বজরংবলীকে কেন আমরা আদর্শ মানি? পড়ুন হনুমান চরিত্রের বিশ্লেষণ

    Hanuman Jayanti 2024: বজরংবলীকে কেন আমরা আদর্শ মানি? পড়ুন হনুমান চরিত্রের বিশ্লেষণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ব্যস্ততা এবং কাজের চাপে আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে বস্তুবাদী জীবন এবং আধ্যাত্মিক জীবন এই দুটিরই সমান ভূমিকা রয়েছে সুশৃঙ্খল জীবন যাপনের ক্ষেত্রে। বর্তমানকালে আমরা জীবনের বস্তুগত উপাদানগুলির দিকেই বড় বেশি ঝুঁকে পড়ছি। এর ফলে মানসিকভাবে চাপ বাড়ছে আমাদের। ডিপ্রেশনের শিকার হচ্ছি। আধ্যাত্মিকতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে জীবনে প্রতিটি ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য। সেটা কোনওভাবে অস্বীকার করা যায়না। জীবনকে আরও অনেক বেশি ছন্দময় এবং গতিময় করতে আধ্যাত্মিকতার অবদান অনস্বীকার্য। কিন্তু কীভাবে আমরা জীবনে এই ইতিবাচক পরিবর্তন আনব? 
    আজকে হনুমান জয়ন্তীর (Hanuman Jayanti 2024) পূণ্য তিথিতে আমাদের জানা দরকার যে ভগবান রামচন্দ্রের এই মহান শিষ্য কীভাবে তাঁর জীবন, চরিত্র এবং ব্যক্তিত্বকে ভরপুর উৎসাহ এবং অসীম শক্তির মোড়কে সাজিয়েছিলেন। বজরংবলীর জীবন আমাদের শেখায় শৃঙ্খলা পরায়ণতা, কঠিন পরিস্থিতিতে নেতৃত্বদান, গুরুর প্রতি আনুগত্য, ভগবানের প্রতি সমর্পণ, যুক্তিবাদী সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

    তুলসী দাস হনুমান চালিশায় খুব সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করেছেন হনুমানজির সমস্ত গুণগুলি, এবার আমরা সেই সম্পর্কিত কিছু শ্লোক নিয়ে আলোচনা করব

    সূক্ষ্ম রূপধরি সিযহি দিখাবা ।
    বিকট রূপধরি লংক জলাবা ॥ 

    হনুমানজি (Hanuman Jayanti 2024) যখন মা সীতার সন্ধানে লঙ্কায় গেলেন তখন অনেক বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সমুদ্র পার হয়ে তিনি লক্ষ্যে পৌঁছলেন। এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পেলাম? তিনি মনের মধ্যে একটি লক্ষ্যকে স্থাপন করে নিতে পারতেন। চলার পথে বিশ্রামের স্থানও পেয়েছিলেন কিন্তু তিনি গ্রহণ করলেন না। যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি মা সীতাকে খুঁজে পেলেন। মা সীতাকে দেখার পরেও হনুমানজি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কাছে গেলেন না, এখান থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই?

    এত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে তাঁর লক্ষ্যে পৌঁছানোর পরেও তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে থাকলেন সঠিক সময়ের জন্য। কখন সেই ক্ষণ আসবে যখন মা সীতার সঙ্গে কথা বলার মতো অনুকূল পরিবেশ সেখানে তৈরি হবে। ভগবান রামচন্দ্র তাঁকে যে আংটি দিয়েছিলেন সেটা তিনি মা সীতাকে দেখালেন এবং নিজের পরিচয় দিলেন। বললেন যে রামচন্দ্র তাঁকে এখানে পাঠিয়েছেন। ফিরে আসার সময় রাক্ষস রাজা রাবণের বাহিনীর সঙ্গে তাঁর সামনাসামনি সংঘর্ষ হল। রাক্ষসরা হনুমানজির লেজে আগুন ধরিয়ে দিল। তিনি এটাকে একটি সুযোগ হিসেবে দেখলেন। ওই আগুনে তিনি গোটা লঙ্কাকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করে দিলেন। অর্থাৎ পরিস্থিতি যখন কঠিন হল তখন তিনি পরিস্থিতিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত নিলেন। তাঁর (Hanuman Jayanti 2024) কাছ থেকে আমরা শিখতে পারলাম একজন নারীকে কিভাবে সম্মান করা উচিত।

    তুম্হরো মংত্র বিভীষণ মানা ।
    লংকেশ্বর ভযে সব জগ জানা ॥

    যখন হনুমানজি উপলব্ধি করলেন যে রাবণের আপন ভ্রাতা বিভীষণ অনেক ভালো গুণের অধিকারী তখন তিনি তাঁকে এই প্রস্তাব দিলেন যে রাবণের সঙ্গ ত্যাগ কর এবং লঙ্কা তথা মানবতার কল্যাণের জন্য রামচন্দ্রের পক্ষে এস। বিভীষণ রামচন্দ্রের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এলেন এবং তখন মর্যাদা পুরুষোত্তম প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করলেন যে বিভীষণকে প্রয়োজন কিনা! তখন বেশিরভাগ জনই বললেন, না।  কিন্তু রামচন্দ্র যখন হনুমানজিকে জিজ্ঞেস করলেন তখন তিনি বললেন তাঁকে প্রয়োজন এবং রামচন্দ্র সেই সিদ্ধান্তটাই নিলেন। এরপরের ঘটনাক্রম আমরা প্রত্যেকেই জানি, রামচন্দ্র নিজের সঙ্গে বিভীষণকে রেখেছিলেন এবং এই সিদ্ধান্ত কতটা সঠিক ছিল। পরবর্তীকালে বিভীষণ লঙ্কার একজন ভালো রাজা হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। এভাবেই আমরা বুঝতে পারি যে হনুমানজির (Hanuman Jayanti 2024) দূরদর্শিতা ঠিক কতটা ছিল, এবং কিভাবে তিনি সঠিক মানুষকে চিনতে পারতেন।

    সব পর রাম তপস্বী রাজা ।
    তিনকে কাজ সকল তুম সাজা ॥

    যখন একজন ভক্ত তাঁর গুরুর প্রতি গভীর আনুগত্য এবং বিশ্বাস রাখেন তখন গুরু সর্বশক্তিমান এবং অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। কারণ ভক্তের (Hanuman Jayanti 2024) আনুগত্য সমস্ত বাধা-বিপত্তি থেকে তাঁকে দূরে রাখে। বর্তমান সমাজ জীবনের ক্ষেত্রেও একই কথা। গুরুর প্রতি এমন চরম আনুগত্য এবং বিশ্বাস জীবনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

    সাধু সংত কে তুম রখবারে ।
    অসুর নিকংদন রাম দুলারে ॥

    অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করার যে প্রবণতা সেটা হনুমানজির মধ্যে ছিল। যার ফলে সমস্ত অশুভ শক্তিকে তিনি ধ্বংস করতে পেরেছিলেন এবং সকলকে রক্ষা করতে সমর্থ হয়েছিলেন। এখানেও বজরংবলির কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে আমাদের। আমরা যারা দুর্বল প্রকৃতির মানুষ তাদের অবশ্যই শক্তিশালী হওয়ার জন্য চেষ্টা করা উচিত। এবং অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রসদ জোগাড় করার চেষ্টাও করা উচিত আমাদের যাতে নিজেদের সংস্কৃতি এবং সমাজকে আমরা বাঁচাতে পারি। 

    পবন তনয সংকট হরণ – মংগল মূরতি রূপ্ ।
    রাম লখন সীতা সহিত – হৃদয বসহু সুরভূপ্ ॥

    স্বামী তুলসীদাস প্রার্থনা করছেন হনুমানজির (Hanuman Jayanti 2024) সম্পর্কে যে তুমি হলে সমস্ত রকমের আনন্দ এবং শুভ যা কিছু আছে তার সমষ্টি। ‌আমরা প্রার্থনা করছি ভগবান রামচন্দ্র, মা সীতা, এবং লক্ষণ আমাদের হৃদয়ে সর্বদা থাকবে।

     

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Puja Rituals: নিয়মিত পুজো করেন? জেনে নিন ঠাকুরের সামনে কতক্ষণ প্রসাদ রাখা যায়

    Puja Rituals: নিয়মিত পুজো করেন? জেনে নিন ঠাকুরের সামনে কতক্ষণ প্রসাদ রাখা যায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সনাতন ধর্মে (Hindu religion) পুজো-অর্চনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রীতি। বাড়িতে পুজো করলে একটা গঠনমূলক ভাবনা প্রবাহিত হয়। এছাড়া ভক্তি সহকারে ঠাকুরের আরাধনা করলে মনে শান্তি লাভ করা যায়। যে বাড়িতে নিয়মিত পুজো-অর্চনা (Puja Rituals) হয়, সেখানে ঈশ্বরের আশীর্বাদ বজায় থাকে। ঠাকুরের দয়ায় জীবনের সব সমস্যা কেটে যায় ও সাফল্য লাভ করা সম্ভব হয়। এই কারণেই সনাতন ধর্মে সঠিক নিয়ম মেনে পুজো করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যে, দু-বেলা পুজো করা উচিত। মন্ত্র জপের পাশাপাশি পুজোয় অন্নদানের গুরুত্ব রয়েছে। সঠিক পদ্ধতিতে নৈবেদ্য দিলেই ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন। তবে কতক্ষণ ঠাকুরের সামনে প্রসাদ (Pujo Prasad Rules) রাখা উচিত, তা জানেন কি?

    ভোগ দেওয়ার সময় (Puja Rituals)

    ধর্মীয় শাস্ত্র অনুসারে, পুজো (Puja Rituals) দেওয়ার পর অবিলম্বে ঠাকুরের কাছ থেকে প্রসাদ সরিয়ে নেবেন না, বা দীর্ঘ সময়ের জন্যও ঠাকুরের সামনে প্রসাদ রেখে দেবেন না। পুজোর পর ঠাকুরের সামনে মাত্র ৫ মিনিটের জন্য ভোগ রাখা ভালো। এরপরে, ভোগ গ্রহণ করুন এবং প্রত্যেকে এটি প্রসাদ হিসাবে গ্রহণ করুন। তবে ভোগকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠাকুরের সামনে ফেলে রাখবেন না। কারণ এতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উল্লেখ্য ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করার পর এই প্রসাদ মাটিতে রাখবেন না। আবার ঠাকুরের ভোগ প্রসাদ হয়ে গেলে তা আর মূর্তির খুব বেশি কাছাকাছি রাখবেন না। এছাড়া ঠাকুরকে খাবার দেওয়ার সময় সঙ্গে জল নিবেদন করতে ভুলবেন না। ঠাকুরের ভোগ সব সময় পিতল, রূপো, সোনা বা মাটির বাসনে নিবেদন করবেন। একই ভাবে কলাপাতায় প্রসাদ (Prasad) বিতরণ করা শুভ বলে মনে করা হয়।

    আরও পড়ুনঃ প্রথমবার পেট্রাপোল পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালেন মহিলা ট্রাকচালক

    নৈবেদ্যর জন্য মন্ত্রপাঠ

    তবে যদি আপনি উপবাস রেখে পুজো (Puja Rituals) করেন, তাহলে ভগবানকে অন্ন নিবেদনের জন্য মন্ত্র (Mantra) পাঠ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা বিশ্বাস করা হয় যে নৈবেদ্যর জন্য মন্ত্রপাঠ করলেই ঈশ্বর নিবেদন গ্রহণ করেন। তাই অন্নভোগ অর্পণ করার সময় মন্ত্রপাঠ করা উচিত। তবে পুজোর পর নিজের জন্য নিজে প্রসাদ নেবেন না। এই প্রসাদ আপনি প্রথমে সবার মধ্যে ভাগ করে দিন। এরপর নিজে প্রসাদ নিন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share