Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Trump’s Group: ভারতের ওপর খড়্গহস্ত ট্রাম্প, অথচ তাঁরই সংস্থা ভারতে ১ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে!

    Trump’s Group: ভারতের ওপর খড়্গহস্ত ট্রাম্প, অথচ তাঁরই সংস্থা ভারতে ১ লাখ কোটি টাকা লগ্নি করবে!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাক্কা ব্যবসায়ীর মতোই আচরণ ৪৭তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Trumps Group)! ভারতে অন্যদের বিনিয়োগ করতে নিষেধ করছেন তিনি। মুখে দিচ্ছেন চড়া শুল্ক চাপানোর হুমকি। অথচ সেই ট্রাম্পেরই ব্যবসায়িক গ্রুপ ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ ভারতে ১ লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে। সোমবার, এই ঘোষণা করেন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশনের পরিচালক এরিক সুইডার। তিনি জানান, তেলঙ্গানার ফিউচার সিটি (Telanganas Future City) প্রকল্প-সহ আরও বেশ কয়েকটি প্রকল্পে আগামী ১০ বছরে এই বিনিয়োগ হবে।

    এরিক সুইডারের বক্তব্য (Trumps Group)

    ট্রুথ সোশ্যালের সিইও ছিলেন সুইডার। তিনি বলেন, “ভারত এখন উত্থানের পথে এবং প্রযুক্তিখাতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আপনি যদি ২০ বছর আগের কথা ভাবেন একজন বাইরের পর্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে বিশ্বের অপর প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রে বসে। তখন প্রযুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে যদি ভারতের কথা বলা হত, মানুষ বলত, ওহ, ওটাই সেই দেশ যেখানে কল সেন্টারগুলি আছে।” তিনি বলেন, “আর সময়ের সঙ্গে যখন সামনে এগিয়ে যাবেন এবং দেখবেন কারা এই প্রযুক্তি তৈরি করছে, কারা বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করছে, তখন আর আপনার চোখ এড়িয়ে যাবে না যে এই প্রতিভার বড় অংশই ভারত থেকে আসছে।” তেলঙ্গানা রাইজিং গ্লোবাল সামিট ২০২৫-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগাড়ে কথাগুলি বললেন সুইডার। তিনি বলেন, “আজকের দিনে এসে আপনি অন্ধ না হলে দেখবেন যে বিশ্বের প্রযুক্তিখাতের বহু প্রধান পুঁজিপতি ভারত থেকেই উঠে আসছেন। ভারত উত্থানশীল, এবং আমার মনে হয় না ভারতের এই অগ্রগতি থামবে। ভারত আরও এগিয়ে যাবে এবং প্রযুক্তিতে তামাম বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। আমাদের এক সঙ্গে বিনিয়োগ করার, এক সঙ্গে কাজ করার পথ খুঁজে বের করা জরুরি।”

    বিনিয়োগ করতে খুবই উৎসাহিত

    গত দু’দিন ধরে ভারত সফর করছেন ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপ কর্পোরেশনের পরিচালক সুইডার। তিনি এখানে বিভিন্ন প্রযুক্তি দেখেছেন এবং বিনিয়োগ করতে খুবই উৎসাহিত। তিনি বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে চাই যে আগামী ১০ বছরে আমাদের সংস্থাগুলির মাধ্যমে আমি ভবিষ্যৎ শহর প্রকল্প এবং এখানকার উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রগুলিতে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চাই।” ট্রাম্পের (Trumps Group) কোম্পানির এই শীর্ষ কর্তা জানান, তিনি (Telangana’s Future City) তেলঙ্গানায় বিনিয়োগ করছেন কারণ মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁর মূলধন রাজ্যে সাদরে গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “গত দু’দিনে আমি যা দেখেছি, যদিও আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বহু মাস ধরে আমায় এখানে আসার অনুরোধ করছিলেন কিন্তু আমি বারবার পিছিয়ে গিয়েছিলাম, আর এখন আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে অবশেষে এখানে এসেছি, তা হল সম্মানীয় মুখ্যমন্ত্রী একেবারেই পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে আমাদের মূলধন এখানে স্বাগত এবং তিনি ব্যবসার জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এটি এমন একটি জায়গা, যা দ্রুত অগ্রগতির পথে রয়েছে।”

    তেলঙ্গানা সরকারের অনন্য উদ্যোগ

    প্রসঙ্গত, হায়দরাবাদকে একটি আন্তর্জাতিক শহরে উন্নীত করার লক্ষ্যে তেলঙ্গানা সরকার একটি অনন্য উদ্যোগ শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী এ রেবন্ত রেড্ডি ঘোষণা করেছেন, শহরের কিছু প্রধান ও বিশিষ্ট রাস্তার নতুন নামকরণ করা হবে। আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও কোম্পানির নামে (Telangana’s Future City) এই রাস্তাগুলির নাম দেওয়া হবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল, বিশ্ব মঞ্চে হায়দরাবাদের পরিচয় প্রতিষ্ঠা করা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। বিশিষ্ট শিল্পপতি প্রয়াত রতন টাটাকে সম্মান জানাতে সরকার নেহরু আউটার রিং রোডের কাছে রাভিরালা থেকে শুরু করে প্রস্তাবিত (Trumps Group) ফিউচার সিটির সঙ্গে সংযোগকারী ১০০ মিটার প্রশস্ত গ্রিনফিল্ড রেডিয়াল রাস্তার নামকরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, রাভিরালা ইন্টারচেঞ্জের নামকরণ ইতিমধ্যেই টাটা ইন্টারচেঞ্জ করা হয়েছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ

    তবে সব চেয়ে বেশি আলোচিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে একটি হল মার্কিন কনস্যুলেট জেনারেলের সামনের প্রধান রাস্তার নামকরণ হবে ডোনাল্ড ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এটিই হবে প্রথম ভারতীয় কোনও একটি শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে রাস্তা। জানা গিয়েছে, এজন্য সরকার শীঘ্রই বিদেশমন্ত্রক এবং মার্কিন দূতাবাসকে এই প্রস্তাবে অগ্রগতির জন্য একটি চিঠি পাঠাবে। মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডির মতে, এটি হায়দরাবাদের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ভ্যালুকে (Trumps Group) আরও উন্নত করবে (Telangana’s Future City) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করবে। এহেন আবহে ট্রাম্পের কোম্পানির ভারতে বিনিয়োগ করার ঘোষণা তাৎপর্যপূর্ণ বই কি!

  • Motivated Campaign: রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যে বাদানুবাদ, কী বললেন প্রাক্তন বিচারপতিরা?

    Motivated Campaign: রোহিঙ্গা নিয়ে প্রধান বিচারপতির করা মন্তব্যে বাদানুবাদ, কী বললেন প্রাক্তন বিচারপতিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটি মামলার শুনানি চলাকালীন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের (Rohingya Remarks) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের করা মন্তব্যের প্রেক্ষিতে (Motivated Campaign) বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন অবসরপ্রাপ্ত দু’দল বিচারপতি। এক পক্ষের বক্তব্য, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ‘অবিবেচনাপ্রসূত’। অন্য পক্ষের দাবি, তাঁর মন্তব্যকে নিয়ে প্রধান বিচারপতির যে সমালোচনা করা হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

    সুর্য কান্তকে খোলা চিঠি (Motivated Campaign)

    ৫ ডিসেম্বর হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, প্রবীণ আইনজীবী ও আইনবিদদের একটি দল সুর্য কান্তকে খোলা চিঠি লিখে তাঁর বেঞ্চ থেকে রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে করা ‘অবিবেচনাপ্রসূত’ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেন। এই মন্তব্যগুলি উঠে এসেছিল ভারতে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন সদস্যের হেফাজতে নিখোঁজ হওয়া সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানির প্রেক্ষিতে। ২ ডিসেম্বরের সেই শুনানিতে সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, প্রধান বিচারপতি   কান্ত মৌখিকভাবে রোহিঙ্গাদের শরণার্থী মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন এবং জানতে চেয়েছিলেন, “অনধিকারপ্রবেশকারীদের কি লাল গালিচা বিছিয়ে স্বাগত জানানো উচিত? যারা দেশে অবৈধভাবে ঢুকে পড়েছে, তাদের জন্য বিচারসভা দারুণ কোনও রক্ষাকবচ দেবে, এটাই কি আবেদনকারীরা চান?” তাঁর পর্যবেক্ষণ, “উত্তর ভারতে আমাদের একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত রয়েছে। যদি কোনও অনুপ্রবেশকারী প্রবেশও করে, তবে তাদের এখানে রাখার জন্য আমাদের কি বাধ্যবাধকতা আছে?”

    অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের বক্তব্য

    এই ঘটনার পর (Motivated Campaign) অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের ওই দল চিঠিতে বলেন, হিংসা ও নিপীড়ন থেকে পালিয়ে আসা মানুষদের যখন এমন বক্তব্যের মুখোমুখি হতে হয় যা তাদের মর্যাদাকে অস্বীকার করে, তখন তা সংবিধানের মূল মূল্যবোধকে বিপন্ন করে এবং আদালতকে দুর্বল মানুষের আশ্রয়স্থল হিসেবে জনগণের আস্থা নষ্ট করে। তাঁরা প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানান, আদালতে মন্তব্যের মাধ্যমে মানব মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দাঁড়ানো সংবিধানিক নৈতিকতার প্রতি তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করতে (Rohingya Remarks)।

    পাল্টা জবাব

    এরই জবাবে অবসরপ্রাপ্ত আর একদল অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বলেন, আদালতের কাজকর্ম ন্যায্য ও যুক্তিনিষ্ঠ সমালোচনার জন্য সবসময়ই উন্মুক্ত, কিন্তু বর্তমান আলোচনা নীতিনিষ্ঠ মতভেদের অনেক দূরে। চিঠিতে বলা হয়, “এই আলোচনার উদ্দেশ্য সাধারণ আদালতের প্রশ্নোত্তরকেও পক্ষপাতদুষ্ট বলে আখ্যা দিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে অযথা অগ্রাহ্য করা। প্রধান বিচারপতিকে শুধু একটি মৌলিক আইনি প্রশ্ন তোলার জন্যই নিশানা করা হচ্ছে, আইন অনুযায়ী সেই মর্যাদা দিয়েছেন যেটি আদালতে দাবি করা হচ্ছে?” চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে বেঞ্চ খুব স্পষ্টভাবে বলেছিল, ভারতীয় ভূখণ্ডে থাকা কোনও মানুষ, সে তিনি (Motivated Campaign) নাগরিকই হোন বা বিদেশি, তাঁকে কখনওই নির্যাতন, নিখোঁজ বা অমানবিক আচরণের শিকার হতে দেওয়া যাবে না, এবং সবার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে। অথচ সমালোচকরা এই বক্তব্য সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছেন।

    ভারতীয় আইনে শরণার্থী

    ওই চিঠিতেই বলা হয়েছে, “রোহিঙ্গারা ভারতীয় আইনে শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করেনি। তাদের কোনও আইনি শরণার্থী-সুরক্ষা কাঠামোর মাধ্যমে দেশে ঢোকানো হয়নি। অনেকেই অনিয়মিত বা অবৈধভাবে দেশে এসেছে, এবং শুধু দাবি করলেই সেই অবস্থাকে আইনি স্বীকৃত ‘শরণার্থী’ মর্যাদায় রূপান্তর করা যায় না।” চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ভারত ১৯৫১ সালের রাষ্ট্রসংঘ শরণার্থী কনভেনশন বা তার ১৯৬৭ প্রোটোকলের স্বাক্ষরকারী নয়। তাই যে কোনও ব্যক্তির প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতা আসে সংবিধান, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন আইন এবং সাধারণ মানবাধিকার নীতিমালা থেকে কিংবা কোনও আন্তর্জাতিক চুক্তি থেকে, যা ভারত গ্রহণ করেনি (Rohingya Remarks)।”

    রোহিঙ্গারা কীভাবে আধার কার্ড পেল

    অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী কিছু রোহিঙ্গা কীভাবে আধার কার্ড, রেশন কার্ড-সহ ভারতীয় নথিপত্র পেয়ে গিয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, “এসব নথি শুধু নাগরিক বা বৈধ বাসিন্দাদের জন্য। এদের অপব্যবহার দেশের পরিচয় ও কল্যাণব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং সম্ভাব্য যোগসাজশ, জালিয়াতি ও সংগঠিত চক্র সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে (Motivated Campaign)।”

    চিঠির আরও বক্তব্য

    চিঠিতে এও বলা হয়েছে যে মায়ানমারে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। দীর্ঘকাল ধরে তারা সেখানে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তাদের নাগরিকত্ব নিয়েও বিরোধ রয়েছে। এমতাবস্থায় সংবিধানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গিকে অমানবিক বলে উপস্থাপন করা প্রধান বিচারপতির প্রতি অবিচার, এবং বিচারব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর। জাতীয়তা, অভিবাসন, নথিপত্র বা সীমান্ত নিরাপত্তা সম্পর্কে যে কোনও প্রশ্ন তোলা যদি পক্ষপাতের অভিযোগে রূপান্তর করা হয়, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিপদের মুখে পড়বে (Rohingya Remarks)। শেষে অবশ্য চিঠিতে সুপ্রিম কোর্ট ও প্রধান বিচারপতির প্রতি পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করা হয়েছে এবং আদালতের বক্তব্যকে বিকৃত করা বা মতভেদকে ব্যক্তিগত আক্রমণে পরিণত করার চেষ্টার নিন্দাও জানানো হয় (Motivated Campaign)।

  • Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    Delhi Red Fort Blast: দিল্লিতে বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল উমর! দাবি এনআইএ-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লালকেল্লার কাছে গাড়ি-বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে কাশ্মীরের জঙ্গলে বোমার পরীক্ষা করেছিল দিল্লিকাণ্ডের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর নবি! এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি এনআইএ-র। এই মামলায় ধৃতদের জেরা করে এমনটাই জানা গিয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই ধৃতদের নিয়ে অনন্তনাগ জেলায় গিয়ে পরীক্ষার জায়গায় চিরুনি তল্লাশি করে বেশ কিছু সামগ্রী পেয়েছেন গোয়েন্দারা। এদিকে, দিল্লির লালকেল্লার ঘটনায় অষ্টম সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। জানা গিয়েছে, তার নাম বিলাল নাসের মাল্লা। ধৃত পেশায় একজন চিকিৎসক। থাকেন দিল্লিতে। আদতে, জম্মু ও কাশ্মীরের বারামুল্লার বাসিন্দা। তদন্তকারীদের দাবি, বিলাল নাসের মাল্লা ডক্টর্স টেরর মডিউল বা হোয়াইট কলার টেরর মডিউল নেটওয়ার্কের অন্যতম সদস্য। আত্মঘাতী জঙ্গি উমরকে সে লুকোতে সাহায্য করেছিল।

    কে এই চিকিৎসক বিলাল নাসের মাল্লা?

    লালকেল্লা বিস্ফোরণকাণ্ডে মঙ্গলবার দিল্লি থেকে এনআইএ বিলাল নাসের মাল্লাকে গ্রেফতার করেছে। লালকেল্লা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্রে বিলালের জড়িত থাকার বিষয়টি এনআইএ নিশ্চিত করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, লালকেল্লায় বিস্ফোরণ ঘটানো চিকিৎসক আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমরের সহযোগী ছিল চিকিৎসক মাল্লাও। এমনকী উমরকে আশ্রয় দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এনআইএ তদন্ত অনুসারে, বিলাল জেনেশুনে মৃত অভিযুক্ত উমর উন নবিকে লজিস্টিক (থাকা-খাওয়া) সহায়তা দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ নষ্ট করারও অভিযোগ রয়েছে। এনআইএ জনিয়েছে, প্রকৃত ষড়যন্ত্র ও আসামিদের পরিচয় গোপন করতে প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেছিল বিলাল।

    দিল্লি বিস্ফোরণের ঘটনায় ধৃত ৮

    গত ১০ নভেম্বর সেই বিস্ফোরণ ঘটেছিল। মৃত্যু হয়েছিল ১৫ জনের। কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। মামলাটির তদন্ত করছে এনআইএ। ওই মামলায় যুক্ত সন্দেহে এর আগে আল ফালাহ্ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের দুই চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন সঈদ ও আমির রশিদ আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ। গ্রেফতার করা হয় বিলালি মসজিদের ইমাম মহম্মদ আসিফ ও ইলেক্ট্রিশিয়ান নজর কামালকে। সবার আগে, ফরিদাবাদ টেরর মডিউল ফাঁস করার সময় গ্রেফতার করা হয়েছিল দুই চিকিৎসক আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে। মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। বিলাল নাসের মাল্লা হল অষ্টম গ্রেফতারি। এই নেটওয়ার্কের বাকি সদস্যদের খোঁজে উপত্যকা জুড়ে জোরদার তল্লাশি চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।

    অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা উমরের

    এদিকে, বিস্ফোরণকাণ্ডের তদন্তে, আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পেয়েছে এনআইএ। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, দিল্লিতে বিস্ফোরণের আগে জম্মু ও কাশ্মীরের অনন্তনাগের জঙ্গলে বোমা পরীক্ষা করেছিল আত্মঘাতী চিকিৎসক-জঙ্গি উমর মহম্মদ ওরফে উমর-উন-নবি। পরীক্ষা সফল হওয়ার পর দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হয় সেই বোমা। তদন্তকারী সংস্থা সূত্রের খবর, মঙ্গলবার আদিল রাথর এবং জসির বিলাল ওয়ানিকে সঙ্গে নিয়ে আনন্তনাগের জঙ্গলে যায় জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ, সিআরপিএফ এবং এনআইএ-র তদন্তকারীরা। বোমার পরীক্ষা করার জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়। তদন্তকারীরা বোমা পরীক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত বেশ কিছু উপাদান উদ্ধার করেছেন। তদন্তকারী ওই সূত্রের খবর, তল্লাশি অভিযানের সময় একটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্যাস সিলিন্ডার উদ্ধার হয়েছে। তা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, বোমার পরীক্ষার জন্য এই গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয়েছিল। অননন্তনাগের বিভিন্ন জঙ্গলেও তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

  • Microsoft: এশিয়ায় সব চেয়ে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ভারতকে দিল মাইক্রোসফট

    Microsoft: এশিয়ায় সব চেয়ে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ভারতকে দিল মাইক্রোসফট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এশিয়ায় এ পর্যন্ত সব চেয়ে বড় বিনিয়োগ ভারতেই করার প্রতিশ্রুতি দিল মাইক্রোসফট (Microsoft)। লগ্নির পরিমাণ ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ কথা জানান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংস্থার সিইও সত্য নাদেলা। তিনি বলেন, “ধন্যবাদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ,(PM Modi), ভারতের এআই সুযোগ নিয়ে মূলক আলোচনার জন্য। দেশের আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করতে মাইক্রোসফট ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করছে। এটি এশিয়ায় আমাদের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। এটি ভারতের এআই প্রথম ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, দক্ষতা এবং সার্বভৌম সক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য (Microsoft)

    নাদেলার সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর যারপরনাই খুশি প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এআইয়ের ক্ষেত্রে বিশ্ব ভারতের প্রতি আশাবাদী! সত্য নাদেলার সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এশিয়ায় মাইক্রোসফটের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে ভারতকে দেখতে পেয়ে আমি আনন্দিত। ভারতের যুব সমাজ এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন করবে এবং একটি উন্নত বিশ্ব গড়তে এআইয়ের শক্তিকে ব্যবহার করবে (Microsoft)।”

    কী বলল মাইক্রোসফট

    বৈঠকের কিছুক্ষণ পরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মাইক্রোসফট জানিয়েছে, ভারতে সংস্থার ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আগের ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা—যা আগামী দু’বছরে বেঙ্গালুরুতে ক্লাউড এবং এআই পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ব্যয় করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন ডেটা সেন্টার স্থাপন। এর ফলে কোম্পানির ভারতে সর্ববৃহৎ হাইপারস্কেল উপস্থিতি নিশ্চিত হবে। ওই বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে, “ভারত তার এআই যাত্রার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এমন এক সময়, যা বৃহৎ মাত্রায় প্রভাব সৃষ্টির জন্য এবং নেতৃত্ব দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পে পরিপূর্ণ। প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক রূপান্তরের অনুঘটক হয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে দেশটি এক অগ্রগামী এআই রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আজ আমরা এশিয়ায় আমাদের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ, চার বছরে ১৭.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার লগ্নির কথা ঘোষণা করছি।”

    লগ্নির পরিমাণ

    উল্লেখ্য, চার বছরে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ মাইক্রোসফটের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরির প্রতিযোগিতায় বৈশ্বিক সফটওয়্যার জায়ান্টদের কাছে ভারত একটি অত্যন্ত মূল্যবান বাজার (Microsoft)। অক্টোবর মাসেই গুগলের প্রধান সুন্দর পিচাই জানিয়েছিলেন, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এআই কেন্দ্র স্থাপনের কথাও বলেছেন। এটি ভারতে সংস্থাটির এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। গুগল আদানি গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বে বিশাখাপত্তনমে একটি ডেটা সেন্টার ও (PM Modi) এআই বেস নির্মাণ করছে, যা হবে আমেরিকার বাইরে তাদের সব চেয়ে বড় কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছরে ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছে (Microsoft)।

  • UPI: ইউপিআই বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা, বলছে আইএমএফ

    UPI: ইউপিআই বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা, বলছে আইএমএফ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইউপিআই (ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস) (UPI) বিশ্বের সব চেয়ে বড় খুচরো ফাস্টপেমেন্ট ব্যবস্থা। আইএমএফ (আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল) (IMF Report) ২০২৫ সালের ‘গ্রোয়িং রিটেল ডিজিটাল পেমেন্টসে’র রিপোর্টেই এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের রিপোর্ট “প্রাইম টাইম ফর রিয়েল-টাইম” উল্লেখ করেছে যে, ইউপিআই বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট লেনদেনের প্রায় ৪৯ শতাংশ পরিচালনা করে। এটিই এর বিশ্বব্যাপী দ্রুত-পরিশোধ ব্যবস্থার শীর্ষে অবস্থান নিশ্চিত করে।

    আন্তর্জাতিক রিয়েল-টাইম পেমেন্ট (UPI)

    এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, আন্তর্জাতিক রিয়েল-টাইম পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মগুলির অবস্থা। ব্রাজিলের লেনদেন ৩৭.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১৪ শতাংশ মার্কেট শেয়ার নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড, লেনদেনের পরিমাণ ২০.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের বিচারে ৮। চতুর্থ স্থানে রয়েছে চিন, লেনদেনের পরিমাণ ১৭.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের হিসেবে ৬। দক্ষিণ কোরিয়ার লেনদেনের পরিমাণ ৯.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, শতাংশের হিসেবে ৩। বিশ্বের আর বাকি দেশগুলির লেনদেনের পরিমাণ ২০ শতাংশ।

    ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার

    ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইউপিআই-সহ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI) এবং ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। এই পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে কম-মূল্যের বিএইচআইএম-ইউপিআই লেনদেনকে উৎসাহিত করার জন্য ইনসেনটিভ প্রোগ্রাম, এবং পেমেন্টস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (PIDF), যা ব্যাঙ্ক এবং ফিনটেক কোম্পানিগুলিকে অনুদান দেয় (IMF Report)। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত পিআইডিএফের আওতায় এই অঞ্চলে প্রায় ৫.৪৫ কোটি ডিজিটাল টাচপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসেবে, মোট ৫৬.৮৬ কোটি কিউআর কোড প্রায় ৬.৫ কোটি ব্যবসায়ীর মধ্যে বিলি করা হয়েছে (UPI)।

    মন্ত্রীর বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী লোকসভার এক প্রশ্নের উত্তরে জানান, ‘প্রাইম টাইম ফর রিয়েল-টাইম’ ২০২৪ শীর্ষক এসিআই ওয়ার্ল্ডওয়াইডের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউপিআই বিশ্বব্যাপী রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেমের তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে, যার বাজার অংশীদারিত্ব ৪৯ শতাংশ এবং লেনদেনের পরিমাণ ১২৯.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রসঙ্গত, ইউপিআই হল ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন দ্বারা তৈরি একটি তাৎক্ষণিক রিয়েল টাইম পেমেন্ট সিস্টেম, যা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মধ্যে সহজে ও দ্রুত টাকা লেনদেন করতে সাহায্য করে (IMF Report)। এটি আরবিআই দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং আইএমপিএস কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি এবং ব্যক্তি থেকে মার্চেন্ট লেনদেন সম্ভব করে তোলে। এর মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান বা ইউপিআই আইডি ব্যবহার করে লেনদেন করা যায়। বর্তমানে ইন্টারনেট ছাড়াও বা বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতেও এটি ব্যবহার করা যাচ্ছে(UPI)  ।

    প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতের সব চেয়ে জনপ্রিয় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম হল ইউপিআই। ২০১৬ সালে এনপিসিআই এই প্রযুক্তি চালু করে। ইউপিআইয়ের বৈশিষ্ট্য হল, এটি বিভিন্ন ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট অ্যাপগুলিকেত একটি একক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করে, যার ফলে লেনদেন অত্যন্ত সহজ।

  • Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    Vande Mataram: “বন্দে মাতরমকে টুকরো টুকরো করেছিলেন পণ্ডিত নেহরু, তখন থেকেই তোষণ”, তোপ অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে সংসদে চলছে বিশেষ আলোচনা পর্ব। সোমবার সূচনা ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন রাজ্যসভায় ভাষণ দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “বঙ্কিমের গানের ভিত্তিভূমি ছিল ভারতের আধ্যাত্মিক ও সংস্কৃতি রাষ্ট্রভক্তি। দেশকে মা বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন। ব্রিটিশরা যখন বিদেশী সংস্কৃতিকে আমদানি করেছিল সেই সময় বঙ্কিমচন্দ্র ‘জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী’ মন্ত্রের জাগরণ ঘটান। গানে যদুনাথ ভট্টাটার্যের সুর দেওয়ারও ১৫০ বছর হয়েছে।” একই ভাবে লোকসভায় তিনি সোজাসুজি কংগ্রেসকে তোপ দেগে বলেন, “যে গান গাইলে ব্রিটিশরা ভারতীয়দের বন্দি করত, ১৯৭৫ সালে সেই বন্দে মাতরম গান গেয়েই প্রচুর লোককে জেলে ঢুকিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। তাই যাঁরা গানের গুরুত্ব বুঝবেন তাঁদের আত্ম সমালোচনা করা উচিত।”

    দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন (Vande Mataram)

    রাজ্যসভায় বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের সর্বভারতীয় জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “একথা সত্য বঙ্কিমচন্দ্র পরাধীন ভারতের বঙ্গভূমিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আনন্দমঠের উৎপত্তিও বঙ্গভূমিতেই। গান প্রকাশিত হওয়ার বছর ত্রিশের মাথায় সারা দেশব্যাপী বিরাট আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। এমনকি, দেশের বাইরেও এই গান ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও বন্দে মাতরম গান সমান ভাবে প্রাসঙ্গিক। আমাদের সেনা বাহিনী যেকোনও অভিযানে এই মন্ত্র উচ্চারণ করে থাকেন। এমনকি কোনও সেনা নিহত হলেও বন্দেমাতরম গানে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়।”

    আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ

    বন্দে মাতরম (Vande Mataram) গানের আলোচনার প্রাসঙ্গিতাকে তুলে ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসের পক্ষে থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে লোকসভায়। অভিযোগ, সামনেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট তাই ইতিহাসকে প্রাসঙ্গিক করে তোলা হচ্ছে। কিন্তু রাজ্যসভায় বিরোধীদের অভিযোগকে তুলোধনা করে অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “বন্দে মাতরম স্বাধীনতার সময়ে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল বর্তমান সময়েও একই ভাবে প্রাসঙ্গিক। কেউ কেউ বাংলার ভোটের সঙ্গে যুক্ত করে গানের গুরুত্বকে ছোট করছেন। ভারতের এই সংসদ বিভিন্ন ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী বহন করে চলেছে। এবার বন্দে মাতরম গানকে চিরস্মরণীয় করতে এই আলোচনা। আগামী প্রজন্মকে আধ্যাত্মিক রাষ্ট্রবাদের পাঠ দিতে এই গানের বিরাট ভূমিকা পালন করবে।”

    স্বাধীনতার মন্ত্র

    অমিত শাহ ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম খারাপ দিক সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে তোপ দেগে বলেন, “ব্রিটিশ শাসনে শুধু রাজনৈতিক আগ্রাসন ছিল না, এক নতুন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল তৈরি করতে চেয়েছিল। আর সেই সময় ভারতীয় সংস্কৃতির ঢাল হয়ে বঙ্কিম রচনা করেন বন্দে মাতরম। তবে তখনকার সময়ে কোনও সামাজিক মাধ্যম ছিল না। শাসকরাও ব্যাপক বাধা দিয়েছিল। এই গান মন্ত্ররূপে সমস্ত জনমানসের মনকে স্পর্শ করে শিহরিত করে তুলেছিল। তাই কীভাবে ভারত মায়ের মুক্তির স্লোগান হয়ে উঠেছিল তাও আগামী প্রজন্মের মানুষকে জানতে হবে। স্বাধীনতার মন্ত্র ছিল এই গান (Vande Mataram)।”

    তবে এই বঙ্কিমচন্দ্রের গানকে চরম আঘাত হেনেছিল কংগ্রেস নেতৃত্ব। বন্দে মাতরম গানের যখন সুবর্ণজয়ন্তী সেই সময় পণ্ডিত নেহরু গানকে দুই ভাগে ভাগ করে দিয়েছিলেন। গানের শব্দ বুঝতে অভিধানের ব্যবহার করতে হয়েছিল। নেহরু সাফ জানান গানে হিন্দু দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে তাই মুসলিম সমাজের জন্য পরিপন্থী। অমিত শাহ বলেন, “গানকে দ্বিখণ্ডিত করেছিলেন জওহরলাল নেহরু। গানের মহিমাকে ক্ষুণ্ণ করেছে কংগ্রেস। সেখান থেকেই শুরু তোষণ, আর তার পরবর্তীতে হয় দেশভাগ।”

    দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গা তিন রূপই ভারত

    ১৯৭৫ সালে কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। গানের যখন শতবর্ষ পূর্ণ হয় সেই সময় দেশে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন তিনি। বন্দে মাতরম (Vande Mataram) স্লোগান দেওয়া, গান গাওয়া ভারতীয়দের জেলে ভরে ছিলেন। এই গানের সঙ্গে কংগ্রেসের কোনও কালেই আত্মিকতা ছিল না। তাই অমিত শাহ (Amit Shah) বলেন, “আমাদের দেশ অনন্য অসাধারণ। ভারত একমাত্র এমন দেশ যে দেশের সীমান্ত সংস্কৃতি দিয়ে ঘেরা। আমাদের দেশের প্রত্যেক মানুষ এক সুতোতে গাঁথা রয়েছে। আর তাই একতার প্রতীক বন্দে মাতরম। বঙ্কিমবাবু একবার চিঠি লিখে বলেছিলেন আমার সব সাহিত্যকে গঙ্গায় ভাসিয়ে দিলেও কোনও অসুবিধা নেই। কেবলমাত্র বন্দে মাতরম গান অনন্তকাল ধরে চলবে। এই গানকে ঋষি অরবিন্দ বলেছিলেন নতুন ধর্মমত। ভারত আবার পুনঃনির্মিত হবে। বঙ্কিমের স্বপ্ন স্বার্থক হয়েছিল। ভারত শুধু কয়েক হাত জমি নয়, ভারত ভূমি হল মায়ের স্বরূপা। দেবী সরস্বতী, লক্ষ্মী, দুর্গার তিন রূপই ভারত মাতা। আমাদের সমৃদ্ধি, সুরক্ষা, জ্ঞান সবটাই ভারত মায়ের কৃপা। বিরাট সংকল্প ছিল ভারতের এই গানে।”

  • PM Modi Advised NDA: দেশ এখন ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ পর্যায়ে! জনসাধারণের জীবনকে সহজ করতে সাংসদদের বিশেষ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    PM Modi Advised NDA: দেশ এখন ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ পর্যায়ে! জনসাধারণের জীবনকে সহজ করতে সাংসদদের বিশেষ নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ এখন পূর্ণমাত্রায় ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। মঙ্গলবার এনডিএ সংসদীয় সদস্যদের (PM Modi Advised NDA) সঙ্গে বৈঠকে এই কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দ্রুত, উদ্দেশ্যনিষ্ঠ এবং নাগরিককেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই এই পর্যায়ের মূল বৈশিষ্ট্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারের সংস্কার উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি বা রাজস্ব বাড়ানো নয়; মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করা। ইন্ডিগো বিপর্যয়ের আবহে সংসদের উদ্দেশে মোদি বলেন, ‘নিয়ম মানুষের ভালোর জন্য, হেনস্তার জন্য নয়।’

    জনসাধারণের জীবন সহজ করুন

    এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠক বসে মঙ্গলবার। এনডিএ সংসদীয় দলের (NDA Parliamentary Party Meet)  এই বৈঠকে একাধিক পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি বিহার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানান এনডিএ সাংসদরা। এই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, “বিহার বিধানসভা নির্বাচনে এনডিএ-র জয়ের জন্য সকল এনডিএ নেতারা প্রধানমন্ত্রী মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি সমস্ত এনডিএ সাংসদকে তাঁদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার জন্য কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। জনসাধারণের জীবনযাপন সহজ করতে এবং তাঁদের যাতে কোনও সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয় তা নিশ্চিত করার জন্য সকল ক্ষেত্রে সংস্কারের উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সাংসদদের যুব সমাজের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের আহ্বানও জানান। এই নির্দেশনার জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এনডিএ সংসদীয় দলের এটি একটি খুব ভালো বৈঠক ছিল।”

    আইন মানুষের সুবিধার জন্য

    সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানান, এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে (PM Modi Advised NDA) বার্তা দিয়েছেন মোদি। কিরেন বলেন, “মানুষের যাতে দুর্ভোগ না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। নিয়মবিধি যা রয়েছে, তা সবই ভালো। কিন্তু এই সব নিয়মবিধি বানানো হয় গোটা ব্যবস্থাকে আরও ভালো করার জন্য। মানুষকে হেনস্তা করতে নয়।” কিরেনের সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রী খুব স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, এমন কোনও নিয়মকানুন থাকা উচিত নয়, যার কারণে মানুষের সমস্যা হতে পারে। আইন মানুষের সুবিধার জন্য, বোঝা হওয়ার জন্য নয়।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্ডিগো বিপর্যয়ের আবহে এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে এই বার্তার মধ্য দিয়ে আদতে মোদি প্রকারান্তরে বুঝিয়ে দিলেন, আইনকানুনে কোনও ভুল নেই। ভুল সেই সব আইনকানুনের প্রয়োগে হয়েছে।

    আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করুন

    সংসদীয় সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রী এনডিএ সাংসদদের (NDA Parliamentary Party Meet) বলেন, “নাগরিকদের প্রতিদিনের সমস্যাগুলো দূর করাই আমাদের লক্ষ্য, যাতে তারা নিজেদের পূর্ণ সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে পারেন।” মোদি অনুরোধ করেন, বাস্তবিক পর্যায়ে মানুষ যে সমস্যাগুলো সাংসদদের কাছে তুলে ধরছেন, সেগুলো যেন দ্রুত সরকারের নজরে আনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দীর্ঘ ফরম পূরণ, বারবার একই নথি জমা দেওয়ার মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতেই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানুষের দরজায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং বিভিন্ন দফতরে একই তথ্য বারবার জমা দেওয়ার প্রয়োজন দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।

    যুব সমাজের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে জোর

    প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সেবা ও প্রকল্পে স্ব-প্রত্যয়ন (self-certification) চালুর সিদ্ধান্ত ছিল নাগরিকদের ওপর সরকারের আস্থার বহিঃপ্রকাশ—এবং গত দশ বছরে এর অপব্যবহার নগণ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইজ অব লিভিং এবং ইজ অব ডুয়িং বিজনেস—উভয়ই সরকারের নীতির কেন্দ্রবিন্দু। চলমান সংস্কারগুলো শাসনব্যবস্থাকে আরও দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারে সুবিধা পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে। রিজিজুর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বৈঠকে বিহারসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়নমূলক কাজে কীভাবে এগোতে হবে, সে বিষয়ে দিকনির্দেশও প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দেশের আইন যাতে মানুষের কাজে লাগে, সে ভাবে সকলকে কাজ করতে হবে। দেশের নাগরিকেরা যাতে কোনও সমস্যার সম্মুখীন না হন, সে দিকে সাংসদদের নজর দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মোদি। দেশের যুব সমাজের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ তৈরির কথাও শোনা গিয়েছে মোদির মুখে।

    এবার লক্ষ্য বাংলা জয়

    সামনেই ২০২৬ এর নির্বাচন। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal Assembly Election) বিজেপি এবার ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। সূত্রের খবর, এদিন এনডিএর সংসদীয় দলের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন বিহার জয়ের পরবর্তীতে এবার তাদের একমাত্র লক্ষ্য বাংলা জয়। শুধু তাই নয়, তিনগুণ বেশি করে কাজ করার জন্য সাংসদদের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, আগামী ১১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে একটি নৈশভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আর সেখানেই এনডিএর সমস্ত সাংসদদের নিয়ে আগামী দিনের রূপরেখা সংক্রান্ত বার্তা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

  • India China Relation: অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাকে হেনস্থা, ফের একবার চিনকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

    India China Relation: অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দাকে হেনস্থা, ফের একবার চিনকে কড়া বার্তা নয়াদিল্লির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের একবার চিনকে কড়া বার্তা দিল নয়াদিল্লি (India China Relation)। সোমবার ভারতের বিদেশমন্ত্রক কড়াভাবে বেজিংকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সম্প্রতি সাংহাই বিমানবন্দরে অরুণাচল প্রদেশের এক মহিলাকে যেভাবে হয়রান করা হয়েছে (MEA), সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যে হবে না, সে ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়া হোক। ভারতের তরফে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে এমন একটা সময়ে, যখন ট্রানজিটে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের ওপর ইচ্ছেমতো তল্লাশি এবং খারাপ আচরণ ক্রমেই বাড়ছে। প্রসঙ্গত, সাংহাই বিমানবন্দরে ভারতের অরুণাচল প্রদেশের এক মহিলাকে হয়রানির ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরেই চিনকে কড়া বার্তা দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেশ।

    রণধীর জয়সওয়ালের বক্তব্য (India China Relatio)

    বিদেশমন্ত্রকের তরফে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা আশা করি চিনা কর্তৃপক্ষ ভারতীয় নাগরিকদের, যাঁরা চিনা বিমানবন্দর দিয়ে ট্রানজিট করছেন, তাঁদের কোনও রকম বাছাই করে টার্গেট করা, ইচ্ছে মতো আটক করা বা হয়রান করা হবে না এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথ ভ্রমণের নিয়মগুলিকেও চিনের পক্ষ থেকে মান্যতা দিতে হবে।” তিনি বলেন, “আমরা বহুবার বলেছি যে অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল, আছে এবং থাকবে। শুধু তাই নয়, আমরা এতে কোনও ধরনের হস্তক্ষেপ চাই না।” চিন-ভারত সম্পর্ক প্রসঙ্গে জয়সওয়াল বলেন, “এই সম্পর্ক ধীরে ধীরে ইতিবাচক দিকের দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং আমরা চাই এটি সেই দিকেই এগিয়ে চলুক।”

    ভারতীয় নাগরিকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ

    এদিকে, বিদেশমন্ত্রক ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশিকাও জারি করেছে। জয়সওয়াল বলেন, “চিন ভ্রমণ বা দেশটি হয়ে ট্রানজিট করার সময় ভারতীয় নাগরিকদের যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।” বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, প্রেমা ওয়াংজম থংডক নামে অরুণাচল প্রদেশের এক মহিলা, যিনি কর্মসূত্রে ব্রিটেনে থাকেন, তাঁকে আটক করার খবর পেয়ে ভারতের তরফে বেজিং এবং নয়াদিল্লিতে অবস্থিত চিনা দূতাবাসের কাছে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। যদিও চিনের নিয়ম অনুযায়ী তিনি ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধার যোগ্য ছিলেন, তবুও তাঁকে যাত্রাবিরতির সময় আটক করা হয়। জয়সওয়াল বলেন, “আমরা বলতে চাই যে অরুণাচল প্রদেশ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ, এবং এটি একটি স্বতঃসিদ্ধ সত্য। চিনের পক্ষ থেকে যত অস্বীকারই করা হোক না কেন, এটি অকাট্য সত্য যে বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয় (India China Relation)।”

    আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সম্পর্কিত কনভেনশন লঙ্ঘন

    বিদেশমন্ত্রকের মতে, বৈধ পাসপোর্টধারী ওই ভারতীয় নাগরিককে জাপানে যাওয়ার পথে সাংহাই বিমানবন্দরে আটক করা হয় (MEA)। ভারতের দাবি, চিনা কর্তৃপক্ষের এহেন আচরণ ভিত্তিহীন এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নীতি লঙ্ঘন করে। জয়সওয়াল বলেন, “এই বিষয়টি চিনের সামনে কঠোরভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল সম্পর্কিত বহু কনভেনশন লঙ্ঘন করার পরেও চিনা কর্তৃপক্ষ এখনও তাঁদের কার্যকলাপের ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।” তাঁর মতে, চিনের এই পদক্ষেপ তাদের নিজেদের ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট নীতির বিরোধী। বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে জানিয়েছে, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করে। জয়সওয়াল বলেন, “অরুণাচল প্রদেশের এক ভারতীয় নাগরিককে জড়িয়ে চিনের ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া গড়ে তোলার প্রচেষ্টার পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে (India China Relation)।”

    স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ

    বিদেশমন্ত্রক সতর্ক করে বলেছে যে, এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ককে দুর্বল করে। জয়সওয়াল বলেন, “চিন কর্তৃক অরুণাচল প্রদেশের একজন ভারতীয় নাগরিককে জড়িয়ে নেওয়া এই স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপ উভয় পক্ষের পারস্পরিক বিশ্বাস ও বোঝাপড়া গড়ে তোলার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে (MEA)।” যদিও ভারতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে চিন। বেজিং-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে চিনা বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সুরক্ষিত ছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” এই আটক কিংবা হয়রানির অভিযোগ নাকচ করে দেন তিনি।

    প্রসঙ্গত, ব্রিটেন প্রবাসী অরুণাচল প্রদেশের ওই মহিলা তাঁর দীর্ঘ দুর্ভোগের গল্প তুলে ধরে দাবি করেন, চিনা ইমিগ্রেশন কর্তারা তাঁর ভারতীয় পরিচয় নিয়ে উপহাস করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে সাংহাই ও বেইজিংয়ে ভারতীয় দূতাবাসের হস্তক্ষেপের পর (India China Relation)।

  • PM Modi on Vande Mataram: “মমতা কিছুই করেননি, মোদিজির কাছে কৃতজ্ঞ”, বন্দে মাতরম নিয়ে অকপট বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র

    PM Modi on Vande Mataram: “মমতা কিছুই করেননি, মোদিজির কাছে কৃতজ্ঞ”, বন্দে মাতরম নিয়ে অকপট বঙ্কিমচন্দ্রের প্রপৌত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘অবহেলা করার’ অভিযোগ তুললেন তাঁরই প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বার্ষিকী উদযাপন -এর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi on Vande Mataram) তাঁর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সজল। তাঁর কথায়, এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন যে দিল্লি থেকে যদি কেউ আসেন, যেমন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আধিকারিক, তাঁরা সবসময় পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন, তাঁদের খোঁজখবর নেন এবং ‘বন্দে মাতরম’ গানটিকে প্রচার করার জন্য বিভিন্ন ভাবনাচিন্তা আলোচনা করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের একবারও আমন্ত্রণ জানাননি।

    বাংলায় অবহেলিত বঙ্কিমচন্দ্র

    সোমবার এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় একজন প্রতীকী নাম। তিনি ব্রিটিশদের উপর চাপ তৈরি করে রেখেছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকার (কংগ্রেস) না বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দিয়েছে, না তাঁর কাজকে। এমনকী, ওরা এখনও একই রকম অবহেলা করে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতেই ওরা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম ব্যবহার করেছে। অবশ্য বলে রাখা প্রয়োজন, এখনকার কেন্দ্রীয় সরকার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে গুরুত্ব দেয়। তবে বাংলার সরকার সেই একই রকম রয়েছে।” এ বছরে ‘বন্দে মাতরম’ স্তোত্রর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হচ্ছে। বছরভর জাতীয় সঙ্গীতের মর্যাদা নিয়ে যদুনাথ ভট্টাচার্যের সুরারোপিত এই গানের ১৫০ বছর পূর্তি পালন করা হবে। সোমবারই সংসদে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার ১৫০ বছর উপলক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ আলোচনার সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আবহে বাংলার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে বিঁধলেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র সজল চট্টোপাধ্যায়।

    মুখ্যমন্ত্রীর এটা আগে করা উচিত ছিল

    রাজ্যের বিরুদ্ধে তোপ দাগতে গিয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের তৈরি হওয়া তাঁর ভাল সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সজল। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বরা যে তাঁর মাঝে মধ্যেই খোঁজ নেন সেটাও জানিয়েছেন তিনি। সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০১৮ সালে অমিত শাহ আমাদের কলকাতার বাড়িতে এসেছিলেন। তখন তো এখানে কোনও নির্বাচন ছিল না। তিনি তাও এসেছিলেন। রাজ্য সরকারের মানসিকতা আমি বুঝতে পারি না।” রাজ্য সরকারের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে সজল বলেন, “এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। আমি এর জন্য নরেন্দ্র মোদিকে স্যালুট জানাই। বন্দে মাতরমকে জাতীয় মন্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই মন্ত্রটি জাতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামে জড়িয়ে ছিল। আমার প্রপিতামহের জন্য এখন পর্যন্ত কেউ কিছু করেনি। এমন একটা সময়ে যখন পরবর্তী প্রজন্ম এই (বন্দে মাতরম) গানটি ভুলে যাচ্ছে, তখন মোদিজি যা করেছেন তা খুবই ভালো। আমি গর্বিত বোধ করছি। উনি (মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এখনও পর্যন্ত কিছুই করেননি; ওনার এটা আরও আগে করা উচিত ছিল। উনি মুখ্যমন্ত্রী; এত ক্ষমতা দিয়ে উনি এটা করতেই পারতেন। এই সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চেষ্টাই করা হয়নি।”

    কোনও রাজনৈতিক কারণ নেই

    তিনি জানান যে, তিনি কোনও রাজনৈতিক কারণ দেখাচ্ছেন না, শুধু নিজের সত্যিটা তুলে ধরছেন। তাঁর কথায়, “আমরা রাজনৈতিক মানুষ নই। আমরা রাজনীতি করি না। আমরা শুধু সত্যি কথা বলি।” তিনি বলেন যে তিনি শুধু চান ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে জানুক এবং তাঁর অবদানের মূল্য দিক। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতের প্রথম স্নাতক ছিলেন, কিন্তু দেশে এখনও তাঁর নামে কিছুই নেই। সোমবার বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রপৌত্র বলেন, “আমাদের বঙ্কিম ভবন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় চাই। সংসদে প্রথমে জাতীয় সঙ্গীত বাজে, এটা মৌখিক ভাবে হয়। তারপর ‘বন্দে মাতরম’ বাজে, কিন্তু সেটা হয় শুধু সুরের মাধ্যমে অর্থাৎ ইনস্ট্রুমেন্টাল। আমাদের দাবি, এটাও গাইতে হবে।”

    ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভুলে যাচ্ছে বঙ্কিমচন্দ্রকে 

    দিল্লিতে দেশের আইনসভায় বঙ্কিমচন্দ্রকে নিয়ে এত আলোচনা হলেও লেখকের প্রপৌত্রের অভিযোগ, নিজের রাজ্য অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গেই বঞ্চিত ‘আনন্দমঠের’ লেখক। তাঁর দাবি, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেছেন সেজন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু রাজ্য সরকার বঙ্কিমচন্দ্র বা তাঁর পরিবারকে কোনওদিন উপযুক্ত সম্মান দেয়নি। তা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে লেখকের প্রপৌত্রের আরও দাবি, অনেক লেখক, সাহিত্যিকের নামে রাজ্যে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্য়ালয় রয়েছে। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের নামে কোনও প্রতিষ্ঠান নেই। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর অবদান দেশের এবং রাজ্যের মানুষ ভুলে যাচ্ছে। সাহিত্য সম্রাটের নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করা যায় না?  বঙ্কিম ভবন কোথায়? নেই। অথচ থাকা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার যদি তা করতে উদ্যোগী হয় তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে বন্দেমাতরম কী, কেন লেখা হয়েছিল ইত্যাদি। যদি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, তাহলে সেখানকার পড়ুয়ারাও বঙ্কিম চর্চা করতে পারবেন।

  • Top Maoist Surrender: মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা! ছত্তিশগড়ে ১১ মাওবাদী সহ আত্মসমর্পণ সেন্ট্রাল কমিটির নেতা রামধের মাজ্জির

    Top Maoist Surrender: মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা! ছত্তিশগড়ে ১১ মাওবাদী সহ আত্মসমর্পণ সেন্ট্রাল কমিটির নেতা রামধের মাজ্জির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিষিদ্ধ সংগঠন সিপিআই (মাওবাদী)-র নেতা-কর্মীদের বার বার মূলস্রোতে ফিরে আসার বার্তা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। জানিয়েছেন, দেশকে ২০২৬ সালেই মাওবাদী মুক্ত করবেন। তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য বড় সাফল্য এনে দিল ছত্তিশগড়ের খৈরাগড়–ছুইখাদান–গণ্ডাই জেলা। আত্মসমর্পণ করল মোট ১২ জন মাওবাদী। এদের মধ্যে রয়েছে অন্যতম কুখ্যাত রামধের মাজ্জি, যার মাথার দাম ছিল ১ কোটি টাকা। রামধের সেন্ট্রাল কমিটি সদস্য (CCM)। মাও-বিরোধী অভিযানে বিরাট সাফল্য পেয়েছে মধ্যপ্রদেশও। অস্ত্র থেকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরেছেন মোস্ট ওয়ান্টেড ১০ জন মাওবাদী। যৌথভাবে যাদের মাথার দাম ছিল ২.৩৬ কোটি টাকা। খোদ মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় আত্মসমর্পণ কর্মসূচি।

    ছত্তিশগড়ে আত্মসমর্পণ মাওবাদী নেতাদের

    বকরকাটা থানায় আত্মসমর্পণের এই ঘটনাকে এমএমসি (মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড়) জোনে মাওবাদী নেটওয়ার্কের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে তিন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকা রামধের মাজ্জি তার সহযোগী ডিভিশনাল কমিটি সদস্যদের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে অস্ত্র সমর্পণ করেন। তার সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছে এসিএম রামসিং দাদা এবংএসিএম সুকেশ পোত্তমও। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছয়জন মহিলা মাওবাদীও রয়েছেন—লক্ষ্মী, শীলা, যোগিতা, কবিতা এবং সাগর। এছাড়া ডিভিশনাল কমিটি সদস্য ললিতা ও জানকিও আত্মসমর্পণ করেছে। উল্লেখযোগ্যদের তালিকায় আরও রয়েছেন ডিভিসিএম চান্দু উসেন্দি এবং প্রেম।

    মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো ভাঙার ইঙ্গিত 

    পুলিশ সূত্রে খবর, এই মাওবাদীরা দীর্ঘদিন ধরে মহারাষ্ট্র–মধ্যপ্রদেশ–ছত্তিশগড় বিশেষ জোনাল কমিটির এলাকায় সক্রিয় থাকলেও টানা নিরাপত্তা অভিযান ও সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির চাপে তারা দুর্বল হতে শুরু করে। রামধের মাজ্জির আত্মসমর্পণকে তাই একটি ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। তাদের মতে, তার সিদ্ধান্তের পর এমএমসি জোন কার্যত ভেঙে পড়েছে। বছরের পর বছর ঘন জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করে থাকা মাওবাদীদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান জোরদার হওয়ার ফলে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের অবস্থান দুর্বল হয়েছে। উচ্চপদস্থ মাও নেতাদের এমন বড়মাপের আত্মসমর্পণ মাওবাদী সংগঠনের কাঠামো ভাঙার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

    মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ মাওবাদীদের

    মধ্যপ্রদেশের মান্ডলা জেলাকেও মাওবাদীমুক্ত বলে ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব বলেন, ‘পুনর্বাসন পুনর্জীবন’ প্রকল্পের আওতায় চার মহিলা-সহ মোট ১০ জন মাওবাদী রবিবার বালাঘাটে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরেছেন। এই সাফল্য সুশাসনের শক্তি, পোক্ত আইনি ব্যবস্থা ও উন্নয়নের উপর বিশ্বাসের সুফল।’ একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “মাওবাদীদের স্বাভাবিক জীবনে গত জানুয়ারি মাস থেকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছিল। অবশেষে তাঁরই সুফল মিলেছে। বর্তমানে দিনদোরি এবং মান্ডলা পুরোপুরি মাওবাদীমুক্ত। পাশাপাশি আরও জানান, “সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে হিংসার রাস্তা থেকে যারা ফিরে আসবে, সরকার তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য একাধিক উদ্যোগ নেবে। আর যারা ফিরবে না, তাঁদের জন্য ভয়ংকর কিছু অপেক্ষা করছে।”

    মাওবাদীদের থেকে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র

    জানা যাচ্ছে, যে ১০ জন মাওবাদী এদিন আত্মসমর্পণ করেন তারা মহারাষ্ট্র-মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড় জোনের শীর্ষ মাও-কমান্ডার। এদের যৌথ মাথার দাম ছিল ২ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা। আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছে মোস্ট ওয়ান্টেড কবীর ওরফে সোম। ওই ডিভিশনের সাব-জোনাল কমিটির সেক্রেটারি কবিরের মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন মাও নেতা রাকেশ ওরফে মণীশ। এই নেতারও মাথার দাম ছিল ৬২ লক্ষ। আত্মসমর্পণের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্রও পুলিশের কাছে জমা দেন মাওবাদীরা। যে তালিকায় ছিল, একটি একে-৪৭, দুটি ইনসাস রাইফেল, দুটি সিঙ্গেল শট রাইফেল, একটি সেলফ লোডিং রাইফেল, ৭টি ব্যারেল গ্রেনেড লঞ্চার সেলস, ৫টি ডিটোনেটর, ৪টি ওয়াকিটকি ও ১০০-র বেশি কার্তুজ।

LinkedIn
Share