Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: মহাকুম্ভে গিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন মোদি, স্নান করবেন রাষ্ট্রপতিও

    PM Modi: মহাকুম্ভে গিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন মোদি, স্নান করবেন রাষ্ট্রপতিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পর হচ্ছে মহাকুম্ভ (Mahakumbh)। আবার এই যোগ আসবে ১৪৪ বছর পর। কারণ ১২টি পূর্ণকুম্ভ শেষে হয় একটি মহাকুম্ভ। পূর্ণকুম্ভ হয় ১২ বছর অন্তর। এবার প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভ। গঙ্গা-যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে মহামিলন মেলা। সূত্রের খবর, মহাকুম্ভ উপলক্ষে ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), ৫ ফেব্রুয়ারি। ঘটনাচক্রে এদিনই হবে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন। এর আগে কন্যাকুমারীতে গিয়ে ধ্যানে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধ্যান করেছেন কেদারনাথে গিয়েও। এবার তিনি সারবেন কুম্ভস্নান।

    কুম্ভস্নানে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    চলতি বছর কুম্ভমেলা শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দেশ-বিদেশ থেকে কাতারে কাতারে আসছেন মানুষ, অমৃতস্নান করবেন বলে। পঞ্জিকা মতে, অমৃতস্নানের (একেই আগে শাহি স্নান বলা হত) যোগ পাঁচটি। প্রধানমন্ত্রী যে দিন স্নান করবেন, সেদিন অমৃতস্নানের যোগ নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণে ৫ ফেব্রুয়ারি মেলায় ভিড় কম হবে। পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই এই দিনটিই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ত্রিবেণী সঙ্গমে কে, কবে

    কুম্ভস্নান সেরে নিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ২৭ জানুয়ারি পুণ্যস্নান করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১ ফেব্রুয়ারি কুম্ভস্নানে যাবেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। আর ১০ ফেব্রুয়ারি ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এরই মাঝে ৫ তারিখে কুম্ভস্নান সারবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

    আরও পড়ুন: “চায়ের দোকান খুলুন, চাকরির চেয়ে বেশি রোজগার হবে”, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাস দেড়েকের মেলায় অমৃতস্নানের যোগ রয়েছে পাঁচটি। একটি হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে চারটি। এগুলি হল, ২৯ জানুয়ারি, মৌনী অমবস্যা, ৩ ফেব্রুয়ারি, বসন্ত পঞ্চমী, ১২ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি মহা শিবরাত্রি। এই দিনগুলিতে কয়েক কোটি ভক্ত কুম্ভস্নান করবেন পুণ্যলাভের আশায়। তাই এই দিনগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি অমৃতস্নানে গেলে অসুবিধায় পড়বেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা। বিজেপি সূত্রের খবর, সেই কারণেই অমৃতস্নানের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন সাধারণ একটি দিন। প্রসঙ্গত, প্রতি ছ’বছর অন্তর হয় অর্ধকুম্ভ। প্রয়াগরাজ (Mahakumbh) ছাড়াও সেগুলি হয় হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জ্বয়িনীতে (PM Modi)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

       

  •  NHM: ‘‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন আরও পাঁচ বছর চলবে’’, ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের

     NHM: ‘‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন আরও পাঁচ বছর চলবে’’, ঘোষণা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM) আরও পাঁচ বছর চলবে। এমনটাই জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছেন, ‘‘জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন আরও পাঁচ বছর চলবে।’’ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, গত দশ বছরে এই মিশন স্বাস্থ্যখাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে। ২০২১ এবং ২০২২ সালের মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষ কর্মী জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনে যোগ দিয়েছেন। ভারত এই মিশনের মাধ্যমে কোভিড-১৯ অতিমারির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

    পর্যালোচনা বৈঠক (NHM)

    বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (NHM) বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিগত তিন বছরে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের অগ্রগতি সম্পর্কে এক পর্যালোচনা করা হয়। প্রসঙ্গত, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের বিষয়ে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ করোনা পরিস্থিতির পরে সারা দেশের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কতটা অগ্রগতি হয়েছে এবং কতটা টেকসই হয়েছে, সেই সমস্ত বিষয় নিয়ে এখানে আলোচনা করা হয়। একইভাবে এই বৈঠকেই জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনকে আরও পাঁচ বছর কাজ চালানোর জন্য অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা (Modi Cabinet)। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার ওই বৈঠকের পরে সংবাদমাধ্যমকে জানানো হয়েছে, আগামী ২০৩০ সালের সময়সীমার অনেক আগেই স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ভারত তার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে চলেছে।

    কী জানালেন পীযূষ গোয়েল

    মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ কোয়েল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের (NHM) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে ও মানবসম্পদ সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে। যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে জরুরি অবস্থার মোকাবিলা, এই সমস্ত কিছুতেই নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভারতের জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে এক উন্নত জায়গায় নিয়ে যেতে পেরেছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সামনে যে রিপোর্ট পেশ করা হয় সেখানে দেখা যায় যে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে, জনগণের রোগ নির্মূলের ক্ষেত্র, স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিকাঠামোসহ একাধিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের এমন সাফল্যকে সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

    রিপোর্ট পেশ করা হয় মোদির সামনে 

    ২০২০, ২০২১, ২০২২ বছরগুলিতে ভারতবর্ষে করোনা অতিমারী ব্যাপক আঘাত হানে। এই সময়তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন। পরবর্তীকালে, করোনা টিকা আবিষ্কার হওয়ার পরে দেশের প্রত্যেক নাগরিককে বিনামূল্যে টিকাকরণের কাজও করে তারা। এর ফলে সারা দেশে সহজলভ্য হয়েছে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থা। এর ফলেই স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের গুণগত মান বেড়েছে। উন্নত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্যপরিসেবা এবং এর প্রতিটা ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সভাপতিত্বে এবং সেখানেই জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির বিভিন্ন বছরের যে অগ্রগতির রিপোর্ট সেটি পেশ করা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সামনে। এগুলি ছিল ২০২১-২২, ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের রিপোর্ট এবং প্রতিটিতেই উল্লেখযোগ্যভাবে অগ্রগতি দেখা যায় জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের।

    ২০২১-২২ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ২ লাখ ৬৯ হাজার অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করে

    ওই রিপোর্টগুলিতে দেখা যাচ্ছে যে বিগত বছরগুলিতে মাতৃ মৃত্যুর হার, শিশু মৃত্যুর হার, পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুহার ভালোই কমেছে। এর পাশাপাশি যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ডেঙ্গি, কুষ্ঠ, হেপাটাইটিসের মতো বিভিন্ন রোগগুলিও নির্মূলও করা গিয়েছে। এই সবক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন (NHM)। এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পেরেছে তারা। একইসঙ্গে অ্যানিমিয়া নির্মূল মিশনের মতো নতুন উদ্যোগ সম্পর্কেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে অবহিত করা হয়। প্রসঙ্গত, ২০২১-২২ সালে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ২ লাখ ৬৯ হাজার অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করে, যার মধ্যে ছিল মেডিক্যাল অফিসার, বিশেষজ্ঞ, নার্স, আয়ুষ ডাক্তার।

    ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৪ লাখ ২১ হাজার অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়

    ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে দেখা যাচ্ছে ৪ লাখ ২১ হাজার অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৫.২৩ লক্ষে। প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ২২০ কোটিরও বেশি কোভিড ১৯ টিকা ডোজ পরিচালনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন। ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতি এক লক্ষ জীবিত শিশু জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে মাতৃমৃত্যুর হার ছিল ১৩০। ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সেই হার দাঁড়িয়েছে ৯৭ শতাংশে। 

    রোগ নির্মূল করার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য

    রোগ নির্মূল করার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন। ২০১৫ সালে প্রতি এক লাখ জনসংখ্যায় যক্ষ্মা রোগী ছিল ২৩৭। ২০২৩ সালে তা কমে এসেছে ১৯৫ তে। একই সময়ে প্রতি ১ লাখে যক্ষা রোগের মৃত্যু হত আঠাশ জনের তা বর্তমান সময়ে কমে দাঁড়িয়েছে বাইশে। ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রেও পরিসংখ্যান বেশ ভালোই দেখা যাচ্ছে এবং আগের থেকে মৃত্যুহার অনেক কমেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Uttarakhand: ‘এক দেশ এক আইন’, ২৬ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ডে চালু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, কী কী পরিবর্তন?

    Uttarakhand: ‘এক দেশ এক আইন’, ২৬ জানুয়ারি উত্তরাখণ্ডে চালু হচ্ছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, কী কী পরিবর্তন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আগামী ২৬ জানুয়ারি সারাদেশে পালিত হবে প্রজাতন্ত্র দিবস। ওই দিনই এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতের একটি অঙ্গরাজ্য। উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) ওই দিন থেকে চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রথম রাজ্য হতে চলেছে উত্তরাখণ্ড। যেখানে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বাস্তবায়িত হতে চলেছে। তাই চলতি বছরের প্রজাতন্ত্র দিবস উত্তরাখণ্ডের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটি একটি মাইলস্টোন হিসেবে থেকে যাবে, সে রাজ্যের ইতিহাসে।

    ২০২২ সালে বিজেপির নির্বাচনী আশ্বাস ছিল ইউসিসি (Uttarakhand) 

    ২০২২ সালে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand)। সেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার তৈরি করে বিজেপি। নির্বাচনের পূর্বে গেরুয়া শিবির উত্তরাখণ্ডের জনগণকে আশ্বাস দিয়েছিল যে, ক্ষমতায় এলে সেখানে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করা হবে। এবার নিজেদের দেওয়া সেই আশ্বাসই পূরণ করতে চলেছে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে, রাজ্যের সমস্ত নাগরিকদের জন্য একই আইন চালু হবে। এই অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে কী কী সুবিধা মিলবে এবং এর প্রভাবই বা কী? সে নিয়েই এই প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হল।

    উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) কী কী পরিবর্তন আনবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি?

    ● অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু হলে উত্তরাখণ্ডের সমস্ত ধর্মের জন্য যে ব্যক্তিগত আইন বা পার্সোনাল ‘ল’ গুলি রয়েছে, যেমন- বিবাহ, বিবাহ বিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার আইন, দত্তক আইন, ভরণপোষণ সংক্রান্ত আইন- এই সমস্ত কিছুকেই সংস্কার করা হবে এবং ব্যক্তিগত আইনে বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে সেগুলিকেও নির্মূল করা হবে।

    ● উত্তরাখণ্ড সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, সমস্ত বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ এবং একত্রবাস এই সমস্ত কিছুকে নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রি করা হবে। তথ্য রাখা হবে একটি পোর্টালে। যে পোর্টালটি পরিচালনা করবে উত্তরাখণ্ড সরকার। এ সংক্রান্ত বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে।

    ● যদি কোনও পুরুষ-মহিলা একত্রবাস করতে চান, তাহলে সেক্ষেত্রে একত্রবাসের এক মাস আগে তা রেজিস্ট্রি করাতে হবে। যদি কেউ এই নিয়মকে লঙ্ঘন করেন, তাহলে তাঁদের তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

    ● উত্তরাখণ্ডের এই আইনের মাধ্যমে মহিলাদের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

    ● প্রসঙ্গত, এই আইনের মাধ্যমেই উত্তরাখণ্ডের জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মহিলা তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান উত্তরাধিকার পাবেন।

    ● এই আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হবে বহুবিবাহ প্রথাও। একের বেশি বিয়ে কোনওভাবেই করা যাবে না। যদি তা কেউ করেন তবে তা আইনত দণ্ডনীয়  অপরাধ বলে বিবেচ্য হবে।

    ● এই আইনের মাধ্যমে একত্রবাসের ফলে যদি কোনও শিশু জন্ম নেয়, তাহলে ওই শিশুকে বৈধ বলেই বিবেচনা করা হবে এবং জন্ম নেওয়া শিশু সমানভাবে উত্তরাধিকার পাবে অর্থাৎ তার পৈতৃক সম্পত্তিতে সমান অধিকার পাবে।

    ● একত্রবাস যদি কেউ শেষ করতে চায়, তাহলে ওই একত্রবাসের সঙ্গী এবং সঙ্গিনীকেই সেটি রেজিস্ট্রি করে জানাতে হবে এবং আইনি স্বীকৃতি নিতে হবে। মনে করা হচ্ছে, এর ফলে লিভ-ইন সম্পর্কের ক্ষেত্রে নারীদের অধিকার সুরক্ষিত হবে।

    ● বহুবিবাহ এবং ইদ্দত এরফলে নিষিদ্ধ হতে চলেছে। প্রসঙ্গত, যে সমস্ত মুসলিম মহিলাদের তালাক দেওয়া হয়, তাঁদেরকে একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করানো হয়, এটাকেই বলা হয় ইদ্দত। এই সমস্ত কিছুই এবার বন্ধ হতে চলেছে ইউনিফর্ম সিভিল কোডের মাধ্যমে।

    আইনি প্রক্রিয়া হতে চলেছে সরল

    ● উত্তরাখণ্ডের নাগরিকরা (Uniform Civil Code) অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হলেই, অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের উইল, যে কোনও আপিল বা অভিযোগ জানাতে পারবেন। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।

    ● গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে পঞ্চায়েত কর্মীরাই সাব-রেজিস্টার হিসেবে কাজ করবেন। তাঁরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছেন অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বাস্তবায়নে।

    ● বিভিন্ন নথি যাচাই করার জন্য আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর সাহায্য নেবে উত্তরাখণ্ড সরকার।

    ● একই সঙ্গে গড়ে তোলা হবে কমন সার্ভিস সেন্টার। জানা গিয়েছে, ঘরে ঘরে গিয়ে পরিষেবা প্রদান করবে সরকার।

    ● অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে রাজ্যজুড়ে ব্যাপকভাবে কার্যকর করতে দশ হাজার কর্মীকে প্রশিক্ষণ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তরাখণ্ড সরকার।

    শীর্ষ আদালতের বিচারপতির নেতৃত্বে কমিটি গড়ে সরকার

    প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে নির্বাচনে বিজেপি বিপুল জয় পেতেই শুরু হয় উত্তরাখণ্ডে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) বাস্তবায়ন করার প্রস্তুতি। ২০২২ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুসারে, রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এরপরে ২ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে ওই কমিটি। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে কমিটি ৪০০ পাতার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেয়। প্রসঙ্গত এ সংক্রান্ত প্রস্তাব বিধানসভাতে আগেই উত্থাপন করে বিজেপি।

    ২০২৪ সালে ১৩ মার্চ বিলে সই রাষ্ট্রপতির

    ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি উত্তরাখণ্ড বিধানসভায় উত্থাপন করা হয় ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিল। বিরোধীরা ব্যাপক বাধা সৃষ্টি করে। হইহট্টগোল শুরু করে। বিজেপি সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ঠিক তার পরের দিনই বিলটিকে পাস করানো হয়। ২০২৪ সালে ১৩ মার্চ ওই বিল রাষ্ট্রপতি সই করেন। তখন থেকেই এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাহিলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়। এর পরেই ইউসিসির বাস্তবায়নের জন্য জোর কদমে মাঠে নামে উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার। এবার ২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে সে রাজ্যে বাস্তবায়িত হতে চলেছে ইউসিসি।

    চালু হতে পারে অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যে

    প্রসঙ্গত, বিজেপি এই কারণে উত্তরাখণ্ডকে একটি মডেল রাজ্য হিসেবে সর্বত্র প্রচার চালাচ্ছে। কারণ ভারতবর্ষের প্রথম কোনও রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করতে পারল উত্তরাখণ্ড সরকার। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা ইতিমধ্যেই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করতে শুরু করেছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন যে— অসম, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ সহ বেশ কয়েকটি বিজেপি শাসিত রাজ্যে চালু হতে চলেছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাও অভিন্ন দেওয়ানি বিধিকে খোলাখুলি ভাবে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে, ইউসিসির বাস্তবায়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ!এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের বিজেপি রাজ্য সভাপতি কেশবপ্রসাদ মৌর্য।

    লিঙ্গ বৈষম্য দূর হবে, প্রতিষ্ঠিত হবে নারী অধিকার

    বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা আরও জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যগুলিতে যদি এভাবেই ইউসিসি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে জাতীয় পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন সম্ভব হয়ে উঠবে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কেন গুরুত্বপূর্ণ, এ কথা যখন বিজেপি নেতারা বলছেন তখনই তাঁরা উত্তরাখণ্ডকে একটি মডেল হিসেবে তুলনা করছেন। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞই উত্তরাখণ্ডের অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রশংসা করছেন। কারণ তাঁরা মনে করছেন যে এর ফলে লিঙ্গবৈষম্য দূর হয়। এর ফলে ন্যায়বিচার আরও সহজে আসে এবং জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি প্রশস্ত হবে। অন্যদিকে, বেশ কিছু মৌলবাদী অভিন্ন দেওয়ানি বিধির প্রয়োগের খবর সামনে আসতেই রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে উঠে পড়েছেন। কারণ তাঁদের মতে, এর ফলে বহুবিবাহ এবং বিবাহ বিচ্ছেদের ওপর ইউসিসি প্রভাব ফেলবে। কিন্তু এই সময় দেখা যাচ্ছে নারী অধিকার সংগঠন এবং মানবাধিকারের ওপর যে সমস্ত সংগঠন কাজ করে, সেগুলি ইউসিসির বিধানগুলিকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ, এর ফলে সমানভাবে উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হবে এবং লিভ-ইন সম্পর্কে মহিলারা সুরক্ষিত থাকবেন।

    সমস্ত রাজ্যের নজর উত্তরাখণ্ডের ওপর 

    এখন দেখার গ্রামীণ এলাকাগুলিতে এই ইউসিসি কীভাবে কার্যকর হয়! যদিও উত্তরাখণ্ড (Uttarakhand) সরকার, রাজ্যের সমস্ত পঞ্চায়েতগুলিকেই ইউসিসি কার্যকর করার দায়িত্ব ইতিমধ্যে অর্পণ করেছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার প্রস্তুতি যখন উত্তরাখণ্ডজুড়ে চলছে, তখন ভারতের অন্যান্য অংশগুলিও এর ওপরে গভীরভাবে লক্ষ্য রাখছে। কারণ অভিন্ন দেওয়ানি বিধি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি অধ্যায়। এই আইন সফল হবে নাকি ব্যর্থ! সেই ধারনাই গড়ে উঠবে আগামী ২৬ জানুয়ারির পর থেকে। উত্তরাখণ্ডে এই আইন শুধুমাত্র বিজেপির নির্বাচনী আশ্বাসকেই বাস্তবায়িত করছে না, একইসঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের জন্য সমান অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Mohan Bhagwat: ভারতের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে একতার মধ্যে, মনে করেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: ভারতের শক্তি অন্তর্নিহিত রয়েছে একতার মধ্যে, মনে করেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারতের শক্তি অন্তর্নিহিত হয়ে রয়েছে, তার একতার মধ্যে।” এ কথা বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসংঘচালক ডঃ মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এর পাশাপাশি তিনি জানান, হিন্দু জীবন বোধ এবং হিন্দু ধর্ম জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা দেয়। তাঁর মতে, ‘‘হিন্দু ধর্মই হল যে কোনও সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান।’’ প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সরসংঘচালক এই কথাগুলি বলেন কেরলে। তিনি আরও বলেন, ‘‘আরএসএস-এর (RSS) লক্ষ্য হল হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা। হিন্দু সমাজের মাধ্যমে গোটা জগতের কল্যাণমূলক কাজ করা সম্ভব।’’

    বক্তব্যে উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ (Mohan Bhagwat)

    এদিন তিনি ধর্ম রক্ষার কথাও বলেন। তাঁর মতে, ‘‘যে কোনও অবতারের পক্ষে একা পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি। এটা বলা হয় যে ভগবান তাঁদেরকে রক্ষা করেন না, যাঁরা নিজেদেরকে সাহায্য করেন না। আমরা হলাম ভারত মায়ের সন্তান। যদি আমাদের মা সাহায্যহীনা হন, তাহলে আমাদের কর্তব্য কী? আমাদের প্রয়োজন শক্তির।’’ তিনি (Mohan Bhagwat) আরও বলেন, ‘‘সমস্ত দার্শনিকরা সুখবাদের কথা বলে গিয়েছেন। জাগতিক সুখ ও বস্তুবাদের কথা বলে গিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু এই সমস্ত কিছুতেই সম্পূর্ণ খুশি পাওয়া যায় না। ভারতবর্ষের ক্ষেত্রেও সংঘর্ষ দেখা যাচ্ছে। কৃষকদের সংঘর্ষ। শাসক-বিরোধী সংঘর্ষ। যুদ্ধ লেগেই রয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। অসংখ্য সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এই সমস্ত সমস্যার সমাধান রয়েছে ভারতবর্ষেই।’’

    বিশ্বের কল্যাণের জন্যই ভারতকে আরও শক্তিশালী হতে হবে

    তিনি (Mohan Bhagwat) আরও বলেন, ‘‘গোটা বিশ্বের কল্যাণের জন্যই ভারতকে আরও শক্তিশালী হতে হবে। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যই হল আমাদের ভিত্তি। এই হল সেই ভূমি যেখানে কাশীর গঙ্গার জল দিয়ে পুজো করা হয় রামেশ্বরমে। এই হল পবিত্র শংকরাচার্যের ভূমি। যিনি কালাডিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এবং দেশের চার কোণে চারটি মঠ স্থাপন করেছিলেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: মহাকুম্ভে গিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন মোদি, স্নান করবেন রাষ্ট্রপতিও

    PM Modi: মহাকুম্ভে গিয়ে ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন মোদি, স্নান করবেন রাষ্ট্রপতিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পর হচ্ছে মহাকুম্ভ (Mahakumbh)। আবার এই যোগ আসবে ১৪৪ বছর পর। কারণ ১২টি পূর্ণকুম্ভ শেষে হয় একটি মহাকুম্ভ। পূর্ণকুম্ভ হয় ১২ বছর অন্তর। এবার প্রয়াগরাজে চলছে মহাকুম্ভ। গঙ্গা-যমুনা ও সরস্বতীর সঙ্গমস্থলে মহামিলন মেলা। সূত্রের খবর, মহাকুম্ভ উপলক্ষে ত্রিবেণী সঙ্গমে স্নান করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi), ৫ ফেব্রুয়ারি। ঘটনাচক্রে এদিনই হবে দিল্লি বিধানসভার নির্বাচন। এর আগে কন্যাকুমারীতে গিয়ে ধ্যানে বসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ধ্যান করেছেন কেদারনাথে গিয়েও। এবার তিনি সারবেন কুম্ভস্নান।

    কুম্ভস্নানে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)

    চলতি বছর কুম্ভমেলা শুরু হয়েছে ১৩ জানুয়ারি। চলবে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। দেশ-বিদেশ থেকে কাতারে কাতারে আসছেন মানুষ, অমৃতস্নান করবেন বলে। পঞ্জিকা মতে, অমৃতস্নানের (একেই আগে শাহি স্নান বলা হত) যোগ পাঁচটি। প্রধানমন্ত্রী যে দিন স্নান করবেন, সেদিন অমৃতস্নানের যোগ নেই। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সেই কারণে ৫ ফেব্রুয়ারি মেলায় ভিড় কম হবে। পুণ্যার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, তাই এই দিনটিই বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

    ত্রিবেণী সঙ্গমে কে, কবে

    কুম্ভস্নান সেরে নিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ২৭ জানুয়ারি পুণ্যস্নান করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ১ ফেব্রুয়ারি কুম্ভস্নানে যাবেন উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়। আর ১০ ফেব্রুয়ারি ত্রিবেণী সঙ্গমে ডুব দেবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এরই মাঝে ৫ তারিখে কুম্ভস্নান সারবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)।

    আরও পড়ুন: “চায়ের দোকান খুলুন, চাকরির চেয়ে বেশি রোজগার হবে”, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাস দেড়েকের মেলায় অমৃতস্নানের যোগ রয়েছে পাঁচটি। একটি হয়ে গিয়েছে। বাকি রয়েছে চারটি। এগুলি হল, ২৯ জানুয়ারি, মৌনী অমবস্যা, ৩ ফেব্রুয়ারি, বসন্ত পঞ্চমী, ১২ ফেব্রুয়ারি মাঘী পূর্ণিমা এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি মহা শিবরাত্রি। এই দিনগুলিতে কয়েক কোটি ভক্ত কুম্ভস্নান করবেন পুণ্যলাভের আশায়। তাই এই দিনগুলিতে প্রধানমন্ত্রীর মতো ভিভিআইপি অমৃতস্নানে গেলে অসুবিধায় পড়বেন সাধারণ পুণ্যার্থীরা। বিজেপি সূত্রের খবর, সেই কারণেই অমৃতস্নানের জন্য প্রধানমন্ত্রী বেছে নিয়েছেন সাধারণ একটি দিন। প্রসঙ্গত, প্রতি ছ’বছর অন্তর হয় অর্ধকুম্ভ। প্রয়াগরাজ (Mahakumbh) ছাড়াও সেগুলি হয় হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জ্বয়িনীতে (PM Modi)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

       

  • Mahakumbh Mela 2025: রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মোদি অমৃত স্নানে যোগদান করবেন, জানালেন যোগী

    Mahakumbh Mela 2025: রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মোদি অমৃত স্নানে যোগদান করবেন, জানালেন যোগী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৪৪ বছর পর উত্তরপ্রদেশে বিশ্বের সর্ববৃহৎ হিন্দু মেলার মহা আয়োজনে মহাপুণ্যস্নান অংশগ্রহণ করছেন ভারত সহ বিশ্বের সনাতনী সমাজের বহু মানুষ। এই অমৃত স্নানের মূল উদ্দেশ্য হল গঙ্গা, যমুনা (পৌরাণিক) সরস্বতীর ত্রিবেণী সঙ্গমে মোক্ষলাভ। পুরাণে কথিত আছে,  গঙ্গায় সমুদ্রমন্থনের ফলে উৎপন্ন অমৃতের কুম্ভ থেকে মহামুক্তির অমৃতের ফোঁটা পড়েছিল প্রয়াগরাজের এই নদীসঙ্গমে। তাই পবিত্র গঙ্গায় ডুব দিয়ে সকল পাপের স্খলন হয় এবং জগত-জীবন সব কিছুর পরিবর্তন হয়। এই মাহেন্দ্রক্ষণে সূর্য মকরে প্রবেশ করে এবং বৃহস্পতি ভালো জায়গায় অবস্থান করে, ফলে জগতবাসীর কল্যাণ হয়। সকল অশুভ শক্তির পরাজয় হয় এবং শুভ শক্তির উদয় হয়। এবার এই মহাকুম্ভের পুণ্যতিথিতে কোটি কোটি ভক্তদের সঙ্গে অমৃত স্নান যাত্রায় (Mahakumbh Mela 2025) অংশগ্রহণ করবেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদি মুর্মু, উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এই কথা জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যমকে।

    ব্যবস্থায় কমতি রাখা নিয়ে আপোশ করবেন না যোগী (Mahakumbh Mela 2025)

    ইতিমধ্যে ১৪ জানুয়ারি পৌষ পূর্ণিমা এবং ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তিতে আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা এবং সৌদি আরব থেকে অনেক ভক্ত অমৃতস্নানে (Mahakumbh Mela 2025) অংশ নিয়েছেন। রাশিয়ার সনাতনী ভক্ত অনর্গল বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ করে মহাকুম্ভের আধ্যাত্মিক ভাবকে বিশ্বের কাছে আরও ছড়িয়ে দিয়েছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারি রয়েছে মৌনী অমাবস্যা এবং ৩ জানুয়ারি বসন্ত পঞ্চমীর অমৃত স্নান। এদিন মুখ্যমন্ত্রী যোগী জানিয়েছেন, আনুমানিক ৮-১০ কোটি পুণ্যার্থী পবিত্র গঙ্গায় স্নান করবেন। তাই যুদ্ধকালীন প্রস্তুতিতে মেলার পরিষেবায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনীয় যাতায়াতের বিশেষ নজর রেখেছেন তিনি। রবিবার মেলায় একটি স্থানে আকস্মিক আগুন লাগার ঘটনায় সঠিক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে প্রশাসনের উচ্চ আধিকারিকদের মেলার ব্যবস্থাকে আরও কড়া ভাবে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। কট্টর মৌলবাদীরা আগেই কুম্ভকে টার্গেট করার হুমকি দিয়েছিল। তাই কোনও ব্যবস্থায় খামতি নিয়ে কোনও আপোশ করবেন না বলে সাফ নির্দেশ দিয়েছেন যোগী।

    রাজ্যের মন্ত্রীসভার বৈঠক ২২ জানুইয়ারি মেলাপ্রাঙ্গণে

    এদিন প্রশাসনিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী যোগী (Yogi Adityanath) বলেন, “বিশেষ দিনে ভালো ভিড় ব্যবস্থাপনার জন্য পন্টুন সেতুতে চলাচল একমুখী রাখতে হবে। মৌনী অমাবস্যা ও বসন্ত পঞ্চমীতে পুরো মেলা এলাকাকে নো-ভেহিক্যাল জোন ঘোষণা করতে হবে। ভক্তদের অনুভূতিকে অবশ্যই সম্মান করতে হবে এবং কর্মকর্তাদের অবশ্যই প্রয়োজনে কাউকে সহায়তা করতে হবে। প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি যথা সময়ে শেষ করতে হবে। একই ভাবে রাজ্যের মন্ত্রিসভার বৈঠক আগামী ২২ জানুয়ারি এই মেলাপ্রাঙ্গণেই (Mahakumbh Mela 2025) অনুষ্ঠিত হবে।”

    আরও পড়ুনঃ মহাকুম্ভে অগ্নিকাণ্ডের পরে ত্রিবেণী সঙ্গম পরিদর্শন যোগীর, দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশিকা

    ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং পার্কিং ব্যবস্থার দিকে সজাগ নজর

    আবার মহাকুম্ভের (Mahakumbh Mela 2025) একটি প্রশাসনিক যোগী বৈঠকে বলেন, “প্রায় দেড় কোটি ভক্ত বর্তমানে মেলার মাঠে উপস্থিত রয়েছেন এবং ৭ কোটিরও বেশি মানুষ ইতিমধ্যেই ত্রিবেণীতে পবিত্র অমৃত স্নান করেছেন। প্রজাতন্ত্র দিবসে প্রচুর জনসমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুদৃঢ় ব্যবস্থা করা হবে। আগত তীর্থযাত্রীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ, পরিচ্ছন্ন শৌচাগারের যথাযথ ব্যবস্থা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে। ভ্রম্যমান সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ এবং একটি সুপরিকল্পিত ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনার জন্য প্রশাসনিক কর্তাদের বিশেষ নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভালোভাবে পরিচালনার জন্য ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং পার্কিং ব্যবস্থার দিকে নজর রাখার উপর জোর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

    মিডিয়া, পুলিশ এবং ভক্তদের মধ্যে সমন্বয় রাখা

    যোগী (Yogi Adityanath) মহাকুম্ভের (Mahakumbh Mela 2025) মোবাইল নেটওয়ার্ক পরিষেবাগুলি উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছেন একই ভাবে। সেই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে মিডিয়া, পুলিশ এবং ভক্ত সহ সকলের সঙ্গে সংযোগকে নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে। মেলার টাওয়ারগুলি থেকে সব দিকে নজরদারি ঠিক করে রাখতে হবে। মেলার প্রচার প্রসারকে সঠিক ভাবে আগত ভক্তদের কাছে তুলে ধরতে হবে। জরুরি পরিষেবাগুলিকে আরও বেশি করে জনমুখী করে দিতে হবে। ভক্তরা যাতে কাছের ঘাটগুলিতে স্নান করতে পারেন এবং হাঁটার জন্য প্রয়োজনীয় দূরত্ব কমিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া এবং খুঁজে পাওয়া কেন্দ্রগুলির সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য স্থানীয় সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

    রেলকে বিশেষ ভাবে সক্রিয় থাকার বার্তা

    মুখ্যমন্ত্রী যোগী (Yogi Adityanath) রেল কর্তৃপক্ষকে ২৫ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে বিশেষ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের অনুরোধ বলেছেন। ট্রেনের সময়সূচি এবং প্ল্যাটফর্ম নম্বর সম্পর্কে নিয়মিত ঘোষণার গুরুত্বের উপর জোর দেন। একটি প্ল্যাটফর্মে যদি রেলের ঘোষণা করে দেওয়া হয় বা বরাদ্দ করা হয় তাহলে তা যেন অপরিবর্তিত থাকে। নয়তো ভিড় আর অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। স্নান করার পরে, ভক্তরা তাঁদের গন্তব্যে দ্রুত ফিরে যেতে পারেন তাই ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে রেলের আধিকারিকদের পরিষেবাকে অতি সক্রিয় রাখার অনুরোধ করেন। দৈনিক ট্রেন, মেলা (Mahakumbh Mela 2025) স্পেশাল ট্রেনের জন্য আলাদা স্টেশনগুলিকে সচল রাখার উপদেশও দিয়েছেন।

         

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Republic Day: প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘ত্রিশক্তি’! প্রথমবার একসঙ্গে কুচকাওয়াজ করবে সেনার তিন বাহু

    Republic Day: প্রজাতন্ত্র দিবসে ‘ত্রিশক্তি’! প্রথমবার একসঙ্গে কুচকাওয়াজ করবে সেনার তিন বাহু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইতিহাসে প্রথমবার দিল্লির রাজপথে এক সঙ্গে শক্তিপ্রদর্শন করবে দেশের তিন বাহিনী। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেডে এবার বিরাট বদল। ২৬ জানুয়ারির বিশেষ দিনে প্রতি বছর প্যারেডে আলাদা আলাদা ভাবে পরাক্রম দেখায় স্থল, নৌ ও বায়ুসেনা। এবার সেই ছবিতে বদল আসতে চলেছে। দেশের তিন সেনাবাহিনীর ঐক্য প্রদর্শনের লক্ষ্যে অভিনব এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও ইন্ট্রিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ (IDS)। এবারের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে সামরিক বাহিনীর তিন বাহুর (ট্রাই-সার্ভিস) সমন্বিত ট্যাবলো।

    কেন এই পদক্ষেপ

    এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল, দেশের তিন বাহিনীর একে অপরের প্রতি সহযোগিতা ও বোঝাপড়া দৃঢ় করা। দেশের নিরাপত্তা বিপদের মুখে পড়লে একজোট হয়ে ‘ত্রিশূল’-এর মতো শত্রুর উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে ভারতের তিন বাহিনী, এমনই স্বপ্ন দেশবাসীর। ভারতের তিন বাহিনীকে একছাতার নিচে আনতে ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে তিন সেনাবাহিনীর মধ্যে একে অপরের মধ্যে বোঝাপোড়া যেমন বাড়বে, তেমনই যুদ্ধক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়তে সুবিধা হবে। এই লক্ষ্যেই তিন সেনাবাহিনীর মাথায় নতুন পদ তৈরি হয়েছে যার নাম ‘চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ’ (CDS)। 

    আরও পড়ুনঃ সইফ আলি খানের হামলাকারী বাংলাদেশি, ৫ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ

    এক অনন্য নজির

    প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর কেন্দ্রীয় সরকার একটি নির্দিষ্ট থিম নির্বাচন করে দেয়। ২০২৫ সালে থিম ‘স্বর্ণিম ভারত’। এই বছরের থিমটি দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং এর প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের যাত্রাকে তুলে ধরে। ২০২৫ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্রপ্রদেশ, বিহার, চণ্ডীগড়, গোয়া, গুজরাট, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, কর্নাটক এবং মধ্যপ্রদেশ সহ ১৫টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ট্যাবলো কার্তব্য পথ কুচকাওয়াজে প্রদর্শিত হবে। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়কেরাও উপস্থিত থাকতে পারেন ওই দিন।প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে রাজপথে তিন বাহিনীর এই পরাক্রম শত্রুপক্ষের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা। সেনা কর্তাদের মতে, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আসতে চলেছে আমূল বদল। যেখানে তিন বাহিনীর আধুনিকীকরণ তো বটেই, কৃতিত্ব এবং সহযোগিতামূলক ক্ষমতা প্রদর্শনের এক অনন্য নজির দেখবে ২৬ জানুয়ারি রাজপথ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Oxfam Global Report: ১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে ভারত থেকে ৬৫ লক্ষ কোটি ডলার সম্পদ লুট করে ব্রিটিশরা!

    Oxfam Global Report: ১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে ভারত থেকে ৬৫ লক্ষ কোটি ডলার সম্পদ লুট করে ব্রিটিশরা!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি অক্সফাম গ্লোবালের (Oxfam Global Report) একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাতে দেখানো হয়েছে ভারত আর্থিক ভাবে কতটা সমৃদ্ধ ছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরাধীন ভারত থেকে প্রায় ৬৫ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার সম্পত্তি লুট করে নিয়ে গিয়েছে ব্রিটিশরা। মূলত, ১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সালের মধ্য়ে এই লুট করেছে তৎকালীন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। এর মধ্যে প্রায় ৩৪ লক্ষ কোটি টাকা শুধুমাত্র ইংল্যান্ডের ১০ শতাংশ ধনীর কাছে পৌঁছেছে। আজকের দিনের মূল্য বিচার করলে, ৫০ পাউন্ডের নোট দিয়ে গোটা লন্ডন শহরকে চারবার মুড়ে ফেলা যাবে ওই লুটের টাকা দিয়ে। ফলে ভারতের ধনে যে তারা ধনী হয়েছিল একথা আরও একবার প্রমাণিত হয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    তবে ভারতবর্ষ সুপ্রাচীনকাল থেকেই জ্ঞানচর্চা, আধ্যাত্মিক চিন্তা-চেতনা, সাহিত্য, প্রযুক্ত্যি বিদ্যা, চারুকলা, অর্থনীতির এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে এক কথায় পরম পরম বৈভবশালী ছিল। ভারতের সভ্যতা যখন বিকশিত হয়ে চরম উৎকর্ষের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময়ে পশ্চিমের দেশে ভালো করে সভ্যতার বিকাশই হয়নি। ভারত কোনও সময়েই ঔপনিবেশিকতার মানসিকতার আঙ্গিকে বিশ্বকে দেখেনি, উল্টে ভারতে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ থেকে বার বার আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। ৭২০ সালের মহম্মদ বিন-কাশেম থেকে ১৭৫৭ সালের রবার্ড ক্লাইভ (British) পর্যন্ত সকলেই আক্রমণকারী ছিলেন। তাঁরা অমানবিক লুট, হত্যা, ধর্ষণ, জোরপূর্বক ধর্মান্তর এবং সম্পদ হরণ করে নিয়ে গিয়েছেন। অকাতরে এই দেশের পার্থিব সম্পত্তির লুট হলেও শেষ হয়ে যায়নি ভারতীয় সংস্কৃতির প্রভাব। অথচ দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যাঁরা ইতিহাস রচনা করেছেন তাঁরা কেবল ভারতের কী ছিল না, কতটা খারাপ আর গরীব ছিল সেই কথাই খোঁজ করেছেন। ভারত যে আর্থিক ভাবেও বিশ্বকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রেখেছিল তার উল্লেখ কোনও ইতিহাসবিদ সন্ধান করতে চাননি। অক্সফাম গ্লোবালের প্রতিবেদন প্রমাণ করে ভারতের অর্থনীতি কতটা প্রভাবশালী ছিল।

    ব্রিটিশদের ১০ শতাংশ ধনী ভারতের সম্পদের ধনবান (Oxfam Global Report)

    অক্সফাম গ্লোবালের (Oxfam Global Report) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৭৬৫ সাল থেকে ১৯০০ সালের মধ্যে ব্রিটিশদের (British) কেবলমাত্র ১০ শতাংশ ধনী ভারত থেকে আজকের বর্তমান সময়ের ৩৩.৮ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার সমান সম্পত্তি লুট করেছিল। এই বিপুল পরিমাণে সম্পদ ৫০ পাউন্ডের নোটে পরিণত করলে তা লন্ডন শহরকে ওই নোটের কার্পেট দিয়ে চার বার ঢাকতে পারবে। এই প্রতিবেদনের লেখক উৎসা পট্টনায়েক এবং প্রভা পট্টনায়েক বলেন, পরাধীন ভারতে ঔপনিবেশিক সাম্রাজ্যের যুগে ইংরেজরা ভারত থেকে ৬৪.৮২ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের সম্পত্তি লুট করেছিল। ইংল্যান্ডে বড় বড় ধনী ব্যক্তিদের মধ্যে এই সম্পদ পারিবারিক সূত্রে প্রবাহিত হয়েছে। তবে এই বিরাট পরিমাণ টাকা বা সম্পত্তি ঔপনিবেশিক শাসনকে কায়েম রাখতে ব্যবহার করা হতো। মূলত দাস কেনা-বেচা এবং নতুন বিনিয়োগে ব্যবহার হতো। পরবর্তী সময়ে গোটা বিশ্বসাম্রাজ্যকে ধরে রাখাতে এই অর্থকে ব্যবহার করা হয়েছিল। ফলে রিপোর্ট থেকে অনুমান করা যেতেই পারে ভারতে থেকে উপার্জিত বা আয়ের টাকা বাকি বিশ্বে নিজেদের প্রয়োজনে ব্যবহার করত ইংরেজরা। ফলে ভারতের সম্পত্তি ছিল না, কোনও অর্থনীতি সুব্যবস্থা ছিল না এই যুক্তি অনেক গবেষক আলোচ্য প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মানতে নারাজ।

    ১৭৫০ সালে বিশ্বের মোট উৎপাদনে ভারতের ছিল ২৫ শতাংশ

    এই প্রতিবেদনে (Oxfam Global Report) আরও বলা হয়েছে যে বর্তমানে আমরা যে বহুজাতিক সংস্থাগুলিকে দেখছি তা আদতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকাতার ফল। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির (British) সম্পূর্ণ শাসন এবং ব্যবস্থা ছিল আজকের দিনে বহুজাতিক সংস্থার অনুরূপ। তারা নিজেরাই আইন করে সাম্রাজ্যকে চালাতেই সমগ্র শাসন ব্যবস্থাকে তৈরি করেছিল। ১৭৫০ সাল নাগাদ গোটা বিশ্বের বাজারে উৎপাদনের বিচারে ভারতীয় উপমহাদেশ বা অখণ্ড ভারত মোট শিল্প উৎপাদনের প্রায় ২৫ শতাংশের অধিকারী ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্রিটিশদের অত্যাচার, লুটপাট এবং দেশীয় উৎপাদন ব্যবস্থাকে নষ্ট করার ফলে ১৯০০ সাল থেকে ২ শতাংশ কমে গিয়েছিল। খুব স্পষ্ট ভাবে এবং কৌশল করে ভারতের উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ব্রিটিশরা। ইংরেজরা নিজেদের বস্ত্রকলগুলিকে বিশ্ববাণিজ্যে আরও বিস্তার করতে ভারতীয় এবং এশিয়া মহাদেশের কাপড়ের কলগুলিকে কাঁচামাল, আর্থিক জোগান এবং শ্রমিকের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে সকল উৎপাদন পদ্ধতিকে সমূলে নিকেশ করেছে। ফলে ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসনে আনুমানিক ৬৪.৮২ লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার লুট করেছে।

    খুব দ্রুত ভারত

    রিপোর্টে (Oxfam Global Report) আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বের ধনকুবেরদের সম্পত্তি ২ লক্ষ কোটি বৃদ্ধি হয়েছে। বিশ্বের ধনীদের তালিকায় ভারতের ২০৪ জন সংযুক্ত হয়েছেন নতুন ভাবে। প্রত্যেক সপ্তাহে ৪ জন করে ভারতীয় ধনবান তালিকায় যুক্ত হচ্ছেন। গত বছরেই এই গবেষণা সংস্থা ভারতকে ট্রিলিয়ন অর্থনীতিতে পৌঁছানোর ইঙ্গিত দিয়েছে, এবারেও আগামী একদশকে পাঁচ ট্রিলিয়নে পৌঁছাবে ভারতীয় অর্থনীতি, ঠিক এমনটাই জানিয়েছে এই গবেষণা।

          

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • India Philippine Relation: চিনকে ঠেকাতে ভারত থেকে ৯টি অ্যান্টি শিপ ব্যাটারি কিনতে আগ্রহী ফিলিপিন্স

    India Philippine Relation: চিনকে ঠেকাতে ভারত থেকে ৯টি অ্যান্টি শিপ ব্যাটারি কিনতে আগ্রহী ফিলিপিন্স

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ চিন সাগরে একাধিপত্য স্থাপনে মরিয়া চিন। ফলে ফিলিপিন্স-সহ একাধিক দেশের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদে জড়িয়েছে কমিউনিস্ট দেশটি। এহেন পরিস্থিতিতে বেজিংয়ের চাপ বাড়িয়ে ফিলিপিন্সকে অত্যাধুনিক ব্রহ্মস মিসাইলের জোগান দিল নয়াদিল্লি। এবার ভারত (India Philippine Relation) থেকে ৯টি অ্যান্টি শিপ ব্যাটারির দাবি জানিয়েছে ফিলিপিন্স। 

    ব্রহ্মস চুক্তির সম্প্রসারিত অংশ

    ফিলিপিন্স ২০২২ সালে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ভারতের (India) সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ৩৭.৫ কোটি মূল্যের এই চুক্তির অধীনে, ভারত ফিলিপিন্সের কাছে ল্যান্ড-বেসড ব্রহ্মোস মিসাইলের পাশাপাশি তার ব্যাটারি, লঞ্চার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম হস্তান্তর করবে। ২০২৪ সালের এপ্রিলে, ভারত ফিলিপিন্সের কাছে ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম ব্যাচ হস্তান্তর করেছিল।  ফিলিপিন্স হল ভারত থেকে ব্রহ্মোস কেনার প্রথম দেশ। বর্তমানে এই মিসাইল ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে রফতানি করার জন্যও আলোচনা চলছে। অতীতের চুক্তির সম্প্রসারিত অংশ হিসেবেই অ্যান্টি শিপ ব্যাটারি দাবি করেছে ফিলিপিন্স।

    আরও পড়ুন: প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ায় অভিনন্দন, জয়শঙ্করের হাত দিয়ে বন্ধু ট্রাম্পকে চিঠি মোদির

    চিনকে আটকাতে সক্রিয় ফিলিপিন্স

    রাশিয়া ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে তৈরি হয়েছে ব্রহ্মস মিসাইল। এর গতিবেগ ২.‌৮ ম্যাক। অর্থাৎ শব্দের থেকেও তিনগুণ দ্রুতগতিতে মিসাইলটি উড়তে সক্ষম। প্রতি সেকেন্ডে এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারে ব্রহ্মস। যে কোনও টার্গেটে ৯৯.৯৯ শতাংশ নিখুঁত হামলা চালাতে পারে। একবার এই মিসাইল লঞ্চ করা হয়েছে গেলে শত্রুর পক্ষে একে আটকানো কার্যত অসম্ভব। এবার ফিলিপিন্স অ্যান্টি শিপ ব্যাটারি চাইছে। এমন সময়ে ভারতের কাছ থেকে এই ব্যাটারি চাইছে তারা যখন চিনের সঙ্গে সেদেশের বিরোধ চলছে। ধারণা করা হচ্ছে চিনা সেনাবাহিনীর হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই যুদ্ধ সামগ্রী কিনেছে সে দেশ। দক্ষিণ চিন সাগরের বেশ কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে বিরোধ রয়েছে। এসব দ্বীপ নিয়ে দুই দেশের উপকূলরক্ষী বাহিনী একাধিকবার মুখোমুখি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফিলিপিন্সের হাতে আধুনিক অস্ত্র থাকলে চিন কিছুটা হলেও পিছপা হবে, এমনই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hindenburg: বিপাকে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ, বাজারে কারসাজি ও সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ

    Hindenburg: বিপাকে হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ, বাজারে কারসাজি ও সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাড়তি পর্যবেক্ষণের মুখে হেজ ফান্ড আনসন ফান্ডস ও হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা নাথান অ্যান্ডারসন (Hindenburg)। তাঁদের বিরুদ্ধে বাজারে কারসাজি এবং সিকিউরিটিজ প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, আনসন ফান্ডস নাকি অ্যান্ডারসনের সঙ্গে একত্রে কাজ করে লক্ষ্যমাত্রাভিত্তিক শর্ট-সেলিং ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। মার্কেট ফ্রডস ওয়েবসাইটে শেয়ার করা নথির স্ক্রিনশট থেকে জানা যায় যে, আনসন ফান্ডস হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের বিষয়বস্তু ঠিক করে দিত, যা প্রমাণ করে যে সংস্থাটি স্বাধীনভাবে গবেষণা পরিচালনা করেনি। এই ঘটনাগুলোর তদন্ত করছে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (US SEC)-এর মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলি। তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া (Mahua Moitra) চলছে।

    চাঞ্চল্যকর তথ্য (Hindenburg)

    আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্যও উঠে এসেছে। জানা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং আনসন ফান্ডসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোয়েজ কাসামের স্ত্রী মারিসা সিগাল কাসামের মধ্যে যোগাযোগের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দুজনেই আগে জেপি মর্গানে কাজ করেছেন। মহুয়া প্রায় ১২ বছর ধরে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। পরে যোগ দেন রাজনীতিতে। আর মারিসা লন্ডন, হংকং এবং নিউইয়র্কে জেপি মর্গানের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের এই যোগাযোগ আদানি গ্রুপের ওপর হামলার পেছনে উদ্দেশ্য এবং সম্পর্কগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে ওপিইন্ডিয়া রিপোর্ট করেছিল, আদানির বিরুদ্ধে সংসদে প্রশ্ন তোলার জন্য মহুয়া মৈত্র নাকি ঘুষ নিয়েছিলেন।

    নিশিকান্ত দুবের অভিযোগ

    অ্যানসন ফান্ডসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলির (Hindenburg) মধ্যে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যোগসূত্র এবং ম্যানিপুলেটেড স্টক মূল্য পতনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি আদালতের নথি এবং তদন্তমূলক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ওপিইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে অভিযুক্ত করেছেন যে তিনি ব্যবসায়ী দর্শন হিরানন্দানির কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং উপহার গ্রহণ করেছিলেন। এর বিনিময়ে তিনি সংসদে এমন প্রশ্ন উত্থাপন করেছিলেন, যা হিরানন্দানির ব্যবসায়িক স্বার্থকে সুবিধা করে দিয়েছিল। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, মহুয়া লোকসভায় পারাদীপ পোর্ট এবং আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে যে প্রশ্নগুলো তুলেছিলেন, সেগুলো হিরানন্দানির প্রকল্পের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ উল্লেখযোগ্য প্রশ্নগুলোর মধ্যে ছিল পোর্ট চুক্তি, টেলিকম পরিষেবা এবং প্রাকৃতিক গ্যাস বিতরণ সম্পর্কিত বিষয়।

    আরও পড়ুন: বাহিনীর গুলিতে খতম ১৪ মাওবাদী, ‘‘শেষ নিঃশ্বাস নিচ্ছে নকশালরা’’, মন্তব্য শাহের

    এও অভিযোগ উঠেছে যে আদানি পরিচালিত পোর্ট এবং জ্বালানি নীতির বিষয়ে তাঁর প্রশ্নগুলো হিরানন্দানির প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায়িক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। মহুয়া কোনও অন্যায় করার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তাঁর স্বাধীনতার কথা জানিয়েছিলেন। তবে, ওপিইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে সংসদীয় কার্যকলাপ এবং হিরানন্দানির ব্যবসায়িক স্বার্থের মধ্যে কিছু মিল পাওয়া গেছে, যা তার উদ্দেশ্য নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলেছে। এই অভিযোগগুলির পাশাপাশি অ্যানসন ফান্ডসের সহ-প্রতিষ্ঠাতার স্ত্রী মারিসা সিগেল কাসামের সঙ্গে মৈত্রের সম্ভাব্য সংযোগ, আদানি গ্রুপকে ঘিরে আর্থিক এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

    হিন্ডেনবার্গ রিসার্চে ঝাঁপ

    সম্প্রতি হিন্ডেনবার্গ রিসার্চে (Hindenburg) ঝাঁপ ফেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছিল সংস্থার তরফে। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান ন্যাথন অ্যান্ডারসন বলেছিলেন, “আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে”। তিনি জানিয়েছিলেন, হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ তাঁর জীবনের একটা অধ্যায়, গোটা জীবন নয়। ভেবেচিন্তেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ন্যাথামের যুক্তি, কাজের চাপে ব্যক্তিগত জীবনে সময় দিতে পারছিলেন না। জীবনে ভারসাম্য আনতেই আপাতত সংস্থা বন্ধ করছেন। কিন্তু তাঁর হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কোনও প্রভাব কাজ করেছে কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

    আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

    প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের গোড়ার দিকে কারচুপি করে শেয়ারের দর বাড়ানো এবং কর ফাঁকি-সহ বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এনেছিল মার্কিন সংস্থা হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ। এ নিয়ে কেন্দ্রকে ধারাবাহিকভাবে নিশানা করেছিল বিরোধীরা। যৌথ সংসদীয় কমিটির তদন্তের দাবিও উঠেছিল। শেয়ার বাজারে আদানিকাণ্ডের প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। যদিও সেই তদন্তে আদানিদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

    জানা গিয়েছে, কানাডার আদালতে পেশ হওয়া একটি নথির জেরে চাপে পড়ে যান হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রতিষ্ঠাতা। অভিযোগ, ইচ্ছে করে ভুল রিপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দর (Mahua Moitra) কমাতো ন্যাথানের সংস্থা (Hindenburg)।

     

      দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share