Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Vasuki Indicus: গুজরাটে উদ্ধার প্রায় ৫ কোটি বছর পুরনো বিশালাকার বাসুকি সাপের জীবাশ্ম

    Vasuki Indicus: গুজরাটে উদ্ধার প্রায় ৫ কোটি বছর পুরনো বিশালাকার বাসুকি সাপের জীবাশ্ম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয় নয় করে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লক্ষ বছরের পুরনো প্রাগৈতিহাসিক বাসুকি সাপের (Vasuki Indicus) জীবাশ্ম উদ্ধার হল ভারতের মাটি থেকে। গুজরাটের (Gujarat) কচ্ছ এলাকার একটি খনিতে আইআইটি রুরকির গবেষকদের দল এই জীবাশ্ম খুঁজে পেয়েছেন। আর এই জীবাশ্ম আরও একবার প্রমাণ করল যে একটা সময় তারা ছিল এই পৃথিবীতেই এবং দাপিয়ে বেড়াত এই ভারতীয় উপমহাদেশের বুকেই। কালের নিয়মে তারা বিদায় নিলেও পৃথিবীর বুকে আজও লুকিয়ে তাদের অতীতের অস্তিত্ব।

    কয়লা খনি থেকে উদ্ধার (Vasuki Indicus)

    জানা গিয়েছে, ২০০৫ সালে গুজরাটের কচ্ছ এলাকার একটি কয়লা খনি থেকে বিজ্ঞানীরা এই বাসুকির (Vasuki Indicus) জীবাশ্মটি আবিষ্কার করেছেন। প্রায় ৫ কোটি বছরের পুরনো প্রজাতি। এই প্রজাতির সাপটিকে ভারতের প্রাগৈতিহাসিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম বিশেষ নিদর্শন হিসেবে মেনে নিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তবে সম্প্রতি আইআইটি রুরকির জীবাশ্ম গবেষকের দল ওই সুবিশাল সাপের জীবাশ্ম সম্পর্কে এমন সব তথ্য প্রকাশ করেছেন যা শুনলে অবাক হয়ে যাবেন আপনিও।

    বিশ্বের দীর্ঘতম সাপ

    এই জীবাশ্ম পরীক্ষা করে বিজ্ঞানীদের ধারণা, সাপটি (Vasuki Indicus) দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ ফুট। ওজন প্রায় ১০০০ কিলোগ্রাম ছিল। চাঞ্চল্যকর এই আবিষ্কারে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে বৈজ্ঞানিক মহলে। অনুমান করা হচ্ছে, এখনও পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের দীর্ঘতম সাপ এটিই। হিন্দু দেবতা শিবের গলার থাকা সাপের নামে নয়া আবিষ্কৃত এই সাপের নাম রাখা হয়েছে বাসুকি ইন্ডিকাস (Vasuki Indicus), সাপটি মাৎসোইদাই (Madtsoiidae) প্রজাতিভুক্ত। একটি জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, এই সাপটি একটি স্বতন্ত্র প্রজাতিভুক্ত। যা ভারতের মাটিতে ৫ কোটি ৬০ থেকে ৩ কোটি ৪০ লক্ষ বছর আগে ইওসিন যুগে দক্ষিণ ইউরোপ থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আজকের স্তন্যপায়ী প্রজাতির প্রথম পূর্বপুরুষ এবং নিকটাত্মীয়রা ইওসিন যুগে পৃথিবীতে এসেছিল। এমনটাই মনে করেন বিজ্ঞানীরা।

    ২৭টি হাড় উদ্ধার হয়েছে

    অন্যদিকে, গবেষকরা এই জীবাশ্মকে টাইটেনোবোয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন, একসময় যার বিচরণ ছিল পৃথিবীজুড়ে এবং পৃথিবীর দীর্ঘকায় সাপের (Longest Sake Ever Known) খেতাবও পেয়েছিল এই সাপটি। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জীবাশ্মতে ২৭টি হাড়ের সন্ধান পান আইআইটি রুরকির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে ২৭টি হাড় উদ্ধার হয়েছে সেগুলি সাপের (Vasuki Indicus) মেরুদণ্ডের। তার বেশিরভাগই এখনও অক্ষত। বিজ্ঞানীদের বক্তব্য, “এটি একটি পূর্ণ বয়স্ক সাপের হাড়। যার দৈর্ঘ্য ১১ থেকে ১৫ মিটার। আকারে বিশাল হওয়ার কারণে বর্তমান অ্যানাকোন্ডার (Anaconda) মতো ধীর ছিল এদের চলাফেরা। দীর্ঘক্ষণ ওত পেতে থেকে হঠাৎ আক্রমণ চালাতো শিকারের উপর। তারপর শিকারকে জড়িয়ে হত্যা করত।”

    আরও পড়ুনঃ “কংগ্রেস আমলে হনুমান চালিশা শোনাও অপরাধ ছিল”, তোপ মোদির

    গবেষকদের মতামত

    বিশিষ্ট গবেষক অধ্যাপক সুনীল বাজপেয়ী ও দেবজিত দত্তের নেতৃত্বে এই সংক্রান্ত নমুনা সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, গবেষণা, সমীক্ষা ইত্যাদি হয়েছে। এপ্রসঙ্গে দেবজিত দত্ত বলেন, “বাসুকি (Vasuki Indicus) ছিল খুব ধীর চলন শক্তিসম্পন্ন ভারী শরীরের বিশাল আকারের এক সাপ। ঠান্ডা ভিজে জায়গায় থাকে এরা। অ্যানাকোন্ডা ও পাইথনের কায়দায় শিকার ধরে এরা।” সায়েন্টিফিক রিপোর্টে তাঁদের এই গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Modi 3.0: বিনিয়োগ ১০ লক্ষ কোটি! মোদি হ্যাটট্রিক করলে প্রথম একশো দিনে রেলে থাকবে ঢালাও চমক

    Modi 3.0: বিনিয়োগ ১০ লক্ষ কোটি! মোদি হ্যাটট্রিক করলে প্রথম একশো দিনে রেলে থাকবে ঢালাও চমক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মোদি ২.০-এর আদলে মোদি ৩.০-এর (Modi 3.0) রোড ম্যাপ এখন থেকেই শুরু হয়েছে। যার প্রাণভোমরা ভারতীয় রেল। মোদি ৩.০-তে বঙ্গে বুলেট ট্রেন, স্লিপার বন্দে ভারত সহ বর্ধিত মেট্রো পরিষবা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

    প্রথম ১০০ দিনে রেলের পরিকল্পনা (Modi 3.0)

    জানা গিয়েছে, মোদির হ্যাটট্রিক (Modi 3.0) সরকারে রেলের প্রথম ১০০ দিনের (100 days) রোডম্যাপ হিসেবে ১০ থেকে ১২ লক্ষ কোটি টাকা বিনিয়োগে কথা বলা হয়েছে। ২০২৪ এর নির্বাচন শেষ হতেই ভারতীয় রেল (Indian Railways) প্রথম ১০০ দিনের পরিকল্পনা নিয়ে সামনে এল। এই পরিকল্পনায় যাত্রীদের জন্য স্টেশনে আধুনিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রীবান্ধব সুপার অ্যাপ (Rail App) থেকে শুরু করে ২৪ ঘন্টায় রিফান্ড স্কিম প্রদানের চিন্তাভাবনা শুরু করা হয়েছে। এছাড়াও থাকবে যাত্রাকালীন বিনামূল্যের বীমা। থাকছে তিনটি ইকোনমিক করিডোর (Economic Corridor) এবং স্লিপার বন্দে ভারত ট্রেন।

    সুপার অ্যাপ আসবে রেলে

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে কথোপকথনে এক রেলের আধিকারিক আগামী দিনের সরকার (Modi 3.0) সম্পর্কে জানিয়েছেন, “টিকিট বাতিল করার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই রিফান্ডের ব্যবস্থা করার কথা ভাবছে রেল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে টিকিট বাতিল করলে টাকা ফেরত পেতে তিন দিন থেকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত লাগে। এছাড়াও রেল একটি সুপার অ্যাপ আনার কথা ভাবছে। যার মাধ্যমে রেলের সমস্ত রকমের বুকিং, ট্রেনের লাইভ ট্র্যাকিং ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে। বর্তমানে আইআরসিটিসির অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকেন ব্যবহারকারীরা। কিন্তু নতুন সুপার অ্যাপে আরও অনেক প্রকার বুকিং (Booking) ও পরিষেবা গ্রহণ করা সম্ভব হবে। নয়া ১০০ দিনের পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে ‘পিএম রেল যাত্রী বীমা যোজনা’ (PM Rail Yatri Bima) লাগু করা হবে। যা সমস্ত দুরপাল্লার রেল যাত্রীদের জন্য লাগু হবে।

    আমেদাবাদ মুম্বাই বুলেট ট্রেন চলবে

    ১০ থেকে ১২ লক্ষ কোটি টাকা আগামী পাঁচ বছরে বিনিয়োগ করা হবে যাতে রেলকে আধুনিক দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মত তৈরি করা যায়। এছাড়াও বন্দে ভারত ট্রেনগুলিকে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হবে। ১০০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে চলবে এমন বন্দে ভারত (Vande Bharat) মেট্রো আনার কথা ভাবা হচ্ছে। এছাড়াও ১০০ থেকে ৫৫০ কিলোমিটার অবধি বন্দে চেয়ার কার এবং ৫৫০ কিলোমিটারের উর্ধ্বে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন আনার কথা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় পঞ্চাশটি রুটে বন্দে ভারত ট্রেন চলছে। এছাড়াও ২০২৯ এর এপ্রিলের মধ্যে আমেদাবাদ মুম্বাই বুলেট ট্রেন (bullet Train) চালু করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ ভারতে তিনটি বুলেট ট্রেন চালু করার প্রস্তাব রয়েছে মোদি ৩.০ (Modi 3.0) সরকারের।

    আরও পড়ুনঃ ভোটের তিনদিন আগেই পাহাড়ে শিবির বদল! রাজুকে সমর্থনের বার্তা বিনয় তামাং-এর

    স্টেশনগুলি হবে বিশ্বমানের

    জানা গিয়েছে, রেলের ইকনোমিক করিডোর ৪০ হাজার কিলোমিটার বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১৩০০-র বেশি রেলস্টেশনকে বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে আধুনিক করা হবে। আধুনিক স্টেশন গুলিতে বিশ্বমানের সুবিধা পাওয়া যাবে। যেমন শপিংমল, এয়ারপোর্টের মত ওয়েটিং লাউঞ্জ, আধুনিক ক্যাফেটেরিয়া ইত্যাদি। একইসঙ্গে মেট্রো নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বর্তমানে ভারতে মাত্র কুড়িটি শহর আছে যেখানে নয় মেট্রোর কাজ চলছে নাহলে মেট্রো পরিষেবা রয়েছে। আরো বেশ কয়েকটি শহরে মেট্রো পরিষেবা চালু করার কথা ভাবছে মোদি সরকার। দিল্লি ও মিরাট মধ্যে স্পিডরেল চালু করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়াও আরো বেশ কয়েকটি জায়গায় র‍্যাপিড রেল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে জানা গেছে। শেষ শুক্রবার সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে যেখানে বিভিন্ন মন্ত্রক ও বিভাগের আধিকারিকরা মোদি ৩.০-এর (Modi 3.0) প্রথম ১০০ দিনের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Hanuman Chalisa: “কংগ্রেস আমলে হনুমান চালিশা শোনাও অপরাধ ছিল”, তোপ মোদির

    Hanuman Chalisa: “কংগ্রেস আমলে হনুমান চালিশা শোনাও অপরাধ ছিল”, তোপ মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “কংগ্রেস আমলে হনুমান চালিশা শোনাও অপরাধ বলে গণ্য হত।” মঙ্গলবার, হনুমান জয়ন্তীতে (Hanuman Chalisa) রাজস্থানের টঙ্ক কেন্দ্রের এক জনসভায় এই ভাষাতেই কংগ্রেসকে আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    মোদির নিশানায় কংগ্রেস (Hanuman Chalisa)

    রবিবারই রাজস্থানের বাঁসওয়াড়ায় গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির ইস্তাহারকে নিশানা করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “দেশে যাদের সন্তানের সংখ্যা বেশি এবং যারা অনুপ্রবেশকারী, কংগ্রেস তাদের সম্পদ বিলিয়ে দেবে।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের জেরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের কাছে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি বিরোধী ২৬টি রাজনৈতিক দলের জোট ‘ইন্ডি’।

    নিশানায় কংগ্রেসের ইস্তাহার

    কংগ্রেসের ইস্তাহারের (Hanuman Chalisa) প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাদের ইস্তাহারেই লেখা রয়েছে যে তারা সম্পত্তির সমীক্ষা চালাবে। তাদের নেতাই বক্তৃতায় বলছেন, সম্পত্তির এক্স-রে করা হবে। কিন্তু মোদি যখন সে কথা ফাঁস করে দিচ্ছে, তখন আপনাদের গোপন অ্যাজেন্ডা বেরিয়ে পড়েছে। আর আপনারা এখন থরথর করে কাঁপছেন।” তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সামনে এই সত্যটা তুলে ধরতে চাই যে কংগ্রেস আপনাদের সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার জন্য গভীর ষড়যন্ত্র করছে। নির্বাচিত কিছু লোকের হাতে সেই সম্পত্তি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।”

    আরও পড়ুুন: পালাতে পারে বিদেশে, সন্দেশখালির শাহজাহানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ ইডির

    এর পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেস জমানায় মানুষ নিজের ধর্ম, বিশ্বাস নিয়ে থাকতে পারতেন না। সেই আমলে হনুমান চালিশা শোনাও অপরাধ বলে গণ্য হত।” তিনি বলেন, “দু’তিন দিন আগে আমি কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কের তোষণমূলক রাজনীতির পর্দা ফাঁস করে দিয়েছি। এতেই কংগ্রেস ও তাদের ইন্ডি জোট প্রচণ্ড রেগে গিয়েছে। তারা এতটাই রেগে গিয়েছে যে, তারা এখন সব সময় মোদিকেই অপমান করছে।” তাঁর দাবি, এই সত্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় ভয় পেয়ে গিয়েছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক কৌশল লুকোতে চাইছে তারা (Hanuman Chalisa)।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Maoists Killed: ছত্তিশগড়ে নিকেশ হওয়া মাওবাদীদের শনাক্ত করল পুলিশ, কারা রয়েছে তালিকায়?

    Maoists Killed: ছত্তিশগড়ে নিকেশ হওয়া মাওবাদীদের শনাক্ত করল পুলিশ, কারা রয়েছে তালিকায়?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৬ এপ্রিল নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে এনকাউন্টারে খতম হয়েছিল ২৯ জন মাওবাদী (Maoists Killed)। শেষমেশ তাদের শনাক্ত করার কাজ শেষ করল ছত্তিশগড়ের পুলিশ। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মাওবাদীদের ডিভিশনাল কমিটি সদস্য শঙ্কর রাও, রীতা সালামে, বিনোদ গদে, সুখলাল পাড্ডা, রাজিতা, গীতা ওরফে পুন্নিয়া, এরিয়া কমিটির সব সদস্য যাদের মধ্যে রয়েছে রবি ওরফে বাচনু, পিপিসিএম এবং এসএমসি স্কোয়াডের কমান্ডার।

    খতম মাওবাদীদের মাথার দাম

    জানা গিয়েছে, এনকাউন্টারে যারা (Maoists Killed) নিকেশ হয়েছে, তাদের মাথার সম্মিলিত মাথার দাম ১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। মৃত মাওবাদীদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রশস্ত্রের দাম ৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। ওই এনকাউন্টারে যারা মারা গিয়েছে, তাদের মধ্যে ১৭ জনের মাথার দাম ছিল আট লাখ করে টাকা। আর রবি ওরফে বাচনুর মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল ১০ লাখ টাকা। তার বাড়ি বীজাপুর জেলার গাংগ্লুর থানা এলাকায়। শঙ্কর ছিত্তাল মণ্ডল থানার ছালাঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিল। ওই দিন এনকাউন্টারে যারা খতম হয়েছিল তাদের মধ্যে একমাত্র শঙ্করই একে ৪৭ নিয়ে ঘুরে বেড়াত। রীতার কাছে থাকত ইনসাস রাইফেল। আর বিনোদ ঘুরত এসএলআর নিয়ে। রীতার বাড়ি ছিল সীতাপুর থানা এলাকায়। কোখা থানা এলাকায় থাকত গদে। মাওবাদীদের সাব জোনাল অ্যাকশান টিম কমান্ডার বদ্রু বাদসে ঘুরে বেড়াত ৩০৩ রাইফেল নিয়ে। জেন্নি ওরফে জেইনি কাছে রাখত ১২ বোরের রাইফেল।

    আরও পড়ুুন: পালাতে পারে বিদেশে, সন্দেশখালির শাহজাহানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ ইডির

    ভয়ঙ্কর মাওবাদী গ্রেফতার

    এদিকে, সোমবার ভয়ঙ্কর এক মাওবাদীকে গ্রেফতার করল মহারাষ্ট্র পুলিশ। তার মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। ধৃতের নাম দিলীপ মতিরাম পেনদাম। বছর চৌত্রিশের ওই মাওবাদীকে এদিন বমরাগড় অঞ্চলে স্থানীয় গ্রাম ও লাগোয়া জঙ্গলে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় নিরাপত্তরক্ষীদের। জেরা করার পর গ্রেফতার করা হয় তাকে। গত বছর মার্চে পেনদামের বিরুদ্ধে মাইন পুঁতে রাখা এবং দুটি প্রেসার কুকার বম্ব ব্লাস্টের অভিযোগ উঠেছিল। টহলদাররত নিরাপত্তারক্ষীদের হত্যা করে তাঁদের অস্ত্রশস্ত্র কেড়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এটা করেছিল সে। যদিও তার উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয় (Maoists Killed)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Jihadi Tactics Decoded: দীর্ঘদিন ধরে চলে ফাঁদ পাতার কাজ! হিন্দু মহিলাদের কীভাবে টার্গেট করছে জেহাদিরা?

    Jihadi Tactics Decoded: দীর্ঘদিন ধরে চলে ফাঁদ পাতার কাজ! হিন্দু মহিলাদের কীভাবে টার্গেট করছে জেহাদিরা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেহাদিদের (Jihadi Tactics Decoded) হাতে হিন্দু জনগোষ্ঠী যখন আক্রান্ত হয় তখন তারা হতবাক হয়ে যায়। ভাবতে থাকে যে কীভাবে এত সংগঠিত আঘাত জেহাদিরা হানতে পারে! আসলে জেহাদী আক্রমণ কোনও প্রতিক্রিয়া স্বরূপ হয় না, বরং তা দীর্ঘদিনের পরিকল্পনারই ফসল। মাসের পর মাস নিখুঁতভাবে এই পরিকল্পনা চলে। তারপরে দক্ষতার সঙ্গেই এটাকে তারা প্রয়োগ করে। তার আগে তারা হিন্দু জনগোষ্ঠীর ইকো-সিস্টেমটাকে ভালোমতো অনুধাবন করে। সেটাকে বিশ্লেষণ করে। এছাড়া সেই ইকো-সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে হিন্দুদের মানসিকভাবে প্রথম থেকেই আঘাত করা, জেহাদি আক্রমণের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক। জেহাদিদের এই আক্রমণ সংঘটিত হয় বেশ কতগুলি ধাপে। ইসলামিক রীতি-নিয়মকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য জেহাদীদের এই আক্রমণ হয়ে থাকে। এই আক্রমণের পদ্ধতি জানা আমাদের দরকার।

    আবর্জনা সংগ্রহকারী সেজে জেহাদিরা 

    প্রথমেই জেহাদিরা (Jihadi Tactics Decoded) হিন্দু জনগোষ্ঠীর অঞ্চলগুলিতে প্রবেশ করে আবর্জনা সংগ্রহকারী সেজে। এর মাধ্যমে ওই অঞ্চলের হিন্দু জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থা, তাদের গতিবিধি- এই সমস্ত কিছুই নখদর্পণে নিতে থাকে আবর্জনা সংগ্রহকারী বেশে থাকা জেহাদিরা। জেহাদীদের কাছে এটা একটা বড় সুযোগ হয়। তার কারণ, তারা এই ভাবেই প্রথমে হিন্দু জনগোষ্ঠীর একেবারে বাড়িতেও পৌঁছে যেতে পারে। হিন্দুদের সামাজিক সদ্ভাবনার বাস্তব চিত্র, আর্থিক অবস্থা, ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলে হিন্দু জনগোষ্ঠীর মধ্যে একতা, এই সবকিছুই অনুধাবন করতে থাকে জেহাদিরা। সেই মতো তথ্য সরবরাহ করতে থাকে তারা। এর পাশাপাশি ওই অঞ্চলে থাকা হিন্দু মহিলাদের গতিবিধিও অনুসরণের কাজ চালাতে থাকে এই আবর্জন সংগ্রহকারীরা।

    সুফি ভিখারির বেশে জেহাদিরা

    পরবর্তীকালে জেহাদিদের (Jihadi Tactics Decoded) বেশে হিন্দু অঞ্চলে প্রবেশ করে সুফি ভিখারিরা। নিজেদের গায়ে সবুজ চাদর জড়িয়ে তারা হিন্দু বাড়িতে প্রবেশ করে এবং তাদের (হিন্দু) কোনওরকমের সমস্যা রয়েছে কিনা তা জানার চেষ্টা করে। যদি থাকে তাহলে সেই মতো ঝাড়ফুক করতে থাকে তারা। এতে কী হয় অনেক কুসংস্কারগ্রস্থ হিন্দু ওই সুফিদের কথায় বিশ্বাস করে নেয় এবং নিজেদের সমস্যার কথাগুলি জানাতে থাকে। এই ভাবেই হিন্দুরা জেহাদিদের ফাঁদে পা দেয়।

    লাভ জেহাদ সবচেয়ে বড় আঘাত

    জেহাদিদের (Jihadi Tactics Decoded) আক্রমণের সব থেকে বড় পদ্ধতি হল লাভ জেহাদ। হিন্দু মহিলাদের তারা সব থেকে বেশি টার্গেট করে। এ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মৌলবীরা হিন্দু মহিলাদের বর্ণ অনুযায়ী তাদের সেরকম মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে। হিন্দু জনগোষ্ঠী অঞ্চলে জেহাদিরা বিভিন্ন ধরনের দোকান খুলতে শুরু করে। যেমন টেলারিং দোকান, বিউটি পার্লার ইত্যাদি। যার ফলে সেগুলিতে হিন্দু মহিলাদের আনাগোনা শুরু হয় এবং সহজেই তারা ফাঁদে পা দিতে থাকে। এভাবেই শুরু হয় লাভ জেহাদ। লাভ জেহাদের এই পদ্ধতি খুবই ধীরগতিতে চলে কিন্তু তার প্রভাব অনেকটা বেশি। লাভ জেহাদের করুণ পরিণতি ইতিমধ্যেই আমাদের সামনে এসেছে একাধিক ঘটনায়। গত বছরে শ্রদ্ধা ওয়ালকরের পরিণতি সকলের জানা। সম্প্রতি কর্নাটকে কংগ্রেস নেতার কন্যাকেও চরম মূল্য দিতে হয় লাভ জেহাদের।

    কমমূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি, ধ্বংস হয় হিন্দু অর্থনীতি

    জেহাদের (Jihadi Tactics Decoded) অন্যতম পদ্ধতি হল বেআইনিভাবে জায়গা দখল করে সেখানে দোকান দেওয়া এবং অত্যন্ত কম মূল্যে জিনিসপত্র বিক্রি করা। যাতে হিন্দুদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলা যায়। হিন্দু জনগোষ্ঠী ক্রমশই কম দামে জিনিস নেওয়ার প্রলোভনে পা দিয়ে ওই মুসলিম জেহাদিদের দোকানগুলি থেকে জিনিসপত্র কিনতে শুরু করে, যার ফলে হিন্দু দোকানদাররা মার খায় এবং হিন্দু অর্থনীতি ভেঙে পড়ে ওই অঞ্চলের।

    হিন্দু এলাকায় বাড়ি তৈরি

    এটাও দেখা গিয়েছে যে হালাল দোকানগুলি থেকে যে অর্থ লাভ হয় সেগুলি সন্ত্রাসে ফান্ডিং-এর কাজে লাগে। হিন্দুরাও হালাল মাংস কেনে এবং পরোক্ষভাবে তাদের টাকায় জেহাদীদের সন্ত্রাসের ফান্ডিং-এর কাজে লাগে। এর পাশাপাশি জেহাদিরা হিন্দু জনগোষ্ঠীর অঞ্চলে বাড়ি তৈরি করে অথবা ভাড়াতে থাকতে শুরু করে হিন্দুদের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য।

    জেহাদিরা হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে

    জেহাদিরা হিন্দু ছেলেদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে এবং এর মাধ্যমে তাদের বাড়িতে যাতায়ত শুরু করে। যার করুণ পরিণতি হয় সেই বাড়িতে থাকা হিন্দু নাবালিকারা ওই জেহাদীদের লাভ জেহাদে ফেঁসে যায়। ওই হিন্দু নাবালিকাদের তারা বোঝাতে থাকে ইসলামের উদ্দেশ্য আদর্শ। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলে কি কি সুবিধা মিলবে সে বিষয়েও বোঝাতে থাকে জেহাদিরা। এর পাশাপাশি অন্যান্য দিকও দেখা গিয়েছে যে বাড়িতে প্রবেশ করার পরেই ওই হিন্দু নাবালিকার ছবি তুলে ফটোশপের মাধ্যমে তাকে ব্ল্যাকমেলিং করা শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে এতটা মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে হিন্দু মেয়েরা আত্মহত্যা করে।

    হিন্দু এলাকায় কবরস্থান

    জেহাদিদের (Jihadi Tactics Decoded) পরের পদক্ষেপ হল তারা ছোটখাটো কবরস্থান তৈরি করতে থাকে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে। সাধারণ মানুষকে তারা বোঝাতে থাকে সেখানে এলে তারা ঠিক কতটা শান্তি পাবে। এভাবে হিন্দুরা সেই সমস্ত স্থান পরিদর্শন করতে থাকে। যখনই তারা বুঝতে পারে যে এই সমাধিস্থল সত্যিই ভালো, তখন তারা মানে জেহাদিরা আরো বড় রকমের অনুষ্ঠান সেখানে চালাতে থাকে। যা ওই হিন্দু জনগোষ্ঠীর অঞ্চলে একটি বড় রকমের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সম্প্রতি এরকম একটি ঘটনা সামনে এসেছে ছত্তিশগড়ে। রাজ্যের ১২৫টি ঘর বেআইনিভাবে নেয় মুসলিম জনগোষ্ঠী। এই ঘরগুলি প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনাতে বানানো এবং এর সবগুলিতেই প্রথমে সমাধিস্থল চালু করা হয়। পরবর্তীকালে তা মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়। এই মসজিদগুলিতে হিন্দু মেয়েদের ছবি পাওয়া যায়। যে ছবিগুলির উপরে ক্রস চিহ্ন এবং সার্কেল করা ছিল। এরাই হল জেহাদীদের টার্গেট।

    জেহাদি আক্রমণ

    যখনই উপরিউক্ত সমস্ত জালে জড়িয়ে পড়ে হিন্দুরা, তখনই জেহাদিরা হিন্দুদেরকে নানাভাবে হেনস্তা করার প্রয়াস চালাতে শুরু করে। হিন্দুদের যেকোনও ধরনের অনুষ্ঠানে রামনবমী হোক, জন্মাষ্টমী হোক অথবা যে কোন শোভাযাত্রাতে পরবর্তীকালে হিংসাত্মক আক্রমণ দেখা যায়। বিগত বছরগুলি সমেত চলতি বছরেও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জায়গায় এ ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। হিন্দুদের শোভাযাত্রার উপর হামলার ঘটনা দেখা গিয়েছে। সম্ভাজিনগরে, গুজরাটের ভদোদরাতে সেই একই ছবি দেখা গিয়েছে। এই হামলার বেশিরভাগটাই সংঘটিত হয়েছে যখন হিন্দুদের ওই শোভাযাত্রা মসজিদকে অতিক্রম করেছে।

    সতর্ক থাকা উচিত 

    এই ধরনের বিভিন্ন জেহাদি (Jihadi Tactics Decoded) কার্যকলাপ যা হিন্দুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় তা থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সদা সতর্ক থাকতে হবে এবং কারণ খুঁজে বার করতে হবে। বর্তমানে তারা উপরের বলা কোন স্তরে রয়েছে, এছাড়া জেহাদিরা কীভাবে তাদের ওপরে, তাদের অঞ্চলে রেইকি করে চলেছে এবং সেই মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Love Jihad: ফের ‘কেরালা স্টোরি’র গল্প! বিহার, কর্নাটকে ‘লাভ জিহাদে’র ফাঁদে হিন্দু তরুণীরা

    Love Jihad: ফের ‘কেরালা স্টোরি’র গল্প! বিহার, কর্নাটকে ‘লাভ জিহাদে’র ফাঁদে হিন্দু তরুণীরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এ যেন আরও এক ‘কেরালা স্টোরি’র গল্প! ‘লাভ জিহাদে’র ফাঁদে আরও এক হিন্দু তরুণী। এবারের ঘটনাস্থল বিহার। এখানকার এক দলিত হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করে নেপালে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে সমীর আলম নামে এক বিবাহিত যুবককে (Love Jihad)।

    লাভ জিহাদ (Love Jihad)

    জানা গিয়েছে, বিহারের নারকাটিয়াগঞ্জের বছর ছাব্বিশের সমীর মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে গিয়ে জোর করে সিঁদুর পরিয়ে দেয় বছর সতেরোর মেয়েটির সিঁথিতে। পরে নাবালিকা বুঝতে পারে, পরিচয় গোপন করে তার সঙ্গে প্রতারণা করেছে সমীর। এরপর সমীর মেয়েটিকে কার্যত ঘরবন্দি করে রাখে। বার দুয়েক পালানোর চেষ্টা করলেও, সফল হয়নি সে (Love Jihad)। এর পরেই মেয়েটিকে নেপালে বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সমীর। সেই মতো মেয়েটিকে নিয়ে সে রওনা দেয় নেপালের উদ্দেশে। সীমান্তে সমীরকে জেরা করেন সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানরা।

    পাচারে যুক্ত অভিযুক্ত আলম!

    এই প্রথম নয়, সমীর আগেও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে হিন্দু তরুণীদের বিয়ে করে ধর্মান্তরিত করে নেপালে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ। সমীর এবং ওই মেয়েটিকে নিয়ে থানায় যান সশস্ত্র সীমা বলের জওয়ানরা। সেখানেই গ্রেফতার করা হয় সমীরকে। তদন্ত চালাতে গিয়ে পুলিশ সমীরের মোবাইল থেকে আপত্তিকর কিছু ভিডিও এবং ছবিও উদ্ধার করেছে। সমীর যে নারী পাচারে যুক্ত, তাও জেনেছেন তদন্তকারীরা। ২০২২ সালের ১১ মে-ও এক হিন্দু দলিত মেয়েকে পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

    আরও পড়ুুন: “শেষ জীবনেও মুখ্যমন্ত্রীকে চোর চোর শুনতে হবে”, কটাক্ষ দিলীপ ঘোষের

    হিন্দু মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ কর্নাটকে

    এদিকে, বছর আঠাশের এক বিবাহিত মহিলাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরণ করার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামী-সহ সাতজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থল কর্নাটক। ওই মহিলার অভিযোগ, রফিক নামের এক ব্যক্তির খপ্পরে পড়েন তিনি। নিজের স্ত্রীর সামনেই রফিক তাঁকে ধর্ষণ করে। তাঁকে বোরখা পরতেও বাধ্য করে। নিষেধ করা হয় সিঁদুর পরতেও। এমনকী, রফিকের স্ত্রী ওই মহিলাকে রফিকের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে উৎসাহ দেয়। পরে ওই মহিলার ছবি তুলে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে রফিক। সিঁদুর পরতে না দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে পাঁচ ওয়াক্ত নমাজ আদায় করতেও বলে রফিক। ইসলামে ধর্মান্তরিত হতেও দেওয়া হয় চাপ। গ্রেফতার করা হয়েছে রফিককে (Love Jihad)।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • Aligarh Muslim University: ভাঙল ১০০ বছরের ইতিহাস! আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় পেল প্রথম মহিলা উপাচার্য

    Aligarh Muslim University: ভাঙল ১০০ বছরের ইতিহাস! আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় পেল প্রথম মহিলা উপাচার্য

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহিলা উপাচার্য পেল আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (AMU)। ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও মহিলা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ আসনে বসলেন। এএমইউ-এর (Aligarh Muslim University) উপাচার্য হিসাবে নিযুক্ত হলেন অধ্যাপিকা নাইমা খাতুন। আগামী পাঁচ বছর তিনিই এই পদে থাকবেন। শিক্ষা মন্ত্রকের অনুমোদনের পরই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নতুন উপাচার্যের নিয়োগপত্রে সই করেন। নিয়োগপত্র পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় এএমইউ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। সেই বিজ্ঞপ্তিতে নাইমা খাতুনকে আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (woman Vice-Chancellor) হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের বক্তব্য

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়কে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, “ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শক হিসাবে তাঁর ক্ষমতায়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাইমা খাতুনকে পাঁচ বছরের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করেছেন।” ভোট চলাকালীন যেহেতু এখন নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি রয়েছে, তাই এই নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনেরও (ECI) অনুমতি নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কমিশন শর্ত আরোপ করে জানিয়েছে, “এই নিয়োগ নিয়ে কোনও প্রচার হবে না এবং এর থেকে কোনও রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যাবে না।”

    আরও পড়ুনঃ শতাব্দীর ওপর ক্ষোভ জানিয়ে তিনশো সংখ্যালঘু পরিবার যোগ দিল বিজেপিতে

    এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী ছিলেন নাইমা

    উল্লেখ্য, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী ছিলেন নাইমা (Naima Khatoon), এখান থেকে সাইকোলজিতে পিএইচডি করেন তিনি। ১৯৮৮ সালে সেই বিভাগেই লেকচারার হিসাবে যোগ দেন। ২০০৬ সালে প্রফেসর হন। এরপর ২০১৪ সালে ওমেন্স কলেজের প্রিন্সিপাল হিসাবে যোগ দেন। প্রসঙ্গত এর আগে ১৯২০ সালে এএমইউ-তে আচার্য হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বেগম সুলতান জাহান। সেই সময় তিনি ছিলেন একমাত্র মহিলা আচার্য। আর এবার প্রথম মহিলা উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ হলেন অধ্যাপিকা নাইমা খাতুন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Lok Sabha Election 2024: ঝাঁঝাঁ রোদ! ভোট দেবেন কী ভাবে? বৈঠক নির্বাচন কমিশনের

    Lok Sabha Election 2024: ঝাঁঝাঁ রোদ! ভোট দেবেন কী ভাবে? বৈঠক নির্বাচন কমিশনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশ জুড়ে চলছে তাপপ্রবাহ। এর মধ্যেই চলছে লোকসভা নির্বাচন (Loksabha Election 2024)। প্রথম দফা ভোট মিটলেও এখনও বাকি ছয় দফা। এর মাঝেই আবহাওয়া দফতরের (IMD) তরফে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে আগামী দিনগুলিতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় স্বাভাবিকের থেকে বেশি হবে তাপমাত্রা। এই অসহনীয় গরমে কীভাবে ভোট দেবেন তা ভেবেই নাজেহাল বাসিন্দারা। ব্যবস্থা করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। 

    বৈঠকে কমিশন

    গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভোট আয়োজনের জন্য সোমবার আবহাওয়া দফতর সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসল নির্বাচন (Loksabha Election 2024) কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী কমিশনার রাজীব কুমারের সঙ্গে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধু এই বৈঠকটি পরিচালনা করেন। এই গরমে কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করে সুষ্ঠুভাবে পুরো নির্বাচনটি সম্পন্ন করা যাবে? তাপপ্রবাহ থেকে কীভাবে রক্ষা করা যাবে ভোটারদের? এর উত্তর খুঁজতে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের কর্তাদের পাশাপাশি হাজির ছিলেন ভারতীয় আবহাওয়া দফতর, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ, স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের আধিকারিকরা।

    কী বলছে আবহাওয়া দফতর

    এপ্রসঙ্গে ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের ডিজি মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র বলেন, “আবহাওয়া দফতরের তরফে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। ঋতু অনুযায়ী পূর্বাভাস দেওয়ার পাশাপাশি আমরা মাসিক, সাপ্তাহিক ও প্রতিদিনের পূর্বাভাস দিচ্ছি এবং তাদের তাপপ্রবাহ এবং আর্দ্রতা সম্পর্কেও পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন দফায় যেখানে যেখান ভোটগ্রহণ হবে সেই এলাকাগুলি সম্পর্কেও কমিশনকে তথ্য ও পূর্বাভাস পৌঁছে দিচ্ছি আমরা।” উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল তাপপ্রবাহের এই মরশুমে নির্বাচন নিয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত তা নিয়ে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতে কীভাবে এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। বৈঠকে লোকসভা নির্বাচনের (Loksabha Election 2024) সময় তাপপ্রবাহের কারণে ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নিয়ে আলোচন হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Indian Spice Brands: ক্ষতিকারক! ২ দেশে নিষিদ্ধ ভারতের ২ মশলা ব্র্যান্ড, নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ কেন্দ্রের

    Indian Spice Brands: ক্ষতিকারক! ২ দেশে নিষিদ্ধ ভারতের ২ মশলা ব্র্যান্ড, নমুনা সংগ্রহের নির্দেশ কেন্দ্রের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকার ফুড কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে, দেশের সমস্ত মশলা কোম্পানির নমুনা সংগ্রহ করার জন্য। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, হংকং এবং সিঙ্গাপুরে ভারতের দুটি মশলাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই দুটি হল প্রভূত জনপ্রিয় এমডিএইচ এবং এভারেস্ট (Indian Spice Brands)। এই দুটি মশলা কোম্পানির প্রোডাক্টে ক্যান্সারের উপাদান পাওয়া গিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

    ৩-৪ দিনের ভিতর নমুনা সংগ্রহ

    এ নিয়ে দেশের সমস্ত ফুড কমিশনারকে সতর্ক করা হয়েছে। ভারতীয় মশলা কোম্পানিগুলির নমুনা সংগ্রহ করারও কাজ শুরু  হয়েছে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে নির্দেশে জারি করা হয়েছে। আগামী তিন চার দিনের ভেতরে সমস্ত মশলা কোম্পানির নমুনা সংগ্রহ করা (Indian Spice Brands) সম্পন্ন হবে বলে কেন্দ্রীয় সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে। শুধুমাত্র এমডিএইচ অথবা এভারেস্ট কোম্পানিরই নয়, বিভিন্ন অন্যান্য মশলা কোম্পানিরও নমুনা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়েছে। এই মশলার নমুমা গুলির রিপোর্ট কুড়ি দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানা গিয়েছে।

    হংকং এবং সিঙ্গাপুরের প্রশাসন সেদেশের মানুষজনকে সতর্ক করেছে

    প্রসঙ্গত, হংকং এবং সিঙ্গাপুরের প্রশাসন সেদেশের মানুষজনকে সতর্ক করেছে এমডিএইচ এবং এভারেস্টের ব্র্যান্ড যেন ব্যবহার না করা হয়। কারণ হিসেবে তারা বলেছেন, এখানে রয়েছে ইথিলিন অক্সাইড এর উপাদান যা ক্যান্সারের প্রবণতাকে বাড়িয়ে (Indian Spice Brands) দিতে পারে। হংকং এর ‘সেন্টার ফর সেফটি ফুড’ এই মর্মে বিবৃতি দিয়েছে চলতি মাসের ৫ তারিখে। অন্যদিকে ‘সিঙ্গাপুর ফুড এজেন্সি’ একই নির্দেশ দিয়েছে।

    ইথিলিন অক্সাইড ভারতে নিষিদ্ধ রয়েছে

    প্রসঙ্গত, ইথিলিন অক্সাইড ভারতে নিষিদ্ধ রয়েছে। এই ক্ষতিকারক উপাদান যদি দেখা যায় এমডিএইচ এবং এভারেস্টে ব্যবহার করা হচ্ছে তাহলে অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইতিমধ্যে মশলা বোর্ডের কাছে আবেদন (Indian Spice Brands) জানানো হয়েছে এই মর্মে। ভারতীয় শিল্প-বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনে পড়ে মশলা বোর্ড। মশলা বোর্ডকে সচেতনতা ছড়াতে বলা হয়েছে, যাতে কোনও ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করা না হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Chittagong : জালালাবাদের মুক্তি যুদ্ধ, ভারতের ইতিহাসে এক প্রেরণা ২২শে এপ্রিল ১৯৩০

    Chittagong : জালালাবাদের মুক্তি যুদ্ধ, ভারতের ইতিহাসে এক প্রেরণা ২২শে এপ্রিল ১৯৩০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জেলে মাস্টারদার সঙ্গী ছিল চারটি বই। গীতা, চণ্ডী, মহাভারত আর রবীন্দ্রনাথের ‘চয়নিকা’। খুব ভোরে উঠে ব্রহ্মসঙ্গীত গাইতেন বা স্তোত্রপাঠ করতেন। সকাল কেটে যেত গীতা পাঠে, দুপুরে পড়তেন মহাভারত। গীতা থেকেই রাজনীতির পাঠ নিতেন মাস্টারদা সূর্য সেন। গীতাই তাঁকে শিখিয়েছিল বিশ্বাস, সততা আর জেদকে সঙ্গী করে কীভাবে মুক্তির স্বপ্ন দেখা যায়। নিজের অধিকারের লড়াই লড়া যায়। সেই জেদকে সঙ্গী করেই একদল বাঙালি বিপ্লবীকে নিয়ে ব্রিটিশদের বৃহৎ সৈন্যদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন মাস্টারদা। দিনটি ছিল ২২ এপ্রিল ১৯৩০

    জালালাবাদের পাহাড়ে মুক্তিযুদ্ধ

    ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল চট্টগ্রামে হল সশস্ত্র অভ্যুত্থান। ২২শে এপ্রিল ১৯৩০। জালালাবাদ যুদ্ধ। মাস্টারদা পুরো দলবলসহ এসে পৌঁছলেন জালালাবাদ পাহাড়ের নিচে। সিদ্ধান্ত হল পাহাড়ে চড়ার। ১৮ থেকে ২২ এপ্রিল, চারটে দিন পাহাড়েই কেটেছিল বিপ্লবীদের। খাবারও জোটেনি কিছু। বিপ্লবী লোকনাথ বল জানিয়েছিলেন মাঝে মাঝে পাহাড়ের কাঁচা আম, তেঁতুল পাতা, দু একটা চুরি করে আনা বিস্কুট, একবেলা সামান্য খিচুড়ি আর ঘোলা জল খেয়ে এই চার দিন কাটিয়েছিলেন তাঁরা। সূর্য সেন, নির্মল সেন, অম্বিকা চক্রবর্তী ও লোকনাথ বল ছিলেন বিপ্লবী দলটির নেতা। তাঁদের সঙ্গী ছিলেন ৬৩ জন মুক্তি-পাগল কিশোর, ছাত্র ও তরুণ বিপ্লবীরা। সর্ব কনিষ্ঠ বিপ্লবীর বয়স ছিল ১৪ কি ১৫ বছর। 

    পাহাড় থেকে লড়াই

    ২২ এপ্রিল, ১৯৩০ ওইদিন সবাই যখন ভোরবেলা মাস্টারদার নেতৃত্বে পাহাড়ে চড়েছেন সেইদিন বিকেল চারটের সময় চট্টগ্রাম নাজিরহাট শাখা রেল লাইনের ‘ঝরঝরিয়া বটতলা’ মসজিদের পাশে এসে থামল একটি ট্রেন। রেলগাড়ি থেকে নেমে এল ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস ও সুর্মা ভ্যালি লাইট ইনফ্যান্ট্রির সশস্ত্র সেনাবাহিনীর দল। তারা রওনা হল জালালাবাদ পাহাড়ের উদ্দেশ্যে। পাহাড়ের দুদিকে অন্য দুটো উঁচু পাহাড়ের মাথায় বসানো হল মেশিনগান। ইতিমধ্যে বিপ্লবী লোকনাথ বলের নির্দেশে আটভাগে বিপ্লবীদের বাহিনীকে পাহাড়ের চারপাশে সাজানো হল। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল জালালাবাদ পাহাড়ের দুই দিক দিয়ে বহুসংখ্যক শত্রুপক্ষের সৈন্য ওপরে উঠে আসবার চেষ্টা করছে। তারা যখন পাহাড়ের প্রায় অর্ধেকটা উঠে এসেছে, এমন সময় লোকনাথ বলের আদেশে বিদ্রোহী বাহিনী বীর বিক্রমে তাদের ওপরে প্রচন্ডভাবে গুলিবর্ষণ আরম্ভ করল। তাদের অনেকেই প্রাণ হারিয়ে গড়িয়ে নিচে পড়ে গেল এবং অনেকেই গুরুতরভাবে আহত হয়ে পড়ে রইল। বাকি সকলেই পেছনে ফিরে ছুটে পালিয়ে গিয়ে দূরে একটি গভীর নালার মধ্যে আশ্রয় নিল। কয়েক মিনিট পরে তারা আবার বেপরোয়া হয়ে পাহাড়ে উঠবার চেষ্টা করল। কিন্তু এবার তারা পাহাড়ের অর্ধেকটুকুও উঠতে পারল না। ওপরের বিপ্লবীদের প্রচন্ড গুলিবর্ষণে তাদের অনেকেই পূর্বের ন্যায় নিহত ও আহত হল এবং কয়েক সেকেন্ড পরে তারা আবার পালিয়ে গেল। তারপর অকস্মাৎ জালালাবাদ পাহাড়টির দুদিকের দুটি উচ্চতর পাহাড় থেকে জালালাবাদ পাহাড়ের ওপর মেশিনগানের গুলিবর্ষণ আরম্ভ হল। বিপ্লবীদের পক্ষ থেকেও প্রচন্ডভাবে প্রত্যুত্তর দেওয়া হল। কিন্তু শত্রুপক্ষের মেশিনগানের গুলিতে হরিগোপাল বল, নির্মল লালা, প্রভাস বল, পুলিন ঘোষ, মধুসূদন দত্ত, জিতেন দাশগুপ্ত, নরেশ রায়, বিধু ভট্টাচার্য, ত্রিপুরা সেন, শশাঙ্ক দত্ত এবং মতি কানুনগো প্রাণ হারিয়ে শহিদের অমরত্ব লাভ করেন। 

    বাঙালি বিপ্লবীদের বীর গাথা

    সে যুদ্ধে প্রথম শহীদ হয়েছিলেন লোকনাথ বলের ছোট ভাই ১৬ কি ১৭ বছরের বিপ্লবী হরিগোপাল (টেগরা) বল। ১২জন বিপ্লবী বীরের মৃত্যু বরণ করলেন। কিন্তু হার মানলেন না। রাতের অন্ধকারে যুদ্ধ-বিরতি নিতে বাধ্য হল ব্রিটিশ সেনারা। রাতের অন্ধকারেই একটা একটা করে দেহ নিয়ে আসা হল মাস্টারদার কাছে। মাস্টারদা শহিদদের নিথর বুকের ওপর কান রেখে বসে থাকেন কিছুক্ষণ, যদি হৃদপিণ্ডের স্পন্দন শোনা যায়! যদি প্রাণ থাকে, যদি বাঁচানো যায়। নির্মল লালার মুখে যেন তখনও হাসি লেগে আছে। ওর মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিয়ে অনেকক্ষণ চেয়ে থাকেন সর্বকনিষ্ঠ এই শহিদের মুখের দিকে। তারপর নির্মলের মাথাটা অতি যত্নে মাটিতে নামিয়ে রেখে উঠে দাঁড়ালেন তিনি। সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানিয়ে ধীরে ধীরে বললেন, চলো এবার সবাই। জালালাবাদ পাহাড়ে শহিদদের স্যালুট দিয়ে জীবিত বিপ্লবীরা ছড়িয়ে পড়লেন এ দিক-ও দিক। আহত যে সব সঙ্গীরা চলার ক্ষমতা হারিয়েছিলেন তাঁদেরকে বহন করে এনেছিলেন অন্যেরা। 

    আরও পড়ুনঃ প্রথমবার পেট্রাপোল পেরিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছালেন মহিলা ট্রাকচালক

    মাস্টারদার আত্মত্যাগ

    যুদ্ধের পর সূর্য সেন, নির্মল সেন, লোকনাথ বল প্রমুখদের আশ্রয় দিয়েছিলেন কোয়াপাড়া গ্রামের বিনয় সেন। সূর্য সেন ছোট ছোট দলে বিভক্ত করে তার লোকজনকে পার্শ্ববর্তী গ্রামে লুকিয়ে রাখেন এবং বিপ্লবীরা পালাতে সক্ষম হয়। কলকাতা পালিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন গ্রেফতার হয়। কয়েকজন বিপ্লবী পুনরায় সংগঠিত হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর, ১৯৩২ সালে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের নেতৃত্বে আবারও আন্দোলন সংগঠিত করেন। মাস্টারদা-কে ধরার জন্য ব্রিটিশ সরকার ৫০০০ টাকার পরিবর্তে ১০,০০০ পুরস্কার ঘোষণা করে। ১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ধরা পড়েন সূর্য সেন। ১৯৩৪ সালের ১১ জানুয়ারি ফাঁসি হয় সূর্য সেনের। এক চিঠিতে মাস্টারদা লিখেছেন, ‘গীতায় শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, মানুষ যেমন জীর্ণবস্ত্র পরিত্যাগ করে নূতন বস্ত্র গ্রহণ করে, সেরূপ আত্মা জীর্ণ শরীর ত্যাগ করে অন্য নূতন দেহ ধারণ করে।’ এই উপলব্ধি থেকেই হয়ত মৃত্যুভয় না করেই মাস্টার দা ও তাঁর শিষ্যরা লড়াই করে গিয়েছেন আজীবন। তাঁদের ছিল একটাই স্বপ্ন স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন, উন্নত ভারতের স্বপ্ন, ভারতের অমৃতকালের স্বপ্ন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share