Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    PM Modi: “তাঁর সাহস ও দেশপ্রেম সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে”, বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী মোদির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনায়ক দামোদর সাভারকরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বীর সাভারকরের (Veer Savarkar) জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সাভারকরের অদম্য সাহস এবং দেশপ্রেম চিরকাল দেশবাসীকে অনুপ্রাণিত করবে।” একই সঙ্গে তাঁর তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ওপর দেওয়া বিশেষ জোরের কথাও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

    নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বীর সাভারকারের জন্মদিনে অভিনন্দন জানিয়ে বিশেষ মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বীর সাভারকরের জয়ন্তীতে তাঁকে সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি। তাঁর অসীম সাহস ও গভীর দেশপ্রেম প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ে সর্বদা অনুপ্রেরণা জোগাবে। এর পাশাপাশি তাঁর অসামান্য বুদ্ধিমত্তা এবং সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অত্যন্ত স্মরণীয় ও তাৎপর্যপূর্ণ।”

    ‘অস্ত্র ও শাস্ত্রের উপাসক’, সাভারকরের বহুমুখী ব্যক্তিত্ব (PM Modi)

    শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা শেয়ার করেন। সেখানে তিনি বীর সাভারকরের (Veer Savarkar)  বহুমুখী প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ২৮ মে, মহান স্বাধীনতা সংগ্রামী বীর সাভারকরের জন্মজয়ন্তী। তাঁর ত্যাগ, বীরত্ব এবং সংকল্প আমাদের অনবরত প্রেরণা দিয়ে চলেছে। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অনন্য বৈশিষ্ট্যে ভরপুর। তিনি একাধারে যেমন অস্ত্রের উপাসক ছিলেন, তেমনই ছিলেন শাস্ত্রের একনিষ্ঠ সাধক।” প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “সাভারকর কেবল একজন নির্ভীক সংগ্রামীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন শক্তিশালী কবি এবং দূরদর্শী সমাজ সংস্কারক, যিনি সমাজ থেকে অস্পৃশ্যতা ও ভেদাভেদ দূর করে জাতীয় ঐক্য ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন কাজ করে গেছেন।”

    আন্দামানের ‘কালাপানি’ স্মৃতি রোমন্থন

    ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের সেলুলার জেলে তাঁর সফরের আবেগঘন স্মৃতি স্মরণ করেন। যেখানে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসকেরা বীর সাভারকরকে কঠোর ‘কালাপানি’ বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিয়ে বন্দি করে রেখেছিল, জীবনের ২৫টি বছর জেল খেটেছেন । তাঁর ত্যাগ দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত আবেগপূর্ণ কণ্ঠে বলেন, “আমি সেই দিনটির কথা কখনই ভুলতে পারব না, যখন আমি আন্দামানের সেই ঐতিহাসিক কারাগারে গিয়েছিলাম যেখানে বীর সাভারকরজি কালাপানির নির্মম নির্যাতন সহ্য করেছিলেন। সাভারকরজির ব্যক্তিত্ব ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং সুবিস্তৃত। তাঁর নির্ভীক ও আত্মমর্যাদাশীল স্বভাব কখনোই দাসত্বের মানসিকতার কাছে মাথা নত করেনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর সর্বস্ব ত্যাগ ও অবদানকে আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।”

    চন্দ্রনাথ বসুর হিন্দুত্বে প্রভাবিত

    উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালের ২৮ মে মহারাষ্ট্রের নাসিকে জন্মগ্রহণ করেন বিনায়ক দামোদর সাভারকর, যিনি দেশবাসীর কাছে ‘বীর সাভারকর’ (Veer Savarkar) নামে সমধিক পরিচিত। তিনি ছিলেন একাধারে বিশিষ্ট স্বাধীনতা সংগ্রামী, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী এবং লেখক। ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ইতিহাসে ‘হিন্দুত্ব’ (Hindutva) শব্দটির প্রবক্তা হিসেবে তিনি ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং হিন্দু মহাসভার অন্যতম শীর্ষ নেতা ছিলেন।

    লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল

    বিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পুনের ফার্গুসন কলেজে অধ্যায়নকালেও এই ধারা বজায় রাখেন। উনিশ শতকের বাঙালি চন্দ্রনাথ বসুর ১৮৯২ সালে লেখা “হিন্দুত্ব” গ্রন্থের দ্বারা ব্যাপক ভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল বীর সাভারকার। একজন মারাঠার রক্তে গতি স্রোত বইয়ে দিয়েছিলেন চন্দ্রনাথ বসু। সেই সঙ্গে হিন্দুত্বের মধ্যে জাতীয়তাবাদী নেতা লোকমান্য তিলকের আদর্শ তাঁকে গভীরভাবে করেছিল। পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যে আইন পড়ার সময় তিনি ‘ইন্ডিয়া হাউস’ এবং ‘ফ্রি ইন্ডিয়া সোসাইটি’-র মতো বিপ্লবী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহকে কেন্দ্র করে তাঁর রচিত ‘দ্য ইন্ডিয়ান ওয়ার অফ ইন্ডিপেন্ডেন্স’ বইটি তৎকালীন ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। ভারতের স্বাধীনতার জন্য তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর ত্যাগের কথা দেশজুরে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে আপমার দেশবাসী।

    “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়

    সভারকার স্বয়ং দয়ানন্দ সরস্বতী, স্বামী বিবেকানন্দ ও শ্রী অরবিন্দ সমাজ সংস্কার এবং হিন্দুধর্মকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করেছিলেন। কিন্তু সাভারকর হিন্দু জাতীয়তাবাদের আরও কঠোর ও রাজনৈতিক একটি ধারণা তৈরি করেন। কারাগারে থাকার সময় সাভারকরের চিন্তাধারা ধীরে ধীরে হিন্দু সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের দিকে চলে যায়। পরে তিনি পুরো জীবন এই ধারণা প্রচারে ব্যয় করেন। রত্নগিরি জেলে থাকাকালে তিনি “হিন্দুত্বের অপরিহার্যতা” নামে একটি বই লেখেন।

    এই বইয়ে তিনি “হিন্দু” শব্দটিকে শুধু ধর্মীয় পরিচয় হিসেবে নয়, বরং ভারতের প্রতি অনুগত মানুষের পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি মনে করতেন হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধ সবাই একই সাংস্কৃতিক পরিবারের অংশ। তাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি “হিন্দু রাষ্ট্র” গঠন করা উচিত, যা পুরো ভারতীয় উপমহাদেশজুড়ে বিস্তৃত হবে।

    সাভারকর হিন্দু সমাজের অনেক পুরোনো রীতি ও কুসংস্কারের সমালোচনা করতেন। তিনি মনে করতেন এসব কারণে হিন্দু সমাজের উন্নতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে তিনি এটাও বিশ্বাস করতেন যে ধর্ম হিন্দু পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বর্ণপ্রথার বিরোধিতা করেছিলেন। ১৯৩১ সালে লেখা এক প্রবন্ধে তিনি বলেন, কঠোর বর্ণব্যবস্থা অতীতের এমন একটি প্রথা যা বাতিল করে দেওয়া উচিত। আজ দেশজুড়ে তাঁর জন্মজয়ন্তীতে হিন্দুত্বের জয় গান ধ্বনিত হচ্ছে সারা দেশব্যাপী।

  • Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    Amit Shah: সীমান্তে কড়া অ্যাকশন অমিত শাহের, ১৫ কিমির মধ্যে সব অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে এবার আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাশাপাশি সীমান্ত জেলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন, জাল আধার চক্র, মাদক পাচার, অনুপ্রবেশ এবং ভুয়ো সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাজস্থানের বিকানেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা বৈঠকে এই নির্দেশ দেন অমিত শাহ। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা, রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক, পাঁচ সীমান্ত জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। এই পাঁচ জেলা হল বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রীগঙ্গানগর এবং ফলোদি।

    ১৫ কিমি সীমান্ত এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার নির্দেশ

    বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে বেআইনিভাবে তৈরি হওয়া সমস্ত নির্মাণের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা এই ধরনের সমস্ত অবৈধ কাঠামো চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ নির্মাণ অনেক সময় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, বেআইনি আর্থিক লেনদেন এবং জঙ্গি কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তাই এই ধরনের নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

    ব্যাঙ্ক লেনদেন ও ভুয়ো সংস্থার উপর কড়া নজর

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসকদের আরও বেশি ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সীমান্ত এলাকায় সমস্ত ব্যাঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বৈধতা খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলির অর্থের উৎস যাচাই, ভুয়ো সংস্থা বা শেল কোম্পানি শনাক্ত করা, মিউল অ্যাকাউন্টের সন্ধান এবং জাল আধার কার্ড চক্র ধরতে হবে প্রশাসনকে। আধিকারিকদের মতে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অনেক সময় ভুয়ো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অর্থ পাচার, জঙ্গি অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক চোরাচালান চালানো হয়। সেই কারণেই আর্থিক নজরদারিকে এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ করা হচ্ছে।

    মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা

    বৈঠকে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিকে মাদক পাচার ও অপরাধ চক্রের উৎস, নেটওয়ার্ক এবং কার্যপদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত সমীক্ষা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাৎক্ষণিক অভিযান নয়, যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ ফের মাথাচাড়া না দেয়, সেই লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান তৈরির উপর জোর দিয়েছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘সীমান্ত সুরক্ষা শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নয়, এর সঙ্গে সাধারণ মানুষ, প্রশাসন এবং বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও একযোগে কাজ করতে হবে। সেই কারণে প্রতিটি সীমান্ত জেলার জন্য ‘৩৬০ ডিগ্রি সিকিউরিটি কভার’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’’

    বিএসএফ, এনসিবি ও কর দফতরের যৌথ সমন্বয়ের উপর জোর

    অমিত শাহ সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বিএসএফ, সিবিডিটি, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) এবং রাজ্য প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত পদক্ষেপের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, জমি দখল, জঙ্গি অর্থায়ন এবং অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় যৌথ কৌশল গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

    সীমান্তবর্তী গ্রামের উন্নয়নেও জোর দিয়েছে কেন্দ্র। বৈঠকে ‘ভাইব্র্যান্ট ভিলেজ প্রোগ্রাম-২’ দ্রুত কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য সীমান্ত গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রশাসনিক পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া, অর্থনৈতিক অপরাধ রোধ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। শাহ নির্দেশ দেন, সীমান্ত গ্রামের প্রতিটি পরিবার যাতে কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ ১০০ শতাংশ ‘স্যাচুরেশন’ নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকে।

    সাইবার অপরাধ রুখতে ‘১৯৩০’ হেল্পলাইনের ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ

    সাইবার অপরাধ মোকাবিলাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ দেন, জাতীয় সাইবার প্রতারণা হেল্পলাইন ‘১৯৩০’-এর কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অনলাইন প্রতারণা, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি এবং সাইবার অপরাধ রুখতে এই ব্যবস্থাকে আরও সক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে।

    দু’মাস পর ফের পর্যালোচনা

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আগামী দু’মাস পর এই সমস্ত নির্দেশের অগ্রগতি নিয়ে ফের পর্যালোচনা বৈঠক করা হবে। তাই প্রতিটি জেলাকে ফলপ্রসূ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে বলে কড়া বার্তা দিয়েছেন অমিত শাহ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তান সীমান্ত ঘেঁষা রাজস্থানের মরু অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাদক পাচার, ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ এবং বেআইনি আর্থিক লেনদেনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্র এবার আরও কড়া নিরাপত্তা নীতি গ্রহণ করছে।

  • ED Raid: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িতে ইডি, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ১০ জায়গায় অভিযান

    ED Raid: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয়নের বাড়িতে ইডি, আর্থিক দুর্নীতির মামলায় ১০ জায়গায় অভিযান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের (Pinarayi Vijayan) বাড়িতে বুধবার তল্লাশি অভিযানে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED Raid)। ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’ (সিএমআরএল) সংক্রান্ত এক দুর্নীতি মামলার সূত্র ধরেই এই তল্লাশি। ওই মামলায় জড়িত বিজয়নের কন্যা। শুধু বিজয়নের বাড়ি নয়, এই মামলায় কেরল জুড়ে আরও ন’জয়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি।

    কেন বিজয়নের বাড়িতে ইডি

    এর আগে কেরল হাই কোর্ট সিএমআরএলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সিএমআরএল আবেদন করেছিল, ইডি তদন্ত যেন দু’সপ্তাহ স্থগিত থাকে। তদন্তে নেমে যেন ইডি সংস্থার কর্মকর্তাদের তলব না করে। পিনারাই বিজয়নের কন্যা টি বীণা-র নামে রয়েছে কোচি মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (Cochin Minerals and Rutile Limited)। সেই সংস্থায় আর্থিক তছরুপ ও দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করছে। ইডি কর্তাদের উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিজয়নের কন্যা টি বীণার সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’-এর বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের অংশ হিসেবে পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে এই তল্লাশি অভিযান। অভিযোগ এই ‘এক্সালজিক সলিউশনস প্রাইভেট লিমিটেড’ (Exalogic Solutions Pvt Ltd) -কে নাকি সিএমআরএল -এর পক্ষ থেকে নাকি নিয়মিত অর্থ দেওয়া হত। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে কোনও পরিষেবা না নিয়েই ওই সংস্থাকে মাসিক অর্থ দেওয়া হয়। আর বিরোধীরা এই নিয়ে নিশানা করেন বিজয়ন পরিবারকে। একাধিকবার অভিযোগ ওঠে দুর্নীতির।

    বিজয়নের কন্যার বিরুদ্ধে অভিযোগ দীর্ঘদিনের

    সম্প্রতি কেরালার পালাবদল হয়েছে। সরকারি বাসভবন ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে চলে গিয়েছেন পিনারাই বিজয়ন। জানা গিয়েছে, বুধবার কেরালার ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছে ইডি। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুসারে, তিরুবনন্তপুরমে বিজয়নের ভাড়া করা বাড়ি-সহ কেরালা জুড়ে মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিজয়নের কন্যার মালিকানাধীন সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনস (Exalogic Solutions)-কে অবৈধভাবে ১.৭২ কোটি টাকা দিয়েছিল সিএমআরএল বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও ওই আইটি সংস্থা সিএমআরএল-কে কোনও পরিষেবা দেয়নি। ওই অভিযোগের তদন্ত করার জন্য ২০২৪ সালে মামলা দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির এই তদন্ত বাতিল করে দেওয়ার আবেদন জানিয়ে কেরালা হাইকোর্টে আবেদন করেছিল সিএমআরএল। কেরালা হাইকোর্ট ওই পিটিশন খারিজ করে দেওয়ার একদিন পরে এই তল্লাশি চালানো হয়।

  • Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    Supreme Court SIR Verdict: দেশজুড়ে এসআইআর-কে বৈধ ঘোষণা, নাগরিকত্ব যাচাই করতেই পারে নির্বাচন কমিশন, স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক ঐতিহাসিক রায়ে নির্বাচন কমিশনের (ECI) ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ সংক্ষেপে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এই উদ্যোগ সংবিধানের “স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন” নিশ্চিত করার মূল উদ্দেশ্যকে শক্তিশালী করে এবং নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যেই থেকে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দেয়। ২০২৫ সালের জুন মাসে দায়ের হওয়া একাধিক রিট পিটিশনের শুনানির পর এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। মামলাগুলিতে বিহারে শুরু হওয়া প্রথম দফার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

    কী ছিল মামলাকারীদের অভিযোগ?

    আবেদনকারীদের দাবি ছিল, নির্বাচন কমিশন এই বিশেষ পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে কার্যত নাগরিকত্ব নির্ধারণকারী সংস্থার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত, তাঁদের আবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বাধ্য করা আইনের পরিপন্থী। মামলাকারীদের আরও অভিযোগ ছিল, এই প্রক্রিয়া সাধারণ ভোটারদের উপর অতিরিক্ত নথিপত্রের চাপ তৈরি করছে এবং বহু মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট এই সমস্ত যুক্তি খারিজ করে দেয়।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ

    রায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ১৯৫০-এর জনপ্রতিনিধি আইনের (Representation of the People Act) ২১(৩) ধারার অধীনে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পুনর্বিবেচনা চালানোর পূর্ণ ক্ষমতা রয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করে, আইন যখন কমিশনকে “যে কোনও সময় বিশেষ পুনর্বিবেচনা” করার অনুমতি দিয়েছে, তখন শুধুমাত্র নিয়মিত পুনর্বিবেচনার প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে সম্পূর্ণ মিল না থাকার কারণে এসআইআরকে অবৈধ বলা যায় না। বেঞ্চের মতে, এই এসআইআর (SIR) কোনওভাবেই বিদ্যমান আইনকে প্রতিস্থাপন করছে না, বরং সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদের মূল উদ্দেশ্যকে কার্যকর করছে।

    “ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা জরুরি”

    সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানায়, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন শুধুমাত্র ভোটগ্রহণের ব্যবস্থার উপর নির্ভর করে না, বরং নির্ভর করে ভোটার তালিকার নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতার উপর। আদালতের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভোটার তালিকার শুদ্ধিকরণ একটি প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক পদক্ষেপ। আদালত উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশন যে কারণগুলি দেখিয়ে এসআইআর (SIR) চালু করেছে, তা যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত। যেমন—

    • ● চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশে পূর্ণাঙ্গ নিবিড় সংশোধন হয়নি
    • ● বছরের পর বছর ব্যাপক হারে নাম সংযোজন ও বিয়োজন হয়েছে
    • ● দ্রুত নগরায়ন ও অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের ফলে ডুপ্লিকেট বা ভুল এন্ট্রির সম্ভাবনা বেড়েছে

    নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষমতা রয়েছে কমিশনের

    রায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নাগরিকত্ব যাচাই প্রসঙ্গে আদালতের অবস্থান। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি বা সংশোধনের সময় নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত প্রশ্ন পরীক্ষা করতে পারে। তবে আদালত একই সঙ্গে স্পষ্ট করেছে, কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধুমাত্র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি বা বাদ পড়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। অর্থাৎ, কাউকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া মানেই তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব চূড়ান্তভাবে বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। শীর্ষ আদালত জানায়, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act) অনুযায়ী নির্ধারিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের হাতেই থাকবে।

    ভোটারদের নথি চাওয়া বৈধ

    সুপ্রিম কোর্ট আরও বলে, ভোটারদের কাছ থেকে নথি চাওয়া মানেই তাঁদের নাগরিকত্বের পূর্বধারণাকে অস্বীকার করা নয়। আদালতের মতে, এটি কেবলমাত্র একটি যাচাইকরণ প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কমিশন বিদ্যমান তথ্য পুনরায় নিশ্চিত করতে বা প্রয়োজন হলে সংশোধন করতে পারে।

    যাঁদের নাম বাদ, তাঁদের তালিকা কেন্দ্রকে পাঠানোর নির্দেশ

    রায়ে সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহের ভিত্তিতে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের নাম চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠাতে হবে।

    ইতিমধ্যেই দুই দফা সম্পন্ন

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বহু অংশে এসআইআর সম্পন্ন করেছে।

    প্রথম দফা

    বিহার (সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ শেষ)

    দ্বিতীয় দফা

    এপ্রিল ২০২৬-এ সম্পন্ন হয়েছে নিম্নলিখিত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে—

    • ● ছত্তিশগড়
    • ● গোয়া
    • ● গুজরাট
    • ● কেরলম
    • ● মধ্যপ্রদেশ
    • ● রাজস্থান
    • ● তামিলনাড়ু
    • ● উত্তরপ্রদেশ
    • ● পশ্চিমবঙ্গ

    এছাড়াও—

    • ● আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ
    • ● লাক্ষাদ্বীপ
    • ● পুদুচেরি

    তৃতীয় দফার প্রস্তুতি

    নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই তৃতীয় দফার ঘোষণা করেছে। আগামী মাসগুলিতে ১৬টি রাজ্য ও ৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এই প্রক্রিয়া চালানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

    • ● অন্ধ্রপ্রদেশ
    • ● কর্নাটক
    • ● তেলঙ্গানা

    তৃতীয় দফা সম্পূর্ণ হলে হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ বাদে গোটা দেশেই এসআইআর (SIR) কার্যকর হয়ে যাবে।

    রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক গুরুত্ব

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হল, অন্যদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কে সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ দিশা দেখাল। তবে বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলির একাংশ এখনও আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে বহু প্রকৃত নাগরিক হয়রানির শিকার হতে পারেন। ফলে আগামী দিনে এসআইআর (SIR)-এর বাস্তব কার্যকারিতা এবং তার প্রশাসনিক প্রয়োগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    India China Relation: ‘নাক গলানোর অধিকার নেই কারও’ কড়া জবাব ভারতের, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ নিয়ে কেন চিন-পাক যৌথ বিবৃতি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ ভারতের “অবিচ্ছেদ্য ও অখণ্ড অংশ”। এই বিষয়ে কোনও দেশের মন্তব্য করার “কোনও অধিকার নেই”। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে জম্মু ও কাশ্মীরের উল্লেখকে দ্ব্যর্থহীন ভাবে সমালোচনা করল ভারত। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “ভারতের অবস্থান সুসংগত এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কাছে সুপরিচিত। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ, দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলই ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ ছিল, আছে এবং সবসময় থাকবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার অধিকার অন্য কোনও দেশের নেই।”

    চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে প্রত্যাখ্যান

    মঙ্গলবার জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ভারতীয় কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর সংক্রান্ত যে মন্তব্য করা হয়েছে, তা ভারত “স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান” করছে। মে ২৬, ২০২৬-এ প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে ভারত তার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনওভাবেই আপসযোগ্য নয়। চিন সফরে গিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ যে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেন, তাতেই ফের উঠে আসে কাশ্মীর প্রসঙ্গ। সেই বিবৃতিতে পাকিস্তান চিনকে জম্মু ও কাশ্মীরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে অবহিত করেছে বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি চিনের তরফে জানানো হয়, রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ভিত্তিতে এই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।

    ভারতীয় ভূখণ্ডে চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর

    চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (China–Pakistan Economic Corridor) নিয়েও ফের আপত্তি জানায় নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, এই প্রকল্পের একটি অংশ পাকিস্তানের বেআইনি দখলে থাকা ভারতীয় ভূখণ্ডের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ফলে এই ধরনের উদ্যোগকে ভারত কখনওই মান্যতা দেবে না। বিদেশ মন্ত্রক আরও জানায়, সিপিইসি-সংক্রান্ত কার্যকলাপ নিয়ে ভারত একাধিকবার চিন ও পাকিস্তান—উভয় দেশকেই নিজেদের আপত্তির কথা জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, “তথাকথিত চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর (সিপিইসি) প্রকল্পের কয়েকটি ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অবস্থিত। আমরা অন্য কোনও দেশের এমন পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করি, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করে পাকিস্তানের বেআইনি ও বলপূর্বক দখলদারিকে বৈধতা দেয়। এই বিষয়টি পাকিস্তানি ও চিনা কর্তৃপক্ষকে একাধিক বার স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়েছে।”

    সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা

    এদিন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলে ভারত। চিন ও পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিতে ‘সীমান্ত পারাপার জলসম্পদ সহযোগিতা’র কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে ভারতের বক্তব্য, চিন এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি কোনও সীমান্তই নেই। ফলে এই ধরনের সহযোগিতার প্রশ্নই ওঠে না। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে আরও জানানো হয়েছে, ১৯৬৩ সালে পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে হওয়া তথাকথিত সীমান্ত চুক্তিকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। উল্লেখ্য, সেই সময় পাকিস্তান শাকসগাম উপত্যকার প্রায় ৫১৮০ বর্গকিলোমিটার এলাকা চিনের হাতে তুলে দেয় বলে ভারতের দাবি।

    প্রকাশ্যে পাকিস্তানকে সমর্থন চিনের

    কূটনৈতিক মহলের মতে, এই যৌথ বিবৃতিতে কাশ্মীর এবং জলসম্পদ প্রসঙ্গ তোলার মাধ্যমে পাকিস্তানকে আরও একবার প্রকাশ্যে সমর্থনের বার্তা দিল বেজিং। একই সঙ্গে ভারতের উপর চাপ তৈরি করার কৌশলও থাকতে পারে এর পিছনে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আরব সাগর এবং পারস্য উপসাগরের কাছে গওয়াদর বন্দরের কৌশলগত গুরুত্বও এই সম্পর্কের অন্যতম কারণ। চিন দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে চাইছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।

    বেজিং-এর প্রাধান্য মেনে নিল ইসলামাবাদ

    অন্যদিকে পাকিস্তান আবারও ‘এক চিন নীতি’র প্রতি সমর্থন জানাতে বাধ্য হয়েছে। অর্থাৎ তাইওয়ানকে চিনের অংশ হিসেবেই মানছে ইসলামাবাদ। চিন সাধারণত বিদেশি রাষ্ট্রনেতাদের সফরের সময় এই নীতির প্রতি সমর্থন আদায় করে থাকে। ২৩ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত চিন সফরে ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সফরকালে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়। দুই দেশই জানিয়েছে, তাদের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে নতুন ঐকমত্য তৈরি হয়েছে।

    কোয়াডের পাল্টা বেজিংয়ের বিবৃতি

    সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াডের বৈঠকে  ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের প্রভাব ঠেকাতেও তৎপর হয়েছে ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াড। মঙ্গলবার দিল্লিতে চতুর্দেশীয় জোটে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক শেষে সেই বার্তাই উঠে এসেছে। চিনকে ঠেকাতে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজিতে যৌথ ভাবে বন্দর বানাবে কোয়াড গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি। পাশাপাশি রফতানি ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোয়াড। সরাসরি কোনও দেশের নামোল্লেখ করেনি তারা। ইঙ্গিত ছিল চিনের দিকেই বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ। কারণ, বিরল খনিজ রফতানির ক্ষেত্রে গত বছর থেকে কড়াকড়ি শুরু করেছে চিন। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, এমনকি ভারতেও। কোয়াডের এই ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্তেই ধাক্কা খেয়েছে বেজিং, তাই পাকিস্তানকে পাশে নিয়ে এই বিবৃতি, বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অন্যদিকে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের পহেলগাঁও হামলারও কড়া নিন্দা করেছে কোয়াড।

    দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কড়া ভারত

    এই আবহেই চিন-পাকিস্তানের যৌথ বিবৃতিকে কেন্দ্র করে ভারত ফের কড়া কূটনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করল। বিশেষ করে কাশ্মীর, লাদাখ এবং সিপিইসি ইস্যুতে নয়াদিল্লি যে কোনও আপসের পথে হাঁটবে না, সেই বার্তাই আরও একবার তুলে ধরা হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কাশ্মীর ইস্যু এবং বিতর্কিত অঞ্চলে চিন-পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা ঘিরে যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, ভারতের কড়া প্রতিক্রিয়া তারই প্রতিফলন। মোদি সরকারের পরিষ্কার বার্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা নিয়ে আপোষ নয়।

  • PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    PM Modi: মোদির নেদারল্যান্ডস সফর ছিল ভারতকে ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার সুদুরপ্রসারি ব্লু-প্রিন্ট, কীভাবে জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে দুনিয়ার সবচেয়ে দামি বা শক্তিশালী অস্ত্র কিন্তু কোনও পরমাণু বোমা বা মিসাইল নয়। সেই অদৃশ্য অস্ত্রের নাম হল— ‘সেমিকন্ডাক্টর চিপ’। আপনার হাতের স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সুপারকম্পিউটার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), আধুনিক যুদ্ধবিমান কিংবা বৈদ্যুতিক গাড়ি— চিপ ছাড়া আজ পুরো পৃথিবী অচল। আর এই চিপ তৈরির বিশ্বযুদ্ধে এবার এক ঐতিহাসিক চাল চালল ভারত। কি সেই মাস্টার স্ট্রোক?

    মে ২০২৬-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) নেদারল্যান্ডস সফর শুধু একটি সাধারণ কূটনৈতিক সফর ছিল না। এটি ছিল ভারতের ভবিষ্যতের সিলিকন সাম্রাজ্য গড়ে তোলার ব্লু-প্রিন্ট। এই সফরেই সই হল এমন এক চুক্তি, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং প্রযুক্তির মানচিত্র বদলে দিতে চলেছে। ভারতের টেক জায়ান্ট ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ (Tata Electronics) চুক্তি স্বাক্ষর করল ডাচ প্রযুক্তি জায়ান্ট এএসএমএল (ASML)-এর সঙ্গে। এএসএমএল কোনও সাধারণ কোম্পানি নয়। এটি হল সেমিকন্ডাক্টর জগতের এমন এক একচেটিয়া সম্রাট বা মনোপলি, যার সবুজ সংকেত ছাড়া তাইওয়ানের টিএসএমসি বা আমেরিকার ইন্টেল (Intel)-ও এক পা নড়তে পারে না।

    নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ

    মে ২০২৬-এ ডাচ প্রধানমন্ত্রী রব ইয়েটেনের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) গিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডস সফরে। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় ঐতিহাসিক নেদারল্যান্ডস সফর। এই সফরে ভারত ও নেদারল্যান্ডসের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছয়। দুই দেশ যৌথভাবে গ্রহণ করে ‘ভারত-নেদারল্যান্ডস স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ রোডম্যাপ (2026–2030)’। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের হিসেব অনুযায়ী, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য প্রায় ২৭.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে এবং নেদারল্যান্ডস হল ভারতে চতুর্থ বৃহত্তম বিনিয়োগকারী দেশ, যার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) পরিমাণ প্রায় ৫৫.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    এই ২০২৬-২০৩০ রোডম্যাপের মূল ভিত্তি কিন্তু শুধু সাধারণ বাণিজ্য নয়, এর কেন্দ্রে রয়েছে— ক্রিপ্টো, এআই, কোয়ান্টাম টেকনোলজি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘সেমিকন্ডাক্টর’। ভারতের ‘ইন্ডিয়ান সেমিকন্ডাক্টর মিশন’ (ISM) এবং ডাচ ‘সেমিকন কম্পিটেন্স সেন্টার’-এর মধ্যে কৌশলগত জোট গড়ার আনুষ্ঠানিক সিলমোহর পড়ে এই সফরেই। যার লক্ষ্য— চিপ তৈরির গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনে চিনের একচেটিয়া আধিপত্য চূর্ণ করে একটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য সাপ্লাই চেইন তৈরি করা।

    এএসএমএল আসলে কী?

    এএসএমএল এর সম্পূর্ণ নাম ‘Advanced Semiconductor Materials Lithography’। নেদারল্যান্ডসের ভেলধোভেন (Veldhoven)-এ সদর দফতর অবস্থিত এই কোম্পানিটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ খুব বেশি না জানলেও, অ্যাপল, স্যামসাং কিংবা এনভিডিয়ার মতো ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিগুলো এই এসএমএল-এর সামনে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে থাকে। কেন? কারণ, চিপ তৈরিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল প্রক্রিয়া হলো ‘লিথোগ্রাফি’। একটি সিলিকন ওয়েফারের ওপর আলোর সাহায্যে কোটি কোটি বা বিলিয়ন বিলিয়ন ন্যানো-স্কেলের সার্কিট খোদাই করার পদ্ধতিই হলো লিথোগ্রাফি। আর এই কাজের জন্য যে মেশিনের প্রয়োজন হয়, তাকে বলা হয় EUV (Extreme Ultraviolet) এবং DUV (Deep Ultraviolet) লিথোগ্রাফি মেশিন।

    পৃথিবীর সবচেয়ে অ্যাডভান্সড চিপ (যেমন ৩ ন্যানোমিটার বা ২ ন্যানোমিটার চিপ, যা আইফোন বা এআই সুপারকম্পিউটারে ব্যবহৃত হয়) তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় EUV মেশিনের বাজারে ASML-এর একচেটিয়া ১০০% মনোপলি রয়েছে! দুনিয়ায় অন্য কোনও কোম্পানি এই মেশিন তৈরি করতে পারে না। এক একটি মেশিনের দাম ২০০ থেকে ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা একটি আস্ত বোয়িং বিমানের চেয়েও দামি। এই মেশিন ছাড়া তাইওয়ানের TSMC-ও অচল। তাই চিপের দুনিয়ায় রাজত্ব করতে গেলে এএসএমএল (ASML)-এর আশীর্বাদ অপরিহার্য। আর ভারত ঠিক এই জায়গায়ই নিজের খুঁটি পুঁতে দিল।

    ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার কারখানা হচ্ছে

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) এই সফরের ঠিক মাঝখানেই, ১৬ মে ২০২৬ তারিখে দ্য হেগ শহরে এক ঐতিহাসিক মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। ভারত গৌরব টাটা গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠান ‘টাটা ইলেকট্রনিক্স’ এবং ডাচ জায়ান্ট ‘ASML’ ভারতের প্রথম কমার্শিয়াল সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব স্থাপনের জন্য স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করে। গুজরাটের ধোলেরায় টাটা ইলেকট্রনিক্স প্রায় ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (বা প্রায় ৯১,০০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করে ভারতের প্রথম ৩০০ মিলিমিটার (১২ ইঞ্চি) কমার্শিয়াল চিপ ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাব বা কারখানা তৈরি করছে। এই মেগা প্রজেক্টে টাটার প্রযুক্তিগত পার্টনার ছিল তাইওয়ানের PSMC। কিন্তু চিপ তৈরির আসল হাতিয়ার অর্থাৎ লিথোগ্রাফি টুলস এবং হোলিস্টিক সলিউশনস সরবরাহ করার দায়িত্ব এবার অফিশিয়ালি কাঁধে নিল এসএমএল।

    এই চুক্তির ফলে কী সুবিধা হবে?

    প্রথমত, ধোলেরা ফ্যাবে এসএমএল -এর বিশ্বমানের অ্যাডভান্সড লিথোগ্রাফি যন্ত্রপাতি বসানো হবে, যা চিপ উৎপাদনের গতি এবং গুণমান আন্তর্জাতিক স্তরে নিয়ে যাবে। দ্বিতীয়ত, এর মাধ্যমে ২৮ ন্যানোমিটার, ৪০ ন্যানোমিটার, ৫৫ ন্যানোমিটার এবং ৯০ ন্যানোমিটারের চিপ তৈরি হবে, যা অটোমোবাইল (গাড়ি), মোবাইল ডিভাইস, ডিফেন্স এবং এআই (AI) সেক্টরের গ্লোবাল চাহিদা মেটাবে। তৃতীয়ত, এটি কেবল যন্ত্র কেনার চুক্তি নয়। এসএমএল এবং টাটা যৌথভাবে ভারতে লিথোগ্রাফি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (R&D) ইনফ্রাস্ট্রাকচার তৈরি করবে এবং ভারতীয় তরুণদের এই উচ্চ প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে বিশেষ ট্রেনিং দেবে। টাটা ইলেকট্রনিক্সের সিইও রণধীর ঠাকুর স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসএমএল-এর এই গভীর প্রযুক্তিগত সহায়তা ভারতকে গ্লোবাল কাস্টমারদের কাছে একটি বিশ্বস্ত এবং স্থিতিস্থাপক সাপ্লাই চেন পার্টনার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে।

    ঐতিহাসিক মাইলফলক

    প্রশ্ন হল, ভারত হঠাৎ সেমিকন্ডাক্টরের পেছনে লাখ কোটি টাকা কেন ঢালছে? এর উত্তর লুকিয়ে আছে গ্লোবাল জিওপলিটিক্স বা ভূ-রাজনীতিতে। বর্তমানে পৃথিবীর ৯০ শতাংশেরও বেশি উন্নত চিপ তৈরি হয় তাইওয়ানে। কিন্তু চিনের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে তাইওয়ানকে নিয়ে সবসময় যুদ্ধকালীন মেঘ ঘনিয়ে থাকে। যদি চিন কোনওদিন তাইওয়ান দখল করে নেয়, তবে পুরো পৃথিবীর টেকনোলজি থমকে যাবে। কূটনীতির পরিভাষায় একে বলা হয় ‘তাইওয়ান রিস্ক’।

    আমেরিকা এবং ইউরোপ তাই চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্যাকুল। তারা এমন এক বন্ধু রাষ্ট্র চাইছে যার বিশাল বাজার আছে, দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আছেন এবং স্থিতিশীল গণতন্ত্র আছে। ভারত ঠিক এই সুযোগটাই লুফে নিয়েছে। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের অধীনে ভারত সরকার প্রায় ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইনসেনটিভ বা পিএলআই (PLI) স্কিম ঘোষণা করেছে চিপ প্রস্তুতকারীদের জন্য।

    এসএমএল (ASML)-এর সিইও ক্রিস্টোফ ফুকে নিজেই স্বীকার করেছেন, ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল সেমিকন্ডাক্টর বাজারকে অবহেলা করা অসম্ভব। তাই তাইওয়ানের ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমিয়ে ভারতকে চিপের বিকল্প গ্লোবাল হাব বানানোর এই আন্তর্জাতিক খেলায় টাটা- এসএমএল চুক্তি এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।

    একসময় বলা হত, ভারত কেবল সফটওয়্যার তৈরি করতে পারে, হার্ডওয়্যার বা ম্যানুফ্যাকচারিং করা ভারতের কম্ম নয়। কিন্তু আজ টাটা, পিএসএমসি এবং খোদ এএসএমএল-এর এই ত্রিবেণী সঙ্গম প্রমাণ করে দিল— ভারত এবার চিপ ডিজাইনের পাশাপাশি চিপ উৎপাদনেও বিশ্বনেতা হতে প্রস্তুত। ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে গ্লোবাল সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেখিয়েছেন, তা আর কেবল কাগজে বা স্লোগানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে ধোলেরার মাটিতে।

  • Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    Amit Shah: ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য অনির্দিষ্ট কারণের ফলে হওয়া ‘অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন’ (Demographic Shifts) যাচাই করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মঙ্গলবার এই ঘোষণা করেন শাহ। তিনি এই বিষয়টিকে ভারতের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক ভারসাম্য এবং আদিবাসী সমাজের সংরক্ষণের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলে উল্লেখ করেন।

    কী লিখলেন শাহ? (Amit Shah)

    এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্টে তিনি জানান, গত বছরের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই প্যানেল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। শাহ লিখেছেন, “অনুপ্রবেশ এবং অন্যান্য কারণে সৃষ্ট অস্বাভাবিক জনবিন্যাসের পরিবর্তন বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য যে কোনও দেশের কাছে অত্যন্ত গুরুতর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য ১৫ অগাস্ট, ২০২৫-এ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিজি ‘হাই-লেভেল কমিটি অন ডেমোগ্রাফিক চেঞ্জ’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন। আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে সরকার এখন এই কমিটি গঠন করেছে।”

    কমিটির সদস্য কারা?

    শাহ জানান, এই কমিটির চেয়ারম্যান হবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রকাশ প্রভাকর নাওলেকর। সদস্য হিসেবে থাকবেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার দুর্গা শঙ্কর মিশ্র, প্রাক্তন আইপিএস অফিসার বালাজি শ্রীবাস্তব, অর্থনীতিবিদ শামিকা রবি এবং জনগণনা কমিশনার। তিনি বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের ফরেনার্স-গ্রেড ওয়ান বিভাগের যুগ্মসচিব এই কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে কাজ করবেন।” কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন এবং অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণের ফলে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন ঘটছে, তার একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধরণ বিশ্লেষণ করে এজন্য একটি পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সমাধান প্রস্তাব করবে (Amit Shah)।

    সীমান্তবর্তী গ্রামে নিবিড় নজরদারি

    শাহের এই ঘোষণাটি হয়েছে এমন এক দিনে, যেদিন তিনি রাজস্থানের বিকানের জেলার বিএসএফের সাঞ্চু আউটপোস্ট পরিদর্শন করেন। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, অনুপ্রবেশ, চোরাচালান এবং ড্রোনের মাধ্যমে মাদক পাচারের মতো নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে বিএসএফের কার্যক্ষেত্র বাড়িয়েছে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত (Amit Shah)। তিনি বলেন, “সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশের কারণে হওয়া জনবিন্যাস পরিবর্তনের (Demographic Shifts) বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে হবে এবং সীমান্তবর্তী গ্রামের কার্যকলাপের ওপর নিবিড় নজরদারি চালাতে হবে।”

     

  • Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    Quad Meet: পহেলগাঁও হামলার প্রতিবাদ, নজরে চিন! কোয়াড বৈঠকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া একযোগে “মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক” গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করল। একইসঙ্গে দক্ষিণ কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সংঘটিত ভয়াবহ জঙ্গি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের আহ্বান জানাল চার দেশ। মঙ্গলবার হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও, অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং এবং জাপানের বিদেশমন্ত্রী তোসেমিৎসু মোতেগি। গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ এবং শক্তিসম্পদ ক্ষেত্রেও সহযোগিতা সম্প্রসারণ করেছে কোয়াড গোষ্ঠী ৷

    ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি

    মঙ্গলবার সকালে নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের নেতৃত্বে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, জাপানের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করেন ৷ বৈঠকের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বলপ্রয়োগ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনও পক্ষের একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা বদলের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে কোয়াড দেশগুলি। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে একাধিক নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে কোয়াড। গুরগাঁওয়ে অবস্থিত ভারতের ইনফরমেশন ফিউশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে নজরদারি ও তথ্য ভাগাভাগির উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এছাড়া ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে “কমন অপারেশনাল পিকচার” তৈরির পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে সামুদ্রিক নজরদারি আরও শক্তিশালী হয়। আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তিকে রুখে দাঁড়ানোই এর মূল উদ্দেশ্য ৷

    পহেলগাঁও হামলার কড়া নিন্দা

    যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড দেশগুলি “সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্তপারের জঙ্গি কার্যকলাপের” বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। বিশেষভাবে ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে হওয়া জঙ্গি হামলার উল্লেখ করে তার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, তাদের মদতদাতা ও অর্থ জোগানদাতাদের বিরুদ্ধে “দৃঢ় ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ”-এর দাবি জানানো হয়েছে।

    দক্ষিণ চিন সাগর ও সমুদ্রপথ নিয়ে উদ্বেগ

    কোয়াড দেশগুলি দক্ষিণ চিন সাগর ও পূর্ব চিন সাগরের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যদিও কোনও দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি, তবে “বিপজ্জনক ও জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ”, জলকামান ব্যবহার, জাহাজে ধাক্কা মারা, নৌ চলাচলে বাধা এবং বিতর্কিত অঞ্চলের সামরিকীকরণের বিরোধিতা করা হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্য বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের সমুদ্র আইন কনভেনশন (United Nations Convention on the Law of the Sea) মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    উত্তর কোরিয়া ও মায়ানমার প্রসঙ্গ

    বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কোয়াড দেশগুলি কোরীয় উপদ্বীপকে সম্পূর্ণ পরমাণু-মুক্ত করার পক্ষে অবস্থান জানায়। অন্যদিকে মায়ানমারের চলমান সংঘর্ষ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে হিংসা বন্ধ, বন্দিদের মুক্তি এবং সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে।

    অর্থনীতি, জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজে জোর

    বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ও অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গ তুলে কোয়াড দেশগুলি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) নিয়ে নতুন কাঠামো গঠনের ঘোষণা করেছে। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খনিজ উত্তোলন, প্রক্রিয়াকরণ ও পুনর্ব্যবহারে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। এছাড়া “কোয়াড ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ” চালু করে জ্বালানি নিরাপত্তা ও স্থিতিশীল বাজার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথাও বলা হয়েছে।

    প্রযুক্তি, এআই ও আন্ডারসি কেবল

    বৈঠকে ৫জি, ৬জি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। নিরাপদ ডিজিটাল পরিকাঠামো ও নির্ভরযোগ্য সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের ডিজিটাল অর্থনীতির “মেরুদণ্ড” হিসেবে আন্ডারসি কেবল নেটওয়ার্কের সুরক্ষার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কোয়াডের সহায়তায় ২০২৬ সালের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের সব দেশকে আন্ডারসি কেবলের মাধ্যমে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

    দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা

    প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চার দেশ। পাপুয়া নিউ গিনির ভূমিধস ও মায়ানমারের ভূমিকম্পে যৌথ ত্রাণ কার্যক্রমের উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও দ্রুত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কোয়াড দেশগুলি জানিয়েছে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

    বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের বার্তা

    বৈঠকের শেষে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেন, “এই আলোচনার বেশির ভাগ অংশ এবং দ্বিপাক্ষিক মত বিনিময়ের অনেকটা জুড়ে ছিল বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিত ৷ আমরা চারজনই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সমুদ্রের ধারে বসবাসকারী গণতান্ত্রিক দেশ ৷ আমরা সুরক্ষিত এবং বাধাহীন সামুদ্রিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা করেছি ৷” একটি স্বাধীন ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অনেকগুলি দিক ও মাত্রা রয়েছে ৷ কোয়াড গোষ্ঠীর বৈঠকে সেই বিষয়গুলির উন্নতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে ৷ আগামী দিনে বিশ্বে ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্ব প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর বলেন, “আগামী দিনে, অর্থনৈতিক কাজকর্ম হোক বা শক্তিসম্পদের বাণিজ্য বা সমুদ্রে বাণিজ্য, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল বিশ্বে আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে ৷ তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোয়াড গোষ্ঠীর দায়িত্বও বৃদ্ধি পাবে এবং আমাদের তার জন্য প্রস্তুত হতে হবে ৷”

  • Red Fort Blast Case: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, লখনউয়ে বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণের ছক! তথ্য সামনে আনল এনআইএ

    Red Fort Blast Case: উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, লখনউয়ে বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়ায় বিস্ফোরণের ছক! তথ্য সামনে আনল এনআইএ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লখনউয়ে উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন ও বড়া ইমামবাড়াকে লক্ষ্য করে বড়সড় জঙ্গি হামলার ছক ভেস্তে দিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। ২০২৫ সালে লাল কেল্লায় বিস্ফোরণ মামলার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা লখনউয়ের (Blast in Lucknow) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন ও জনবহুল এলাকায় গোপনে রেকি চালিয়ে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি হামলার পরিকল্পনা করছিল।

    কীভাবে হামলার পরিকল্পনা

    এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত মুজাম্মিল শাকিল অনলাইনে লখনউয়ের বিভিন্ন রাসায়নিক দোকানের খোঁজ করছিলেন, যেখান থেকে ট্রাইঅ্যাসিটোন ট্রাইপারঅক্সাইড (TATP) তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করা সম্ভব। অত্যন্ত শক্তিশালী ও অস্থিতিশীল এই বিস্ফোরককে “মাদার অফ স্যাটান” নামেও ডাকা হয়। তদন্তকারীদের দাবি, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort Blast Case) কাছে যে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল, তাতেও এই বিস্ফোরকই ব্যবহার করা হয়েছিল। এনআইএ আরও জানিয়েছে, শাহিন সঈদ মুজাম্মিলের নির্দেশে সম্ভাব্য রাসায়নিক সরবরাহকারীদের একটি হাতে লেখা তালিকা তৈরি করেছিলেন। পরে তদন্তে বাজেয়াপ্ত মোবাইল ফোন থেকে সেই নথি উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারী সংস্থার মতে, এটি বড়সড় নাশকতার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।

    কোথায় কোথায় হামলার ছক

    তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৫ থেকে ৩০ অগাস্টের মধ্যে মুজাম্মিল ও শাহিন ফরিদাবাদ থেকে লখনউয়ে গিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানের রেকি চালান। অভিযুক্তরা উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, বাপু ভবন, আমিনাবাদ, লালবাগ এবং ঐতিহাসিক বড়া ইমামবাড়া চত্বরে ঘোরাফেরা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জনসমাগম খতিয়ে দেখেছিল বলে অভিযোগ। তদন্তকারী সংস্থার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “ওরা বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি ব্যবহার করে এই ভবনগুলির কাছে বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছিল। জনবহুল এলাকা ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলিকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল।”

    আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে

    এনআইএ জানিয়েছে, তদন্ত এখনও চলছে। আর্থিক লেনদেন, ডিজিটাল তথ্য, যোগাযোগের রেকর্ড এবং আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই তথ্যগুলি ১৪ মে এনআইএ-র জমা দেওয়া প্রায় ৭,৫০০ পাতার চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, লখনউয়ের এই রেকি আসলে বৃহত্তর জঙ্গি চক্রের অংশ, যা আল-কায়েদা ঘনিষ্ঠ একটি সংগঠনের ভাবধারায় অনুপ্রাণিত বহু-শহরভিত্তিক নাশকতা পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার কাছে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। সেই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয় এবং ২০ জনেরও বেশি আহত হন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল একদল চরমপন্থায় প্রভাবিত উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তি, যাদের মধ্যে চিকিৎসকরাও ছিলেন।

  • QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    QUAD 2026: চিনকে টক্কর দিতে হাত মেলালো ভারত-আমেরিকা! গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে ঐতিহাসিক চুক্তি সম্পন্ন দু’দেশের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে যখন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ উপাদান (Rare Earth Materials) ঘিরে কৌশলগত প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে বড় পদক্ষেপ নিল ভারত ও আমেরিকা। মঙ্গলবার কোয়াড (Quad) বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পাশাপাশি দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ (Critical Minerals) ও রেয়ার আর্থ (Rare Earth) সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তিকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা, বৈদ্যুতিক যান (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং পরিচ্ছন্ন জ্বালানি শিল্পের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু অর্থনৈতিক নয়, ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মূল লক্ষ্যগুলির মধ্যে অন্যতম হল চিনের উপর নির্ভরতা কমানো।

    কী বললেন এস জয়শঙ্কর?

    ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar) জানান, ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত সরবরাহ ব্যবস্থা সুরক্ষিত করার জন্য একটি দ্বিপাক্ষিক কাঠামো (Framework Agreement) তৈরি করেছে। তিনি বলেন, “আজ আমরা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং রেয়ার আর্থের খনন ও প্রক্রিয়াকরণের সরবরাহ সুরক্ষিত করার জন্য ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক কাঠামো স্বাক্ষর করছি। কোয়াড বৈঠকেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিপাক্ষিকভাবে হোক বা কোয়াডের মাধ্যমে—সমমনা দেশগুলির জন্য এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।”

    কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই চুক্তি?

    বর্তমানে বিশ্বে রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ও বহু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহে সবচেয়ে বড় আধিপত্য রয়েছে চিনের। বৈদ্যুতিক গাড়ি, ব্যাটারি, মিসাইল, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, মোবাইল ফোন, সোলার প্যানেল ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে ব্যবহৃত বহু উপাদানের জন্য বিভিন্ন দেশ এখনও চিনের উপর নির্ভরশীল। এই পরিস্থিতিতে ভারত ও আমেরিকার নতুন অংশীদারিত্বকে “সাপ্লাই চেইন সিকিউরিটি” নিশ্চিত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার কারণে বহু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করেছে।

    কোন কোন খনিজের উপর জোর?

    এই চুক্তির আওতায় ভারত ও আমেরিকা যৌথভাবে অনুসন্ধান (Exploration), খনন (Mining), প্রক্রিয়াকরণ (Processing), পরিশোধন (Refining) এবং সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নে কাজ করবে। বিশেষভাবে যে খনিজগুলির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে সেগুলি হল—

    • ● লিথিয়াম (Lithium)
    • ● কোবাল্ট (Cobalt)
    • ● নিকেল (Nickel)
    • ● গ্রাফাইট (Graphite)
    • ● রেয়ার আর্থ এলিমেন্টস (Rare Earth Elements)

    এই খনিজগুলি বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি, নবীকরণযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক্স ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

    ভারতের জন্য কী লাভ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির ফলে ভারতের সামনে একাধিক সুবিধার দরজা খুলে যেতে পারে।

    ● ১. বৈদ্যুতিক যান ও ব্যাটারি শিল্পে গতি

    ভারতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বাজার দ্রুত বাড়ছে। বৈদ্যুতিক যানের ব্যাটারি তৈরির জন্য লিথিয়াম, কোবাল্ট ও নিকেলের চাহিদা আগামী কয়েক বছরে বহুগুণ বাড়বে। এই চুক্তি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে।

    ● ২. প্রতিরক্ষা ও সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি

    রেয়ার আর্থ উপাদান আধুনিক মিসাইল সিস্টেম, রাডার, যুদ্ধবিমান ও উন্নত ইলেকট্রনিক যন্ত্র তৈরিতে অপরিহার্য। ফলে প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও ভারতের স্বনির্ভরতা বাড়তে পারে।

    ● ৩. প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ

    চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় সংস্থাগুলি উন্নত প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ নেটওয়ার্কে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। এর ফলে দেশে নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বাড়বে।

    আমেরিকার লক্ষ্য কী?

    আমেরিকাও দীর্ঘদিন ধরে চিনের উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। বর্তমানে বিশ্বের অধিকাংশ রেয়ার আর্থ প্রসেসিং ক্ষমতা চিনের হাতে থাকায় আমেরিকা বিকল্প অংশীদার খুঁজছে। ভারতের সঙ্গে এই চুক্তিকে তাই “বিশ্বস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল অংশীদারিত্ব” হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোয়াডভুক্ত দেশগুলির মধ্যেও এই ইস্যু এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারের তালিকায় উঠে এসেছে।

    ভারতের আগাম প্রস্তুতি

    ভারত সরকার ইতিমধ্যেই কয়েকটি খনিজকে “গুরুত্বপূর্ণ খনিজ” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতের শিল্প ও জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিদেশে খনিজ সম্পদ অধিগ্রহণের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গতিশীলতার দিকে বিশ্ব যত এগোবে, ততই এই খনিজগুলির কৌশলগত গুরুত্ব বাড়বে।

    রেয়ার আর্থ কেন এত মূল্যবান?

    রেয়ার আর্থ উপাদান ছাড়া আধুনিক প্রযুক্তি শিল্প কার্যত অচল। এগুলি ব্যবহার করা হয়—

    • ● বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যাটারি
    • ● উইন্ড টারবাইন
    • ● মোবাইল ফোন
    • ● সেমিকন্ডাক্টর
    • ● সোলার প্রযুক্তি
    • ● মিসাইল ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম
    • ● উন্নত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তৈরিতে

    ফলে ভারত-আমেরিকার এই নতুন অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক শক্তির লড়াইয়ে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।

LinkedIn
Share