Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    Odisha Tribals: ওড়িশায় ধর্মান্তকরণের চেষ্টা! আদিবাসী সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে বহিরাগতদের থাবার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ওড়িশার আদিবাসী (Odisha Tribals) অধ্যুষিত মালকানগিরি জেলায় ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) প্রক্রিয়া এবং তার ফলে স্থানীয় প্রাচীন সংস্কৃতির ওপর আঘাতের অভিযোগকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজেদের আদিম রীতিনীতি, সামাজিক ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি রক্ষার দাবি জানিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন এই দুর্গম এলাকার আদিবাসী গ্রামবাসীরা।

    খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীর একাধিপত্য (Odisha Tribals)

    ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশা-ছত্তিশগড় সীমান্তের কাছে কালিমেল্লা ব্লকের মাঙ্গিপালি গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খ্রিস্টান মিশনারি গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে যুক্ত কিছু সংগঠনের ধর্মীয় কার্যকলাপ দিন দিন বাড়ছে। এর ফলে গ্রামে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আদিবাসী সম্প্রদায়ের (Religious Conversion) নিজস্ব পরিচয়, ঐতিহ্য ও প্রথা বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

    এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি গ্রামের প্রতিনিধিরা মহকুমা শাসকের (Sub-Collector) দফতরে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন। দাবি জানান, প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের। প্রাক্তন বিধায়ক মুকুন্দ সোধি এবং প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান দেবা মাদকামির মতো স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে পল্লবী খাড়ার (Odisha Tribals) হাতে এই স্মারকলিপি তুলে দেওয়া হয়।

    আদিবাসী সংস্কৃতি অবমাননার অভিযোগ  (Odisha Tribals)

    গ্রামবাসীদের (Odisha Tribals) সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঙ্গিপালি গ্রামে প্রায় ২৫০টি পরিবারের বাস, মোট জনসংখ্যা আনুমানিক ১,০০০। এদের মধ্যে সিংহভাগই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, আগে মাত্র কয়েকটি পরিবার খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করলেও, বর্তমানে গ্রামের আরও বেশি মানুষকে প্রভাবিত করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

    স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ভিন্ন ভাষী মানুষ গ্রামে এসে নিয়মিত প্রার্থনা সভা ও ধর্মীয় সমাবেশের আয়োজন করছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এই ধরনের অনুষ্ঠানে আদিবাসীদের (Religious Conversion)  ঐতিহ্যবাহী বিশ্বাস, রীতিনীতি এবং পূজাপদ্ধতি সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করা হচ্ছে, যা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই ধরণের কার্যকলাপ চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের আদিবাসী সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

    প্রশাসনের কাছে আইনি পদক্ষেপের দাবি

    গ্রামবাসীরা (Odisha Tribals) প্রশাসনকে জানিয়েছেন, গ্রামে ঠিক কতজন মানুষ ধর্মান্তরিত হয়েছেন, তার একটি সরকারি তদন্ত বা যাচাইকরণ করা হোক। পাশাপাশি, তাঁদের নিজস্ব সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যাতে কোনও ধরণের বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করার অনুরোধও জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, মালকানগিরি একটি তফশিলি এলাকা (Scheduled Area)। সাংবিধানিক নিয়ম এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী এই অঞ্চলের আদিবাসী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষিত। তাই এই অঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি ও আদিবাসী পরিচয় রক্ষায় প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

    আইন প্রয়োগের দাবি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

    বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (VHP) জাতীয় সম্পাদক সুধাংশু পট্টনায়েক বলেন, “খ্রিস্টান মিশনারি দলগুলি বিভিন্ন বেআইনি কার্যকলাপের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজকে তাদের পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এটি কেবল আদিবাসী ঐতিহ্যের জন্যই নয়, দেশের সুরক্ষার জন্যও এক গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

    তিনি বলেন, “রাজ্যে ধর্মান্তকরণ (Odisha Tribals) বিরোধী আইন থাকা সত্ত্বেও তা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না। আর সেই কারণেই বাধ্য হয়ে গ্রামবাসীরা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন। ওড়িশা সরকারের উচিত এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা এবং অবৈধ ধর্মান্তকরণের (Religious Conversion) সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।”

  • NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    NEET Paper Leak: নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় তদন্তের কেন্দ্রে এনটিএর প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৬ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় আরও একজনকে গ্রেফতারের পর এবার তদন্তের কেন্দ্রে জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (NTA)-র প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী প্যানেল। সিবিআইয়ের এক আধিকারিক (CBI Probe) সংবাদ মাধ্যমে জানান (NEET Paper Leak), প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী পুরো কমিটি এবং এনটিএর শীর্ষ আধিকারিকদের তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরও কয়েকজন গ্রেফতার হতে পারেন। প্রসঙ্গত, শনিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে পুণের উদ্ভিদবিদ্যার শিক্ষিকা মণীষা গুরুনাথ মান্ধারেকে। অভিযোগ, মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার কয়েক সপ্তাহ আগেই প্রশ্ন ফাঁস করেছিলেন তিনি।

    প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের জাল (NEET Paper Leak)

    মণীষা ছিলেন এনটিএর নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ। কাজ করতেন প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটিতে। তদন্তকারীদের মতে, এর ফলে তিনি বোটানি ও জুলজি বিভাগের গোপনে রাখা প্রশ্নপত্র দেখার অধিকার পান। এর একদিন আগেই তদন্তকারী সংস্থা অবসরপ্রাপ্ত রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নিকে গ্রেফতার করে। তাঁকে তদন্তকারীরা এই কেলেঙ্কারির ‘মূল চক্রী’ বলে উল্লেখ করেন। অন্য এক আধিকারিক বলেন, “প্রশ্নফাঁসের তদন্তে এই প্রথম আমরা এনটিএর ভেতর থেকেই ফাঁসের উৎস খুঁজে পেয়েছি। প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে মেসেজিং গ্রুপে পিডিএফ আকারে ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত পরীক্ষার্থী এর সুবিধা পেয়ে থাকতে পারে। আমরা তাদের সবাইকে চিহ্নিত করব। তবে প্রথমে আমরা প্রশ্নফাঁসের উৎস ও তাদের সহযোগীদের খুঁজছি (NEET Paper Leak)।”

    বিশেষ কোচিং ক্লাস করিয়েছিলেন মান্ধারে!

    সিবিআইয়ের মতে, এপ্রিল মাসে মান্ধারে তাঁর পুণের বাড়িতে কিছু নির্বাচিত ছাত্রছাত্রীকে নিয়ে বিশেষ কোচিং ক্লাস করাচ্ছিলেন। সেখানে তিনি বোটানি ও জুলজির প্রশ্ন বলে দিতেন, যেগুলির অনেকটাই পরে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় এসেছিল (CBI Probe)।তদন্তকারীরা জানান, ছাত্রছাত্রীদের তাঁর কাছে নিয়ে আসতেন সহ-অভিযুক্ত মণীষা ওয়াঘমারে। তিনি পুণের একটি বিউটি পার্লারের মালিক। এই সপ্তাহের শুরুতেই গ্রেফতার হয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী এই সংস্থা জানিয়েছে, “ক্লাস চলাকালীন মান্ধারে বোটানি ও জুলজির বিভিন্ন প্রশ্ন ব্যাখ্যা করতেন। ছাত্রছাত্রীদের সেগুলি খাতায় লিখে রাখতে ও বইয়ে চিহ্নিত করে রাখতে বলতেন। এই প্রশ্নগুলির অধিকাংশই নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলে যায় (NEET Paper Leak)।”

    প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট!

    আধিকারিকরা জানান, তদন্তে এনটিএর ভেতর থেকে বের হওয়া প্রশ্নফাঁসের দু’টি আলাদা সেটের সন্ধান মিলেছে—একটি হাতে লেখা, অন্যটি টাইপ করা। তদন্তকারীদের দাবি, কুলকার্নি রসায়নের প্রশ্নপত্র ফাঁস করেছিলেন, আর মান্ধারে করেছিলেন জীববিজ্ঞানের অংশ। অভিযোগ, কুলকার্নিও তাঁর পুণের বাড়িতে বিশেষ ক্লাস নিতেন। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন, বিকল্প উত্তর এবং সঠিক উত্তর লিখে নিতেন, যেগুলি পরে আসল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ‘হুবহু মিলে যায়’। শনিবার সিবিআই কুলকার্নি ও ওয়াঘমারেকে দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ বিশেষ আদালতে হাজির করে, আবেদন জানায় ১৪ দিনের হেফাজতের। সংস্থা তাঁদের ‘সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য’ বলে দাবি করে। আদালত দু’জনকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতে পাঠায়। সিবিআই আদালতে জানিয়েছে, অভিযুক্তরা ৩ মে-র পরীক্ষার পর প্রমাণ লোপাট করতে প্রশ্নপত্র নষ্ট করে দেয়। তদন্তকারীরা এও খতিয়ে দেখছেন, কুলকার্নি ও মান্ধারের আগেও কেউ কোনও প্রশ্নপত্রফাঁসকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না।

    মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে ছড়িয়েছিল প্রশ্ন

    তদন্তে জানা গিয়েছে, কীভাবে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্যে প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীদের মতে, ৫০০-৬০০টি প্রশ্ন সম্বলিত একটি পিডিএফ টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়েছিল। নাসিকের শুভম খৈরনার এই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেন গুরগাঁওয়ের যশ যাদবের কাছে। যশ সেটি জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল ওরফে মাঙ্গিলাল খাটিকের কাছে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, প্রায় ১৫০টি প্রশ্ন ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলবে (NEET Paper Leak)। গত ২৪ ঘণ্টায় ছ’টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে ল্যাপটপ, ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন নথি, মোবাইল ফোন এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য সামগ্রীও উদ্ধার করা হয়েছে।

    ৫ রাজ্য থেকে গ্রেফতার

    এখন পর্যন্ত পাঁচটি রাজ্য থেকে সব মিলিয়ে মোট ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন পুণের মান্ধারে, কুলকার্নি ও ওয়াঘমারে, আহিল্যানগরের ধনঞ্জয় লোকহান্ডা,  নাসিকের খৈরনার, জয়পুরের মাঙ্গিলাল বিওয়াল, বিকাশ বিওয়াল ও দীনেশ বিওয়াল, এবং গুরগাঁওয়ের যশ। সিবিআই জানিয়েছে, “এই মামলায় পূর্ণাঙ্গ, নিরপেক্ষ এবং পেশাদার তদন্তে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” প্রতি বছর ২২ লাখেরও বেশি ছাত্রছাত্রী মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির (CBI Probe) প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজি দেন। প্রশ্নফাঁসের পর ৩ মে-র পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২১ জুন ফের (NEET Paper Leak) পরীক্ষার দিন ঘোষণা করেছে সরকার।

     

  • Kerala: “কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের আচরণে নজর রাখতে হবে”, বললেন বিজেপি নেতা

    Kerala: “কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ সরকারের আচরণে নজর রাখতে হবে”, বললেন বিজেপি নেতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর নয়া সরকারকে সতর্ক করে দিলেন কেরল বিজেপির (Kerala) সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর। শনিবার তিনি জানান, ইউডিএফ বিধানসভা নির্বাচনে মিথ্যে প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ভুয়ো প্রচারের মাধ্যমে (BJP Chief Slams) জয়ী হয়েছে। তাঁর অঙ্গীকার, রাজ্যের পক্ষে বিপজ্জনক শক্তিগুলি সরকারকে ‘রিমোট কন্ট্রোল’ করছে কি না, সেই বিষয়েও কড়া নজর রাখবে বিজেপি।

    বিজেপির বক্তব্য (Kerala)

    মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বিজেপির এই নেতা বলেন, “জামাত-ই-ইসলামি এবং এসডিপিআইয়ের মতো শক্তিগুলি এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে—এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি এমন একটি বিষয়, যা শুধু আজ বা আগামিকাল নয়, আগামী কয়েক মাস ও বছর ধরে গভীরভাবে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা দরকার। আমাদের এই সরকারের আচরণ পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং দেখতে হবে যে, কতটা এই সরকার এমন শক্তির দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যারা আমাদের রাজ্যের পক্ষে অত্যন্ত বিপজ্জনক। এসডিপিআই এবং জামাত-ই-ইসলামির মতো সংগঠনগুলিকে মূলধারায় আনা আমাদের রাজ্যের পক্ষে ভালো নয়, কোনও মালয়ালির জন্যই ভালো নয়।”

    ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

    চন্দ্রশেখর জানান (Kerala), নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দুর্নীতি, ভোটব্যাঙ্ক তোষণ এবং মালয়ালি সমাজকে বিভক্ত করার রাজনীতির বিরুদ্ধে বিজেপি (BJP Chief Slams) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, “কংগ্রেস এমন কিছু প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে এই জনসমর্থন পেয়েছে, যা তারা কখনও পূরণ করতে পারেনি। তারা সিপিএম ও বিজেপির মধ্যে গোপন সমঝোতার ভুয়ো গল্প রটিয়েছে এবং এফসিআরএ (FCRA) নিয়ে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে। আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নয়া মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই, আমরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানালেও বিধানসভার ভিতরে ও বাইরে দুর্নীতি, কোনও সম্প্রদায়কে তোষণ, অথবা মালয়ালিদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেব।”

    তিনি আরও বলেন, “আজ (শনিবার) সকালে মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত ভিডি সতীশন আমায় ফোন করেছিলেন এবং অত্যন্ত সৌজন্যের সঙ্গে ১৮ তারিখের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমন্ত্রণ জানান। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। দলের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছাও জানাই এবং বলি যে, আমি অবশ্যই আমার সহকর্মী বিধায়ক ও দলীয় কর্মীদের নিয়ে উপস্থিত থাকব।” তিনি এও বলেন, “এই নির্বাচনকে ‘পরিবর্তনের জনাদেশ’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ এলডিএফ (LDF)-এর দশ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে।” প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেরলে এলডিএফ সরকারের এক দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিধানসভা নির্বাচনে (Kerala) নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। সতীশন ১৮ মে সকাল ১০টায় লোকভবনে (পূর্বতন রাজ্যপাল ভবন) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে (BJP Chief Slams) শপথ নেবেন।

     

  • CBSE: নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, জানিয়ে দিল সিবিএসই

    CBSE: নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে, জানিয়ে দিল সিবিএসই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের তিনটি ভাষা পড়তে হবে বলে জানিয়ে দিল সিবিএসই (CBSE)। আগামী ১ জুলাই থেকেই চালু হবে ত্রি-ভাষা শিক্ষার পাঠ (Three Language Policy)। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিশি (এনইপি) ২০২০ এবং ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক ফর স্কুল এডুকেশন ২০২৩-এর অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ মে সিবিএসইর তরফে জারি করা সার্কুলার অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের আর-১, আর-২ এবং আর-৩ নামে তিনটি ভাষা বেছে নিতে হবে। এর মধ্যে অন্তত দু’টি ভাষা অবশ্যই ভারতীয় মাতৃভাষা হতে হবে। তবে দশম শ্রেণিতে তৃতীয় ভাষা (R3)-এর আলাদা কোনও বোর্ড পরীক্ষা হবে না। এর মূল্যায়ন করা হবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মাধ্যমে।

    সিবিএসইর মূল লক্ষ্য (CBSE)

    সিবিএসই জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার চাপ কমানো এবং পরীক্ষার পরিবর্তে শেখার ওপর জোর দেওয়া। তবে তৃতীয় ভাষায় প্রাপ্ত নম্বর বা পারফরম্যান্সের উল্লেখ থাকবে সিবিএসইর দেওয়া সার্টিফিকেটে। বোর্ড এও জানিয়েছে, তৃতীয় ভাষার নিয়মের কারণে কোনও শিক্ষার্থীকে দশম শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়া যাবে না। স্কুলগুলি সিবিএসইর বিষয় তালিকায় থাকা যে কোনও ভাষা পড়াতে পারবে। তবে শিক্ষার্থীরা বিদেশি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে তখনই নিতে পারবে, যদি বাকি দু’টি ভাষা ভারতীয় হয়। বিদেশি ভাষা ঐচ্ছিক চতুর্থ ভাষা হিসেবেও নেওয়া যেতে পারে (CBSE)।

    নয়া ব্যবস্থা

    সিবিএসই জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থা কীভাবে চালু করা হবে। যেহেতু তৃতীয় ভাষার জন্য বিশেষ মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবই এখনও প্রস্তুত নয়, তাই নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আপাতত নির্বাচিত আর-৩-এর ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যবই ব্যবহার করবে। স্কুলগুলিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে তারা এই পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে স্থানীয় ও রাজ্যস্তরের সাহিত্যিক উপকরণ যুক্ত করবে, যাতে শিক্ষার্থীরা ভাষা সম্পর্কে আরও ভালো ধারণা পায়। বোর্ড স্বীকার করেছে, কিছু স্কুলে যোগ্য ভাষা শিক্ষক নিয়োগে সমস্যা হতে পারে। এই সমস্যার সমাধানে সিবিএসই অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যেমন— বিভিন্ন স্কুলের মধ্যে শিক্ষক ভাগাভাগি করা, ভার্চুয়াল শিক্ষার সাহায্য নেওয়া, অথবা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও যোগ্য স্নাতকোত্তরদের নিয়োগ করা (CBSE)।

    সিবিএসই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের, বিদেশ থেকে ভারতে ফেরা শিক্ষার্থীদের এবং বিদেশে অবস্থিত স্কুলগুলির জন্য বিশেষ ছাড়ের (Three Language Policy) কথাও ঘোষণা করেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

     

  • NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    NCB: বিপুল পরিমাণ সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল এনসিবি, বাজার মূল্য শুনলে চোখ কপালে উঠবে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ড্রাগ-মুক্ত ভারত অভিযানে মিলল গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এই  প্রথমবার বিপুল পরিমাণ ক্যাপ্টাগন (Captagon) নামক সিন্থেটিক মাদক বাজেয়াপ্ত করল নার্কোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো, (এনসিবি) যার (NCB) আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ১৮২ কোটি টাকারও বেশি।

    ‘অপারেশন রেজপিল’ (NCB)

    আজ, শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) এই সাফল্যের খবর জানান। তিনি এও জানান, ‘অপারেশন রেজপিল’ (Operation Ragepill) সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে পাচারের লক্ষ্যে পাঠানো এই মাদকের চালান আটক করা এবং এক বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা ভারতের ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির উজ্জ্বল উদাহরণ।” এনসিবি কর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, “ভারতের ভেতরে ঢোকা বা ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাইরে পাঠানো প্রতিটি গ্রাম মাদক চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’ কী? 

    প্রশ্ন হল, কী এই ‘জেহাদি ড্রাগ ক্যাপ্টাগন’? ‘ক্যাপ্টাগন’ হল ফেনেথাইলিন (Fenethylline) নামের একটি সিন্থেটিক অ্যাম্ফেটামিন-জাতীয় উত্তেজক মাদকের ব্র্যান্ড নাম। এটি ছয়ের দশকে অ্যাম্ফেটামিন এবং থিওফাইলিনের যৌগিক ওষুধ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। প্রথমদিকে এডিএইচডি, নারকোলেপসি এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হত। কিন্তু উচ্চ মাত্রার অপব্যবহারের ঝুঁকির কারণে আটের দশকে বিশ্বজুড়ে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমানে অবৈধভাবে তৈরি হওয়া ক্যাপ্টাগনে (বিশেষ করে সিরিয়া ও লেবাননে উৎপাদিত) সাধারণত অ্যাম্ফেটামিনের সঙ্গে ক্যাফেইন বা অন্যান্য রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। ফলে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত সতর্কতা, উচ্ছ্বাস, খিদে কমে যাওয়া এবং টানা বহুদিন না ঘুমিয়ে থাকার মতো প্রভাবও অনুভব করে।

    ‘কেমিক্যাল সাহস’

    মধ্যপ্রাচ্যের (NCB) সংঘাতপূর্ণ এলাকাগুলিতে ক্যাপ্টাগন ‘জিহাদি ড্রাগ’ নামে পরিচিতি পায়। সিরিয়ায় আইএসআইএস-সহ বিভিন্ন ইসলামি জঙ্গি সংগঠন একে ‘কেমিক্যাল সাহস’ (chemical courage) হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ। সংবাদমাধ্যম ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, এই মাদকের অবৈধ উৎপাদন ও পাচার যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির অর্থায়নের অন্যতম উৎস। এই মাদক জঙ্গি সংগঠনগুলি নিজেরা ব্যবহারও করে, আবার বিক্রিও করে। অভিযান চালিয়ে এনসিবি (NCB) প্রায় ২২৭.৭ কেজি এই মাদক উদ্ধার করেছে। এক সিরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে ভারতে (Amit Shah) অবৈধভাবে ঢুকে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই মাদক পাচারের চেষ্টা করছিল।

     

  • PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    PM Modi: ভারতকে একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন ফেরাল নেদারল্যান্ডস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রাচীন নিদর্শন পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় মিলল বিরাট সাফল্য (PM Modi)। শুক্রবার নেদারল্যান্ডস (Netherlands) ভারতকে ফিরিয়ে দিল একাদশ শতাব্দীর আনাইমঙ্গলম তাম্রশাসন। এই ফলকগুলি ‘লেইডেন প্লেটস’ নামেও পরিচিত। এগুলি চোল সাম্রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টিকে থাকা ঐতিহাসিক দলিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেদারল্যান্ডস সফরের সময় এই পদক্ষেপটি নেয় সে দেশের সরকার।

    ২১টি তাম্রফলক (PM Modi)

    ভারত সরকার, ডাচ সরকার এবং লেইডেন ইউনিভার্সিটির মধ্যে বহু বছরের পুনরুদ্ধার চেষ্টার ফলস্বরূপ মিলল এই সাফল্য। সব মিলিয়ে মোট ২১টি তাম্রফলক রয়েছে। ওজন প্রায় ৩০ কেজি। একটি ব্রোঞ্জের বৃত্তের মাধ্যমে একত্রে বাঁধা, যাতে রাজেন্দ্র চোল একের রাজমোহরও লাগানো রয়েছে। এই তাম্রফলকের লিপিগুলি সম্রাট রাজারাজা চোল এক এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্র চোলের শাসন কালের। সংস্কৃত অংশে চোল বংশের বংশলতিকার উল্লেখ করা হয়েছে এবং বিষ্ণুর কাছ থেকে ঐশ্বরিক বৈধতা দাবি করা হয়েছে।

    সাংস্কৃতিক বিনিময়

    তামিল ভাষায় লেখা অংশে রাজরাজা চোলের পক্ষ থেকে নাগাপট্টিনমের চূড়ামণি বিহার নামক একটি বৌদ্ধ মঠকে জমির রাজস্ব ও কর দেওয়ার নথি রয়েছে। এই বিহারটি বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ার শ্রীবিজয় সাম্রাজ্যের শাসক শ্রী মারা বিজয়োতুঙ্গ বর্মণ নির্মাণ করেছিলেন। ভূমিদানের আদেশ প্রথমে রাজরাজা চোল জারি করলেও, পরে তাঁর পুত্র সম্রাট রাজেন্দ্র চোল সেই আদেশ তাম্রফলকে উৎকীর্ণ করান, যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। এই লিপিগুলি দক্ষিণ ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে চোল যুগের শীর্ষ সময়ে বিদ্যমান সামুদ্রিক যোগাযোগ, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্পর্কে বিরল তথ্য দেয়। নথিগুলি থেকে জানা যায়, সেই সময়ের হিন্দু শাসকরা বৌদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলিকে পৃষ্ঠপোষকতা করতেন, যা ভারতের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক সহযোগিতার ঐতিহ্য তুলে ধরে (PM Modi)।

    কীভাবে তাম্রফলকগুলি পৌঁছল নেদারল্যান্ডসে?

    প্রশ্ন হল, কীভাবে তাম্রফলকগুলি লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছল? প্রায় ১৭০০ সালের দিকে ডাচ মিশনারি ফ্লোরেনটিয়াস ক্যাম্পার এই তাম্রফলকগুলি সংগ্রহ করেন। তখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুলিকট থেকে তাদের কোরোম্যান্ডেল সদর দফতর নাগাপট্টিনমে স্থানান্তর করার পর ওই অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছিল। পরে ১৮৬২ সালে অধ্যাপক হেনড্রিক আরেন্ট হামাকারের সম্পত্তির মাধ্যমে এগুলি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের এশীয় সংগ্রহের অংশ হয়ে ওঠে। সেখানে ফলকগুলি নিরাপদ ভল্টে সংরক্ষিত ছিল। খোলা ছিল কেবল গবেষক ও পণ্ডিতদের জন্যই।

    ভারত দীর্ঘদিন ধরে ডাচ সরকার ও লেইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে এই তাম্রফলক ফেরত আনার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। ২০২২ সালে নেদারল্যান্ডস ঔপনিবেশিক আমলের নিদর্শন ফেরত দেওয়ার নীতি চূড়ান্ত করার পর ভারতের প্রচেষ্টা গতি পায়। ২০২৩ সালে ইউনেস্কো (UNESCO)-এর আন্তঃসরকার কমিটি ভারতকে উৎস দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় (Netherlands), আহ্বান জানায় দ্বিপাক্ষিক আলোচনার। শেষমেশ মিলল ফল (PM Modi)।

     

  • NEET Paper Leak: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল সিবিআই, গ্রেফতার ‘কিংপিন’ পুণের রসায়নের অধ্যাপক!

    NEET Paper Leak: নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বড় সাফল্য পেল সিবিআই, গ্রেফতার ‘কিংপিন’ পুণের রসায়নের অধ্যাপক!

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় বড় অগ্রগতি দাবি করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই (CBI)। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া এই কেলেঙ্কারিতে সিবিআই জানিয়েছে, তারা গোটা চক্রের ‘কিংপিন’কে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ব্যক্তি হলেন পুনের রসায়নের অধ্যাপক পিভি কুলকার্নি (PV Kulkarni), যিনি প্রশ্নফাঁসের মূল উৎস বলে তদন্তকারীদের দাবি। সিবিআই সূত্রে খবর, কুলকার্নি মহারাষ্ট্রের লাতুরের বাসিন্দা এবং পুনেতে বসবাস করতেন। তিনি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি বা এনটিএ-র (National Testing Agency বা NTA) হয়ে পরীক্ষার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে নিট-এর প্রশ্নপত্রে অ্যাক্সেস পান। সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে তিনি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করেন বলে অভিযোগ।

    কীভাবে ফাঁস হল প্রশ্ন?

    তদন্তে উঠে এসেছে, পিভি কুলকার্নি নিজের বাড়িতে ‘রাজ কোচিং ক্লাসেস’ (Raj Coaching Classes) নামে ব্যক্তিগত কোচিং চালাতেন। নিট পরীক্ষার ঠিক আগে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে তাঁর কোচিং সেন্টারে একটি বিশেষ ক্লাস নেওয়া হয়। অভিযোগ, সেই ক্লাসে তিনি পরীক্ষার সম্ভাব্য প্রশ্ন, অপশন এবং সঠিক উত্তর ছাত্রছাত্রীদের ডিক্টেট করেন। পড়ুয়ারা সেগুলি নিজেদের খাতায় লিখে নেয়। পরে তদন্তকারীরা ছাত্রদের খাতায় লেখা প্রশ্নের সঙ্গে ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার আসল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখেন। দেখা যায়, বহু প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। এর থেকেই সিবিআই নিশ্চিত হয় যে প্রশ্নফাঁসের উৎস পরীক্ষার অভ্যন্তরীণ কোনও ব্যক্তি।

    জড়িত আরও এক অভিযুক্ত

    এই মামলায় বৃহস্পতিবারই গ্রেফতার করা হয়েছে মনীষা বাঘমারে (Manisha Waghmare) নামে এক মহিলাকে। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি একটি বিউটি পার্লার চালাতেন এবং ছাত্রছাত্রীদের কাছে ফাঁস হওয়া মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও কলেজে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন। প্রতিটি ছাত্রের কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এরপর তাদের পিভি কুলকার্নির সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হতো।

    দেশজুড়ে তল্লাশি, বাজেয়াপ্ত নথি ও মোবাইল

    সিবিআই গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছে। তদন্তকারীরা বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছে। এগুলির ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ চলছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্যপ্রমাণ থেকে আরও বড় চক্রের হদিশ মিলতে পারে। সিবিআই জানিয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রকের অধীন উচ্চশিক্ষা দফতরের অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মামলা রুজু করা হয়। তারপরই বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।

    ৮ জন গ্রেফতার, একাধিক রাজ্যে ছড়ানো নেটওয়ার্কের খোঁজ

    এখনও পর্যন্ত এই মামলায় মোট ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জয়পুর, গুরুগ্রাম, নাসিক, পুনে এবং আহিল্যানগর থেকে অভিযুক্তদের ধরা হয়েছে। ধৃত পাঁচ অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে ৭ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, এই প্রশ্নফাঁস চক্র কতটা বিস্তৃত ছিল এবং একাধিক রাজ্যে এর নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে ছিল কি না।

    ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

    নিট হল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের পরিবার গভীর উদ্বেগে। ইতিমধ্যেই পরীক্ষার স্বচ্ছতা, এনটিএ-র ভূমিকা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনার পর ভবিষ্যতে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

  • Oman Gujarat Gas Pipeline: ৪০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, হরমুজ এড়িয়ে ওমান-গুজরাট গ্যাস করিডর বানাতে চলেছে ভারত

    Oman Gujarat Gas Pipeline: ৪০ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প, হরমুজ এড়িয়ে ওমান-গুজরাট গ্যাস করিডর বানাতে চলেছে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধ এবং তার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ বলে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক সংকট ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার ওমান থেকে সরাসরি গুজরাট পর্যন্ত একটি বিশাল সাব-সি (সমুদ্রতলের নিচে) গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। প্রায় ৪০,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হতে চলা এই প্রকল্পকে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি কৌশলের অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই দেশের শীর্ষ সরকারি এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে প্রকল্পের কার্যকারিতা সমীক্ষা প্রতিবেদন (feasibility report) তৈরির নির্দেশ দিয়েছে। অনুমোদন মিললে এই পাইপলাইন নির্মাণে সময় লাগতে পারে ৫ থেকে ৭ বছর।

    কেন এই প্রকল্পে জোর দিচ্ছে ভারত?

    ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৮৮ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ওই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটে অস্থিরতা তৈরি হলে ভারতকে একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

    • ● জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন
    • ● শিপিং খরচ ও বীমা ব্যয় বৃদ্ধি
    • ● আমদানি বিলের চাপ
    • ● সরবরাহ শৃঙ্খলে অনিশ্চয়তা

    এই সংকট স্পষ্ট করে দেয়, একক সামুদ্রিক রুটের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভারতের জন্য বড় ঝুঁকি। ফলে বিকল্প জ্বালানি করিডর তৈরি এখন কৌশলগত অগ্রাধিকার।

    প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্য

    প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি ওমান থেকে আরব সাগর পেরিয়ে সরাসরি গুজরাটে পৌঁছবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালীকে পুরোপুরি বাইপাস করা সম্ভব হবে।

    প্রকল্পের খুঁটিনাটি—

    • ● প্রকল্প ব্যয়: ৪০,০০০ কোটি টাকা
    • ● দৈর্ঘ্য: প্রায় ২,০০০ কিমি
    • ● রুট: ওমান → আরব সাগর → গুজরাট
    • ● গভীরতা: ৩,০০০ মিটারেরও বেশি
    • ● নির্মাণকাল: অনুমোদনের পর ৫-৭ বছর
    • ● সম্ভাব্য সমাপ্তি: ২০৩৩-২০৩৫

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ভারতের অন্যতম জটিল গভীর সমুদ্রের শক্তি অবকাঠামো প্রকল্প হতে পারে।

    কোন সংস্থাগুলি যুক্ত?

    এই প্রকল্পে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    • ● গেল (GAIL) – প্রকল্পের প্রধান অপারেটর ও কার্যকারিতা পরিকল্পনাকারী
    • ● ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড (EIL) – প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন
    • ● ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOC) – সর্বশেষ ব্যবহারকারী ও অংশীদার

    বিশেষভাবে গেল-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংস্থাটি ভারতের মোট গ্যাস ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের ৭০ শতাংশেরও বেশি নিয়ন্ত্রণ করে।

    হরমুজ সংকটে কতটা ক্ষতি হয়েছে?

    ২০২৬ সালের হরমুজ অস্থিরতার জেরে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে। সরকারি ও শিল্প সূত্র অনুযায়ী—

    • ● মাত্র ৬ সপ্তাহে ক্ষতি: প্রায় ৬২,৫০০ কোটি টাকা
    • ● ২০২৬-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে ক্ষতি: ১.৯৮ লক্ষ কোটি টাকা
    • ● তেল সংস্থাগুলির দৈনিক ক্ষতি: ১,৬০০-১,৭০০ কোটি টাকা

    জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকার খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আটকে রাখলেও, এর ফলে আর্থিক চাপ আরও বেড়েছে।

    চিনের সঙ্গে অবকাঠামোগত প্রতিযোগিতা

    এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও বড় কারণ। বিশেষত চিন ইতিমধ্যেই বিকল্প জ্বালানি করিডর ও পাইপলাইন অবকাঠামোয় ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে। ভারতে তুলনামূলকভাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার এখনও কম এবং গ্যাস অবকাঠামোও সীমিত। ফলে দ্রুত সম্প্রসারণ ও বৈচিত্র্যায়ন এখন জরুরি।

    সেজ প্রকল্পের সম্ভাবনা

    বেসরকারি সংস্থা সাউথ এশিয়া গ্যাস এন্টারপ্রাইজ (SAGE)-ও আগে অনুরূপ সমুদ্রতলে পাইপলাইন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল।

    সেজ প্রকল্পের তথ্য

    • ● ব্যয়: ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার
    • ● ক্ষমতা: দৈনিক ৩১ মিলিয়ন মেট্রিক ঘনমিটার
    • ● সম্ভাব্য সাশ্রয়: বছরে ৭,০০০ কোটি টাকা

    সরকার চাইলে এই বিদ্যমান নকশা বা feasibility work ব্যবহার করে সময় ও খরচ কমাতে পারে।

    ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ওমান-গুজরাট পাইপলাইন কেবল একটি গ্যাস পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা রূপরেখার বড় রূপান্তর।

    সম্ভাব্য সুবিধা

    • ● হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমবে
    • ● গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা আসবে
    • ● প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি ব্যয় কমবে
    • ● শিল্প খাতে জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়বে
    • ● দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত সুবিধা মিলবে

    হরমুজ সংকট ভারতের সামনে জ্বালানি নিরাপত্তার দুর্বলতা স্পষ্ট করে দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওমান-গুজরাট সাবসি পাইপলাইন প্রকল্প দেশের জ্বালানি নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আগামী এক দশকে ভারত আরও সহনশীল, বৈচিত্র্যময় এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ জ্বালানি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পারবে।

  • Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    Dhar Bhojshala Verdict: ‘আসলে সরস্বতী মন্দির’, ধার ভোজশালা নিয়ে ঐতিহাসিক রায় হাইকোর্টের, মান্যতা পেল হিন্দুদের দাবিই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের ধার জেলার বহু বিতর্কিত ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ চত্বর নিয়ে ঐতিহাসিক রায় দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের ইন্দোর বেঞ্চ। শুক্রবার আদালত জানিয়েছে, উপলব্ধ ঐতিহাসিক নথি, প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ এবং ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ (ASI)-এর বৈজ্ঞানিক রিপোর্ট অনুয়ায়ী, এই স্থাপনাটি আসলে দেবী সরস্বতীর মন্দির এবং সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই রায়কে ভোজশালা (Dhar Bhojshala Verdict) বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ বহু দশক ধরে হিন্দু ও মুসলিম— দুই সম্প্রদায়ই এই স্থাপনার উপর নিজ নিজ ধর্মীয় দাবি জানিয়ে এসেছে।

    আদালতের পর্যবেক্ষণ কী?

    হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোজশালার মূল চরিত্র ছিল একটি সাংস্কৃতিক শিক্ষাকেন্দ্র বা মহাবিদ্যালয়। আদালতের মতে, প্রত্নতত্ত্ব একটি বিজ্ঞান এবং আদালত বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা, খনন রিপোর্ট ও ঐতিহাসিক উপাদানের উপর নির্ভর করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আদালত এএসআই-এর বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্টের উপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, ভোজশালা চত্বরে প্রাপ্ত ভাস্কর্য, মন্দিরসদৃশ স্থাপত্য ধ্বংসাবশেষ, স্তম্ভ, শিলালিপি এবং অন্যান্য নিদর্শন এই স্থাপনার প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের পক্ষে শক্তিশালী প্রমাণ। রায়ে আরও বলা হয়েছে, প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন ধর্মীয় স্থানগুলির সংরক্ষণ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব। শুধু সংরক্ষণই নয়, দর্শনার্থী ও ভক্তদের জন্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা, নিরাপত্তা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সরকারের দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

    ২০০৩ সালের এএসআই আদেশ বাতিল

    ২০০৩ সালে এএসআই জারি করা সেই আদেশ শুক্রবার বাতিল করেছে হাইকোর্ট, যেখানে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং মুসলিম সম্প্রদায়কে শুক্রবার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। আদালতের মতে, ওই নির্দেশ হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকারকে সীমাবদ্ধ করেছিল। আদালত উল্লেখ করেছে, বিতর্কিত স্থানে হিন্দুদের পূজা-অর্চনার ধারাবাহিকতা কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বর্তমানে এএসআই এই সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ চালিয়ে যাবে এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআই-কে ভোজশালা কমপ্লেক্সের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    মুসলিম পক্ষকে পৃথক জমির আবেদন করার স্বাধীনতা

    রায়ে আদালত মুসলিম সম্প্রদায়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছে। আদালত জানিয়েছে, মুসলিম পক্ষ চাইলে ধার জেলায় নামাজ আদায়ের জন্য পৃথক জমির আবেদন করতে পারে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আদালত একদিকে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে, অন্যদিকে আইন-শৃঙ্খলা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টিও বিবেচনায় রেখেছে।

    ভোজশালা বিতর্কের ইতিহাস

    ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, ধার অঞ্চল একসময় পারমার রাজবংশের অধীনে ছিল। রাজা ভোজ, যিনি ১০০০ থেকে ১০৫৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন, ছিলেন দেবী সরস্বতীর একনিষ্ঠ ভক্ত। ১০৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি এখানে একটি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীতে ভোজশালা নামে পরিচিত হয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি, এটি শুধু শিক্ষাকেন্দ্রই নয়, দেবী সরস্বতীর মন্দিরও ছিল। ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, ১৩০৫ সালে আলাউদ্দিন খিলজির সময় ভোজশালার একাংশ ধ্বংস হয়। পরে ১৪০১ সালে দিলাওয়ার খান ঘোরি এবং ১৫১৪ সালে মাহমুদ শাহ খিলজি এখানে মসজিদের অংশ নির্মাণ করেন বলে দাবি করা হয়। ১৮৭৫ সালে এখানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালানো হলে দেবী সরস্বতীর একটি মূর্তি উদ্ধার হয়, যা পরবর্তীতে বিতর্ককে আরও জোরদার করে।

    এএসআই-এর রিপোর্টে কী উঠে এসেছিল?

    ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এএসআই মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে তাদের বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে ভোজশালা-কমল মৌলা মসজিদ কমপ্লেক্সের ভিতরে মন্দিরসদৃশ ধ্বংসাবশেষ, খোদাই করা স্তম্ভ, দেবদেবীর ভাস্কর্য এবং প্রাচীন স্থাপত্য নিদর্শনের উল্লেখ করা হয়। এই রিপোর্টই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দেয় বলে মনে করা হচ্ছে।

    কেন গুরুত্বপূর্ণ এই রায়?

    ভোজশালা মামলা শুধু একটি সম্পত্তি বা ধর্মীয় স্থানের বিতর্ক নয়, এটি ভারতের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, ধর্মীয় অধিকারের প্রশ্ন এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারিক সিদ্ধান্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠল। হাইকোর্ট স্পষ্ট করেছে, বৈজ্ঞানিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারকে উপেক্ষা করা যায় না। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংবিধানের চেতনার অংশ এবং সরকারকে এ বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। এই রায় ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য বিতর্কিত ধর্মীয়-ঐতিহাসিক স্থাপনা সংক্রান্ত মামলাগুলিতেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

  • BRICS Meet 2026:  দিল্লিতে মোদি-লাভরভ-আরাঘচি সাক্ষাৎ, যুদ্ধের আবহে ব্রিকস মঞ্চে বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব

    BRICS Meet 2026: দিল্লিতে মোদি-লাভরভ-আরাঘচি সাক্ষাৎ, যুদ্ধের আবহে ব্রিকস মঞ্চে বাড়ছে ভারতের গুরুত্ব

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আবহেই দিল্লিতে শুরু হলো ব্রিকস (BRICS Meet 2026) গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রগুলির দুই দিনের বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক। তবে সব ছাপিয়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে হয়ে উঠল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Narendra Modi) সঙ্গে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লেভরভ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ (PM Modi meets Araghchi and Lavrov)। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম দুই শক্তিশালী বন্ধু দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মোদির এই বৈঠক আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, এই দুই দেশের সঙ্গেই ‘আদায়-কাঁচকলায়’ সম্পর্ক আমেরিকার।

    লাভরভের সঙ্গে পৃথক বৈঠক মোদির

    চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ব্রিকসের (BRICS Meet 2026)  সভাপতিত্ব গ্রহণ করেছে ভারত। এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে ভারত ব্রিকসের নেতৃত্ব দিয়েছিল। ২০২৬ সালের ব্রিকস সভাপতিত্বের রূপরেখা তৈরি এবং সম্প্রসারিত ব্রিকস গোষ্ঠীর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করতেই এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন। বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পরে এক্স হ্যান্ডলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের “বিশেষ ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব”-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেন এবং পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতের সমাধানের পক্ষে ভারতের অবস্থানও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।

    ইরান-সহ অন্যান্য দেশের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত

    ইরানের বিদেশমন্ত্রী বুধবার গভীর রাতে দিল্লি পৌঁছানোর পর বৃহস্পতিবার মোদির সঙ্গে দেখা করেন। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটাই ভারতের সঙ্গে প্রথম উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক ইরানের।চলতি বছর ব্রিকস গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করছে ভারত। ১৪ ও ১৫ মে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রিকস দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সম্মেলন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টে যোগ দিতেই রাশিয়া, ইরান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল এবং ইন্দোনেশিয়ার বিদেশমন্ত্রীরা ভারতে এসেছেন। এদিন রুশ ও ইরান ছাড়াও অন্য দেশগুলির বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে সমবেতভাবে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি ব্রিকস সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ‘ব্রিকস ফ্যামিলি ফোটো’-তেও অংশ নেন।

    আমেরিকার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা

    বৃহস্পতিবার সম্মেলনের (BRICS Meet 2026) প্রথম দিনেই নিজের ভাষণে আমেরিকার বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি মার্কিন নীতিকে ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেন। আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ বিশ্ববাসীর অজানা নয়। এই কক্ষে উপস্থিত অনেকেই একইভাবে ঘৃণ্য জবরদস্তির শিকার হয়েছেন।” অন্যান্য দেশের প্রতি তাঁর আহ্বান, একজোট হয়ে মার্কিন আগ্রাসনের যোগ্য জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। আরাঘচির কথায়, “এখনই সময় আমাদের একসঙ্গে এগিয়ে এসে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার যে, এই ধরনের নীতি ইতিহাসের আবর্জনার স্তূপেই জায়গা পাবে।” পশ্চিম এশিয়ায় বাড়তে থাকা অস্থিরতা নিয়েও সতর্কবার্তা দেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, কিছু দেশ হয়ত মনে করে বেপরোয়া সামরিক বা রাজনৈতিক পদক্ষেপ তাদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিয়ে যায়। কিন্তু বাস্তবে আঞ্চলিক অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত সকল পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর।

    আঞ্চলিক অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতির

    আরাঘচি বলেন, “যাঁরা বেপরোয়া অভিযানে নামছেন, তাঁরা হয়তো ভাবছেন এতে তাঁদের ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ এবং সরকারগুলি এখন বুঝতে পারছে যে, আঞ্চলিক অস্থিরতা সবার জন্যই ক্ষতির— এমনকি আগ্রাসনকারীদের জন্যও।”আরও এক তীব্র মন্তব্যে তিনি বলেন, ইতিহাস দেখিয়েছে পতনের মুখে থাকা সাম্রাজ্যগুলি নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে ওঠে। তাঁর ভাষায়, “ইতিহাস সাক্ষী, পতনশীল সাম্রাজ্য নিজেদের অনিবার্য পরিণতি ঠেকাতে সবকিছু করতে পারে। আহত পশু যেমন শেষ মুহূর্তে মরিয়া হয়ে থাবা মারে ও গর্জন করে, তেমনই আচরণ করে তারা।” যদিও ব্রিকস এখনও এই যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনও কড়া বার্তা দেয়নি, তবে তেহরান চাইছে এই জোট যেন পশ্চিমী আধিপত্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নেয়।

    দিল্লি মস্কো ও তেহরানের মধ্যে সুপ্রাচীন সম্পর্ক

    ব্রিকসের (BRICS Summit 2026) মূল অনুষ্ঠানের ফাঁকে মোদি, রুশ ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলাদাভাবে আলোচনা করেন। ভারতের এই সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, পশ্চিমী চাপ থাকা সত্ত্বেও দিল্লি মস্কো ও তেহরানের সঙ্গে তার সুপ্রাচীন সম্পর্ক রক্ষায় অনড়। যুদ্ধের অস্থিরতার মাঝে দিল্লিতে এই মেগা বৈঠক প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা আরও জোরালো হচ্ছে। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব, অন্যদিকে ইরান-রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব— এই দুইয়ের ভারসাম্যে ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে চলাই শ্রেয় বলে মনে করছে, অভিমত কূটনীতিকদের। ব্রিকস বৈঠকে সদস্য দেশগুলির শীর্ষ কূটনীতিকরা আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করছেন।

LinkedIn
Share