Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Red Fort Blast: দিল্লিকাণ্ডের আগেই ‘আনসার ইন্টেরিম’ সন্ত্রাসী সংগঠন গড়েছিল চিকিৎসক-জঙ্গি উমর নবি

    Red Fort Blast: দিল্লিকাণ্ডের আগেই ‘আনসার ইন্টেরিম’ সন্ত্রাসী সংগঠন গড়েছিল চিকিৎসক-জঙ্গি উমর নবি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত বছরের লালকেল্লা (Red Fort Blast) বিস্ফোরণের জন্য দায়ী আইসিসের সন্ত্রাসী মডিউলের বিরুদ্ধে তদন্তে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য এসেছে । জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ প্রথমে এই মডিউলটি আবিষ্কার করেছিল। এখন জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ তদন্ত করছে। তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, ধৃত ব্যক্তিরা ২০১৬ সালেই জেহাদি সংগঠনে যোগদান করেছিল এবং “আনসার ইন্টেরিম” নামে (Terrorist Umar Un Nabi) তাদের নিজস্ব সন্ত্রাসী সংগঠন গঠন করেছিল।

    ইদগাহে মিলিত হয়েছিল (Red Fort Blast)

    তদন্তকারী অফিসাররা বলছেন, “২০২২ সালের এপ্রিল মাসে শ্রীনগর শহরের ইদগাহে এই সংগঠনের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মিলিত হয়েছিল। সভায় উপস্থিত ছিল মুজাম্মিল গনাই, লালকেল্লা বিস্ফোরণের আত্মঘাতী জঙ্গি উমর-উন নবি (Terrorist Umar Un Nabi), আদিল রাথের, তার পলাতক ভাই মুজাফফর রাথের, মৌলবি ইরফান, ক্বারি আমির এবং তুফায়েল গাজি। এই বৈঠকে তারা আনসার ইন্টেরিম (Red Fort Blast) নামে একটি নতুন সংগঠন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

    আদিলকে দলের প্রধান হিসেবে মনোনীত করা হয়। মৌলবি ইরফান উপ-প্রধান নির্বাচিত হয় এবং গনাই আর্থিক বিষয়গুলি দেখাশোনা করত। “আনসার” শব্দটি প্রায়শই বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত। অভিযুক্তরা তদন্তকারীদের জানিয়েছে, তারা সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই তারা নিজস্ব দল গঠন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই বৈঠকের সময় বিস্ফোরণের পরিকল্পনা এবং গোপন কোডগুলি দেওয়া হয়েছিল।

    মৌলবাদ এবং বিস্ফোরক প্রস্তুতি

    তদন্তকারী অফিসাররা জানিয়েছেন, উমর-উন নবি ছিল সবচেয়ে কট্টরপন্থী (Red Fort Blast) সদস্যদের একজন। ২০১৬ সালে এবং ২০১৮ সালে বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগদানের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু ব্যর্থ হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে হামলার পরিকল্পনায় গভীরভাবে জড়িত হয়ে পড়ে। এর পর, ২০২৩ সালে, এই জঙ্গি সংগঠনটি হরিয়ানার সোহনা এবং নুহ থেকে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। উমেরের নির্দেশে, ফরিদাবাদের একটি রাসায়নিক দোকান থেকে এনপিকে পটাসিয়াম নাইট্রেট  কেনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময়, ধৃতরা স্বীকার করেছে যে, উমর ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED) তৈরি শেখার জন্য অনলাইন ভিডিও দেখতে শুরু করেছিল। অবশেষে সে ট্রায়াসিটোন ট্রাইপেরক্সাইড (TATP) তৈরি করতে সক্ষম হয়। এটি একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক বিস্ফোরক যা বিশ্বব্যাপী বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।

    আদিল রাথার আরও নতুন সদস্য সংগ্রহ শুরু করে। দক্ষিণ কাশ্মীরের বাসিন্দা দানিশ, যার নাম জসির— আদিল তাকে ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভাড়া ঘরে নিয়ে যায়, যেখানে উমর এবং গনাই বিস্ফোরক তৈরি করছিল। উমর দানিশকে আত্মঘাতী হামলা চালাতে রাজি করানোর চেষ্টাও করেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে পিছু হটে যায়। দানিশ জানিয়েছিল যে, ইসলামে আত্মহত্যা নিষিদ্ধ এবং তার আর্থিক অবস্থা খারাপ।

    প্লট এবং পতন

    তদন্তকারী অফিসারদের মতে, উমর কোনও জনাকীর্ণ স্থানে, সম্ভবত দিল্লিতে অথবা কোনও ধর্মীয় স্থানে, যানবাহনে বহনযোগ্য বিস্ফোরক ডিভাইস (ভিবিআইইডি) হামলার পরিকল্পনা করছিল। কর্মকর্তাদের ধারণা, মূল পরিকল্পনা ছিল বিস্ফোরক-বোঝাই (Red Fort Blast) গাড়িটি রেখে পালিয়ে যাওয়া। তবে, শ্রীনগর পুলিশ যখন তাদের তদন্ত জোরদার করে তখন পরিকল্পনাটি উন্মোচিত হতে শুরু করে।

    জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টার

    ১৯ অক্টোবর শ্রীনগরের উপকণ্ঠে নওগামের বুনপোরায় জৈশ-ই-মহম্মদের পোস্টার দেখা যাওয়ার পর এই সাফল্য আসে। পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে এবং সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে আগে পাথর ছোড়ার মামলায় জড়িত তিন স্থানীয় ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মৌলবি ইরফান আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়, যে একজন প্রাক্তন প্যারামেডিক ছিল এবং শোপিয়ানে ইমাম হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে পোস্টার সরবরাহ এবং গোষ্ঠীর সদস্যদের মৌলবাদ (Terrorist Umar Un Nabi) প্রচার করার ভূমিকা পালনের অভিযোগ দায়ের হয়।

    এর পরপরই, গনাইকে গ্রেফতার করা হয় এবং বিস্ফোরক (Red Fort Blast) বাজেয়াপ্ত করা হয়। অফিসাররা মনে করেন, এই ঘটনায় ফরিদাবাদস্থিত নেটওয়ার্কের শীর্ষস্তরে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। চাপ বাড়ার সঙ্গে উমর অকাল আক্রমণে এগিয়ে যায়, যার ফলে লাল কেল্লার বাইরে মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। তদন্তে এখন একটি আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্কের সন্ধান মিলেছে যারা সম্মানজনক পেশার আড়ালে বছরের পর বছর ধরে জঙ্গি কর্মকাণ্ডকে নীরবে কাজ করে আসছিল। এনআইএ তাদের তদন্ত অব্যাহত রাখার সঙ্গে সঙ্গে অফিসাররা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলিতে এই “হোয়াইট-কলার” সন্ত্রাসী মডিউলের তহবিল, নিয়োগ এবং সম্ভাব্য বিস্তৃত সংযোগ সম্পর্কে আরও বিশদ প্রকাশ পেতে পারে।

    লাল কেল্লা বিস্ফোরণ এবং হোয়াইট কলার সন্ত্রাসী মডিউল

    গত বছরের ১০ নভেম্বর দিল্লির লালকেল্লার (Red Fort Blast) কাছে এক বড় গাড়ি বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত এবং ২৫ জনের বেশি আহত হন। এই বিস্ফোরণে, বিস্ফোরক ভর্তি একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়ি চালাচ্ছিল পুলওয়ামার বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সি চিকিৎসক-জঙ্গি উমর-উন নবি। লালকেল্লা বিস্ফোরণের (Terrorist Umar Un Nabi) তদন্ত এবং কাশ্মীরে “হোয়াইট-কলার” মডিউল প্রকাশ্যে আসায় একটি আন্তঃসংযুক্ত জিহাদি নেটওয়ার্ক উন্মোচিত হয়েছে, যার কেন্দ্রে ছিল ধৃত জিএমসি অনন্তনাগের র্মী আদিল এবং মুজাম্মিল গনাই।

    ডাক্তারদের ছদ্মবেশে গভীর ষড়যন্ত্র

    প্রথমে যাকে একটি স্বতন্ত্র সন্ত্রাসী হামলা বলে মনে হয়েছিল, এখন তা আরও গভীর এবং সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের উন্মোচন করেছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন পুলওয়ামার ডাঃ মুজাম্মিল শাকিল গনাই, অনন্তনাগের ডাঃ আদিল আহমেদ রাথের, লখনউয়ের ডাঃ শাহিন সঈদ এবং শোপিয়ানের মুফতি ইরফান আহমেদ ওয়াগে। ফরিদাবাদের আল-ফালাহ্ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত দুই চিকিৎসককেও (Red Fort Blast) দিল্লি পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

  • Gujarat: সমুদ্রের বুক চিরে চলে গিয়েছে রাস্তা, গুজরাটের এই সড়ক মন কাড়ছে পর্যটকদের

    Gujarat: সমুদ্রের বুক চিরে চলে গিয়েছে রাস্তা, গুজরাটের এই সড়ক মন কাড়ছে পর্যটকদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত বৈচিত্র্যময় দেশ। তাই সারা বিশ্বের ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। হিমালয়ের পাহাড়ে ঘুরে বেড়াতে চাইলে কিংবা গোয়ার সমুদ্রসৈকতে রোদ পোহাতে চাইলে এই দেশই সবার সেরা। এখানেই (Gujarat) প্রত্যেক পর্যটকই তাঁর স্বপ্নের গন্তব্য খুঁজে পেতে পারেন। এই মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের মাঝেই রয়েছে এক স্বপ্নিল সড়ক, যার দু’পাশ জুড়ে অসীম জলরাশি। ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথের নাম, ‘রোড টু হেভেন’। মূল ভূখণ্ড কচ্ছকে গুজরাটের ধোলাভিরা গ্রামের সঙ্গে যুক্ত করেছে এই রাস্তা (Float On Water)।

    ‘রোড টু হেভেন’ (Gujarat)

    ‘রোড টু হেভেন’ তার দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক দৃশ্য ও অনন্য ভূপ্রকৃতির জন্য পরিচিত। বছরের প্রায় ছ’মাস রাস্তার দু’পাশে জল থাকে, বাকি সময়টা চোখে পড়ে সাদা নুনের প্রান্তর। কখনও মনে হয় যেন জলের ওপর দিয়ে গাড়ি চালানো হচ্ছে, আবার কখনও হয় বিশাল লবণ মরুভূমি পেরোনোর অনুভূতি। তবে এসবই নির্ভর করে কোন সময় আপনি ভ্রমণ করবেন, তার ওপর। সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয়তা বাড়ার ফলে এই রাস্তা কচ্ছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক প্রতীকী পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। এটি ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল। এই সড়কের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বও রয়েছে। এটি খাদির বেট দ্বীপে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর ধোলাভিরার সঙ্গে খাভদা গ্রামের সংযোগ স্থাপন করে, যে গ্রামটি হস্তশিল্প ও হোয়াইট রান অফ কচ্ছের নিকটবর্তী হওয়ায় পরিচিত। জি২০ সম্মেলনের সময় এই পথ প্রদর্শিত হওয়ার পর এটি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। পরে সরকার এটি সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেয় এবং দ্রুতই এটি ভ্রমণপিপাসুদের জনপ্রিয় ড্রাইভিং রুটে পরিণত হয় (Gujarat)।

    ভারতের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা

    ট্রাভেল কনটেন্ট নির্মাতা অরিহন্ত বাইদ ইনস্টাগ্রামে এই রাস্তার একটি মনোমুগ্ধকর ভিডিও শেয়ার (Float On Water) করেছেন। ভিডিওর নোটে লেখা ছিল— “পাকিস্তান থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে ভারতের সবচেয়ে সুন্দর রাস্তা। ‘রোড টু হেভেন’ নামে পরিচিত এই ৩০ কিলোমিটার পথ মূল কচ্ছকে খাদির বেট দ্বীপের সঙ্গে যুক্ত করেছে, যেখানে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর ধোলাভিরা।” নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি—শীতকালই ‘রোড টু হেভেন’ ভ্রমণের উপযুক্ত সময়। এই সময় আবহাওয়া শীতল ও শুষ্ক থাকে, আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং সাদা লবণ মরুভূমির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করা যায়।

    যাবেন কীভাবে

    বিমানপথে যেতে গেলে ভুজ বিমানবন্দরে অবতরণের পর ট্যাক্সি ভাড়া করে ‘রোড টু হেভেনে’পৌঁছনো যায়। বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার (Gujarat)। রেলপথে যেতে গেলে নিকটতম রেলস্টেশন ভুজ জংশনে আসতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে এই সড়ক, যা ট্যাক্সি বা ব্যক্তিগত গাড়িতে পৌঁছনো যায়। তবে এই মনোরম পথ উপভোগ করতে রোড ট্রিপই সেরা বিকল্প। রাজকোট, আহমেদাবাদ ও গান্ধীনগর-সহ গুজরাটের প্রধান শহরগুলির সঙ্গে এটি সুসংযুক্ত। অন্যরকম, স্বপ্নিল ড্রাইভিং অভিজ্ঞতার খোঁজে থাকলে কচ্ছের এই (Float On Water) অসাধারণ সড়ক আপনার ভ্রমণতালিকায় অবশ্যই থাকা উচিত (Gujarat)।

     

  • India: বেঙ্গালুরুতে নয়া অফিসের উদ্বোধন করল আমেরিকা-ভিত্তিক এআই কোম্পানি

    India: বেঙ্গালুরুতে নয়া অফিসের উদ্বোধন করল আমেরিকা-ভিত্তিক এআই কোম্পানি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিল্লিতে (India) এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ এর অনুষ্ঠান চলছে। এহেন আবহে আমেরিকা-ভিত্তিক এআই কোম্পানি অ্যানথ্রোপিক বেঙ্গালুরুতে তাদের নতুন (Claude Developers) অফিসের উদ্বোধন করে দিল। এর মাধ্যমে ভারতে তাদের এআই সম্প্রসারণে একটি বড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। অফিস উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি কর্পোরেট, স্টার্টআপ, শিক্ষা, কৃষি এবং সরকারি খাতজুড়ে বিস্তৃত অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেছে। টোকিওর পর বেঙ্গালুরু অফিসটি এশিয়ায় অ্যানথ্রোপিকের দ্বিতীয় কেন্দ্র। অ্যানথ্রোপিক ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইরিনা ঘোষ এই অফিসের নেতৃত্ব দেবেন। ভারতে কার্যকলাপ আরও বিস্তারের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি বিভিন্ন পদে স্থানীয় প্রতিভা নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে।

    ভারত এআইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বাজার (India)

    ভারত দ্রুতই অ্যানথ্রোপিকের জনপ্রিয় এআই সহকারী ক্লড.এআই-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাজারে পরিণত হয়েছে। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ভারত এখন বৈশ্বিকভাবে তাদের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ভারতে ক্লডের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হচ্ছে কারিগরি কাজে—যেমন কোডিং, গণিতভিত্তিক কাজ, অ্যাপ্লিকেশন তৈরি, পুরানো সিস্টেম আপগ্রেড এবং প্রোডাকশন সফটওয়্যার রিলিজে। এতে স্পষ্ট হয় যে ভারতীয় ডেভেলপাররা এআইকে শুধু কনটেন্ট তৈরি বা চ্যাটের জন্য নয়, বরং জটিল প্রযুক্তির কাজেও ব্যবহার করছেন। ইরিনা বলেন, “দায়িত্বশীল এআই বিকাশের জন্য ভারত একটি শক্ত ভিত্তি প্রদান করে। দেশের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, বৃহৎ ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবন উন্নয়নের সাফল্য—এই সমন্বয় ভারতকে বিশ্বের অন্যতম সম্ভাবনাময় এআই সম্প্রসারণ ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলেছে (Claude Developers)।”

    রাহুল পাতিলের বক্তব্য

    অফিস উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ডেভেলপার সম্মেলনে অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রযুক্তি আধিকারিক রাহুল পাতিল বলেন, “অসম্ভবও ভারতেই সম্ভব।” বেঙ্গালুরুতে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, তাঁর মা ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স শিক্ষক। তিনি বল্ডউইন ইনস্টিটিউশন, সেন্ট জোসেফস এবং পরে পিইএস বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, যেটিকে তিনি খুব কঠোর প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রযুক্তির প্রথম বর্ষেই তিনি তাঁর ভাবী (India) স্ত্রীকে চিনেছিলেন বলেও জানান। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ভারত শুধু এআইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতৃত্ব গঠনের ক্ষেত্রও।

    অ্যানথ্রোপিকের অন্যতম অগ্রাধিকার হল ভাষা

    ভারতে অ্যানথ্রোপিকের অন্যতম অগ্রাধিকার হল ভাষা। দেশে এক ডজনেরও বেশি সরকারি স্বীকৃত ভাষায় এক বিলিয়নের বেশি মানুষ কথা বললেও, এআই সিস্টেমগুলি ইংরেজিতে তুলনামূলক ভালো কাজ করে। এই সমস্যার সমাধানে ছ’মাস আগে কোম্পানিটি হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, তেলুগু, তামিল, পাঞ্জাবি, গুজরাটি, কন্নড়, মালায়ালম এবং উর্দু—এই দশটি বহুল ব্যবহৃত ভাষায় পারফরম্যান্স উন্নত করার উদ্যোগ নেয়। উন্নত ও প্রতিনিধিত্বশীল প্রশিক্ষণ ডেটা ব্যবহারের মাধ্যমে সাবলীলতায় চোখে পড়ার মতো উন্নতি হয়েছে বলে কোম্পানি জানিয়েছে। ভারতীয় ভাষায় মডেল আরও শক্তিশালী করতে কাজ চলছে (Claude Developers)। কৃষি ও আইন খাতে ভারত-সংশ্লিষ্ট কাজ মূল্যায়নের জন্য অ্যানথ্রোপিক কারিয়া ও কালেকটিভ ইন্টেলিজেন্স প্রজেক্টের সঙ্গে কাজ করছে। ডিজিটাল গ্রিন ও আদালত এআইয়ের মতো অলাভজনক সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও এতে যুক্ত। লক্ষ্য হল, মূল্যায়ন সরঞ্জামগুলি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা, যাতে অন্যরাও ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য উন্নত এআই তৈরি করতে পারে।

    ভারতে অ্যানথ্রোপিকের আয়ের হার দ্বিগুণ

    অক্টোবর ২০২৫-এ সম্প্রসারণ পরিকল্পনা ঘোষণা করার পর থেকে ভারতে অ্যানথ্রোপিকের আয়ের হার দ্বিগুণ হয়েছে। বড় কর্পোরেট, ডিজিটাল-ফার্স্ট কোম্পানি এবং প্রাথমিক পর্যায়ের স্টার্টআপগুলি থেকে প্রবৃদ্ধি এসেছে (India)। এয়ার ইন্ডিয়া তাদের ডেভেলপারদের দ্রুত ও কম খরচে কাস্টম সফটওয়্যার তৈরি করতে ক্লড কোড ব্যবহার করছে। ফিনটেক প্ল্যাটফর্ম ক্রেড ক্লড কোড ব্যবহারে ফিচার ডেলিভারি দ্বিগুণ দ্রুত এবং টেস্ট কভারেজে ১০ শতাংশ উন্নতির কথা জানিয়েছে। কগনিজ্যান্ট বিশ্বব্যাপী ৩ লাখ ৫০ হাজার কর্মীর জন্য ক্লড ব্যবহার করছে সিস্টেম আধুনিকীকরণে। রেজরপে তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই যুক্ত করেছে। এন্টারপ্রেট ক্লড-চালিত এআই সহকারী তৈরি করেছে (Claude Developers)। স্টার্টআপ এমার্জেন্ট, যা ব্যবহারকারীদের সাধারণ ভাষায় সফটওয়্যার তৈরি করতে দেয়, ক্লড ব্যবহার করে পাঁচ মাসেরও কম সময়ে ২ মিলিয়ন ব্যবহারকারী ও ২৫ মিলিয়ন ডলার বার্ষিক আয় অর্জন করেছে।

    ভারতে ক্লড ব্যবহার

    ভারতে ক্লড ব্যবহারের প্রায় ১২ শতাংশ শিক্ষা-সংক্রান্ত। অ্যানথ্রোপিক দেশের বৃহত্তম শিক্ষা-সংস্থা প্রাথমের সঙ্গে অংশীদারিত্ব করেছে। “এনিটাইম টেস্টিং মেশিন” নামের ক্লড-চালিত টুলটি বর্তমানে ২০টি স্কুলে ১,৫০০ শিক্ষার্থীর ওপর পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে এবং ২০২৬ সালের মধ্যে ১০০ স্কুলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। স্কুল ছেড়ে দেওয়া মহিলাদের জন্য প্রাথমের সেকেন্ড চান্স প্রোগ্রামেও এটি ব্যবহার হচ্ছে (India)। ওপেনঅ্যাগ্রিনেট উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান পৌঁছে দিতে ক্লড ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে নূরা হেলথ ও ইন্টেলিহেলথের মতো সংস্থাগুলি ক্লড কোড ব্যবহার করছে। প্রায় ৫ কোটি বিচারাধীন মামলার প্রেক্ষাপটে আদালত এআইয়ের সহযোগিতায় হোয়াটসঅ্যাপ হেল্পলাইন চালু হয়েছে, যেখানে মামলার আপডেট, সারাংশ ও অনুবাদ পাওয়া যায়। অ্যানথ্রোপিক তাদের মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল লিনাক্স ফাউন্ডেশনে দান করেছে। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় প্রথম ভারতীয় সরকারি এমসিপি সার্ভার চালু করেছে (India)।

    ওপেনএআই, মাইক্রোসফট ও গুগলের মতো প্রতিষ্ঠানও ভারতে গবেষণা ও বাজার সম্প্রসারণ বাড়িয়েছে। ভারতের তিনটি বড় সুবিধা হল—বৃহৎ ডেভেলপার ভিত্তি, শক্তিশালী ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং বহুভাষিক বাস্তব ব্যবহার ক্ষেত্র (Claude Developers)। আগামী বছরগুলিতে ভারতের এআই বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। অ্যানথ্রোপিকের বেঙ্গালুরু অফিস উদ্বোধন স্পষ্ট করেছে, ভারত এখন আর শুধু বৈশ্বিক এআই প্রযুক্তির ভোক্তা নয়, বরং পরবর্তী এআই উদ্ভাবনের নির্মাতা ও অংশীদার (India)।

     

  • AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। এআই ডিভাইস পরে ওই সামিটে উপস্থিত হওয়ায় বিশেষভাবে নজর কাড়েন তিনি। ‘সর্বম কাজে’ (Sarvam Kaze) নামে পরিচিত এই যন্ত্রটি দেশীয় স্টার্টআপ সর্বম এআই (Sarvam AI)–এর তৈরি একটি স্বদেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য। ডিভাইসটি সামিটে তাৎক্ষণিকভাবে  আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং দায়িত্বশীল এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য নীতিনির্ধারক, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি জগতের বিশ্বনেতাদের একত্র করেছে। সর্বম কাজে সম্পূর্ণরূপে ভারতে নকশা ও নির্মিত একটি এআই ওয়্যারেবল হিসেবে বাজারজাত করা হবে, যা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

    সর্বম কাজে এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস (AI Summit 2026)

    সর্বম কাজে হল চশমার মতো একটি এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস, যা তাৎক্ষণিকভাবে শোনে, বোঝে এবং সাড়া দেয়। ব্যবহারকারী কী দেখছেন, সেটিও এটি ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। প্রচলিত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার-নির্ভর এআই ব্যবস্থার তুলনায় এই ডিভাইস এআইকে সরাসরি বাস্তব জগতে নিয়ে আসে—যেখানে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করা যায় এবং ফল দেখা যায় স্ক্রিনে। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সংস্থাটি এতে একটি চ্যাট ফাংশন যুক্ত করবে। ডেভেলপাররাও এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন, যা বিভিন্ন শিল্পখাতে নির্দিষ্ট ব্যবহারিক ক্ষেত্র তৈরি করবে। মে মাসে পণ্যটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত মণ্ডপমে প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বম কাজে ডিভাইস পরা অবস্থায় দেখা যায়। সর্বম এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রত্যুষ কুমারের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ব্যবহার করে ডিভাইসটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা পরীক্ষা করছেন। এই উপস্থিতি স্টার্টআপ ও তাদের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ভারত নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে।

    সর্বম এআই

    সর্বম এআই নির্বাচিত সংস্থাগুলির মধ্যে একটি, যা ভারতীয়দের প্রয়োজন মেটাতে স্বদেশি ভিত্তিমূলক এআই মডেল তৈরি করছে। সংস্থাটি ভারতীয় ভাষাভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) ও স্পিচ মডেল তৈরি করছে। এই মডেলগুলি ভয়েস ইন্টারফেস, নথি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। সম্প্রতি স্টার্টআপটি ‘সর্বম অক্ষর’ চালু করেছে নথি ডিজিটাইজেশনের জন্য, ‘সর্বম স্টুডিও’ চালু করেছে বহুভাষিক কনটেন্ট তৈরির জন্য এবং ‘সারাস ভি৩’ নামে একটি স্পিচ রেকগনিশন মডেল উন্মোচন করেছে, যা ভারতীয় ভাষায় নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’

    ভারত সরকারের বৃহত্তর ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর অংশ হিসেবে সর্বম কাজে চালু করা হয় মার্চ, ২০২৬-এ, ১০,৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে। এই মিশনের আওতায় ৩৮,০০০-এরও বেশি জিপিইউ স্টার্টআপ ও গবেষকদের সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১২টি গোষ্ঠীকে স্বদেশি বৃহৎ ভাষা মডেল নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ১৬ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ এমন উদ্ভাবন প্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। দ্রুতগতিতে এআই রোডম্যাপ তৈরির পথে এগোতে গিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই সর্বম কাজের মতো বিশ্বমানের স্বদেশি এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

     

  • Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মেরঠের পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হয়েও তারা প্রায় তিন দশক ধরে ভারতে বসবাস করছে। সমাজকর্মী রুখসানার অভিযোগ, মা ও মেয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে, পাকিস্তানের নাগরিকত্বও হাতছাড়া করেনি।

    পুলিশ সুপারের বক্তব্য (Uttar Pradesh)

    সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সুপার অবিনাশ পাণ্ডে জানান, দিল্লি গেট এলাকায় বসবাসকারী ফারহাত মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পান। জানা যায়, সে পাকিস্তানে গিয়ে সাবা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে। ওই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছে। সাবা ও তার মেয়ে, উভয়েই পাকিস্তানের নাগরিক। এসএসপি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে অভিযুক্তরা বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন। সিটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলছে।

    প্রধান অভিযুক্ত

    এফআইআরে সাবা মাসুদ ওরফে নাজি ওরফে নাজিয়া এবং তার মেয়ে আইমান ফারহাতকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথির ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, সাবা পাকিস্তানে ফারহাত মাসুদকে বিয়ে করে। আইমানের জন্ম হয় ১৯৯৩ সালের ২৫ মে, পাকিস্তানে। তিনি আরও বলেন, “সাবা ভারতে ফিরে এলে আইমান সাবার পাকিস্তানি পাসপোর্টে ভারতে ঢুকে পড়ে, যেখানে তার নাম ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।” রুখসানার দাবি (Uttar Pradesh), পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মা ও মেয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করেই মেরঠে বসবাস করছে। আইমান এ দেশেই পড়াশোনা করে, যদিও কখনওই বৈধ নাগরিকত্বের আবেদন করেনি। ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড়ের উদ্দেশ্যে জাল ও মনগড়া নথি প্রস্তুত করা হয়। সাবা মাসুদ ও নাজিয়া মাসুদ – এই দুই ভিন্ন নামে দুটি পৃথক ভোটার কার্ড জোগাড় করে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড পরিচয় গোপন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা করার শামিল।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রুখসানার

    রুখসানা তাঁর অভিযোগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা জাল পাসপোর্ট ও নথির ভিত্তিতে একাধিকবার পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে ঘুরেছে। সাবার বাবা হানিফ আহমেদ পাকিস্তানের নাগরিক।” রুখসানার দাবি, সে নাকি আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট সংবেদনশীল। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে দিল্লির সেনা সদর দফতর ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াত করত। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও জানায়। তার জেরে কেউ তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখেননি। যদিও শেষ রক্ষা হল না। শেষমেশ ধরাই পড়ে গেলেন (Uttar Pradesh)।

  • India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। এর (India) ফলে রাভি (সংস্কৃত নাম ইরাবতী) নদীর অতিরিক্ত জল আর প্রবাহিত হবে না পাকিস্তানে (Pakistan)। এমনই জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে  জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল।

    কী বললেন জাভেদ আহমেদ রানা? (India)

    একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রানা বলেন, “হ্যাঁ, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি এও বলেন, “কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা খরাপ্রবণ এলাকা, কান্দি অঞ্চলের জন্য এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।” নদীর জল সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। শাহপুর কান্দি ব্যারাজ, যা একটি জাতীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চার দশক পর সংশোধিত হয়। গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং সেগুলি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (India)।

    সিন্ধু জলচুক্তি

    বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রুটিপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ছ’টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলি (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগা) পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল সীমিত ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল (Pakistan)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শাহপুর কান্দি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সেচ অংশের জন্য ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা মঞ্জুর করে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পাঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। পাঞ্জাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাধোপুর হেডওয়ার্কসের নিম্নপ্রবাহ দিয়ে পাকিস্তানে অপচয় হওয়া রাভি নদীর জল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (India)। এছাড়াও, পাঞ্জাবের ১.১৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য যে জল ছাড়া হয়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি রূপায়ন হলে পাঞ্জাব ২০৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল আগেই

    এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৭৯ সালে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে রণজিৎ সাগর বাঁধ (থেইন বাঁধ) ও শাহপুর কান্দি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাঞ্জাবের ওপর ন্যস্ত হয়। ২০০১ সালে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করে। তবে বিদ্যুৎ অংশের জন্য পাঞ্জাব সরকারের অর্থাভাব এবং পরে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমস্যার কারণে (India) কাজ বিশেষ এগোয়নি। একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ২০১৮ সালে দিল্লিতে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন (Pakistan)। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে। ব্যারাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বছর আগে নির্মিত প্রায় ৮০ কিমি রাভি খাল এবং জম্মু-কাশ্মীরে ৪৯২.৫ কিমি জলবণ্টন নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন অব্যবহার্য অবস্থায় ছিল।

     

  • India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের (India-Bangladesh Relations) রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগোলেও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ১১-দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জামায়াতের বেশিরভাগ সাফল্য এসেছে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলায় যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি সেখানে জয়ী হয়েছে জামাত।

    ভারতের জন্য উদ্বেগের

    হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জিগির উঠলেও, এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর…সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। যা ভারতের জন্য উদ্বেগের, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতিকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া না দেওয়া অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। এর অধিকাংশটাই পশ্চিমবঙ্গের। নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার যে কোনও জমি নিতে পারে। তাই শীঘ্রই এখানে বেড়া দেওয়া দরকার।

    ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি ভারতের জন্য আশঙ্কার। বিরোধীদেরও দাবি, এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মনে করি, একাত্তরের শক্তির খানিকটা জাগরণ ঘটেছে বলে, আরও জাগরণ ঘটত যদি আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। তাহলে এই জামাতিরা ১০টি আসন পেত না।” হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাছাকাছি আসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পদ্মাপারে বাড়তে থাকে কট্টরপন্থীদের দাপট। অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনে ইন্ধন ছিল ইসলামাবাদের। তারেক রহমানের হাত ধরে ফের ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে কি না তা সময় বলবে।

    নির্বাচনের সারসংক্ষেপ

    মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও তার জোট ২১২টি আসন জিতে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পায়—দলের ইতিহাসে যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) মাত্র ৬টি আসন জিতে ভরাডুবির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চল, শিক্ষিত ভোটার ও মহিলারা জামায়াতের রক্ষণশীল অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দলটির প্রভাব বেড়েছে।

    হিন্দু অধ্যুষিত বিভাগ ও জামায়াতের ফল

    বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮% (প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ)। তবে কিছু বিভাগে এই হার ১০%–এর বেশি।

    সিলেট বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩.৫%

    জামায়াতের সাফল্য সীমিত

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা)

    তুলনামূলকভাবে ভারত-বিরোধী মনোভাব এখানে কম

    রংপুর বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩%

    রংপুর-১, ২, ৩, ৫, ৬ সহ একাধিক আসনে জামায়াতের জয়

    গাইবান্ধা, জয়পুরহাটেও ভালো ফল

    খুলনা বিভাগ (বিশেষত সাতক্ষীরা)

    হিন্দু জনসংখ্যা: ১১–১২%

    সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের জয়

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও ২৪ পরগনার সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের এই জায়গাগুলো।

    কেন উদ্বিগ্ন ভারত

    সীমান্ত নিরাপত্তা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিমি। রংপুর-খুলনা অঞ্চলে জামায়াতের শক্ত অবস্থান সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বা অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে দলটি ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল।

    ভারত বিরোধী মনোভাব: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত। সেই অতীতের কারণে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় ভারতবিরোধী বক্তব্য তাদের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংখ্যালঘু নিরাপত্তা: যেসব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ১০%–এর বেশি, সেখানে জামায়াতের উত্থান সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে সামাজিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: তিস্তা জলবণ্টনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    জনমতের বার্তা

    জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির জয় দেখায় যে অধিকাংশ ভোটার চরমপন্থাকে সমর্থন করেননি। শহরাঞ্চল ও মহিলা ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি কার্যকর হয়েছে।
    ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Bangladesh: তারেককে ভারতে আমন্ত্রণ মোদির, সম্পর্কের মাত্রা পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    Bangladesh: তারেককে ভারতে আমন্ত্রণ মোদির, সম্পর্কের মাত্রা পরিবর্তনের ইঙ্গিত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রধানমন্ত্রী রূপে শপথ গ্রহণ করবেন তারেক রহমান। ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উপস্থিত না থাকতে পারলেও বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি মোদির চিঠি নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছেন। চিঠিতে মোদি তারেককে (Tarique Rahman) ভারতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ভারত চাইছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কিছু সময়ের পরেই যেন ভারত সফরে আসেন এই বিএনপি নেতা।

    সম্পর্কের বিরাট অবনতি হয়েছিল (Bangladesh)

    ঢাকার (Bangladesh) শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যেতে পারছেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি। অবশ্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তিনি দিল্লি এবং মুম্বইতে একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশেষ ভাবে ব্যস্ত থাকবেন। তবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে দেশ থেকে বিতারিত করার পর গত দেড় বছরের বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের বিরাট অবনতি ঘটেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস নিজেও কট্টর ভারত বিরোধিতা করে পাকিস্তান এবং আইএসআই-এর সঙ্গে সম্পর্ক সুগম্য করেছেন। তাই বিএনপি সরকার গড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের দ্রুত উন্নতি চায়। তারেক রহমানকে সেই জন্য নির্বাচনের পরে মোদি স্বয়ং অভিনন্দন জ্ঞাপন করেছিলেন। উল্লেখ্য, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যে অংশগ্রহণ করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর। ভারত সব সময়েই বাংলাদেশে স্থায়ী সরকার গঠনের পক্ষে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।

    চুক্তি সম্পন্ন হলে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হবে

    শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তারেক রহমান বলেছেন, “কোন একটি দেশের (Bangladesh) সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কের পথে পা বাড়াবো না। আমাদের বিদেশনীতি হবে স্বাধীন এবং সাবলক। সরকারের বিদেশনীতির মূলমন্ত্র হবে সবার আগে দেশ (Tarique Rahman)।”

    তবে ভারতের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। উপমহাদেশে শান্তি এবং সুরক্ষা বজায় রাখতে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে আরও মজবুত করা প্রয়োজন। ইউনূসের শাসনের কালা অধ্যায়কে দ্রুত কাটাতে চায় ভারত। এই জন্য দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিশেষ বৈঠক করা একান্ত প্রয়োজন। তবে তারেক রহমান ভারত সফরে আসলে দুই দেশের মধ্যে একাধিক বিষয়ে চুক্তিকে বাস্তবায়ন করা ভীষণ ভাবে প্রয়োজন। তারমধ্যে হল গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তি। গত ৩০ বছর আগে এই চুক্তি হয়েছিল এবং এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। ২০২৬ সালে ফের আরেকবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিমধ্যে দুই দেশের অফিসার এবং ইঞ্জিনিয়ারদের মধ্যে ইতিমধ্যে কথাবার্তা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহল অবশ্য মনে করছে, দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে সম্পর্কের মাত্রা ভালো হবে।

  • BJP: তেলঙ্গনার করিমনগর পুরসভার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদে বিজেপি

    BJP: তেলঙ্গনার করিমনগর পুরসভার মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদে বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তেলঙ্গনার (Telangana) করিমনগরে মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদ দখল করল বিজেপি (BJP)। ভোট হয়েছিল ১১ ফেব্রুয়ারি। ৩৪ জন কর্পোরেটরের সমর্থনে মেয়র নির্বাচিত হন বিজেপির কর্পোরেটর কোলাগানি শ্রীনিবাস। ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের সুনীল রাও। এর আগে নবনির্বাচিত পরিচালন পর্ষদের সদস্যরা করিমনগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন কার্যালয়ে শপথ গ্রহণ করেন। নির্বাচন আধিকারিক আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন। বিশেষ আধিকারিক আরডিও মহেশ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয়, মানাকোন্ডুর বিধায়ক এবং এক্স-অফিসিও সদস্য সত্যনারায়ণ।

    কে কত আসন পেয়েছে (BJP)

    মোট আসন সংখ্যা ৬৬। এর মধ্যে বিজেপি জিতেছে ৩০টি আসন, আর কংগ্রেস (আইএনসি) ১৪টি। বিআরএস ৯টি, নির্দল প্রার্থী ৮টি, এআইএমআইএম ৩টি এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক ২টি আসন পেয়েছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস, বিআরএস, এমআইএম, এআইএফবি সদস্য ও নির্দল প্রার্থীরা যে কোনও প্রকারে কর্পোরেশনের রাশ নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত মেয়র পদ দখলের চেষ্টাও চালিয়ে যান। ৬৬ আসনের করিমনগর কর্পোরেশনে বিজেপি সর্বাধিক ৩০টি আসন পেলেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে চেয়ার দখল করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল (Telangana)।

    মেয়র পদ নিয়ে লড়াই

    এই প্রেক্ষিতে হায়দরাবাদের উপকণ্ঠের একটি রিসর্টে পৃথক শিবির করার কথাও জানা গিয়েছে। মেয়র পদ নিয়ে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে সংখ্যার লড়াই চলতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বিজেপি মেয়রের চেয়ার দখল করে (BJP)। করিমনগরে মেয়র পদ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বন্দি সঞ্জয় কৌশলগত ভূমিকা নেন। কংগ্রেসের মেয়র প্রার্থী পান ২১টি ভোট। বিআরএস নিরপেক্ষ থাকে। এক্স হ্যান্ডেলে বন্দি সঞ্জয় লিখেছেন, “এটি শুধু একটি রাজনৈতিক বিজয় নয়, এটি আবেগের মুহূর্ত। বহু বছর ধরে নীরবে লালিত এক স্বপ্ন যেন আজ বাস্তবায়িত হয়েছে। যে ওয়ার্ডে মজলিস পার্টির কার্যালয় রয়েছে, সেই ওয়ার্ডেই আমাদের কর্মীরা গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করেছেন। সেই দৃশ্য আমার স্মৃতিতে চিরকাল থাকবে। এটি সাহসের কথা বলে, পরিবর্তনের কথা বলে (Telangana)।”

    বিজেপি জয়ী

    তিনি বলেন, “করিমনগরের মাটিতে গণতন্ত্র দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এটি সম্ভব হয়েছে জনগণের সহযোগিতায়।” তিনি এও বলেন, “প্রতিবেশী দলগুলির সঙ্গে কাবাডি কাপের খেলায় বিজেপি জয়ী হয়েছে (BJP)।” কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধে তিনি একাধিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন। বলেন, “সব কিছু প্রকাশ করা সম্ভব নয়।” করিমনগর পুরসভায় গেরুয়া পতাকা উত্তোলনের স্বপ্ন পূরণ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, “নির্বাচন পর্যন্তই রাজনীতি। এরপর রাজনীতি পাশে সরিয়ে রাখা উচিত। আমরা করিমনগরের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছিলাম। উন্নয়নের স্বার্থে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করব। বিজেপি মেয়র থাকার কারণে রাজ্য সরকার যদি অর্থ না দেয়, তবুও আমরা পিছিয়ে আসব না (Telangana)।”

    বিজেপিকে বঞ্চিত করতে ষড়যন্ত্র?

    তাঁর প্রশ্ন, বিআরএস, এমআইএম ও কংগ্রেস জোট বেঁধে কী লাভ করেছে? তাঁর অভিযোগ, বিজেপি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও এই তিন দল মিলে মেয়র নির্বাচনে তাদের হারানোর ষড়যন্ত্র করেছিল (BJP)। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী রেবন্ত রেড্ডি গারু… মন্ত্রী, বিআরএস এবং এমআইএমকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপিকে মেয়র ও ডেপুটি মেয়র পদ থেকে বঞ্চিত করতে কোনও ষড়যন্ত্রই আপনি বাদ দেননি। কিন্তু বন্দি সঞ্জয়ের রাজনৈতিক কৌশল ও বিজেপি কর্মীদের লড়াকু মনোভাবের সামনে সব ষড়যন্ত্র ভেস্তে গিয়েছে। যেমন ক্রিকেটে পাকিস্তানের বড় জয়, তেমনি করিমনগর পুরসভা নির্বাচনের কাবাডি খেলায় সবাইকে হারিয়ে কাপ জিতেছে বিজেপি।” দলের এই ফলকে করিমনগরে বিজেপির সাংগঠনিক ও নির্বাচনী ভিত্তি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেলঙ্গনার রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত এই শহর ও জেলায় (Telangana) বিজেপির তৃণমূল স্তরে শক্তি সংহতকরণের প্রতিফলন ঘটেছে (BJP)।

     

  • AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    AI Impact Summit India: ‘সকলের সুখের জন্য’, নয়াদিল্লিতে এআই সম্মেলন শুরু, উপস্থিত ২০ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সকলের ভালোর জন্য, সকলের সুখের জন্য এআই। এমনই মনে করে আধুনিক ভারত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI Impact Summit India)-র প্রভাব নিয়ে পাঁচ দিনের সম্মেলন শুরুতে এই বার্তাই দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সোমবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে সকাল সাড়ে ৯টায় এই সম্মেলন শুরু হয়েছে। সম্মেলন শুরু হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সেখানে তিনি ‘সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়’-এর বার্তা দিয়েছেন। এই সম্মেলনে যোগ দেবেন গুগ্‌লের সুন্দর পিচাই, ওপেনএআই-এর স্যাম অল্টম্যান-সহ কমবেশি ৪০টি সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা। যোগ দেবেন ২০টি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আগামী বৃহস্পতিবার এই সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলন চলাকালীন বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান এবং উদ্যোগপতিদের সঙ্গে বৈঠকও করবেন। এই সম্মেলন চলবে ১৬ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি।

    সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়

    সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “এআই নিয়ে আলোচনায় গোটা বিশ্ব সমবেত হয়েছে। আজ থেকে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ভারত ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’-এর আয়োজন করছে। আমি রাষ্ট্রপ্রধান, শিল্পকর্তা, উদ্যোগপতি, নীতিনির্ধারক, গবেষকদের এই সম্মেলনে স্বাগত জানাচ্ছি।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “এই সম্মেলনের বিষয়বস্তু হল সর্বজন হিতায়, সর্বজন সুখায়। অর্থাৎ, সকলের ভাল। সকলের সুখ। এটি আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মানুষকেন্দ্রিক উন্নতিতে ব্যবহার করার বিষয়ে আমাদের যৌথ দায়বদ্ধতাকে তুলে ধরে।” এই সম্মেলনের পোশাকি নাম ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। এই সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁ, ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দ্য সিলভা। রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেসেরও এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা। এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ২ লক্ষ মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। এঁদের মধ্যে অনেকেই কৃষক এবং অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ করা মানুষ।

    পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনে আলোচনার মূল বিষয়

    এটি গ্লোবাল সাউথে আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক এআই শীর্ষ সম্মেলন। পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলন নীতি নির্ধারণ, গবেষণা, শিল্পক্ষেত্র এবং জনসম্পৃক্ততা— এই চারটি প্রধান স্তম্ভকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের রাষ্ট্রনেতা, নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তি সংস্থা, উদ্ভাবক ও বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। আলোচনার মূল বিষয় হবে— গভর্ন্যান্স, ইনোভেশন এবং সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্টে এআইয়ের ভূমিকা। সম্মেলনের ভিত্তি রাখা হয়েছে তিনটি ‘সূত্র’-এর উপর—পিপল, প্ল্যানেট এবং প্রোগ্রেস। এই তিন নীতিই এআই নিয়ে ভারতের সহযোগিতা ও দৃষ্টিভঙ্গির রূপরেখা নির্ধারণ করে।

    কারা কারা যোগ দেবেন সামিটে

    ৭০ হাজার বর্গমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট এক্সপো’-তে ৩০টি দেশের ৩০০-র বেশি প্রদর্শক অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ১০টি থিম্যাটিক প্যাভিলিয়নে গবেষণা ও পাইলট প্রকল্প থেকে বড় পরিসরে বাস্তব প্রয়োগে এআইয়ের অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। এই সম্মেলন ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’ এবং ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। উন্নয়নমুখী এআই ব্যবহারে ভারতের যে জোর, তা এই মঞ্চে আরও স্পষ্ট হবে। লক্ষ্য হল, বৈশ্বিক আলোচনাকে বাস্তব ও মানুষকেন্দ্রিক ফলাফলে রূপ দেওয়া। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে একাধিক দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।

    • ১. ভুটান – শেরিং তোবগে, প্রধানমন্ত্রী
    • ২. বলিভিয়া – এডমন্ড লারা মনতানো, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ৩. ব্রাজিল – লুইজ় ইনাসিও লুলা দা সিলভা, প্রেসিডেন্ট
    • ৪. ক্রোয়েশিয়া – আন্দ্রেই প্লেনকোভিচ, প্রধানমন্ত্রী
    • ৫. এস্তোনিয়া – আলার কারিস, প্রেসিডেন্ট
    • ৬. ফিনল্যান্ড – পেট্টেরি অরপো, প্রধানমন্ত্রী
    • ৭. ফ্রান্স – ইমানুয়েল মাক্রঁ, প্রেসিডেন্ট
    • ৮. গ্রিস – কিরিয়াকোস মিৎসোটাকিস, প্রধানমন্ত্রী
    • ৯. গায়ানা – ড. ভররাত জগদেও, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১০. কাজাখস্তান – ওলঝাস বেকতেনভ, প্রধানমন্ত্রী
    • ১১. লিচেনস্টাইন – হেরেডিটারি প্রিন্স অ্যালোয়িস, হেরেডিটারি প্রিন্স অব দ্য প্রিন্সিপ্যালিটি অব লিশটেনস্টাইন
    • ১২. মরিশাস – ড. নাভিনচন্দ্র রামগুলাম, প্রধানমন্ত্রী
    • ১৩. সার্বিয়া – আলেকজ়ান্দার ভুচিচ, প্রেসিডেন্ট
    • ১৪. স্লোভাকিয়া – পিটার পেলেগ্রিনি, প্রেসিডেন্ট
    • ১৫. স্পেন – পেদ্রো সানচেজ় পেরেজ়-কাস্তেহন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৬. শ্রীলঙ্কা – অনুরা কুমারা দিসানায়াকা, প্রেসিডেন্ট
    • ১৭. সেশেলস – সেবাস্তিয়ান পিল্লে, ভাইস প্রেসিডেন্ট
    • ১৮. সুইৎজ়ারল্যান্ড – গি পারমেলিন, প্রেসিডেন্ট
    • ১৯. নেদারল্যান্ডস – ডিক স্কুফ, প্রধানমন্ত্রী
    • ২০. সংযুক্ত আরব আমিরশাহি – শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ক্রাউন প্রিন্স অব আবুধাবি

    এ ছাড়া ৪৫টিরও বেশি দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের প্রতিনিধিদল সম্মেলনে অংশ নেবে। রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও আলোচনায় যোগ দেবেন।

    আর কারা উপস্থিত থাকবেন?

    মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ রাষ্ট্রসংঘের শীর্ষস্থানীয় একাধিক কর্মকর্তা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

    মহাসচিবের সঙ্গে থাকবেন—

    • ভলকার টুর্ক — জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার
    • অমনদীপ সিং গিল — আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল ও ডিজিটাল ও উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ দূত
    • ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা — আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর
    • গিলবার্ট এফ. হাউংবো — আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-র ডিরেক্টর-জেনারেল
    • ডরিন বগদান-মার্টিন — আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সংঘ (ITU)-র সেক্রেটারি-জেনারেল
    • কমল কিশোর— দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ক মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি

    এছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ইউএনডিপি, ইউএন উইমেন, ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, এফএও, ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন,ইউএন ইন্টাররিজিওনাল ক্রাইম অ্যান্ড জাস্টিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

    প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তারাও অংশ নিচ্ছেন

    সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী প্রযুক্তি জগতের শীর্ষকর্তাদের তালিকা এরকম—

    • জেনসেন হুয়াং — প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, এনভিডিয়া
    • জুলি সুইট — চেয়ার ও সিইও, অ্যাকসেঞ্চার
    • স্যাম অল্টম্যান — সিইও, ওপেনএআই
    • সুন্দর পিচাই — সিইও, গুগল ও আলফাবেট
    • শান্তনু নারায়েন — চেয়ার ও সিইও, অ্যাডোবে
    • শ্রীধর ভেম্বু — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চিফ সায়েন্টিস্ট, জোহো
    • ইয়ান লেকুন — প্রধান এআই বিজ্ঞানী, মেটা
    • বিল গেটস — চেয়ার, গেটস ফাউন্ডেশন ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা, মাইক্রোসফট
    • ব্র্যাড স্মিথ — প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ার, মাইক্রোসফট
    • ক্রিস্টিয়ানো আমন — প্রেসিডেন্ট ও সিইও, কোয়ালকম
    • দারিও আমোদেই — সিইও, অ্যানথ্রোপিক
    • ডেমিস হাসাবিস — সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, গুগল ডিপমাইন্ড
    • আর্থি সুব্রহ্মণ্যম — সিওও ও এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, টিসিএস
    • আলেকজান্ডার ওয়াং — চিফ এআই অফিসার, মেটা
    • অপর্ণা বাওয়া — সিওও, জুম
LinkedIn
Share