Category: দেশ

Get updates on India News Headlines National News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে কী বললেন হাসিনা?

    Bangladesh Election 2026: বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে কী বললেন হাসিনা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার শেষ হল বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন (Bangladesh Election 2026)। এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) এবং তাঁর দল আওয়ামি লিগকে। এদিন ভোট শেষের পর তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া, ‘এই নির্বাচন অসাংবিধানিক’। এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিলের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগও তুলেছেন বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী। সাম্প্রতিক বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, “অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে ক্ষমতা দখলকারী ইউনূস আয়োজিত আজকের তথাকথিত নির্বাচন ছিল মূলত সুপরিকল্পিত একটি প্রহসন। জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সংবিধানের চেতনাকে উপেক্ষা করে আওয়ামি লিগকে বাদ দিয়ে এবং ভোটারবিহীনভাবে একটি প্রতারণামূলক নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে।”

    হাসিনার বক্তব্য (Bangladesh Election 2026)

    তিনি আরও বলেন, “১১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যা থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনাবেচায় অর্থের ব্যাপক ব্যবহার, ব্যালট পেপারে সিল মারা এবং ফলাফলের শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর করিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে এই প্রহসন শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির সকাল থেকে দেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বহু ভোটকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে ভোটারশূন্য ছিল।” তাঁর দাবি, “এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিল করতে হবে, খুনি-ফ্যাসিবাদী ইউনূসের পদত্যাগ চাই, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী-সহ সকল রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি এবং সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, আওয়ামি লিগের কার্যকলাপের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করতে হবে (Bangladesh Election 2026)।”

    ভারতের প্রতিক্রিয়া

    এদিকে, ভারতের ক্ষেত্রে, ঢাকার পক্ষ থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও হস্তক্ষেপের ধারণা এড়াতে ভারত কোনও সরকারি পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের সরকারি মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা পর্যবেক্ষক পাঠানোর জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। তবে (Sheikh Hasina) আমরা বাংলাদেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষক পাঠাইনি (Bangladesh Election 2026)।”

     

  • India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনার চুক্তিতে সবুজ সংকেত ডিএসি-র, ৯০টি তৈরি হবে ভারতেই, আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম

    India Rafale Jet Deal: ১১৪টি রাফাল কেনার চুক্তিতে সবুজ সংকেত ডিএসি-র, ৯০টি তৈরি হবে ভারতেই, আগেই জানিয়েছিল মাধ্যম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সম্ভাবনা ছিল। ছিল প্রত্যাশাও। দিল্লির আকাশে-বাতাসে খবর ভেসে বেড়াচ্ছিল যে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের ভারত সফরের আগেই ১১৪টি রাফাল কেনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছাড়পত্র মিলতে পারে। সেই মতোই, বৃহস্পতিবার এই প্রস্তাবে অনুমতি দিয়ে দিল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ পরিষদ বা ডিফেন্স অ্যাকুইজিশন কাউন্সিল (DAC)। চলতি সপ্তাহেই যে ছাড়পত্র মিলতে পারে, সেই খবর মঙ্গলবারেই জানিয়েছিল মাধ্যম। একইসঙ্গে, ডিএসি-র বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি অতিরিক্ত পি-৮আই সামুদ্রিক নজরদারি ও সাবমেরিন-বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিভিন্ন যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এয়ার-শিপ বেসড হাই-অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট (AS-HAPS) প্ল্যাটফর্ম কেনার ক্ষেত্রেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ডিএসি বৈঠকে।

    ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ প্রদান

    জানা যাচ্ছে, বায়ুসেনার জন্য ১১৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি আন্তঃসরকারি সমঝোতা (Inter-Governmental Agreement) পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রঁর ১৭ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের সরকারি সফরের ঠিক আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের (MoD) এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রায় ৩.৬০ লক্ষ কোটি টাকার একাধিক প্রতিরক্ষা প্রকল্পের জন্য কাউন্সিল ‘অ্যাকসেপ্ট্যান্স অব নেসেসিটি’ (AoN) প্রদান করেছে। প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, ২৪টি রাফাল যুদ্ধবিমান সরাসরি ফ্লাইঅ্যাওয়ে কন্ডিশনে ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশনের কারখানা থেকে উড়িয়ে আনা হবে। বাকি ৯০টি বিমান দেশীয়ভাবে উৎপাদন করা হবে।

    অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা

    বাণিজ্যিক আলোচনার পর দেশীয় উপাদানের হার প্রায় ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা আগে ৩০ শতাংশ নির্ধারণের কথা ছিল। এছাড়া, রাফাল বিমানে ভারতের নিজস্বভাবে তৈরি অস্ত্র ও প্রযুক্তি সংযুক্ত করার পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখবে ভারত। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি (CCS)-এর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। সেখানে সবুজ সঙ্কেত মিললেই কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ নেবে। শুরু হবে দুপক্ষের দর-কষাকষি ও টেকনিক্যাল বিষয়ক আলোচনা।

    রাফালের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫টি

    বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার বহরে ৩৫টি রাফাল যুদ্ধবিমান রয়েছে। পাশাপাশি, ভারতীয় নৌসেনা বিমানবাহী রণতরীতে ব্যবহারের জন্য ২৬টি রাফাল-এম (Rafale-M) যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছে। নতুন এই চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতের মোট রাফাল বিমানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৭৫টি। এতে অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

  • Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    Jaish-e-Mohammed: লালকেল্লা বিস্ফোরণে জইশ-যোগ! পাকিস্তান অস্বীকার করলেও রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে ভারতের দাবিকেই মান্যতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশজুড়ে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রসংঘের একটি রিপোর্টে (UN report)। যেখানে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) এখনও সক্রিয় এবং ভারতের মাটিতে একাধিক হামলার সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছর দিল্লির লালকেল্লার কাছে হওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast)। পাকিস্তান বারবার দাবি করেছে জইশ-ই-মহম্মদ এখন সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয়। কিন্তু ভারতের দাবি ছিল জইশের জঙ্গি কার্যকলাপ চালু রয়েছে পুরোদমে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট সেই দাবিকেই সত্যি প্রমাণ করল।

    রাষ্ট্রসংঘের নয়া রিপোর্ট

    রাষ্ট্রসংঘের অ্যানালিটিকাল সাপোর্ট ও স্যাংশন মনিটরিং টিমের (UN Analytical Support and Sanctions Monitoring Team) ৩৭তম রিপোর্টে জানানো হয়েছে, একটি সদস্য দেশ (নাম প্রকাশ করা হয়নি) তাদের কাছে তথ্য দিয়েছে যে জইশ একাধিক হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গত ১০ নভেম্বরের লালকেল্লার কাছে বিস্ফোরণের ঘটনাও রয়েছে। এই ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সংগঠনটি এখনও জঙ্গি কার্যকলাপ চালাচ্ছে। রিপোর্টে কাশ্মীর উপত্যকায় চলতি বছরের বিভিন্ন ঘটনারও উল্লেখ আছে। জানানো হয়েছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগাঁও হামলায় (Pahalgam terror attack) ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়, যার দায় স্বীকার করেছিল লস্কর-ই-তইবার ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)। পরে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি ঘাঁটির উপর পাল্টা আঘাত হানে।

    পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ

    লালকেল্লার বিস্ফোরণ (Delhi Red Fort Blast) ঘটনাটি শুরু থেকেই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এনআইএ। এর আগে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ তদন্তে ‘হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল’-এর (White Collar Terror Module) সন্ধান পায়, যার যোগ ছিল জইশ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের সঙ্গে। আটক করা হয়েছে মোট ৯ জনকে, এদের মধ্যে তিনজন ডাক্তারও রয়েছেন, যারা নেটওয়ার্ককে সাহায্য করতেন বলে সন্দেহ। তদন্তে উদ্ধার হওয়া একটি ভিডিওতে বিস্ফোরণকারী উমর-উন-নবীকে আত্মঘাতী হামলার কথা বলতে দেখা যায়। এতে স্পষ্ট হয়, হামলাটি কোনও একক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি পরিকল্পিত সন্ত্রাসী চক্রের অংশ। দিল্লি বিস্ফোরণে যে জইশের যোগ থাকতে পারে, এমন সম্ভাবনার কথা আগেই উঠে এসেছিল। বিস্ফোরণের পর ধরপাকড়ের সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তদন্তকারীদের হাতে ধরা পড়েছিলেন তুফাইল নিয়াজ ভাট নামে এক সন্দেহভাজন। তুফাইলের সঙ্গে জইশের যোগ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছিলেন তদন্তকারীরা। এবার রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টেও উল্লেখ করা হল দিল্লি বিস্ফোরণে জইশ-যোগের প্রসঙ্গ। ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃত লালকেল্লা ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় এই অভিযোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

    জইশ-সম্পর্কে ভিন্ন মত

    বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা নজরদারি এড়ানো, লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং সমর্থনভিত্তি বাড়ানোর লক্ষ্যে অন্যান্য উগ্রপন্থী সংগঠনের মতোই জেইএমও নতুন কৌশল নিচ্ছে। জেইএমকে রাষ্ট্রসংঘ আল-কায়েদা-সম্পর্কিত সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটির বিরুদ্ধে বিশেষত জম্মু ও কাশ্মীরে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন; তাঁর বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের নির্দেশ রয়েছে। তবে মনিটরিং টিম জানিয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংগঠনটির বর্তমান অবস্থান নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কিছু দেশ জেইএমকে সক্রিয় ও বিপজ্জনক বলে মনে করলেও, অন্য এক সদস্য রাষ্ট্রের দাবি, সংগঠনটি কার্যত নিষ্ক্রিয়। এই ভিন্নমত দক্ষিণ এশিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী সহযোগিতাকে জটিল করে তুলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    জইশ-এর মহিলা জঙ্গি সংগঠন

    জইশের বিষয়ে রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, সম্প্রতি জইশ প্রধান মহম্মদ মাসুদ আজহার আনুষ্ঠানিক ভাবে একটি নতুন শাখা সংগঠনের কথা ঘোষণা করেছেন। শুধু মহিলাদের নিয়ে তৈরি এই জঙ্গিবাহিনীর কাজ বিভিন্ন নাশকতায় সাহায্য করা। মহিলাদের নিয়ে তৈরি ওই জঙ্গিবাহিনীর নাম দেওয়া হয়েছে জামাত উল-মুমিনাত। বস্তুত, জইশ হল পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী। ভারতে বিভিন্ন জঙ্গি কার্যকলাপে অতীতে জইশের যোগের অভিযোগ উঠে এসেছে। ভারত এবং পাকিস্তান উভয়েই রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার সদস্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর গঠন ভবিষ্যতে ভারতীয় উপমহাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    ভারতে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা

    জইশের মহিলা ব্রিগেড ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। জানা গিয়েছে, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’ জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের কিছু অংশে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে তাদের কার্যকলাপ বৃদ্ধির চেষ্টা করছে তারা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে নিজেদের ভাবনা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে ধারণা বিশেষজ্ঞদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্রিগেড ধর্মের নামে মহিলাদের প্রলুব্ধ করে নিজেদের দলে যোগ দেওয়ানোর চেষ্টা করবে। পাশাপাশি, শিক্ষিত এবং শহুরে মুসলিম মহিলাদের টার্গেট করা হবে বলেও মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব রয়েছে মাসুদ আজাহারের বোন সাদিয়া আজাহার। অপারেশন সিঁদুরে সাদিয়ার স্বামী ইউসুফের মৃত্যু হয়। ই ব্রিগেডে ইতিমধ্যেই নাম লেখানো শুরু করেছে সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের স্ত্রীরা। পাশাপাশি, ভাওয়ালপুর, করাচি, মুজফফরাবাদ-সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের দলে টানার চেষ্টা করছে জইশ।

  • India UNSC Bid: চিনের অবস্থান বদল! রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ‘বোঝে ও সম্মান করে’, জানাল বেজিং

    India UNSC Bid: চিনের অবস্থান বদল! রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবিকে ‘বোঝে ও সম্মান করে’, জানাল বেজিং

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের ইচ্ছাকে “বোঝে ও সম্মান করে” চিন। ভারত সফরে এসে এমনটাই জানালেন চিনের উপ-বিদেশমন্ত্রী। বেজিংয়ের এই মন্তব্য চাৎপর্যপূর্ণ এই কারণে যে, চিনের বিরোধিতামূলক অবস্থানের কারণেই ভারত এখনও পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে পারেনি। সেখান থেকে চিনের এই মন্তব্য তাদের তরফে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বলে মনে করা হচ্ছে।

    চিন-বৈঠক নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি…

    আগামী ব্রিকস সম্মেলন ভারতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। তার আগে, ৮ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে বসেছিল ব্রিকস দেশগুলির শেরপা-বৈঠক। সেখানেই উপস্থিত ছিলেন চিনের এক্সিকিউটিভ ভাইস ফরেন মিনিস্টার (EVFM) মা ঝাওশু। ১০ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রির সঙ্গে কৌশলগত আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন ঝাওশু। সেখানেই তিনি সফল ব্রিকস সম্মেলন আয়োজনের জন্য ভারতকে শুভকামনা প্রদান করেন এবং সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তার সঙ্গেই জানান, রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লির ইচ্ছাকে বেজিং বোঝে ও সম্মান করে। বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ভারতে আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন যাতে সাফল্যের সঙ্গে আয়োজন করা যায়, তার জন্য চিনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, উপ-বিদেশমন্ত্রীমা ঝাওশু জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যপদের ক্ষেত্রে ভারতের ইচ্ছাকে বোঝে ও সম্মান করে চিন।”

    কেন গুরুত্বপূর্ণ চিনের এই অবস্থান পরিবর্তন?

    ২০২২ সালে ভারত যখন রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য আবেদন করেছিল, তখন পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশের মধ্যে একমাত্র চিনই ভারতের প্রার্থিতাকে সমর্থন করেনি। ওই বছর ২২ জুলাই লোকসভায় দেওয়া এক উত্তরে তৎকালীন বিদেশ প্রতিমন্ত্রী ভি মুরালিধরণ জানান, চারটি স্থায়ী সদস্য দেশ ভারতের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে মোট ১৫ জন সদস্য থাকে। এর মধ্যে পাঁচজন স্থায়ী ও ১০ জন অস্থায়ী সদস্য। স্থায়ী সদস্য দেশগুলি হল চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকা। এই পাঁচ দেশের প্রত্যেকেরই ভেটো ক্ষমতা রয়েছে।

    ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাশিয়া ভারতের প্রার্থিপদের প্রতি সমর্থন জানায়। পরে একই বছরের ডিসেম্বরে ফ্রান্স ও ব্রিটেনও সমর্থনের কথা ঘোষণা করে। ভারতের পাশাপাশি ব্রাজিল, জার্মানি, জাপান ও দক্ষিণ আফ্রিকাও নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যপদের জন্য শীর্ষ দাবিদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে।

    ‘‘ভারতের  স্থায়ী আসন পাওয়া উচিত’’

    ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতের সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে জানান, আন্তর্জাতিক স্তরে ভারতের পক্ষে সমর্থন ক্রমেই বাড়ছে এবং এই অর্জন “অপরিহার্য”। তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে একটি অনুভূতি তৈরি হয়েছে যে বর্তমান কাঠামো বদলানো দরকার এবং ভারতের একটি স্থায়ী আসন পাওয়া উচিত। প্রতি বছর এই অনুভূতি আরও জোরদার হচ্ছে। তবে বড় কিছু অর্জন কখনই কঠোর পরিশ্রম ছাড়া সম্ভব নয়।”

    ভারত-চিন কৌশলগত আলোচনা

    • ● ১০ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভারত-চিন কৌশলগত আলোচনায় উভয় দেশই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতাবস্থার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
    • ● বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশ মতবিনিময় করেছে। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-চিন সম্পর্ক স্থিতিশীল করা এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পথ খোঁজা।
    • ● দু’পক্ষই তাদের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং বিশেষ করে বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলিকে রাজনৈতিক ও কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে।
    • ● কৈলাস মানসরোবর যাত্রা পুনরায় শুরু হওয়াকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে এর আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেন বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি।
    • ● ভারত ও চিন একটি উড়ান পরিষেবা চুক্তি দ্রুত চূড়ান্ত করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়।
    • ● চলতি বছরে ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
  • Mumbai Mayor: ‘‘শহরের ফুটপাত থেকে অবৈধ বাংলাদেশি হকারদের সরিয়ে দেব’’, বললেন মুম্বইয়ের নতুন মেয়র ঋতু তাওড়ে

    Mumbai Mayor: ‘‘শহরের ফুটপাত থেকে অবৈধ বাংলাদেশি হকারদের সরিয়ে দেব’’, বললেন মুম্বইয়ের নতুন মেয়র ঋতু তাওড়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (BMC)-এর নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির কর্পোরেটর ঋতু তাওড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মুম্বইয়ের মেয়র (Mumbai Mayor) নির্বাচিত হয়ে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। গত চার দশকের মধ্যে এই প্রথম মুম্বইয়ের মেয়র পদটি বিজেপি দখল করেছে। শিবসেনা (ইউবিটি) কোনো প্রার্থী দাঁড় না করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাওড়ে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। উল্লেখ্য এই পুরসভায় গত ২৫ বছর ধরে চলে আসা ঠাকরে পরিবারের আধিপত্যের অবসান ঘটাল। ঋতুর সাফ কথা, “ফুটপাতে অবৈধ বাংলাদেশিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করা হবে। আর বসতে দেওয়া হবে না।”

    কে ঋতু তাওড়ে (Mumbai Mayor)?

    ঘাটকোপার (পূর্ব) থেকে তিনবারের কর্পোরেটর ৫৩ বছর বয়সি ঋতু তাওড়ে বুধবার, ১১ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি মুম্বইয়ের ৭৮তম মেয়র এবং বিজেপির দ্বিতীয় মেয়র (Mumbai Mayor)। এর আগে ১৯৮২-৮৩ সালে প্রভাকর পাই বিজেপির প্রথম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই নির্বাচনে শিন্ডে গোষ্ঠীর শিবসেনার সঞ্জয় ঘাড়ি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেপুটি মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের উপস্থিতিতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

    যাচাই হবে আধার কার্ডের মতো নথি

    মেয়র (Mumbai Mayor) হিসেবে শপথ নেওয়ার পর ঋতু তাওড়ে তাঁর লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা ব্যক্ত করেন। বিএমসি সদর দফতরে দায়িত্ব গ্রহণের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তাওড়ে বলেন, “রাজাওয়াড়ি এবং পূর্ব শহরতলির অন্যান্য হাসপাতালগুলির একত্রীকরণ করে একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার দীর্ঘস্থায়ী প্রস্তাবটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। বাজেটের বিধানগুলি আগেও করা হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি বাস্তবায়িত হয়নি। অবৈধ বাংলাদেশি হকাররা ফুটপাত দখল করে নিয়েছে। তাই মূল মুম্বাইবাসী এবং করদাতাদের জন্য এখন থেকে সুযোগ সুবিধা দেওয়া হবে। আধার কার্ডের মতো নথি যাচাইয়ের পরে অবৈধ বাংলাদেশি হকারদের চিহ্নিত করা হবে এবং অপসারণ করা হবে।”

    নাগরিকদের সেবক হিসেবে কাজ করব

    মেয়র আরও বলেন, “প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য রাস্তা, গলি, হাসপাতাল এবং স্কুলগুলিতে আকস্মিক পরিদর্শন করা কাজের প্রধান অঙ্গ হবে। নতুন নেতৃত্বের কাছ থেকে মুম্বাইবাসীর অনেক প্রত্যাশা রয়েছে এবং বিএমসি কর্পোরেশনের সদস্যরা নাগরিকদের সেবক হিসেবে কাজ করবো। মেয়র (BMC) পদটি একটি বড় দায়িত্ব, এবং আমি মুম্বাইয়ের একজন সেবক হিসেবে কাজ করব। মেয়র হিসেবে, আমি নাগরিক সংস্থার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করব। সংসদের মর্যাদা বজায় রাখা আমার সহ সকল কর্পোরেটরের দায়িত্ব।”

    তাওড়ে আরও বলেন, “এই অর্থ গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন এমন দরিদ্র রোগীদের আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। গারগাই, পিঞ্জল এবং দমনগঙ্গা বাঁধের সাথে জড়িত কংক্রিটীকরণ এবং জল বৃদ্ধির পরিকল্পনার মতো বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের উপর জোর দেওয়া হবে। বন্যা প্রশমন ব্যবস্থা হিসাবে চারটি ভূগর্ভস্থ বন্যার জলাশয় তৈরি করা হবে।”

    নাগরিক পরিষেবা

    ঋতু তাওড়ে (Mumbai Mayor) মুম্বইকে একটি নিরাপদ এবং উন্নত শহর হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং ড্রোন সার্ভেইল্যান্সের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে শহরের ট্রাফিক জ্যাম ও দূষণ সমস্যার সমাধানের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

    অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

    ঋতু তাওড়ে (Mumbai Mayor) স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ডিজিটাল সিস্টেম এবং এআই (AI) ব্যবহার করে মুম্বইয়ের ফুটপাত দখল করে থাকা অবৈধ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে।

    স্বচ্ছ প্রশাসন

    দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে ঋতু তাওড়ে কাজ করবেন এবং মারাঠি পরিচিতি রক্ষার পাশাপাশি মারাঠি ভাষার প্রসারে গুরুত্ব দেবেন মেয়র।

    ঋতু তাওড়ে (Mumbai Mayor) পূর্বে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০১২ সালে বিজেপিতে যোগ দেন। পুর প্রশাসনে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তিনি আগে বিএমসি-র শিক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালনও করেছেন। বিজেপির এই জয়কে মুম্বইয়ের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে,। কারণ বিজেপি এখন একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

  • India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    India: রিফান্ড কমে যাওয়ায় ভারতের নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, পরিমাণ কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের (India) নিট প্রত্যক্ষ কর আদায়ে ৯.৪০ শতাংশের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি রেকর্ড হয়েছে। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯,৪৩,৭৪৩.৯৭ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এই একই সময়ের ১৭,৭৬,৭২৮.১১ কোটি টাকার তুলনায় বেশি। বুধবার আয়কর দফতর প্রকাশিত তথ্যে এ খবর জানানো হয়েছে (Direct Tax Collections)।

    গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় (India)

    সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গ্রস প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২২,৭৮,০৬৮.৬০ কোটি টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের ২১,৮৮,৫৫৪.৮৬ কোটি টাকার তুলনায় ৪.০৯ শতাংশ বেশি। এই সময়ে জারি করা কর ফেরতের পরিমাণ ১৮.৮২ শতাংশ কমে ৩,৩৪,৩২৪.৬৩ কোটি টাকায় নেমে এসেছে, যেখানে গত অর্থবর্ষে এর পরিমাণ ছিল ৪,১১,৮২৬.৭৫ কোটি টাকা। কর্পোরেট করের (নিট) আদায় ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮,৮৯,৭৫২.৯০ কোটি টাকা। আগের বছরের এই একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৭,৭৭,০৪৭.৬৩ কোটি টাকা। অ-কর্পোরেট কর আদায়, যার মধ্যে ব্যক্তি, হিন্দু অবিভক্ত পরিবার (HUF), সংস্থা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের প্রদত্ত কর অন্তর্ভুক্ত, বেড়ে হয়েছে ১০,০৩,৩৮৫.৫২ কোটি টাকা। এক বছর আগে এর পরিমাণ ছিল ৯,৪৭,৪৭৭.৩০ কোটি টাকা। সিকিউরিটিজ লেনদেন কর আদায় প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে ৫০,২৭৯.১৭ কোটি টাকায়। গত অর্থবর্ষে ছিল ৪৯,২০১.৪০ কোটি টাকা (India)।

    নির্মলা সীতারামনের আশ্বাস

    লোকসভায় ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে আলোচনার জবাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন আশ্বাস দেন, করের ৪১ শতাংশ অংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা বিভাজ্য করের তহবিলের ৪১ শতাংশ রাজ্যগুলির কাছে হস্তান্তর করেছি। কোনও রাজ্যের অংশ কমানো হয়নি (Direct Tax Collections)।” তিনি আরও বলেন, “আগামী বছরে রাজ্যগুলির অংশ আনুমানিক ২৫.৪৪ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা তাদের দেওয়া হবে। এটি গত বছরের তুলনায় ২.৭ লক্ষ কোটি টাকা বেশি।” তিনি ১৬তম অর্থ কমিশনের কথা উল্লেখ করে জানান, কমিশনটি ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তহবিল বণ্টন বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে প্রতিটি বছরে কেন্দ্র থেকে রাজ্যগুলিতে অর্থ হস্তান্তর হয়েছে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ীই (India)।

     

  • BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    BJP: “বিষাক্ত মিথ্যা ছড়াচ্ছেন আর বিদেশ যাত্রা করছেন”, রাহুল গান্ধীকে ধুয়ে দিল বিজেপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লোকসভায় কেন্দ্রীয় বাজেট নিয়ে বিতর্ক চলাকালীন বিরোধী দলের নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীকে একেবারে ধুয়ে দিলেন বিজেপির (BJP) মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। বুধবার তিনি অভিযোগ করেন, রাহুল (Rahul Gandhi) যাচাই না করেই অভিযোগ করেছেন এবং সংসদে অশোভন আচরণ করেছেন।

    রাহুলের বিষাক্ত মিথ্যা কথা (BJP)

    সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিবেদী অভিযোগ  করেন, রাহুল বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ নিয়েও সমালোচনা করেন। ত্রিবেদী বলেন, “বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী যেন বিষাক্ত মিথ্যা কথা ছড়িয়ে বিদেশে চলে যাওয়ায় বিশ্বাস করেন। সংসদীয় কার্যক্রমে তাঁর আচরণ ঠিকঠাক ছিল না। লোকসভায় কংগ্রেসের আচরণ কলতলার ধারে দেখা আচরণের চেয়ে ভালো নয়। এ ধরনের আচরণ সংসদের পক্ষে অশোভন।” রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের সময়কার সাম্প্রতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন ত্রিবেদী, যখন কংগ্রেসের মহিলা সাংসদরা লোকসভায় প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে প্রতিবাদ জানান। পরে স্পিকার ওম বিড়লা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে লোকসভায় না আসার অনুরোধ জানান, কারণ তিনি আগেই জেনেছিলেন, কংগ্রেস সাংসদরা প্রধানমন্ত্রীর আসনের কাছে গিয়ে “অভূতপূর্ব ঘটনা” ঘটাতে পারেন।

    মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার

    ত্রিবেদী বলেন, “আমরা দেখেছি কীভাবে মহিলাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল, যখন কিছু সদস্য ব্যানার হাতে ট্রেজারি বেঞ্চের দিকে এগোচ্ছিলেন। এটি শাহিনবাগের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়েছিল।” অপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীও (BJP) বাজেট বিতর্কে কংগ্রেস নেতার মন্তব্যের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “কোনও অভিযোগ করা হলে তা সংশ্লিষ্ট নথি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে। তাঁর নিয়ম বা প্রমাণীকরণের অর্থ সম্পর্কে কোনও ধারণাই নেই। তাই তিনি যা খুশি বলে যান (Rahul Gandhi)।” তাঁর অভিযোগ, রাহুল তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় বাজেটের ওপর মনোযোগ দেননি, বরং অসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক বিষয় উত্থাপন করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “তাঁদের (কংগ্রেস) ইতিহাস সম্পর্কে কোনও জ্ঞান নেই। তিনি বাজেট নিয়ে কথা বলেননি।”

    বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদা

    অধিবেশনের সময় সভাপতির আসন নিয়ে করা মন্তব্যের বিরোধিতা করে জোশী বলেন, “যখন কোনও সদস্য সভাপতির আসনে থাকেন, তখন তিনি নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেন, কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকেন না। সভাপতির আসনে বসলে তিনি কোনও দলের নন। তাঁকে তাঁর আগের দলীয় পরিচয় উল্লেখ করে অপমান করা বিরোধী দলের নেতার পদমর্যাদাকে খাটো করে। রাজনৈতিক লাভের জন্য তিনি বাজেট ছাড়া সব বিষয়ে কথা বলেছেন (Rahul Gandhi)।” প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার কংগ্রেসের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর এই মন্তব্যগুলি করা হয়। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে খবর (BJP), স্পিকার অপসারণের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম দিন, ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী সাংসদদের জমা দেওয়া অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশে কিছু ত্রুটি পাওয়া গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। নোটিশে ফেব্রুয়ারি ২০২৫-এর ঘটনার উল্লেখ চারবার করা হয়েছিল, যা নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের কারণ হতে পারত। তবে স্পিকার লোকসভার সচিবালয়কে নোটিশের ত্রুটি সংশোধন করে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ

    অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিশ আসে এমন এক প্রেক্ষাপটে, যখন বিরোধী দল অভিযোগ করে যে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাহুলকে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। রাহুল ২০২০ সালের চিন-ভারত সংঘাত প্রসঙ্গে জেনারেল এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’র উল্লেখ করেন। স্পিকার তাঁকে অপ্রকাশিত সাহিত্য উদ্ধৃত না করার নির্দেশ দেন (Rahul Gandhi)। এদিন লোকসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দেওয়ার অভিযোগ করেন। প্রশ্ন করেন, তারা কি ভারত বিক্রি করতে লজ্জা পান না? তাঁর অভিযোগ, “ভারতমাতাকে কার্যত বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে (BJP)।”

    রাহুলের অভিযোগ

    তিনি বলেন, “আপনারাই স্বীকার করছেন যে আমরা এক বৈশ্বিক ঝড়ের মুখোমুখি, একক পরাশক্তির যুগ শেষ, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত বাড়ছে, এবং জ্বালানি ও অর্থব্যবস্থাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবুও আপনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জ্বালানি ও আর্থিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে ব্যবহার করতে দিয়েছেন, যা আমাদের প্রভাবিত করছে। যখন আমেরিকা বলে আমরা কোনও নির্দিষ্ট দেশ থেকে তেল কিনতে পারব না, তখন এর মানে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বাইরের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আপনি কি এতে লজ্জিত নন? আমি বলছি, আপনি ভারতের স্বার্থের সঙ্গে আপস করেছেন। আপনি কি লজ্জা পান না? যেন আপনি ভারতমাতাকে বিক্রি করে দিয়েছেন (Rahul Gandhi)।”

    প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিশানা করে রাহুল জানান, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে তিনি বিশ্বাস করেন না যে প্রধানমন্ত্রী ভারত বিক্রি করবেন, তবে তাঁর ওপর যে বাহ্যিক চাপ রয়েছে তাও মনে করিয়ে দেন রাহুল। তিনি প্রধানমন্ত্রীর চোখে ভয়ের ছাপ দেখতে পাচ্ছেন এবং “এপস্টাইন ফাইলস” তালাবদ্ধ থাকার প্রসঙ্গ তুলে ধরে (Rahul Gandhi) ইঙ্গিত করেন, কিছু অপ্রকাশিত চাপ কাজ করছে (BJP)।

     

  • Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    Nirmala Sitaraman: “বাংলাজুড়ে বোমার সংস্কৃতি, ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে বাংলা, কেন?” লোকসভায় তৃণমূলকে প্রশ্ন নির্মলার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একটা সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী বাংলায় এখন ‘বোমের সংস্কৃতি’ চলে বলে কটাক্ষ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। জিএসটি নিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বুধবার লোকসভায় বাংলায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি, নারী নির্যাতনের অভিযোগ তুললেন নির্মলা। তুললেন দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ধর্ষণের প্রসঙ্গও। একই সঙ্গে বাজেটে (Central Budget) কোনও রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করা হয়নি বলেও দাবি নির্মলার।

    বাংলায় বোমার সংস্কৃতি

    অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে তীব্র আক্রমণ করলেন নির্মলা সীতারামন (Nirmala Sitharaman)। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর অভিযোগ, অভিষেক তাঁর বক্তব্যে সাংসদদের ‘বেওকুফ’ বানিয়েছেন। রীতিমতো অঙ্গভঙ্গি করে নাটুকে টোনে অভিষেকের উদ্দেশ্যে কটাক্ষবাণ শানিয়ে নির্মলা বলেন, ‘হে ভগবান কেউ এত মিথ্যে কথা কী করে বলতে পারে!’ তুলোধনা করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। বোমা ফেটে মৃত্যুর ঘটনায় নির্মলার দাবি, বাংলায় আইন নয়, বোমা চলে। বাংলার সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নির্মলা। আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে তুলে আনেন এনসিআরবি তথ্য। সেই তথ্য তুলে ধরেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, “কালীগঞ্জে বোম ফেটে একজন শিশু মারা গিয়েছে। একজন তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। মেদিনীপুরে বোমা নিয়ে তৃণমূল নেতা গ্রেফতার হয়েছে। বাংলায় বোমা চলে, আইন নয়। এনসিআরবি তথ্য অনুযায়ী ক্রাইম রেটে ৩৬টা রাজ্যের মধ্যে ৩৫ নম্বরে আছে বাংলা। এরা আমাদের কথা বলে!”

    নারী নির্যাতন নিত্যদিনের ঘটনা

    আইনের শাসন চালাতে রাজ্য সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেছেন তিনি। আরজি কর কাণ্ড ও নারীদের বিরুদ্ধে অগ্রাসনের প্রসঙ্গ টেনে অর্থমন্ত্রী বলেন, “একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী যদি মহিলাদের রাতের বেলা বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।” ২০২৫ সালের অক্টোবরে দুর্গাপুরে ঘটে যাওয়া ডাক্তারি ছাত্রীর নির্যাতনের প্রসঙ্গও তুলে আনেন। বাংলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্মলা বলেন, “ওড়িশার একজন এমবিবিএস ছাত্রী দুর্গাপুরে গণধর্ষণের শিকার হয়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজে মহিলা হওয়া সত্ত্বেও পাবলিকলি বলেছেন, মহিলাদের রাতে বেরোনো ঠিক নয়। একজন সাংসদ বলেছেন, যদি বন্ধু ধর্ষণ করে তাহলে আমরা কী করতে পারি? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, ধর্ষণ রোধে আমরা আইন বানিয়েছি। রাজ্যপালকে পাঠিয়েছি। রাজ্যপাল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন, এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। কিন্তু রাজ্যের এই হাল, আইন দিয়ে সবকিছু হয়ে যাবে?”

    মৃত্যুর পরেও দিতে হয় কাটমানি

    গত মঙ্গলবার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট (Budget 2026-27) নিয়ে আলোচনায় কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করে অভিষেক বলেছিলেন, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু গোটা জীবনটাই কাটছে ট্যাক্সের ফাঁদে।’ বর্তমানে ধূপের উপরে ৫ শতাংশ হারে জিএসটি দিতে হয়। সেই নিয়ে তাঁর কটাক্ষ ছিল, ‘মৃত্যুর পরে শোকসভায় ধূপ জ্বালানোর জন্যও পরিবারকে ট্যাক্স দিতে হয়।’ এ দিন জিএসটি প্রসঙ্গ তোলেননি নির্মলা। তবে অভিষেকের মন্তব্যকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুর পরেও জিএসটি, খুবই দুঃখের কথা। আসলে বাংলায় মৃত্যুর পরে কাটমানি নেওয়াটাই স্বাভাবিক।’ পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, সাধারণ মানুষের উপর চাপ কমাতে চাইলে পশ্চিমবঙ্গে পেট্রলের দাম কেন ১০ টাকা বেশি? এভাবেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বাংলা

    এদিন অর্থমন্ত্রী (Nirmala Sitharaman) বলেন, পশ্চিমবঙ্গ পূর্বোদয় কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য। ইস্টার্ন ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডরে দুর্গাপুর অ্যাঙ্কর সিটি ও হলদিয়ার কাছে কেমিক্যাল পার্ক গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিটি ইকোনমিক রিজিয়ন প্রকল্পে বছরে ১,০০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে এবং এতে কলকাতা, হাওড়া, দুর্গাপুর অংশ নিতে পারে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাজ্য প্রস্তাব দিলে কেন্দ্রীয় অর্থ বরাদ্দ সহজ হবে, বিশেষ করে জুট, লেদার শিল্প ও রফতানিতে সুবিধা মিলবে। এছাড়া অর্থমন্ত্রী বারাণসী থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত হাইস্পিড ট্রেন প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন, যা উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও বাণিজ্য খাতে গতি আনবে এবং শিলিগুড়িকে একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। লোকসভায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানান, চলতি বাজেটে ডানকুনির উল্লেখ করা হয়েছে পূর্ব-পশ্চিম করিডর গড়ে তোলার লক্ষ্যেই।

    তৃণমূলের মিথ্যাচার

    বাজেটে ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর গড়ার ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি এ দাবি করেন, এটি একেবারেই পুরনো পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি নয়, বরং সম্পূর্ণ নতুন প্রকল্প, যা পূর্ব-পশ্চিম মালবাহী যোগাযোগকে আরও শক্তিশালী করবে। নির্মলা (Nirmala Sitharaman) বলেন, “আমরা ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত একটি ইস্ট-ওয়েস্ট করিডর তৈরি করতে চাই। তাই এই বাজেটে ডানকুনির কথা বলা হয়েছে।” এ প্রসঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, “বাংলার কিছু নেতা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন এই প্রকল্প ঘোষণা করেছিলেন এবং আমরা নতুন কিছু করছি না। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি ডানকুনি থেকে সুরাট পর্যন্ত নতুন ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডোর ঘোষণা করেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) লুধিয়ানা থেকে কলকাতা হয়ে ডানকুনি পর্যন্ত কিছু ঘোষণা করেছিলেন। এর থেকে কিছুই বেরিয়ে আসেনি। আমি যা ঘোষণা করেছি তা নতুন। তাই, সবকিছুতেই কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”

    ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ

    এদিন বক্তৃতায় সীতারমন কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬–২৭-এর গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে সহায়তাসহ ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে কার্যকর মূলধনী ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭.১ লক্ষ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪.৪ শতাংশ। এর লক্ষ্য ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণ। বাজেট আলোচনায় জিএসটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় অর্থমন্ত্রী জানান, দুধ, শিক্ষা, বই, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও ফিউনারেল এসেনশিয়ালে জিএসটি নেই। পাশাপাশি হেলথ ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়ামেও শূন্য হার বজায় আছে। বিরোধীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। এছাড়াও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শিক্ষায় জোর, উদ্যোগপতিত্ব বৃদ্ধি, পরিকাঠামো সম্প্রসারণ ও শিল্পোন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মেগা টেক্সটাইল পার্ক, দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প ও লজিস্টিক ব্যবস্থার উন্নতিতে রাজ্যগুলির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে কেন্দ্র প্রস্তুত বলেও জানান অর্থমন্ত্রী।

  • Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    Mamata Banerjee: “মমতাই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন”, তোপ ভূপেন্দ্রর  

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই (Mamata Banerjee) একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন।” বুধবার কথাগুলি বললেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি নিজের সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন।”

    ভূপেন্দ্রর নিশানায় মমতা (Mamata Banerjee)

    কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই মামলা করেন এবং লড়াই করেন। ২০ লাখ মানুষ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের জন্য লড়াই করছেন, অথচ ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন।” তিনি বলেন, “এসআইআর বাস্তবায়নের বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করতে গিয়েছেন, কিন্তু ডিএর ক্ষেত্রে নিজের কর্মচারীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছেন। তিনি হেরে গিয়েছেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তিনি নিজের কর্মচারীদের যথাযোগ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছেন।” কেন্দ্রীয় এই মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ থেকে ব্যাপক অনুপ্রবেশের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা একটি বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে এবং বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করছেন।” তোষণমূলক রাজনীতির জন্যও মন্ত্রী রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন।

    মন্ত্রী দাবি

    মন্ত্রীর দাবি (Mamata Banerjee), পশ্চিমবঙ্গে মাথাপিছু আয় কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তাই মানুষ অন্য রাজ্যে চলে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক খুন ও হিংসার ঘটনা এখানে সর্বাধিক। এখানে রাজনৈতিক তোষণও সর্বাধিক।” তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দ অর্থ রাজ্য সরকার সঠিকভাবে ব্যবহার করছে না এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলিতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, “কেন্দ্রের ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প অসম, পশ্চিমবঙ্গ ও মেঘালয়ে চালু করা হয়েছিল। প্রতিটি রাজ্যে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। কিন্তু গত চার বছরে বাংলায় তা করা হয়নি। চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বহু বিধান ছিল। অসম সরকার কমিটি গঠন করে ৩৭০ কোটি টাকা ব্যবহার করেছে।”

    এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব

    যাদব বলেন, “সুরাট–ডানকুনি ফ্রেট করিডর পরিবহন ব্যয় ৩০ শতাংশ কমাবে বলে আশা করা হচ্ছে। শিলিগুড়ি–বারাণসী করিডর এবং দুর্গাপুরে উন্নয়ন সামগ্রিক লজিস্টিক দক্ষতা বাড়াবে।” তিনি জানান, ১০,০০০ কোটি টাকার এমএসএমই গ্রোথ ফান্ড প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান সরকারের দুর্বল প্রশাসনের কারণে বাংলা সবসময় বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তালিকাভুক্ত ৬,৮০০টি কোম্পানি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে এবং এমএসএমই ক্ষেত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।” মন্ত্রী উল্লেখ করেন, গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক একাই পশ্চিমবঙ্গকে (Mamata Banerjee) ১.১০ লাখ কোটি টাকা দিয়েছে, তবুও তিনি অভিযোগ করেন যে তৃণমূল সরকার দুর্বল প্রশাসনের প্রতীক।

    মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি

    তিনি বলেন, “মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রুটি রয়েছে এবং তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থের ব্যবহার সংক্রান্ত শংসাপত্র সঠিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি, প্রধানমন্ত্রী পোষণ যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, এবং কেন্দ্র নির্ধারিত ‘দিশা’ বৈঠকগুলি রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়নি।” মন্ত্রী বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত এবং পিএম-কিষানের মতো প্রকল্প পূর্ণমাত্রায় চালু হতে দেওয়া হয়নি। রাজ্য কম মূলধনী ব্যয়ে চলছে এবং আয় না বাড়িয়ে ধারাবাহিকভাবে ঋণ নিচ্ছে, ফলে পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হচ্ছে। এটি শুধু তৃণমূলের শেষ বাজেট নয়, বিদায়ী দলিল।” তিনি মন্তব্য করেন, “বাংলা সত্যেন্দ্রনাথ বসু ও জগদীশচন্দ্র বসুর মতো মহান বিজ্ঞানীদের ভূমি, তবুও বিজ্ঞান শিক্ষায় বরাদ্দ করা হয়নি, কিন্তু মাদ্রাসায় ৫,৭১৩.৬১ কোটি টাকা (Mamata Banerjee) বরাদ্দ করা হয়েছে।” উত্তরবঙ্গে ৩ কোটি জনসংখ্যার জন্য মাত্র ৯১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে (Mamata Banerjee)। মন্ত্রী বলেন, “বস্ত্রশিল্পে পশ্চিমবঙ্গের বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের এই খাতে উন্নয়নের কোনও সুস্পষ্ট রোডম্যাপ নেই (Mamata Banerjee)।”

     

  • Deendayal Upadhayay: ‘‘মাতা শব্দ সরালে শুধু ভারত মাটির টুকরো’’ বলতেন দীনদয়াল উপাধ্যায়, আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী

    Deendayal Upadhayay: ‘‘মাতা শব্দ সরালে শুধু ভারত মাটির টুকরো’’ বলতেন দীনদয়াল উপাধ্যায়, আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আজ, ১১ ফেব্রুয়ারি পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের (Deendayal Upadhayay) মৃত্যুবার্ষিকী। একাধারে তিনি ছিলেন সুলেখক, দার্শনিক অন্যদিকে রাজনীতিবিদ। প্রয়াণ দিবসে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সমগ্র দেশ। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বুধবার এক্স মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জানান, দীনদয়াল উপাধ্যায়ের চিন্তাধারা প্রতিটি প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে। প্রধানমন্ত্রী এক্স মাধ্যমে জানান, ‘‘মাতৃভূমির অতুলনীয় ভক্ত পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি। মূল্যবোধের ভিত্তিতে প্রোথিত তাঁর নীতি ও চিন্তাভাবনা দেশের প্রতিটি প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।’’

    একাত্ম মানববাদের প্রণেতা

    একাত্ম মানববাদের প্রণেতা পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্ম ১৯১৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। একাত্ম মানববাদের মাধ্যমে তিনি একটি বিকল্প রাজনীতির সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাঁর রচিত একাত্ম মানববাদের মাধ্যমেই তিনি ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের মধ্যে মেলবন্ধন স্থাপন করতে পেরেছিলেন। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় বলতেন, ‘‘ভারতবর্ষে জাতীয়তাবোধের ভিত্তি হল ভারত মাতা, যদি মাতা শব্দটা সরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে শুধু ভারত, মাটির টুকরো হয়েই পড়ে থাকবে।’’ পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের (Deendayal Upadhayay) মতে, ‘‘প্রতিটি মানুষের সম্পূর্ণ গঠন হয় চারটি উপাদানের ভিত্তিতে এগুলি হল শরীর, মন, বুদ্ধি এবং আত্মা। এই চারটি উপাদানের সঙ্গে ধর্ম, অর্থ, কাম এবং মোক্ষ এই চারটি বিষয় সম্পর্কিত। ধর্ম হল ভিত্তি এবং মোক্ষ হল সর্বোচ্চ প্রাপ্তি।’’ প্রসঙ্গত, অন্যান্য মতাদর্শ যেখানে শুধুমাত্র মন এবং শরীরের বিভিন্ন চাহিদা পূরণের কথা বলে সেখানে একাত্মমানববাদে ধর্ম এবং মোক্ষেরও ধারণা দিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলতেন, ‘‘ধর্ম হচ্ছে ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সমাজকে সংগঠিত করতে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’

    মৌলিক অধিকার নিয়ে কী বলতেন তিনি?

    দীনদয়াল উপাধ্যায় (Deendayal Upadhayay) একাত্ম মানববাদের মাধ্যমে সমাজব্যবস্থায় সকলের সমান অধিকার এবং সমান সুযোগ-সুবিধার কথা বলেছেন। সামাজিক বিচার, শিক্ষা এসব কিছুকেই তিনি মৌলিক অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ‘‘একটি সমাজের ও একটি দেশের অগ্রগতি তখনই সম্ভব যখন প্রত্যেকটি নাগরিক সুস্থ থাকেন।’’ প্রসঙ্গত ভারতীয় সংবিধানের পঞ্চম অধ্যায়ের ১৪ থেকে ৩৫ নম্বর ধারা পর্যন্ত মৌলিক অধিকারের কথা বলা রয়েছে। এর মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে জীবনের অধিকার, স্বাধীনতার অধিকার- এই সমস্ত কিছুই। দীনদয়াল উপাধ্যায়ের মতে, ‘‘জীবনের অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ থেকে যায়, যতক্ষণ পর্যন্ত না সুস্থ জীবন যাপনের সুযোগ পাওয়া যায়।’’

    সংক্ষিপ্ত জীবনী

    পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় (Deendayal Upadhayay) শৈশবকালেই পিতৃমাতৃহীন হন। তাঁর পৈতৃক ভিটে উত্তরপ্রদেশের মথুরাতে হলেও স্কুলজীবনের বড় অংশ অতিবাহিত হয়েছিল রাজস্থানে। জাতীয়তাবাদী এই দেশনেতা অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন নিজের ছাত্রজীবনে। রাজস্থানের সিকার জেলা থেকে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেন এবং প্রথমস্থান অধিকার করেন। তৎকালীন সিকারের মহারাজা কল্যাণ সিংয়ের কাছ থেকে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত হন। সনাতন ধর্ম কলেজে স্নাতক স্তরে পড়াকালীন তাঁর বন্ধু বলবন্ত মহাশব্দের হাত ধরে ১৯৩৭ সালে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সংস্পর্শে আসেন। ১৯৪২ সালে দেশ ও সমাজের কাজকে নিজের জীবনব্রত করার লক্ষ্যে সঙ্ঘের প্রচারক হন। ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসঙ্ঘ প্রতিষ্ঠার পরে তিনি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি হন।

    নীতি নিষ্ঠ রাজনীতি

    ধর্ম সম্পর্কে তিনি বলতেন, ‘‘পাশ্চাত্যের রিলিজিয়ন এবং ভারতের ধর্ম এক নয়।’’ অর্থাৎ ভারতবর্ষের ক্ষেত্রে ধর্ম হল ধর্ম, তার আলাদা কোনও নাম নেই, যেমন- ছাত্র ধর্ম, ক্ষত্রিয় ধর্ম, পিতৃ ধর্ম, মাতৃ ধর্ম এসব কিছুই ধর্মের মধ্যে পড়ে। তিনি আরও বলতেন, ‘‘ধর্ম হচ্ছে ব্যাপক এবং বিস্তৃত। সমাজকে সংগঠিত করতে ধর্ম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’’ নীতিনিষ্ঠ এবং মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস রাখতেন পন্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়। তিনি মনে করতেন, সুযোগ সন্ধানী এবং সুবিধার রাজনীতি, দিনের পর দিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের রাজনীতির ওপরেই বিশ্বাসটা উঠে যায়। ১৯৬৮ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রয়াত হন তিনি।

LinkedIn
Share