Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    Bangladesh Hindu Murder: ‘মোদিও জিজিয়া আটকাতে পারবে না’, লাগাতার হুমকি! বাংলাদেশে একই দিনে জোড়া হিন্দু হত্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে একই দিনে দু’জায়গায় হিন্দু নিধনের (Bangladesh Hindu Murder) অভিযোগ। নৈরাজ্যের বাংলাদেশ ঘিরে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরে। সোমবার একদিকে যশোরের কপালিয়া বাজারে গলা কেটে খুন করা হয় ব্যবসায়ী তথা সাংবাদিক রাণাপ্রতাপ বৈরাগীকে। এই ঘটনার ক্ষণিকের ব্যবধানেই আরও এক সংখ্য়ালঘু হিন্দুকে খুন করার অভিযোগ ওঠে। যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহতের নাম শরৎ চক্রবর্তী মণি। তিনি ঢাকার নরসিংদীর বাসিন্দা। পেশায় ব্যবসায়ী। গত ১৮ দিনে এই নিয়ে বাংলাদেশে এটা ষষ্ঠতম হিন্দু নিধনের অভিযোগ। বাংলাদেশে এক হিন্দুর রক্ত শুকনোর আগেই আর এক হিন্দুকে খুন করা হচ্ছে। রাণার মৃত্যুর রেশ কাটার আগেই শরৎকে খুন করা হস। বাংলাদেশে বসবাসকারী হিন্দুদের আশঙ্কা, এভাবে চললে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে বাংলাদেশে হিন্দুদের অস্তিত্বই থাকবে না।

    নর‌সিংদী‌তে খুন হিন্দু ব্যবসায়ী

    নর‌সিংদীর পলাশ উপ‌জেলার চরসিন্দুর বাজারে নিজের মুদি দোকানে খুন হন শরৎ চক্রবর্তী ম‌ণি, বয়স আনুমানিক ৪০ বছর। বাজারে তাঁর ভালই পরিচিত ছিল। শান্ত স্বভাবের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিল মণি। কারওর সঙ্গে কোনও বিবাদের খবর পাওয়া যায়নি। তা হলে সেই ব্যক্তির পরিণতি কী ভাবে? ধর্মের দোহাই দিয়েই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল না তো? প্রশ্ন তুলছেন একাংশ। সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতোই নিজের দোকানপাট নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন মণি। তখন বাজারে ঠাসা ভিড়। রাত হলেও মানুষের আনাগোনা কমেনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এমন সময়ই কয়েকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি মণির উপর চড়াও হয়। অতর্কিতেই হামলা চালায় তাঁর উপর। গুরুতর ভাবে আহত হন মণি। বাজারের অন্য ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

    সাংবাদিক রানা খুন

    বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে লাগাতার হিংসা চলছেই। যশোরে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তি রানা প্রতাপ (৪৫)। তিনি একটি আইস ফ্যাক্টরির মালিক ছিলেন এবং একই সঙ্গে একটি দৈনিক পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার কোপালিয়া বাজার এলাকায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে রানা প্রতাপকে তার আইস ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে একটি গলিতে নিয়ে গিয়ে তাকে মাথায় গুলি করে এবং গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়। রানা নড়াইল জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বিডি খবর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন।

    ১৮ দিন ষষ্ঠতম হত্যা

    • ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।

    শুরু হয়েছিল দীপু দাসকে দিয়ে। ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে প্রথমে গণপিটুনি। তারপর গাছে বেঁধে দীপুর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল উগ্রপন্থীরা। সেই পৈশাচিক দৃশ্য ছিল ভয়াবহ, হিমস্রোত বইয়ে দেওয়ার মতো। তারপর থেকে বাংলাদেশের নানা উপজেলা থেকে উঠে এসেছে হিন্দু নিধনের অভিযোগ। অমৃত মণ্ডল থেকে শুরু করে বজেন্দ্র বিশ্বাস, খোকন চন্দ্র দাস— উঠে এসেছে একের পর এক নাম। এবার সেই নিহতদের তালিকায় যোগ হল শরৎ চক্রবর্তী, রানা প্রতাপ বৈরাগীর নামও। কিন্তু বিচার? তা এখনও অধরা। দেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বাংলাদেশের সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। ভারত এই ঘটনাগুলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অব্যাহত বৈরিতাকে গুরুতর বিষয় হিসাবে বর্ণনা করেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমবর্ধমান আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছে।

    আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকা

    জানা গিয়েছ, ৫ ডিসেম্বর স্থানীয় সম রাত ১০টা নাগাদ এই হামলা হয়েছিল শরৎ চক্রবর্তী মণির ওপর। নিহত মণি শিবপুর উপজেলার সাধারচর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। শরতের স্ত্রী অন্তরা মুখোপাধ্যায় গৃহবধূ। তাঁদের ছেলে অভীক চক্রবর্তীর বয়স ১২ বছর। আগে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত ছিলেন শরৎ। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন। জানা গিয়েছে, গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ফেসবুকে নিজের উদ্বেগ ব্যক্ত করে একটি পোস্ট করেছিলেন শরৎ। লিখেছিলেন, ‘‘চারিদিকে এত আগুন, এত হিংসা। আমার জন্মভূমি মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে।’’ আর সেই উদ্বেগ প্রকাশের একমাস যেতে না যেতেই তাঁকে খুন হতে হল।

    হিন্দু হওয়াই অপরাধ

    পাড়া-প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, শরৎ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছিলেন, অত্যন্ত মানবিক ছিলেন, সামাজিক ভাবে দায়বদ্ধ ছিলেন। কোনও শত্রু ছিল না তাঁর। হিন্দু বলেই শরৎকে খুন করা হল কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন প্রতিবেশীরাই। বাংলাদেশের সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য বসু এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রের মদতেই সংখ্যালঘু হিন্দুদের হত্যা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা ‘জিজিয়া’ দাবি করছিল। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুন করা হল তাঁরই দোকানে। এই আবহে ইউনুস সরকারকে তোপ দেগে বাপ্পাদিত্য ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘‘যে‌ দে‌শে সরকা‌রের সুস্পষ্ট প‌রিকল্পনায় হিন্দুদের জা‌তিগত নিধন বা এথ‌নিক ক্লেন‌জিং চ‌লে, সেই দে‌শে হিন্দু হওয়াটাই তো খুন হ‌য়ে যাবার প‌ক্ষে বড় কারণ।’’

    মোদি এলেও আটকতে পারবে না

    বাংলাদেশে হিন্দু হলেই মেরে ফেলা হতে পারে, এমনই দাবি বাপ্পাদিত্যের। শরৎকে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন বাপ্পাদিত্য। তিনি জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা শরতের থেকে মোটা টাকা দাবি করছিল। বাংলাদেশে থাকতে হলে টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। ‘জিজিয়া’ দিতে বলা হয় শরৎকে। পুলিশের কাছে গেলে স্ত্রীকে অপহরণ করার হুমকিও দেওয়া হয়। বাপাদিত্য বলেন, ‘‘দুষ্কৃতীরা শরৎকে বলে, ‘চুপচাপ টাকা দিয়ে দে। বেশি চিৎকার করিস না। তোর ভারত বা তোর বাবা নরেন্দ্র মোদি এলেও জিজিয়া আদায় করা আটকাতে পারবে না’।’’ ইসলামি রাষ্ট্রে বসবাসকারী অমুসলিমদের কাছ থেকে যে কর আদায় করার চল রয়েছে, তাকেই বলা হত ‘জিজিয়া’। অমুসলিমদের জীবন, সম্পত্তি রক্ষা এবং ধর্মাচারণের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে ওই কর নেওয়ার চল ছিল। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র কাজল দেবনাথ বলেন, ‘‘শুধুমাত্র ডিসেম্বর মাসেই হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সাতটি হামলা এবং পাঁচটি হত্যার খবর পাওয়া গেছে। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলি সংখ্যালঘুদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে।’’

  • Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    Hindus in Bangladesh: বাংলাদেশে বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ, ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জে এক বিধবা হিন্দু নারীকে গণধর্ষণ করে গাছের সঙ্গে বেঁধে চুল কেটে দেওয়া এবং ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি সাব-ডিসট্রিক্ট শহর কালীগঞ্জের ওয়ার্ড নম্বর ৭-এ ঘটে বলে স্থানীয় পুলিশ এবং সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর (Hindus in Bangladesh)। পুলিশে দায়ের করা অভিযোগ অনুসারে, প্রায় দুই বছর আগে ওই মহিলা শাহিন ও তার ভাইয়ের কাছ থেকে কুড়ি লাখ টাকা দিয়ে একটি জমি ও একটি দুই তলা বাড়ি কিনেছিলেন। পরে শাহিন ওই মহিলাকে অশ্লীল প্রস্তাব দিতে শুরু করে ও তাঁকে নানাভাবে হয়রান করতে থাকে (Gang Rape)।

    কাঠগড়ায় দুই মুসলিম যুবক (Hindus in Bangladesh)

    শনিবার সন্ধ্যায় ওই মহিলা যখন তাঁর বাড়িতে ছিলেন, তখন শাহিন এবং তার সহযোগী হাসান ওই মহিলাকে ধর্ষণ করে। এরপর তারা মহিলার কাছ থেকে ৫০,০০০ টাকা দাবি করে, যা তিনি দিতে অস্বীকার করেন। তখন তারা ওই মহিলার আত্মীয়দের ওপরও হামলা চালায়। এরপর তারা ওই মহিলাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে, তাঁর চুল কেটে ফেলে ও ভিডিও রেকর্ড করে, এবং সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়। হামলার সময় মহিলাকে মারধর করা হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ডাক্তারি পরীক্ষার পর ওই মহিলা কালীগঞ্জ থানার পুলিশে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যেখানে শাহিন ও হাসানকে অভিযুক্ত করা হয়। পুলিশ তদন্ত করছে (Hindus in Bangladesh)।

    হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার অভিযোগ

    বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হওয়া হিংসার ঘটনা (Gang Rape) নিয়েও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ডিসেম্বর মাসে কালীমহর ইউনিয়নে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া ময়মনসিংহে ২৫ বছর বয়সী দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবককে ধর্মীয় অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে মারধর করে গাছে ঝুলিয়ে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। শরিয়তপুরে আবার খোকন দাস নামের এক ঔষধ ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে ও আগুন লাগিয়ে হত্যা করা হয় (Hindus in Bangladesh)।

  • India: ভেনেজুয়েলায় পালা বদলের সম্ভাবনায় কৌশলগত লাভের মুখে ভারত

    India: ভেনেজুয়েলায় পালা বদলের সম্ভাবনায় কৌশলগত লাভের মুখে ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) দীর্ঘদিনের কমিউনিস্ট শাসক নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য আমেরিকার উদ্যোগ ভারতের (India) পক্ষে শাপে বর হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে একটি বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। এই সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন তেলসমৃদ্ধ লাতিন আমেরিকার দেশটিতে শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে বিন্যস্ত করতে পারে। এখানে এতদিন কার্যত ছিল চিনের একচেটিয়া প্রভাব।

    চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ (India)

    গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভেনেজুয়েলা কার্যত চিনের প্রভাব-বলয়ে আবদ্ধ থাকায় ভারতের উপস্থিতি ছিল সীমিত। ভারতের মূল বিনিয়োগ ছিল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ওএনজিসির মাধ্যমে। সংস্থাটি ভেনেজুয়েলার সান ক্রিস্টোবল তৈলক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছে। কিন্তু চুক্তি অনুযায়ী পাওনা অর্থ এখনও আদায় করতে পারেনি ভারত। সরকারি হিসেব অনুযায়ী, শুধু সান ক্রিস্টোবল প্রকল্প থেকেই ভারতের বকেয়া প্রায় ৫৩৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার কাছে ভারতের পাওনা ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। মাদুরো-উত্তর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত নয়া সরকার ক্ষমতায় এলে নয়াদিল্লি এই বকেয়া আদায়ে বাস্তবিকই কূটনৈতিক চাপ তৈরি করতে (Venezuela) পারবে বলে ধারণা কৌশলগত বিশ্লেষকদের (India)।

    চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য

    ক্ষমতার পরিবর্তন হলে ভেনেজুয়েলায় চিনের দীর্ঘদিনের আধিপত্যও বড় ধাক্কা খেতে পারে। ভেনেজুয়েলায় অপরিশোধিত তেলের মজুত প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক, সৌদি আরবের চেয়েও বেশি। অথচ দীর্ঘদিনের দুর্নীতি, অদক্ষ শাসন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির তেল উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। বর্তমানে ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল, যা বৈশ্বিক উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশ। অথচ মোট প্রমাণিত তৈলভাণ্ডারের প্রায় ১৮ শতাংশ ভেনেজুয়েলার দখলে রয়েছে। এই সীমিত উৎপাদনের মধ্যেও চিন একাই প্রায় ৮০ শতাংশ তেল আমদানি করে, যা থেকে স্পষ্ট হয় দেশটির ওপর বেজিংয়ের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ (India)।

    বিশেষজ্ঞদের অভিমত

    বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ফের শুরু হলে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে (Venezuela) পারে। এতে শুধু চিনের প্রভাব কমবে না, ভারতের মতো দেশগুলির জন্যও নতুন বিনিয়োগ ও জ্বালানি নিরাপত্তার সুযোগ তৈরি হবে। ভেনেজুয়েলার বাস্তবতা একটি নির্মম বৈপরীত্যে ভরা। বিপুল তেল সম্পদের দেশ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করেন এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যের শিকার। অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হলে এই পরিস্থিতি বদলানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। ভারতের জন্য এটি কেবল বকেয়া অর্থ আদায়ের প্রশ্ন নয়, বরং লাতিন আমেরিকায় শক্তিশালী জ্বালানি উপস্থিতি গড়ে তোলার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা (India)।

    ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন

    ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের শেয়ারবাজারে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। সোমবার বাজারে এই ইঙ্গিত আগেভাগেই মূল্যায়ন করেছেন লগ্নিকারীরা (Venezuela)। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা ওএনজিসির শেয়ার ২ শতাংশ বেড়ে ২৪৬.৮০ টাকায় পৌঁছয়। নিফটি সূচকে এদিন সবচেয়ে বেশি লাভ করা শেয়ারের তালিকায় শীর্ষে ছিল ওএনজিসি। একই সঙ্গে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ₹১,৬১১.৮০-এ পৌঁছয়, যা সংস্থাটির ৫২ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তর (India)।

    জেফেরিজের প্রতিবেদন

    বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাঙ্কিং সংস্থা জেফেরিজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রভাবের অধীনে ভেনেজুয়েলার তৈল শিল্পে পুনর্গঠন হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে এমন সংস্থার তালিকায় রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ওএনজিসি-ও। ভেনেজুয়েলার বিশাল তৈল সম্পদ ও ভবিষ্যৎ উৎপাদন কাঠামোয় পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাশার সৃষ্টি হয়েছে (Venezuela)। এদিকে, এই ভূ-রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে কেন্দ্র করে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির তরফে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্কসবাদী)-সহ একাধিক বাম দল ভেনেজুয়েলায় মাদুরো সরকারের পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন পর্যন্তও ভারত সরকারকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করার ডাক দিয়েছেন (India)।

    ভারতের অবস্থান

    তবে এই ইস্যুতে ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ভারত ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে রয়েছে, কোনও বিদেশি দখলদারিত্বের পক্ষে নয় এবং একই সঙ্গে ব্যর্থ কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্রেরও সমর্থক নয়। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই অবস্থানের মাধ্যমে নয়াদিল্লি একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি বজায় রেখেছে। এদিকে, চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিক্রিয়াশীল কমিউনিস্ট গোষ্ঠী এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাপ্রবাহ ফের একবার আন্তর্জাতিক ইস্যুতে (Venezuela) ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিগুলির রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শগত আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে (India)।

  • Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    Indian In America: ট্রাম্পের অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান, চিন! জানেন কেন নেই ভারত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আমেরিকায় থাকা অভিবাসীরা কতটা সরকারি সাহায্য পান, তার খতিয়ান তুলে ধরলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ওই অভিবাসীদের দেশের নামও উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, ১২০টি দেশের তালিকায় পাকিস্তান, বাংলাদেশ, চিন, নেপাল, ভুটানের নাম থাকলেও নেই ভারতের নাম। চার্টটির শিরোনাম ছিল ‘Immigrant welfare recipient rates by country of origin’। এতে দেশভিত্তিকভাবে দেখানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দেশের কত শতাংশ অভিবাসী পরিবার যুক্তরাষ্ট্রে কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা গ্রহণ করে।

    কারা কত সহায়তা

    কর্মসূত্রে বা অন্য কারণে বিভিন্ন দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় বা পাকাপাকি ভাবে আমেরিকায় থাকেন। নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানলে তবেই তাঁরা নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন। না-হলে অভিবাসী হিসাবে থাকতে হয় তাঁদের। আমেরিকায় বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য সরকারি কোষাগার থেকে কিছু অর্থ খরচ করা হয়। এই অর্থ তাঁদের সামগ্রিক উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন দেশের কতগুলি অভিবাসী পরিবার সরকারি সুবিধা পেয়েছে, তালিকায় তার উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ নেপাল। সে দেশের ৮১.৪ শতাংশ অভিবাসী পরিবার আমেরিকার সরকারি সাহায্য পেয়েছে। তার পর যথাক্রমে রয়েছে ইয়েমেন (৭৫.২), সোমালিয়া (৭১.৯)। তালিকায় রয়েছে আফগানিস্তান (৬৮.১), বাংলাদেশ (৫৪.৮), পাকিস্তান (৪০.২), চিন (৩২.৯) শতাংশ। কিন্তু কোথাও নেই ভারতের নাম।

    কেন নেই ভারত?

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের উচ্চ আয় ও তুলনামূলক কম ওয়েলফেয়ার নির্ভরতা। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি আয়কারী জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম। ফলে তাদের মধ্যে সরকারি সহায়তা নেওয়ার হার তুলনামূলকভাবে কম। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম পারিবারিক আয় যুক্তরাষ্ট্রের গড় আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। এই কারণেই উচ্চ সহায়তা গ্রহণকারী দেশগুলোর তালিকায় ভারতের নাম উঠে আসেনি। আমেরিকায় সরকারি সাহায্য তাঁরাই পান, যাঁদের রোজগার কম। তাই সকল অভিবাসী পরিবারকে সরকারি সাহায্য করা হয় না। আমেরিকায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের সংখ্যার বিচারে ভারতের স্থান দ্বিতীয়। আবার রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় অভিবাসীরাই আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি রোজগার করে থাকেন। সে দিক দিয়ে দেখলে তাঁদের সরকারি সাহায্য না পেলেও চলে।

    যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় আমেরিকানদের চিত্র

    ২০২৩ সালের মার্কিন সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লক্ষ মানুষ নিজেদের ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এরা যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম এশীয় বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী, যা মোট এশীয় জনসংখ্যার প্রায় ২১ শতাংশ। এই শ্রেণিতে ভারতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তি ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূতরাও অন্তর্ভুক্ত।

    আয়ের পরিসংখ্যান কী বলছে?

    ২০২৩ সালে ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ১,৫১,২০০ ডলার। সব এশীয় পরিবারপ্রধানের ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ১,০৫,৬০০ ডলার। ভারতীয় অভিবাসী পরিবারপ্রধানদের মধ্যম আয় ছিল ১,৫৬,০০০ ডলার, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের আয় ছিল ১,২০,২০০ ডলার। ব্যক্তিগত আয়ের ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এগিয়ে। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৫,৩০০ ডলার। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই আয় ছিল ৫২,৪০০ ডলার। পূর্ণকালীন কর্মীদের মধ্যে ভারতীয়দের মধ্যম আয় ১,০৬,৪০০ ডলার, যেখানে এশীয়দের সামগ্রিক গড় ৭৫,০০০ ডলার।

    শিক্ষার প্রভাব

    উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতাও ভারতীয় আমেরিকানদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। ২৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ভারতীয় আমেরিকানদের ৭৭ শতাংশের স্নাতক বা তার ঊর্ধ্বতন ডিগ্রি রয়েছে। এর মধ্যে ৩১ শতাংশের স্নাতক এবং ৪৫ শতাংশের স্নাতকোত্তর বা তার বেশি ডিগ্রি আছে। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ৫৬ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় শ্রেণির ভারতীয়দের মধ্যেই উচ্চশিক্ষার হার প্রায় সমান।

    দারিদ্র্য ও গৃহস্বত্ব

    দারিদ্র্যের হার কম হওয়াও ভারতের অনুপস্থিতির আরেকটি কারণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয়দের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেন। সব এশীয় গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই হার ১০ শতাংশ। অভিবাসী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া—উভয় ক্ষেত্রেই ভারতীয়দের দারিদ্র্যের হার একই, ৬ শতাংশ। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ভারতীয়রা এশীয় গড়ের কাছাকাছি। ভারতীয় পরিবারপ্রধানদের ৬২ শতাংশ নিজস্ব বাড়ির মালিক। অভিবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এই হার ৬৩ শতাংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ভারতীয়দের মধ্যে ৫৪ শতাংশ।

    ভারতীয়দের দাপট

    দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় এসেই অভিবাসন নীতি কঠোর করার বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। অভিবাসীদের জন্য সরকারি ব্যয়বরাদ্দ কাটছাঁট করার কথাও বলেছেন। এই আবহে তাঁর এই তালিকা প্রকাশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় ভারতের নাম সেই তালিকায় না-থাকা। তবে, বিশেষজ্ঞদের মতে এর পিছনে রয়েছে মার্কিন মুলুকে ভারতীয়দের দাপট। উচ্চ আয়, উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম দারিদ্র্যের হার—এই তিনটি প্রধান কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূতরা ওয়েলফেয়ার বা সরকারি সহায়তার ওপর তুলনামূলকভাবে কম নির্ভরশীল। সেই কারণেই ট্রাম্প প্রকাশিত অভিবাসী কল্যাণ তালিকায় ভারত জায়গা পায়নি।

     

     

     

  • Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    Bangladesh: গাজায় সরব, বাংলাদেশে নীরব! হিন্দু-হত্যায় কেন মুখে কুলুপ বিশ্ব মানবাধিকার সংগঠনগুলির?

    মাধ্যম নউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) শরিয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসের ওপর বর্বর হামলা এবং ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন, এই দু’টি ঘটনা কোনও হঠাৎ উত্তেজনা (Hindus Killed) বা দুর্ঘটনাজনিত জনরোষের পরিণতি নয়। উভয় ক্ষেত্রেই ঘটনার ধারাবাহিকতা ছিল ভয়াবহভাবে স্পষ্ট। প্রথমে ভিড় জমে, তারপর নিয়ন্ত্রণ ভেঙে পড়ে, এবং শেষ পর্যন্ত চালানো হয় চরম নৃশংসতা।

    গণপিটুনি দিয়ে হত্যা (Bangladesh)

    ময়মনসিংহে দীপুকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। আর শরিয়তপুরে খোকনকে প্রথমে মারধর করা হয়, পরে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়, পরে তাঁর গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর মৃত্যু হয় তাঁর। খোকনের ওপর হামলা বা দীপুর হত্যাকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের লক্ষ্য করে একাধিক গণহিংসার ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। রাজবাড়িতে অমৃত মণ্ডল নামে এক হিন্দু যুবককে গুজব ছড়িয়ে হত্যা করা হয়। ময়মনসিংহে দীপুকে ‘ধর্ম অবমাননা’র অভিযোগ তুলে পিটিয়ে মারে জনতা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ঘটনাগুলি আলাদা নয়। গত দেড় বছরে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটনায় হিন্দুদের হত্যা, গণপিটুনি, ছুরিকাঘাত, ভয় দেখানো এবং কোথাও কোথাও পুরো হিন্দু গ্রাম পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু প্রতিবারই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হয় এগুলিকে বিচ্ছিন্ন ছোটখাটো অপরাধ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, নয়তো দাবি করেছে, এগুলি আসলে আওয়ামি লিগ সমর্থকদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ (Bangladesh)।

    অমানবিক অত্যাচার

    এই সব ঘটনার মধ্যে কোনও একটি নির্দিষ্ট অভিযোগ নয়, বরং একটি অভিন্ন হিংসার কাঠামো স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দ্রুত ভিড় জমে, সামাজিক সংযম (Hindus Killed) ভেঙে পড়ে, এবং অমানবিক অত্যাচার চালানো হয়। বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়, পরিবারগুলি এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়, এবং পুরো হিন্দু সমাজ দীর্ঘদিন আতঙ্কের মধ্যে থাকে, ভিড় সরে যাওয়ার পরেও। এরপর প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা যায় সেই চেনা ছবি, কয়েকটি প্রতীকী গ্রেফতার, প্রশাসনের আশ্বাস, এবং তারপর দীর্ঘ নীরবতা (Bangladesh)। প্রশ্ন উঠছে, এই ধারাবাহিক হিংসা কি আদৌ থামবে? নাকি প্রতিবারই বিচ্ছিন্ন ঘটনার তকমা দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়া হবে? বাংলাদেশে সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় অসম প্রতিক্রিয়া মিলেছে। প্রথমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিভিন্ন সরকার। ভারত প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং দোষীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঢাকাকে আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটেনও একাধিক বিবৃতিতে হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে ঝুঁকিপূর্ণ সম্প্রদায়ের (পড়ুন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের) সুরক্ষার ওপর জোর দেয়। এগুলি হল আনুষ্ঠানিক ও নথিভুক্ত প্রতিক্রিয়া, যেখানে অপরাধের গুরুত্ব স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে (Hindus Killed)।

    বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী

    তবে সবচেয়ে সরব ভূমিকা নেয় বাংলাদেশের স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী, হিন্দু সংগঠন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বিষয়টি যেন জনচেতনার আড়ালে চলে না যায়, তাই তাঁরা বিক্ষোভ দেখান, পুলিশকে তথ্য দেন, নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করেন এবং একের পর এক ঘটনা নথিভুক্তকরণ করেন (Bangladesh)। এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে চোখে পড়েছে বড় বড় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলির নীরবতা। বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। গাজা সংঘাতের মতো ঘটনায়ও যেখানে এই দুই সংস্থা দ্রুত বিবৃতি দিয়েছিল, বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল, জরুরি আবেদন এবং ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিং করে চলেছিল, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় তেমন কোনও সক্রিয়তাই দেখা যায়নি।

    প্রশ্ন একাধিক

    এই বৈপরীত্য শুধু প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেই নয়, বিশ্বজুড়ে পরিচিত বহু মানবাধিকারকর্মী ও প্রভাবশালী কণ্ঠের ক্ষেত্রেও স্পষ্ট। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর হিংসা কি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মহলের কাছে (Bangladesh) যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে? পরিবেশ আন্দোলন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ইস্যু, ভারতের কৃষক আন্দোলন কিংবা গাজা পরিস্থিতি নিয়ে যিনি বরাবরই সরব, সেই গ্রেটা থুনবার্গের মতো কোনও প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক (Hindus Killed) অ্যাক্টিভিস্টও এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে একটি শব্দও খরচ করেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই একটি টুইট পর্যন্তও।

    আন্তর্জাতিক সংগঠনের মুখে কুলুপ

    শুধু গ্রেটা নন, বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সঙ্কটে নিয়মিত মন্তব্য করা আরও বহু আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিস্ট এবং সংগঠনও একই ধরনের নীরবতা পালন করছে। বাংলাদেশে হিন্দু হত্যার ঘটনায় আলাদা করে কোনও আন্তর্জাতিক তদন্ত শুরু হয়নি, হয়নি জরুরি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান বা ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক ব্রিফিংও। কোথাও বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উঠলেও তা এসেছে বৃহত্তর আলোচনার অংশ হিসেবে, স্বতন্ত্র মানবাধিকার সঙ্কট হিসেবে নয় (Bangladesh)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই বৈপরীত্য উপেক্ষা করা কঠিন। একদিকে স্থানীয় সরকার ও দেশীয় নাগরিক সমাজ যখন বিষয়টি নিয়ে কথা বলছে, তখন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলির সংযত বা প্রায় নীরব প্রতিক্রিয়া এক অস্বস্তিকর যদিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলে, কারা অগ্রাধিকার পায়? কোন ভুক্তভোগীর জন্য আন্তর্জাতিক আন্দোলন হয়, আর কারাই বা থেকে যায় উপেক্ষিত (Hindus Killed)?

    প্রকাশ্যে দ্বিচারিতা

    প্রসঙ্গত, নীরবতার প্রকৃত রূপ কী? এখানে নীরবতা মানে একেবারে কিছু না বলা নয়। এটি আরও সূক্ষ্ম, কিন্তু অনেক বেশি প্রভাবশালী। এই নীরবতা প্রকাশ পায় লক্ষ্যভিত্তিক মনোযোগের অনুপস্থিতিতে। বাংলাদেশে হিন্দু ভুক্তভোগীদের দুর্দশা নিয়ে কোনও আলাদা তদন্তমূলক রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সমর্থকদের সক্রিয় করে তুলতে জরুরি ‘অ্যাকশন অ্যালার্ট’ও জারি করা হয়নি। আন্তর্জাতিক এনজিওগুলির তরফে এমন কোনও ধারাবাহিক মিডিয়া ব্রিফিংও হয়নি, যা বিষয়টিকে চর্চার বিষয় করে তোলে (Bangladesh)। অন্য দেশে গোষ্ঠীগত হিংসা বা সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনায় মানবাধিকার সংগঠনগুলি যেভাবে দ্রুত প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রকাশ করে, মুখপাত্র নিয়োগ করে, ধারাবাহিক আপডেট দেয় এবং রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তোলে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তার কোনওটিই দেখা যায়নি।

    ফলে যা হয়েছে, তা হল, ঘটনাগুলি কিছুদিন আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচিত হয়ে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী প্রচার না থাকলে কূটনৈতিক চাপ দুর্বল হয়, জনস্মৃতি ঝাপসা হয়ে যায় (Hindus Killed), আর একটি মানুষের মৃত্যু ন্যায়ের দাবির প্রতীক না হয়ে, পরিণত হয় ইতিহাসের পাদটীকায় (Bangladesh)।

  • Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    Bangladesh: মারাই গেলেন হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন দাস, জ্যান্ত জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইউনূসের বাংলাদেশে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শেষমেশ মারাই গেলেন বাংলাদেশের (Bangladesh) হিন্দু ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস। বর্ষবরণের রাতে কয়েকজন দুষ্কৃতী প্রথমে ছুরিকাঘাত করে তাঁকে, পরে গায়ে লাগিয়ে দেয় আগুন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে মৃত্যু হয় তাঁর (Hindu Businessman)। ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ২০ মিনিট নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় প্রায় তিন দিন ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন খোকন। কিন্তু তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, “শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আহত খোকন দাস আজ সকাল ৭টা ২০ মিনিটে বাংলাদেশ জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে মারা গিয়েছেন।”

    হিন্দু ব্যবসায়ীর ওপর হামলা (Bangladesh) 

    নববর্ষের রাতে শরিয়তপুরের দামুদ্যা উপজেলায় একদল দুর্বৃত্ত খোকনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। হামলাকারীরা প্রথমে তাঁকে ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপায়, পরে গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।এই ঘটনার জেরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে (Bangladesh)। চিকিৎসকদের মতে, খোকনের শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ দগ্ধ হয়েছে। আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাঁর মুখমণ্ডল ও শ্বাসনালী। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই আঘাতগুলি অত্যন্ত গুরুতর ছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের কাজ সম্পন্ন হলেই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন (Hindu Businessman)।

    শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন

    শরিয়তপুর জেলার দামুদ্যা উপজেলার কোনেশ্বর ইউনিয়নের কেয়ুরভাঙা বাজার এলাকায় ছিল খোকনের ওষুধের দোকান। বর্ষবরণের রাতেও প্রতিদিনের মতোই দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। এই সময় একদল দুর্বৃত্ত পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে থাকে তাঁকে। পরে তাঁর শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হামলাকারীরা। প্রাণ বাঁচাতে রাস্তার পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন খোকন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে হামলাকারীরা চম্পট দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয় (Bangladesh)। শরিয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত এক ব্যবসায়ী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের নাম দাস। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

    চিকিৎসকের বক্তব্য

    স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দাসকে উদ্ধার করে প্রথমে শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা সেদিন রাতেই তাকে ঢাকায় রেফার করেন। শরিয়তপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নজরুল ইসলাম জানান, খোকন দাসের শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাঁর পেটে গুরুতর ক্ষত ছিল। তাঁর মুখমণ্ডল, মাথার পেছনের অংশ ও হাতের একটা অংশ আগুনে পুড়ে গিয়েছিল। ডামুড্যা থানার পুলিশ সূত্রে খবর, খোকন কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।   ঘটনার সময় তিনি একটি অটোরিকশায় চড়ে ডামুড্যা–শরিয়তপুর সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর হামলা চালায় (Hindu Businessman)।

    কী বলছেন ওসি

    ডামুড্যা থানার ওসি মহম্মদ রবিউল হক জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দু’জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কেওড়ভাঙা বাজারে এক ব্যবসায়ীর ওপর হামলার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই (Bangladesh)। হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনের পরিচয় জানা গিয়েছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ও সোহাগ। তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

    গ্রেফতারির দাবি

    নিহতের এক আত্মীয় বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া যাবে না। যাদের পরিচয় পাওয়া গিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে।” নিহতের স্ত্রী সীমা দাস জানান, বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তেই তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি বলেন, “আমার স্বামী পেশায় ব্যবসায়ী। তিনি বাড়িতে ঢোকার সময় একদল লোক তাঁর ওপর হামলা চালায়। তারা গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আমার স্বামী অত্যন্ত শান্ত প্রকৃতির মানুষ ছিলেন। কারও সঙ্গে তাঁর কোনও শত্রুতা ছিল না। কেন হামলা করা হল, আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না (Hindu Businessman)।”

    প্রসঙ্গত, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এমন একটা সময়ে ঘটল, যখন বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হিংসার ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে (Bangladesh)। গত মাসেই ময়মনসিংহে পোশাক কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পিটিয়ে খুন করা হয়। একই সময়ে রাজবাড়িতে তোলাবাজির অভিযোগে অমৃত মণ্ডল নামে আর এক হিন্দু যুবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে খুন করা হয়। পরপর এই ধরনের ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক মহল, ধর্মীয় সংগঠন এবং সংখ্যালঘু অধিকার সংগঠনগুলির মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে এই হিংসার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে (Hindu Businessman)। দাবি উঠেছে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার (Bangladesh)।

  • Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    Protest in Iran: খতমের পথে খামেনেই জমানা? ইরানে মোল্লাতন্ত্র-বিরোধী আন্দোলনে পুলিশি দমনে নিহত অন্তত ৭

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মৌলবাদ বেশিদিন মানুষের নিত্য প্রয়োজনকে চাপা দিয়ে রাখতে পারে না। তার স্পষ্ট উদাহারণ ইরান। গত এক সপ্তাহ ধরে মুদ্রাস্ফীতি, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃ্দ্ধি, অর্থনৈতিক সঙ্কট ঘিরে আন্দোলন মাথাচারা দিয়ে উঠেছে ইরানের (Protest in Iran) রাজপথে। বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন হাজার হাজার জনতা। এরইমধ্যে গত তিন-চারদিনে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দাবি করা হচ্ছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। এরমধ্যে একজন নিরাপত্তারক্ষীও রয়েছেন। এছাড়াও, আহত হয়েছেন আরও প্রায় ২০ জন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রায় ৩০ জন।

    আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন

    ইরানের শিয়া ধর্মগুরু তথা শীর্ষ ধর্মনেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইয়ের (Ayatollah Ali Khamenei) বিরুদ্ধে দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণবিদ্রোহ রক্তাক্ত হয়ে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের দিন। নিউইয়ার (New Tear) ইরানে পদার্পণ করার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা ইরান জুড়ে বিক্ষোভকারী পথে নেমে পড়েন। তাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে প্রবল সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায় বিভিন্ন এলাকায়। তেহরানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা স্বৈরতন্ত্র নিপাত যাক স্লোগান মুখে মিছিল বের করে। আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের মুখে রেজা পহলভির (Reza Pahlavi) সমর্থনে স্লোগান দিতে শোনা যায়। রেজা হলেন প্রয়াত শাহ মহম্মদ রেজা পহলভির (Shah Mohammad Reza Pahlavi) ছেলে। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের সময় তাঁকে অপসারিত করে চূড়ান্ত ক্ষমতা হস্তগত করেন আয়াতুল্লা। তারপর থেকেই আমেরিকা সহ পশ্চিমী দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত হয়ে যায় ইরানের। শাহ জিন্দাবাদ— স্লোগান শোনা যায় তেহরানের সর্বত্র। রেজা পহলভি বর্তমানে আমেরিকায় নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি এক্সবার্তায় লিখেছেন, আমি আপনাদের সঙ্গে রয়েছি। জয় আমাদের নিশ্চিত। কারণ আমাদের দাবি যুক্তিসঙ্গত এবং আমরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। যতক্ষণ এই জমানা সিংহাসন দখল করে থাকবে, ততক্ষণ দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থা চলতে থাকবে। আরও দুর্দশা নেমে আসতে চলেছে।

    কেন বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে

    ইরানের (Protest in Iran) সাধারণ মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ও আর্থিক সঙ্কট। ডিসেম্বর মাসে দেশে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে প্রায় ৪২.৫ শতাংশে। তার উপর ২০২৫ সালে ডলারের তুলনায় ইরানি রিয়ালের মূল্য প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু পরিকাঠামো ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে ইজরায়েল-আমেরিকার হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গত সপ্তাহেই ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সরকারকে প্রতিবাদীদের ‘ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া’ শোনার পরামর্শ দেন। ঘটনার প্রথম সূত্রপাত হয়েছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন রাজধানী তেহরানের কিছু দোকানদার মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে শুরু করেছিলেন। এরপরেই আগামী ২-১ দিনের মধ্যেই দেশের অন্য প্রান্তে বিক্ষোভের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির পড়ুয়ারাও। রাজপথে শুরু হয় বিক্ষোভ। ফলে সব মিলিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকার।

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতি

    ইরানি মুদ্রা রিয়ালের ক্রমাবনতিতে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে ওঠায় সপ্তাহখানেক ধরে রাজধানী তেহরানে (Tehran) ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছে। ফলে এই অবস্থায় দেশের মানুষের জীবন ও শান্তি রক্ষায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসা জরুরি বলে মনে করেন পেজেশকিয়ান। এই মুহূর্তে ৯ কোটি ২০ লক্ষ মানুষের দেশ ইরান ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে এর মূল কারণ, মার্কিন ডলার প্রতি ইরানি রিয়ালের (IRR) মূল্য। মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির হার ৪২ শতাংশ। পেজেশকিয়ান কার্যত মেনে নিয়েছেন যে, ১ ডলারের দাম এখন প্রায় ১৪ লক্ষ রিয়ালের কাছাকাছি। আর এই মুহূর্তে রিয়ালের অবক্ষয় রোধের কোনও উপায় সরকারের হাতেও নেই। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ইরানে চলতি বছরে খাদ্যপণ্যের দাম গড়ে ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

    মৌলবাদের বিরোধিতা

    ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে যে, মুদ্রার তীব্র অবমূল্যায়নের কারণে ক্ষুব্ধ মোবাইল ফোন বিক্রেতারা এই বিক্ষোভ শুরু করে, তবে কিছু বিক্ষোভকারীকে দেশের ধর্মভিত্তিক সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতেও শোনা গিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন বিদেশ সচিব মাইক পম্পেও এই পরিস্থিতির জন্য ইরানের শাসনব্যবস্থার চরমপন্থা ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। তিনি এক্স-এ পোস্ট করেছেন, ‘এটা আশ্চর্যের কিছু নয় যে ইরানের জনগণ ধসে পড়া অর্থনীতির প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে… তাঁর (খামেনেই) নেতৃত্বে ইরানি শাসনব্যবস্থা চরমপন্থা ও দুর্নীতির মাধ্যমে একটি প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ দেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে… ইরানের জনগণের এমন একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার প্রাপ্য, যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করবে – মোল্লা ও তাঁদের সহযোগীদের নয়।’

    বাংলাদেশ-ভারত-ইরান

    বর্তমানে ইরানের (Protest in Iran) মতোই বাংলাদেশেও মৌলবাদী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে চাইছে সে দেশের একাংশ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে আপাতত নির্ধারিত নির্বাচনে জামাত অংশগ্রহণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে, এটি হবে বাংলাদেশের ইসলামপন্থীদের দিকে ঝুঁকে পড়ার আরেকটি উদাহরণ। মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশও ক্রমশ অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সফলতা পাচ্ছে ভারত। মোদি সরকারের হাত ধরে ভারতে মুদ্রাস্ফীতির হার ১ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। সরকার মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে করছাড় দেওয়ায় গাড়ি থেকে শুরু করে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেছে। কিন্তু ভারতের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এলেও বাংলাদেশে আসছে না। বাংলাদেশে মুদ্রাস্ফীতি ৮ শতাংশের ঘরে। গত এক সপ্তাহ ধরে ইরানে মোলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সরব সেদেশের মুক্তমনারা। রাজধানী তেহরান, মাশহাদ-সহ একাধিক শহরে পথে নেমে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি, দেশে মোল্লাতন্ত্র নিপাত যাক। পতন হোক আয়াতোল্লা আলি খামেনেই সরকারের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া থেকে শুরু করে আমজনতা-ইরানের সকলের মুখে একটাই স্লোগান, স্বৈরাচারীর পতন হোক। তাঁদের দাবি, শাহ বংশের হাতে আবারও ফিরে যাক ইরানের শাসন।

  • Bangladesh Hindu Attack: ফের বাংলাদেশে হামলার মুখে হিন্দু! প্রৌঢ়কে ধারাল অস্ত্রের কোপ, জ্যান্ত জ্বালানোর চেষ্টা

    Bangladesh Hindu Attack: ফের বাংলাদেশে হামলার মুখে হিন্দু! প্রৌঢ়কে ধারাল অস্ত্রের কোপ, জ্যান্ত জ্বালানোর চেষ্টা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন (Bangladesh Hindu Attack) বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি সেই তালিকায় নয়া সংযোজন হিন্দু প্রৌঢ় খোকন দাস। এবার ঘটনাস্থল শরিয়তপুরের ডামুড্যা। বুধবার রাতে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরছিলেন খোকনচন্দ্র দাস। রাস্তায় কয়েকজন দুষ্কৃতী তাঁকে ঘিরে ধরে। মারধর করে। খোকনকে একদল উন্মত্ত জনতা ধারাল অস্ত্র দিয়ে কোপায় বলে অভিযোগ। এখানেই শেষ নয়। মারধর, শারীরিক নিগ্রহের পর তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়! পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। তবে কাছে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে কোনওরকমে প্রাণরক্ষা করেন তিনি।

    খোকনচন্দ্রের অবস্থা সঙ্কটজনক

    ডামুড্যা থানার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের কেউরভাঙার কাছে এই ঘটনা ঘটে। খোকন পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক ও ওষুধ বিক্রেতা। তিনি অটোরিকশায় বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর কাছে টাকা ছিল। পথে দুষ্কৃতীরা সেই অটোরিকশা থামিয়ে খোকনকে নামিয়ে আনে ও তাঁকে মারধর শুরু করে। থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “দুষ্কৃতীরা খোকনের তলপেটে ছুরি মেরে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাঁর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পুকুরে ঝাঁপ দেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে উদ্ধার করে শরিয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।” তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত খোকনের শারীরিক অবস্থা সঙ্কটজনক। তাঁকে ঢাকার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

    কেন এই নির্মমতা? প্রশ্ন খোকনের স্ত্রীর

    ঘটনায় বাকরুদ্ধ খোকন দাসের (Bangladesh Hindu Attack) স্ত্রী সীমা। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভিকে সীমা বলেছেন, তিনি বুঝতে পারছেন না কেন তাঁর স্বামী খোকনচন্দ্র দাসকে এত নৃশংসভাবে আক্রমণ করা হল। এলাকায় তাঁদের কোনও শত্রু ছিল না বলেই দাবি সীমা দাসের। সীমার কথায়, “কারোর সঙ্গে কোনও বিষয়ে আমাদের বিরোধ নেই। আমরা বুঝতে পারছি না কেন হঠাৎ আমার স্বামীকে নিশানা করা হল।” এই কথা বলেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান যে, চিকিৎসকরা খোকন দাসের একটি চোখে অস্ত্রোপচার করেছেন এবং তাঁকে শীঘ্রই আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হবে। বাংলাদেশে যাঁরা এই ঘটনার কথা বলেছেন, তাদের বেশিরভাগই পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। যা স্থানীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যেকার ভয়ের মাত্রার ইঙ্গিত।

    আমরা হিন্দু! শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই

    খোকনের স্ত্রী সীমা দাস বলেন, “আমরা হিন্দু। আমরা শুধু শান্তিতে বাঁচতে চাই। হামলাকারীরা মুসলিম এবং পুলিশ তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। আমি সরকারের কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ করছি।” তিনি আরও জানান, হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা তাঁর স্বামী হামলাকারীদের মধ্যে দু’জনকে চিনতে পেরেছেন। সীমার দাবি, “এ কারণেই ওরা আমার স্বামীর মাথা ও মুখে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।” এই ঘটনা সামনে আসার পর বাংলাদেশে হিন্দুদের (Bangladesh Hindu Attack) নিরাপত্তা নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ গত দুই সপ্তাহে মধ্যে এরকম ঘটনা তিনবার ঘটল। কিছুদিন আগে দীপুচন্দ্র দাসকে জ্যান্ত জ্বালিয়ে খুন করে দুষ্কৃতীরা। তারপর রাজবাড়িতে সম্রাট নামে এক যুবকেরও গণপিটুনিতে মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশের কালিমোহর ইউনিয়নের হোসেনডাঙ্গা এলাকায় ২৯ বছরের যুবক অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। গত ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ২৫ বছরের দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে খুন করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আগুন লাগানো হয় শরীরে। আর এবার খুনের চেষ্টা করা হল খোকনকে।

    সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হবে না?

    খোকন দাস রাজধানী ঢাকা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে তাঁর গ্রামে ওষুধের দোকান ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা করতেন। বুধবার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর এই হামলা হয়। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দিতে পেরেছিলেন। ফলে তাঁর মাথা ও মুখ আগুনে পুড়ে গেলেও শরীরের বাকি অংশটা ঠিক আছে। বীভৎস নির্যাতনের পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। খোকনকে খুনের চেষ্টার ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে। এর আগে দুই যুবকের মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল ভারত। হিন্দু বা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করা হবে না? সেই প্রশ্ন তুলেছিল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

    হিন্দু হামলার নিন্দা

    সীমা দাস ও খোকন দাসের তিন সন্তান রয়েছে। সন্তানদের (Bangladesh Hindu Attack) মধ্যে একজন জানিয়েছে যে, তাদের বাবার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে এবং শরীরকে স্থিতিশীল করতে অন্তত ছয় ইউনিট রক্ত ​​প্রয়োজন। খোকনের স্ত্রীর বক্তব্য, “কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে জানি না। আমরা বিচার চাই। আমার স্বামী সরল মানুষ। কারও ক্ষতি করেননি।” মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে হিন্দু-সহ সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসা বেড়ে চলেছে, যা বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ তৈরি করছে। বেশ কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠন এই হামলার নিন্দাও করেছে। ইউনূসের সঙ্গে কর্মরত আধিকারিকরা সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দিচ্ছেন বলে দাবি করলেও, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

  • Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    Switzerland Fire: বর্ষবরণের রাতে সুইৎজারল্যান্ডে বারে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আগুনে ঝলসে মৃত ৪০

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নতুন বছরের (New Year) আনন্দ মুহূর্তেই শোকের ছায়া পড়েছে সুইৎজারল্যান্ডের (Switzerland Fire) বিলাসবহুল স্কি রিসর্ট শহর ক্রঁ-মন্তানায়। বর্ষবরণের রাতে একটি বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি। আহত হয়েছেন শতাধিক। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ইউরোপজুড়ে। জানা গিয়েছে, সুইস পুলিশ সূত্রে খবর, বর্ষবরণের সময় ওই পানশালায় পার্টি চলছিল। ঠিক সেসময় আচমকাই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

    বর্ষবরণের রাতে অগ্নিকাণ্ড

    সুইস পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত দেড়টা নাগাদ ক্রঁ-মন্তানার (Crans-Montana) ‘ল্য কঁস্তেলাশিওঁ’ (Le Constellation) নামে একটি বারে আগুন লাগে। সেই সময় নববর্ষ (Happy New Year) উপলক্ষে বারটির ভিতরে শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পুলিশের মুখপাত্র গায়েতাঁ লাথিয়ঁ জানান, “ভবনের ভিতরে বহু মানুষ ছিলেন। অনেকেই আহত, বহু মৃত্যুর খবর মিলছে। আগুন (Fire Incident) লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য একটি রিসেপশন সেন্টার এবং হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে।

    ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত পর্যটন কেন্দ্র

    সুইস আল্পসের কোলে অবস্থিত ক্রঁ-মন্তানা বিশ্বজুড়ে পরিচিত একটি পর্যটনকেন্দ্র। স্কি, স্নোবোর্ডিং ও গলফের জন্য সারা বছরই পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকে এখানে। রাজধানী বার্ন থেকে এই শহরের দূরত্ব প্রায় দু’ঘণ্টার পথ। ম্যাটারহর্নের উত্তর দিকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই শহর। প্রায় ৮৭ মাইল দীর্ঘ স্কি ও হাইকিং ট্রেল, নয়টি হ্রদ, আলপাইন অরণ্য ও তৃণভূমি— সব মিলিয়ে ক্রঁ-মন্তানা প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে স্বর্গ। শীতে বরফঢাকা ঢালে স্কি, টোবগানিং, ক্রস-কান্ট্রি স্কির সুযোগ রয়েছে। রয়েছে বড়সড় স্নো পার্ক ও শহরের কেন্দ্রস্থলে সুইৎজারল্যান্ডের অন্যতম বৃহৎ আইস রিঙ্ক। নিউইয়ার্স ইভের (New Year’s Eve) রাতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ (Blast) ঘটে দেশের জনপ্রিয় এই শহরে।

    কীভাবে লাগল আগুন

    স্থানীয় সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের জেরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে ‘লে কঁস্টেলাসিওঁ বার অ্যান্ড লাউঞ্জ’-এ। পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে (Viral Videos) দেখা যাচ্ছে, বারের ভিতর থেকে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলি আকাশে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সুইস সংবাদমাধ্যমের একাংশের দাবি, কনসার্ট চলাকালীন আতশবাজির কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। তবে পুলিশ সেই সম্ভাবনা নিশ্চিত করেনি। এর পিছনে নাশকতা বা কোনও সন্ত্রাস রয়েছে কি না তা-ও নিশ্চিত নয়। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

  • India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    India Maldives Relations: হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনায় ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নবনির্মিত ও আধুনিকীকৃত হানিমাধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য ভারতের সহায়তা চাইল মলদ্বীপ। এ বিষয়ে ভারত সরকার এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (AAI)-কে প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর হানিমাধু বিমানবন্দরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মলদ্বীপ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব দেয়। অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশেষ দূত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রী কে রাম মোহন নাইডু।

    হানিমাধু বিমানবন্দর-এর জন্য সহায়তা

    অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, “হানিমাধু বিমানবন্দর পরিচালনার জন্য ভারতীয় সংস্থাগুলিকে যুক্ত করা সম্ভব কি না, তা মূল্যায়নের দায়িত্ব এএআই-কে দেওয়া হয়েছে।” বর্তমানে এএআই দেশের মধ্যে ১১৩টি বিমানবন্দরের মালিক এবং ২৬টি রাজ্যে বিমানবন্দর পরিচালনা করে। অন্যদিকে, জিএমআর, জিভিকে ও আদানি গোষ্ঠীর মতো বেসরকারি সংস্থাগুলি চুক্তির ভিত্তিতে এএআই-এর মালিকানাধীন ১৩টি বিমানবন্দর পরিচালনা করছে। হানিমাধু বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণে ভারতের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এক্সিম ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার মাধ্যমে মলদ্বীপকে ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ দিয়েছে ভারত। ১৩৬.৬ মিলিয়ন ডলারের পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের দায়িত্ব পায় ভারতীয় সংস্থা জেএমসি প্রোজেক্টস।

    হানিমাধু বিমানবন্দর সমস্যা

    এই প্রকল্পের আওতায় হানিমাধু বিমানবন্দরে ২,৪৬৫ মিটার দীর্ঘ রানওয়ে তৈরি করা হয়েছে। যেখানে এয়ারবাস এ৩২০ শ্রেণির বিমান ওঠানামা করতে পারবে। পাশাপাশি বছরে ১৩ লক্ষ যাত্রী পরিষেবার সক্ষমতা সম্পন্ন একটি আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে। মলদ্বীপ কর্তৃপক্ষের আশা, এর ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে। তবে এই নতুন প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে উঠে আসছে এক দশকেরও বেশি পুরনো জিএমআর বিতর্কের স্মৃতি। ২০১২ সালে হঠাৎ করেই মলদ্বীপ সরকার মালে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পরিচালনা ও সম্প্রসারণের জন্য জিএমআর-এর সঙ্গে করা ৫১১ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি বাতিল করে এবং সংস্থাটিকে সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০১৬ সালে সিঙ্গাপুরের একটি আদালতের রায়ে জিএমআর ২৭০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ পায়। সেই ঘটনা এখনও পর্যন্ত মলদ্বীপে ভারতীয় কর্পোরেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়।

LinkedIn
Share