Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

  • India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের (India-Bangladesh Relations) রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগোলেও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ১১-দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জামায়াতের বেশিরভাগ সাফল্য এসেছে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলায় যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি সেখানে জয়ী হয়েছে জামাত।

    ভারতের জন্য উদ্বেগের

    হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জিগির উঠলেও, এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর…সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। যা ভারতের জন্য উদ্বেগের, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতিকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া না দেওয়া অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। এর অধিকাংশটাই পশ্চিমবঙ্গের। নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার যে কোনও জমি নিতে পারে। তাই শীঘ্রই এখানে বেড়া দেওয়া দরকার।

    ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি ভারতের জন্য আশঙ্কার। বিরোধীদেরও দাবি, এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মনে করি, একাত্তরের শক্তির খানিকটা জাগরণ ঘটেছে বলে, আরও জাগরণ ঘটত যদি আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। তাহলে এই জামাতিরা ১০টি আসন পেত না।” হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাছাকাছি আসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পদ্মাপারে বাড়তে থাকে কট্টরপন্থীদের দাপট। অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনে ইন্ধন ছিল ইসলামাবাদের। তারেক রহমানের হাত ধরে ফের ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে কি না তা সময় বলবে।

    নির্বাচনের সারসংক্ষেপ

    মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও তার জোট ২১২টি আসন জিতে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পায়—দলের ইতিহাসে যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) মাত্র ৬টি আসন জিতে ভরাডুবির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চল, শিক্ষিত ভোটার ও মহিলারা জামায়াতের রক্ষণশীল অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দলটির প্রভাব বেড়েছে।

    হিন্দু অধ্যুষিত বিভাগ ও জামায়াতের ফল

    বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮% (প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ)। তবে কিছু বিভাগে এই হার ১০%–এর বেশি।

    সিলেট বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩.৫%

    জামায়াতের সাফল্য সীমিত

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা)

    তুলনামূলকভাবে ভারত-বিরোধী মনোভাব এখানে কম

    রংপুর বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩%

    রংপুর-১, ২, ৩, ৫, ৬ সহ একাধিক আসনে জামায়াতের জয়

    গাইবান্ধা, জয়পুরহাটেও ভালো ফল

    খুলনা বিভাগ (বিশেষত সাতক্ষীরা)

    হিন্দু জনসংখ্যা: ১১–১২%

    সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের জয়

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও ২৪ পরগনার সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের এই জায়গাগুলো।

    কেন উদ্বিগ্ন ভারত

    সীমান্ত নিরাপত্তা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিমি। রংপুর-খুলনা অঞ্চলে জামায়াতের শক্ত অবস্থান সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বা অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে দলটি ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল।

    ভারত বিরোধী মনোভাব: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত। সেই অতীতের কারণে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় ভারতবিরোধী বক্তব্য তাদের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংখ্যালঘু নিরাপত্তা: যেসব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ১০%–এর বেশি, সেখানে জামায়াতের উত্থান সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে সামাজিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: তিস্তা জলবণ্টনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    জনমতের বার্তা

    জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির জয় দেখায় যে অধিকাংশ ভোটার চরমপন্থাকে সমর্থন করেননি। শহরাঞ্চল ও মহিলা ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি কার্যকর হয়েছে।
    ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Maha Shivaratri: ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’

    Maha Shivaratri: ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এই দেশের ৮৭ শতাংশ মানুষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, অথচ সেখানেই প্রতিধ্বনিত হচ্ছে ‘হর হর মহাদেব’ ধ্বনি! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ২০২৬ সালের এই বসন্তে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক শিবরাত্রির (Maha Shivaratri)।

    ‘শিব গৃহ নৃত্য’ (Indonesia)

    ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) জাভাতে অবস্থিত নবম শতাব্দীর বিস্ময় প্রাম্বানান মন্দিরে এই প্রথমবার আয়োজিত হলো মাসব্যাপী ‘প্রাম্বানান শিব উৎসব’। ১৭ জানুয়ারি ২০২৬-এ ১৫০ জন শিল্পীর মোহনীয় ‘শিব গৃহ নৃত্য’ বা তাণ্ডব নৃত্যের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির (Maha Shivaratri) পুণ্য তিথিতে ১,০০৮টি প্রদীপের আলোয় সেজে ওঠে প্রাচীন এই মন্দির প্রাঙ্গণ।

    মন্দিরের উচ্চতা ৪৭ মিটার

    প্রাম্বানান মন্দির কেবলমাত্র একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, বরং ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) প্রাচীন আত্মিক সম্পর্কের জীবন্ত দলিল। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শিব মন্দির। মূল মন্দিরের উচ্চতা ৪৭ মিটার। মন্দিরটি ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরকে উৎসর্গ করা। আজও এখানে নিয়মিত মঞ্চস্থ হয় রামায়ণ ব্যালে, যা প্রমাণ করে রামায়ণ-মহাভারত কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ নয়।

    বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা

    প্রাম্বানান মন্দির নির্মাণ শুরু হয় প্রায় ৮৫০ খ্রিস্টাব্দে, সম্ভবত সঞ্জয় রাজবংশের আমলে। প্রায় ২৪০টি মন্দির নিয়ে গঠিত এই মন্দিরচত্বরের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে ৪৭ মিটার উচ্চতার শিব মন্দির, যা স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্যে অনন্য। মন্দিরের দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে রামায়ণের কাহিনি। ১৯৯১ সালে প্রাম্বানানকে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্তমানে এটি ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। প্রতি বছর হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক (Maha Shivaratri) এখানে ভিড় জমান।

    বিশ্ববাসীর কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত

    ইন্দোনেশিয়া (Indonesia) বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ কিন্তু প্রাচীন হিন্দু ঐতিহ্যের প্রতি যে সম্মান প্রদর্শন করেছে, তা বিশ্ববাসীর কাছে এক বড় দৃষ্টান্ত। ২০২৬-এর এই শিবরাত্রি উদযাপন প্রমাণ করল, প্রাম্বানান মন্দির এখন আর কেবল পাথরের স্থাপত্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি হিন্দুদের এক সজীব আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। এ দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ২৭ কোটি, যার মধ্যে ৮৭.০৬ শতাংশই মুসলিম। কিন্তু এত কিছুর পরেও ইন্দোনেশিয়া কোনও ইসলামিক রাষ্ট্র নয়; সংবিধান অনুযায়ী এটি একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। ভারতীয় পরম্পরার শিকড়ের সন্ধান এখনও এখানে উপলব্ধ।

    ১৯১৮ সালে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়

    শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভূমিকম্প এবং আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে মন্দিরটি ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৯১৮ সালে মন্দিরের পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মন্দিরের মহিমা, স্থাপত্য ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতকে সামনে রেখে বলা যায়, প্রম্বানন মন্দির কেবল হিন্দুধর্মের এক অনন্য নিদর্শনই নয়, ইন্দোনেশিয়ার (Indonesia) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভারতের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত।

    এই রাষ্ট্রে হিন্দু সংস্কৃতির ছাপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া তার পুরনো সংস্কৃতিকে অস্বীকার করেনি। ১৩ শতকের শেষ দিকে পূর্ব জাভায় ‘মাজাপাহিত সাম্রাজ্য’ নামের হিন্দু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়, যাকে ইন্দোনেশিয়ার স্বর্ণযুগ বলা হয়। আজও ইন্দোনেশিয়ার ইসলামি সংস্কৃতিতেও হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষের নাম, স্থানের নাম ও সংস্কৃতিতে আরবি ও সংস্কৃত উভয় উৎসের প্রভাব রয়েছে। মহাভারত ও রামায়ণের কাহিনিও সে দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে মিশে গেছে। সেখানে পুতুলনাচ ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে রামায়ণ–মহাভারত মঞ্চস্থ করা হয়। আর এবার সেই দেশেই মহাসমারোহে পালিত হলো শিবরাত্রি (Maha Shivaratri)।

  • Pakistan: “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে”, দাবি বিএলও-র

    Pakistan: “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে”, দাবি বিএলও-র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) বালুচ লিবারেশন আর্মি (Balochistan Liberation Army) দাবি করেছে যে তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর সাত সদস্যকে আটক করেছে। সেইসঙ্গে ইসলামাবাদকে একটি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে সাফ জানিয়েছে, “সাত দিনের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হন, নাহলে পাক সেনাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।”

    মাত্র ছয় দিন বাকি (Pakistan)

    মিডিয়া শাখা হাক্কালের এক বিবৃতির মাধ্যমে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বার্তার মধ্যে একটি ভিডিও বার্তাও রয়েছে। সেখানে বিএলএ (Balochistan Liberation Army) জানিয়েছে, “সময়সীমা শেষ হতে আর মাত্র ছয় দিন বাকি আছে, ঘড়ির কাঁটা ইতিমধ্যেই টিক টিক করছে।” ‘অপারেশন হেরোফ’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে বন্দীদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় বিভিন্ন ফ্রন্টে ১৭ জন পাকসেনাকে আটক করা হয়েছিল। তবে তাঁদের মধ্যে দশজনকে স্থানীয় (Pakistan) পুলিশ ইউনিটের সঙ্গে যুক্ত এবং জাতিগত বালুচ হিসেবে চিহ্নিত করার পর পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল।

    বালুচ জাতীয় আদালতে বিচার

    বিএলএ দাবি করেছে, বাকি সাতজন নিয়মিত পাকিস্তানি (Pakistan) সেনাবাহিনীর সদস্য এবং এখনও তাদের হেফাজতে রয়েছে। আটক করা পাক সেনাদের বালুচ জাতীয় আদালতে বিচার হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযানে জড়িত থাকা থেকে শুরু করে জোরপূর্বক অপহরণ এবং বালুচ জনগণের বিরুদ্ধে গণহত্যায় অংশগ্রহণের অভিযোগ রয়েছে। মামলার সময় প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে, অভিযুক্তদের জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

    আটক পাকসেনাদের দোষী সাব্যস্তকরণ এবং মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা সত্ত্বেও, বিএলএ (Balochistan Liberation Army) জানিয়েছে, সাত দিনের অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। যদি পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে এই সময়ের মধ্যে বন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে না। তবে ইসলামাবাদ এখনও কোনও ইতিবাচক ভাবে সাড়া দেয়নি।

  • Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    Marco Rubio: রাশিয়া থেকে ভারতের তেল কেনা নিয়ে বড় স্বীকারোক্তি মার্কো রুবিও-র, বিরোধীদের থোঁতা মুখ হল ভোঁতা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ আর বাড়াবে না। তেল কেনা বন্ধ হবে এমন কোনও প্রতিশ্রুতি নয়াদিল্লির তরফে দেওয়া হয়নি ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে।” মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর এহেন মন্তব্য ভারত- রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে যে বিতর্ক চলছে, তাতে আরও ইন্ধন জোগাল বলেই ধারণা বিশেষজ্ঞদের।

    কী বললেন রুবিও (Marco Rubio)

    রুবিও বলেন, “ভারত শুধু এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে তারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনার পরিমাণ বাড়াবে না।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নয়াদিল্লি মস্কো থেকে সম্পূর্ণভাবে তেল কেনা বন্ধ করার কোনও প্রতিশ্রুতিই দেয়নি। এমন কিছু নেই-ও ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে। তাঁর এই মন্তব্য সরাসরি সেই রাজনৈতিক দাবিগুলির দাবিকেই খণ্ডন করে, যেখানে বলা হচ্ছিল যে মার্কিন চাপের মুখে ভারত পুরোপুরি রুশ তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুবিও বলেন, “ওয়াশিংটন ভারতের কাছ থেকে এই প্রতিশ্রুতি পেয়েছে যে তারা অতিরিক্ত রুশ তেল কিনবে না। এখানে মূল শব্দটি হল “অতিরিক্ত”।

    তেল আমদানি চালিয়ে যাবে ভারত

    এর অর্থ, ভারত বর্তমানে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ লাখ ব্যারেল হারে তেল আমদানি চালিয়ে যাবে, তবে এর বেশি বাড়াবে না। রুবিও এরও বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও ইউক্রেনকে সমর্থন জানানো অব্যাহত রাখলেও, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় কূটনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং চাপ – উভয়ই থাকবে।” এই সম্মেলনেই ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও এই বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “ভারতের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হয় মূল্য, সরবরাহের নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বাইরের কোনও চাপের ভিত্তিতে নয়।” তিনি বলেন, “ভারত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনুসরণ করে, দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ মাথায় রেখে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।” তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট হয় যে ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা মেনে নেয়নি।

    কংগ্রেসের সমালোচনা

    ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দল নিরন্তর মোদি সরকারের সমালোচনা করে চলেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঠিক করবে ভারত কোথা থেকে তেল কিনবে।” তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন চাপের কাছে নতি স্বীকার করে রাশিয়া থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে রাজি হয়েছেন।” কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশও বারবার প্রশ্ন তুলেছেন, “সংসদকে কি জানানো হয়েছে যে সরকার রুশ তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে?” এই মন্তব্যগুলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের একাংশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং এমন ধারণা তৈরি হয় যে ভারত রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ করেছে। রুবিওর ব্যাখ্যা এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এমন কোনও পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় ভারত রাজি হয়নি।

    বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ

    ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারী দেশ। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল তেল ব্যবহার করে, যার ৮০–৮৫ শতাংশই আমদানি-নির্ভর। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়া সস্তায় তেল সরবরাহ করেছে, যা অনেক সময় আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় ব্যারেল প্রতি ২০–৩০ মার্কিন ডলার কম ছিল। এর ফলে ভারত জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে, মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাসে ভারতে রুশ তেল সরবরাহ দৈনিক প্রায় ২০.৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়। পরে কিছুটা কমলেও তা বাজারদর পরিবর্তন ও সরবরাহের বহুমুখীকরণের কারণে, রাজনৈতিক চাপে নয়। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী দেশ ছিল। তবে অতিনির্ভরতা এড়াতে ভারত মধ্যপ্রাচ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা থেকেও আমদানি বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ক্ষমতায় ফেরার পর বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়। তাঁর প্রশাসন ২০২৫ সালের অগাস্টে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বাড়িয়েছিল, যা অনেকেই ভারতের রুশ তেল নির্ভরতা কমানোর চাপ হিসেবে দেখেন।

    রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য

    ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন যে, ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধে রাজি হয়েছে। তবে পরবর্তী আলোচনার ফলে একটি সংশোধিত বাণিজ্য সমঝোতা হয়, যাতে শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয় এবং অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ জরিমানা তুলে নেওয়া হয়। অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও ভারত রুশ তেলের ওপর কোনও পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেনি। বরং শুধু বর্তমান পরিমাণের বেশি না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এমনকি রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভও বলেছেন, “ভারতের সম্পূর্ণ অবরোধের দাবি মস্কোর পক্ষ থেকে আসেনি।” এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে, পশ্চিমী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার পাশাপাশি ভারত কীভাবে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ও নিজের জ্বালানি নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করছে। মিউনিখে রুবিওর বক্তব্য বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছে। তিনি জানান, ভারত রুশ তেল কেনা সম্পূর্ণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কেবল আমদানি বর্তমান স্তরে স্থির রাখার কথা বলেছে। এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির অবস্থান স্পষ্ট, জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সাশ্রয়ী মূল্য, প্রাপ্যতা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক চাপ সত্ত্বেও।

  • Bangladesh: তারেকের শপথগ্রহণে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার, সঙ্গী বিদেশ সচিবও

    Bangladesh: তারেকের শপথগ্রহণে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার, সঙ্গী বিদেশ সচিবও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের (Bangladesh) নব নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla)। সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় কূটনীতিকদের উপস্থিতির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করার জন্য বিদেশ সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং লোকসভার মহাসচিব উৎপল কুমার সিংও স্পিকারের সঙ্গে ঢাকা যেতে পারেন।

    কেন যাচ্ছেন না মোদি ?

    স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরিবর্তে বাংলাদেশে (Bangladesh) যাবেন। ঢাকার তরফে রবিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।  কিন্তু পূর্ব-নির্ধারিত কর্মসূচির কারণে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছেন না তিনি। কারণ, ওই দিনই মুম্বইয়ে ফরাসি রাষ্ট্রপতি ইমানুয়েল মাক্রঁর সঙ্গে মোদির বিশেষ বৈঠক রয়েছে।

    বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, “এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে মাননীয় স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত-বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও স্থায়ী বন্ধুত্বের উপর জোর দেওয়া হবে। আমাদের দুই দেশকে আবদ্ধ করে এমন গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে ভারত। একটি অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার দ্বারা ঐক্যবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে, ভারত তারেক রহমানের নেতৃত্বকে স্বাগত জানায়।’’

    সম্পর্ককে পুনর্নির্মাণে আগ্রহী ঢাকা

    তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যারা ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২৯৭টি ঘোষিত আসনের মধ্যে ২১২টি আসন পেয়ে ঐতিহাসিক জয়লাভ করেছে। নির্বাচনে জয়লাভের পর তারেককে পাঠানো অভিনন্দন বার্তার জন্য প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিএনপি। সাংবাদিক সম্মেলন করে তারেক রহমান ঘোষণা করে বলেন, “বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ আমাদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করবে। ভারত, পাকিস্তান এবং চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের (Bangladesh) সম্পর্ককে পুনর্নির্মাণে ঢাকা ভীষণ ভাবে আগ্রহী।”

  • Bangladesh: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত তিন কট্টর মৌলবাদী সন্ত্রাসী জয়ী বাংলাদেশের নির্বাচনে

    Bangladesh: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত তিন কট্টর মৌলবাদী সন্ত্রাসী জয়ী বাংলাদেশের নির্বাচনে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত তিন কট্টর মৌলবাদী সন্ত্রাসী জয়ী। বাংলাদেশে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচন বাংলাদেশ (Bangladesh) জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-কে এক বিশাল বিজয় এনে দিয়েছে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে এবং জামায়াতে ইসলামকে (Islamist Terrorists) পরাজিত করেছে। তবে শিরোনামে যা এসেছে, তা হল তিনজন সন্ত্রাসী এখন রাজনীতিবিদে পরিণত হয়েছেন। এদের সকলকেই পূর্বে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডের আসামী। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং খুনের অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এখন তাঁরা সংসদ সদস্য বা এমপি হিসেবে সংসদে প্রবেশের জন্য প্রস্তুত।

    ইউনূসই মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন (Bangladesh)

    ২০২৪ সালে কোটা বিরোধী আন্দোলন এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশ (Bangladesh) থেকে বিতারিত করার পর কট্টর মৌলবাদীদের সমর্থনে অন্তর্বর্তী সরকারে বসেন মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের আদালতের রায়ের পর তিন ইসলামি সন্ত্রাসীকে (Islamist Terrorists) কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে দেওয়া হয়। যদিও রাজনৈতিক অস্থিরতার পূর্বে এই তিন সন্ত্রাসী কারাগারে ছিলেন এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর্যায়ে ছিলেন। দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তাঁরা ভারতবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন।

    মৃত্যুদণ্ড থেকে সাংসদ লুৎফুজ্জামান বাবর

    সন্ত্রাসীদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলেন বিএনপির লুৎফুজ্জামান বাবর। ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে ১,৬০,০০০ এরও বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার সরকার বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার ছিল। উল্লেখ্য বাবর এর আগে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনও করেছিলেন। ২০১৪ সালে, বাবরকে ২০০৪ সালের ঢাকা (Bangladesh) গ্রেনেড হামলায় জড়িত থাকার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এই হামলায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত এবং প্রায় ৫০০ জন আহত হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালে, চট্টগ্রাম অস্ত্র (Islamist Terrorists) চোরাচালান মামলায় জড়িত থাকার জন্য তাঁকে আরেকটি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়, যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিদ্রোহীদের জন্য ১০ ট্রাক অস্ত্র জব্দ করা হয়েছিল। তবে, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর, হাইকোর্ট ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে জেল থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    আবদুস সালাম পিন্টু ও ভারত বিরোধী সন্ত্রাসী

    বিএনপির (Bangladesh) আরেক নেতা আবদুস সালাম পিন্টুও রাজনৈতিকভাবে মূল স্রোতে ফিরে এসেছেন। তিনি টাঙ্গাইল-২ আসন থেকে প্রায় ২০০,০০০ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বাবরের মতো, পিন্টুকেও ২০০৪ সালের ঢাকা গ্রেনেড হামলায় ভূমিকার জন্য ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এমনকি পিন্টুর বিরুদ্ধে পাকিস্তান-ভিত্তিক সন্ত্রাসী সংগঠন হরকাত-উল-জিহাদ-আল-ইসলামী (হুজি) কে সমর্থন করার অভিযোগও আনা হয়েছিল। ভারতে ২০০৬ সালের বারাণসী আদালতে বোমা হামলা (Islamist Terrorists) , ২০০৭ সালের আজমির শরীফ দরগায় হামলা এবং ২০১১ সালের দিল্লিতে বোমা হামলার মতো বড় বড় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল এই পাক জঙ্গি সংগঠন। বাবরের মতো, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর আদালত তাকেও ২৪শে ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মুক্তি দেয়।

    যুদ্ধাপরাধের আসামি এটিএম আজহারুল ইসলাম

    তৃতীয় নেতা হলেন জামায়াতে ইসলামীর এটিএম আজহারুল ইসলাম। আজহারুল ইসলাম রংপুর-২ (Bangladesh) থেকে প্রায় ১৩৯,০০০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি এর আগে ১৯৯৮, ২০০১ এবং ২০০৬ সালেও সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং ২০১২ সাল পর্যন্ত দলের মহাসচিব ছিলেন। ২০১২ সালে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর অপরাধের জন্য তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে ১,২৫৬ জনকে হত্যা (Islamist Terrorists) এবং ১৩ জন নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ২০১৪ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বিদ্রোহের পর, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট গত বছরের ২৭ মে তাকে খালাস দেয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এটি একটি বিরাট পরিবর্তন। অভিযুক্ত, মৃত্যুদণ্ডদের আসামীরা এখন সংসদে শপথ নিতে চলেছেন।

  • Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    Uranium Supply Deal: মার্চে কার্নির দিল্লি সফরে ইউরেনিয়াম নিয়ে ১০ বছরের চুক্তি হতে পারে ভারত-কানাডার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্রমেই গলছে ভারত-কানাডা সম্পর্কের বরফ। ভারতে ইউরেনিয়াম সাপ্লাই নিয়ে ১০ বছরের একটি চুক্তি হতে পারে নয়াদিল্লি ও অটোয়ার মধ্যে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নির (Canadian PM India Visit) প্রস্তাবিত মার্চের প্রথম সপ্তাহে (Uranium Supply Deal) ভারত সফরের সবচেয়ে বড় সাফল্য হতে পারে এই চুক্তি। এই সফরে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত একাধিক চুক্তিও (India Canada Trade) চূড়ান্ত হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

    ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি (Uranium Supply Deal)

    তবে ২.৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তিটিই সফরের মূল আকর্ষণ হতে চলেছে। এই সফরের লক্ষ্য হবে ভারত-কানাডা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠন করা, যা জাস্টিন ট্রুডোর প্রধানমন্ত্রিত্বকালে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল। কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ইউরেনিয়াম উৎপাদক দেশ। বিশ্বে উৎপাদনের প্রায় ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ জোগান দেয় এই দেশ। উৎপাদিত ইউরেনিয়ামের প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও এশিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে জ্বালানি হিসেবে রফতানি করা হয়। কানাডায় রয়েছে বিশ্বের তৃতীয় বা চতুর্থ বৃহত্তম প্রমাণিত তেল মজুত কেন্দ্র, মূলত আলবার্টার বিস্তীর্ণ অয়েল স্যান্ডস অঞ্চলে, যার পরিমাণ ১৬৩ থেকে ১৭০ বিলিয়ন ব্যারেলের কাছাকাছি। দেশটির প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুতও উল্লেখযোগ্য। এদিক থেকে বিশ্বে ১৬তম স্থানে রয়েছে দেশটি, যার পরিমাণ এক হাজার ট্রিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি (Uranium Supply Deal)।

    কানাডা সফরে  ডোভাল

    কার্নির সফরের আগে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল এবং কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রবীণ মন্ত্রী অটোয়া (কানাডার রাজধানী) সফরে যান। কার্নির সফরের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা সহ একাধিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে (India Canada Trade)। এদিকে, গত সপ্তাহে ভারতে সফরে এসে কানাডার জ্বালানিমন্ত্রী টিম হজসন জানান, আলোচনায় ভারত-কানাডা পারমাণবিক চুক্তির আওতায় পারমাণবিক সহযোগিতার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি ও খনি খাত হবে দুই দেশের সহযোগিতার প্রধান ক্ষেত্র, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল এবং এলএনজি লেনদেনের সম্ভাবনাও রয়েছে।” ভারত ও কানাডার মধ্যে প্রস্তাবিত কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (CEPA) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা মার্চ মাসে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ পট্টনায়ক। তাঁর দাবি, আলোচনা শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব। উল্লেখ্য, প্রায় দু’বছর ধরে এই বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত ছিল, যা গত নভেম্বর মাসে পুনরুজ্জীবিত করতে উভয় দেশ রাজি হয় (Uranium Supply Deal)।

    অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

    হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যা মামলার প্রসঙ্গে পট্টনায়ক জানান, কানাডায় এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তিনি বলেন, “যদি কোনও ভারতীয় নাগরিকের জড়িত থাকার প্রমাণ উঠে আসে, তাহলে ভারত উপযুক্ত পদক্ষেপ করবে।” প্রসঙ্গত, এই সফরের পরিকল্পনা এমন একটা সময়ে করা হচ্ছে, যখন কানাডা ও আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক একেবারেই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ভারত ও চিনের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণে আগ্রহী, যাতে রফতানি ও বিনিয়োগ বাড়িয়ে কানাডার অর্থনীতিকে চাঙা করা যায় (Uranium Supply Deal)। ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে সমালোচনার সুর আরও চড়িয়ে কার্নি বলেন, “সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপগুলি বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাস্তবতাকে নতুন করে গড়ে তুলেছে।”

    বাড়ছে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ 

    এদিকে, কানাডা দশকের শেষ নাগাদ ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (India Canada Trade) ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৬০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। এই লক্ষ্য নির্ধারণের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে, যখন অটোয়া নয়াদিল্লিতে একটি উচ্চপর্যায়ের সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও পরিবর্তনশীল সরবরাহ শৃঙ্খলের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্মূল্যায়নের প্রতিফলনও এতে দেখা যাচ্ছে (Uranium Supply Deal)। ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হজসন বলেন, এই বাণিজ্য লক্ষ্যটি স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। অংশীদারিত্বের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য নির্দিষ্ট ও পরিমাপযোগ্য কর্মদক্ষতা সূচকও নির্ধারিত হয়েছে।

    ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক

    তিনি জানান, প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পারস্পরিক পরিপূরকতা থাকা সত্ত্বেও ভারত–কানাডা বাণিজ্য সম্পর্ক তার সম্ভাবনার তুলনায় এখনও যথেষ্ট বিকশিত নয়। প্রস্তাবিত এই বাণিজ্য সম্প্রসারণকে উভয় দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা জোরদার করার জন্য পারস্পরিকভাবে লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই নয়া অংশীদারিত্বের মূল স্তম্ভ হিসেবে জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কানাডা বিশ্বের প্রায় ৬ শতাংশ তেল উৎপাদন করলেও, ভারতের মোট তেল আমদানির এক শতাংশেরও কম আসে কানাডা থেকে। হজসনের মতে, বৈশ্বিক গড়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাণিজ্য (India Canada Trade) প্রবাহ পুনর্বিন্যাস করা গেলে ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে এবং একই সঙ্গে (Uranium Supply Deal) কানাডার রফতানি বাজারের বৈচিত্র্যও বাড়বে। বর্তমানে ভারত কানাডা থেকে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) আমদানি করে।

     

  • Nepal: দেশে ফিরলেন প্রাক্তন রাজা, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ফের উদ্বেল নেপাল

    Nepal: দেশে ফিরলেন প্রাক্তন রাজা, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ফের উদ্বেল নেপাল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে ফের সরব নেপাল (Nepal)। শুক্রবার নেপালের প্রাক্তন রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে রাজধানীর বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাঁর সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হন (Restoration Of Monarchy)। তাঁরা রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান। ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়, যদিও কাঠমান্ডু জেলা প্রশাসন কার্যালয় বিমানবন্দর এলাকা ও আশপাশে পাঁচজনের বেশি লোকের সমাবেশ নিষিদ্ধ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।

    নেপালে ফিরলেন জ্ঞানেন্দ্র (Nepal)

    জ্ঞানেন্দ্রকে তাঁর গাড়ির সানরুফ দিয়ে উচ্ছ্বসিত জনতার উদ্দেশে হাত নাড়তে দেখা যায়। এই সময় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম পরিহিত শত শত পুলিশ সদস্য বিমানবন্দরের প্রধান প্রবেশপথে ভিড় করা সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছিলেন। “আমাদের দেশকে রক্ষা করতে রাজা জ্ঞানেন্দ্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।” এমন স্লোগান দেন রাজতন্ত্রপন্থীরা। প্রাক্তন রাজা কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে অবতরণ করলে তাঁরা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে স্লোগান দেন। প্রবীণ নেতা কমল থাপার নেতৃত্বাধীন রাজতন্ত্রপন্থী রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টির কর্মী-সমর্থকরা এবং নবরাজ সুবেদী ও চিকিৎসক দুর্গা প্রসাইয়ের নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন রাজভক্ত সংগঠনের সদস্যরা শুক্রবার সকাল থেকেই বিমানবন্দর এলাকায় জড়ো হন। বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রসাই জানান, তাঁরা ৫ মার্চের সাধারণ নির্বাচনের আগেই রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চান। তাঁর দাবি, দেশে হিন্দু রাজা পুনর্বহাল করার দাবি নিষ্পত্তি না হলে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয় (Nepal)।

    রাজপ্রাসাদ ছাড়েন জ্ঞানেন্দ্র

    ২০০৬ সালে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে জ্ঞানেন্দ্রকে তাঁর কর্তৃত্ববাদী শাসন ছাড়তে বাধ্য করা হয়। দু’বছর পর সংসদ রাজতন্ত্র বিলুপ্তির পক্ষে ভোট দেয় এবং জ্ঞানেন্দ্র রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সাধারণ নাগরিকের (Restoration Of Monarchy) জীবনযাপন শুরু করেন। ২০০৮ সালে নেপালে রাজতন্ত্র আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত হলেও গত বছর অর্থনৈতিক সঙ্কট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে পুনরায় রাজতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভ দেখা যায়। গত বছর বিমানবন্দরে একই ধরনের এক সমাবেশে আনুমানিক ১০ হাজার সমর্থক অংশ নিয়েছিলেন। আর একটি রাজতন্ত্রপন্থী সমাবেশ সহিংসতার রূপ নিলে দু’জন নিহত এবং অনেকে আহত হন।

    রাজনৈতিক অচলাবস্থা

    জ্ঞানেন্দ্র নিজে রাজতন্ত্র পুনর্বহালের আহ্বানে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে আগামী মাসে গুরুত্বপূর্ণ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সব বিক্ষোভ হচ্ছে। সর্বশেষ নির্বাচনে জ্ঞানেন্দ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলি প্রায় ৫ শতাংশ আসনে জয়ী হয়েছিল। এদিকে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী সুশীলা কার্কি শুক্রবার জনগণকে দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে আসন্ন সাধারণ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আগামী মাসের নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সফলভাবে আয়োজনের জন্য সমাজের সব শ্রেণির সহযোগিতা প্রয়োজন।” টাপলেজুং জেলার সদর দফতর পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন দেশের নতুন পর্যায়ে উত্তরণের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা (Restoration Of Monarchy) থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Nepal)।” প্রসঙ্গত, নেপালে চলতি বছরের ৫ মার্চ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

  • Vickash Ramkissoon: শিকড়ের টান! গায়ানার পার্লামেন্টে হিন্দিতে আগুন ভাষণ সাংসদের, সমাজ মাধ্যমে প্রশংসার বন্যা

    Vickash Ramkissoon: শিকড়ের টান! গায়ানার পার্লামেন্টে হিন্দিতে আগুন ভাষণ সাংসদের, সমাজ মাধ্যমে প্রশংসার বন্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শিকড়ের টান! গায়ানার পার্লামেন্টে (Guyana Parliament) হিন্দিতে আগুন ভাষণ সাংসদের। সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার বন্যা। গায়ানার জাতীয় সংসদে এক নজিরবিহীন ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী বিকাশ রামকিসুন (Vickash Ramkissoon) বিরোধী দলের এক সদস্যের হিন্দি ভাষা সংক্রান্ত কটাক্ষের বিপরীতে অনর্গল হিন্দিতে জবাব দিয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। গায়ানার মতো দেশের সংসদে শুদ্ধ হিন্দিতে এমন প্রত্যয়দীপ্ত ভাষণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।

    সরাসরি হিন্দিতে বিতর্ক করব

    ঘটনাটি ঘটে যখন বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্য দাবি করেন, রামকিসুন হিন্দি ভাষার একটি শব্দও বোঝেন না। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে রামকিসুন (Vickash Ramkissoon) হিন্দিতেই পাল্টাবান ছুড়ে দেন। তিনি সরাসরি বিরোধী সদস্যের নাম উল্লেখ করে তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “আমি এই মুহূর্তেই তাঁকে চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, তিনি যে কোনও স্থান বা যে কোনও ইস্যু ঠিক করুন, আমি সেখানে গিয়ে কোনও কাগজ বা নোট ছাড়াই সরাসরি হিন্দিতে বিতর্ক করব।” একই ভাবে বিকাশ রামকিসুন তাঁর শান্ত অথচ দৃঢ় ভাষায় আরও বলেন, “হিন্দি দক্ষতার কোনও প্রমাণের প্রয়োজন নেই। আমাদের দল সমমর্যাদায় বিশ্বাসী এবং তিনি সেই ঐতিহ্যই অনুসরণ করেন।”

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ বিকাশ রামকিসুন

    উল্লেখ্য গায়ানায় বিশাল সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। যাদের পূর্বপুরুষরা কয়েক দশক আগে ভারত থেকে সেখানে গিয়ে বসতি স্থাপন করেছিলেন। যদিও ইংরেজি সেদেশের সরকারি ভাষা, তবুও ইন্দো-গায়ানিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দি আজও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষা।

    বিকাশ রামকিসুন (Vickash Ramkissoon) বর্তমানে গায়ানার কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৫ সাল থেকে রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি ব্যাঙ্ক এবং আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা লাভ করেছেন। এই ঘটনার ভিডিওটি গায়ানার ভারতীয় হাই কমিশনের পক্ষ থেকেও শেয়ার করা হয়েছে এবং এটি বর্তমানে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভাইরাল হয়েছে।

LinkedIn
Share