Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    Dipu Chandra Das: মিথ্যে অভিযোগে খুন বাংলাদেশের দীপুকে, কী বলছে তাঁর পরিবার?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তিনি পেশায় ছিলেন ঢাকার (Bangladesh) পাইওনিয়ার নিট কম্পোজিট ফ্যাক্টরির এক অতি সাধারণ কর্মী। ধর্মে হিন্দু। বছর পঁচিশের এই দীপু চন্দ্র দাসের (Dipu Chandra Das) রোজগারেই চলত দাসেদের সংসার। বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে খুন করে দীপুকে। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বাংলাদেশিদের একাংশ। বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দের ঝড়।

    তুমুল উত্তেজনা (Dipu Chandra Das)

    বাংলাদেশের একটি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতি, স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, ধর্ম অবমাননার অভিযোগটি কারখানার ভেতরে এবং আশপাশের এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যার জেরে ছড়ায় তুমুল উত্তেজনা। পরে ক্ষুব্ধ জনতা দীপুকে আক্রমণ করে। মারধর করে নির্মমভাবে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। ভালুকা মডেল থানার তদন্তকারী আধিকারিক আবদুল মালেক জানান, হত্যার পর জনতা ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের পাশে দীপুর মরদেহ ফেলে দিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কের দু’পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুক্রবারের ঘটনার নিন্দে করেছে মহম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “নতুন বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের হিংসার কোনও জায়গা নেই। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”

    রবিলাল দাসের বক্তব্য

    দীপুর বাবা রবিলাল দাস জানান, তাঁর পরিবার প্রথম ঘটনাটির কথা জানতে পারেন (Bangladesh) সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। তিনি বলেন, “আমরা ফেসবুকে দেখেছিলাম। ফেসবুক থেকেই নানা কথা কানে আসতে শুরু করে। তারপর আরও মানুষ বলতে থাকে। শেষে একজন এসে আমায় বলল, আমার ভাইকে মারধর করা হয়েছে, ভীষণভাবে মারা হয়েছে (Dipu Chandra Das)। তারপর প্রায় আধ ঘণ্টা পরে আমার কাকা এসে জানাল যে ওরা আমার ছেলেকে নিয়ে গিয়েছে। তাকে একটি গাছে বেঁধে রেখেছে।” তিনি জানান, এরপর সেই জনতা তাঁর ছেলের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। তার পোড়া দেহ বাইরে ফেলে রাখা হয়েছিল। পোড়া ধড় আর মাথা একসঙ্গে বেঁধে বাইরে রাখা হয়েছিল। দৃশ্যটা যে কী নৃশংস, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। কথাগুলি বলেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেললেন সদ্য সন্তান হারানো বাবা। পরে নিজেকে খানিক সামলে নিয়ে রবিলাল জানান, এখনও পর্যন্ত তাঁরা সরকারের পক্ষ থেকে কোনও আশ্বাস পাননি। তিনি বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কোনওরকম আশ্বাস দেয়নি। কেউ কিছুই বলেওনি (Dipu Chandra Das)।”

    গ্রেফতার ৭

    এদিকে, দীপুকে নৃশংসভাবে মারধর ও খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে র‍্যাব (র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) গ্রেফতার করেছে (Bangladesh) সাতজনকে। এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জায়গায় র‍্যাব-১৪ পরিচালিত একাধিক অভিযানের পর এদের গ্রেফতার করা হয়। ওই ঘটনায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা হল মহম্মদ লিমন সরকার, মহম্মদ তারেক হোসেন, মহম্মদ মানিক মিঞা, এরশাদ আলি, নিজুমউদ্দিন, মহম্মদ আলমগির হোসেন এবং মহম্মদ মিরাজ হোসেন আকন। বিশিষ্ট লেখিকা তথা মানবাধিকার কর্মী তসলিমা নাসরিনের অভিযোগ, দীপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যে ধর্ম অবমাননার মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল এবং পুলিশের হেফাজতে থাকার পরেও তাঁকে কার্যত ছেড়ে দিতে হয়েছিল।

    তসলিমার বক্তব্য

    এক্স হ্যান্ডেলে তসলিমা লেখেন, দীপু চন্দ্র দাস ছিলেন একজন দরিদ্র শ্রমিক। তাঁর এক মুসলিম সহকর্মী তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে দীপুকে শাস্তি দিতে চেয়ে প্রকাশ্যে তাঁর বিরুদ্ধে নবী সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য (Bangladesh) করার মিথ্যে অভিযোগ তোলে (Dipu Chandra Das)। যার জেরে শুরু হয় উন্মত্ত জনতার হিংসা। এতেই সব শেষ হয়ে যায়।” তাঁর অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা দীপুর ওপর হামলা চালিয়ে নির্মমভাবে তাঁকে মারধর করে। পরে পুলিশ দীপুকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং তাঁকে পুলিশি সুরক্ষায় রাখা হয়। দীপুর পরিবারের অবস্থার কথা তুলে ধরে তসলিমা জানান, দীপু ছিলেন তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। তিনি তাঁর প্রতিবন্ধী বাবা, মা, স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ করতেন।

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য

    অন্ধ্রপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী পবন কল্যাণ এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “ইতিহাস ত্যাগকে স্মরণ করে। কিন্তু আজ যে মাটি একদিন ভারতীয়দের রক্তের বিনিময়ে মুক্ত হয়েছিল, সেই মাটিই এখন নিরীহ সংখ্যালঘুদের রক্তে কলুষিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালে আমাদের ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী নিপীড়িতদের পাশে দাঁড়িয়েছিল।” তিনি বলেন, “আমাদের বীর সৈনিকরা শুধু একটি যুদ্ধ লড়েননি, তাঁরা আজকের বাংলাদেশ নামে পরিচিত ভূখণ্ডের লাখ লাখ মানুষের পরিচয় ও মর্যাদার জন্য লড়াই করেছিলেন। বাংলাদেশের জন্ম নিশ্চিত করতে প্রায় ৩,৯০০ জন ভারতীয় সেনা প্রাণ বলি দিয়েছিলেন (Bangladesh)। জখম হয়েছিলেন ১০ হাজারেরও বেশি সৈনিক। অন্যরা যাতে শান্তিতে বাঁচতে পারে, তাই আমরা আমাদের জীবন দিয়েছিলাম (Dipu Chandra Das)।”

  • Bangladesh: হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ইউনূসের বাংলাদেশে! ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ বিজেপির

    Bangladesh: হিন্দু যুবককে পিটিয়ে খুন করে গাছে ঝুলিয়ে আগুন ইউনূসের বাংলাদেশে! ভিডিও পোস্ট করে ক্ষোভ বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) হিন্দু যুবককে (Hindu Youth Brutally Murder) খুন করে কার্যত গাছে ঝুলিয়ে আগুন দিয়ে বীভৎস ভাবে পুড়িয়ে হত্যার ছবি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছে বিজেপি। ভারত বিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ওসমান হাদির মৃত্যুর পর রীতিমতো গোটা দেশে উত্তাল হয়ে উঠেছে। পদ্মাপারের সোনার বাংলা এখন রক্তাক্ত বাংলায় পরিণত হয়েছে। মনে হচ্ছে যেন দেশে এখন গৃহযুদ্ধ লেগেছে। ঢাকা থেকে হিংসার আগুন এখন জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। টার্গেট করা হচ্ছে সংখ্যালঘু হিন্দু এবং সাংবাদিকদের। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন কমিশন ফেবুয়ারিতে সাধারণ নির্বাচন ঘোষণা করেছে। তাই হাসিনাকে টার্গেট করে অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগী দলগুলি এবং কট্টর মৌলবাদী সংগঠনগুলি ভারত বিরোধিতার সুর চরম পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাইছে। তাই হিংসার ঘটনা বেলাগাম ভাবে পরিকল্পনা করে ঘটানো হচ্ছে। মহম্মদ ইউনূস আইন শৃঙ্খলাকে ইচ্ছে করেই বেলাগাম করেছেন, এমনটাই মনে করছে বিজেপি।

    কট্টর মৌলবাদের দাপাদাপি (Bangladesh)

    সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বাংলাদেশের (Bangladesh) একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ইসলাম ধর্মের অবমাননার অভিযোগে ময়মনসিংহে এক হিন্দু ধর্মের যুবককে পিটিয়ে প্রথমে নৃশংস ভাবে হত্যা (Hindu Youth Brutally Murder) করা হয়। এরপর মৃতদেহকে গাছের ডালে ঝুলিয়ে পাশবিক ভাবে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। এই নির্মম হত্যার পিছনে স্থানীয় উন্মত্ত জনতার প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভালুকা থানার ডিউটি অফিসার রিপন মিয়া। এই অমানবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবার উপস্থিত জনতা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও করেছে। ফলে কট্টরপন্থীদের সাফ বার্তা, এটা কোনও সাধারণ হত্যাকাণ্ড নয়, তার ভয়াবহতা এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে গোটা বিশ্বের কাছে বার্তা দেওয়ার গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন রাজনীতির একাংশের মানুষ। লক্ষ্য একটাই হিন্দুদের উপর হত্যালীলা যত বাড়বে কট্টর মৌলবাদ তত সুনিশ্চিত ভাবে নতুন নির্বাচিত সরকারে প্রতিষ্ঠা পাবে। আর তাই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড!

    মৃত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস

    এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি আইটি সেলের নেতা অমিত মালব্য। বাংলাদেশে শান্তিতে নোবেল পাওয়া মহম্মদ ইউনূসের রাজত্বে হিন্দু যুবকদের জীবন কতটা বিপজ্জনক, তা খুব স্পষ্ট করে বলেন। তিনি এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে বলেন, “মৃত যুবকের নাম দীপু চন্দ্র দাস (Hindu Youth Brutally Murder)। তিনি একটি পোশাকের করখানায় কাজ করতেন।” তবে এখন হাসিনা (Bangladesh) এবং ভারত বিরোধী উন্মত্ত জনতার রোষের শিকার শুধু একজন হিন্দু যুবকই হননি। কট্টর মৌলবাদীদের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বহু মুক্তমনা সাংবাদিকেরাও। প্রথম আলো, দ্যা ডেইলি স্টার সংবাদ মাধ্যমকের অফিস কার্যত তাণ্ডব চালিয়ে ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। কোনও ক্রমে পালিয়ে বেঁচেছেন মহিলা সাংবাদিকরা। পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াবহ রূপ নেয় যে শুক্রবারের সংস্করণও প্রকাশিত হয়নি। কার্যত সবটা মিলিয়ে বাংলাদেশ এখন এক বদ্ধভূমিতে পরিণত হয়েছে কট্টরপন্থীদের দৌরাত্মে।

    ভোটে জিততেই কি হত্যাকাণ্ড?

    বাংলাদেশে (Bangladesh) সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট একদিনে হবে এই কথা আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। ঠিক তার পরে পরেই দেশে চরম অশান্তির বাতাবরণের পরিস্থিতি। তবে মূল সূত্রপাত অবশ্য হয়েছে গত ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট। যেদিন কট্টরপন্থীরা গণভবন দখল করেছিল। হাসিনাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। মহম্মদ ইউনূস এই সব কিছুর মাস্টার মাইন্ডদের কথা বারবার প্রকাশ্যে বলেছেন। আইএসআই, সিএমএম এবং সিআইএ-এর প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। কট্টর ভারত বিরোধী নেতা হাদি নির্বাচনী প্রচারে নানা ভাবে উস্কানি দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ ছিল আওয়ামিলীগের। গত ১২ ডিসেম্বর ই-রিকশাতে চেপে যাচ্ছিলেন। আচমকা সেই সময় দুষ্কৃতীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতলে এরপর সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার মৃত্যু হয় তাঁর। এরপর নেমে পড়ে কট্টরপন্থীরা। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয় হামলা, অগ্নি সংযোগ এবং হত্যাকাণ্ড। শুক্রবারও তাণ্ডবের ধারা অব্যাহত ঢাকাজুড়ে।

    গৃহযুদ্ধ

    অপরদিকে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশে (Bangladesh) এখন গৃহযুদ্ধ চলছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চার পীঠস্থান ছায়ানটে দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছে। সব কিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছে। ‘নাড়ায়ে তাকবির আল্লা হো আকবর’ স্লোগান দিয়ে একের পর এক ভবনে ভাঙচুর চলছে।” যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস মুখে ‘প্রথম আলো’ বা ‘দ্যা ডেইলি স্টার’ সংবাদ মাধ্যমের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন। কিন্তু দেশের আইন শৃঙ্খলা যে তালানিতে ঠেকেছে তা দেখতে পাচ্ছেন না। মুখে তা নিয়ে অবশ্য কোনও রা নেই। একই ভাবে লাগাতার ভারতীয় উপ-হাইকমিশনারের অফিসে লাগাতার হামলার ঘটনায় সতর্ক বাণীও বলতে শোনা যায়নি। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত পদ্মার জল এখন কোন পথে গড়ায় তাই এখন দেখার।

  • Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    Bangladesh Burning: হাতিয়ার হাদি-হত্যা! ভারত-বিরোধী বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি ভোটের আগে মৌলবাদকে ইন্ধন? নেপথ্যে কারা?

    সুশান্ত দাস

     

    ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ফের অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ। এবার কট্টরপন্থী তরুণ নেতার মৃত্যুকে ঘিরে ভোটের মুখে ফের ভারতের বিরুদ্ধে উস্কানির আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলছে পদ্মাপারের দেশে। গত ১২ তারিখ খুব কাছ থেকে ভারত-বিরোধী বলে পরিচিত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে ঢাকায় গুলি করে পালায় দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার, সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান হাদি। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত উত্তাল হয়ে ওঠে।

    বৃহস্পতিবার রাতভর সে দেশের একাধিক জায়গায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ঢাকার কারওয়ান বাজারে দুই প্রথম সারির সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ ও ‘দ্য ডেলি স্টার’-এর দফতরে হামলা চালিয়ে আগুন লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ধানমণ্ডিতে ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের ধ্বংসস্তূপেই ফের চালানো হয় হামলা, ধরানো হয় আগুন। পরে ধানমন্ডিতেই প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী সন্‌জীদা খাতুন প্রতিষ্ঠিত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ছায়ানট’-এ ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। সেখান থেকে হারমোনিয়ান সহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র চুরি করে নিয়ে যায় বিক্ষোভকারীরা। রাজশাহীতে আওয়ামি লিগের পার্টি অফিসে বুলডোজার চালিয়ে ভেঙে ফেলার ঘটনাও সামনে এসেছে।

    এরই মধ্যে, কট্টরপন্থীরা এই হত্যার ঘটনার নেপথ্যে শেখ হাসিনা ও ভারতের হাত রয়েছে বলে দাবি করে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ করে তোলে। বাংলাদেশি কট্টরপন্থীদের দাবি, হাদিকে গুলি করা ফয়সল করিম নাকি ভারতে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও এর পরিপ্রেক্ষিতে কোনও প্রমাণ নেই। তবে এই সুযোগে ভারত বিদ্বেষের ঝড় উঠেছে সেই দেশে। ফলে, প্রশ্ন উঠছে, ভোটের আগে ভারত-বিরোধী হাওয়া তোলার জন্যই কি হাদিকে হত্যা করা হল? হাদি যে ভারত ও হাসিনা-বিরোধী ছিলেন, তা সর্বজনবিদিত। ফলে, তাঁকে হত্যা করে গোটা দায় শেখ হাসিনা-আওয়ামি লিগ ও ভারতের ওপর চাপিয়ে দিলে কার সবথেকে বেশি লাভবান হবে? তাহলে, হাদির হত্যা কি একটা বৃহৎ ষড়যন্ত্রের অংশ মাত্র? নাকি ভোটে প্রভাব ফেলতে এটা সুপরিকল্পিত জামাতি-কৌশল?

    ভারত-বিরোধী চক্রান্তের আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার হাতে গরম প্রমাণ মিলেছে বৃহস্পতিবার রাতেই। জুলাই মাসের মতোই, ফের ভারতকে টার্গেট করার অপচেষ্টায় ফের সক্রিয় কট্টরপন্থী আন্দোলনকারীরা। আর তাদের কথায় রাস্তায় নেমে পড়েছে এক শ্রেণি দিকভ্রান্ত, উন্মত্ত বাংলাদেশি জনতা। বিভিন্ন শহরে ভারতীয় উপ দূতাবাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন থেকে শুরু করে ইট-পাটকেল ছোড়া হচ্ছে। কোথাও ভারতকে নিশানা করে উস্কানিমূলক স্লোগান দিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাজশাহীতে ভারতীয় উপ দূতাবাসের অফিসে হামলার চেষ্টা করে ইসলামি কট্টরপন্থীরা। বিক্ষোভকারীরা ভারতীয় উপ দূতাবাসকে লক্ষ্য করে অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করে। হামলা চালানোর চেষ্টা করে। এমনকী প্রয়োজনে হাতে অস্ত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয়। বলে, ‘‘প্রয়োজনে আমরা রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেব।’’ চট্টগ্রামেও ভারতীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনারের বাসভবনের দিকে মিছিল করে যায় কট্টরপন্থীরা। সেখানেও হামলার চেষ্টাও করে তারা।

    শুধু এই নয়। গত কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশে ভারত-বিরোধী একটা প্রচার চালানো হচ্ছে। উস্কানিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে। ফের, ভারতের উত্তর-পূর্ব অংশকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় দূতাবাস ও উপ-দূতাবাসে হামলা চালানোর ডাক দেওয়া হচ্ছে। সব রাগ যেন গিয়ে পড়েছে ভারতের উপরেই। গত বুধবারই ঢাকার গুলশনে ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্দেশে মিছিল করে বিক্ষোভকারীরা। এই বিক্ষোভের ঠিক আগে ভারতীয় কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া হয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে দিল্লিতে তলব করে ভারত। দিল্লিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়াজ হামিদুল্লাহকে তলব করেছিল বিদেশমন্ত্রক। সেখানে ভারত-বিরোধী উস্কানিমূলক মন্তব্য নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। ইতিমধ্যেই ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীতে যে কারণে ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলি (আইভিএসি) বন্ধ করা হয়েছে। বাংলাদেশে পাঁচটি আইভিএসি সেন্টার রয়েছে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ছাড়াও রয়েছে চট্টগ্রাম এবং উত্তর-পূর্ব সিলেটে অবস্থিত। এদের মধ্যে ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে অবস্থিত আইভিএসি হল সমস্ত ভারতীয় ভিসা পরিষেবা পাওয়ার প্রধান কেন্দ্র।

    অর্থাৎ, ইঙ্গিত পরিষ্কার। ভারতের ক্ষতিসাধন। ভারতকে বদনাম। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে, এই গোটা ঘটনায় কারা সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে? ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবশ্যই পাকিস্তানের নাম এই তালিকার সবার ওপরে থাকবে। বিশেষ করে, হাসিনার পতনের পর, সেদেশে পাক সেনা ও আইএসআই-এর প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের কট্টরপন্থী, মৌলবাদী ও সন্ত্রাসীরাও বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, কট্টরপন্থী বাংলাদেশিদের আরও উস্কে দিয়ে, তাদের মনে ভারত-বিদ্বেষের বিষ ভরে দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। এর জন্য, যদি এক-দুটো প্রাণের বলি চড়াতে হয়, তাতেও আপত্তি নেই। বিশ্লেষকদের মতে, ৭১-এর হার কখনই মেনে নিতে পারেনি পাকিস্তান। বিশেষ করে বাংলাদেশের আলাদা হওয়াটা। তারা দীর্ঘদিন ধরেই এই রাগ পুষে রেখেছে। হাসিনা-পতনের পর, তাদের কাছে নতুন সুযোগ এসেছে অচিরে বাংলাদেশকে পুনরায় পূর্ব-পাকিস্তানে পরিণত করার (যাতে তারা অনেকটাই সফল)। হতে পারে হাদি-হত্যা এই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। তালিকায় পিছিয়ে নেই চিন-আমেরিকাও। তাদের উদ্দেশ্য ভারতের উন্নতি রোখা। ভারতের বিরুদ্ধে ‘ডিপ-স্টেট’ কার্যকলাপ করা। এক কথায় বাংলাদেশকে গাজায় পরিণত করে, ভারতকে এই দিকে আটকে রাখা, যাতে ভারত অর্থনৈতিকভাব সুপারপাওয়ার হওয়ার দিকে মনোনিবেশ না করতে পারে।

    এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তীব্র মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আশির দশক থেকেই বলে আসছি, বিনা যুদ্ধে ভারত দখলের চক্রান্ত চলছে। মৌলবাদ ও চরমপন্থা মানবসভ্যতার জন্য ক্যান্সারের মতো। এই ক্ষত থেকে মুক্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশে শুধু মুক্তমনা মানুষ নয়, যাঁরা ধর্মীয় আগ্রাসনে বিশ্বাস করেন না, কাউকে ‘কাফের’ বলে ডাকেন না, তাঁরাও আজ আক্রান্ত। এই ধর্মীয় বিভাজন আরও বাড়বে। ইউরোপেও তা বাড়ছে, কানাডার দিকেই তাকান। এই ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে ভারতবাসী রুখে দাঁড়াবে।”

    তবে, বিশ্লেষকদের আর একটি অংশের মতে, হাদি হত্যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপট বদলের চেষ্টাও হতে পারে। তাঁদের মতে, সামনে নির্বাচন। তাই দেশে মৌলবাদ-ঝড় তুলতে হাদিকে মারার ছক করা হতে পারে। এক্ষেত্রে, সবচেয়ে লাভবান হওয়ার কথা কট্টরপন্থী জামায়তে ইসলামির (বাংলাদেশে যারা জামাত বলেই পরিচিত)। এই বিশ্লেষকদের মতে, এতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে। একদিকে, হাদি-হত্যাকে হাতিয়ার করে ভারত-বিরোধী আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া দেশে। আর সেই আগুনের আঁচে আসন্ন ভোটে পদ্মাপারের দেশকে নিজেদের কায়েমে আনা যাবে। ফলে, জামাতের পক্ষে সব সম্ভব, বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

  • Bangladesh: কট্টরপন্থী হাদির মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, হামলা ভারতীয় উপদূতাবাসেও! আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে চুপ ইউনূস

    Bangladesh: কট্টরপন্থী হাদির মৃত্যুর পর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশ, হামলা ভারতীয় উপদূতাবাসেও! আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে চুপ ইউনূস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শান্তিতে নোবেল পাওয়া মহম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ (Bangladesh) এখন ফের অশান্ত। দেশের ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি (Osman Hadis Death) প্রায়াত। এই কট্টরপন্থী নেতা ভারত-বিরোধী হিসেবে বেশ কুখ্যত ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীর গুলিতে গুরুতর জখম হয়েছিলেন। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর পর পরই উত্তাল হয়ে উঠেছে গোটা বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকার শাহবাগ সহ জায়গায় জায়গায় অশান্তি এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে। দেশের একাধিক ভারতীয় উপদূতাবাসে হামলা করার অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে রাজপথে নামানো হয়েছে পুলিশ এবং সেনাবাহিনী। পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত বিরোধী জনতার রোষ সামাল দিতে আসরে নেমেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস। ওই দেশে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়ে ইউনূস বলেন, “দেশের জনগণকে আমি ধৈর্য ধরতে বলব। হাদির মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।”

    শৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খোলেননি ইউনূস (Bangladesh)

    হাদির মৃত্যর খবর জানাজানি হতেই গোটা বাংলাদেশে (Bangladesh) দাবানলের মতো আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে আক্রশের মূল টার্গেট ভারত। তাই ঢাকা সহ একাধিক শহরে বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উন্মত্ত জনতা আগুন লাগিয়ে দেয় প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম ‘প্রথম আলো’, ‘দ্য ডেইলি স্টার’-এর অফিসে। রোষ আবারও আছড়ে পড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৩২ নম্বর ধানমন্ডির বাড়িতে। সেখানেও আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হয়। দেশের আইন শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থায় নিরুপায় হয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস রাত ১১টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, “শনিবার দেশের সব সরকারি, সরকারের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি এবং বেসরকারি ভবন, বিদেশে বাংলাদেশ হাইকমিশনের অফিসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে। একই ভাবে শুক্রবার দেশের প্রত্যেক মসজিদ থেকে ওসমানের জন্য শোক প্রকাশ করা হবে। শনিবার দিনভর রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে। ওসমানের স্ত্রী এবং সন্তানদের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করবে।” তবে আইন শৃঙ্খলা নিয়ে মুখ খোলেননি ইউনূস। ভারত বিরোধী আন্দলন নিয়ে মুখ খোলেননি। শুক্রবার সন্ধ্যে বেলায় হাদির দেহ সিঙ্গাপুর থেকে বাংলাদেশে ফেরানো হবে। তবে দেহ ফেরার পর পরিস্থিতি আরও উত্তাল হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

    রাজশাহীতে মজিবুর রহমানের বাড়ি ভাঙচুর

    বিবিসির একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা গিয়েছে, হাদির মৃত্যুর পরেই উন্মত্ত জনতা ঢাকার (Bangladesh) সংবাদ মাধ্যমকে টার্গেট করে। প্রথম আলো, দ্য ডেলি স্টার –এর মতো সংবাদ মাধ্যমের অফিসে জোর করে আগুন লাগিয়ে দেয়। সেই সঙ্গে চালানো হয় বিরাট ভাঙচুর। অফিসের ভিতরে আটকে থাকা সাংবাদিকদের উদ্ধার করা হয়। অবশ্য আটকে থাকা সাংবাদিকরা জানান, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সব জেনে শুনেই চুপ ছিলেন। পুলিশ কোনও রকম ভাবেই সহযোগিতা করেনি। আইন শৃঙ্খলা এখন চরম অবনিতে পরিণত হয়েছে। অপর দিকে খুলনায় এক সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। আবার ময়মনসিংহ জেলার এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই ভাবে রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু মজিবুর রহমানের একটি বাড়ি এবং আওয়ামি লিগের দফতরে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। বিক্ষোভকারীদের আগ্রাসন থেকে রেহাই পায়নি দেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট। রাতভর ছায়ানট ভবনে তাণ্ডব ও লুটপাট চলেছে। আগুনও লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আছড়ে ভাঙা হয়েছে হারমোনিয়াম।

    বেশির ভাগ বিক্ষোভ দেখানো হয় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের বিরুদ্ধে। ভারতের বিরোধিতা করে দেওয়া হয় ভারত-বিরোধী নানা হিংসাত্মক স্লোগান। কট্টরপন্থীরা বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রামে ভারতীয় ভারতীয় সহকারী-হাইকমিশনারের বাসভবন  লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট, পাটকেল। রাতেই দূতাবাসের সামনে উন্মত্ত ছাত্র-যুবরা অবস্থান করে। দিকে দিকে ফের ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে একদল। উল্লেখ্য গত ১৬ ডিসেম্বর ছিল বিজয় দিবস। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এই বিজয় দিবসকে বিজয় দিবস হিসেবে মানতে নারাজ। এনসিপির এক নেতা প্রকাশ্যে উত্তর-পূর্ব ভারতের ৭ রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। ভারতও এই নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ভোটের আগে ভারত-বিরোধী আবহ তৈরি করতে কট্টরপন্থীরা ব্যাপক প্রচেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে এই অশান্তির দিকে নজর রাখছে ভারত।

    নির্বাচনকে ঘিরে হিংসা-হানাহানি

    ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে হাসিনাকে চক্রান্ত করে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে বিতারিত করা হয়। এরপর থেকেই ক্ষমতা চলে যায় কট্টর মৌলবাদী এবং জেহাদি সংগঠনের হাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের মাথায় বসেন মহম্মদ ইউনূস। পাকিস্তানের আইএসআই এবং সেনাবাহিনীর উচ্চপদ কর্তাদের শুরু হয় অবাদ যাতায়েত। ১৯৭১ সালের পর থেকে যে রাস্তায় বাংলাদেশ হাটেনি সেই রাস্তায় শুরু হয় নতুন যাত্রা। ঢাকা-ইসলামাবাদ, করাচি- চট্টগ্রামের মধ্যে শুরু হয় আকাশপথ এবং জলপথের মাধ্যমে যাতায়েত। পাল্লা দিয়ে বাড়তে শুরু করে বাংলাদেশে রাজনৈতিক হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট। সবচেয়ে বেশি আক্রমণের শিকার হয় ওইদেশের সংখ্যা লঘু হিন্দুরা। দেশের আইন শৃঙ্খলা এখন চরম অবনতিতে পরিণত হয়েছে। গত দেড় বছরের বেশি সময়ে মৌলবাদী কট্টর সংগঠনগুলি আরও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন। তাই নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ভোট এবং প্রচারকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পারদ তত বেশি চড়ছে।

  • PM Modi: প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ওমানের সর্বোচ্চ সম্মান দিলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক

    PM Modi: প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ওমানের সর্বোচ্চ সম্মান দিলেন সুলতান হাইথাম বিন তারিক

    মাধ্য্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-ওমান (Oman) দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে বৃহস্পতিবার সুলতান হাইথাম বিন তারিক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) ওমানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান অর্ডার অফ ওমানে ভূষিত করলেন। জর্ডান এবং ইথিওপিয়া সহ তিন দেশে সফরের শেষ পর্যায়ে মোদি বৃহস্পতিবার ওমান পৌঁছেছেন। সেখানে ওমানের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বাদ্য সঙ্গীত পরিবেশন করে বরণ করা হয় তাঁকে। সেই সঙ্গে দেওয়া হয় উষ্ণ অভ্যর্থনা এবং গার্ড অফ অনার। আন্তর্জাতিক ভাবে বিভিন্ন দেশের সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত পুরষ্কারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ২৯। ওমানে এদিন সন্ধ্যায় ভারতীয়দের একটি সভায় বিশেষ ভাষণও রাখেন।

    কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী পূরণ (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদির (PM Modi) ২৯টিরও বেশি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরষ্কারের তালিকার সর্বশেষ সংযোজন হয়েছে ওমানের (Oman) এই পুরস্কার। এই সূচিতে রয়েছে ইথিওপিয়ার গ্রেট অনার নিশান অফ ইথিওপিয়া এবং কুয়েতের অর্ডার অফ মুবারক আল-কবীরের মতো সাম্প্রতিক সম্মাননা। মোদির মাস্কাট সফর ছিল বিদেশনীতির জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ সফর। ভারত ও ওমানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী পূরণ হয়ছে। দুই দেশ উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা এবং সংস্কৃতিতে কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর এবং সুরক্ষিত করার দিকে বিশেষ জোর দিয়েছে। তবে মুসলিম বিশ্বে ভারতের কাছে ওমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এই মুহূর্তে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ।

    ১৪০ কোটি দেশবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা

    মঙ্গলবার, ভারত-ইথিওপিয়া অংশীদারিত্বকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে সেই দেশ সফরে গিয়েছিলেন মোদি। ব্যতিক্রমী অবদান এবং একজন বিশ্বব্যাপী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ, আদ্দিস আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার, “ইথিওপিয়ার মহান সম্মান নিশান” প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, “বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করা সম্মানের।” প্রধানমন্ত্রী এই পুরস্কারটি ভারতীয় এবং ইথিওপীয় উভয়কেই উৎসর্গ করেছেন, যারা বছরের পর বছর ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বয়ে নিয়ে চলেছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপণ করেছেন। ১৪০ কোটি ভারতীয়ের পক্ষ থেকে মোদি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।

  • Bangladesh: নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ঢাকার পর রাজশাহী ও খুলনার ভিসাকেন্দ্রও বন্ধ করল ভারত

    Bangladesh: নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ঢাকার পর রাজশাহী ও খুলনার ভিসাকেন্দ্রও বন্ধ করল ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বুধবার ঢাকার ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও বৃহস্পতিবার খোলা হয়েছে ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (Visa Application Centre) বা আইভ্যাক। তবে বাংলাদেশের (Bangladesh) অন্য দুই শহর রাজশাহী এবং খুলনার ভিসাকেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় দূতাবাসের তরফে বলা হয়েছে যে, সমস্ত ভিসার আবেদন জমা পড়েছে এবং স্লট বুক করা হয়েছে তাঁদের নতুন তারিখ এবং সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জনতার রোষ ভারত বিরোধিতায় (Bangladesh)

    জানা গিয়েছে, বুধবার দুপুর ২টোয় ঢাকায় ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রের (Visa Application Centre) কাজকর্ম সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়েই আবার ভিসা চালু করা হছে। তবে নিরাপত্তার কারণে ঢাকার অন্য ২ শহরে ভারতীয় ভিসাকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের (Bangladesh) নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে এ নিয়ে তলব করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। ঠিক এই তলবের দুই ঘণ্টা আগেই ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত স্বয়ং ঘোষণা করেছিলেন ভারতের হাইকমিশনার। বাংলাদেশে নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে আগেই। হাসিনার জিগির তুলে কোটাবিরোধী নেতারা একাধিক সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে সুর তুলে ‘মার্চ টু ইন্ডিয়ান হাইকমিশন’ অভিযান চালায়। উত্তেজিত জনতার মুখে ছিল ভারত-বিরোধিতা। আর তাই ভিসার কাজ কর্ম বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তার অভাব

    উল্লেখ্য সম্প্রতি বাংলাদেশে (Bangladesh) জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা মন্তব্য করেন। তিনি ভারতের উত্তরপূর্ব অঞ্চলের সাতটি রাজ্যকে বিচ্ছিন্ন করার চরম হুঁশিয়ারি দেন। পূর্ব এবং উত্তর পূর্ব সীমান্তে যেসব জঙ্গি সংগঠন কাজ করছে তাঁদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করবেন। তাঁদের একটাই দাবি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর অনুগামীদেরকে বাংলাদেশে ফেরাতে হবে। রীতিমতো ভারতীয় দূতাবাসের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক ভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এরপর বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম রিয়াজ হামিদুলকে তলব করে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি হবে জাতীয় নির্বাচন এবং জুলাই সনদের গণভোট। নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই এখন উত্তাল বাংলাদেশ।

  • India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    India Oman Relation: ব্রিটেনের পরে এবার ভারত-ওমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, ‘‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’’ বললেন প্রধানমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সলতে পাকানোর কাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের নভেম্বরে। শেষমেশ স্বাক্ষরিত হল ভারত-ওমান মুক্ত (India Oman Relation) বাণিজ্য চুক্তি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতে স্বাক্ষরিত হয় এই চুক্তি (FTA)। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত ও ওমানের যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি ভারতের শিল্পজাত রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেবে। গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ওমানে আমদানি শুল্ক কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত রয়েছে। ওই প্রতিবেদনেই উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে ভারতের প্রায় ৮০ শতাংশ পণ্য গড়ে প্রায় ৫ শতাংশ শুল্ক হারে ওমানে ঢোকে। তবে বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ব্যাপকভাবে ভিন্ন, এবং কিছু নির্দিষ্ট পণ্য যেমন নির্দিষ্ট ধরনের মাংস, মদ ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর খুব বেশি শুল্ক আরোপ করা হয়।

    জিটিআরআইয়ের বক্তব্য (India Oman Relation)

    জিটিআরআই জানিয়েছে, সিইপিএ-এর আওতায় এই শুল্কগুলি বাতিল বা হ্রাস করা হলে ওমানের বাজারে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা এক লপ্তে অনেকখানি বেড়ে যাবে। প্রতিবেদনে এও বলা হয়েছে, “সিইপিএ-এর আওতায় শুল্ক বিলোপের ফলে ভারতীয় শিল্পজাত রফতানির প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান উন্নত হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে হলে ওমানের তুলনামূলকভাবে ছোট বাজারে পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও বৈচিত্র্যকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।” বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “ভারত ও ওমানের মধ্যে যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (CEPA) আগামী কয়েক দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে (India Oman Relation) রূপ দেবে।” তিনি একে উভয় দেশের “সম্মিলিত ভবিষ্যতের নকশা” বলে অভিহিত করেন।

    ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলন

    মাস্কাটে অনুষ্ঠিত ভারত–ওমান বাণিজ্যিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে থাকা সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং ভারতকে বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার জন্য স্টার্টআপগুলিকেও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আজ আমরা একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, যার প্রতিধ্বনি আগামী কয়েক দশক ধরে শোনা যাবে। যৌথ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (CEPA) একবিংশ শতাব্দীতে আমাদের মধ্যে নতুন আস্থা ও নতুন উদ্যম সঞ্চার করবে। এটি আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যতের একটি নকশা। এই চুক্তি আমাদের বাণিজ্য বাড়াবে, বিনিয়োগে নতুন আত্মবিশ্বাস জোগাবে এবং প্রতিটি খাতে নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে (FTA)।”

    প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “আজকের এই ভারত–ওমান শীর্ষ সম্মেলন ভারত–ওমান অংশীদারিত্বকে একটি নতুন দিক, নতুন গতি দেবে এবং একে নয়া উচ্চতায় পৌঁছতে সাহায্য করবে। এতে আপনাদের সকলেরই বড় ভূমিকা রয়েছে।” তিনি জানান, সাত বছর পরে ওমান সফরে এসেছেন তিনি। ব্যবসায়ী নেতাদের অংশগ্রহণ তাঁকে বিশেষভাবে উৎসাহিতও করছে। তিনটি দেশের সফরের অংশ হিসেবে ওমানে থাকাকালীন প্রধানমন্ত্রী তাঁর অর্থনৈতিক বক্তব্যকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেন এবং শতাব্দীপ্রাচীন সামুদ্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা ভারত–ওমান ব্যবসা ও বাণিজ্যের প্রতিনিধিত্ব করছেন। আপনারা সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী, যার ইতিহাস (India Oman Relation) শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে সমৃদ্ধ। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা একে অপরের সঙ্গে সামুদ্র পথে বাণিজ্য করে আসছেন।” তিনি বলেন, “মাণ্ডভি ও মাস্কাটের মধ্যবর্তী আরব সাগর এক শক্তিশালী সেতুতে পরিণত হয়েছে। আজ আমরা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সমুদ্রের ঢেউ রূপান্তর ঘটাতে পারে, ঋতু বদলাতে পারে, কিন্তু ভারত–ওমান বন্ধুত্ব প্রতি ঋতুতেই আরও দৃঢ় হয় এবং প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছয়।”

    কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই দেশের এই সম্পর্ক বিশ্বাস ও দীর্ঘস্থায়িত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। আমাদের সম্পর্ক বিশ্বাসের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, বন্ধুত্বের শক্তিতে এগিয়ে চলেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও গভীর হয়েছে। আজ আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্ণ হয়েছে (FTA)। এটি কেবল ৭০ বছর পূর্তির উদ্‌যাপন নয়, এটি এমন একটি মাইলফলক, যেখানে শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যকে সঙ্গে নিয়ে আমাদের একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।” প্রসঙ্গত, এর আগে ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে ব্রিটেনেরও (India Oman Relation)।

  • S Jaishankar: ভারত-ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী, জেরুজালেমে জয়শঙ্কর

    S Jaishankar: ভারত-ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী, জেরুজালেমে জয়শঙ্কর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আগেই ইজরায়েলের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর (Netanyahu) সঙ্গে টেলিফোনে কথাও হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর। মোদির পরে এবার ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S Jaishankar)। বার্তা দিলেন, দুই দেশের মধ্যে সংযোগ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার।

    নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক (S Jaishankar)

    মঙ্গলবার সন্ধেয় জেরুজালেমে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। সেখানেই আলোচনা হয় প্রযুক্তি, অর্থনীতি, দক্ষতা ও প্রতিভা, সংযোগ এবং নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার বিষয়ে। নেতানিয়াহু-জয়শঙ্করের এই বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আত্মবিশ্বাসী ভারতের প্রধানমন্ত্রী। আঞ্চলিক রাজনীতি এবং গাজা-সহ একাধিক বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে ভারত ও ইজরায়েলের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে (S Jaishankar)।

    বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সারের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক

    নেতানিয়াহুর পাশাপাশি দু’দিনের এই ইজরায়েল সফরে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী গিডিয়ন সারের সঙ্গেও আলাদাভাবে বৈঠক করেন জয়শঙ্কর। সেখানে অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় বন্ডি বিচে চলা ইহুদিদের হানুকা উৎসবে গুলি বর্ষণ এবং তার জেরে মৃত্যুর ঘটনার তীব্র নিন্দেও করেছেন জয়শঙ্কর। তিনি এও জানিয়ে দিয়েছেন, ভারত এবং ইজরায়েল দুই দেশই সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাস করে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক জোট হয়ে লড়াই করবে দুই দেশই। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে শীঘ্রই ভারতে আসতে পারেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। দু’দিনের এই ইজরায়েল সফরে জয়শঙ্কর দেখা করবেন ইজরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগর সঙ্গেও। উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগেই ভারত সফর করে গিয়েছেন (Netanyahu) রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

    জয়শঙ্করের বক্তব্য

    এদিনের বৈঠকের পর জয়শঙ্কর বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে কোনওভাবেই সমর্থন করে না ভারত। এ বিষয়ে ভারত ও ইজরায়েল দুই দেশই জিরো টলারেন্স নীতি মেনে চলে। বন্ডি বিচে হানুকা উৎসব চলাকালীন যে জঙ্গি হামলা হয়েছে, তা নিয়ে গভীরভাবে শোকাহত ভারত। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দে করি।” মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়ার বন্ডি বিচে যে নরসংহার চলেছে, তাতে মৃত্যু হয়েছে ১৫ জন ইহুদির। হামলা চালিয়েছিল দুই বন্দুকবাজ (S Jaishankar)। এদের একজন আবার জন্মসূত্রে ভারতীয়। তার নাম সাজিদ আক্রম। আর এক আততায়ী নবিদ আক্রম তারই ছেলে। সে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। বাবা-ছেলের এই কীর্তিতে অবাক হায়দরাবাদে থাকা সাজিদের আত্মীয়-পরিজনেরা।

    সাজিদ বৃত্তান্ত

    সাজিদ জন্মসূত্রে ভারতীয়। তবে কাজের খোঁজে বছর আঠাশ আগে সে গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ায়। তেলঙ্গনা পুলিশ জানিয়েছে, সাজিদ যখন ভারতে ছিল, তখন তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনও অভিযোগ ওঠেনি। ভারত থেকেই বিকম পাশ করার পর ১৯৯৮ সালে পড়ুয়া ভিসা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যায়  (Netanyahu)সে। সেখানেই বিয়ে করে পাকাপাকিভাবে থাকতে শুরু করে সাজিদ। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। এই ছেলেও ছিল ওই দুই বন্দুকবাজের তালিকায়। সূত্রের খবর, অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পর থেকে ভারতের সঙ্গে ক্রমশ যোগাযোগ কমতে থাকে সাজিদের। দূরত্ব তৈরি হয় তার পরিবারের সঙ্গেও। ২০১৭ সালে বাবার মৃত্যুর পর শেষকৃত্যেও যোগ দেয়নি সাজিদ কিংবা তার ছেলে-মেয়ে-স্ত্রী। ২০২২ সালে কোনও এক বিশেষ প্রয়োজনে একবার ভারতে এসেছিল সাজিদ। তার পর আর ভারতমুখো হয়নি সে কিংবা তার পরিবার। তবে সাজিদের কাছে ছিল ভারতীয় পাসপোর্ট। যদিও তার ছেলে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। সম্প্রতি পিতা-পুত্র ফিলিপিন্স ঘুরে এসেছিল বলেও খবর (S Jaishankar)।

    জয়শঙ্করের ইজরায়েল সফর

    এহেন আবহে জয়শঙ্করের ইজরায়েল সফর এবং পরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। বৈঠক শেষে ভারতের বিদেশমন্ত্রী জানান, তাঁর ইজরায়েল সফরে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রতি ভারতের যে সমর্থন রয়েছে, তাও আরও একবার জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এর আগেও একাধিকবার ইজরায়েল সফর করেছেন জয়শঙ্কর। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, “আমাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত বোঝাপড়ার ফলে আজ ইজরায়েলে ভারতীয় কর্মীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তাঁদের কিছু সমস্যা আছে, যেগুলির প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। আশা করি, আমরা আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এই দিকটিকেও আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।” বৃহত্তর কৌশলগত আলোচনা প্রসঙ্গেও সেই সময় জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “আমাদের কৌশলগত সহযোগিতার কথা বিবেচনা করলেও, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক (Netanyahu) বিষয়গুলিতে মতবিনিময় অত্যন্ত মূল্যবান। এমন কিছু বহুপাক্ষিক উদ্যোগ রয়েছে, যেগুলিতে আমাদের উভয় দেশেরই গভীর আগ্রহ রয়েছে (S Jaishankar)।”

  • PM Modi: “একেবারে ঘরের মতো অনুভব করছি”, ইথিওপিয়ার সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi: “একেবারে ঘরের মতো অনুভব করছি”, ইথিওপিয়ার সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “আজ আপনাদের সামনে দাঁড়াতে পারা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের মুহূর্ত। সিংহের দেশ ইথিওপিয়ায় এসে সত্যিই ভালো লাগছে। আমি এখানে নিজেকে একেবারে ঘরের মতো অনুভব করছি। কারণ ভারতে আমার নিজ রাজ্য গুজরাটও সিংহের আবাসভূমি।” এক নাগাড়ে কথাগুলি বলে চললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। বুধবার ইথিওপিয়ার সংসদের (Ethiopia Parliament) যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন। উল্লেখ্য যে, এটি ছিল বিশ্বের ১৮তম সংসদ যেখানে ভাষণ দিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এর পরেই তিনি বলেন, “আমি ইথিওপিয়ায় নিজেকে ঘরের মতো অনুভব করছি। কারণ ইথিওপিয়া এবং আমার নিজের রাজ্য গুজরাট দুই জায়গায়ই সিংহের আবাসভূমি।”

    ইথিওপিয়ার গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রশংসা (PM Modi)

    প্রধানমন্ত্রী মোদি ইথিওপিয়ার গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রশংসা করেন এবং ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে বন্ধুত্বের শুভেচ্ছা জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে ভারতের জাতীয় সংগীত ও ইথিওপিয়ার জাতীয় সঙ্গীত—উভয়ই মানুষকে তাদের মাতৃভূমি নিয়ে গর্ব করতে প্রাণিত করে। তিনি বলেন, “আপনাদের সংসদ, আপনাদের জনগণ এবং আপনাদের গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের পক্ষ থেকে আমি বন্ধুত্ব, সদ্ভাবনা ও ভ্রাতৃত্বের শুভেচ্ছা নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’ এবং ইথিওপিয়ার জাতীয় সঙ্গীত—উভয়েই আমাদের ভূমিকে ‘মা’ হিসেবে উল্লেখ করে। এগুলি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতি গর্ববোধ জাগায় এবং মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে প্রাণিত করে।”

    ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান

    এদিন ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘দ্য গ্রেট অনার নিশান অফ ইথিওপিয়া’ গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমি বিনীতভাবে এবং করজোড়ে ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে এই সম্মান গ্রহণ করছি।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “গতকাল আমিও ‘গ্রেট অনার নিশান অব ইথিওপিয়া’ গ্রহণ করে সম্মানিত হয়েছি। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে করজোড়ে এবং বিনয়ের সঙ্গে আমি এই পুরস্কার গ্রহণ করছি (PM Modi)।” ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই ২৮তম আন্তর্জাতিক সম্মান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি বিশ্বের আস্থার প্রতিফলন এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান মর্যাদাকে তুলে (Ethiopia Parliament) ধরে। একই সঙ্গে এটি ভারত ও ইথিওপিয়ার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক শক্তিশালী প্রতীক।

    বিদেশি বিনিয়োগকারী

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইথিওপিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভারতীয় সংস্থাগুলি অন্যতম বৃহৎ। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ভারত ও ইথিওপিয়া—উভয়েরই একে অপরের কাছ থেকে শেখার এবং একে অপরকে দেওয়ার মতো অনেক কিছু রয়েছে।” তিনি বলেন, “ইথিওপিয়ায় ভারতীয় সংস্থাগুলি অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগকারী। তারা বিভিন্ন খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করেছে এবং ৭৫ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। আমরা ভারত–ইথিওপিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারত ও ইথিওপিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বলেন, দুই দেশের বন্ধন কেবল বাণিজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ইথিওপিয়ার (PM Modi) মুক্তি আন্দোলনে ভারতীয় সৈন্যদের অংশগ্রহণের কথাও তুলে ধরেন।

    মনন ও চেতনায়ও একে অপরের সঙ্গে উষ্ণতা ভাগ করে নেয়

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত ও ইথিওপিয়া শুধু জলবায়ুতেই নয়, মনন ও চেতনায়ও একে অপরের সঙ্গে উষ্ণতা ভাগ করে নেয়। প্রায় ২ হাজার বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা বিশাল সমুদ্র পেরিয়ে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছিলেন। ভারত মহাসাগর পেরিয়ে ব্যবসায়ীরা মশলা ও সোনা নিয়ে যাত্রা করতেন, কিন্তু তাঁরা শুধু পণ্য নয়—ভাবনা ও জীবনযাপনের ধরণও আদান-প্রদান করতেন। আদ্দিস ও ধোলেরা মতো বন্দরগুলি কেবল বাণিজ্যকেন্দ্রই ছিল না, বরং (Ethiopia Parliament) সভ্যতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল। আধুনিক যুগে আমাদের সম্পর্ক এক নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যখন ১৯৪১ সালে ইথিওপিয়ার মুক্তির সংগ্রামে ভারতীয় সৈন্যরা ইথিওপিয়ানদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিলেন (PM Modi)।”

    প্রসঙ্গত, ভারত সফরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যখন এসেছিলেন, তখন প্রোটোকল ভেঙে তিনি নিজের গাড়িতেই তাঁকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এবার সেই রকমই ছবি দেখা গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে। জর্ডনের রাজার পর এদিন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলিও প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন ভারতে। তার পরেই (Ethiopia Parliament) মোদিকে নিজের গাড়িতে তুলে নিয়ে রওনা দেন হোটেলের উদ্দেশে (PM Modi)।

  • PM Modi: দুই দেশের বন্ধুত্বের মাইল ফলক! ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত নরেন্দ্র মোদি

    PM Modi: দুই দেশের বন্ধুত্বের মাইল ফলক! ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত নরেন্দ্র মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইথিওপিয়ার (Ethiopia) সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেন নরেন্দ্র মোদি। সেদেশের রাজধানী আদিস আবাবায় সর্বোচ্চ অসামরিক পুরস্কার পেলেন প্রধানমন্ত্রী (PM Modi)। এই সম্মানিত পুরস্কারের নাম “দ্য গ্রেট অনার নিশান অফ ইথিওপিয়া”। নরেন্দ্র মোদি হলেন প্রথম ভিনদেশি রাষ্ট্রনেতা যিনি এই পুরস্কার পেলেন। মোদির এই সম্মান প্রাপ্তিকে অভিনন্দন জানিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, “এটা হল ভারত এবং ইথিওপিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বের একটি মাইল ফলক সম্মান।”

    কূটনৈতিক সম্পর্কের সাফল্যের (PM Modi)

    ত্রিদেশীয় সফরের দ্বিতীয় পর্যায়ে ইথিওপিয়ায় রয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিজের দেশের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদান করেন ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি। ইথিওপিয়ার সম্মান ধরে এখনও পর্যন্ত ২৮টি দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের প্রাপক হলেন নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মানে ভূষিত হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, “ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ পুরস্কার হল ইথিওপিয়ার মহাসম্মানের প্রতীক। এই সম্মানে ভূষিত হওয়ার জন্য তাঁকে অনেক অনেক অভিন্দন জানাই। এই সম্মান নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) দ্বারা বিদেশি সম্মানের বিশ্ব নেতৃত্বের বিশেষ সম্মান। ভারতের আন্তর্জাতিক বিশ্বে লাগাতার কূটনৈতিক সম্পর্কের মাত্রাকে সাফল্যের বড় পদক্ষেপ হিসেবে ভাবা হয় এই পুরস্কারকে।”

    মোদির এই সম্মানকে বিশেষ ভাবে অভিনন্দন জানিয়েছেন, ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “ইথিওপিয়ার এই সম্মান ওই দেশের সবথেকে বড় পুরস্কার। বিশ্ব জুড়ে ভারতীয়দের কাছে এটি অত্যন্ত গর্বের বিষয়। গ্লোবাল সাউথের প্রতি এই সম্মান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্লোবাল সাউথের প্রতি অটল প্রতিশ্রুতি এবং বন্ধুত্বের প্রতীক। বিশ্ব মঞ্চে এই সম্মান অত্যন্ত গর্বের প্রতীক। এই সম্মান ১৪০ কোটি ভারতীয়দের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”

    প্রত্যেক দেশবাসীর উদ্দেশে এই সম্মান

    সম্মান (Ethiopia) পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, “এই মাত্র আমাকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং সমৃদ্ধশালী সভ্যতার দেশ থেকে এই সম্মান পাওয়া আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। সমস্ত ভারতীয়দের হয়ে আমি এই সম্মান গ্রহণ করছি। এই সম্মানের সঠিক উত্তরসূরী অসংখ্য ভারতীয়। আমি প্রত্যেক দেশবাসীর উদ্দেশে এই সম্মান অর্পণ করলাম। এই সম্মানের জন্য আমার বন্ধু প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলির প্রতিও আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। গত মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় আমরা জি২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন আপনি আমাকে অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। তাই আপনার আমন্ত্রণকে স্বীকার করেছি। প্রথম সুযোগেই এই সুযোগ আমি হাতছাড়া করতে পারিনি।”

LinkedIn
Share