Category: বিদেশ

Get updates on World News Headlines International News from the Madhyom news portal madhyom.com, West Bengal leading news portal Madhyom.com

  • PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    PM Modi in G-20 Summit: সন্ত্রাসবিরোধী বার্তা থেকে গ্লোবাল সাউথ, মোদি-ময় জি২০! আফ্রিকা থেকে ফিরলেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে খুলে গেল এক নতুন দিগন্ত! জোহানেসবার্গে জি২০ (PM Modi in G-20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেই বৈঠকে প্রযুক্তি ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন পার্টনারশিপের কথা ঘোষণা করলেন মোদি। বললেন, “তিন মহাদেশ, তিন মহাসাগর জুড়ে কার্যকর হবে এই পার্টনারশিপ।” আগামী প্রজন্মের জন্য এক উন্নততর ভবিষ্যৎ তৈরি করাই লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রী মোদির। তিন দিনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষে সোমবার সকালে নয়া দিল্লিতে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ত্রাসবিরোধী কড়া অবস্থান, জি২০ মঞ্চে উচ্চস্তরের বৈঠক এবং বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ-সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে ২৪টি বৈঠক—সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের উপস্থিতি আরও জোরালো করলেন তিনি।

    সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে বড় অগ্রগতি

    দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি২০ সম্মেলনের নেতাদের যৌথ ঘোষণায় সন্ত্রাসকে তার সব রূপে তীব্র নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সন্ত্রাসে অর্থসংস্থান প্রতিরোধে এফএটিএফ কাঠামোকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি দ্বৈত মানসিকতা ত্যাগ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাস দমনে ভারত–ইটালি যৌথভাবে কাজ করবে বলে স্থির হয়। মোদি বলেন, ভারতের সভ্যতার মূল মূল্যবোধ, বিশেষত ‘অখণ্ড মানবতাবাদ’-এর নীতি, ভবিষ্যতের পথ দেখাতে সক্ষম।

    নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা

    জি২০ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি মোট ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও আলোচনায় অংশ নেন। ১৪ বছর পর অনুষ্ঠিত ইবসা শীর্ষ সম্মেলনেও তিনি উপস্থিত ছিলেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ক নতুন অংশীদারিত্বের ঘোষণা করা হয়। এর লক্ষ্য হলো উদীয়মান ও গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা বৃদ্ধি, সবুজ শক্তিতে উদ্ভাবন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ শৃঙ্খলকে শক্তিশালী করা এবং জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানো। এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তিন দেশের কর্মকর্তারা আবার বৈঠকে বসবেন।

    জি২০-এর মঞ্চে প্রস্তাব

    মোদির প্রথম প্রস্তাব—বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ঐতিহ্যগত জ্ঞানের নথিভুক্তিকরণ ও সংরক্ষণের জন্য গ্লোবাল ট্রেডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি গঠন। তাঁর মতে, প্রাচিনকাল থেকে চলে আসা বেশ কিছু প্রচলিত জ্ঞান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যপী এই ধরণের জ্ঞানের সংরক্ষণ জরুরি বলে মনে করেন মোদি। বিশ্বের অগ্রগতির জন্য আফ্রিকার উন্নয়ন জরুরি বলে দাবি করেন মোদি। তিনি বলেন, এই কারণে ভারত বরাবর আফ্রিকার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাই তাঁর দ্বিতীয় প্রস্তাব—আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, যার মাধ্যমে আগামী দশ বছরে আফ্রিকার এক মিলিয়ন প্রশিক্ষক তৈরি করা উচিত এবং এভাবে আফ্রিকাবাসীর স্কিল উন্নয়ন সম্ভব। তৃতীয় প্রস্তাব হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসঙ্কট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। এজন্য জি-২০ সদস্যদের প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনের আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থ প্রস্তাবে মোদি বলেন, মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসবাদের যোগসূত্র ভেঙে ফেলা এখন বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই লক্ষ্যে জি-২০ দেশের একটি সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান করেন তিনি।

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতা

    রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারের প্রয়োজনীতার প্রশ্নটিও ফের তুলে দিয়েছেন মোদি। মোদি বুঝিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। মোদি বলেন, “বহুপাক্ষিকতায় যেন সমসাময়িক বিশ্বের বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্কারকে কেন্দ্রে রেখে বহুপাক্ষিকতার সংস্কার ঘটলে, তবেই মানবতার আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ হতে পারে।”

    ১৮ দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

    সফরে মোদি ১৮টি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন, যার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় উপস্থিত সকল জি৭ দেশও ছিল। তালিকায় ছিল—দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, দক্ষিণ কোরিয়া, ফ্রান্স, মালয়েশিয়া, অ্যাংগোলা, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, জার্মানি, ইথিওপিয়া, সিয়েরা লিওন, জ্যামাইকা, নেদারল্যান্ডস, ইতালি এবং জাপান। তিনি তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

    গ্লোবাল সাউথকে কেন্দ্র করে জোরাল বার্তা

    জোহানেসবার্গ জি২০ সম্মেলনে দিল্লি জি২০-এর ছাপ স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, বিশেষ করে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোর উন্নয়ন ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে। প্রথমবার আফ্রিকার মাটিতে জি২০ আয়োজন হওয়ায় তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তিনটি মূল সেশনে মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রস্তাব ও বার্তা তুলে ধরেন। মোদি বলেন,

    জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ

    জাপানের নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে এটি ছিল মোদির প্রথম সামনাসামনি বৈঠক। তাকাইচি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের আয়োজিত এআই সামিট–কে দৃঢ় সমর্থন জানান। দুই নেতা মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের (FOIP) প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সমগ্র সফর জুড়ে প্রধানমন্ত্রী মোদির বার্তা ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ঐক্য, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও গ্লোবাল সাউথের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব। প্রধানমন্ত্রীর এই পদক্ষেপ বিশ্বমঞ্চে ভারতের অবস্থান আরও মজবুত করেছে।

    প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো ভাইরাল

    ২১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সময়কালে একাধিক বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। এমনকি, অস্ট্রেলিয়া-কানাডার সঙ্গে ‘ত্রিশক্তি’ গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই সম্মেলনের শেষ দিনে রবিবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ‘জোহানেসবার্গে আয়োজিত জি-২০ শীর্ষ সম্মেলন এই বিশ্বের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে যথার্থ অবদান রাখবে। একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক সারলাম। আমি আশাবাদী, আমাদের এই আলোচনা ভারতের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে। পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার ও সেখানকার রাষ্ট্রপতিকেও অনেক ধন্যবাদ।’ শীর্ষ সম্মেলনে যোগদানের পর থেকে বৈঠক, আলাপ, হাত মেলানো, ভাষণ-সহ প্রতি মুহুর্তের ছবি-ভিডিয়ো নিজের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেই পোস্ট ঘিরেই দেখা গিয়েছে নেটিজেনদের উচ্ছ্বাস। মূলত দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের উচ্ছ্বাস। মোদীর বক্তব্য হোক বা বৈঠক, সবেতেই একটা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন তাঁরা।

  • IAF Tejas Crash: হৃদয়-বিদারক পোস্ট মার্কিন পাইলটের, দুবাইয়ে ভেঙে পড়া তেজসের উইং কমান্ডারকে শ্রদ্ধা রাশিয়ার

    IAF Tejas Crash: হৃদয়-বিদারক পোস্ট মার্কিন পাইলটের, দুবাইয়ে ভেঙে পড়া তেজসের উইং কমান্ডারকে শ্রদ্ধা রাশিয়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুবাইয়ের এয়ার শো-তে ভেঙে পড়েছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান তেজস (IAF Tejas Crash)। মৃত্যু হয়েছে পাইলট উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালের। কিন্তু তার পরেও সে দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়া হয়নি। এয়ার শো যেমন চলার তেমনই চলেছে। দর্শকদের উৎসাহেও ভাটা পড়েনি। দেখে অবাক মার্কিন বায়ুসেনাদল। প্রতিবাদে তারা সে দিনের চূড়ান্ত পারফরম্যান্স বাতিল করে দেয়। ভারতীয় পাইলটের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতিও দিয়েছেন মার্কিন বায়ুসেনার পাইলট মেজর টেলর হিয়েস্টার।

    বন্ধুর জন্য শ্রদ্ধা মার্কিন পাইলটের

    মেজর হিয়েস্টার জানিয়েছেন, এয়ার শো-র উদ্যোক্তাদের সিদ্ধান্তে তিনি হতবাক। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘ঘটনার এক থেকে দু’ঘণ্টা পরে আমি অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, হয়তো জায়গাটা খালি থাকবে। কিন্তু তা ছিল না!’’ এর পরে তিনি লেখেন, ‘‘দুবাই এয়ার শো-র শেষ দিনে যুদ্ধবিমান প্রদর্শনীর সময় দুর্ঘটনায় ভারতীয় বায়ুসেনার উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালের মৃত্যু হয়েছে। আমাদের দল সেই সময় নিজস্ব প্রদর্শনীর জন্য তৈরি হচ্ছিল। উদ্যোক্তারা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতীয় পাইলট, তাঁর সহকর্মী এবং পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের দল শেষ পারফরম্যান্স বাতিল করে দেয়।’’ মার্কিন পাইলটের অভিযোগ, এয়ার শো-র সঞ্চালক এমন একটা ঘটনার পরেও উৎসাহী ছিলেন। দর্শকদের মধ্যেও উত্তেজনায় খামতি ছিল না কোথাও। এমনকি, সমান উৎসাহে আয়োজক ও প্রদর্শনকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘সবসময় বলা হয়, ‘দ্য শো মাস্ট গো অন’। তা কখনও থেমে থাকবে না। তা ঠিকও। কিন্তু একটা কথা মনে রাখা দরকার, আপনি চলে যাওয়ার পরেও কেউ না কেউ একই কথা বলবেন।’’

    বিশেষ শ্রদ্ধা রাশিয়ারও

    ভারতীয় বায়ুসেনার বীর পাইলটের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করল রাশিয়ান নাইটস অ্যারোবেটিক টিম। দুবাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে রাশিয়ান নাইটসের একজন সদস্য বলেন, দুর্ঘটনার পরের মুহূর্তগুলি ‘বর্ণনা করা অসম্ভব।’ উইং কমান্ডার নমাংশ স্যালকে শ্রদ্ধা জানাতে এদিন আকাশে যুদ্ধবিমান নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী করে রুশ নাইটস অ্যারোবেটিক টিম। ভারতীয় বায়ুসেনাও এক্স হ্যান্ডলে নমাংশকে শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি পোস্ট করেছে। সেখানে তারা জানিয়েছে, নমাংশ ছিলেন একজন দক্ষ এবং সম্পূর্ণ পেশাদার পাইলট। তিনি তাঁর কাজ খুব নিষ্ঠা সহকারে পালন করে এসেছেন। সাহসের সঙ্গে তিনি দেশের সেবা করেছেন। ভালো ব্যবহার এবং ব্যক্তিত্বের জন্য তিনি সবার কাছ থেকে বিপুল সম্মান অর্জন করেছেন।

    তেজস দুর্ঘটনার সঠিক কারণের খোঁজে

    গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত দুবাইয়ে আয়োজিত হয়েছিল আন্তর্জাতিক এয়ার শো। যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১০০টির বেশি বায়ুসেনার বিমান অংশগ্রহণ করে। এই তালিকায় ছিল হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি তেজস যুদ্ধবিমানও। উইং কমান্ডারের শেষ বিদায়ের সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর কর্তা, তাঁর বন্ধু-সহকর্মীরা ও ভারতীয় দূতাবাসের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন। রবিবার দুবাই থেকে উড়িয়ে প্রথমে তাঁর দেহাবশেষ আনা হয় তামিলনাড়ুর সুলুর বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সেখানে তাঁর উদ্দেশে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন দক্ষিণ এয়ার কমান্ডের আধিকারিকেরা। তার পর দেহাবশেষ হিমাচল প্রদেশে নিয়ে যাওয়া হয়। দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে ভারতীয় বায়ুসেনার পক্ষ থেকে উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • Pakistan: ‘মিথ্যে দাবি করছে পাক সেনা’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বড় মন্তব্য ফ্রান্সের

    Pakistan: ‘মিথ্যে দাবি করছে পাক সেনা’, অপারেশন সিঁদুর নিয়ে বড় মন্তব্য ফ্রান্সের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফের ফুটো হয়ে গেল পাকিস্তানের (Pakistan) প্রচারের বেলুন। ভারতের সামরিক বাহিনীর চেয়ে নিজেদের বাহিনীকে শ্রেষ্ঠ দেখানোর মরিয়া চেষ্টায়, পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম ভুয়ো খবর ছড়াতে পিছপা হয়নি। তারা দাবি করেছিল, মে মাসের সংঘাতে (ভারতের তরফে চালানো অপারেশন সিঁদুরে) তাদের বিমান বাহিনী ভারতীয় বাহিনীর ওপর আধিপত্য দেখিয়েছে। কিন্তু ফরাসি নৌবাহিনী তাদের এই প্রতিবেদন মিথ্যে প্রমাণ করে দিয়েছে। যার জেরে ফের একবার বিশ্বের দরবারে চুনকালি পড়ল ইসলামাবাদের মুখে।

    ফরাসি নৌ-কমান্ডারকে ভুলভাবে উদ্ধৃত (Pakistan)

    বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে পাকিস্তানের জিও টিভির একটি প্রতিবেদন। সেখানে তারা ফরাসি নৌ-কমান্ডারকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করে দাবি করেছিল যে ‘অপারেশন সিঁদুরে’র সময় ভারতীয় রাফালে যুদ্ধবিমান ভূপতিত হয়েছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যান্ডিভিসিয়ু নৌবাহিনীর বিমানঘাঁটির কমান্ডার ক্যাপ্টেন ‘জ্যাক’ লনেকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল যে ওই পরিস্থিতি সামলানোর জন্য পাকিস্তানই নাকি কৃতিত্ব পাওয়ার যোগ্য। মিথ্যেয় ভরা সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল যে মন্তব্যটি করা হয়েছিল একটি আন্তর্জাতিক ইন্দো-প্যাসিফিক সম্মেলনে (French Navy)।

    মিথ্যে দাবি খণ্ডন

    কিন্তু এই দাবিগুলি সম্পূর্ণ তথ্য-অজ্ঞতার প্রমাণ হয়ে দাঁড়ায়। ফরাসি সামরিক বাহিনীর নৌ-শাখা ‘মারিন ন্যাশনালে’র পক্ষ থেকে দ্রুতই এসব মিথ্যে দাবি খণ্ডন করা হয় (Pakistan)। তারা স্ক্রিনশটটি শেয়ার করে একে ‘ফেকনিউজ’ বলে দাগিয়ে দিয়েছে। ফরাসি নৌবাহিনীর দাবি, “প্রবন্ধটিতে ব্যাপক ভ্রান্ত ও ভুল তথ্য রয়েছে।” তারা এও জানিয়েছে, ক্যাপ্টেন লোনে তাঁর নামে প্রকাশিত বিবৃতির জন্য কোনও ধরনের অনুমতি দেননি। ফরাসি নৌবাহিনী জানিয়েছে, “প্রবন্ধে যেমন দাবি করা হয়েছে, তার দায়িত্ব তেমন নয়। তাঁর দায়িত্ব সীমিত ফরাসি রাফাল মেরিন বিমানগুলি যে নৌবিমান ঘাঁটিতে অবস্থান করে, সেই জৈবিক নৌবিমান স্টেশনটির কমান্ড দেওয়ার মধ্যেই।”

    প্রসঙ্গত, পহেলগাঁওকাণ্ডের জেরে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর ছিল ভারতের বৃহৎ সামরিক অভিযান। ওই অভিযানে, সীমান্ত ও নিয়ন্ত্রণরেখার ওপারে শতাধিক জঙ্গিকে খতম করা হয়। ভারতীয় সেনা জানায় (French Navy), এই অভিযান সফল ছিল। পাকিস্তানি কমান্ডাররা অপ্রত্যাশিত ক্ষতির মুখে পড়ে যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়। ওই সময় বিমানযুদ্ধে পাকিস্তানের মোট ছ’টি বিমান বাহিনী ভূপতিত করেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় বিমানবাহিনী (Pakistan)।

  • Nigeria: নাইজেরিয়ার ক্যাথলিক স্কুলে ইসলামি জেহাদি জঙ্গিদের হামলা! অপহৃত ২২৭ ছাত্রী

    Nigeria: নাইজেরিয়ার ক্যাথলিক স্কুলে ইসলামি জেহাদি জঙ্গিদের হামলা! অপহৃত ২২৭ ছাত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নাইজেরিয়ার (Nigeria) উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের পাপিরিতে একদল জঙ্গি একটি ক্যাথলিক স্কুলে হামলা চালিয়ে প্রায় ২২৭ জন ছাত্রীকে অপহরণ (Students Kidnaap) করে নিয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র কয়েকদিন আগেই পার্শ্ববর্তী এলাকা কেব্বি অঞ্চলেও আর একটি সশস্ত্র জঙ্গিদের দল ২৫জন ছাত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। মাত্র অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে ফের একই ঘটনা ঘটায় রীতিমতো উদ্বেগে সাধারণ মানুষ। ঘটনায় নিন্দার ঝড় তামাম বিশ্বে।

    জেহাদি সংগঠন(Nigeria)

    নাইজেরিয়ার (Nigeria) খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন পাপিরির সেন্ট মেরি স্কুল কর্তৃপক্ষ অপহরণের ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়েছেন, জঙ্গিরা সরকারকে স্কুল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। দেশে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে আক্রমণ এবং অপহরণের (Students Kidnaap) ঘটনা অব্যাহত। সর্বশেষ খবরে জানা গিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষক এবং কর্মচারীকেও ছাত্রীদের সঙ্গে অপহরণ করা হয়েছে। যদিও খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন দাবি, এই অপহরণগুলির নেতৃত্ব দিচ্ছে ইসলামি ফুলানি জিহাদি গোষ্ঠীগুলিই। মূলত খ্রিস্টানদের ওপর ধর্মীয় নিপীড়ন বাড়িয়ে এভাবে ভয়ের বাতাবরণ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নাইজেরিয়ান সরকার অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। কারণ আগের অপহরণের ঘটনায়  যে ২৫ ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে অধিকাংশই ছিল মুসলিম সম্প্রদায়ের।

    ধর্মীয় সন্ত্রাস অব্যাহত

    নাইজেরিয়ান (Nigeria) সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অপহরণগুলি কোনও ধর্মীয় সন্ত্রাস বা মতাদর্শের জন্য নয়। মুক্তিপণ এবং ডাকাতির বিনিময়ে অর্থ নেওয়াটাই প্রধান লক্ষ্য অপরহণকারীদের। ২০১৪ সালে একইভাবে বোকো হারাম নামের এক সংগঠন চিবোক থেকে ২৭৬ জন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছিল। এদিন ঘটনার পরে সরকার দ্রুত ওই খ্রিস্টান স্কুলের সামনে মোতায়েন করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। অপহৃতদের খোঁজে শুরু হয়েছে তল্লাশিও। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্তও একজনকে উদ্ধার করতে পারেনি। ইউনেস্কো এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং এই অঞ্চলে জেহাদি গোষ্ঠীগুলির হুমকির কথা তুলে ধরে ধর্মীয় সন্ত্রাসের বিষয়ে মত প্রকাশ করেছে।

    ২০২৪ সালের মার্চ মাসে কাদুনা রাজ্যে একই ধরণের ঘটনায় ২০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী অপহৃত হয়েছিল। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রপতি বোলা টিনুবু দক্ষিণ আফ্রিকায় জি২০ শীর্ষ সম্মেলন সহ তাঁর নির্ধারিত ভ্রমণ স্থগিত করেছেন। ফুলানি মিলিশিয়া গোষ্ঠী এবং অপরাধী চক্রগুলিকে সাধারণত এই অপহরণের (Students Kidnaap) পিছনে থাকার বিষয়ে সন্দেহ করা হয়েছে। তবে ওই দেশে খ্রিস্টান কৃষক এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম ফুলানি মিলিশিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্ব নাইজেরিয়ায় একটি প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

  • G20 Summit: জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগের প্রস্তাব মোদীর

    G20 Summit: জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগের প্রস্তাব মোদীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি২০ (G20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগ প্রস্তাব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। এগুলির মধ্যে রয়েছে, গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি, আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম, ড্রাগ–টেরর নেক্সাস মোকাবিলা উদ্যোগ, ওপেন স্যাটেলাইট ডেটা পার্টনারশিপ এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সার্কুলারিটি ইনিশিয়েটিভ। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগগুলি সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে সহায়তা করবে।” তিনি এও জানান, ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধ ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করতে পারে।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (G20 Summit)

    জি২০ গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঐতিহ্যগত জ্ঞান যা সুদীর্ঘকাল ধরে টেকসই জীবনযাপনের পরীক্ষিত মডেল উপস্থাপন করে, তা নথিভুক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “ভারতের এই ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এটি আমাদের সম্মিলিত জ্ঞানকে আরও সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।” তিন দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দিয়েছেন জি২০ (G20 Summit) শীর্ষ সম্মেলনে। সেখানেই তিনি বলেন, “আফ্রিকার উন্নয়ন বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারত সব সময়ই আফ্রিকার পাশে থেকেছে। আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভে একটি ট্রেইন–দ্য–ট্রেইনার মডেল গ্রহণ করা হবে, যার লক্ষ্য আগামী দশকে আফ্রিকায় এক মিলিয়ন প্রশিক্ষিত ও শংসাপত্রপ্রাপ্ত ট্রেইনার তৈরি (PM Modi) করা।”

    যৌথ লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যৌথ লক্ষ্য হল আগামী দশ বছরে আফ্রিকায় দশ লক্ষ প্রশিক্ষণ-প্রাপ্ত প্রশিক্ষক তৈরি করা। এই প্রশিক্ষকরাই পরে লাখ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেবেন। এই উদ্যোগ একটি ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এটি স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।”  জি২০ গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনেরও প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার সময় শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দিতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে আমরা এক সঙ্গে কাজ করলে আরও শক্তিশালী হই। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জি২০ সদস্য দেশের প্রশিক্ষিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করা, যারা যে কোনও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সঙ্কট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত মোতায়েন হতে প্রস্তুত থাকবে।” মাদক পাচার রোধ এবং ফেন্টানিলের মতো বিপজ্জনক পদার্থের বিস্তার বন্ধ করতে ড্রাগ-টেরর নেক্সাস মোকাবিলায় একটি জি-২০ (G20 Summit) উদ্যোগ গঠনেরও পরামর্শ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।

    মোদির পরামর্শ

    তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের আওতায় আমরা অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন সরঞ্জামকে একত্র করতে পারি। তবেই মাদক-সন্ত্রাস অর্থনীতিকে দুর্বল করা সম্ভব।” জি২০ ওপেন স্যাটেলাইট ডেটা পার্টনারশিপের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জি২০ মহাকাশ সংস্থাগুলির স্যাটেলাইট তথ্য উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য কৃষি, মৎস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো কাজের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত করা যেতে পারে।” তিনি ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সার্কুলারিটি ইনিশিয়েটিভ গঠনের প্রস্তাবও দেন, যা পুনর্ব্যবহার, আরবান মাইনিং, সেকেন্ড-লাইফ ব্যাটারি প্রকল্প এবং অন্যান্য উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে (PM Modi)। এই উদ্যোগের লক্ষ্যই হল সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথ তৈরি করা (G20)।

  • G20 Summit: জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগের প্রস্তাব মোদীর

    G20 Summit: জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগের প্রস্তাব মোদীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত জি২০ (G20 Summit) নেতাদের শীর্ষ সম্মেলনে বৈশ্বিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করে ছ’টি নয়া উদ্যোগ প্রস্তাব করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi)। এগুলির মধ্যে রয়েছে, গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি, আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভ, গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম, ড্রাগ–টেরর নেক্সাস মোকাবিলা উদ্যোগ, ওপেন স্যাটেলাইট ডেটা পার্টনারশিপ এবং ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সার্কুলারিটি ইনিশিয়েটিভ। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগগুলি সর্বাঙ্গীণ উন্নয়নে সহায়তা করবে।” তিনি এও জানান, ভারতের সভ্যতাগত মূল্যবোধ ভবিষ্যতের পথ নির্দেশ করতে পারে।

    কী বললেন প্রধানমন্ত্রী (G20 Summit)

    জি২০ গ্লোবাল ট্র্যাডিশনাল নলেজ রিপোজিটরি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঐতিহ্যগত জ্ঞান যা সুদীর্ঘকাল ধরে টেকসই জীবনযাপনের পরীক্ষিত মডেল উপস্থাপন করে, তা নথিভুক্ত করা হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।” তিনি বলেন, “ভারতের এই ক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। এটি আমাদের সম্মিলিত জ্ঞানকে আরও সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল অর্জনের জন্য ভবিষ্যতে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে।” তিন দিনের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। যোগ দিয়েছেন জি২০ (G20 Summit) শীর্ষ সম্মেলনে। সেখানেই তিনি বলেন, “আফ্রিকার উন্নয়ন বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারত সব সময়ই আফ্রিকার পাশে থেকেছে। আফ্রিকা স্কিলস মাল্টিপ্লায়ার ইনিশিয়েটিভে একটি ট্রেইন–দ্য–ট্রেইনার মডেল গ্রহণ করা হবে, যার লক্ষ্য আগামী দশকে আফ্রিকায় এক মিলিয়ন প্রশিক্ষিত ও শংসাপত্রপ্রাপ্ত ট্রেইনার তৈরি (PM Modi) করা।”

    যৌথ লক্ষ্য

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যৌথ লক্ষ্য হল আগামী দশ বছরে আফ্রিকায় দশ লক্ষ প্রশিক্ষণ-প্রাপ্ত প্রশিক্ষক তৈরি করা। এই প্রশিক্ষকরাই পরে লাখ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেবেন। এই উদ্যোগ একটি ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। এটি স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং আফ্রিকার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করবে।”  জি২০ গ্লোবাল হেলথকেয়ার রেসপন্স টিম গঠনেরও প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এটি স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার সময় শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দিতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে আমরা এক সঙ্গে কাজ করলে আরও শক্তিশালী হই। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত জি২০ সদস্য দেশের প্রশিক্ষিত চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি দল গঠন করা, যারা যে কোনও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সঙ্কট বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় দ্রুত মোতায়েন হতে প্রস্তুত থাকবে।”

    মাদক পাচার রোধে জোর

    মাদক পাচার রোধ এবং ফেন্টানিলের মতো বিপজ্জনক পদার্থের বিস্তার বন্ধ করতে ড্রাগ-টেরর নেক্সাস মোকাবিলায় একটি জি-২০ (G20 Summit) উদ্যোগ গঠনেরও পরামর্শ দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই উদ্যোগের আওতায় আমরা অর্থনীতি, শাসনব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিভিন্ন সরঞ্জামকে একত্র করতে পারি। তবেই মাদক-সন্ত্রাস অর্থনীতিকে দুর্বল করা সম্ভব।” জি২০ ওপেন স্যাটেলাইট ডেটা পার্টনারশিপের প্রস্তাব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জি২০ মহাকাশ সংস্থাগুলির স্যাটেলাইট তথ্য উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য কৃষি, মৎস্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মতো কাজের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত করা যেতে পারে।” তিনি ক্রিটিক্যাল মিনারেলস সার্কুলারিটি ইনিশিয়েটিভ গঠনের প্রস্তাবও দেন, যা পুনর্ব্যবহার, আরবান মাইনিং, সেকেন্ড-লাইফ ব্যাটারি প্রকল্প এবং অন্যান্য উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে (PM Modi)। এই উদ্যোগের লক্ষ্যই হল সরবরাহ শৃঙ্খলা নিরাপত্তা শক্তিশালী করা এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়নের পথ তৈরি করা (G20)।

  • Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    Tejas Fighter Jet Crashes: মার্কিন ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই কি দুর্ঘটনার কবলে তেজস না অন্য কারণ? ঠিক কী ঘটেছিল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইঞ্জিনের ত্রুটির জন্যই দুবাইয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes), এমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে, বায়ুসেনার তরফে এ নিয়ে এখনও কোনও সরকারি ভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। দুবাইয়ে এয়ার শো চলাকালীন শুক্রবার ভেঙে পড়েছে ভারতের তৈরি যুদ্ধবিমান তেজস। মৃত্যু হয়েছে পাইলট উইং কমান্ডার নমনশ স্যায়ালের। ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হলেও তেজসের ইঞ্জিন এসেছে আমেরিকার সংস্থা জেনারেল ইলেকট্রিক থেকে। মনে করা হচ্ছে, শেষ মুহূর্তে তেজসের ইঞ্জিনটিতে কোনও কারণে আগুন ধরে গিয়েছিল। পাইলট তাই আর পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি।

    কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

    শুক্রবার দুবাইয়ের স্থানীয় সময় দুপুর ২টো ৮ মিনিটে তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) ভেঙে পড়ার পর বায়ুসেনা বিবৃতি জারি করে পাইলটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, আকাশে উড়তে উড়তে আচমকা নীচে নামতে শুরু করছে ভারতীয় যুদ্ধবিমান। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সজোরে আছড়ে পড়ছে মাটিতে এবং তাতে আগুন জ্বলে উঠছে। পুরু কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল দুবাইয়ের ওই এলাকার আকাশ। আগুনে বিস্ফোরণও চোখে পড়েছে বহু দূর থেকে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ ভিডিয়ো দেখে জানিয়েছেন, শূন্যে তেজস নিয়ে একটি বিশেষ কৌশল দেখানোর পরিকল্পনা ছিল পাইলটের। যা ‘ব্যারেল রোল’ নামে পরিচিত। এই কৌশলে জেট এক বার উল্টে গিয়ে আবার সোজা হয় এবং গোলাকার কক্ষপথে ঘুরতে থাকে। যুদ্ধবিমানের পক্ষে এটি খুব একটা কঠিন কৌশল নয়, মত বিশেষজ্ঞদের। তবে এতে পাইলটকে সামান্য সময়ের জন্য বিমানের মধ্যে উল্টে থাকতে হয়। অর্থাৎ, তাঁর মাথা নীচে এবং পা উপরে চলে যায়। এই সময়েই তেজসে গোলমাল হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে।

    তেজস নিয়ে ভুয়ো খবর

    সম্পূর্ণ ভারতীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) একটি লাইট কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্‌ট। এর ব্যর্থতার হার অত্যন্ত কম। ২৪ বছরের ইতিহাসে এই নিয়ে মাত্র দু’বার তেজস ভেঙে পড়ল। প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনার এক দিন আগেই তেজস নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো কিছু খবরকে ভুয়ো বলে উড়িয়ে দিয়েছিল ভারত সরকার। সমাজমাধ্যমে রটে গিয়েছিল, দুবাইয়ের এয়ার শো-তে ভারত থেকে যে তেজস এমকে১ যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছে, তার জ্বালানি লিক করছে। বক্তব্যের সপক্ষে কিছু ছবি এবং ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা গিয়েছিল, তেজস থেকে তরল পদার্থ গড়িয়ে পড়ছে। পিআইবি-র তরফে জানানো হয়, এই খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো। ভিডিয়োতে যে তরল দেখা গিয়েছে, তা আদৌ তেল নয়। জল। ইচ্ছাকৃত ভাবেই ওই জল ছাড়া হচ্ছিল। এটি নিয়মমাফিক প্রক্রিয়া।

    পিছনে কোনও অন্য কারণ

    শুক্রবার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার আগেই তেজস (Tejas Fighter Jet Crashes) নিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানোয় সন্দেহ দানা বেঁধেছে। এর পিছনে কোনও চক্রান্ত কাজ করছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন দুবাইয়ে বিশেষ কৌশল উপস্থাপনের জন্য তেজস যুদ্ধবিমানটিকে প্রথমে বেশ খানিকটা উপরে তুলেছিলেন পাইলট। তার পর উল্টেও যান। উল্টে যাওয়ার পরেই বিমানটি নীচের দিকে নামতে শুরু করে। আর সোজা হয়ে উপরে উঠতে পারেনি। ওই সময় পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ হারান। মনে করা হচ্ছে, মাটির সঙ্গে বিমানের দূরত্ব অনেকটা কমে এসেছিল। তাই কৌশলটি সম্পূর্ণ করা যায়নি।

  • Pakistan: “ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান”, তোপ হাসিনার প্রাক্তন সহকারীর

    Pakistan: “ভারত-বিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে পাকিস্তান”, তোপ হাসিনার প্রাক্তন সহকারীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে পাকিস্তান (Pakistan) ভারতবিরোধী জঙ্গি কার্যকলাপের জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করেছে একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে।” অন্তত এমনই দাবি করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন মন্ত্রী মোহিবুল হাসান চৌধুরী। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাদের উদ্দেশ্য হল বাংলাদেশকে (Bangladesh) পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের একটি ক্রীড়নক রাষ্ট্রে পরিণত করা।

    চৌধুরীর তোপ (Pakistan)

    সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “ইউনূস সরকার পাকিস্তানের উগ্রপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী, যেমন, আইএসআই, সেনাবাহিনী, পাঞ্জাবি এলিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।” চৌধুরী বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাক্তন সহকারী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের সাংগঠনিক সম্পাদকও। গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয় তাঁকে। এটাই সুগম করে ইউনূসের ক্ষমতা গ্রহণের পথ। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গে চৌধুরী বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না। কারণ তারা শুধু পাকিস্তানের উগ্রপন্থী গোষ্ঠী আইএসআই, সেনাবাহিনী, পাকিস্তানের (Pakistan) পাঞ্জাবি এলিটের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চায়, যারা গত পঁচাত্তর বছর ধরে দেশটিকে শোষণ করে আসছে। এটি নীতি, মূল্যবোধ কিংবা বন্ধুত্বের বিষয় নয়। এটি বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়, বঙ্গবন্ধুর দেশকে একটি ক্রীড়নক দেশে পরিণত করার বিষয়।”

    হাসিনার এই প্রাক্তন সহকর্মীর অভিযোগ

    হাসিনার এই প্রাক্তন সহকর্মী মনে করিয়ে দেন, আওয়ামি লিগ যখন গণহত্যার অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু করে, তখন পাকিস্তান তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বাংলাদেশে তারা আইএসআই-সংক্রান্ত কার্যকলাপও শুরু করেছিল। তিনি বলেন, “২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত দেশ পরিচালনা করার সময়, তারা বাংলাদেশকে ভারতবরোধী অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সন্ত্রাস রফতানির ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেছিল।” চৌধুরীর মতে, এই ধরনের কার্যকলাপ ফের শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি দেশ নয় যেখানে পাকিস্তান (Pakistan) খুব আন্তরিকভাবে গ্রহণযোগ্য, এবং পাকিস্তানের প্রতি তেমন সহানুভূতিও নেই। তবুও, হঠাৎ করেই সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানে, আমরা জানি পাকিস্তান সামরিক বাহিনী কী, এটা মূলত আইএসআইয়েরই একটি মুখোশ। অধিকাংশ (Bangladesh) পাকিস্তানি সামরিক কর্তা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্সে কাজ করেন, যা তাঁদের প্রধান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিদেশে সন্ত্রাস রফতানির জন্য পরিচিত।”

  • Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    Sheikh Hasina: ইউনূস জমানায় রমরমা বাংলাদেশের ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামির, ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দিন দুই আগেই বাংলাদেশের দেশান্তরী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল। তার পরেই ভারতের উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিল জামাত-ই-ইসলামি । জামাতের (Jamaat-E-Islami) সাধারণ সম্পাদক মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, “প্রতিবেশী দেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেছে, যা ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন মেনে হাসিনাকে বাংলাদেশে আইনের কাছে পাঠানোর আহ্বান জানাচ্ছি।”

    জামাতের বাড়বাড়ন্ত (Sheikh Hasina)

    এমন পরিস্থিতিতে পদ্মা পারে জামাতের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ভারতকে সতর্ক করলেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ। তিনি বলেন, “বর্তমান প্রশাসনের অধীনে বাংলাদেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সে দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত ভারতের।” তাঁর দাবি, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইসলামপন্থী দল জামাত ইসলামি এখন ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে। তিনি বলেন, “এই গোষ্ঠী প্রচুর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মুক্তি দিয়েছে। অথচ পূর্বতন সরকার জঙ্গি কার্যকলাপের দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছিল তাদের। হাসিনা-পুত্রের মতে, এসব মুক্তি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি জানান, ভারত সরকার এই সব ঘটনা সম্পর্কে অবগত এবং তারা এটাও বুঝতে পারছে যে এগুলির সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে ভারতের নিরাপত্তা স্বার্থেও। ওয়াজেদ এও বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের রাজত্বে বাংলাদেশে লস্কর-ই-তৈবার নেটওয়ার্কও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনভাবে কাজ করছে।” তাঁর দাবি, এই সংগঠন আবার সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি লস্করের বাংলাদেশ শাখা এবং দিল্লির সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে।

    ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের

    তিনি বলেন (Sheikh Hasina), “এই ঘটনাগুলি ভারতের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।” তাঁর মতে, দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের মুক্তি এসব নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করেছে। ওয়াজেদ বলেন, “পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই কার্যকলাপগুলি আঞ্চলিক নিরাপত্তা অংশীদারদের কঠোর নজরদারির দাবি রাখে।” ওয়াজেদ বলেন, “বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বাড়তে থাকা সন্ত্রাস-সম্পর্কিত উদ্বেগ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত কড়া নজর রাখছেন। ভারতীয় নেতৃত্ব বোঝেন যে প্রতিবেশী দেশে এই উগ্রবাদী সংগঠনগুলি ভারতের জন্যও মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে (Jamaat-E-Islami)।” হাসিনা-পুত্র বলেন, “ভারত সরকার সব সময় আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবেদনশীল আঞ্চলিক পরিস্থিতির মোকাবিলা করে।”

    হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ

    এদিকে, বাংলাদেশের পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সূত্রের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ছাত্র–নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশকে ক্রমেই অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, দেশকে সম্পূর্ণ উগ্রবাদিতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, “দেশটি এখন এমন উগ্রপন্থীদের হাতে রয়েছে, যাদের পেছনে মদত রয়েছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিরও।” অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতাও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা। তাদের দাবি, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূস একজন পুতুল। তিনি সেই অনুযায়ী কাজ করছেন, যেভাবে তাঁকে দিয়ে করানো হচ্ছে।”

    জামাতের চিন সফর

    প্রসঙ্গত, চলতি (Sheikh Hasina) বছরের জুলাই মাসে ফের চিন সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন জামাত ইসলামির একটি প্রতিনিধি দল। ৯ সদস্যের ওই দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সংগঠনের প্রধান সফিকুর রহমান। মাসখানেকর মধ্যে ওটাই ছিল তাদের দ্বিতীয় চিন সফর। বাংলাদেশের ওই মৌলবাদী সংগঠনের ঘন ঘন চিনে যাতায়াতকে ভালো চোখে দেখেননি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরাও। তখনই তাঁরা জানিয়েছিলেন, চিন-জামাতের সখ্যতা বাংলাদেশের গণতন্ত্রপ্রেমী মানুষের জন্য আদৌ কোনও ভালো ইঙ্গিত দেয় না। একই সঙ্গে এটি সুখকরও নয় (Jamaat-E-Islami)।

    চিনা দূতাবাসে জামাত নেতারা

    এর আগে ঢাকায় থাকা তাদের দূতাবাসে জামাত নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল চিন। ওই ঘটনাকে মোটেই ভালো চোখে দেখেনি ভারত। কারণ জামাত প্রকাশ্যেই নানা সময় ভারত বিরোধী মন্তব্য করে থাকে। সেক্ষেত্রে চিন জামাতকে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপে উসকানি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে পারে। যদিও এনিয়ে ভারত কিংবা বাংলাদেশের সরকারের তরফে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি (Sheikh Hasina)। বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন আসন্ন। এই নির্বাচন হতে পারে শেখ হাসিনার দল আওয়ামি লিগের ‘নৌকা’ বাদ দিয়েই। তবে এই নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব করার দাবি জানিয়েছিল জামাত। গত ১৯ জুলাই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি প্রকাশ্য সমাবেশ থেকে এনিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে এই মৌলবাদী সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, ঢাকার ওই সমাবেশ থেকেই জামাত ইসলামি জানিয়ে (Jamaat-E-Islami) দিয়েছে, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকার ও সংসদকে কাজ করতে হবে ইসলামি বিধি-বিধান অনুযায়ী (Sheikh Hasina)।

    এহেন আবহে হাসিনা-পুত্রের ভারতের প্রতি এই সতর্কবার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বই কি!

  • Sheikh Hasina: হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের আদালতের, কী বললেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    Sheikh Hasina: হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড বাংলাদেশের আদালতের, কী বললেন পদচ্যুত প্রধানমন্ত্রী?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের (Bangladesh) প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড দিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনালের দেওয়া সেই রায় সরাসরি সম্প্রচারিতও হয়েছে। হাসিনার পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও। রাজসাক্ষী হওয়ায় শাস্তি ছোট করা হয়েছে প্রাক্তন পুলিশ কর্তা আল মামুনের। কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমা প্রদর্শন করে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। হাসিনাকে তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এক, উসকানি দেওয়া, দুই হত্যার নির্দেশ এবং তিন, দমনপীড়ন আটকানোর ক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা। ঢাকা আদালতের ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন হাসিনা। সোমবার রায় ঘোষণার পরেই তিনি আদালতের এই রায়কে কারচুপিপূর্ণ, আগে থেকেই ঠিক করে রাখা এবং গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটহীন, অনির্বাচিত সরকারের সৃষ্টি বলে অভিহিত করেন।

    প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি (Sheikh Hasina)

    রায় ঘোষণার পর রীতিমতো বিবৃতি দিয়ে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলির স্বপক্ষে কোনও প্রমাণ নেই। বরং তাঁর আমলে মানবাধিকার এবং উন্নয়নমূলক অনেক কাজ হয়েছে। সেজন্য তিনি গর্বিতও। আওয়ামি লিগ সুপ্রিমোর দাবি, এই রায় দেওয়া হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে, তাও আবার একটি অনির্বাচিত সরকারের অধীনস্থ অবৈধ ট্রাইব্যুনাল সেই রায় দিয়েছে। মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাখ্যান করে হাসিনা বলেন, “এই রায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে থাকা চরমপন্থী ব্যক্তিদের নির্লজ্জতা ও খুনি মনোভাবের প্রতিফল মাত্র। বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ করতে এবং আওয়ামি লিগকে রাজনৈতিকভাবে ভেঙে দিতে এই কাজ করা হয়েছে (Bangladesh)।”

    অভিযোগ অস্বীকার

    হাসিনা লিখেছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা ট্রাইব্যুনালের সব অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। গত বছরের জুলাই-অগাস্টে যত জনের মৃত্যু হয়েছে, সেজন্য আমি শোকাহত। কিন্তু আমি কিংবা কোনও রাজনৈতিক নেতা কখনওই কোনও আন্দোলনকারীকে হত্যা করার নির্দেশ দিইনি। আমাকে আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগই দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, আমাকে নিজের পছন্দ মতো আইনজীবীও বেছে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এই ট্রাইব্যুনাল পক্ষপাতদুষ্ট।” বঙ্গবন্ধুর কন্যা হাসিনা (Sheikh Hasina) বলেন, “মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে হাতিয়ার করেছে দেশের বিচার বিভাগকে। এভাবে তারা একজোট হয়েছে আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে। বিশ্বের কোনও প্রকৃত পেশাদার আইনজীবী বাংলাদেশের ট্রাইব্যুনালের এই রায় সমর্থন করবেন না।”

    ইউনূসের আমল

    বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “ইউনূসের আমলে বাংলাদেশ আরও বিশৃঙ্খল, সহিংস এবং সামাজিকভাবে পশ্চাদগামী একটি শাসন ব্যবস্থায় পরিণ হয়েছে, যেখানে পদে পদে নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ, ভিন্নমতের দমনপীড়ন চলছে। অর্থনীতিও ভেঙে পড়েছে। অথচ ক্ষমতায় থাকার জন্য এতদিন ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে দেরি করেছেন ইউনূস। নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন আওয়ামি লিগকে।” বিবৃতিতে হাসিনা লিখেছেন, “বৈধ ট্রাইব্যুনালে উপযুক্ত প্রমাণ-সহ বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আমি ভয় পাই না। তবে আমি জানি, অন্তর্বর্তী সরকার এই চ্যালেঞ্জ মানবে না। কারণ তারা জানে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা গেলে তারা আমায় অব্যাহতি দেবে (Bangladesh)।”

    এই আদালত অবৈধ

    বাংলাদেশের বিভিন্ন আদালত এবং থানায় এখনও পর্যন্ত হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮৬টি মামলা দায়ের হয়েছে (Sheikh Hasina)। ৩৯৭ দিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া চলার পর সোমবার সাজা ঘোষণা হয়েছে ওই মামলায়। ট্রাইব্যুনালের রায় প্রসঙ্গে বাংলাদেশ আওয়ামি লিগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গির কবীর নানক বলেন, “এই আদালত অবৈধ। বাংলাদেশের জনগণ এই রায় প্রত্যাখ্যান করছে। আগামিকাল সারা বাংলাদেশে সকাল-সন্ধ্যা শাটডাউন হবে। যতক্ষণ না অবৈধ ইউনূস সরকার পদত্যাগ করবে, আমাদের সংগ্রাম ততই তীব্র হবে। একদিন হাসিনা বীরের বেশে বাংলার জনগণের প্রিয় দল হিসেবে ফিরবেন। আমাদের জয় অবশ্যম্ভাবী।”

    প্রতিক্রিয়া হাসিনা পুত্রের

    ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদও। তিনি থাকেন আমেরিকার ওয়াশিংটনে। তিনি বলেন, “আমার মা ভারতে নিরাপদ আছেন। ভারত তাঁকে পুরো নিরাপত্তা দিচ্ছে।” ওয়াজেদ বলেন, “আমরা আওয়ামি লিগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেব না। আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে, আরও বিস্তৃত হবে এবং আমরা যে কোনও কিছু করতে প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক সংস্থা কিছু না করলে, নির্বাচনের আগে হিংসা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, অনিবার্য হয়ে উঠবে মুখোমুখি সংঘর্ষ।‘’ তিনি (Sheikh Hasina) বলেন, “দলীয় নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে আরও আন্দোলন হবে।” যদিও সরকারি মুখপাত্র জানিয়েছেন, আওয়ামি লিগের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই (Bangladesh)।

LinkedIn
Share