Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • CBI DIG: নিয়োগ দুর্নীতিতে গঠিত সিটের মাথায় অশ্বিন সাংভি, জানাল হাইকোর্ট

    CBI DIG: নিয়োগ দুর্নীতিতে গঠিত সিটের মাথায় অশ্বিন সাংভি, জানাল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রাক্তন ডিআইজি অখিলেশ সিং (Akhlesh Singh) আসতে পারবেন না বলে কলকাতা হাইকোর্টে জানিয়েছিল সিবিআই। বৃহস্পতিবার আদালতে একথা জানিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। অথচ তার আগের দিনই বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) মাথায় তাঁকে বসানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় (Justice Abhijit Gangopadhya)। শেষমেশ অখিলেশের পরিবর্তে সিটের মাথায় বসানো হল ডিআইজি (CBI DIG) অশ্বিন সাংভিকে (Ashwin Sangvi)। তিনি চণ্ডীগড় অ্যান্টি কোরাপশন ব্রাঞ্চের প্রধান। এদিন বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ, এক সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব নিতে হবে অশ্বিন সাংভিকে। শুধু তাই নয়, আদালতের অনুমতি ছাড়া নিয়োগ দুর্নীতি তদন্ত প্রধানের পদ থেকে সরতেও পারবেন না তিনি।

    অখিলেশ সিং…

    সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিআইজি অখিলেশ সিং ২০২১ সালের ১৭ মে নারদকাণ্ডে মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, সুব্রত মুখোপাধ্যায় (প্রয়াত) এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে গ্রেফতার করেছিলেন। বগটুইকাণ্ড, ভাদু শেখ খুন, হাঁসখালিতে গণধর্ষণ, ঝালদা সহ একাধিক মামলার তদন্তও করেছেন তিনি। কয়লা পাচারকাণ্ড থেকে গরু পাচারের মতো গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তও করেছিলেন অখিলেশ। নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত করতে গঠিত সিটের মাথায়ও তাঁকেই বসাতে চেয়েছিল আদালত। কিন্তু বৃহস্পতিবার সিবিআই আদালতকে জানায়, পদোন্নতি হয়েছে অখিলেশ সিংয়ের। দিল্লি থেকে আসামে বদলি হয়েছেন তিনি। গত ১৫ নভেম্বর তাঁর বদলিতে অনুমোদন দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। তাই স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতির (SSC Scam) তদন্তে আসতে পারবেন না সিবিআইয়ের প্রাক্তন ডিআইজি।

    আরও পড়ুন: কেষ্ট-সুকন্যার পর এবার লটারি জয় এনামুলের! ৫০ লক্ষ টাকার খোঁজ পেল সিবিআই

    সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতকে এও জানান, ডিআইজি পদমর্যাদার দক্ষ এক অফিসার রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এসে বসানো যেতে পারে সিটের মাথায়। এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, একজন নয়, ডিআইজি (CBI DIG) পদমর্যাদার তিনজন অফিসারের নাম দিন। সেখান থেকে একজনকে বেছে নেবে আদালত। সেই মতো সিবিআই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের বেঞ্চে এদিন জানায়, ডিআইজি সুধাংশু খারে, কলকাতা সিবিআই স্পেশাল ব্রাঞ্চ হেড, ডিআইজি মাইকেল রাজ, ঝাড়খণ্ড এবং ডিআইজি অশ্বিন সাংভি, চণ্ডীগড়ের নাম। তার মধ্যে থেকে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় বেছে নেনে অশ্বিনকে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     

  • Calcutta HC on SSC: কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার শূন্যপদে নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট

    Calcutta HC on SSC: কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার শূন্যপদে নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল হাইকোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কর্মশিক্ষা ও শারীর শিক্ষায় অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করে নিয়োগে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta HC on SSC)। আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে হাইকোর্টের নির্দেশ, যাঁরা সুপারিশ পত্র পেয়েছেন তাঁদের নিয়োগ পত্র দিতে নিষেধ করল আদালত। এদিন আদালতের প্রশ্নের মুখে পিছু হটল স্কুল সার্ভিস কমিশন। রাতারাতি ভোল বদলে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) জানিয়ে দিল, বেআইনিভাবে যাঁরা বিভিন্ন স্কুলে (School) নিয়োগ হয়েছিলেন, তাঁদের কখনওই শূন্য পদে নিয়োগ করা যাবে না।

    স্কুল সার্ভিস কমিশনের আবেদন প্রত্যাহার

    এদিন আদালতে মামলার শুনানিতে (Calcutta HC on SSC) কমিশনের আইনজীবী সুতনু পাত্র জানান, অবৈধভাবে যাঁরা চাকরি পেয়েছেন এবং যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, তাঁদের শূন্যপদে নিয়োগ করার যে আবেদন করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করবে স্কুল সার্ভিস কমিশন। এ বিষয়ে কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে লিখিত নির্দেশিকা এসেছে। 

    সম্প্রতি আদালতে দাখিল করা নতুন চারটি হলফনামায় কমিশনের আবেদন ছিল যে রাজ্যের তৈরি করা শূন্যপদে যেন চাকরি বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। আর অন্যদিকে কমিশনের এই অবস্থানের উল্টো পথে হেঁটে রাজ্য জানায় তারা এই অবস্থানের বিপক্ষে, অযোগ্যদের নিয়োগের পক্ষে তারা নয়। আর এরপরেই কমিশন ও রাজ্যের আলাদা অবস্থানে আদালতে বিচারক বিশ্বজিৎ বসুর কাছে প্রশ্নের মুখে রাজ্য। বিচারপতি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, কমিশনের প্রতি রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেই কেন? কমিশন ভেঙে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন। এরপর পরস্পরবিরোধী অবস্থানের জন্য কমিশনের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপের কথা ভাবছে রাজ্য, সেই বিষয়ে আজ জানানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Calcutta HC on SSC)।

    আরও পড়ুন: বাতিল হওয়া প্রার্থীদের শূন্যপদে নিয়োগের আবেদন প্রত্যাহার কমিশনের, কেন জানেন?

    আদালতে কী জানাল পর্ষদ?

    বিচারপতি কমিশনকে প্রশ্ন করেন (Calcutta HC on SSC), ‘সবাইকে সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে?’ এর উত্তরে কমিশন জানায়, ‘হ্যাঁ, কর্মশিক্ষা ও শারীরশিক্ষার ক্ষেত্রে সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে। কর্ম শিক্ষায় ৫৮৫ শূন্যপদের মধ্যে ৫১৪ জনকে সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে এবং শারীরশিক্ষায় ৮২৪ শূন্যপদের মধ্যে  ৭৬৬ জনকে সুপারিশ পত্র দেওয়া হয়েছে।’ এরপর বিচারপতি মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে প্রশ্ন করেন, ‘আপনারা কি নিয়োগ পত্র দিয়েছেন?’ এর উত্তরে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের আইনজীবী কোয়েলি ভট্টাচার্য বলেন,  ‘না, আপনি মৌখিক নির্দেশে নিয়োগপত্র দিতে বারণ করেছিলেন, তাই পর্ষদ কোনও নিয়োগপত্র দেয়নি।’

    আজ আদালতে (Calcutta HC on SSC) মামলাকারীদের আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য সওয়াল করেন, অতিরিক্ত শূন্য পদ তৈরি করার অধিকার রাজ্যের নেই। এরপর অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় সওয়াল করেন, প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্য অতিরিক্ত শূন্যপদ তৈরি করতে পারে। এতে রাজ্যের উদ্দেশে বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন ‘আপনাদের যা ইচ্ছা করুন, আমি শুধু ছাত্রদের শিক্ষা নিয়ে চিন্তিত।’ এরপর অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন যে ‘বিভিন্ন রাজনৈতিক জমানাতে শিক্ষার অবক্ষয় হয়েছে। একটা সরকার ইংরেজি বন্ধ করে দিয়েছিল, এটা খুব বড় ভুল ছিল।’ আর এই কথাতে সহমত প্রকাশ করে জানালেন বিচারপতি বসু, ‘হ্যাঁ, এটা বড় ভুল।’

    এরপর শূন্যপদ নিয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় রাজ্যকে। আগামী ২৮ শে নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ও ৩০ নভেম্বর হবে এই মামলার  পরবর্তী শুনানি হবে জানানো হয়।

  • Anubrata Mondal: অ্যারেস্ট মেমোয় সই করছেন না কেষ্ট, ওয়ারেন্ট আনতে দিল্লিতে ইডি

    Anubrata Mondal: অ্যারেস্ট মেমোয় সই করছেন না কেষ্ট, ওয়ারেন্ট আনতে দিল্লিতে ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) গ্রেফতার করে জেলবন্দী অনুব্রত মণ্ডলকে (Anubrata Mondal)। ৫ ঘণ্টা টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর অনুব্রতকে হেফাজতে নেয় ইডি। খবর পাওয়া গিয়েছিল যে, অনুব্রতকে আজ আসানসোল সিবিআই আদালতে হাজির করানো হবে। কিন্তু ইডি সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে, ‘অ্যারেস্ট মেমো’-তে সই করেননি গরুপাচার মামলায় ধৃত বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি। এর ফলে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আনার জন্য সরাসরি দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লির ইডি আদালত থেকে কোর্টে হাজির করানোর ওয়ারেন্ট জারি করেই অনুব্রতকে দিল্লিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

    অ্যারেস্ট মেমোতে সই করেননি কেষ্ট

    অনুব্রত (Anubrata Mondal) যেহেতু সই করেননি, তাই তাঁকে আসানসোল আদালতে পেশ না করে, ইডির আধিকারিকরা অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট আনতে দিল্লি যাচ্ছেন। গতকাল জিজ্ঞাসাবাদের পর যা জানা গিয়েছে, তা হল, আজ সকালের মধ্যে ইডির আধিকারিকরা আদালতে পৌঁছে রিপোর্ট জমা দেবেন এবং তার ভিত্তিতেই দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করা হবে। আসানসোল সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষই যাতে অনুব্রতকে দিল্লি পৌঁছে দেন, সেই আবেদন করবেন ইডির আইনজীবী। অর্থাৎ অনুব্রত মণ্ডলকে দিল্লির আদালতে হাজির করানোর জন্য জারি করা হতে পারে “প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট।” তিনি গতকাল সই করে দিলেই এত কিছু করতে হত না ইডির আধিকারিকদের। তাঁরা সরাসরি দিল্লিতে জেরা করার জন্য নিয়ে যেতে পারতেন।

    আরও পড়ুন: সিবিআই- এর পর এবার অনুব্রতকে হেফাজতে নিল ইডি

    গতকালের জেরার মুখে কী বললেন অনুব্রত?

    গরু পাচার মামলায় টাকা সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে ইডি-র কাছে দাবি করলেন বীরভূম তৃণমূল জেলা সভাপতি (Anubrata Mondal)। আর তিনি এসবের সব দায়ভার চাপিয়ে দিলেন তাঁর হিসেবরক্ষক মণীশ কোঠারির উপর। গতকাল একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও টাকার হিসেব নিয়ে অনুব্রতকে জেরা করতে গিয়েছিলেন ইডির অফিসাররা। জমি সংক্রান্ত নথি নিয়েও জেরা করা হয়। দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা জেরা করা হয় তাঁকে। কিন্তু তাঁর উত্তরে তিনি বললেন, টাকা লেনদেনের বিষয়ে কিছুই জানেন না। সব জানেন মণীশ কোঠারি। তাঁর মেয়ে সুকন্যার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের কথা জিজ্ঞেস করা হলেও তিনি এর দায়ও মণীশ কোঠারিরি ঘাড়ে চাপিয়ে দেন।

    ইতিমধ্যেই মণীশের আয় ব্যয়ের ওপর নজর রেখেছেন তদন্তকারীরা। হিসাবরক্ষকের কোম্পানির নথি তলব করে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে মণীশকে। তদন্তকারীর সংস্থার দাবি, কোম্পানির ব্যালান্সশিট সার্টিফায়েড নয়। নথি জমা দিতে বোলপুর থেকে দিল্লি পৌঁছে যান মনীশের সহকর্মী। এবার অনুব্রতর (Anubrata Mondal) এই বয়ান মণীশের ওপর আরও চাপ বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করছেন অভিজ্ঞরা।

  • SSKM Fire: এসএসকেএমে আগুন নিভলেও অনিশ্চিত পরিষেবা, ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ মুখ্যসচিবের

    SSKM Fire: এসএসকেএমে আগুন নিভলেও অনিশ্চিত পরিষেবা, ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ মুখ্যসচিবের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গতকাল রাতে মহানগরীতে ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ড (SSKM Fire)। আর এর রেশ কাটেনি এখনও। শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএম-এ আগুন। ভয়াবহ পরিস্থিতি। গল গল করে ধোঁয়া বের হতে থাকে। রাত তখন দশটা, আর সেসময় এসএসকেএম হাসপাতালে জরুরী বিভাগের সামনে রেডিও ডায়াগনোসিস বিভাগের দোতালায় আগুন লাগে। গতকালের ঘটনার পরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছেন মুখ্যসচিব এইচ কে দ্বিবেদী, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। এরপরেই মুখ্যসচিব ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

    কীভাবে আগুন লাগে?

    শর্ট সার্কিট থেকেই সিটি স্ক্যান মেশিন এবং তার যন্ত্রাংশ থেকে আগুনের উৎপত্তি বলে প্রাথমিক অনুমান (SSKM Fire)। সেই ঘরে অক্সিজেন সিলিন্ডার মজুত থাকায়, তা ফেটে আগুন আরও বাড়তে থাকে। আগুন লাগার পরেই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় দমকলের দশটি ইঞ্জিন। সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে আগুন নেভানো কাজ শুরু করেন দমকল কর্মীরা। রোগীদের যে ঘরে আগুন লেগেছিল সেখানে কোন রোগী ছিলেন না তবে, ধোঁয়ার কারণে আশেপাশের ওয়ার্ড থেকে রোগীদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    কোন কোন পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে?

    আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে এমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ের ৩টি ঘর। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে সিটি স্ক্যান বিভাগের। এই পরিস্থিতিতে সেন্ট্রাল ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও রিপোর্ট দেওয়ার পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। ব্যাহত হতে পারে ইউএসজি, সিটি স্ক্যান ডিজিটাল এক্স রে-র মতো পরিষেবা। এমনকি এমার্জেন্সিতে ভর্তি হওয়ার জন্য টিকিট কাটার যে ব্যবস্থা আছে, তাতেও বিঘ্ন হতে পারে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তাঁরা দ্রুত পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন।

    ফরেনসিক তদন্তের নির্দেশ

    ঘটনার দু’ঘণ্টা পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে (SSKM Fire) আসলেও কীভাবে আগুন লাগল তার ফরেনসিক তদন্ত হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যসচিব দ্বিবেদী। এছাড়াও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার আসল কারণ কী, তাও এসএসকেএম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খতিয়ে দেখবে। পাশাপাশি পুলিশ ও দমকলও আলাদা করে তদন্ত করবে জানা গিয়েছে। গতকাল ঘটনাস্থলে হাসপাতালে পৌঁছন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য সচিব নগরপাল এবং তৃণমূল নেতা মদন মিত্র। আসেন বিজেপি নেতা সজল ঘোষও।  

    রোগীদের নিরাপদে সরানো হয়েছে

    সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অবস্থা খারাপ হওয়ায় জানালার কাঁচ ভেঙে ফেলেন দমকলকর্মীরা (SSKM Fire)। রোগীদের সুরক্ষার জন্য নিউ ক্যাজুয়াল্টি বিভাগ থেকে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগীকে অন্যত্র সরানোও হয়। রোগীদের নিরাপত্তার কারণে নিউ ব্লকের ম্যাকেঞ্জি ওয়ার্ডে এবং ট্রমা কেয়ার সেন্টারে স্থানান্তরিত করা হয়।

    প্রশ্নের মুখে রাজ্য প্রশাসন

    এরই মধ্যে এসএসকেএমের মতো সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে আগুন লাগার খবরে ফের শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে। ২০১৬, ২০১৮-র পর আবার ২০২২। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে ফিরে আসে সেই ৬ বছর আগের হাসপাতালের অগ্নিকাণ্ডের স্মৃতি। কোথায় গাফিলতি? কেন বারবার অগ্নিকাণ্ড হাসপাতালে? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু হয়েছে (SSKM Fire)।

  • Anubrata Mondal: সিবিআই- এর পর এবার অনুব্রতকে হেফাজতে নিল ইডি

    Anubrata Mondal: সিবিআই- এর পর এবার অনুব্রতকে হেফাজতে নিল ইডি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ৫ ঘণ্টার টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর অনুব্রতকে (Anubrata Mondal) হেফাজতে নিল ইডি (ED)। বৃহস্পতিবার তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্ট’ করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পেশ করতে হবে তাঁকে। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন করতে পারে ইডি। সায়গলের মতো অনুব্রতকেও দিল্লি নিয়ে গিয়ে জেরা করা হতে পারে। শুক্রবারই দিল্লির পিএমএলএ কোর্টে অনুব্রতকে গ্রেফতারের বিষয়ে জানিয়ে প্রোডাকশন ওয়ারেন্টের আবেদন জানাতে পারে ইডি। বৃহস্পতিবার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তিন গোয়েন্দা আসানসোলে সংশোধনাগারে ৫ ঘণ্টা জেরা করেন অনুব্রতকে। তারপরেই হেফাজতে নেওয়া হয় তাঁকে। জানা গিয়েছে, এখনও ইডির অ্যারেস্ট মেমোতে সই করেননি অনুব্রত মণ্ডল। যদিও এই মামলা যেহেতু পিএমএলএ, সেক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থা বেশ কিছু অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকে। এই ক্ষেত্রে অ্যারেস্ট মেমোতে অনুব্রত সই না করলে তাঁকে দিল্লি নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা সে বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছু জানা যায়নি। 

    জেরায় কী জানতে চান গোয়েন্দারা?

    আগেই খবর ছিল, বৃহস্পতিবার জেলে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলকে জেরা করতে চায় ইডি। সেই মতো এ দিন সকালেই ইডির তদন্তকারী দল আসানসোল সংশোধনাগারে পৌঁছে গিয়ে জেরা করতে শুরু করে। ইডি সূত্রে খবর, গরু পাচারে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নিয়ে জেরা করে টাকার উৎস সম্পর্কে জানতে চান গোয়েন্দারা। কিন্তু অনুব্রতর উত্তরে খুশি হননি গোয়েন্দারা। অনুব্রত গোয়েন্দাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেই এই গ্রেফতারি বলে জানা গিয়েছে। 

    আরও পড়ুন: শিলিগুড়িতে এসে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন নিতিন গড়কড়ি, কেমন আছেন মন্ত্রী?

    প্রসঙ্গত, গরু পাচার মামলায় গত অগাস্ট মাসেই গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূলের বীরভূম জেলার সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রতকে গ্রেফতার করার আগেই গ্রেফতার করা হয় তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সায়গল হোসেনকে। এতদিন তিনিও আসানসোল সংশোধনাগারে বন্দি ছিলেন। কিছুদিন আগেই একই ভাবে সায়গলকে ‘সোন অ্যারেস্ট’ করে দিল্লি নিয়ে যান তদন্তকারী আধিকারিকরা। এবার অনুব্রতকে ইডি গ্রেফতার করার পর অনেকেই মনে করছেন তাঁকেও দিল্লি নিয়ে যাওয়া হতে পারে। অনুব্রত-সায়গলকে মুখোমুখি বসিয়েও জেরা করা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। 

    ইডি সূত্রে দাবি, যেহেতু অনুব্রতকে আদালতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাজির করতে হবে, তাই তাঁকে আসানসোলের আদালতেই পেশ করানো হতে পারে। সেখানে অনুব্রতকে দিল্লি নিয়ে গিয়ে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারেন গোয়েন্দারা। সায়গলের ক্ষেত্রেও তাই করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, অনুব্রতর বহু বেনামী সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। সেই সম্পত্তির উৎস সম্পর্কে এখনও মুখ খোলেননি কেষ্ট মণ্ডল। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

     
     
  • Bengal Dengue: রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়াবহ! ১৪ দফা নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্য দফতরের

    Bengal Dengue: রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়াবহ! ১৪ দফা নির্দেশিকা জারি স্বাস্থ্য দফতরের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ডেঙ্গির পরিস্থিতি উদ্বেগজনক (Bengal Dengue)। ডেঙ্গির দাপট বেড়েই চলেছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বেড়ে চলেছে মৃতের সংখ্যাও। ফলে রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্য দফতর। আর এই পরিস্থিতিতে ১৪ দফা নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। এই নির্দেশিকা নিয়ে বৈঠকও হয়েছে নবান্নে।

    ১৪ দফা নির্দেশিকা জারি

    রাজ্যের ডেঙ্গি পরিস্থিতির সঙ্গে কীভাবে মোকাবিলা করা যায় তার জন্য প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হাসপাতালগুলিতে ‘ফিভার ক্লিনিক’ পুরোদমে সচল রাখতে হবে (Bengal Dengue)। যাঁরা জ্বর নিয়ে চিকিৎসার জন্য আসবেন, তাঁদের তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে হবে। পরে যাতে তাঁদের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করা যায়।

    হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গি রোগীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা ল্যাব পরিষেবা চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। তাদের রক্ত পরীক্ষা করার পর ওই দিনই রিপোর্ট দিতে হবে ল্যাব কর্তৃপক্ষকে। যাতে চিকিৎসা যথাযথভাবে করা যায়। এর পাশাপাশি সহকারি সুপার পদমর্যাদার একজন স্বাস্থ্য আধিকারিককে ডেঙ্গি পরিস্থিতির মোকাবিলার জন্য নিযুক্ত থাকতে হবে। আবার কোনও ব্যক্তি যদি ডেঙ্গি সন্দেহে ভর্তি হন, তাঁকেও পরীক্ষার দিনই রিপোর্ট দিতে হবে (Bengal Dengue)।

    আরও পড়ুন: বেসরকারি পরীক্ষাগারে গেলেই ধরা পড়ছে ডেঙ্গি! আর সরকারি কেন্দ্রে?

    স্বাস্থ্য দফতরের তরফে বলা হয়েছে, রক্তের রিপোর্ট দেখে যদি কিছু সংকটজনক মনে হয় ও রক্তে অস্বাভাবিক কিছু থাকলে দ্রুত সতর্ক করতে হবে চিকিৎসকদের। ডেঙ্গি (Bengal Dengue) নিয়ে যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনার জন্য নিযুক্ত থাকতে হবে এক জন সহকারী সুপার।

    দেখা গিয়েছে, ডেঙ্গি মোকাবিলায় নার্সিং পরিষেবার উপর বিশেষ জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর (Bengal Dengue)। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতি সপ্তাহে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে। নার্সিং পরিষেবা যাতে যথাযথ থাকে সেটা বার বার পর্যালোচনা করতে হবে। ডেঙ্গি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য স্বাস্থ্য দফতরের পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হবে।

    যেসব নার্সিং সুপাররা ডিউটিতে থাকবেন, তাঁদের ডেঙ্গি রোগীদের অবস্থা পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সুপারিনটেন্ডেন্টকে জানাতে হবে (Bengal Dengue)। রোগীদের শারীরিক অবস্থা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য বারবার পর্যালোচনা করতে হবে।

    এছাড়া, প্রতি সপ্তাহে হাসপাতালে ডেঙ্গি পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসতে হবে কর্তৃপক্ষকে (Bengal Dengue)। হাসপাতাল চত্বরে বাধ্যতামূলক ভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। ডেঙ্গি সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর স্বাস্থ্য দফতরের পোর্টালে নথিভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

    নির্দেশিকায় এও বলা হয়েছে যে, হাসপাতালের দেওয়ালে ডেঙ্গি সচেতনতামূলক পোস্টার রাখতে হবে (Bengal Dengue)। এছাড়া, হাসপাতালে পতঙ্গবিদদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। ব্লাড ব্যাংকে যথেষ্ট প্লেটলেট মজুত আছে কি না, তা-ও নজরে রাখার নির্দেশ দিয়েছে দফতর।

    এই সব নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। আর বলা হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব, এই ১৪ দফা নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে সরকারি হাসপাতালগুলিকে (Bengal Dengue)।

  • No Jobs in Bengal: আগে কাজ জোটাত কলকাতা, এখন মজুর খাটতে বাঙালি যাচ্ছে মিজোরামেও

    No Jobs in Bengal: আগে কাজ জোটাত কলকাতা, এখন মজুর খাটতে বাঙালি যাচ্ছে মিজোরামেও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলায় কাজ নেই তাই রোজগারের আশায় উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি রাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন পাঁচ তরতাজা বাঙালি যুবক। সেখানেই পাথর-খাদানে ধস নেমে সমাধিস্থ হলেন নদিয়া জেলার চার বাসিন্দা। তেহট্ট কালীতলা পাড়ার বুদ্ধদেব মণ্ডল (২৫), মিন্টু মণ্ডল (২২) ও রাকেশ বিশ্বাস (২১) এবং চাপড়া পিঁপরেগাছির বাসিন্দা মদন দাস। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালির ঢোলখালি গ্রামের বাসিন্দা সুব্রত রপ্তান (২৪)। একটি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে মিজোরামে জাতীয় সড়ক নির্মাণের কাজ  করতে যান তাঁরা। রাস্তা নির্মাণের সময় খাদান থেকে পাথর আনার কাজ করছিলেন ১৩ জন। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বুদ্ধদেবরা।

    মৃতদের পরিচয়

    টাকি গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে স্নাতক হয়েছিলেন বছর চব্বিশের সুব্রত রপ্তান। তেমন কোনও চাকরি না পেয়ে পরিবারের আর্থিক অনটন মেটাতে শ্রমিকের কাজ জোগাড় করে চলে যান ভিন্‌ রাজ্যে। ছেলে কাজ পাওয়ায় পরিবারের কিছুটা আর্থিক সুরাহা হয়েছিল। আগে ঝাড়খণ্ডে পাথর খাদানে কাজ করেছেন। দুর্গাপুজোয় বাড়ি এসেছিলেন। ভাইফোঁটার পরে ফের কাজে যান। এবার গন্তব্য ছিল মিজোরাম। সুব্রতের বাবা শ্যামল তামিলনাড়ুতে শ্রমিকের কাজ করেন। দুই দিদির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে মা মালতি একাই থাকেন। কিন্তু এখন সব শেষ। সোমবার সন্ধ্যায় সুব্রতর এক বন্ধু বাড়িতে দুর্ঘটনার খবর দেন। এবার সুব্রতর নিথর দেহ কফিনবন্দি হয়ে সন্দেশখালির গ্রামের বাড়িতে ফিরবে। সুব্রতর কাকিমা অনিমা রপ্তান বলেন, ‘‘কোনও কাজ না পেয়ে সুব্রত শ্রমিকের কাজে যেতে বাধ্য হয়েছিল। দেহ বাড়িতে আনার ক্ষমতাও নেই ওঁদের।’’ 

    একুশ বছরের ছেলে রাকেশ বিশ্বাসকে হারিয়ে বাবা কালু বিশ্বাসের কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, ‘‘এখানে কোনও কাজ পাচ্ছিল না। তাই ওরা কাজে যায়। ওর জামাইবাবুর সঙ্গে রবিবার শেষ কথা হয়। আজ এই খবর পেলাম।’’ বুদ্ধদেবের বাবা মধুসূদন মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজে গিয়েছিল। তার পর আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। আজ ঠিকাদার সংস্থার তরফ থেকে খবর পেয়ে জানতে পারলাম যে,ও আর বেঁচে নেই।’’ওই ঠিকাদারি সংস্থায় কাজ করতেন স্থানীয় আরেক যুবক অমিত মণ্ডল। তিনি ছুটিতে বাড়ি ফিরেছিলেন। দুপুরে তাঁকেই ফোন করে মৃত্যুর খবর দেন সংস্থার কোনও আধিকারিক। অমিত জানান, ‘‘ছুটিতে বাড়ি না এলে আমারও হয়তো একই ভাবে মৃত্যু হত।’’

    চাকরির সন্ধানে সুকতলা ক্ষয়ে যায়

    শিক্ষিত বাঙালি যুবকদের কি এই পরিণতিই ভবিতব্য? ভিন্‌ রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে কাজে গিয়ে প্রাণ হারানো। এই ঘটনাই প্রথম নয় এবং দুর্ভাগ্যবশত এটাই শেষ ঘটনা হবে এমনটা নয়। এক বছরেই রয়েছে এমন বহু করুণ ঘটনা।

    ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২: ভিন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় উত্তর দিনাজপুর জেলার চার পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত শ্রমিকদের নাম হাকিমুল শেখ, আব্দুল্লা শেখ, মহম্মদ রাহুল ও মকিম আলম। এঁদের মধ্যে তিন জনের বাড়ি উত্তর দিনাজপুর জেলার চাকুলিয়া থানার সিরসি গ্রামে এবং একজনের বাড়ি ডুমুরিয়া এলাকায়। মধ্যপ্রদেশের ঝাঁসি স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে পিক-আপ ভ্যান উল্টে গিয়ে তাঁদের মৃত্যু হয়। চার জনেই পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে মধ্যপ্রদেশ গিয়েছিলেন।

    ১৮ এপ্রিল, ২০২২: দক্ষিণ কর্নাটকের বাজপেয়ী থানা এলাকায় শ্রী উল্কা লিমিটেড নামে এক মাছের সংস্থায় কর্মরত ছিলেন দেগঙ্গার প্রায় ৩০ জন বাসিন্দা। সেখানে প্যাকেজিং এর কাজ করতেন তাঁরা। এদের মধ্যে কয়েকজন একটি ম্যানহোলে ড্রেন পরিস্কার করতে নেমেছিলেন। ম্যানহোলের ভিতরে বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়েন তাঁরা। মৃতরা হলেন ওমর ফারুক(৩১), সামিউল ইসলাম(১৭) নুর নগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফাজিলপুরের বাসিন্দা, নিজামুদ্দিন সাহাজি (১৯) আমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের রায় পুরের বাসিন্দা, সরাফাতা আলি (২২) ও মিরাজুল ইসলাম (২৩) দেগঙ্গা এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের দোগাছিয়ার বাসিন্দা।

    ১২ মে, ২০২২: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া থানার প্রদীপ ডাঙা বেলতলা পাড়া এলাকার বছর কুড়ির বাসিন্দা কবিরুল শেখ বেঙ্গালুরুতে পাইপ লাইনের কাজে গিয়েছিলেন। ওই পরিযায়ী শ্রমিক কাজের সাইটে পাইপ লাইনের কাজ করছিলেন একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায়। সেই সময় কাজ করতে গিয়েই তিনি কোনওভাবে বিদ্যুতের তারের উপর পড়ে যান। তাঁর হাতে ছিল লোহার পাইপ। বিদ্যুতের তারে পড়ে গিয়েই বিদ্যুৎপৃষ্ট হন তিনি। অন্যান্য শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ২৮ মে, ২০২২: পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গী ব্লকের ফরিদপুর অঞ্চলের ইদুল হাসান (৫২) কেরলে প্রেম্বাবুর থানা এলাকায় মারা যান। পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি।

    ১০ জুন, ২০২২: মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার রামগড় পূর্ব হাট পাড়ার বাসিন্দা মোহনলাল মহলদার (২৩) মৃত্যু হল গুজরাটে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে। গুজরাটের জামনগর অডিনার জেটিতে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজে গিয়েছিলেন মোহনলাল। জেটির ওপর কাজ করার সময় অসাবধানতার ফলে মাথায় রডের আঘাত লেগে জেটির ওপর থেকে সমুদ্রে পড়ে যান উনি। অন্যান্যরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২: বীরভূমের নলাহাটি থানার শীতল গ্রামের বাসিন্দা পিন্টু মাল (২৮) মুম্বইয়ের একটি আবাসনে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করছিলেন। সেই সময়ে মাথায় খসে পড়ল চাঙর। আহত অবস্থায় সঙ্গে সঙ্গে পিন্টুকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাঁকেও মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

    ৭ নভেম্বর, ২০২২: নামখানা ব্লকের হরিপুর এলাকার বাসিন্দা রাজেশ মণ্ডল, কেরলে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে লিফট থেকে পড়ে গিয়ে মারা যান। রাজেশ যে বহুতলে কাজ করছিলেন সেই বহুতলের লিফটের একটি তার ছিঁড়ে যায়। সহকর্মীরা তড়িঘড়ি রাজেশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

    আরও পড়ুন: সীমান্তে ‘বিপজ্জনক’ ২৩৩ মাদ্রাসার হদিশ রাজ্য গোয়েন্দা বিভাগের, নবান্ন চুপ

    হিমশৈলের চূড়া মাত্র

    এরকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ভুরি ভুরি ঘটছে। যে ঘটনাগুলির উল্লেখ করা হয়েছে তা হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলার প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে নিযুক্ত। এতদিন জানা যেত যে গুজরাট, তামিলনাড়ু, কেরল, কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র হলো বেশির ভাগ পরিযায়ী শ্রমিকদের গন্তব্য। মিজোরামের পাথর খাদানের দুর্ঘটনা বাংলার কর্মসংস্থানের দৈন্যদশা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। দক্ষিণ মিজোরামের যে প্রত্যন্ত এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে কলকাতা থেকে পৌঁছতেই লেগে যাবে প্রায় ৩-৪ দিন। আজ বাঙালির দুর্ভাগ্য যে প্রাণ হাতে নিয়ে এই রকম সুদূর দুর্গম এলাকায় ছুটে যেতে হচ্ছে রুজি রোজগার ও সংসারের অনটন মেটানোর জন্য। মিজোরাম কর্মসংস্থান যোগাচ্ছে বাংলাকে, এটাই হচ্ছে সাড়ে তিন দশকের বামফ্রন্ট শাসনের ও সাড়ে ১১ বছরের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজত্বের প্রাপ্তি।

    সত্যই মানবিক!

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “মানবিক” মুখ কিন্তু এই ঘটনাতেও প্রচারের আলোয়। ট্যুইট করে উনি সমবেদনা জানিয়েছেন ও শোকপ্রকাশ করেছেন; ‘‘মিজোরামে পাথরখাদানে ধস নেমে পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ শ্রমিক-সহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। আমরা পাঁচ শ্রমিকের দেহ আনার ব‌্যাপারে মিজোরাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মৃতদের পরিবারকে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আমার সমবেদনা।’’

    মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই মঙ্গলবার সুব্রতর বাড়িতে আসেন সন্দেশখালি পঞ্চায়েতের প্রধান দিলীপ মল্লিক, সন্দেশখালি ২ যুগ্ম বিডিও অর্ক মান্ডি। বিডিও অর্ণব মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিয়েছে, দেহ বিমানে করে এ রাজ্যে আনার। পরিবারটি যাতে ক্ষতিপূরণ পায়,তা প্রশাসন দেখছে।’’অর্থাৎ যে বিএ পাস করা যুবক কাজের অভাবে ৩-৪ দিনের পথ অতিক্রম করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাথর খাদানে কাজ করতে গিয়ে মারা গেলো তার নিথর দেহ কয়েক ঘণ্টায় বিমানে করে কলকাতায় এনে বাড়ি পৌঁছে দিয়েই সরকার তার দায়িত্ব পালন করে ফেলবেন এবং হয়তো আগামী বছরের কোনো “স্কচ অ্যাওয়ার্ড” পেয়ে যাবেন এতটা মানবিক হওয়ার জন্য।

    কোটি টাকার প্রশ্ন

    এই সরকারই দাবি করে যে পশ্চিমবঙ্গে নাকি চল্লিশ শতাংশ কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হয়েছে। খাতায় কলমে হয়তো হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কোথায়? এমন দুর্ঘটনার খবর রোজ প্রকাশিত হয় না, কারণ তা মূলধারার সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয় না। যদি প্রতিদিন এমন খবর খোঁজ নিয়ে প্রকাশিত করা যেত তাহলে জনমানসে তার প্রভাব ফেলতে কোনো মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি প্রাঙ্গণ, গান্ধী মূর্তির পাদদেশ অথবা করুণাময়ীর বিকাশ ভবনের সামনে অনশন বিক্ষোভ কর্মসূচি করতে লাগতো না। বেকারত্বের এমন বিজ্ঞাপন বাঙালিদের বিবেকবোধকে নাড়িয়ে দিত।

    বাঙালির এই দুর্দশা কবে ঘুচবে তা কেউ জানে না। সরকার বদলে গেলেও প্রায় ৫০ বছরের এই গভীর ক্ষত সরিয়ে তুলতে যে সময় ব্যয় হবে তাতে আর কটা প্রজন্মকে ভুগতে হবে সেটাই কোটি টাকার প্রশ্ন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Kulpi: খড়ের গাদায় মিলল বোমার পাহাড়ের হদিশ, ত্রস্ত কুলপির গ্রাম

    Kulpi: খড়ের গাদায় মিলল বোমার পাহাড়ের হদিশ, ত্রস্ত কুলপির গ্রাম

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দোরগোড়ায় পঞ্চায়েত নির্বাচন। তার আগে তপ্ত রাজ্যের বিভিন্ন জেলা। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের একাধিক জেলা। এরই মধ্যে ফের মিলল বোমার পাহাড়ের খবর। তবে এবার বোমার স্তূপের খবর বীরভূমে নয়, মিলল তৃণমূলের (TMC) দাপটে থাকা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির (Kulpi) ছামনাবনিতে। মঙ্গলবার সকালে দু ব্যাগ তাজা বোমা উদ্ধার (Bomb Recovery) করল কুলপি থানার পুলিশ। বোমা উদ্ধারের খবর মেলায় ত্রস্ত গোটা তল্লাট।

    কুলপির ওই গ্রামে…

    বৃহস্পতিবারই কুলপির (Kulpi) ওই গ্রামে বিস্ফোরণ হয় কৌটো বোমায়। জখম হয়েছিল বছর ষোলোর দুই কিশোর। এর ঠিক তিন দিনের মাথায় ওই একই গ্রাম থেকে উদ্ধার হয়েছে ২৪টি বোমা। ওই ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তার রেশ পুরোপুরি মিলিয়ে যাওয়ার আগেই ফের খড়ের গাদায় মিলল বোমার হদিশ। জানা গিয়েছে, গ্রামের মাঠের একটি খড়ের গাদায় নাইলনের ব্যাগে ভরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল বোমাগুলি। মঙ্গলবার সকালে সেগুলি নজরে পড়ে স্থানীয় কয়েকজনের। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে তাজা বোমাগুলি।

    বৃহস্পতিবার কৌটো বোমা ফাটার পরে গ্রেফতার করা হয় জনৈক বাবুসোনা পাইককে। তাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে ছামনাবনির একাধিক জায়গায় বোমা মজুত রয়েছে। সেই মতো পরপর দুদিন কুলপির (Kulpi) ওই গ্রামে তল্লাশি চালায় পুলিশ। উদ্ধার হয় বোমা। মঙ্গলবার সকালে ফের বোমা উদ্ধারের খবরে এলাকায় ছড়িয়েছে চাঞ্চল্য। সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় বোমা বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছিল এক নাবালিকার। উত্তর ২৪ পরগনার সেই ঘটনার পরে পরেই একের পর এক বোমা উদ্ধারের ঘটনা ঘটছে পড়শি জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।

    আরও পড়ুন: ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, চলল গুলি, জখম পুলিশ

    কিছুদিন আগে পর্যন্তও বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়েছিল বীরভূম। জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে বোমা উদ্ধারের খবর জায়গা করে নিত হেডলাইনে। গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হন তৃণমূলের বীরভূম জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। তার পর সেভাবে বীরভূম থেকে বোমা উদ্ধারের খবর শিরোনামে আসেনি বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। এবার বীরভূমের সেই জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। গত কয়েক দিনে পর পর উদ্ধার হয়েছে বোমা। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করতেই কী মজুত করা হচ্ছে  বোমা? উঠছে প্রশ্ন।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Jhalda: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে, হাতছাড়া হল ঝালদা পুরসভা

    Jhalda: পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বড় ধাক্কা শাসক শিবিরে, হাতছাড়া হল ঝালদা পুরসভা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অনুমানই হল সত্যি! শাসকদলকে খোয়াতে হল ঝালদা পুরসভা (Jhalda)। শেষপর্যন্ত ২ নির্দল কাউন্সিলর কংগ্রেসকে সমর্থন করায় ঝালদা পুরসভা হাতছাড়া হল তৃণমূল কংগ্রেসের। এখন কংগ্রেস শিবিরে রইল ৭ কাউন্সিলর। অন্যদিকে, তৃণমূলের হাতে রইল ৫ কাউন্সিলর। আজ তলবি সভা ছিল। তাতে উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূলের কাউন্সিলররা। নির্দল কাউন্সিলরের সমর্থনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় হাত শিবির। এদিন জয়ের পর ঝালদা শহরে তপন কান্দুর স্লোগান দিয়ে বিজয় মিছিল করে কংগ্রেস।

    কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পুরুলিয়ার ঝালদা (Jhalda) পুরসভায় আজ ছিল আস্থা ভোট। ঝালদা শহরজুড়ে জারি হয়েছিল ১৪৪ ধারা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে শাসকদলের কাছে এটি একটি মর্যাদার লড়াই ছিল। আজকের আস্থাভোট ঘিরে ছিল টানটান উত্তেজনা। নির্দল থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া কাউন্সিলররা শাসক দলের হাত ছাড়ার পরেই শাসকদলকে বেকায়দায় পড়তে হয়। এরপর এই মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ালে শেষপর্যন্ত আস্থাভোটের নির্দেশ দেয় আদালত। আর আজই ঠিক হয়ে হয়ে গেল যে, শেষপর্যন্ত কংগ্রেসের দখলে হল ঝালদা পুরসভা (Jhalda) ।

    কেন এই আস্থাভোট?

    পুরভোটের পর থেকেই ঝালদা (Jhalda) নিয়ে অস্বস্তি বেড়েই চলেছিল শাসক শিবিরের। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই কংগ্রেস কাউন্সিলর তপন কান্দুর হত্যাকাণ্ড আরও সংকট বাড়িয়েছিল। শেষে উপনির্বাচনের পর নির্দল কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করায় বোর্ড গঠন করে শাসক দল। ফলে ৬ আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে বোর্ড দখল করে নেয় তৃণমূল। কিন্তু সেই বোর্ড বেশিদিন স্থায়ী হতে পারল না। ৭ মাস কাটতে না কাটতেই নির্দল কাউন্সিলর শীলা চ্যাটার্জি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন। যার ফলে সংখ্যা গরিষ্ঠতা হারিয়েছে। শেষে চাপে পড়েই আস্থাভোট নির্দেশ দেয় আদালত ।

    কী পরিস্থিতিতে ছিল পুরবোর্ড?

    ঝালদা (Jhalda) পুরসভার মোট ১২টি আসন। পুরসভা ভোটের পর ত্রিশঙ্কু হয়েছিল ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস উভয়ই ৫টি করে আসন পেয়েছিল। ২টি আসনে জিতেছিল নির্দল। তারমধ্যে একজন সোমনাথ কর্মকার ছিলেন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। পুরভোটে টিকিট না পেয়ে নির্দল প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন। এরই মধ্যে নির্দল কাউন্সিলর শীলা চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পেয়ে শাসক শিবির পুরবোর্ড গঠন করেছিল। তবে বর্তমানে কংগ্রেসে রইল ৭ কাউন্সিলর।

    বোর্ড দখলে আত্মবিশ্বাসী ছিল কংগ্রেস

    কংগ্রেস থেকে দাবি করা হয়েছিল যে (Jhalda), তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন ২ নির্দল প্রার্থী। ফলে বোর্ড দখলে আত্মবিশ্বাসী হাত শিবির। ঝালদা পুরসভার কংগ্রেস নেত্রী পূর্ণিমা কান্দু বলেন, ‘আমরা আশাবাদী। কারণ সংখ্যা গরিষ্ঠতা আমাদেরই বেশি। তাই জয় আমাদেরই হবে।’

    পঞ্চায়েত ভোটের আগে ঝালদা পুরসভার এই আস্থাভোট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। পুরুলিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক অনেকটাই নির্ভর করে এই আস্থাভোটের উপরে। সেকারণেই এদিকে তাকিয়ে ছিল পুরো রাজনৈতিক মহল। শেষ পর্যন্ত ঝালদাবাসীর (Jhalda) অপেক্ষার অবসান হল। কংগ্রেসের হাতেই গেল ক্ষমতা।

  • Saradha Scam: সারদা কাণ্ডে ফের তৎপর ইডি, জেরার মুখে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি

    Saradha Scam: সারদা কাণ্ডে ফের তৎপর ইডি, জেরার মুখে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা পাচার, গরু পাচারের পর এবারে সারদা চিটফান্ড মামলায় (Saradha Scam) তৎপর ইডি বা ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর অনুযায়ী, সারদা চিটফান্ড মামলায় প্রাক্তন পুলিশকর্তা রজত মজুমদারকে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ইডির গোয়েন্দারা। এর পাশাপাশি ফ্রিজ করা হয়েছে রজতবাবুর ২টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। প্রায় ৮ বছর আগে সারদা কাণ্ড নিয়ে সিবিআই-ইডির তদন্ত শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন দুর্নীতির মামলার তদন্ত শুরু হতেই সারদা মামলার তদন্ত পিছিয়ে গিয়েছিল। ফলে এবারে ফের তৎপর হয়ে উঠেছে ইডি। তাই এবারে ইডির স্ক্যানারে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজি।

    ইডির নজরে রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন ডিজি

    সম্প্রতি সারদা মামলায় (Saradha Scam) নাম জড়িয়েছে প্রাক্তন পুলিশকর্তা রজত মজুমদারের। ফলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ডেকে পাঠায় ইডির আধিকারিকরা। একসময় রজতবাবু রাজ্য পুলিশের ডিজি ছিলেন। এরপর পরবর্তীতে রজত মজুমদার সারদায় যোগ দেন ও তাঁকে সংস্থার ভাইস চেয়ারম্যানের পদ দেওয়া হয়। এমনকি তিনি পরে রাজনীতিতেও সরাসরি প্রবেশ করেন। এরপর এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তা নাম লেখান বাংলা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসেও।

    সারদা মামলায় (Saradha Scam) এর আগেও গ্রেফতার হতে হয়েছে রজত মজুমদারকে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে গ্রেফতার করেছিল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা বা সিবিআই। পরে তিনি জামিনও পেয়ে যান। কিন্তু রেহাই হল না। ফের ইডির নজরে এসেছেন তিনি। তাই তাঁকে ইডির বিধান নগরের কার্যালয়ে ডেকে পাঠিয়ে শনিবার পর্যন্ত দু’দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁকে শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত জেরা করা হয় ও তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয় বলে সূত্রের দাবি।

    আরও পড়ুন: আদালতে স্বস্তি শুভেন্দুর! বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে আনা জনস্বার্থ মামলা খারিজ করল হাইকোর্ট

    প্রসঙ্গত, সারদা মামলা (Saradha Scam) নিয়ে তদন্ত শুরু করা হলে সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবযানী মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয় ও তারা আজও সংশোধনাগারে বন্দী। সারদা চিটফান্ড মামলায় ২০০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। আজও সেই টাকা সম্পূর্ণভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

    পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ইডির তৎপরতায় জল্পনা

    তবে আট বছর ধরে সারদা মামলার তদন্ত যেখানে পিছিয়ে গেছে, সেখানে হঠাৎ পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ঠিক আগেই আবারও সারদা নিয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের তৎপরতা শুরু হওয়ায় জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। বাংলার শাসক শিবিরের অভিযোগ ভোটের আগে তাদের বেকায়দা ফেলতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অন্যদিকে এই যুক্তি খারিজ করে দিয়ে রাজ্যের বিরোধী দল বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে যে, আদালতের নির্দেশেই সারদা কাণ্ডে (Saradha Scam) সিবিআই ও ইডির তদন্ত চলছে। বিপুল টাকা এখনও উদ্ধার হয়নি। ফলে বাকি টাকা উদ্ধারের জন্যই তদন্তকারী সংস্থা ফের তৎপর হয়ে উঠেছে।  

    সূত্রের খবর অনযায়ী, আগামী দিনে এই ঘটনায় (Saradha Scam) আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ইডির জেরার মুখে পড়তে হবে বলে জানা গিয়েছে। যেসব প্রভাবশালীরা সারদা থেকে লাভবান হয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের খুব শীঘ্রই তলব করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।

LinkedIn
Share