Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • 100 Days Work: বন্ধ ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা, নেই বিকল্প কাজ, পঞ্চায়েত ভোটের মুখে বিপাকে রাজ্য সরকার

    100 Days Work: বন্ধ ১০০ দিনের প্রকল্পের টাকা, নেই বিকল্প কাজ, পঞ্চায়েত ভোটের মুখে বিপাকে রাজ্য সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের দেওয়া টাকায় হয়েছে খয়রাতি। টাকার অভাবে বন্ধ হয়ে গিয়েছে একশো দিনের কাজ (100 Days Work) প্রকল্প। স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে চাপ। বিভিন্ন সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) দাবি করছেন, বিকল্প কাজ দেওয়া হচ্ছে। তবে তা যে নিছকই ফাঁকা আওয়াজ মাত্র, সরকারি নির্দেশেই তা স্পষ্ট।

    সম্প্রতি একটি সার্কুলার জারি করেছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব। ওই সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দফতরের তরফে জবকার্ড (Job Card) হোল্ডারদের যে কাজ দেওয়া হচ্ছে, তা সন্তোষজনক নয়। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সার্কুলারের নীচেই কী কী করতে হবে, তা বলে দেওয়া হয়েছে।

    প্রথম করণীয় কর্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, যে সব অদক্ষ শ্রমিকের জবকার্ড রয়েছে, একশো দিনের কাজ প্রকল্পে কেবল তাঁদেরই নিযুক্ত করতে হবে। দ্বিতীয় কর্তব্য হল, যাঁরা কোনওভাবে কাজে নিযুক্ত হয়েছেন, অথচ জবকার্ড নেই, জেলা প্রশাসনের উচিত তাঁদের তা অবিলম্বে দিয়ে দেওয়া। মুখ্য সচিবের জারি করা ওই নির্দেশিকায় হইচই রাজ্যজুড়ে। 

    একশো দিনের কাজ প্রকল্পে জবকার্ড হোল্ডাররা যাতে কাজ পান, তার ব্যবস্থা করেছে কেন্দ্র। গরিব মানুষ যাতে উপকৃত হন, সেজন্য একাধিক প্রকল্পও চালু করেছে মোদি সরকার। অভিযোগ, সেই সব কেন্দ্রীয় প্রকল্পকে রাজ্যের প্রকল্প বলে চালানো হচ্ছিল। একশো দিনের কাজেও বিস্তর দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। কেন্দ্রের দেওয়া টাকায় হয়েছে খয়রাতি। শেয়ালকে কুমির ছানা দেখানোর মতো একই কাজকে বিভিন্নভাবে দেখানো হয়েছে। সেই ‘চুরি’র পর্দা ফাঁস হয়ে যেতেই টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র। 

    পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় প্রকল্প খরচে অনিয়মের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বকেয়া টাকা দিতে দিল্লি যে নারাজ, তাও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবারই কেন্দ্রীয় গ্রামান্নোয়ন মন্ত্রকের মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্পের অধিকর্তা ধরমবীর ঝা রাজ্যের পঞ্চয়েত সচিব পি উল্গানাথনকে চিঠি দিয়ে এই অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বলেই নবান্ন সূত্রে খবর। রাজ্যে গ্রামান্নোয়ন প্রকল্পে খরচের অনিয়ম নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল যে সব প্রশ্ন তুলেছিল তা কার্যকর করা নিয়ে রাজ্য সরকারের অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে দিল্লি যে সন্তুষ্ট নয়, তাও পরিষ্কার করে দিয়েছে এই চিঠিতে।

    প্রায় ২ কোটি টাকা ভুয়ো খরচ হয়েছে বলে কেন্দ্রকে পাঠানো অ্যাকশন টেকেন রিপোর্টে উল্লেখ করেছে রাজ্য সরকার। পরের চিঠিতে কেন্দ্রীয় অধিকর্তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক দল বাংলায় এসে মাটি ফেলার কাজ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সেই সব কাজে খরচ হওয়া সমস্ত টাকা উদ্ধার করতে হবে। এই কাজে যে সব সরকারি কর্মচারি বা পঞ্চায়েত কর্মী টাকা আত্মসাৎ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কেন্দ্রের মতে, চালু রাস্তার ওপর মাটি ফেলার নাম করে তহবিল তছরুপ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত, রাজ্যে জব কার্ড হোল্ডারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এঁরা সবই অদক্ষ শ্রমিক। রাজ্য সরকার দাবি করেছিল, ১৬টি সরকারি দফতর থেকে জবকার্ড হোল্ডার এই অদক্ষ শ্রমিকদের বিকল্প কাজের সুযোগ করে দেওয়া হবে। কিন্তু, গত মে মাস থেকে এই দফতরগুলি মাত্র ২৮ লক্ষ ৪৪ হাজার জবকার্ড হোল্ডারকে গড়ে ১৮ দিন কাজ দিতে পেরেছে। ফলে, কাজ না থাকায় জব কার্ড হোল্ডারদের একটা বড় অংশ কাজ পাচ্ছেন না। তাই এখন জবকার্ড বিলিতে কাটছাঁট করতে চাইছে রাজ্য।

    আরও পড়ুন: নবান্নে এখনই বৈঠক হচ্ছে না অমিত শাহ- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, বাতিল হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলা সফর

    স্বাভাবিকভাবেই নবান্নের এখন জোড়া চিন্তা। এক, কেন্দ্রের কাছ থেকে বকেয়া টাকা পাওয়া এবং দুই, গ্রামবাংলার কর্মহীন মানুষকে বিকল্প কর্মসংস্থান দেওয়া। আপাতত তারই পন্থা হাতড়াচ্ছে নবান্ন। সেই কারণেই সরকারি সার্কুলার বলে দাবি ওয়াকিবহাল মহলের।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Crime by Police: কলকাতায় পাঁচ মাসে ১১ পুলিশ কর্মী গ্রেফতার, কোন কোন ‘অপরাধে’ জানেন?

    Crime by Police: কলকাতায় পাঁচ মাসে ১১ পুলিশ কর্মী গ্রেফতার, কোন কোন ‘অপরাধে’ জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রক্ষকই ভক্ষক! চুরি-ডাকাতি সহ নানা অপরাধে দুষ্কৃতীদের ধরাই যাঁদের কাজ, সেই পুলিশই কী না গ্রেফতার পুলিশের (Police) হাতে! আজ্ঞে হ্যাঁ। গত পাঁচ মাসে কলকাতায় (Kolkata) অন্তত ১১ জন পুলিশ (Kolkata Police) কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে। ধৃত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে রয়েছে অপহরণ, প্রতারণা, চুরি এবং হেনস্থা করার মতো গুরুতর সব অভিযোগ। এই সব সমস্যায় পড়লে বিপদগ্রস্ত মানুষ যেখানে পুলিশের ভরসায় থাকেন, সেখানে পুলিশই অভিযুক্ত হওয়ায় রাজ্যজুড়ে হাসির ছররা!

    অপহরণ, প্রতারণা, চুরি এবং হেনস্থা করার মতো গুরুতর অভিযোগে যেসব পুলিশ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁরা সবাই যে সাধারণ পুলিশ কর্মী, তা নন। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া পুলিশ কর্মীদের মধ্যে যেমন ন জন কনস্টেবল রয়েছেন, রয়েছেন একজন সিভিক ভলান্টিয়ার, তেমনি রয়েছেন একজন অ্যাসিস্টেন্ট সাব ইনসপেক্টরও।  

    ধৃত পুলিশ কর্মীদের অপরাধের ধরনও আলাদা। জনবহুল বাজার থেকে কাউকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে কোনও এক পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে। অপহৃত ব্যক্তিকে রাস্তায় ছেড়ে দেওয়ার আগে সর্বস্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। যাঁরা সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র দিতে চাননি, তাঁদের মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। চাকরির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণার অভিযোগও উঠেছে কারও কারও বিরুদ্ধে।

    আরও পড়ুন: “মাঝরাতে মহিলাদের আটক করা যায়?” প্রশ্নের মুখে পুলিশ প্রশাসন

    কিছুদিন আগেই রাজ্যে ইনসপেক্টর জেনারেল পদ থেকে অবসর নিয়েছেন প্রবীণ এক আইপিএস আধিকারিক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই আধিকারিক বলেন, এত কম সময়ে এক সঙ্গে এতজন পুলিশ কর্মীর, যাঁদের বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল চার্জ রয়েছে, গ্রেফতারি আমি চাকরি জীবনে দেখিনি। তিনি বলেন, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীই এই দফতরটা দেখেন।

    জানা গিয়েছে, সাদা পোশাক পরে অপরাধ (Crime by Police) করেননি গ্রেফতার হওয়া পুলিশ কর্মীরা। অপরাধ করার সময় তাঁরা পরেছিলেন পুলিশের উর্দিই। যার অর্থ, পুলিশের পরিচয়েই অপরাধ করেছেন তাঁরা। পুলিশের পরিচয়ে তাঁরা প্রথমে শিকারের বিশ্বাস অর্জন করেছেন, পরে সব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করে ছেড়েছেন। এক পুলিশ কর্মীর সরস মন্তব্য, অপরাধ করলে পুলিশও যে পার পাবে না, এটা একটা ভাল লক্ষণ!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Sukanta Majumdar: ‘দুধ দিলে ক্ষীর পাবে, কিন্তু…’, কাকে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন সুকান্ত, জানেন?

    Sukanta Majumdar: ‘দুধ দিলে ক্ষীর পাবে, কিন্তু…’, কাকে এমন হুঁশিয়ারি দিলেন সুকান্ত, জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুধ দিলে ক্ষীর পাবে। কিন্তু অন্য কিছু দিতে এলে উপযুক্ত পরিণাম পাবে। শিলিগুড়ির সেবক রোডে দলীয় এক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে একথা বলেন বিজেপির (BJP) রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। পঞ্চায়েত নির্বাচনে (Panchayat Poll) বিজেপি যে তৃণমূলকে (TMC) এমনি এমনি মাঠ ছেড়ে দেবে না, এদিন সুকান্তের কথায়ই তা স্পষ্ট। ওই ভোটে প্রয়োজন পড়লে তৃণমূলকে ‘কোচবিহার দাওয়াই’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন বালুরঘাটের অধ্যাপক-সাংসদ।

    নতুন বছরের এপ্রিলের দিকে পঞ্চায়েত ভোট হওয়ার কথা। এর আগের পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল ২০১৮ সালে। সেই ভোটে পঞ্চায়েতের সিংহভাগ আসনে বিরোধীদের প্রার্থীই দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। যে কটি আসনে বিজেপি প্রার্থী দিতে পেরেছিল, সেখানেই জয়জয়কার হয়েছে পদ্ম-প্রার্থীদের।

    তবে ২০১৮ সালের ওই নির্বাচনের সঙ্গে ২০২২ এর ফারাক যে বিস্তর, এদিন তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সুকান্ত (Sukanta Majumdar)। সেটা বোঝাতে গিয়েই কোচবিহার দাওয়াইয়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। এদিন শিলিগুড়ির ওই দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সুকান্ত বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচনে সন্ত্রাস হলে বর্তমান বিজেপি তা চুপ করে বসে দেখবে না। পুরসভার নির্বাচনের সময়ের বিজেপির সঙ্গে বর্তমান বিজেপিরও অনেক ফারাক। কিছুদিন আগেই তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে কোচবিহারে। এর পরেই হুঁশিয়ারির সুরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, দুধ দিলে ক্ষীর পাবে। কিন্তু অন্য কিছু দিতে এলে উপযুক্ত পরিণাম পাবে। তিনি বলেন, পঞ্চায়েত নির্বাচন এভাবে চোখে চোখ রেখে হবে।

    আরও পড়ুন: বিধানসভা উপনির্বাচনে ৪ আসনে জয়ী বিজেপি, কংগ্রেসের অবস্থান জানেন?

    প্রসঙ্গত, নভেম্বরের তিন তারিখ, বৃহস্পতিবার কোচবিহারে হামলা হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের কনভয়ে। ঘটনাটি ঘটে কোচবিহারের সিতাইয়ে। নিশীথের কনভয় যখন এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল, তখন একদল লোককে আচমকাই লাঠিসোঁটা নিয়ে ওই এলাকায় জড়ো হতে দেখা যায়। তারা মন্ত্রীর গাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও। সেদিন নিশীথও বলেছিলেন, ওই জনতার হাতে লাঠির পাশাপাশি পাথরও ছিল। পুলিশের উপস্থিতিতেই তারা এসব নিয়ে জমায়েত করেছিল। তিনি বলেছিলেন, কোনও মন্ত্রী তাঁদের সামনে আক্রান্ত হবেন, আর বিজেপির কর্মীরা তা বসে বসে দেখবেন, তা হবে না। নিশীথের সেই সুরই এবার শোনা গেল সুকান্তের (Sukanta Majumdar) গলায়ও!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Anubrata Mondal: লটারির মাধ্যমেও চলত কালো টাকা সাদা করার প্রয়াস! অনুব্রতকে জেরা সিবিআইয়ের

    Anubrata Mondal: লটারির মাধ্যমেও চলত কালো টাকা সাদা করার প্রয়াস! অনুব্রতকে জেরা সিবিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে হাওয়ায় উড়ছে কালো টাকা। চলছে সাদা করার নানান প্রয়াস। তারই একটা নয় তো লটারি, অনুমান গোয়েন্দাদের। বীরভূমের দাপুটে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের পর লটারিকাণ্ডে এবার ইডির নজরে রাজ্যের এক বিধায়কের স্ত্রী। ওই মামলায় বিধায়কের স্ত্রীকে দিল্লিতে তলব করেছে ইডি। লটারিতে অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mondal) কোটি টাকা প্রাপ্তি আসলে কি সত্য ঘটনা, নাকি এর পিছনে রয়েছে কোন গভীর ষড়যন্ত্র? তা জানতে বোলপুরে  পৌঁছে যায় সিবিআই (CBI) অফিসাররা। কিছুদিন আগে অনুব্রত মণ্ডল ডিয়ার লটারিতে ১ কোটি টাকা জিতেছিলেন। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওটা কালো টাকা সাদা করার একটা ধাপ।

    আরও পড়ুন: আদৌ কি লটারি জিতেছিলেন অনুব্রত? লটারি বিক্রেতার বয়ানে ঘনীভূত রহস্য

    লটারিকাণ্ডের তদন্ত পৃথক একটি এফআইআর দায়ের করেছে ইডিও। ইডি সূত্রে খবর, বিভিন্ন জেলায় একাধিক লোকের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে যারা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টিকিট কিনে নিয়ে কালো টাকা সাদা করেছেন। পাশাপাশি, লটারি কোম্পানির মালিকরাও ইডির নজরে রয়েছেন। কীভাবে ওই গোটা প্রক্রিয়া চলত তা জানার চেষ্টা করছে ইডি। এর জন্যই ওই তৃণমূল বিধায়কের স্ত্রীকে আগামী ১১ নভেম্বর দিল্লিতে ইডির অফিসে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তিনিও কিছুদিন আগে লটারি জেতেন। সূত্রের খবর,  কিছুদিন আগে ডিয়ার লটারিকাণ্ডে একটি তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তখনই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি আসে ইডির হাতে। ওইসব নথি থেকে তাঁরা জানতে পারেন শুধুমাত্র অনুব্রত মণ্ডলই নয়, আরও কয়েকজন রয়েছেন যাদের কালো টাকা সাদা করা হতো লটারির মাধ্যমে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ওই বিধায়কের স্ত্রীকে জেরা করে আরও অনেক তথ্য উঠে আসবে। অনুব্রত ছাড়া আর কারা লটারির মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করতেন তা জানা যাবে। 

    আরও পড়ুন: গরু পাচার মামলায় নতুন মোড়! বখরা পেতেন ২ বিধায়ক! ইডি-কে জানাল সায়গল

    লটারি জেতা প্রসঙ্গে আসানসোল সংশোধনাগারে গিয়ে অনুব্রতকে জিজ্ঞাসবাদ করে সিবিআই। দীর্ঘক্ষণ জেরা চলে। সিবিআই সূত্রে খবর, অনুব্রত এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। অনুমান, অনুব্রতকে জেরা করে পাওয়া তথ্য থেকেই তৃণমূল বিধায়কের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবে তদন্তকারীরা। দুজনের থেকে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Rajpur-Sonarpur Municipality: তৃণমূলের দুর্নীতির সেই ট্র্যাডিশন, অপসারিত রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ভাইস চেয়্যারম্যান

    Rajpur-Sonarpur Municipality: তৃণমূলের দুর্নীতির সেই ট্র্যাডিশন, অপসারিত রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ভাইস চেয়্যারম্যান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দুর্নীতির অভিযোগে অপসারিত রাজপুর- সোনারপুর পুরসভার (Rajpur- Sonarpur Municipality) উপ প্রধান মোফারজাল হোসেন। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেল বেলা রাজপুর- সোনারপুর পুরসভার চেয়্যারম্যান পল্লব কুমার দাস এই অপসারণের নোটিস জারি করেছেন। অপসারণের নোটিস প্রত্যেক কাউন্সিলরকে দিয়েও দেওয়া হয়েছে। 

    আরও পড়ুন: ৩,০০০ টাকা মাস মাইনের স্কুলের চাকরিও করেছেন, জানালেন অমিতাভ-কন্যা শ্বেতা

    মোফারজাল হোসেন ওরফে ভুলুর বিরুদ্ধে মিউটেশনের ফাইল বাড়ি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহুবার। মনে করা হচ্ছে ফাইল বাড়ি নিয়ে গিয়ে, কাজ করিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাড়িতেই টাকার অনৈতিক লেনদেন সারতেন তিনি। যদিও সেই কারণেই এই অপসারণ কি না সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। পল্লব কুমার দাসকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে, তিনি বলেন, ওপর তলা থেকে আদেশ এসেছিল। এর বেশি কিছু জানেন না তিনি।

    এর আগেও এই পুরসভার  ভাইস চেয়্যারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছিল। প্রশ্ন উঠছে তাহলে কি দুর্নীতিই তৃণমূল শাসিত এই পঞ্চায়েত-পুরসভাগুলির প্রথা হয়ে দাঁড়িয়েছে? এ তো তৃণমূল জমানায় নতুন কোনও ঘটনা নয়। কিন্তু হঠাৎ দুর্নীতি দমনে তৃণমূলের শীর্ষ মহলে এত সক্রিয়তা কেন? পঞ্চায়েত ভোটের আগে মানুষের আস্থা ফিরে পেতে চাইছে মমতা সরকার? নাকি পুরোটাই ‘গিমিক’! এ নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। 

    মোফারজাল হোসেন সোনারপুর কাউন্সিলরদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় মুখ। তাঁর প্রতি আস্থা দেখিয়েছে মমতা প্রশাসনও। প্রথমবার কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পরই তাঁকে উপ প্রধানের পদ দেওয়া হয়। কিন্তু অল্প সময়েই ভেঙে গেল বিশ্বাস। কী এমন হল? তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে। 

    কিন্তু এ ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০১৯ সালের জুন মাসে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ভাইস চেয়্যারম্যান শান্তা সরকারকেও সরিয়ে দিয়েছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। তাঁর বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার এবং দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ছিল। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।

  • Tapas Mondal: “যা বলার সব ইডিকে বলেছি…”, কী বললেন মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল?

    Tapas Mondal: “যা বলার সব ইডিকে বলেছি…”, কী বললেন মানিক ঘনিষ্ঠ তাপস মণ্ডল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: টানা ১২ ঘণ্টা ইডির (ED) দফতরে ছিলেন তাপস মণ্ডল (Tapas Mondal)। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিক ভট্টাচার্যের ঘনিষ্ঠ। বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ ইডি দফতর থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, যা বলার সব ইডিকে বলেছি। সব হিসেব মিলিয়ে দিয়েছি।

    ডিএলএড (DLED) কোর্সে ভর্তির জন্য পড়ুয়াদের কাছ থেকে প্রায় ২১ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তাপস (Tapas Mondal)। তাঁর আরও অভিযোগ, টাকা সংগ্রহ করতেন মানিকের লোক। এই মামলায় তাপসকে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, টানা জেরায় সব বলে দেন তাপস। জানিয়ে দেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত মোট ৪১ হাজার পড়ুয়ার কাছ থেকে অফলাইনে ভর্তির জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে। পুরো টাকাটাই গিয়েছে পলাশিপাড়ার বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের কাছে। বুধবার সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বের হওয়ার পর তিনি দাবি করেছিলেন, বৃহস্পতিবার ইডি দফতরে হাজিরা দিয়ে হিসেব দেবেন ওই ২১ কোটি টাকার।

    আরও পড়ুন: ‘‘সব বলে এসেছি…’’, ইডি-র সামনে কোন কোন সত্যের খোলসা করলেন কেষ্ট-কন্যা?

    এদিন তাপস (Tapas Mondal) বলেন, পর্ষদের সভাপতি ছিলেন উনি। স্বাভাবিকভাবেই উনি সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোনও অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা বলতে পারবে বোর্ড। তাপসের দাবি, তাঁর মহিষবাথানের অফিসে টাকার লেনদেন হয়েছে। তাপসের (Tapas Mondal) দাবি, ২০১৮ সাল থেকে ডিএলএড কলেজে অনলাইন ভর্তি শেষ হওয়ার পর দেখা যায় অনেক আসন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। এনিয়ে মানিকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, পড়ুয়াদের কাছ থেকে লেট ফি বাবদ নগদ পাঁচ হাজার করে টাকা নিয়ে অফলাইনে রেজিস্ট্রেশন করানো হবে।

    এদিকে, মানিককে আরও একটা সুযোগ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, পর্ষদের সভাপতি পদ থেকে অপসারণের যে রায় দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট, তার বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থন করে হলফনামা জমা দিতে পারবেন মানিক। ১৮ নভেম্বর আদালতে নিজের বক্তব্য জানাতে পারবেন তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ।   

  • WB Medical Council: মমতাকে সারদা মা বলার ‘পুরস্কার’ নির্মল মাজির, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছাপ্পা ভোট নিয়ে আদালতে বিরোধী শিবির 

    WB Medical Council: মমতাকে সারদা মা বলার ‘পুরস্কার’ নির্মল মাজির, রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে ছাপ্পা ভোট নিয়ে আদালতে বিরোধী শিবির 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সাময়িক দূরত্ব তৈরির ‘নাটকে’ আপাতত ইতি। ‘পুরস্কার’ পেয়ে গেলেন রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। নির্মল মাজিকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের মনোনীত সদস্য করার সিদ্ধান্তকে এমনি ব্যাখ্যা করছেন রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ। রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল গঠনে (WB Medical Council) বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না। কাউন্সিলের নির্বাচনে ছাপ্পা ভোট, ব্যালট চুরি, এমনকি বিরোধী প্রার্থী চিকিৎসক অর্জুন দাশগুপ্তের নাম ব্যালট থেকে কারচুপি করে বাদ দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভোট গণনার দিন, একটানা গণনা না করে, সাত ঘণ্টার বিরতি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর মধ্যেই রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে সেই বিতর্ক আরও দানা বাঁধে। 

    রাজ্য সরকার বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, নতুন কাউন্সিলে নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও সরকার মনোনীত প্রতিনিধি থাকছেন। আর সেই মনোনীত প্রতিনিধি তালিকায় রয়েছেন নির্মল মাজি।তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাজির বিরুদ্ধে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন চুরির অভিযোগ উঠেছিল কয়েক মাস আগে। তারপরেই নির্মল বাবু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মা সারদা-র সঙ্গে তুলনা করেন মালদা মেডিক্যাল কলেজের এক সভায়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিতর্ক অন্য মাত্রা নেয়। সাময়িকভাবে নির্মল বাবুর সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা করে তৃণমূল। তাকে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলের নির্বাচনে প্রার্থী হতেও নিষেধ করা হয়। 

    আরও পড়ুন: নিপীড়িতদের স্বাগত জানায় ভারত, ধর্মীয় সম্মেলনে বললেন আরএসএস নেতা

    যদিও এই সবটাই লোক দেখানো বলে মনে করছেন চিকিৎসকদের একাংশ। কালীপুজোর রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতেও নির্মল মাজি উপস্থিত ছিলেন। আর তারপরেই রাজ্য সরকারের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিলে জায়গা করে নেন নির্মল মাজি। অস্বচ্ছ নির্বাচনের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনের বিরোধী শিবির জয়েন্ট ডক্টর্স প্ল্যাটফর্ম। রাজ্যের শাসক দলের মদতে পেশি শক্তির জোরে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচন হয়েছে বলেই অভিযোগ তুলেছে বিরোধী শিবির। অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজে ব্যালট পৌঁছায়নি। চিকিৎসকেরা নিজেদের ভোট, নিজেরা দিতে পারেননি। এমনকি জাল ব্যালটের অভিযোগ করেছেন বিরোধী শিবিরের চিকিৎসকেরা। 

    ভোট গণনার দিন জাল ব্যালটের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বিরোধীদের বের করে দেওয়া হয়। অভিযোগ, রিটার্নিং অফিসারকে নিয়ে শাসক দলের প্রতিনিধিরা কয়েক ঘণ্টা বন্ধ করে মিটিং করেন। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও একটানা গণনা প্রক্রিয়া চলে না। গণনায় বিরোধী শিবির এগিয়ে যেতেই সাত ঘণ্টা গণনায় বিরতি নেওয়া হয়। শাসক দলের প্রতিনিধিদের জয়ী ঘোষণা করা হয়। এই সব অভিযোগ নিয়েই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে বিরোধী শিবির। বৃহস্পতিবার তার শুনানি হয়। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, বিচারপতি মৌসুমি ভট্টাচার্য এই অভিযোগগুলো যথাযথ ভাবে যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি জানিয়েছেন। আগামী ১০ নভেম্বর বিষয়টির ফের শুনানি হবে। 

    রাজ্যের চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, রাজ্যের চিকিৎসা পরিষেবা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, তা নজরদারির দায়িত্ব মেডিক্যাল কাউন্সিলের। রোগী ও চিকিৎসকের সম্পর্ক মজবুত করতেও কাউন্সিলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। রোগীর চিকিৎসা ও চিকিৎসক সংক্রান্ত কোনও অভিযোগ বা সমস্যা থাকলে, সে কাউন্সিলের দ্বারস্থ হবেন। কিন্তু কাউন্সিল যদি অস্বচ্ছ ভাবে তৈরি হয়, তাহলে সেই কাজ কি কাউন্সিল ঠিকমতো করতে পারবে? আর দায়িত্ব পালন না হলে তার প্রভাব রোগী পরিষেবাতেও পরবে।

  • CBI: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বীরভূম থেকে ৫ তৃণমূল কর্মী গ্রেফতার

    CBI: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় বীরভূম থেকে ৫ তৃণমূল কর্মী গ্রেফতার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় গ্রেফতার পাঁচ তৃণমূল (TMC) কর্মী। শুক্রবার বীরভূমের (Birbhum) সদাইপুর থানা এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেফতার করে সিবিআই (CBI)। এদিনই ধৃতদের তোলা হয় সিউড়ি জেলা আদালতে। বিচারক তাঁদের দু’দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিলেন।

    একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। এই নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলার পাশাপাশি বীরভূমেও ব্যাপক হিংসার অভিযোগ ওঠে। সদাইপুরের সাহাপুরে এক ব্যক্তির বাড়িতে ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি মহিলাদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। এদিন সেই সাহাপুর গ্রাম থেকেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা গ্রেফতার করেন পাঁচ তৃণমূল কর্মীকে। ধৃতরা হলো শেখ জামির হোসেন, শেখ কারিবুল ওরফে কারু, শেখ আসরফ ওরফে রাহুল, শেখ নুড়াই ও জয়ন্ত ডোম। 

    পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতারকে ঘিরে জেলা জুড়ে রাজনৈতিক শোরগোল উঠেছে। বিজেপির জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা জানান, সনাতনীদের উপর অত্যাচার করে তৃণমূল কর্মীরা ভেবেছিল পার পেয়ে যাবে। সঠিক বিচার পাবেন অত্যাচারে ভেঙে পরা বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় জানান, পরিকল্পিতভাবে গ্রামে গ্রামে এজেন্সি দিয়ে ভোটের আগে ভয় দেখানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এলাকার মানুষ সব জানেন।

    আরও পড়ুন: সিবিআই-এর তলব এড়িয়ে ই-মেল করলেন কেষ্ট কন্যা, কী লিখেছেন চিঠিতে?

    বিধানসভা ভোটে ফলাফল বেরনোর পরেই সদাইপুর এলাকায় একটি গ্রামে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে বেছে বেছে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। বাড়ির গরু, ছাগল থেকে সব লুঠপাট এমনকী মেয়েদের উপর নির্বিচারে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ ওঠে। ভাঙচুর চালানো হয় কর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে। এলাকার এক বিজেপি বুথ কর্মী জানান, তিনি বিজেপি করার অপরাধে তাঁর বাড়ির মহিলাদের ধর্ষণ করে তৃণমূলের কর্মীরা। তিনি সদাইপুর থানায় ধর্ষণের ও লুঠপাটের অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে সদাইপুর থানার পুলিশ। কিন্তু, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে আইনের কোনও বিচার হবে না বলে জেলা নেতৃত্বের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়।

    অবশেষে, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ভোট পরবর্তী হিংসা মামলায় ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেছে সিবিআই (CBI)। সেই সূত্রে অভিযুক্তদের দুর্গাপুরে সিবিআইয়ের শিবিরে তাদের ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।এরপর বৃহস্পতিবার রাতে সাহাপুর গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে সিবিআই সুত্রে জানা গিয়েছে। সিউড়ি আদালতের বিচারক ধৃতদের আগামী দু’দিন সিবিআই হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Dengue in Kolkata: রাজ্যে ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে ডেঙ্গি! আক্রান্ত ৫০ হাজার ছুঁইছুঁই

    Dengue in Kolkata: রাজ্যে ক্রমশ ভয়ঙ্কর আকার নিচ্ছে ডেঙ্গি! আক্রান্ত ৫০ হাজার ছুঁইছুঁই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর আকার নিয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর রাজ্যে মোট ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪২ হাজার ৬৬৬। ৫ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৫০ হাজারের কাছাকাছি চলে গিয়েছে। রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ৭০ পেরিয়েছে। প্রতিদিন তরতরিয়ে বাড়ছে সংক্রমণের গ্রাফ। আজই ডেঙ্গি সংক্রমিত হয়ে বেলেঘাটা আইডি-র প্রশাসনিক কর্তার মৃত্যু হল। অনির্বাণ হাজরা,নামে ওই প্রশাসনিক কর্তা  ১ নভেম্বর ভর্তি হয়েছিলেন বেলেঘাটা আইডি-তে। তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর। গতকাল অনির্বাণের প্লেটলেট নেমে আসে ১৬ হাজারে। পরে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলেও, শুক্রবার সকালে ফের অবস্থার অবনতি হয়। অনির্বাণকে সিসিইউ-তে স্থানান্তরিত করা হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। 

    আরও পড়ুন: ফের পারদ নামল কুড়ির ঘরে, শীতের প্রাক্কালে নিম্নচাপ! বাংলায় কি প্রভাব পড়বে?

    আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে এই মুহূর্তে সবথেকে খারাপ অবস্থা কলকাতা সহ তিন জেলায়। সব থেকে ভয়ানক পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনায়। এক সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন, ১ হাজার ১৬৬ জন।এর পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে শেষ এক সপ্তাহে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৬৪ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে কলকাতা। গত এক সপ্তাহে কলকাতায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৬৮১ জন। পার্বত্য শহর কালিম্পংয়েও ভয়ঙ্কর ডেঙ্গির প্রকোপ। সেখানে পজিটিভিটি রেট ১৯.০৫%। 

    আরও পড়ুন: রেকর্ড পারদ-পতন কলকাতায়! অক্টোবরেই তাপমাত্রা নামল ২০ ডিগ্রির নীচে

    স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বসিরহাট, ডায়মন্ড হারবার, আলিপুরদুয়ার এবং পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ডেঙ্গি সংক্রমণের হার দ্রুত বাড়ছে। কলকাতার পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ব্যারাকপুর ও হাওড়া পুরসভার পরিসংখ্যানও। ব্যারাকপুরে এক সপ্তাহে ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছে ৪০৮ জন। হাওড়ায় ২৩১ জন। পুরসভার ১, ৮, ৯, ১০, ১১ , ১২, ১৩ নম্বর বরোয় ডেঙ্গি সংক্রমণের বৃদ্ধির হার বেশি। তাই ওই বরোগুলির দিকে বাড়তি নজর রাখছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সমস্ত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্য সচিব। সূত্রের খবর, দক্ষিণ কলকাতায় সংক্রমণ বৃদ্ধির হার নিয়ে বিশদে আলোচনা হয়েছে। সরকারি ভাবে না মানলেও, স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা আড়ালে স্বীকার করছেন, এ বছরের ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড গড়েছে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook এবং Twitter পেজ। 

  • Malaria In West Bengal: বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ, কেন্দ্রকে পাঠানো রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ রাজ্যের 

    Malaria In West Bengal: বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ, কেন্দ্রকে পাঠানো রিপোর্টে আশঙ্কা প্রকাশ রাজ্যের 

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চিন্তা বাড়াচ্ছে মশাবাহিত আরেক রোগ। ডেঙ্গির পরে এবার ম্যালেরিয়া (Malaria In West Bengal) আক্রান্তের সংখ্যা চিন্তা বাড়াচ্ছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের। সম্প্রতি কেন্দ্র সরকারকে পাঠানো তথ্যে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর ম্যালেরিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম থেকেই ম্যালেরিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। এপ্রিল মাসে দেড় হাজারের উপরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল। জুন মাসে সেই আক্রান্ত দ্বিগুণ হয়। আক্রান্ত বেড়ে দাঁড়ায় সাড়ে চার হাজার। অগাস্ট মাসে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১৩,৮১২ জন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর ব্যোন ডিজিজ কন্ট্রোল-কে দেওয়া শেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে রাজ্যের ১৯ হাজার মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশের আশঙ্কা, এ বছর আক্রান্তের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেশি হবে। তবে, ম্যালেরিয়ার মৃত্যুর সংখ্যা কম হওয়ায় কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকা যাচ্ছে বলে স্বাস্থ্য কর্তাদের একাংশ জানালেও, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক বলেই মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের।

    রাজ্যে ডেঙ্গি পরিস্থিতি ভয়াবহ। এক সপ্তাহে ডেঙ্গি আক্রমণ হাজার পেরিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় ম্যালেরিয়ার প্রকোপ পরিস্থিতি আরও জটিল করছে বলেই মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই একসঙ্গে ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে, তাদের শারীরিক অবস্থা আরও সঙ্কটজনক হচ্ছে। বিপদ আরও বাড়ছে। ফলে, ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় প্রশাসন সক্রিয় না হলে পরিস্থিতি ভয়ানক হতে পারে।

    জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অনির্বাণ সাহা জানান, ২০২০ সালেই মৌসম ভবন থেকে জানিয়েছিল, জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে, আগামী কয়েক বছর ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বাড়বে। প্রশাসনকে সক্রিয় থাকতে হবে। মশাবাহিত রোগ কমাতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রাজ্যের তরফে বিশেষ কোনও কাজ চোখে পড়েনি। যদিও ম্যালেরিয়া মানচিত্রে বরাবর গোটা দেশের মধ্যে কলকাতা সবসময় উল্লেখযোগ্য ভাবে উপস্থিত থাকে। তারপরেও মশাবাহিত এই রোগকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দেয়নি। ফলে ভুগতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। 

    আরও পড়ুন: ডেঙ্গির পাশাপাশি রাজ্যে বাড়ছে ম্যালেরিয়ার প্রকোপও, আক্রান্ত কত জানেন?

    চিকিৎসকদের পরামর্শ, জ্বর হলে একেবারেই অবহেলা করা উচিত নয়। ম্যালেরিয়ার উপসর্গ হল, জ্বর, সর্দি, বমি, মাথা যন্ত্রণা, পেশিতে টান লাগা, গলা ব্যথা। তাই এই ধরণের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। প্রয়োজনীয় শারীরিক পরীক্ষা করে চিকিৎসা দ্রুত শুরু করতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো যেতে পারে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অনেকেই জ্বর হলেও রক্ত পরীক্ষা করাচ্ছেন না। ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েও অনেকে প্রথমে টের পাচ্ছেন না। অবহেলার জেরে পরিস্থিতি জটিল হচ্ছে। যখন হাসপাতালে রোগী পৌঁছোচ্ছেন, তখন অনেকটাই দেরি হয়ে যাচ্ছে। তাই জ্বরকে কোনও ভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় বলেই পরামর্শ চিকিৎসকদের। 

    তবে, মশাবাহিত এই রোগের দাপট কমাতে যেমন সাধারণ মানুষের সচেতনতা জরুরি, তেমনি প্রশাসনের সক্রিয়তাও প্রয়োজন, বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। কারণ, প্রশাসনের নজরদারি না থাকলে এই ধরণের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ করা মুশকিল বলেই মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ। কিন্তু অধিকাংশ পুরসভা ও পঞ্চায়েতের এই সব কাজে নিয়ম মাফিক সক্রিয়তার অভাব রয়েছে।

LinkedIn
Share