Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    Firhad Hakim: বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল, মেয়র পদে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ, ‘ভাতিজা’র বাড়িতে ইডির নোটিশ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধ-দুপুরেই ছত্রখান হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া তৃণমূল (TMC)। তার রেশ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই তৃণমূল সুপ্রিমোর কাছে এল আরও একটি দুঃসংবাদ – কলকাতা পুরসভার মেয়র পদে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। মিউনিসিপ্যাল আইন অনুযায়ী ফিরহাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরসভার চেয়ারপার্সন বা কমিশনারের কাছে গিয়ে জমা দিতে হবে পদত্যাগপত্র। সূত্রের খবর, ফিরহাদের ইস্তফায় সম্মতি দিয়েছেন মমতা।

    কুণালের বক্তব্য (Firhad Hakim)

    বিধায়ক তথা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম আমাদের দলনেত্রীর কাছে বারবার ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন। শেষের দিন আমিও ছিলাম। কথা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, যা পরিস্থিতি তাতে কাজ করা যাচ্ছে না।” তিনি বলেন, “ফিরহাদ হাকিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও গত কয়েকদিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করেছেন। জানিয়েছিলেন পদত্যাগের ইচ্ছের কথা। নেত্রী ওঁকে বারণ করেছিলেন। কিন্তু ফিরহাদ জানান, সম্মানের সঙ্গে নিষ্কৃতি চান তিনি। এর পরে মমতা সম্মতি দিয়েছেন।’’ কুণাল এমন মন্তব্য করলেও, এ নিয়ে ফিরহাদ এখনও কিছু বলেননি।

    ইঙ্গিত মিলেছিল মঙ্গলবারই

    ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী ফিরহাদকে বসানো হয় মেয়র পদে। বিরোধীদের মতে, নিজেকে মুসলমান দরদি প্রমাণ করতেই এমনটা করেছিলেন নেত্রী। ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার মেয়রের কুর্সিতে বসেন ফিরহাদ। কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা ৮২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরহাদ প্রায় আট বছর মন্ত্রিত্ব এবং মেয়র পদ সমানতালে সামলানোর পর বুধবার আচমকা করেন পদত্যাগ। মঙ্গলবারই (Firhad Hakim) কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদে ইস্তফা দেন তৃণমূলেরই তারক সিং। তিনি ফের নিশানা করেন ফিরহাদকে। তৃণমূলের প্রতীকে আর ভোটে না দাঁড়ানোর কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারক। বলেন, ‘‘কর্মী এবং সমর্থকদের কোনওভাবে সুরক্ষা দিচ্ছেন না দলীয় নেতৃত্ব। তাই ওই ঠান্ডা ঘরে বসে জ্ঞানের বাণী শোনার কোনও ইচ্ছে আমার নেই।” তারকের ইস্তফার পর ফিরহাদ বলেছিলেন, ‘‘আমরা একটা টিম হিসাবে কাজ করি। যা করব একসঙ্গেই করব।’’ তারপর (TMC) এদিন পদত্যাগ করেন ফিরহাদ।

    এদিকে, সিআইডির পর এবার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে নোটিশ পাঠাল ইডি। নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত মামলায় ওই নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে খবর। সব মিলিয়ে বুধেই ব্যতিব্যস্ত তৃণমূল (Firhad Hakim)!

     

  • Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    Ritabrata Banerjee: দু’টুকরো হয়ে গেল মমতার সাধের তৃণমূল! বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের পর এক মাসও কাটেনি, ভেঙে দু’টুকরো হয়ে গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে গড়া সাধের তৃণমূল। একদিকে রয়েছেন মমতা এবং হাতে গোণা কয়েকজন বিধায়ক, আর অন্যদিকে রয়েছেন সদ্য তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত প্রাক্তন সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হলেন তিনিই (Opposition Leader)। নয়া বিরোধী দলনেতার জন্য বুধবারই খুলে দেওয়া হল বিধানসভার ঘর। তাঁর হাতে চাবি তুলে দেন স্পিকার রথীন্দ্র বসু।

    ঋতব্রতর দাবি (Ritabrata Banerjee)

    ঋতব্রতর দাবি, তৃণমূলের টিকিটে জয়ী দুই-তৃতীয়াংশই ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। তাঁরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বিধানসভায় শাসক বিজেপির চোখে চোখ রেখে লড়াই করবেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘‘আপাতত ৫৮ জন। আরও দু’জন আছেন। তাঁরা এখন রাজ্যের বাইরে। তাঁদের সম্মতি রয়েছে। তাঁদের সমর্থন এলে এই সংখ্যা ৬০ হবে।’’ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতা হওয়ার আবেদনও জানান ঋতব্রত। তিনি জানান, বিধানসভায় মুখ্যসচেতক করা হয়েছে আখরুজ্জামানকে। ডেপুটি লিডার করা হয়েছে চার জনকে— জাভেদ আহমেদ খান, সাবিনা ইয়াসমিন, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহাকে। তাঁদের সমর্থনের চিঠি বিধানসভার স্পিকারকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ঋতব্রতর

    ঋতব্রত বলেন, ‘‘মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। তাঁকে ধন্যবাদ যে, বিরোধীদের নিয়ে তিনি বৈঠক করেছেন। আমরা কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনার বিরোধী বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। আমরা দায়িত্বশীল, সদর্থক বিরোধীর ভূমিকা পালন করব। সরকারের চোখে চোখ রেখে লড়াই হবে। তাদের সদর্থক পদক্ষেপের প্রশংসাও করব।’’ তিনি (Ritabrata Banerjee) বলেন, ‘‘বাংলার মাটিতে মানুষ রায় দিয়েছেন আমাদের বিরোধী আসনের জন্য। সেটা মেনে নিতে হবে। আমি ‘বস্’ নই। আমি বসিংয়ে বিশ্বাসী নই। আমি আমরায় বিশ্বাস করি। সব সিদ্ধান্ত আমরা আলোচনা করে নেব।’’

    বিরোধী দলনেতার ঘর বরাদ্দ ঋতব্রতকে

    প্রসঙ্গত, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কাছে তৃণমূল গোহারা হারতেই প্রকাশ্যে চলে আসে দলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। ‘আইপ্যাক এবং ভাইপো কালচারে’র কারণেই যে পদ্মফুলের কাছে ঘাসফুল ধরাশায়ী হয়েছে, তা নিয়েও সোচ্চার হন অনেকে। বিজেপি সরকার গঠনের দিন কয়েক পর কালীঘাটের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেছিলেন মমতা। সেখানেও বিধায়কদের সিংহভাগকেই দেখা যায়নি। পরে বিধায়কদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চেয়েছিলেন কংগ্রেস ভাঙিয়ে তৃণমূল গড়ার কান্ডারি মমতা। সেই বৈঠকে ৮০ জনের মধ্যে হাজির ছিলেন মাত্রই ১৯ জন। ক্ষোভে বৈঠক বাতিল করে দেন মমতা। পরে সইকাণ্ডের জেরে আরও চওড়া হয় তৃণমূলের ফাটল। যার জেরে বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রতকে। ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিরোধী দলনেতার পদ দাবি করেন তিনি। ঋতব্রতর দাবিকে (Opposition Leader) মান্যতা দিয়ে এদিন বিধানসভায় খুলে দেওয়া হয় বিরোধী দলনেতার ঘর (Ritabrata Banerjee)।

     

  • Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    Jay Prakash Majumdar: এবার পুলিশের জালে জয়প্রকাশ মজুমদার, ১৪ বছর ধরে ফ্ল্যাট জবরদখল ও বৃদ্ধা মালকিনকে হুমকির অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের আইনি বিপাকে পড়ার ধারা অব্যাহত। এবার ফ্ল্যাট জবরদখল, বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তৃণমূল (Tmc Leader) নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। বুধবার সল্টলেকের বিধাননগর এলাকার একটি আবাসনকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। সেখানে জয়প্রকাশকে (Jay Prakash Majumdar) ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে তাঁকে আটক করে এবং পরে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

    ঘটনার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন বিতর্ক (Jay Prakash Majumdar)

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আইনি বিরোধের সূত্রপাত প্রায় এক দশক আগে। মামলার বিবরণ নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

    • ● ভাড়ার চুক্তি: ২০১২ সালে বিধাননগরের এই-৩৩৭ নম্বর ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। ফ্ল্যাটটির মূল মালকিন আরতি রায়চৌধুরী নামের এক বৃদ্ধা।
    • ● চুক্তির মেয়াদোত্তীর্ণ: ২০১৫ সালে ওই ভাড়ার চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর দীর্ঘ ৯ বছর কেটে গেলেও জয়প্রকাশ নতুন কোনো চুক্তি করেননি বা পুরনো চুক্তির নবীকরণও করাননি।
    • ● আইনি নোটিস অমান্য: ফ্ল্যাটের মালকিন আরতি রায়চৌধুরী তাঁকে একাধিকবার আইনি নোটিস পাঠিয়ে ফ্ল্যাটটি খালি করে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, বিদায়ী শাসকদলের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় জয়প্রকাশ সেই নোটিসে কর্ণপাত করেননি; উল্টো বৃদ্ধা মালকিনকে কটূক্তি ও হুমকি দেওয়া হয়।

    রাজনৈতিক পটভূমি

    তৃণমূল কংগ্রেস (Tmc Leader) ক্ষমতায় থাকাকালীন জয়প্রকাশ মজুমদারের রাজনৈতিক দাপটের কারণে আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার আইনি পথে লড়াই করেও ফ্ল্যাটটি উদ্ধার করতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে এবং বিজেপি প্রথমবার সরকার গঠন করেছে। এই ক্ষমতার পালাবদলের পরেই আরতি রায়চৌধুরীর পরিবার নিজেদের সম্পত্তি ফিরে পেতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

    বুধবারের উত্তেজনা ও গ্রেফতারি

    কয়েক দিন আগেই আরতি রায়চৌধুরী কিছু অনুগামীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে যান। সে সময় জয়প্রকাশ (Jay Prakash Majumdar) বাড়িতে না থাকায় তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বচসা হয় এবং আরতিদেবী জয়প্রকাশের স্ত্রীকে চড় মারেন বলেও একটি পাল্টা অভিযোগ ওঠে। এর রেশ ধরে বুধবার পুনরায় ওই ফ্ল্যাটের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে জড়ো হন বেশ কিছু মানুষ। দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বিক্ষোভকারীদের ওপর জয়প্রকাশ মজুমদার চড়াও হন এবং হাত তোলেন। ঘটনার খবর পেয়েই বিধাননগর উত্তর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী সেখানে পৌঁছায়। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখান থেকেই জয়প্রকাশকে ধরে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর ফ্ল্যাট জবরদখল ও হুমকির অপরাধে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।

  • Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    Suvendu Adhikari: কাকলির পর শুভেন্দুর বৈঠকে ফিরহাদ-কুণাল-নয়না! হাজির ঋতব্রতও, বঙ্গ রাজনীতিতে নতুন মোড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। এবার সেই বদলের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হল বুধবার নবান্নে আয়োজিত একটি হাইপ্রোফাইল বৈঠককে কেন্দ্র করে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত হলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং তৃণমূলের তিন বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim), জাভেদ খান এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন সরকারের মেয়াদের শুরুতেই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী শিবিরের দুই নেতার উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠকের নেপথ্যে কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, বরং শাসকদলে যোগদানের সুপ্ত ইঙ্গিত বা ‘দলবদল’-এর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    বৈঠকের প্রেক্ষাপট ও রুদ্ধদ্বার আলোচনা (Suvendu Adhikari)

    গত ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূল শিবিরের একাধিক প্রথম সারির নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলের গঠনমূলক পরামর্শকে স্বাগত জানানো হবে। তবে প্রশাসনিক আলোচনার আড়ালে এই বৈঠকের রাজনৈতিক গুরুত্ব যে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী, তা মানছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

    সৌজন্য সাক্ষাৎ নাকি অন্য কিছু?

    নবান্ন সূত্রে খবর, বৈঠকটি বেশ কিছু সময় ধরে চলে। যদিও বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) উভয়েই একে একটি ‘প্রশাসনিক সৌজন্য সাক্ষাৎ’ এবং কলকাতার কিছু বকেয়া উন্নয়নমূলক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা বলে দাবি করেছেন। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “কলকাতার মেয়র হিসেবে শহরের বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই আমি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছিলাম।” অন্যদিকে, কুণাল ঘোষও বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে হালকা করার চেষ্টা করে বলেন, “প্রতিটি বৈঠকের পেছনেই দলবদলের সমীকরণ খোঁজা অর্থহীন।” উল্লেখ্য এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খানও।

    জল্পনা বনাম বাস্তবতা

    তৃণমূল রাজত্বে দুই অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী নেতার এভাবে নবান্নে এসে মুখ্যমন্ত্রীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে বৈঠক করাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা কেবল ‘প্রশাসনিক’ বলে মানতে নারাজ। এই বৈঠকের নেপথ্যে মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ উঠে আসছে। এই সমীকরণগুলি হল-

    নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক অস্তিত্ব

    রাজ্যে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠার পর তৃণমূলের বহু বিদায়ী মন্ত্রী ও নেতার সরকারি নিরাপত্তা ও ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং এলাকার উন্নয়ন সচল রাখতে নতুন শাসক শিবিরের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা ছাড়া অন্য কোনও বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন অনেকে।

    তৃণমূলের অন্দরে ক্ষোভ

    বেশ কিছুদিন ধরেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে পুরনো বনাম নতুন নেতৃত্বের কোন্দল প্রকাশ্যে আসছিল। বিশেষ করে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) মতো নেতারা অতীতেও দলের একাংশের বিরুদ্ধে একাধিকবার সোচ্চার হয়েছিলেন। ফলে এই বৈঠক দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে।

    শুভেন্দুর কৌশলী অবস্থান

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) বরাবরই তৃণমূলের সাংগঠনিক দুর্বলতাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করতে দক্ষ। বিরোধী শিবিরের (Kunal Ghosh-Firhad Hakim) হেভিওয়েট নেতাদের নবান্নে ডেকে বৈঠক করার মাধ্যমে তিনি একদিকে যেমন ‘উদার ও সমন্বয়বাদী’ নেতার ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন, অন্যদিকে বিদায়ী শাসকদলকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে ব্যাকফুটে ঠেলে দিচ্ছেন।

    রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

    এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতির অন্দরে কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয়ে গেছে। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, তৃণমূলের বহু নেতাই এখন নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়ন যজ্ঞে শামিল হতে যোগাযোগ রাখছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তালিকা আরও দীর্ঘ হবে।

    ঋতব্রত-সন্দীপনদের সঙ্গেই কুণাল-ববিরা!

    ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা সন্দীপন সাহার মতো প্রকাশ্য বিদ্রোহীরা যে শুভেন্দুর বৈঠকে আসবেন, তা আগেই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু, কুণাল-ববি-নয়নার উপস্থিতি আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্তও ফিরহাদ হাকিম (কলকাতার মেয়র) এবং কুণাল ঘোষের মতো নেতাদের কোণঠাসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার বার্তা দিতে দেখা গিয়েছিল। অথচ, বুধবার তাঁদের দেখা গেল নবান্নের কনফারেন্স রুমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঠিক কয়েক আসন দূরে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে বসে থাকতে।

    ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’

    অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দলের একাংশ বিষয়টিকে তীব্র সমালোচনা করে একে ‘সুবিধাবাদী রাজনীতি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁদের মতে, দলের কঠিন সময়ে যাঁরা এভাবে বিরোধী শিবিরের দরজায় কড়া নাড়ছেন, তাঁরা আদতে নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। তবে অন্য একটি অংশের দাবি, গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় একজন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা দেখা করতেই পারেন, একে দলবদল ভাবা অতি রঞ্জিত মানসিকতার পরিচয়। সব মিলিয়ে, শুভেন্দুর সঙ্গে (Suvendu Adhikari) নবান্নের এই বৈঠক যে আগামী দিনে বাংলার রাজনৈতিক চালচিত্রকে অনেকটাই প্রভাবিত করবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ কেবলই প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি অদূর ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় রাজনৈতিক দলবদলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে।

  • Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    Sourav Ganguly: সৌরভের নিরাপত্তায় কাটছাট, ‘জেড’ থেকে দু’ধাপ নামিয়ে ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরি করল শুভেন্দুর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও বিশিষ্টজনদের সরকারি নিরাপত্তা খতিয়ে দেখার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হল ভারতীয় ক্রিকেট দলের প্রাক্তন অধিনায়ক তথা বর্তমান সিএবি (CAB) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম। গত তিন বছর ধরে রাজ্য সরকারের ‘জেড ক্যাটাগরি’ (Z Category)-র নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন তিনি। তবে নতুন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর সুরক্ষাবলয় কমিয়ে এবার ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’ (Y Category) করা হয়েছে। এই বিষয়ে সৌরভের (Sourav Ganguly) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

    সরকারি নিরাপত্তার বিভিন্ন স্তর (Sourav Ganguly)

    সাধারণত কার জীবনের ঝুঁকি (Threat Perception) কতটা, গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে তা পর্যালোচনা করেই সরকারি নিরাপত্তার স্তর নির্ধারণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী, সাংসদ-বিধায়ক, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতি এবং শীর্ষ আমলাদের পাশাপাশি চলচ্চিত্র তারকা, শিল্পপতি ও খেলোয়াড়দেরও এই নিরাপত্তা দেওয়া হয়ে থাকে। সুরক্ষার এই বিন্যাস মূলত তিনটি স্তরে বিভক্ত—‘এক্স’, ‘ওয়াই’ (Y Category) এবং ‘জেড’। এর মধ্যে ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের ক্ষেত্রে ‘প্লাস’ (Plus) নামক আরও একটি উচ্চতর ক্যাটাগরি থাকে— ‘ওয়াই প্লাস’ এবং ‘জেড প্লাস’। অর্থাৎ, ‘ওয়াই’ এবং ‘জেড’ স্তরের মাঝে থাকে ‘ওয়াই প্লাস’। সেই দিক দিয়ে ‘মহারাজ’-এর নিরাপত্তা দুই ধাপ কমিয়ে দেওয়া হল।

    সৌরভের নিরাপত্তার বিবর্তন

    ২০২৩ সালের মে মাস পর্যন্ত সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) ‘ওয়াই ক্যাটাগরি’র (Y Category) নিরাপত্তাই পেতেন। সে সময় কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চের তিনজন কর্মী (যার মধ্যে দুজন সশস্ত্র) তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকতেন। এরপর তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁর নিরাপত্তা বাড়িয়ে ‘জেড’ ক্যাটাগরি করে। এর ফলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৮ থেকে ১০ জনে। পাশাপাশি, তাঁর বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং রাস্তায় চলাচলের জন্য দেওয়া হয় পাইলট কার। সব মিলিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন পুলিশকর্মী তাঁর সুরক্ষায় নিযুক্ত ছিলেন।

    রাজ্যে প্রশাসনিক সংস্কার এক নজরে নিরাপত্তা কাটছাঁট

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, সুনির্দিষ্ট প্রয়োজন ছাড়া কাউকে অতিরিক্ত সরকারি নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই এই পর্যালোচনা শুরু হয়। তৃণমূল জমানায় রাজ্যে সর্বোচ্চ অর্থাৎ ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পেতেন মূলত তিনজন— রাজ্যপাল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়া নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন এবং কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমও উচ্চস্তরের নিরাপত্তা পেতেন। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই চিত্রে বড় বদল এসেছে:

    • ● মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: কালীঘাটের বাড়ি থেকে বাড়তি পুলিশ পাহারা সরানো হয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আইনত তিনি যতটুকু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী, তাঁকে ঠিক ততটুকুই দেওয়া হচ্ছে।
    • ● অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়: তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। একজন সাধারণ সাংসদ হিসেবে তাঁর প্রাপ্য সুরক্ষাই বহাল রাখা হয়েছে।
    • ● অন্যান্য: একাধিক তৃণমূল নেতা এবং প্রাক্তন শীর্ষ পুলিশ কর্তাদের নিরাপত্তার পরিধিও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে।

    নেপথ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ ও ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’

    সৌরভের (Sourav Ganguly) নিরাপত্তা হ্রাসের এই ঘটনাকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের পারদ ওঠানামার চশমায় দেখছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সৌরভকে ‘মুখ’ করে বাংলায় বৈতরণী পার হতে চেয়েছিল বিজেপি। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সক্রিয় ভূমিকায় সৌরভ বিসিসিআই (BCCI) সভাপতি হন। ২০২০ সালে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত পুজোয় সৌরভ-পত্নী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নৃত্য পরিবেশন কিংবা ২০২১-এর নির্বাচনের ঠিক আগে সৌরভের বেহালার বাড়িতে অমিত শাহের নৈশভোজ— এই সমস্ত ঘটনাকে সেই রাজনৈতিক অঙ্কেরই অংশ মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌরভ রাজনীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখায় বিজেপি নেতৃত্ব একে একপ্রকার ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ হিসেবেই দেখেছিল।

    শালবনী নিয়ে কটাক্ষ শমীকের

    সৌরভ বরাবরই উভয় পক্ষের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলার নীতি বা ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’ পছন্দ করেছেন। একদিকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যেমন তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল, অন্যদিকে অমিত শাহের সঙ্গেও তিনি সম্পর্ক তিক্ত করতে চাননি। তবে অতি সম্প্রতি শালবনি কারখানার প্রসঙ্গ টেনে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সৌরভকে কটাক্ষ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, বর্তমান শাসক দল সৌরভকে ঠিক কোন নজরে দেখছে, সেই কটাক্ষেই তা স্পষ্ট ছিল। আর এবার নিরাপত্তার বহর কমিয়ে নবান্ন সেই রাজনৈতিক বার্তাই প্রশাসনিকভাবে কার্যকর করল বলে মনে করা হচ্ছে।

  • Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    Arijit Das Thakur: তোলাবাজির অভিযোগে ফের গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর, তালিকায় এবার অরিজিৎ দাস ঠাকুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক শাসকদলের বিদায়ী নেতা ও কাউন্সিলরের গ্রেফতারির পালা চলছে। সুদীপ পোল্লে এবং সচিন সিংয়ের পর এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন কলকাতা পুরনিগমের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)। তোলাবাজিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। বুধবারই তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের দুর্নীতি এবং তোলাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বিজেপি সরকার।

    ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে টাকা তোলার অভিযোগ (Arijit Das Thakur)

    তৃণমূল নেতাদের (TMC Councillor) বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি এই নিয়ে বারবার সরব হলেও, শাসকদলের পক্ষ থেকে কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠত। তবে রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আইন এখন নিজের পথে চলছে এবং একের পর এক প্রভাবশালী নেতার শ্রীঘরে ঠাঁই হচ্ছে। অরিজিতের বিরুদ্ধে মূলত স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে রাজ্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই এভাবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ধরপাকড় চলছে।

    অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur) তৃণমূলের দীর্ঘদিনের প্রবীণ নেতা দুলাল দাস ঠাকুরের পুত্র। এলাকায় তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল। অথচ, সম্প্রতি দল তাঁকে নিজেদের আইটি (IT) সেলে বড়সড় দায়িত্বও দিয়েছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না; ব্যবসায়ীদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে গড়ফা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

    এক নজরে সাম্প্রতিক গ্রেফতারি

    কলকাতা পুরনিগমে এই নিয়ে পরপর তিনজন তৃণমূল কাউন্সিলর (TMC Councillor) পুলিশের জালে ধরা পড়েছে। যারা যারা অসৎ উপায় অবলম্বন করে মানুষের জনজীবনকে বিপন্নকে করেছেন তাঁদের আরও কয়েকজন সম্পর্কে অভিযোগগুলি ছিল ভীষণ গুরুতর। সুদীপ পোল্লে, ওয়ার্ড নম্বর ১২৩, কলকাতা পুরনিগমের প্রথম কাউন্সিলর হিসেবে কয়েকদিন আগে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। এরপর সচিন সিং, ওয়ার্ড নম্বর ৩৬, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ভাঙচুর, লুটপাট ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে গত ২৭ মে নারকেলডাঙা থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে।

    সচিন সিংয়ের গ্রেফতারির নেপথ্যে রয়েছে ২০২১ সালের ৪ মে-র একটি ঘটনা। অভিযোগকারী আদর্শ পাণ্ডে দাবি করেন, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ সচিন সিংয়ের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়। বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর পাশাপাশি তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। সেই পুরনো মামলার তদন্তে নেমেই পুলিশ সচিনকে গ্রেফতার করে। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পুলিশের জালে ধরা পড়লেন ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের অরিজিৎ দাস ঠাকুর (Arijit Das Thakur)।

  • Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    Ritabrata Banerjee: সই জালিয়াতি থেকে বিদ্রোহ! বহিষ্কৃত ঋতব্রতর নেতৃত্বে বিধানসভায় ৫৮ বিধায়কের শক্তিপ্রদর্শন, কাঁপছে তৃণমূল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শোভনদেব না ঋতব্রত? বিরোধী দলনেতা বিতর্কে নজিরবিহীন বিদ্রোহ তৃণমূলে। যার জেরে ভেঙে দু’টুকরো ঘাসফুল!

    তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট

    ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’মাসের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসে নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন কার্যত দলীয় ভাঙনের রূপ নিয়েছে। বুধবার বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ একটি চিঠি জমা পড়েছে, যেখানে উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার দাবি জানানো হয়েছে। পরে আরও ছ’জন এসে সই করবেন বলে জানানো হল ‘নতুন’ তৃণমূলের তরফে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সংখ্যার বিচারে তৃণমূলের বৃহত্তর অংশ এখন ঋতব্রতর নেতৃত্বে অবস্থান করছে বলে দাবি উঠেছে। যদিও বিদ্রোহী বিধায়করা এখনও নতুন কোনও রাজনৈতিক দল গঠনের পথে হাঁটেননি এবং তাঁরা প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের সর্বোচ্চ নেত্রী।

    কী রয়েছে স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতে?

    বুধবার সকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়ক বিধানসভায় গিয়ে স্পিকার রথীন্দ্র বসুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের হাতে ছিল ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষরযুক্ত একটি চিঠি। সেই চিঠিতে শুধু ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা করার আবেদনই নয়, বিধানসভার তৃণমূল পরিষদীয় দলের নতুন কাঠামোরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে—

    • ● বিরোধী দলনেতা: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
    • ● উপদলনেতা: সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান ও শিউলি সাহা
    • ● মুখ্য সচেতক: আখরুজ্জামান

    তবে স্পিকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার চিঠি গ্রহণ করে স্বীকৃতি দিলেই ঋতব্রত আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পাবেন।

    কোথা থেকে শুরু হল বিতর্ক?

    এই রাজনৈতিক নাটকের সূত্রপাত বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু অভিযোগ ওঠে, সেই প্রস্তাবপত্রে বহু বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে আনেন তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁরা স্পিকারের কাছে লিখিত অভিযোগ জানান। পরে হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে সহায়তা করতে নামে সিআইডিও। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই সিআইডি অন্তত ১৩ জন বিধায়কের সঙ্গে কথা বলেছে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়তে থাকে।

    বহিষ্কারের পরই বাড়ে বিদ্রোহ

    স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত উল্টো ফল দেয় বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এরপর একের পর এক বিধায়ক প্রকাশ্যে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বিদ্রোহী শিবিরের সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়ক ঋতব্রতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে দাবি করা হয়। এর ফলে বিধানসভার অন্দরে কার্যত দুই শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে তৃণমূল।

    ‘আদি’ বনাম ‘নব’ তৃণমূল?

    বুধবারের ঘটনাপ্রবাহের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে—‘আদি তৃণমূল’ ও ‘নব তৃণমূল’। ঋতব্রত শিবিরের দাবি, তাঁরা কোনও নতুন দল গঠন করছেন না। তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখনও দলের সভানেত্রী হিসেবে মানেন। স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া চিঠিতেও মমতার নাম সভানেত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিধানসভার সংখ্যার হিসাব বলছে, বিদ্রোহী শিবিরে ৫৮ জন বিধায়ক রয়েছেন, অন্যদিকে শোভনদেবকে সমর্থনকারী শিবিরে রয়েছেন ২২ জন বিধায়ক। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রশ্নে ঋতব্রত শিবিরের অবস্থান অনেক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রতীক নিয়ে জল্পনা

    তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে— দলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কোনও আইনি লড়াই তৈরি হতে পারে কি? যদিও এখনও পর্যন্ত বিদ্রোহী বিধায়করা আলাদা দল গঠনের কোনও ঘোষণা করেননি, তবুও সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের সমর্থন তাঁদের দিকে থাকলে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

    কুণাল ঘোষের প্রতিক্রিয়া

    পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী বিধায়কদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
    তাঁর বক্তব্য, যারা আজ এই পদক্ষেপ করছেন, তাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নিয়ে প্রচার করেছেন এবং তৃণমূলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। এখন যদি তাঁরা নেত্রীকে উপেক্ষা করে অন্য কোনও স্বার্থে বা প্ররোচনায় কাজ করেন, তাহলে সাধারণ তৃণমূল কর্মী ও মানুষ তার বিচার করবেন। কুণাল আরও বলেন, ‘‘কারা কী জন্য কী করেছেন, তাঁরা চিঠি দিয়েছেন। আইনি পথে যা হওয়ার হবে। কিন্তু এভাবে চোরা-গোপ্তা কাজ করার কোনও প্রয়োজন ছিল না।’’

    এখন নজর স্পিকারের সিদ্ধান্তে

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মুহূর্তে পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু। ৫৮ বিধায়কের সমর্থনপত্র গ্রহণ করে তিনি যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন, তাহলে তা হবে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘটনা। ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রে শিবসেনার মধ্যে এধরনের বিভাজন ঘটেছিল। অন্যদিকে, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের পক্ষে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো প্রস্তাবও এখনও আলোচনায় রয়েছে। ফলে স্পিকারের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে বিধানসভায় তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব কার হাতে থাকবে। রাজ্যের রাজনীতিতে এই সংঘাত আগামী দিনে আরও বড় সাংগঠনিক ও আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

  • Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    Ritabrata Bandyopadhyay: তৃণমূলে মহাভাঙনের ইঙ্গিত! ৬০ বিধায়কের সমর্থনে নতুন শিবির গড়তে চলেছেন ঋতব্রত?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জল্পনা তুঙ্গে। বুধবার সকালেই বিধানসভায় পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে একাধিক তৃণমূল বিধায়কও বিধানসভায় উপস্থিত হতে শুরু করেন। সূত্রের খবর, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সংখ্যাগরিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনপত্র নিয়ে বিধানসভার স্পিকারের কাছে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। সেই চিঠিতে প্রায় ৬০ জন বিধায়কের স্বাক্ষর রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও এই দাবির কোনও সরকারি বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ এখনও হয়নি। এর পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন—তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন কি এবার প্রকাশ্যে আসতে চলেছে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে বিধানসভার অন্দরে?

    সাসপেনশনের পর থেকেই জল্পনার সূত্রপাত

    সম্প্রতি ‘সই জাল’ কাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেস ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। তারপর থেকেই দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নানা খবর সামনে আসতে থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, সাসপেনশনের পর থেকেই ঋতব্রত নিজের রাজনৈতিক অবস্থান মজবুত করার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁর সঙ্গে একাংশ তৃণমূল বিধায়কের যোগাযোগও তৈরি হয়েছে বলে খবর। সেই প্রক্রিয়ারই পরিণতি হিসেবে নতুন একটি গোষ্ঠী গঠনের পরিকল্পনা সামনে এসেছে বলে জল্পনা।

    বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার অঙ্ক

    এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ৮০টি আসন পেয়েছিল। তবে সাসপেনশনের কারণে ঋতব্রত ও সন্দীপন কার্যত দলের মূল শিবিরের বাইরে অবস্থান করছেন। সূত্রের দাবি, প্রায় ৬০ জন বিধায়কের সমর্থন নিয়ে যদি নতুন গোষ্ঠী স্পিকারের কাছে নিজেদের দাবি পেশ করে, তাহলে বিধানসভায় বিরোধী দলের স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে তারা। সেই কারণেই এই চিঠিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জানা যাচ্ছে, স্পিকারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা চিঠিতে শুধু সমর্থনকারী বিধায়কদের নামই নয়, সম্ভাব্য বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সিদ্ধান্ত স্পিকারের

    বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী, কোন দল বা গোষ্ঠী বিরোধী দলের মর্যাদা পাবে এবং কে বিরোধী দলনেতা হবেন, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই থাকে। ফলে চিঠি জমা পড়লেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনও রাজনৈতিক স্বীকৃতি মিলবে কি না, তা নির্ভর করবে অধ্যক্ষের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্তের উপর। বিধানসভা বিশেষজ্ঞদের মতে, সংখ্যার অঙ্কের পাশাপাশি দলত্যাগ বিরোধী আইন, বিধানসভার বিধি এবং সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক প্রশ্নগুলিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

    বাংলার রাজনীতিতে নজিরবিহীন পরিস্থিতি

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শাসক দলের ভাঙন বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের নজির থাকলেও পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ভিতরে এই মাত্রার সমীকরণ পরিবর্তনের ঘটনা কার্যত অভূতপূর্ব। যদি সত্যিই বিপুল সংখ্যক বিধায়ক নতুন গোষ্ঠীর পক্ষে অবস্থান নেন, তাহলে তা শুধু তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

    তাপস রায়ের মন্তব্যে বেড়েছে জল্পনা

    এরই মধ্যে মঙ্গলবার বিধানসভায় ঢোকার পথে বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কড়া মন্তব্য করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে এবং দলের ভিতরে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এখন প্রকাশ্যে আসছে। তাপস রায়ের কথায়, “দলীয় ফলাফল প্রকাশের অল্প সময়ের মধ্যেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অনেকেই অসন্তোষ চেপে রেখেছিলেন। এখন সেই ক্ষোভ সামনে আসছে।” তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন স্তরে অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষই বর্তমান পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।

    নজর আজ স্পিকারের দফতরে

    সব মিলিয়ে বুধবারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ঘিরে নজর এখন বিধানসভা এবং স্পিকারের দফতরের দিকে। সত্যিই কি ৬০ বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা পড়বে? নতুন কোনও গোষ্ঠী কি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে? নাকি সবটাই রাজনৈতিক জল্পনা? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মিলতে পারে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই। তবে এতটুকু স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

  • Surendranath College Scandal: ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে এসি বেডরুম, ব্যাগভর্তি নোট, অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়

    Surendranath College Scandal: ইউনিয়ন রুমে উইয়ে খাওয়া টাকার পাহাড়! সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ভিতরে এসি বেডরুম, ব্যাগভর্তি নোট, অস্ত্র উদ্ধার ঘিরে তোলপাড়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে একাধিক চাঞ্চল্যকর সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ইউনিয়ন রুমে মশা দমনের ওষুধ স্প্রে করতে গিয়ে উদ্ধার হয়েছে দুটি ব্যাগ ভর্তি উইপোকায় ক্ষতিগ্রস্ত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। পাশাপাশি কলেজের ছাদে মিলেছে দুটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বিলাসবহুল ঘর, যেখানে ছিল খাট, আলমারি, বালিশ, তোয়ালে-সহ নানা সামগ্রী। উদ্ধার হয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র, কন্ডোম, ভর্তি সংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও।

    উইয়ে খাওয়া ২ ব্যাগভর্তি টাকা!

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার মশার লার্ভা নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা কলেজের ইউনিয়ন রুম খুলতে বলেন। অধ্যাপকদের অনুমতি নিয়ে ঘরের তালা ভাঙার পর আলমারির ভিতর থেকে দুটি ব্যাগে রাখা বিপুল পরিমাণ ১০০ ও ৫০০ টাকার পুরনো নোট উদ্ধার হয়। নোটগুলির অনেকটাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকার মধ্যে হতে পারে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক তৃণমূল নেতার নিয়ন্ত্রণে ছিল ওই ইউনিয়ন রুম। সেখান থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, বহু অ্যাডমিট কার্ড, ভর্তি ফর্ম, কন্যাশ্রী প্রকল্প সংক্রান্ত নথি-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া কলেজের ছাদে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পাওয়া গিয়েছে একাধিক মদের বোতল এবং কন্ডোম। এগুলি কারা ব্যবহার করত এবং কোনও অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে এর যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

    পাঁচতলায় জোড়া এসি ঘর!

    এদিকে কলেজের পাঁচতলায় দুটি বিলাসবহুল এসি কক্ষেরও সন্ধান মেলে। ঘরগুলিতে খাট, আলমারি, আধুনিক শৌচালয় এবং সংলগ্ন ছাদ রয়েছে। চাবি না মেলায় তালা ভেঙে ঘরগুলি খোলা হয়। উপস্থিত কলেজ কর্তৃপক্ষও এমন ব্যবস্থার অস্তিত্ব সম্পর্কে অবগত ছিলেন না বলে দাবি করেছেন। কলেজের টিচার-ইন-চার্জ পূর্ণেন্দু প্রকাশ পাল জানান, পরিচালন সমিতির বৈঠকে একটি রেস্ট রুম তৈরির আলোচনা হয়েছিল ঠিকই, তবে এই ধরনের দুটি পূর্ণাঙ্গ শোয়ার ঘর রয়েছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা ছিল না। অভিযোগ উঠেছে, ওই ঘরগুলি তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে প্রমাণিত হয়নি।

    তৃণমূলের দুর্নীতির প্রমাণ, বললেন সজল

    ঘটনার জেরে সরব হয়েছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি চালিয়েছেন এবং সেই সূত্রেই বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছিল। গত সপ্তাহেই তিনি কলেজ ছাত্র সংসদের আর্থিক অনিয়ম নিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। সজল ঘোষের বক্তব্য, উদ্ধার হওয়া অর্থ সাধারণ মানুষের টাকা এবং ভর্তি বাণিজ্যের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অর্থের উৎস সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য সামনে আসবে বলেও দাবি তাঁর।

    দায়ী সুদীপ-নয়না, দাবি সজলের

    এছাড়াও সজল ঘোষ অভিযোগ করেন, এই গোটা ঘটনার নেপথ্যে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রী তথা তৃণমূল বিধায়িকা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কলেজগুলিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া অর্থ সেই চক্রেরই অংশ। তিনি ঘটনার তদন্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির হাতে তুলে দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন। তবে এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে।

  • Rashmi Group: ‘পদ্মময়’ বাংলায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া লগ্নির পরিকল্পনার ঘোষণা রশ্মি গ্রুপের

    Rashmi Group: ‘পদ্মময়’ বাংলায় ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া লগ্নির পরিকল্পনার ঘোষণা রশ্মি গ্রুপের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ডাবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন শিল্পপতিরা। এবার ‘পদ্মময়’ বাংলায় ইস্পাত, বিদ্যুৎ এবং খনি খাতে ৩৫,০০০ কোটি টাকার নয়া বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করল রশ্মি গ্রুপ (Rashmi Group)। শুক্রবার এই শিল্পগোষ্ঠীর তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবছর লোহা ও ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা আরও ৭ মিলিয়ন টন বাড়াতে ৩০,০০০ কোটিরও বেশি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় অধিগৃহীত তিনটি কয়লাখনি চালু করার (Power Projects) জন্য আরও ৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।

    রশ্মি গ্রুপের পরিকল্পনা (Rashmi Group)

    চলতি বছরের জানুয়ারিতে, গ্রুপটি তেলঙ্গনা সরকারের সঙ্গে ১২,৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মউ (MoU) সই করেছিল। তবে এ রাজ্যে প্রস্তাবিত সম্প্রসারণ প্রকল্পগুলির বিস্তারিত তথ্য, নির্দিষ্ট অবস্থান, জমির প্রয়োজনীয়তা বা সংশোধিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেনি ওই শিল্পগোষ্ঠী। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের অক্টোবরে রশ্মি গ্রুপ পুরুলিয়ায় ১০,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগে একটি ২.৮ মিলিয়ন টন ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্পাত কারখানা এবং ৪০০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার প্রকল্পটির জন্য প্রায় ৯৩৮ একর জমি বরাদ্দ করেছিল।

    কর্মসংস্থান হবে ৫০ হাজারের

    তবে এদিনের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি যে, পুরুলিয়ার আগের প্রকল্পটি নয়া  ৩৫,০০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত কি না, অথবা প্রকল্পের বিন্যাস, জমি বরাদ্দ কিংবা সময়সূচিতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়েছে কি না। সংস্থাটি জানিয়েছে, নয়া লগ্নি পরিকল্পনায় জুড়বে পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা। কোম্পানির দাবি, শুধুমাত্র ইস্পাত উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রকল্প থেকেই প্রায় ৩৫,০০০ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কয়লাখনি প্রকল্পগুলি থেকে আরও ১৫,০০০টি চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে (Rashmi Group)।

     রশ্মি গ্রুপের বক্তব্য

    ওই শিল্পগোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে রাজ্যে তারা ১০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর (MTPA) ইস্পাত কারখানা, ৮৫০ মেগাওয়াট ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ১.৪৫ মিলিয়ন টন প্রতি বছর সিমেন্ট উৎপাদন ইউনিট পরিচালনা করছে। রশ্মি গ্রুপের বাণিজ্য, খনি কৌশল ও কর্পোরেট পরিকল্পনা বিভাগের জয়েন্ট প্রেসিডেন্ট লাল বাবু চৌরাসিয়া জানান, পশ্চিমবঙ্গ ক্রমেই বৃহৎ শিল্প উৎপাদন ও পরিকাঠামো (Power Projects) উন্নয়নের জন্য একটি সম্ভাবনাময় শিল্প গন্তব্য হিসেবে উঠে আসছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রস্তাবিত বিনিয়োগ পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যতের প্রতি আমাদের গভীর আস্থা এবং মজবুত শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি আমাদের অটল অঙ্গীকারের প্রতিফলন (Rashmi Group)।”

     

LinkedIn
Share