Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Suvendu Adhikari: ‘আরজি করে সব তথ্য সাফ করে দিয়েছেন মমতা’, বিস্ফোরক শুভেন্দু

    Suvendu Adhikari: ‘আরজি করে সব তথ্য সাফ করে দিয়েছেন মমতা’, বিস্ফোরক শুভেন্দু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালের ট্রেনি মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার প্রতিবাদে শ্যামবাজারে ধর্নায় বসেছে বিজেপি। ধর্নামঞ্চ থেকে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। প্রকাশ্যে আনলেন বিস্ফোরক তথ্য। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে পাঁচ দিন ধরে বিজেপি-র ধর্না চলবে বলেও জানান তিনি। আগামিকাল স্বাস্থ্যভবন অভিযান রয়েছে গেরুয়া শিবিরের। দোষীদের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সরব হওয়ার দাবিও জানান নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

    ওষুধ পাচার চক্র জেনে যাওয়াতেই খুন! (Suvendu Adhikari)

    ধর্নামঞ্চ (RG Kar Protests) থেকে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘আরজি করের ঘটনায় শুধুমাত্র উপাচার্য বদল করা হয়নি, ভিসেরা, রক্তের নমুনাও পাল্টে দেওয়া হয়েছে। আরজি করের ঘটনা একজনের কাজ নয়, একাধিক ব্যক্তি জড়িত। ওষুধ পাচার চক্রের কথা জেনে যাওয়াতেই নির্যাতিতাকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পর মুছে দেওয়া হয়েছে সিসিটিভির ফুটেজ। ঘটনার রাতের রোস্টারও খাতা থেকে ছিঁড়ে ফেলে হয়েছে। চার-পাঁচ দিনে মমতা এবং তাঁর গুন্ডারা সব তথ্য সাফ করে দিয়েছে। মমতা অপকর্ম লুকোতে চাইছেন।’’

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    কলকাতা পুলিশ কমিশনারের কল রেকর্ড পরীক্ষার দাবি

    সাধারণ মানুষের উদ্দেশে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘যাঁকে সততার প্রতীক বলতেন, হাওয়াই চটির উল্লেখ হত, মা-মাটি-মানুষের পূজারিণী বলা হত, চরিত্রের উদাহরণ দেওয়া হত, কত শত বিশেষণ জুড়ত, আসলে প্রদীপের নীচের অন্ধকারটা প্রকাশিত হতে চলেছে। তদন্তকারী সংস্থা, সর্বোচ্চ আদালতের কাছে দাবি, অবিলম্বে কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল, শ্যামাপদ দাস এবং সন্দীপ ঘোষকে হেফাজতে নেওয়া হোক। চেক করা হোক ওঁদের কল রেকর্ড।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা দিতে গিয়েছিলেন মমতা। কিন্তু, নির্যাতিতার মা-বাবা টাকা নেননি। জানিয়ে দিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের আচরণ ঠিক নয়। এক নয়, অনেকে যুক্ত। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’’

    বামেদের আক্রমণ

    এদিন বামেদেরও আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) বলেন, ‘‘বামপন্থীরা সাইনবোর্ড হয়ে গিয়েছে। ঘোলা জলে মাছ ধরতে চায়। সারা বছর ‘বিচার চাই’, ‘চোর ধরো’, ‘জেল ভরো’ বলবে, আর ভোটের সময় বলবে, ‘নো ভোট টু মোদি’, ‘নো ভোট টু বিজেপি’। এদের কাজ হচ্ছে, হিন্দু ভোট কাটো। চোর মমতা, ধর্ষকদের নেত্রী মমতা, খুনিদের নেত্রী মমতা, রাজ্যকে রসাতলে পাঠিয়ে দেওয়া মমতাকে ক্ষমতায় রাখার কাজটাই করে বামেরা। এই মাকু-সেকুদের থেকেও সাবধান থাকতে হবে। লোকসভা ভোটেও ১২টি আসন তৃণমূলকে উপহার দিয়েছে ওরা।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: সন্দীপের আমলে ‘আর্থিক দুর্নীতি’! ইডি তদন্ত চেয়ে আবেদন, মিলল মামলার অনুমতি

    RG Kar Incident: সন্দীপের আমলে ‘আর্থিক দুর্নীতি’! ইডি তদন্ত চেয়ে আবেদন, মিলল মামলার অনুমতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করের (RG Kar Incident) ঘটনায় সিবিআই নজরে প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। বুধবার ষষ্ঠবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে গিয়েছেন। এবার কি আরও বিড়ম্বনায় সন্দীপ? কারণ, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে সরকারি নিষ্ক্রিয়তা এবং ইডি (ED) তদন্তের দাবিতে মামলা দায়ের করতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন হাসপাতালেরই এক প্রাক্তন পদাধিকারী। বুধবার বিষয়টিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত শুনানির আবেদন করা হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সেই অনুরোধে সাড়া দিয়েছেন। আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের অনুমতি দিল হাইকোর্ট।

    সন্দীপের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা (RG Kar Incident)

    আরজি করে (RG Kar Incident) মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআইয়ের ম্যারাথন জেরার মুখে পড়েছেন সন্দীপ। এর মধ্যে আরজি কর হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি হাসপাতালের সদ্যপ্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। মূলত তাঁর বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। আখতারের আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি হাইকোর্টে বলেন, ‘‘আরজি করের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডির তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।’’ বুধবার ওই আবেদন করা হয় বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের এজলাসে। আখতার তাঁর নিরাপত্তার আবেদনও করেন। বিচারপতি ভরদ্বাজ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন।

    এর পরেই আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ে দ্বিতীয় আবেদনটি জমা পড়ে প্রধান বিচারপতি শিবজ্ঞানমের এজলাসে। আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্ত। হাইকোর্টে তিনি বলেন, ‘‘হাসপাতালের ওই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে রাজ্য সরকার একটি সিট বা বিশেষ তদন্তকারী দল তৈরি করেছে ঠিকই। কিন্তু, সেই সিট গঠন করা হয়েছে জনগণের চোখে ধুলো দেওয়ার জন্য। আদতে তারা তদন্তের কাজ করছে না। তাই হাইকোর্ট এই বিষয়ে পদক্ষেপ করে দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করুক।’’ বক্তব্য শোনার পর মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম এবং বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। চলতি সপ্তাহেই এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হবে।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    প্রাক্তন ডেপুটি সুপার কী বলেছিলেন?

    আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, ‘‘প্রথম দিন থেকেই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এক মাসের বেশি সময় ওঁর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন ছাত্ররা। আমি স্পষ্টবক্তা। আরজি করে (RG Kar Incident) ঘুঘুর বাসা ভেঙেছি। সন্দীপের হরেক দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি সরব হয়েছি। আমার অনেক শত্রু।’’ তাঁর মতে, সদ্যপ্রাক্তন অধ্যক্ষ সব জানেন বলেই তিনি মনে করেন। আশা করেন যে, সন্দীপকে জেরা করে অনেক তথ্য জানতে পারবে সিবিআই।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘কেন ছড়িয়ে পড়ল নির্যাতিতার ছবি-নাম?’’ আরজি কর কাণ্ডে প্রশ্ন উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্টের

    RG Kar Incident: ‘‘কেন ছড়িয়ে পড়ল নির্যাতিতার ছবি-নাম?’’ আরজি কর কাণ্ডে প্রশ্ন উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar Incident) হাসপাতালে কর্মরত তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে গোটা দেশ। সকলেই সুবিচারের জন্য লড়ছেন। আরজি কর কাণ্ডের এই ঘটনার প্রায় দেড় সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মাধ্যমে সামনে এসেছে নির্যাতিতার নাম। ছড়িয়ে পড়েছে ছবিও। এবার তা নিয়েই প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। প্রসঙ্গত, এই মামলার শুনানি শুরু হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। সেখানেই মামলা চলাকালীন কার্যত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়।

    কী নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত? (RG Kar Incident) 

    এ প্রসঙ্গে শীর্ষ আদালত (Supreme Court) জানিয়েছে, ‘‘আমরা নির্দেশ দিচ্ছি মৃতের নাম ছবি প্রকাশ করা যাবে না। সমস্ত স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে মৃতের ছবি সরাতে হবে।’’ আসলে এদিন মামলা চলাকালীন দুজন আইনজীবী অভিযোগ করেছিলেন যে, মৃতের ছবি-নাম কোথাও কোথাও প্রকাশ করা হচ্ছে। এর পরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, “নির্যাতিতার নাম ও ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকী ময়নাতদন্তের আগের ও পরের ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেহ দেখা যাচ্ছে। একটা প্যারামিটার আছে, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইনও আছে। তারপর কীভাবে এটা হল?” এরপরেই প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘একজন তরুণী চিকিৎসকের মৃত্যু হয়েছে, তাঁকে এইটুকু মর্যাদা দেওয়া উচিত।’’ প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের মুখে আইনজীবী (রাজ্য সরকারের তরফে) কপিল সিব্বল বলেন, ‘‘পুলিশ যাওয়ার আগেই ছবি তোলা হয়েছে। আমরা পুরো জায়গাটা ঘিরে রেখেছিলাম।’’

    আরও পড়ুন: এক বছরে ভারতে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৭.৩ কোটি! বৃদ্ধি ব্রডব্যান্ড সংখ্যাতেও

    প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) গাইডলাইনই শুধু নয়, নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে আনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনও আছে। ভারতীয় আইনে ধর্ষণ বা যৌন হেনস্থার ঘটনায় নির্যাতিতার নাম, পরিচয় বা ছবি প্রকাশ করা যায় না। এমন কোনও তথ্য যা প্রকাশ করলে নির্যাতিতার পরিচয় জানা যেতে পারে, তাও প্রকাশ করা যায় না। আসলে আরজি কর (RG Kar Incident) হাসপাতালের চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় কলকাতা সহ গোটা রাজ্য। এই আবহে মানুষ প্রতিবাদ করছেন রাস্তায় ও সোশ্যাল মিডিয়ায়। এহেন পরিস্থিতিতে অনেকেই নির্যাতিতার ছবি পোস্ট করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। জাস্টিস দাবি সহ নাম দিয়ে তৈরি হয়েছে হ্যাশট্যাগ। তাই আইন অনুযায়ী নির্যাতিতার নাম প্রকাশ্যে আনা বন্ধ করতে এই নির্দেশ দিল আদালত।  

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মনের জোর বাড়িয়েছে’’, বললেন নির্যাতিতার মা

    RG Kar Incident: ‘‘সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মনের জোর বাড়িয়েছে’’, বললেন নির্যাতিতার মা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ড (RG Kar Incident) নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। সর্বস্তরের মানুষ সুবিচারের দাবিতে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই সিবিআই আধিকারিকরা নিহত তরুণী চিকিৎসকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রায় তিন ঘণ্টা পর এফআইআর করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে খুশি নিহত চিকিৎসকের মা। পাশাপাশি রাজ্যপাল (CV Ananda Bose) ফোন করে তাঁদের পাশে থাকার তিনি বার্তা দিলেন। 

    দেরিতে এফআইআর নিয়ে প্রশ্ন (RG Kar Incident)

    নিহত চিকিৎসকের মৃতদেহ দাহ করার প্রায় তিন ঘণ্টা পর এফআইআর করা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে নিহত চিকিৎসকের মা বলেন,  ‘‘মেয়ের মৃতদেহ দাহ করার তিন ঘণ্টা পরে এফআইআর হয়। এই দেরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সুপ্রিম কোর্টে। বিষয়টি জেনে মনে জোর পাচ্ছি। শীর্ষ আদালত নিশ্চয়ই দেখবে যে এফআইআর করতে কেন দেরি হল? ইতিমধ্যেই আদালতের তরফ থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের (RG Kar Incident) প্রাক্তন অধ্যক্ষকে তলব করা হয়েছে। ওইদিন আমরা বিকেল পাঁচটার সময় এফআইআর করেছিলাম, কিন্তু পুলিশের তরফ থেকে কখন সেটিকে দেখানো হয়েছে সেটা ওরাই বলতে পারবে। ’’আন্দোলনকারীদের ওপর রাজ্য সরকার যাতে বল প্রয়োগ না করে সে ব্যাপারে সুপ্রিমকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছে তা নিয়েও শীর্ষ আদালতকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। আন্দোলন প্রত্যাহার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তরফে যে আর্জি জানানো হয়েছে তা নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘নিশ্চয়ই কোনও একটি বিষয় ভেবে শীর্ষ আদালত  এ কথা বলেছে। আমি চাই আন্দোলন চলুক, তাছাড়া দেখা যাচ্ছে যে সকলেই আন্দোলনে করছে। ন্যায় বিচারের জন্য যাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়ছেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে আছি।’’

    প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা!

    নিহত চিকিৎসকের বাবা বলেন, ‘‘গোটা ঘটনায় তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা হয়েছে। শুধু  আমি নই,  গোটা দেশ সে কথা বলছে। হাসপাতালে (RG Kar Incident) প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ যদি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করে থাকেন, তবে শাস্তি পাবেন। সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। গোটা বিশ্বে এই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। আমি সকলকে কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, পুরো বিচার বিভাগের ওপর আস্থা আছে। তবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আরজি করে সিআইএসএফ মোতায়ন নিয়ে আমি এখনি কোনও কথা বলব না। যেহেতু এটি বিচারাধীন বিষয়।’’  

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    কী বললেন রাজ্যপাল

    মঙ্গলবার বেলা ২টো নাগাদ দিল্লি থেকে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (CV Ananda Bose) ফোনে চিকিৎসকের বাবাকে বলেছেন, ‘‘আপনি হিম্মত রাখুন। আমাদের যতদূর যাওয়ার যাব। আপনি ন্যায় বিচার পাবেন।’’ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন বলেও জানান রাজ্যপাল। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Rape-Murder: ক্যামেরা দেখেই দৌড়! এক ছুটে সিবিআই দফতরে সঞ্জয়-ঘনিষ্ঠ এএসআই, রইল ভিডিও

    RG Kar Rape-Murder: ক্যামেরা দেখেই দৌড়! এক ছুটে সিবিআই দফতরে সঞ্জয়-ঘনিষ্ঠ এএসআই, রইল ভিডিও

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ক্যামেরা দেখেই সোজা দৌড়! গাড়ি থেকে নেমেই ছুটে সিবিআই দফতরে ঢুকে পড়লেন আরজি কর শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনকাণ্ডে ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়-ঘনিষ্ঠ পুলিশের এএসআই। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে আরজি কর হত্যাকাণ্ডে (RG Kar Rape-Murder) ধৃত ব্যক্তির সম্পর্কে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এবার এই সূত্র ধরেই তদন্তকারী অফিসাররা তলব করেন এই পুলিশ অফিসারকে। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

    কবে থেকে সঞ্জয় রায়কে চিনতেন (RG Kar Rape-Murder)?

    ঘটনার দিন থেকেই আরজি কর হাসপাতালে (RG Kar Rape-Murder) মহিলা ডাক্তারকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ প্রথমে আত্মহত্যার তত্ত্ব দিলেও মানতে নারাজ ছিল মৃতার পরিবার এবং বিক্ষোভরত পড়ুয়ারা। পাশবিক নির্যাতন এবং হত্যার সঠিক তদন্তে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা মেডিক্যাল কলেজ। হাইকোর্টের নির্দেশে মামলা সিবিআইয়ের কাছে যায়। এর পর থেকেই, সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে চত্বরে ব্যস্ততা তুঙ্গে ওঠে। দফতরের বাইরে সবসময় রয়েছে সংবাদমাধ্যম।

    “একটু দাঁড়িয়ে যান, পড়ে যাবেন, আস্তে…”

    মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ দফতরের সামনে এসে দাঁড়ায় পুলিশ স্টিকার সাঁটা একটি গাড়ি। এই গাড়ি থেকে নামেন পুলিশের এএসআই অনুপ দত্ত। আরজি কর কাণ্ডে তাঁকে তলব করেছিল সিবিআই। জানা যায়, তিনি ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের ঘনিষ্ঠ। এরপর তাঁকে প্রশ্ন করতে গেলে সাংবাদিকদের দেখে দৌড়ে সিজিও কমপ্লেক্সের দিকে ছুটে যেতে শুরু করেন। সাংবাদিকরা অনুপকে প্রশ্ন করেন, “কবে থেকে সঞ্জয় রায়কে চিনতেন? কী সম্পর্ক রয়েছে তাঁর সঙ্গে? উত্তর দিন।” অনুপ কোনও জবাব না দিয়েই ছুটতেই থাকেন। বৃষ্টিভেজা পথে যেতে গিয়ে সামান্য পিছলে যান। এর পরই সাংবাদিকরা বলেন,  “একটু দাঁড়িয়ে যান। পড়ে যাবেন। আস্তে…” কিন্তু কোনও উত্তর না দিয়ে ছুটে চলে যান ওই পুলিশ। কোনওমতে, সাংবাদিকদের বুম এড়িয়ে সিআইএসএফ নিরাপত্তারক্ষীদের পাশ দিয়ে সিজিও-তে ঢুকে পড়েন ওই এএসআই।  ফলে প্রশ্ন উঠছে কোন সত্যকে আড়াল করতে চাইছেন এই পুলিশকর্তা?

    আরও পড়ুনঃ ‘‘বেফাঁস বলে এখন নাটক করছেন’’! সৌরভের আরজি কর প্রতিবাদকে ‘ট্রোল’ নেটপাড়ার

    কী বললেন সুকান্ত মুজদার?

    বিজেপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার ২০১৯ সালে কাজে যোগদান করেছিলেন। তিনি বেশ প্রভাবশালী ছিলেন। কিছুদিন পুলিশের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর হয়ে কাজ করলেও তারপর তাঁকে ওয়েলফেয়ার কমিটিতে পাঠানো হয়। একজন সিভিক ভলান্টিয়ার কতটা প্রভাবশালী হলে ওয়েলফেয়ার থাকতে পারেন, এটাই এখন প্রশ্নের বিষয়। অপর দিকে সিজিওতে দৌড়ে ঢোকা এই এএসআই অয়েলফেয়ার কমিটির সদস্য। তাঁদের মাথার উপর কে রয়েছেন? সিনহাবাবুর হাত নেই তো, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী এই সব কাজে প্রত্যক্ষ মদত দেন। এই পুলিশরা পঞ্চায়েত, পুরসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করছে। আর জি করকাণ্ডে (RG Kar Rape-Murder) সবাইকে জেরা করে সত্যকে সামনে তুলে ধরা উচিত।”   

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: ‘‘বেফাঁস বলে এখন নাটক করছেন’’! সৌরভের আরজি কর প্রতিবাদকে ‘ট্রোল’ নেটপাড়ার

    RG Kar Incident: ‘‘বেফাঁস বলে এখন নাটক করছেন’’! সৌরভের আরজি কর প্রতিবাদকে ‘ট্রোল’ নেটপাড়ার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Incident) নৃশংসতায় উত্তাল সারা দেশ। পথ নেমে বিচার চেয়ে সরব হচ্ছেন কলকাতার প্রতিটি মানুষ। আর সেই ঘটনা নিয়ে নিজের অভিমত ব্যক্ত করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly)। তাঁর বক্তব্য ঘিরে ঝড় ওঠে নেটপাড়ায়। আরজি কর হাসপাতালে মহিলা চিকিৎসকের ওপর হওয়া নৃশংসতাকে ‘ভয়ঙ্কর’ বলে ব্যাখ্যা করলেও ঘটনাটিকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলতেই মেজাজ হারান নেটিজেনরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। অনেকে সৌরভের জনপ্রিয় টিভি শো ‘দাদাগিরি’ বয়কটেরও ডাক দেন। তার পরই নিজের মত থেকে সরে গিয়ে তাঁর অবস্থান ব্যাখ্যা করেন মহারাজ। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে তা নিয়েও। নিজের ব্র্যান্ড ভ্যালু হারানোর ভয়েই কি এখন বাধ্য হয়ে প্রতিবাদের ঝান্ডা ধরছেন সৌরভ? নিজের ভাবমূর্তি ঠিক করতেই কি এক প্রকার বাধ্য হয়েই প্রতিবাদ?

    ঘটনার প্রেক্ষাপট

    সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে গিয়ে আরজি কর–কাণ্ড (RG Kar Incident) নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সৌরভ বলেছিলেন, তারও একটি মেয়ে আছে আর মেয়ের বাবা হিসেবে বিষয়টিতে তিনি খুব হতাশ হয়েছেন। সৌরভ যা বলেন, সেটি ছিল এ রকম— ‘‘খুব দুর্ভাগ্যজনক। কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এটা ভয়ংকর ঘটনা…সত্যিই খুব ভয়ংকর…যে কোনও জায়গায় যা কিছু ঘটতে পারে। তাই সব জায়গায় সব সময় নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি ক্যামেরা ঠিকঠাক রাখতে হবে। এ ধরনের ঘটনা যে কোনও জায়গায় ঘটতে পারে।’’

    এ পর্যন্ত ঠিকই ছিল। সৌরভ এরপর যা বলেন, সবার আপত্তি সেটাতেই। তিনি বলেন, ‘‘আমি মনে করি না, বিচ্ছিন্ন একটা ঘটনা দিয়ে সবকিছুর বিচার করা উচিত। এ ধরনের দুর্ঘটনা বিশ্বের সব জায়গায়ই ঘটে। তাই এটা ভাবার সুযোগ নেই যে সবকিছু বা সবাই নিরাপদ নয়। এটা ভাবা ভুল যে মেয়েরা নিরাপদ নয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গই নয়, ভারতের সব জায়গায়ই মেয়েরা নিরাপদ। আমরা সেরা একটি জায়গায় বসবাস করি। একটি ঘটনা দিয়ে কারও এটা বিচার করা উচিত নয়।’’ সৌরভের এই কথাতেই ক্ষুব্ধ জনতা। আরজি করে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন এবং কীভাবে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বললেন তিনি, তা নিয়ে তুমুল কটাক্ষের মুখে পড়েন সৌরভ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল সমালোচিত হন মহারাজ। অনেকেই দাদাগিরি বয়কটেরও ডাকও দেন।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    জনতার চাপে নতিস্বীকার 

    চাপের মুখে অবশেষে নিজের বক্তব্য বদলাতে বাধ্য হন সৌরভ। তিনি বলেন, ‘‘গত রবিবার আমি এটা (আর জি কর–কাণ্ড) নিয়ে কথা বলেছিলাম। আমি জানি না, আমার বক্তব্য কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা ভয়ংকর এক ঘটনা। অপরাধীর এমন শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমনটা করতে না পারে। তদন্ত চলছে। আমি আশা করি, অপরাধী ধরা পড়বে এবং শাস্তি পাবে। মানুষ যেভাবে প্রতিবাদ করছে, বিশ্বের যেকোনও জায়গায় এমন ঘটনা ঘটলে এভাবেই মানুষ আওয়াজ তুলবে।’’ এরপর মঙ্গলবার, সৌরভ নিজের সামাজিক হ্যান্ডলের ডিপি কালো করেন। এখন প্রতিবাদে পথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    নেটিজেনদের কটাক্ষ

    এত দেরিতে নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ানোয় নেটিজেনদের কটাক্ষের শিকার হতে হয়েছে সৌরভ ও তাঁর স্ত্রী ডোনাকে। কেউ লিখেছেন, ‘‘বেফাঁস কথা বলে রীতিমত ছড়িয়ে এখন নাটক করছেন।’’ আবার কোনও ব্যক্তি লিখেছেন, ‘‘ভয় কাটিয়ে অবশেষে সাহস দেখাতে পারলেন সৌরভ?’’ এই আবহে আজ, বুধবার সন্ধ্যায় ‘অভয়া’র বিচারের দাবি জানিয়ে নৃত্যশিল্পীদের নিয়ে পথে নামবেন সৌরভের (Sourav Ganguly) স্ত্রী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়। ওই মিছিলে থাকতে পারেন সৌরভও। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • BSF: নদিয়ার বাংলাদেশ সীমান্তে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার বিএসএফ-এর

    BSF: নদিয়ার বাংলাদেশ সীমান্তে সাড়ে ৪ কোটি টাকার সোনা উদ্ধার বিএসএফ-এর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার সীমান্ত এলাকা থেকে (Nadia) ফের সোনা উদ্ধার করল বিএসএফের ৩২ নম্বর ব্যাটেলিয়ন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিজয়পুর গ্রাম। এই গ্রামে চোরাচালানের কারবার বহু বছর থেকেই চলে আসছে বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার বিএসএফের (BSF) কর্তব্যরত জওয়ানরা এক পাচারকারীকে হাতনাতে ধরেন। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপুল পরিমাণ সোনা। পাচার করতেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে বিএসএফ আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন।

    ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে? (BSF)

    বিজয়পুর গ্রামে সকালে টহল দিচ্ছিলেন বিএসএফের (BSF) কর্তব্যরত জওয়ানরা। সেই সময় ওই গ্রাম থেকে একজন পাচারকারী সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিল। কর্তব্যরত জওয়ানদের ওই ব্যক্তিকে দেখে সন্দেহ হয়। বিএসএফ সূত্রের খবর, সীমান্ত পারে বাঁশ বাগানের মধ্যে দিয়ে ওই ব্যক্তি সাইকেলে করে যাচ্ছিল। তার গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় তাকে দাঁড় করিয়ে তল্লাশির চেষ্টা করে বিএসএফ। তৎক্ষণাৎ ওই সাইকেল-আরোহী পালানোর চেষ্টা করে। ওই পাচারকারীর সঙ্গে বিএসএফের জওয়ানদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। ওই চোরাচালানকারী পালানোর চেষ্টায় বিএসএফ জওয়ানদের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে গুলি চালান বিএসএফ জওয়ানরা। তাড়াহুড়োয় পালানোর সময় ওই পাচারকারীর কোমরে বাঁধা সোনার বিস্কুটগুলি পড়ে যায়। তখনই বিএসএফের সন্দেহ প্রমাণিত হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় সমস্ত সোনা।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    কত সোনা বাজেয়াপ্ত?

    বিএসএফ (BSF) সূত্রে জানা গিয়েছে, ২২টি সোনার বিস্কুট, ৮টি সোনার ইট এবং ১টি ছোট সোনা আটক করা করেছে বিএসএফ সাউথ বেঙ্গল ফ্রন্টিয়রের অধীনস্থ বিজয়পুর বর্ডার ফাঁড়ির ৩২তম ব্যাটালিয়নের জওয়ানরা। ইতিমধ্যেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে গোটা ঘটনার কথা বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। যে সোনা বাজেয়াপ্ত হয়েছে তার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা বলে জানা যাচ্ছে। এই বিপুল পরিমাণ সোনা উদ্ধারের খবর এলাকায় চাউর হতেই তা নিয়ে এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। এই পাচারের কাজে আর কারা যুক্ত তা জানতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বিএসএফ।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: দ্রুত বিচারের দাবি, আজ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্যভবন অভিযান জুনিয়র ডাক্তারদের

    RG Kar Incident: দ্রুত বিচারের দাবি, আজ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্যভবন অভিযান জুনিয়র ডাক্তারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একমাত্র দাবি, দ্রুত বিচার হোক ‘অভয়া’র। সরকারি হাসপাতালে নিরাপত্তা হোক ঠিকঠাক। এই দাবি নিয়েই আজ ফের স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Incident) প্রতিবাদে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা (Doctors Protest)। যত শীঘ্র সম্ভব বিচারের দাবি নিয়েই আজ তাঁরা সিবিআই-এর দফতর সিজিও কমপ্লেক্স (CGO Complex) থেকে অভিযান শুরু করবে। সকাল ১১টা নাগাদ সিজিও কমপ্লেক্স থেকে স্বাস্থ্য ভবন যাবেন তাঁরা। 

    পথে জুনিয়র ডাক্তাররা

    আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar Incident) প্রতিবাদে আজ, বুধবার জুনিয়র ডাক্তারদের (Doctors Protest) স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে ফের উত্তপ্ত হতে পারে শহর। সিবিআইয়ের ওপর চাপ বাড়িয়ে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে অভিযান শুরু করবেন আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা। বুধবার রাজ্যের প্রত্যেকটি মেডিক্যাল কলেজে আন্দোলনরত জুনিয়র চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছেন। এদিন সকাল ১১টা থেকে অভিযান শুরু হবে। এই স্বাস্থ্য ভবন অভিযানে তাদের একটাই স্লোগান, “ডাক দিচ্ছে আর জি কর, বিচারের দাবিতে রাস্তা ভর”৷ এর সঙ্গে জারি রয়েছে তাদের কর্মবিরতি। তবে চিকিৎসা পরিষেবা চালু রেখেছেন সিনিয়র চিকিৎসকরা।

    আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    পুলিশি বাধার আশঙ্কা 

    জুনিয়র ডাক্তারদের এই অভিযানের (Doctors Protest) একটাই উদ্দেশ্য, সিবিআইয়ের তদন্ত প্রকৃতি কতদূর তা জানা। তার পাশাপাশি সঠিক বিচার চাওয়া। এর সঙ্গে বাংলায় স্বাস্থ্যক্ষেত্রে যে নিরাপত্তার অভাব রয়েছে তা দূর করার দাবিও জানিয়েছেন চিকিৎসকরা (RG Kar Incident)। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ স্বাস্থ্য ভবন অভিযান করে। সেই অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র আকার ধারণ করে এলাকা। আন্দোলনরত ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বেশ কিছু এবিভিপির (ABVP) কর্মীকে আটক করে পুলিশ। বহু কর্মী আহত হয়েছে বলে জানায় এভিবিপি। আজ, জুনিয়র ডাক্তারদের মিছিলও আটকানোর চেষ্টা করবে পুলিশ। তাই ফের এদিন স্বাস্থ্যভবন চত্বর উত্তপ্ত হতে পারে বলে অনুমান।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    RG Kar Incident: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি, আরজি কর কাণ্ডে শ্যামবাজারে আজ থেকে ধর্না বিজেপির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar Incident) হাসপাতালে তরুণী শিক্ষানবিশ ডাক্তারের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রতিবাদের ঝাঁঝ ক্রমশ বাড়াচ্ছে বঙ্গ বিজেপি (BJP Protest)। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আজ, বুধবার থেকে ৫ দিনের জন্য শ্যামবাজারে ধর্না কর্মসূচি করবে বিজেপি। দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ধর্না চলবে। গতকাল ধর্না মঞ্চ প্রস্তুত করার অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ধর্না মঞ্চ থেকেই রাজ্যে প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হতে পারে গেরুয়া শিবির। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) পদত্যাগের দাবিও জানাতে পারে বঙ্গ বিজেপি।

    ধর্না মঞ্চ পরিদর্শন

    আরজি কর-কাণ্ডের (RG Kar Incident) প্রতিবাদে ধারাবাহিক ভাবে পথে নামার কথা রবিবার ঘোষণা করেছিলেন রাজ্য বিজেপির (BJP Protest) সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। আরজি কর হাসপাতালের অদূরে শ্যামবাজারে পাঁচ মাথার মোড়ে ধর্না কর্মসূচির কথাও ঘোষণা করা হয় বিজেপির পক্ষে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে বিজেপিকে ধর্না কর্মসূচির অনুমতি দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। এরপরই ধর্না স্থল পরিদর্শন করেন সুকান্ত মজুমদার। সুকান্তর কথায়, স্বাস্থ্য ভবন হল ঘুঘুর বাসা। তাই এই প্রতিবাদ। অবিলম্বে আসল অপরাধীদের গ্রেফতার করার দাবি জানাচ্ছে বিজেপি। পুলিশ এবং আরজিকর প্রশাসনের কর্তাদের মধ্যে টেলিফোনিক কথাবার্তায় নজর দিক সিবিআই, তাহলেই সত্যি সামনে আসবে।

    আরও পড়ুন: দাবি মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ, এবিভিপির স্বাস্থ্যভবন অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র সল্টলেক

    বিজেপির দাবি 

    আজ, বুধবার আরজি কর ইস্যুকে (RG Kar Incident) হাতিয়ার করে এক মঞ্চে পাশাপাশি বসতে চলেছেন সুকান্ত-শুভেন্দু-দিলীপরা (BJP Protest)। একযোগে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানাবেন। মঙ্গলবার সুকান্ত জানান, দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ থেকে স্পষ্ট রাজ্যের পুলিশ-প্রশাসনের উপর সুপ্রিম কোর্টের আস্থা নেই। আরজি কর-এর নিরাপত্তার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। নারী নিরাপত্তার ইস্যুতে উত্তাল রাজ্য। ধর্না কর্মসূচির পাশাপাশি বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবন অভিযানের ডাকও দিয়েছে বিজেপি। শুক্রবার শ্যামবাজারের বিজেপির ধর্না কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছিল পুলিশ। মঞ্চ খুলে দেওয়া হয়। তাই এবার আদালতের অনুমতি নিয়ে ধর্নায় বসতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি।  কর্মসূচিগুলোতে বিভিন্ন সময়ে থাকবেন সুকান্ত মজুমদার, শুভেন্দু অধিকারী-সহ রাজ্য নেতারা।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Monohora Sweet: রসের বাঁধন, অথচ শুকনো! মনোহরার ইতিহাস সত্যিই যেন মন হরণ করে নেয়

    Monohora Sweet: রসের বাঁধন, অথচ শুকনো! মনোহরার ইতিহাস সত্যিই যেন মন হরণ করে নেয়

    হরিহর ঘোষাল

    রাজ্যজুড়ে মিষ্টির বাহার প্রচুর। জায়গা ভেদে সেখানকার ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিখ্যাত, নামকরা কিছু মিষ্টি। রসগোল্লা, পান্তুয়া ছাড়াও রসের মিষ্টি হোক কিংবা ছানার সন্দেশ-মিষ্টির তালিকা বললে শেষ করা যাবে না। তবে, নাম যাই হোক না কেন, মিষ্টি খাওয়াতে খাদ্যরসিক বাঙালির জুড়ি ভার। এই প্রতিবেদনে আমরা জানাব, ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া মনোহরা (Monohora Sweet) মিষ্টির আদি কথা। বাংলাদেশের ঢাকার প্রাণহরার সঙ্গে মনোহরার ব্যুৎপত্তিগত সাদৃশ্যকে তুলে ধরার জন্য কবি মোহিতলাল মজুমদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বলতেন, “তোরা মিষ্টির নাম রাখিস প্রাণহরা, আর আমরা নাম রাখি মনোহরা।”

     নবাবি আমলের মনোহরা! (Monohora Sweet)

    মনোহরা হুগলি না মুর্শিদাবাদের, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই পারে। হুগলিবাসীর দাবি, এই মিষ্টি জনাইয়ে প্রথম তৈরি হয়েছিল। মুর্শিদাবাদে নবাবের দেশের মানুষরা আবার মনোহরা মিষ্টির (Monohora Sweet) তৈরির কৃতিত্ব বেলডাঙা, কান্দির ময়রাদের দিতে চান। বিতর্কে না গিয়ে, দুটি জেলারই মিষ্টি তৈরির ইতিহাস আমরা তুলে ধরছি। একটি মত থেকে জানা যায়, উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রজগোপাল সাহা বেলডাঙায় প্রথম মনোহরা মিষ্টি তৈরি করেছিলেন। বাংলা টপ্পার জনক রামনিধি গুপ্ত ওরফে নিধুবাবু শহরের বাবুগিরির গানে লিখেছেন “খাওয়াইব গণ্ডা গণ্ডা মনোহরা দেদো মণ্ডা। খেয়ে খেয়ে যাবে প্রাণটা, বলবে বলিহারি যাই।” মুর্শিদাবাদের কান্দি, বেলডাঙার মনোহরার সুখ্যাতি সেকালে কালাপানি পাড় হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল সাহেবদের দেশেও।

    অন্য একটি মতে, মুর্শিদাবাদের নবাবদের খাস ময়রা এই মিষ্টি অষ্টাদশ শতকে আবিষ্কার করেন। জনৈক ময়রা বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলার দহগ্রামের নিকট কিরীটকোনা গ্রামের কিরীটেশ্বরী মন্দিরের নিকট বাস করতেন। সেখানেই তিনি প্রথম মনোহরা মিষ্টি প্রস্তুত করেন। মুর্শিদাবাদের নবাবরা ডাবের শাঁস, কাজুবাদাম, এলাচ ও ক্ষীর দিয়ে তৈরি মনোহরা পছন্দ করতেন। নবাবির পতনের সঙ্গে সঙ্গে মনোহরা রাজকীয় পৃষ্ঠাপোষকতা থেকে বঞ্চিত হয়। যে মিষ্টি এককালে সমগ্র মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রস্তুত হত, তা ক্রমে বেলডাঙা, কান্দির মতো বিশেষ কিছু জায়গায় প্রস্তুত হতে থাকে। বাংলার মিষ্টির ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, মনোহরার জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। সে যাই হোক, দুধসাদা মনোহরার মাথায় বাহারি কিসমিসের অলঙ্করণে সত্যিই মনোহরা মুর্শিদাবাদের এই মিষ্টি। বেলডাঙার মনোহরা যদি অসিত সাহা, মদনগোপাল সাহারা বাঁচিয়ে রাখেন, তবে কান্দির সুনাম রক্ষা করে চলেছেন শিবশক্তি দে বা রুদ্রদেব দত্তেরা। সেই ট্রাডিশন এখনও চলছে।

    কীভাবে বানানো হয়?

    চাঁচি, ক্ষীর আর ছানার সঙ্গে এলাচ, জায়ফল আর জয়িত্রীর মিশ্রণে তৈরি ‘পুর’ চিনির মোটা রসের আস্তরণে ঢেকে রাখার অননুকরণীয় শিল্পের নাম মনোহরা। ছানা এবং চিনি হল এই মিষ্টির আসল উপকরণ। ছানা ভালো করে মেখে নেওয়ার পরেই তাকে চিনির সঙ্গে পাক দেওয়া হয়। মেশানো হয় এলাচ, ডাবের শাসের পাতলা আস্তরণ। তারপর সেই পাক হাতে গোল করে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এটিকে রূপদান করা হয়। সবশেষে শিরায় সেটিকে মেশানো হয়। একবার কোট করেই তুলে নেওয়া হয়। ব্যস, মনোহরা তৈরি!

    জনাইয়ের মনোহরা

    হুগলির (Hooghly) জনাইয়ে প্রথম মনোহরা (Monohora Sweet) তৈরি হয়েছিল। এই মিষ্টি তৈরির ইতিহাস দু’শো বছরের ওপর। জনাইয়ের মনোহরার উৎপত্তি নিয়ে একাধিক মত প্রচলিত আছে। একটি মতে, ভীমচন্দ্র নাগের পিতা পরাণচন্দ্র নাগ ছিলেন বর্ধমান রাজের দেওয়ান। এক সময়ে তিনি দেওয়ানের চাকরি ছেড়ে মিষ্টির ব্যবসায় নামেন। হুগলি জেলার জনাইতে তিনি মিষ্টির ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময়েই তিনি মনোহরা নামক মিষ্টির প্রচলন করেন। আর একটি মত থেকে জানা যায়, জনাইয়ের ময়রারা সন্দেশকে সংরক্ষণ করার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ভুলবশতঃ সন্দেশকে চিনির রসে ডুবিয়ে ফেলেন। তার থেকেই সৃষ্টি হয় মনোহরা। এছাড়া জনাইয়ের জনৈক ললিত ময়রা ১৮৬০-এর দশকে মনোহরা মিষ্টি তৈরি করেন বলে দাবি করা হয়। আর একটি মত থেকে জানা যায়, জনাইয়ের জমিদার তখন কালীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান ছিলেন। সমৃদ্ধি ছিল শহরে। এমনই এক সময় ইংরেজ এক সাহেবের আগমনে রাজবাড়ি (কালীবাবুর বাড়ি) জুড়ে হইহই রইরই রব। মিষ্টি তো সবাই বানায়। তবে রসের বাঁধন থাকবে, ধাঁচ হবে শুকনো এমন মিষ্টি কোথায় পাওয়া যায়? সালটা ১৮৬৮ হবে, কালীবাবুর অনুরোধেই ন্যাড়া ময়রা বানালেন দুর্দান্ত স্বাদের এক মিষ্টি, নাম তখনও অজানা। ইংরেজ সাহেবের পাতে পড়তেই স্বাদ আস্বাদনে আর দেরি করলেন না। মিষ্টি মুখে দেওয়ার পরই একেবারে মিলিয়ে গেল। আবেগে আপ্লুত সাহেব কাটা কাটা বাংলায় বললেন, “এই মিষ্টি আমার মন হরণ করে নিয়েছে।” ব্যস! সেই থেকে মন হরণ করা এই মিষ্টির নাম হল মনোহরা।

    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মনোহরার খুব ভক্ত ছিলেন!

    জনাইয়ের মনোহরা (Monohora Sweet) এক সময় কলকাতার রসগোল্লা, শক্তিগড়ের ল্যাংচা ও বর্ধমানের সীতাভোগের মতো সমান জনপ্রিয় ছিল। মুখে মুখে এর জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায় এবং ক্রমে সারা ভারতে। ব্রিটিশ আমলে ভারতীয় এবং ব্রিটিশ অভিজাতরা অতিথি আপ্যায়নের জন্য জনাইয়ের মনোহরা আনাতেন। ক্রমে ব্রিটেনেও মনোহরার বাজার তৈরি হয়। পরবর্তীকালে মনোহরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও জার্মানিতেও রফতানি হতে থাকে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মনোহরার (Monohora Sweet) খুব ভক্ত ছিলেন। ছবি বিশ্বাস, উত্তম কুমার ও ছায়া দেবীর মতো বাংলা চলচ্চিত্রের নায়ক-নায়িকারা আউটডোর শুট করে কলকাতা ফেরার পথে প্রায়ই গাড়ি থামিয়ে মনোহরা কিনে বাড়ি ফিরতেন। আজও হাজারো মিষ্টির ভিড়ে মনোহরা নিজের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। মুর্শিদাবাদ-হুগলিবাসী বলে নয়, মনোহরার স্বাদ একবার যিনি চেখে দেখেছেন, তাঁর মন জয় করে নিয়েছে ব্রিটিশ আমলে জন্ম নেওয়া এই মিষ্টি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share