Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • RG Kar Incident: “পুরোটাই নাটক’’! জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    RG Kar Incident: “পুরোটাই নাটক’’! জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে যাওয়ায় মমতাকে তোপ শুভেন্দুর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লাইভ স্ট্রিমিংয়ের জটে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে নবান্ন-বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার জন্য সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বিরোধী দলনেতার দাবি, মমতার মুখোশ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, অনেক প্রশ্নের জবাব ওনার কাছে ছিল না, তাই ভয়ে লাইভ স্ট্রিমিংয়ের বিরোধিতা করেছেন। শুভেন্দুর এও জানান, সমাজমাধ্যমে ফাঁকা সভাঘরের ছবি প্রকাশ করে আসলে আদালতকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনাকে ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাটক’’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।

    আদালত অবমাননার প্রশ্ন নেই

    আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Incident) বিচারের দাবিতে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন জুনিয়র ডাক্তাররা। আন্দোলনকারী চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করে সমাধান সূত্র বার করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার মমতার সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক (Suvendu Adhikari) ট্যুইট করেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী যে ঘরে বসে অপেক্ষা করছিলেন, সেই ছবি সরকার প্রকাশ করল শুধুমাত্র আদালতকে প্রভাবিত করার জন্য।’’ সুপ্রিম কোর্টের রায়ের সঙ্গে ওই বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিংয়ের কোনও সম্পর্ক নেই, বলে জানান শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “লাইভ স্ট্রিমিংয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখোশ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল তাই জুনিয়র ডাক্তারদের ন্যায্য দাবি মানলেন না। জুনিয়র ডাক্তাররা স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি নিয়ে আলোচনা করতেন, তাতেই স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভয় পেয়ে যান। আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চান না এই অচলাবস্থা কাটুক।’’ 

    লাইভ স্ট্রিমিংয়ে কীসের আপত্তি?

    শুভেন্দুর (Suvendu Adhikari) প্রশ্ন, যেখানে প্রশাসনিক বৈঠকের সরাসরি স্ট্রিমিং হয়, সেখানে এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের লাইভ স্ট্রিমিংয়ে কীসের আপত্তি? এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘‘যে মুখ্যমন্ত্রী প্রসাশনিক বৈঠক লাইভ স্ট্রিমিং করেন, তাহলে এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক লাইভ স্ট্রিমিং করতে তাঁর আপত্তি কোথায়?’’ কারণও ব্যাখ্যা করে দেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, মমতা জানতেন যে, তিনি অনেক প্রশ্নের জবাব দিতে পারতেন না। তাই তিনি লাইভ স্ট্রিমিংয়ে রাজি হননি। শুভেন্দু লেখেন, ‘‘আইনের যে যুক্তি দিচ্ছেন তা পুরোপুরি ভুয়ো। মুখ্যমন্ত্রী আসলে লাইভ স্ট্রিমিং করতে ভয় পেয়েছিলেন এই ভাবনা থেকে যে প্রাথমিক পুলিশি তদন্তে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তদন্তের (RG Kar Incident) নামে প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা ও তাড়াহুড়ো করে দেহ দাহ করা হয়েছে, এই সংক্রান্ত কোনও প্রশ্ন উঠলে উনি জবাব দিতে পারতেন না।’’

    সুপ্রিম শুনানির আগে সিমপ্যাথি কার্ড

    সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর কাণ্ডের (RG Kar Incident) পরবর্তী শুনানির আগে রাজ্যের উকিল কপিল সিব্বলের হাতে ভুয়ো যুক্তির অস্ত্র তুলে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নানা কৌশল অবলম্বন করছেন, বলেও জানান শুভেন্দু (Suvendu Adhikari)। এক্স হ্যান্ডলে শুভেন্দু লেখেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী ‘সিমপ্যাথি কার্ড’ ব্যবহার করছেন এই বলে যে বৈঠক হলে নাকি নির্যাতিতার জন্য নীরবতা পালন করতেন, অথচ বিধানসভায় অপরাজিতা বিল আনার সময় নির্যাতিতার জন্য কোনও শোকপ্রস্তাব কেন ছিল না।’’ শুভেন্দুর প্রশ্ন, “উনি নাকি দু’দিন ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করেছেন, কিন্তু অভয়ার মা বাবা, সহকর্মীগণ, নাগরিক সমাজ আজ ৩৩ দিন অপেক্ষায় রয়েছেন, সে ব্যাপারে ওনার কী মতামত?’’ 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: সমাধানসূত্র অধরা! “সরাসরি সম্প্রচারে রাজ্য সরকারের কীসের ভয়?’’ প্রশ্ন জুনিয়র ডাক্তারদের

    RG Kar Incident: সমাধানসূত্র অধরা! “সরাসরি সম্প্রচারে রাজ্য সরকারের কীসের ভয়?’’ প্রশ্ন জুনিয়র ডাক্তারদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Incident) অধরাই রয়ে গেল সমাধানসূত্র। মঙ্গল, বুধের পর বৃহস্পতিতেও ভেস্তে গেল মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনকারী জুনিয়র ডাক্তারদের বৈঠকের সম্ভাবনা। লাইভ স্ট্রিমিংয়ের শর্ত রাজ্য না মানায় বৈঠকে রাজি হননি আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। তাঁদের প্রশ্ন, “সরাসরি সম্প্রচারে রাজ্য সরকারের কীসের ভয়?’’ কেন তাঁরা এই লাইভ স্ট্রমিংয়ের বিষয়ে অনড়, ঠিক কোন আশঙ্কায়, সেই কারণও খোলসা করলেন জুনিয়র ডাক্তাররা।

    ভয়ের কারণ খোলসা

    বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ আন্দোলনকারীদের ইমেল পাঠান। জানান তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জুনিয়র ডাক্তাররাও বৈঠকে যোগ দিতে আগ্রহী হন। তবে বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার চেয়ে জুনিয়র ডাক্তারেরা যে শর্ত দিয়েছিলেন, তা না মানায় ভেস্তে গেল বৈঠক। সেখান থেকে স্বাস্থ্যভবনের ধর্নাস্থলে ফিরে এসে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা জানিয়ে দেন, আন্দোলন চলবে। জুনিয়র চিকিৎসকদের তরফে দেবাশিস হালদার বলেন, ‘‘আমরা মুখ্যমন্ত্রীর মত অত বড় রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। সেই কারণেই ভয় লাগছিল। যদি আমাদের কোনওভাবে চাপ দেওয়া হয়, তখন কী হবে? সেই কারণেই আমরা বারবার সরাসরি সম্প্রচারের কথা বলেছি ৷ তাহলে একটি স্বচ্ছতা থাকে।’’

    রাজ্যের আপত্তি

    বৃহস্পতিবার বিকেলে নবান্নে যান জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors Protest) ৩২ জনের প্রতিনিধি দল। সকলকেই নবান্নের সভাগৃহে বৈঠকে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়। তত ক্ষণে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যর সঙ্গে সেখানে অপেক্ষা করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সভাগৃহে আর প্রবেশ করেননি চিকিৎসকরা। বৈঠকের সরাসরি সম্প্রচার নিয়ে শুরু হয় টানাপড়েন। আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দেন, তাঁদের এই শর্ত না মানলে বৈঠকে প্রবেশ করবেন না। একে একে এসে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যসচিব মনোজ, স্বরাষ্ট্র সচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, এডিজি দক্ষিণবঙ্গ সুপ্রতিম সরকার, এডিজি আইনশৃঙ্খলা মনোজ ভার্মা। কিন্তু আন্দোলনকারীরা ছিলেন অনড়। এই আবহে মুখ্যসচিব এবং রাজ্যপুলিশের ডিজি সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়ে দেন, এই শর্ত মানছে না রাজ্য। সাংবাদিক বৈঠক করেন মমতা। সেখানে তিনি দাবি করেন, কেউ কেউ (আন্দোলনকারী) বিচার চান না। চান ক্ষমতার চেয়ার।

    আন্দোলন চলবে

    নবান্নে দাঁড়িয়েই পাল্টা সাংবাদিক বৈঠক করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা দাবি করেন, চেয়ারে ভরসা রেখেই এসেছিলেন, তাই চেয়ার তাঁরা চান না। চান উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো। চান নিজেদের বোনের বিচার। সে কারণেই চলবে তাঁদের অবস্থান। এর পর নবান্ন থেকে বেরিয়ে রওনা হন স্বাস্থ্যভবনের উদ্দেশে। সেখানে পৌঁছে তাঁরা জানিয়ে দেন, ৩৩ দিন পথে থেকেছেন, প্রয়োজনে আরও ৩৩ দিন পথে থাকবেন তাঁরা। তবু বিচারের দাবি থেকে সরবেন না। তাঁদের কথায়, “সরাসরি সম্প্রচারে রাজ্য সরকারের কিসের ভয়? আমরা ন্যায়বিচারের দাবি নিয়ে গিয়েছিলাম। যাতে কর্মস্থলে নিরাপত্তা থাকে এবং কর্মস্থলে গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে, সে নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলাম।’’ দেবাশিস হালদার বলেন, ‘‘আমাদের আশা ছিল আজকের বৈঠককে নিয়ে। আমরা সবাই জানতাম আজকে বৈঠকটা হবে। আমরা যদি জানতাম বৈঠকটা হবে না তাহলে এতদূর যেতামই না। আমরা হতাশ। আমাদের এই আন্দোলন স্বাস্থ্যভবনের সামনে চলবে।’’

    আরও পড়ুন: মাইগ্রেনের যন্ত্রণায় মাথা ছিঁড়ে যাচ্ছে? ঘরোয়া উপাদানেই পেতে পারেন আরাম

    জুনিয়রদের পাশে সিনিয়ররা

    কোন কোন জুনিয়র ডাক্তার (Junior Doctors Protest) কাজে যোগ দিলেন, এবার খতিয়ে দেখবে স্বাস্থ্য ভবন। বৃহস্পতিবার মেডিক্যাল কলেজগুলির কাছে কাজে যোগ দেওয়া জুনিয়র ডাক্তারদের তালিকা চেয়েছে রাজ্য। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের তরফে রাজ্যের সব হাসপাতালকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ পাঠিয়ে বলা হয়, দুপুর ২টোর মধ্যে জমা দিতে হবে ওই সংক্রান্ত রিপোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কাজে যোগ দেননি কেউ। এই আবহেই এবার স্বাস্থ্য ভবন জানিয়ে দিল, কারা কাজে আসছেন, অবিলম্বে জমা দিতে হবে সেই সংক্রান্ত রিপোর্ট। রাজ্যের সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই ওই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। তবে, এই রিপোর্ট তলবের সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দেয় সিনিয়র ডাক্তাররা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হলে কর্মবিরতির পথে যাবেন বলে জানিয়ে দেন সিনিয়র ডাক্তাররাও। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য ভবনের সামনে সাংবাদিক বৈঠক করে ১০টি চিকিৎসক সংগঠনের সদস্যরা জানান, প্রয়োজনে সরকারি এবং বেসরকারি দুই হাসপাতালেই কর্মবিরতি শুরু করবেন তাঁরা। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Junior Doctors: জুনিয়র ডাক্তারদের শাস্তি হলেই দেশজুড়়ে আন্দোলন, হুঁশিয়ারি সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলির

    Junior Doctors: জুনিয়র ডাক্তারদের শাস্তি হলেই দেশজুড়়ে আন্দোলন, হুঁশিয়ারি সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ড (RG Kar) ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজ্যে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctor) পাশে দাঁড়িয়ে নিজেদের অবস্থান ফের স্পষ্ট করল সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলি। জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে রয়েছেন তাঁরা। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও রকম শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে কর্মবিরতির পথে যাবেন বলে জানিয়ে দিলেন সিনিয়র ডাক্তারেরাও। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে সাংবাদিক বৈঠক করে ১০টি চিকিৎসক সংগঠনের সদস্যেরা জানালেন, প্রয়োজনে সরকারি এবং বেসরকারি দুই হাসপাতালেই কর্মবিরতি শুরু করবেন তাঁরা।

    দেশজুড়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি (Junior Doctors)

    সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটার মধ্যেই কাজে যোগ দিতে হবে জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors)। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গিয়েছে। কাজে তো তাঁরা যোগ দেননি। বরং, পাঁচ দফা দাবি নিয়ে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেন জুনিয়র ডাক্তাররা। দাবি পূরণ না হওয়ায় রাতভর চলে ধর্না। বুধবারও চলেছে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন। এই পরিস্থিতিতেই এবার রাজ্যকে কড়া বার্তা দিল সর্বভারতীয় চিকিৎসক সংগঠনগুলি। এমনকী তাঁরা হুমকি দেন, কাজে ফেরানোর জন্য পশ্চিমবঙ্গের বিক্ষোভরত ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে দেশজুড়ে ফের আন্দোলনে নামতে পারেন তাঁরা।

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি

    মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের রাজ্য সম্পাদক বিপ্লব চন্দ বলেন, “আমরা সিনিয়র চিকিৎসকেরা কাজ করছি। রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে যতটা সম্ভব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। সরকারের কাছে আবেদন করছি, সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তারদের এমন কিছু করতে বাধ্য করবেন না, যাতে মানুষের স্বাস্থ্য প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে যায়।” তিনি দাবি করেছেন, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় দুর্নীতি রয়েছে। এই দুর্নীতি দমনের জন্য তাঁরা আবেদন করছেন। তাঁর কথায়, “স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি প্রবেশ করেছে। মাথা পর্যন্ত দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। যত পেঁয়াজের খোসা ছাড়ানো হচ্ছে, দুর্নীতি বেরিয়ে আসছে। আমরা সরকার এবং তদন্তকারী সংস্থার কাছে এই দুর্নীতিকে উৎপাটনের আবেদন করছি। সরকার এমন কোনও ঘটনা ঘটাবে না, যাতে চিকিৎসকদের (Junior Doctors) আন্দোলন হাতের বাইরে বেরিয়ে যায়।”

    জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি ‘ন্যায়সঙ্গত’

    ‘জয়েন্ট প্লাটফর্ম অফ ডক্টর্স’-এর সদস্য সুশান্ত চৌধুরী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors) দাবি ‘ন্যায়সঙ্গত’। তিনি বলেন, “জুনিয়র জাক্তারেরা এমন কোনও দাবি করেননি, যা মানা যাবে না। এই দাবি মানার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সদিচ্ছা থাকা দরকার।” ওই সংগঠনের সদস্য তমোনাশ চৌধুরী বলেন, “সাধারণ মানুষকে সুস্থ পরিষেবা দেওয়ার জন্য এই আন্দোলন। দুঃখের ঘটনা, আমাদের বোনের মৃত্যু পর আগুন জ্বলেছে, তবে এই আগুন দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে।”

    ভুল তথ্য দিচ্ছে রাজ্য!

    দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়েছে আইএমএ (ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন)। আইএমএ-র অ্যাকশন কমিটির সদস্য সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, আইএমের পক্ষ থেকে তাঁদের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। সদস্যপদ খারিজ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যভবনের কাছে অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেছি। তদন্ত কমিটি তৈরি হচ্ছে। সেই কমিটিতে অধ্যক্ষেরা রয়েছেন।” ফেডারেশন অফ রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন এবং অল ইন্ডিয়া রেসিডেন্টস অ্যান্ড জুনিয়র ডক্টরস জয়েন্ট অ্যাসোসিয়েশন ফোরামের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের পেশ করা জুনিয়র ডাক্তারদের (Junior Doctors) কর্মবিরতির জেরে রোগী মৃত্যুর হিসেব ভুল। খুব শীঘ্রই সব রাজ্যের রেসিডেন্ট ডক্টরসরা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই ঠিক হবে পরবর্তী কর্মসূচি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Jawhar Sircar: মমতার অনুরোধ বিফলেই গেল, ধনখড়কে পদত্যাগপত্র দিলেন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার

    Jawhar Sircar: মমতার অনুরোধ বিফলেই গেল, ধনখড়কে পদত্যাগপত্র দিলেন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি লিখে রবিবারই সাংসদ পদে ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন জহর সরকার (Jawhar Sircar)। বৃহস্পতিবার রাজ্যসভার (Rajya Sabha) চেয়ারম্যান জগদীপ ধনখড়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র তুলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ। বৃহস্পতিবার দুপুরেই দিল্লিতে উপরাষ্ট্রপতির কাছে সশরীরে হাজির হয়ে তাঁর হাতে পদত্যাগপত্র তুলে দেন জহর।

    তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১২

    প্রসঙ্গত, জহর সরকারের (Jawhar Sircar) ইস্তফার ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াল ১২। পশ্চিমবঙ্গে মোট ১৬টি রাজ্যসভার আসন রয়েছে। তার মধ্যে একটি খালি হয়ে গেল। তৃণমূলের ১২ জন ছাড়াও বিজেপির দুই এবং বামেদের এক জন রাজ্যসভা সাংসদ রইলেন। প্রসঙ্গত, এটাই নতুন বা প্রথম নয়, ২০২২ সালে শিক্ষা দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং গরু পাচার মামলায় অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতার হওয়ার পরে দলের বিরুদ্ধেই সরব হয়েছিলেন জহর। দলের একটা গোটা দিক পচে গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পেশিশক্তির আস্ফালন

    গত রবিবার আরজি কর-কাণ্ড নিয়ে দলীয় অবস্থানের বিরোধিতা করে মমতাকে চিঠিতে জহর (Jawhar Sircar) লেখেন, ‘‘মাননীয়া মহোদয়া, বিশ্বাস করুন এই মুহূর্তে রাজ্যের সাধারণ মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন ও রাগের বহিঃপ্রকাশ আমরা সবাই দেখছি, এর মূল কারণ কতিপয় পছন্দের আমলা ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পেশিশক্তির আস্ফালন। আমার এত বছরের জীবনে এমন ক্ষোভ ও সরকারের প্রতি সম্পূর্ণ অনাস্থা আগে কখনও দেখিনি।’’

    মমতার মন্তব্যের বিরোধিতা

    আরজি করে মহিলা চিকিৎসকের খুন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচারের দাবিতে আন্দোলনকে রাজনৈতিক বলেছিলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্যে ফুঁসতে থাকে গোটা বাংলা। সেই সময়ই প্রতিবাদ জানান জহর সরকার। প্রকাশ্যেই জহর (Jawhar Sircar) লেখেন, ‘‘আমার বিশ্বাস, এই আন্দোলনে পথে নামা মানুষেরা অরাজনৈতিক এবং স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে প্রতিবাদ করছেন। অতএব রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে এই আন্দোলনকে প্রতিরোধ করা সমীচীন হবে না। এঁরা কেউ রাজনীতি পছন্দ করেন না। শুধু একবাক্যে বিচার ও শাস্তির দাবি তুলেছেন।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Vande Bharat: পুজোর আগেই বাংলা পাচ্ছে তিনটি বন্দে ভারত, কোন কোন রুটে ছুটবে এই ট্রেন?

    Vande Bharat: পুজোর আগেই বাংলা পাচ্ছে তিনটি বন্দে ভারত, কোন কোন রুটে ছুটবে এই ট্রেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পুজোর আগে রাজ্যবাসীর জন্য সুখবর। বিশেষ উপহার পাচ্ছে বাংলা। যাত্রীদের সুবিধার জন্য নতুন বন্দে ভারত চালু করতে চলেছে ভারতীয় রেল। জানা গিয়েছে, রাজ্যে এবার চলবে আরও তিনটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat)। আগামী রবিবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাত ধরে সেই ট্রেন চালু হবে। ওইদিন মোট ছ’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তার মধ্যেই থাকছে বাংলার জন্য তিনটি ট্রেন।

    কমলা রঙের বন্দে ভারত, কোন রুটে চলবে? (Vande Bharat)

    বর্তমানে হাওড়া থেকে দু’টি বন্দে ভারত (Vande Bharat) চলে। একটি নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত এবং আর একটি ওড়িশার পুরী পর্যন্ত। বন্দে ভারত নিয়ে প্রথম থেকে উচ্ছ্বাস এবং কৌতূহল ছিল যাত্রীদের মধ্যে। অল্প সময়ের মধ্যে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় এই প্রিমিয়াম ট্রেন। চাহিদার কথা মাথায় রেখে এবং যাত্রী পরিষেবায় আরও স্বাচ্ছন্দ্য আনতে এবার হাওড়া থেকে আরও তিনটি পথে বন্দে ভারত চালানোর উদ্যোগ নিল রেল। রেল সূত্রে খবর, এই তিনটি ট্রেন হল হাওড়া-ভাগলপুর, হাওড়া-গয়া এবং হাওড়া-রাউরকেল্লা। ইতিমধ্যেই এই ট্রেনগুলির কমলা রঙের বগি তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। হাওড়া কোচিং ইয়ার্ডে সেগুলি চলে এসেছে। পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে খুব শীঘ্রই। আনুষ্ঠানিক ভাবে এই পরিষেবা চালু হওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রেনগুলি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করার সম্ভাবনা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তিনটি ছাড়াও দেওঘর থেকে বারাণসী বন্দে ভারত একই সঙ্গে চালু হবে।

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    রাজ্যে বন্দে ভারত বেড়ে হল ৯টি

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মোট ছ’টি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস (Vande Bharat) চলাচল করে। তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও তিনটি। বর্তমানে যে রুটগুলিতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চলাচল করে, সেই রুটগুলি হল-হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি, হাওড়া-পুরী, নিউ জলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি, হাওড়া-পাটনা, হাওড়া-রাঁচি এবং নিউ জলপাইগুড়ি-পাটনা। রাজ্যে প্রথম বন্দে ভারত চালু হয়েছিল হাওড়া (Howrah) থেকে। সেটি হল হাওড়া-নিউ জলপাইগুড়ি রুটে। এরপর হাওড়া-পুরী এবং এনজিপি-গুয়াহাটি বন্দে ভারত চালু হয়। ট্রেনগুলি চালিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে বলে রেল কর্তৃপক্ষের দাবি। তাই এ বার আরও বেশ কয়েকটি নতুন পথে বন্দে ভারত চালানোর এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ

  • RG Kar: কোটি কোটি টাকার অঙ্গ পাচার, মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস! অন্য জগৎ আরজি করের মর্গ

    RG Kar: কোটি কোটি টাকার অঙ্গ পাচার, মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস! অন্য জগৎ আরজি করের মর্গ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জমানায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতালের (RG Kar) মর্গে মৃতদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রির কারবার ফুলেফেঁপে উঠেছিল বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। দুর্নীতির পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা বলেই প্রাথমিক অনুমান সিবিআইয়ের। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য সিবিআইয়ের (CBI) হাতে এসেছে, গভীর রাতে মর্গে চলত মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস, ধৃত সঞ্জয় রায়ের ফোনে সেই ছবিই পেয়েছেন আধিকারিকরা। এতেই দানা বাঁধছে সন্দেহ, আরজি করের (RG Kar) মর্গ কি তবে বিকৃত পর্নোগ্রাফির কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল?

    পড়শি দেশেও পাচার করা মৃতদেহের অঙ্গ (RG Kar)

    কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, দুর্নীতির তদন্তে নেমে দেখা যাচ্ছে যে আরজি করের পাশাপাশি রাজ্যের বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালের মর্গ দুর্নীতির আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে। তবে সরকারি হাসপাতালই নয় বেশ কতগুলো বেসরকারি হাসপাতালও এই দুর্নীতিতে যুক্ত বলে জানতে পেরেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। সিবিআইয়ের তরফ থেকে যে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে তাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে যে, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করে নেওয়া হত। একেকটি অঙ্গের দর অন্তত চার থেকে আট লাখ টাকা পর্যন্ত উঠত। তার পরে এই অঙ্গগুলি পাচার করা হত দেশের অন্যান্য রাজ্যে। এর পাশাপাশি, পড়শি দেশেও পাচার করা এই অঙ্গ (RG Kar), এমনটাই জানতে পেরেছেন সিবিআই গোয়েন্দারা। রাজ্যে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংখ্যা যেমন বেড়েছে তেমনই মানবদেহের হৃদপিণ্ড, যকৃত, কিডনির চাহিদাও বেড়েছে। এগুলি মূলত শিক্ষাদানের কাজেই ব্যবহার করা হয় চিকিৎসাশাস্ত্রে। জানা গিয়েছে, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ দুই ব্যক্তি এই কাজে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, ওই দুইজনকে ইতিমধ্যে ৩ দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং অঙ্গ ব্যবসার জোরালো সূত্র মিলেছে তাঁদের কাছ থেকে। সাধারণভাবে যে নিয়ম রয়েছে তাতে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ সাধারণত সাত দিন পেরোলে তা পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। আইন অনুযায়ী, অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ থেকে অঙ্গ নিতে হলে স্বাস্থ্য ভবনের ছাড়পত্র প্রয়োজন কিন্তু সেসবকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ডাক্তারদের সিন্ডিকেটই অঙ্গ ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছে বলে খবর।

    মর্গের মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস, তারপর তা ক্যামেরাবন্দি করত ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ার

    সিবিআই সূত্রে আরও দাবি, চিকিৎসক পড়ুয়াকে ধর্ষণ-খুনে অভিযুক্ত ধৃত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ও মর্গে অবাধেই যাতায়াত করত। রাত বাড়লেই শুরু হত আরজি করে কুকীর্তি! তবে শুধু ধৃতই সিভিক ভলান্টিয়ারই নয়, বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতির যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছিল, সেখানে যাতায়াত ছিল আরও অনেকেরই। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে সিবিআইয়ের। মেডিক্যাল কলেজের মর্গের ভিতরের একটি ভিডিও উদ্ধার হয়েছে ধৃতের মোবাইল থেকে। সেখানে মরদেহের সঙ্গে সহবাসের ছবি মিলেছে ধৃতের। এখানেই দানা বাঁধছে সন্দেহ। সাধারণভাবে, মৃতদেহের সঙ্গে সহবাস করা এক ধরনের মানসিক ব্যাধি। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় ‘নেক্রোফিলিয়া’। কিন্তু শুধুই কি মানসিক ব্যাধির কারণেই এমনটা করত সঞ্জয়? নাকি আরজি করের (RG Kar) মর্গ হয়ে উঠেছিল বিকৃত পর্নোগ্রাফির কেন্দ্র? এটাও খতিয়ে দেখছে সিবিআই। মোটা টাকার বিনিময়ে এই সমস্ত ভিডিও বিদেশে বিক্রি করা হত কিনা তা জানার চেষ্টা করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ধৃত সঞ্জয় রায়ের এমন কাণ্ডের ছবি মর্গের ভিতরে কারা তুলত? এবিষয়ে প্রাথমিকভাবে বেশ কিছু তথ্য এসেছে তদন্তকারীদের কাছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে আরজি করের মধ্যে দাপিয়ে বেড়ানো সিন্ডিকেটের কয়েকজনই সেই ছবি তুলত। পর্নোগ্রাফি চক্রের পাশাপাশি বেওয়ারিশ মৃতদেহের হিসাবেও গরমিল উঠে এসেছে সিবিআইয়ের হাতে।

    ২০২১ সাল থেকে বছরে ৬০-৭০টি করে মৃতদেহ পাচার করা হত 

    তদন্তকারীরা (CBI) জানাচ্ছেন, ২০২১ সাল থেকে বিগত কয়েক বছরে অন্তত ৬০ থেকে ৭০টি করে দেহের হিসাব পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা এক্ষেত্রে জানতে পেরেছেন সন্দীপ ঘোষ তাঁর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ থেকে আনেন এবং তাঁকেই ‘হেড ডোম’ করা হয় মর্গের। অন্যদিকে, মর্গ তৈরির সময় থেকে যিনি ‘হেড ডোম’ ছিলেন তাঁকে সিন্ডিকেটের প্রভাবে অন্য বিভাগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

    রাত হলেই মর্গে আনাগোনা করতেন সিন্ডিকেটের নেতারা

    প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে মর্গ বন্ধ করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গভীর রাত পর্যন্ত মর্গে আলো জ্বলত বলে জানা গিয়েছে। আরজি করে বর্তমানে ৪০টিরও বেশি কোল্ড চেম্বার রয়েছে। রাতে সেই চেম্বার খোলা হত বলেও অভিযোগ। সিবিআইয়ের সন্দেহ, সেই সময়েই বের করা হত মৃতদেহ। তার পরে চলত সহবাস, যা মোবাইলের ক্যামেরাবন্দি করা হত। দুর্নীতির সেই শিকড় খুঁজছে সিবিআই। মর্গের এক কর্মী নিজের নাম গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘‘সন্ধ্যা হলেই মর্গে নিয়ে আসা হত মদের বোতল। সেখানে আমাদের মতো ছোটখাটো কর্মীদের কারও কিছু বলার সাহস ছিল না। বললেই হয় বদলি, নয় চাকরি যাওয়ার হুমকি দেওয়া হত।’’ অভিযোগ, রাত বাড়লেই মর্গে এসে ঢুকতেন সিন্ডিকেটের দাপুটে নেতাদের অনেকেই। ওই কর্মীর কথায়, ‘‘অন্যায় দেখেও চুপ করে থাকাটাই তো অলিখিত নিয়ম হয়ে গিয়েছিল।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • CBI: নির্যাতিতার চোয়ালে কামড়ের দাগ কি ধৃত সিভিকের? দিল্লিতে নমুনা পাঠাল সিবিআই

    CBI: নির্যাতিতার চোয়ালে কামড়ের দাগ কি ধৃত সিভিকের? দিল্লিতে নমুনা পাঠাল সিবিআই

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার চোয়ালের ডান দিকে কামড়ের চিহ্ন ছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। ওই চিহ্ন অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়ের কি না, তা জানতে চায় সিবিআই। এর আগে সিএফএসএল বিশেষজ্ঞদের মত ছিল, কামড়ের দাগ অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়রের। সূত্রের খবর, তবে সেই রিপোর্টে সন্তুষ্ট ছিলেন না সিবিআই (CBI) আধিকারিকরা। নিশ্চিত হতে এ বার সঞ্জয়ের দাঁতের ফরেন্সিক পরীক্ষা করানোর সিদ্ধান্ত সিবিআইয়ের। দিল্লির ফরেন্সিক ল্যাবে নমুনা পাঠানো হল।  

    জেলে গিয়ে অভিযুক্ত সিভিকের নমুনা সংগ্রহ (CBI)

    সিবিআই সূত্রে জানা যাচ্ছে, সঞ্জয়ের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য আলিপুরের বিশেষ সিবিআই (CBI) আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারীরা। আদালত সেই অনুমতি দেওয়ার পরই বুধবার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা এজেন্সির আধিকারিকরা পৌঁছন প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে। প্রায় ঘণ্টা দু’য়েক সেখানে কাটান। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার থেকে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করেন গোয়েন্দারা। পাশাপাশি তাঁর দাঁতের গঠনের ছবি করেন। সঞ্জয়ের কামড়ের নমুনা বা টিথ ইমপ্রেশন সংগ্রহ করেন তদন্তকারীরা। নির্যাতিতার শরীরে যে কামড়ে চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে, এই নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখবেন তদন্তকারীরা। প্রসঙ্গত, যেদিন সেমিনার হল থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার হয়েছিল সেই দিন তাঁর ডানদিকের চোয়ালে কালশিটে দাগ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্টে বিষয়টিকে ‘বাইট মার্ক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এবার নির্যাতিতার শীরের দাগটি সঞ্জয়ের থেকেই তৈরি হওয়া কি না তা নিশ্চিত হতেই দিল্লিতে সিএফএসএল দিল্লিতে এই নমুনা পাঠাল সিবিআই। অপরদিকে, প্রাথমিকভাবে যাচ্ছে, এইমসে যে ডিএনএ নমুনা পাঠানো হয়েছিল তাতে অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়র ছাড়া দ্বিতীয় ব্যক্তির অস্তিত্বের জানা যায়নি।

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    সিবিআইয়ের অনুমান

    আরজি কর (RG Kar) হাসপাতালের সেমিনার হল থেকে গত ৯ অগাস্ট তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে। যদি সঞ্জয়ের দাঁতের থেকে সংগ্রহ করা নমুনার সঙ্গে নির্যাতিতার শরীরের কামড়ের চিহ্ন না মেলে তাহলে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় আরও কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা থাকবে বলে অনুমান সিবিআইয়ে (CBI)। উল্লেখ্য, আরজি করের ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয়কে গ্রেফতার করেছিল কলকাতা পুলিশ। পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার গিয়েছিল সিবিআই-এর হাতে। আপাতত আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে রয়েছেন সঞ্জয়। আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত একমাত্র অভিযুক্ত তিনি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: আরজি করকাণ্ডে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি, নার্সিংহোমে তল্লাশি সিবিআইয়ের

    RG Kar Incident: আরজি করকাণ্ডে তৃণমূল বিধায়কের বাড়ি, নার্সিংহোমে তল্লাশি সিবিআইয়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডে এবার সিবিআই-এর নজরে শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত রায়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা নাগাদ সিবিআইয়ের অপরাধদমন শাখার আধিকারিকরা সুদীপ্তের সিঁথির মোড় সংলগ্ন বিটি রোডের বাড়িতে পৌঁছন। বিধায়কের মালিকানাধীন বাড়ি লাগোয়া নার্সিংহোমেও যান অফিসাররা। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, আরজি কর হাসপাতালে দুর্নীতি এবং ধর্ষণ-খুনের ঘটনায় তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতেই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে সুদীপ্তের বাড়ি এবং নার্সিংহোমে।

    দেড় ঘণ্টা ধরে তল্লাশি 

    প্রসঙ্গত, শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ্ত আরজি কর হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান। তিনি রাজ্যের হেল্‌থ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের সদস্য এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলের প্রাক্তন সভাপতি। এদিন দুপুর ১টা নাগাদ যখন সিবিআই আধিকারিকরা সুদীপ্তের বাড়িতে হানা দেন, তখন নীচের তলার অফিস ঘরেই ছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল বিধায়ক। সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। তদন্তকারীদের একটি দল নার্সিংহোমটিতেও তল্লাশি অভিযান চালায়। তিন জন সিবিআই আধিকারিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন সুদীপ্তকে। গোটা বাড়ি ঘিরে রেখেছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালানোর পর সুদীপ্তের বাড়ি থেকে বেরোয় সিবিআই। 

    সুদীপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ

    আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ ছিলেন সুদীপ্ত রায়। ঘটনার দিন সন্দীপ ঘোষের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা হয় সুদীপ্ত রায়ের। সকালে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছিলেন সন্দীপ। কল ডিটেলস রেকর্ডের সূত্র ধরে জানতে পেরেছে সিবিআই।  সেই সূত্র ধরেই তদন্তে সুদীপ্ত রায়ের বাড়ি ও নার্সিংহোমে যান সিবিআই আধিকারিকরা। সুদীপ্ত রায়কে নিয়ে প্রথম অভিযোগ করেছিলেন, আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার নন-মেডিক্যাল আখতার আলি। তিলোত্তমা পর্বে তা নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। আখতার আলি অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছিলেন, এক প্রভাবশালীর নার্সিংহোমে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসার সরঞ্জাম সরবরাহ করা হত। হাসপাতালের যাঁরা ভেন্ডার, তাঁদের দিয়ে সেই নার্সিংহোমের কাজ করানো হত। জানা যাচ্ছে, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এবার সুদীপ্তের নার্সিংহোমে তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা।

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    নানা প্রান্তে ইডির তল্লাশি

    এদিন আরজি করে আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে ইডির একটি দল চিনার পার্কের ঘোষ ভিলা-তে যায়। এই বাড়িতে সন্দীপ ঘোষের বাবা মা থাকতেন। বর্তমানে বাড়িটি তালাবন্ধ ছিল। আজ সকালে ইডির টিম সেখানে যায়। এরপর ঘোষ পরিবারের স্থানীয় এক পরিচিত এসে মূল দরজার তালা খুলে দিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, কলকাতায় ৪টি ঠিকানায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। এর মধ্যে আরজি কর হাসপাতালে দুর্নীতিতে অন্যতম অভিযুক্ত প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের দুটি ফ্ল্যাটেও তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অফিসাররা। এছাড়া বাকি দুটি ঠিকানা হল, লেকটাউনে একটি মেডিক্যাল সাপ্লায়ারের অফিস ও টালা এলাকায় এক মেডিক্যাল ভেন্ডরের বাড়ি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • RG Kar Incident: আরজি করকাণ্ডে ফরেন্সিক দলে ছিলেন ২ সিভিক ভলান্টিয়ার! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

    RG Kar Incident: আরজি করকাণ্ডে ফরেন্সিক দলে ছিলেন ২ সিভিক ভলান্টিয়ার! চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করে (RG Kar Incident) নির্যাতিতা পড়ুয়ার ময়না তদন্তে সিভিক ভলান্টিয়ারের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক পড়ুয়াকে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় ফরেন্সিক নমুন সংগ্রহ করেছেন কে? সোমবার সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে উঠেছিল এই প্রশ্ন। উত্তর খুঁজতে গিয়ে এ বার সামনে এল এই তথ্য। জানা যায়, ২ অফিসারের সঙ্গে ছিলেন ২ সিভিক ভলান্টিয়ারও! চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে।

    অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন (RG Kar Incident)

    সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাও ফরেন্সিক রিপোর্ট হাতে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘‘নমুনা সংগ্রহ করলেন কে?’’ এর পর রিপোর্টের কিছু অংশ চিহ্নিত করে বিচারপতিদের দেখতে দিয়ে তিনি এ-ও মন্তব্য করেন, ‘‘সারা শরীরে এত আঘাত, মৃতদেহ অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে রইল, এত জন এল-গেল, আর রিপোর্ট এল এই রকম? নমুনা সংগ্রহ করলেন কে?’’ এরপরই সমস্ত তথ্য সামনে আসে। জানা গিয়েছে, ময়না তদন্তের সময় ছিলেন সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার এক জন। সায়েন্টিফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট এক জন। আর দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ার।

    কেন গেলেন না অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর?

    খুন এবং ধর্ষণের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ টিস্যু, রক্ত, সিমেনের মতো নমুনা সংগ্রহের জন্য ছিলেন না কোনও বিশেষজ্ঞও। রাখা হয়নি কোনও ‘ক্রাইম সিন’ বিশেষজ্ঞকেও। জানা যাচ্ছে, ৯ অগাস্ট অর্থাৎ মৃতদেহ উদ্ধারের দিন, কলকাতা (Kolkata) পুলিশের মোবাইল ফরেন্সিক ইউনিটের অফিসার ইনচার্জ তথা রাজ্য ফরেন্সিক (RG Kar Incident) সায়েন্স ল্যাবরেটরির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর বেলগাছিয়ায় রাজ্য ফরেন্সিক ল্যাবেই ছিলেন। অথচ, তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। পাঠানো হয়েছিল তাঁর চেয়ে কম পদমর্যাদার দুই কর্মী আর দু’জন সিভিক ভলান্টিয়ারকে। যাঁরা কলকাতা পুলিশেরই সিভিক ভলান্টিয়ার বলে সূত্রের খবর। এর পরেই প্রশ্ন উঠে গিয়েছে, যেখানে স্বয়ং কলকাতার পুলিশ কমিশনার আরজি করের ঘটনাস্থলে পৌঁছে গিয়েছিলেন, সেখানে ল্যাবেই থাকা অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার অফিসার গেলেন না কেন?

    আরও পড়ুন: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    কী সাফাই দিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর?

    রাজ্য ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পলাশবরণ মাইতি বলেন, “সিভিক ভলান্টিয়ারেরা (RG Kar Incident) সাহায্য করার জন্য যান। ওঁদের বিশেষ ভূমিকা নেই। অন্য সব কেসেও তো এই ভাবেই চলছে।” পলাশবরণ পাঠিয়েছিলেন সনৎকুমার সাহা নামে এক বিশেষজ্ঞকে।  ৯ অগাস্ট হাসপাতাল থেকে বেরনোর মুখে সনৎকুমার এবং তাঁর দলবল সংবাদমাধ্যমের সামনে বলে যান, তাঁদের মৃতদেহের চাদর সরিয়ে দেখার কথা নয়। যদিও ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, চাদর এ ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছিল মৃতদেহের সম্মান রক্ষার্থে। সেই চাদর সরিয়ে না দেখলে কী করে নমুনা সংগ্রহ করা হবে?

    ‘কাট মার্ক’ না ‘বাইট মার্ক’?

    সনৎকুনার সেদিন এ-ও বলে যান, মৃতদেহে বেশ কিছু ‘কাট মার্ক’ পেয়েছেন তাঁরা। প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কি ‘কাট মার্ক’ ছিল মৃতদেহে? যদি থাকে, তা হলে ময়না তদন্তে তার উল্লেখ নেই কেন? তবে কি কাট মার্কের সঙ্গে ‘বাইট মার্ক’ গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল? সনৎকুমার বুধবার বলেন, ‘‘না না, বাইট মার্কই ছিল।’’ মৃতদেহের চাদর সরিয়ে না দেখার প্রসঙ্গে তিনি এ দিনও মন্তব্য করেন, ‘‘চাদর সরিয়ে দেখিনি আমরা।’’ যে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে তা নিয়ে কি সন্তুষ্ট তিনি? সনৎকুমার বলেন, ‘‘যা পাওয়া গিয়েছে, সবটাই তুলে দেওয়া হয়েছে। সিবিআইকে সবটা বলা হয়েছে। সব তথ্য সিবিআই জেনে নিয়েছে। নতুন করে কিছু বলতে পারব না।’’

    ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ কী বললেন?

    ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ অজয় গুপ্ত বলছেন, মৃতদেহ থেকে ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করে দেওয়া যদিও মূলত ময়না তদন্তকারী চিকিৎসকের কাজ। কিন্তু ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহ করার সময় চাদর (RG Kar Incident) সরিয়ে দেখবই না ভিতরে কী আছে, সেটা ঠিক নয়। চাদরের নীচে মৃতদেহের আশেপাশেও তো বহু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ থাকতে পারে, যা নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করা প্রয়োজন। সেটা না করা কিন্তু কর্তব্যে গাফিলতির সমান।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • North Bengal Medical: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    North Bengal Medical: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের হস্টেলে গড়ে উঠেছে ‘মসজিদ’! প্রতিবাদ করলেই হুমকি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল (North Bengal Medical) কলেজের হস্টেলে (Siliguri) রীতিমতো মসজিদ গড়ে উঠেছে। আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে থ্রেট কালচার নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের চাপে এই দিকটি প্রকাশ্যে এসেছে। প্রাণনাশ ও দৈহিক অত্যাচারের হুমকির ভয়ে সকলে এতদিন এসব মুখ বুজে সহ্য করে গিয়েছে।

    কীভাবে হস্টেলে তৈরি হয়েছে মসজিদ? (North Bengal Medical)

    জানা গিয়েছে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের বরখাস্ত চিকিৎসক নেতা অভীক দে-র নির্দেশে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল (North Bengal Medical) কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতা চিকিৎসক শাহিন সরকার ও চিকিৎসক সোহম মণ্ডল মুসলিম সম্প্রদায়ের ছাত্রদেরকে বেছে বেছে ভালো ও একাধিক ঘর বণ্টন করতেন। একটি হল ঘর নমাজ পড়ার জন্য মসজিদের মতো করে তাঁরা সাজিয়ে নেন। সেই ঘরের মেঝেতে সারি সারি মসজিদের ছবি আঁকা, মাদুর পেতে রাখা হয়েছে। সেখানে ছাত্ররা গিয়ে নমাজ পড়েন। অন্যান্য মুসলিম ধর্মের আচার অনুষ্ঠানে অংশ নেন। মুসলিম ধর্ম গ্রন্থ নিয়ে লাইব্রেরি তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠান সম্পর্কে ও নমাজ পাঠের সময় জানানোর জন্য নোটিশ বোর্ড রয়েছে। সেখানে নমাজের সময়সূচি লেখা রয়েছে।

    আরও পড়ুন: নির্যাতিতার পরিবারকে টাকার অফার? ডিসি নর্থকে ডেকে প্রশ্ন সিবিআইয়ের

    প্রতিবাদ করলেই আসত হুমকি

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই ডাক্তারি (North Bengal Medical) পড়ুয়া বলেন, মুসলিম ছাত্রদের জন্য হস্টেলে নির্দিষ্ট একটা এলাকা তৈরি করা হয়েছে। সেখানে অন্য ধর্মের ছাত্রদের যাওয়ার সুযোগ ছিল না। এতদিন আমরা মুখ খুলতে পারিনি। কখনও কেউ সামান্য প্রতিবাদ করলেই তাঁদের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। শাহিন সরকার, সোহম মণ্ডলরা হস্টেল থেকে বের করে দেওয়ার এবং পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেন। তাই মুখ বুজে সব সহ্য করেছিলাম। আরজি করকাণ্ডের জেরে যেভাবে সর্বত্র ছাত্রছাত্রীরা থ্রেট কালচার নিয়ে সরব হয়েছেন, তাতে আমরা সাহসী হয়ে তদন্ত কমিটির কাছে সবটা জানিয়ে হস্টেলে ধর্ম নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির আবেদন জানাই।

    তদন্ত কমিটির কাছে নালিশ

    থ্রেট কালচার নিয়ে জুনিয়র ডাক্তারদের (North Bengal Medical) আন্দোলনের চাপে তদন্ত কমিটি গড়েন উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিৎ সাহা। এমএসভিপি সঞ্জয় মল্লিকের নেতৃত্বে গড়া তদন্ত কমিটির সামনে একাধিক ছাত্র হস্টেলের মধ্যে মসজিদ তৈরি ও ধর্মের ভেদাভেদ তৈরি, ছাত্রদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ জানান। অভিযোগ জানানোর বিষয়টি গোপন না থাকায় তাঁদের কয়েকজনকে এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান অভিযোগকারীরা।

     কী বললেন অধ্যক্ষ ?

    মেডিক্যাল কলেজের (North Bengal Medical) অধ্যক্ষ ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট নিয়ে কলেজ কাউন্সিলের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তদন্ত কমিটির কাছে ছাত্ররা অনেক ধরেনের অভিযোগ করেছে। যার অনেক কিছু আমার জানা ছিল না। এতদিন ডিন আমাকে জানাননি। ছাত্রদের আশ্বাস দিয়েছি, এখন থেকে হস্টেলে ধর্মের ভেদাভেদে কোনও বিতর্কিত কাজ বা পরিবেশ বরদাস্ত করা হবে না। সব ধর্ম সমান গুরুত্ব পাবে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share