Category: রাজ্য

Get West Bengal News, Bengali Breaking News, Latest News in Bengali only from মাধ্যম | Madhyom, Bengali News Portal for সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর

  • Post Poll Violence: ছেলে বিজেপি করে, এই ‘অপরাধে’ই কি নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল মাকে!

    Post Poll Violence: ছেলে বিজেপি করে, এই ‘অপরাধে’ই কি নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল মাকে!

    ঠিক দু-বছর আগের কথা। ২০২১ সালের ২ মে। কোভিড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজ্যে। কিন্তু তাতে কী। শাসক তৃণমূল তখন ফের ‘মধুভাণ্ড’ ফিরে পাওয়ার নেশায় বুঁদ। ভোটের ফলে যখন পরিষ্কার হয়ে গেল, তৃতীয়বারের জন্য মসনদের দখলদারি তাদের হাতেই থাকছে, তখনই যেন বেরিয়ে পড়ল নখ-দন্ত। বিরোধীদের অভিজ্ঞতা অন্তত তেমনটাই। তাদের অভিযোগ, বিজয়োল্লাসের নামে শুরু হয়ে গেল প্রতিপক্ষকে ‘টাইট’ দেওয়ার কাজ। তাদের স্মৃতিতে ভাসছে, চটুল গান, অশ্রাব্য গালিগালাজ, অভব্য অঙ্গভঙ্গি, রাস্তার দোকানে ভাঙচুর এবং বিরোধী দলের কর্মীদের প্রতি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড-কিছুই বাদ যায়নি। ভয়ঙ্কর সেইসব ঘটনা নিয়েই আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের চতুর্থ পর্ব।

     

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে এই ভোট-পরবর্তী সন্ত্রাস শুধু রাজনৈতিক সংঘর্ষ (Post Poll Violence) ছিল না, সামজিক, আর্থিক ও ধর্মীয় সন্ত্রাসেরও শিকার হতে হয়েছে অসহায় মানুষকে। ৩৮.২ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি, তাই চরম হিসাব দিতে হয়েছে তাদের কর্মী-সমর্থকদের। নির্যাতন থেকে বাদ যায়নি বাংলার নারীসমাজ। এমনটাই অভিযোগ বিরোধী দলের। অভিজ্ঞ মানুষের মুখেও বারবার শোনা গিয়েছে একটাই কথা, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বামপন্থী লাল সন্ত্রাসকেও বহুগুণ ছাপিয়ে গেছে এই রাজনৈতিক সবুজ সন্ত্রাস। 

    কেমন ছিল নারী নির্যাতনের ছবি?

    নির্বাচন সময়পর্বে কোচবিহারে রাজবংশী সমাজের মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছিল। নিখোঁজ তরুণীর বাবা পুলিশ সুপারের কাছে তা জানান। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশ-প্রশাসন ছিল নিষ্ক্রিয়। বিজেপির অভিযোগ, হুগলির বদনগঞ্জের মাধবী আদককে খুন করা হয়েছে কেবলমাত্র তাঁর ছেলে তাদের দল করে বলে। নন্দীগ্রামে বিবস্ত্র করে এক গৃহবধূকে ধর্ষণ করে খুন (Post Poll Violence) করা হয়। সেই নির্যাতিতা নারীর সামজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ব্যাপক ভাইরাল হয়েছিল। কোচবিহারের মাথাভাঙার শিকারপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করতে দুবার ভাবেনি দুষ্কৃতীরা। থানায় অভিযোগ পর্যন্ত নেওয়া হয়নি বলে নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছিল। বর্ধমানের আউশগ্রামেও দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরে বিজেপি সমর্থক দেবনাথ প্রামাণিকের স্ত্রী আর মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ভোটদানের আগের দিন। ফলে তাঁদের পক্ষে আর ভোট দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

    শীতলকুচির ১২৬ নম্বর বুথে এক গৃহবধূ ভোট দিতে গেলে মায়ের গলায় দা ঠেকিয়ে কোলের সন্তানকে অপহরণ করেছিল স্থানীয় দুষ্কৃতীরা। স্থানীয় গুন্ডারাই এই অপকর্ম করেছে বলে সন্তানের মা অভিযোগ জানিয়েছিলেন। মেদিনীপুরের পটাশপুরে শাশ্বতী জানাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় নির্বাচন পরবর্তী সময়ে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ায় ভাস্বতী বর্মনকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে পায়ে গুলি চালায় শাসকদলের দুষ্কৃতীরা, এমনটাই অভিযোগ। এই খবর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বর্ধমানের জামালপুরে আশিষ ক্ষেত্রপালের মা কাকলি ক্ষেত্রপালকে টাঙ্গি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা (Post Poll Violence) করা হয়। খেজুরি ২ নম্বর ব্লকের বারাতলা পঞ্চায়েত এলাকায় এক পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলাকে বাড়িতে ঢুকে গণধর্ষণ করে দুষ্কৃতীরা। 

    বর্ধমানের বৈকুন্ঠপুরের হ্যাচারি রোড ক্যানালপাড়ের বাজারে শুধুমাত্র বিজেপিতে ভোট দেওয়ার জন্য প্রকাশ্যে মেয়ের সামনে মাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়েছে। ২৬ সেকেন্ডের এই ভিডিও প্রকাশিত হওয়ায় হইচই পড়ে যায়। সভ্য সমাজের আক্ষেপ, পশ্চিমবঙ্গ এইভাবে মা ও মেয়ের উপর অত্যাচার দেখবে বলে কোনওদিনই প্রস্তুত ছিল না। ১০ মে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এক প্রতিনিধিদল গোবিন্দ মোহনের নেতৃত্বে ধনিয়াখালির চকহিরণ্যবাটীতে গেলে অর্চনা মাঝি নামে এক সাধারণ মহিলা জানিয়েছিলেন, তাঁরা ঘরছাড়া ছিলেন ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই। তৃণমূলের লোকেরা রোজ শাসাচ্ছে। অর্চনাদেবীর কাতর আবেদন ছিল, শান্তিতে যাতে থাকতে পারি, সেই ব্যবস্থা করুন। লোকাবাটি গ্রামের গৃহবধূ আসমা তারা জানিয়েছিলেন, ফল প্রকাশের পরের দিন দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে লাঠি, বাঁশ নিয়ে বাড়িতে হামলা (Post Poll Violence) চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙচুর করে সমাজবিরোধীরা। ৩১ মে ভাটপাড়া পৌরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে দুষ্কৃতীরা মা সুজাতা নাথ এবং ছেলে সঞ্জীব নাথকে মারধর করে। সঞ্জীব নিজে বিজেপি করত, এটাই ছিল তার অপরাধ। 

    সক্রিয় জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা এবং মহিলা কমিশন

    হিংসার কারণে ১ জুন দক্ষিণ ২৪ পরগনার পুলিশ সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ করে জাতীয় শিশু অধিকার রক্ষা কমিশন। জাতীয় মহিলা কমিশন রাজ্য পুলিশের ডিজিকে ধর্ষণ, খুন নিয়ে (Post Poll Violence) বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছিলেন। রামনগরে সন্ত্রাস চালায় তৃণমূল সন্ত্রাসীরা, এমনটাই অভিযোগ। যার প্রভাব পড়ে শিশুদের উপর। প্রায় ৬০০ পরিবার ঘরছাড়া এবং প্রায় ২০০ শিশু অনাহারে দিন কাটাচ্ছে বলে কমিশন জানিয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। আবার বর্ধমানের আউসগ্রামের ৬০টি পরিবার ঘরছাড়া হয়। তাঁবুতে দিন কাটে তাদের। পরিবারগুলি অনাহারে দিনপাত করে। শিশুরা অভুক্ত, খাদ্য নেই, বস্ত্র নেই, চিকিৎসা নেই, এমনই ছিল করুণ অবস্থা। বারাসতের ৬, ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে ৫০ টি পরিবার, কল্যাণীতে ৩৫ টি পরিবার এবং নানুরে ১০০ পরিবার ঘরছাড়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। (চলবে)

     

    পর্ব ১: গলায় সিসিটিভি-র তার পেঁচিয়ে, পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছিল অভিজিৎ সরকারকে!

    পর্ব ২: ৩-৪ মাসে খুন ৬২ জন, দুষ্কৃতীরা ছাড়েনি অন্তঃসত্ত্বাকেও!

    পর্ব ৩: ৪০ হাজার ঘরবাড়িতে লুটপাট, এক লক্ষ পরিবার ঘরছাড়া, হামলা চলেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়েও!

    পর্ব ৫: পলাশকে খাটের নিচ থেকে খুঁচিয়ে বের করে নৃশংসভাবে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা!

    পর্ব ৬: এমএ পাশ অরূপকে অকালে চলে যেতে হয়েছিল শুধুমাত্র বিজেপির বুথ এজেন্ট ছিলেন বলে?

    পর্ব ৭: দরিদ্র চাষিকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের মূল্য দিতে হয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে!

    পর্ব ৮: কমিশনের কোর্টে বল ঠেলে ভোট-পরবর্তী হিংসার দায় এড়িয়েছিলেন তিন-তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Post Poll Violence: ৪০ হাজার ঘরবাড়িতে লুটপাট, এক লক্ষ পরিবার ঘরছাড়া, হামলা চলেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়েও!

    Post Poll Violence: ৪০ হাজার ঘরবাড়িতে লুটপাট, এক লক্ষ পরিবার ঘরছাড়া, হামলা চলেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়েও!

    ঠিক দু-বছর আগের কথা। ২০২১ সালের ২ মে। কোভিড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজ্যে। কিন্তু তাতে কী। শাসক তৃণমূল তখন ফের ‘মধুভাণ্ড’ ফিরে পাওয়ার নেশায় বুঁদ। ভোটের ফলে যখন পরিষ্কার হয়ে গেল, তৃতীয়বারের জন্য মসনদের দখলদারি তাদের হাতেই থাকছে, তখনই যেন বেরিয়ে পড়ল নখ-দন্ত। বিরোধীদের অভিজ্ঞতা অন্তত তেমনটাই। তাদের অভিযোগ, বিজয়োল্লাসের নামে শুরু হয়ে গেল প্রতিপক্ষকে ‘টাইট’ দেওয়ার কাজ। তাদের স্মৃতিতে ভাসছে, চটুল গান, অশ্রাব্য গালিগালাজ, অভব্য অঙ্গভঙ্গি, রাস্তার দোকানে ভাঙচুর এবং বিরোধী দলের কর্মীদের প্রতি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড-কিছুই বাদ যায়নি। ভয়ঙ্কর সেইসব ঘটনা নিয়েই আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের তৃতীয় পর্ব।

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যজুড়ে নির্যাতনের চিত্রটা ছিল ভয়ঙ্কর। শুধুমাত্র ২ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত রাজ্যে রাজনৈতিক হত্যার সংখ্যা প্রায় ৪০। প্রায় ৩৫০০ গ্রাম প্রত্যক্ষভাবে হিংসার শিকার হয়, ৪০ হাজার ঘরবাড়ি প্রত্যক্ষভাবে লুটপাট হয় এবং ১ লাখ মানুষকে নিজের প্রার্থী নিজে নির্বাচন করে ভোট দেওয়ার জন্য ঘরছাড়া হতে হয়। কেন্দ্রীয় মানবাধিকার কমিশন, তফশিলি জাতি-উপজাতি কমিশন, নারী সুরক্ষা কমিশন এবং শিশু সুরক্ষা কমিশন এই বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য দিয়েছে। এই রাজনৈতিক হিংসার (Postpoll Violence) দায়ভার কার? বিরোধীরা বারবার এই প্রশ্ন তুললেও এখনও তার উত্তর মেলেনি।

    পছন্দের প্রার্থীকে ভোটদানের জন্য আক্রমণ!

    ২ মে রবিবার থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম, নয়ানান, শেরখানচক, বয়ালে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ভাঙচুর চলে। উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া, ইসলামপুর, বীরভূমের দুবরাজপুর, নানুরে শাসক-বিরোধীদের চিহ্নিত করে বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং বাড়ির মা-বোনের সম্ভ্রমহরণ করার চেষ্টা হয়। তৃণমূলের দুষ্কৃতীরাই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে সেইসময় জোরালো অভিযোগ উঠেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার আমডাঙা বিধানসভার সন্দেশখালি, ছোট শেয়ারা, বসিরহাট এবং হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভার পারঘুমটি, রূপমারি, মাধবকাটি, হাটগাছায় দোকানপাট ভাঙচুর হয়, লুটপাট ও বোমাবাজি চলে। উল্লেখ্য, বসিরহাটে মহকুমা শাসকের বাড়ির সামনেই একটি বাড়িতে লুটপাট (Postpoll Violence) হয়। বসিরহাটে প্রায় পাঁচশো বাড়িঘর, দোকানপাট লুটপাট করে দুষ্কৃতীরা। এছাড়াও মালঞ্চ, বামনপুকুর, কালীনগর এলাকায় প্রায় ত্রিশটির বেশি দোকান লুট করে রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করে দুষ্কৃতীরা। হাড়োয়ার উচিলদহ গ্রাম এবং মিনাখাঁতে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ব্যাপক বোমাবাজি করে ঘরছাড়া করে তৃণমূলের গুন্ডারা, এমনটাই অভিযোগ রয়েছে। আবার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা এলাকায় ভাঙচুর, লুটপাট এবং বুলডোজার চালিয়ে বাড়িঘর ধ্বংস করা হয়। প্রধান অভিযোগের তির ছিল শওকত মোল্লার দিকে।

    পর্ব ১: গলায় সিসিটিভি-র তার পেঁচিয়ে, পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছিল অভিজিৎ সরকারকে!  

    উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দল থানার সামনে বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় এক তরুণের। দেগঙ্গাতে প্রচুর মানুষ ঘরছাড়া হয় অত্যাচারে। বাড়িতে বাড়িতে ভয় দেখিয়ে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, আধার কার্ড ছিনতাই করে তৃণমূলের স্থানীয় মাতব্বররা, অভিযোগ এমনটাই। এলাকার মানুষের আরও অভিযোগ, শাসকদলের নেতারা এই অপকর্মে পূর্ণ মদত দিয়েছেন। লক্ষ্যণীয় হল, পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক উৎসব নির্বাচনের পর এই সন্ত্রাস (Postpoll Violence) নিয়ে শাসকদল একটাও বিবৃতি দেয়নি। 

    পর্ব ২: ৩-৪ মাসে খুন ৬২ জন, দুষ্কৃতীরা ছাড়েনি অন্তঃসত্ত্বাকেও!

    হুগলির আরামবাগে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা একটি কাপড়ের দোকান ভাঙচুর করে কাপড় লুট করে আগুন লাগিয়ে দেয়। গোঘাটে এক মিষ্টি ব্যবসায়ীর দোকান দুষ্কৃতীরা জোর করে ভোট পরবর্তী সময়কালে বন্ধ করে রাখে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে হাজার মানুষ ঘরছাড়া (Postpoll Violence) হয়ে পড়েছিল। দুর্গাপুরে প্রায় ১০০ পরিবার অত্যাচারে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। 

    ১৬ মে হাওড়ার জগাছায় ১ নম্বর মৌখালিতে চাঁদখান পাড়াতে সাধারণ ভোটারের উপর দুষ্কৃতী বাহিনী ব্যাপক হামলা (Postpoll Violence) চালায়। বেছে বেছে বিরোধীদের বাড়িতে ব্যাপক বোমাবাজি করে। এমনকী তরোয়ালের আঘাতে আঙুল কাটা গেছে এক ব্যক্তির, এমন অভিযোগও দায়ের হয়েছে। বাড়ির সম্পত্তি লুটপাট হয়। 

    এলাকা পরিদর্শনে এলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়ে হামলা

    ৫ মে শপথ গ্রহণের আগে সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন ‘এখন আইনশৃঙ্খলা তাদের (নির্বাচন কমিশন) সামলানো দরকার, এই দুটো দিন আমার হাতে কিছু নেই। যতক্ষণ না পর্যন্ত শপথ নিচ্ছি, ততক্ষুণ পর্যন্ত…’। ৬ মে মেদিনীপুর সদর পাঁচখুরিতে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ভি মুরলীধরন আক্রান্ত (Postpoll Violence) হন। এলাকায় পরিদর্শনে এলে তাঁর কনভয়ে হামলা চলে। হিংসার জেরে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগতপ্রকাশ নাড্ডা সেই সময় বলেছিলেন, “বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর সারা পশ্চিমবঙ্গ ব্যাপী তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা সংঘটিত হিংসা চরম সীমায় পৌঁছেছে… যেখানে ভারত সরকারের মন্ত্রীর উপর হামলা হয়ে চলেছে, সেখানে সাধারণ মানুষ কতটা সুরক্ষিত?” রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবলে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে বলেছিলেন, ‘কোচবিহার থেকে সুন্দরবন সর্বত্র আতঙ্ক আর ত্রাস ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রদায়িক অশান্তি যারা ছড়াচ্ছে, তারা কারও পরোয়া করছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কোনও চেষ্টা করছে না রাজ্য পুলিশ। সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের আইনের পরিস্থিতি খুব খারাপ।’ অন্যদিকে, পরিস্থিতির যারা প্রত্যক্ষ শিকার হয়েছিল, তারা ক্ষতিপূরণের টাকা এখনও পায়নি বলে দুই বছর পরেও অভিযোগ উঠছে। (চলবে)

     

    পর্ব ৪: ছেলে বিজেপি করে, এই ‘অপরাধে’ই কি নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল মাকে!

    পর্ব ৫: পলাশকে খাটের নিচ থেকে খুঁচিয়ে বের করে নৃশংসভাবে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা!

    পর্ব ৬: এমএ পাশ অরূপকে অকালে চলে যেতে হয়েছিল শুধুমাত্র বিজেপির বুথ এজেন্ট ছিলেন বলে?

    পর্ব ৭: দরিদ্র চাষিকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের মূল্য দিতে হয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে!

    পর্ব ৮: কমিশনের কোর্টে বল ঠেলে ভোট-পরবর্তী হিংসার দায় এড়িয়েছিলেন তিন-তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Arambagh: সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিক মুখ! প্রাণ রক্ষা পেল মুমূর্ষু রোগীর

    Arambagh: সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিক মুখ! প্রাণ রক্ষা পেল মুমূর্ষু রোগীর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এক বিন্দু রক্ত যে মানুষের প্রাণ ফিরিয়ে দিতে পারে, তা আরও একবার প্রমাণ মিলল। সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিক রূপ দেখলেন আরামবাগবাসী (Arambagh)। এক সিভিক ভলান্টিয়ার নিজে রক্ত দিয়ে মুমূর্ষু এক রোগীর প্রাণ বাঁচালেন। সিভিক ভলান্টিয়ারের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে কুর্ণিশ জানালেন সকলে।

    ঠিক কী হয়েছিল?

    আরামবাগ (Arambagh)  ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মীর শামসেদ তার ২২ বছরের অসুস্থ মেয়েকে আরামবাগ (Arambagh)  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা মেয়ের জন্য তাঁকে রক্ত জোগাড় করতে বলেন, তা না হলে রোগীকে  বাঁচানো যাবে না বলে জানানো হয়। শামসেদসাহেব ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তের খোঁজ করেন। কিন্তু, সেখানে রক্ত না থাকায় চারিদিকে হন্যে হয়ে তিনি রক্ত খুঁজছিলেন। কোথাও রক্তের হদিশ পাননি তিনি। অবশেষে শামসেদসাহেব আরামবাগ ট্রাফিকের ওসি সরোজ কুন্ডুর কাছে গিয়ে তাঁর সমস্যার কথা বলেন। ওই পুলিশ আধিকারিক রক্তের গ্রুপ জেনে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করেন। তুহিন শুভ্র হাজরা নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার ওই পুলিশ আধিকারিককে রক্ত দেওয়ার কথা জানান। তুহিনের বাড়ি আরামবাগ (Arambagh) থানার জয়রামপুর গ্রামে। তিনি রক্ত দেওয়ার জন্য হাসপাতালে চলে যান। সেখানে তিনি রোগীর জন্য রক্ত দেন। শামসেদসাহেব বলেন, সিভিক ভলান্টিয়ারের প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকব। তাঁরজন্য আমার মেয়ের জীবন রক্ষা পেল।

    কী বললেন পুলিশ আধিকারিক?

    আরামবাগ (Arambagh) ট্রাফিকের ওসি সরোজ কুন্ডু বলেন, ওই রোগীর বাবাকে চরম অসহায় দেখাচ্ছিল। তিনি মেয়ের রক্তের জন্য হন্যে হয়ে খুঁজছিলেন। তাঁর কাছে রক্তের গ্রুপ জেনে আমি পুলিশের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পোস্ট করি। আর তাতেই কাজ হয়ে যায়। ওই সিভিক নিজেই উদ্যোগী হয়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আমি তাঁকে সঙ্গে করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করি।

    কী বললেন সিভিক ভলান্টিয়ার?

    এ বিষয়ে অবশ্য রক্তদাতা সিভিক ভলান্টিয়ার তুহিন শুভ্র হাজরা বলেন, আমি একজন মানুষ হিসাবে অন্য একজন মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারিনি।  আমার এই ছোট উদ্যোগে ওই রোগী উপকৃত হলেন। কেউ বিপদে পড়লে তার পাশে সকলের দাঁড়ানোর দরকার।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Post Poll Violence: গলায় সিসিটিভি-র তার পেঁচিয়ে, পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছিল অভিজিৎ সরকারকে!

    Post Poll Violence: গলায় সিসিটিভি-র তার পেঁচিয়ে, পাথর দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছিল অভিজিৎ সরকারকে!

    ঠিক দু-বছর আগের কথা। ২০২১ সালের ২ মে। কোভিড দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রাজ্যে। কিন্তু তাতে কী। শাসক তৃণমূল তখন ফের ‘মধুভাণ্ড’ ফিরে পাওয়ার নেশায় বুঁদ। ভোটের ফলে যখন পরিষ্কার হয়ে গেল, তৃতীয়বারের জন্য মসনদের দখলদারি তাদের হাতেই থাকছে, তখনই যেন বেরিয়ে পড়ল নখ-দন্ত। বিরোধীদের অভিজ্ঞতা  অন্তত তেমনটাই। তাদের অভিযোগ, বিজয়োল্লাসের নামে শুরু হয়ে গেল প্রতিপক্ষকে ‘টাইট’ দেওয়ার কাজ। তাদের স্মৃতিতে ভাসছে, চটুল গান, অশ্রাব্য গালিগালাজ, অভব্য অঙ্গভঙ্গি, রাস্তার দোকানে ভাঙচুর এবং বিরোধী দলের কর্মীদের প্রতি হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড-কিছুই বাদ যায়নি। ভয়ঙ্কর সেইসব ঘটনা নিয়েই আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব।

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সপ্তদশ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। কিন্তু তার ঠিক পরই কোভিডবিধি অমান্য করে বিজয়োল্লাসের নামে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে যে সন্ত্রাস (Post Poll Violence) চলেছিল, তাতে অভিযোগের তির ছিল তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসা তৃণমূল কংগ্রেসের দিকেই। ২ মে দুপুর ১২ টা থেকে কলকাতা শহরে তৃণমূল কংগ্রেসের এগিয়ে থাকা আসনগুলিকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় উল্লাস। কালীঘাটে প্রচুর সমর্থক শত শত বাইক নিয়ে শুরু করে দেয় মিছিল। অভিযোগ, এরপর তারা নির্বাচনী গণনাকেন্দ্রেরও দখল নিয়ে নেয়। বিরোধীরা সেই সময়ই অভিযোগ করেছিল, তাদের এজেন্টদের পুলিশি সহযোগিতায় ভয় দেখিয়ে, প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে কার্যত এলাকাছাড়া করে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা। বেলা ১ টা থেকে খবর আসতে শুরু করে, কলকাতার বাইরে বারাকপুরের চাকুলিয়া মোড়, পুরুলিয়ার পলিটেকনিক কলেজ, বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়ি, মালদা, বালুরঘাট, বর্ধমান শহর, ঝাড়গ্রাম, হাওড়ার জি টি রোড, মুর্শিদাবাদের মতো জায়গায় গণনাকেন্দ্র দখল করে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। নির্বাচন কমিশনকে কোনও সদর্থক ভুমিকা পালন করতে দেখা যায়নি বলেও অনেকে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন।

    রাজ্যজুড়েই শুরু হয়ে গেল হামলা, ইটবৃষ্টি, বোমাবাজি

    ঠিক বেলা দেড়টা। কলকাতায় গণনা চলছে। তার মধ্যেই শুরু হয়ে গেল হিংসাত্মক হামলা। খাস কলকাতার উল্টোডাঙার মুরারীপুকুর লেনে তৃণমূল পরিচালিত একটি ক্লাবে ডিজে চালিয়ে চলছে উল্লাস। কসবায় তৃণমূল সমর্থকরা বিজয় উল্লাসের নামে অশ্লীল নৃত্য পরিবেশন করে শিষ্টাচারের মাত্রা ছাপিয়ে গেল। চটুল গানের নাচের সঙ্গে নেতাদের মুখে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, বিরোধীদের মারধর, এবং বাড়িতে হামলা। দুপুর আড়াইটে নাগাদ বিজেপির হেস্টিংস কার্যালয়ে বোমা মারল দুষ্কৃতীরা। গড়িয়ার রবীন্দ্রপল্লির ব্রহ্মপুরে বেলা ৩ টে থেকে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে হামলা শুরু হল। ধীরে ধীরে এসব ছড়িয়ে পড়ল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, গড়িয়া, নাকতলা, টালিগঞ্জ, বাঘাযতীন, যাদবপুর, বেলেঘাটা, এন্টালি, কাশীপুর, জোড়াবাগান, বড়বাজার, মানিকতলা, জোড়াসাঁকো অঞ্চলে। শুরু হল দিকে দিকে বিজেপি কর্মীদের উপর  হামলা। চলল বাড়ি লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি, বোমাবাজি। হাওড়ার জি টি রোড ৬ নম্বর মোড়ে এক কাপড়ের দোকানে চলে লুঠপাট। বোটানিক্যাল গার্ডেনে চলে বোমাবাজি (Post Poll Violence)। 

    ভোট-পরবর্তী প্রথম হত্যাকাণ্ড

    দুপুর আড়াইটে নাগাদ কাঁকুড়গাছি রেল কলোনির পাশে পিটিয়ে খুন (Post Poll Violence) করা হয় অভিজিৎ সরকারকে। চলে বোমাবাজিও। প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি দল বাঁশ, বাটাম, রড নিয়ে আক্রমণ চালায়। বাড়িতে চারটে পোষা কুকুর ছিল। বাড়ির লোক বিজেপিতে ভোট দিয়েছে, কেবলমাত্র এই অপরাধে পোষা কুকুরকেও পিটিয়ে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা। দোষ একটাই ছিল, অভিজিৎ কেন রাজনৈতিক আক্রমণ ও হামলার চিত্র ফেসবুকে লাইভ করলেন। সিসিটিভির তার গলায় পেঁচিয়ে বাড়িতে পাথর দিয়ে থেঁতলে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় তাঁকে। অভিজিতের মা এবং দাদা বিশ্বজিৎ সরকার কিছুই করতে পারেননি। কারণ তাঁদের হাত-পা বেঁধে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। দাদা বিশ্বজিৎ বার বার বলেছেন, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই তাঁর ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বিচার বিভাগের কাছে ন্যায্য বিচার চেয়েই দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
     
    আইনের শাসন কি আদৌ ছিল? 

    বিরোধীদের অভিযোগ, ঘটনার দিন সারা কলকাতা জুড়ে কোনও আইনের শাসন ছিল না। পুলিশ ছিল নিষ্ক্রিয়। সর্বত্র সন্ত্রাস, আক্রমণের (Post Poll Violence) ছবি এবং ভিডিও দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হাইকোর্টের নির্দেশে সমস্ত হত্যা এবং সম্পত্তিহানির বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত করছে এবং বিশেষ বিচার বিভাগীয় সিট গঠিত হয়েছে। দুই বছর হয়ে গেল, কিন্তু সেই তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। (চলবে)

     

    পর্ব ২: ৩-৪ মাসে খুন ৬২ জন, দুষ্কৃতীরা ছাড়েনি অন্তঃসত্ত্বাকেও!

    পর্ব ৩: ৪০ হাজার ঘরবাড়িতে লুটপাট, এক লক্ষ পরিবার ঘরছাড়া, হামলা চলেছিল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কনভয়েও!

    পর্ব ৪: ছেলে বিজেপি করে, এই ‘অপরাধে’ই কি নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল মাকে!

    পর্ব ৫: পলাশকে খাটের নিচ থেকে খুঁচিয়ে বের করে নৃশংসভাবে খুন করেছিল দুষ্কৃতীরা!

    পর্ব ৬: এমএ পাশ অরূপকে অকালে চলে যেতে হয়েছিল শুধুমাত্র বিজেপির বুথ এজেন্ট ছিলেন বলে?

    পর্ব ৭: দরিদ্র চাষিকে রাজনৈতিক মত প্রকাশের মূল্য দিতে হয়েছিল নিজের জীবন দিয়ে!

    পর্ব ৮: কমিশনের কোর্টে বল ঠেলে ভোট-পরবর্তী হিংসার দায় এড়িয়েছিলেন তিন-তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী!

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Balurghat Road: বাড়িতে জল পৌঁছে দিতে গিয়ে রাস্তা ভেঙে খান খান, ক্ষোভ শহরজুড়ে

    Balurghat Road: বাড়িতে জল পৌঁছে দিতে গিয়ে রাস্তা ভেঙে খান খান, ক্ষোভ শহরজুড়ে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: একেই রাস্তা খারাপ। তার উপর সেই রাস্তা খুঁড়েই দেওয়া হচ্ছে জলের সংযোগ। এইভাবে জল দেওয়া হলেও পরে আর রাস্তার সেই ভাঙা অংশের সংস্কার হচ্ছে না। যার ফলে বালুরঘাট শহরের বহু রাস্তাই (Balurghat Road) ভাঙাচোরা। গর্তের মধ্য দিয়েই চলছে যানবাহন। যা নিয়ে কার্যত গোদের উপর বিষফোঁড়ার দশা বালুরঘাটে। অভিযোগ, শহরের অনেক জায়গায় রাস্তার খোয়া উঠে গিয়েছে। শহরের মূল রাস্তাগুলি দিয়ে চলাচল করা গেলেও অলিগলির রাস্তা একেবারেই বেহাল। ওইসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে চরম সমস্যায় পড়ছে মানুষ। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। 

    কীভাবে হল এই পরিস্থিতি, কী বলছেন বাসিন্দারা?

    জানা গিয়েছে, মাস দুয়েক হল বালুরঘাট শহরে বন্ধ থাকা জলের কানেকশন দেওয়া চালু হয়েছে। তা করতে গিয়ে বহু রাস্তা (Balurghat Road) ফাটিয়ে পাইপগুলি বাড়িতে পৌঁছনো হচ্ছে। কিন্তু রাস্তার ভাঙা অংশ আর সংস্কার করা হচ্ছে না। কোনওরকমে মাটি দিয়ে বোজানো হচ্ছে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেই মাটি বেরিয়ে রাস্তার এক হাত পর পর বিশাল গর্ত দেখা যাচ্ছে। যার ফলে সাইকেল, মোটরসাইকেল, টোটো ও রিক্সার চাকা অনেক সময় আটকে পড়ছে কিংবা তীব্র ঝাঁকুনি খেয়ে ঝুঁকি নিয়েই ছুটছে মানুষ। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন আগে থেকেই শহরের এ কে গোপালন কলোনি, চৌরঙ্গি, শিবতলা, রঘুনাথপুর, সত্যজিৎ মঞ্চ থেকে হাসপাতাল মোড় সহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অনেক অংশ বেহাল। সেই বেহাল গর্তের রাস্তায় জল জমে থাকে। এমনকী অনেক রাস্তায় গর্ত রয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা অলিগলির রাস্তা। শহরের ২৫টি ওয়ার্ডের নানা জায়গায় রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। এদিকে পুরবোর্ড গঠনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও রাস্তা সংস্কার হয়নি। তাই পুরসভার বিরুদ্ধে ক্ষোভ ছড়িয়েছে শহরজুড়ে। এবিষয়ে বালুরঘাট শহরের এক বাসিন্দা পিকু দাস বলেন, বহু রাস্তার অনেক জায়গায় গর্ত। ভাঙাচোরা হয়ে পড়ে রয়েছে। কোথাও আবার পিচ নেই। এরপর মাঝে আবার রাস্তাগুলি খুঁড়ে জলের পাইপলাইন বসানো হচ্ছে। সেই রাস্তা আর বোজানো হচ্ছে না। যার ফলে রাস্তা দিয়ে একেবারেই চলতে পারছি না। বাইক, সাইকেল নিয়ে চলাচল করাই এখন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে৷ 

    এরা একই কাজ একবারে করতে চায় না, তোপ বিরোধীদের

    এব্যাপারে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি। ডিওয়াইএফআই শহর লোকাল কমিটির সম্পাদক ধীরাজ বসু বলেন, এই বোর্ড এমনিতেই শহরের উন্নয়ন করতে পারছে না। যে রাস্তাগুলি খোঁড়া হচ্ছে, তা মাটি দিয়েও ঠিকমতো বন্ধ করা হচ্ছে না। এরা মানুষের সমস্যা বোঝে না। নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখার লড়াই চলছে। তাই শহরবাসীর উন্নয়ন, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে ভাবার সময় নেই।বিজেপির টাউন মন্ডল কমিটির সভাপতি সমীরপ্রসাদ দত্ত বলেন, জলের কানেকশন দিয়ে কিছুদিনের মধ্যেই সেই রাস্তার (Balurghat Road) ভাঙা অংশগুলি সংস্কার করা যায়। কিন্তু এরা একই কাজ একবারে করতে চায় না। কারণ দুবারে করলে দুবার টেন্ডার করা যাবে। তাই শহরের ভোগান্তি নজরে আসে না। দীর্ঘদিন ধরেই শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে মূল রাস্তা বেহাল। অথচ এসব এই তৃণমূল পুরবোর্ডের নজরে আসছে না। 

    দ্রুত সংস্কার হবে, আশ্বাস চেয়ারম্যানের

    এবিষয়ে বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক মিত্র বলেন, জলের কানেকশন দেওয়ার পরে ওই পাইপলাইনের উপরে আগেই ঢালাই দেওয়া যায় না। পরবর্তীতে জল যেতে সমস্যাও হতে পারে। তাই কিছুদিন পাইপলাইনের উপরে মাটি দিয়ে বুজিয়ে রাখা হয়। পরে সমস্যা না হলে তা স্থায়ীভাবে ঢালাই দিয়ে দেওয়া হবে। শহরের যে রাস্তাগুলি খারাপ, সেগুলি দ্রুত সংস্কার করা হবে৷

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Avishek Banerjee: লাল কার্পেট, এলাহি আয়োজন, তবুও তৃণমূল বিধায়কের বাড়িমুখো হলেন না অভিষেক

    Avishek Banerjee: লাল কার্পেট, এলাহি আয়োজন, তবুও তৃণমূল বিধায়কের বাড়িমুখো হলেন না অভিষেক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাড়ির সামনের রাস্তা লাল কার্পেটে মোড়া। খাওয়ার জন্য এলাহি আয়োজন। সকাল থেকে পিল পিল করে কর্মী- সমর্থক এসে বা়ড়ির সামনে ভিড় করছেন। মোতায়েন পুলিশও। একেবারে সাজ সাজ রব। আর হবে নাই বা কেন, তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avishek Banerjee) আসার কথা রয়েছে দলের বর্ষীয়ান বিধায়ক আব্দুল করিম চৌধুরীর ইসলামপুর গোলঘরের বাড়িতে। রবিবার দুপুরে তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে খাওয়ার কথা ছিল দলের এই শীর্ষ নেতার। শনিবার তাঁকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল সেই কথাও। কিন্তু, সকাল থেকেই কয়েকশো কর্মী-সমর্থককে নিয়ে করিমসাহেব প্রতীক্ষা করলেও কথা রাখেননি অভিষেক।

    ঠিক কী হয়েছিল?

    তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিধায়ক করিমসাহেবের খাসতালুক ইসলামপুরে দলের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Avishek Banerjee) রবিবার সভা ছিল। সেই সভায় তৃণমূল বিধায়ক আমন্ত্রিত ছিলেন না। যা নিয়ে দলের অন্দরেই চর্চা চলছিল। বিধায়কের অভিমান ভাঙাতে উদ্যোগী হন অভিষেক (Avishek Banerjee) । তিনি রবিবার করিমসাহেবের বাড়িতে দুপুরে খাওয়াদাওয়া করবেন বলে বার্তা পাঠান। ভিভিআইপি যাবেন বলে পুলিশ প্রশাসনের কাছেও একই খবর ছিল। সকাল থেকেই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ফলে, করিমসাহেব ধরে নিয়েছিলেন অভিষেক তাঁর বাড়িতে আসছেন। এই খবর জানাজানি হতেই তাঁর বাড়িতে প্রচুর কর্মী-সমর্থক ভিড় করতে শুরু করেন। অবশেষে অভিষেক (Avishek Banerjee) করিমসাহেবের বাড়িতে না গিয়ে সোজা ইসলামপুরের কোর্ট ময়দানে দলীয় সভায় যোগ দেন। সভাস্থল থেকে তিন কিলোমিটার দূরে করিমসাহবেবের বাড়ি। তিনি অভিমানে দলের সভায় যোগ দেননি। তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকশো কর্মী-সমর্থকও এদিন সভামুখো হননি। তৃণমূল নেতা মহম্মদ কফিরুউদ্দিন বলেন, করিমসাহেব আমাদের নেতা। তাঁকে অপমান করা হয়েছে। আমরাও তাই মিটিংয়ে যাইনি।

    অভিষেক (Avishek Banerjee) বাড়িতে না আসায় কী বললেন তৃণমূল বিধায়ক?

     এদিন দিনভর অপেক্ষা করার পর অভিষেক (Avishek Banerjee)  না আসায় ক্ষোভ উগরে দিলেন করিমসাহেব। তিনি বলেন, আমি তো অভিষেককে আসতে বলিনি। তিনি নিজেই আসবেন বলেছিলেন। তাই, লাল কার্পেট সহ সব কিছুর আয়োজন করেছিলাম। কয়েক হাজার কর্মী, সমর্থক এখানে জমায়েত হয়েছিলেন। সকলকেই তিনি হতাশ করলেন। আসলে আমি তো তাঁকে চিনি না। উনিও আমাকেও চেনেন না। রাজীব গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলেই আমার আশীর্বাদ নিয়েছেন। অভিষেক (Avishek Banerjee) আমার আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হলেন। আর দলীয় সভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেই আমি যাইনি। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিককালে দলীয় বিভিন্ন ইস্যুতে প্রকাশ্যেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিধায়ক। এমনকি জেলা নেতৃত্বের প্রতিও তাঁর বিদ্রোহী মনোভাব সকলের জানা। এমনিতেই দলীয় সভায় ডাক না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন তিনি,  এবার অভিষেক (Avishek Banerjee) তাঁর বাড়িতে না আসায় তিনি জেলা রাজনীতিতে কার্যত ব্রাত্য হয়ে গেলেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • TMC Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত বেলেঘাটা, পার্টি অফিসে ভাঙচুর, গুলি চালানোরও অভিযোগ

    TMC Clash: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত বেলেঘাটা, পার্টি অফিসে ভাঙচুর, গুলি চালানোরও অভিযোগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ (TMC Clash) এবার খাস কলকাতায়। রবিবার ছুটির দিনে শাসক দলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বেলেঘাটা। পার্টি অফিসে যথেচ্ছ ভাবে ভাঙচুর চালানো হয়। এমনকি গুলিও চলেছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। গুলিবিদ্ধ এক যুবককে ভর্তি করা হয়েছে স্থানীয় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে। অন্যান্য ক্ষেত্রে যা হয়, এখানেও পুলিশ গুলি চলেছে বলে স্বীকার করেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ইস্ট কুলিয়া রোডে এলাকার নেতা রাজু নস্করের অফিসে মূলত ওই ভাঙচুর চলেছে। অফিসের কাচ থেকে শুরু করে আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানো হয়। ইট মেরে ভেঙে দেওয়া হয় অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়িও।

    এলাকায় আতঙ্ক, দোকানপাট বন্ধ

    হাসপাতালে শুয়ে গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মী অভিযোগ এনেছেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যেভাবে এদিন আচমকা গুলি চালানো হয়েছে, তাতে তিনিও হতবাক। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত এলাকা দখলকে কেন্দ্র করেই এদিন রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় বেলেঘাটা। মুহূর্তের মধ্যে এলাকার সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করে দেন। তবে শুধু গলির মধ্যে তৃণমূল নেতার ওই অফিসকে ঘিরেই যে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল, তা নয়। গন্ডগোলের (TMC Clash) রেশ ছড়িয়ে পড়ে মূল রাস্তা বেলেঘাটা মেন রোডেও। সংঘর্ষ চলে সেখানেও। ফলে সেখানেও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মেন রোডে দাঁড়িয়ে এখানকার এক বাসিন্দাও জানিয়েছেন যে তিনি বেশ কয়েকটি গুলির আওয়াজ শুনেছেন।

    কী সাফাই দিলেন তৃণমূল নেতা?

    এলাকার তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের অভিযোগ, বিজেপির লোকজন তার দলের লোককে পয়সা খাইয়ে তৃণমূলে ঢুকেছে। এছাড়া বেলেঘাটাতে যে সমাজ বিরোধীরাও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, সেকথাও তিনি স্বীকার করেছেন। এটা তৃণমূলের কোনো গোষ্ঠী কোন্দলের (TMC Clash) লড়াই নয় বলে তার দাবি।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • BJP: বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে মিলছে না পানীয় জল! রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ

    BJP: বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অপরাধে মিলছে না পানীয় জল! রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিজেপিকে (BJP) ভোট দেওয়ার অপরাধে মিলছে না পানীয় জল। বিস্ফোরক অভিযোগ এলাকাবাসীর। তীব্র দাবদাহের মধ্যে জলের জন্য হাহাকার। জলের দাবিতে রাস্তায় নেমে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান এলাকাবাসী। বালতি, কলসি নিয়ে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার মহিলারা। এলাকাবাসীর সঙ্গে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতৃত্ব। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের  তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়োল বাজারের ঘটনা।

    কেন বিক্ষোভ?

    এই এলাকায় স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা বিজেপির (BJP) । যদিও গ্রাম পঞ্চায়েতটি শাসকদল তৃণমূলের দখলে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতরের পক্ষ থেকে এই এলাকায় পানীয় জলের কোনও ব্যবস্থা নেই। এমনকি বসানো হয়নি কোন সাবমার্সিবল পাম্প। ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা গ্রাম। বিজেপি (BJP) নেতা কৌশিকচন্দ্র দাস বলেন, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে এই এলাকায় কোনও উন্নয়নমূলক কাজ করছে না। কিছু দিন আগে একটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানো হলেও সেটি বসানো হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লক পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা তৃণমূল নেত্রী সুজাতা সাহার বাড়ির সামনে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প না বসিয়ে তৃণমূলের ওই নেত্রীর বাড়ির সামনে পাম্প বসানো হয়েছে। আমার স্ত্রী বিজেপির (BJP) পঞ্চায়েত সদস্যা। এলাকার মানুষ আমাদের ভোট দিয়েছে বলে তৃণমূল এই শাস্তি দিচ্ছে। এদিন আমরা পানীয় জলের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করেছি। দাবিপূরণ না হলে আগামীদিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামব। এলাকাবাসীর বক্তব্য, গরম পড়তেই জলস্তর অনেকটাই নেমে গিয়েছে। ফলে, পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিজেপিকে সমর্থন করার জন্যই পরিষেবা থেকে আমরা বঞ্চিত। এই অবস্থায় বিক্ষোভ থেকে এলাকাবাসীর একটাই দাবি দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে হবে।

    কী বললেন তৃণমূল বিধায়ক?

    ওই এলাকায় জল কষ্টের কথা মেনে নিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক নীহার রঞ্জন ঘোষ। কিন্তু বিজেপি (BJP) করার জন্য কাজ হয়নি এ কথা মানতে নারাজ তিনি। তিনি বলেন, এটা বিজেপির মনগড়া অভিযোগ। ওই এলাকার সমস্যা নিয়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দফতর নিয়ে কথা বলেছি। সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Monorail: নিউটাউনে ছুটবে মনোরেল! বেসরকারি সংস্থার প্রস্তাবে কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে হিডকো?

    Monorail: নিউটাউনে ছুটবে মনোরেল! বেসরকারি সংস্থার প্রস্তাবে কী সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে হিডকো?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজারহাট-নিউটাউনে যানজট কমাতে বিশেষ অত্যাধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা মনোরেল (Monorail) চালু করার প্রস্তাব এসেছে। বিশ্ববাংলা গেট (নারকেল বাগান) থেকে নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া থ্রি পর্যন্ত এই বিশেষ অত্যাধুনিক মনোরেল চলবে, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। তবে সবকিছুই নির্ভর করছে রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উপর।

    LTR বা লাইট ট্রানজিট রেল সিস্টেম কী এবং কেন? 

    স্মার্ট সিটির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাকে অত্যাধুনিক করতে এই বিশেষ লাইট ট্রানজিট রেল সিস্টেমে মনোরেল (Monorail) চালানোর প্রস্তাব এসেছে। একটি বেসরকারি সংস্থা হিডকোকে (হাউসিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেণ্ট কর্পোরেশন) বিশেষ এই যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছে। স্মার্ট সিটির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের জন্য এই মনোরেল সময়ের ব্যবধান কমাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। নিউটাউন অ্যাকশন এরিয়া ওয়ান এবং টু-এর মধ্যে মেট্রো রেল সংযুক্ত হয়েছে। এবার মনোরেলের সংযুক্তিকরণ হবে। স্মার্ট সিটিতে রোপওয়ের মাধ্যমেও যোগাযোগ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে আধুনিক সংযোজন হল মনোরেল। অনেকটা কলকাতার ট্রামের মতোই দেখতে হবে। কিন্তু অত্যাধুনিক, উচ্চগতি এবং শব্দবিহীন হবে মনোরেল। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি সিটি অ্যাকশন এরিয়া থ্রি-র সঙ্গে বিশ্ববাংলা সরণীর সংযুক্তিকরণ ঘটবে, এমনটাই বলা হয়েছে প্রস্তাবে। হিডকো বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে সরকারের সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেই জানা গেছে।

    প্রস্তাবিত রুট 

    হিডকো যে প্রস্তাব পেয়েছে, তাতে বলা হয়, মনোরেল প্রাথমিকভাবে বিশ্ববাংলা গেট থেকে হাতিশালা পর্যন্ত ১০ কিমি পথে চলবে। এটা হবে প্রধান রাস্তা। এর সঙ্গে বিশ্ববাংলা গেট থেকে মহিষবাথান পর্যন্ত তিন কিমি রাস্তাতেও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববাংলা গেট থেকে ইউনিটেক ১ হয়ে ইকোস্পেসের মধ্যে দিয়ে গীতাঞ্জলি পার্ক পর্যন্ত মনোরেলের (Monorail) বিশেষ করিডোর তৈরি হবে। মনোরেলের সঙ্গে হাতিশালার তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান উইপ্রো এবং ইনফোসিসের সরাসরি সংযুক্তিকরণ করা হবে। মূল মনোরেলের ডিপোটি ইনফোসিস কোম্পানির বিপরীতে প্রায় ১৭.৫৪ একর জমির উপর নির্মিত হবে বলে প্রস্তাবনায় রয়েছে। এই বছরে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা পড়লে হিডকো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। 

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

  • Sukanta Majumdar: কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে পুলিশ সুপারের অপসারণের দাবি জানালেন সুকান্ত

    Sukanta Majumdar: কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে পুলিশ সুপারের অপসারণের দাবি জানালেন সুকান্ত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কালিয়াগঞ্জকাণ্ডের জেরে উত্তর দিনাজপুর জেলার পুলিশ সুপারকে বদলের দাবি জানালেন বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। রবিবার বালুরঘাটে মন কি বাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, কালিয়াগঞ্জকাণ্ডে শুধু থানার আইসিকে বদল করলে হবে না। কারণ, এই ঘটনার জন্য শুধু আইসি একা দায়ী নয়। পুলিশ সুপারও সমান অপরাধী। এরকম ঘটনা তিনি বার বার ঘটাচ্ছেন। তাই পুলিশ সুপারকে অপসারণ করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই ওই ছাত্রীর পরিবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। আগামীদিনে মৃত্যুঞ্জয় বর্মনের (পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হওয়া যুবক) পরিবারও আদালতে যাবে। প্রসঙ্গত, কালিয়াগঞ্জের আইসি দীপাঞ্জন দাসকে শিলিগুড়ি জিআরপিতে বদলি করা হয়েছে। আর শিলিগুড়ির জিআরপি ইন্সপেক্টর সুবলচন্দ্র ঘোষকে কালিয়াগঞ্জের আইসি করা হয়েছে।

    বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি (Sukanta Majumdar) পঞ্চায়েতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাবি করলেন কেন?

    পঞ্চায়েত ভোট নিয়ে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি (Sukanta Majumdar) বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের জন্য আমরা তৈরি আছি। সরকার যখন পঞ্চায়েত ভোট করতে চাইবে, আমরা নির্বাচনে লড়াই করার জন্য প্রস্তুত। আমরা  চাইছি, পঞ্চায়েত ভোট এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে হোক। কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া এখানে পঞ্চায়েত ভোট করা সম্ভব না। কারণ, তৃণমূল কর্মীরা নিজের দলের প্রার্থীর  নির্বাচনে ব্যালট বক্স লুঠ করে নিচ্ছে। তাহলে পঞ্চায়েত নির্বাচন যখন হবে, তখন তো ওরা ব্যালট বক্স লুঠ করতে আসবে। যদিও যেখানে আমরা শক্তিশালী সেখানে লুঠ করতে এলে আমরা ছেড়ে দেব না। তার ফলে কিছু মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হবে। আমরা সেটা চাইছি না। তারপরও  কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট হলে প্রতিরোধ হবে। বহু জায়গায় গণ্ডগোল হবে।

    অনুব্রতকে নিয়ে কী বললেন?

    গরু পাচারকাণ্ডে অনুব্রত এখন তিহার জেলে। দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে তার মেয়ে সুকন্যাকে গ্রেফতার করেছে ইডি। এদিন অনুব্রত প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু (Sukanta Majumdar) বলেন, অনুব্রত মণ্ডল নয়, এই রাজ্যে বহু তৃণমূল নেতার সপরিবারে জেলযাত্রা হবে। আগে পূণ্য করতে পরিবারের সকলকে নিয়ে মানুষ তীর্থযাত্রা করতেন। আর এই জমানায় তৃণমূলের যারা চোর রয়েছে, তারা সপরিবারে জেলে যাবে, তৃণমূলের পাপের প্রায়শ্চিত করতে। তৃণমূল করলে এভাবে জেলেই যেতে হবে।

    মন কি বাত অনুষ্ঠান নিয়ে কী বললেন সুকান্ত (Sukanta Majumdar)?

    এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট ব্লকের তপন বিধানসভার অন্তর্গত ঠাকুরপুরার জোতগোপাল ১৩৭ নম্বর বুথে মন কি বাত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এলইডি প্রজেক্টরের মাধ্যমে গ্রামবাসীদের মন কি বাত অনুষ্ঠান শোনানো হয়। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তপন বিধানসভার বিধায়ক বুধরায় টুডু, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা বিজেপির সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। প্রায় শতাধিক গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে মন কি বাত অনুষ্ঠান শোনেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। মন কি বাত নিয়ে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি বলেন, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাতে এবং সমগ্র উত্তরবঙ্গে যেভাবে আদিবাসী সমাজ ও রাজবংশী সমাজকে অপমান করা হচ্ছে, আমরা তার প্রতিবাদে এই সমাজের মানুষদের একত্রিত করে মন কি বাত শুনলাম।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share