Category: Uncategorized

  • Calcutta High Court: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেন কার্যকর হচ্ছে না? ৭ দিনের মধ্যে রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের

    Calcutta High Court: আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প কেন কার্যকর হচ্ছে না? ৭ দিনের মধ্যে রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat Scheme) কেন কার্যকর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাইল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে। বিজেপির তরফ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে জনসাধারণকে বঞ্চনার কথা বলে মমতা সরকারকে কাঠগড়ায় নিয়ে গিয়েছে বিজেপি। এবার মামলা দায়ের হয়েছে উচ্চ আদালতে।

    কেন বঞ্চনা?

    দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat Scheme) প্রকল্প নিয়ে টানাপড়েন চলছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্প ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছে। তবে বিরোধী পক্ষ এবং মামলাকারীর (Calcutta High Court) দাবি, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পটি জাতীয় স্তরের সুবিধা প্রদান করে, যা থেকে রাজ্যের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। দেশের যে কোনও নাগরিককে স্বাস্থ্যখাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সুবিধার কথা যেখানে প্রকল্পে রয়েছে সেখানে এমন স্কিমে বঞ্চনা কেন তাই প্রশ্ন।

    মমতা সরকারের কঙ্কালসার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা

    বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। মামলাকারীর পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয় যে, আয়ুষ্মান ভারত কার্ড থাকলে ভারতের যেকোনো প্রান্তের তালিকাভুক্ত হাসপাতালে চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব, যা অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের মাধ্যমে সম্ভব হয় না। উভয় পক্ষের প্রাথমিক বক্তব্য শোনার পর আদালত এই বিষয়ে রাজ্যের অবস্থান জানতে চেয়েছে। যদিও বিজেপির দাবি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কথা সর্বত্র প্রচার হলে মমতা সরকারের কঙ্কালসার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কথা আরও প্রচারতি হবে তাই তৃণমূল সরকার জনগণের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চনা করতে হচ্ছে।

    গত ডিসেম্বরে মামলা করেছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মামলা করে বলেছিলেন, “কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সোশাল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না ৷ এগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক মানুষ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা উপকৃত হবেন ৷ এই সরকার শ্রমিক বিরোধী৷ তাই আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত করা নিয়ে মামলা করতে হচ্ছে ।”

    মামলার মূল বিষয়সমূহ

    শমীকের আইনজীবী বলেন, “এটা ভারত সরকারের একটা জনকল্যাণমুখী প্রকল্প (Ayushman Bharat Scheme) ৷ দেশের অন্যান্য রাজ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেখানকার মানুষ সুবিধা পেলেও, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ৷ রাজ্য সরকার গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ সালে একটি মউ স্বাক্ষর করেছিল ৷ কিন্তু, ২০১৯ সালে সেটা প্রত্যাহার করে নেয় ৷ ফলে এ রাজ্যের মানুষ আয়ুষ্মান ভারত যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে ৷”

    রাজ্য সরকার হলফ নামা দেবে

    এখন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা (Calcutta High Court) জমা দিয়ে জানাতে হবে, এই প্রকল্প কেন এখনো রাজ্যে চালু করা হয়নি। মামলাকারীর দাবি অনুযায়ী, কয়েক কোটি মানুষ এই কেন্দ্রীয় বিমা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। রাজ্যের জবাব পাওয়ার পর আদালত এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গিয়েছে।

    রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই আইনি লড়াইয়ে কী অবস্থান নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলের। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবার স্বার্থে এই আইনি পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের প্রকল্পকে (Ayushman Bharat Scheme) বাস্তবায়ন না করে আদালতে আইনজীবী দাঁড় করাবেন বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

  • Ramakrishna 596: “পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়”

    Ramakrishna 596: “পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    নবম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২৩শে অক্টোবর

    শ্যামপুকুর বাটীতে ডাক্তার সরকার, নরেন্দ্র, শশী, শরৎ, মাস্টার, গিরিশ প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    পূর্বকথা—উন্মাদাবস্থায় কুঠির পেছেনে যেন গায়ে হোমাগ্নি জ্বলন।
    পণ্ডিত পদ্মলোচনের বিশ্বাস ও তাঁহার মৃত্যু
     

    আর দেখেছেন, ঈশ্বরকে (Ramakrishna) এত কাছে দেখেছেন যে তাঁর সঙ্গে সর্বদা কথা কচ্ছেন। ছোট ছেলেটির মতো বলছেন, ‘মা, বড় লাগছে!’

    “আর কি অব্‌জর্‌ভেশন (দর্শন)! মিউজিয়াম-এ (যাদুঘরে) ফসিল (জানোয়ার পাথর) হয়ে গেছে দেখেছিলেন। অমনি সাধুসঙ্গের উপমা হয়ে গেল! পাথরের কাছে থেকে থেকে পাথর হয়ে গেছে, তেমনি সাধুর কাছে থাকতে থাকতে সাধু হয়ে যায়।”

    ডাক্তার—ঈশানবাবু কাল অবতার অবতার (Ramakrishna) করছিলেন। অবতার আবার কি! — মানুষকে ঈশ্বর বলা!

    মণি — ওঁদের যা যা বিশ্বাস, তা আর ইন্টারফিয়ার (তাতে হস্তক্ষেপ) করে কি হবে?

    ডাক্তার — হাঁ, কাজ কি!

    মণি — আর ও-কথাটিতে (Ramakrishna) কেমন হাসিয়াছেন! — ‘একজন দেখে গেল, একটা বাড়ি পড়ে গেছে কিন্তু খপরের কাগজে ওটি লিখা নাই। অতএব ও-বিশ্বাস করা যাবে না।’

    ডাক্তার চুপ করিয়া আছেন—কেননা ঠাকুর বলিয়াছিলেন (Kathamrita), ‘তোমার সাইয়েন্স-এ অবতারের কথা নাই, অতএব অবতার নাই!’

    বেলা দ্বিপ্রহর হইল। ডাক্তার মণিকে লইয়া গাড়িতে উঠিলেন। অন্যান্য রোগী দেখিয়া অবশেষে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণকে দেখিতে যাইবেন।

    ডাক্তার সেদিন গিরিশের নিমন্ত্রণে ‘বুদ্ধলীলা’ অভিনয় দেখিতে গিয়াছিলেন। তিনি গাড়িতে বসিয়া মণিকে বলিতেছেন (Kathamrita), “বুদ্ধকে দয়ার অবতার বললে ভাল হত—বিষ্ণুর অবতার কেন বললে?”

    ডাক্তার মণিকে হেদুয়ার চৌমাথায় নামাইয়া দিলেন।

  • The Kerala Story-2: কেরালা স্টোরি-২ সিনেমায় আদালতের প্রতিবন্ধকতা! বাস্তবে লাভ জিহাদের পরিসংখ্যান কত জানেন?

    The Kerala Story-2: কেরালা স্টোরি-২ সিনেমায় আদালতের প্রতিবন্ধকতা! বাস্তবে লাভ জিহাদের পরিসংখ্যান কত জানেন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলচ্চিত্র জগত এবং আইনি লড়াইয়ের আঙিনায় আবারও চর্চার কেন্দ্রে ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ (The Kerala Story-2)। সিনেমার মুক্তির উপর প্রতিবন্ধকতা আরোপ করেছে কোর্ট। সম্প্রতি কেরল হাইকোর্ট (Kerala High Court) এই সিনেমার প্রদর্শনী বা মুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও, সিনেমার মূল ভিত্তি অর্থাৎ যে পরিসংখ্যানের ওপর দাঁড়িয়ে এই ছবি নির্মিত, তা নিয়ে বিতর্ক থামছে না। ছবি নির্মাতাদের দাবি, “আদালত সিনেমাটি আটকাতে পারলেও বাস্তব তথ্য এবং পরিসংখ্যানকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।”

    আদালতের পর্যবেক্ষণ ও স্থগিতাদেশ (The Kerala Story-2)

    এই ছবিটি ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘দ্য কেরালা স্টোরি’-র (The Kerala Story-2) সিক্যুয়েল। প্রথম পর্বের মতো এই ছবিতেও প্রতারণামূলক ধর্মান্তকরণের বিষয়টি অন্বেষণ করা হয়েছে। তবে এবার গল্পের পরিধি কেরালার বাইরে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং উত্তরপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। ছবির ট্রেলারে দাবি করা হয়েছে যে এটি বাস্তব ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত, আর এই দাবিই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কিছু চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং স্বঘোষিত ধর্মনিরপেক্ষবাদীরা একে ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে অভিহিত করেছেন।

    বিতর্কিত বিষয়বস্তু এবং নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে — এই যুক্তিতে সিনেমাটির মুক্তি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। আদালতের মতে, সিনেমার দৃশ্যায়ন বা সংলাপ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে। তবে ছবির নির্মাতারা একে ‘অভিব্যক্তির স্বাধীনতার’ ওপর আঘাত হিসেবে দেখছেন।

    সংবেদনশীল তথ্য ও পরিসংখ্যান

    সিনেমার (The Kerala Story-2) প্রথম পর্বে কেরল থেকে নারীদের ধর্মান্তকরণ এবং আইসিসে (ISIS) যোগদানের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বেও একই ধরণের সংবেদনশীল তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যবহারের দাবি করা হয়েছে। নির্মাতাদের দাবি, যে তথ্যগুলি সংগ্রহ করেছেন তা বিভিন্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট এবং বাস্তব জীবনের ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। আদালত ছবির মুক্তি আটকালেও, বাস্তব পরিস্থিতি বা সংখ্যাতত্ত্ব বদলে যাব না।

    আদালত আইন শৃঙ্খলা এবং শ্লীলতা নিয়ে কাজ করবে, কিন্তু সমাজকেও অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হবে যে তারা কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত কি না। ২০১১ সালের আদমশুমারি (Census) দেখায় যে কেরলে মুসলিম জনসংখ্যা ছিল ২৬.৫৬ শতাংশ, যা ১৯৫১ সালে ছিল ১৭.৪ শতাংশ। ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে মুসলিম জনসংখ্যা ১২.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে রাজ্যের সামগ্রিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৪.৯ শতাংশ। একই সময়ে হিন্দুদের বৃদ্ধির হার ছিল ২.২৩ শতাংশ এবং খ্রিস্টানদের ১.৩৮ শতাংশ। স্পষ্টতই, বৃদ্ধির হারে একটি বড় অসঙ্গতি রয়েছে। শুধুমাত্র ধর্মান্তকরণই এর একমাত্র কারণ নয়; উচ্চ প্রজনন হার, সামাজিক জন বিন্যাসের ভারসাম্য এবং অন্যান্য কারণকে ভালো করে খুঁজে দেখতে হবে। ফলে ধর্মান্তকরণকে পুরোপুরি অস্বীকার করা হবে বাস্তব তথ্যের প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকা।

    ২০১২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উম্মেন চান্ডি কেরল বিধানসভায় জানিয়েছিলেন যে, ২০০৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে ৭,৭১৩ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে ২,৬৬৭ জন ছিলেন তরুণী। রিপোর্ট অনুযায়ী, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আন্তঃধর্মীয় বিবাহ জড়িয়ে ছিল।

    দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ লড়াই

    সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরণের সিনেমা (The Kerala Story-2) সমাজে মেরুকরণ তৈরি করে এবং একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে। অন্যদিকে, সমর্থকদের দাবি, সেন্সরশিপ বা আইনি বাধা দিয়ে কঠিন সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া যায় না। ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিলতা আসলে শৈল্পিক স্বাধীনতা বনাম সামাজিক দায়বদ্ধতার এক দীর্ঘ লড়াইয়েরই অংশ।

    আপাতত আইনি গেরোয় (Kerala High Court) বন্দি হয়ে থাকলেও, ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’ নিয়ে বিতর্ক জনমানসে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তুঙ্গে। ছবিটির ভবিষ্যৎ কী হবে তা উচ্চতর আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করলেও, এই সিনেমা যে পরিসংখ্যানের লড়াই শুরু করেছে, তা সহজে হারিয়ে যাওয়ার নয়।

  • Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    Trinamool Criminal Nexus: কাঁকুলিয়া থেকে গোলাবাড়ি— তৃণমূলের ছত্রছায়ায় রাজ্যে চরমে সমাজবিরোধী-দুষ্কৃতীরাজ, নিস্তার কবে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতার গোলপার্ক-কাঁকুলিয়ার পর হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা। ফের শাসক-আশ্রিত দুষ্কৃতী তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল রাজ্যের দুই সিস্টার-সিটি। আর এই ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল রাজনৈতিক মহলে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— সমাজ-বিরোধী, খুনে অভিযুক্তের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল নেতাদের? ভোট যত এগিয়ে আসছে, কেন বাড়ছে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য?

    প্রধান অভিযুক্ত তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ

    হাওড়ার গোলাবাড়ি-পিলখানা এলাকায় বুধবার ভোরে চায়ের দোকানের সামনে খুব কাছ থেকে গুলি করে এক প্রোমোটার শফিক খানকে খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রকাশ্য রাস্তায় এই গুলিচালনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, সিসিটিভি ফুটেজে যে দু’জনকে আক্রমণ করতে দেখা গিয়েছে, তাঁরা হলেন হারুন খান ও রোহিত। এই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হারুন খানের সঙ্গে হাওড়া উত্তরের তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর একাধিক ভিডিও সামনে এনেছে বিজেপি। এমনকী, তৃণমূলের স্থানীয় বিধায়ক গৌতম চৌধুরীকে হারুনের বাইকে চেপে প্রচারেও দেখা গিয়েছে। ঘটনার ছবি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, হারুন তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ।

    চলছে ‘মহাজঙ্গল রাজ’, রাজ্যে ভয়ের পরিবেশ

    বিজেপির তরফে এক্স হ্যান্ডেলে এক ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দফতর নবান্নও হাওড়াতেই অবস্থিত। তার পরেও এ ধরনের দুঃসাহসিক অপরাধ ঘটছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার একাধিক জায়গা থেকে বোমা উদ্ধারের ঘটনাও সামনে এসেছে। পাশাপাশি গতকালই রাজ্যের বিভিন্ন জেলার আদালতে বোমা হামলার হুমকিতে আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতিকে ‘মহাজঙ্গল রাজ’ আখ্যা দিয়ে বিজেপির দাবি, সাধারণ মানুষ ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি চান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

    ভয়ে, আতঙ্কে সিঁটিয়ে স্থানীয়রা

    কাঁকুলিয়ায় দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্যে অভিযুক্ত সোনা পাপ্পুর সঙ্গে ছবিতে দেখা গেছে তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে। সেই ঘটনার পর তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সোনা পাপ্পুর নাগাল পায়নি পুলিশ। আর বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানায় গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল প্রোমোটারকে। ৪৮ ঘণ্টা পার করতে চললেও, মূল অভিযুক্ত হারুন ও রোহিত অধরা। কাঁকুলিয়া থেকে হাওড়া, ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আর সব ঘটনার নেপথ্যে বারবার উঠে আসছে শাসক-যোগ। যদিও, হারুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা অস্বীকার করেছেন তৃণমূল বিধায়ক।

    হামলা সংবাদমাধ্যমের ওপরও

    যে বিধানসভা এলাকায় এই ঘটনা ঘটেছে, সেই হাওড়া উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী লক্ষ্মীরতন শুক্লর সঙ্গেও অভিযুক্ত হারুন খানের ভাইরাল ছবি সামনে এসেছে। লক্ষ্মীরতন শুক্ল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। এদিকে, প্রোমোটার খুনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হতে হন সাংবাদিকরা। রক্তাক্ত হন এবিপি আনন্দের প্রতিনিধি ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী। বেধড়ক মারধরে নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে তাঁর। এবিপি আনন্দের চিত্রসাংবাদিক উজ্জ্বল ঘোষকেও হেনস্থা করে কয়েক জন দুষ্কৃতী।

    হাওড়ার মূল অভিযুক্ত যুব তৃণমূল নেতা!

    প্রশ্ন উঠছে, খুনে অভিযুক্ত থেকে শুরু করে দুষ্কৃতী বা সমাজবিরোধীদের সঙ্গে কীসের এত সখ্যতা তৃণমূল বিধায়কদের? বিজেপির অভিযোগ, হারুন খান হাওড়া পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা। বিজেপি-র রাজ্য নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, ‘হারুন খান উত্তর হাওড়ার তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। বাইকে চেপে তাঁকে ঘুরতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবি ভাইরাল। অন্য অভিযুক্ত রোহিত আর্মস ডিলার। জেলখাটা আসামি। যাঁকে খুন করা হয়েছে সেই সফিক একটা ক্রিমিনাল গ্যাংয়ের সঙ্গে যুক্ত।’ বিধায়কের মদতে এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

    ‘‘তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে’’

    এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অভ্যন্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “বাহুবলীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, না করলে কপালে দুঃখ আছে, আমি বাহুবলীদের উপর ভরসা করি না। এটাকে যে কোন মূল্যে বন্ধ করতে হবে। কড়া ব্যাবস্থা নিতে হবে। বাহুবলীরা যে দিকে যায়, মানুষ তার বিপরীত দিকে যায়। এদের নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে নাগরিক সমাজ পাশ থেকে সরে যাবে।” তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদের এহেন মন্তব্যের পালটা প্রতিক্রিয়া জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। প্রাক্তন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘এটা ওনার বিলম্বিত বোধদয়, তৃণমূলের ভোট টিকে আছে দুষ্কৃতী ভোটব্যাঙ্কে। উনি জানেন উনি আর ভোটে লড়তে পারবেন না ওনার দল থেকে আর কিছু পাওয়ার নেই তাই এইসব মন্তব্য করছেন।’’

    ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে হিংসা!

    দোষীদের গ্রেফতার না করলে ভোট বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ কমিশনার আকাশ মাঘারিয়া জানান, প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে দু’জন জিন্সের প্যান্টের ব্যবসা করত। টাকা নিয়ে বিবাদ ছিল। অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। গত বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসার সাক্ষী থেকেছে রাজ্যবাসী। প্রশ্ন উঠছে, এবার কি সেই পরিকল্পনা বদলে ভোটের আগে থেকেই পরিকল্পিতভাবে হিংসা ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন উঠছে, এভাবেই কি সাধারণ মানুষকে সন্ত্রস্ত করে রাখার কৌশল নেওয়া হয়েছে?

  • Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    Ramakrishna 585: “‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু”

    ৫২ শ্যামপুকুর বাটীতে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    সপ্তম পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৫, ২২শে অক্টোবর
    যুগধর্ম কথাপ্রসঙ্গে—জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগ

    “তিনি সাকার, তিনি নিরাকার। কিরকম জানো? যেন সচ্চিদানন্দ-সমুদ্র। কূল কিনারা নাই। ভক্তিহিমে সেই সমুদ্রের স্থানে স্থানে জল বরফ হয়ে যায়, যেন জল বরফ আকারে জমাট বাঁধে; অর্থাৎ ভক্তের কাছে তিনি সাক্ষাৎ হয়ে কখন কখন সাকাররূপ হয়ে দেখা দেন। আবার জ্ঞানসূর্য উঠলে সে বরফ গলে যায় (Kathamrita)।”

    ডাক্তার—সূর্য উঠলে বরফ গলে জল হয়; আবার জানেন, জল আবার নিরাকার বাষ্প হয়?

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—অর্থাৎ ‘ব্রহ্ম সত্য, জগৎ মিথ্যা’ এই বিচারের পর সমাধি হলে রূপ-টুপ উড়ে যায়। তখন আর ঈশ্বরকে ব্যক্তি (Person) বলে বোধ হয় না। কি তিনি মুখে বলা যায় না। কে বলবে? যিনি বলবেন তিনিই নাই। তিনি তাঁর ‘আমি’ আর খুঁজে পান না। তখন ব্রহ্ম নির্গুণ (Absolute)। তখন তিনি কেবল বোধে বোধ হন। মন-বুদ্ধি দ্বারা তাঁকে ধরা যায় না। (Unknown and Unknowable)

    “তাই বলে, ভক্তি—চন্দ্র; জ্ঞান—সূর্য। শুনেছি, খুব উত্তরে আর দক্ষিণে সমুদ্র আছে। এত ঠাণ্ডা যে, জল জমে মাঝে মাঝে বরফের চাঁই হয়। জাহাজ চলে না। সেখানে গিয়ে আটকে যায়।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—হাঁ, তা যায় বটে, কিন্তু তাতে হানি হয় না, সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরের জলই জমাট বেঁধে বরফ হয়েছে। যদি আরও বিচার করতে চাও, যদি ‘ব্রহ্ম সত্য জগৎ মিথ্যা’ এই বিচার কর, তাতেও ক্ষতি নাই। জ্ঞানসূর্যেই বরফ গলে (Kathamrita) যাবে; তবে সেই সচ্চিদানন্দ-সাগরই রইল।

    কাঁচা আমি ও পাকা আমি—ভক্তের আমি—ভক্তের আমি—বালকের আমি

    “জ্ঞানবিচারের শেষে সমাধি হলে, আমি-টামি কিছু থাকে না। কিন্তু সমাধি হওয়া বড় কঠিন। ‘আমি’ কোন মতে যেতে চায় না। আর যেতে চায় না বলে, ফিরে এই সংসারে আসতে হয়।

    “গরু হাম্বা হাম্বা (আমি, আমি) করে তাই এত দুঃখ! সমস্ত দিন লাঙল দিতে হয়—গ্রীষ্ম নাই, বর্ষা নাই। কিম্বা তাকে কসাইয়ে কাটে। তাতেও নিস্তার নাই। চামারে চামড়া করে, জুতা তৈয়ারি করে। অবশেষে নাড়ীভুঁড়ি থেকে তাঁত হয় (Kathamrita)। ধুনুরীর হাতে পড়ে যখন তুঁহু তুঁহু (তুমি তুমি) করে, তখন নিস্তার হয়।

    “যখন জীব বলে, ‘নাহং’ ‘নাহং’ ‘নাহং’ আমি কেহ নি, হে ঈশ্বর! তুমি কর্তা; আমি দাস তুমি প্রভু—তখন নিস্তার; তখনই মুক্তি।”

    ডাক্তার—কিন্তু ধুনুরীর হাতে পড়া চাই। (সকলের হাস্য)

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna)—যদি একান্ত ‘আমি’ না যাস, থাক শালা ‘দাস আমি’ হয়ে। (সকলের হাস্য)

  • Pakistan: “টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?” পাকিস্তান হকি ফেডারেশন সভপতির পদত্যাগ

    Pakistan: “টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?” পাকিস্তান হকি ফেডারেশন সভপতির পদত্যাগ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তান (Pakistan) হকিতে অত্যাশ্চর্য সংকটের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফেডারেশনের (Hockey Federation) সভাপতি তারিক হুসেন বুগতি বৃহস্পতিবার পদত্যাগ করেছেন। অস্ট্রেলিয়ায় সাম্প্রতিক এফআইএইচ প্রোলিগ সফরে ফেডারেশনের পরিচালনার প্রকাশ্যে সমালোচনা করার জন্য জাতীয় দলের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল বাটকে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেন। এই ঘটনায় শোরগোল পড়েছে।

    বুধবার পাকিস্তান পুরুষ হকি দল এফআইএইচ প্রো লিগের শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে লাহোরে ফিরে আসার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনা এবং নেদারল্যান্ডসের মতো শীর্ষ দলগুলির কাছে খুব খারাপ ভাবে পরাজয়ের শিকার হতে হয়। আটটি ম্যাচের সবকটিতেই হারে পাকিস্তান।

    হোটেলে থাকা খাওয়ার জন্য টাকা দেওয়া হয়নি (Pakistan)

    পাকিস্তান (Pakistan) স্পোর্টস বোর্ড পিএসবিকে তহবিলের অব্যবস্থাপনা এবং বিদেশে দলের অপমানজনক অভিজ্ঞতার জন্য দায়ী করে বুগতি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন তারিক হুসেন বুগতি। সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানে হকির জন্য ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও এই টাকা পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের কাছেই রয়েছে। টাকা ঠিক করে খরচ করা হয়নি। বোর্ডে (Hockey Federation) বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক সমস্যাও রয়েছে। পাকিস্তান স্পোর্টস বোর্ডের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করতে ব্যর্থ হয়েছে। দলের হোটেলে থাকা খাওয়ার জন্য সঠিক ভাবে টাকা দেওয়া হয়নি। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছি। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে অস্ট্রেলিয়ায় প্রো লিগ চলাকালীন ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করছি।”

    বিল পরিশোধ না করার কারণে হোটেল থেকে বের করা হয়

    অপর দিকে পাকিস্তান (Pakistan) দলের অধিনায়ক আম্মাদ শাকিল বাট সংবাদিক সম্মেলনে পিএইচএফে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে খেলোয়াড়দের মানসিক হয়রানিকে উল্লেখ করেছেন। হকি দলের অধিনায়ক (Hockey Federation) বাট বলেন, “বিল পরিশোধ না করার কারণে হোবার্টের হোটেল থেকে দলকে বের করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। খেলোয়াড়দের লাগেজ নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে বাধ্য করা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, তারপরে একটি নিম্নমানের গেস্ট হাউসে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সেখানে থালা-বাসন ধোয়া, টয়লেট পরিষ্কার করা সহ ম্যাচের আগে তুচ্ছ অনেক কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছিল। খেলোয়াড়দের মনোযোগ এবং কর্মক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করেছিল এই সব ঘটনা। টয়লেট পরিষ্কার করার পর আমরা কীভাবে খেলতে পারি?”

  • PM Modi: তারেকের প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদিকে

    PM Modi: তারেকের প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ নরেন্দ্র মোদিকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ২০২৪ সালে হাসিনাকে কোটা বিরোধী আন্দোলনের নামে দেশছাড়া করার পর জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশে জয়লাভ করেছেন (Bangladesh) বিএনপির তারেক রহমান। নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (PM Modi) আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ (Bangladesh)

    অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস (Bangladesh) এই আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মোট ১৩টি দেশের নেতাদের এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ভারত ছাড়াও, আমন্ত্রিতদের তালিকায় রয়েছে, চীন, সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের যোগদানের কথা রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) ঢাকা সফর করবেন কিনা তা ভারত এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

    কে কত আসন?

    বাংলাদেশ (Bangladesh) জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর নেতৃত্বদানকারী রহমান প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরতে চলেছেন। মোট ৩০০ সদস্যের সংসদের ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টি আসন জিতেছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে অনেক বেশি। জামায়াতে ইসলামি ৬৮টি আসন পেয়েছে এবং বিরোধী দলে থাকবে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে দেওয়া হয় নি। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল প্রায় ৫৯%। নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে শাসন সংস্কারের উপর একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ভোটাররা এটিকে অনুমোদন করেছেন।

    মোদির শুভেচ্ছা বার্তা

    ফলাফল ঘোষণার পরপরই, প্রধানমন্ত্রী মোদি (PM Modi) তারেক রহমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং জয়ের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানান। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে মোদি বলেছেন, “তারেক রহমানকে জয়ের জন্য শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন জানাই। দুই প্রতিবেশী দেশের (Bangladesh) মধ্যে গভীর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের উন্নতি আরও প্রয়োজন। ভারত উভয় দেশের শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যৌথ উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য একসঙ্গে কাজ করা ভীষণ ভাবে প্রয়োজন।”

    অপর দিকে বিএনপি প্রকাশ্যে মোদির বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। এক্স-হ্যান্ডলে একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপির তরফে বলা হয়, “উভয় দেশের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং একে অপরের উদ্বেগের প্রতি সংবেদনশীলতার উপর ভিত্তি করে একটি সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশ উন্মুখ। উভয় পক্ষ থেকেই এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য সব রকম পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

  • Rabin Bhattachrya: তৃণমূল কাউন্সিলের ফাঁসির দাবি, ব্যরাকপুর চিড়িয়ামোড়ে বিজেপির ব্যাপক বিক্ষোভ

    Rabin Bhattachrya: তৃণমূল কাউন্সিলের ফাঁসির দাবি, ব্যরাকপুর চিড়িয়ামোড়ে বিজেপির ব্যাপক বিক্ষোভ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রবিবার ব্যরাকপুরে (Barrackpore) তৃণমূল কাউন্সিলর রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের (Rabin Bhattachrya) লাথিতে ৮১ বছরের বৃদ্ধের মৃত্যু ঘটেছে। জানা গিয়েছে লাথি দেওয়ারপর হার্ট অ্যাটাক হয় এবং তারপর মৃত্যু হয় ওই বৃদ্ধের। এই ঘটনার প্রতিবাদ করে বিজেপি জানিয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল কাউন্সিলরকে ফাঁসি দিতে হবে। সোমবার ব্যারাকপুরের চিরিয়ামোড় এই ইস্যুতে ব্যাপক উত্তাল হয়ে ওঠে। যদিও ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাকে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। কিন্তু বিজেপির একটাই দাবি, ফাঁসি চাই।

    ফাঁসি চাই (Rabin Bhattachrya)

    বৃদ্ধ হত্যার প্রতিবাদে চিড়িয়ামোড়ের (Barrackpore) গান্ধিমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ করে বিজেপি। কার্যত বিজেপির জমায়েতে অচল হয়ে পড়ে ব্যারাকপুর। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং এবং বিজেপি নেতা শীলভদ্র দত্ত। বিটি রোড অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বিরাট পুলিশ বাহিনী। তৃণমূল নেতার অভব্য আচরণের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে অর্জুন সিং বলেন, “দোষীর (Rabin Bhattachrya) কঠোরতম শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে। তৃণমূল নেতার ফাঁসি চাই। পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত লজ্জার।”

    জানা গিয়েছে, এদিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে (Rabin Bhattachrya) আদালতে তোলা হবে। শারীরিক পরীক্ষার পর এদিন তাঁকে আদলাতের দিকেই নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, কিন্তু এমন সময় আদালত চত্বরের সামনে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের আকার ধারণ করে। বিজেপির মিছিলকে আটকাতে পুলিশ অতিসক্রিয়তার ভূমিকা পালন করে। এই ঘটনায় বিজেপির আন্দোলন এদিন বিরাট উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

    রাতেই গ্রেফতার কাউন্সিলর

    ঘটনা ঘটেছিল রবিবার রাতে। বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ ছিল অভিযুক্ত কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। কোনও উপায় না পেয়ে চেয়ারম্যানের (Barrackpore) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন তুলসী অধিকারী। রাগে রবীন্দ্রনাথ তাঁর বাড়িতে ঢুকে তাণ্ডব চালান। এরপর নিজের ছেলেকে বাঁচতে এলে বৃদ্ধ বাবাকে কঠিন আঘাত করে লাথি মারেন রবীন্দ্রনাথ। এরপর বৃদ্ধ মাটিতে পড়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে জানা যায়। ঘটনা জানাজানি হতেই ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। ওইদিন রাতেই অভিযুক্ত কাউন্সিলরকে (Rabin Bhattachrya) ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়। পার্থ বলেন, “ঘটনা অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। অত্যন্ত মর্মান্তিক।” ঘটনার দিন রাতেই পুলিশ কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে।

  • Droupadi Murmu: বস্তার পাণ্ডুমের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আদিবাদী সম্প্রদায়ের পালিত উৎসব সম্পর্কে জানুন

    Droupadi Murmu: বস্তার পাণ্ডুমের উদ্বোধন করেছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, আদিবাদী সম্প্রদায়ের পালিত উৎসব সম্পর্কে জানুন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ছত্তিশগড়ের বস্তারের বিভাগীয় সদর দফতর জগদলপুরে ২০২৬ সালের বস্তার পাণ্ডুম উৎসবের উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু (Droupadi Murmu)। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) রাজ্যপাল রমেন ডেকা, মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তোখন সাহু।

    মাওবাদীরা ব্যাপক কষ্ট দিয়েছে (Droupadi Murmu)

    অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি (Droupadi Murmu) বলেন, “দুই দিনের এই অনুষ্ঠানটি বস্তার অঞ্চলের (Chhattisgarh)  সমৃদ্ধ আদিবাসী সংস্কৃতিকে তুলে ধরা হয়েছে। এই অঞ্চলের মানুষ, বিশেষ করে দলিতরা, কয়েক দশক ধরে মাওবাদী চরমপন্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কষ্ট ভোগ করে আসছে। এই অঞ্চল থেকে মাওবাদী মতাদর্শকে উৎখাত এবং বাস্তারের জনগণকে একটি নিরাপদ পরিবেশ প্রদানের জন্য সরকারের নীতিকে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা জনাাই।”

    ‘নিয়াদ নেল্লানার যোজনা’

    রাষ্ট্রপতি মুর্মু (Droupadi Murmu) বলেন, “বাস্তারের (Chhattisgarh) ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সবসময়ই মানুষকে আকর্ষণ করেছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই অঞ্চলটি চার দশক ধরে মাওবাদ দ্বারা জর্জরিত ছিল। ফলস্বরূপ, এখানকার মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। যুবসমাজ, আদিবাসী এবং দলিত ভাই-বোনেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু, মাওবাদী সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের ফলে, বছরের পর বছর ধরে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা, ভয় এবং অবিশ্বাসের পরিবেশ এখন শেষ হয়ে আসছে। মাওবাদের সঙ্গে যুক্তরা হিংসার পথ ত্যাগ করছে, নাগরিকদের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে আনছে।” রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “এলাকার জনগণের উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। রাজ্য সরকারের ‘নিয়াদ নেল্লানার যোজনা’ গ্রামবাসীদের ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুৎ, রাস্তাঘাট এবং জলের সুবিধা সহজলভ্য হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বন্ধ থাকা স্কুলগুলি আবার চালু হচ্ছে এবং শিশুরা ক্লাসে যোগ দিচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক চিত্র যা সকল নাগরিকের জন্য আনন্দ বয়ে আনছে।”

    একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয়

    রাষ্ট্রপতি মুর্মু কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের প্রশংসা করে বলেন, “এই অঞ্চলের আদিবাসীদের উন্নয়নের প্রমাণ দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী-জনমান যোজনা এবং ধরতি আবা জনজাতিয় গ্রাম উৎকর্ষ অভিযানের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে, উন্নয়নের সুফল সবচেয়ে বঞ্চিত আদিবাসী গ্রামগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছে। উপজাতি এলাকায় একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে যাতে এই অঞ্চলের শিশুরা ভালো শিক্ষা লাভ করতে পারে। এভাবেই ছত্তিশগড় এবং ভারতের ভবিষ্যত উজ্জ্বল হবে।”

    বস্তার দশেরা কী?

    ছত্তিশগড়ের (Chhattisgarh) বস্তার অঞ্চলে উপজাতিদের দ্বারা পালিত ৭৫ দিনব্যাপী বস্তার দশেরা উৎসব । দীর্ঘতম দশেরা উৎসবগুলির মধ্যে একটি হওয়ার কারণে এই উৎসবটি অনন্য। এটি হিন্দু শ্রাবণ মাসের অমাবস্যার দিনে শুরু হয় এবং আশ্বিন মাসে শেষ হয়। রামের হাতে রাবণকে পরাজিত করার জনপ্রিয় দশেরা উৎসবের বিপরীতে, বস্তারের দশেরা বস্তারের অধিষ্ঠাত্রী দেবী দান্তেশ্বরী দেবী এবং বস্তার রাজপরিবারের কুলদেবীকে পুজো করা হয়। এই উৎসবটি বিভিন্ন জটিল আচার-অনুষ্ঠান, প্রাণবন্ত শোভাযাত্রা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে চিহ্নিত হয়।

    ৬০০ বছরের পুরাতন উৎসব

    এই উৎসবটি দেশের প্রাচীনতম উৎসবগুলির মধ্যে একটি যার ইতিহাস ৬০০ বছরেরও বেশি। এটি কাকাতীয় রাজবংশ দ্বারা শুরু হয়েছিল এবং তখন থেকেই স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়গুলি এটি সংরক্ষণ এবং প্রচার করে আসছে। এই উৎসবটি বস্তারের উপজাতিদের আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের সাথে গভীরভাবে জড়িত। এতে পদযাত্রা, রথযাত্রা, কাচন গাদি এবং মুরিয়া দরবারের মতো বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান জড়িত।

  • Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    Guru Ravidas: চর্মকার থেকে মহাজাগতিক শিক্ষক- প্রাত্যহিক কাজকে ঈশ্বর সাধনায় রূপান্তর করেছিলেন রবিদাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাঘী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনে ভারত ও বিশ্বের অগণিত মানুষ সন্ত গুরু রবিদাসের (Guru Ravidas) জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) পালন করছেন। তিনি মধ্য যুগের ভারতে ভক্তি আন্দোলনের একজন অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, কবি এবং সমাজ সংস্কারক ছিলেন। বঙ্গে যেমন শ্রী চৈতন্য ভক্তিবাদের জোয়ার এনেছিলেন, তেমনি উত্তর ভারতে ভক্তিবাদের প্রবক্তাদের মধ্যে সন্ত রবিদাস অন্যতম। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও আমাদের সাম্য, মানবতা এবং ভক্তি ও কর্মের মেলবন্ধনের পথ দেখায়।

    জন্ম ও পরিচয় (Guru Ravidas)

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রায়দাস বা রোহিদাস নামেও পরিচিত। আনুমানিক ১৫শ শতাব্দীতে বারাণসীর নিকটবর্তী সীর গোবর্ধনপুর গ্রামে একটি দরিদ্র চর্মকার (মুচি) পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সেই সময়ে প্রচলিত কঠোর জাতিভেদ প্রথা উপেক্ষা করে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন।

    কর্মই ধর্ম

    সন্ত রবিদাসের (Guru Ravidas) জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর পেশা ও সাধনার সমন্বয়। তিনি চটি বা জুতো তৈরির কাজকে কখনও হীন মনে করেননি। তাঁর বিখ্যাত উক্তি, “মন চাঙ্গা তো কঠোতি মে গঙ্গা” অর্থাৎ, যদি মন পবিত্র থাকে, তবে কাঠের তৈরি ছোট পাত্রের জলেই গঙ্গার পবিত্রতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব। তিনি শিখিয়েছেন, ভগবানকে পাওয়ার জন্য সংসার ত্যাগ করার প্রয়োজন নেই; সততা ও নিষ্ঠার সাথে নিজের কাজ করাই হল প্রকৃত উপাসনা। তাঁর লেখা দোহার মধ্যে হল-

    “রবিদাস জীবাত্মা প্রভু কি, হয় না দুজা কয়ে

    জিঁও জল মে জল মিল গয়া, তিওঁ হরি মে মিলনা হয়।”

    সামাজিক সংস্কার ও সাম্য

    গুরু রবিদাস (Guru Ravidas) জাতিভেদ প্রথা এবং অস্পৃশ্যতার তীব্র বিরোধী ছিলেন। তিনি ‘বেগম্পুরা’ (Begampura) নামক এক আদর্শ সমাজের স্বপ্ন দেখতেন—যেখানে কোনও দুঃখ, ভয় বা বৈষম্য থাকবে না। তিনি প্রচার করেছিলেন যে, মানুষ তাঁর জন্মের পরিচয়ে নয়, বরং তাঁর কর্মের মাধ্যমে মহান হন। তাঁর এই দর্শন কেবল নিচুতলার মানুষের মধ্যে নয়, বরং তৎকালীন সমাজের উঁচুতলার রাজকীয় ব্যক্তিদেরও আকৃষ্ট করেছিল। বিখ্যাত কৃষ্ণভক্ত মীরাবাঈ তাঁকে নিজের আধ্যাত্মিক গুরু হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। জন্মদিনে (Birth Anniversary) রবিদাসের একটি দোহাকে স্মরণ করে বলা যায়-

    “তোহি মোহি, মোহি তোহি, অন্তর কায়সা, কনক কাটিক, জল লহর যাইসা।”

    আধ্যাত্মিক অবদান ও শিখ ধর্মে স্থান

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) রচিত ভজন ও পদাবলী আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। গুরু রবিদাসের ৪১টি পবিত্র বাণী বা স্তোত্র শিখদের ধর্মগ্রন্থ ‘গুরু গ্রন্থ সাহেবে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা তাঁর আধ্যাত্মিক উচ্চতার প্রমাণ দেয়। হরি ভজনের ওপর রবিদাস লিখেছেন-

    “হরি সা হীরা ছদ ক্যা, করহি আঁ কি আস,

    তে নর যমাপুর জাহিঙ্গে, সাত ভাখাই রবিদাস।”

    বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা

    বর্তমান সময়েও তাঁর শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে ঘৃণা ত্যাগ করে একে অপরকে ভালোবাসতে হয়। তাঁর জন্মজয়ন্তী (Birth Anniversary) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। বারাণসীতে, তাঁর জন্মস্থানে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

    সন্ত রবিদাস (Guru Ravidas) কেবল একজন ধার্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক। তিনি জাতপাত বর্ণ বৈষম্য মানতেন না। সামাজিক ন্যায়, ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু প্রভেদগুলিকে ভুলে সমাজ জাগরণের কাজ করে গিয়েছেন। যিনি বিশ্বাস করতেন—সব মানুষের ভেতরেই ঈশ্বর বিরাজমান। তাই মানবসেবাই হল পরম ধর্ম।

LinkedIn
Share