Blog

  • Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    Operation Sindoor: ফের অপারেশন সিঁদুর! সীমান্তে সক্রিয় ১৪০ জঙ্গি, ৬টি শিবির! জবাব দিতে তৈরি ভারত, জানালেন সেনাপ্রধান

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখনও চলছে বলে ফের বার্তা দিলেন ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। উল্টো দিক থেকে কোনও রকম দুঃসাহসিক পদক্ষেপ করা হলে, তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, চিনের সঙ্গে সীমান্ত-পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল হলেও সেখানেও নিরন্তর সতর্কতা বজায় রাখা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান। সিঁদুরের বিভিন্ন দিক ব্যাখ্যা করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেছেন, “অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে কৌশলগত দিকগুলি নতুন করে নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় সেনা সন্ত্রাসবাদী পরিকাঠামো ধ্বংস করেছে এবং ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক হামলার ভয় দেখানোর কৌশল ভোঁতা করে দিয়েছে।” তাঁর দাবি, সেনা আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য সর্বদা প্রস্তুত।

    তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ

    গত বছর পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদুর শুরু করে। আর সেই অপারেশন সিঁদুরের অধীনে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী অপারেশন সিঁদুরকে ভারতের তিন সেনার সমন্বয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট করেন, অপারেশন সিঁদুর এখনও শেষ হয়নি। শত্রুপক্ষ অর্থাৎ পাকিস্তান যদি আগামীতে যে কোনও দুঃসাহস দেখায় তাহলে আরও কঠোরভাবে তার জবাব দেওয়া হবে। সেনাপ্রধান জানান, পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী আক্রমণের পর সর্বোচ্চ স্তর থেকে কড়া জবাব দেওয়ার দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা হয়।

    পারমাণবিক হামলার ভয় আর নয়

    ভারতের আকাশে পাক ড্রোন! আর তারপরই বার্ষিক সাংবাদিক সম্মেলনে সীমান্ত পরিস্থিতি ও বাহিনীর ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। একই সঙ্গে কথায় কথায় পাকিস্তানের যে পারমাণবিক হুমকি, তারও সমূলে আঘাত করা হয়েছে। ৯টি টার্গেটকে লক্ষ্য করে আঘাত হেনেছিল ভারত। এই প্রসঙ্গে জেনারেল দ্বিবেদীর ব্যাখ্যা, “৭ মে ২২ মিনিটের সূচনায় এবং পরবর্তী ৮৮ ঘণ্টার সুসংহত অভিযানে অপারেশন সিঁদুর কৌশলগত সমীকরণ বদলে দিয়েছে। গভীরে ঢুকে আঘাত হানা হয়েছে, জঙ্গি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং বহুদিনের পারমাণবিক হুমকির বয়ানকেও প্রশ্নের মুখে ফেলা হয়েছে।”

    ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, সেনার হিসেব অনুযায়ী, জম্মু–কাশ্মীর ও সংলগ্ন এলাকায় এখনও অন্তত ১৪০ জন সক্রিয় জঙ্গি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০ জন স্থানীয়, বাকিরা পাকিস্তানের নাগরিক। ২০২৫ সালে মোট ১৩৯টি সংঘর্ষবিরতির ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১২৪টি ঘটেছে অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন। আইবি-র ওপারে দু’টি এবং লাইন অফ কন্ট্রোলের ওপারে ছ’টি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবির এখনও সক্রিয় বলে সেনার দাবি। ওই সব শিবিরে ন্যূনতম ১০০ জন জঙ্গি রয়েছে বলে অনুমান। সেনার তরফে জানানো হয়েছে, শিবিরগুলির উপর সর্বক্ষণ নজর রাখা হচ্ছে।

    নতুন করে সাজছে সেনা

    অপারেশন সিঁদুরের পর সেনার কাঠামোয় বদল আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সেনাপ্রধান। নতুন করে একাধিক ব্রিগেড গঠন করা হচ্ছে। ঘাতক প্ল্যাটুনের আদলে ২৫টি ‘ভৈরব ব্যাটালিয়ন’ তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি ইনফ্যান্ট্রি ব্যাটালিয়নে ড্রোন ব্যবহারে দক্ষ ‘অশনী প্ল্যাটুন’ গঠন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, তৈরি হচ্ছে ৯টি ‘রুদ্র ব্রিগেড’। আর্টিলারির ক্ষেত্রেও শক্তিবৃদ্ধির কথা জানান সেনাপ্রধান। ১৫টি ‘শক্তিবান রেজিমেন্ট’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সেখানে ১০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ৭৫০ থেকে ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার আধুনিক আর্টিলারি গান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

    সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে

    সাংবাদিক বৈঠকে পাকিস্তানের দিক থেকে নজরদারির উদ্দেশ্যে কিছু ড্রোন পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন জেনারেল দ্বিবেদী। ডিজিএমও স্তরের বৈঠকে এই ধরনের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার বার্তা পাকিস্তানকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। সেইসঙ্গে ভবিষ্যৎ যুদ্ধপ্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটেল গ্রুপ’ গঠনের কথাও জানান তিনি। প্রতিটি গ্রুপের নেতৃত্বে থাকবেন মেজর জেনারেল পদমর্যাদার অফিসার। এক একটি গ্রুপে ১৬টি বা তার বেশি ইউনিট একসঙ্গে কাজ করবে। সেনাপ্রধান দ্বিবেদী আরও বলেন, মে মাসের ১০ তারিখের পর থেকে ভারতের পশ্চিম সীমান্ত এবং জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি সংবেদনশীল হলেও পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৫ সালে ৩১ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয়েছে। আর এর মধ্যে ৬৫ শতাংশই পাকিস্তানি। এর ফলে, সক্রিয় স্থানীয় জঙ্গির সংখ্যা কমে গিয়েছে উল্লেখযোগ্য ভাবেই।

    উত্তর দিকের বর্ডারের কী পরিস্থিতি?

    এই প্রশ্নের উত্তরে আশার কথা শোনান জেনারেল দ্বিবেদী। তিনি জানান, ভারতের উত্তর ভাগের চিনের দিকের বর্ডারে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এক্ষেত্রে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। তাই পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল। যদিও নিরপত্তা নিয়ে কোনও রকম ঢিলেমি দেওয়া চলবে না। বরং কঠোর নজর থাকবে সব দিকে। মণিপুর ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে। নিরাপত্তারক্ষী এবং সরকারের চেষ্টায় শান্তি ফিরছে। এছাড়া মায়ানমারে ভোট হয়ে গেলে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে জানা গিয়েছে। এর পাশাপাশি এই সাংবাদিক সম্মেলনে শাক্সগম উপত্যকা সংক্রান্ত পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ১৯৬৩ সালের চুক্তিকেও অবৈধ বলে অভিহিত করেন তিনি।

    ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি

    জেনারেল দ্বিবেদী জানান, ভারতীয় সেনা আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে। ব্রহ্মোস মিসাইল, উন্নত ড্রোন থেকে শুরু করে একাধিক আপগ্রেডেশন চলছে। পাশাপাশি তিনি এও জানান যে ভারত ৯০ শতাংশ অ্যামুইনেশন দেশেই তৈরি করছে। সেনার পক্ষ থেকে ২০২৬ সালকে ‘ইয়ার অব নেটওয়ার্কিং অ্যান্ড ডেটা সেনট্রিসিটি’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েথে। এর ফলে রিয়েল টাইম ডিসিশন নিতে সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

  • JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    JP Nadda: রাজ্যে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে বিশেষ কেন্দ্রীয় টিম গঠন নাড্ডার, সবরকম সাহায্যের আশ্বাস

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যে নিপা ভাইরাসের (Nipah Cases) দুটি সন্দেহভাজন কেস শনাক্ত হয়েছে। ঠিক তারপরেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) পশ্চিমবঙ্গকে পূর্ণ কেন্দ্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। সেইসঙ্গে দ্রুত সংক্রমণ বিস্তারের রোধে একটি কেন্দ্রীয় পরিদর্শকের টিম গঠন করেছেন। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সব রকম ভাবে প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে একযোগে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন।

    জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু (JP Nadda)

    ১১ জানুয়ারি কল্যাণীর এইমস-এর ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর ভাইরাস রিসার্চ অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরিতে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। আর এরপর থেকেই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জাতীয় স্তরের জরুরি প্রোটোকল চালু করেছে। নিপা ভাইরাসের সংক্রমণের (Nipah Cases) তথ্য পাওয়ার পরপরই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী নাড্ডা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কার্যকারী সমন্বয় কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সচিব, রাজ্যের মুখ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের মুখ্য সচিবের সঙ্গে প্রস্তুতি পর্যালোচনা এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ আলোচনাও করেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী (JP Nadda)।

    কোন কোন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়

    রাজ্য সরকারকে সহায়তা করার জন্য পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় ভাইরোলজি ইনস্টিটিউট (পুণে), জাতীয় মহামারীবিদ্যা ইনস্টিটিউট (চেন্নাই), অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ হাইজিন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ (কলকাতা), এইমস কল্যাণী এবং পরিবেশ মন্ত্রকের বন্যপ্রাণী বিভাগ সহ শীর্ষস্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি জাতীয় স্তরের সমন্বয় টিম কাজ শুরু করেছে।

    দিল্লির জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের জনস্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টারকেও সক্রিয় করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে পরীক্ষাগার সহায়তা, সংক্রমণে নজরদারি, সংক্রমণ প্রতিরোধ প্রোটোকল এবং কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ দলের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান, সন্দেহভাজনদের বিচ্ছিন্নকরণ এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ (Nipah Cases) রোধে কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    নিপা ভাইরাস একটি ‘জুনোটিক’ সংক্রমণ যা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারার সম্ভাবনা রয়েছে। এই সংক্রমণ দ্রুত মৃত্যুর প্রবণতাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং দ্রুত নিয়ন্ত্রণকে বার বার গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণের কথা বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে।

  • EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    EU–India Free Trade Deal: জানুয়ারির শেষেই ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত! মোদি-মের্ৎস বৈঠকের পর জল্পনা তুঙ্গে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি জানুয়ারি মাসের মধ্যেই ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU–India Free Trade Deal) মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরিত হতে পারে। সোমবার গুজরাটের আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এই সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনা ঠিকঠাক এগোলে জানুয়ারির শেষ দিকে ইইউর শীর্ষ নেতারা চুক্তিটি সই করতে ভারত সফরে আসবেন।

    বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় মোড়

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনা চলতি মাসের শেষের মধ্যেই চূড়ান্ত হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সুরক্ষাবাদী নীতির প্রেক্ষাপটে এই চুক্তি বৈশ্বিক বাণিজ্যে একটি বড় মোড় আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আমেদাবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মের্ৎস জানান, আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে শীর্ষস্থানীয় ইইউ নেতারা চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করতে ভারতে আসতেও প্রস্তুত। চ্যান্সেলর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই মের্ৎসের প্রথম সরকারি ভারত সফর। মের্ৎস বলেন, “যে কোনও অবস্থাতেই এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে বাস্তবায়নের পথে আরও একটি বড় পদক্ষেপ করা হবে।” যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

    কেন এই চুক্তির তাড়াহুড়ো

    ইইউ এখন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার (২০২৪ সালে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১২০ বিলিয়ন ইউরো)। চিনের ওপর নির্ভরতা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ইউরোপ এখন ভারতকে সবচেয়ে ‘পছন্দের অংশীদার’ হিসেবে দেখছে। ইইউ অটোমোবাইল, ওয়াইন ও চিকিৎসা সরঞ্জামে শুল্ক কমাতে চায়, বিপরীতে ভারত চায় পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যে সহজ প্রবেশাধিকার। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সুরক্ষাবাদ ও ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে সৃষ্ট অস্থিরতার মধ্যে জার্মান চ্যান্সেলরের ভারত সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মোদির সঙ্গে বৈঠকের পর চ্যান্সেলর মের্ৎস বলেন, বিশ্ব এখন সুরক্ষাবাদের পুনর্জাগরণ দেখছে। কিন্তু এটি জার্মানি ও ভারত—উভয় দেশের জন্যই ক্ষতিকর। তিনি কোনো দেশের নাম না নিলেও তাঁর ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শুল্ক নীতির দিকে। বর্তমানে সমরাস্ত্রের জন্য ভারত অনেকাংশে রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।

    প্রজাতন্ত্র দিবসের পরেই চুক্তি স্বাক্ষর!

    ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ইইউর শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপরই ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভারত-ইইউ সম্মেলনে এই মেগা বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন যে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। জার্মান কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, মের্ৎস ও মোদির মধ্যে বৈঠক ছিল “অত্যন্ত নিবিড়”, যা সম্ভাব্য অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইইউ গাড়ি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওয়াইন ও মদের উপর শুল্ক হ্রাস এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ভারত শ্রমনির্ভর পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার এবং অটোমোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স খাতে দ্রুত স্বীকৃতির ওপর জোর দিচ্ছে।

    ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার

    বহু বছর ধরে আলোচনাধীন এই চুক্তিকে উভয় পক্ষই কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। বিশেষত চিন ও রাশিয়ার উপর নির্ভরতা কমিয়ে সরবরাহ শৃঙ্খল বৈচিত্র্যময় করার লক্ষ্যে ইইউ ও ভারত একে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালে ভারত ও ইইউ-র মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১২০ বিলিয়ন ইউরো, যার ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক বাড়ানো এবং রাশিয়া থেকে তেল আমদানি কমানোর জন্য নয়াদিল্লির উপর চাপ সৃষ্টি করায় এই আলোচনা আরও গতি পেয়েছে। গত বছর ভারত–মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা ভেঙে যাওয়ায়, ইইউ ভারতের কাছে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদার হিসেবে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।

    মের্ৎসের ভূমিকা

    ভূরাজনৈতিক প্রসঙ্গে মের্ৎস বলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে জার্মানি ও ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি অভিন্ন। তিনি বলেন, “রাশিয়ার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন সম্পর্কে আমাদের মূল্যায়নে আমরা সম্পূর্ণ একমত।” যদিও ভারতের জ্বালানি নির্ভরতার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। এছাড়াও মের্ৎস বিশ্বজুড়ে “দুর্ভাগ্যজনক সুরক্ষাবাদের পুনরুত্থান” নিয়ে সতর্ক করে বলেন, এর সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক প্রভাব পড়তে পারে। জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের আলোচনা চলছে। মের্ৎসের এই সফর এই আলোচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ ভারতে আসার আগেই এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়ে যেতে পারে।

    মোদি-মের্ৎসে সম্পর্ক

    জার্মানির চ্যান্সেলর হিসেবে ভারতে তো বটেই, এই প্রথম এশিয়ার কোনও দেশে এলেন মের্ৎস। গান্ধীনগরে মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসার আগে আমেদাবাদের সবরমতী আশ্রমে গিয়েছিলেন জার্মানির চ্যান্সেলর। তার পর তিনি সবরমতী নদীর ধারে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবে যোগ দেন। মোদির সঙ্গে ঘুড়ি ওড়়াতেও দেখা যায় মের্ৎসেকে। মোদি- মের্ৎস বৈঠকের পর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে বোঝাপড়া আরও জোরদার করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে নয়াদিল্লি এবং বার্লিন। পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহার নিয়েও বোঝাপড়া আরও বৃদ্ধির কথা বলেছেন দুই রাষ্ট্রপ্রধান। নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভারতীয়দের জার্মানিতে থাকার ক্ষেত্রে ভিসা (যা ট্রানজ়িট ভিসা) লাগবে না বলে জানানো হয়েছে। জার্মানির স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে উন্নত করতে ভারতের চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিবাসনকে বৈধতা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন জার্মান চ্যান্সেলর। দুই দেশের মধ্যে তথ্য এবং মেধার আদানপ্রদান বাড়ানোর বিষয়েও সম্মত হয়েছেন মোদি এবং মের্ৎস।

  • Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    Enforcement Directorate: প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকেছিলেন মমতা! সুপ্রিম কোর্টে কী কী জানাল ইডি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের আই প্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোর করে ঢুকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কী কী করেছিলেন? সুপ্রিমকোর্টে বিশেষ অভিযোগ করে একাধিক দাবি করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate)। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার নগরপাল মনোজ ভার্মার বিরুদ্ধে ১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেছে ইডি। আর্থিক দুর্নীতি মামলার তদন্তে জোর করে ঢুকে পরা এবং নথি, তথ্য-প্রমাণকে ছিনতাই করার অভিযোগ তুলেছে। একই ভাবে মামলার তদন্ত রিপোর্ট তৈরিতেও বাধা দেওয়া হয়েছে।

    ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ (Enforcement Directorate)

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate) নিজেদের পিটিশনে বলেছেন, “কোনও রকম অনুমতি ছাড়াই প্রতীক জৈনের বাড়িতে মুখ্যমন্ত্রী-পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা জোর করে ঢুকে তদন্তের আওতায় থাকা নথি এবং ডিজিটাল ইনফরমেশন ছিনতাই করে নিয়ে গিয়েছে।” এই সব কিছুর সঙ্গে সম্পূর্ণ ঘটনার ভিডিও এবং ছবি পিটিশনের সঙ্গে পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে তদন্তকারী আধকারিকদেরকে ভয় দেখানো হয়েছিল। ফলে পঞ্চনামা করাও সম্ভব হয়নি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ নম্বর ধারায় মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগও আনা হয়। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে তথ্য নিয়ে চলে যাওয়ার মানেই হল চুরি করা। রাজ্যের ডিজি এবং সিপির বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ রয়েছে।

    খরচ দেবেন রাজীব-মমতা দাবি ইডির

    মামলার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইডি (Enforcement Directorate) দাবি করেছে, তদন্তে বাধা এবং অভিযান নিয়ে শেক্সপিয়ার সরণী এবং ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির অফিসারদের বিরুদ্ধে যে এফআইআর করা হয়েছে তা যেন সিবিআইয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়। একই ভাবে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসের সমস্ত ফুটেজ যা পুলিশের কাছে রয়েছে তার সবটাই যেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার ইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলার যাবতীয় খরচ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজীব কুমারের ঘাড়ে যেন চাপানো দাবিও তোলা হয়। এই সমস্ত বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট কী সিদ্ধান্ত নেয় তাই এখন দেখার।

    জোড়া মামলায় প্রথমেই মমতার নাম

    মমতার সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ এবং নথি ছিনতাইকে ডাকাতির সঙ্গে তুলনা করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ২টি মামলাও দায়ের করেছে। একটি মামলা করেছে ইডি (Enforcement Directorate) এবং অপর আরেকটি মামলা দায়ের করেছে ইডির তিন অফিসার নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলাওয়াত এবং প্রশান্ত চাণ্ডিলা। সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলার প্রথমটি রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নামে। মামলায় দুই নম্বর পক্ষের নাম রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তারপরেই নাম রয়েছে রাজীব কুমারের।

    রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান

    ইডির (Enforcement Directorate) তদন্তে বাধা দেওয়ার ঘটনায় রাজ্যের তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি বলেন, “কলকাতা পুলিশ নিজেই ফেঁসে বসে আছে। একটু আগেই আমি পেয়েছি, ইডি সুপ্রিম কোর্টে কেস ফাইল করেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং স্বরাষ্ট্র দফতর, পুলিশ দফতরের বিরুদ্ধে। মনোজ ভার্মা, রাজীব কুমার ব্যাগটা গোছান।”

  • Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    Mohan Bhagwat: “সংঘের উদ্দেশ্য ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রে পরিণত করা”, বললেন মোহন ভাগবত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক কৃষ্ণচেতন সমাজ সংগঠন ইসকনের (ISKCON) প্রবক্তা শীল প্রভুপাদের ভক্তিবেদান্ত সমগ্র জীবন মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস এবং তিনি ভারতীয় সংস্কৃতি, সনাতনী মূল্যবোধ ও ভগবত গীতার সার্বজনীন বার্তা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ইসকন সমগ্র মানব সমাজকে নতুন দিক দেখিয়েছে— এভাবেই মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS) এর সরসংঘ চালক মোহন ভগবত। সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে সরসংঘ চালক মোহন ভগবত (Mohan Bhagwat) বলেন, সংঘের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ধর্মীয় কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

    বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র ভারত(Mohan Bhagwat)

    গত ১০ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে চন্দ্রোদয় মন্দিরে যান মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat)। এরপর সংঘের কাজ সম্পর্কে বলেন, “সংঘ এবং চন্দ্রোদয় মন্দিরের (ISKCON) সঙ্গে যুক্ত ভক্তদের উদ্দেশ্য শুধু ধর্মীয় কাজকর্মেই সীমাবদ্ধ নয় বরং ব্যক্তিত্ব উন্নয়ন, মানশীল শিক্ষাদান, সমাজসেবার মাধ্যমে ও সামাজিক সামঞ্জস্য রক্ষা করে ভারতকে বিশ্বের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হিসেবে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করা। সমাজ, দেশ এবং রাষ্ট্রের জন্য সম্পূর্ণ সমর্পণ ভাব হল ধর্মীয় উপলব্ধির প্রধান উদ্দেশ্যে। তাই ধর্মের সঙ্গে রাষ্ট্রভক্তি একান্ত অপরিহার্য।”

    মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একটি বার্তালাপে পড়ুয়াদের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও সেবার গুরুত্ব উপলব্ধির বিষয়কে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দিয়েছে আলোচনা করেছে। পড়ুয়াদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সরসংঘ চালক বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি মন্দিরে শ্রী রাধা বৃন্দাবন চন্দ্রের দর্শনও করেছেন এবং সমাজের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেছেন।

    ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ- গ্রন্থ পরিদর্শন

    চন্দ্রোদয় (ISKCON) মন্দিরের জনসংযোগ প্রধান ভারতারিষভ দাস জানিয়েছেন, মন্দির পরিদর্শনের পর মোহন ভাগবত (Mohan Bhagwat) শ্রীল প্রভুপাদকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন। “ভগবতগীতা অ্যাজ ইট ইজ”- গ্রন্থের বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত সংস্করণগুলো পরিদর্শন করে দেখেছেন। একাধিক নির্মাণাধীন মন্দির ভবনের মডেলও দর্শন করেছেন। সেই সঙ্গে মন্দিরের আধ্যাত্মিক উদ্দেশ্যও ব্যাখ্যা করেছেন। এদিন মোহন ভাগবতের সঙ্গে সংঘের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বরাও উপস্থিত ছিলেন।

  • Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    Donald Drump: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য! ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের, কতটা চাপে ভারত–ইরান সম্পর্ক?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমস্ত বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। এমনই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Drump)। তিনি এই সিদ্ধান্তকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর এবং চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয় বলে উল্লেখ করেছেন (Bilateral Trade)। আমেরিকার এই ঘোষণার ফলে ভারতের সঙ্গে ইরানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক গুরুতর চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা অভিজ্ঞমহলের। বিদ্রোহের জেরে কার্যত জ্বলছে ইরান। তার মধ্যেই শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প। মার্কিন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলির তথ্য অনুযায়ী, ইরানের ৩১টি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত ৬৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬০০-এর বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

    ভারতের ওপর প্রভাব (Donald Drump)

    প্রশ্ন হল, ভারতের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে? ভারত ইরানের শীর্ষ পাঁচটি বাণিজ্যিক অংশীদারের মধ্যে অন্যতম। নয়া এই শুল্ক ভারতের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের। ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষে ভারত–ইরান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে ভারতের রফতানি ১.২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ভারতের আমদানি ৪৪০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (Bilateral Trade)। ইরানে ভারতের প্রধান রফতানি করা পণ্যগুলির মধ্যে রয়েছে, বাসমতী চাল, চা, চিনি, ওষুধ ও ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্য। অন্যদিকে, ভারত মূলত আমদানি করে জৈব রাসায়নিক, শুকনো ফল ও বাদাম এবং খনিজজাত পণ্য (Donald Drump)।

    শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে

    বর্তমানে ভারতীয় রফতানিকারীরা ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য আরোপিত ২৫ শতাংশ জরিমানাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান সংক্রান্ত নয়া এই শুল্ক যুক্ত হলে কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার পৌঁছতে পারে ৭৫ শতাংশে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, বস্ত্র শিল্প, সামুদ্রিক খাদ্য রফতানি, রত্ন ও গয়না শিল্প এবং হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র রফতানিকারী খাত (Bilateral Trade)। ট্রাম্পের এহেন সিদ্ধান্তে ভারতের চাবাহার বন্দর প্রকল্পও জটিলতার মুখে পড়তে পারে। ইরানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত এই বন্দরটি ভারতের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারত পাকিস্তানকে এড়িয়ে আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। কিন্তু নয়া শুল্ক নীতির ফলে এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন উঠছে (Donald Drump)।

    ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্ক নীতির আওতায় চিন, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো দেশগুলিও রয়েছে। এই দেশগুলির সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে (Bilateral Trade) নতুন করে টানাপোড়েন সৃষ্টি করতে পারে (Donald Drump)।

  • PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    PM Modi: ইতিহাস হতে চলেছে ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক, প্রধানমন্ত্রীর দফতর সরে যাচ্ছে ‘সেবা তীর্থে’

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাউথ ব্লক ছেড়ে নয়া কার্যালয়ে স্থানান্তরিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। স্বাধীনতার পর থেকে এতদিন প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO) ছিল এখানেই। সেখান থেকেই পাততাড়ি গুটিয়ে সরে যাচ্ছে পিএমও। জানা গিয়েছে, ১৪ জানুয়ারি (মকর সংক্রান্তি)-র পর প্রধানমন্ত্রী, তাঁর দফতর, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট নিয়ে নতুন সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে কাজ শুরু করতে পারেন।

     সেবা তীর্থ (PM Modi)

    রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দারা শিকো রোডে (পূর্বতন ডালহৌসি রোড) কেন্দ্রীয় সরকারের সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ বা সেবা তীর্থ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট নতুন কমপ্লেক্সে স্থানান্তরিত হয়েছে। খুব শীঘ্রই সেখানে যাবে ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারিয়েট। সবশেষে, মকর সংক্রান্তির পর প্রধানমন্ত্রী নিজেও নতুন দফতরে গিয়ে কাজ শুরু করতে পারেন।  সেবা তীর্থ কমপ্লেক্সে পিএমও, ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট এবং এনএসসিএস—তিনটি আলাদা ভবন রয়েছে। আগে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিয়েট রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রাঙ্গন থেকে কাজ করত, আর এনএসসিএসের দফতর ছিল পার্লামেন্ট স্ট্রিটের সর্দার প্যাটেল ভবনে (PM Modi)।

    নতুন সরকারি বাসভবন

    এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-১-এর কাছেই নির্মাণ কাজ চলছে প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবনের, যা এক্সিকিউটিভ এনক্লেভ পার্ট-২ নামে পরিচিত (PMO)। সূত্রের দাবি, নতুন পিএমও ভবনের অধিকাংশ অফিস আধুনিক ওয়ার্কস্পেসের আদলে তৈরি, ঠিক যেমন সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে নির্মিত কার্তব্য ভবনগুলিতে দেখা গিয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব কক্ষ এবং রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত কক্ষগুলি তুলনামূলকভাবে আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সাজানো হয়েছে। এই কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো। কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দফতর জানিয়েছিল, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর এই প্রকল্পের বরাত দেওয়া হয় (PM Modi)। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১,১৮৯ কোটি টাকা, যা প্রস্তাবিত ব্যয়ের তুলনায় ১০.৪৪ শতাংশ কম। নির্মাণের সময়সীমা ধরা হয়েছিল ২৪ মাস।

    সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর

    তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকল্পের অগ্রগতি বা চূড়ান্ত ব্যয় সম্পর্কে আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রক কিংবা সিপিডব্লুডি আর বিশেষ তথ্য প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে পাঠানো প্রশ্নের কোনও জবাবও মেলেনি (PMO)। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর আমল থেকে সাউথ ব্লকেই ছিল প্রধানমন্ত্রীর দফতর। ১৯২০-৩০-এর দশকে ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নর্থ ও সাউথ ব্লক ছিল কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের মূল ভবন। সেন্ট্রাল ভিস্তা পুনর্গঠন প্রকল্পের আওতায় এই দুই ঐতিহাসিক ভবনকে জাতীয় জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হবে, যাতে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষ রাইসিনা হিলের এই লাল বেলেপাথরের ভবনগুলি ঘুরে দেখতে পারেন। ইতিমধ্যেই নর্থ ব্লকের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রক সরে যাওয়ার পর, সাউথ ব্লকের সংস্কারের জন্যও টেন্ডার ডাকা হয়েছে। ভবন খালি হলেই কাজ শুরু হবে (PM Modi)। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে ঘোষিত সেন্ট্রাল ভিস্তা প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে নয়া সংসদ ভবন, উপরাষ্ট্রপতির এনক্লেভ এবং ১০টি নতুন কমন সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট ভবনের মধ্যে প্রথম তিনটি কর্তব্য ভবন নির্মিত হয়েছে (PMO)।

  • India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    India Germany Submarine Deal: মের্ৎসের সফরে স্বাক্ষরিত মউ, চলছে দরাদরি, চূড়ান্ত হওয়ার পথে ভারত–জার্মানি ঐতিহাসিক সাবমেরিন চুক্তি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: জার্মানির সঙ্গে মউ স্বাক্ষর করে দেশের নৌবাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা-শিল্প চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে এগোচ্ছে ভারত। জার্মান সাবমেরিন নির্মাতা থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস (TKMS)-এর সঙ্গে মুম্বইয়ের মাজগাঁও ডক শিপবিল্ডার্স লিমিটেড (MDL)-এর অংশীদারিত্বে ভারতীয় নৌসেনার জন্য ছয়টি অত্যাধুনিক প্রচলিত (ডিজেল-চালিত) সাবমেরিন নির্মাণের পথে এগোচ্ছে এই চুক্তি। এই মুহূর্তে ভারত সফরে এসেছেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। সোমবার তিনি গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সারেন। এর পরই, দুই রাষ্ট্রনেতার উপস্থিতিতে একাধিক বিষয়ে মউ স্বাক্ষিরত করে তা বিনিময় উভয় পক্ষের শীর্ষ আধিকারিকরা।

    যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে, ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ছয়টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) সাবমেরিন কেনার বিষয়ে জার্মানির সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক দিকেই এগোচ্ছে। তবে, চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শীর্ষ কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, বর্তমানে চুক্তির প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক বিভিন্ন দিক নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা চলছে এবং একটি গঠনমূলক সমাধান নিয়ে আশাবাদ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে, বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি বলেন, “এই ধরনের চুক্তিতে প্রযুক্তিগত, আর্থিক ও বাণিজ্যিক আলোচনা থাকে। এসব আলোচনা ইতিবাচক গতিতে এগোচ্ছে। চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা ইতিবাচকভাবেই চলছে এবং আমরা একটি ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছি।”

    ৭২০০০০০০০০০০ টাকার চুক্তি!

    কেন্দ্রীয় সূত্রের মতে, জার্মানির সঙ্গে এই সাবমেরিন নির্মাণের চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭২,০০০ কোটি টাকা) মূল্যের এই চুক্তির মাধ্যমে বহু প্রতিক্ষিত ‘প্রজেক্ট–৭৫আই’ টেন্ডারের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলে. চা হবে দেশের সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে সর্ববৃহৎ অঙ্কের চুক্তি। নীতিগত পরিবর্তন, কঠোর প্রযুক্তিগত শর্ত এবং পরীক্ষিত ও টিকে থাকার ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন প্রযুক্তির ওপর ভারতের জোরের কারণেই এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ঝুলে ছিল।

    এই চুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জার্মান ‘টাইপ–২১৪ নেক্সট জেনারেশন’ (Type-214NG) সাবমেরিন নির্বাচন। প্রায় ২,৫০০ টন ওজনের এই ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনে রয়েছে এয়ার–ইনডিপেন্ডেন্ট প্রোপালশন বা এআইপি (AIP) ব্যবস্থা। স্পেনের নাভান্তিয়া প্রস্তাবিত এস–৮০ প্লাস সাবমেরিনকে পিছনে ফেলে টাইপ–২১৪এনজি বেছে নেওয়া হয়েছে মূলত এই সাবমেরিনের পরীক্ষিত এআইপি প্রযুক্তি, উন্নত শব্দ-নীরবতা (অ্যাকোস্টিক স্টেলথ) এবং কম জীবনচক্র ঝুঁকির কারণে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সমুদ্র অঞ্চলে দীর্ঘ সময় গোপনে কাজ করাই যেখানে প্রধান লক্ষ্য, সেখানে জার্মান প্ল্যাটফর্মের পরিণত ও পরীক্ষিত প্রযুক্তিই সিদ্ধান্তে নির্ণায়ক হয়েছে।

    কেন এআইপি ও স্টেলথ প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ?

    আধুনিক প্রচলিত সাবমেরিনের ক্ষেত্রে এআইপি এখন প্রায় অপরিহার্য। সাধারণ ডিজেল–ইলেকট্রিক সাবমেরিনকে ব্যাটারি চার্জের জন্য মাঝেমধ্যে ভেসে উঠতে বা স্নরকেল ব্যবহার করতে হয়, যা শত্রুপক্ষের নজরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এআইপি-যুক্ত সাবমেরিন সপ্তাহের পর সপ্তাহ জলের নিচে থাকতে পারে, অত্যন্ত কম শব্দ ও ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগনেচার বজায় রেখে টহল, নজরদারি ও আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করে।

    টাইপ–২১৪এনজি সাবমেরিনে ব্যবহৃত ফুয়েল–সেল নির্ভর এআইপি ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ও কার্যত পরীক্ষিত প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। বিপরীতে, স্পেনের বায়ো-ইথানল ভিত্তিক এআইপি প্রযুক্তি এখনও সমপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেনি। জলতলের যুদ্ধে যেখানে ব্যর্থতার কোনও সুযোগ নেই, সেখানে পরীক্ষিত প্রযুক্তিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে ভারতীয় নৌবাহিনী।

    ১৯৭১: করাচি আক্রমণ ও নৌশক্তির পাঠ

    স্টেলথ ও সহনশীলতার ওপর ভারতের জোরের পেছনে রয়েছে কঠোর ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা। ১৯৭১ সালের ভারত–পাকিস্তান যুদ্ধে অপারেশন ট্রাইডেন্ট ও অপারেশন পাইথনের মাধ্যমে ভারতীয় নৌবাহিনী পাকিস্তানের প্রধান সমুদ্রবন্দর করাচিতে বিধ্বংসী হামলা চালায়। এই আঘাতে পাকিস্তানের নৌ লজিস্টিক্স ও জ্বালানি পরিকাঠামো কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তাদের সমুদ্রভিত্তিক অভিযান দীর্ঘমেয়াদে অচল হয়ে যায়।

    এই হামলা ছিল কেবল কৌশলগত নয়, গভীরভাবে কৌশলগত গুরুত্বসম্পন্ন। এটি যুদ্ধের পরিণতি ত্বরান্বিত করে এবং বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। প্রথমবারের মতো ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করে যে, সমুদ্রের নিয়ন্ত্রণ স্থলযুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। তবুও পরবর্তী দশকগুলিতে ভারতের সাবমেরিন আধুনিকীকরণ ধীরগতিতে এগোয়। বিলম্বিত কেনাকাটা, প্রযুক্তিগত নির্ভরতা এবং নীতিগত জড়তার ফলে নৌবাহিনীর জলতল বহর পুরনো হয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে প্রজেক্ট–৭৫আই কেবল একটি সামরিক ক্রয় নয়, ১৯৭১-এর শিক্ষা থেকে উদ্ভূত বহু প্রতীক্ষিত প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ।

    অপারেশন ‘সিঁদুর’ ও করাচির পুনরাবির্ভাব

    গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় এই শিক্ষার প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে সামনে আসে। বড়সড় সন্ত্রাসী উসকানির পর ভারত–পাকিস্তান উত্তেজনা বাড়লে ৮ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ভারতীয় নৌবাহিনী ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’তে ছিল। বিশ্বাসযোগ্য সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পাকিস্তানের আর্থিক ও লজিস্টিক প্রাণকেন্দ্র করাচি বন্দরে আঘাত হানার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল।

    আজও করাচি পাকিস্তানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড—দেশটির অধিকাংশ সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি আমদানি ও আর্থিক প্রবাহ এই বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ১৯৭১-এর পুনরাবৃত্তির বিশ্বাসযোগ্য হুমকি—এবার আরও উন্নত নজরদারি, ক্ষেপণাস্ত্র ও জলতল সক্ষমতা নিয়ে— প্রমাণ করে যে, নৌ শক্তি শট না ছুড়েও কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। অপারেশন ‘সিঁদুর’ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা সমুদ্রে, আর তা কাজে লাগাতে ভারতের দরকার শক্তিশালী জলতল আধিপত্য।

    এই প্রেক্ষাপটে ভারত–জার্মানি সাবমেরিন চুক্তির গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি নিছক শান্তিকালীন আধুনিকীকরণ নয়, বরং সাম্প্রতিক বাস্তব সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে গড়ে ওঠা সক্ষমতা বৃদ্ধি। নতুন প্রজন্মের সাবমেরিন যুক্ত হলে করাচির ওপর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্ষমতা আরও বাড়বে, যা নির্ভরযোগ্য, টেকসই ও স্থায়ী জলতল আঘাতের মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করবে।

    প্রজেক্ট—৭৫আই-এ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’

    এই চুক্তির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—ছয়টি সাবমেরিনই ভারতে নির্মিত হবে। প্রধান নির্মাণ সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পাবে এমডিএল। টিকেএমএস নকশা কর্তৃত্ব, প্রকৌশল সহায়তা, পরামর্শ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। এর ফলে ভারত কেবল সাবমেরিন প্ল্যাটফর্মই নয়, গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতাও অর্জন করবে—যা ভবিষ্যতের নৌ শক্তি গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

  • Germany: ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা চালু জার্মানির

    Germany: ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা চালু জার্মানির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক যাত্রা আরও সহজ করতে ভারতীয় পাসপোর্টধারীদের (Indian Passport) জন্য বড় ঘোষণা করল জার্মানি (Germany)। জার্মান বিমানবন্দর দিয়ে অন্য দেশে যাওয়ার সময় এখন থেকে ভারতীয় যাত্রীদের আর আলাদা করে ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। এই ভিসা-মুক্ত ট্রানজিট সুবিধা ভারতীয় নাগরিকদের যাত্রা  আরও স্বচ্ছন্দ, দ্রুত এবং কম নথিপত্রনির্ভর করে তুলবে বলেই আশা বিশেষজ্ঞদের।

    ভারত-জার্মানি যৌথ বিবৃতি (Germany)

    সোমবার প্রকাশিত ভারত-জার্মানি যৌথ বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্ৎসের দু’দিনের ভারত সফর শেষে এই বিবৃতি প্রকাশিত হয়। উল্লেখ্য, এটি ছিল মার্ৎসের প্রথম ভারত সফর এবং ফেডারেল চ্যান্সেলর হিসেবে এশিয়ায় তাঁর প্রথম সরকারি সফর। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে জার্মান বিমানবন্দর হয়ে যেসব ভারতীয় অন্য দেশে যাবেন, তাঁদের আর ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। এতে আন্তর্জাতিক যাত্রা আরও সুগম হবে বলেই আশা। এই ঘোষণার জন্য জার্মান (Germany) চ্যান্সেলর মার্ৎসকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    ভারত-জার্মানির কৌশলগত অংশীদারিত্ব

    যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ “শুধু ভারতীয় নাগরিকদের যাতায়াত সহজ করবে না, বরং দুই দেশের মধ্যে জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও আরও গভীর হবে।” উভয় নেতাই (Indian Passport) সহমত পোষণ করেন যে, মানুষে-মানুষে সম্পর্কই ভারত-জার্মানি কৌশলগত অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, দুই দেশই ছাত্র, গবেষক, দক্ষ পেশাজীবী, শিল্পী ও পর্যটকদের ক্রমবর্ধমান আদান-প্রদানকে স্বাগত জানিয়েছে। একই সঙ্গে জার্মানির অর্থনীতি, উদ্ভাবন ও সাংস্কৃতিক জীবনে ভারতীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদানকেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

    শিক্ষা, গবেষণা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, সংস্কৃতি এবং যুব বিনিময় ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন দুই দেশের নেতৃত্ব (Germany)। আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পায় শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন। নেতারা লক্ষ্য করেন, জার্মানিতে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে, যৌথ ও ডুয়াল ডিগ্রি কর্মসূচির পরিধি বাড়ছে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ভারতীয় ছাত্র ও স্নাতকদের জার্মানিতে চাকরির বাজারে সংযুক্ত করতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগকেও স্বাগত জানানো হয়। পাশাপাশি, আইআইটি ও জার্মান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে সহমত প্রকাশ করা হয়।

    দুই দেশই রাজি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ভারত-জার্মানি যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করবে। প্রধানমন্ত্রী জার্মানির (Indian Passport) শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে ভারতের নতুন শিক্ষা নীতি (NEP)-র আওতায় ভারতে ক্যাম্পাস খোলার আমন্ত্রণও জানান (Germany)।

  • Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    Bangladesh: ৪২ দিনে দ্বাদশ হত্যা! বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নিধন, পিটিয়ে খুন হিন্দু যুবককে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে (Bangladesh) ক্রমেই বাড়ছে হিন্দু খুনের ঘটনা। রবিবার রাতে এক দল উন্মত্ত জনতা পিটিয়ে মেরে ফেলে বছর আঠাশের সমীর কুমার দাসকে। এ নিয়ে দেশে (Hindu Rickshaw Puller Killed) সাম্প্রতিক হিংসায় বলি হিন্দুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২। উল্লেখ্য, ভারতবিরোধী ছাত্রনেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশে হিংসাত্মক বিক্ষোভ চলছে। জানা গিয়েছে, সমীর ফেনি জেলার দাগনভুঁইয়া এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন।

    ফের হিন্দু খুন (Bangladesh)

    পুলিশ সূত্রে খবর, হামলার পর দুষ্কৃতীরা তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে একটি উপজেলা হাসপাতালের কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ঘটনাটি ডাকাতি ও খুনের। তদন্ত চলছে, তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। দিন কয়েক আগেই নরসিংদী জেলার এক হিন্দু মুদি দোকানির দোকানে হামলা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এই ঘটনায়ও তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ প্রশাসন। গত এক সপ্তাহে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হিংসার জেরে আরও দুই হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেটে জয় মহাপাত্র নামে এক ব্যক্তি শুক্রবার হাসপাতালে মারা যান। অভিযোগ, মোবাইল ফোনের কিস্তির টাকা বকেয়া থাকা নিয়ে দোকানদারের সঙ্গে বিবাদের পর তিনি বিষ খান। যদিও তাঁর পরিবারের দাবি, কিস্তি বাবদ ৫০০ টাকা না (Hindu Rickshaw Puller Killed) দেওয়ায় দোকানদার আমিরুল ইসলাম তাঁকে মারধর, অপমান ও প্ররোচনা দিয়েছিলেন (Bangladesh)।

    আরও হিন্দু খুন

    এদিকে, উত্তর-পশ্চিম বাংলাদেশের এক এলাকায় চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে বাঁচতে মিঠুন সরকার নামে বছর পঁচিশের এক হিন্দু যুবক একটি খালে ঝাঁপ দেন এবং সেখানেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অভিযোগ, গত দুই সপ্তাহে এক হিন্দু বিধবাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, এক হিন্দু স্বর্ণালঙ্কারের দোকানে লুটপাট চালানো হয়েছে এবং কুড়িগ্রাম জেলার এক হিন্দু ডেপুটি কমিশনারকে নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ভয় দেখানো হয়েছে (Bangladesh)। তবে, মহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন সংখ্যালঘু হত্যার ঘটনার নিন্দা করলেও, বারবার দাবি করেছে যে এই ঘটনাগুলি সাম্প্রদায়িক নয় এবং মৃত্যুর সংখ্যা ব্যতিক্রমী মাত্র (Hindu Rickshaw Puller Killed)। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রথমবারের মতো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh)।

    ইউনূসের বাংলাদেশে হিন্দু-নিধন যজ্ঞ

    • ১) ২ ডিসেম্বর: ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলায় ৩৫ বছর বয়সি হিন্দু মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
    • ২) ২ ডিসেম্বর: বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলায় ৪২ বছর বয়সি হিন্দু স্বর্ণ ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকারকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৩ ও ৪) ৭ ডিসেম্বর: রংপুর নিবাসী মুক্তিযোদ্ধা ৭৫ বছর বয়সি যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়কে তাঁদের বাড়িতে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়।
    • ৫) ১২ ডিসেম্বর: কুমিল্লা জেলায় ১৮ বছর বয়সি হিন্দু অটোরিকশা চালক শান্ত চন্দ্র দাসকে খুন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছিল এবং মরদেহটি একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রাখা হয়।
    • ৬) ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫: ময়মনসিংহে (ধর্ম অবমাননার অভিযোগে) দীপু চন্দ্র দাসকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যা করে জনতা।
    • ৭) ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫: রাজবাড়িতে জনতা অমৃত মণ্ডলকে পিটিয়ে হত্যা করে।
    • ৮) ২৯-৩০ ডিসেম্বর ২০২৫: বজেন্দ্র বিশ্বাসকে (পোশাক কারখানায় কর্তব্যরত অবস্থায়) গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ৯) ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: শরীয়তপুরে খোকন চন্দ্র দাসকে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং তারপর পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হয়। ৩ জানুয়ারি তিনি হাসপাতালে মারা যান।
    • ১০) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগীকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
    • ১১) ৫ জানুয়ারি ২০২৬: নরসিংদীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করা হয় শরৎ চক্রবর্তী মণিকে।
LinkedIn
Share