Blog

  • AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    AI Summit 2026: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কীভাবে কাজ করে এই ডিভাইস?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এআই চশমা পরে ভারত মণ্ডপমে গেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানেই শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট। এআই ডিভাইস পরে ওই সামিটে উপস্থিত হওয়ায় বিশেষভাবে নজর কাড়েন তিনি। ‘সর্বম কাজে’ (Sarvam Kaze) নামে পরিচিত এই যন্ত্রটি দেশীয় স্টার্টআপ সর্বম এআই (Sarvam AI)–এর তৈরি একটি স্বদেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য। ডিভাইসটি সামিটে তাৎক্ষণিকভাবে  আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে এবং দায়িত্বশীল এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য নীতিনির্ধারক, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি জগতের বিশ্বনেতাদের একত্র করেছে। সর্বম কাজে সম্পূর্ণরূপে ভারতে নকশা ও নির্মিত একটি এআই ওয়্যারেবল হিসেবে বাজারজাত করা হবে, যা প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করে।

    সর্বম কাজে এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস (AI Summit 2026)

    সর্বম কাজে হল চশমার মতো একটি এআই-চালিত পরিধানযোগ্য ডিভাইস, যা তাৎক্ষণিকভাবে শোনে, বোঝে এবং সাড়া দেয়। ব্যবহারকারী কী দেখছেন, সেটিও এটি ধারণ ও বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। প্রচলিত স্মার্টফোন বা কম্পিউটার-নির্ভর এআই ব্যবস্থার তুলনায় এই ডিভাইস এআইকে সরাসরি বাস্তব জগতে নিয়ে আসে—যেখানে কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করা যায় এবং ফল দেখা যায় স্ক্রিনে। জানা গিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে সংস্থাটি এতে একটি চ্যাট ফাংশন যুক্ত করবে। ডেভেলপাররাও এই প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করতে পারবেন, যা বিভিন্ন শিল্পখাতে নির্দিষ্ট ব্যবহারিক ক্ষেত্র তৈরি করবে। মে মাসে পণ্যটি বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ভারত মণ্ডপমে প্রদর্শনী পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সর্বম কাজে ডিভাইস পরা অবস্থায় দেখা যায়। সর্বম এআইয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রত্যুষ কুমারের শেয়ার করা ছবিতে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ব্যবহার করে ডিভাইসটির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ক্ষমতা পরীক্ষা করছেন। এই উপস্থিতি স্টার্টআপ ও তাদের প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে, বিশেষ করে যখন ভারত নিজস্ব এআই ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে।

    সর্বম এআই

    সর্বম এআই নির্বাচিত সংস্থাগুলির মধ্যে একটি, যা ভারতীয়দের প্রয়োজন মেটাতে স্বদেশি ভিত্তিমূলক এআই মডেল তৈরি করছে। সংস্থাটি ভারতীয় ভাষাভিত্তিক বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM) ও স্পিচ মডেল তৈরি করছে। এই মডেলগুলি ভয়েস ইন্টারফেস, নথি প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা এবং নাগরিক পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। সম্প্রতি স্টার্টআপটি ‘সর্বম অক্ষর’ চালু করেছে নথি ডিজিটাইজেশনের জন্য, ‘সর্বম স্টুডিও’ চালু করেছে বহুভাষিক কনটেন্ট তৈরির জন্য এবং ‘সারাস ভি৩’ নামে একটি স্পিচ রেকগনিশন মডেল উন্মোচন করেছে, যা ভারতীয় ভাষায় নির্ভুলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

    ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’

    ভারত সরকারের বৃহত্তর ‘ইন্ডিয়া এআই মিশন’-এর অংশ হিসেবে সর্বম কাজে চালু করা হয় মার্চ, ২০২৬-এ, ১০,৩৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে। এই মিশনের আওতায় ৩৮,০০০-এরও বেশি জিপিইউ স্টার্টআপ ও গবেষকদের সহায়তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং ১২টি গোষ্ঠীকে স্বদেশি বৃহৎ ভাষা মডেল নির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি ১৬ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬ এমন উদ্ভাবন প্রদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। দ্রুতগতিতে এআই রোডম্যাপ তৈরির পথে এগোতে গিয়ে ভারত ইতিমধ্যেই সর্বম কাজের মতো বিশ্বমানের স্বদেশি এআই প্রযুক্তি তৈরি করেছে।

     

  • Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    Uttar Pradesh: ৩০ বছর ধরে জাল পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে বাস করছিল পাকিস্তানি মা-মেয়ে! চরবৃত্তির উদ্দেশ্যে?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মা ও মেয়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে উত্তরপ্রদেশের (Uttar Pradesh) মেরঠের পুলিশ। অভিযোগ, পাকিস্তানের নাগরিক হয়েও তারা প্রায় তিন দশক ধরে ভারতে বসবাস করছে। সমাজকর্মী রুখসানার অভিযোগ, মা ও মেয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা জাল আধার কার্ড, ভোটার আইডি কার্ড এবং ভারতীয় পাসপোর্ট সংগ্রহ করেছে, পাকিস্তানের নাগরিকত্বও হাতছাড়া করেনি।

    পুলিশ সুপারের বক্তব্য (Uttar Pradesh)

    সংবাদ মাধ্যমে কথা বলতে গিয়ে পুলিশ সুপার অবিনাশ পাণ্ডে জানান, দিল্লি গেট এলাকায় বসবাসকারী ফারহাত মাসুদ নামে এক ব্যক্তির সম্পর্কে তাঁরা তথ্য পান। জানা যায়, সে পাকিস্তানে গিয়ে সাবা নামে এক মহিলাকে বিয়ে করে। ওই দম্পতির একটি কন্যাসন্তান পাকিস্তানেই জন্মগ্রহণ করেছে। সাবা ও তার মেয়ে, উভয়েই পাকিস্তানের নাগরিক। এসএসপি জানান, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে অভিযুক্তরা বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্ব ছাড়াই ভারতে বসবাস করছিলেন। সিটি সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় একটি আনুষ্ঠানিক এফআইআর দায়ের করা হয়। বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ চলছে।

    প্রধান অভিযুক্ত

    এফআইআরে সাবা মাসুদ ওরফে নাজি ওরফে নাজিয়া এবং তার মেয়ে আইমান ফারহাতকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতারণা, জালিয়াতি, জাল নথির ব্যবহার এবং অপরাধমূলক ভয়ভীতি প্রদর্শনের সঙ্গে সম্পর্কিত ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, সাবা পাকিস্তানে ফারহাত মাসুদকে বিয়ে করে। আইমানের জন্ম হয় ১৯৯৩ সালের ২৫ মে, পাকিস্তানে। তিনি আরও বলেন, “সাবা ভারতে ফিরে এলে আইমান সাবার পাকিস্তানি পাসপোর্টে ভারতে ঢুকে পড়ে, যেখানে তার নাম ও জন্মতারিখ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা রয়েছে।” রুখসানার দাবি (Uttar Pradesh), পাকিস্তানের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মা ও মেয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় ভারতীয় নাগরিকত্ব অর্জন না করেই মেরঠে বসবাস করছে। আইমান এ দেশেই পড়াশোনা করে, যদিও কখনওই বৈধ নাগরিকত্বের আবেদন করেনি। ভারতীয় পাসপোর্ট জোগাড়ের উদ্দেশ্যে জাল ও মনগড়া নথি প্রস্তুত করা হয়। সাবা মাসুদ ও নাজিয়া মাসুদ – এই দুই ভিন্ন নামে দুটি পৃথক ভোটার কার্ড জোগাড় করে। অভিযোগকারীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ড পরিচয় গোপন ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে প্রতারণা করার শামিল।

    নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ রুখসানার

    রুখসানা তাঁর অভিযোগে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগও উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা জাল পাসপোর্ট ও নথির ভিত্তিতে একাধিকবার পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশে ঘুরেছে। সাবার বাবা হানিফ আহমেদ পাকিস্তানের নাগরিক।” রুখসানার দাবি, সে নাকি আইএসআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যার ফলে বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে যথেষ্ট সংবেদনশীল। অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা প্রকৃত পরিচয় গোপন করে দিল্লির সেনা সদর দফতর ও বিভিন্ন সরকারি দফতরে যাতায়াত করত। এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগকারীকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং অভিযুক্তরা রাজনৈতিক প্রভাব ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কথাও জানায়। তার জেরে কেউ তাদের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগ রাখেননি। যদিও শেষ রক্ষা হল না। শেষমেশ ধরাই পড়ে গেলেন (Uttar Pradesh)।

  • Pakistan Cricket Crisis: ভারতের কাছে হারতেই পাক রাজনীতিতে তোলপাড়, সেনা-পিসিবি সংঘাত চরমে, কুর্সি যাচ্ছে নকভির?

    Pakistan Cricket Crisis: ভারতের কাছে হারতেই পাক রাজনীতিতে তোলপাড়, সেনা-পিসিবি সংঘাত চরমে, কুর্সি যাচ্ছে নকভির?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতের কাছে পাকিস্তানের হারের অভিঘাত সীমাবদ্ধ নেই সেদেশের ক্রিকেট বোর্ডের অন্দরে। ক্রমে তা তীব্র আকার নিয়ে পৌঁছে গিয়েছে একেবারে পাকিস্তানের প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে। যার জেরে সংঘাত বেঁধেছে পিসিবি ও পাক সামরিক বাহিনীর মধ্যে। পরিস্থিতি এমন যে পিসিবি প্রধানের কুর্সি নিয়েই টানাটানি শুরু হয়ে গিয়েছে।

    ক্রিকেটে হারের জের, পাক রাজনীতিতে তোলপাড়

    বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় জয়ের মাধ্যমে সুপার ৮ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করে নিয়েছে ভারত। কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে গ্রুপ এ-এর ম্যাচে পাকিস্তানকে ৬১ রানে হারিয়ে ব্যাটে ও বলে একতরফা আধিপত্য দেখায় মেন ইন ব্লু। অন্যদিকে, ভারতের হাতে পাকিস্তানের এই পরাজয় শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এমনকি বিষয়টি পৌঁছেছে দেশের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির পর্যন্ত।

    ক্ষুব্ধ পাক সেনার সর্বেসর্বা আসিম মুনির

    খবরে প্রকাশ, ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দুর্বল ও নিম্নমানের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ পাক সেনার সর্বেসর্বা ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। সেনাবাহিনীর দৃষ্টিতে এই ম্যাচ শুধুমাত্র একটি ক্রিকেটীয় ব্যর্থতা নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়েছে। তাদের মতে, দলটি ম্যাচের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল না। পাক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুয়ায়ী, প্রতিরক্ষা সচিবের মাধ্যমে মুনিরের এই অসন্তোষের কথা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে জানানো হয়েছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) দল নির্বাচন, প্রস্তুতি এবং প্রকাশ্য মন্তব্যের ধরন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এর জেরে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নকভি বর্তমানে তীব্র চাপে রয়েছেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁকে পদ থেকে সরানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

    মোহসিন নকভিকে নিয়ে বিতর্ক

    এর আগে, বাংলাদেশের অংশগ্রহণ আইসিসি বাতিল করার প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও পরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা। পিসিবির ওই আট দিনের নাটকের মাঝেই এক সাংবাদিক সম্মেলনে মোহসিন নকভিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেললে পাকিস্তানকে আইসিসি শাস্তি দিতে পারে কি না। উত্তরে তিনি ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নাম উল্লেখ করে বলেন, পাকিস্তান সরকার কাউকে ভয় পায় না। “সবাই আমাদের ফিল্ড মার্শালকে চেনে,” মন্তব্য করেন নকভি।

    সেনা সদর দফতরের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া

    মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, ক্রিকেট ও প্রশাসনিক বিষয়ে নিজের নাম জড়ানোয় ক্ষুব্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। অনুমতি ছাড়া তাঁর নাম ব্যবহার করায় সামরিক মহলেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। তার উপর ভারতের কাছে পাকিস্তানের লজ্জাজনক পরাজয় পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সূত্রের দাবি, ওই মন্তব্যের পরই রাওয়ালপিন্ডিতে অবস্থিত সেনা সদর দফতর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়। সেনা নেতৃত্বের মতে, সেনাপ্রধানের নাম উল্লেখ করে পিসিবি চেয়ারম্যান নকভি সামরিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন এবং ক্রিকেট প্রশাসনকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে জড়িয়ে ফেলেছেন। এর ফলে একটি ক্রীড়াজনিত পরাজয় এখন পিসিবি চেয়ারম্যান ও সেনা নেতৃত্বের মধ্যে কৌশলগত বিরোধে রূপ নিয়েছে।

    নকভির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

    ইসলামাবাদের সূত্র জানিয়েছে, আসিম মুনির তাঁর সামরিক সচিবের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনার ত্রুটিগুলোর দিকেও নজর আকর্ষণ করেছেন। এই ঘটনার পর জল্পনা বেড়েছে যে, পিসিবি চেয়ারম্যান হিসেবে নকভির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট করা এবং ক্রিকেট প্রশাসনের ওপর আস্থা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সাংগঠনিক পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে খবর।

  • Election Commission: ‘‘আপনার বাবা-মা ও ভাই কে, সেটা স্থির করি?’’ মামলাকারীকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    Election Commission: ‘‘আপনার বাবা-মা ও ভাই কে, সেটা স্থির করি?’’ মামলাকারীকে নির্বাচন কমিশনে যেতে বলল সুপ্রিম কোর্ট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার (SIR) বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত নির্দেশিকার বিরুদ্ধে একটি আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি, এবং বিচারপতি বিপুল পাঞ্চোলির বেঞ্চ আবেদনকারী জিমফারাহাদ নওয়াজের আবেদন বাতিল করে দেন। কোর্ট বলেছে, “আপনি কি চান যে আমরা ৩২ অনুচ্ছেদের একটি আবেদনের প্রেক্ষিতে আপনার বাবা, আপনার মা এবং আপনার ভাই কে, তা স্থির করি? নির্বাচন কমিশনে (Election Commission) যান।”

    কেন আবেদন খারিজ (Election Commission)

    ভারতীয় সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে তথ্যগত অসঙ্গতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা যায় কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আবেদনকারী নাওয়াজের অভিযোগ ছিল, এসআইআর-এ (SIR) তথ্যগত অসঙ্গতি সংক্রান্ত পদক্ষেপ সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদের অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনকে সংসদ, রাজ্য আইন সভা, রাষ্ট্রপতি, উপ রাষ্ট্রপতির নির্বাচনে ভোটার তালিকা (Election Commission) তৈরি তদারকি, নির্দেশিকা এবং নিয়ন্ত্রণের চূড়ান্ত ক্ষমতা প্রদানকারী আইন পরিপন্থী।

    কোর্টের বক্তব্য

    আর এই জন্যই খারিজ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, রাজ্যের সমস্ত গ্রাম পঞ্চায়েত দফতর, ব্লক অফিস এবং ওয়ার্ড অফিসে তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা টাঙাতে হবে কমিশনকে। প্রত্যকে ব্লকে আলদা করে কাউন্টার খুলতে হবে। সেখানে সাধারণ মানুষ নথি জমা করতে পারবে। এলাকা সংক্রান্ত আপত্তিও জানাতে পারবে। তবে কমিশনের তরফে জানা গিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের শুনানির জন্য তলব করা হয়েছে। পরে এই সংখ্যাটা দাঁড়িয়েছে ৯৪ লক্ষে। সেই তালিকা ধরে শুনানির নোটিশ পাঠানো হয়েছে যা চলেছে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর (SIR) পর্বের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Election Commission) প্রকাশিত হবে।

    তৃণমূলের বিরোধিতা

    খসড়া (Election Commission) ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কিছু নামকে ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ বিভাগে রাখা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে বানান বিভ্রাট, বয়স বা পিতামাতার তথ্যের অসঙ্গতি কিংবা তথ্যভিত্তিক অমিল। এধরনের কারণ দেখিয়ে সিস্টেম-জেনারেটেড অ্যালগরিদমের ভিত্তিতে ওই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকা হচ্ছে। যদিও এই নিয়ে এই রাজ্যের শাসকদল এসআইআর (SIR) ইস্যুতে প্রথম থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। বিজেপির অভিযোগ চূড়ান্ত পরিমাণে অসহযোগিতার কারণে কমিশনের কাজে অসুবিধার সৃষ্টি করছে তৃণমূল।

  • BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    BNP: হাসিনা-ইস্যু ভারত-বাংলাদেশ বৃহত্তর সম্পর্কে বাধা হবে না, সরকার গঠনের আগে জানাল বিএনপি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের দেশান্তরিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের দাবিকে তারা ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তর সম্পর্ক থেকে আলাদা রাখবে। যদিও তারা নয়াদিল্লির কাছে অপসারিত প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তরের জন্য চাপও অব্যাহত রাখবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনূসের জায়গায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসতে চলেছেন বিএনপির নেতা তারেক রহমান। ঢাকার গুলশন এলাকায় দলের কার্যালয়ে সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুর মধ্যেই কেন্দ্রীভূত করা উচিত নয়।”

    বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্য (BNP)

    তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন। তাঁকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জনমত রয়েছে এবং আমরা মনে করি ভারত তাঁকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা উচিত। কিন্তু হাসিনাকে বাংলাদেশে না পাঠালেও বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক-সহ বৃহত্তর সম্পর্ক গড়ে তোলার পথে তা অন্তরায় হবে না। আমরা আরও ভালো সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” আজ, মঙ্গলবারই পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২০২৪ সালের অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে যাওয়া শেখ হাসিনা ও আওয়ামি লিগের অন্য প্রবীণ নেতাদের হস্তান্তরের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বারবার ভারতের কাছে আহ্বান জানিয়েছে। গত সতেরো মাসে ভারত এসব অনুরোধের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। আলমগির বলেন, “অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনা, প্রাক্তন মন্ত্রী ও আমলাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।” তিনি বলেন, “এই প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।”

    কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে

    তিনি স্বীকার করেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছু অমীমাংসিত উত্তেজনা রয়েছে। ফারাক্কা সংক্রান্ত গঙ্গা জল চুক্তির নবায়ন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের উদ্বেগ এবং অন্যান্য স্পর্শকাতর বিষয়ের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আলমগির বলেন, “আগামী বছরের আগেই গঙ্গা চুক্তির নবায়নের সময় ফরাক্কার জলের বিষয়টি উঠবে, তারপর রয়েছে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের প্রশ্ন—এসব বিষয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে।” মুখোমুখি সংঘর্ষের সম্ভাবনা খারিজ করে দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের কথা বলতে হবে। যাঁরা ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলেন, তাঁরা উন্মাদের মতো কথা বলেন।” তুলনা টেনে তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে গভীর মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও একে অপরকে সহযোগিতা করে।” এর পরেই তিনি বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে একটি মাত্র ইস্যুতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।”

    অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা

    বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলমগিরও দেশে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে সহমত পোষণ করেন। সরকার গঠনের আগে  তিনি জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “২০২৪ সালে অভ্যুত্থানের পর তারা জাতীয় সমঝোতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। অভ্যুত্থানের নেতারাই অধ্যাপক ইউনূসকে বেছে নিয়েছিলেন।” তিনি বলেন, “অভ্যুত্থানের নেতারা তাঁকে যে দায়িত্ব দিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী প্রধান (ইউনূস) তার বাইরে যেতে পারেননি।” আলমগির বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিকে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, ব্যবসা, ডিজিটাল পরিকাঠামো ও কারিগরি শিক্ষায় অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কারিগরি শিক্ষায় ভারতের সম্পদ রয়েছে এবং আমাদের বিপুল সংখ্যক বেকার তরুণ আছে। সক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা উপসাগরীয় দেশে চাকরি পেতে পারে।” তিনি এও বলেন, “আওয়ামি লিগ সরকারের নেওয়া বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পগুলি বিএনপি সরকার পুনর্মূল্যায়ন করবে, কারণ এতে ঋণের বোঝা বেড়েছে।এই প্রকল্পগুলির মধ্যে যেগুলি বাংলাদেশের স্বার্থে কাজ করে, আমরা কেবল সেগুলিই রাখব।”

  • Pathum Nissanka: দুরন্ত শতরান, উড়ন্ত ক্যাচ! নিশাঙ্কা-ঝড়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার জয়ের নেপথ্যে ২ প্রাক্তন ভারতীয় কোচ

    Pathum Nissanka: দুরন্ত শতরান, উড়ন্ত ক্যাচ! নিশাঙ্কা-ঝড়ে ধরাশায়ী অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার জয়ের নেপথ্যে ২ প্রাক্তন ভারতীয় কোচ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সোমবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুরন্ত জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। দুরন্ত অপরাজিত শতরান করে অজিদের থেকে ম্যাচ ছিনিয়ে নেন ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা। দলের এই দুর্দান্ত জয়ের পরে ২ ভারতীয়ের অবদানের কথা স্বীকার করেন শ্রীলঙ্কার হেড কোচ তথা সেদেশের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সনৎ জয়সূর্য।

    ‘টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ’

    আগের দুই টি-২০ বিশ্বকাপে গ্রুপ-পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হওয়া শ্রীলঙ্কা এবার ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে হারিয়ে সুপার ৮ পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক নিশাঙ্কা। অসাধারণ ব্যাটিং প্রদর্শন করে তিনি টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি করেন। শুধু ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নজর কেড়েছেন নিশাঙ্কা। পয়েন্ট পজিশনে দাঁড়িয়ে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে তিনি গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের সুইচ হিট করা বল অসাধারণ দক্ষতায় তালুবন্দি করেন। অনেক সমর্থকই এই ক্যাচকে ইতিমধ্যেই ‘টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন।

    জয়ের কারিগর রাঠৌর-শ্রীধর

    ম্যাচের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জয়সূর্য দলের সাফল্যের কৃতিত্ব দেন ভারতের দুই প্রাক্তন কোচ আর শ্রীধর এবং বিক্রম রাঠৌরকে। গত বছর পর্যন্ত এই দুজন টিম ইন্ডিয়ার কোচ ছিলেন। শ্রীধর ছিলেন ফিল্ডিং কোচ এবং রাঠৌর ছিলেন ব্যাটিং কোচ। বিক্রম রাঠৌর ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন এবং পাঁচ বছর ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে, শ্রীধর এখন লঙ্কাবাহিনীর ফিল্ডিং কোচের ভূমিকায়। অন্যদিকে, চলতি আইসিসি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসে তাঁকে ব্যাটিং পরামর্শদাতা তথা কোচ হিসেবে নিযুক্ত করেছে শ্রীলঙ্কা। এই দুজন নিজেদের পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে শ্রীলঙ্কাকে একটা সংঘবদ্ধ দলে পরিণত করেছেন। সেকথা স্বীকার করে নেন জয়সূর্য।

    ভারতীয় কোচেদের প্রশংসায় জয়সূর্য-শানাকা

    সাংবাদিক সম্মেলনে জয়সূর্য বলেন, “শ্রীধর আমাদের ফিল্ডিং কোচ এবং বিক্রম আমাদের ব্যাটিং কোচ। দু’জনেই খুব ভালো মানুষ। অনুশীলনে আমরা যা চাই, তাঁরা সেটাই করান। আইপিএল অভিজ্ঞতা নিয়ে বিক্রম খেলোয়াড়দের সঙ্গে দারুণভাবে কাজ করছেন। আমরা ব্যাটারদের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছি এবং তাঁদের আত্মবিশ্বাস দিয়েছি। বিক্রম ও শ্রীধর সত্যিই অসাধারণ কাজ করেছেন।” শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শানাকাও ব্যাটিং কনসালট্যান্ট বিক্রম রাঠৌরের প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, রাঠৌর দলের ব্যাটারদের মধ্যে আরও আক্রমণাত্মক মানসিকতা গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিক্রম রাঠৌর আমাদের দলের জন্য খুব ভালো সংযোজন। তাঁর জ্ঞান এবং মানসিকতা—তিনি সবসময় চাইতেন আমরা আক্রমণাত্মকভাবে খেলি, যাতে খেলোয়াড়রা নিজেদের আরও মুক্তভাবে প্রকাশ করতে পারে। তিনি সত্যিই দলের জন্য মূল্যবান সংযোজন।”

    কার্যত ছিটকে গিয়েছে অস্ট্রেলিয়া

    এদিকে, প্রথমে জিম্বাবোয়ের কাছে পরাজয়। এবার শ্রীলঙ্কার কাছে ম্যাচ হেরে প্রতিযোগিতা থেকে কার্যত ছিটকে যাওয়ার পথে অস্ট্রিলিয়া। মিচেল মার্শরা এখন খাদের কিনারায়। অন্য দলের খেলার দিকে তাকিয়ে। তবে, সেই সম্ভাবনাও ক্ষীণ। কারণ, আয়ারল্যান্ডকে যদি জিম্বাবোয়ে হারিয়ে দেয়, তাহলে, তারা সুপার-৮ পর্যায়ে চলে যাবে। ছিটকে যাবে অস্ট্রেলিয়া। এই গ্রুপ থেকে সোমবারই সুপার-৮ এ নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছে শ্রীলঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র আশা, যদি জিম্বাবোয়ে নিজেদের পরের দুটি ম্যাচই খুব বাজেভাবে হারে। এবং শেষ ম্যাচে যদি অস্ট্রেলিয়া দারুণভাবে যদি জেতে, তাহলে হয়ত কোনও একটা মিরাক্যল হতে পারে।

  • Amit Shah: বুধে রাজ্যে অমিত শাহ, তার আগে দিল্লিতে বৈঠক শুভেন্দুর সঙ্গে, কী নিয়ে হল কথা?

    Amit Shah: বুধে রাজ্যে অমিত শাহ, তার আগে দিল্লিতে বৈঠক শুভেন্দুর সঙ্গে, কী নিয়ে হল কথা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বুধবার অমিত শাহের (Amit Shah) সফরের আগেই দিল্লিতে শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বাড়িতে আধ ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। সূত্রে জানা গিয়েছে, দুজনের মধ্যে কথা হয়েছে রাজ্যের বিধানসভা ভোটের প্রধান প্রধান ইস্যু নিয়ে। মমতা সরকারকে অপসৃত করে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে সর্ব শক্তি নিয়োগ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

    ২ ঘণ্টা থাকার কথা রয়েছে (Amit Shah)

    ভোটের মুখে রাজ্যে ফের আসবেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। মায়াপুরের ইসকনে যাবেন তিনি। বুধবার কলকাতা থেকে কপ্টারে মায়াপুর যাবেন। তবে এই সফরে কোন রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকবে না বলে জানা গিয়েছে। দুপুর দেড়টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামবেন। এরপর কলকাতা বিমানবন্দর থেকে মায়াপুরে যাবেন। সেখানে ২ ঘণ্টা থাকার কথা রয়েছে। বিকেলে মায়াপুর থেকে কলকাতায় ফিরবেন। তবে দলীয় কোনও কর্মসূচি না থাকলেও ভোটের আবহে রাজনীতির আঙ্গিনায় শোরগোল পড়েছে।

    নতুন বছরের শুরুতে এক মাসে দুই বার পশ্চিমবঙ্গে এসেছেন। বঙ্গ রাজনীতিতে বিজেপি যে ভোটের দৌড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পিছিয়ে থাকতে চাইছে না তাও এখানে স্পষ্ট। প্রবীণ বিজেপি নেতা অমিত শাহ (Amit Shah) বাংলার বিজেপি নেতৃত্বকে ২০০ সিটের টার্গেট দিয়ে দিয়েছেন। ২০২১ সালে বিজেপি দুই তৃতীয়াংশ আসনের কথা বলে ছিলেন। এইবার কলকাতা এবং কলকাতার আশেপাশের ২৮টি সিটের মধ্যে ২০টিতে জয়ের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন।

    আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে

    কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, “মাননীয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (Amit Shah) আসবেন। মায়াপুরে গৌড়ীয় মঠ সম্প্রদায়, অন্যান্য সম্প্রদায়ে সন্ন্যাসী সাধুগুরু বৈষ্ণব যাঁরা আছেন তাঁদের সঙ্গে বসবেন। মাননীয় অমিত শাহজির বহুদিনের ইচ্ছে ছিল আসার। এর আগেও একবার তাঁর আসার ব্যবস্থা হয়েছিল। কিন্তু প্রোগ্রাম কোনও কারণে বাতিল হয় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার জন্য। মাননীয় গৃহমন্ত্রী আসবেন, এর ফলে আমাদের বাংলার যে বৈষ্ণব আন্দোলন, এবং অন্যান্য সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ যারা তাঁদের আত্মবিশ্বাস ও মনোবল বাড়বে বলে আমার মনে হয়।”

  • India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    India: ‘রাভি নদীর অতিরিক্ত জল আর যাবে না পাকিস্তানে’, সাফ জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের পাঞ্জাব সীমান্তে শাহপুর কান্দি বাঁধের কাজ সম্পন্ন হবে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে। এর (India) ফলে রাভি (সংস্কৃত নাম ইরাবতী) নদীর অতিরিক্ত জল আর প্রবাহিত হবে না পাকিস্তানে (Pakistan)। এমনই জানালেন জম্মু-কাশ্মীরের জলসম্পদ মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা। গত বছরের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে  জঙ্গি হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় গাইড নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে একাধিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন, যার মধ্যে ১৯৬০ সালের ইন্দাস জলচুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তও ছিল।

    কী বললেন জাভেদ আহমেদ রানা? (India)

    একটি টেলিভিশন চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে রানা বলেন, “হ্যাঁ, রাভি নদীর অতিরিক্ত জল পাকিস্তানে যাওয়া বন্ধ করা হবে। এটি বন্ধ করতেই হবে।” তিনি এও বলেন, “কাঠুয়া ও সাম্বা জেলা খরাপ্রবণ এলাকা, কান্দি অঞ্চলের জন্য এই অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি নির্মাণ করা হচ্ছে।” নদীর জল সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী মোদি জম্মু অঞ্চলের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলির কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দেন। শাহপুর কান্দি ব্যারাজ, যা একটি জাতীয় প্রকল্প, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে চার দশক পর সংশোধিত হয়। গত বছর পহেলগাঁওয়ের বৈসরান উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরে চারটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ভারত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, এবং সেগুলি ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে (India)।

    সিন্ধু জলচুক্তি

    বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত ত্রুটিপূর্ণ সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী ছ’টি নদী দুই দেশের মধ্যে ভাগ করা হয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় নদীগুলি (ইরাবতী, বিপাশা, শতদ্রু) ভারতের জন্য বরাদ্দ করা হয় এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলি (সিন্ধু, ঝিলম, চন্দ্রভাগা) পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত হয়। তবে পশ্চিমাঞ্চলীয় নদীগুলির জল সীমিত ব্যবহারের অনুমতি ভারতকে দেওয়া হয়েছিল (Pakistan)। ৬ ডিসেম্বর ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা শাহপুর কান্দি প্রকল্প বাস্তবায়নের অনুমোদন দেয় এবং সেচ অংশের জন্য ৪৮৫.৩৮ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সহায়তা মঞ্জুর করে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে পাঞ্জাবে ৫,০০০ হেক্টর এবং জম্মু ও কাশ্মীরের কাঠুয়া ও সাম্বা জেলায় ৩২,১৭৩ হেক্টর জমিতে সেচের সুবিধা হবে। পাঞ্জাবের সঙ্গে যৌথভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে মাধোপুর হেডওয়ার্কসের নিম্নপ্রবাহ দিয়ে পাকিস্তানে অপচয় হওয়া রাভি নদীর জল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে (India)। এছাড়াও, পাঞ্জাবের ১.১৮ লক্ষ হেক্টর জমিতে সেচের জন্য যে জল ছাড়া হয়, তা এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হবে। প্রকল্পটি রূপায়ন হলে পাঞ্জাব ২০৬ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনেও সক্ষম হবে।

    দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল আগেই

    এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল কয়েক দশক আগে। ১৯৭৯ সালে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার অধীনে রণজিৎ সাগর বাঁধ (থেইন বাঁধ) ও শাহপুর কান্দি বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব পাঞ্জাবের ওপর ন্যস্ত হয়। ২০০১ সালে পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ২০০৯ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সংশোধিত ব্যয় অনুমোদন করে। তবে বিদ্যুৎ অংশের জন্য পাঞ্জাব সরকারের অর্থাভাব এবং পরে জম্মু-কাশ্মীরের সঙ্গে আন্তঃরাজ্য সমস্যার কারণে (India) কাজ বিশেষ এগোয়নি। একাধিক বৈঠকের পর অবশেষে ২০১৮ সালে দিল্লিতে পাঞ্জাব ও জম্মু-কাশ্মীরের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমা রাও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন (Pakistan)। ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রক প্রকল্পটিকে জাতীয় প্রকল্প ঘোষণা করে। ব্যারাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বহু বছর আগে নির্মিত প্রায় ৮০ কিমি রাভি খাল এবং জম্মু-কাশ্মীরে ৪৯২.৫ কিমি জলবণ্টন নেটওয়ার্ক দীর্ঘদিন অব্যবহার্য অবস্থায় ছিল।

     

  • India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    India-Bangladesh Relations: পশ্চিমবঙ্গ-সীমান্ত লাগোয়া বাংলাদেশের জেলাগুলিতে জয়ী জামাত! ভারতের জন্য কতটা উদ্বেগের?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশের (India-Bangladesh Relations) রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠনের পথে এগোলেও, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়ে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। তাদের ১১-দলীয় জোটের মোট আসন সংখ্যা ৭৭। এই ফলাফল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জামায়াতের বেশিরভাগ সাফল্য এসেছে ভারতের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। বলা ভালো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলায় যেখানে হিন্দু জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি সেখানে জয়ী হয়েছে জামাত।

    ভারতের জন্য উদ্বেগের

    হাসিনা সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জিগির উঠলেও, এবারের ভোটে ভারত বিদ্বেষী জামায়াতে ইসলামি ও ছাত্র জোট কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর বাংলাদেশের বেশিরভাগ অংশেই জয়ী হয়েছে ভারতবিদ্বেষী জামাত। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বরাবর…সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙা, মেহেরপুর, রাজশাহি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাটের মতো জায়গায় জয়ের খাতা খুলেছে জামাত। বাংলাদেশের এই জেলাগুলির গা ঘেঁসেই রয়েছে মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনার মতো জেলা। যা ভারতের জন্য উদ্বেগের, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কূটনীতিকদের মতে, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া না দেওয়া অনেকটা জায়গা পড়ে রয়েছে। এর অধিকাংশটাই পশ্চিমবঙ্গের। নিরাপত্তার খাতিরে কাউকে জিজ্ঞাসা না করেই কেন্দ্রীয় সরকার যে কোনও জমি নিতে পারে। তাই শীঘ্রই এখানে বেড়া দেওয়া দরকার।

    ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক!

    বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সীমান্ত এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি ভারতের জন্য আশঙ্কার। বিরোধীদেরও দাবি, এই ছবি পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুদের জন্য মোটেই স্বস্তির নয়। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আমি মনে করি, একাত্তরের শক্তির খানিকটা জাগরণ ঘটেছে বলে, আরও জাগরণ ঘটত যদি আওয়ামি লিগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করত। তাহলে এই জামাতিরা ১০টি আসন পেত না।” হাসিনা জমানায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর কাছাকাছি আসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। পদ্মাপারে বাড়তে থাকে কট্টরপন্থীদের দাপট। অভিযোগ, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশের ছাত্র-যুব আন্দোলনে ইন্ধন ছিল ইসলামাবাদের। তারেক রহমানের হাত ধরে ফের ভারত-বাংলাদেশ সুসম্পর্ক তৈরি হবে কি না তা সময় বলবে।

    নির্বাচনের সারসংক্ষেপ

    মোট ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি ও তার জোট ২১২টি আসন জিতে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করে। জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ৬৮টি আসন পায়—দলের ইতিহাসে যা এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসা জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) মাত্র ৬টি আসন জিতে ভরাডুবির মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শহরাঞ্চল, শিক্ষিত ভোটার ও মহিলারা জামায়াতের রক্ষণশীল অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় দলটির প্রভাব বেড়েছে।

    হিন্দু অধ্যুষিত বিভাগ ও জামায়াতের ফল

    বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮% (প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষ)। তবে কিছু বিভাগে এই হার ১০%–এর বেশি।

    সিলেট বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩.৫%

    জামায়াতের সাফল্য সীমিত

    উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী (আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা)

    তুলনামূলকভাবে ভারত-বিরোধী মনোভাব এখানে কম

    রংপুর বিভাগ

    হিন্দু জনসংখ্যা: প্রায় ১৩%

    রংপুর-১, ২, ৩, ৫, ৬ সহ একাধিক আসনে জামায়াতের জয়

    গাইবান্ধা, জয়পুরহাটেও ভালো ফল

    খুলনা বিভাগ (বিশেষত সাতক্ষীরা)

    হিন্দু জনসংখ্যা: ১১–১২%

    সাতক্ষীরা জেলার চারটি আসনেই জামায়াতের জয়

    পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি, মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া ও ২৪ পরগনার সংলগ্ন এলাকা বাংলাদেশের এই জায়গাগুলো।

    কেন উদ্বিগ্ন ভারত

    সীমান্ত নিরাপত্তা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দৈর্ঘ্য ৪,০৯৬ কিমি। রংপুর-খুলনা অঞ্চলে জামায়াতের শক্ত অবস্থান সীমান্তে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ বা অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে। নির্বাচনী প্রচারে দলটি ভারতের বিএসএফের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছিল।

    ভারত বিরোধী মনোভাব: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নিয়েছিল জামায়াত। সেই অতীতের কারণে ভারতের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক সবসময়ই সন্দেহের চোখে দেখা হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামীণ এলাকায় ভারতবিরোধী বক্তব্য তাদের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    সংখ্যালঘু নিরাপত্তা: যেসব এলাকায় হিন্দু জনসংখ্যা ১০%–এর বেশি, সেখানে জামায়াতের উত্থান সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়লে সামাজিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

    দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক: তিস্তা জলবণ্টনসহ বিভিন্ন বাণিজ্য ও সীমান্ত ইস্যুতে নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে। যদিও বিএনপি সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী শক্তি হিসেবে জামায়াত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

    জনমতের বার্তা

    জাতীয় পর্যায়ে বিএনপির জয় দেখায় যে অধিকাংশ ভোটার চরমপন্থাকে সমর্থন করেননি। শহরাঞ্চল ও মহিলা ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় ধর্মীয় ও পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতি কার্যকর হয়েছে।
    ২০২৬ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করলেও, সীমান্তবর্তী এলাকায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।

  • Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    Tribeni of Bengal: হুগলি জেলার ত্রিবেণী সঙ্গমে রয়েছে সুপ্রাচীন কুম্ভ মেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য প্রবাহ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: হিন্দু ধর্মস্থলের ভৌগলিক অবস্থান সর্বদা বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। যেখানেই তিনটি নদীর মিলন ঘটে—বিশেষ করে গঙ্গা তাদের মধ্যে একটি। হিন্দু ঐতিহ্যে অত্যন্ত পবিত্রস্থান বলে মনে করা হয় গঙ্গার প্রবাহকে। হুগলি জেলার ত্রিবেণী স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই মানদণ্ড পূরণ করে। এখানে গঙ্গা (জাহ্নবী), যমুনা এবং সরস্বতী এক সঙ্গে মিলিত হয়েছে। তবে প্রয়াগরাজের মতো, এখানেও সরস্বতীকে অন্তঃসলিলা হিসেবে ধরা হয়। এই ত্রিবেণী (Tribeni of Bengal) ‘মুক্তবেণী’ হিসেবে পরিচিত, নদীগুলো স্পষ্টভাবে প্রবহমান।

    উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য (Tribeni of Bengal)

    সঙ্গমস্থলকে আলাদা করে আবিষ্কার করতে হয়না। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে হিন্দুরা ত্রিবেণীতে (Tribeni of Bengal) স্নান করে আসছেন। ঠিক যেমন প্রয়াগ, ঋষিকেশ, নাসিক বা উজ্জয়িনীতে করেন, তেমনি ভাবে পালন করে আসছে হিন্দু সমাজ। ত্রিবেণীর এই স্নান কোনও পুনরুজ্জীবিত প্রথা নয়; এটি একটি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত ঐতিহ্য। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে পুণ্যার্থীরা এই বিশ্বাস নিয়ে এখানে এসেছেন যে, সঙ্গমে স্নান করলে পাপ ক্ষয় হয়, ধর্ম পুনরুজ্জীবিত (Bharats Kumbh) হয় এবং ব্যক্তি মহাজাগতিক শৃঙ্খলার সাথে যুক্ত হয়। মকর এই সময় দক্ষিণে অবস্থান করে, গ্রহ, নক্ষত্র এবং জাগতিক জীবনে পরিবর্তন আসে। তাই শুধু স্নান স্নান নয়, প্রাকৃতিক পরিবর্তনও কাজ করে।

    দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণী

    হুগলির ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) ‘দক্ষিণ প্রয়াগ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া কোনও আধুনিক মত নয়। এটি ধ্রুপদী বাঙালি পণ্ডিতদের লেখায় স্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ আছে। প্রখ্যাত স্মার্ত পণ্ডিত রঘুভট্ট তাঁর ‘প্রায়শ্চিত্ত তত্ত্ব’-এ অদ্ব্যর্থহীনভাবে লিখেছেন— “দক্ষিণ প্রয়াগে তার মুক্তবেণী সাতটি গ্রামকে অলঙ্কৃত করে। দক্ষিণ দেশ এটিকে ত্রিবেণী হিসেবে স্বীকার করে।” এখানে ‘সাতটি গ্রাম’ বলতে সপ্তগ্রামকে বোঝানো হয়েছে, যা ত্রিবেণীর ধর্মীয় ভূখণ্ডের মূল কেন্দ্র। এই দক্ষিণ প্রয়াগ পরিচিতিই এখানে কুম্ভ (Bharats Kumbh) সংক্রান্তির মতো বিশেষ সময়ে স্নান এবং মেলার শাস্ত্রীয় ভিত্তি প্রদান করেছে।

    শাস্ত্রের ও স্মৃতি মিলিত হয়

    ত্রিবেণীকে (Tribeni of Bengal) সপ্তগ্রাম থেকে আলাদা করে বোঝা সম্ভব নয়, যা মধ্যযুগীয় বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ছিল। বৈষ্ণব সাহিত্যে এই অঞ্চলের পবিত্রতা স্পষ্টভাবে সংরক্ষিত। বৃন্দাবন দাস তাঁর ‘চৈতন্য ভাগবত’-এ বর্ণনা করেছেন, সপ্তগ্রাম ত্রিবেণী ঘাটে সপ্তর্ষি তপস্যা করেছিলেন এবং এখানেই গঙ্গা, যমুনা ও সরস্বতী মিলিত হয়েছেন।

    সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, বৃন্দাবন দাস উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, নিত্যানন্দ মহাপ্রভু নিজে এই ঘাটে আনন্দভরে স্নান করেছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে বাংলার ভক্তি আন্দোলনের সময়েও ত্রিবেণী একটি জীবন্ত তীর্থস্থান ছিল। কবি মাধবাচার্য তাঁর ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ নিজেকে ত্রিবেণীর নিবাসী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন এবং এই অঞ্চলকে পরাশর মুনি ও যজ্ঞের স্থান হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

    কুম্ভের জ্যোতির্বিজ্ঞানিক গুরুত্ব

    কুম্ভ (Bharats Kumbh) মূলত একটি জ্যোতির্বিজ্ঞানিক ঘটনা। উনিশ শতকে ‘কুম্ভ মেলা’ শব্দটি জনপ্রিয় হওয়ার অনেক আগে থেকেই পবিত্র সঙ্গমগুলোতে বড় ধরনের স্নান উৎসব পালিত হতো। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বিচারে কুম্ভ (Tribeni of Bengal) পালন কয়েক প্রকার। যেমন- ১> মহাকুম্ভ ও অর্ধকুম্ভ: যা গ্রহের বিশেষ অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল। ২> অনু কুম্ভ: যা প্রতি বছর মকর সংক্রান্তি বা কুম্ভ সংক্রান্তিতে পালিত হয়। প্রয়াগরাজে প্রতি বছর মাঘ মাসে যেমন মেলা হয়, একই যুক্তিতে দক্ষিণ প্রয়াগ হিসেবে ত্রিবেণীতেও ঐতিহাসিকভাবে কুম্ভ স্নান ও মেলা হয়ে আসছে। তবে মাঝের কিছু সময় বহিরাগত মুসলমান আক্রমণের জন্য এখানে মেলা বন্ধ হয়ে যায়।

    অবিরাম ঐতিহ্য

    বাংলার মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা বা মন্দির ধ্বংসের ইতিহাসের মধ্যেও ত্রিবেণীর (Bharats Kumbh) ধর্মীয় গুরুত্ব কখনো ম্লান হয়নি। নৃবিজ্ঞানী অ্যালান মরিনিস বলেন, গঙ্গাসাগর ছাড়া বাংলার একমাত্র ত্রিবেণীই প্রাচীনত্বের শক্তিশালী দাবিদার এবং এটি প্রয়াগের দক্ষিণ প্রতিরূপ। প্রয়াগ যদি হয় ‘যুক্তবেণী’ (যেখানে সরস্বতী অদৃশ্য), ত্রিবেণী তবে ‘মুক্তবেণী’ (Tribeni of Bengal) (যেখানে সরস্বতী দৃশ্যমান)।

    ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনও একক স্থানের নয়

    কেরলের মামাঙ্কম থেকে প্রয়াগরাজের মাঘ মেলা এবং বাংলার ত্রিবেণীর কুম্ভ স্নান (Tribeni of Bengal)—সবই প্রমাণ করে ভারতের কুম্ভ ঐতিহ্য কোনো একক স্থানের নয়। এটি একটি বিস্তৃত সংস্কৃতি। যার সবটাই স্থানীয় নদী, পঞ্জিকা এবং সাংস্কৃতিক স্মৃতির দ্বারা একটি সুশৃঙ্খলিত সাংস্কৃতিক প্রবাহ মাত্র। ত্রিবেণী কোনো ধার করা ঐতিহ্য বা আধুনিক উদ্ভাবন নয়; এটি ভূগোল, শাস্ত্র, কাব্য এবং নিরবচ্ছিন্ন আচারের দ্বারা সমৃদ্ধ ভারতের সনাতন সভ্যতার (Bharats Kumbh) এক জীবন্ত অংশ।

LinkedIn
Share