মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আইপিএল-এ প্রথম জয় পেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। শার্দুল গর্জন, বরুণ বর্ষণ আর আবিষ্কার সুয়েশ শর্মা নাইটদের এই জয়কে তিনটে দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়। বৃহস্পতিবার, ইডেনে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে ৮১ রানে হারানোর পর কলকাতা নাইট রাইডার্স পয়েন্ট টেবিলে আপাতত ৪ নম্বরে। এদিন কলকাতার হয়ে একদিকে দুর্দান্ত হাফসেঞ্চুরি করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ এবং শার্দূল ঠাকুর। অন্যদিকে বল হাতে কামাল দেখালেন বরুণ চক্রবর্তী। তিনি একাই ৪ উইকেট শিকার করেছেন।
শার্দুল গর্জন
এদিন টসে জিতে নাইটদের ব্যাট করতে পাঠায় আরসিবি। ইডেনের রহস্যে মোড়া পিচে যার ফল ভুগতে হয় ব্যাঙ্গালোরকে। শুরুটা ভাল ছিল না নাইটদের। ১১ ওভারে ৮৯ রানে ৫ উইকেট পড়ে যায়। বক্সের এক কোণে তখন গালে হাত দিয়ে বসে আছেন কেকেআর অধিপতি কিং খান। গ্যালারিতে বিরাট-বিরাট ধ্বনি। তবে বেশিক্ষণ নয় শুরু হল শার্দুল গর্জন। কেকেআর-এর জন্য উঠল মেক্সিকান ওয়েভ। এই ম্যাচে ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে শার্দূল ঠাকুর ৯টি চার এবং ৩টি ছয়ের সাহায্যে করলেন ২৯ বলে ৬৮ রান। রিঙ্কু সিংয়ের সঙ্গে তিনি ৪৭ বলে ১০৩ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। রিঙ্কু এই ম্যাচে ৩৩ বলে ৪৬ রান করেন। রহমানুল্লা গুরবাজ (৪৪ বলে ৫৭ রান), শার্দুল ও রিঙ্কু তিন ব্যাটারে দাপটে ইডেনে বেঙ্গালুরু বিরুদ্ধে ২০৪ রান করল কলকাতা।
মিস্ট্রি স্পিনার সুয়েশ শর্মা
জয়ের জন্য ২০৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে অধিনায়ক ফ্যাফ ডুপ্লেসিকে নিয়ে শুরুটা আগ্রাসী মেজাজেই করেছিলেন কোহলি। কিন্তু প্রথম ম্যাচের মতো বড় জুটি তৈরি করতে পারলেন না তাঁরা কেকেআরের বিরুদ্ধে। দু’জনেই দ্রুত সাজঘরে ফিরলেন। সুনীল নারাইনের বলে আউট হওয়ার আগে কোহলি করলেন ৩টি চারের সাহায্যে ১৮ বলে ২১ রান। বরুণ চক্রবর্তী আউট করলেন ডুপ্লেসিকে। আরসিবি অধিনায়ক করলেন ১২ বলে ২৩ রান। এখানেই শেষ। এরপর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে শুরু করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। মাত্র ১৭.৪ ওভারে ১২৩ রানেই তারা অলআউট হয়ে যায়। কলকাতার তিন স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারাইন এবং সূয়শ শর্মা মোট ৮ উইকেট শিকার করেছেন। ইডেন মেতে ওঠে নাইট রাইডার্সের মিস্ট্রি স্পিনার সুয়েশ শর্মাকে নিয়ে।
কে এই সুয়েশ
আদতে লেগ স্পিনার হলেও সুয়েশ কোন বলটা লেগ স্পিন করাবেন আর কোনটা গুগলি, সেটা বুঝতে না বুঝতেই নাকানিচোবানি খেল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। গত বছর ডিসেম্বর মাসে আয়োজিত আইপিএল মিনি নিলামে দিল্লির এই ক্রিকেটারকে মাত্র ২০ লাখ টাকায় দলে নিয়েছিল কেকেআর ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের প্রথম একাদশেও সুযোগ পাননি তিনি। এরপর ম্য়াচের দ্বিতীয়ার্ধে ভেঙ্কটেশ আইয়ারের পরিবর্তে ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার’ হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। তারপর ইতিহাস।
আরও পড়ুন: ১৪৬ বছরের টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এরকম দেখা যায়নি! জানেন কী সেই রেকর্ড?
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালেরকে আইপিএলে হারিয়ে চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত বলেন, “সুয়েশ ট্রায়ালে এসেছিল। সেখানেই দেখি যে ও দু’দিকেই বল ঘোরাতে পারে। সেই দেখেই ওকে নেওয়া। অভিজ্ঞতা কম, কিন্তু প্রতিভা রয়েছে সুয়েশের মধ্যে।” কলকাতা বল করার সময় নামানো হয় তাঁকে। তিনি কোথা থেকে এসেছেন তা জানেন না দলের অধিনায়কও। ম্যাচ শেষে নীতীশ বলেন, “আমি নিজেও জানি না ও কোথা থেকে এসেছে। দিল্লির ছেলে ও, কিন্তু আমি কখনও ওকে দেখিনি। তবে খুব মজার ছেলে। সব সময় মাতিয়ে রাখে।”
পা মেলালেন কোহলি-শাহরুখ
নাইটরা এমন অনামি অনেক ক্রিকেটারকেই কিনে থাকে। বড় উদাহরণ বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর নামও আগে সে ভাবে শোনা যায়নি। তেমন ভাবেই এলেন সুয়েশ। প্রথম বার খেলতে নামলেন এবং মাতিয়ে দিলেন। ইডেনের মাটিতে অভিষেক হল তাঁর। সে যতই ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসাবে নামুন না কেন। আইপিএলে একটি ম্যাচ তো খেলা হয়ে গেল তাঁর। দীনেশ কার্তিকের মতো ক্রিকেটারের উইকেট নিলেন। ফেরালেন অনুজ রাওয়াত এবং করণ শর্মাকেও। সুয়শের উপর ভরসা করে রিভিউও নিলেন নীতীশ। সেখানেও অধিনায়ককে হতাশ করেননি তরুণ স্পিনার।
নাইট রাইডার্সের এই ম্যাচ দেখতে ইডেন গার্ডেন্সে হাজির ছিলেন বলিউড বাদশা শাহরুখ খান। বক্সে ‘ঝুমে যো পাঠান’ গানের তালে নেচে ওঠেন কিং খান। সঙ্গে নাচতে থাকে ইডেনও। আর ম্যাচ শেষে বাদশার সঙ্গে পা মেলালেন বিরাট কোহলিও। হাসি মুখে মাঠ ঘুরলেন জুঁহি চাওলা। নাইটদের ঘরে ফেরাটা ভালই হল।
দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের Facebook, Twitter এবং Google News পেজ।