Blog

  • Indus Water Treaty: স্থগিত সিন্ধু জলচুক্তি, হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

    Indus Water Treaty: স্থগিত সিন্ধু জলচুক্তি, হিমালয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদীতে ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: স্থগিত হয়ে গিয়েছে সিন্ধু জলচুক্তি। তার পর এই প্রথমবার চুক্তির আওতাভুক্ত চেনাব-সহ হিমালয় অঞ্চলের নদীগুলিতে পলি সরানোর কাজ এগোচ্ছে দ্রুত গতিতে। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, বহু দশকের পরিচালনাগত বিধিনিষেধের পর চেনাব নদীতে এখন ড্রেজিং শুরু হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। চুক্তির বিধান অনুযায়ী স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া ছ’টি আন্ডার-স্লুইস গেট থেকে পলি সরিয়ে সেগুলি ফের চালু করতে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। চুক্তি স্থগিতের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে চেনাব নদীর ওপর জম্মু ও কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় অবস্থিত সালাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে।

    এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরের বক্তব্য (Indus Water Treaty)

    সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে সালাল পাওয়ার স্টেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর অনীশ গৌরাহা বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।” তিনি বলেন, “এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কতটা বাড়বে তা এখনই বলা কঠিন, তবে যন্ত্রাংশের ক্ষয়ক্ষতি অবশ্যই কমবে। পলি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান কাজ হল ড্রেজিং। এর মাধ্যমে যতটা সম্ভব পলি সরিয়ে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ফ্লাশিং পদ্ধতির মাধ্যমে পলি কমানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।” আগের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে গৌরাহা বলেন, “সিন্ধু জল চুক্তি কার্যকর থাকাকালীন আমরা এই ধরনের পদক্ষেপ করতে পারতাম না। উদাহরণস্বরূপ, চুক্তির শর্তে পলি অপসারণের জন্য ড্র-ডাউন ফ্লাশিং বা ড্রেজিং করার অনুমতি ছিল না।”

    ছ’টি আন্ডার-স্লুইস স্থায়ীভাবে বন্ধ

    সালাল কংক্রিট বাঁধটি মূলত পলি নিয়ন্ত্রণের জন্য ছ’টি আন্ডার-স্লুইস গেট-সহ নির্মিত হয়েছিল। তবে ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তি এবং পরবর্তী ১৯৭৮ সালের এক চুক্তির অধীনে এই ছ’টি আন্ডার-স্লুইস স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সিল্ট এক্সক্লুডার গেট পরিচালনা নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে কোনও কার্যকর পলি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা না থাকায় কয়েক দশক ধরে জলাধারে পলি জমতে থাকে। এখন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৌরাহা বলেন, “আন্ডার-স্লুইস গেটগুলি ফের সচল করতে আমরা দরপত্র আহ্বান করেছি এবং সে বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।” ২০২৫ সালের মে মাসে পরিচালিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জলাধারের মূল ধারণক্ষমতা ছিল ২৮৪ মিলিয়ন ঘনমিটার, যা কমে মাত্র ৯.৯১ এমসিএমে নেমে এসেছিল। চুক্তি স্থগিত এবং পলি অপসারণ কাজ শুরু হওয়ার পর ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সেই ধারণক্ষমতা বেড়ে ১৪ এমসিএম হয়েছে।

    পলি অপসারণের জন্য এনওসি জারি

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, “সালাল বাঁধের জলাধার থেকে পলি অপসারণের জন্য এনওসি জারি হয়েছে এবং কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১.৭ লাখ মেট্রিক টন পলি ড্রেজিং করে তোলা হয়েছে এবং ৬৮,৪৯০ মেট্রিক টন নিষ্পত্তি করা হয়েছে।” দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্ষমতা বাড়াতে জলাধারের ধারণক্ষমতা আরও বাড়ানো এবং পলি ব্যবস্থাপনা জোরদার করার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

     

  • Dattatreya Hosabale: “হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা ও ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্রের ধারণা এক নয়”, বার্তা দত্তাত্রেয় হোসাবলের

    Dattatreya Hosabale: “হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা ও ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্রের ধারণা এক নয়”, বার্তা দত্তাত্রেয় হোসাবলের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: “হিন্দু রাষ্ট্রের ধারণা এবং ধর্মতাত্ত্বিক রাষ্ট্রের ধারণা এক নয়। হিন্দু রাষ্ট্র হল ধর্মের নীতির উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ধারণা।” এমন কথাই বলেছেন আরএসএসের (RSS) সর কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale)। মঙ্গলবার সংঘ পরিবারের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে কেরলের তিরুবন্তপুরমের  রাজীব গান্ধী সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজিতে আয়োজিত ‘ব্লুমিং ভারত: ইয়ং ইন্টেলেকচুয়াল মিট’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই কথা বলেন।

    প্রাচীন রাষ্ট্র ভারতবর্ষ (Dattatreya Hosabale)

    সংঘের (RSS) সর কার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসাবলে (Dattatreya Hosabale) বলেন, “ভারতবর্ষ আমাদের একটি প্রাচীন রাষ্ট্র। কেউ কেউ যুক্তি দেন যে ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা লাভের পরই এটি একটি জাতিতে পরিণত হয়েছিল। রাষ্ট্রের ধারণাটি পশ্চিমাদের জাতির ধারণার মতো ছিল না। কর্নাটকে জন্মগ্রহণকারীদের কাছে কেরল একটি প্রতিবেশী রাজ্য ছিল। তবুও, দুর্ভাগ্যজনক যে কেরলের দর্শকদের সামনে রাষ্ট্রের ধারণাটি একটি বিদেশি ভাষায় উপস্থাপন করতে হয়েছিল। কোনও বিদেশি ভাষাই একটি জাতির ধারণা, তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং দর্শনের সম্পূর্ণ প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না।”

    সংস্কৃত হল জাতির ভিত্তি

    সংঘের (RSS) সরকার্যবাহ (Dattatreya Hosabale) আরও বলেন, “সংস্কৃতি হল জাতির ভিত্তি। সরকারের খসড়া বিদ্যুৎ নীতি, সাবারি সোনার খসড়া, ভিঝিনজাম বন্দর চুক্তি এবং আরও অনেক কিছু হিন্দু নামটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে। ব্রিটিশ রাজত্বের সময়ও এটি একটি হিন্দু জাতি ছিল। এর আত্মা আধ্যাত্মিক। যদিও প্রকাশভঙ্গিতে পার্থক্য থাকতে পারে, সংস্কৃতি এক। সঙ্গীত কন্নড় হোক বা হিন্দুস্তানি হোক বা অন্য কোনও রূপ, ভিত্তি হল সাতটি স্বর। রাধা, কৃষ্ণ, শিব এবং পার্বতী ছাড়া কোন নৃত্যধারা বিদ্যমান? ভারতের ঐক্যকে বোঝাতে, সমাজতান্ত্রিক নেতা রাম মনোহর লোহিয়াকে স্মরণ করতে পারি। যিনি উত্তর ও দক্ষিণকে সংযুক্ত করেছিলেন। কৃষ্ণ, যিনি পূর্ব ও পশ্চিমকে সংযুক্ত করেছিলেন। এবং শিব, যিনি সমগ্র জাতিকে প্রভাবিত করেছিলেন।”

    ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ, ৫২টি শক্তিপীঠ দেশের সংস্কৃতির প্রতীক

    দত্তাত্রেয় (Dattatreya Hosabale) আরও বলেন, “চিনা আক্রমণের সময়, ডিএমকে নেতা আন্নাদুরাই রাজ্যসভায় চিনের বিরুদ্ধে তীব্র বক্তব্য রেখেছিলেন যে হিমালয় হল শিবের আবাসস্থল। মাদুরাইতে এক বক্তৃতায়, পণ্ডিত নেহরু বলেছিলেন যে, তিনি তীর্থযাত্রার মাধ্যমে ভারতকে ঐক্যবদ্ধকারী পূর্বপুরুষদের প্রণাম করেন। ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গ, ৫২টি শক্তিপীঠ এবং শঙ্করাচার্য কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত চারটি মঠ ভারতের সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে। বন্দে মাতরম রচনাকারী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতকে সরস্বতী, লক্ষ্মী এবং দুর্গা হিসাবে উল্লেখ করেছিলেন, যা জ্ঞান, সম্পদ এবং শক্তির প্রতীক। এর কোনওটিই ধর্মীয় নয়। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মহম্মদ করিম চাগলা এই কারণে নিজেকে একজন সাংস্কৃতিক হিন্দু বলে ঘোষণা করেছিলেন। ইন্দোনেশিয়া তার ধর্ম পরিবর্তন করেছে কিন্তু তার পূর্বপুরুষদের নয়। তারা রামায়ণকে লালন করে এবং হিন্দুধর্ম হল নীতি ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের একটি ব্যবস্থা।

    এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ন্যাকের (NAAC) ডিরেক্টর গণেশান কান্নানবীরেন, কেরালা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মোহনন কুন্নুম্মল, এপিজে আবদুল কালাম টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির ভিসি সিজা থমাস এবং আরএসএস দক্ষিণ কেরালার আঞ্চলিক সংঘচালক এমএস রমেশান।

  • Snowfall in Sikkim: তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম! নাথুলার পথে আটকে কয়েক হাজার পর্যটক, উদ্ধারকাজ চলছে

    Snowfall in Sikkim: তুষারপাতের জেরে বিপর্যস্ত সিকিম! নাথুলার পথে আটকে কয়েক হাজার পর্যটক, উদ্ধারকাজ চলছে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আচমকা তুষারপাতে বিপর্যস্ত সিকিম (Snowfall in Sikkim)। মঙ্গলবার ছাঙ্গু লেকের কাছে শেরথাং এলাকায় প্রবল তুষারপাতের জেরে আটকা পড়েন দেশ-বিদেশের কয়েক হাজার পর্যটক। পর্যটন দফতর সূত্রের খবর, ১৫ মাইল এলাকা থেকে ছাঙ্গুর মাঝে বরফের স্তূপে আটকে পড়ে ৫৪১টি গাড়ি। রাস্তায় গাড়ির দীর্ঘ লাইন। অনেকে আবার গাড়িতেও আটকে রয়েছেন। তবে ধীরে ধীরে তাঁদের উদ্ধারের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার সকালে পূর্ব সিকিম থেকে ২৭০০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। তুষারপাতের আনন্দ উপভোগ করতে গিয়ে বিপাকে পড়া পর্যটকেরা এখন উদ্ধারের অপেক্ষা করছেন।

    ২,৭৩৬ জন পর্যটক উদ্ধার

    জানা গিয়েছে, সিকিমের হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে সব মিলিয়ে প্রায় ২,৭৩৬ জন পর্যটক কার্যত বন্দি হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি ময়দানে নামে সিকিম প্রশাসন। পর্যটন দফতর, পুলিশ ও বিআরও-এর জওয়ানরা স্থানীয় চালক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে তৎপরতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার তোয়াক্কা না করেই পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে আনার কাজ চলে। এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় বিপত্তি ঘটেনি। এই সাফল্যের জন্য সিকিম পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় চালক সংগঠন- সকলকেই ধন্যবাদ জানিয়েছে পর্যটন দফতর। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, শেরথাং-এ প্রবল তুষারপাত হচ্ছে। ওই এলাকার রাস্তাগুলিতেও কয়েক ইঞ্চি বরফের পুরু আস্তরণ পড়েছে। ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

    তুষারপাত নিয়ে সতর্কতা

    রাজ্য পর্যটন দফতরের তরফে পর্যটক এবং পর্যটন সংস্থাগুলিকে আবহাওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য অনুসরণ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তুষারপাতপ্রবণ এলাকায় ভ্রমণের সময় গাড়িতে বাধ্যতামূলক ভাবে ‘স্নো চেন’ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পর্যটক ও ট্রাভেল এজেন্সিগুলির জন্য কড়া নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল মরশুমের প্রথম তুষারপাত। সাদা চাদরে ঢেকে গেল উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সান্দাকফু। ভোর হওয়ার পর থেকেই হালকা তুষারপাত শুরু হয়, যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গোটা পাহাড়ি অঞ্চলকে এক মনোরম শীতের আবহে মুড়ে দেয়।

  • PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    PM Modi: ‘নমস্তে’! প্রথম পাতা জুড়ে মোদি, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে বিশেষ প্রচ্ছদ ইজরায়েলি পত্রিকার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: তামাম বিশ্বে ক্রমেই গুরুত্ব বাড়ছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। দ্বিতীয়বারের জন্য ইজরায়েলে যাচ্ছেন তিনি। তার আগে ইজরায়েলের সংবাদপত্র ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে একটি বিশেষ প্রথম পৃষ্ঠা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পত্রিকার সম্পাদক-ইন-চিফ জিভিকা ক্লাইন ২৪ ফেব্রুয়ারি এক্স হ্যান্ডেলে এই বিষয়টি জানান।

    পত্রিকার সম্পাদকের আবেদন (PM Modi)

    তিনি লিখেছেন, “আগামীকালের পত্রিকা আমরা জেরুজালেমে মুদ্রণের জন্য পাঠিয়েছি, প্রধানমন্ত্রী @নরেন্দ্রমোদির ঐতিহাসিক ইজরায়েল সফর উপলক্ষে—২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম সফর। এই উপলক্ষে এটি আমাদের বিশেষ @জেরুজালেম পোস্ট কভার। আপনাদের কী মনে হয়?” প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পাঠকদের আহ্বানও জানান তিনি। বুধবার ভারতীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মোদি পৌঁছবেন ইজরায়েলে। ২০১৭ সালের পর এটি তাঁর প্রথম ইজরায়েল সফর। সফরকালে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি ইজরায়েলের সংসদ ‘কনেসেট’-এ ভাষণও দেবেন, যা হবে সেখানে কোনও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভাষণ।

    ভারতের বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য

    ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, “দুই নেতা ভারত-ইজরায়েল কৌশলগত অংশীদারিত্বে অর্জিত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা, কৃষি, জল ব্যবস্থাপনা, বাণিজ্য ও অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করবেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়েও মতামত বিনিময় হবে।” ইজরায়েল-ইরান সংঘাত শুরু পর গাজার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করবেন বলে ধারণা ওয়াকিবহাল মহলের। সফরের আগে উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সন্ত্রাস মোকাবিলায় গোয়েন্দা ও তথ্য আদান-প্রদান জোরদার-সহ দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও গভীর করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দুই দেশ।

    মঙ্গলবার উভয় দেশ জোর দিয়ে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলায় “টেকসই ও সর্বাঙ্গীণ পদ্ধতিতে” সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজন। ভারত-ইজরায়েল যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবিরোধী ক্ষেত্রে রাষ্ট্রসংঘ, ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবং অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সহযোগিতা মজবুত করার অঙ্গীকার পুনর্নবীকরণ করেছে দুই পক্ষ।” তেল আভিভাবের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে প্রকাশিত বিদায়ী বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ককে একটি দৃঢ় ও বহুমাত্রিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব হিসেবে বর্ণনা করেন।

     

  • West Bengal Assembly Election: চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঘোষণা! কী বলল কমিশন?

    West Bengal Assembly Election: চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগেই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের ঘোষণা! কী বলল কমিশন?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বের হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। তবে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন কি পিছিয়ে যাবে? তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা এখন শিরোনামে। চূড়ান্ত তালিকার পর সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট কীভাবে বের হবে, তাতে নাম না থাকলে কি করবে, তা নিয়েও কমিশন (West Bengal Assembly Election) মত প্রকাশ করেছে। তবে এসআইআর কাজ শেষ হওয়ার মধ্যেই কি বিধানসভার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হবে তা নিয়েও কমিশন (Election Commission) কী জানাচ্ছে আসুন এক নজরে দেখে নিই।

    ২৮ ফেব্রুয়ারিই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ (West Bengal Assembly Election)

    এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্রের বেঞ্চ মঙ্গলবার বলেছে, “২৮ ফেব্রুয়ারিই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (West Bengal Assembly Election) প্রকাশের শেষ দিন। যদি ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ কিংবা ‘আনম্যাপড ক্যাটেগরি’ যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়, সেক্ষেত্রে এই ভোটার তালিকা ধাপে ধাপে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ করা যেতে পারে।” শুক্রবার ভোটার তালিকা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না হলে ঠিক কত নাম বাদ হতে চলেছে তা-ও সম্পূর্ণরূপে ওইদিন বোঝা যাবে না। ২৮ তারিখের পরেও ধাপে ধাপে তালিকা প্রকাশ করতে পারবে কমিশন (Election Commission)। ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ হওয়া সেই তালিকাগুলিতে বাদ ভোটারের পরিসংখ্যান পাওয়া যাবে।

    মনোনয়ন পর্যন্ত লিস্ট বের হবে

    নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশিত হওয়ার আগেই ভোট ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকার বলেছেন, পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের আগেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করতে অসুবিধা নেই। শুক্রবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেও এখনই ভোটারদের নাম বাদের হিসাবে মিলবে না। মনোনয়ন পর্যন্ত যে কটি লিস্ট বের হবে তা নিয়েই বিধানসভার নির্বাচন হবে। কমিশন (Election Commission) আরও জানিয়েছে, নতুন করে বুথের বিন্যাস হবে না। ৮০ হাজার ৬৮১ বুথে ভোট হবে। যদি আগে বলা হয়েছিল একটি বুথে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি ভোটার থাকবে না। বুথ বিন্যাসের পর রাজ্যে ১৩ হাজার ৮১৬ বুথ বেড়ে ছিল। ফলে বুথের সংখ্যা ৯৪ হাজার ৪৯৭টি। তবে এসআইআর-এর কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন করে বুথের বিন্যাস সম্ভব নয়। তবে বহু তলের জন্য ৬০ থেকে ৭০টি অতিরিক্ত বুথ যুক্ত হতে পারবে।

    মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা

    খসড়া তালিকা (West Bengal Assembly Election) প্রকাশের সময় ভোটার তালিকা থেকে ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ পড়েছিল। শুনানি পর্বে বাদ গিয়েছে প্রায় আরও প্রায় ৮ লক্ষ নাম। ১ মার্চ থেকে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। দুই দফায় ১০ তারিখের মধ্যে মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন (Election Commission)। তবে সূত্রের খবর, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই সম্ভবত বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দেবে কমিশন। দোল ও হোলি মিটলেই নির্ঘণ্ট প্রকাশ করা হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২১ সালে ৮ দফা বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

  • PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    PM Modi: ‘ইসলামিক ন্যাটো’র পাল্টা! ভারতকে সঙ্গে নিয়ে নয়া ‘ষড়ভুজ জোটের’ প্রস্তাব নেতানিয়াহুর, সঙ্গে আর কারা?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ইজরায়েল সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। তার আগেই জেরুজালেম থেকে এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক জোটের প্রস্তাব সামনে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) যাকে তিনি “হেক্সাগন অফ অ্যালায়েন্স” (ষড়ভুজ জোট) বলেছেন, তার রূপরেখা প্রকাশ্যে এনেছেন। নেতানিয়াহুর প্রস্তাবিত জোটের লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে (পশ্চিম এশিয়া) তাঁর ভাষায় “র‍্যাডিক্যাল অ্যাক্সিস” বা চরমপন্থী অক্ষশক্তির মোকাবিলা করা। তিনি ইজরায়েল, গ্রিস ও সাইপ্রাসের পাশাপাশি ভারতকে এই জোটের অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইজরায়েলি বিদেশ দফতরের ২২ ফেব্রুয়ারির বিবৃতি অনুযায়ী, আরও কিছু আরব, আফ্রিকান ও এশীয় দেশ এই কাঠামোর অংশ হতে পারে।

    ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা (PM Modi)

    এই ঘোষণা এমন একটা সময়ে এল যখন ইজরায়েল-ইরান উত্তেজনা বাড়ছে এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরব ন্যাটোর ধাঁচে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তিতে একত্রিত হয়েছে। এখানে তুরস্কও যোগ দিতে আগ্রহী। নেতানিয়াহুর আমন্ত্রণে মোদি ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ইজরায়েলে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। ভারতের বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, এটি মোদির দ্বিতীয় ইজরায়েল সফর। মঙ্গলবার ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সফরকালে দুই নেতা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মত বিনিময় করবেন। ২২ ফেব্রুয়ারির মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেতানিয়াহু এই ধারণার রূপরেখা তুলে ধরেন বলে ইজরায়েল সরকারের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কী বললেন নেতানিয়াহু

    নেতানিয়াহু বলেন, “আমার দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চারপাশে বা ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলব—মূলত এটি হবে একটি হেক্সাগন জোট (PM Modi)।” তিনি বলেন, “এর মধ্যে থাকবে ভারত, আরব দেশসমূহ, আফ্রিকান দেশসমূহ, ভূমধ্যসাগরীয় দেশ (গ্রিস ও সাইপ্রাস) এবং এশিয়ার কিছু দেশ, যাদের নাম এখন উল্লেখ করছি না। আমি এটি সংগঠিতভাবে উপস্থাপন করব (Benjamin Netanyahu)।” নেতানিয়াহু বলেন, “উদ্দেশ্য হল এমন দেশগুলির একটি অক্ষ তৈরি করা, যারা চরমপন্থী অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ এবং লক্ষ্য নিয়ে একমত। তা সে চরমপন্থী শিয়া অক্ষই হোক, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, অথবা উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ। এই দেশগুলির দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা এবং আমাদের সহযোগিতা বড় ফল দিতে পারে, পাশাপাশি আমাদের স্থিতিস্থাপকতা ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে পারে।”

    ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান

    এই কাঠামোর লক্ষ্য নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গভীর করা (PM Modi)। প্রসঙ্গত, নেতানিয়াহুর ‘হেক্সাগন’ জোটের আহ্বান তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এটি পশ্চিম ও দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এক ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিচ্ছে। ভারত-ইউএই-ইজরায়েল-গ্রিস সমঝোতার আগের আলোচনা থেকে ভিন্নভাবে, এটি প্রকাশ্য কৌশলগত নীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরাসরি প্রতিপক্ষদের নাম উল্লেখ করেছেন এবং উদ্দেশ্যও স্পষ্ট করেছেন (Benjamin Netanyahu)। ইজরায়েলের এই প্রস্তাব এমন একটা সময়ে এসেছে যখন সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ স্বাক্ষরিত সৌদি-পাকিস্তান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি অঞ্চলজুড়ে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এক ধরনের “ইসলামিক ন্যাটো” (PM Modi)। নেতানিয়াহু এই নয়া জোটকে একটি পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তিনি বলেন, “চরমপন্থী শিয়া অক্ষ, যাকে আমরা কঠোরভাবে আঘাত করেছি, এবং উদীয়মান চরমপন্থী সুন্নি অক্ষ—উভয়ের বিরুদ্ধেই।”

    “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ”

    ওয়াকিবহাল মহলের মতে, “র‍্যাডিক্যাল শিয়া অক্ষ” বলতে মূলত ইরান ও তার সহযোগী গোষ্ঠী যেমন হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের বোঝানো হয়েছে (Benjamin Netanyahu)। “উদীয়মান র‍্যাডিক্যাল সুন্নি অক্ষ” বলতে পশ্চিম এশিয়ায় আইএসআইএসের অবশিষ্টাংশ ও অন্যান্য জঙ্গি নেটওয়ার্ক-সহ চরমপন্থী হুমকিকে বোঝানো হয়েছে। এই জোটের গুরুত্ব হল, এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ভারত, ইউএই এবং ইজরায়েল বহু বছর ধরে সহযোগিতা করছে আব্রাহাম চুক্তি ও আই২ইউ২ (I2U2) গোষ্ঠীর মাধ্যমে। যদিও আনুষ্ঠানিক নিরাপত্তা চুক্তি ছিল না। প্রসঙ্গত, “হেক্সাগন” শব্দ ব্যবহার করে নেতানিয়াহু একটি কাঠামোবদ্ধ স্থাপত্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে গ্রিস, সাইপ্রাস, এশিয়া এবং আফ্রিকার আরও কিছু দেশ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এক্ষেত্রে ভারতকে (Benjamin Netanyahu) কল্পনা করা হয়েছে প্রধান অংশীদার হিসেবে (PM Modi)।

     

  • Lashkar-e-Taiba Attack: ২৬/১১-র ধাঁচে সামুদ্রিক পথে জঙ্গি হামলার হুমকি লস্করের! পশ্চিম উপকূলে বাড়ল নজরদারি

    Lashkar-e-Taiba Attack: ২৬/১১-র ধাঁচে সামুদ্রিক পথে জঙ্গি হামলার হুমকি লস্করের! পশ্চিম উপকূলে বাড়ল নজরদারি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আবারও জঙ্গি হামলা চালানো হবে! যে ঘটনা মনে করাবে ২৬/১১-এর ভয়ঙ্কর স্মৃতি। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা-র (Lashkar-e-Taiba) ডেপুটি চিফ সইফুল্লাহ কাসুরির একটি বিতর্কিত ভিডিও বার্তা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে নিরাপত্তা মহলে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ভিডিওতে তিনি ভারতের বিরুদ্ধে ২৬/১১-র ধাঁচে (Lashkar-e-Taiba Attack) সামুদ্রিক পথে বড়সড় জঙ্গি হামলার হুমকি দিয়েছে। ২০০৮ সালের সেই হামলায় জঙ্গিরা আরব সাগর পেরিয়ে মুম্বইয়ে ঢুকে একাধিক স্থানে নৃশংস আক্রমণ চালিয়েছিল। ফলে এবারও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

    ভারতের বিরুদ্ধে “জল সন্ত্রাস”

    ভিডিও বার্তায় কাসুরি দাবি করেছে, ২০২৫ সালে পাকিস্তান “আকাশে আধিপত্য” দেখিয়েছে এবং ২০২৬ সালে তারা “সমুদ্রে আধিপত্য” প্রতিষ্ঠা করবে। তার কথায়, স্থল, জল ও আকাশ— কোনও ক্ষেত্রেই ভারতের জন্য নিরাপদ স্থান থাকবে না। কাসুরি ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি দেয় এবং সাম্প্রতিক ভারতীয় সামরিক অভিযানের সমালোচনা করে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পাহেলগাঁওে সংঘটিত জঙ্গি হামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবেও কাসুরির নাম উঠে এসেছে। ওই ঘটনার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে পাল্টা সামরিক অভিযান চালায়, যেখানে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা করা হয়। ভিডিওতে কাসুরি মুরিদকে ও বহাওয়ালপুরে ভারতের জঙ্গি ঘাঁটি উড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কাসুরি। এই দুই স্থানকে দীর্ঘদিন ধরেই লস্কর-ই-তৈবার কার্যকলাপের কেন্দ্র বলে মনে করা হয়। তিনি ভারতের বিরুদ্ধে “জল সন্ত্রাস”-এর অভিযোগ তোলে এবং কাশ্মীরে চাপ বাড়ালে অন্যত্র অশান্তি ছড়ানোর হুমকিও দেয় লস্করের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। এমনকী,  ভারতীয় ধর্মীয় স্থানগুলিও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন— যা নিয়ে নিরাপত্তা মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

    পশ্চিম উপকূলে কড়া নজরদারি

    প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে পাক সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় রক্তাক্ত হয়েছিল বাণিজ্যনগরী। মুম্বইয়ের তাজ হোটেলের পাশাপাশি ছত্রপতি শিবাজি টার্মিনাস, ওবেরয় ট্রাইডেন্টের মতো আটটি জায়গায় হামলা চালায় আজমল কসাব ও তার দলবল। ২০২ সালের ২১ নভেম্বর কসাবের ফাঁসি হয়। এই হামলার অন্যতম চক্রী ডেভিড কোলম্যান হেডলি আমেরিকায় ৩৫ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছে। এই হামলায় নিহত হন ১৬৪ জন মানুষ। আহত হন তিনশো’রও বেশি। জানা গিয়েছিল, করাচি থেকে সমুদ্র পার করে মুম্বই এসে হামলা চালায় ১০ পাক জঙ্গি। হামলার পিছনে লস্কর-ই-তৈবার (Lashkar-e-Taiba Attack) যোগ ছিল। ভারত বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে পাকিস্তানের কিছু গোয়েন্দা সংস্থা জঙ্গি সংগঠনগুলিকে মদত দেয়। যদিও পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে। কাসুরির বক্তব্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। সম্ভাব্য সামুদ্রিক হুমকির প্রেক্ষিতে ভারতের পশ্চিম উপকূলে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। উপকূলরক্ষী বাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা অতীতের অনুপ্রবেশ রুটগুলিতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। যদিও গোয়েন্দাদের মতে, এই হুমকির কিছু অংশ প্রচারমূলকও হতে পারে, তবু কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় প্রশাসন।

  • PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    PM Modi Israel Visit: ভারতকে আয়রন ডোম প্রযুক্তি দিতে প্রস্তুত, মোদির সফরের মুখে ইজরায়েলের প্রস্তাব ঘিরে আলোড়ন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইজরায়েল সফরের আগেই বড় কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা বার্তা দিল তেল আভিভ। ইজরায়েল ঘোষণা করেছে, তারা ভারতের কাছে তাদের ‘আয়রন ডোম’ (Iron Dome) আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রযুক্তি হস্তান্তরে প্রস্তুত। এই পদক্ষেপকে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    ভারত-ইজরায়েল দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

    বুধবার ২ দিনের সফরে ইজরায়েলে পৌঁছচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর একাধিক বিষয়ে কৌশলগত যৌথ অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতকে সঙ্গে নিয়ে সমমনস্ক ৬ দেশীয় ‘অক্ষ’ তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইজরায়েল। এর পাশাপাশি, নয়াদিল্লির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তি বিনিময় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বদ্ধপরিকর মোদি সরকার। আর এর জন্য ইজরায়েলি প্রযুক্তিই প্রথম পছন্দ নয়াদিল্লির সামরিক কর্তাদের। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রয়েছে কেন্দ্রের বর্তমান শাসকেরও। তাই মোদির এই সফরে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা সবচেয়ে গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল। তার আগে তেল আভিভের ‘আয়রন ডোম’-এর প্রস্তাব অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

    ভারতকে কেন ‘আয়রন ডোম’ প্রস্তাব ইজরায়েলের?

    ইজরায়েলের কনসাল জেনারেল ইয়ানিভ রেভাচ জানান, ভারত–ইজরায়েল প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে ভারতে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, এটি শুধুমাত্র অস্ত্র কেনাবেচার চুক্তি নয়, বরং প্রযুক্তি বিনিময়, উদ্ভাবন ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার পরিকল্পনা। ইজরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, উভয় দেশই সন্ত্রাসবাদ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকির মতো একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাই, আয়রন ডোম প্রযুক্তি ভাগাভাগির ফলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং একই সঙ্গে দেশীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন ক্ষেত্রেও গতি আসবে। এই সহযোগিতার ফলে ভারত ও ইজরায়েলের বেসরকারি প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর মধ্যে বিনিয়োগ ও যৌথ প্রকল্পের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং ভারতের স্বনির্ভর প্রতিরক্ষা উৎপাদন উদ্যোগ আরও শক্তিশালী হবে।

    ‘গোল্ডেন হরাইজন’ ক্ষেপণাস্ত্রও দিতে ইচ্ছুক ইজরায়েল

    এর আগে, ইজরায়েল ভারতকে ‘গোল্ডেন হরাইজন’ (Golden Horizon) নামে একটি শক্তিশালী কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রস্তাব দেয় বলে জানা যায়। এটি হল যুদ্ধবিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্যালিস্টিক মিসাইল। (বলে রাখা ভাল, ভারত এখনও এই প্রযুক্তি করায়ত্ত করতে পারেনি।) এই ক্ষেপণাস্ত্র ভূগর্ভস্থ বাঙ্কার, সুরক্ষিত সামরিক স্থাপনা এমনকি পারমাণবিক কাঠামোও ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রতিরক্ষা সূত্র জানায়, এর পাল্লা প্রায় ১,০০০ থেকে ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি ম্যাক ৫ (শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ দ্রুত) গতিতে উড়তে পারে। এই গতি বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। তুলনামূলকভাবে ভারতের মধ্যমণি বিমান থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ম্যাক ৩। গোল্ডেন হরাইজন চুক্তি চূড়ান্ত হলে এটি ভারতীয় বায়ুসেনার সুখোই-৩০ এমকেআই বহরে যুক্ত হতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের দূরপাল্লার হাইপারসনিক অস্ত্র দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

    ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পে ইজরায়েলি প্রযুক্তি

    ২০৩৫ সালের মধ্যে একটি নিজস্ব বহুস্তরীয় বিমান প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছে ভারত, যার নাম ‘সুদর্শন চক্র’। এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা থেকে সুরক্ষা দেওয়া। এই প্রকল্পে আয়রন ডোম, অ্যারো (Arrow) ও ডেভিড’স স্লিং (David’s Sling)–এর মতো ব্যবস্থার সমমানের ইজরায়েলি প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বারাক-৮ এমআর-এসএএম/এলআর-এসএএম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), উন্নত সেন্সর নেটওয়ার্ক ও সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে যুক্ত করে একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা বলয় গড়ে তোলা হবে।

    নতুন অস্ত্র ও প্রযুক্তি কেনার পরিকল্পনা

    প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ইজরায়েল থেকে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে ভারত  এর মধ্যে রয়েছে—

    স্পাইস-১০০০ (SPICE-1000) প্রিসিশন গাইডেড বোমা:

    • ● জিপিএস ও ইলেকট্রো-অপটিক্যাল গাইডেন্স প্রযুক্তি ব্যবহার করে দূর থেকে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। খারাপ আবহাওয়া বা জিপিএস জ্যামিং অবস্থাতেও কার্যকর।

    র‌্যামপেজ (Rampage) এয়ার-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● দীর্ঘ-পাল্লার সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা সুখোই-৩০ এমকেআই, মিগ-২৯, জাগুয়ার ও নৌবাহিনীর মিগ-২৯কে থেকে উৎক্ষেপণ করা যাবে। এটি তৈরি করেছে এলবিট সিস্টেম ও ইজরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ।

    এয়ার লোরা (Air LORA) ক্ষেপণাস্ত্র:

    • ● এয়ার-লঞ্চড ব্যালিস্টিক বা কোয়াজি-ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত শত কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে এবং উৎক্ষেপণকারী যুদ্ধবিমানকে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্লা থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখে।

    আইস ব্রেকার (Ice Breaker) মিসাইল সিস্টেম:

    • ● স্টেলথ বৈশিষ্ট্যযুক্ত দূরপাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা স্থল ও সমুদ্রের উচ্চ-মূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে নিরাপদ দূরত্ব থেকে আঘাত হানতে সক্ষম। এটির নকশা অত্যন্ত স্টেলথি বা প্রায় অদৃশ্য এবং এটি মাটির কাছ দিয়ে ওড়ে, ফলে রেডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে চলতে সক্ষম।

    আয়রন বিম (Iron Beam) লেজার অস্ত্র ব্যবস্থা:

    • ● ১০০ কিলোওয়াট ক্ষমতার হাই-এনার্জি লেজার অস্ত্র, যা স্বল্প-পাল্লার রকেট, মর্টার ও ড্রোন ধ্বংসে ব্যবহৃত হবে। এটি আয়রন ডোমের পরিপূরক হিসেবে তৈরি এবং প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় অনেক কম খরচে প্রতিরোধ সম্ভব করে। উল্লেখযোগ্য যে, ভারতের ডিআরডিও ইতিমধ্যেই মর্ক-২এ প্রকল্পের আওতায় ৩০ কিলোওয়াট ক্ষমতার ডিরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চূড়ান্ত হলে ভারত–ইজরায়েল সামরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে ভারতের অবস্থান নতুনভাবে শক্তিশালী হবে।

  • Bomb Scare in Courts: এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক! কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে টার্গেট করা হল?

    Bomb Scare in Courts: এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক! কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে টার্গেট করা হল?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কলকাতা-সহ রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে মঙ্গলবার একযোগে বোমাতঙ্কের (Bomb Scare in Courts) ইমেল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এর জেরে বেশ কিছুক্ষণের জন্য ব্যাহত হয় বিচারপ্রক্রিয়া। আতঙ্কে আদালত চত্বর থেকে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের সরাতে গিয়ে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়ায় কলকাতার সিটি সিভিল কোর্টে। আদালত সূত্রে খবর, প্রধান বিচারকের ইমেলে বোমা রাখার দাবি করা হয়। খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ বম্ব স্কোয়াড ও ডগ স্কোয়াড নিয়ে পৌঁছে যায় পুলিশ। পুরো ভবন খালি করে চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।

    এসআইআর-এর কাজ শুরু হতেই বোমাতঙ্ক

    শুধু কলকাতা নয়। আসানসোল, বহরমপুর, চুঁচুড়া, দুর্গাপুরে জেলা আদালতেও বোমাতঙ্ক ছড়ায়। সূত্রের খবর মেল ও ফোনে বোমা থাকার হুঁশিয়ারি এসেছে৷ কোনও একটা জায়গাতে নয়, একাধিক জেলা আদালতে প্রায় একই প্যাটার্নে বোম থাকার হুশিয়ারি দিয়েছে কেউ বা কারা! কিন্তু কেন? কেন রাজ্যের আদালতগুলিকে হঠাৎ টার্গেট করা হচ্ছে? কেনই বা রাজ্যের একাধিক জেলা আদালতে বোম থাকার খবর কেউ বা কারা ছড়িয়ে দিচ্ছে? সম্প্রতি এসআইআর নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ কলকাতা হাইকোর্টের নজরদারিতে হবে এসআইআর প্রক্রিয়া। এসআইআর-এ সমস্ত রকমের অসঙ্গতি দেখার জন্য জুডিসিয়াল অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিল আদালত৷ জেলা স্তরের জাজদের জুডিসিয়াল অফিসার হিসেবে নিয়োগের কথা বলে আদালত। আবার এই জুডিসিয়াল অফিসারদের পরামর্শ দেবেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিরা। এসআইআর-এর কাজে গতি এনে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ‍্যে তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সম্পূর্ণ তালিকা প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলে বাকিটা পরে অতিরিক্ত তালিকা হিসেবে প্রকাশ করা যাবে বলেও জানিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের পরই সোমবার কাজে নেমে পড়েছেন অনেক জাজ। তারপরই জেলায় জেলায় আদালতে এই বোমাতঙ্ক কি নেহাত কাকতালীয় নাকি কোনও ষড়যন্ত্র? উঠছে সেই প্রশ্নও।

    বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই লক্ষ্য

    এদিকে, বিচারকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর বলে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জানিয়েছন। নবান্নে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, কলকাতা, কৃষ্ণনগর, বহরমপুর-সহ একাধিক আদালতে বোমা রাখার হুমকি ইমেল এসেছে। সাধারণ মানুষ ও বিচারকরা সমস্যায় পড়েছেন ঠিকই, তবে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপস করা হবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে জানান, প্রশাসন সব পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার বলেন, ব্যাঙ্কশাল ও সিটি সিভিল কোর্টে হুমকি ইমেল এসেছিল। দু’টিই ভুয়ো বলে প্রমাণিত হয়েছে। তবে কে বা কারা আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    Loneliness in Children: সন্তানের সামাজিক আচরণে চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব! কী প্রভাব পড়ছে শিশুমনে?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    একরত্তি ছানা! বাবা-মায়ের সঙ্গ পায়নি। অন্যদের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারে না। সময় মতো খাবার পেলেও, সে ভালো নেই। পুষ্টিকর খাবার শরীরের চাহিদা মেটালেও, মনের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। সুস্থ রাখতে তাকে দেওয়া হল একখানা পুতুল! আর তাতেই বাজিমাত! সর্বক্ষণের সঙ্গী হয়ে উঠল সেই পুতুল! ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে একরত্তি! মিশতে শেখে। মানিয়ে নিতেও শেখে! জাপানের চিড়িয়াখানার সেই একরত্তি ম্যাকাকের (এক প্রজাতির বাঁদর) একাকিত্ব আর সেরে ওঠার ঘটনায় উত্তাল বিশ্ব। তবে তার এই একাকিত্বের সমস্যা কেবল পশুজগতের সমস্যা নয়। মানব শিশুর জীবনেও একাকিত্বের সমস্যা (Loneliness in Children) প্রবল ভাবে বাড়ছে‌।‌ সামাজিক আচরণে (Social Isolation) যার প্রভাব গভীর ভাবে পড়ছে! এমনটাই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণ (Child Mental Health) সংযত ও স্বাভাবিক রাখার পথে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে এই একাকিত্ব!

    শিশুর আচরণে কেন সমস্যা হয়ে উঠছে একাকিত্ব?

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুর আচরণে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে একাকিত্ব। তাঁরা জানাচ্ছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অধিকাংশ পরিবার ছোটো। বাবা-মা দুজনেই কাজে ব্যস্ত থাকেন। দিনের অধিকাংশ সময় তাদের অফিসেই কাটে। পরিবারের একরত্তির সঙ্গে নির্ভেজাল সময় কাটানোর সুযোগ খুব কম। অধিকাংশ শহুরে পরিবারে শিশু পরিবারের সদস্যদের বিশেষ কাছে পায় না। যার ফলে তাদের মধ্যে এক ধরনের একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে। মনরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, একাকিত্ব শিশুকে আত্মবিশ্বাসহীন করে তোলে। পরিবারের যথেষ্ট সময় না পেলে শিশু হীনমন্যতায় ভোগে। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয়‌। তাই সে সমাজের অন্যান্যদের সঙ্গেও মিশতে পারে না।

    পরিবারই পৃথিবী, একাকিত্ব শিশুমনে তৈরি করে মানসিক অবসাদ

    একাকিত্ব একধরনের মানসিক অবসাদ তৈরি করে। শিশুর কাছে প্রাথমিক পর্বে, তার পরিবার তার পৃথিবী। পরিবারের কাছে পর্যাপ্ত যত্ন ও সময় না পেলে, তার মধ্যে অবসাদ তৈরি হবে। যার ফলে সে কোনও কাজ সময় মতো করতে চাইবে না। তার মধ্যে অনীহা তৈরি হবে। স্কুল যাওয়া ও পড়াশোনার প্রতিও অনাগ্রহ বাড়বে। এমনকি বন্ধু তৈরি করার ইচ্ছেও থাকবে না। যা একাকিত্বের সমস্যাকে আরও জটিল করবে। শিশুর একাকিত্ব একদিকে তার সামাজিক যোগাযোগ তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে (Social Isolation)। আবার শিশুকে জেদি করে তোলে। এমন মানসিক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে সে কোনোভাবেই অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর ইচ্ছে হারিয়ে ফেলে। এর ফলে নিজের মতো থাকে। যেকোনও কাজ বললেই একধরনের অনীহা তৈরি হয়‌। জেদ তৈরি হয়।

    সন্তানের একাকিত্ব কাটিয়ে আচরণ ‘স্বাভাবিক’ রাখতে কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ মহল?

    মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছেন, সন্তানের একাকিত্ব কাটাতে এবং সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক রাখতে দিনের অন্তত ২০ মিনিট সময় বরাদ্দ করতেই হবে। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের সঙ্গে প্রতি দিন অন্তত ২০ মিনিট গল্প করতে হবে। সন্তানের বয়স অনুযায়ী সেই গল্প হবে। পাঁচ থেকে সাত বছরের শিশুর সঙ্গে বসে গল্পের বই পড়া, সারা দিন তার কেমন কাটলো সেই সম্পর্কে গল্প করা জরুরি। আবার বয়ঃসন্ধিকালে থাকা সন্তানের সঙ্গেও তার কেমন সময় কাটছে সে নিয়ে গল্প করা, বা তার পছন্দের গান শোনা, তার পছন্দের যে কোনও বিষয় নিয়ে গল্প করা জরুরি। এতে সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে। একাকিত্ব গ্রাস করে না। তার মনের অবস্থা (Child Mental Health) সম্পর্কেও অভিভাবক বুঝতে পারে।

    অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে পড়ছে বাড়তি চাপ

    আধুনিক ব্যস্ত জীবনে সন্তানকে অনেকটা সময় দেওয়া কঠিন। কিন্তু তার বিকল্প কখনই স্ক্রিন টাইম নয়। এমনটাই মত মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, ছোটো থেকেই অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের ফলে মস্তিষ্কে বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। খিটখিটে মেজাজ হচ্ছে। তাই স্ক্রিন টাইম নয়। বরং খেলাধুলা সঙ্গে যাতে সন্তান যুক্ত হয় সেদিকে নজর দেওয়া জরুরি। তাঁদের পরামর্শ, সন্তানের বয়স পাঁচ বছর হলেই যেকোনও ধরনের খেলার সঙ্গে যুক্ত করা জরুরি। এতে শারীরিক বিকাশের পাশপাশি মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত হয়। একাকিত্ব (Loneliness in Children) গ্রাস করে না। মেলামেশার অভ্যাস তৈরি হয়। বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। জেদ, একঘেয়েমি দূর হয়।

    সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য গঠনে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি

    শিশুর গ্রুপ অ্যাক্টিভিটি জরুরি বলেই মত শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের। তাঁরা জানাচ্ছেন, একসঙ্গে অনেকে মিলে নাচ, গান বা নাটক করা। কিংবা যে কোনও ধরনের খেলাধুলা করলে শিশুর সামাজিক আচরণ স্বাভাবিক ও সংযত হয়। নানান জটিলতা এড়ানো সম্ভব হয়। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ, সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্য (Child Mental Health) ভালো রাখতে বাবা-মায়ের সজাগ থাকা জরুরি। শিশুর সুস্থ মানসিক গঠনের জন্য তাকে পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। তার কথা শুনতে হবে। তাহলেই অনেক সমস্যা কমবে।

     

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

LinkedIn
Share