Blog

  • Hydrogen Powered Train: রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, পথ চলা শুরু করছে ভারতের প্রথম ১০ কামরার হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন

    Hydrogen Powered Train: রেলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়, পথ চলা শুরু করছে ভারতের প্রথম ১০ কামরার হাইড্রোজেন-চালিত ট্রেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী এবং টেকসই করে তোলার লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতীয় রেল (Indian Railway)। হরিয়ানার জিন্দ-সোনিপত শাখায় পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলকভাবে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ফুয়েল (Hydrogen Powered Train) সেল-ভিত্তিক ১০ কামরার ট্রেনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ১,২০০ কিলোওয়াটের হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রপালশন সিস্টেম দ্বারা চালিত এই অত্যাধুনিক ট্রেনটি দ্রুত যাত্রী পরিষেবা শুরু করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার নির্ধারিত হয়েছে।

    শক্তি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব (Hydrogen Powered Train)

    এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ভারত জার্মানি, জাপান, চীন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলির এলিট ক্লাবে প্রবেশ করল, যারা পরিচ্ছন্ন ও সবুজ রেল পরিবহণের জন্য হাইড্রোজেনের ব্যবহার শুরু করেছে। ভারতীয় রেলের (Indian Railway) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই প্রকল্পটি উদ্ভাবন, শক্তি দক্ষতা এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহণের প্রতি ভারতীয় রেলের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি ভারতের জাতীয় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নীতি এবং ‘নেট-জিরো’ বা কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্যকে জোরালো সমর্থন জোগাবে।”

    কীভাবে কাজ করবে এই ট্রেন?

    ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই তার নেটওয়ার্কের প্রায় ১০০ শতাংশ অংশই বৈদ্যুতিকীকরণের আওতায় নিয়ে এসেছে, যা কার্বন নির্গমন বহুলাংশে হ্রাস করেছে। তবে হাইড্রোজেন ট্রেনের (Hydrogen Powered Train) ক্ষেত্রে রেল আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে। এই ট্রেনগুলি বাইরে থেকে বিদ্যুৎ না নিয়ে নিজস্ব প্রযুক্তিতে ট্রেনের ভেতরেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে হাইড্রোজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ তৈরি হয় এবং এর ফলে উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ফলে প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত। জিন্দ-সোনিপত রুটের জন্য জিন্দে একটি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তির হাইড্রোজেন স্টোরেজ এবং রিফুয়েলিং বা জ্বালানি ভরার কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা ‘পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস সেফটি অর্গানাইজেশন’ (PESO)-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রও পেয়েছে। প্রথম দিকে ট্রেনটির সুষ্ঠু পরিচালনা নিশ্চিত করতে প্রশিক্ষিত কারিগরি কর্মীরা ট্রেনের (Indian Railway) ভেতরে উপস্থিত থাকবেন।

    কঠোর নিরাপত্তা প্রোটোকল

    যেহেতু বিশ্বজুড়ে এই প্রযুক্তি এখনও প্রাথমিক স্তরে রয়েছে, তাই এর পরিচালনায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভারতীয় রেলের (Indian Railway) নির্দেশিকা অনুযায়ী যা যা জানা গিয়েছে তা হল–

    • ● হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং সিস্টেমের (Hydrogen Powered Train) চব্বিশ ঘণ্টা (২৪x৭) সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করা হবে।
    • ● অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলির জন্য শুধুমাত্র প্রত্যয়িত এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মীদের মোতায়েন করা হবে।
    • ● হাইড্রোজেন উৎপাদন, সঞ্চয়স্থান এবং ফিলিং সেন্টারে উন্নত প্রযুক্তির ‘হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর’ এবং ‘ফ্লেম ডিটেক্টর’ (আগুন সনাক্তকারী যন্ত্র)-এর মতো সেন্সর বসানো হয়েছে।
    • ● ধুলোকণা জমে যাতে কোনও বিপদ না ঘটে, তার জন্য নিয়মিত পরিদর্শন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কড়া নিয়ম অনুসরণ করা হবে।

    হাইড্রোজেনের ব্যবহার বাড়ছে সড়ক পরিবহণেও

    পরিবহণ ক্ষেত্রে হাইড্রোজেনের (Hydrogen Powered Train) ব্যবহার বাড়াতে ভারত সরকার প্রতিনিয়ত তৎপরতা দেখাচ্ছে। সম্প্রতি সড়ক পরিবহণের ক্ষেত্রেও বড় সাফল্য এসেছে। চলতি মাসের শুরুর দিকেই দিল্লির সেন্ট্রাল ভিস্তা এলাকায় দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশন (DMRC) দেশের প্রথম হাইড্রোজেন-চালিত শাটল বাস পরিষেবা চালু করেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন লিমিটেড (IOCL)-এর দেওয়া এই বাসগুলিতে ৩৫ জন যাত্রীর বসার আসন রয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিংয়ের জন্য বাসগুলিতে জিপিএস ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। পরিবেশবিদদের মতে, ভারতীয় রেলের (Indian Railway) এই সবুজ উদ্যোগ আগামী দিনে ভারতের সার্বিক পরিবহণ ব্যবস্থার ভোল বদলে দিতে পারে।

  • India Post: ডিজিটাল রূপান্তর ও লজিস্টিকস বিপ্লব! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড আয় ডাক বিভাগের

    India Post: ডিজিটাল রূপান্তর ও লজিস্টিকস বিপ্লব! ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড আয় ডাক বিভাগের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঐতিহাসিক সাফল্যের দোরগোড়ায় ভারতের প্রাচীনতম যোগাযোগ মাধ্যম। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এবং বাণিজ্যিক কৌশলের আমূল পরিবর্তনের হাত ধরে আর্থিক দিক থেকে এক অভূতপূর্ব ঘুরে দাঁড়ানোর (Turnaround) নজির গড়ল ‘ইন্ডিয়া পোস্ট’ বা ভারতীয় ডাক বিভাগ। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে (FY26) ডাক বিভাগ (India Post) মোট ১৫,৩৭৩ কোটি টাকার রেকর্ড রাজস্ব (15373 Crore Revenue) অর্জন করেছে, যা সংস্থার ১৭০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ আর্থিক পারফরম্যান্স হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

    ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার (India Post)

    সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী ড. চন্দ্রশেখর পেম্মাসানি এবং কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া ডাক বিভাগের এই সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরেন। ড. পেম্মাসানি বলেন, “বিগত অর্থবর্ষের তুলনায় এই এক বছরেই রাজস্ব বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ২,১০০ কোটি টাকা (15373 Crore Revenue)।” যেখানে ঐতিহাসিকভাবে ডাক বিভাগের (India Post) বার্ষিক বৃদ্ধির গড় হার ছিল মাত্র ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা, সেখানে এক বছরে এই বিপুল লাভ একপ্রকার অবিশ্বাস্য এবং নজিরবিহীন। ২০১৬ সালে যেখানে ইন্ডিয়া পোস্টের রাজস্ব ছিল মাত্র ১১,৫০০ কোটি টাকা, সেখান থেকে আজ তা ১৫ হাজার কোটি টাকার গণ্ডি পার করে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

    সাফল্যের চাবিকাঠি: ডিজিটাল সংস্কার ও ‘আইটি ২.০’

    ডাক বিভাগের (India Post) এই ঐতিহাসিক রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছে দ্বিমুখী কৌশল। একদিকে যেমন ওপর তলা থেকে লক্ষ্যমাত্রা (Target) নির্ধারণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনই গ্রামীণ ডাক সেবকদের কাজের পরিধি ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বলেন, “পরিকাঠামোগত সংস্কার এবং কাজের গতি বাড়াতে সরকার ৫,৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে ‘অ্যাডভান্সড পোস্টাল টেকনোলজি’ (APT) তথা ‘আইটি ২.০’ (IT 2.0) প্রকল্প চালু করেছে।”

    এই আধুনিকীকরণের মূল লক্ষ্য হল সম্পূর্ণ কাগজবিহীন এবং ডিজিটাল ডাক ও আর্থিক পরিষেবা নিশ্চিত করা। গ্রাহকেরা এখন ঘরে বসেই এক ক্লিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্প ও জীবনবিমা (যেমন PLI এবং RPLI) কিনতে পারছেন, ডিজিটাল সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারছেন এবং পলিসির মেয়াদ শেষের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পেয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষকে আর বারবার পোস্ট অফিসে ছুটতে হচ্ছে না। পাশাপাশি, পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্টে দেওয়া ৪ শতাংশ সুদ বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির তুলনায় আকর্ষণীয় হওয়ায় গ্রাহকদের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা অনেক বেড়েছে।

    ই-কমার্স অংশীদারিত্ব ও লজিস্টিকস ক্ষেত্রে ৭০% বৃদ্ধি

    ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে ইন্ডিয়া পোস্ট (India Post) এখন শুধু চিঠি বিলির মাধ্যম নয়, বরং দেশের অন্যতম বড় লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বিগত অর্থবর্ষে পার্সেল এবং লজিস্টিকস বিভাগে রেকর্ড ৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেজিস্টার করা হয়েছে। অ্যামাজন, ফ্লিপকার্টের মতো বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিজনেস-টু-বিজনেস (B2B) ডেলিভারি শুরু করেছে ভারতীয় ডাক।

    গ্রাহকদের আধুনিক পরিষেবা দিতে ওটিপি-ভিত্তিক (OTP) ডেলিভারি, রিয়েল-টাইম এসএমএস ট্র্যাকিং এবং ইউপিআই (UPI) পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। মেট্রো শহরগুলিতে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘স্পিড পোস্ট’ পৌঁছে দেওয়ার পরিষেবা চালু হয়েছে। মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, আগে যেখানে পার্সেল পরিষেবা থেকে মাত্র ৬০০ কোটি টাকা আয় হতো, তা আগামী দিনে ১০,০০০ কোটি টাকায় (15373 Crore Revenue) পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে ২১৪টি পোস্ট অফিসে ২৪ ঘণ্টা এবং প্রায় ৪,০০০ পোস্ট অফিসে কাজের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।

    সামাজিক কল্যাণ ও গ্রামীণ ভারতের উন্নয়ন

    কেবল ব্যবসাই নয়, সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রেও ইন্ডিয়া পোস্ট (India Post) বড় ভূমিকা পালন করছে। ‘ইন্ডিয়া পোস্ট পেমেন্টস ব্যাঙ্ক’ (IPPB)-এর মাধ্যমে প্রতি বছর প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকার সরকারি অনুদান সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে (Direct Benefit Transfer – DBT) পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা’র আওতায় এ যাবৎ ৩.৮ কোটি কন্যাসন্তানের অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব হয়েছে। প্রায় ২.৫ লক্ষ গ্রামীণ ডাক সেবকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং প্রান্তিক নারীদের আর্থিক ব্যবস্থার মূল স্রোতে শামিল করা হচ্ছে।

    বর্তমানে দেশে ডাকঘরের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৬৪,৯৯৯টি, যার বড় অংশই উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং গ্রামীণ এলাকায় বিস্তৃত। পাশাপাশি, কর্মীদের ব্যবহারিক পরিবর্তন ও গ্রাহক পরিষেবা উন্নত করতে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে। এই সামগ্রিক আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল বিপ্লবের ফলেই লোকসানি (15373 Crore Revenue) তকমা ঘুচিয়ে লাভের মুখ দেখছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভারতের সমস্ত পোস্ট অফিসকে ‘প্রফিট সেন্টারে’ রূপান্তরিত করার লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।

  • Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    Samik Bhattacharya: ফের সিঙ্গুরে টাটা? শিল্পের হারানো অধ্যায় ফিরিয়ে আনতে বড় বার্তা শমীক ভট্টাচার্যের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রায় দুই দশক আগে সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প সরে যাওয়ার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই ঘটনার জেরে রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে দেশ-বিদেশে যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা বদলাতে এবার সিঙ্গুরে ফের টাটা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনার ইচ্ছাপ্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শুক্রবার এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শমীক বলেন, টাটা গোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের ফিরে আসা হবে না, বরং তা পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “আমরা চাই টাটারা আবার সিঙ্গুরে ফিরুক। এর মাধ্যমে দেশ ও বিশ্বের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে যে পশ্চিমবঙ্গ বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত এবং এখানে শিল্প স্থাপনের অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।”

    ন্যানো প্রকল্পের প্রস্থান ও তার প্রভাব

    ২০০৮ সালে সিঙ্গুরে টাটা মোটরসের ন্যানো প্রকল্প ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সংঘাত তৈরি হয়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের জেরে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গ ছেড়ে গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহকে দেশের শিল্পমহলের একাংশ পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-বিরোধী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখেছিল। শমীক ভট্টাচার্যের দাবি, ন্যানো প্রকল্প চলে যাওয়ার পর রাজ্য সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, সিঙ্গুরে টাটা প্রকল্পের সমাপ্তি শুধু একটি শিল্প উদ্যোগের অবসান ছিল না, বরং তা বাংলার শিল্পোন্নয়নের পথেও বড় ধাক্কা দিয়েছিল। তিনি বলেন, “টাটার প্রস্থান রাজ্যের বিনিয়োগ পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করেছে। অনেক কর্পোরেট সংস্থার মধ্যে এই ধারণা তৈরি হয়েছিল যে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নেই।”

    শিল্পায়নের পথে নতুন বার্তা

    বিজেপির রাজ্য সভাপতির মতে, টাটা গোষ্ঠী অটোমোবাইল শিল্পে ফিরুক বা অন্য কোনও ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করুক, মূল লক্ষ্য হল বাংলায় বৃহৎ শিল্পের পুনরুজ্জীবন। তিনি মনে করেন, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বস্ত শিল্পগোষ্ঠীর বিনিয়োগ নতুন করে শিল্পপতিদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। শমীকের বক্তব্য, “টাটাদের প্রত্যাবর্তন শুধু একটি সংস্থার ফিরে আসা নয়। এটি হবে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প-সম্ভাবনার উপর নতুন করে আস্থা স্থাপনের প্রতীক। দেশ ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে এর একটি শক্তিশালী বার্তা যাবে।” তাঁর দাবি, ন্যানো প্রকল্পের পরবর্তী সময়ে রাজ্যে কাটমানি সংস্কৃতি, সিন্ডিকেট রাজ এবং প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ শিল্প পরিবেশকে আরও জটিল করে তুলেছিল। ফলে বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে শিল্পের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন জরুরি বলে মনে করছে বিজেপি।

    সিঙ্গুরে বড় ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ার পরিকল্পনা

    শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সিঙ্গুরে কৃষকরা জমি ফিরে পেলেও সেই জমি আর আগের মতো কৃষিকাজের উপযোগী নেই, কারণ দীর্ঘদিনে তার চরিত্র বদলে গিয়েছে। তিনি জানান, ভবিষ্যতে ওই এলাকায় একটি শিল্পকেন্দ্র বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর দাবি, সেখানে ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের পাশে সরকার থাকবে। সিঙ্গুরকে শিল্পোন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য, যাতে পশ্চিমবঙ্গে আবারও ভারী শিল্পের বিকাশ ঘটানো যায়।

    সিঙ্গুরের রাজনৈতিক ও প্রতীকী গুরুত্ব

    সিঙ্গুর শুধুমাত্র একটি শিল্প প্রকল্পের স্থান নয়, পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছিলেন এবং পরবর্তী সময়ে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম হয়েছিল। তবে বিজেপির মতে, যে সিঙ্গুর একসময় শিল্প ও জমি আন্দোলনের সংঘাতের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, সেই সিঙ্গুরকেই এখন শিল্প প্রত্যাবর্তনের প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। শমীক বলেন, “সিঙ্গুরকে শিল্পের বিদায়ের প্রতীক থেকে শিল্পের প্রত্যাবর্তনের প্রতীকে রূপান্তরিত করা গেলে তা পশ্চিমবঙ্গের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হবে।”

    জমি নীতি নিয়েও ইঙ্গিত

    শিল্পায়নের প্রসঙ্গে জমি অধিগ্রহণ নীতির প্রশ্নও উত্থাপন করেন শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, সুস্পষ্ট ও কার্যকর ভূমিনীতি ছাড়া বৃহৎ শিল্পায়ন সম্ভব নয়। পূর্ববর্তী সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিল্পপতিদের পক্ষে বাড়ি বাড়ি ঘুরে জমি সংগ্রহ করা বাস্তবসম্মত নয়।” যদিও সম্ভাব্য নতুন ভূমিনীতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনে তার ফল দৃশ্যমান হবে।

    রাজ্যের প্রাকতিক সম্পদও নজর শমীকের

    শমীক ভট্টাচার্য বলেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্প ও অর্থনৈতিক বিকাশের জন্য বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যে অশোকনগর তেলক্ষেত্র, রানাঘাটের প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার এবং ম্যাঙ্গানিজ আকরিকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি, বিষ্ণুপুর বা কালিম্পং অঞ্চলের কোথাও সোনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, পুরুলিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা রাজ্যের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার অনুরোধ করা হয়েছে। তাঁর মতে, এই খনিজ সম্পদের সুষ্ঠু নিলাম হলে পশ্চিমবঙ্গ উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের মুখ দেখতে পারে।

    বিজেপির শিল্পায়ন রূপরেখা

    বিজেপির দাবি, আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বৃহৎ বিনিয়োগ আকর্ষণ করাই তাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে সিঙ্গুরকে আবার শিল্প মানচিত্রে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। রাজ্য বিজেপির নেতৃত্বের মতে, টাটা গোষ্ঠীর মতো একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীর প্রত্যাবর্তন সম্ভব হলে তা শুধু সিঙ্গুর নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিনিয়োগ পরিবেশ সম্পর্কে নতুন বার্তা দেবে। একইসঙ্গে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের কাছেও রাজ্যকে একটি শিল্প-বান্ধব গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে সাহায্য করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকা সিঙ্গুরকে ঘিরে আবারও শিল্পায়নের নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। টাটা গোষ্ঠীর সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন আদৌ বাস্তবায়িত হয় কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই সিঙ্গুরকে পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণের প্রতীক হিসেবে সামনে আনতে শুরু করেছে।

  • Pan Masala Gutkha Risks: প্রতি বছর ১৪ লাখ মৃত্যু! সুগন্ধী পানমশলার আড়ালে ‘নতুন ফাঁদে’ যুব সমাজ, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা

    Pan Masala Gutkha Risks: প্রতি বছর ১৪ লাখ মৃত্যু! সুগন্ধী পানমশলার আড়ালে ‘নতুন ফাঁদে’ যুব সমাজ, উদ্বিগ্ন চিকিৎসকেরা

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    দেশ জুড়ে বাড়ছে বিপদ! রোগের বোঝা পাহাড় প্রমাণ! কিন্তু তারপরেও হুঁশ ফিরছে না। বরং ‘নতুন ফাঁদে’ জড়িয়ে পড়ছে তরুণ প্রজন্মের একাংশ। ফলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সতর্ক না হলে সমস্যা আরও জটিল হবে‌। ওয়ার্ল্ড নো টোবাকো ডে-তে তাই চলতি বছরের স্লোগান হল— ‘‘Unmasking The Appeal’’।

    কোন নতুন ফাঁদের কথা জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা?

    বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বিশ্ব জুড়ে তামাক প্রস্তুতকারী সংস্থারা নতুন ভাবে নিজেদের উপস্থাপন করছেন। একাধিক তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন হচ্ছে নয়া কায়দায়। এর ফলে সরাসরি সেটা তামাকজাত পণ্য মনে না হলেও, আসলে সেটা তামাকজাত দ্রব্য। যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকারক। তাঁরা জানাচ্ছেন, একাধিক তামাকজাত দ্রব্যের বর্তমানে নানান সুগন্ধী পানমশলা হিসাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। একঘেয়েমি কাটাতে খাওয়া যেতে পারে, এমন ভাবেও নানা রকম তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন চলছে। এগুলো সম্পর্কে সতর্ক করতে না পারলেই বিপদ আরও বাড়বে, বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, চলতি বছরে তাই এই দিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তামাকজাত পণ্যের এই নতুন চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন, আসলে কতখানি ক্ষতিকারক সে সম্পর্কে সর্বস্তরে সচেতন করা জরুরি। সেই সম্পর্কেই আরও বেশি কর্মসূচি নেওয়া হবে‌

    কেন এই নতুন ফাঁদ বিপদ বাড়াচ্ছে?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য সেবনের প্রবণতা মারাত্মক বেশি। একাধিক সরকারি সমীক্ষার রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ভারতের ৪৮ শতাংশ পুরুষ এবং ২১ শতাংশ মহিলা তামাক সেবন করেন। প্রতি বছর ১৪ লাখ মানুষ তামাকজাত দ্রব্যের সেবনের জন্য মারা যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে তামাকের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আরো বেশি আলোচনা এবং সচেতনতা জরুরি। কিন্তু সম্প্রতি তামাকজাত দ্রব্য নতুন ভাবে বাজারে দাপট বাড়াচ্ছে। সুগন্ধী পান মশলা হিসাবে অনেকেই এই তামাকজাত দ্রব্য কিনছেন। খাচ্ছেন। এরপরে আসক্তি তৈরি হচ্ছে। অজান্তেই অনেকেই তামাকাসক্ত হয়ে পড়ছেন। তাই এই নতুন ধরনের পণ্যের সত্যতা জানা জরুরি। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, সচেতনতা বাড়লে, তবেই এই ধরনের পান মশলা জাতীয় দ্রব্য খাওয়ার আগে মানুষ ভালোভাবে বিবেচনা করতে পারবে। তাই এই নতুন বিজ্ঞাপনের ফাঁদ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি।

    তামাকজাত দ্রব্য নিয়ে কেন উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞরা?

    • ● চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, ভারতে যেসব ক্যান্সারে মৃত্যু হার সবচেয়ে বেশি, তার মধ্যে অন্যতম হলো ফুসফুসের ক্যান্সার। প্রতি বছর কয়েক লাখ ভারতীয় ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং মারা যান। অধিকাংশ ক্যান্সার আক্রান্তের নিয়মিত তামাকজাত দ্রব্য যেমন গুটখা কিংবা সিগারেট, বিড়ির মতো তামাজাত দ্রব্য ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। এ দেশে ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ ধূমপান, তামাকজাত দ্রব্যের সেবন।
    • ● ফুসফুসের পাশপাশি ভারতে মুখ ও গলার ক্যান্সার মারাত্মক হারে বাড়ছে। ভারতীয় ক্যান্সার আক্রান্ত পুরুষদের এক তৃতীয়াংশ মুখ ও গলার ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। ব্যয়বহুল দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা করানোর পরেও সকলে পুরোপুরি স্বাভাবিক জীবন ফিরে পান না। আবার অনেকেই সময়ের আগেই জীবন হারিয়ে ফেলেন।‌ চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, মুখ ও গলার ক্যান্সারের ক্ষেত্রেও অন্যতম কারণ তামাকজাত দ্রব্য সেবন।
    • ● তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধূমপান এবং গুটখার মতো তামাকজাত দ্রব্য সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। তাই ভারতে স্ট্রোক ও হৃদরোগের সমস্যাও বাড়ছে। কম বয়সিদের মধ্যে এই ধরনের অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস বাড়ার জেরেই তিরিশের চৌকাঠ পেরনোর পরেই উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পাশপাশি স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো বিপদও বাড়ছে।
    • ● ধূমপান ফুসফুসের পাশপাশি লিভার এবং কিডনির কার্যক্ষমতাও কমিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে শরীরে একাধিক রোগ ও সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
    • ● দেশজুড়ে নিউমোনিয়ার দাপট বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধূমপান করার জেরে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে। তাই নিউমোনিয়ার মতো সংক্রামক রোগ বাড়ছে।
    • ● এছাড়া তামাকজাত আসক্তি বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গর্ভাবস্থায় নানান জটিলতা তৈরি করে।

    স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, দেশের কম বয়সি ছেলেমেয়েদের তামাক আসক্তি সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হয়ে উঠছে। যে নিজে তামাকজাত দ্রব্য সেবন করছে, তার যেমন একাধিক শারীরিক সমস্যা হতে পারে, তার আশপাশে যারা থাকছেন, তাদের জন্য তামাক বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই তামাকজাত দ্রব্য নিয়ে স্কুল স্তর থেকেই সচেতনতা জরুরি। যাতে বয়ঃসন্ধিকাল থেকেই ছেলেমেয়েরা এই সম্পর্কে সজাগ থাকতে পারে।

  • Daily Horoscope 30 May 2026: কোনও আধ্যাত্মিক কাজে যোগ দিতে হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 30 May 2026: কোনও আধ্যাত্মিক কাজে যোগ দিতে হতে পারে এই রাশির জাতকদের

    মেষ

    ১) সকালের দিকে দাম্পত্য কলহের কারণে মানসিক চাপ বাড়তে পারে।

    ২) কোনও আধ্যাত্মিক কাজে যোগ দিতে হতে পারে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) বিদেশযাত্রার জন্য আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২) অতিরিক্ত ক্রোধের জন্য হাতে আসা কাজ নষ্ট হতে পারে।

    ৩) দিনটিতে বিবাদে জড়াবেন না।

    মিথুন

    ১) অভিনেতাদের জন্য ভালো সুযোগ আসতে পারে।

    ২) প্রেমের বিষয়ে খুব ভেবেচিন্তে পা বাড়ানো উচিত।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    কর্কট

    ১) কোনও ভয় আপনাকে চিন্তায় ফেলতে পারে।

    ২) স্ত্রীর সুবাদে কোনও বিশেষ কাজের সুযোগ পাবেন।

    ৩) সবাই আপনার প্রশংসা করবে।

    সিংহ

    ১) বেকারদের নতুন কিছু করার চেষ্টা বাড়তে পারে।

    ২) মাতৃস্থানীয়া কারও সঙ্গে মতবিরোধ হতে পারে।

    ৩) ধৈর্য্য ধরতে হবে বেশি।

    কন্যা

    ১) মানসিক কষ্ট বাড়তে পারে।

    ২) কোনও ভালো জিনিস নষ্ট হওয়ার যোগ।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস করবেন না।

    তুলা

    ১) অপরকে সুখী করতে গেলে স্বার্থত্যাগ করতে হবে।

    ২) অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শে আইনি সুরক্ষা পেতে পারেন।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃশ্চিক

    ১) কোনও নামী ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয়ে লাভবান হতে পারেন।

    ২) ধর্ম বিষয়ক আলোচনায় আপনার সুনাম বৃদ্ধি পাবে।

    ৩) ধর্মস্থানে যেতে পারেন।

    ধনু

    ১) সম্মান নিয়ে চিন্তা বাড়তে পারে।

    ২) কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন নিয়ে ঝামেলা বাধতে পারে।

    ৩) সংযমী হতে হবে।

    মকর

    ১) সঞ্চয়ের ইচ্ছা খুব বাড়তে পারে।

    ২) সকলের সঙ্গে কথা খুব বুঝে বলবেন।

    ৩) আধ্যাত্মিকতায় মনোনিবেশ।

    কুম্ভ

    ১) ব্যবসায় তেমন লাভ হবে না।

    ২) অর্থক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) বন্ধুদের সাহায্য পাবেন।

    মীন

    ১) চাকরির ক্ষেত্রে দিনটি খুব ভালো।

    ২) ব্যবসায় বিশেষ লাভের শুভ যোগ দেখা যাচ্ছে।

    ৩) ভালোই কাটবে দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Ramakrishna 659: “অর্জুন অত বড় জ্ঞানী। সঙ্গে কৃষ্ণ। তবু অভিমন্যুর শোকে একেবারে অধীর! কিশোরী আসে না কেন?”

    Ramakrishna 659: “অর্জুন অত বড় জ্ঞানী। সঙ্গে কৃষ্ণ। তবু অভিমন্যুর শোকে একেবারে অধীর! কিশোরী আসে না কেন?”

    ৫৩ কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ

    ষোড়শ পরিচ্ছেদ

    ১৮৮৬, ১৭ই – ১৮ই এপ্রিল

    কাশীপুর উদ্যানে নরেন্দ্র প্রভৃতি ভক্তসঙ্গে

    শ্রীরামকৃষ্ণ (Ramakrishna) কাশীপুর বাগানে ভক্তসঙ্গে বাস করিতেছেন। শরীর খুব অসুস্থ — কিন্তু ভক্তদের মঙ্গলের জন্য সর্বদাই ব্যাকুল। আজ শনিবার, ৫ই বৈশাখ, চৈত্র শুক্লা চতুর্দশী (১৭ই এপ্রিল, ১৮৮৬)। পূর্ণিমাও পড়িয়াছে।

    কয়দিন ধরিয়া প্রায় প্রত্যহ নরেন্দ্র দক্ষিণেশ্বরে যাইতেছেন — পঞ্চবটীতে ঈশ্বরচিন্তা করেন — সাধনা করেন। আজ সন্ধ্যার সময় ফিরিলেন। সঙ্গে শ্রীযুক্ত তারক ও কালী।

    রাত আটটা হইয়াছে। জ্যোৎস্না ও দক্ষিণে হাওয়া বাগানটিকে সুন্দর করিয়াছে। ভক্তেরা অনেকে নিচের ঘরে ধ্যান করিতেছেন। নরেন্দ্র মণিকে বলিতেছেন — “এরা ছাড়াচ্ছে” (অর্থাৎ ধ্যান করিতে করিতে উপাধি বর্জন করিতেছে)।

    কিয়ৎক্ষণ পরে মণি উপরের হলঘরে ঠাকুরের কাছে বসিয়া আছেন। ঠাকুর তাঁহাকে ডাবর ও গামছা পরিষ্কার করিয়া আনিতে আজ্ঞা করিলেন (Kathamrita)। তিনি পশ্চিমের পুষ্করিণীর ঘাট হইতে চাঁদের আলোতে ওইগুলি ধুইয়া আনিলেন।

    পরদিন সকালে (১৮ই এপ্রিল, ৬ই বৈশাখ, ১২৯৩, পূর্ণিমা) ঠাকুর মণিকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। তিনি গঙ্গাস্নানের পর ঠাকুরকে দর্শন করিয়া হলঘরের ছাদে গিয়াছিলেন।

    মণির পরিবার পুত্রশোকে ক্ষিপ্তপ্রায় হইয়াছেন। ঠাকুর তাঁহাকে বাগানে আসিবার কথা ও এখানে আসিয়া প্রসাদ পাইতে বলিলেন।

    ঠাকুর (Ramakrishna) ইশারা করিয়া বলিতেছেন — “এখানে আসতে বলবে — দুদিন থাকবে; — কোলের ছেলেটিকে যেন নিয়ে আসে; — আর এখানে এসে খাবে।”

    মণি — যে আজ্ঞা। খুব ঈশ্বরে ভক্তি হয়, তাহলে বেশ হয়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ ইশারা করিয়া বলিতেছেন — “উহুঁ: — (শোক) ঠেলে দেয় (ভক্তিকে)। আর এত বড় ছেলে!

    “কৃষ্ণকিশোরের ভবনাথের মতো দুই ছেলে। দুটো আড়াইটে পাস। মারা গেল। অত বড় জ্ঞানী! — প্রথম প্রথম সামলাতে পারলে না। আমায় ভাগ্যিস ঈশ্বর দেন নি!

    “অর্জুন অত বড় জ্ঞানী। সঙ্গে কৃষ্ণ। তবু অভিমন্যুর শোকে একেবারে অধীর! কিশোরী আসে না কেন?”

    একজন ভক্ত — সে রোজ গঙ্গাস্নানে যায়।

    শ্রীরামকৃষ্ণ — এখানে আসে না কেন?

    ভক্ত — আজ্ঞে আসতে বলব।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (লাটুর প্রতি) — হরিশ আসে না কেন?

    মেয়েদের লজ্জাই ভূষণ — পূর্বকথা — মাস্টারের বাড়িতে শুভাগমন

    মাস্টারের বাটীর নয়-দশ বছরের দুইটি মেয়ে ঠাকুরের কাছে কাশীপুর বাগানে আসিয়া ‘দুর্গানাম জপ সদা’, ‘মজলো আমার মন ভ্রমরা’ ইত্যাদি গান শুনিয়াছিল। ঠাকুর যখন মাস্টারের শ্যামপুকুরের তেলিপাড়ার বাটিতে শুভাগমন করেন (৩০শে অক্টোবর, ১৮৮৪; ১৫ই কার্তিক, বৃসস্পতিবার, উত্থান একাদশীর দিন) তখন এই দুটি মেয়ে ঠাকুরকে গান শুনাইয়াছিল। ঠাকুর গান শুনিয়া অতিশয় সন্তুষ্ট হইয়াছিলেন। যখন ঠাকুরের কাছে কাশীপুর বাগানে আজ তাহারা উপরে গান গাহিতেছিল, ভক্তেরা (Kathamrita) নিচে হইতে শুনিয়াছিলেন। তাঁহারা আবার তাহাদের নিচে ডাকাইয়া গান শুনিলেন।

    শ্রীরামকৃষ্ণ (মাস্টারের প্রতি) — তোমার মেয়েদের আর গান শিখিও না। আপনা-আপনি গায় সে এক। যার তার কাছে গাইলে লজ্জা ভেঙে যাবে, লজ্জা মেয়েদের বড় দরকার।

    ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের আত্মপূজা — ভক্তদের প্রসাদ প্রদান

    ঠাকুরের (Ramakrishna) সম্মুখে পুষ্পপাত্রে ফুল-চন্দন আনিয়া দেওয়া হইয়াছে। ঠাকুর শয্যায় বসিয়া আছেন। ফুল-চন্দন দিয়া আপনাকেই পূজা করিতেছেন। সচন্দন পুষ্প কখনও মস্তকে, কখনও কণ্ঠে, কখনও হৃদয়ে, কখনও নাভিদেশে, ধারণ করিতেছেন।

    মনোমোহন কোন্নগর হইতে আসিলেন ও ঠাকুরকে প্রণাম করিয়া উপবিষ্ট হইলেন। ঠাকুর আপনাকে এখনও পূজা করিতেছেন। নিজের গলায় পুষ্পমালা দিলেন।

    কিয়ৎক্ষণ পরে যেন প্রসন্ন হইয়া মনোমোহনকে নির্মাল্য প্রদান করিলেন। মণিকে একটি চম্পক দিলেন।

  • Swachh App: যত্রতত্র থুতু বা নোংরা ফেললেই জরিমানা! আসছে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ, শনিবার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

    Swachh App: যত্রতত্র থুতু বা নোংরা ফেললেই জরিমানা! আসছে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ, শনিবার উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত করে তুলতে এক বড়সড় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য সরকার (BJP Government)। এবার থেকে প্রকাশ্য রাস্তায় যেখানে-সেখানে থুতু ফেলা, পান-মশলার পিক ফেলা কিংবা প্লাস্টিকের প্যাকেট ও ময়লা-আবর্জনা ছড়ানোর অভ্যেসে রাশ টানতে কড়া অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজ্যজুড়ে এই নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি আর্থিক জরিমানা ও আইনি পদক্ষেপ শুরু হবে। শনিবার চালু হবে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ (Swachh App) প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সময়সীমা বা ডেডলাইন ঘোষণা করলেন পুর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

    তিন মাসের সচেতনতা পর্ব ও পরিকাঠামো উন্নয়ন (Swachh App)

    রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী (BJP Government) অগ্নিমিত্রা পাল এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “নাগরিকদের সচেতন করা এবং অভ্যেস শোধরানোর সুযোগ দিতে আগামী তিন মাস অর্থাৎ আগস্ট পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়া মাত্রই ১ সেপ্টেম্বর থেকে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ এবং পুর প্রশাসন যৌথভাবে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করবে। রাজ্যে চালু হবে স্বচ্ছ অ্যাপের (Swachh App) পরিষেবা।”

    শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার পরিকাঠামো তৈরিতেও বিশেষ জোর দিচ্ছে রাজ্য। পথচারীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে রাজ্যের সমস্ত পুর এলাকায় প্রতি ১০০ মিটার দূরত্ব অন্তর ডাস্টবিন বা আবর্জনা ফেলার পাত্র বসানো হবে। এ ছাড়াও যাত্রী সাধারণ যাতে যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলেন, তার জন্য সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বাসের ভেতরে নোংরা ফেলার ব্যাগ বা ডাস্টবিন রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    আসছে ‘স্বচ্ছ’ (Swachh) অ্যাপ

    নাগরিকদের সরাসরি এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শামিল করতে রাজ্য সরকার একটি জিও-ট্যাগড (Geo-tagged) ডেডিকেট মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে আসছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্বচ্ছ অ্যাপ’ (Swachh App)। এই অ্যাপের মাধ্যমে যে কোনও নাগরিক রাস্তার ধারে জমে থাকা আবর্জনার ছবি তুলে আপলোড করতে পারবেন। ছবি আপলোড হওয়ামাত্রই সেই সুনির্দিষ্ট এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান (Location) স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুরসভার কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে যাবে এবং অভিযোগ জমা পড়ার মাত্র ২ ঘণ্টার মধ্যে পুরকর্মীরা সেই আবর্জনা পরিষ্কার করে দেবেন।

    পাইলট প্রজেক্ট

    শনিবার, ৩০ জুন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খাট্টর এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এই অ্যাপটি (Swachh App) আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করবে। প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যের ১০টি পুরসভাকে (BJP Government) বেছে নিয়ে এই পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করা হচ্ছে।

    পুর দফতর সূত্রে জানা গেছে, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে একদিকে যেমন পুরসভার কাজে গতি আসবে, তেমনই সাধারণ মানুষও সরাসরি শহরের রূপ বদলে অংশীদার হতে পারবেন। ৩ মাসের এই সচেতনতা পর্ব শেষ হতেই ১ সেপ্টেম্বর থেকে রাস্তায় নোংরা ফেলার ক্ষেত্রে প্রশাসন আর কোনও রকম রেয়াত করবে না বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

  • SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    SARTHAK-PDS: রেশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন, ২৫,৫৩০ কোটি টাকার ‘সার্থক-পিডিএস’ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুমোদন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দেশের প্রায়  ৮১ কোটি নাগরিকের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং রেশন বণ্টন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার (Union Cabinet) বৈঠকে (CCEA) আগামী ৫ বছরের জন্য অর্থাৎ এপ্রিল ২০২৬ থেকে মার্চ ২০৩১ পর্যন্ত “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) নামক একটি নতুন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য মোট ২৫,৫৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে বলেন, “এটি বর্তমান রেশন ব্যবস্থার কোনও বিকল্প বা প্রতিস্থাপন নয়; বরং এর লক্ষ্য হলো খাদ্যশস্য পরিবহন, লজিস্টিকস এবং সামগ্রিক বণ্টন প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করা।”

    প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যসমূহ (SARTHAK-PDS)

    কেন্দ্র সরকারের (Union Cabinet) এই প্রকল্পে রাজ্যগুলিকে আর্থিক ভাবে সহায়তা এবং রেশন দোকানদার পরিচালকদের কমিশন সংশোধন করতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    রাজ্যগুলিকে আর্থিক সহায়তা

    ফুড কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (FCI)-র বড় গুদাম থেকে বিভিন্ন জেলা ও ন্যায্য মূল্যের দোকানে (Fair Price Shops) খাদ্যশস্য পরিবহনের বিপুল খরচ বহন করতে অনেক রাজ্যই সমস্যায় পড়ত। নতুন প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্র রাজ্যগুলিকে এই আন্তঃরাজ্য পরিবহনের খরচে আর্থিক সহায়তা দেবে।

    রেশন ডিলারদের কমিশন বৃদ্ধি

    রেশন দোকান পরিচালনাকারীদের (FPS Dealers) মার্জিন বা কমিশন বাড়ানো এবং সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শেষ প্রান্তের মানুষের কাছে রেশন পৌঁছানোর প্রক্রিয়াটি বাধাহীন হয়।

    প্রযুক্তির ব্যবহার তিনটি প্রধান স্তম্ভ (Three Pillars)

    কেন্দ্রীয় কেবিনেট (Union Cabinet) সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML), ব্লকচেইন এবং ন্যাচারাল ল্যাঙ্গুয়েজ প্রসেসিং (NLP)-এর মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পুরো ব্যবস্থাকে মূলত তিনটি স্তম্ভের (SARTHAK-PDS) ওপর দাঁড় করানো হয়েছে-

    • ১. নির্মল (Nirmal): এটি হলো একটি এআই-চালিত রিয়েল-টাইম রেশন উপভোক্তা রেজিস্ট্রি। এর মাধ্যমে প্রকৃত প্রাপকদের চিহ্নিত করা সহজ হবে এবং ভুয়ো রেশন কার্ড বা কারচুপি সম্পূর্ণ বন্ধ করা যাবে।
    • ২. আশা (Asha): এটি মূলত সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিবারণ এবং ফিডব্যাক নেওয়ার জন্য একটি বহুভাষিক এআই প্ল্যাটফর্ম। সাধারণ মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ও চ্যাটবটের মাধ্যমে সহজেই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
    • ৩. সক্ষম (Saksham): এটি খাদ্যশস্যের জোগান বা সাপ্লাই চেইন নিয়ন্ত্রণের একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা। প্রতিটি রেশনের বস্তায় কিউআর কোড (QR Code) থাকবে এবং পরিবহনকারী গাড়িগুলিতে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং থাকবে, যার ফলে রেশনের চাল-গম মাঝপথে চুরি বা অন্য কোথাও পাচার হওয়া আটকানো যাবে।

    রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা

    সরকারি হিসেব অনুযায়ী, এই প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে খাদ্যশস্য পরিবহনের দূরত্ব ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব হবে, যা লজিস্টিকস খরচ অনেকটাই কমাবে। এই নতুন সার্থক-পিডিএস (SARTHAK-PDS) প্রকল্পের অধীনে আগের দুটি প্রকল্পকে—অর্থাৎ রাজ্যগুলির অভ্যন্তরীণ পরিবহন সহায়তা এবং ‘স্মার্ট পিডিএস’ (SMART PDS) প্রযুক্তি সংস্কারকে—একত্রিত করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশের ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’-সহ অন্যান্য খাদ্য সুরক্ষা কর্মসূচিকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

    ভারতের জনবণ্টন ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণ সংক্রান্ত সরকারি ঘোষণার (Union Cabinet) সরাসরি বিবরণ দেখতে আপনি এই “সার্থক পিডিএস” (SARTHAK-PDS) প্রকল্প সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি দেখতে পারেন, যেখানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের লজিস্টিকস ও টেকনোলজি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

  • Weather Update: প্রবল কালবৈশাখীতে বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ, ৬ জেলায় লাল সতর্কতা, দুপুরেই নামল সন্ধ্যা

    Weather Update: প্রবল কালবৈশাখীতে বিপর্যস্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গ, ৬ জেলায় লাল সতর্কতা, দুপুরেই নামল সন্ধ্যা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গত কয়েক দিনের দমবন্ধ করা ভ্যাপসা গরমের পর অবশেষে দক্ষিণবঙ্গে আছড়ে পড়ল প্রবল কালবৈশাখী। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ পার্শ্ববর্তী জেলাগুলির আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। দুপুরের পর থেকেই তীব্র বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের গতিবেগ (Weather Update) ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলি জেলাতেও একযোগে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়। দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ছয়টি জেলায় প্রকৃতির এই তাণ্ডবের জেরে ইতিমধ্যেই লাল সতর্কতা (Red Alert) জারি করেছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।

    স্তব্ধ মহানগরের গতি, উপড়ল গাছ (Weather Update)

    দুপুর দুটো নাগাদ কলকাতা এবং সংলগ্ন উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে হলুদ সতর্কতা জারি করেছিল হাওয়া অফিস (Weather Update)। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সল্টলেক, ধর্মতলা, যাদবপুর থেকে বরাহনগর—সমগ্র কলকাতা জুড়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয়। দুপুরের আকাশ এতটাই মেঘাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে, রাস্তায় হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে বাধ্য হন চালকেরা। ঝড়ের দাপটে শহরের একাধিক জায়গায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে। রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ এবং হরিশ মুখার্জি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ার খবর মিলেছে। ময়দানের কাছে একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ায় ট্রাফিক ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। শিয়ালদা মেট্রো স্টেশনের ছাদের ওপর গাছ ভেঙে পড়লে, পরিষেবা সাময়িকভাবে স্তব্ধ হয়ে পড়ে গ্রিন লাইনে। এ ছাড়াও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বেশ কিছু হোর্ডিং ও পোস্টার ছিঁড়ে পড়েছে। উত্তর ও মধ্য কলকাতার ঠনঠনিয়া এবং চাঁদনি চকের মতো নিচু এলাকাগুলিতে জল জমে যায়। তবে গরমের ছুটির কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বড় কোনও ভোগান্তির শিকার হতে হয়নি।

    ৬ জেলায় লাল সতর্কতা

    কলকাতার পাশাপাশি হাওড়া ও হুগলিতেও তীব্র গতিতে ঝড়-বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে আবহাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক (Red Alert) রূপ নিতে পারে। এই জেলাগুলিতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নদিয়া জেলাতেও ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের (Weather Update) সঙ্গে হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

    আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস

    গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি চরমে উঠেছিল, এমনকি পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে তাপপ্রবাহের (Weather Update) সতর্কতাও জারি ছিল। এই স্বস্তির বৃষ্টিতে সেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে চলেছে।

    শনিবার

    দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির (Red Alert) সম্ভাবনা রয়েছে, সঙ্গে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

    রবিবার থেকে বুধবার

    ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা (Red Alert) শনিবারের পর কিছুটা কমলেও, সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি চলবে।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ঝড়-বৃষ্টির প্রভাবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা প্রায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে।

    অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলা যেমন দার্জিলিং ও কালিম্পঙে গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় ঝড়-বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলেও, বৃষ্টিপাত সম্পূর্ণ বন্ধ হয়নি। সেখানে এখনও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    Bangladeshi Infiltrators: ‘‘তৃণমূলের লোকজনই ভোটার-রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল’’! বাংলাদেশিদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকারের কড়া পদক্ষেপের জেরে এবার বড়সড় চাপে পড়েছেন অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা। রাজ্যজুড়ে শুরু হওয়া ব্যাপক ধরপাকড়, নজরদারি এবং পরিচয়পত্র যাচাই অভিযানের পর বহু বাংলাদেশি বর্তমানে সীমান্তবর্তী এলাকা ও ট্রানজিট পয়েন্টে ভিড় জমাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেকে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করার পর হঠাৎ পরিস্থিতির বদলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

    রাতের অন্ধকারে সীমান্ত পেরোনো, সক্রিয় দালালচক্র

    বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সুসংগঠিত দালালচক্র সক্রিয় ছিল, যারা বাংলাদেশিদের অবৈধভাবে ভারতে ঢোকানোর ব্যবস্থা করত। সীমান্তের যে অংশে বিএসএফের টহলে “ফাঁক” থাকত, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়া হতো। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার এক কাঠমিস্ত্রি জানিয়েছেন, তিনি রাতের অন্ধকারে বিএসএফের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করার জন্য এক দালালকে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এরপর সুযোগ বুঝে তাঁকে ভারতে ঢোকানো হয়। তাঁর কথায়, “কখনও পুরো রাত অপেক্ষা করতে হয়, আবার কখনও ১০ মিনিটেই সীমান্ত পার হওয়া যায়।” আরও এক অনুপ্রবেশকারী জানিয়েছেন, সীমান্তে কড়া নজরদারি থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায় ২০ হাজার টাকা দিয়ে এজেন্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর ভুয়ো আধার কার্ড তৈরি করে ট্রেনে করে বেঙ্গালুরু পৌঁছে যান।

    জাল আধার, ভোটার কার্ড ও সরকারি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ

    সবচেয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে পরিচয়পত্র জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক মদতের প্রসঙ্গে। একাধিক বাংলাদেশি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় তাঁদের ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড ও আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এক বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের লোকজনই আমাকে ভোটার কার্ড ও রেশন কার্ড পাইয়ে দিয়েছিল। এমনকি আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকাও দুই-তিন বছর পেয়েছি।”
    অন্য এক ব্যক্তি দাবি করেন, মাত্র ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে আধার কার্ড তৈরি করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাঁরা সহজেই ভাড়াবাড়ি নেওয়া, কাজ পাওয়া এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করতে সক্ষম হন।

    “বাবা ছোটবেলায় ভারতে নিয়ে এসেছিল”

    সীমান্তে অপেক্ষারত অনেকেই জানিয়েছেন, তাঁরা বহু বছর ধরে ভারতে বসবাস করছেন। বাংলাদেশের খুলনার সালাম দালি নামে এক ব্যক্তি বলেন, তিনি প্রায় পাঁচ বছর আগে ৮-১০ হাজার টাকা দিয়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে ঢুকেছিলেন এবং কাঠমিস্ত্রির কাজ করতেন। আরেক ব্যক্তি বলেন, “আমি যখন ১০ বছরের মতো, তখন বাবা-মা আমাকে ভারতে নিয়ে আসে। বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করত। এতদিন কেউ কিছু বলেনি। আমরা শুধু কাজ করেছি।” একটি প্রতিবেদনে খাতুন নামে এক মহিলার কথাও উঠে এসেছে, যিনি গৃহপরিচারিকার কাজ করতে ভারতে এসেছিলেন। কিন্তু এখন আটক শিবির ও জোরপূর্বক নির্বাসনের ভয়ে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরছেন।

    বদলে যাওয়া প্রশাসনিক পরিস্থিতিতে আতঙ্ক

    বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে বলে দাবি করছেন বহু অনুপ্রবেশকারী। তাঁদের বক্তব্য, আগে প্রশাসন বা স্থানীয় স্তরে তেমন কড়াকড়ি ছিল না, কিন্তু এখন নিয়মিত নথি যাচাই, পুলিশি অভিযান এবং নজরদারি চালানো হচ্ছে। এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, “তৃণমূল আমলে কেউ কিছু বলত না। এখন সরকার বদলে গেছে। বাড়ির মালিকেরাও ভয় পাচ্ছেন। বাংলাদেশি কাউকে রাখলে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা ও জেলের ভয় দেখানো হচ্ছে।” এই পরিস্থিতিতে বহু পরিবার নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে সীমান্তের দিকে রওনা দিয়েছেন। কেউ কেউ আবার স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাচ্ছেন, যাতে আটক হয়ে হোল্ডিং সেন্টারে যেতে না হয়।

    কঠোর অবস্থানে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের

    মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, অবৈধ বাংলাদেশিদের আদালতে পাঠানো বা আশ্রয় দেওয়ার পরিবর্তে সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যাঁরা জাল নথির মাধ্যমে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছেন, তাঁদের তালিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পরিচয়পত্র যাচাই, ভাড়াটে তল্লাশি এবং সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সম্পত্তির মালিকদেরও সতর্ক করা হয়েছে যাতে তাঁরা বৈধ নথি ছাড়া কাউকে আশ্রয় না দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই অভিযান আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে এবং জাল পরিচয়পত্র চক্রের বিরুদ্ধে পৃথক তদন্তও শুরু হতে পারে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    শুভেন্দু অধিকারীর কড়া বার্তা

    রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের আদালতে হাজির না করে সরাসরি সীমান্তে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একইসঙ্গে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা না পান, তার জন্যও বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, প্রায় ৩০ লক্ষ অযোগ্য ব্যক্তি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছিলেন। তাঁদের মধ্যে বহু ভুয়ো পরিচয়ধারী ও অ-ভারতীয় নাগরিকও ছিলেন বলে অভিযোগ। নতুন “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” প্রকল্পে এই ধরনের সুবিধাভোগীদের বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বৃহস্পতিবার বলেন, “যেহেতু অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরাই ফিরে যাচ্ছে, তাই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে না।”

    সীমান্তপথে অনুপ্রবেশের পুরনো রুট এখনও সক্রিয়

    ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার। এর মধ্যে রয়েছে নদীঘেরা এলাকা, কৃষিজমি এবং ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল, যেখানে এখনও সম্পূর্ণ নজরদারি বজায় রাখা কঠিন। এই দুর্বল অংশগুলিকেই কাজে লাগায় মানব পাচার ও চোরাচালান চক্র। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের প্রায় ৩,২৩২ কিলোমিটার অংশে বেড়া বা নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে, যা মোট সীমান্তের প্রায় ৭৯ শতাংশ। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্তের বহু নদীঘেরা ও দুর্গম অংশ এখনও অনুপ্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও মানব পাচার চক্র এই রুটগুলিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের ভারতে প্রবেশ করাচ্ছে।

LinkedIn
Share