Blog

  • India Bangladesh Relation: ‘খিলাফত’ গড়ার ডাক! বাংলাদেশে সহিংস চরমপন্থীদের মুক্তি, ক্ষুব্ধ ভারত

    India Bangladesh Relation: ‘খিলাফত’ গড়ার ডাক! বাংলাদেশে সহিংস চরমপন্থীদের মুক্তি, ক্ষুব্ধ ভারত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সন্ত্রাসবাদীদের আখড়া হয়ে উঠেছে নতুন বাংলাদেশ। পদ্মাপাড়ে প্রতিদিন যা ঘটছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমরা উদ্বিগ্ন, কারণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা সহিংস চরমপন্থীদের মুক্তি দেওয়ার মাধ্যমে আরও বেড়েছে। আমরা একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং উন্নয়নশীল বাংলাদেশ (India Bangladesh Relation) চাই, যেখানে সব সমস্যা গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে সমাধান করা হবে।’’ উল্লেখ্য শুক্রবারও, নিষিদ্ধ ইসলামিক জঙ্গি সংগঠন হিজবুত তাহরির মিছিল ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ঢাকা।

    খিলাফত গড়ার ডাক

    ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কায়দায় বাংলাদেশে খিলাফত গড়ার ডাক দিয়েছে হিজবুত তাহরির! শুক্রবার ঢাকার রাস্তায় মিছিল করতে দেখা গেল শয়ে শয়ে মৌলবাদীকে। এই নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনটির মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। যা কেন্দ্র করে কার্যত রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে ঢাকা। শেখ হাসিনার আমলে এই হিজবুত নখ-দাঁত বের করতে পারেনি। কিন্তু এখন গোটা বাংলাদেশে নৈরাজ্য। মহম্মদ ইউনূসের জমানায় মাথাচারা দিচ্ছে হিজবুতের মতো একাধিক জেহাদি গোষ্ঠী। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ‘মার্চ ফর খিলাফত’ কর্মসূচির ডাক দেয় নিষিদ্ধ হিজবুত তাহরির। সেই মতোই জুম্মার নমাজের পর জেহাদিরা ঢাকায় একটি মিছিল বের করে। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আসরে নামে পুলিশ। কিন্তু আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর বাধা অতিক্রম করেই মিছিলটি পল্টন মোড় পার হয়ে বিজয়নগর মোড়ের দিকে যায়। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় হিজবুত সদস্যদের। এরপর লাঠিপেটা করলে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই তারা আবার সংগঠিত হয়ে পল্টন মোড়ের দিকে আসতে থাকে। পুলিশ ফের সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়লে মিছিলটি আবার ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

    নিষিদ্ধ হিজবুত তাহরির

    আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তথ্য বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, হিযবুত তাহরির (মুক্তির দল) দলটির লক্ষ্য হল ইসলামি খিলাফত প্রতিষ্ঠিত করা ও বিশ্বব্যাপী ইসলামি আইন বাস্তবায়ন করা। হিজবুত তাহরিকে বাংলাদেশ, চিন, রাশিয়া, পাকিস্তান, জার্মানি,তুরস্ক, ইংল্যান্ড, কাজাখস্তান এবং সমস্ত মধ্য এশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সমস্ত মধ্যপ্রাচ্যে (লেবানন, ইয়েমেন ব্যতীত) নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে এই জঙ্গি সংগঠনটি বাংলাদেশে ঘাঁটি মজবুত করে। কিন্তু ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর হাসিনার নেতৃত্বাধীন তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকার হিজবুত তাহরিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। জনগণের নিরাপত্তার জন্য এই সংগঠনটি বিপজ্জনক বলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। শুধু বাংলাদেশই নয়, বিশ্বের বহু মুসলিম দেশেই হিজবুত তাহরিরকে নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু গত ৫ অগাস্ট হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ায় ফের বাংলাদেশে মাথাচারা দিয়েছে তারা। পালন করছে নানা কর্মসূচি। আর সবটাই নীরব দর্শক হয়ে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস।

    চরমপন্থী সন্ত্রাসবাদীদের মুক্তি

    ইউনূস সরকার বাংলাদেশ ক্ষমতায় আসার পরই জেল থেকে মুক্তি পায় আনসারুল্লা বাংলা টিমের (এবিটি) প্রধান জসীমউদ্দিন রহমানি। আর তার মদতেই এখন ভারতকে রক্তাক্ত করার ছক কষেছে এবিটি। বাংলাদেশ এই সহিংস চরমপন্থীদের মুক্তি দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ভারত। এরা গঙ্গাপাড়ে অশান্তি লাগাতে সক্রিয় এমনই ধারণা ভারতের।

    ভারত-বিরোধিতা, তবু জল চাই

    দেশের অভ্যন্তরে ভারত-বিরোধী সুরকে মদত দিলেও গঙ্গার জলবণ্টন নিয়ে নরম সুর বাংলাদেশের। বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মহম্মদ আবুল হোসেনের নেতৃত্বে ১১ জনের প্রতিনিধি দল সোমবার পা রাখেন কলকাতায়। জয়েন্ট কমিটির টেকনিক্যাল বিশেষজ্ঞরা ভারতের সঙ্গে এই নিয়ে ৮৬ তম বৈঠক সারেন। ৩০ বছর পুরনো গঙ্গা পদ্মা জলবণ্টন চুক্তি পুনর্নবীকরণ নিয়ে হয় বৈঠক। ফরাক্কায় পর্যবেক্ষণ সেরে ফের কলকাতায় ফিরে ৬ মার্ত বৃহস্পতিবার বৈঠক সারেন তারা। শুক্রবার, ভারত বাংলাদেশ জয়েন্ট রিভার কমিশনের ফের বৈঠক হয়েছে। কমিশনের সদস্য আবুল হোসেন জানান, ফি বছরই সীমান্তে জল আদান প্রদান নিয়ে কমিশনের বৈঠক হয়। সেইমতো এবারেও বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। ভারতের জলশক্তি মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি এমন নদী রয়েছে যা সীমান্তের দুই পারে বিস্তৃত।

     

     

     

  • PM Modi: ভারত-বার্বাডোজের মধ্যে গভীর সম্পর্ক, বিশেষ সম্মান পেয়ে কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী মোদি

    PM Modi: ভারত-বার্বাডোজের মধ্যে গভীর সম্পর্ক, বিশেষ সম্মান পেয়ে কৃতজ্ঞ প্রধানমন্ত্রী মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (PM Modi) মুকুটে জুড়ল আরও একটি সাফল্যের পালক। বার্বাডোজের তরফে “অনারারি অর্ডার অব ফ্রিডম অব বার্বাডোজ” সম্মানে সম্মানিত করা হল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে। এই সম্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বার্বাডোজ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই সম্মান প্রধানমন্ত্রী ১৪০ কোটি ভারতবাসীকে উৎসর্গ করেছেন। এই সম্মান ভারত ও বার্বাডোজের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রকাশ বলে জানিয়েছেন মোদি।

    ভারতবাসীকে উৎসর্গ

    বার্বাডোজের প্রেসিডেন্টই এই সম্মান-উপহার তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে সম্মান গ্রহণে উপস্থিত থাকতে না পারলেও, ভারতের প্রতিনিধি এই সম্মান গ্রহণ করেন। ব্রিজেটাউনে সরকারি অনুষ্ঠানেই বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সে দেশের প্রেসিডেন্ট “অনারারি অর্ডার অব ফ্রিডম অব বার্বাডোজ” সম্মান প্রদান করেন। বিদেশ ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা এই সম্মান গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদি এক্স (পুর্বে টুইটার) এ একটি পোস্টে বলেন, “এই পুরস্কার আমি ভারতবর্ষের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ভারত ও বারবাডোজের মধ্যে গভীর সম্পর্ককে উৎসর্গ করছি।”

    কেন সম্মান মোদিকে

    কোভিডকালে কৌশলগত নেতৃত্ব এবং মূল্যবান সহায়তার জন্যই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই সম্মানে সম্মানিত করা হল। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, এই পুরস্কার দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতীক। গত বছর গায়ানার জর্জটাউনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ভারত-ক্যারিকম শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এক বৈঠকের সময়, বার্বাডোজের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মটলি এই সম্মান প্রদানের কথা ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী মোদির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন সহযোগিতার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দেন তিনি।

    কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা

    প্রধানমন্ত্রীর (PM Modi) পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করার সময়, মার্গেরিটা এই স্বীকৃতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিনিধিত্ব করা এবং তাঁর পক্ষ থেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের। এই স্বীকৃতি ভারত ও বার্বাডোজের মধ্যে গভীরতর সম্পর্কের পাশাপাশি সহযোগিতা ও উন্নয়নের প্রতি দুই দেশের যৌথ প্রতিশ্রুতি, বিশেষ করে সংকটের সময়ে, জোরদার করে তোলে।” কূটনৈতিক মহলের মতে, ১৯৬৬ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে, ভারত ও বার্বাডোজ একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে, যা ধারাবাহিকভাবে সম্পৃক্ততা এবং উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বৈশিষ্ট্য।

  • Israel: কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট, প্যালেস্তাইনে বন্দি ১০ ভারতীয় শ্রমিককে উদ্ধার করল ইজরায়েল

    Israel: কেড়ে নেওয়া হয় পাসপোর্ট, প্যালেস্তাইনে বন্দি ১০ ভারতীয় শ্রমিককে উদ্ধার করল ইজরায়েল

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: প্যালেস্তাইনের (Palestine) ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের প্রত্যন্ত একটি গ্রাম থেকে উদ্ধার ১০ জন ভারতীয় নির্মাণ শ্রমিক। জানা গিয়েছে, এই ১০ জন ভারতীয় শ্রমিককে কাজ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওয়েস্ট ব্যাঙ্কের প্রত্যন্ত গ্রাম আল-জায়েম-এ নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর মাসখানেক আগেই তাঁদের পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। নির্মাণ কাজে দক্ষ এই ভারতীয় শ্রমিকরা আদতে ইজরায়েলে (Israel) কাজের সন্ধানে যেতে চেয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    ভারতীয়দের পাসপোর্ট ব্যবহার করে চেকপোস্ট পার করত প্যালেস্তাইনের নাগরিকরা

    ইজরায়েলের (Israel) এক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভারতীয়দের পাসপোর্ট ব্যবহার করে প্যালেস্তাইনের (Palestine) নাগরিকরা সহজেই চেকপয়েন্ট পার হয়ে ইজরায়েলে প্রবেশ করত। এই আবহে ইজরায়েলের বাহিনী একটি চেকপয়েন্টে কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে। এরপর তাদের কাছ থেকেই ভারতীয় শ্রমিকদের বিষয়ে খোঁজ পাওয়া যায়। উদ্ধার করা হয় শ্রমিকদের।

    অভিযানে নামে যৌথ বাহিনী

    রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েল (Israel) প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এবং বিচার মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে ‘জনসংখ্যা ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের’ আধিকারিকরা যৌথভাবে অভিযান শুরু করেন। রাতারাতি অভিযান শুরু হয় প্যালেস্তাইনের নাগরিকদের কাছ থেকে পাওয়া ভারতীয় পাসপোর্টের মালিকদের খোঁজে। সেই অভিযানেই ভারতীয় ঠিকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা হয় এবং একটি নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করে তাঁদেরকে রাখা হয়।

    কী জানাল ভারতীয় দূতাবাস

    ইজরায়েলে (Israel) ভারতীয় দূতাবাস এনিয়ে জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। ভারতীয় শ্রমিকদের বিষয়ে ইজরায়েল প্রশাসনের সঙ্গে কথাবার্তা চলছে বলেও উল্লেখ করেছে ভারতীয় দূতাবাস। এর পাশাপাশি, ভারতীয় দূতাবাস উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদনও জানিয়েছে। জানা যায়, বিগত এক বছরে ভারতের প্রায় ১৬ হাজার নির্মাণ শ্রমিক কাজের সন্ধানে ইজরায়েলে (Israel) পাড়ি দিয়েছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরে শুরু হয় যুদ্ধ। আপাতত দুই দেশ যুদ্ধ বিরতি রেখেছে। চলছে বন্দি বিনিময়। দুই দেশের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পর প্যালেস্তাইনের নির্মাণ শ্রমিকদের ইজরায়েলে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

  • Tahawwur Rana: ভারতে আসতেই হচ্ছে! ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানার আর্জি খারিজ আমেরিকায়

    Tahawwur Rana: ভারতে আসতেই হচ্ছে! ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানার আর্জি খারিজ আমেরিকায়

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারতে আসতেই হচ্ছে ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত তাহাউর রানাকে (Tahawwur Rana)। রানার ভারতে প্রত্যর্পণে স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করে দিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেশের সর্বোচ্চ আদালতে তাহাউর জানিয়েছিলেন, সে পাকিস্তানের বংশোদ্ভূত মুসলিম হওয়ায় ভারতে নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। কিন্তু তাহাউর রানার সেই আশঙ্কাকে গুরুত্ব দেননি বিচারপতি। তাঁর প্রত্যর্পণের উপর কোনও স্থগিতাদেশ চাপায়নি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে তাহাউর রানার ভারতে প্রত্যর্পণ কার্যত নিশ্চিত হয়ে গেল।

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রানার আর্জি

    পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তাহাউর রানা (Tahawwur Rana) মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে ‘প্রত্যর্পণ স্থগিতের জরুরি আবেদন’ দাখিল করেছিলেন। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, তাঁর প্রত্যর্পণের অর্থ হল আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসংঘের নির্যাতন-বিরোধী কনভেনশন লঙ্ঘন করা। কারণ ভারতে তাঁকে নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হতে পারে। তাঁর আবেদনে আরও বলা হয়, ‘পাকিস্তানি মুসলিম হিসেবে মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় ভারতে নির্যাতনের ঝুঁকি আরও বেশি।’ এছাড়া, তিনি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখিয়ে উল্লেখ করা হয়, তাহাউর একাধিক প্রাণঘাতী রোগে আক্রান্ত। তাঁর আইনজীবীরা আদালতে জানান, তিনি একাধিক হার্ট অ্যাটাক, পার্কিনসনস ডিজিজ, ব্লাডার ক্যান্সারের আশঙ্কা, স্টেজ ৩ ক্রনিক কিডনি ডিজিজ, অ্যাজমা এবং কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় জেলে বন্দি হওয়া তার জন্য ‘প্রকৃত অর্থে মৃত্যুদণ্ড’ হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    আবেদন খারিজ

    মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রানার এই আবেদন গ্রহণ করেনি এবং ভারতীয় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। রানা পাল্টা যুক্তি দিয়েছিলেন, ‘যদি এই প্রত্যর্পণ স্থগিত করা না হয়, তাহলে মার্কিন আদালতের এক্তিয়ার থাকবে না এবং আমি শিগগিরই মারা যাব।’ এর আগে একাধিক নিম্ন আদালতে আইনি লড়াই হেরে যায় সে। স্যান ফ্রান্সিসকোতে নর্থ সার্কিট আমেরিকান কোর্ট অফ আপিলেও হেরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মুম্বই হামলার অন্যতম অভিযুক্ত তাহাউর। ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর দিনই তাহাউর রানার রিট পিটিশন খারিজ করে দিয়েছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এ বার আমল দিল না তার জরুরি ভিত্তিতে করা আবেদনেও। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছেন তিনি। শীঘ্রই তাঁকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

    রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া

    উল্লেখ্য, ভারত ও আমেরিকা দুই দেশের মধ্যে ১৯৯৭ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই আবহে ভারতের অনুরোধে আমেরিকার প্রশাসন রানাকে গ্রেফতার করেছিল। ২০১১ সালে শিকাগোর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিল রানা। তার বিরুদ্ধে লস্কর-ই-তইবা জঙ্গিদের সাহায্য করার অভিযোগ ছিল। প্রসঙ্গত, তাহাউর রানার বন্ধু পাকিস্তানি-আমেরিকান নাগরিক ডেভিড কোলম্যান হেডলি। এই আবহে ২০২৩ সালের মে মাসে একটি মার্কিন আদালত পাক বংশোদ্ভূত রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের পক্ষে রায় দিয়েছিল। তবে সেই রায়ের বিরুদ্ধে রানা আবেদন করেছিল। তারপর রানার প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছিল। তবে ২১ জানুয়ারি তাহাউর রানার প্রত্যর্পণে ছাড়পত্র দেয় আমেরিকার শীর্ষ আদালত।

    ভারতের দাবিতে সিলমোহর

    প্রসঙ্গত, তাহাউর রানাকে (Tahawwur Rana) ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরেই সওয়াল করে আসছিল নয়াদিল্লি। ভারতের দাবি, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার এই নাগরিকই হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার ঘটনায় অন্যতম চক্রী। তাই ভারতের বিচারব্যবস্থার অধীনেই তাঁর বিচার হওয়া উচিত। গত ১৬ ডিসেম্বর মার্কিন সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলগার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেন, যাতে শীর্ষ আদালত রানার আবেদন খারিজ করে দেয়। এদিকে রানার আইনজীবী ২৩ ডিসেম্বর সরকারের প্রস্তাব চ্যালেঞ্জ করেন এবং সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন জানান, যাতে এই মামলায় রানার রিট পিটিশন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মার্কিন শীর্ষ আদালত রানার আবেদনের বিরুদ্ধেই রায় ঘোষণা করে দেয়।

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মার্কিন সফরকালে রানার প্রত্যর্পণে অনুমোদন দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘খুব শিগগিরই রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হবে এবং তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’ এর পরেই শুরু হয় প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া। কিন্তু ফের মার্কিন শীর্ষ আদালতে শেষ চেষ্টা করেন রানা। তবে তাঁর সেই চেষ্টায়ও জল ঢালল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। উল্লেখ্য ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বইয়ের আটটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হামলা চালায় পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবা জঙ্গিরা। এই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। যাঁদের মধ্যে ছ’জন মার্কিন নাগরিকও ছিলেন। হামলা চালিয়েছিল ১০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি।

  • PM Modi: ‘‘জঙ্গলের মাওবাদ শেষ, বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে নকশালরা’’, বললেন মোদি

    PM Modi: ‘‘জঙ্গলের মাওবাদ শেষ, বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে নকশালরা’’, বললেন মোদি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ‘‘জঙ্গল থেকে মাওবাদীদেরকে (Maoists) নির্মূল করা গিয়েছে। বিপদ বাড়াচ্ছে শহুরে নকশালরা এবং তাঁরা রাজনৈতিক দলগুলিতে অনুপ্রবেশ করছেন’’। বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই ছদ্ম মাওবাদ বিপদকে ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi)। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের বক্তব্যে বলেন, ‘‘ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে থেকে যে ধরনের ভাষা এবং শব্দ শহুরে ছদ্মবেশী মাওবাদীরা ব্যবহার করছেন, তাতে একটা কথাই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে জঙ্গলের মাওবাদীদের সঙ্গে এদের গভীর যোগাযোগ রয়েছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এদিন আরও বলেন, ‘‘দেশে মাওবাদ সমস্যার সমাধান একেবারে চূড়ান্ত পর্যায়ে চলছে। আগে যেখানে মাওবাদ অধ্যুষিত জেলার সংখ্যা এই দেশে ১০০-র বেশি ছিল, বিগত এক দশক ধরে তা চব্বিশে নামানো গিয়েছে।’’

    উন্নয়নেই পিছু হঠেছে মাওবাদ

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এর পুরো কৃতিত্ব কেন্দ্রীয় সরকারকে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশে পরিকাঠামোর বৃদ্ধি এবং ভূমিস্তর পর্যন্ত উন্নয়নকে পৌঁছে দেওয়ার কারণেই এই সমস্যার সমাধান হয়েছে। প্রসঙ্গত, শহুরে ছদ্মবেশী মাওবাদীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘তাঁরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলিতে গিয়ে সেখানকার নীতি নির্ধারক হয়ে পড়ছেন। যে রাজনৈতিক দলগুলি একসময় গান্ধীবাদী আদর্শকে ধারণ করে চলত, তারাই এখন মাওবাদীদের ন্যারেটিভ নিয়ে চলছে। এদের প্রভাব সর্বত্র এবং তা ভারতের উন্নতি এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পক্ষে বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।’’

    দেশ ক্রমশ উন্নতির পথে রয়েছে

    এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, ‘‘স্বাধীনতার ৬৫ বছর পরেও ভারত ছিল বিশ্বের একাদশতম অর্থনীতি। কিন্তু বিগত ১ দশকে ভারত হয়েছে পঞ্চম অর্থনীতি। এ দেশ ক্রমশ এগিয়ে চলেছে। খুব তাড়াতাড়ি আমরা তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশে পরিণত হব।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘২০০৭ সালে ভারতের জিডিপি পৌঁছেছিল বছরে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে। বর্তমানে প্রতি তিন মাসে ভারতে এই জিডিপি পৌঁছে যায়। এখানেই বোঝা যাচ্ছে দেশ ক্রমশ উন্নতির পথে রয়েছে।’’

    ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্রতার সমস্যা থেকে মুক্ত করা গিয়েছে

    নিজের বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘‘২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্রতার সমস্যা থেকে মুক্ত করা গিয়েছে।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) এদিন ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পে উন্নতি নিয়েও বলেন। তিনি বলেন, ‘‘একটা সময় ছিল যখন আমাদেরকে রাইফেল পর্যন্ত আমদানি করতে হত কিন্তু এখন আমরা যুদ্ধের সরঞ্জাম কুড়ি গুণ বেশি রফতানি করতে পারছি। আগের থেকে সোলার এনার্জি ক্ষেত্রেও আমাদের উৎপাদন বেড়েছে ৩০ গুণ। বিদেশে আমরা বাচ্চাদের খেলার সামগ্রী অনেক বেশি বিক্রি করতে পারছি।’’

    সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার আয়োজিত সম্মেলনে হাজির ছিলেন মোদি

    প্রসঙ্গত একটি সর্বভারতীয় সংবাদ সংস্থার আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী (PM Modi) এই কথাগুলি বলেন। নিজের বক্তব্যে তিনি খোঁচা দেন বিরোধী দল কংগ্রেসকেও। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মতে, ‘‘কংগ্রেস জনগণের আশা আকাঙ্খাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছে। এই কারণেই জনগণ কংগ্রেসের ওপর আর কোনওভাবেই ভরসা করে না।’’ তিনি জানান, তাঁর সরকার ক্ষমতা আসার পরে বিগত এক দশকে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণভাবে বদলে গিয়েছে। জনগণের ভরসা, আকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাস তাঁর সরকারের ওপর রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজের বক্তব্যে আরও বলেন, ‘‘আজকের ভারত অনেক বড় বড় চিন্তা করে। অনেক বড় লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং তা অর্জন করে।’’

    দেশবাসীর নিরাপত্তায় সদা সজাগ তাঁর সরকার

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (PM Modi) বলেন, ‘‘দেশে নিরাপত্তার ব্যবস্থা ক্ষেত্রে সরকার কঠোর পরিশ্রম করছে। সরকার সদা সজাগ রয়েছে, এই বিষয়ে। একটা সময় সন্ত্রাসবাদী হামলা এবং সন্ত্রাসবাদীদের স্লিপারসেল এখন আর খবরে শিরোনামে আসে না।’’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘‘দেশের জনগণ কংগ্রেসের কাছে আর কিছুই আশা করে না। কিন্তু বিগত ১০ বছরে আমাদের কাছ থেকে তাঁরা অনেক কিছু আশা করেন।’’ তিনি আরও জানান, একটা সময় দেশবাসীর ধারণা ছিল এদেশ ডুবে যাবে। কিন্তু বর্তমানে ভারত লক্ষ্য রেখেছে নিজের সাফল্যের দিকে। এর পাশাপাশি ভারত বিশ্বজুড়ে আশার সঞ্চারও করতে পারছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

  • Jaishankar: জয়শঙ্করের ওপর হামলায় পুড়েছে মুখ, ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে নিন্দা জানাল ব্রিটেন

    Jaishankar: জয়শঙ্করের ওপর হামলায় পুড়েছে মুখ, ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে নিন্দা জানাল ব্রিটেন

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে (London) ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (Jaishankar) ওপর হামলার ঘটনায় মুখ পুড়েছে ব্রিটেনের। ঘরে-বাইরে প্রবল চাপে পড়েছে ব্রিটিশ প্রশাসন। কার্যত বাধ্য হয়ে ২৪-ঘণ্টা পর প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সেদেশের প্রশাসন। একইসঙ্গে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংসদেও এই ঘটনা উত্থাপন করা হয়েছে। এই আবহে ভারতের বিদেশমন্ত্রক তলব করে ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা স্কটকে। এই ঘটনা সম্পর্কে তাঁর কাছেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ব্রিটেন বর্তমানে ক্ষমতাসীন দল হল লেবার পার্টি। বিরোধী আসনে রয়েছে কনজারভেটিভ পার্টি। দুই দলই এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শাসক দল প্রতিশ্রুতি দেয়, এমন ঘটনা আগামীদিনে ঘটবে না। ব্রিটিশ সংসদে এবিষয়ে প্রথম বক্তব্য রাখেন ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা লুসি পাওয়েল। একইসঙ্গে ঘটনার নিন্দা জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি সামনে এসেছে ব্রিটেনের বিদেশ, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন দফতরের।

    ব্রিটেনের বিদেশ, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন দফতরের বিবৃতি

    ব্রিটেনের বিদেশ, কমনওয়েলথ এবং উন্নয়ন দফতর এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে। আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তারা বলে, ‘‘বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রীর ব্রিটেন সফরের (Jaishankar) সময় চ্যাথাম হাউসের বাইরে যে ঘটনাটি ঘটে, তার তীব্র নিন্দা জানাই।’’ এর পাশাপাশি ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘‘যদিও ব্রিটেন শান্তিপূর্ণ যেকোনও প্রতিবাদের অধিকারকে সমর্থন করে, তবুও এই ধরনের অনুষ্ঠানগুলিতে ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া বা বাধা দেওয়ার যেকোনও রকমের প্রয়াস কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। মেট্রোপলিটন পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ করেছে এবং আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুসারে আমাদের সমস্ত কূটনৈতিক অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

    ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যানের বিবৃতি

    ব্রিটেনের বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সাংসদ বব ব্ল্যাকম্যান সে দেশের সংসদ হাউস অফ কমন্স-এ বিদেশ মন্ত্রী (Jaishankar) এস জয়শঙ্করের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং তীব্র নিন্দা করেন। বৃহস্পতিবারই বব ব্ল্যাকম্যান হাউস অফ কমন্স-এর অধিবেশন চলাকালীন খালিস্তানি উগ্রপন্থীদের এমন আচরণে কড়া নিন্দা করেন এবং এই ঘটনাকে তিনি গণতন্ত্রের প্রতি অবমাননা বলে মন্তব্য করেন। এর পাশাপাশি ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপারের কাছে বব ব্ল্যাকম্যান আবেদন জানান যাতে তাঁদের দেশে যে অতিথিরা আসবেন, তাঁদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা যেন সুনিশ্চিত করা যায়। জয়শঙ্করের (Jaishankar) কনভয়ে যেভাবে খালিস্তানি উগ্রপন্থী ঢুকে পড়ে এবং ভারতের জাতীয় পতাকা ছিঁড়ে দেয় সে নিয়েই ব্ল্যাকম্যান সংসদে বলেন, ‘‘খালিস্তানি উগ্রপন্থীরা যেভাবে আক্রমণ করেছে, তা জেনেভা কনভেনশনের বিরোধী। মনে হচ্ছে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী জনশঙ্করের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের নিশ্চিত করতে হবে এ ধরনের ঘটনা যেন আগামী দিনে না ঘটে।’’

    ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির বিবৃতি

    এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়ায় সে দেশের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টির হাউস অফ কমেন্স-এর নেতা লুসি পাওয়েল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,‘‘ভারতের একজন সরকারি অতিথির ওপর এমন গুরুতর আক্রমণের প্রচেষ্টা শুনে আমি খুবই দুঃখিত। এটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আমাদের অতিথিদের সঙ্গে যেমন ধরনের ব্যবহার করতে চাই এটা তা নয়।’’ এর পাশাপাশি লেবার পার্টির ওই নেতা বব ব্ল্যাকম্যানকে পূর্ণ আশ্বাস দেন যে আগামীদিনে এধরনের ঘটনা ঘটবে না। এদিকে, ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই ঘটনায় ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি ক্রিস্টিনা স্কটকে তলব করে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এর পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারকে তাদের কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা পালন করার আহ্বানও জানিয়েছে।

    লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ কী জানাল?

    লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে যে একজন বিক্ষোভকারী বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের (Jaishankar) দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির সামনে চলে আসে। কিন্তু পুলিশ ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বাধা দেয় এবং ভারতের বিদেশমন্ত্রীর পথ থেকে সরিয়ে দেয়। লন্ডনের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এরপরে ভারতের বিদেশমন্ত্রী আর কোনও বাধা পাননি। এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলেও জানিয়েছে লন্ডন পুলিশ। প্রসঙ্গত, এই ঘটনাটি ঘটে রয়্যাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের অফিস চ্যাথাম হাউসে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করের ব্রিটেন এবং আয়ারল্যান্ড সফরে রয়েছে। তাঁর সফরের দ্বিতীয় দিনেই ঘটে এমন ঘটনা।

  • Global Terrorism Index 2025: আবারও মুখ পুড়ল! সন্ত্রাসবাদের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় পাকিস্তান, বাড়ছে টিটিপি-র দাপট

    Global Terrorism Index 2025: আবারও মুখ পুড়ল! সন্ত্রাসবাদের নিরিখে বিশ্বে দ্বিতীয় পাকিস্তান, বাড়ছে টিটিপি-র দাপট

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এগোচ্ছে পাকিস্তান! তাদের চিরাচরিত গতিতে। বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তানের (Pakistan) স্থান দ্বিতীয়। গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স ২০২৫-এর (Global Terrorism Index 2025) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের এই পড়শি রাষ্ট্র তালিকায় দু’ধাপ উপরে উঠেছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদী নানা ঘটনায় ১,০৮১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৪৫ শতাংশ বেশি। সম্প্রতি প্রকাশিত তালিকা অনুসারে, ২০২৩ সালে পাকিস্তানে ৫১৭টি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল। যা ২০২৪ সালে ১,০৯৯টিতে পৌঁছেছে।

    দুনিয়াজুড়ে বাড়ছে সন্ত্রাস

    সিডনি ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান দ্য ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস-এর প্রকাশিত রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালে পৃথিবীর ৪৫টি দেশে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে। এছাড়াও, বিশ্বের চারটি মারাত্মক সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ২০২৪ সালে তাদের আক্রমণ জোরদার করেছে। যার ফলে সন্ত্রাসবাদী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা দুনিয়াজুড়ে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক অনুসারে বিশ্বের প্রথম ১০ দেশের তালিকা-

    ১. বুরকিনা ফাসো
    ২. পাকিস্তান
    ৩. সিরিয়া
    ৪. মালি
    ৫. নাইজার
    ৬. নাইজেরিয়া
    ৭. সোমালিয়া
    ৮. ইসরায়েল
    ৯. আফগানিস্তান
    ১০. ক্যামেরুন

    ভারতের অবস্থানগত পার্থক্য হয়নি

    বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে (Global Terrorism Index 2025) ভারতের অবস্থানগত কোনও পার্থক্য হয়নি। ২০২৩ সাল থেকেই ভারত এই তালিকায় আছে ১৪তম স্থানে রয়েছে। গাজা সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে। সন্ত্রাসবাদের কারণে মৃত্যুর হার বেড়েছে ইরানেও। এই তালিকায় সেকেন্ড বয় পাকিস্তান হলে ফার্স্ট বয় বুরকিনা ফাসো। সন্ত্রাসী হামলায় বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর এক পঞ্চমাংশ হয় এই দেশে। পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটির নামের অর্থ যদিও নৈতিক জাতির দেশ। রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশ বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ সূচকে ৩৫তম স্থানে রয়েছে। আমেরিকা রয়েছে ৩৪তম স্থানে। তালিকায় সবচেয়ে নীচের দিকের (যেখানে সন্ত্রাসবাদ সবচেয়ে কম) দেশগুলি হল – ডেনমার্ক, আর্মেনিয়া, কসোভো, ইথিওপিয়া, আর্জেন্টিনা, সৌদি আরব, ইতালি, জাপান, ফিনল্যান্ড, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, তাজিকিস্তান, স্লোভাকিয়া, নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী।

    গত এক দশকে সবথেকে খারাপ অবস্থায় পাকিস্তান

    বিশ্বের সবথেকে খারাপ জিটিআই স্কোরের তালিকায় প্রথম দশের মধ্যে এশিয়ার দুটি দেশ রয়েছে পাকিস্তান (Pakistan) ও আফগানিস্তান। ২০২৫ সালের গোটা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদ সূচকে পাকিস্তান রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। পাকিস্তানের স্কোর ৮.৩৭৪। আফগানিস্তান ৭.২৬২ স্কোর নিয়ে রয়েছে নবম স্থানে। পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরে ৪৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮১ জনে। সম্প্রতি প্রকাশিত বার্ষিক গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স অনুসারে পাকিস্তান গত এক দশকে সবথেকে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় মৃত্যের সংখ্যা বাড়ছে দিন প্রতিদিন। গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স (GTI) অনুযায়ী, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার কারণে মৃত্যু বেড়ে ৭৪৮ থেকে ১,০৮১ জনে পৌঁছেছে।

    সবথেকে সক্রিয় তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তান

    পাকিস্তান (Pakistan) দিন দিন নিজেকে ক্ষয়িষ্ণু করে তুলছে। নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে দ্রুত উঠে আসছে। যার ফলে মৃত্যুর হার ৯০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের ৫২ শতাংশ মৃত্যুর জন্য টিটিপি দায়ী ছিল। গত বছর টিটিপি ৪৮২টি হামলা চালিয়েছিল, যার ফলে মারা গিয়েছিলেন ৫৫৮ জন। তথ্য বলছে আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় আসার পর পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অশান্তি বাড়ছে। বালুচিস্তান, খাইবার-পাখতুনখোয়ায় সন্ত্রাসী হামলার হার সবথেকে বেশি। রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বকে দুর্বল করতে টিটিপি ক্রমাগত তাদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বাড়িয়ে চলছে। যার ফলে পাকিস্তান অপারেশন আজম-ই-ইস্তেহকামের মত সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। ২০২৪ সালে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি পাকিস্তানে সব থেকে ঘাতক সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছিল। বর্তমানে বিএলএ এবং বিএলএফ এর মত জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে। এই গোষ্ঠী গুলি চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের মত চিনা উদ্যোগকেও লক্ষবস্তু করছে।

    জঙ্গি প্রেমে ঘাটতি নেই পাকিস্তানের

    ২০২৪ সালে ইরাক, ইরান, সিরিয়া, ইয়েমেনকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় জঙ্গি হানার দেশের শিরোপা দখল করে নিলেও জঙ্গি প্রেমে ঘাটতি নেই পাকিস্তানের (Pakistan)। এখনও ভারত বিরোধী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের বাড়বাড়ন্তের দৃশ্য ধরা পড়ল গোয়েন্দা উপগ্রহ চিত্রে। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে দ্য ইন্টেল ল্যাবের ভূ-গোয়েন্দা ড্যানিয়েল সাইমন জানাচ্ছেন, বাহাওয়ালপুরে দ্রুতগতিতে আস্তানা বাড়াচ্ছে জইশ। এখানকার জামিয়া মসজিদের আড়ালে পুলিশ, প্রশাসনের চোখের সামনেই প্রকাশ্যে জঙ্গিদের জন্য নতুন নতুন আস্তানা বাঙ্কার গড়ে তুলছে তারা। আয়তন প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১৮ একরেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের অনুমান, পাকিস্তানের এই অধঃপতন অস্থির করে তুলতে পারে ইন্দো-পাক সীমান্তকে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে। বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের রাশ আর সে দেশের প্রশাসনের হাতে নেই। কর্তৃত্ব ফলাচ্ছে সেনা এবং সন্ত্রাসী সংগঠনগুলি। যার ফলে আর্থ-সামাজিক দিক দিয়ে ক্রমশ ভেঙে পড়ছে লাহোর থেকে ইসলামাবাদ।

  • Daily Horoscope 07 March 2025: আশা পূরণ হবে এই রাশির জাতকদের

    Daily Horoscope 07 March 2025: আশা পূরণ হবে এই রাশির জাতকদের

    চাকরি থেকে ব্যবসা, বন্ধু থেকে ব্যক্তিগত জীবন, ভ্রমণ থেকে স্বাস্থ্য—কী বলছে ভাগ্যরেখা? কেমন কাটতে পারে দিন?

    মেষ

    ১) পারিবারিক ভ্রমণের আলোচনা এখন বন্ধ রাখাই ভালো হবে।

    ২) সম্মানহানির সম্ভাবনা রয়েছে।

    ৩) দিনটি প্রতিকূল।

    বৃষ

    ১) বাড়তি ব্যবসায় বিনিয়োগ করবেন না।

    ২) মা-বাবার সঙ্গে বিশেষ আলোচনা।

    ৩) সতর্ক থাকবেন সব বিষয়ে।

    মিথুন

    ১) ব্যবসার কাজে মেজাজ হারাবেন না।

    ২) বুদ্ধির ভুলে ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) বাণীতে সংযম জরুরি।

    কর্কট

    ১) মনের মতো স্থানে বেড়াতে যাওয়ায় আনন্দ লাভ।

    ২) মিথ্যা বদনাম থেকে সাবধান।

    ৩) বিবাদে জড়াবেন না।

    সিংহ

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতি শেষ মুহূর্তে গিয়ে আটকে যাওয়ায় মনঃকষ্ট।

    ২) সকাল থেকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাদ হতে পারে।

    ৩) প্রতিকূল কাটবে দিনটি।

    কন্যা

    ১) পারিবারিক ভ্রমণে বাধা পড়তে পারে।

    ২) ব্যয় বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) সখ পূরণ।

    তুলা

    ১) কোনও নিকটাত্মীয়ের জন্য সংসারে বিবাদ।

    ২) ব্যবসায় বিবাদের যোগ থাকলেও লাভ বাড়তে পারে।

    ৩) দিনটি মোটামুটি কাটবে।

    বৃশ্চিক

    ১) দুর্বুদ্ধি বাড়তে দেবেন না।

    ২) ব্যবসায় শত্রুর দ্বারা ক্ষতি হতে পারে।

    ৩) আশাহত হবেন।

    ধনু

    ১) ব্যবসার ক্ষেত্রে তর্ক-বিতর্ক ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

    ২) আর্থিক সুবিধা পেতে পারেন।

    ৩) সবাইকে বিশ্বাস নয়।

    মকর

    ১) কর্মক্ষেত্রে উন্নতির যোগ।

    ২) সকালের দিকে কোনও দুশ্চিন্তা মাথা খারাপ করবে।

    ৩) ধর্মস্থানে ভ্রমণ।

    কুম্ভ

    ১) বিষয়-সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে গুরুজনের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে বাড়িতে বিবাদ হতে পারে।

    ২) কোনও মহিলার জন্য বাড়িতে আনন্দ বৃদ্ধি পেতে পারে।

    ৩) আশা পূরণ হবে।

    মীন

    ১) সকালের দিকে পেটের ব্যথায় কষ্ট পেতে পারেন।

    ২) কেনাকাটার জন্য খরচ বাড়তে পারে।

    ৩) ভালো-মন্দ মিশিয়ে কাটবে দিন।

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না।

  • Boroline: বোরোলিনের উত্থানের নেপথ্যে স্বদেশী আন্দোলন? জানুন অজানা কাহিনি

    Boroline: বোরোলিনের উত্থানের নেপথ্যে স্বদেশী আন্দোলন? জানুন অজানা কাহিনি

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: শীত এলেই শুষ্ক রুক্ষ ত্বকের যত্ন নিতে চাই বোরোলিন (Boroline)। ঠোঁট ফাটছে, পা ফাটছে, যে কোনও বাঙালি বাড়িতে তো বটেই, ভারতের অনেক বাড়িতেও মানুষ হতে তুলে নেবেন ‘সুরভিত অ্যান্টিসেপ্টিক ক্রিম, বোরোলিন’। প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাঙালি তথা ভারতীয়দের ঘরে ঘরে নিজের জায়গা স্থায়ী করেছে বোরোলিন (Boroline Antiseptic Cream)। মেক ইন ইন্ডিয়ার প্রতীক বোরোলিন। ভারতের জাতীয়তাবাদের প্রতীক হল বোরোলিন। শুধু শুষ্ক ত্বকের সমস্যা কেন, কাটা, ফোলা, পোড়া– ত্বকের যে কোনও সমস্যার ম্য়াজিক সমাধান এই সবুজ রঙের টিউব থেকে বেরিয়ে আসা সাদা ক্রিম।

    জাতীয়তাবাদের প্রতীক বোরোলিন

    বোরোলিনকে (Boroline) আর পাঁচটা প্রসাধনী পণ্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেললে হবে না। প্রায় একশো বছর আগে বঙ্গভঙ্গ এবং ব্রিটিশদের অত্যাচারের প্রেক্ষাপটে, ভারতের ‘আত্মনির্ভরতা’র অন্যতম প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল বোরোলিন। ১৯২৯ সালে জিডি ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন গৌরমোহন দত্ত। এটিই বোরোলিনের মাদার কোম্পানি। এক অতি সাধারণ সবুজ রঙের টিউবে প্যাকেজিং করা শুরু হয়েছিল (এখন অবশ্য কৌটোও পাওয়া যায়)। চিকিৎসা বা প্রসাধনী পণ্যের বাইরেও, বোরোলিন ছিল বিদেশি পণ্য এবং ঔপনিবেশিক শাসকদের অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিবাদের এক মাধ্যম।

    দেশীয় পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা

    গৌর মোহন দত্ত বিদেশি পণ্যের আমদানিকারক ছিলেন। কিন্তু তারপর তিনি স্বদেশী আন্দোলনে যোগ দেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে ভারতকে সাহায্য করার সর্বোত্তম উপায় হল- এটিকে আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। তাই তারা এমন পণ্য তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যা মানসম্মত বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে। কিন্তু এ কাজটা সহজ ছিল না। অনেকে তাঁর উদ্যোগের বিরোধিতা করলেও গৌর মোহন দত্ত হাল ছাড়েননি। ভারতকে স্বাধীন ও স্বনির্ভর করার স্বপ্নকে হৃদয়ে রেখে তিনি নিজ বাড়িতে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় পণ্য তৈরি শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে বোরোলিন-এর (Boroline) জনপ্রিয়তার পিছনে ছিল, দেশীয় পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা। বিদেশি পণ্যের পাশে অত্যন্ত সস্তায় পাওয়া যেত দেশেই তৈরি এই ক্রিম।

    স্বাধীনতার দিন বিনামূল্যে বোরোলিন

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় পৃথক প্যাকেজিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছিল ৷ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, যুদ্ধের কারণে যে অভাব সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময়ে প্রচলিত প্যাকেজিং না করে তখন বোরোলিন (Boroline) উপলব্ধ পাত্রে প্যাকেজ করা হয়েছিল। পণ্যের সত্যতা সম্পর্কে গ্রাহকের মনে সন্দেহ দূর করার জন্য, এই জিনিসটি প্যাকের নীচে কিছু কথা মুদ্রিত হয়েছিল। তাতে লেখা থাকত, “যুদ্ধের জরুরি অবস্থার কারণে মূল প্যাকিং পরিবর্তন করা হয়েছে, উপাদানের পরিমাণ এবং গুণমান অপরিবর্তিত রয়েছে।” সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল, এটা ছিল ভারতীয়দের জাতীয়তাবাদের প্রতীক। ১৯৪৭-এর ১৫ অগাস্ট যখন ভারত স্বাধীনতা লাভ করেছিল, সেই সময় বোরোলিনের পক্ষ থেকে প্রায় ১ লক্ষ ক্রিমের টিউব বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছিল।

    বোরোলিনের গোপন ফর্মুলা

    বোরোলিন (Boroline) শব্দের প্রথম অংশটি হল বোরো, যা বোরিক অ্যাসিড থেকে উদ্ভূত যার একটি অ্যান্টি-সেপটিক (Boroline Antiseptic Cream) বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দ্বিতীয় অংশ হল ওলিন, এই শব্দটি এসেছে ল্যাটিন শব্দ ওলিয়ন (oleon) থেকে, যার অর্থ তেল। বলা হয়ে থাকে যে, সরকারি কোষাগারের এক টাকাও কখনও এই কোম্পানির কাছে পাওনা ছিল না। ক্রিমটির ফর্মুলা কখনও গোপন রাখা হয়নি৷ প্রায়ই কোম্পানিগুলি তাদের পণ্যের ফর্মূলা গোপন রাখে যাতে অন্য কেউ একই পণ্য তৈরি করতে না পারে। কিন্তু জিডি ফার্মাসিউটিক্যালস কখনও ‘বোরোলিন’ তৈরির এই ফর্মুলা গোপন রাখেনি। বোরোলিন অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম অ্যান্টিসেপটিক বোরিক অ্যাসিড, অ্যাস্ট্রিনজেন্ট এবং সানস্ক্রিন জিংক অক্সাইড এবং ইমোলিয়েন্ট ল্যানোলিন ব্যবহার করে।

    বোরোলিনের গৌরব অক্ষুণ্ণ

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, পণ্যের প্যাকেজিং আধুনিক হয়েছে। নতুন নতুন বিজ্ঞাপন তৈরি হয়েছে। তবে, পণ্যের গুণমানের সঙ্গে কখনও আপোষ করা হয়নি। আর এভাবেই বোরোলিন (Boroline) ভারতের অন্যতম শক্তিশালী উপভোক্তা ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পার করে প্রায় ৯৬ বছর। মা-ঠাকুরমা থেকে শুরু করে জেন জি-এর যুবক-যুবতীরাও অন্ধভাবে এই সবুজ টিউবের উপর নির্ভর করে। বলা যেতে পারে, বোরোলিন বাঙালি তথা ভারতীয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। স্বাধীনতা-পূর্ব ভারতে, কাশ্মীরিরা হিমশীতল এবং শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি পেতে এটি ব্যবহার করত এবং দক্ষিণ ভারতের লোকেরা তাপ থেকে বাঁচতে এটি ব্যবহার করত। বোরোলিন প্রতিটি ত্বকের ধরনের জন্য উপযুক্ত একটি ক্রিম (Boroline Antiseptic Cream)। বাজারে প্রচুর নামী-দামি ক্রিম এসেছে, গিয়েছে। কিন্তু কেউই বোরোলিনের গৌরবকে ক্ষুণ্ণ করতে পারেনি।

  • Snack time: স্ন্যাক্স টাইম বাড়াচ্ছে বিপদ! দেশ জুড়ে শিশুদের স্থুলতা কোন বিপদ বাড়াচ্ছে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

    Snack time: স্ন্যাক্স টাইম বাড়াচ্ছে বিপদ! দেশ জুড়ে শিশুদের স্থুলতা কোন বিপদ বাড়াচ্ছে? কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

    মাধ্যাম ডেস্ক: ভারতে স্থুলতার সমস্যা ক্রমশ বাড়ছে। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, কম বয়সী কিংবা বয়স্কদের পাশপাশি শিশুদের অতিরিক্ত ওজন বাড়তি উদ্বেগ তৈরি করছে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের স্থুলতার সমস্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। শিশুদের (Childhood Obesity) দীর্ঘ সুস্থ জীবন যাপনের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে স্থুলতা। তাঁরা জানাচ্ছেন, স্থুলতা শিশুদের শরীরে নানান জটিল রোগের প্রকোপ বাড়াচ্ছে। আর এই অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বড় কারণ খাদ্যাভাস (Snack time)। বিশেষত চটজলদি জলখাবার অতিরিক্ত ওজন বাড়াচ্ছে।

    কেন স্থুলতার সমস্যা বাড়ছে?

    সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশ জুড়ে স্থুলতার সমস্যা বাড়ছে। বিশেষত শিশুদের স্থুলতার সমস্যা আরও বেশি। আর তার প্রধান কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস। তাঁরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ শিশু দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়ার পাশাপাশি জলখাবারের খাদ্যতালিকায় অধিকাংশ খাবার অস্বাস্থ্যকর থাকে। তাঁরা জানাচ্ছেন, অনেকেই সন্তানকে নিয়মিত চটজলদি খাবার দেন। ন্যুডলস, পাস্তা, বার্গারের মতো খাবার (Snack time) নিয়মিত অনেক পরিবারেই খাওয়া হয়। এই ধরনের খাবারে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালোরি যায়। আবার অনেকেই নিয়মিত কেক, পেস্ট্রি, চটলেট জাতীয় খাবার খায়। এর ফলে দেহে অতিরিক্ত ওজন বাড়ে। দুপুর কিংবা রাতের খাবারের তুলনায় অনেকে শিশুই (Childhood Obesity)  এই জলখাবার কিংবা স্ন্যাক্স টাইমের খাবারের জেরেই দেহে অতিরিক্ত ওজন বাড়ছে। যার জেরেই তারা স্থুলতার সমস্যায় ভুগছে।

    খাবারের পাশপাশি নিয়মিত পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম না হওয়ার জেরেও শিশুদের দেহে অতিরিক্ত মেদ জমছে। মাঠে দৌড়ানো কিংবা সাঁতার কাটা, অথবা ফুটবল, ক্রিকেট খেলার মতো নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম খুব কম শিশুই নিয়মিত করে। এর ফলে ক্যালোরি বার্ন করার সুযোগ ও কম থাকে। এর জেরেই স্থুলতার সমস্যা আরও কাবু করছে‌।

    কেন উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, বয়স বাড়লে অনেকেই অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় (Snack time) ভোগেন। যার ফলে ডায়বেটিস, হৃদরোগ, লিভারের সমস্যার মতো নানান জটিল সমস্যা দেখা যায়। তার সঙ্গে হাঁটু ও কোমড়ের হাড়ের ক্ষয় রোগের মতো বিপদ ও দেহের অতিরিক্ত ওজনের ফলে তৈরি হয়‌। কিন্তু একজন শিশুর স্থুলতার সমস্যা দেখা দিলে খুব ছোটো বয়স থেকেই তার দেহে এই ধরনের জটিল রোগ দেখা দেবে। এর ফলে তার স্বাভাবিক জীবন যাপন আরও বেশি কঠিন হয়ে যাবে। তাঁরা জানাচ্ছেন, শিশুদের মধ্যে টাইপ টু ডায়াবেটিস আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে‌। আর তার অন্যতম কারণ স্থুলতা। পাশপাশি কম বয়সী ছেলেমেয়েদের মধ্যেও উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের সমস্যা তৈরি হচ্ছে। দেহের অতিরিক্ত ওজন তার অন্যতম কারণ। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, অতিরিক্ত ওজন হলে কাজের প্রতি অনিহা তৈরি করে। সবসময় ক্লান্তিবোধ গ্রাস করে। অনেক সময়েই অতিরিক্ত ওজনের জন্য শিশু (Childhood Obesity) নিয়মিত পড়াশোনা কিংবা স্কুলের কাজ করতে পারে না। এর ফলে তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের অভাব ও দেখা যায়। শিশুদের এই স্থুলতার সমস্যার প্রভাব হয় সুদূরপ্রসারী। তাই এই সমস্যা বৃদ্ধির জেরে উদ্বিগ্ন চিকিৎসক মহল।

    কী পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা?

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছেন, শিশুকে (Childhood Obesity) প্রথম থেকেই স্বাস্থ্যকর খাবার অভ্যস্থ করতে হবে। তার সঙ্গে পরিমিত খাবারের ধারণা ও দিতে হবে। অনেক সময়েই অতিরিক্ত পরিমাণ খাওয়ার জেরেই নানান শারীরিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ভাত কিংবা রুটির (Snack time) সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে সব্জি, মাছ নিয়মিত খেতে হবে। পুষ্টিবিদদের একাংশের পরামর্শ, জলখাবারের তালিকায় দুধ-কর্নফ্লেক্স, রুটি তরকারি ডিম সিদ্ধ কিংবা ডাল জাতীয় খাবার রাখতে হবে। মটর কিংবা ছোলা জাতীয় দানা শস্য ও বাড়িতে নানান পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়া যেতে পারে। তার সঙ্গে নিয়মিত নানান রকমের ফল খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তাহলে খাবার একঘেয়ে লাগবে না। আবার তার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পুষ্টি শরীর পাবে। আর শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মিষ্টি জাতীয় খাবারে রাশ টানা জরুরি। তার সঙ্গে নিয়মিত শারীরিক কসরতের অভ্যাস তৈরি করতে হবে। তাহলেই শরীর সুস্থ থাকবে। অতিরিক্ত মেদ ঝরবে। স্থুলতার ঝুঁকিও কমবে।

LinkedIn
Share