Blog

  • West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    West Bengal Assembly Election: শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়নপত্র পেশ শুভেন্দুর, বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে কালীঘাটে ধুন্ধুমার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: নন্দীগ্রামে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আগেই। তার পর বৃহস্পতিবার দুুপুরে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাজ্যের বিদায়ী বিরোধী দলনেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে সঙ্গে নিয়ে মনোনয়ন পেশ করলেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সঙ্গে ছিলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। ছিলেন রাসবিহারী ও  বালিগঞ্জ কেন্দ্রের কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরাও। মনোনয়নপত্র (West Bengal Assembly Election) জমা দিয়েই শাহকে প্রণাম করে এই কেন্দ্রে জয়ের জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নেন শুভেন্দু৷

    হাজরা মোড় থেকে শুরু রোড-শো

    এদিন শুভেন্দুর মনোনয়নপত্র পেশ উপলক্ষে রোড-শো শুরু হয় হাজরা মোড় থেকে। রোড-শোয়ের গাড়িতে শুভেন্দুর সঙ্গে ছিলেন অমিত শাহ-ও। তার আগে, হাজরা মোড়ে দলীয় নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা দেন শাহ। ভবানীপুরবাসীর উদ্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাতজোড় করে আপনাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন।” বক্তৃতার পর হাজরা মোড় থেকে শুরু হয় বিজেপির এই মেগা রোড শো৷

    বিজয় সংকল্প সভা

    শোভাযাত্রার নাম দেওয়া হয় বিজয় সংকল্প সভা৷ বিরাট ট্যাবলো গাড়ি করে তাতে সওয়ার হন শুভেন্দু অধিকারী৷ তাঁর পাশে আগাগোড়া ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ৷ তাঁরা গোলাপ ফুল ছড়াতে ছড়াতে এগিয়ে যান আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে৷ ট্যাবলোয় ছিলেন রাসবিহারী বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্ত এবং বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রর বিজেপি প্রার্থী শতরূপাও৷ শুভেন্দু অধিকারীর এই মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড়ে এদিন ছিল উপচে পড়া ভিড়৷ গেরুয়া ঝান্ডায় ছেয়ে যায় এলাকা৷ বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো৷ ‘ভারত মাতা কী জয়’ স্লোগান সহযোগে কর্মী সমর্থকদের নিয়ে রোড শো এগিয়ে যায়৷

    কালীঘাটে রোড-শো পৌঁছোতেই উত্তেজনা 

    শুভেন্দুর মনোনয়ন পেশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতির কারণে আলিপুর ও ভবানীপুর চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মোতায়েন ছিল র‍্যাফ ও প্রচুর সংখ্যক পুলিশ কর্মী (West Bengal Assembly Election)। তা সত্ত্বেও, কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে দিয়ে বিজেপির মিছিল যাওয়ার সময় তৈরি হয় উত্তেজনা। বিজেপির রোড শোকে লক্ষ্য করে পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা৷ স্লোগান ও পাল্টা স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা৷ যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন ছিল পুলিশ৷

    প্রচারগাড়ি থেকে নেমে পড়েন অমিত শাহ

    বিজেপির দাবি, অমিত শাহ-শুভেন্দুর রোড-শো যে পথ দিয়ে এগোনোর কথা, কালীঘাটে সেই পথের ধারে জড়ো হন তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির গলির মুখে জমায়েতও করেন তাঁরা। মুহুর্মুহু দেওয়া হয় স্লোগান। তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের  সঙ্গে বচসা, তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। হাতাহাতিও হয়। তৃণমূল এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে রোড শোয়ের প্রচারগাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে চেপে সার্ভে বিল্ডিংয়ের দিকে রওনা দেন শাহ এবং শুভেন্দু। কিন্তু পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এর পর সার্ভে  বিল্ডিংয়ের কাছে মাইক বাজানো নিয়েও শুরু হয় বিবাদ। জানা গিয়েছে, এদিন সার্ভে বিল্ডিংয়ের কাছে জড়ো হওয়া তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা আচমকাই হামলা চালায় বিজেপির মিছিলে। জখম হন এক বিজেপি কর্মী। তাঁর চোখে আঘাত লেগেছে।  সেখানেও পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খেতে দেখা যায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে।

    রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ভবানীপুরের এই উত্তাপ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনগুলোতে এই কেন্দ্রে লড়াই হতে চলেছে অত্যন্ত সেয়ানে সেয়ানে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম দুই কেন্দ্রেই (West Bengal Assembly Election) লড়ছেন শুভেন্দু। তিনি কি আরও একবার ‘জায়ান্ট কিলারে’র তকমা পাবেন? উঠছে প্রশ্ন।

  • Artemis-II: পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা! চার মহাকাশচারীকে নিয়ে আর্টেমিস ২-এর সফল উৎক্ষেপণ

    Artemis-II: পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাল নাসা! চার মহাকাশচারীকে নিয়ে আর্টেমিস ২-এর সফল উৎক্ষেপণ

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ দশক পরে চাঁদে মানুষ পাঠাচ্ছে আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসা। চাঁদের উদ্দেশে পাড়ি দিল নাসার মহাকাশ-যান। আমেরিকার তিন এবং কানাডার এক মহাকাশচারীকে নিয়ে রওনা দিল ‘আর্টিমিস ২’। ৫৪ বছর পর আবারও পৃথিবীর কক্ষপথ ছেড়ে গভীর মহাকাশে পা রাখল মানুষ। ‘ইন্টেগ্রিটি’ ক্যাপসুলে যাত্রা শুরু করেছে নাসার ঐতিহাসিক আর্টেমিস-২ মিশন (Artemis-II)। ১৯৭২ সালের অ্যাপোলো-১৭ (Apollo 17 mission)-এর পর এটাই প্রথম মানববাহী মিশন যা চাঁদের পথে রওনা দিল। ২ এপ্রিল ভোর ৩:৫৪ মিনিটে (ভারতীয় সময়) ফ্লরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে বিশাল এসএলএস রকেটটিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। পুরো উৎক্ষেপণের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা গিয়েছে, চারজন মহাকাশচারীই নিরাপদে পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছেছেন।

    কারা পাড়ি দিলেন?

    • রিড ওয়াইসম্যান (কমান্ডার): প্রাক্তন নৌসেনা পাইলট। ১৬৫ দিন মহাকাশে কাটানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
    • ভিক্টর গ্লোভার (পাইলট): নাসার ক্রু-১ অভিযানে সামিল হয়েছিলেন।
    • ক্রিস্টিনা কচ (অভিযান বিশেষজ্ঞ): মহিলা হিসাবে সবচেয়ে বেশি সময় স্পেসফ্লাইট চালিয়েছেন।
    • জেরেমি হানসেন: কানাডিয়ান মহাকাশ সংস্থার মহাকাশচারী। প্রথম বার মহাকাশে পাড়ি দিচ্ছেন।

    একটি ১০-দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান

    এই চারজন এখন ওরিয়ন ক্যাপসুলে বসে চাঁদের দিকে এগিয়ে চলেছেন। এই মহাকাশচারীরা মূলত চাঁদের একটি ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য যাচ্ছেন। আর্টেমিস-২ মিশন কোনও অবতরণ অভিযান নয়। এটি একটি ১০-দিনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মহাকাশচারীরা ঘণ্টায় প্রায় ৯৬০০ কিলোমিটার বেগে চাঁদের খুব কাছ দিয়ে ভ্রমণ করবে, চাঁদকে প্রদক্ষিণ করবে এবং তারপর পৃথিবীতে ফিরে আসবে। ফেরার পথে ওরিয়ন ঘণ্টায় ৪০,০০০ কিলোমিটার গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে। এই সময়ে ওরিয়ন ক্যাপসুলের গভীর মহাকাশে চলার ক্ষমতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপ নিরোধক ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে।

    চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির প্রস্তুতি

    এর আগে শেষবার ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদে নভশ্চরদের পাঠানো হয়। ওই অভিযানের পর এবারই প্রথম নতুন করে মানুষ্যবাহী যান চাঁদের অভিমুখে যাত্রা করল। এই মিশনের সাফল্যের পর, নাসার আর্টেমিস-৩ চাঁদে মানুষ অবতরণ করবে। পাশাপাশি চাঁদে মানুষের স্থায়ী ঘাঁটি তৈরির যাবতীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এমনকি পরবর্তীতে মঙ্গল অভিযানের ভিত্তিও তৈরি হচ্ছে এই মিশনের মাধ্যমেই।

    ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার পথ ভ্রমণ

    নাসা এই বিষয়টি নিয়ে একটি রিল আপলোড করেছে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রামে। সেখানে একটি গ্রাফিক্স ভিডিওর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে পুরো বিষয়টি। সেখানে দেখা গিয়েছে উৎক্ষেপণের পর প্রথমে পৃথিবীর চারপাশে ঘুরবে ওরিয়ন স্পেসক্রাফ্ট। তারপর সেটি চাঁদের কাছাকাছি পৌঁছে ফের ভূপৃষ্ঠে ফিরে আসবে। ওই রিলের ডেসক্রিপশনে নাসা লিখেছে, “আমাদের আর্টেমিস-২ ক্রু চাঁদের আশপাশে যাচ্ছে…কিন্তু তাঁরা সবসময় ঘরে ফিরে আসার পথ খুঁজবেন।” এরপর একটি পৃথিবীর ইমোজি ব্যবহার করা হয়েছে। নাসা জানিয়েছে, চার জন ক্রু সদস্য ৬ লক্ষ ৮৫ হাজার মাইল ভ্রমণ করবেন।

    মহাকাশচারীরা কী কী খাবেন

    মহাকাশচারীরা কী কী খাবেন তাও জানিয়েছে নাসা (NASA)৷ তাঁদের সঙ্গে থাকবে, কফি, গ্রিন-টি, ম্যাঙ্গো-পিচ স্মুদি, ভ্যানিলা ব্রেকফাস্ট ড্রিঙ্ক, গমের রুটি, ব্রেকফাস্ট সসেজ, ম্যাঙ্গো স্যালাড, আমন্ড, ফুলকপি ইত্যাদি৷

    মহাকাশচারীদের কমলা রঙের পোশাক কেন

    কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সি (সিএসএ) থেকে পাওয়া নভশ্চরদের ছবিতে অনেকের কাছেই প্রথম যে বিষয়টি চোখে পড়েছে তা হলো তাদের উজ্জ্বল কমলা রঙের পোশাক। এই রঙটির আনুষ্ঠানিক নাম ইন্টারন্যাশনাল অরেঞ্জ – যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ডেন গেট ব্রিজের কুয়াশারোধী আবরণের রঙের মতোই। এর মূল উদ্দেশ্য হলো নিখুঁত দৃষ্টি তৈরি করা। বিশাল, অন্ধকার সমুদ্রে, ক্যাপসুলটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে এই প্রতিফলক কমলা রঙ উদ্ধারকারী বাহিনীকে মুহূর্তের মধ্যেমহাকাশচারীদের সহজে খুঁজে পেতে সাহায্য করবে। নাসার মতে, এর আলোকীয় কার্যকারিতা ছাড়াও, এই অভিযানে নভোচারীদের পরিহিত কমলা রঙের পোশাকটি ওরিয়ন ক্রু সারভাইভাল সিস্টেম (OCSS) নামেও পরিচিত। এই স্পেসস্যুটটি প্রত্যেক মহাকাশচারীর শরীরে নিখুঁতভাবে ফিট হওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে এবং এটি এমন সব প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত যা উৎক্ষেপণের দিনে, জরুরি পরিস্থিতিতে, চাঁদের কাছাকাছি উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের সময় নভশ্চরদের সুরক্ষা দেয় এবং পৃথিবীতে দ্রুত প্রত্যাবর্তনে সহায়তা করে। এছাড়াও, নাসার মতে, যদি গভীর মহাকাশে কোনো ক্ষুদ্র উল্কাপিণ্ডের আঘাতে ওরিয়ন মহাকাশযানের ক্যাপসুলটি হঠাৎ ছিদ্র হয়ে যায় এবং এর ভেতরের চাপ সম্পূর্ণ চলে যায়, তাহলে ওসিএসএস স্যুটটি সঙ্গে সঙ্গে স্ফীত হয়ে একটি ব্যক্তিগত জীবনরক্ষাকারী ক্যাপসুলে পরিণত হবে। এতে একটি স্বাধীন অক্সিজেন সরবরাহ, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রয়েছে, যা মহাকাশযানটি পৃথিবীতে ফিরে না আসা পর্যন্ত শূন্যস্থানে টানা ছয় দিন নভোচারীদের জীবন টিকিয়ে রাখতে সক্ষম।

    চাঁদের সব থেকে দূরবর্তী অংশে মহাকাশচারীরা

    চার জনের মহাকাশচারী দলটি এখন বেশ কয়েকদিন ধরে চাঁদের দিকে নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রাখবে। তারা চাঁদের সব থেকে দূরবর্তী অংশের উপর দিয়েও যাবে, যেখানে পৃথিবীর সঙ্গে রেডিও কানেকশন সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। এই যাত্রাপথে বেশ কিছু বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো হবে। প্রায় ১০ দিন পর, ওরিয়ন ক্যাপসুলটি প্যারাসুটের সাহায্যে প্রশান্ত মহাসাগরে অবতরণ করবে। এর আগে একাধিকবার আর্টেমিস ২ (Artemis II) মিশন বাতিল হয়ে যায় ৷ মূলত প্রতিকূল আবহাওয়া তারমধ্যে অন্যতম কারণ ছিল ৷ লঞ্চ প্যাডের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের কাছাকাছি নেমে গিয়েছিল ৷ সেই কারণে বাতিল হয় এই অভিযান ৷ এর সঙ্গে যান্ত্রিক গোলযোগও ছিল ৷ তবে এবার উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে৷

  • Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    Pratik Jain: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাক যোগ! প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে তলব ইডির

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় আইপ্যাকের (I-PAC) যোগ থাকার অভিযোগে তদন্ত জোরদার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই মামলায় আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন এবং ঋষিরাজ সিংকে দিল্লিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। কলকাতায় সিবিআই এবং ইডির অফিস তদন্তের জন‍্য সুরক্ষিত নয়। ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ‍্য প্রমাণ। তাই আইপ্যাকের কর্ণধার ও এক কর্তাকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য দিল্লিতে ডাকা হয়েছে, বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

    কেন দিল্লিতে তলব, জানাল ইডি

    গত ৮ জানুয়ারি ইডি আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই উপস্থিতিকে ‘তদন্তে বাধা’ হিসেবে দেখিয়ে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের করেছে ইডি, যার শুনানি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে চলছে। এরই মধ্যে দিল্লি হাইকোর্টে ইডি দাবি করেছে যে কলকাতায় সিবিআই ও ইডির অফিস তদন্তের জন্য নিরাপদ নয়। তাদের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রমাণ ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে। এই সংক্রান্ত একটি মামলা বুধবার বিচারপতি অনুপ জয়রাম ভামবানির বেঞ্চে ওঠে। শুনানিতে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এস.ভি. রাজু আইপ্যাক অফিসে অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রীর ‘বাধা দেওয়ার’ অভিযোগ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।

    নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা

    অন্যদিকে, প্রতীক জৈন ও ঋষিরাজ সিং দিল্লিতে হাজিরার সমনের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁরা বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর নির্বাচনী কৌশল তৈরির কাজে ব্যস্ত, তাই দিল্লিতে না গিয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বা কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে ইডি এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করে জানায়, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নথির গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, পাঁচ বছর ধরে চলা এই তদন্তে এখনই কেন জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। পাশাপাশি কলকাতায় জিজ্ঞাসাবাদ সম্ভব নয় কেন—এই বিষয়ে ইডিকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইডির তরফে জানানো হয়েছে, ২ এপ্রিলের পর কোনও একদিন প্রতীক জৈনকে দিল্লির অফিসে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে।

  • Amit Shah: “মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে”, হাজরার সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

    Amit Shah: “মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে”, হাজরার সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের ভোট প্রচারে (West Bengal Elections 2026) ভবানীপুরে নেমে পড়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বিজেপির হাইভোল্টেজ পদপ্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন করেছেন। একই ভাবে এই কেন্দ্রে তৃণমূলের পক্ষে লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই বেশ জমজমাট। বিজেপির তরফে অবশ্য জয় নিয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী। বৃহস্পতিবার হাজরা মোড়ে রাজ্যের তৃণমূলের শাসনের একাধিক বঞ্চনার কথা তুলে ধরে তোপ দেগেছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না? আমি হাত জোড় করে আমাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল জনমতে জয়ী করুন।”

    মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেন (Amit Shah)

    এদিন সকাল ১১ টা ৫০ মিনিটে হাজরায় সভা করেন অমিত শাহ (Amit Shah)। আপাতত নির্বাচনের জন্য ১৫ দিন সময় দেবেন বিজেপির এই প্রবীণ নেতা। বাংলাকে জয় করতেই হজবে। তিনি তাই জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের শুভেন্দুদা নন্দীগ্রাম থেকে লড়তে চাইছিলেন। আমি শুভেন্দুদাকে বললাম, শুধু নন্দীগ্রাম নয়। মমতার ঘরে ঢুকে তাঁকে হারাতে হবে। আর ওনার তো রেকর্ড আছেই। গত ভোটে মমতা পশ্চিমবঙ্গে সরকার তো গড়েছিলেন, কিন্তু নন্দীগ্রামে শুভেন্দুদার কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এ বার মমতা গোটা রাজ্যে তো হারবেনই, ভবানীপুরেও হারবেন (West Bengal Elections 2026)।”

    উল্লেখ্য গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজে প্রার্থী হিসেবে হারলেও ক্ষমতায় বসে দল তৃণমূল। এই বার মমতার কেন্দ্রে হারিয়ে রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চাইছে বিজেপি। মমতাকে নিজের কেন্দ্রে ব্যাস্ত করে বাকি বিধানসভাগুলিতে বাজিমাত করা বিজেপির এখন বিশেষ কৌশল। তাই তৃণমূলকে শাসন ক্ষমতা থেকে সরিয়ে বিজেপির সরকার গঠনের জন্যই ভোট চাইতে ময়দানে নেমে পড়েছেন শুভেন্দু।

    আমরা ১৭০ আসনে পৌঁছোব

    এই নির্বাচনে (West Bengal Elections 2026) ১৭০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা আগেই বেঁধে দিয়েছিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। এদিন মমতার পাড়ায় সভা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “একটা একটা করে আসন জিতে আমরা ১৭০ আসনে পৌঁছোব। তবেই তো পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমার কাছে শর্টকাট আছে। ভবানীপুরবাসী একটি আসন জেতালেই পরিবর্তন নিজে থেকেই হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হতে হবে। মোদিজির নেতৃত্বে এখানে বিজেপির সরকার তৈরি করতে হবে। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তকে সিল করে এ রাজ্য এবং গোটা দেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বেছে বেছে দেশ থেকে তাড়াতে হবে।”

    মমতাকে টাটা বাইবাই করে দিন

    হাজরার মঞ্চ থেকে বক্তৃতা করছেন অমিত শাহ (Amit Shah)। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ১৫ দিন আমি এ রাজ্যেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অনেক সুযোগ পাব। আজ আমাদের প্রার্থীদের, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য আমি এসেছি। আজ এসেছি মনোনয়ন পত্র জমা করতে। মমতাকে টাটা বাইবাই করে দিন। যারা তৃণমূল শাসনে তোলাবাজি, গুণ্ডাগিরি, নারী সুরক্ষা, অনুপ্রবেশ, গোলা বন্দুক বোমাবাজির শিকার হয়েছেন তাঁদের বলব এই সব ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্তি চাইলে বিজেপিকে ভোট দিতে হবে। বাংলার মানুষের পরিবর্তন দরকার। ভাবানীপুর (West Bengal Elections 2026) থেকে শুভেন্দু অধিকারী, রাসবিহারী থেকে ডক্টর স্বপ্ন দাসগুপ্ত, বালিগঞ্জএ শতরূপা বোস, চৌরঙ্গী থেকে সন্তোষ পাঠককে বিশেষ ভাবে শুভেচ্ছা জানাই।

    কেন পাখির চোখ ভবানীপুর? 

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের চারণভূমি হওয়ায় এই কেন্দ্রটিকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। শাহের এই মন্তব্য মূলত দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধি করার একটি কৌশল। তিনি কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন, যেন প্রতিটি বুথ স্তরে পৌঁছে মানুষের কাছে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুফল এবং রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হয়। রাজ্য রাজনীতির এই হাই-ভোল্টেজ লড়াইয়ে ভবানীপুর যে আগামী দিনে মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বার্তায় তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রকে পাখির চোখ করে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে এক বিশেষ বার্তা দিয়েছেন তিনি। শাহের দাবি, বিজেপি যদি ভবানীপুর কেন্দ্রে জয়লাভ করতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ দখল করা কেবল সময়ের অপেক্ষা।

  • Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    Supreme Court: কালিয়াচক নিয়ে কড়া সুপ্রিম কোর্ট, সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্ত, শোকজ মুখ্যসচিব সহ চারজনকে

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বিক্ষোভের নামে মালদার কালিয়াচকে গ্রামবাসীর হাতে তিন মহিলা সহ সাত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকের বন্দি হওয়ার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। সাত বিচারককে প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রাখার ঘটনায় যারপরনাই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ মালদার ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর ‘নির্লজ্জ হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে চরম বিরক্তি প্রকাশ করেছে। একইসঙ্গে, বিষয়টিকে ‘কর্তব্যে গাফিলতির চরম নির্দশন’ উল্লেখ করে সিবিআই বা এনআইএকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি, রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, মালদার পুলিশ সুপার ও জেলাশাসককে শোকজও করেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

    ঠিক কী ঘটেছিল কালিয়াচকে?

    এসআইআর- এর তালিকায় নাম নেই, এর প্রতিবাদে বুধবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মালদার কালিয়াচকের মোথাবাড়ি। কিন্তু বেলা বাড়তেই পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। জনরোষ আছড়ে পড়ে এসআইআরের কাজে যাওয়া বিচারকদের উপর। যার জেরে রাতদুপুরে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে মালদার কালিয়াচক। বিক্ষোভকারী জনতা দীর্ঘক্ষণ ধরে কালিয়াচক ২ বিডিও অফিসে আটকে রাখেন সাতজন জুডিশিয়াল অফিসারকে। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত কালিয়াচকে দীর্ঘক্ষণ ধরে আটকে রাখা হয়েছিল তিন মহিলা সহ সাত বিচারককে। বেলা যত গড়াতে থাকে (Kaliachak Incident), ততই লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে এলাকা। প্রায় ১০ ঘণ্টা পর মধ্যরাতের পরে পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে ওই বিচারকদের। এমনকী, উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। ঘটনাটি কমিশন কলকাতা হাইকোর্টকে জানালে, হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টকে অবগত করে।

    “নির্লজ্জ হামলা’, সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”

    আজ, বৃহস্পতিবার বিষয়টি আনা হয় সুপ্রিম কোর্টের গোচরে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চেই উত্থাপিত হয় এই বিষয়টি। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই ঘটনাকে বিচার ব্যবস্থার ওপর একটি ‘নির্লজ্জ হামলা’ এবং আদালতের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট ভাষায় জানান, এটি কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং বিচারাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া থামিয়ে দিতে এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দিতে এটি একটি সুপরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য, “আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।” সুপ্রিম কোর্ট সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিচারকদের ওপর মনস্তাত্ত্বিক হামলা চালিয়ে আইনের শাসনকে বুড়ো আঙুল দেখানো কাউকেই বরদাস্ত করা হবে না এবং প্রয়োজনে একে ‘ক্রিমিনাল কনটেম্পট’ বা ফৌজদারি আদালত অবমাননা হিসেবে গণ্য করা হবে।

    প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)

    কালিয়াচকের ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের আচরণে অত্যন্ত বিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। গতকাল রাতে আমাদের মধ্যে কয়েকজনকে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে জানানো হয় যে, মালদা জেলার কালিয়াচক এলাকায় তিন মহিলা-সহ মোট সাতজন বিচারককে দুষ্কৃতীরা ঘেরাও করে রেখেছিল। ঘেরাও শুরু হয়েছিল বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে।” ঘটনাপ্রবাহের বর্ণনা প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন (Supreme Court), “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি তাঁর চিঠিতে জানান, জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার—কেউই ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে নিজে থেকেই রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে ফোন করতে হয়েছিল।”

    “সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ”

    প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “এই ঘটনা কোনও অপরাধের থেকে কম নয়। আমরা কাউকে আইন নিজের হাতে তুলে নিতে দেব না। পশ্চিমবঙ্গ সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করেনি। তাদের গাফিলতির প্রমাণ এতে রয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের যোগাযোগ করার পরেও কেন তারা কোনও পদক্ষেপ করলেন না সে বিষয়ে তাদের জবাব দিতে হবে।” শুধু তাই নয়, পশ্চিমবঙ্গকে ‘মোস্ট পোলারাইজড স্টেট’ বলে উল্লেখ করেছে সুপ্রিম কোর্ট৷ প্রধান বিচারপতি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত আপনার রাজ্যে সবাই রাজনীতির ভাষায় কথা বলেন। সব থেকে পোলারাইজড রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ। আপনি কী ভাবছেন কারা এসব করছে আমরা বুঝি না? আমরা রাত দুটো পর্যন্ত সব কিছুর উপর নজর রেখেছি। খুব খুব দুঃখজনক ঘটনা।”

    কী বললেন প্রধান বিচারপতি 

    প্রধান বিচারপতি এও বলেন, “অন্যান্য সিনিয়র বিচারপতিরা যোগাযোগ রাখছিলেন। রাত বারোটার পর তাঁরা মুক্ত হন। পরে যখন তাঁরা বাড়ি ফিরছিলেন, তখনও তাঁদের গাড়িতে লাঠি দিয়ে মারা হয়, ছোড়া হয় পাথরও।” নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে ডিস্ট্রিক্ট জাজদের নির্দেশও দেন প্রধান বিচারপতি (Kaliachak Incident)। এদিন বিরক্ত প্রকাশ করে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “এই ঘটনায় প্রশাসনের আরও নজরদারির প্রয়োজন ছিল।”  গোটা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিশনের ওপরই আস্থা রাখে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বাগচী বলেন, “কমিশনকে প্রয়োজনীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।”  নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে শীর্ষ আদালতের পরামর্শ, রাজ্য প্রশাসনকে এই জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজ যাতে মসৃণভাবে হয় তা সুনিশ্চিত করতে সবরকম পদক্ষেপ করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন এই ঘটনা জুডিশিয়াল অফিসারদের ওপর ব্যাপক ভয়ের প্রভাব ফেলবে। আমরা প্রধান বিচারপতির চিঠি দেখে অত্যন্ত হতাশ (Supreme Court)।”

    রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ

    প্রধান বিচারপতি বলেন, “এর আগে নির্দেশ দিয়ে আমরা বলেছিলাম, এসআইআর প্রক্রিয়ায় আপত্তি নিষ্পত্তির দায়িত্ব বিচারকদের দেওয়া হয়েছিল। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এই ঘটনা রাজ্য সরকারের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার উদাহরণ। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের জানাতে হবে, কেন বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও তাঁরা বিচারকদের নিরাপদে সরিয়ে (Kaliachak Incident) নেওয়ার ব্যবস্থা করেননি?” পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত, মালদার জেলাশাসক রাজনবীর সিং কপূর, মালদা পুলিশ সুপার অনুপম সিংকে শোকজের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। তাঁর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। আগামী সোমবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট। ওই দিন শুনানিতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে হাজির থাকতে হবে এই চারজনকে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ— ঘটনার তদন্ত সিবিআই কিংবা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে করাতে হবে। যে সংস্থার উপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হবে, তারা সরাসরি এই আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিতে বাধ্য থাকবে। শুধু তাই নয়। পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়ে সেগুলি সেই সব জায়গায় মোতায়েন করতে হবে, যেখানে বিচারকেরা আপত্তি নিষ্পত্তির কাজ করছেন।

  • Bangladeshi: ভোট আবহে জলপাইগুড়িতে ১৪ বাংলাদেশিকে ধরল আরপিএফ, উদ্ধার জাল আধার ও বিদেশি মুদ্রা

    Bangladeshi: ভোট আবহে জলপাইগুড়িতে ১৪ বাংলাদেশিকে ধরল আরপিএফ, উদ্ধার জাল আধার ও বিদেশি মুদ্রা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে দিল্লিগামী নর্থ-ইস্ট এক্সপ্রেস থেকে চারজন মহিলা এবং চারজন শিশুসহ মোট ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স বা আরপিএফ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে জাল আধার (Fake Aadhaar Card) এবং আরও নথি। উদ্ধার হয়েছে বিদেশি মুদ্রাও।

    ট্রেনের রুটিন তল্লাশির সময় আটক (Bangladeshi)

    সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ধৃত বাংলাদেশিদের (Bangladeshi) কাছ থেকে জাল আধার কার্ড এবং মালয়েশিয়ান মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। আরপিএফ ইন্সপেক্টর বিপ্লব দত্ত জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এবং ট্রেনের রুটিন তল্লাশির সময় এই ব্যক্তিদের আটক করা হয়। সন্দেহজনক আচরণের কারণে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এবং নথিপত্র পরীক্ষা করলে দেখা যায় যে তাদের আধার কার্ডগুলো জাল। তদন্তে জানা গেছে, ধৃতরা সকলেই বাংলাদেশের নাগরিক এবং কাজের সন্ধানে কাশ্মীর যাচ্ছিলেন। এই ঘটনায় ৫ জন পুরুষ, ৫ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশুকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া আধার কার্ডগুলো আসল নাকি বেআইনিভাবে (Fake Aadhaar Card) তৈরি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার জন্য বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।

    ভুয়ো মেডিকেল ভিসা ব্যবহার

    উল্লেখ্য, সম্প্রতি অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। গত ১৩ মার্চ ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশের ফরেনার্স সেল, যারা ভুয়ো মেডিক্যাল ভিসা ব্যবহার করে ভারতে অবস্থান করছিল। বর্তমানে জলপাইগুড়িতে ধৃত এই ১৪ জনের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই অভিযানের জন্য ফরেনার সেলের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছিল। একটি বিশেষ যাচাই অভিযান চলাকালে দলটি কিছু বাংলাদেশি নাগরিক (Bangladeshi) সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পায়, যারা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আরও জানা গেছে যে, ভারতে থাকার জন্য কোনও বৈধ কাগজপত্র (Fake Aadhaar Card) না থাকা সত্ত্বেও এই ব্যক্তিরা বুলগেরিয়ার জন্য মেডিক্যাল ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।

  • Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    Maoist Attack Plot: ওড়িশায় মাওবাদী হামলার ছক ভেস্তে দিল পুলিশ, উদ্ধার প্রচুর অস্ত্র

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মাও দমনে ফের মিলল বড় ধরনের সাফল্য। ওডিশার (Odisha) কন্ধমাল জেলায় একটি বড় মাওবাদী হামলার (Maoist Attack Plot) পরিকল্পনা ভেস্তে দিল নিরাপত্তা বাহিনী। ডারিংবাড়ি থানার অধীনে একটি বনাঞ্চলের গোপন গুহা থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক।

    নকশালবিরোধী অভিযান (Maoist Attack Plot)

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (SOG) এবং ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ফোর্স (DVF) যৌথভাবে পাকরি, বাবুটি, জামাবাড়ি এবং মাতাবাড়ি গ্রাম-সহ বিভিন্ন এলাকায় নকশালবিরোধী অভিযান শুরু করে। ৩০ মার্চ তল্লাশি অভিযানের সময় নিরাপত্তা কর্মীরা মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে একটি গোপন গুহা আবিষ্কার করেন, যেখানে মাওবাদীরা অস্ত্র ও লজিস্টিক সামগ্রী মজুত করত।

    উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের পরিমাণ

    উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র। এগুলি হল— একটি এসএলআর রাইফেল, একটি .৩০৩ রাইফেল, দুটি ১২-বোর বন্দুক, দুটি এসবিজিএল (SBGL) রাইফেল এবং একটি দেশি অস্ত্র। এর সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দুটি ম্যাগাজিন এবং ৭৯ রাউন্ড গুলিও। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ১০টি এসবিজিএল গ্রেনেড, ৩০টি ইলেকট্রিক ডিটোনেটর এবং কিছু বিস্ফোরক পদার্থ (কোডেক্স)। এই মজুত ভান্ডারই ইঙ্গিত দেয় মাওবাদীরা বড় ধরনের কোনও নাশকতার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে পাঁচটি ওয়াকি-টকি, তিনটি সোলার প্যানেল, দুটি টর্চলাইট, খাদ্যসামগ্রী, ওষুধ, বাসনপত্র এবং মাওবাদী পুস্তিকা। পুলিশের সন্দেহ, এই মজুত করা সামগ্রী নাশকতামূলক কার্যকলাপ চালানোর উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল।

    চলছে জোরদার তল্লাশি অভিযান

    বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার অভিযানের পর আশপাশের বনাঞ্চলে জোরদার করা হয়েছে তল্লাশি অভিযান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত প্রায় ন’জন মাওবাদী, যার মধ্যে দু’জন পুরুষ এবং সাতজন মহিলা—এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। মাওবাদী নেত্রী শীলা, যিনি (Odisha) এই অঞ্চলে সক্রিয় বলে মনে করা হচ্ছে, তাঁর মাথার দাম ২৭ লাখ টাকা ঘোষণা করা হয়েছে (Maoist Attack Plot)। কান্ধামালের পুলিশ সুপার হরিশ বিশি জানান, রাইকিয়া এবং ডারিংবাড়ির সীমান্তবর্তী বনাঞ্চলে বড় পরিসরে মাওবাদীবিরোধী অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “এই অভিযানে আমরা ২৮টি দল মোতায়েন করেছি। গোপন অস্ত্রভান্ডারের তথ্যের ভিত্তিতে এসওজি এবং ডিভিএফে যৌথ দল তল্লাশি চালিয়ে মাতাবাড়ি গ্রামের কাছে বড়সড় মাওবাদী অস্ত্রভান্ডার উদ্ধার করেছে।”

    পুলিশ কর্তার বক্তব্য

    পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানান, ওডিশা প্রায় মাওবাদী-মুক্ত অবস্থার দিকে এগোচ্ছে।  এডিজি (নকশালবিরোধী অভিযান) সঞ্জীব পান্ডা বলেন, “নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের ফলে রাজ্যে মাওবাদী কার্যকলাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।” তিনি জানান, ইতিমধ্যেই আটটি জেলাকে মাওবাদী-মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে পরিস্থিতির (Maoist Attack Plot)।তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ২৭ জন মাওবাদীকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, ১২০ জন আত্মসমর্পণ করেছে, গ্রেফতার করা হয়েছে ৯ জনকে। তবে তিনি দীর্ঘদিনের এই সংঘর্ষের গুরুত্ব স্বীকার করে জানান, নকশালবিরোধী অভিযানে ২৩৯ জন নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। আর মাওবাদী হিংসার বলি হয়েছেন ৩৫৯ জন সাধারণ মানুষ।

    লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি আমরা

    তিনি বলেন, “এই অগ্রগতি নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও আত্মত্যাগের ফল। আমরা লক্ষ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছি। এখন হাতেগোণা কয়েকজন মাওবাদী সক্রিয় রয়েছে।” পুলিশের এই কর্তা ওই মাওবাদীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান (Odisha)। এদিকে, নিরাপত্তা বাহিনী সাফ জানিয়ে দিয়েছে, অবশিষ্ট মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘন বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা ওডিশার দীর্ঘদিনের মাওবাদী বিদ্রোহ দমনে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়কে নির্দেশ করছে এবং রাজ্যকে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে (Maoist Attack Plot)।

     

  • ED Raid In Kolkata: ভোটের আগে শহরে সক্রিয় ইডি! সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে অস্ত্র, ব্যবসায়ীর ঘরে নগদ কোটি টাকা উদ্ধার

    ED Raid In Kolkata: ভোটের আগে শহরে সক্রিয় ইডি! সোনা পাপ্পুর বাড়ি থেকে অস্ত্র, ব্যবসায়ীর ঘরে নগদ কোটি টাকা উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশিতে খাস কলকাতায় মিলল বিপুল নগদ টাকা। বুধবার এক ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে নগদ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে ইডি (ED Raid In Kolkata )। জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। বুধবার সকাল থেকে ইডি হানা দেয় নির্মাণ সংস্থার অফিসে। একসঙ্গে ছয় জায়গায় তল্লাশি চালানো হয় এদিন। তল্লাশি চালানো হয় বালিগঞ্জের ‘ত্রাস’ সোনা পাপ্পু বাড়িতেও।

    ফার্ন রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার অস্ত্র

    কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই তল্লাশির মূল লক্ষ ছিল আর্থিক প্রতারণা মামলার (Money Laundering Case) ঘটনায় অভিযুক্ত পলাতক বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর (Sona Pappu) বাড়ি। জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুর ফার্ন রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে অস্ত্র। কিছুদিন আগে, গোলপার্কের (Golpark) কাঁকুলিয়া রোডে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষের গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয় সোনা পাপ্পুকে। রাসবিহারির বিধায়ক দেবাশিষ কুমারের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এই সোনা পাপ্পু। ঘটনাচক্রে, সোমবার ইডি ডেকে পাঠায় দেবাশিষ কুমারকে। তারপরেই এই তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ, নির্মাণকাজের নামে কোটি কোটি টাকা তুলেছে সোনা পাপ্পু আর সেই টাকা তিনি পৌঁছে দিতেন প্রভাবশালীদের কাছে।

     তৃণমূলের নির্বাচনে খরচ, অভিযোগ শুভেন্দুর

    সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ রাহুল দাসের বাড়িতেও পৌঁছে যায় ইডি। কাঁকুলিয়া রোডের বাড়িতে তল্লাশি চলে দীর্ঘক্ষণ। তল্লাশি চলে নির্মাণ ব্যবসায়ী জয় কামদারের বেহালার বাড়িতেও। সেখান থেকেই উদ্ধার হয়েছে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই টাকার উৎস কী, তা জানাতে পারেননি ওই ব্যবসায়ী। জয় কামদার সোনা পাপ্পুর ঘনিষ্ঠ বলেই জানা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসায়ীর সঙ্গে শাসক দলের নেতাদের যোগও সামনে আসছে। বিভিন্ন সময়ে একাধিক শাসক দলের অনুষ্ঠানেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। এই বিষয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, সোনা পাপ্পুর সঙ্গে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, দেবাশিষ কুমার, জাভেদ খানকে অ্যারেস্ট করতে হবে। এই টাকা তৃণমূলের নির্বাচনে খরচ করার জন্য রাখা ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, কলকাতা পুরসভার ৬৭ নম্বর ও ৯১ নম্বর ওয়ার্ডে শাসকদলের হয়ে যাবতীয় নিয়ন্ত্রণের কাজ করে সোনা পাপ্পু।

  • SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    SIR: এসআইআরে নাম নেই, মালদায় তাণ্ডব, সাত বিচারককে আটকে রেখে বিক্ষোভ, গভীর রাতে উদ্ধার

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: এসআইআরে (SIR) নাম না থাকায় বুধবার কার্যত তাণ্ডব চলল মালদার (Malda) কালিয়াচকে। সাত বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরে মধ্যরাতে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময়ও পুলিশের কনভয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়ে বিডিও অফিসের গেট আটকে দেয় আন্দোলনকারীরা। গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, লাগানো হয় আগুনও। পরে, পুলিশ গিয়ে বিচারকদের উদ্ধার করে।

    সাত বিচারককে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার অভিযোগ (SIR)

    বুধবার সকাল থেকেই কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ চলছিল। এসআইআরে নাম বাদ পড়ায় এদিন বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছিল। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভের পাশাপাশি, বিডিও অফিসের গেট আটকেও দিয়ে চলে বিক্ষোভ। জেলার একাধিক জায়গায় ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় বুধবার দুপুর থেকেই। এর মধ্যেই খবর আসে, সাত বিচারক দুপুর থেকে দীর্ঘক্ষণ আটকে পড়েছেন বিডিও অফিসেই। ওই বিচারকরা ট্রাইবুনালের কাজে সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অবশেষে মধ্যরাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে ওই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। সেই সময় উন্মত্ত জনতা ইট-পাটকেল ছোড়ে পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে। পুরো ঘটনাটির একটি ভিডিও পোস্ট করেছে সংবাদ সংস্থা পিটিআই। তাতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশের গাড়ির সিটে পড়ে রয়েছে কাচের টুকরো। জানা গিয়েছে, বিকেল ৪টে থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আটকে ছিলেন বিচারকরা।

    পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা

    সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জুডিশিয়াল অফিসারদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের কনভয়েও হামলার চেষ্টা করা হয়। রাস্তায় বাঁশ ফেলে চেষ্টা করা হয় পুলিশের কনভয় আটকানোর। বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, “বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছে শুধু তাই নয়, বিচারকদের যখন উদ্ধার করে আনা হচ্ছিল সেই সময় রাস্তায় বাঁশ ফেলে কনভয় আটকানোর চেষ্টা করা হয়। মহিলা বিচারকদের শারীরিকভাবে হেনস্থার চেষ্টা করা হয়েছে। সবটাই তৃণমূলের উস্কানি (SIR)।”

     রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন

    প্রসঙ্গত, প্রায় একদিন ছাড়া সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট বের করছে নির্বাচন কমিশন। এখনও অবধি প্রায় ২২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে বলে সূত্রের খবর। তারই প্রতিবাদে ধীরে-ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদায়। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, মূলত তাঁরাই প্রথম পথে নামেন। কালিয়াচকের ওই ঘটনায় রাজ্য পুলিশের ডিজির কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন (SIR)। কমিশন সূত্রে খবর, পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকেও। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, গত ২৩ মার্চ জেলা প্রশাসনের কাছে গন্ডগোলের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। নিষ্পত্তির কাজ ব্লক অফিস থেকে জেলাশাসকের অফিসে সরানোর জন্য আগেই জেলা প্রশাসনকে বলা হয়েছিল। অভিযোগ, জানানোর পরেও জেলা প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

  • IPL 2026: বরুণে-বিশ্বাস নায়ারের, নারিনের মিস্ট্রির অপেক্ষায় নাইটরা! ঘরের মাঠে জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া কেকেআর

    IPL 2026: বরুণে-বিশ্বাস নায়ারের, নারিনের মিস্ট্রির অপেক্ষায় নাইটরা! ঘরের মাঠে জয়ের স্বাদ পেতে মরিয়া কেকেআর

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: মুম্বইয়ের কাছে হার দিয়ে আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) অভিযান শুরু করেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এবার ঘরের মাঠে নামতে চলেছে কেকেআর। ২ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (KKR vs SRH) বিরুদ্ধে নামবে ৩ বারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা। ঘরের মাঠ ইডেন গার্ডেন্সে টানা তিনটি হোম ম্যাচ নাইটদের। টুর্নামেন্টে নিজেদের ভালো জায়গায় রাখতে এই তিন ম্যাচই পাখির চোখ কলকাতার। নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের জন্য তৈরি হচ্ছে দলের ক্রিকেটাররা।

    ব্যর্থ বোলিং বিভাগ

    প্রথম ম্যাচে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ব্যাটাররা ভালো পারফর্ম করলেও বোলিং ডিপার্টমেন্ট কেকেআরের পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। যা দ্বিতীয় ম্যাচ শক্তিশালী ব্যাটিং সমৃদ্ধ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে নামার আগে চিন্তায় রেখেছে নাইট রাইডার্স টিম ম্যানেজমেন্টকে। প্রথম ম্যাচে কেকেআরের বোলিং অ্যাটাকের ব্যর্থতার পর দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে কেমন কম্বিনেশন হবে তা জল্পনা রয়েছে। মুজারবানি প্রথম ম্যাচে ফ্লপ। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে ৩ বিদেশি নিয়েও খেলতে পারে নাইটরা। নারিন বাদে সকল বোলাররাই ভারতীয় হতে পারে।

    নারিন-বরুণ কেমিস্ট্রি উধাও

    প্রথম ম্যাচে হারের পর স্বভাবতই চাপে কেকেআর। নতুন দল। নতুন ভাবে শুরু করতে চাইলেও, অভিষেক নায়ারের সমস্যা বোলিং নিয়েই। আর সেটা কীভাবে কাটাতে পারেন সেটাই হাতড়ে বেড়াচ্ছেন কেকেআর কর্তারা। তবে সমস্যা আরও বাড়িয়েছে বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনের পারফরম্যান্স। বরুণ টি২০ বিশ্বকাপে সেভাবে ছন্দে ছিলেন না। আইপিএল-এও সেই ছন্দ প্রথম ম্যাচে খুঁজে পাননি। সুনীল নারিনের যে মিস্ট্রি ছিল সেটাও উধাও। এখন পিচ থেকেও যদি সাহায্য সেভাবে না পাওয়া যায় তবে কলকাতার ভাগ্য ফেরানো কঠিন হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    বরুণে আস্থা নায়ারের

    গ্রিনের বোলিং প্রসঙ্গে নায়ার জানান, নিলামের সময় কোনও প্লেয়ারকে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের সব দিক সবসময় জানা সম্ভব হয় না। তাঁর কথায়, ‘নিলামে প্লেয়ার নেওয়ার সময় ভবিষ্যৎ কী হবে, সেটা সবসময় বোঝা যায় না। গ্রিন যেমন ভালো ব্যাটার, তেমনই অলরাউন্ডার। তবে আমাদের সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করতে হবে।’ বরুণ চক্রবর্তীর পারফরম্যান্স নিয়ে আস্থা রেখেছেন কেকেআর কোচ। তিনি বলেন, ‘বরুণ মানসিকভাবে খুব শক্তিশালী অবস্থায় আছে। আমরা জানি ও কতটা দক্ষ বোলার। ভারতের হয়ে যেমন পারফর্ম করেছে, সেভাবেই আবার ফিরে আসবে। ওয়াংখেড়ের পিচটা চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবুও আমরা ওর উপর ভরসা রাখছি। শ্রীলঙ্কার পেসার মথিশা পাথিরানার ফিটনেস নিয়েও আপডেট দিয়েছেন নায়ার। তিনি জানান, পাথিরানা এখনও ফিটনেস টেস্টের মধ্যে রয়েছেন এবং ফিজিও টিমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, খুব শিগগিরই তিনি দলে যোগ দেবেন।

    হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

    কলকাতা দল মুম্বইয়ের কাছে পরাজিত হয়েছে, অন্যদিকে হায়দ্রাবাদও বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হারতে হয়েছে। ফলে এই ম্যাচে জয় পেয়ে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করবে দুই দলই। শুরুতেই পরপর হার কোনও দলই চাইছে না, তাই লড়াইটা জমজমাট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই মরশুমে দুই দলের ব্যাটিং শক্তি বেশ ভালো। তবে বোলিং বিভাগে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। চোট সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা তাদের প্রধান পেসারের জন্য অপেক্ষা করছে, আর হায়দরাবাদ দলের অধিনায়কও পুরোপুরি ফিট নন। এই অবস্থায় দলের ভারসাম্য ঠিক রাখা বড় চ্যালেঞ্জ।

    ইডেনে হাই স্কোরিং ম্যাচ

    ইডেন গার্ডেন্সে সাম্প্রতিক সময়ে বড় রানের ম্যাচ বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই এই ম্যাচেও চার-ছক্কার বন্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যাটাররা সুবিধা পেলে সহজেই বড় রান তুলতে পারে, তবে বোলারদের সঠিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। পিচের দিক থেকেও এই মাঠে রান তাড়া করা তুলনামূলক সহজ। শিশিরের প্রভাব থাকায় দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করা দল সুবিধা পেতে পারে। শুরুতে কিছুটা সুইং থাকলেও পরে ব্যাটিং সহজ হয়ে যায়। তাই টস জেতা দল আগে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সব মিলিয়ে দর্শকদের জন্য একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচ অপেক্ষা করছে।

    কেকেআরের সম্ভাব্য একাদশ: অজিঙ্কে রাহানে (অধিনায়ক), ফিন অ্যালেন, ক্যামেরন গ্রিন, আংক্রিশ রঘুবংশী (উইকেটকিপার), রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিং, অনুকুল রয়, সুনীল নারিন, বরুণ চক্রবর্তী, বৈভব অরোরা, উমরান মালিক

    সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্ভাব্য় একাদশ: ট্রেভিস হেড, অভিষেক শর্মা, ইশান কিশান (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), নীতিশ কুমার রেড্ডি, হেনরিক ক্লাসেন, সলিল অরোরা, অনিকেত বর্মা, হর্শ দুবে, হার্শল প্যাটেল, জয়দেব উনাদকাট, ইশান মালিঙ্গা

LinkedIn
Share