Blog

  • RG Kar: প্রবল চাপে সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ বিরূপাক্ষ-অভীককে সাসপেন্ড মমতার, পিঠ বাঁচাতেই কি?

    RG Kar: প্রবল চাপে সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ বিরূপাক্ষ-অভীককে সাসপেন্ড মমতার, পিঠ বাঁচাতেই কি?

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের বাহুবলী ডাক্তার-নেতা বিরূপাক্ষ বিশ্বাস এবং প্রাক্তন আরএমও অভীক দে-কে সাসপেন্ড করল স্বাস্থ্য ভবন, যার মাথায় খোদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রসঙ্গত, এই দুই শাসক ঘনিষ্ঠ ডাক্তার নেতা সন্দীপ ঘোষের শাগরেদ বলেই পরিচিত। আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar) সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলেন আন্দোলনকারীরা। প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সন্দীপ। কিন্তু ইস্তফার দিনেই তাঁকে প্রাইজ পোস্টিং দেয় মমতার সরকার। তাঁকে কলকাতা ন্যাশনালের অধ্যক্ষ করে পাঠানো হয়। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে সে পদ খারিজ হয় সন্দীপের। এরপরেই সন্দীপের দুই শাগরেদ হিসেবে নাম উঠে আসে বাহুবলী ডাক্তার নেতা বিরূপাক্ষ বিশ্বাস ও অভীক দে-র। এবার আন্দোলনের চাপে (West Bengal Government) এতদিন পর সন্দীপের দুই শাগরেদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। চাকরি থেকে সাসপেন্ড করা হল দুজনকেই। শাসক দল ঘনিষ্ঠ এই দুই ডাক্তার নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এতদিন লেগে গেল সরকারের? এই প্রশ্নই উঠছে এখন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘‘দুই চিকিৎসক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া লোক দেখানো। নিজেদের পিঠ বাঁচানোর প্রচেষ্টা ছাড়া কিছুই নয়।’’

    সাম্প্রতিক অতীতে তৃণমূলের এমন ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা বারবার দেখা গিয়েছে

    এই আশঙ্কা উঠছে, তার কারণ অতীতে একাধিকবার এমন নজির সামনে এনেছে রাজ্য সরকার। খুব সম্প্রতি সন্দেশখালির ঘটনায় শেখ শাহজাহানকে দরাজ সার্টিফিকেট দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (West Bengal Government) তাও আবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে। পরে চাপে পড়ে সেই শাহজাহানকে ছেঁটে ফেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে রাজ্য পুলিশ। গত বছর জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে কিংবা ২০২২ সালে পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেফতার হওয়ার পরে তাঁকেও জনরোষের চাপে পড়ে সাসপেন্ড করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। নিয়োগ দুর্নীতিতে দলের যুবনেতা কুন্তল ঘোষ গ্রেফতার হতেই, তাঁর মাথা থেকেই হাত সরিয়ে নেয় মমতার দল। সাসপেন্ড করা হয় অভিষেক ঘনিষ্ঠ এই নেতাকে। একইভাবে হুগলির যুবনেতা শান্তনু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ করে মমতার দল। প্রশ্ন উঠছে, ব্লক থেকে জেলা, জেলা থেকে রাজ্য এখনও পর্যন্ত তৃণমূলের অসংখ্য নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীত- গুণ্ডামির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কি মমতার দল সাসপেন্ড করবে নাকি জনরোষ তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? বিগত কয়েক বছরের এই উদাহরণগুলিই বলে দিচ্ছে এগুলো আসলে ড্যামেজ কন্ট্রোল ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আরও মত, আরজি করকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভায় তড়িঘড়ি করে পাশ করানো অপরাজিতা আইনও হল এই ড্যামেজ কন্ট্রোলের অঙ্গ।

    হাসপাতালে গুণ্ডামি চালাতেন শাসক সন্দীপ ঘনিষ্ঠ দুই ডাক্তার নেতা (RG Kar)

    প্রসঙ্গত, সন্দীপের দুই শাগরেদ বিরূপাক্ষ ও অভীক দুজনেই যে তৃণমূলের অতি ঘনিষ্ঠ তা ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে বারবার। বাহুবলী প্রভাবশালী এই দুই ডাক্তার নেতাকেই আরজি কর কাণ্ডের পরের দিনই সেমিনার রুমে দেখা গিয়েছিল। প্রশ্ন তখনই ওঠে যে বহিরাগত হওয়া সত্ত্বেও তাঁরা আরজি করের সেমিনার রুমে কী করছিলেন সেদিন? ডাক্তার নেতা অভীক দে আবার তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য স্তরের পদাধিকারীও ছিলেন। কিন্তু নিজেদের পিঠ বাঁচাতে রীতিমতো প্রেস বিবৃতি জারি করে তাঁকে ছাঁটাই করা হয়। এরপরে তাঁকে চাকরি থেকেও বরখাস্ত করে সরকার। অন্যদিকে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। ডাক্তারি ছাত্রদের পরীক্ষায় ফেল করানোর হুমকি দেওয়া, রেজিস্ট্রেশন না দেওয়ার হুমকি দেওয়া ছাড়াও ডায়মন্ডহারবারের এক মহিলা চিকিৎসককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ এবং ডায়মন্ড হারবারের জুনিয়র ডাক্তাররা।

    কড়া বিবৃতি চিকিৎসক সংগঠনের

    এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার চিকিৎসকদের সংগঠনের তরফে এক বিবৃতি লেখা হয়েছে। তাতে মমতা সরকারের ড্যামেজ কন্ট্রোলের (RG Kar) প্রচেষ্টার তত্ত্বকে তীব্র সমালোচনা ধরা হয়েছে। কেন এই বিলম্বিত বোধোদয়? সে প্রশ্নও রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি, সন্দীপ-বিরূপাক্ষ-অভীকদের মাথাদেরও শাস্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। চিকিৎস সংগঠন নিজেদের বিবৃতিতে লেখেন, ‘‘আমরা মেডিক্যাল কাউন্সিলের ভোটের সময় থেকেই এঁদের বিরুদ্ধে বলে এসেছি। মামলা করা হয়েছে। তার পর সন্দীপ ঘোষের কুকীর্তি নিয়েও বহু বার বলেছি। অধরা রয়ে গেছে আমাদের স্বর। আমাদের প্রার্থী-সমর্থকদের প্রতিহিংসামূলক বদলি করা হয়েছে। হুমকি দেওয়া হয়েছে, কাউন্সিলে ডাকা হয়েছে। জল বাড়তে বাড়তে এখন মাথার ওপর উঠে গিয়েছে এবং আরজি করে আমাদের বোনের নারকীয় দুর্ঘটনার ২৭ দিন বাদে (RG Kar) প্রশাসনের টনক নড়েছে। গ্রেফতার এবং সাসপেনশন হচ্ছে। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। পদত্যাগের হিড়িক উঠেছে। কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেল। না আমরা আনন্দিত নই। এদের মাথার উপর যে মাথারা রয়েছে, তাদের শাস্তি না পাওয়া অবধি আমরা স্বস্তি পাব না।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Physiotherapy: স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচার থেকে হাড়ের সমস্যা, মুশকিল আসান ফিজিওথেরাপি?

    Physiotherapy: স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচার থেকে হাড়ের সমস্যা, মুশকিল আসান ফিজিওথেরাপি?

    তানিয়া বন্দ্যোপাধ্যায় পাল

    স্নায়ুর জটিল অস্ত্রোপচারের পরবর্তী জটিলতা কাটাতে, কিংবা কোনও দুর্ঘটনার পরে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতে বাড়তি সাহায্য করে ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy)। এমনকী একাধিক হাড়ের রোগের মুশকিল আসান হল ফিজিওথেরাপি। ওয়ার্ল্ড ফিজিওথেরাপি ডে উপলক্ষে বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা জরুরি। কারণ, একাধিক জটিল অস্ত্রোপচারের পরে ফিজিওথেরাপি আবশ্যিক। এই থেরাপি ঠিকমতো না হলে রোগীর পক্ষে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। আবার এমন একাধিক রোগ রয়েছে, যেগুলি ফিজিওথেরাপির মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

    কোন কোন রোগের মুশকিল আসান ফিজিওথেরাপি? (Physiotherapy)

    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, হাড় এবং পেশির সমস্যায় আক্রান্তদের মস্তিষ্ক এবং মেরুদণ্ডে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব হয়। বিশেষত মস্তিষ্কের পিছনে এবং ঘাড়ে অনেক সময়েই একনাগাড়ে তীব্র যন্ত্রণা হয়। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে অনেক সময়েই এর থেকে রেহাই পাওয়া যায়। হাড়ের সমস্যায় আক্রান্তেরা, বিশেষত যাঁরা আর্থরাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত, তাঁদের জন্য ফিজিওথেরাপি উপকারী। বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, আর্থরাইটিসের মতো রোগে সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়। কিন্তু যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক জীবন যাপন জরুরি। আর সেই জন্য ফিজিওথেরাপি বিশেষ সাহায্য করে। 
    স্নায়ুর জটিল রোগ (Nerve Surgery), বিশেষত পারকিনসনের মতো রোগে ফিজিওথেরাপি (Physiotherapy) খুবই উপকারী বলে জানাচ্ছে স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, শরীরের বিভিন্ন অংশের স্নায়ুকে সক্রিয় রাখতে এই থেরাপি বিশেষ সাহায্য করে। 
    চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, বয়স বাড়লে অনেকেই অন্ত্রের সমস্যায় ভোগেন। আবার অন্ত্র এবং মূত্রাশয়ের একাধিক পেশি ও শিরা সংযুক্ত থাকে। তাই মূত্রাশয় ও নানান রোগে আক্রান্ত হন। তাই প্রবীণ মানুষদের এই ধরনের রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফিজিওথেরাপি বিশেষ উপকারী। ফুসফুস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও ফিজিওথেরাপি বিশেষ উপকারী। চিকিৎসকদের একাংশ জানাচ্ছে, অ্যাজমার মতো রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে রাখে ফিজিওথেরাপি। আবার হৃদরোগে আক্রান্তদের হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়াতেও ফিজিওথেরাপি সাহায্য করে।

    কীভাবে সাহায্য করে ফিজিওথেরাপি? (Physiotherapy)

    বিশেষজ্ঞদের একাংশ জানাচ্ছে, শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টে, বিশেষত পেশিতে আঘাতের কারণে অনেক সময়েই কার্যক্ষমতা কমে যায়। আবার আর্থরাইটিসের মতো রোগে আক্রান্ত হলেও রোগীর হাড়ের ক্ষমতা কমে। পেশি শক্তি কমে। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন ঠিকমতো হয়। পেশি ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই যে কোনও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী জটিলতা কাটাতে কিংবা আর্থরাইটিসের মতো রোগের মোকাবিলায় ফিজিওথেরাপি বিশেষ কার্যকর। হৃদরোগ কিংবা স্নায়ুর সমস্যা শরীরকে ক্লান্ত করে তোলে। এর জেরে রোগী হাঁটাচলা করতে চান না।‌ যে কোনও কাজে অনীহা তৈথি হয়। ফিজিওথেরাপি পেশি এবং স্নায়ু সক্রিয় করে এই ক্লান্তি ভাব সহজেই দূর করে। তাই রোগীর সক্রিয় হয়ে ওঠার ইচ্ছাও তৈরি হয়। এর ফলে যে কোনও রোগ মোকাবিলা করে আবার স্বাভাবিক জীবন যাপন করার পথ সহজ হয়। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে রক্তসঞ্চালন ভালোভাবে হয়। এর জেরেই হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা বাড়ে। হৃদরোগীদের জন্য বাড়তি উপকার হয়। 
    ফিজিওথেরাপি স্নায়ুর কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এমনটাই জানাচ্ছে চিকিৎসকদের একাংশ। তারা জানাচ্ছে, স্নায়ুর কাজ একাধিকবার করার জেরে স্নায়ুর গতিশীলতা বাড়ে। তাই ফিজিওথেরাপি পারকিনসন আক্রান্তদের জন্য বিশেষ কার্যকর।

     

    DISCLAIMER: এই প্রতিবেদনটি বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী লেখা। এর সঙ্গে মাধ্যম-এর কোনও সম্পর্ক নেই। মাধ্যম এর কোনও দায় নিচ্ছে না। এখানে বলা যে কোনও উপদেশ পালন করার আগে অবশ্যই কোনও চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: মমতা-বিনীত ফোনে কী কথা? সামনে আনার দাবি সুকান্ত, শুভেন্দুদের

    RG Kar Incident: মমতা-বিনীত ফোনে কী কথা? সামনে আনার দাবি সুকান্ত, শুভেন্দুদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর কাণ্ডে (RG Kar Incident) তথ্য প্রমাণ লোপাটের পিছনে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। নির্যাতিতার মৃত্যুর পরের ৭২ ঘণ্টায় কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে ফোনে কী কী কথা হয়েছে তা প্রকাশ্যে আনার দাবি করল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ফোন তদন্ত করে দেখুক সিবিআই, দাবি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর৷ শুভেন্দু সাফ জানালেন, মুখ্যমন্ত্রীর ফোন থেকে ৯-১০ অগাস্ট কাকে কোথায় ফোন করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখলেই সব জানা যাবে৷ 

    বিজেপির দাবি

    প্রয়োজন বুঝলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা উচিত বলেও মনে করেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য। অমিত মালব্য সরকারি নির্দেশিকার কপি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘এই তথ্য বিস্ফোরক। কলকাতা পুলিশ-হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক হয়ে তথ্য প্রমাণ লোপাট করেছেন। এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠছে।’’ তিনি আরও লিখেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিনীত গোয়েল যতক্ষণ পর্যন্ত পদত্যাগ না করবেন ততক্ষণ নিরপেক্ষ তদন্ত করা সম্ভব নয়। কারণ ইতিমধ্যেই অনেক প্রমান লোপাট হয়েছে। এই একই চিঠি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন সুকান্ত মজুমদারও।

    মমতার ফোন বলে দেবে

    বিজেপির দুই নেতা সোশ্যাল মিডিয়ায় রাজ্যের পূর্ত দফতরের একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেন। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী, তরুণীর চিকিৎসকের মৃত্যর ঠিক পরদিন আরজি কর হাসপাতালের (RG Kar Incident) জরুরি বিভাগে কয়েকটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। সেই কাজ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে দুই নেতার দাবি, এখান থেকেই স্পষ্ট আরজি করের ঘটনায় তথ্য লোপাটের চেষ্টা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, বিজেপির দাবি প্রমাণ লোপাটের ব্যাপারে কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee)। আরজি কর হাসপাতালে সংস্কারের কাজ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর চ্যাংরা বলছিল যে, আরজি করে সংস্কারের কাজের অর্ডার পিডব্লিউডি-কে দিয়েছিল ৯ তারিখের আগে৷ আজ তো বেরিয়ে গিয়েছে যে, ১০ তারিখে বৈঠক হয়েছে৷’’ মুখ্যমন্ত্রীর ফোন নিয়ে শুভেন্দুর দাবি, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনগুলো শুধু নিক ৷ ফেজ টাইম থেকে বের করুক ৯ ও ১০ অগাস্ট কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন, সব বেরিয়ে যাবে ৷ আর কোথাও যেতে হবে না ৷’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • BJP MLA: আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে এবার রাজ্যের ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার ফেরালেন কাঁথির বিজেপি বিধায়ক

    BJP MLA: আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে এবার রাজ্যের ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার ফেরালেন কাঁথির বিজেপি বিধায়ক

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদে (RG Kar Protest)  এবং বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু দুর্গাপুজো ক্লাব সরকারি অনুদান ফিরিয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের দেওয়া সম্মান ফেরাতে শুরু করেছেন শিক্ষক এবং নাট্যব্যক্তিত্বরা। সেই আবহে এবার রাজ্য সরকারের দেওয়া দেওয়া ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার ফেরানোর কথা ঘোষণা করলেন পূর্ব মেদিনীপুরের দক্ষিণ কাঁথির বিজেপি বিধায়ক (BJP MLA) তথা প্রাক্তন শিক্ষক অরূপকুমার দাস। বৃহস্পতিবার শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কাঁথিতে একটি কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন তিনি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-সহ অন্য জেলা নেতৃত্ব। সেই মঞ্চে দাঁড়িয়েই রাজ্য সরকারের দেওয়া পুরস্কার ফেরানোর কথা ঘোষণা করলেন তিনি।

    কবে পেয়েছিলেন পুরস্কার? (BJP MLA)

    ২০১১ সালে কাঁথি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে অরূপবাবু রাজ্য সরকারের ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। এরপর দক্ষিণ কাঁথি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করে তিনি বিধায়ক (BJP MLA) হন। এবার তিনি ‘শিক্ষারত্ন’ পুরস্কার ফিরিয়ে আরজি করকাণ্ডের প্রতিবাদ জানালেন। এর আগে,  আলিপুরদুয়ারের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক পরিমল দে রাজ্য সরকারের দেওয়া ‘বঙ্গরত্ন’ পুরস্কার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। নাট্যক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের দেওয়া সর্বোচ্চ সম্মান ‘দীনবন্ধু মিত্র পুরস্কার’ ফিরিয়েছেন নাট্যকার চন্দন সেন। একই ভাবে নাট্য অ্যাকাডেমির দেওয়া সেরা নির্দেশকের পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছেন নাট্য নির্দেশক বিপ্লব বন্দ্যোপাধ্যায়। বামফ্রন্ট জমানায় সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ঘটনার প্রতিবাদে এভাবেই পুরস্কার প্রত্যাখ্যানের হিড়িক দেখা গিয়েছিল। এবার তৃণমূল সরকারের আমলে একের পর এক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব পুরস্কার ফেরত দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।

    আরও পড়ুন: সাতসকালে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে হানা ইডির, তালা খুলে ঢুকলেন অফিসাররা

    কী বললেন বিজেপি বিধায়ক?

    বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর পাশে দাঁড়িয়ে পুরস্কার ফেরানোর কথা জানান তিনি। অরূপবাবু (BJP MLA) বলেন, “আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে দেশ জুড়ে আন্দোলন চলছে। আমরাও প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমেছি। এবার আমি সরকারের দেওয়া এই সম্মান ফিরিয়ে দিলাম। শিক্ষক দিবসের দিনকেই এই ঘোষণার দিন হিসাবে বেছে নিয়েছি।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • PM Modi: ভারতে বড় লগ্নি, মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইঙ্গিত সিঙ্গাপুরের শিল্পপতিদের

    PM Modi: ভারতে বড় লগ্নি, মোদির সঙ্গে বৈঠক শেষে ইঙ্গিত সিঙ্গাপুরের শিল্পপতিদের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ভারত-সিঙ্গাপুর বাণিজ্য নিয়ে উদ্যোগী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দুই দেশের মধ্যে মৈত্রী আরও জোরদার করা নিয়েও আশাবাদী তিনি। দু’দিনের সফরে গিয়ে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী, সেদেশের শিল্পপতি এবং তাবড় নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন মোদি। মোদির সঙ্গে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং-এর বৈঠকে ছিলেন মন্ত্রী লি সিয়েন লুং, গোহ চোক টং এবং দেশের শিল্প-বাণিজ্য কর্তারাও। ছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালও।

    ভারতে বিপুল বিনিয়োগের আশ্বাস

    সিঙ্গাপুরের একাধিক শিল্পপতি এবং সংস্থার সিইও-দের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক হয় প্রধানমন্ত্রী মোদির।  যেখানে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দীর্ঘ এই বৈঠক শিল্পপতিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতে বেশ কিছু সংস্কার হচ্ছে, যা বিনিয়োগে উৎসাহ দেবে। জানা গিয়েছে, বৈঠকে আগামীদিনে ভারতে বিপুল বিনিয়োগের আশ্বাস দেন সিঙ্গাপুরের শিল্পপতিরা। এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ব্ল্যাকস্টোন সিঙ্গাপুর, টেমাসেক হোল্ডিংস, সেম্বকর্প ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ক্যাপিটাল্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, এসটি টেলিমিডিয়া গ্লোবাল ডেটা সেন্টার এবং সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজের সিইও।

    বৈঠক নিয়ে উচ্ছ্বসিত মোদি

    বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ‘‘ভারত এবং সিঙ্গাপুর দুই দেশই অদূর ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং সমৃদ্ধির জন্য একসঙ্গে কাজ করে যাবে। সিঙ্গাপুর প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের কাছে অনুপ্রেরণা। আমরা ভারতে অনেক ‘সিঙ্গাপুর’ তৈরি করতে চাই।’’ বৃহস্পতিবার সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে অংশীদারিত্বের পাশাপাশি আলোচনা হয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতি নিয়েও। সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রপ্রধান এবং শিল্প-বাণিজ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক চারটি মউ তথা সমঝোতা (এমওইউ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেগুলি হল— ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সহযোগিতা, ভারত, সিঙ্গাপুর সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম পার্টনারশিপ, স্বাস্থ্য ও ওষুধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং শিক্ষাগত সহযোগিতা এবং দক্ষতা উন্নয়ন।

    প্রসঙ্গত, গত ১০ বছরে দু’দেশের বিনিয়োগ প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। চালু হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত অর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা। সেমিকন্ডাক্টর সেক্টর দুই দেশকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে বলে মনে করেন মোদি।

    লি সিয়েন লুংয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে মোদি

    সিঙ্গাপুরে প্রবীণ মন্ত্রী লি সিয়েন লুংয়ের দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-সিঙ্গাপুর কূটনৈতিক অংশীদারিত্বের উন্নয়নে তাঁর অবদানের প্রশংসাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ লি সিয়েন লুং, মোদির সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেছিলেন৷ সেই ভোজে অংশ নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, “আমার বন্ধু এবং সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং-এর সঙ্গে দেখা করা সবসময়ই আনন্দের। তিনি সবসময় ভারত-সিঙ্গাপুরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের একজন শক্তিশালী অংশ হিসাবে কাজ করেছেন ৷ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর অন্তর্দৃষ্টিও খুব সমৃদ্ধ। আমাদের দেশগুলি কীভাবে সবুজ শক্তি, ফিনটেক, ইত্যাদিতে একসঙ্গে কাজ করতে পারে সে সম্পর্কে আমরা একটি সুন্দর আলোচনা করেছি ৷”

    মোদির সফরের লক্ষ্য

    মোদির দু’দিনের সফরের সঙ্গে ভারত ও সিঙ্গাপুর তাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কূটনৈতিক অংশীদারিত্বে বেশ কিছুটা উন্নীত করেছে বলেই মনে করছে বিদেশ মন্ত্রক। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের লক্ষ্য দ্বিপাক্ষিক বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরও গভীর করা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করা। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদী ও লরেন্স উয়ং একটি বৈঠক করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের পার্টনারশিপের বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাইজেশন, স্বাস্থ্য, ওষুধ সহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে সেই বৈঠকে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar: ‘‘আমি হতভাগিনী তিলোত্তমার মা বলছি…’’, খোলা চিঠি নির্যাতিতার মায়ের

    RG Kar: ‘‘আমি হতভাগিনী তিলোত্তমার মা বলছি…’’, খোলা চিঠি নির্যাতিতার মায়ের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: গতকাল বৃহস্পতিবার ৫ সেপ্টেম্বর ছিল শিক্ষক দিবস। ওই দিনই মেয়ের হয়ে তাঁর শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানাতে কলম ধরলেন আরজি করের (RG Kar) নির্যাতিতার মা। লিখলেন খোলা চিঠি। এর পাশাপাশি, এই ঘটনায় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তথ্য প্রমাণ লোপাটের বিস্ফোরক অভিযোগও এনেছেন তিনি।

    আমি হতভাগিনী তিলোত্তমার মা বলছি (RG Kar) 

    চিঠির প্রথমেই লেখা রয়েছে, ‘‘আমি হতভাগিনী তিলোত্তমার মা বলছি।’’ এরপরেই শুরু হচ্ছে চিঠির বিষয়বস্তু। চিঠির প্রথমেই শিক্ষক দিবসে মেয়ের হয়ে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রণাম জানিয়েছেন নির্যাতিতা পড়ুয়ার মা (RG Kar Victim’s Mother)। এরপরে তিনি লেখেন, ছোট থেকেই তাঁর মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। শিক্ষকদের উদ্দেশে ‘তিলোত্তমা’র মা মায়ের মন্তব্য, ‘‘আপনারা সেই স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কান্ডারী ছিলেন। আমরা অভিভাবক হিসেবে পাশে থেকেছি। নিজেও অনেক কষ্ট করেছিল। কিন্তু আমি মনে করি আপনাদের মত ভালো ভালো শিক্ষকদেরকে পাশে পেয়েছিল বলেই মেয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন সফল করতে পেরেছিল। আমার মেয়ে বলত, মা আমার টাকা পয়সা চাই না। শুধু চাই নামের পাশে অনেকগুলো ডিগ্রি। আর আমি যেন অনেক অনেক রোগীকে ভালো করতে পারি।’’

    দ্বিতীয় প্যারাতে লেখা রয়েছে ওই অভিশপ্ত দিনের কথা

    চিঠির দ্বিতীয় প্যারাতে লেখা রয়েছে ওই অভিশপ্ত দিনের কথা (RG Kar)। নির্যাতিতার মা লিখছেন, বৃহস্পতিবারও বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাসপাতালে গিয়ে অনেক রোগীকে পরিষেবা দিয়েছিলেন মেয়ে এবং ডিউটিরত অবস্থাতেই কিছু দুর্বৃত্তের হাতে বলি হতে হয় তাঁকে। চরম নিষ্ঠুরভাবে নির্যাতিতার স্বপ্নগুলোকে গলা টিপে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা, এমনটাই অভিযোগ নির্যাতিতার মায়ের। এর ফলে তাঁর মেয়ের অনেক স্বপ্ন অধরা থেকে গেল বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতার মা (RG Kar)। এরপরেই তিনি (RG Kar Victim’s Mother) লেখেন যে, নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর সমস্ত তথ্য প্রমাণ লোপাট করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনিক তৎপরতায়।

    মেয়ের সুবিচারের আশায় (RG Kar)

    চিঠির একেবারে শেষ প্যারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সকল মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক, চিকিৎসক, স্বাস্থ্য ভবনের কর্তারা যদি কোনও তথ্য প্রমাণ জেনে থাকেন, তবে সেগুলোকে অবশ্যই সামনে আনুন। এ প্রসঙ্গে নির্যাতিতার মা উল্লেখ করেছেন, ‘‘ভালো মানুষের নীরবতা অপরাধীদের সাহস যোগায়।’’ খোলা চিঠির একেবারে শেষে ‘তিলোত্তমা’র মায়ের বার্তা, ‘‘চিকিৎসক সমাজ, সাধারণ মানুষ যে আন্দোলন শুরু করেছে তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দিয়ে এবং শিক্ষক দিবসে সকল শিক্ষকদের প্রণাম জানিয়ে মেয়ের সুবিচারের আশায়… তিলোত্তমার মা।’’

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • RG Kar Incident: সাতসকালে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে হানা ইডির, তালা খুলে ঢুকলেন অফিসাররা

    RG Kar Incident: সাতসকালে সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে হানা ইডির, তালা খুলে ঢুকলেন অফিসাররা

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: সিবিআইয়ের পর এবার সন্দীপ ঘোষের (Sandip Ghosh) দুয়ারে পৌঁছে গেল ইডিও (ED)। আরজি করের (RG Kar Incident) আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সন্দীপের বাড়িতে তল্লাশির জন্য যায় ইডি। তবে দরজা বাইরে থেকে তালাবন্ধ থাকায় কিছু সময় অপেক্ষা করার পর শুক্রবার সিজিও কমপ্লেক্সে ফিরে যান ইডির আধিকারিকরা। পরে ফিরে এসে তালা খুলে ঢোকেন ইডি আধিকারিকরা। বাইরে পাহারায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শুধু সন্দীপের বাড়ি নয়, এদিন আরও তিন জায়গায় হানা দেন ইডি অফিসাররা।

    সন্দীপ-দুয়ারে ইডি

    শুক্রবার সকাল ৭টা নাগাদ সন্দীপের বেলেঘাটার বাড়ির সামনে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। আরজি কর (RG Kar Incident) হাসপাতালে যে আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্তেই সন্দীপ ঘোষের বাড়িতে হাজির ইডি। তবে তালা বন্ধ থাকায় ইডি আধিকারিকরা ঢুকতে পারেননি।  ইডি আধিকারিকরা প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর ফিরে যান সিজিও কমপ্লেক্সে। ফের ফিরে আসেন। খোলা হয় তালা। ৯টা ১৫ মিনিটে সন্দীপের বাড়ির ভিতরে ঢোকেন তদন্তকারীরা। ইডি সূত্রের খবর, দুর্নীতি সংক্রান্ত কিছু নথিপত্রের সন্ধান পেতেই এই তল্লাশি। 

    উল্লেখ্য, টানা ১৫ দিন সিবিআইয়ের জেরার মুখোমুখি হওয়ার পর গত সোমবার সন্ধ্যায় আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হন সন্দীপ। এছাড়া, সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ ২ ব্যবসায়ী বিপ্লব সিং এবং সুমন হাজরাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় সন্দীপের নিরাপত্তারক্ষী আফসার আলিকেও। আরজি করের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সিবিআই এফআইআর করার পরেই ইডির তরফে সন্দীপের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত ইসিআইআর করা হয়। 

    আরও পড়ুনঃ ‘কেড়ে নেওয়া হোক বিনীতের পুলিশ মেডেল’, রাষ্ট্রপতি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি শুভেন্দুর

    ইডির তল্লাশি সন্দীপ ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে

    সন্দীপ ঘোষের পাশাপাশি, এদিন তাঁর শাগরেদ বিপ্লব সিং ও কৌশিক কোলের বাড়িতেও ইডি তল্লাশি চলছে বলে জানা গিয়েছে। আরজি কর হাসপাতালের মেডিক্যাল সাপ্লায়ার ছিলেন বিপ্লব সিং। আর্থিক দুর্নীতিতে তিনিও জড়িত বলে সন্দেহ। বিপ্লবের সহকারী কৌশিক কোলে। তাঁর বাড়িতেও তল্লাশি চলছে। তল্লাশি চলছে সুভাষগ্রামে প্রসূন চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতেও। ইডির তদন্তকারীদের সঙ্গে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। প্রসূন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসাবে কাজ করতেন। ‘সন্দীপ-ঘনিষ্ঠ’ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন তিনিও। 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

     

  • RG Kar: আরজি কর মামলার শুনানি ৯ সেপ্টেম্বর, জানাল শীর্ষ আদালত

    RG Kar: আরজি কর মামলার শুনানি ৯ সেপ্টেম্বর, জানাল শীর্ষ আদালত

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: আরজি কর (RG Kar) মামলার শুনানি সুপ্রিম কোর্টে হওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু বুধবার, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ না বসায় সেই শুনানি পিছিয়ে যায়। এর পর বৃহস্পতিবার বিকেলে আরজি কর মামলার নতুন শুনানির দিন সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) ধার্য করে। শীর্ষ আদালতের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আরজি কর মামলা শোনা হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার। প্রসঙ্গত, আরজি কর (RG Kar) কাণ্ডের পর থেকে উত্তাল হয়েছে সারা বাংলা। প্রতিবাদের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশেও। এই আবহে আরজি কর মামলার শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ সমেত প্রবাসী ভারতীয়রাও।

    ঘটনার একমাস পূর্ণ হওয়ার দিনই সুপ্রিম শুনানি

    উল্লেখ্য ৯ সেপ্টেম্বর ঘটনার একমাস পূর্ণ হবে, সেদিনই রয়েছে মামলার শুনানি। ৫ সেপ্টেম্বর শুনানি হবে, এমনটা জানতে পেরে আগে থেকে আন্দোলনকারীরা প্রদীপ জ্বালানো ও রাত দখলের কর্মসূচিও গ্রহণ করেন ৪ সেপ্টেম্বর। ঠিক হয়, ৫ সেপ্টেম্বর আরজি কর হাসপাতালে জায়ান্ট স্ক্রিন লাগিয়ে দেখা হবে মামলার শুনানি। কিন্তু, বুধবারে হঠাৎ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ওই দিন বসছেন না। প্রসঙ্গত আরজি কর (RG Kar) মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ছাড়াও বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্র। প্রসঙ্গত, স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এই মামলা সুপ্রিম কোর্ট গ্রহণ করে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো আরজি করে মোতায়েন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।

    শুনানি পিছিয়ে যেতে হতাশ আন্দোলনকারীরা 

    সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) তরফ থেকে শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি সামনে আসতেই হতাশা (RG Kar) ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনকারী এবং প্রতিবাদকারীদের মধ্যে। কারণ দীর্ঘ ৯ অগাস্ট থেকে এই আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভ, অবরোধ, নবান্ন অভিযান, লালবাজার অভিযান, রাত দখলের কর্মসূচি, মানব বন্ধন সব কিছুই সম্পন্ন হয়েছে আরজি কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে। চলছে একাধিক কর্মসূচিও। সবাই তাকিয়ে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। তার মধ্যে নির্ধারিত দিন পিছিয়ে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হন প্রতিবাদীরা। যদিও, আন্দোলকারী চিকিৎসকরা একইসঙ্গে জানিয়ে দেন, তাঁরা নিজেদের অবস্থানেই অনঢ় রয়েছেন। তাঁদের কথায়, সুপ্রিম কোর্টে যত মামলা পিছবে, মিছিল তত এগোবে। কোনও অবস্থাতেই আর মিছিল ও বিক্ষোভ থামবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁদের দাবিগুলি মানা হবে তখন পর্যন্ত মিছিল এগিয়ে যাবে। তবে, এরই মধ্যে সামনে এল শুনানির নয়া দিনক্ষণ। এবার দেখার সোমবার কী হয়! 

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Shibnibas: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের শিব লিঙ্গ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম, এর ইতিহাস জানেন?

    Shibnibas: রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত শিবনিবাসের শিব লিঙ্গ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম, এর ইতিহাস জানেন?

    হরিহর ঘোষাল

    এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় কষ্টি পাথরের শিব লিঙ্গ দেখেছেন? নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের শিবনিবাস (Shibnibas) গ্রামে রয়েছে এই শিবের মন্দির। সেখানে মোট তিনটি মন্দির রয়েছে। রাজরাজেশ্বর, রাগনীশ্বর এবং রাম-সীতার মন্দির। নবাবি আমলে গড়ে ওঠা এই শিব মন্দিরে এখনও বছরের বিশেষ বিশেষ সময়ে পুজো দিতে লক্ষাধিক ভক্ত সমাগম হয়। কলকাতা থেকে এই মন্দিরে সহজে যাওয়া যায়। শিয়ালদা থেকে গেদে লোকালে মাজদিয়া পৌঁছাতে হবে। সেখান থেকে টুকটুকি করে শিবনিবাস যাওয়া যায়। আর শিয়ালদা থেকে কৃষ্ণনগর লোকাল ধরে কৃষ্ণনগরে (Nadia) পৌঁছে, সেখানে থেকে টুকটুকিতে বাসস্ট্যান্ড আসতে হবে। তারপর বাসস্ট্যান্ড থেকে মাজদিয়ার বাসে করে শিবনিবাস মোড়ে নেমে কিছুটা গেলেই এই মন্দিরের দর্শন মিলবে।

    শিবনিবাসের নামকরণের ইতিহাস (Shibnibas)

    শিবনিবাস (Shibnibas) গ্রামের নামকরণ এবং মন্দির তৈরি নিয়ে নানা মত রয়েছে। কবি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের বাবা কার্তিকেয় চন্দ্র রায় লিখেছেন, “বর্গির আক্রমণ থেকে অত্মরক্ষার জন্যে কৃষ্ণচন্দ্র এ জায়গাটা কৃষ্ণনগর অপেক্ষা নিরাপদ মনে করে এখানে রাজপ্রাসাদ ও শিবমন্দির নির্মাণ করেন। এই জায়গার নতুন নাম রাখেন ‘শিবনিবাস”। অন্যমতে, নসরত খাঁ নামে এক কুখ্যাত ডাকাত এই এলাকায় বাস করতেন। কৃষ্ণচন্দ্র তাঁকে দমন করার জন্যে এখানে শিবির স্থাপন করেছিলেন। একদিন সকালে নদীতে স্নান করার সময় একটি রুই মাছ কৃষ্ণচন্দ্রের সামনে এলে তাঁর এক জ্ঞাতি আনুলিয়ানিবাসী কৃপারাম রায় বলেন, এই জায়গাটি মহারাজার বাসযোগ্য। কারণ, রাজভোগ্য দ্রব্য আপনা থেকেই হাজির হয়েছে। মহারাজা বর্গির আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্যে এই স্থান নিরাপদ মনে করলেন এবং দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে এখানে রাজপ্রাসাদ নির্মাণ করে নাম রাখলেন ‘শিবনিবাস’। কেউ কেউ বলেন, এ জায়গা আগে অরণ্যময় ও জলবেষ্টিত ছিল। নসরত খাঁ নামে এক ফকির এখানে বাস করতেন। লোকে এই জায়গাকে ‘নসরত খাঁর বেড়’ বলত। কৃষ্ণচন্দ্র ফকির সাহেবের অনুমতি নিয়ে এখানে রাজধানী স্থাপন করেন। নদিয়া রাজ্যের মধ্যে বর্গির উপদ্রব হয়েছিল ১৭৪২ সালের মে-জুন মাসে। নিশ্চয়ই এর আগে তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেছিলেন। তিনি আত্মীয়-স্বজন ও ধনরত্ন নিয়ে উক্ত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে এখানে চলে আসেন। তখনও কিন্তু এই মন্দিরগুলি তৈরি সম্পূর্ণ হয়নি। দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে তিনি এখানে রাজধানী ও মন্দির তৈরি করেছিলেন। ১৭৫৪ সালে মন্দির তৈরি করে থাকতে পারেন। দেওয়ান রঘুনন্দন মিত্রের পরামর্শক্রমে, চূর্ণী নদীর দ্বারা ‘কঙ্কনের আকারে পরিবেষ্টিত’ (মতান্তরে ওই ভাবে পরিখা খনন ক’রে) এই স্থানে তিনি রাজপ্রাসাদ ও শিবমন্দির তৈরি করেন। শিবের আলয় হিসেবে এই নতুন বসতির নাম হয় শিবনিবাস। রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রাজধানী মাজদিয়াকে সুরক্ষা বলয়ে নিয়ে আসার জন্য খাল কেটে ইচ্ছামতী ও চূর্ণী নদীকে একত্রে জুড়ে দিয়ে একটি জনপদ গঠন করেছিলেন। যেই খালটি আজও কঙ্কণা নদী নামে পরিচিত।

    সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়

    মন্দিরের (Shibnibas) চূড়া সমেত মন্দিরের উচ্চতা ১২০ ফুট। আটকোনা মন্দির, প্রতিটি কোনায় মিনার ধরনের সরু থাম আছে। মন্দিরের ভিতর কালো শিবলিঙ্গ, উচ্চতা ১১ ফুট ৯ ইঞ্চি, বেড় ৩৬ ফুট। সিঁড়ি দিয়ে উঠে শিবের মাথায় জল ঢালতে হয় এখানে। পূর্ব ভারতে এতো বড় শিবলিঙ্গ আর নেই। মন্দিরের ছাদ ঢালু ও গম্বুজ। মন্দিরে পোড়ামাটির কাজ ও গথিক স্থাপ্যশৈলীর কাজ দেখার মতো। ১৮২৪ খ্রীষ্টাব্দের ১৮ জুন, কলকাতার বিশপ রেভারেন্ড হেবার জলপথে ঢাকা যাবার সময় শিবনিবাসের মন্দির ও রাজপ্রাসাদাদি দেখে মুগ্ধ হন। ১৮২৮ খ্রীষ্ঠাব্দে লণ্ডন থেকে প্রকাশিত তাঁর স্মৃতিকথায় তিনি শিবনিবাসের হিন্দু মন্দিরগুলিকে সুরম্য ও অতি উত্তম স্থাপত্যের নিদর্শন বলে বর্ণনা করেছেন। এগুলির নির্মাণে ‘গথিক’ খিলানের ব্যবহার তাঁকে বিস্মিত করে। শিবনিবাসে সারা বছরই ভক্ত সমাগম ঘটলেও শ্রাবণ মাসে শিব-ভক্তদের এখানে ভিড় হয় বেশি। শ্রাবনের প্রতি সোমবার নবদ্বীপের গঙ্গা থেকে জল নিয়ে ভক্তরা পায়ে হেঁটে শিবনিবাসে এসে শিবের মাথায় জল ঢালেন। সারারাত ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোর থেকে জল ঢালেন ভক্তরা। জল ঢালা চলে সারাদিন ধরে। সারা শ্রাবণ মাস ধরে মেলা চলে।  

    শিবনিবাসকে কেন ‘বাংলার কাশী’ বলা হয়?

    জনশ্রুতি আছে, রাজা কৃষ্ণচন্দ্র কাশীর শিবের স্বপ্নাদেশ পান যে, তিনি কাশী ছেড়ে কৃষ্ণচন্দ্রের হাতে পূজা পেতে চান। সেই আদেশ পালনার্থেই কৃষ্ণচন্দ্র শিবমন্দির (Shibnibas) স্থাপন করেন। যদিও ১০৮টি শিব মন্দির তৈরির কথা বলা হলেও সেটা সঠিক নয়। কারণ, তার কোনও কিছুই অবশিষ্ট নেই। তবে, শ্রী শশিভূষণ বিদ্যালঙ্কার সঙ্কলিত “জীবনীকোষ” (ভারতীয় ঐতিহাসিক) পুস্তকের দ্বিতীয় খন্ডে উল্লেখ আছে, শিবনিবাস প্রতিষ্ঠার পর কাশী ও কাঞ্চী থেকে আগত ব্রাহ্মণগণের উপস্থিতিতে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র অগ্নিহোত্র বাজপেয় যজ্ঞ সম্পন্ন করেন। মহারাজ “অগ্নিহোত্রী বাজপেয়ী” উপাধি পান। তাই শিবনিবাস কাশী তুল্য। ভারতচন্দ্র রায়ের ‘অন্নদামঙ্গলে’ আছে:”……কৃষ্ণচন্দ্র মতিমান। কাশীতে করিবে জ্ঞানবাপীর সমান। বিগ্রহ ব্রহ্মণ্যদেব মূর্তি প্রকাশিয়া। নিবাস করিবে শিবনিবাস করিয়া।” অতএব, শিবনিবাস মাহাত্ম্যে কাশীতুল্য। প্রচলিত ছড়ায় আছে: “শিবানিবাসী তুল্য কাশীধন্যনদী কঙ্কনা। ওপরে বাজে দেবঘড়ি নীচে বাজে ঠণ্ঠনা।”

    মন্দির চত্বরে মেলা

    বিড়লা জনকল্যাণ ট্রাস্ট ষাট হাজার টাকা ব্যয়ে ১৯৬৫-৬৬ সালে এই মন্দির তিনটির সংস্কার করেছিলেন। কিন্তু, মন্দিরগুলির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। মন্দিরগুলির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিত্যপুজোর জন্যে বাৎসরিক যাট হাজার টাকা দেবোত্তর ছিল। কিন্তু, সে সম্পত্তি বেহাত হয়ে গিয়েছে। বারো মাসে তেরো পার্বন নিয়েই বাঙালির জীবন। চূর্ণি নদী তীরে কৃষ্ণচন্দ্র রাজরাজেশ্বর ও রামসীতার মন্দির প্রাঙ্গণে একটি মেলার প্রচলন করেছিলেন। এ মেলা খুবই প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। শিবচতুর্দশী উপলক্ষ্যে মেলা হত বলে এই মেলা শিবচতুর্দশীর মেলা বলে পরিচিত। জনশ্রুতি, মহাদেব নাকি একবার কৃষ্ণচন্দ্রকে স্বপ্নাদেশ দেন, তিনি কাশী ছেড়ে শিবনিবাসে (Shibnibas) এসেছেন। কৃষ্ণচন্দ্র যেন তাঁকে এখানে প্রতিষ্ঠিত করেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণচন্দ্র কোনও এক মাঘ মাসের ভীম একাদশীতে এখানে শিব প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকে এই মেলা আজও চলে আসছে।

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

  • Ghar Wapsi: ঝাড়খণ্ডে ‘ঘর ওয়াপসি’! হাজারীবাগ ও সুকমায় সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন ১৫০ জনের

    Ghar Wapsi: ঝাড়খণ্ডে ‘ঘর ওয়াপসি’! হাজারীবাগ ও সুকমায় সনাতন ধর্মে প্রত্যাবর্তন ১৫০ জনের

    মাধ্যম নিউজ ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের হাজারীবাগ জেলায় অনুষ্ঠিত হল ‘ঘর ওয়াপসি’ (Ghar Wapsi) অনুষ্ঠান। কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা শতাধিক লোক, হিন্দু সনাতন (Hinduism) ধর্মে পুনরায় ফিরে এসেছেন। মোট ৮১টি পরিবার হিন্দু ধর্মে ফিরলেন। বাদকাখুর্দ পঞ্চায়েতের অধীনে ছয়টি গ্রামের ৬৭টি পরিবারের মোট ১২০ জন একটি যজ্ঞের পরে সনাতন ধর্মে ফিরে এসেছেন। আবার সুকমায় ১৪টি পরিবারের ৩০ জনেরও বেশি লোক হিন্দুধর্মে ফিরে এসেছেন। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের বিশিষ্ট সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যাবর্তনের পর গ্রামবাসীরা তাঁদের পবিত্র গঙ্গাজল দিয়ে পা ধুয়ে স্বাগত জানান এবং অনুষ্ঠানের সময় বস্ত্র উপহার দিয়ে মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিশ্বহিন্দু পরিষদ এই ‘ঘর ওয়াপসি’-কে স্বাগত জানিয়েছন।

    প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল (Ghar Wapsi)

    জানা গিয়েছে, হিন্দু ধর্মে প্রত্যাবর্তনকারীরা (Ghar Wapsi) আগে সনাতন (Hinduism) ধর্মাবলম্বী ছিলেন। কিন্তু একাধিক খ্রিস্টান মিশনের প্রভাবে বিভ্রান্ত হয়ে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। যদিও, পরবর্তীকালে তাঁরা স্বীকার করেন, সেই সময়ে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করা ভুল পদক্ষেপ ছিল। অনেক দিন ধরেই মূল হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করছিলেন তাঁরা। অবশেষে তাঁদের বাসনা পূর্ণ হওয়ায় খুশি ব্যক্ত করেন। মূল ধর্মে ফরে তাঁরা জানিয়েছেন, খ্রিস্টান ধর্মগ্রহণ করার সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ধর্মান্তরিত করা হয়েছিল। কিন্তু ধর্মান্তরিত হওয়ার পর শীঘ্রই অনুতপ্ত হতে শুরু করেন তাঁরা। বাকি পরিবারের সদস্যরা, তাঁদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাতে শুরু করেছিল। ভুল সিদ্ধান্তে সমাজ থেকে চ্যুত হয়ে গিয়েছিলেন তাঁরা।

    সুকমায় ১৪টি পরিবারের হিন্দু ধর্মে প্রত্যাবর্তন

    আবার সুকমায় অনুষ্ঠিত আরও এক ‘ঘর ওয়াপসি’ (Ghar Wapsi) অনুষ্ঠানে ১৪টি পরিবারের ৩০ জনেরও বেশি লোক হিন্দুধর্মে ফিরে এসেছেন। যাঁরা সনাতন ধর্মের স্রোতে ফিরে এসেছেন তাঁরা সুকমার সোদিপাড়ার ০১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। প্রত্যাবর্তনকারীরা কিছু মিশন গ্রুপের প্রভাবে খ্রিস্টান ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। গ্রামের স্থানীয়রা প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী আচার-অনুষ্ঠান করে স্বাগত জানান তাঁদের। ‘গঙ্গাজল’ ছিটিয়ে এবং কপালে ‘তিলক’ লাগানো হয়। উল্লেখ করা উচিত, অবৈধ ধর্মান্তর সম্পর্কিত নানা প্রতিবেদন উপজাতি-অধ্যুষিত ২ রাজ্য — ঝাড়খণ্ড এবং ছত্তিশগড় থেকে বারবার সামনে আসছে, যা দেশের কাছে ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ।

    আরও পড়ুনঃমাদ্রাসা থেকে উদ্ধার জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম! মিলেছে ভুয়ো আধারের সন্ধানও

    স্বাগত বিশ্ব হিন্দু পরিষদের

    হিন্দু ধর্মে (Ghar Wapsi) ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) জাতীয় মুখপাত্র বিনোদ বনসল। তিনি বলেন, “ঝাড়খণ্ডে ব্যাপক ধর্মান্তরকরণ চলছে, হিন্দু বিরোধী ধর্মপ্রচারকদের সাম্রাজ্য চলছে। জোড়া সমস্যার সম্মুখীন রাজ্যটি। একদিকে, অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী, তো অন্যদিকে হিন্দু বিরোধী ধর্মপ্রচারকদের আক্রমণ। এখনই সময় সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে এই সব গতিবিধিকে চিহ্নিত করতে হবে এবং বিষয়কে গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করতে হবে।”

     

    দেশের খবর, দশের খবর, সব খবর, সবার আগে পেতে ফলো করুন আমাদের  Whatsapp, FacebookTwitter, Telegram এবং Google News পেজ।

LinkedIn
Share